কুড়ানো মুক্তো (চতুর্থ পর্ব)

কুড়ানো মুক্তো (চতুর্থ পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

[বউয়ের ছবি ফেসবুকে আপলোডের লোভ যারা সামলাতে পারে না, তাদের উদ্দেশ্যে !]

১।

‘আমার হাসবেন্ড আমাকে অনেক আদর করে, যত্ন নেয়… আমার জন্য রান্না করে।’

নিউজফিডে এমন অনেক মন্তব্য বা অন্তরঙ্গ ছবি প্রায়ই দেখতে পাই। মন থেকে তখন বলি, ‘আলহামদুলিল্লাহ্‌, বারাকাল্লাহ। আল্লাহ্‌ যেন এমনি রাখেন।’ কিন্তু কতটুকু উচিত নিজেদের এরকম ছবি দেয়া বা একান্ত নিজেদেরকার কথাগুলো সবাইকে বলে বেড়ানো, তা অবশ্যই ভেবে দেখতে হবে। স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক খুব অনন্য, অন্য কিছুর সাথে তার তুলনা চলে না। কিন্তু তা নিজেদের ঘরের দরজার ভিতরেই আবদ্ধ থাকা ভালো।

 

বেপর্দা স্ত্রী হোক বা পর্দানশীল, কোন পুরুষ যদি তার স্ত্রীর সাথে তোলা অন্তরঙ্গ ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচারের অনুমতি দেয়, তার মানে কিন্তু একটাই- তার ভালো লাগে অন্যরা তার স্ত্রীকে কামনার বস্তু মনে করলে, হয়ত কিছুটা গর্ববোধও হয়ে থাকে। শুনতে খারাপ শুনাচ্ছে হয়ত, কিন্তু ছবিগুলোতে বন্ধুদের মন্তব্য পড়লেই ব্যাপারটা স্পষ্ট বোঝা যায়- ‘ইসস, কবে পাব এরকম একটা বউ।’ অথবা ‘যা লাগতেসে না, হট কাপল।’, বা ‘আমাকেও খুঁজে দে রে এরকম বউ।’ আচ্ছা, আপনার সুন্দর বউটাকে আপনার থাকতে দিন না, সবার সাথে শেয়ার করার কি একান্ত প্রয়োজন? মনে রাখবেন, যে আপনার বউকে সুন্দর, হট, চরম বিশেষণে প্রশংসা করছে, সে নিশ্চয়ই মনে মনে সব রকম মাপ-জোঁক করে ফেলেছে- আপনার স্ত্রীর কোমরের বাঁক, দীঘল কালো চুল, সুকোমল বাহু- কিছুই তার চোখে বাদ পড়েনি। পর্দার প্রয়োজনীয়তা ঠিক এখানেই।

আমি আমার জীবনে প্রথমবার পর্দার গুরুত্ব বুঝলাম যেদিন আমি যেখানে পড়াতাম সেখানে এক ছাত্র, বেশী বয়স না, ১২-১৩ হবে, আরেকজনের সাথে কথা বলতে বলতেই আরেক ছাত্রর (তারই বন্ধু) মায়ের দিকে হা করে তাকিয়ে ছিল। মহিলা শালীন পোশাকই পরা ছিলেন, আমাদের সমাজে যাকে শালীন বলা হয়, তবে যখন উনি মাটি থেকে কিছু তোলার জন্য ঝুঁকলেন, তখন অতটুকু ছেলেটাও তাকিয়ে থাকল। বন্ধুর মা-র দিকেই যদি চোখ পড়ে, বন্ধুর বউ তো আরও আপন! এটা কিন্তু Natural instinct। আপনি দেখবেন, বাতাসে কারো কামিজ একটু এদিক ওদিক হলে চট করে সবার নজর ওখানে চলে যায়- আমার আপনারও, ছেলেদের দোষ দিয়ে কি লাভ? যেখানে সমাজের এই হীন অবস্থা, সেখানে আপনি নিজের বেডরুমের দরজা জনসম্মুখে উন্মুক্ত করে দিলে কিভাবে হবে?

