মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব-১

মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব-১

আমেরিকা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড  নিজেদেরকে দাবী করে এক মহান সভ্যতার ধারক হিসেবে । যার অন্যতম ফিচার  গনতন্ত্র, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা আর নারীদের সমান অধিকার । পৃথিবীর বুকে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য তাদের  তোড়জোড়ের অভাব নেই । war on terror এর নামে তারা মুসলিম দেশ গুলোতে আক্রমণ করতে দুইবার চিন্তা করে না । মুসলিম নারীদের জন্য তাদের মায়াকান্নার শেষ নেই । তারা বলে মুসলিমরা নারীদেরকে বোরখার আড়ালে রেখে,নারীদেরকে  ঘরে বন্দী করে রেখে  তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে , তাদেরকে এক অদৃশ্য দাসত্বের শিকলে বেঁধে রেখেছে । তারা মুসলিম নারীদেরকে বোরখার আড়াল থেকে বের করে এনে, শরীয়া আইনের দাসত্বের শৃঙ্খল ভেংগে ফেলে  তাদেরকে পুরুষের সমান অধিকার দিতে চায় । অথচ তাদের দেশেই তারা  নারীদের অধিকার কেড়ে নিয়ে  নারীদেরকে পন্য বানিয়ে ফেলেছে । তারাই পর্ন ইন্ডাস্ট্রি বানিয়েছে,তারাই সেখানে  নারীদের সাথে পশুর মতো আচরণ করছে । বাসায়, স্কুলে, কলেজে, রাস্তাঘাটে, অফিসে, হাসপাতালে , সেনাবাহিনীতে কোথাও নারীরা নিরাপদ নয়। সবখানেই নারীরা চরম ভাবে যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে । আমাদের এই সিরিজে আমরা চেষ্টা করব এই পাশ্চাত্য সভ্যতার ভন্ডামী আপনাদের সামনে তুলে ধরার । আমরা চেষ্টা করব সেই সব  হতভাগ্য বোনদের  বুকফাটা হাহাকার গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছে দেবার যারা এই তথাকথিত আধুনিক, মক্তমনা, নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী সমাজের দ্বারা ভয়ংকর যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ।

.

“আমেরিকান আর্মির  মহিলা সদস্যরা শত্রুদের নিয়ে ততোটা বেশী শংকিত থাকে না ,  যতটা বেশী  শঙ্কিত থাকে তাদের পুরুষ সহকর্মীদের হাতে যৌন নিপীড়িত হবার  ভয়ে  ……”।

.

একটা গভীর  দীর্ঘশ্বাস ছেড়েই এই কথা গুলো বললেন ডোরা হারনান্দেজ যিনি প্রায় দশ বছরেরও বেশী সময় ধরে কাজ করেছেন আমেরিকান নেভি এবং আর্মি ন্যাশনাল গার্ডএ । ডোরা হারনান্দেজ সহ আরো কয়েকজন প্রবীণ ভদ্রমহিলার সঙ্গে কথা হচ্ছিল যারা  আমেরিকার সামরিক বাহিনীতে  কাজ করেছেন অনেক বছর , ইরাক এবং আফগানিস্থান যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছেন । এই ফ্রন্টগুলোতে  কোনমতে  তারা সারভাইভ করতে পেরেছেন  কিন্তু পুরো কর্মজীবন জুড়ে তাদেরকে আরোও একটি যুদ্ধ করতে হয়েছে  নীরবে-এবং সেই যুদ্ধে তারা প্রতিনিয়তই পরাজিত হয়েছেন । তাদের সেই নীরব যুদ্ধ ধর্ষণের বিরুদ্ধে ।

পেন্টাগনের নিজেস্ব  রিসার্চ থেকেই  বের হয়ে এসেছে যে আমেরিকান সামরিক বাহিণীর  প্রতি চার জন মহিলা সদস্যের একজন তাদের ক্যারিয়ার জুড়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হয় ।

ডোরা হারনান্দেজ থেমে যাবার পর  মুখ খুললেন সাবিনা র‍্যাংগেল , টেক্সাসে,  এলপাসোর অদূরে তাঁর বাসার ড্রয়িংরুমে বসেই আমাদের কথা হচ্ছিল, “ আমি যখন আর্মির বুট ক্যাম্পে ছিলাম তখন আমি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম এবং যখন নেভিতে গেলাম তখন একেবারে  ধর্ষণের শিকার হলাম” ।

জেমি লিভিংস্টোন ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন  ইউ.এস নেভিতে  তিনি বললেন, আমি জানতাম   ইউ এস আর্মির কালচারটাই এমন যে  সৈনিক এবং অফিসাররা  রেপ করাকে তাদের অধিকার  মনে করে । তাই আমি রেপের ঘটনা গুলো চেপে যেতাম আর আমার বসই আমাকে রেপ করত, কাজেই আমি কাকে রিপোর্ট করব’?

ভদ্রমহিলাগন একে একে আমেরিকান  আর্মিতে তাদের উপর করা যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো বলে চলছিলেন । তারা কেউই পূর্ব পরিচিত ছিলেন না , কিন্তু আমেরিকান আর্মিতে  নিজেদের সহকর্মী এবং বসদের হাতে তারা যে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সেই  দুঃসহ অভিজ্ঞতাই তাদেরকে একে অপরের কাছে নিয়ে এসেছে । হৃদয়ের সবকটা জানালা খুলে দিয়ে তারা একজন অপরজনের দুঃখগুলো ভাগাভাগি করে নিচ্ছিলেন ।

পেন্টাগনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে (২০১০ সাল,) ইউ এস আর্মিতে প্রতি বছর উনিশ হাজারের মতো যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে । (২০১১ সালে এটার পরিমাণ ছিল ছাব্বিশ হাজার)ইউ এস আর্মির মহিলা সদস্যরা আমেরিকার বেসামরিক মহিলাদের থেকে অধিক মাত্রায় যৌন নির্যাতনের ঝুকিতে থাকে । পেন্টাগনের  Sexual Assault Prevention and Response office এর প্রধান গ্যারী প্যাটন বলেন , আমাদের অবশ্যই এই কালচারটা পরিবর্তন করতে হবে । যৌন নির্যাতনকে  স্বাভাবিক ব্যাপার হিসেবে মেনে নিলে চলবে না ।  ভিক্টিমের ইউনিটের সবাইকে যৌন নির্যাতনের ব্যাপারটিকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে ।

সাবিনা র‍্যাংগেল  হাইস্কুল শেষ করেই আর্মিতে  জোগদান করেছিলেন । তার  ক্ষেত্রে যৌন নির্যাতনের ব্যাপারটা শুরু হয়েছিল  আর্মির বুট ক্যাম্পে একদিন ট্রেনিং করার সময় তার  ড্রিল সার্জেন্ট এর দ্বারা । সাবিনা র‍্যাংগেল প্রথমে ভেবেছিলেন তার সার্জেন্ট বোধহয় তাকে  ড্রিল করার ব্যাপারে নির্দেশনা দিচ্ছেন , কিন্তু আসলে  সার্জেন্ট  তার  শরীরে হাত বুলানোর চেষ্টা করছিলেন ।

সাবিনা  র‍্যাংগেল বুট ক্যাম্প শেষ করার পর আর  আর্মি ছেড়ে চলে আসেন । যৌন নির্যাতনের ঘটনা  চেপে যান সবার কাছ থেকে ।

পেন্টাগনের পরিসংখ্যান অনুসারে মাত্র ১৪ শতাংশ যৌন নির্যাতনের ঘটনা রিপোর্ট করা হয় । বাকী ৮৬ শতাংশ ঘটনা লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকে যায় । অনেক ভিক্টিম অভিযোগ করেন তার নির্যাতনকারী তার চেয়ে উঁচু র‍্যাংকের।অনেকে অভিযোগ করেন  যৌন নির্যাতনের শিকার হলে যেই  কর্মকর্তার কাছে রিপোর্ট করতে হবে ,  সেই সব কর্মকর্তাই আমাকে  যৌন নির্যাতন করেছে । র‍্যাংগেলের ক্ষেত্রেও এইরকমটা হয়েছিল ।

র‍্যাংগেল  ২০০০ সালের দিকে আবার ইউ এস  সামরিক বাহিনীতে যোগদান করেন । এইবার তিনি  নেভিতে । এল পাসোতে ইউ এস নেভীর একটা ঘাঁটিতে তিনি  কাজ করার দায়িত্ব পান ।

একবার  তার বেতনের চেকে কিছুটা সমস্যা হলে তিনি তাঁর কমান্ডার এক  সার্জেন্ট মেজরের  সঙ্গে  যোগাযোগ করলেন । সেই  সার্জেন্ট মেজর তাঁকে  তার অফিসে ডেকে পাঠালেন । তবে তিনি র‍্যাংগেলকে এই প্রস্তাবও দিলেন , “ তুমি যদি আমার সঙ্গে হোটেলে দেখা কর তাহলে, আমি তোমাকে খুশি করে দিব” ।

র‍্যাংগেল এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন । কিন্তু সেই সার্জেন্ট মেজর এতে একটুকুও না দমে র‍্যাংগেলকে বিছানায় যাবার প্রস্তাব দিতেই থাকলেন।

আমি যখন তার অফিসে গেলাম তখন আর কোন উপায় না পেয়ে  তার পি.এস (যিনি নিজেও একজন মহিলা) কে বললাম , যখন বস আমাকে ডাকবে এবং আমি যাবার পর ভেতর থেকে দরজা লক করে দিবে , প্লীজ আপনি এই সময়টাতে একটু পর পর দরজায় নক করবেন । তিনি কিছুটা ক্লান্তস্বরে উত্তর দিলেন , “সাবিনা ! শুধু তোমার সাথেই না , বস সবার সাথেই এরকম করে …।

আমরা,সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন বা আছেন এমন অনেক অনেক মহিলার সঙ্গে কথা বলেছি , যারা সবাই একটা ব্যাপারে একমত হয়েছেন – ইউ.এস সামরিক বাহিনীর পুরুষরা , সামরিক বাহিনীর নারীদের ধর্ষণ করাকে তাদের অধিকার মনে করে । সামরিক বাহিনীতে তো একটা কৌতুক প্রচলিতই আছে ,‘পুরুষ সহকর্মী বা অফিসারদের হাতে  ধর্ষিত হওয়া নারী অফিসার বা সৈন্যদের পেশাগত দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে’।

সাবিনা  র‍্যাংগেল একবার এক মিশনের দায়িত্ব পেলেন । সেই মিশনেও এই সার্জেন্ট মেজর ছিলেন  । এই সার্জেন্ট মেজর আর একজন সার্জেন্ট মেজরকে নিয়ে সাবিনা র‍্যাংগেল কে ধর্ষণ করতে থাকেন ।

সাবিনা র‍্যাংগেল বিভিন্ন সময় তার কমান্ডারদের (যাদের মধ্যে একজন মহিলা কমান্ডারও ছিলেন) তার ধর্ষিত হবার ঘটনা জানালে , তারা কোন পদক্ষেপ না নিয়ে সাবিনাকে ঘটনা গুলো চেপে যেতে বললেন । এমনকি কোন কোন অফিসার তাঁকে এই ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে উত্যক্ত করত ।

সাবিনা র‍্যাংগেল আস্তে আস্তে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়লেন । একদিন তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন  সামরিক বাহিনী ছেড়ে চলে যাবার – ব্যস অনেক হয়েছে আর এই পাশবিক নির্যাতন সহ্য করা যাবে না । তিনি জীবন নিয়ে হতাশ হয়ে পড়লেন । ধর্ষিত হবার দুঃসহ  স্মৃতি গুলো তাঁকে সারাক্ষন তাড়া করে বেড়াতে লাগলো । আত্মহত্যার চেষ্টাও করলেন কয়েকবার ……

শরীয়াহ আইনানুসারে, অপরাধ করার কারণে নারীদের দোররা মারলে   আমেরিকার মিডিয়াতে প্রতিবাদের ঝড় উঠে ,মুসলিমদের তুলোধুনো করে দেওয়া হয় , নারীবাদীরা মায়া কান্না কাঁদে,  হই চই শুরু করে দেয় – মুসলিমরা বর্বর, মধ্যযুগীয়, মুসলিমরা নারী স্বাধীনতার বিরোধী   ব্লা ব্লা ব্লা …

অথচ তাদের নিজেদের দেশের আর্মিতেই যে ভয়াবহ নারী নির্যাতন হয় সে ব্যাপারে  তারা চুপ  । কোথায়  তাদের মানবাধিকার, মত প্রকাশের অধিকার, কোথায়  নারী স্বাধীনতা ?

