১১. আজ খুব পর্ন দেখতে ইচ্ছে করছে-

কোনো এক সেনাবাহিনীর অনুপ্রেরণামূলক একটা ভিডিওতে দেখেছিলাম, একটু পর পর একজন ইস্পাতকঠিন গলায় জিজ্ঞাসা করছে, “আমি কে?” ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে ততোধিক ইস্পাতকঠিন গলায় উত্তর দেয়া হচ্ছে, “আমি একজন গর্বিত সৈনিক!”

আর্মি ট্রেনিং এ বার বার সৈন্যদের স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় তার পরিচয়, স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় সে একজন সৈনিক, সে এমন কোনো কাজ করতে পারবে না যাতে তার সৈনিক সত্তার অপমান হয়। পরাজয় শব্দটা তার অভিধানে থাকা চলবে না, সে কখনো মাথানত করবে না, প্রাণ থাকতে একচুল পিছু হটবে না, যুদ্ধক্ষেত্রে তার উপস্থিতি হবে আক্রমণাত্মক। বার বার স্মরণ করিয়ে দেয়ার মাধ্যমে সৈনিকদের মানসিকভাবে তৈরি করা হয় যুদ্ধক্ষেত্রের বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সামলানোর জন্য।

ভাই আপনিও তো একজন সৈনিক, আপনি তো অনবরত লড়ছেন পর্ন আর হস্তমৈথুন আসক্তির বিরুদ্ধে, শয়তানের বিরুদ্ধে। আপনার নিজেকে বার বার মনে করিয়ে দিতে হবে আপনি একজন সৈনিক, আপনি দাঁড়িয়ে আছেন যুদ্ধক্ষেত্রের একরাশ বিপদের মাঝখানে। আপনার চারিদিকে শত্রু, শয়তান যেকোনো দিক দিয়ে আক্রমণ করে পর্ন/হস্তমৈথুনের বিরুদ্ধে আপনি যে প্রতিরক্ষা ব্যূহ গড়ে তুলেছেন, তা তছনছ করে দিতে পারে। বার বার নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে, আপনি এখন যুদ্ধে আছেন। এতে করে আপনি ফোকাসড থাকবেন। শয়তান সহজেই আপনাকে ফাঁদে ফেলতে পারবে না ইন শা আল্লাহ্‌।

পর্ন ভিডিও দেখার পর বা হস্তমৈথুন করার পরের অনুভূতি আপনি যে কাগজের টুকরোতে লিখেছিলেন সে কাগজে চোখ বুলাতে থাকুন। পর্ন ভিডিও দেখার জন্য বা হস্তমৈথুন করার জন্য মন আঁকুপাঁকু করলে দৌড়ে গোপন জায়গা থেকে বের করে আনুন ওই কাগজগুলো। মনোযোগ দিয়ে, চিন্তা করে পড়ুন। আপনার হয়তো খুব ইচ্ছে জেগেছে কাজটি করার। কিন্তু আপনি ভাল করেই জানেন কাজটি করার ঠিক পরবর্তী মুহূর্তে আপনার অনুভূতিটা। হতাশা আর ব্যর্থতায় আপনি ডুবে যান। কাজ করার জন্য কোনো শক্তি, মনোবল কিছুই পান না। সমাজে কারো সাথে মিশতে পারেন না। ঘরের কোণায় পড়ে থাকেন। এতো গেল শুধু দুনিয়ার কথা। আর আখিরাতের কথা তো আছেই। চিন্তা করুন পাপের বোঝা কত ভারী করবেন। আর সেদিন যদি আল্লাহ্‌ আপনার হিসাব সবার সামনে নেয়। আল্লাহ্‌ না করুক। সেদিন তো সবই উপস্থিত থাকবে। সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। সবার সামনে আপনি অপমানিত। ছুড়ে ফেলা হবে এমন এক জায়গায় যেখানে না আপনি জীবিত থাকবেন না মৃত। প্রতিটা মুহূর্ত যেন আগের থেকে আরও বেশী কষ্টদায়ক। এমন আযাব যেটা থাকে সবসময়, আর সবথেকে বেশি পরিমানে। আখিরাতের এই ফিকির বেশি করে করুন। ইন শা আল্লাহ্‌ এই ফিকির আপনাকে পাপ থেকে দূরে রাখবে।