হাসাদের ভয় তো আছেই ষোলোআনা- নজর লাগা তো কোন রূপকথার গল্প নয়। যে কারো নজরই লাগতে পারে। আমি ‘আলহামদুলিল্লাহ্‌’ বললাম হয়ত, কিন্তু কিঞ্চিত মন খারাপও করলাম, কই আমার স্বামী তো কোনদিন এরকম চাইনিজ জাপানিজ রান্না করল না আমার জন্য! ফলাফল? আমার সংসারেও অশান্তি, আপনারটাও নজর লেগে হয়ত বিষাদময় হয়ে গেল। যদি সত্যি সুখী হয়ে থাকেন, আল্লাহ্‌র কাছে শোকরানা করলেই যথেষ্ট। স্বামী স্ত্রী যখন নামাজ পড়বেন, তখন আল্লাহ্‌র কাছে মাথা নত করে তার রহমতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন যাতে সারাজীবন এমন সুসম্পর্ক অটুট থাকে।

Save your wife from hungry eyes, Save yourself from Fitna.

২।

ভাইয়েরা আপনারা যারা নিজেদের স্ত্রীদেরকে পরপুরুষের চোখের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করছেন, স্ত্রীদের ছবি ফেসবুকে দিয়ে সবাইকে দেখাচ্ছেন, স্ত্রীকে সাজিয়ে নিয়ে বাইরে বের হচ্ছেন আর পরপুরুষ ও লম্পটরা চোখকে পরিতৃপ্ত করছে সেসব প্রত্যেক পুরুষের “দাইয়্যুস” টার্মটির ব্যাপারে জ্ঞান থাকা আবশ্যক। একজন পুরুষ হাদিসের ভাষ্যমতে দাইয়্যুস সাব্যস্ত হবে যদি সে তার বোন, স্ত্রী, কন্যাদের বেপর্দাভাবে চলাফেরা করাকে বন্ধ না করে, তাদেরকে অশ্লীলতা, ব্যভিচার থেকে দূরে না রাখে। যেসব ভাইয়েরা এখনও দাইয়্যুসের কাতারে আছেন আজই তাওবা করুন, নিজের পরিবারের মহিলাদের বুঝান, দাওয়াহ দিন। তারপরও না বুঝলে বাধ্য করুন, কেননা তাদের ব্যাপারে আপনি জিজ্ঞাসিত হবেন। এমনকি আপনার জান্নাত জাহান্নামও অনেকাংশে তাদের উপর নির্ভর করছে। কারণ তারা আপনার অধিনস্ত।

রাসুলুল্লাহ(ﷺ)বলেছেন,

“তিনজন আছেন যাদের দিকে আল্লাহ সুবহানু তায়ালা কিয়ামাতের দিন নজর দেবেন না। যে পিতামাতার অবাধ্য, যে নারী বেশভূষায় পুরুষের অনুকরণ করে এবং দাইয়্যুস ব্যক্তি।”

[সুনান আন নাসাঈ: ২৫৬২, হাদিস সাহীহ]

ইমাম আহমাদের বর্ণনাকৃত অন্য আরেকটি সাহীহ হাদীসে ‘আল্লাহ নজর দেবেন না’ এর সাথে এসেছে দাইয়্যুস ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। [মুসনাদে আহমাদ]

রাসুলুল্লাহ(ﷺ) আরও বলেছেন, “আল্লাহ প্রত্যেক আদম সন্তানের জন্যে তার অংশের অনিবার্য জিনা লিখে রেখেছেন, হোক সে তার ব্যাপারে জ্ঞাত বা অজ্ঞাত। চোখের জিনা হল দৃষ্টিপাত করা (যে দিকে বা যার দিকে দৃষ্টি দেবার অনুমতি নেই সেদিকে দৃষ্টিপাত করা), জিহ্বার জিনা হল উচ্চারণ করা (যা উচ্চারণ করা বা বলা বৈধ নয়)। আর নফসের ইচ্ছা জাগে (জিনার জন্যে) এবং গুপ্তাংগ তা বাস্তবতায় রূপ দেয় অথবা তা অস্বীকার করে।“ [সাহীহ বুখারীঃ ৬৬১২]

