ভালবাসা ও দু’টি বাস্তবত

ভালবাসা ও দু’টি বাস্তবত

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম।

সাধারণভাবে ভালবাসা বলতে আমরা যা বুঝি তেমন প্রত্যেক ভালবাসাই, যদি সত্য হয়ে থাকে, একটা পরিণতিকে কেন্দ্র করে আবর্তন করে – বিয়ে। একে অপরকে ব্যবহার করে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার সেইসব কপটপূর্ণ ফেলনা ভালবাসার কথা আজ বাদ। আপনি একেবারে মন থেকেই কাওকে ভালবাসেন আর মন থেকে চান যেন আপনার ভালবাসা পরিণতি পাক, অথবা আপনি কাওকে ভালবাসলে মন থেকেই ভালবাসবেন এমন সততা পোষণ করেন, তাহলে অনুরোধ থাকবে একবার পুরোটা পড়ে দেখার জন্য। কেননা মন থেকে সৎ থাকলেও আপনি হয়ত দু’টি বাস্তবতাকে উপেক্ষা করছেন বা করবেন যা চুরমার করে দিতে পারে আপনার ভালবাসা।

.

প্রথমেই এক ভাইয়ের জীবনে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা উল্লেখ করব। ভার্সিটি জীবন থেকেই এক আপুর সাথে প্রেম করতেন। তারা দু’জনেই মন থেকে ছিলেন সৎ এবং তাদের এই ভালবাসাকে পরিণতি দিতে দু’জনেই ছিলেন বদ্ধপরিকর। এরপর ভার্সিটি থেকে বের হয়েই ভাইটি ভাল একটা চাকরি পেয়ে যান এবং এক সময়ে তাদের এই ভালবাসার কথা তাদের পরিবারদ্বয়কে জানানো হয়, প্রকাশ করা হয় বিয়ের আগ্রহ। দুই পরিবারই সহজেই মেনে নেয় এবং একটা সময়ে কথাবার্তা বলে বিয়ের দিন-তারিখও ঠিক করা হয়ে যায়। কোথাও কোন সমস্যা ছিল না – শুধুমাত্র একটা বিষয় ছাড়া। আর তা হল তাদের বিয়ে ঠিক হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু বিয়ের আগ পর্যন্ত তাদের সমস্ত মেলেমেশাগুলো ছিল আল্লাহ, যিনি এই বিশ্বজগৎ-আমার-আপনার রব, তাঁর পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ। আর একারণেই একেবারে ঘটনার শেষ পর্যন্ত সেই ভাইটিকে আমার আরেক দ্বীনি ভাই বার বার স্মরণ করিয়ে দিতেন আল্লাহর নিষেধাজ্ঞার কথা। কিন্তু এই দ্বীনি ভাইটি ঐ ভাইটিকে কোন যুক্তি দেখাতে পারতেন না।

“কয়েকদিন পরেই তো বিয়ে করছি। বিয়ের তারিখও ঠিক হয়ে গেছে। তাহলে এখন কথা বলতে – দেখা করতে সমস্যা কোথায় ?” – এই প্রশ্নের মনমত কোন জবাব দিতে পারত না সেই দ্বীনি ভাইটি। তারপরও শুধু না করে যেতেন। কারণটা ছিল ঐ যে – রবের নিকট এর অবৈধতা। এভাবে করেই দিন কেটে যাচ্ছিল। অতঃপর বিয়ের দিন-তারিখ ঘনিয়ে আসলো। বিয়ের উদ্দেশ্যে ভাইটি অফিস থেকে ছুটি নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন – বাসে।

ভাইটি চট্টগ্রামে পৌঁছেছিলেন ঠিকই। কিন্তু প্রাণ নিয়ে নয়। আসার পথে বাস অ্যাক্সিডেন্ট করে আর সেই অ্যাক্সিডেন্টে অধিকাংশ বেঁচে গেলেও হাতে গোনা যে দুই-তিনজন মৃত্যুবরণ করেছিল – তাদের মধ্যে সেই ভাইটিও ছিল একজন।

দ্বীনি ভাইটি সেই ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পান কয়েকদিন পরে। তিনি যখন ঘটনাটি বলছিলেন তখন উল্লেখ করেছিলেন, “মৃত্যু যে এভাবে চলে আসতে পারে – সেটা আমাদের কারও মাথাতেই আসে নি। আমার নিজেরও একেবারে কল্পনার বাইরে যেটা ছিল অগত্যা তাই হয়েছিল।”

.

এই হল প্রথম বাস্তবতা। আপনি যতই চেষ্টা করুন না কেনসমস্ত কিছু যতই ঠিক দিকে এগোচ্ছে বলে মনে হোক না কেন  আপনার রবের অনুমতি না থাকলে কোনো কিছুই সম্ভব না। যে ভাইটির ঘটনা বলছিলাম তিনি তো মন থেকে সৎই ছিলেন, আপুটিও ছিলেন। তাদের পরিবারও তো রাজি ছিল – না শুধু রাজিই নয়, বরং তারা তো খুশি হয়ে বিয়ের দিন তারিখও নির্ধারণ করেছিলেন। ঘটনাটির পর এতসমস্ত চিন্তা করে দেখলাম, শুধুমাত্র যে জিনিসটির অভাব এখানে ছিল তা হল আল্লাহ সুবহানাহুতা’লার ইচ্ছা বা অনুমতি।

পরবর্তীতে সেই আপুটির আরেক জায়গায় বিয়ে হয়ে যায়। কারও জীবনই তো আর থেমে থাকে না। কিন্তু আমি এটা নিশ্চিত যে আপুটি অনেক যন্ত্রণা পেয়েছিলেন, হয়ত এখনও পান।

.

এটা একটা ঘটনা, কোন গল্প নয়। এমন আরও বহু ঘটনা মানুষের জীবনে ঘুরপাক খায় – একেবারে হুবহু না হলেও এমন যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতি সৃষ্টি করা ঘটনা। তানাহলে আত্নহত্যা তো দূরের কথা, ব্রেকআপ শব্দটাও বর্তমানে এতটা প্রচলন পেত না। কৌতুহল আশা-আকাঙ্খা আর আনন্দমাখা অনুভূতি দিয়ে যে সম্পর্কগুলোর সূচনা হয় সেগুলো শেষ হয় মনোমালিন্য, হতাশা আর যন্ত্রণা দিয়ে। আর সমস্ত কিছু ঠিক থাকার পরও যে পরিণতি অধরাই রয়ে যেতে পারে তার উদাহরণ তো কেবলই দিলাম। আর এই জীবন বিষিয়ে তোলা ঘটনার কারণ ঐ এক বাস্তবতাকে ভুলে যাওয়া : আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কোনকিছুই সম্ভব না।

তাই ভাই বা বোন আমার, আপনি হয়ত এখন উদ্দেশ্য ভাল রেখেই কারও সাথে প্রেম করে চলেছেন, কাটাচ্ছেন অনেক সুন্দর সময়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহর ইচ্ছা না থাকলে আপনার কাটানো সেই সুন্দর সময়গুলোই হয়ত দানব হয়ে আপনার জীবনকে তিক্ত করে তুলবে। ইসলাম বিয়ের আগে প্রেম ভালবাসাকে নিষিদ্ধ করেছে আমার-আপনার আত্মিক-মানসিক নিরাপত্তার জন্যেই। যাতে আমরা বাস্তবতাকে ভুলে গিয়ে জীবনকে দুর্বিষহ করে না তুলি।

.

এই তো গেল প্রথম বাস্তবতা। এটা নিয়ে একটু চিন্তা ভাবনা করলে একটা প্রশ্ন মাথায় চলে আসে আর সেই প্রশ্নটা আমাদেরকে ক্রমান্বয়ে দ্বিতীয় বাস্তবতার দিকে ধাবিত করে।

প্রশ্নটা ভাগ্যবিশ্বাস নিয়ে। আল্লাহর হাতেই যদি শেষ পর্যন্ত সবকিছু থাকে তাহলে কি আমরা কখনও চেষ্টা করব না? এটা সুবিস্তারিতভাবে আরেকসময়ে আলোচনার দাবি রাখে। এখন শুধু একথা মাথায় রাখি যে, আল্লাহ সুবহানাহুতা’লা তাঁর বান্দাদেরকে স্বাভাবিকভাবে যা কিছু কল্যাণকর তাঁর দিকেই ধাবিত করেন। বান্দার গুনাহ আর দুআ সেই স্বাভাবিকতার পরিবর্তন আনতে পারে। যদিও বান্দা দুআ করবে নাকি করবে না তা আল্লাহ সুবহানাহু তাঁর ই’লমে গায়িবের কারণে আগে থেকেই লিখে রেখেছেন, প্রকৃতপক্ষে আমরা দুআ করব বলেই তিনি লিখে রেখেছেন। তিনি লিখে রেখেছেন বলে আমরা করব – ব্যাপারটি এমন নয়। দুআ ছাড়াও অন্যান্য যেকোনো কাজের জন্যও এটি প্রযোজ্য।

আর এই কথাগুলো আসলে এমন যা একজন বিশ্বাসীর সন্দেহ দূর করে তার বিশ্বাসকে পোক্ত করে আবার একইসাথে অবিশ্বাসীর সন্দেহ বাড়িয়ে তুলে তার অবিশ্বাসকেও পোক্ত করে। এটা নির্ভর করে সেই মানুষটি মনের গহীনে এই সত্যকে অন্যসব সত্যের সাথে স্বীকার করে বিশ্বাসী হতে চায়, নাকি সন্দেহের মধ্যেই ডুবতে ডুবতে অতলে হারিয়ে যেতে চায় – তার ওপর। তাই দেখা যায়, অনেক অবিশ্বাসীও তাদের মনের সত্য স্বীকারের অনুভূতির দরুণ বিষয়গুলো বুঝতে পারে এবং বিশ্বাসীদের পথে পা বাড়ায়। এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে ইনশাআল্লাহ। (তাকদীর আর এই সংক্রান্ত বিষয়াদি বিস্তারিত লিখা হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ; নোটের নাম – ‘এক’ এর উপপাদ্য। শেষে লিংক দেওয়া আছে)

.