আপনি এখন খুবই ক্রিটিকাল অবস্থায় আছেন। এখন যদি আপনি আপনার প্রবৃত্তির কাছে হেরে যান, তাহলে অবস্থা খুবই খারাপ হবে। অধিকাংশ মানুষই বোঝে পর্ন দেখা খারাপ, হস্তমৈথুন করা ক্ষতিকর। কিন্তু ভেতর থেকে যখন পর্ন দেখার নেশা ওঠে তখন সে কিছুক্ষণ নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করে, না আমি ওসব দেখব না… কিন্তু যুদ্ধ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। সে আত্মসমর্পণ করে তার প্রবৃত্তির কাছে। আপনার সকল ইচ্ছাশক্তি এক করে লড়াই করুন প্রবৃত্তির সাথে।

আর আল্লাহ্‌কে  ডাকতে থাকুন অনবরত। বার বার মনে করতে থাকুন এ আসক্তি কীভাবে আপনাকে বঞ্চিত করেছে জীবন উপভোগ করা থেকে! কী ভয়ঙ্কর ক্ষতি করেছে আপনার! আপনার জন্য কী করুণ পরিণতি অপেক্ষা করে আছে! জায়গা পরিবর্তন করুন, শুয়ে থাকলে উঠে বসুন। বসে থাকলে ঘর থেকে বের হয়ে যান। এমন কোথাও যান যেখানে আলো আছে, মানুষ আছে, যেখানে উষ্ণতা আছে। ভিযুয়ালাইয করার চেষ্টা করুন, বিষধর এক সাপ আপনাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে দংশন করছে। নিজের সমগ্র সত্তা দিয়ে লড়াই করুন

 

 

প্রতিরক্ষামূলক-

-বেশি বেশি ইস্তেগফার করুন আর নফসের বিরুদ্ধে জিতার চেষ্টা করতে থাকুন।

-সব রকমের ডিভাইস এমনভাবে কনফিগার করে রাখুন যাতে সেগুলোতে কোনো অশ্লীল কোনো কিছুই (দেখা/পড়া) না যায়।

-আল্লাহ্‌র কাছে খাস দিলে পরিপূর্নভাবে নিজেকে সমর্পণ করুন এবং এই নফসের বিরুদ্ধে জয় লাভ করার জন্য উনার কাছে সাহায্য চান। যাতে করে আপনি এই কামনা থেকে মুক্তি লাভ করেন। এবং যাতে আল্লাহ্‌ আপনার জন্য সহজ করে দেয়। আর যেন আল্লাহ্‌ আপনাকে হারাম থেকে দূরে রাখে এবং হালালের ব্যবস্থা করে দেয়।

-সময়মত জামাতে সলাত আদায় করুন। সাথে অতিরিক্ত নফল সলাতও আদায় করার চেষ্টা করবেন।

-বেশি বেশি রোজা রাখার চেষ্টা করবেন। দৈনিক কুরআন পড়বেন।

-সবসময় মনে রাখবেন যে আল্লাহ্‌ সুবাহানাহু ওয়া তা’আলা আপনাকে দেখছেন। তিনিই মালিক। তিনি চাইলেই আপনার গুনাহকে সবার কাছে প্রকাশ করে দিতে পারেন। তাই পাপ করার সময় যেন কোনো স্পর্ধা আপনার না আসে।

-দ্বীনি বন্ধু জোগার করুন। তারা আপনাকে হালাল পথে চলার এবং হারাম থেকে বেঁচে থাকার জন্য অনেক সহযোগিতা করবে ইন শা আল্লাহ্‌।

-দৈনিক ব্যায়াম করুন। বেশির ভাগ সময় ভাল কাজগুলোতে কাটান। যেমন ভাল ভাল বই পরতে পারেন। সাবধান!! গল্প উপন্যাসের বইটে অনেক উত্তেজনামূলক লিখা থাকে। তাই ইসলামিক বই পড়বেন বেশি করে।

 

প্রতিরোধমূলক-

– হঠাৎ করে কামনা জাগ্রত হলে প্রথমে চিন্তা করবেন কোন জিনিসটা আপনাকে ট্রিগার করেছে। কারন সেই জিনিসটা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। হতে পারে বাসায় একা থাকা বা মডারেট কোনো গল্পেরে বই পড়া যেখানে উত্তেজনা মূলক লিখা লেখা ছিল। এই ধরনের পরিবেশ, এই ধরনের গল্পের বই থেকে যতদূরে থাকা সম্ভব দূরে থাকতে হবে।

– কামনা জাগ্রত হওয়ার সাথে সাথেই যেন আপনি নির্জনতা থেকে সরে পড়ুন। প্রয়োজন হলে বাসা থেকে বের হয়ে যান। হেটে আসুন। মূল কথা নিজেকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলুন যেন আপনি চাইলেও কাজ সম্পাদন করার সুযোগটা না থাকে। তবে বের হওয়ার সময় মনে রাখবেন যে আপনি যেন আপনার দৃষ্টি হেফাযত করেন। না হলে যেই লাউ সেই কদু। বাইরে বের হয়ে উত্তেজনামূলক দৃশ্য দেখে বাসায় এসে নিজেকে কন্ট্রল করতে পারবেন না।