উলামায়ে কিরামের মতে মুখের জিনা, চোখের জিনা, হাতের জিনা, পায়ের জিনা সবই জিনার দরজা আর অনস্বীকার্য অংশ। অতএব যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে এইসব জিনা থেকে বাধা দেবে না, সে ব্যক্তিও দাইয়্যুসের কাতারে পরে যাবে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে দাইয়্যুস হওয়া থেকে হিফাজত করুন এবং মা বোনদের যথাযথভাবে পর্দা করারতাওফিক দান করুন।

৩ ।

//আমার স্ত্রী সর্বাবস্থায় আমারই স্ত্রী। আমার স্ত্রীর সৌন্দর্য উপভোগ ও অবলোকনের পূর্ণ অধিকার একমাত্র আমারই। যে কোন স্ত্রীর রূপ ও ভূষণ-সজ্জার সৌন্দর্য-দর্শনের একমাত্র হকদার সেই মহিলার স্বামী। এই যদি হয়ে থাকে সর্বজন স্বীকৃত সত্য, তাহলে আমার স্ত্রীর চেহারা দশজনকে আহবান করে দেখাবার কোন প্রয়োজন পড়ে না। পকেটের পয়সা খরচ করে পত্রিকায় এ্যাড ছাপিয়ে পরোহ্মভাবে এ কথা বুঝবার-ও তো দরকার পড়েনা যে, দেখ দেখ দুনিয়ার মানুষ আমি কি একখানা চীজ পেয়েছি।//

(তাহলে ফেসবুকে যে নব দম্পতিদের ছবি আপলোডের হিড়িক বয়ে যায় তার কী হবে!)

//নিজের স্ত্রীকে স্বশরীরে বা তার স্ব-ছবিকে হাজার হাজার লোকের চোখের সামনে তুলে ধরলে অনেকে হা-পিত্তেস করবে, টীকা টিপ্পনী কাটবে। বলুনতো এসব কেমন করে বরদাস্ত করা যায়? মান ইজ্জত ও সৌন্দর্যের নিরাপত্তার জন্য ইসলাম পর্দা প্রথার যে ব্যবস্থা রেখেছে, সেই ব্যবস্থার বাইরে কদম রাখলেই নানা কথা শোনতে হয়, নানা কেলেংকারী ডেকে আনা হয়। নানা অঘটন ঘটে।//

//সদ্যবিবাহিতা স্ত্রীর চেহারা কাগজে ছাপিয়ে/ ফেসবুকে আপলোড করে কি লাভ? তিনিতো দশের মনোরঞ্জনের জন্য আমার স্ত্রী হয়ে আমার ঘরে আসেননি। তাছাড়া তিনি কোন বাজারী পণ্যও নন যে, তাকে বাজারে পরিচিতি করাতে হবে বাজারজাত হওয়ার জন্য। হাঁ, এমন কোন চিন্তা কারো মনে প্রচ্ছন্নে উঁকি দিয়ে থাকলে অবশ্য ভিন্ন কথা, কিন্তু তা যদি না হয়ে থাকে, তাহলে নিজের সুন্দরী বউয়ের এ্যাড ছাপিয়ে বাজারী সওদার মত দশজনের দৃষ্টি আকর্ষনের কি অর্থ থাকতে পারে? পাবলিসিটির নেশা যদি একান্তই না কাটে, তাহলে ছবি ছাড়া বিয়ের সংবাদটা সংবাদ হিসেবে ছাপিয়ে দিলেই তো হয় সুখী দাম্পত্য জীবনের দোয়া চেয়ে।//