যাই হোক, ভালোবাসায় ফিরে যাই। প্রথম বাস্তবতা আমাদেরকে শেখায় যে কোন কাজের সফলতা-ব্যর্থতা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। তাই আমাদের ভালবাসার বা অন্য যেকোন কাজের সফলতার জন্য আল্লাহর অনুমতি প্রয়োজন। আর আল্লাহর অনুমতি কীভাবে পাওয়া যায়? – দুআ !

দুআর মাধ্যমে আপনি আল্লাহর কাছে চাইবেন। দুআ হল মুমিনের অস্ত্র। এর মাধ্যমে আপনি আল্লাহর অনুমতি চাইবেন। কিন্তু কীভাবে চাইবেন? এই প্রশ্নটির উত্তরেই রয়েছে দ্বিতীয় বাস্তবতা যা ক্রমে ক্রমে আসবে বলেছিলাম।

.

আরেকটি ঘটনা উল্লেখ করব যা আপনাকে পুরো ব্যাপারটি বুঝতে সহজ করে দিবে ইনশাআল্লাহ।

এক বোন বছরের পর বছর ধরে দুআ করেছিলেন যেন তার বিয়ে এক নির্দিষ্ট ব্যক্তির সাথে হয়। অতঃপর ৭-৮ বছরের দুআ আর চেষ্টার পর সকল বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে সেই বোনের বিয়ে যখন অমুক ব্যক্তির সাথেই হয়েছিল তখন তিনি উল্লেখ করেন – আল্লাহ সুবহানাহুতা’লা যে তার দুআ কবুল করেছিলেন তা তিনি একেবারে অনুভব করেছিলেন। অতঃপর হয়ত ভালই কেটেছিল সেই বোনের কিছুদিন। হ্যাঁ হয়ত, তাও আবার কিছুদিন। কেননা বিয়ের দেড় বছরের মাথায় শুনেছিলাম স্বামীর ব্যবহার আর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এক খালাত বোনের বাসায় একেবারে চলে আসেন।

মাঝে যে তিনি একবারও দুঃখ কষ্ট সইতে না পেরে বাবার বাড়িতে চলে আসেন নি – এমনটি নয়। মানসিক নির্যাতন আর তার স্বামীর অন্য নারী-বান্ধবী-কলিগদের প্রতি কাতরতা দেখে রেগে বহুবারই বাবার বাড়িতে চলে এসেছিলেন। কিন্তু বাড়িতে শোনানো ‘তুমি তো নিজের পছন্দেই বিয়ে করেছ। তাহলে এখন এখানে এসব বলছ কেন?’ – এমনসব প্রশ্ন আর কিছুদিন পর পর স্বামীর ক্ষমা চেয়ে নিতে আসা – ইত্যাদি তাকে বাধ্য করত বারবার স্বামীর কাছে ফিরে যেতে। কিন্তু তা বেশিদিন স্থায়ী হত না। পরবর্তীতে তার স্বামী আরও খারাপ-অকথ্য কিছু ঘটনা ঘটালে তিনি বাধ্য হয়ে চলে যান সেই খালাত বোনের বাসায়। আরও অনেক ঘটনার পরে বোনটির স্বামী তাকে তালাক দিলে শেষে বোনটির আরেকবার বিয়ে হয়। হয়ত বোনটি এখন যথাসম্ভব ভালই আছেন।

.

কিন্তু তার দুঃখের দিনগুলোতে তিনি আফসোস করে করে কাঁদতেন, “কেন যে আল্লাহ তার দুআ কবুল করেছিলেন? তাতে যে কোন কল্যাণ ছিল না…” – এখানেই হল আল্লাহর কাছে কীভাবে চাইবেন তার উত্তর ও দ্বিতীয় বাস্তবতা। আর সেটা হলঃ আল্লাহর নিকট দুআতে আমাদের চাইতে হবে ‘যা কিছু কল্যাণকর’ বা এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করে, মোটেই নির্দিষ্ট করে কিছু উল্লেখ করে নয়। কারণ একটি নির্দিষ্ট বিষয় কারও জন্য কল্যাণকর নাও হতে পারে। আমরা আমাদের সীমিত জ্ঞান দিয়ে হয়ত বুঝতে পারছি না। কিন্তু আল্লাহ সুবহানহুতালা জানেন  আমাদের জন্য প্রকৃতপক্ষে কী কল্যাণকর আর কী অকল্যাণকর। আমরা এখন জীবনের যে সাদা বিন্দুতে অবস্থান করে একে ভাল ভাবছি হয়ত সেই সাদা বিন্দুটিই সমস্ত জীবনছবির সবচেয়ে অসুন্দর-অকল্যাণকর অংশ। সমস্তটার খবর তো কেবল আল্লাহই জানেন।

রাসূলুল্লাহ সা. এর শেখানো দুআগুলো খেয়াল করলেও এই বাস্তবতা চোখে পড়ে। দুআ যে বিষয়েই হোক না কেন, কখনই তা নির্দিষ্ট করে না চেয়ে বরং সেই বিষয়ে যা কিছু আল্লাহর জ্ঞানে কল্যাণকর তা চাওয়া হয়েছে, আর নিস্তার চাওয়া হয়েছে অকল্যাণ থেকে। উপরের ঘটনাটিতে বোনটির ভুল ছিল একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেই স্বামী হিসেবে পাবার জন্য দুআ করা। অথচ উত্তম হতো তিনি যদি ‘যে স্বামী তার দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য কল্যাণকর হবে’ এমনটি চেয়ে দুআ করতেন।

.

তাই ভাই বা বোন আমার, এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করবেন না। আল্লাহর অনুমতি প্রয়োজন বোঝার পর আপনি যে নির্দিষ্ট মানুষটির সাথে আপনার পরিণতির জন্য দুআ করবেন বলে ভাবছিলেন সেই যে কিছুদিন পর আপনার জীবনের সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক মানুষে পরিণত হবে না তার গ্যারান্টি তো আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন ছাড়া আর কেউ দিতে পারে না। যে মানুষটি আপনাকে আজ এত ভালবাসছেসে তো পরবর্তীতে অন্য কারও প্রতি আরও আকৃষ্ট হতেই পারে। দেখতেশুনতেজ্ঞানে গুণে যে স্কেলেই তুলনা করুন না কেনআপনার চেয়েও ভাললাগার মতভালবাসার মত মানুষ আশেপাশেই রয়েছেঅহরহ রয়েছে। আর একারণেই আজ লক্ষ লক্ষ ব্রেকআপের পর কোটি কোটি নতুন রিলেশন দেখা যায়। আর নিয়মিত হারে পেপার পত্রিকার পরকীয়ার ঘটনা তো বাদই দিলাম।

তাছাড়া আল্লাহর ভয়বিহীন মানুষগুলোর পক্ষে যে পশুর স্তরেও নেমে যাওয়া অসম্ভব না। আর যে এখন আপনার সাথে হারাম সম্পর্কে মজে গিয়ে দুনিয়ার জীবনের সামান্য লৌকিক ভাল সময়ের আড়ালে অনন্ত অসীম আখিরাতের জীবনটিকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিচ্ছে – তাও আবার শুধু নিজেরটাকেই নয় বরং আপনারটাকেও, সে আসলে আল্লাহর আযাবকে কতটাই বা ভয় করে আর আপনাকেই বা আসলে কতটা ভালবাসে ! প্রকৃতঅর্থেই সে আপনাকে ভালবাসলে যে সে তার এই ভালবাসাকে কেবল এই জীবনে সীমাবদ্ধ রাখতে মোটেই চাইত না, বরং অনন্তকালের জন্য স্থায়ী করতে চাইত। বাদ দিত এই কয়েকদিনের হারাম সম্পর্ক। তাই হারাম সম্পর্ক বাদ দিন, আল্লাহর কাছে কল্যাণকর জীবনসঙ্গী চেয়ে দুআ করতে থাকুন এবং সবর করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনার প্রতি কোনও যুলুম করবেন না।

.