#ডাবলস্ট্যান্ডার্ড

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌  ……

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনুবাদিত )

পড়ুন-

মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব-২ http://lostmodesty.blogspot.com/2015/10/blog-post_25.html

মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব-৩  http://lostmodesty.blogspot.com/2015/12/blog-post_29.html

পাশ্চাত্যে বেড়ে ওঠা – http://lostmodesty.blogspot.com/2015/12/blog-post_17.html

রেফারেন্স-

১) http://www.npr.org/2013/03/20/174756788/off-the-battlefield-military-women-face-risks-from-male-troops

২)http://www.protectourdefenders.com/factsheet/

৩) http://www.globalresearch.ca/sexual-assault-against-women-in-the-us-armed-forces/5374784

শেয়ার করুনঃ
“****” ম্যাম গার্ড পড়ছিলঃ বুঝতে পারছিলাম         না, প্যান্ট সামলাবো নাকি কলম !!!

“****” ম্যাম গার্ড পড়ছিলঃ বুঝতে পারছিলাম না, প্যান্ট সামলাবো নাকি কলম !!!

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

বছর পাঁচেক আগের কথা । মফস্বল শহর থেকে ঢাকার এক দেশ বিখ্যাত কলেজে এইচ এস এসসি প্রথম বর্ষে ভর্তি হলাম। বাবা মা ছেড়ে একা একা ঢাকা শহরে এসেছি ,মন  ভার হয়ে থাকতো সবসময় । কিন্তু কলেজের স্যার আর ম্যামদের ক্লাসগুলো উপভোগ করতাম খুবই।

.

প্রত্যেকজন স্যার এবং ম্যাম ছিলেন প্রচন্ড পেশাদারিত্বের অধিকারী । সবার চোখে মুখে ছিল তাঁদের ছাত্রদের কিছু শেখানোর প্রবল আগ্রহ । ম্যাথ ডিপার্টমেন্ট এর এক শিক্ষক তো ছিলেন প্রবাদতুল্য মানুষ । শুধু একাডেমিক   পড়াশোনাই নয়, নীতি,নৈতিকতা,আদব,কায়দা   শেখানোরও প্রচন্ড চেষ্টা করতেন আমাদের স্যার এবং ম্যামরা । কলেজের অধ্যক্ষের মুখে তো লেগেই থাকতো,‘আমি ভালো ছাত্র চাই না , ভালো মানুষ চাই’।

.

বিশ্ব দাপিয়ে বেড়ানো অগণিত ভালো  ছাত্র কলেজ থেকে আগেও বের হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে ।কিন্তু  কয়জন ভালো মানুষ বের হচ্ছে তা  গবেষণার বিষয় ।

.

টিচারদের এমন আন্তরিকতা  থাকার পরেও , তাঁদের সঙ্গে বিশেষ করে ম্যাডামদের সঙ্গে আমারই কয়েকজন সহপাঠী এবং সিনিয়র ভাইদের বেয়াদবি  দেখে  টাসকি খেয়ে গেছলাম ।

ম্যডামরা যখন রোল কল করতেন (বিশেষ করে ম্যাডাম অল্প বয়স্কা এবং সুন্দরী হলে ) তখন পোলাপান একটু ন্যাকামো করে, নাকি স্বরে ইয়েস ম্যাম বলে রেসপন্স করত ।

বায়োলজী ক্লাসগুলোতে মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে ম্যডামদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলা হত ।পোলাপানের আড্ডার জটলা থেকে টুকরো টুকরো কথা কানে আসতো ……… অমুক ম্যডামকে শাড়ি পড়লে যা লাগে না , …… তমুক ম্যডাম একটা *** , অমুক ম্যডামের সেই ফিগার ……

আরো অনেক কথা যেগুলো শালীনতার মাত্রা অতিক্রম করে যাবে । এখানে না বলাটাই শ্রেয় ।

.

বেয়াদবি  এই পর্যন্ত থাকলেও সহ্য করা সম্ভব ছিল । কিন্তু একদিন এক ম্যডামের ক্লাসে  পেছনের দিকের বেশ কয়েকটা বেঞ্চের পোলাপান একসঙ্গে  ফোনের  লাউড  স্পীকারে পর্নমুভি ছেড়ে দিয়েছিল ।

ম্যাডাম সেদিন কাঁদতে কাঁদতে ক্লাস থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন ।

(এরকম কাহিনী অন্য একটা ক্লাসে অন্য একজন ম্যডামের সঙ্গেও করা হয়েছিল )

কলেজ লাইফের এই  ঘটনা গুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেই মনে করতাম । ভুলেও গিয়েছিলাম এইগুলো । কিন্তু কিছুদিন আগে আমাদের কলেজের ফেসবুক ফ্যান পেইজে (যেটা চালায় কলেজের প্রাক্তন এবং বর্তমান স্টুডেন্টরা)  একটা ট্রোল দেখে (ছবিতে দেখুন) আবারো টাসকি খেয়ে গেলাম ।  এতদিন যা কিছু ক্লাস রুমে করা হতো , যা কিছু মনের মধ্যেই চাপা পড়ে থাকতো বা বন্ধুদের আড্ডার সার্কেল থেকে বের হতে পারত না , তা ফেসবুকের খোলা বাজারে ঢাকঢোল পিটিয়ে জানান দিয়ে দেওয়া হল । বেয়াদবিটাকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে দেওয়া হল  আরকি ।

…… ****  “****” ম্যাম গার্ড পড়ছিলঃ বুঝতে পারছিলাম না, প্যান্ট সামলাবো নাকি কলম !!!

কলেজের রানিং স্টূডেন্টদের বানানো  এই ট্রোলে আবার দেখলাম বেশ কয়েকজন রসিক সিনিয়র ভাইয়া কমেন্ট করে ব্যাপক মজা নিয়েছেন (ছবিতে দেখুন)

 

এই ম্যডামগুলোই  স্টুডেন্টদের কিছু   শেখাবেন বলে , রাত জেগে ক্লাসের প্রিপারেশান নেন, চল্লিশ পঞ্চাশ মিনিট ঠাই দাঁড়িয়ে ক্লাস নেন , বক বক করেন  , ব্ল্যাকবোর্ডে লিখতে লিখতে চকের গুঁড়ো খান , ফ্যানের নিচে থেকেও দর দর করে  ঘামেন  । যারা   এতটা আন্তরিকতা , এতটা স্নেহ , এতটা মমতা দিয়ে ক্লাসে পড়ানোর চেষ্টা করেন , তাঁদের সঙ্গেই  এমন ব্যবহার করা হল  ? এটা জাস্ট তাদের মুখের কথা , কিন্তু এটাই কি   কুৎসিত একটা ইঙ্গিত দেয় । তাহলে চিন্তা করুন  তাদের মনের ভেতরে কি লুকিয়ে আছে , ম্যামদের  নিয়ে তাদের চিন্তা ভাবনা কতদূর গড়িয়েছে!

.

কিছু  সিনিয়র ভাইয়দের দেখলাম  ওইখানে কমেন্ট করে মজা নিয়েছেন এবং  লাইক দিয়েছেন , বুঝলাম না  কী করে  তারা এমনটা করতে পারলেন। ছোট ভাইগুলার নাহয় এখনো ম্যাচিউরিটি আসে নি ,তারা নাহয় একটা  ভুল করে ফেলেছে  , সিনিয়র হিসেবে তাদের উচিত ছিল সেই ভুল শুধরিয়ে দেওয়া ।   কিন্তু তারা  সেই ভুল শুধরিয়ে না দিয়ে কমেন্ট করে  তাদেরকে আরো উৎসাহ দিলেন !এরাই না দেশের সবচেয়ে মেধাবী সন্তান ?  দেশ ও জাতির গর্ব ? দেশ না একদিন এরাই চালাবেন ?   এদের  টিচারও যদি  এদের   সেক্স ফ্যান্টাসির শিকার হওয়া থেকে রেহাই না পায় , তাহলে  তাদের সহপাঠী,  অফিসের কলিগ,  অধীনস্থ নারী কর্মচারীরা কী করে রেহাই পাবে ?

এরকম একটা প্রজন্ম নিয়ে আমরা কী স্বপ্ন দেখব,  বলুন ? এদের হাতে  যখন দেশ চালানোর ভার পড়বে  তখন কী অবস্থা হবে এই দেশের ?

.

বাংলাদেশে আজ এমন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছ যেখানে স্টুডেন্টদের হাতে মহিলা শিক্ষকদের  টিজিং এর শিকার হতে হয় । ঘটনা গুলো চাপা পড়ে থাকে । লোক লজ্জা আর মান সম্মান খোয়ানোর ভয়ে এইগুলো কেউ প্রকাশ করেন না । আর এইগুলো বলে বেড়ানোর কথাও না । একবার  এক আড্ডায়  আমার ভার্সিটির  পোলাপানের   অন্য  একটা ভার্সিটির  মহিলা ফ্যাকাল্টিদের ফিগার এনালাইসিস শোনার দুর্ভাগ্য হয়েছিল  । বেশিক্ষন সেখানে  বসে থাকতে পারিনি ।

.

(এখানে আমার একটা ব্যক্তিগত অব্জারভেশান বলে রাখি – এইটা জাস্ট আমার পার্সোনাল একটা মতামত –  স্টুডেন্টদের হাতে ম্যামদের নাকাল হবার পেছনে ম্যামরা নিজেরাও অনেকটা দায়ী । যেই লেভেলের সাজগোজ আর পোশাক আশাক পরে কিছু কিছু   ম্যাম ক্লাস রুমে যান , অমুকের গায়ে হলুদ, তমুকের বৌভাতে উনারা  যেরকম মাঞ্জা মেরে ফটোগ্রাফারদের হাতে শরীর ছেড়ে দেন এবং পরে সেইছবি গুলো ফেসবুকে আপলোড করেন, তাতে একজন স্টুডেন্টের পক্ষে তাদেরকে নিয়ে খুব ভালো কিছু ভাবা সম্ভব নয়   )

.

আসলে সারারাত ধরে পর্নমুভিতে নারীদের বস্ত্র হরণ দেখলে , আইটেম সং দিয়ে ফোনের মেমরি লোড করে রাখলে নারীদেরকে নিয়ে খুব একটা ভাল চিন্তা করা সম্ভব হয়না । নারীরাও যে মানুষ , তাদেরও হৃদয় আছে, তাদেরও মন আছে , একজোড়া চোখ আছে সেই চোখের ভেতরে একটা  আকাশ আছে এগুলো অনুধাবন করা যায়না । তাদেরকে শুধু একটা মাংসপিণ্ড মনে হয় যা নিয়ে উদ্দাম ফুর্তি করা যায়, রাত কাটানো যায়, কিন্তু ভালবাসা যায় না,  তার চোখের তারায় হারিয়ে যাওয়া যায় না , তাদেরকে সম্মান করা যায়না ।

.

ম্যামদের নিয়ে যারা এরকম চিন্তা ভাবনা করতে পারে তারা তাদের “জাস্ট ফ্রেন্ড” কিংবা ছোট বোন বড় বোন হিসেবে দেখা আশেপাশের মেয়েদের নিয়ে কোন লেভেলে চিন্তা করতে পারে তা  মাথায় একটু বুদ্ধি থাকলেই বোঝা যায় ।  মুখের সামনে আপু আপু বা দোস্ত দোস্ত করে মুখে ফেনা তুলে ফেললেও , ভদ্রতার মুখোশ পড়ে থাকলেও  এইসব ছেলেরা তাদের সেই আপুদের বা ইয়ার দোস্তদের অনুপস্থিতিতে তাদের ফিগার নিয়ে যে পোস্টমর্টেম করে তার রিপোর্ট  জানলে কোন ভদ্র মেয়ের পক্ষে তাদের সঙ্গে  মেশা  দূরে থাক কথা বলাও সম্ভব নয় । ফেসবুকে  আপুদের আপলোড করা পিক  দিয়ে যে    তার কত “জাস্ট ফ্রেন্ড” ছেলে বন্ধু   যৌবন জ্বালা নিভায় তা যদি এইসব আপুরা  জানতো !