//নিজের ভোগের বস্তুকে এত পাবলিসিটি দিলে স্বাদ আর কিছু থাকে না। যার কাছে যে বস্তু যত বেশী দামী, সেই বস্তুর মালিক তত সযতনে তা সংরহ্মণ করে থাকেন। যে মালিক তার প্রিয় দামী বস্তুর কদর বুঝে না, সে এই মূল্যবান বস্তুটি এখানে সেখানে ফেলে রাখে, হাজার জন দেখে, নাড়াচাড়া করে, হাজার কথা বলে। এসব কথার মাঝে অশ্লীল মন্তব্যও থাকে বেশী। পাবলিসিটি আর প্রদর্শনী করলে মস্তানেরা কাছে ভিড়বার সুযোগ পায়। অতএব বিয়ের পরিচ্ছন্ন মানসিকতা নিয়ে যারা বিয়ে করেছেন, তারা নিঃসন্দেহে উত্তম কাজ করেছেন। এখন সুন্দরমত ঘর সংসার করুন। ঘরে বসে নিরিবিলি নতুন বউয়ের সংগে নতুন সংসার গড়ার আলাপ শুরু করুন। এ নিয়ে বাহিরে ডুগডুগি বাজাবেন না।//

৪।

*ফেসবুকে ও ব্লগে ছবি আপলোডের নেশায় দম্পতিরা

আপনি জানেন কি? কোথাও গেলেই ছবি তোলার এবং তা ফেসবুকে আপলোডের চিন্তা যদি আপনার মনে জাগে, তাহলে তা একটা মানসিক রোগ। আপনি এই রোগের উচ্চমানের রোগী নন তো? আপনি দু’জনের অন্তরঙ্গতা এখন ফেসবুকে চেনা অচেনা সবাইকে দেখিয়ে লাইক চাচ্ছেন? নাকি চাইছেন আপনার স্ত্রীকে সবাই দেখুক, দেখে মন্তব্য করুক আপনি সুন্দরী পেয়েছেন বউ। এই রূপ-চেহারা আর কয়দিন ভাই? ৫-৭ বছর পরে আর ছবি তুলতেও লজ্জা পাবেন এই চিন্তাগুলা মাথায় থাকলে। আর অল্প কিছু বছর পরেই আপনাদের দু’জনকেই সাদা কাপড়ে তুলে মাটির নিচে রেখে আসবে গন্ধ লাগবে বলে… এমন কিছু করতে যাবেন না, যার খারাপ প্রতিফল সেই কবরে আপনাকে ধাওয়া করবে…

আপনাদের দু’জনার জড়াজড়ি আর গলাগলি ছবি দেখে কেউ সুখী বলে ভেবেছেন? আপনি হয়ত জানেন না শয়তানের কাজ। আপনি হয়ত জানেন না ওয়াসওয়াসা কেমন হয়। আপনার কল্পনাই নেই আপনার খুব কাছের কারো কতটা হিংসার পাত্র আপনি হয়ে গেলেন। অথচ আপনি নিজেই জানেন, এই ছবি দেখে লোকে যতটা সুখী ভাববে আপনাদের, ততটা সুখী আপনারা নন।

প্রেম জিনিসটা দু’জনের মধ্যেই রাখুন। পারলে ইমাম আহমাদের মতন করে ৩০ বছর পরে গিয়ে বলবেন স্ত্রীর মৃত্যুর পরে যে তার স্ত্রীর সাথে তার কোনদিন ঝগড়া হয়নি। তারা একজন খেপে গেলে আরেকজন চুপ করে থাকতেন। প্রেম বুঝতে চান? তাহলে এই হলো প্রেম, ভালোবাসা।

ছবি প্রদর্শনের মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পাক সদ্য বিবাহিত দম্পতিরা। ভালোবাসা শুরুর দিকে বেশি থাকে, এসময়ের বিষয়গুলোকে মন দিয়ে গেঁথে নিন, তাতে সামনের সময়গুলোতে তা অনুপ্রেরণা দিবে, দু’জনের সম্পর্ক মধুময় হবে। এখন লোককে দেখিয়ে বেড়ালে আপনাদের ভালোবাসার গোপন আকর্ষণ নষ্ট হবে পরস্পরের কাছে। সাবধান হোন সময় থাকতেই।