আর কথা বাড়াব না। অতি সংক্ষেপে সমস্তটা আরেকবার উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হব –

১। আপনি যা কিছুই করার স্বপ্ন দেখুন না কেনশেষ পর্যন্ত আল্লাহর ইচ্ছা বা অনুমতি ছাড়া তা অসম্ভব। সুতরাং দুআর মাধ্যমে আল্লাহর অনুমতি প্রার্থনা করুন।

২। আল্লাহই যাবতীয় কল্যাণ এবং অকল্যাণের জ্ঞান রাখেন। সুতরাং আল্লাহর কাছে যা চাইবেন তা নির্দিষ্ট না করে যা আপনার দুনিয়া  আখিরাতের জন্য কল্যাণকর হবে তা চাইবেন। এরপর আল্লাহর সিদ্ধান্তে ভরসা করে সবর করবেন।

এই দুই বাস্তবতাকে যতদিন মেনে নিয়ে কাজ করতে পারবেন না, ততদিন জীবন বিষিয়ে ওঠা অস্বাভাবিক কিছু না, বরং অতি স্বাভাবিক। আর ভালবাসা ভাললাগার ব্যাপারটিও যে এর উর্ধ্বে নয় তা তো বিভিন্ন জীবন থেকে নেওয়া দু’টো ঘটনা উল্লেখ করেই বোঝানোর চেষ্টা করলাম। কী করা সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত তাও দেখানোর চেষ্টা করলাম। এরপরও না বুঝলে আরও সহজ করে দিই। ভালবাসুন তাঁকে যিনি ভালবাসার সবচেয়ে বেশি দাবি রাখেনঃ আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন। তারপরও না বুঝলে মাফ করবেন : আপনার দুই দিনের জীবনের কিছু সময় নষ্ট করলাম।

অতঃপর ভাল থাকুক আপনার জীবন, আপনার ভালবাসা।

.

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি তাঁর বান্দাদেরকে এতটা ভালবাসেন, এতটা ক্ষমা করেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্ললাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর যিনি তাঁর উম্মাতকে ভালবেসেছেন, ভালবাসতে শিখিয়েছেন।

মূল নোটের লিঙ্ক- https://goo.gl/9ibF2g

==========

লেখকঃ তানভীর আহমেদ ।

লেখকের ফেসবুক আইডি লিংক- https://goo.gl/dfPxQr

শেয়ার করুনঃ
তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ (প্রথম কিস্তি)

তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ (প্রথম কিস্তি)

বিসমমিল্লাহির রহমানীর রহীম।

.

গ্রীষ্মের দাবাদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ।মাঠ ঘাট ফেটে চৌচির। নদী খালবিল সব শুকিয়ে গিয়েছে।বৃষ্টির নামগন্ধও নেই। পানির সন্ধানে তৃষ্ণার্ত এক কাক অনেক ক্ষন থেকে ঘুরে বেড়াচ্ছে এদিক সেদিক। পানির দেখা নেই। বহু খোঁজাখুজির পর মাটির এক কলসি দেখতে পেল সে। ততক্ষনাত উড়ে গেল কলসির কাছে। পানি!পানি! তৃষ্ণার পানি! কিন্তু কলসির কাছে যেয়ে হতাশ হতে হল তাকে। পানি কিছু আছে বটে তবে তা একেবারেই কলসির তলানিতে। এই পানির নাগাল পাওয়া ঐ কাকের পক্ষে পাওয়া সম্ভব নয়।হায়! প্রাণটা বোধহয় আজকে গেল।

.

পানির আশা ছেড়ে দিয়ে কাছেরই একটা নিম গাছের ডাল লক্ষ্য করে উড়াল দিল। ডালে বসে জিরিয়ে নিল কিছুক্ষন। তারপর আবার পানির খোঁজে উড়াল দিতে যাবে এমন সময় চোখ পড়লো নিম গাছের নিচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নুড়ি পাথরের ওপর চোখ পড়লো। কিছুক্ষন স্থির হয়ে বসে প্ল্যান করে নিল।”প্ল্যানমতো কাজ করতে পারলে ঐ কলসির পানি পান করা সম্ভব হতেও পারে”। ভাবলো কাক।

.

ঠোঁটে একটা একটা করে নুড়ি পাথর নিয়ে কাক পানির কলসিতে ফেলতে লাগলো,আর পানির স্তর কলসির মুখের দিকে একটু একটু করে উঠে আসতে লাগলো। যথেষ্ট পরিমান পাথর ফেলার পর পানি কলসির একেবারে মুখের কাছে চলে আসলো আর কাক বাবাজীও জান ভরে পানি পান করলো।

আহ! জীবন শান্তি!

.

দুই.

.

যুদ্ধক্ষেত্রে যে কোন সামরিক অভিযানের পরিকল্পনাগুলো এমন ভাবে করা  হয় যেন খুব কম সময়ের মধ্যে  শত্রুর হেড কোয়ার্টার  দখল করে নেওয়া যায় বা শত্রুর লীডারকে খতম করে দেওয়া যায়। একবার শত্রুবাহিনীর  কমান্ডারকে হত্যা করতে পারলে বা হেড কোয়ার্টারের নিয়ন্ত্রন নিতে পারলে বাকী কাজ পানির মতো সহজ।

.

শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। আল্লাহ (সুবঃ) কুরআনে বারবার সতর্ক করে দিয়েছেন ,” ঈমানদার গন! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ কর না। নিশ্চিত রূপে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। [সূরা বাকারাঃ ২০৮] ”

.

হে বনী-আদম! আমি কি তোমাদেরকে বলে রাখিনি যে, শয়তানের এবাদত করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু? এবং আমার এবাদত কর। এটাই সরল পথ। শয়তান তোমাদের অনেক দলকে পথভ্রষ্ট করেছে। তবুও কি তোমরা বুঝনি? [সূরা ইয়াসীনঃ ৬০-৬২]

.

মানুষের জন্ম থেকে শুরু করে সাকরাতুল মাউত  পর্যন্ত মানুষের সংগে শয়তানের লড়াই চলতেই থাকে। শয়তান নানা ছলে বলে কৌশলে চেষ্টা চালাতে থাকে মানুষকে পরাজিত করবার।ক্বলব বা হৃদয়কে তুলনা করা যেতে পারে মানুষের হেড কোয়ার্টার হিসেবে। ক্বলব বা হৃদয় দখল করতে পারলেই খেল খতম।

হাদীসের ভাষ্যেও অনেকটা এরকম এসেছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ”  মানুষের শরীরে এমন একটি গোশত পিন্ড রয়েছে যা ঠিক থাকলে  পুরো শরীর ঠিক থাকে ; আর তা যদি নষ্ট হয়ে যায় তা হলে পুরো শরীর নষ্ট হয়ে। আর তা হল ক্বলব বা হৃদয়”। (বুখারী ও মুসলিম)

.

ক্বলব বা হৃদয় ঠিক থাকলে ঈমান আমল সবই ঠিক থাকবে আর ক্বলব কলুষিত থাকলে ঈমান আমলের বারোটা বেজে যাবে।

.

শয়তান তাই প্রথমেই আপনার হৃদয়ের দখল নিয়ে নিতে চায়,যেন আপনাকে ইচ্ছেমত নাকে ছড়ি দিয়ে ঘোরানো যায়।  চোখের দৃষ্টি হল শয়তানের তুরুপের তাস।  এর  মাধ্যমে সে আরামসে আপনার হৃদয়ের দখল নিতে পারে।

.

আপনার রব আপনাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন।আপনাকে যেন শয়তান তার খেলার পুতুল না বানাতে পারে একারনে তিনি কুর’আনে বেশ কয়েক জায়গায় টিপস দিয়েছেন।

ইরশাদ হচ্ছে,

” মুমীনদেরকে বলে দিন,তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাযত করে”। (সূরা নুর: আয়াত ৩০)

এরপরের আয়াতে আল্লাহ (সুবঃ) বলছেন,” ঈমানদার মহিলাদেরকে বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে”। (সূরা নুরঃআয়াত ৩১)

.

আল্লাহ (সুবঃ) মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষকে মানুষের নিজের চেয়েও ভালোমতো চেনেন।তিনি জানেন মানুষ চোখের হেফাজত করতে, পর্দা করতে ভুলে যাবে। তাই তিনি কুরআনে বারবার  মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। অনেকটা জিহাদ এবং সাওমের মতো। আল্লাহ (সুবঃ) জানেন যে মানুষকে একবার বললেই মানুষ সাওম পালন করবে। তাই সমগ্র কুরআনে তিনি মাত্র একবার সাওম পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। অপরদিকে বেশ কিছু আয়াতে জিহাদের আদেশ দিয়েছেন কারণ মানুষ জিহাদের ব্যাপারে উদাসীন। ইরশাদ হচ্ছে, ” আর তোমাদের কি হল যে, তেমারা আল্লাহর রাহে লড়াই করছ না দুর্বল সেই পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর; এখানকার অধিবাসীরা যে, অত্যাচারী! আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পক্ষালম্বনকারী নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও।”( সুরা নিসাঃআয়াত ৭৫)

.