তবে আজকাল  দিন বদলাইয়া গেছে । আজকালকার মেয়েরা নাকি তাদেরকে কেউ হট চিক , সেক্সি বললে খুশিই হয় ।  কোথায় চলেছে আমাদের এই সমাজটা,  কোথায় যাচ্ছি আমরা ?  আবহমান বাংলার সেই লজ্জাবতী নারীরা কোথায় গেল আজ?

.

জীম তানভীর ভাইয়ের একটা লিখার কিছু অংশ এখানে তুলে দিতে  ইচ্ছে করছে,

…………ছেলেরা যখন মেয়েদেরকে “slave” হিসেবে দেখতে শেখে তখন মেয়েরা শেখে শিলা হতে হবে,তাতে যৌবনজ্বালায় বিকারগ্রস্ত ছেলেদের চড়কির মত ঘোড়ানো যাবে।
তারা শেখে পার্লারে গিয়ে কি সব পেডিকিউর মেনিকিউর না করলে নাকি স্ট্যাটাস থাকে না।

তারা শেখে বড় মডেল কিংবা অভিনেত্রী হওয়ার জন্য নিজের চরিত্রকে ফটোগ্রাফার কিংবা প্রডিউসারের কাছে নিজের চরিত্র বিকিয়ে দেয়া দোষের কিছু না।

তারা সানন্দা টাইপের ম্যাগাজিনগুলো বিমুগ্ধ নয়নে পড়তে থাকে আর বুঝে ফেলে শরীর দেখিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার মূলমন্ত্র।

.

তারা হিন্দী সিরিয়াল দেখে আবিষ্কার করে নিজেকে সাজিয়ে রাখা হল স্মার্ট মেয়েদের কাজ !এই যদি আমরা শিখি,আমরা কিভাবে আশা করতে পারি একটা ছেলে একটা মেয়েকে সম্মান করবে ?

সম্মান অর্জন করা যায় শরীর দেখিয়ে? সৌন্দর্য দিয়ে ? সেক্সি মেয়ে দেখলে আমাদের চোখ বিনয়ে নুয়ে পড়ে নাকি কি যেন খুজে বেড়ায় ?
একটা মেয়ে কি গায়ের উপর থেকে ওড়না ফেলে দিয়ে আশা করে তার দাম বাড়বে ?

আজকে যে ছেলেটা জন্ম নিয়েছে সে শরীর নাচিয়ে কুদিয়ে বেড়ানো মিলার মিউজিক ভিডিও দেখে কি ভাববে সেটা কি আমরা চিন্তা করেছি ???

শেয়ার করুনঃ
একেই বলে সভ্যতা!!! (দ্বিতীয় পর্ব)

একেই বলে সভ্যতা!!! (দ্বিতীয় পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

অসহায়, বিপর্যস্ত, দুর্দশাগ্রস্থ মানুষের উপর জাতিসংঘের “শান্তিরক্ষীদের” চরম বিকৃত যৌন নির্যাতনের খবর আসছেই। ২০১৩ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে (CAR) একশোরও বেশি নারী, কিশোর-কিশোরী ও শিশু “শান্তিরক্ষীদের” দ্বারা নির্যাতিত হবার কথা ডকুমেন্টেড হয়েছে। গত ২৬ মার্চ জাতিসংঘেরই একজন মানবাধিকার বিষয়ক কর্মকর্তার সফরের সময় ভয়ঙ্কর একটি ঘটনার কথা উঠে এসেছে, যা একজন সুস্থ মানুষের জন্য পড়াটাও কষ্টকর। ফ্রেঞ্চ “শান্তিরক্ষী”-দের দ্বারা সংঘটিত এ ঘটনাটির বর্ণনা সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে আমি তার অনুবাদ তুলে ধরছি। পাঠকের কাছে মাফ চেয়ে নিচ্ছি, কোন সুস্থ মানুষের একরকম অসুস্থতার মুখোমুখি হওয়া উচিত না, বাস্তবে তো না-ই, অনলাইনেও না। কিন্তু মানবতা আর শান্তির পতাকাধারীরা গালভরা বুলির আড়ালে, শান্তির ধোঁয়া তুলে আসলে কি করছে তা তুলে ধরা দরকার মনে করছি। এই হল এদের সভ্যতা আর মানবতার রূপ, এই হল শান্তিরক্ষী বাহিনীর আনা শান্তির নমুনা-
“তিনজন মেয়ে জানিয়েছেন, চতুর্থ আরেকজন ভিকটিম সহ তাদের চারজনকে সাঙ্গারিস বাহিনীর ক্যাম্পে বন্দী করা হয়। সাঙ্গারিস বাহিনীর মিলিটারি কম্যান্ডার তাদেরকে ক্যাম্পের ভেতর বেঁধে ফেলেন এবং বিবস্ত্র করেন। তারপর তাদেরকে বাধ্য করেন একটি কুকুরের সাথে সঙ্গম করতে। ঘটনার পর প্রতিজনকে ৫০০০ ফ্র্যাঙ্ক [স্থানীয় মুদ্রা – প্রায় ৭০০ টাকা] দেওয়া হয়। ভিকটিমদের একজন ঘটনার কিছুদিন পর অজানা রোগে মৃত্যুবরণ করেন। আরেকজন ভিকটিম জানান এই ঘটনার পর থেকে তাকে “সাঙ্গারিস কুত্তি” বলে ডাকা হয়। সাঙ্গারিস হলো মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত ফ্রেঞ্চ সামরিক বাহিনীর নাম।”

সূত্রঃ http://tinyurl.com/zfoeug8

যদি কেউ মনে করেন জাতিসংঘ শান্তিবাহিনীর দ্বারা নির্যাতনে এবং পাশবিকতার এটাই প্রথম ঘটনা, তবে ভুল করবেন। বিপর্যস্ত, অসহায় মানুষ, যাদের “সাহায্য” করার অজুহাতে জাতিসংঘ বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের সাম্রাজ্যবাদী-ক্রুসেইডার সেনাবাহিনি প্রেরণ করে, তাদেরকে নির্যাতন করা জাতিসংঘের জন্য নতুন কিছু না। প্রায় দুই দশক ধরে তারা এরকম করে আসছে, এবং অপরাধীদের দায়মুক্তির ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। কিন্তু বার বার, ধারাবাহিক ও নিয়মিতভাবে এ ঘটনাগুলো ঘটার পরেও জাতিসংঘ তেমন কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করে নি বরং পাশবিকতার মাত্রা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। “রক্ষকই যখন ভক্ষক” – এ কথাটা “শান্তি ও মানবতার” ধারক-বাহক জাতিসংঘের সাথে যেভাবে খাপে খাপে মিলে যায়, বর্তমান বিশ্বে আর কারো সাথে মনে হয় না অতোটা মেলে। নিচে গত বিষ বছরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের নারী-শিশুদের উপর চালানো যৌন নির্যাতনের সংক্ষিপ্ত টাইম লাইন দেওয়া হলঃ

অগাস্ট ১৯৯৬ – মো্যাম্বিকের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এবং জাতিসংঘর মহাসচিবের কার্যালয়ের অধীনস্ত বিষেশজ্ঞ গ্রাসা মিশেল জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে একটি রিপোর্ট উপস্থাপন করেন। “শান্তিরক্ষী” বাহিনীর দ্বারা ছেলে ও মেয়ে শিশুদের উপর চালানো যৌন নির্যাতনের বিষয়টি প্রথমবারের মতো এই রিপোর্টে উঠে আসে।

১৯৯৯ – বসনিয়াতে জাতিসংঘের “আন্তর্জাতিক পুলিশ বাহিনীর” কার্যক্রম পর্যবেক্ষনের দায়িত্ব থাকা ক্যাথেরিন বলকোভ্যাচ, বসনিয়াতে এই বাহিনী আসলে কি করছিল তা প্রকাশ করে দেন। জাতিসংঘের পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত পতিতা গমনে অভ্যস্ত ছিল। তার চেয়েও ভয়ঙ্কর তথ্য হল, যুদ্ধ বিধ্বস্ত বসনিয়ার মেয়ে ও কিশোরীদের পূর্ব ইউরোপে যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি ও পাচারের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিল জাতিসঙ্ঘের পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে তাদের কারো কোন শাস্তি হয় নি। ক্যাথেরিনকে বরখাস্ত করা হয়।

ফেব্রুয়ারী ২০০২ – খোদ জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা UNHCR এবং Save The Children এর উপদেষ্টাদের তৈরি একটি রিপোর্টের মাধ্যমেই গিনি, লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন এবং সার্বিকভাবে পশ্চিম আফ্রিকায় জাতিসংঘের “শান্তিরক্ষীদের” দ্বারা উদ্বাস্তু নারী ও শিশুদের যৌন নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। রিপোর্ট থেকে জানা যায় UNHCR এর অধীনে থাকা ক্যাম্প গুলোতেই সর্বাধিক যৌন নির্যাতন ও জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তির ঘটনা ঘটে।

অক্টোবর ২০০২ – পশ্চিম আফ্রিকাতে উদ্বাস্তু নারী ও শিশুদের উপর জাতিসংঘের “মানবাধিকার” কর্মী, “ত্রানকর্মী” এবং “শান্তিরক্ষীদের” দ্বারা সংঘটিত যৌন নির্যাতনের ব্যাপারে জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তত্ত্বাবধান পরিষদ (OIOS) একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে।

অক্টোবর ২০০৩ – এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ বাধ্য হয় নারী- ও শিশুদের যৌন নির্যাতন করা থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষ ভাবে তাদের “শান্তিরক্ষীদের” আহবান জানাতে।

ফেব্রুয়ারী ২০০৪ – কঙ্গোতে উদ্বাস্তু নারী ও শিশুদের উপর চালানো “শান্তিরক্ষীদের” পাশবিকতার অফিশিয়াল তদন্ত শুরু। সমস্ত কঙ্গো জুড়েই, এবং উত্তর-পশ্চিম কঙ্গোর বুনিয়া শহরে বিশেষভাবে, জাতিসংঘের ক্যাম্পের ভেতরে নারী ও শিশুদের ধর্ষন ও জোর পূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়। সামরিক এবং সিভিলিয়ান, জাতিসংঘের উভয় ধরনের কর্মী এবং অফিসাররা এ অপরাধের সাথে যুক্ত ছিল।

মার্চ ২০০৫ – জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের যৌন নির্যাতন সম্পর্কে প্রথম বিশ্লেষনর্মী রিপোর্ট “যাইদ রিপোর্ট” – এর প্রকাশ। জাতিসংঘের বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অসহায়দের উপর যৌন নির্যাতনের এই ধারার ব্যাপক প্রচলন এবং জাতিসংঘের ভেতরে একে “সাধারণ ঘটনা” হিসেবে মেনে নেওয়ার মনোভাবের কথা উঠে আসে।

২০০৬ – বিবিসির অনুসন্ধানী রিপোর্টে উঠে আসে কিভাবে হাইতি এবং লাইবেরিয়াতে “শান্তিরক্ষীরা” শিশুদের নিয়মিত ধর্ষন ও জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে। ছোট মেয়েরা বিবিসির সাংবাদিকদের জানায় কিভাবে খাবার ও টাকার জন্য শান্তিরক্ষীরা নিয়মিত তাদেরকে যৌনকর্মে বাঁধ্য করতো।

জানুয়ারী ২০০৭ – ২০০৫ সালে দক্ষিণ সুদানে শান্তিরক্ষীদের দ্বারা শিশু ও কিশোরীদের সিস্টেমেটিক ধর্ষন ও যৌন নির্যাতনের খবর প্রায় দুই বছর পর মিডিয়াতে প্রকাশ পায়। ১২ বছরের মেয়েরাও শান্তিরক্ষীদের লালসার শিকার হয়।