৫।

কেন রে ভাই, বউয়ের ছবি কেন আপলোড দেয়া লাগবে? আপনার বউকে দেখে আমাদের লাভ কী? উল্টো আপনার আমল নষ্ট হচ্ছে, গুনাহ হচ্ছে, বউ যতই পর্দায় থাকুক না কেন খামাকা আমাদেরকে এইসব ছবি কেন দেখাচ্ছেন, আপনি বিয়ে করেছেন, নতুন বউ পেয়েছেন, মনে আনন্দ লাগছে বুঝতে পারছি, ভাই এটা আপনার ব্যক্তিগত আনন্দ, আপনার এই আনন্দ আল্লাহ্‌ আরো বাড়িয়ে দিন, মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহ্‌ আপনাকে আপনার বউ সমেত আনন্দের মধ্যে রাখুন সেই দুয়া করি। কিন্তু আপনার বউকে দেখে আমাদের কোন কাজ নেই ভাই, এটা একেবারেই অপ্রয়োজনীয় এবং গুনাহর কাজ।

courtesy : – * ১, -Nabila Noshin Shejuti

২ – Sabet Bin Mukter

* ৩- মরহুম জহুরী,

৪- সাফওয়ান

৫ – Abdullah Russel

[সংকলনে – বিবাহ একটি উত্তম বন্ধুত্ব (https://goo.gl/0kBV30) ডেস্ক ]

চলবে ইনশা আল্লাহ……

পড়ুন প্রথম তিনটি পর্ব –

কুড়ানো মুক্তো (প্রথম পর্ব) – https://bit.ly/2oZCWEn
কুড়ানো মুক্তো (দ্বিতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2p1YeS2
কুড়ানো মুক্তো (তৃতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2x3aGoY
কুড়ানো মুক্তো (পঞ্চম পর্ব)- https://bit.ly/2x33lpc
শেয়ার করুনঃ

কুড়ানো মুক্তো (প্রথম পর্ব)

ফেসবুক ব্রাউজিং করতে করতে অনেক সময় পর্ন এডিকশান এর উপরে বা অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার জন্য রিমাইন্ডার টাইপের বেশ ভালো ভালো লিখা চোখে পড়ে । আমাদের মনে হয়েছে এই লিখা গুলো পর্নমুভির আসক্তি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে । এভাবনা থেকেই এই সিরিজ শুরু করা । প্রতিটা লিখার শেষে এটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে সেটি উল্লেখ করার চেষ্টা করা হয়েছে ইনশা আল্লাহ । অনেক ভাইকে অবশ্য ফেসবুকে খুঁজেও পাওয়া যায়নি। আল্লাহ (সুবঃ) প্রত্যেক ভাইকেই উত্তম প্রতিদান দান করুক । লিখা গুলো ভাইদের নাজাতের উসীলা হয়ে যাক । (আমীন) (ফেসবুক, ব্লগ বা অন্য যেকোন জায়গার কোন লিখা আপনার কাছে যদি মনে হয় এটা পর্ন এডিকশান কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে তাহলে আমাদের ফেসবুক পেইজে যোগাযোগের অনুরোধ রইলো )

#

ভাই আমার , তুমি মানুষটা অনেক মুল্যবান । তোমার অনুতপ্ত হৃদয়ের একফোঁটা চোখের জল এই মহাবিশ্বের মালিকের কাছে অনেক অনেক প্রিয় । তোমার জন্য এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মানুষ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নির্ঘুম রাত কাটিয়ে তাঁর রবের কাছে দু’আ করতো । ১৪০০ বছর আগের সেই মানুষটা তোমাকে এতই ভালবাসতো যে , সেই মানুষটা আরাফাতের ময়দানে গ্রীষ্মের তপ্ত রোদে একটানা ছয়ঘন্টা আল্লাহ্‌র কাছে দু’আ করে গেছেন যেন আল্লাহ্‌ (সুবঃ) তোমাকে ক্ষমা করে দেন , তোমাকে তোমার আদি নিবাস জান্নাতে ফিরে যেতে দেন । রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “ কেউ যদি আমাকে দুটো জিনিসের গ্যারান্টি দেই তাহলে আমি তাকে জান্নাতের গ্যারান্টি দিচ্ছি । সেই দুটো জিনিস হল জিহ্বা এবং দুই রানের মাঝখানের লজ্জাস্থান ।” (রিয়াদুস সালেহীন )