কুরআনে চোখের হেফাজতের ওপরে এত জোর দেওয়া স্বত্তেও আমরা এই ব্যাপারে চরম মাত্রার উদাসীন। গায়েই লাগাইনা আয়াত গুলো। কিছু মনেই করিনা।

.

ইনবক্সে প্রায়ই ভাইদের নক পাই। ভাইয়েরা বেশ হতাশ কন্ঠে জানান,”অনেক চেষ্টা করেও পর্ন দেখা বা মাস্টারবেট করা ছাড়তে পারলাম না। আপনাদের দেওয়া সব টিপস ফলো করার পরেও এই জঘন্য পাপগুলো থেকে বাঁচতে পারলাম না। অবস্থার কিছুটা উন্নতি অবশ্য হয়েছে,আগে যেখানে প্রত্যেকদিন করতাম এখন কয়েকদিন গ্যাপ দিয়ে করি”।

“গাইরে মাহরামদের সংগে উঠাবসা আছে? গান শোনেন বা মুভি সিরিয়াল দেখেন?”

উত্তর আসে,”জ্বী”।

“এই গুলো বন্ধ করতে হবে”

“মুভি সিরিয়াল দেখলে কি এমন সমস্যা ভাই? আর রাস্তা দিয়ে কোন ডানাকাটা পরী হেঁটে  গেলে ঘাড় ঘুরিয়ে না হয় একবার দেখলামই।  এতে কি এমন ক্ষতি হল?  আল্লাহর কি অপরূপ  সৃষ্টি, মাশা আল্লাহ!”

.

শুধুমাত্র এই চোখের হেফাজতের ব্যাপারে উদাসীনতার কারনে ভাইয়েরা পর্ন দেখা বা মাস্টারবেশন ছাড়তে পারেননা। বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

.

এই লিখার শুরুতে এক তৃষ্ণার্ত কাকের গল্প বলা হয়েছিল।  মনে আছে কাক কিভাবে কলসির তলানির পানি খেয়েছিল? একটা একটা করে নুড়ি ফেলেছিল আর পানি একটু একটু করে ওপরে উঠছিল। তারপর একসময় কাকের নাগালে পানি পৌঁছে গিয়েছিল।শয়তান আপনার হৃদয়ের দখল অনেকটা এভাবেই নেয়। একবারেই সে দখল করতে পারে না,  ধীরে ধীরে একটু একটু করে সে হৃদয় দখল করতে থাকে। আর তার নুড়ি পাথর হল আপনার চোখের অনিয়ন্ত্রিত দৃষ্টি। হাদীসে অনিয়ন্ত্রিত দৃষ্টিকে শয়তানের বিষাক্ত তীরের সংগে তুলনা করা হয়েছে। এটা এমন এক বিষাক্ত তীর, যা আপনার হৃদয়কে এফোঁড়ওফোঁড় করে দিবে।

.

মনে করুন, আপনি রাস্তায় কোন এক মেয়ের দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকলেন, শয়তান আপনার হৃদয়ের কিছুটা দখল পেল, গান দেখলেন শয়তান, হৃদয়ের আরেকটু দখল পেল, মুভি দেখলেন,মুভির নায়িকার ওপর ছোট খাটো একটা ক্রাশ খেলেন শয়তান আপনার হৃদয়ের আরো কিছুটা দখল পেল। এভাবে শয়তান একসময় আপনার পুরো হৃদয় দখল করে নেবে এবং আপনাকে দিয়ে সে তার যা মন চায় তা করিয়ে নেবে।

.

চোখের অনিয়ন্ত্রিত দৃষ্টি পর্ন দেখা বা মাস্টারবেশনের ট্রিগার হিসেবে কাজ করে। আপনি  একটা মুভি দেখতে বসলেন বা গান দেখতে,পর্ন দেখা বা মাস্টারবেশনের কোন ইচ্ছেই আপনার ছিল না,  কিন্তু মুভি/ গানের কোন দৃশ্য দেখে আপনি মাস্টারবেট করে ফেলেছেন বা পর্ন দেখেছেন, হয়েছে না এরকম অনেকবার? মাঝে মাঝে এরকমও তো হয় কোন মেয়েকে দেখার সংগে সংগেই  পর্নস্টারের কথা মনে হয়ে যায় বা  পর্নমুভির কোন দৃশ্য মাথায় ঘুরতে শুরু করে, তারপর আর সহ্য করতে না পেরে আপনি পর্ন দেখেন বা মাস্টারবেট করেন,তাইনা?

.

জিএফের সংগে ডেটিং করে আসার পর কিংবা জাস্ট ফ্রেন্ড,কাজিনদের সংগে হ্যাং আউট করার পর গভীর রাতে বা অন্য কোন অলস মুহূর্তে আপনি তাদের নিয়ে সেক্স ফ্যান্টাসিতে ডুবে যাননি, মাস্টারবেট করে নিজেকে শান্ত করেননি? অস্বীকার করে কি লাভ ভাই?

.

একবার চিন্তা করুন, আপনি যদি শুধুমাত্র চোখের হেফাযত করতে পারতেন তাহলে কতো অজস্র বার কতো অজস্র বার আপনি পর্ন দেখা বা মাস্টারবেশনের হাত থেকে বাঁচাতে পারতেন নিজেকে!  আপনার শরীরের এই বিশাল ক্ষতি হয়ে যেত না! ভবিষ্যত জীবন সংগিনীর কথা ভেবে এতো টেনশন অস্থিরতায় ভুগতে হতোনা।

একরাশ বিপদের মাঝখানে বসে পুরোনো দিনের কথা ভেবে আপনাকে হা হুতাশও করতে হতোনা।

আরবের এক কবি যথার্তই বলেছেন,

” আর তুমি কি জানো, কখন শুরু হয়েছিল তোমার দুঃখের কাহিনী?

যখন তোমার চোখ পড়েছিল সেই রূপসীর ওপর।

চলবে ইনশা আল্লাহ…..

শেয়ার করুনঃ
তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ (দ্বিতীয় কিস্তি)

তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ (দ্বিতীয় কিস্তি)

বিসমমিল্লাহির রহমানীর রহীম।

.

দ্রুতগতি সম্পন্ন নিউট্রন সজোরে ধাক্কা মারলো ইউরোনিয়াম-২৩৫ পরমানুকে। ইউরোনিয়াম-২৩৫ পরমানু ভেঙ্গে হল দু টুকরো। উৎপন্ন হল বিপুল শক্তি এবং নতুন তিনটি নিউট্রন। এই নতুন তিনটি নিউট্রন আবার সজোরে ছুটে গেল নতুন তিনটি ইনট্যাক্ট ইউরোনিয়াম-২৩৫ পরমানুকে আঘাত হানার জন্য। এই তিনটি ইউরোনিয়াম ভেঙ্গে দুটুকরো হল, উৎপন্ন হল পূর্বের চেয়েও অনেকগুন বেশি শক্তি এবং নতুন নয়টি নিউট্রন। এই নিউট্রনগুলো আবার নতুন নয়টি ইউরোনিয়াম-২৩৫ পরমানুকে আঘাত করল। এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকে যতোক্ষন পর্যন্ত সেখানে একটি ইউরোনিয়াম-২৩৫ পরমানু অবশিষ্ট থাকে।

.
নিউক্লিয়ার সায়েন্সের খুবই পরিচিত একটি বিক্রিয়া এটি, নিউক্লিয়ার ফিশন রিএকশ্যান নামেই যেটি পরিচিত। এই চেইন রিএকশ্যানই ঘটে ধ্বংসাত্মক পারমানবিক বোমার মধ্যে।অতিক্ষুদ্র এক নিউট্রনের মাধ্যমে যার শুরু হয়, সমাপ্তি ঘটে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরে। [১]

.

চোখের অনিয়ন্ত্রিত দৃষ্টিকে আমরা তুলনা করতে পারি চেইন রিএকশ্যান শুরু করে দেওয়া অতিক্ষুদ্র সেই নিউট্রনের সংগে। শুধু একটি মাত্র অনিয়ন্ত্রিত দৃষ্টির কারনে শুরু হয়ে যেত পারে পাপের চেইন রিএকশ্যান। একটার পর একটা পাপ করে যেতেই থাকে মানুষ। শেষটা হয় দুনিয়া এবং আখিরাত দুটোই হারিয়ে।

.