২০০৮ – জাতিসংঘের ত্রানকর্মী ও শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে আইভরি কোস্ট, দক্ষিণ সুদান এবং হাইতিতে শিশুদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ। জাতিন্সঘের শান্তি ও মানবাধিকারের ধারক-বাহকদের দ্বারা ধর্ষিত হয় ৬ বছরে শিশুও। শুধুমাত্র Save The Children অভিযোগ প্রমাণিত হবার প্রেক্ষিতে তিনজন কর্মীকে বরখাস্ত করে দায় সারে।

সেপ্টেম্বর ২০১৩ – দক্ষিণ মালীতে শান্তিরক্ষীদের দ্বারা গণধর্ষন। কোন বিচার নেই।

নভেম্বর ২০১৩ – একদল স্বাধীন বিশেষজ্ঞ দলের অধীনে করা রিপোর্ট জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে জমা দেওয়া হয়। নিজেদের সদস্যদের দ্বারা দক্ষিণ সুদান ও লাইবেরিয়াতে ব্যাপকভাবে সঙ্ঘটিত ধর্ষন ও নারী ও শিশুদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার ঘটনার বিচারের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের উদাসীনতা নিয়ে এই রিপোর্টে কড়া ভাষায় সমালোচনা করা হয়। ২০১৫ পর্যন্ত এ রিপোর্ট ধামাচাঁপা দিয়ে রাখা হয়। ২০১৫ সালে “এইডস মুক্ত পৃথিবী” (AIDS Free World) নামে একটি আন্তর্জাতিক অ্যাডভোকেসি গ্রুপ স্বউদ্যেগে মিডিয়ার কাছে গোপনে এই রিপোর্ট পৌছে দেওয়ার পর, রিপোর্টটি আলোর মুখ দেখে।

এপ্রিল ২০১৫ – জাতিসংঘের অভ্যন্তরীন একটি রিপোর্ট AIDS Free World গোপনে সংগ্রহ করার পর মীডিয়াতে প্রকাশ করে। রিপোর্টে থেকে জানা যায় মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের রাজধানী বাঙ্গুই-এ “শান্তিরক্ষীরা” খাবার এবং টাকার জন্য ৮ থেকে ১৫ বছর বয়েসী দশ থেকে বারো জন ছেলেকে নিয়মিত ধর্ষন করে। ধর্ষন সংঘটিত হয় অভ্যন্তরীণ উদ্ভাস্তুদের জন্য তৈরি জাতিসংঘের নিজস্ব সেন্টারের ভেতরে।

মে ২০১৫ – জাতিসংঘের বিরুদ্ধে তাদের সদস্য কতৃক নারী-শিশু ধর্ষন ও নির্যাতনের তথ্য গোপন করা এবং অপরাধীদের বাঁচিয়ে দেওয়ার অভিযোগ।

জানুয়ারী ২০১৫ – মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে “শান্তিরক্ষীদের” দ্বারা মেয়েদের ধর্শনের আরও প্রমাণ।

মার্চ ২০১৬ – জাতিসংঘের একটি প্রকাশিত রিপোর্ট অনুয়ায়ী ২০১৫ সালে দশটি জাতিসংঘ মিশনে মোট ৬৯ টি ধর্ষনের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।

সূত্রঃ http://tinyurl.com/z3bwr8q

এই হল জাতিসংঘের মানবতা আর সভ্যতার নমুনা। এভাবেই তারা শান্তি প্রতিষ্ঠা করে আসছে। সবচেয়ে গরীব, সবচেয়ে অসহায়, সবচেয়ে দুর্দশাগ্রস্থ মানুষদের এভাবে তারা “সাহায্য” করছে। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করে চালু করা এনজিও আর অ্যাডভোকেসি গ্রুপগুলো, সুশীলদের মুখ দিয়ে এই জাতিসংঘের আদর্শই আমাদের শেখাতে চাচ্ছেন, আমাদের স্কুলের পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে এই জাতিসংঘের আদর্শ আমাদের শিশুদের মাথায় ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। প্রথম আলো-ডেইলি স্টার-একাত্তরের মতো মিডিয়াগুলো জাতিসংঘের সিলেবাস অনুযায়ী আমাদের নারী অধিকার, শিশু অধিকার আর শান্তি-সভ্যতা সংজ্ঞা শেখাতে চাচ্ছে। আমাদের সামনে এসব ধর্ষক-নির্যাতক, পিশাচকে হিরো হিসেবে উপস্থাপন করছে, তাদের নৈতিকতাকে (!) উৎকৃষ্ট হিসেবে উপস্থাপন করছে আর আমাদের বোঝাচ্ছে ইসলাম কতো মধ্যযুগীয়, কতো বর্বর, কতো পাশবিক! আর তাই তো নাসির বাচ্চু-খুশি কবীররা এদেশে সমকামীতার লাইসেন্স চায়, ৭১ বিকৃতাচারের পক্ষে নাটক বানায়, শাহবাগীরা পহেলে বৈশাখে “সমকামী প্যারেড” করেন।

তাই পরের বার যখন শারীয়াহ নিয়ে এসব মিডিয়া কিংবা সুলতানা কামালদের “আসক”-এর মতো সংস্থাগুলোর কথা চোখে পরবে, যখন এরা তনু ধর্ষন নিয়ে তোলপাড় করবে কিন্তু কৃষ্ণকলির স্বামীর মুখের আঁচড়ের দাগ, গৃহ পরিচারিকার মৃত্যু, ময়না তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে রহস্যজনক নীরবতা পালন করবে – তখন মাথায় রাখবেন ঠিক কোন মানবতার সংজ্ঞা, কোন ধরণের স্বাধীনতা, কোন ধরনের সভ্যতা, কোন ধরনের শান্তি, কোন ধরনের ইনসাফের নমুনা তাদের ফিরিঙ্গি আন্তর্জাতিক প্রভুরা উপস্থাপন করেছেন, আর তারা অনুসরণ করছে। হয়তোবা অসহায় মানুষকে কুকুরের সাথে সঙ্গমে বাধ্য করাটাই তাদের কাছে সভ্যতা ও স্বাধীনতা, হয়তো বা পশুকাম, শিশুকাম, ধর্ষন আর পতিবৃত্তির অধিকারই তাদের কাছে মানবাধিকার, হয়তো তাদের এই বিশ্বব্যবস্থায় এটাই নৈতিকতা, এটাই এ বিশ্বব্যবস্থার ধর্ম – কিন্তু নিশ্চয় সৃষ্টিকর্তার নাযিলকৃত শারীয়াহর মাপকাঁঠিতে এরা জঘন্য অপরাধী। আর নিঃসন্দেহে এই জঘন্য অপরাধ ততোদিন বন্ধ হবে না, যতোদিন আল্লাহর আইন দুনিয়াতে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে,। ততোদিন এসব অপরাধীর বিচার হবে না, যতোদিন আল্লাহ্‌র শারীয়াহর অধীনে এসব জন্তুর বিচার করা হচ্ছে।

“আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, দুনিয়ার বুকে ফাসাদ সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরা তো শান্তির পথ অবলম্বন করেছি।“ [আল-বাক্বারাহ, ১১]

Collected From
Brother
Asif Adnan

পড়ুন প্রথম পর্ব – http://lostmodesty.blogspot.com/2016/08/blog-post_34.html

শেয়ার করুনঃ
“পাঠক, সাবধান!  ভয়ের জগতে প্রবেশ করছ তুমি!!”

“পাঠক, সাবধান! ভয়ের জগতে প্রবেশ করছ তুমি!!”