-আপনি ওযু করে ২ রাকাহ সলাত আদায় করুন। আগে থেকে সূরাহ আয-যালযালাহ, আল-ক্বরি’আহ এর মত সূরাহ/আয়াত অর্থসহ মুখস্ত করে রাখুন, যেখানে ক্বিয়ামত এবং হাশরের কথা উল্লেখ এবং বর্ণনা করা হয়েছে। সলাতে এসব সূরাহ/ আয়াত তিলাওয়াত করবেন আর অবশ্যই অর্থের দিকে খেয়াল রাখবেন। চিন্তা করবেন আগামীকালই শেষদিবস হতে পারে। অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে সলাত আদায় করবেন।

 

পিছলে গেলে-

মূলত এই সেকশনটা দিতে অনেকটা অনুৎসাহিত বোধ করি। কারন এখানে একটা শয়তানে বড় রকমের ফাঁদ আছে যদি না আপনি আপনার ওয়াদার উপর অটল থাকেন। সুতরাং সাবধান থাকতে হবে। এটা কোনো ভাবেই হারাম কাজ করার একটা অল্টারনেট হালাল পথ না যে আপনি হারাম কাজ করবেন আর পরে কয়েকটা আমল করবেন, তাহলেই কাটা-কাটি হয়ে যাবে। নিশ্চই আল্লাহ্‌ মনের কথা জানেন। আপনি যদি নিয়ত করেন যে পাপ কাজটা করি, করে আমল করে নিব, তাহলে আপনি নিজেকেই ধোকা দিচ্ছেন। এটার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শত চেষ্টা করেও যদি আপনি পা পিছলে যান, সেক্ষেত্রে করনীয় কি।

-খাস দিলে তওবাহ করবেন। তওবাহর কবুলের শর্তগুলো যেন রক্ষিত হয়। আপনার মধ্যে যেন অনুশোচনাবোধ থাকে, আপনি গুনাহট ছেড়ে দিবেন, আর আপনি যেন প্রতিজ্ঞা করেন যে আপনি সামনে আর কখনই এটা না।

-প্রত্যেকবার বেশি বেশি করে সদকাহ করবেন।

-নফল সলাতের সংখ্যা বাড়িয়ে দিবেন। পাপ কাজ করলে সলাত পড়তে পারবেন না এরকম ফাঁদে পড়বেন না। পবিত্র হয়ে আরোও বেশি করে সলাত আদায় করবেন। শায়তান তাহলে আপনাকে খারাপ কাজের দিকে কম টানবে, যখন দেখবে এর ফলে আপনি আরো বেশি করে সলাত আদায় করছেন।

 

আর এই লিখাটি খুব ভালোমতো পড়ুন ইনশা আল্লাহ্‌- https://tinyurl.com/yxzmxakb

 

১২. রাতে ঘুমানোর আগে মাস্টারবেট না করলে ঘুম আসে না,ঘুমাতে অনেক কষ্ট হয়।

  • রাতে ঘুমানোর আগে অযু করে নিবেন। পারলে দুরাকাত নামায পড়ে নিবেন।
  • হিসনুল মুসলিম বই বা এপ্স থেকে ঘুমানোর দু’আগুলো পড়ে নিবেন ।লিংক- https://greentechapps.com/apps/hisnulbn
  • এরপরও ঘুম না ধরলে উঠে ক্লাসের পড়া পড়তে থাকবেন। ঘুম ধরবেনা ওর বাপ ধরবে ।
  • ঘুমানোর সময় কুরআন তিলাওয়াত শুনতে পারেন।
  • লেকচার শুনতে পারেন। পরকাল নিয়ে, নবী রাসূল, সাহাবীদের কাহিনী, যেগুলো অন্তর নরম করে।( ইসলাম বিকৃতকারী, সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া আজমাইন বা সালাফদের বুঝের বাহিরে গিয়ে ইসলামকে ব্যাখ্যা করে এমন অগ্রহণযোগ্য আলিমদের লেকচার কখনোই সাজেস্ট করবেননা।)
  • দিনে ব্যায়াম করতে হবে। সারাদিন ঘরে বসে শুয়ে থাকলে হবেনা ।

 

আমরা খুব ছোটো মানুষ। আমাদের লিখার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ্‌।  যেকোনো ধরণের পরামর্শ বা সাজেশন  হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ …

পড়ুন আগের পর্বগুলো-

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (প্রথম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারগার (দ্বিতীয় পর্ব)

 

 

শেয়ার করুনঃ