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদের জন্য রাতের গভীরে সালাতে দাঁড়িয়ে কাঁদতেন। দীর্ঘ সিজদায় আল্লাহর কাছে আকুল প্রার্থনা করতেন আমাদের জন্য [https://goo.gl/JhZZrC]। আমাদের সংগে তাঁর গভীর বন্ধনের উদাহরন দিতে যেয়ে তিনি বলেছিলেন,‘ তোমরা হলে পাখাওয়ালা পতঙ্গের মতো। মরুভূমিতে রাতের আধারে মশাল জ্বালানো হয়েছে। সেই আগুনে আকৃষ্ট হয়ে তাতে ঝাঁপ দেওয়ার জন্য তোমরা সবাই ছুটে চলছো। আর আমি তোমাদেরকে আঁকড়ে ধরে আছি, যেন তোমরা সে আগুনে ঝাঁপ দিতে না পারো’। [২]

.

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাদেরকে,আমাদের নিজেদের পিতামাতার চেয়েও বেশী ভালোবাসেন।

হাশরের ময়দানে জাহান্নামের ভয়াবহতা দেখে পিতামাতা পর্যন্ত তাদের সন্তানকে অস্বীকার করবেন, চাইবেন যেন তাদের সন্তান, তাদের মা বাবা ,ভাই বোন ,আত্মীয় স্বজন প্রয়োজন পড়লে এই দুনিয়ার সবকিছু জাহান্নামে ফেলে দিক তাও যেন তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ না করেন। সেই ভয়াবহ, স্বার্থপরতার দিনেও রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাদের জন্যেই উদ্বিগ্ন থাকবেন। এতোটাই ভালোবাসেন তিনি (সাঃ) আমাদেরকে। এই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বারবার সতর্ক করে দিয়ে গিয়েছেন নারীর ফিতনাহর ব্যাপারে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘ আমার উম্মাতের উপর অসংখ্য ফিতনাহ আসবে,তারমধ্যে অধিক কষ্টদায়ক ও ক্ষতিকারক হল মহিলাদের ফিতনাহ’।

 

উসমান বিন যায়িদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,‘ আমার মৃত্যুর পরে পুরুষদের জন্য আমি নারীর ফিতনাহকে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিকর মনে করি’।[৩]

আর নারীর ভয়াবহ এই ফিতনার সূচনটা হয় চোখের অনিয়ন্ত্রিত দৃষ্টির কারনে।

সেই রঙিন কৈশোর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত কতোবার আপনি মায়াময়ীদের প্রেমে পড়েছেন! রুপা,মীরা,নীরা,প্রতীতি,সোমা! আর কতোবার আপনার হৃদয় ভেংগেছে! কতোবার শান্ত, নিরুদ্রপ জীবন ছারখার হয়ে গিয়েছে! দীর্ঘ নির্ঘুম রাত,একলা শুকতারা,নিকোটিনের ধোয়া,পুরোনো ইনবক্স, গভীর দীর্ঘশ্বাস, ঝাঁকড়া চুল,শূন্য মানিব্যাগ,শূন্য পরীক্ষার খাতা,চিড় ধরা ভাতৃত্বের মতো বন্ধুত্ব,মায়ের চোখের জল,বাবার ভীষন আক্ষেপ। .

যখন আপনার বন্ধুরা পড়ার টেবিলে ভবিষ্যৎ গড়তে ব্যস্ত,তখন আপনি নিজ হাতে আপনার ভবিষ্যৎ নষ্ট করেছেন। বাবার টাকা নষ্ট করেছেন, মায়ের সংগে মিথ্যা বলেছেন। টেনশান,অস্থিরতা আর উদ্বিগ্নতায় কাটিয়েছেন কত দিন,কত রাত। নিজের সংগে একটু সৎ হোন। সত্যি করে বলুনতো আসলেই কি সুখ পেয়েছেন? আর শান্তি?

.

‘হারাম থেকে পাওয়া সুখ অল্পেই শেষ হয়ে যায়

থাকে শুধু গ্লানি আর লজ্জা

দিনশেষে শুধু থাকে শূন্যতা আর পাপের বোঝা

সেই আমোদপ্রমোদে কি লাভ শেষমেশ যার ফলাফল জাহান্নামের আগুনের শাস্তি?’

-শেইখ খালিদ আর রশীদ

.

চিন্তা করে দেখুন একবার,এর কিছুই হতোনা যদি আপনি চোখের হেফাযত করতেন। প্রথমে চুরি করে দেখেছেন, তারপর ইনবক্স আর প্রোফাইল পিকচারে তেল মেরেছেন, দূরালাপনে হেলাল হাফিয আর সুনীলের কবিতাকে নিজের বলে চালিয়েছেন, তারপর ডেটিং,তারপর কিছুক্ষন ভালোবাসার মিথ্যে উৎসবে মেতে থাকা ,তাইতো? চোখের হেফাযত করতে পারলে আপনার জীবনের গল্পটাই অন্যরকম হতো!

.
পূর্বের যামানায় এক ব্যক্তি দরিয়ার তীরে বসবাস করতো। যেখানে সে ৩০০ বছর ধরে আল্লাহর ইবাদাত করেছিল। সে দিনে সিয়াম রাখতো আর রাতে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতো।একদিন এক মেয়ে তার বাসস্থানের পাশ দিয়েই যাচ্ছিল। সেই মেয়েকে দেখা মাত্রই তার প্রেমে পড়ে যায় ঐ লোক। প্রেমের মোহে ইবাদাত বন্দেগী সব ছেড়ে দিয়ে কাফির হয়ে যায়। একটা সময়ে অবশ্য আল্লাহ তাকে তওবা করার সুযোগ দেন এবং সে তওবা করে। [৪]

.

মিশরে এক যুবক ছিল। সে মসজিদে আযান দিতো,সলাত পড়াতো। তার চেহারা জুড়ে ছিল ইবাদাতের নুর । একদিন সে আযান দেয়ার জন্য মসজিদের মিনারে ওঠে। সেই মসজিদের পাশেই ছিল এক খৃস্টান পরিবারের বাস। অপরুপা এক মেয়ে ছিল তাদের। মিনার থেকে যুবকের চোখ পড়ে সেই রূপসীর ওপর। সংগে সংগেই যুবক প্রেমে পড়ে যায়।ততক্ষনাত হাজির হয় সেই মেয়ের ঘরে। মেয়েটি তাকে জিজ্ঞাসা করল,” তুমি কেন এখানে এসেছ? যুবক উত্তর দিল,” তোমার প্রেম আমাকে এখানে টেনে নিয়ে এসেছে। আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই”। “এটা কিভাবে সম্ভব? তুমি মুসলিম আর আমি খৃস্টান। আমার বাবা কখনোই এ বিয়েতে রাজী হবেন না”। ” তোমার জন্য প্রয়োজনে আমি খৃস্টান হয়ে যাব”। “তাহলে বিয়ে হতে পারে”।

.

যুবকটি খৃস্টান হয়ে গেল। তাদের বিয়েও হয়ে গেল। একরাতে যুবকটি ঘুমানোর জন্য ঘরের ছাদে যায়। ঘরের ছাদ থেকে সে পা পিছলে নিচে পড়ে এবং সেখানেই মৃত্যুবরন করে।[৫]

.

সুবহান আল্লাহ ! চিন্তা করুন একবার। যুবকটি খ্রিষ্টান হয়ে গেল যুবতীর প্রেমে পড়ে।যে ইসলাম তাকে বাঁচাতে পারতো ধ্বংসাত্বক পরিণতির হাত থেকে, যে কালিমা এক নিমিষেই হারাম করে ফেলত জাহান্নামের ভীষন আগুন সেই ইসলামকে ছেড়ে, কালিমাকে ভুলে যুবতীর প্রেমে অন্ধ হয়ে সে খৃষ্টান হয়ে গেল। তারপর সেই অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করল! মানব জীবনের কি ভীষণ অপচয়।

চোখের অনিয়ন্ত্রিত দৃষ্টি এই জমীনের বুকে কতো হাজার বার রক্ত ঝরিয়েছে! জলে,স্থলে আর অন্তরীক্ষে সৃষ্টি করেছে বিপর্যয়।কতো মানব হৃদয়ের মৃত্যু ঘটিয়েছে,জান্নাতের পথ থেকে বিচ্যুত করেছে , আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের (সাঃ) দুশমনেরা মুসলিম উম্মাহকে দুর্বল করার চক্রান্ত করেছে।

আল্লাহ (সুবঃ) আমাদের হেফাযত করুক।

চলবে ইনশা আল্লাহ……

========

পড়ুনঃ প্রথম কিস্তি- https://goo.gl/Zrr498

========

রেফারেন্সঃ

[১] https://goo.gl/jmJbLx

[২] সহীহ বুখারী ,হাদীস নং- ৬১১৮, সহীহ মুসলীম,হাদীস নং- ২২৮৪ । ভাবানুবাদ।

[৩] সহীহ বুখারী,হাদীস নং- ৪৮০৮,মুসলিম হাদীস নং-২৭৪০

[৪] চোখের আপদ ও তার প্রতিকার, ইরশাদুল হক আছরী, পৃষ্ঠা-৫৭

[৫] আদ-দা-উ ওয়া আদ- দাওয়া।

শেয়ার করুনঃ
তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ (প্রথম কিস্তি)

তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ (তৃতীয় কিস্তি)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম।

.