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

“পাঠক, সাবধান!
ভয়ের জগতে প্রবেশ করছ তুমি!!”
.
অপ্রত্যাশিতভাবে অনির্ধারিত কালের জন্য ছুটি পাওয়া গেছে। নানা কারনে নজরদারী নেই, জবাবদিহিতা নেই। চিন্তাহীন এবং আনন্দময় একটা সময়। আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগের কথা। সকাল ন’টার মতো বাজছে। রোদ মাথায় নিয়ে হাকডাক করতে করতে ওয়ার্কাররা বাসার সামনের আন্ডার-কন্সট্রাকশান বিল্ডিং-এর ছাদ ঢালাই –এর কাজ করছে। নাস্তা শেষে এক তলার সামনের বারান্দাতে গল্পের বই নিয়ে বসলেও পুরোটা মনোযোগ বইয়ের দিকে নেই। পড়া ফেলে মাঝে মাঝেই এদিক ওদিক তাকাচ্ছি। পাহাড়ী এলাকায় বাসা। কিংবা বলা যায় পাহাড় কেটে বানানো আবাসিক এলাকা। বারান্দার ডান দিক ঘেঁষে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের খন্ডিত ছিটেফোঁটা।
.
বিক্ষিপ্ত ভাবে এদিক ওদিক তাকাবার সময় খেয়াল হল বারান্দার পাশে পাহাড়ের খন্ডিত ছিটেফোটার অংশে দাড়ানো কেউ একজন আমার দিকে তাকিয়ে আছে। বই থেকে পুরোপুরি মাথা না উঠিয়ে আড়চোখে তাকালাম। সমবয়েসী একটা ছেলে। জীর্ন-মলিন পোশাক। সম্ভবত পাতা কুড়োতে এই দিকে আসা। মনে হল আমার চাইতে হাতে ধরা বইয়ের প্রতিই দর্শনার্থীর মনোযোগ বেশি। আড়চোখে ছেলেটাকে বার দুয়েক দেখে নিয়ে কায়দা করে বইটাকে ঘুরিয়ে ধরলাম যাতে ছেলেটা পুরো প্রচ্ছদটা দেখতে পায়। মনে মনে এক গাল হেসে নিলাম। স্বাভাবিক। কেনার সময়ই বইটার প্রচ্ছদে চোখ আটকে গিয়েছিল। বইটার গল্প নিয়ে আমি সন্দিহান ছিলাম। তবুও বলা যায় প্রচ্ছদের আকর্ষনেই অন্যান্য বইগুলোকে ফেলে এ বইটাকে বেছে নেওয়া। মনে মনে বারকয়েক নিজের পিঠ চাপড়ে দিলাম। কাজ ফেলে সমবয়েসী একটা ছেলে আমার বইয়ের প্রচ্ছদের দিকে তাকিয়ে থাকা নিঃসন্দেহে আমার সিদ্ধান্তের যথার্থতার অকাট্য প্রমান।
.
বইটা ছিল সেবা প্রকাশনীর জনপ্রিয় কিশোর হরর সিরিযের। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে এক্স-ফাইলস, গুসবাম্পস, রসওয়েল সহ হরর/থ্রিলার/সায়েন্স ফিকশান জাতীয় বিভিন ওয়েস্টার্ন টিভি সিরিয ও সিনেমার জনপ্রিয়তার সময়ে শুরু হয়েছিল “কিশোর হরর” সিরিযের। সেবা প্রকাশনীর নিয়মিত পাঠকদের কাছে, বিশেষ করে স্কুল পড়ুয়া “তিন গোয়েন্দা” পাঠকদের কাছে খুব দ্রুতই জনপ্রিয় ওঠে কিশোর হরর সিরিয। হরর সিরিযের জনপ্রিয়তার প্রভাবে কিছুদিন তিন গোয়েন্দা সিরিয থেকেও “কিশোর চিলার” নামে কিছু বই প্রকাশ করা হয়। আমার হাতে ধরা বইটার নাম ছিল বৃক্ষমানব। প্রচ্ছদে ছিল সবুজ রঙের বিকৃত বিকট এক মুখের ছবি। ৯৭ এ প্রকাশিত “বৃক্ষমানব” ছিল সেবা-র কিশোর হরর সিরিযের প্রথম দিকের বই এবং আমাদের (আমার ও আপুর জয়েন্ট ভেনচার) কেনা কিশোর হরর সিরিযের প্রথম বই। লেখকের নাম, টিপু কিবরিয়া।
.
.
২.
সেবার কিশোর হরর সিরিয আর সিরিযের লেখকের নাম নানা কারন প্রায় ভুলতে বসেছিলাম। বই পড়ার নেশা দীর্ঘদিন ভোগালেও ইংরেজি গল্প আর টিভি-শোর মধ্যম মানের নকল পড়ার চাইতে সোর্স ম্যাটেরিয়াল পড়াটাই বেশি লজিকাল মনে হত। এছাড়া স্কুলের দিনগুলোতে সম্পূর্ণ অবসর সময়টা বইয়ের জন্য বরাদ্দ থাকলেও সময়ের সাথে সাথে ক্রমান্বয়ে বইয়ের জন্য বরাদ্দটা কমতে থাকে। টিপু কিবরিয়ার বিস্মৃতপ্রায় নামটা মনে করিয়ে দেয় ২০১৪ এর জুন থেকে অগাস্ট পর্যন্ত প্রকাশিত বেশ কিছু নিউয রিপোর্ট। প্রায় দু’মাস ধরে প্রকাশিত এসব রিপোর্টের সারসংক্ষেপ পাঠকের জন্য এখানে তুলে ধরছি।
.
আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফির ভয়ঙ্কর একটি চক্র বাংলাদেশে বসেই দীর্ঘ নয় বছর পথশিশুদের ব্যবহার করে পর্নো ভিডিও তৈরি করে আসছিল। আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশের তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ২০১৪ এর ১০ জুন ইন্টারপোলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশু পর্ণোগ্রাফি তৈরির দায়ে সিআইডি গ্রেফতার করে টি আই এম ফখরুজ্জামান ও তার দুই সহযোগীকে। সিআইডির পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম জানান, এ চক্র আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী ছেলেশিশুদের দিয়ে পর্নো ছবি তৈরি করতো। এ চক্রের মূল হোতা টি আই এম ফখরুজ্জামান টিপু কিবরিয়া নামে অধিক পরিচিত। তার বাইরের পরিচয় তিনি দেশের একটি খ্যাতনামা প্রকাশনা সংস্থার কিশোর থ্রিলার ও হরর সিরিজের লেখক। এছাড়া তার বেশ কিছু শিশুতোষ গল্প উপন্যাসের বইও রয়েছে। কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে এখন তার অন্ধকার জগতের পরিচয়ই সামনে চলে এসেছে।
.
১৯৯১ সাল থেকে ১০ বছর টিপু সেবা প্রকাশনীর কিশোর পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ছিলেন। ২০০৩ সাল থেকে ফ্রি-ল্যান্স আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ শুরু করেন। গড়ে তোলেন একটি ফটোগ্রাফিক সোসাইটিও। রাজধানীর মুগদায় তার একটি স্টুডিও রয়েছে। এ সময় তার তোলা ছেলে পথশিশুদের স্থির ছবি ইন্টারনেটে বিশেষ করে ফেসবুক, টুইটারম ফ্লিকারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করতেন। এই ছবি দেখে সুইজারল্যান্ড ও জার্মানির পর্নো ছবির ব্যবসায়ীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে নগ্ন ছবি পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। বিনিময়ে টাকারও প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রস্তাবে রাজি হয় টিপু। ফুঁসলিয়ে ও টাকার বিনিময়ে পথশিশুদের সংগ্রহ করে নগ্ন ছবি তুলে পাঠাতে শুরু করেন।
.
কিছু ছবি পাঠানোর পরই পর্নো ছবি পাঠানোর প্রস্তাব দেয়া হয় তাকে। শুরু হয় এই পর্নো ছবি (ভিডিও) তৈরির কাজ। সময়টা ২০০৫ সাল। নুরুল আমিন ওরফে নুরু মিয়া, নুরুল ইসলাম, সাহারুলসহ কয়েকজনের মাধ্যমে বস্তিসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ছিন্নমূল ছেলে শিশুদের সংগ্রহ করেন টিপু। মুগদার মানিকনগরের ওয়াসা রোডের ৫৭/এল/২ নম্বর বাড়ির নিচতলায় দুই রুমের বাসা ভাড়া নিয়ে জমে ওঠে ফ্রি-ল্যান্স ফটোগ্রাফির আড়ালে পথশিশুদের দিয়ে পর্নো ছবি নির্মাণ ও ইন্টারনেটে বিদেশে পাঠানোর রমরমা ব্যবসা। নয় বছরে কমপক্ষে ৫০০ শিশুর পর্ণোগ্রাফিক ভিডিও তৈরি করে টিপু ও তার সহযোগীরা। ৮-১৩ বছরের এসব পথশিশুদের ৩০০-৪০০ টাকা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে এ কাজে ব্যবহার করা হতো।
.
টিপু এবং তার ওই সহযোগীরা শিশুদের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হতেন। আর বেশির ভাগই এসব ভিডিও করতেন টিপু নিজেই। একপর্যায়ে এই জঘন্য অপরাধ টিপুর নেশা ও পেশায় পরিণত হয়ে যায়। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে টিপু বলেছেন, তিনি পর্নো ছবি তৈরি করে জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডের তিন ব্যক্তির কাছে পাঠাতেন। এঁদের একেকজনের কাছ থেকে প্রতি মাসে তিনি ৫০ হাজার করে দেড় লাখ টাকা পেতেন। তবে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি জানিয়েছে, টিপু কিবরিয়া তাঁর তৈরি পর্নো ছবি ১৩টি দেশের ১৩ জন নাগরিকের কাছে পাঠাতেন। এসব দেশের মধ্যে আছে কানাডা, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, মধ্য ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ। তদন্তে আরো জানা গেছে বেশির ভাগ ছবি ও ভিডিও পাঠানো হতো জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে। এরপর সেখানকার ব্যবসায়ীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এসব পর্নো ছবি বিক্রি করতো। প্রতিটি সিডির জন্য ৩শ’ থেকে ৫শ’ ডলার পেতেন টিপু। এই টাকা অনলাইন ব্যাংকিং ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে টিপুর কাছে পাঠানো হতো।
.
টিপুর মাধ্যমে শিশু পর্নো ছবি বিক্রির দুই হোতা বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন। চলতি বছরের প্রথম দিকে জার্মানির এক পর্নো ছবি বিক্রেতা বাংলাদেশে এসেছিলেন। আর ২০১২ সালে আসেন সুইজারল্যান্ডের আরেক পর্নো বিক্রেতা। তারা ওঠেন ঢাকার আবাসিক হোটেলে। সে সময় টিপু তাদের কাছে ছেলে শিশু পাঠান। তারা ওই শিশুদের নিয়ে বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হন। এজন্য টিপু এবং তার সহযোগীরা পেয়েছেন ৮ হাজার ডলার।

.