মাঝে মাঝে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকি কীবোর্ড নিয়ে কিন্তু লিখা আসে না। শব্দগুলো বিক্ষিপ্ত ভাবে ছোটাছুটি করে মাথার ভেতর, বহু চেষ্টা সাধনার পরেও ধরা দেয় না।

.

একরাশ হতাশা আর মহা বিরক্তি নিয়ে উঠে আসি টেবিল ছেড়ে। ব্যালকনিতে যেয়ে দাঁড়াই। এক ঝলক ঠান্ডা বাতাস এসে ঝাপটা মারে মুখে।তিলোত্তমা নগরী তখন গভীর ঘুমে। দু একটা রাতজাগা ক্লান্ত ট্রাক দীর্ঘশ্বাসের মতো হর্ন বাজিয়ে ছুটে চলে ফাঁকা রাজপথে। ব্যালকনির ওপারেই ইট পাথরের দালানের ফাকে নিভে যেতে বসা শুকতারা।হাত বাড়ালেই যেন ছোঁয়া যাবে।ক্লান্ত প্রাণে ব্যালকনির গ্রীল ধরে আমি ঠাই দাঁড়িয়ে থাকি। ভোর হতে এখনো অনেক দেরী।

.

Writer’s Block বলে বিদঘুটে একটা রোগ আছে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নতুন করে কিছু লিখতে পারেন না বা সৃজনশীল কোন কাজ করতে পারেন না। একধরনের অসহনীয় স্থবিরতা নেমে আসে।অনেক বিখ্যাত কবি সাহিত্যিক এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। [১]

.

Writer’s Block কেন হয়, কীভাবে Writer’s Block কাটানো যায় সেটা নিয়ে অনেক জল ঘাটাঘাটি করা হয়েছে।আমার ক্ষেত্রে এটা কেন হয় সেটার উত্তর পেলাম এই কয়েকদিন আগে।

..

আল্লাহ (সুবঃ) বলছেন, “তোমাদের যে বিপদ-আপদ ঘটে তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল”।[২]

“মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে”।[৩] 

“গুরু শাস্তির পূর্বে তাদেরকে আমি অবশ্যই লঘু শাস্তি আস্বাদন করাবো,যাতে তারা ফিরে আসে”।[৪]

.

আমার কৃতকর্মের দরুনই আল্লাহ আমার ওপর এই বিপদ পাঠিয়েছেন। Writing Block যখন হয় তার আগের কয়েকটা দিন আমি কী কী করেছি শুকুনের দৃষ্টিতে দেখতে থাকলাম।যেগুলো পেলাম

.

১) ফজরের নামাজ বাদ পড়েছে।

২) বিতরের নামাজ আলসেমি করে পড়া হয়নি।

৩) সুন্নত নামাজ পড়তে দেরী করেছি বা পড়িইনি।

৪) চোখের হেফাযত করিনি

.

এই চারটি পাপের মধ্যে সর্বশেষ পাপটাই সবচেয়ে বেশী করেছি। চোখের হেফাযতের ব্যাপারে চরম মাত্রার উদাসীন ছিলাম।হুড তোলা রিকশায় বসা নিকাবীর দীঘল কালো চোখে চোখ পড়া মাত্রই চোখ নামিয়ে নেইনি, তাকিয়ে থেকেছি যতক্ষন দেখা যায়, ফ্রেন্ড লিস্টের কোন বন্ধুর লাইক দেওয়ার সুবাদে ফেসবুকের হোমপেইজে কোন মেয়ের ছবি আসলে সংগে সংগে সেই বন্ধুকে আনফলো বা আনফ্রেন্ড করে স্ক্রলডাওন করে যাইনি,বরং কিছুটা সময় ছবি দেখে তারপর স্ক্রলডাওন করেছি।

এই পাপগুলোর কারনে আল্লাহ (সুবঃ) আমার লেখনী ভোঁতা করে দিয়েছেন।


.

চোখের হেফাযতের গাফিলতি থেকে Writing Block হয়েছে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো মোটেই অযৌক্তিক কিছু না।

ইমাম আবু আব্দুল্লাহ ইবনু আজলা (রহঃ) বলেন, ” আমি একবার ফুটফুটে এক খৃস্টান বালিকাকে দেখছিলাম। ইমাম আব্দুল্লাহ আল বালখী (রহঃ) আমার সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমাকে দেখে বললেন,” তুমি এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কী করছো”?

.

আমি উনার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করলাম,” আপনি ঐ ফুটফুটে মেয়েটিকে দেখেছেন? এমন সুশ্রী চেহারাও কি জাহান্নামের আগুনে পুড়বে”?

.

ইমাম আল বালখী (রহঃ) আমার কাঁধে হাত রেখে বললেন,” এই খৃস্টান বালিকাকে দেখার পরিণতি তোমার জন্য খুব একটা ভালো হবেনা। একদিন না একদিন তোমাকে এর পরিণাম ভোগ করতে হবে”।

.

ইমাম ইবনু আজলা (রহঃ) বলেন,” ৪০ বছর পর আমি কুরআন ভুলে যাই,আমি বুঝতে পারি যে, এর কারণ ছিল ঐ খৃস্টান বালিকাকে দেখা”। [৫]

.

কি যেন নাম ছিল বালিকার…নামটাও ভুলে গিয়েছি, অথচ একসময় এই বিস্মৃতপ্রায় বালিকাকে দূর থেকে ঠোঁট টিপে হাসতে দেখে কতোবার অংকে ভুল করেছি, ক্লাস এইটের একটা টার্মে কি যাচ্ছেতাই রেজাল্টই না করেছিলাম। বালিকার ইষৎ ভ্রুকুটি কতোবার নিষ্ক্রিয় গ্যাসের ইলেক্ট্রন বিন্যাস ওলট পালট করে ফেলেছে, থিওরি ওফ রিলেটিভিটির প্রশ্নগুলোর চিন্তা ভুলিয়ে দিয়েছে।

.

ঈল্ম তথা জ্ঞান অর্জনের অন্যতম পূর্বশর্ত হল চোখের হেফাযত করা। চোখের হেফাযত করলে বিচক্ষণতা বাড়ে, বুদ্ধি দিন দিন ধারালো হয়।

.

শায়খ সুজাউল কারমানী (রহঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার বাহ্যিক অবস্থাকে সুন্নাহর পাবন্দ বানায়, অন্তরকে আল্লাহর চিন্তায় ও স্মরণে ব্যস্ত রাখে, প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে দূরে থাকে, নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ থেকে নজর হেফাজত করে এবং হালাল খাদ্য গ্রহণ করে, সে ব্যক্তির উপলব্ধি এবং দূরদৃষ্টি কখনো ভুল হয় না।” [৬]

.

পড়া মনে থাকে না? অংক মাথায় ঢোকে না? পড়ার টেবিলে মন বসে না? চোখের হেফাযত করুন। সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে নিমিষেই। কসম খোদার!

.

চোখের হেফাযত করতে পারলে ঈমানের স্বাদ পাওয়া যায়।

“যে মুসলমান প্রথমবার কোন মহিলার সৌন্দর্য দেখে চোখ নামিয়ে নেয়, আল্লাহ (সুবঃ) তার জন্য ইবাদাতে স্বাদ ও মিষ্টতা সৃষ্টি করে দেন”। [৭] 

.

“কুদৃষ্টি শয়তানের বিষমিশ্রিত তীর সমূহের একটি। যে ব্যক্তি আল্লাহ’র (সুবঃ) ভয়ে উহাকে ছেড়ে দিবে, আল্লাহ (সুবঃ) তার অন্তরে ঈমানের স্বাদ সৃষ্টি করে দিবেন”।[৮]

.

এই ঈমানের স্বাদ যে কতো মিষ্টি হতে পারে তা কল্পনাও করতে পারবেন না। আপনার কোন চিন্তা নেই,ভাবনা নেই, দুঃখ নেই, হতাশা নেই। মুক্ত,স্বাধীন বাতাসের মতোন অবাধ আপনার জীবন।

কী এক অসহ্য আনন্দ! আমি এই আনন্দটার উদাহরণ দেই এভাবে, দুপুরে গরুর মাংসের ঝাল তরকারী দিয়ে গরম গরম ভাত খেলেন পেটপুরে। তারপর জর্দা ছাড়া একটা পান মুখে দিয়ে কিছুক্ষন চিবুলেন। তারপর চিলেকোঠার ঘরটাতে যেয়ে দখিনা জানালা খুলে দিয়ে শীতল পাটির ওপর জম্পেশ একটা ঘুম দিলেন!

.