ইন্টারপোলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১০ ও ১১ জুন খিলগাঁও, মুগদা এবং গোড়ানে অভিযান চালিয়ে টিপু কিবরিয়া এবং তার তিন সহযোগী নুরুল আমিন, নুরুল ইসলাম ও সাহারুলকে গ্রেফতার করে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম টিম। স্টুডিওতে আপত্তিকর অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ১৩ বছরের এক শিশুর সাথে টিপুর সহযোগী নুরুল ইসলানকে। টিপুর খিলগাঁওয়ের তারাবাগের ১৫১/২/৪২ নম্বর বাড়ির বাসা ও স্টুডিও থেকে শতাধিক পর্নো সিডি, আপত্তিকর শতাধিক স্থির ছবি, ৭০টি লুব্রিকেটিং জেল, ৪৮ পিস আন্ডারওয়ার, স্টিল ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা, কম্পিউটার হার্ডডিস্ক, সিপিইউ, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
.
http://bit.ly/2atUZJi
http://bit.ly/2aQzPe9
http://bit.ly/2atZg5N
http://bit.ly/2aPjZjN
http://bit.ly/2aPjTsf
http://bit.ly/2aPkiuM
http://bit.ly/2auZpmn
http://bit.ly/2atZFVN
.
টিপু কিবরিয়ার ফ্লিকার লিঙ্ক – http://bit.ly/2b1ZXiu
টিপু কিবরিয়ার ব্লগ (সামওয়্যার ইন ব্লগ) লিঙ্ক – http://bit.ly/2aHYxuv
.
উপরের তথ্যগুলো ভয়ঙ্কর। তবে বাস্তব অবস্থা এর চেয়ে লক্ষগুন বেশি ভয়ঙ্কর। টিপু কিবরিয়ারা একটা বিশাল নেটওয়ার্কের ছোট একটা অংশ মাত্র। বিশ্বব্যাপী চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি ও পেডোফাইল নেটওয়ার্কের ব্যাপ্তি, ক্ষমতা ও অবিশ্বাস্য অসুস্থ অমানুষিক নৃশংসতার প্রকৃত চিত্র এতোটাই ভয়াবহ যে প্রথম প্রথম এটা বিশ্বাস করাটা একজন ব্যাক্তির জন্য কঠিন হয়ে যায়। আর একবার এ অসুস্থতা ও বিকৃতির বাস্তবতা, মাত্রা, প্রসার, ও নাগাল সম্পর্কে একবার জানার পর এ ভয়াবহতাকে মাথা থেকে দূর করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের চারপাশের বিকৃত অসুস্থ পৃথিবীটার এ এমন এক বাস্তবতা যা সম্পর্কে জানাটাই একজন মানুষের মনকে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। এ এমন এক অন্ধকার জগত যাতে মূহুর্তের জন্য উকি দেওয়া একজন মানুষকে আমৃত্যু তাড়া করে বেড়াতে পারে।
.
টিপু কিবরিয়ার লেখা কিশোর হরর সিরিযের বইগুলোর ব্যাক কাভারে সবসময় দুটা লাইন দেয়া থাকতো – “পাঠক, সাবধান! ভয়ের জগতে প্রবেশ করছ তুমি!!” এ লাইনদুটো কিশোর হরর সিরিযের ট্যাগলাইনের মতো ছিল। সেবার বইগুলোর পাতায় উঠে আসা অন্ধকারের কল্পিত গল্পগুলোর জন্য লাইনদুটোকে অতিশয়োক্তি মনে হলেও, যে অন্ধকারে বাস্তবর জগতের চিত্র তুলে ধরতে যাচ্ছি তার জন্য এ লাইনদুটোকে কোনক্রমেই অত্যুক্তি বলা যায় না। তাই টিপু কিবরিয়াকে দিয়ে যে গল্পের শুরু সে গল্পের গভীরে ঢোকার আগে টিপুর ভাষাতেই সতর্ক করছি–
.
“পাঠক, সাবধান!
ভয়ের জগতে প্রবেশ করছ তুমি!!”
.
.
৩.
টিপু কিবরিয়াকে যদি ম্যানুফ্যাকচারার হিসেবে চিন্তা করেন তবে তার বানানো শিশু পর্ণোগ্রাফির মূল ডিস্ট্রিবিউটার এবং ব্যবহারকারীরা হল পশ্চিমা বিশেষ করে ইউরোপিয়ানরা। শুধুমাত্র চোখের ক্ষুধা মেটানোয় তৃপ্ত না হয়ে টিপুর এ ইউরোপিয়ান ক্রেতাদের মধ্যে কেউ কেউ বাংলাদেশে ঘুরে গেছে। কিছু ডলারের বিনিময়ে টিপু কিবরিয়া তার ইউরোপিয়ান ক্রেতাদের জন্য তৃপ্তির ব্যবস্থা করেছে। দুঃখজনক সত্য হল, পেডোফিলিয়া নেটওয়ার্ক ও চাইল্ড পর্ণোগ্রাফির বিশ্বব্যাপী ধারা এটাই। ঠিক যেভাবে নাইকি-র মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো কম খরচে তাদের পোশাকের চাহিদা মেটানোর জন্য ম্যানুফাকচারিং এর কাজটা “তৃতীয় বিশ্বের” দেশগুলোর কাছে আউটসোর্স করে, ঠিক তেমনিভাবে পশ্চিমারা বিকৃতকামীরা শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরি এবং শিশুকামের জন্য শিশু সংগ্রহের কাজটা আউটসোর্স করে। টিপু কিবরিয়ার মতো এরকম এ ইন্ডাস্ট্রির আরো অনেক ম্যানুফ্যাকচারার ছড়িয়ে আছে বিশ্বজুড়ে। তিনটি উদাহরন তুলে ধরছি-
.
.
রিচার্ড হাকল – ১৯৮৬ তে ব্রিটেনে জন্মানো হাকল তার “নেশা ও পেশার” বাস্তবায়নের জন্য বেছে নেয় দক্ষিন পূর্ব এশিয়াকে। লাওস, ক্যাম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুর এবং ইন্ডিয়াতে পদচারনা থাকলেও হাকল তার মূল বেইস হিসেবে বেছে নেয় মালয়শিয়াকে। কুয়ালামপুরের আশেপাশে বিভিন্ন দারিদ্র দারিদ্রকবলিত অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীর মাঝে সক্রিয় খ্রিষ্টান মিশনারীদের সাথে সম্পর্কের কারনে সহজেই হাকল মালয়শিয়াতে নিজের জন্য জায়গা করে নেয়। কখনো ফ্রি-ল্যান্সিং ফটোগ্রাফার, কখনো ডকুমেন্টারি পরিচালক, কখনো ইংরেজী শিক্ষক, আর কখনো নিছক খ্রিষ্টান মিশনারী হিসেবে মালয়শিয়া সহ দক্ষিন এশিয়ার বিভিন্ন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুদের কাছাকাছি পৌছুতে সক্ষম হয় হাকল।
.
২০০৬ থেকে শুরু করে প্রায় ৮ বছরের বেশি সময় ধরে দক্ষিন এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দরিদ্র শিশুদের উপর যৌন নির্যাতন চালায় হাকল। তার নির্যাতনের শিকার হয় ৬ মাস থেকে ১৩ বছর বয়সী দুইশ’র বেশি শিশু। গ্রেফতারের সময় তার ল্যাপটপে পাওয়া যায় বিশ হাজারের বেশি পর্ণোগ্রাফিক ছবি। শিশু ধর্ষনের ভিডি এবং ছবি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিক্রি করতো হাকল। ছবি ও ভিডিওর সাথে যোগ করতো বিভিন্ন মন্তব্য, ক্যাপশান। এরকম একটি ওয়েবপোষ্টে হাকল লেখে –
“পশ্চিমা মধ্যবিত্ত ঘরের শিশুদের চাইতে দরিদ্রদের শিশুদের পটানো অনেক, অনেক বেশি সহজ।“
.
তিন বছর বয়েসী একটি মেয়ে শিশুকে ধর্ষনরত অবস্থা ছবির নিচে গর্বিত হাকলের মন্তব্য ছিল – “আমি টেক্কা পেয়ে গেছি! আমার কাছে এখন একটা ৩ বছরের বাচ্চা আছে যে কুকুরের মতো আমার আনুগত্য করে। আর এ নিয়ে মাথা ঘামানোর মতো কেউ এখানে নেই!”
.
অন্যান্য শিশুকামীদের জন্য পরামর্শ এবং বিভিন্ন গাইডলাইন সম্বলিত “Paedophiles And Poverty: Child Lover Guide”” নামে একটি বইও লিখেছিল রিচার্ড হাকল। হাকলের স্বপ্ন ছিল দক্ষিন এশীয় গরীব কোন মেয়েকে বিয়ে করে একটি অনাথ আশ্রম খোলা যাতে করে নিয়মিত নতুন দরিদ্র শিশুদের সাপ্লাই পাওয়া যায় কোন ঝামেলা ছাড়াই। ২০১৪ সালে রিচার্ড হাকলকে গ্রেফতার করা হয়।
.
http://bit.ly/2ahsaVd
http://bit.ly/2azfNjo
http://bit.ly/2aMBJeb
http://bit.ly/2auZWEM
http://bit.ly/2aAOeXx
.
.
ফ্রেডি পিটস – হাকলের জন্মের আগেই হাকলের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করেছিল ফ্রেডি পিটস। সত্তর দশকের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে ১৯৯১ পর্যন্ত প্রায় ১৭ বছর, গোয়াতে গুরুকুল নামে একটি অনাথ আশ্রম পরিচালনা করে ফ্রেডি। হাকলের মতো ফ্রেডিও ছিল ক্যাথলিক চার্চের সাথে যুক্ত। এলাকায় মানুষ তাকে চিনতো লায়ন ক্লাবের সিনিয়র সদস্য, নির্বিবাদী সমাজসেবক ‘ফাদার ফ্রেডি’ হিসেবে। টিপু কিবরিয়া এবং রিচার্ড হাকলের মতোই ফাদার ফ্রেডির আয়ের উৎস ছিল পেডোফিলিয়া এবং চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি। তার সাথে সম্পর্ক ছিল ব্রিটেন, হল্যান্ড, অ্যামেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের শিশুকামী সংগঠনের। ফাদার ফ্রেডি তার আশ্রমের শিশুদের ইউরোপিয়ান টুরিস্ট, বিশেষ করে সমকামী ইউরোপিয়ান পুরুষদের কাছে ভাড়া দিতেন। শিশুদের ধর্ষনের বিভিন্ন অবস্থার ছবি তুলে ইউরোপীয়ান ক্রেতাদের কাছে বিক্রিও করতো ফ্রেডি। নিজেও অংশগ্রহন করতো ধর্ষনে। বিশেষ “ক্লায়েন্টদের” মনমতো শিশু সংগ্রহ করে তাদের ইউরোপে পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হতো ফ্রেডির “গুরুকুল” থেকে। এভাবে প্রায় দুই দশক ধরে ফাদার ফ্রেডি গোয়াতে গড়ে তোলে এক বিশাল ইন্ডাস্ট্রি।
.
ফ্রেডির এসব কার্যকলাপের সাথে বিভিন্ন বিদেশী ব্যাক্তি এবং আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত এমন প্রমান থাকা সত্ত্বেও গোয়ার রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্র সরকার সর্বাত্বক চেষ্টা করে এ বিষয়গুলো চাপা দেয়ার। এমনকি প্রথম পর্যায়ে চেষ্টা করা হয়েছিল দুর্বল মামলা দিয়ে ফ্রেডিকে খালাস দেয়ার। খোদ রাজ্যের এটর্নী জেনারেল এবং ট্রায়াল জাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে ফ্রেডির বিরুদ্ধে পাওয়া প্রমান ও নথিপত্র ধ্বংস করার চেষ্টার।
.
উচু মহলের এসব কূটকৌশলের সামনে রুখে দাড়ায় কিছু শিশু অধিকার সংস্থার এবং কর্মী। তাদের একজন শিলা বারসি। রাজ্য সরকার, মন্ত্রী, বিচারবিভাগ এবং মিডিয়ার বিরুদ্ধে গিয়ে ফ্রেডি পিটসের মামলার ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন শিলা। গ্রেফতারকালীন রেইডে ফাদার ফ্রেডির ফ্ল্যাটে পাওয়া যায় ড্রাগস, পেইন কিলার, এবং সিরিঞ্জের এক বিশাল কালেকশান। ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয় ২৩০৫ টি পর্ণোগ্রাফিক ছবি। মামলার কারনে শিলা বাধ্য প্রতিটি ছবি খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতে। ফাদার ফ্রেডির ফ্ল্যাটে পাওয়া ২৩০৫ টি ছবিতে যে অন্ধকার অমানুষিক পৈশাচিকতার জগতকে তিনি দেখেছিলেন তার ভয়াবহ স্মৃতি আমৃত্যু তাকে তাড়া করে বেড়াবে বলেই শিলার বিশ্বাস।
.
ডেইলি ইন্ডিপেন্ডেন্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শিলা বলেন –
“সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ছবিটি ছিলে আড়াই বছর বয়েসী একটি মেয়ের। মেয়েটিকে ছোট ছোট হাত আর পা গুলো ধরে তাকে চ্যাংদোলা করে অনেকটা হ্যামকের মতো করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল…একটা বিশালদেহী লোক…লোকটাকে…লোকটার শরীরের আংশিক দেখা যাচ্ছিল…বাচ্চাটাকে ধর্ষন করছিল। বাচ্চাটার কুঁচকানো চেহারায় ফুটে ছিল প্রচন্ড ব্যাথা আর শকের ছাপ। ছবি দেখেও পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল বাচ্চাটা সর্বশক্তি দিয়ে চিৎকার করছিল। “
.
ছবিগুলো দেখার পর শিলা সিদ্ধান্ত নেন যেকোন মূল্যে ফ্রেডির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার। ১৯৯২ সালে ফ্রেডি পিটসের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়, এবং ৯৬ এর মার্চে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কারাভগ্রত অবস্থায় ২০০- সালে ফ্রেডি পিটস মারা যায়।
.
http://bit.ly/2aQxJuW
http://ind.pn/2atVuD3
http://bit.ly/2atZDgG
http://bit.ly/2aN0QxZ
.
.
পিটার স্কালি – পিটার স্কালির গল্পের মতো এতো বিকৃত, নৃশংস, এতোটা বিশুদ্ধ পৈশাচিকতার কাহিনী খুব সম্ভবত আমাদের এ বিকৃতির যুগেও খুব বেশি খুজে পাওয়া যাবে না। স্কালি অস্ট্রেলিয়ান। নিজ দেশে ব্যাবসায়িক ফ্রডের পর নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করে চলে আসে ফিলিপাইনে। কিছুদিন রিয়েল এস্টেট ব্যবসার চেষ্টার পর মনোযোগ দেয় আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি বানানোয়। বেইস হিসেবে বেছে নেয় দারিদ্র কবলিত মিন্দানাওকে। গড়ে তোলে এক চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি সাম্রাজ্য।
.
টিপু কিবরিয়া, হাকল আর ফাদার ফ্রেডির মতো স্কালিও নিজেই ছিল, অভিনেতা, স্ক্রিপ্ট রাইটার ও পরিচালক। তবে বাকিরা শুধুমাত্র শিশুকামের গন্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও, স্কালির বিকৃতিকে নিজে যায় আরেকটি পর্যায়ে। সে শিশুকামের সাথে মিশ্রণ ঘটায় টর্চারের। স্ক্লাইরর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ভিডিওতে ধর্ষনের পাশাপাশি মারাত্বক পর্যায়ের টর্চার করা হয়, ১৮ মাস বয়েসী একটি মেয়েশিশুকে। ১২ ও ৯ বছরের দুটি মেয়েকে বাধ্য করা হয় ধর্ষন ও নির্যাতনে অংশগ্রহন করতে। যখন ভিডিও বন্ধ থাকতো তখন বন্দী এ মেয়ে দুটিকে স্কালি তার বাসায় বিবস্ত্র অবস্থায় কুকুরের চেইন পড়িয়ে রাখতো এবং তাদের বাধ্য করতো বাসার আঙ্গিনাতে নিজেদের কবর খুড়তে। পরবর্তীতে এদের একজনকে স্কালি হত্যা করে, এবং নিজের রান্নাঘরের টাইলসের নিচে মেয়েটির লাশ লুকিয়ে রাখে। মেয়েটিকে হত্যা করার ভিডিও স্কালি ধারন করে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভিডিওটি বিক্রি করা হয়।
.
স্ক্লালির ভিডিওগুলো দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপিয়ান পেডোফাইল এবং চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি নেটওয়ার্কে। রাতারাতি স্কালি এবং তার সাইট পরিণত হয় “সেলেব্রিটি কাল্ট-হিরোতে”। শুরুতে তার ভিডিওগুলোর জন্য Pay-Per View Streaming অফার করলেও, চাহিদা ওবং জনপ্রিয়তা বাড়ার ফলে এক পর্যায়ে স্কালি লাইভ স্ট্রিমিং করা শুরু করে। ২০১৫ এর ফেব্রুয়াত্রিতে স্ক্লালি ও তার সহযোগী দুই ফিলিপিনী তরুণীকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারী অস্ট্রেলিয়ান ও ফিলিপিনো পুলিশের ধারনা বিভিন্ন সময়ে পিটার কমপক্ষে ৮ জন শিশুর উপর যৌন ও শারীরিক নির্যাতন চালানোর ভিডিও ধারন করেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যাটা আরো বেশি হতে পারে।
.
http://bit.ly/2ax6AuF
http://bit.ly/2ahqlHI
http://bit.ly/2aPkydq
http://bit.ly/2aMByzz
http://bit.ly/2azf9Co
.
.
.
৪.
টিপু কিবরিয়া, রিচার্ড হাকল, ফ্রেডি পিটস, পিটার স্কালি। ভিন্ন ভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে, তাদের অপরাধ এবং বিকৃতির মধ্যে বেশ কিছু যোগসূত্র বিদ্যমান। এরা সবাই শিকারের জন্য বেছে নিয়েছিল দারিদ্রপীড়িত এশিয়ান শিশুদের। এদের মূল অডিয়েন্স এবং ক্লায়েন্ট বেইস ছিল পশ্চিমা, বিশেষ করে ইউরোপিয়ান। আর এরা চারজনই চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি এবং গ্লোবাল পেডোফিলিয়া নেটওয়ার্কের সাপ্লাই চেইনের খুব ক্ষুদ্র একটা অংশ। খুব অল্প পুজিতে, এবং অল্প সময় এরা সক্ষম হয়েছিল বিশাল গ্লোবাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে কিংবা এধরনের নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত হতে। এ দৃষ্টিকোন থেকে এ চারজনকে সফল উদ্যোক্তাও বলা যায়।
.
এ চার জন ধরা পড়েছে এটা মনে করে আমরা আত্বতৃপ্তি ভোগ করতেই পারি, কিন্তু বাস্তবতা হল একটা বিশাল মার্কেট, একটা বিপুল চাহিদা ছিল বলে, আছে বলেই এতো সহজে এ লোকগুলো তারা যা করেছে তা করতে সক্ষম হয়েছিল। আমাদের কাছে এ লোকগুলোর কাজ, তাদের বিকৃতি, তাদের পৈশাচিকতা যতোই অচিন্তনীয় মনে হোক না কেন বাস্তবতা হল পিটার স্কালি কিংবা টিপু কিবরিয়ারা এ অন্ধকার জগতের গডফাদার না, তারা বড়জোড় রাস্তার মোড়ের মাদকবিক্রেতা। একজন গ্রেফতার হলে তার জায়গায় আরেকজন আসবে।
.
২০১৪ তে রিচার্ড হাকলের গ্রেফতারের পর ২০১৫, সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হয় বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা শিশুকামী ও শিশুনির্যাতনকারী নেটওয়ার্কের হোতা ৭ ব্রিটিশ । ভয়ঙ্কর অসুস্থতায় মেতে ওঠা এই লোকেরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিশুদের উপর তাদের পৈশাচিক নির্যাতনে লাইভ স্ট্রিমিং বা সরাসরি সম্প্রচার করতো। বিশেষ অফার হিসেবে তারা লাইভ চ্যাটের মাধ্যমে অন্যান্য শিশুকামীদের সুযোগ দিতো ঠিক কিভাবে শিশুদেরকে নির্যাতন ও ধর্ষন করা হবে তার ইন্সট্রাকশান দেবার। এভাবে তারা অর্থের বিনিময়ে নিজেদের সহ-মুক্তচিন্তকদের আনন্দের ব্যবস্থা করতেন। ব্রিটেন জুড়ে এরকম আরো অনেক সক্রিয় নেটওয়ার্কের অস্তিত্বের প্রমান মিলেছে।
http://bit.ly/26aoSXO
.
ফ্রেডি পিটসের গ্রেফতারের পরও গোয়ার শিশুকাম ভিত্তিক টুরিস্ট ইন্ডাস্ট্রির প্রসার থেমে থাকেনি। ফাদার ফ্রেডির শূন্যস্থান পুরন করেছে অন্য আরো অনেক ফ্রেডি। তেহেলকা.কমের ২০০৪ এর একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতিবছর প্রায় ১০,০০০ পেডোফাইল গোয়া থেকে ঘুড়ে যায়। গোয়ায় অবস্থানকালীন সময়ে প্রতিটি পেডোফাইল গড়ে আটজন শিশুর উপর যৌন নির্যাতন চালায়।
http://bit.ly/2aPkH0u
http://bit.ly/2aQxpfC
.
২০১৫ তে অস্ট্রেলিয়াতে গ্রেফতার হয় ম্যাথিউ গ্র্যাহ্যাম। ২২ বছর বয়েসী ন্যানোটেকনোলজির ছাত্র ম্যাথিউ নিজের বাসা থেকে গড়ে তোলে এক অনলাইন চাইল্ড পর্ণগ্রাফি এবং পেডোফিলিয়া সাম্রাজ্য। ম্যাথিউ নিজে কখনো সরাসরি যৌন নির্যাতনে অংশগ্রহন না করলেও সক্রিয় পেডোফাইলদের জন্য সে অসংখ্যা সাইট এবং ফোরাম হোস্ট করত। বিশেষভাবে শিশুদের উপর ধর্ষনের সাথেসাথে চরম মাত্রার শারীরিক নির্যাতনের ভিডিও প্রমোট করা ছিল ম্যাথিউর স্পেশালিটি। ম্যাথিউর নেটয়ার্কের সাথে সম্পর্ক ছিল আরেক অস্ট্রেলিয়ান পিটার স্কালির।
http://bit.ly/2aSy25e
.
১৫-তেই গ্রেফতার হয় আরেক অস্ট্রেলিয়ান শ্যানন ম্যাককুল। সরকারী কর্মচারী শ্যানন কাজ করত সরকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিলেইড চাইল্ড কেয়ার সেন্টারে। এ সেন্টারের বিভিন্ন শিশুরা ছিল শ্যাননের ভিকটিম, এবং তাদের অধিকাংশ ছিল ৩-৪ বছর কিংবা বয়সী কিংবা তার চেয়েও ছোট। শ্যানন যৌন নির্যাতন এবং ধর্ষণের ভিডিও নিজের সাইট ও ফোরামের মাধ্যমে আপলোড ও বিক্রি করতো। খুব কম সময়েই শ্যাননের সাইট ও ফোরাম কুখ্যাতি অর্জন করে।
.
http://bit.ly/2ax9gbW
http://bit.ly/2aSBdtP
http://ab.co/1UpMm3Q
.
এভাবে প্রতিটি শূন্যস্থানই কেউ না কেউ পূরন করে নিয়েছে। টিপু কিবরিয়ার রেখে যাওয়া স্থানও যে অন্য কেউ দখল করে নেয় নি এটা মনে করাটা বোকামি। আমরা জানতে পারছি না হয়তো, কিন্তু যতোক্ষন পর্যন্ত চাহিদা থাকবে ততোক্ষন যোগান আসবেই। সহজ সমীকরণ। ইকোনমিক্স ১০১। ২০০৬ এ প্রকাশিত ওয়ালস্ট্রীট জার্নালে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুযায়ী চাইল্ড পর্ণোগ্রাফিতে প্রতিবছর লেনদেন হয় ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এটা ২০০৬ এর তথ্য। গত দশ বছরে মার্কেটে এসেছে হাকল, স্কালি, শ্যানন, গ্র্যাহামের মতো আরো অনেক “উদ্যাোক্তা”, বেড়েছে মার্কেটের আকার। ২০১১ সালের একটি রিসার্চ অনুযায়ী ২০০৮ থেকে ২০১১, এ তিনবছরে অনলাইনে চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি সংক্রান্ত ইমেজ এবং ভিডিও বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৭৭৪%।
http://on.wsj.com/2aAOh5I
http://bit.ly/2aPkxpT
.
ইন্ডেক্সড ইন্টারনেট বা সাধারনভাবে ইন্টারনেট বলতে আমরা যা বুঝি তার তুলনায় ডিপওয়েব প্রায় ৫০০ গুন বড়। এ ডিপওয়েবের ৮০% বেশি ভিযিট হয় শিশুকাম, শিশু পর্ণোগ্রাফি এবং শিশুদের উপর টর্চারের ভিডিও ইমেজের খোজে।
http://bit.ly/2aQyq7p
.
.
বিষয়টার ব্যাপকতা একবার চিন্তা করুন। এ বিকৃতির প্রসারের মাত্রাটা অনুধাবনের চেষ্টা করুন। পৃথিবীতে আর কখনো এধরনের বিকৃতি দেখা যায় নি এটা বলাটা ভুল হবে। পম্পেই, বা গ্রীসের কামবিকৃতির কথা আমরা জানি, আমরা জানি সডোম আর গমোরাহর ধ্বংসপ্রাপ্ত সম্প্রদায় কওমে লূতের কথা। কিন্তু বর্তমানে আমর যা দেখছি এ মাত্রার বিকৃতি ও তার বিশ্বায়ন, এ মাত্রার ব্যবসায়ন, এ ব্যাপ্তি মানব ইতিহাসের আগে কখনো দেখা গেছে বলে আমার জানা নেই। কেন এতো মানুষ এতে আগ্রহী হচ্ছে? কেন জ্যামিতিক হারে এ ইন্ডাস্ট্রি প্রসারিত হচ্ছে? কেন এতোটা মৌলিক পর্যায়ে মানুষের অবিশ্বাস্য বিকৃতি ঘটছে এ হারে? কেন মানুষের ফিতরাতের বিকৃতি ঘটছে? আর কেনই এরকম পৈশাচিক ঘটনার পরও এধরনের ইন্ডাস্ট্রি শুধু টিকেই থাকছে না বরং আরো বড় হচ্ছে? শ্যানন-স্কালি-টিপু কিরিয়াদের এ নেটওয়ার্কের গডফাদার কারা? কোন খুঁটির জোরে তারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোয়ার বাইরে?
.
একে কি শুধুমাত্র বিচ্ছিন কোন ঘটনা, কিংবা অসুস্থতা বলে দায় এড়ানো সম্ভব? সমস্যাটা কি চিরাচরিত কাল থেকেই ছিল এবং বর্তমান আধুনিক সভ্যতার যুগে এসে এর প্রসার বৃদ্ধি পেয়েছে? নাকি এর পেছনে ভূমিকা রয়েছে মিডিয়া ও পপুলার কালচারের? বিষয়টি কি মৌলিক ভাবে মানুষের যৌনতার মাঝে বিরাজমান কোন বিকৃতির সাথে যুক্ত? নাকি এ বিকৃতি আধুনিক পশ্চিমা দর্শনের যৌনচিন্তা এবং আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতার মৌলিক অংশ?

[ইন শা আল্লাহ চলবে]
লিখেছেন :Asif Adnan

শেয়ার করুনঃ
নারী যখন পন্য

নারী যখন পন্য

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

বর্তমানে মিডিয়ায় মার্কেটিং এ মেয়েদের যেভাবে ব্যবহার করা হয় ।

বর্তমানে মিডিয়ায় মার্কেটিং এ মেয়েদের যেভাবে ব্যবহার করা হয় তা সত্যি লজ্জাজনক এবং মেয়েদের জন্য অপমানজনকও বটে । অনেকে হয়ত বলবেন এটা তো একটা শিল্প  । যারা এর বিরোধিতা করে তারা সাম্প্রদায়িক এবং তারা মেয়েদের অধিকার এর বিরুদ্ধে । কিন্তু তবুও আমার মনে কিছু প্রশ্ন জাগে যার উত্তর পায় না । প্রশ্ন গুলা হল –

১. কেবলমাত্র মেয়েদেরকে ছোট ড্রেস পরানো হয় কেন ? উদাহরনত বেশিরভাগ মুভিতে দেখা যায় নায়িকা বিকিনি পরিহিত অবস্থায় যৌন উদ্দীপক গানে নাচছে যাকে বলা হয়  item song । কিন্তু কখনো কোন পুরুষ কে দেখি না আন্ডারওয়্যার পরা অবস্থায় কোন মুভিতে । কেন ?