.ঢাকা শহরে একটা কথা বেশ চালু ছিল। ঢাকা শহরে কাকের চেয়ে কবির সংখ্যা বেশী।এখন অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে তাতে নিশ্চিন্তেই বলা যায় ঢাকা শহরে কাকের চেয়ে মোটিভেশনাল স্পীকারের সংখ্যা বেশী। ইউটিউব,ফেসবুক লাইভ,পাড়ার অলিগলি,চিপা চাপা সবখানেই এদের উৎপাত। স্বপ্ন বেচার এই সব চোরাকারবারিরা ঘ্যানর ঘ্যানর করে অবিরাম- এইভাবে চললে তুমি স্মার্ট হতে হবে,তোমার পোষাক আশাক হতে হবে এইরকম,বিশ্বের সংগে তাল মিলিয়ে চলতে হলে তোমাকে লীডারশীপ শিখতে হবে,টীম ওয়ার্ক করা শিখতে হবে, শিখতে হবে নেটওয়ার্কিং ,ঠিক এই এই কাজগুলো করলে তোমার আত্মবিশ্বাস ছুঁয়ে ফেলবে ঐ নীলাকাশ। 

.

তবে ব্রেইন ওয়াশিং এর আসল কাজটা করে মিডিয়া- তুমি তখনই প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী একজন মানুষ হবে যখন তুমি দাঁত ব্রাশ করবে ক্লোজআপ পেস্ট দিয়ে, যখন হুইল পাওয়ার হোয়াইট দিয়ে তোমার কাপড় গুলো ধোয়া হবে, যখন ফেয়ার হ্যান্ডসাম ম্যান থাকবে তোমার কাবার্‌ডে আর  ক্লিয়ার ম্যান স্পোর্টস থাকবে তোমার বাথরুমে। বডি স্প্রে আর চুলে জেলের ব্যবহার তোমাকে করে তুলবে দুর্দান্ত একজন মানুষ। রাফ এন্ড টাফ।যাকে বলে আসল পুরুষ! 

.

ব্রিটিশ অথবা মার্কিন একসেন্টে ইংরেজি বলতে পারে,স্প্যানিশ অথবা ফ্রেঞ্চ ভাষার ওপরেও মোটামুটি দখল আছে, পোশাক আশাকে কেতাদুরস্ত, লীডারশীপ কোর্স করা আছে বেশ কয়েকটা এমন অনেক “কুল গাই” রা যখন ফেসবুকের রঙ্গিন ছবির আড়ালে হতাশার চাষাবাদ করে, বিদেশী লালপানিতে ডুবে নিজেকে ভুলে থাকতে চায় তখন এদের জন্য করুণা হয়। চেনা ট্র‍্যাকটুকু পরিবর্তিত হলেই এরা ডাংগায় তোলা মাছের মতো খাবি খায়, আত্মবিশ্বাসের নাম গন্ধও থাকে না তখন। 

.

নিজের ওপর সামান্য নিয়ন্ত্রণটুকু নেই কর্পোরেট স্লেইভদের।”তেতুল হুজুর” লেবেলিং করতে এরা খুব পটু, কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস দুই একজন  বাদে এদের অধিকাংশেরই মেয়ে দেখলে মুখে লালা ঝরে; শুধু দেখতে পাওয়া যায়না আরকি। অফিস আড্ডাগুলোতে চলে নারীদেহ নিয়ে রসালো আলাপ, অফিস পার্টিগুলোতে হয় উৎসব ; কাম,মদ আর মাতসর্যের। পর্ন,মাস্টারবেশন এইগুলোর কথা বলাই বাহুল্য।

.

চোখের হেফাযত করতে পারলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। আশেপাশে কোন রূপবতী থাকলে প্রচন্ড ইচ্ছে করে  তার দিকে তাকাতে। পর্ন দেখার নেশা জাগলে সেটাকে দমিয়ে রাখাও খুবই কষ্টকর।আপনি যদি ঠিক এই মুহূর্তগুলোতে নিজের ইচ্ছেটাকে পায়ের নিচে পিষে ফেলতে পারেন, তাহলে প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস জন্ম নিবে আপনার মনে । আপনি হবেন অদম্য,দুরন্ত,দুর্বার। কোনকিছুই অসম্ভব মনে হবেনা। পাহাড়সম বাঁধা,বিপত্তিও বরণ করে নিবেন হাসিমুখে। ‘কুছ পরোয়া নেহি, আমি পারবই ইনশা আল্লাহ’ এই হবে আপনার এপ্রোচ। আপনার জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করবেন আপনি নিজে,নফস,পর্ন বা মাস্টারবেশনের অন্ধকার পৃথিবী নয়। 

.

চোখের হেফাযত আপনাকে উপহার দিবে ইস্পাত কঠিন এক ব্যক্তিত্ব। পাঁচ দশটা গার্লফ্রেন্ড চালায় এমন ছেলে আসল পুরুষ নয়,আসল পুরুষতো তারাই যারা রূপবতীদের রূপের আকর্ষণ উপেক্ষা করে চোখের হেফাযত করে।মেয়েদের দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকা মানে নিজেকেই অপমান করা এটা কেন আমরা বুঝি না? মনুষ্যত্বের কী ভীষণ অপমান! যেই মেয়েটির দিকে আপনি লুল চোখে তাকিয়ে আছেন,সেই মেয়েটির কাছে আপনি কতোটুকু ছোট হয়ে গিয়েছেন সেটা একবার ভেবে দেখুন। সেই মেয়েটি এটা ধরেই নেবে যে আপনি একটা ক্যাবলাকান্ত, আপনাকে চাইলেই ইচ্ছেমত নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরানো যায়। রূপবতীদের রূপের দেমাগে যে মাটিতে পা পড়েনা তা কি আর এমনি এমনি? 

.

বিশেষ করে দাড়ি টুপিওয়ালা ভাইয়েরা, এই ব্যাপারে খুব সাবধান। এই জঘন্য কাজটি করার মাধ্যমে আপনি নিজেকে তো সেই মেয়েদের চোখে ছোট করছেনই, সেই সংগে আপনার দ্বীনেরও মারাত্মক ক্ষতি সাধন করছেন। হুজুররা কিছু করুক বা না করুক দিনশেষে সব দোষ তাদের ওপরই চাপানো হয়। হিন্দু পুরোহিত রাম রহিমও ২০০০ হাজারের অধিক নারীকে ধর্ষন করে, খৃস্টান পাদরীরাও নানদের যৌন নির্যাতন করে, ইউরোপ,আমেরিকার ইউনিভার্সিটি থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, আর্মি, হাসপাতাল,কর্মক্ষেত্র এমনকি নিজ বাসস্থানেও নারীরা যৌন নিপীড়নের হাত থেকে রেহায় পায় না, অথচ দিনশেষে হুজুররাই নাকি সেক্স স্টারভড, স্যাডিস্ট!

.

এই বিরুদ্ধ পরিবেশে মেয়েদের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থেকে আর নিজের দ্বীনকে ছোট করবেন না। এই অধিকার আপনার নেই। ওভার এন্ড আউট। 


চলবে ইনশা আল্লাহ…

========

পড়ুনঃ

প্রথম কিস্তিঃ  https://goo.gl/Zrr498

দ্বিতীয় কিস্তিঃ https://goo.gl/tCjzCd

========

 রেফারেন্সঃ

[১] http://tinyurl.com/q8hs7rw

[২]সূরা শুরা,আয়াত ৩০

[৩]সূরা রুম,আয়াত ৪১

[৪] সূরা সাজদাহ,আয়াত ১২৩

[৫]যাম্মুল হাওয়া,পৃষ্ঠা: ১০২

[৬] চোখের আপদ ও প্রতিকার,ইরশাদুল হক আছরী,পৃষ্ঠাঃ ৪৮

[৭]আহমাদ হাঃ ২২৩৩২, তাবারানী,বাইহাকী

[৮] হাকিম,তাবারানী

শেয়ার করুনঃ
বাড়িয়ে দাও তোমার হাত…

বাড়িয়ে দাও তোমার হাত…

দিনশেষে লড়াইটা আপনার নিজের। আমরা হয়তো আপনার হাতে তুলে দেব ঢাল তলোয়ার, আপনার বন্ধু হয়তো আপনায় পরিয়ে দেব বর্ম আর শিরোনাস্ত্র কিন্তু আসক্তির বিরুদ্ধের ডুয়েল লড়াইটা লড়তে হবে আপনার নিজেকেই।

একা একা।

মুসার(আঃ)মতো হতে পারেননা আপনি ?

সামনে অথৈ জলরাশি। পালাবার পথ নেই।পেছনে প্রবল বিক্রমে ধেয়ে আসছে ফিরাউনের নিষ্ঠুর সেনাবাহিনী মুসা’র(আঃ) কওমকে কচুকাটা করার জন্য। মুসা’র (আঃ) চোখ বলছে তাঁদের ধ্বংস অনিবার্য, মুসা’র(আঃ) কান বলছে ধ্বংস অনিবার্য। মুসা’র(আঃ) কওম বারবার মুসাকে (আঃ) প্রশ্ন করছে ‘কোথায় তোমার আল্লাহ্‌? কোথায়’?

.