২. মেয়েদের অনেক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা হয় । সেখানে তথাকথিত আধুনিক মেয়েরা বুক উচু করে বিশেষ ভঙ্গিতে হাটা হাটি করে (ক্যাটওয়াক) । আর কিছু পুরুষ বিচারক

(১ জন নারীও থাকতে পারে) তার দেহের প্রশংসা করে, কোন ক্ষেত্রে আবেদন কম হয়েছে কোথায় তার মুভ ভালো হয়েছে ইত্যাদি বিশ্লেষন করে । এসব ক্ষেত্রে তারা hot, sexy ইত্যাদি complement দেয় । আর মেয়েগুলো তাতে খুশিতে আটখানা হয়ে sir sir বলে লুটিয়ে পড়ে ।

কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হল ছেলেদের এমন কোন প্রতিযোগিতা হয় না । কারন কি ? পুরুষরা কি তাহলে শিল্পের বাইরে  !

৩. অধিকাংশ মুভি হয় (৯৯%) পুরুষকেন্দ্রিক । সেখানে মেয়েদের অভিনয়ের চাইতে শরীর দেখানোয় প্রধান কাজ । কেন ?

৪. ক্রিকেট খেলায় বর্তমানে চিয়ারগার্লস ব্যবহার করা হয়।তারা অত্যন্ত ছোট পোশাক পরিহিত অবস্থায় দর্শকদের মনরঞ্জন করে । কিন্তু এসব ক্ষেত্রে ছেলেদের ব্যবহার করা হয় না কেন ? দুই একজন থাকলেও তারা ছোট ড্রেশ পরে না কেন ?

৫. যেসব মেয়ে কালো এবং অসুন্দর তারা কেন মিডিয়ায় চান্স পায় না ? উদাহরনত আমি কোন কাল মেয়েকে (দুই একজন ব্যাতিক্রম থাকতে পারে) নায়িকা বা মডেল হতে দেখি না । ৯-১০ বছর আগে আগবানি দারেগা নামের এক কালো মেয়েকে বিশ্বসুন্দরী করা হয়েছিল । সে তো খুশিতে আটখানা।কিন্তু সাধারন মানুষ বুঝছে তার সাথে কি নিষ্ঠুর তামাশা করা হয়েছিল ? তাহলে কি মডেলিং বর্নবাদী নয় ? সুন্দরী প্রতিযোগিতা কি অসুন্দর মেয়েদের প্রতি অপমানজনক নয় ?

৬. শেভিং ক্রিম,ব্লেড, গাড়ি, মটরসাইকেল এমনকি ইশপগুলের ভূশির বিজ্ঞাপনে মেয়েদের নগ্ন ব্যবহার কি মেয়েদের মর্যাদা ক্ষুন্ন করে নাহ ?

৭. আবার যখন দেখি একটি বিশেষ পারফিউম ব্যবহার করার কারনে এক ছেলের পিছনে হাজার খানেক বিকিনি পরা মেয়ে ছুটাছুটি করে তখন আমার প্রশ্ন জাগে মেয়েরা কি এতই সস্তা ? তারা কি নিজেদের মর্জাদাও বোঝে নাহ ? ৫০০ টাকার পারফিউম একবার ব্যবহার করার কারনে ১০০০ বিকিনি পরা মেয়ে ??

৮. আবার অধিকাংশ মুভিতে দেখানো হয় নায়ক নায়িকাকে ইভ টিজিং করছে । পরবর্তিতে তাদের মাঝে প্রেম হয় । এভাবে কি তারা ইভ টিজিং কে উৎসাহিত করচে নাহ ? আবার তারাই হালকা সামাজিকতার লোভে ইভ টিজিং বিরোধি কনসার্ট করে , মানব বন্ধন করে ।

৯. মেয়েদের complement দেওয়া হয় hot , sexy আর ছেলেদের ক্ষেত্রে handsome, smart।এইরকম কেন ?

Know Your Enemy

*** এসব প্রশ্নের উত্তর আমার মতে যা তা এখন ব্যাখ্যা করতে চায়।হয়তোবা অনেকে একমত হবেন না কিন্তু সেক্ষেত্রে আপনার মতামত দিয়ে আমাকে বুঝতে সাহায্য করুন ।

টার্গেট ক্রেতা যখন ছেলেঃ

পন্যঃ  সাধারন পন্য এবং কোন ক্ষেত্রে মেয়েরাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে পন্য ।

পন্য ক্রয়ে উত্তেজক নীতিঃ

প্রথমতঃ ছেলেরা সুন্দরী এবং স্বল্পবসনা মেয়ে পছন্দ করবে (যখন মেয়েরা নিজেরায় পন্য) ।

দ্বিতিয়তঃ পন্যটি ব্যবহার করলে আপনার দিকে মেয়েরা আকৃষ্ট হবে ।

তৃতীয়তঃ বিজ্ঞাপনে স্বল্পবসনা সুন্দরী মেয়ের ব্যবহার পন্যটির দিকে ছেলেদের আকৃষ্ট করবে ।

টার্গেট ক্রেতা যখন মেয়েঃ

পন্যঃ  অধিকাংশ সাধারন এবং সাজসজ্জার পন্য

পন্য ক্রয়ে উত্তেজক নীতিঃ

প্রথমতঃ এই পন্যের ব্যবহার আপনার দিকে ছেলেদের আকৃষ্ট করবে ।

দ্বিতিয়তঃ আপনি বিখ্যাত এবং তারকা হতে পারবেন।আপনার পায়ের নিচে থাকবে পৃথিবী এবং পিছনে থাকবে ছেলেদের লাইন ।

*** এবার আসুন এই নীতির আলোকে উপরের প্রশ্নগুলার উত্তর দেওযার চেষ্টা করি-

১.উত্তরঃ এক্ষেত্রে মেয়েরা পরোক্ষ পন্য।বিকিনি পরা মেয়ে নাচলে মুভির কাটতি বাড়বে।পক্ষান্তরে আন্ডারওয়ার পরা ছেলে নাচলে মুভির কাটতি বাড়বে না বরং কমে যেতে পারে ।

২.উত্তরঃ  এক্ষেত্রেও মেয়েরা পন্য।উদাহরনতঃ আমরা lux channel I superstar এর কথা আলোচনা করতে পারিঃ

–এই অনুষ্ঠানে সারাবছর লাক্স তার বিজ্ঞাপনি প্রচারনা চালায়।কারন সব ছেলেরা সেক্সি মেয়ে দেখার জন্য এই অনুষ্ঠান দেখে।আর মেয়েরা দেখে কিভাবে সুন্দরি সেক্সি হওয়া যায় তা শেখার জন্য।

–এটাকে কেন্দ্র করে মোবাইল কোম্পানি গুলা তাদের এসএমএস ব্যাবসা করে।আপনি খরচ করেন ২ টাকা।কিন্তু তারা আয় করে ৫০ লক্ষ*২ = ১ কোটি টাকা , প্রতি পর্বে।

–চ্যানেল আই তার কাটতি বাড়ায় এবং স্পন্সরসিপ বাবদ মোটা টাকা ইনকাম করে।

**ছেলেদের লাভঃ তারা কিছু নতুন সুন্দরী মেয়ে এবং তাদের আবেদন্ময় চালচলন দেখে মজা পায়।

**মেয়েদের লাভঃ তিন চার জন হয় তারকা (!!) আর বাকিরা হয় ঈর্ষান্বিত আর মনে মনে চিন্তা করে আমরাও যদি হতে পারতাম।এই চিন্তা তাদের আরও খোলামেলা করে ভবিষ্যতে চান্স পাবার জন্য।আর সেক্সি হবার কিছু কৌশল শেখা হয়।

৩.উত্তরঃ ছেলেদের উত্তেজক নীতি ১- ছেলেরা সুন্দরী এবং স্বল্পবসনা মেয়ে পছন্দ করবে(যখন মেয়েরা নিজেরায় পরোক্ষ পন্য)

৪. কারন ক্রিকেট খেলায় মাঠের দর্শক ৯৯% ছেলে।বিকিনি পরা মেয়েই তো নাচাতে হবে তাহলে টিকিটের দামও বাড়ানো যাবে।আর ছেলে নাচালে তো মাঠ থেকে দর্শক পালিয়ে যাবে।

৫.উত্তরঃ কালো , অসুন্দর মেয়ে ছি…… ।এখানেও মেয়েরা পন্য।ছেলেরা ক্রেতা।বিক্রেতা চায় ক্রেতাকে সন্তুষ্ট করতে।ভালো পন্য দিতে।

৬.উত্তরঃ ছেলেদের উত্তেজক নীতি ৩- বিজ্ঞাপনে স্বল্পবসনা সুন্দরী মেয়ের ব্যবহার পন্যটির দিকে ছেলেদের আকৃষ্ট করবে।

৭.উত্তরঃ ছেলেদের উত্তেজক নীতি ২- পন্যটি ব্যবহার করলে আপনার দিকে মেয়েরা আকৃষ্ট হবে।

৮.উত্তরঃ কারন সামাজিকতা।লোকজনের কোম্পানির প্রতি দুর্বলতা তৈরী হবে।লোকে মনে করবে আহারে মেয়েদের জন্য তারা কত কি করছে।

৯.উত্তরঃ এখানে মেয়েদের উত্তেজনা দেওয়া হয় যে হট আর সেক্সি হওয়ায় তোমার আসল সাফল্য।কারন এতে তাদের hot এবং sexy করার জন্য বিভিন্ন পন্য বিক্রিতে সুবিধা হবে।সোজা কথায় তাদের গাধা বানানো আরকি।

আর যেসব ছেলে যত বেশি উল্লেখিত গাধার নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাতে পারবে তাদের অযথা প্রশংশা করে তাদের ব্যবহার করতে পারবে তারা তত smart and handsome ।

পরিশেষে বলি কিছুদিন আগে এক বন্ধুর মোবাইলে একটি ভিডিও দেখলাম।সেখানে প্রযোযক একটি মেয়ের নগ্ন দেহ উপোভোগের ভিডিও করে এবং তার সম্মতিতে।মেয়েটা প্রথমে রাজি না থাকলেও পরে রাজি হয় মডেল হবার স্বার্থে।মেয়েটা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলল স্যার আপনি কিন্তু আমার ক্যারিয়ার টা দেখবেন।স্যার উত্তর দিল আরে বোকা তুমি এটা নিয়ে চিন্তা কর নাহ।

এই ভিডিও দেখে আমি দুই রাত ঘুমাইতে পারি নি।আমাদের মা বোনেরা কি এতই বোকা ?এতই হালকা ? এতই স্বস্তা?

তারা কি বোঝে না পুজিবাদীরা তাদের কেবল পন্য বা পন্যের উত্তেজক হিসাবে ব্যবহার করে শিল্পের নামে, অনেক ভালো ভালো কথা শুনিয়ে?তার কি বোঝে না কোথায় তাদের সম্মান? কোথায় তাদের অধিকার?কোথায় তাদের স্বাধীনতা?

দ্রষ্টব্যঃ আমি এখানে কোন মেয়ের বিরূদ্ধে কথা বলি নি।আমি এজন্য মেয়েদের দোষি করি নি। তারা তো কেবল মাত্র পুজিবাদীদের শিকার।পুজিবাদিরা  ছেলেদের ভোগে উৎসাহিত করার জন্য নগ্ন ভাবে মেয়েদের ব্যবহার করে। যারা ব্যাবহার করে তারা অধিকাংশই ছেলে।দোষি তো আমাদের পুজিবাদী ব্যাবস্থা – যেখানে নৈতিকতার ন্যূনতম মুল্য নাই, যেখানে মুনাফা অর্জন করায় প্রধান,যেখানে পুজি জমা করায় প্রধান উদ্দেশ্য- তা আমাদের মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়েও হোক না কেন?আর আমরা স্বস্তা খ্যাতি আর টাকার লোভে আমাদের মা,বোন,বউ দের তাদের হাতে তুলে দিই।আবার কখনো নিজেরা অন্যের মা, বোন,বউ কে বুবহার করি।এই লজ্জা তো আগে আমাদের তারপর মেয়েদের!!

Collected From

Brother Maruf Anwar

[কৃতজ্ঞতাঃ মিডিয়ায় নারী যখন পণ্যঃ উপেক্ষিত হিজাব ]

#নারী_স্বাধীনতা

#একেই_বলে_সভ্যতা

শেয়ার করুনঃ