মুসা(আঃ) অবিশ্বাস করলেন তাঁর চোখকে,তাঁর কানকে, একেবারেই পাত্তা দিলেননা তাঁর কওমের লোকদের কথায়। চরম তাওয়াক্কুলের পরিচয় দিয়ে বললেন,‘ নিশ্চয়ই আমাদের রব আমাদের সঙ্গে আছেন। তিনি আমাদের উদ্ধার করবেনই’।

আল্লাহ্‌র ওপর ভরসা করার এই প্রতিদান আল্লাহ্‌(সুবঃ) দিয়েছিলেন মুসা (আঃ) এবং তাঁর কওমকে ফিরাউনের হাত থেকে উদ্ধার করে আর ফিরাউনের সলিল সমাধির মাধ্যমে। আল্লাহ্‌র তরফ থেকে সাহায্য এসেছিল অকল্পনীয় এক উৎস থেকে।

“আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্যে যথেষ্ট।” (সূরা আত তালাক,আয়াত-৩)

.

ভাই, ভরসা করুন আল্লাহর ওপর, ভয় করুন তাঁকে। তিনি আপনার জন্য অবশ্যই অবশ্যই ব্যবস্থা করে দিবেন যেকোন  আসক্তি কাটিয়ে ওঠার।

.

মুমীনের বৈশিষ্ট্যই হল তাওয়াক্কুল। কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে,

‘তোমরা যদি মুমীন হয়ে থাক,তবে আল্লাহর ওপর ভরসা কর’।(সুরা মায়িদা,আয়াত-২৩)

‘মুমীনগন যেন একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করে’। (সুরা তোবা,আয়াত-৫১)

যুগে যুগে এই তাওয়াক্কুলের জোরে মুমীন এমন কিছু লাভ করেছে যা স্বাভাবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অসম্ভব, বিজ্ঞানের সূত্র দিয়ে যা কোন মতেই ব্যাখ্যা করা সম্ভব না।

কাদেসিয়ার প্রান্তরে পারসিয়ান অগ্নি উপাসকদের সাথে তুমুল লড়াই চলছে সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) এর নেতৃত্বাধীন মুসলিম বাহিনীর। যুদ্ধের এক পর্যায়ে মুসলিম বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে পারসিয়ান বাহিনী পিছু হটতে হটতে নদী পার হয়ে গেল। মুসলিম বাহিনী যখন নদীর তীরে উপস্থিত ততোক্ষনে নিকৃষ্ট অগ্নিউপাসক পারসিয়ান বাহিনী সব নৌকা নিয়ে নদীর অপর তীরে চলে গিয়েছে। মুসলিমদের কোন উপায়ই রইলো না নদীর অপর পাশে যাবার। সব রকমের চেষ্টা করা হল। কিন্তু কোন ভাবেই কোন নৌকার ব্যবস্থা করা গেলনা। শেষমেষ আল্লাহর ওপর ভরসা করে তাঁরা ঘোড়ার পিঠে চড়েই নদীতে নেমে গেলেন। মুসলিম বাহিনীর অনেকেই নদী দেখা তো দূরের কথা এর আগে কখনো কোন পুকুরই দেখেননি। তাঁদের কাছে বিশাল টাইগ্রিস নদী ছিল প্রশান্ত মহাসাগরের মতো। চিন্তা করুন একবার, সেই মুহূর্তে তাঁদের সাইকোলজিটা বোঝার চেষ্টা করুন। আপনাকে যদি বলা হয় ঘোড়ার পিঠে চড়ে মহাসমুদ্র পাড়ি দিতে হবে আপনি কি কখনো রাজী হবেন?

তাঁরা আর কোন উপায় না পেয়ে শুধুমাত্র আল্লাহ’র (সুবঃ) ওপর ভরসা করে ঘোড়াসহ নদীতে নেমে গেলেন। তাওয়াক্কুলের প্রতিদান আল্লাহ (সুবঃ) দিলেন বিজ্ঞানের সকল সূত্রকে ভুল প্রমাণ করে।

ঘোড়ার পিঠে বসে ভাসতে ভাসতে সাদ (রাঃ) এর বাহিনী হাজির হল নদীর অপর তীরে। পারসিয়ান বাহিনী যখন দেখল মুসলিমরা এভাবে ঘোড়ার পিঠে চড়ে নদী পার হয়ে যাচ্ছে,তখন তারা ভাবলো এরা মানুষ না, এরা জ্বীন। ভয়ে তারা যুদ্ধের ময়দান থেকে পালিয়ে গেল। মুসলিম বাহিনী পেল বিজয়ের স্বাদ।

তাওয়াক্কুলের দুইটি পূর্বশর্ত রয়েছে। একটিকে ছাড়া অন্যটি অচল।

১) সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ্’র (সুবঃ) ওপর আস্থা রাখা, বিশ্বাস রাখা

২) আপনার হাতের কাছে যে সব মাধ্যম বা উপায় আছে সেইগুলো ব্যবহার করে সেই কাজ সম্পাদনের  সর্বাত্মক চেষ্টা করা।

মনে করুন, আপনি মসজিদে ফজর পড়ার নিয়্যত করলেন। আল্লাহর(সুবঃ) ওপর পরিপূর্ণ আস্থা রাখলেন যে আল্লাহ (সুবঃ) অবশ্যই ফজরের নামাজ মসজিদে আদায় করার ব্যবস্থা করে দিবেন। এই গেল তাওয়াক্কুলের প্রথম শর্ত।

এখন দ্বিতীয় শর্ত হল আপনার নিজেকে চেষ্টা করতে হবে যেন আপনি ফজরের নামাজ মসজিদে আদায় করতে পারেন, তাড়াতাড়ি ঘুমুতে হবে, দরকার পড়লে এলার্‌ম  দিয়ে রাখতে হবে বা কাউকে জাগিয়ে দেওয়ার কথা বলতে হবে। এই হল দ্বিতীয় শর্ত। তাওয়াক্কুলের ফল পেতে হলে আপনাকে এই দুইটি শর্তই  পূরন করতে হবে। আপনি আল্লাহর ওপর ভরসা করলেন কিন্তু ঘুমুতে গেলেন মধ্য রাতের পর, আলারম ও দিলেন না কাউকে জাগাতেও বললেননা, ফজরের ওয়াক্তে নাক ডাকিয়ে ঘুমুতে থাকলেন… এর নাম তাওয়াক্কুল না। আল্লাহ (সুবঃ) ফেরেশতা পাঠিয়ে কোলে করে আপনাকে মসজিদে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিবেন না।

আপনার কাজ আপনি করে যাবেন যতোটুকু সম্ভব, তারপর বাকিটুকু আল্লাহ (সুবঃ) দেখবেন। তাওয়াক্কুল এইটাই। মুসাকে(আঃ) আল্লাহ (সুবঃ) কেন বলেছিলেন যে তুমি তোমার হাতের লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত কর? আল্লাহ (সুবঃ) কেন তারপর সমুদ্রের ভেতর রাস্তা তৈরি করে দিলেন? মুসার সামান্য লাঠির আঘাত বিশাল সমুদ্রের কী এমন করতে পারে?

.

মুসা(আঃ)কে সমুদ্রের পানিতে আঘাত করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ (সুবঃ) মানবজাতিকে এটাই শিক্ষা দিতে চাইলেন যে প্রথমে তোমার পার্টটুকু  তুমি কর, বাকিটা আমি দেখছি।

.

আল্লাহর কসম! আল্লাহর কসমম! শুধুমাত্র আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে পর্ন/ মাস্টারবেশন/ চটিগল্পের আসক্তিসহ যে কোন আসক্তি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

আপনি আল্লাহর (সুবঃ) ওপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস রাখুন যে তিনি আপনাকে এই অন্ধকার পৃথিবী থেকে আলো,রুপ, রস,গন্ধে ভরা পৃথিবীতে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করে দিবেন। তারপর আপনার পক্ষে যতোটুকু করা সম্ভব ততোটুকু করুন তাহলে দেখবেন ইনশা আল্লাহ যে কোন ধরনের আসক্তি পালিয়ে যাবার দরজা পাবে না।

কিন্তু শুধু আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রেখে বসে থাকলেন,কোন চেষ্টাই করলেন না,মেয়েদের দেখে চোখ নামিয়ে ফেললেননা, আইটেম সং দেখা বাদ দিলেননা, বন্ধুদের সংগে মেয়েদের নিয়ে রসালো আলাপ করা বন্ধ করলেননা তাহলে কখনোই আপনি আসক্তি থেকে মুক্তি পাবেননা, কখনোই না।

পিরিয়ড।

আপনাকে ক্ষমা জন্য আল্লাহ (সুবঃ) বসে আছেন, আপনার অপেক্ষায় আছেন কখন আপনি ফিরে আসবেন তাঁর কাছে।

হাত বাড়িয়ে দিন, তিনি আপনাকে নোংরা এই জগৎ থেকে টেনে তুলে জান্নাতে স্থান দিবেন।

ভরসা রাখুন আল্লাহয়।

এই সময় শীঘ্রই কেটে যাবে ইনশা আল্লাহ…

শেয়ার করুনঃ