ভাই আমার যে মানুষটা তোমার জন্য তায়েফে পাথরের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন, উহুদের ময়দানে তাঁর দাঁত হারিয়েছেন , যার জীবনের সকল চিন্তা চেতনা ছিল শুধু তোমাকেই ঘিরে সেই মানুষটার সঙ্গে হাশরের ময়দানে যখন তোমার দেখা হবে তুমি তাঁকে কি জবাব দেবে ? কোন মুখ নিয়ে তাঁর সামনে যাবে ? ভাই আমার , একবার কল্পনা কর , তুমি বিভিন্ন এডাল্ট ওয়েবসাইটে ঘুরে বেড়াচ্ছ,বলিউডের আইটেম সং গোগ্রাসে গিলছো এমন অবস্থায় যদি তোমার আম্মু , তোমার আব্বু তোমাকে দেখে ফেলে তাহলে তুমি কি পরিমাণ লজ্জিত হবে ? যদি মৃত্যুর ফেরেশতা তোমার সামনে আসে তখন কি অবস্থা হবে তোমার ? হাশরের ময়দানে তোমাকে যখন এই অবস্থায় তোলা হবে, যখন তোমার হাত তোমার পা, তোমার চোখ যখন তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিবে , রুমের দরজা লাগিয়ে, গভীর রাতে একা একা রুমে তুমি কি করতে সেগুলো যখন এই কোটি কোটি লোকের সামনে প্রকাশ করে দেওয়া হবে তখন লজ্জায় তুমি মাটির সাথে মিশে যেতে চাইবে । তখনকার কথাটা একবার চিন্তা কর (কালেক্টেড)

#

পর্ন এবং হস্তমৈথুন থেকে বাঁচার কিছু প্র‍্যাক্টিকাল সলিউশন:

১. দ্বিতীয় কোন রকমের চিন্তা ছাড়া ল্যাপটপ, হার্ড ড্রাইভ, মেমরি কার্ডে থাকা সমস্ত পর্ন ডিলিট করে দিতে হবে। ফাইলগুলো যেন আর রিকভার করা না যায়।

.

২. একাকীত্ব এভয়েড করতে হবে। দ্বীনি ভাইদের সাথে বেশি বেশি উঠা বসা থাকতে হবে। কোন ভাই যদি ব্যস্তও থাকে তারপরেও হালালভাবে তাকে রাজি করাতে হবে যেন উনি সময় দেন। আল্লাহ

ওয়ালা মানুষদের সাথে থাকলে আল্লাহর স্মরণ বাড়বে।

৩. খুচরা নুডিটি যেখানে আছে ঐসব কিছু ত্যাগ করতে হবে। হতে পারে তা নিউজ দেখা, হতে পারে ফেইসবুকের কোন বিদেশি পেইজ, হতে পারে গল্প, রোমেন্টিক কিছু, ব্লগ ইত্যাদি।

৪. পরিচিত অপরিচিত জানাযায় অংশগ্রহণ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। জানাযা থেকে এলে মন মানসিকতা অন্য রকম হয়ে যায়। খাটিয়া, কবর, কাফন ইত্যাদির ছবিগুলো পরবর্তী কয়েকদিন চোখে ভাসতে থাকে। এমন কোন অ্যাডিক্টেডকে পাওয়া যাবে না যে কিনা জানাযা থেকে এসে পর্ন দেখতে

বসে যায়।

৫. পর্ন মহিলাদেরকে এক প্রকারের অসম্মানিত ভাবে তুলে ধরে। রাস্তাঘাটে যেকোন মহিলার দিকে চোখে গেলে ঐ পর্নস্টারের মধ্যে খুঁজে বেড়ানো ব্যাপারগুলো র‍্যানডম মহিলাদের মাঝেও খুঁজে বেড়ায়। এভেন বাসায় মাহরামদের বেলাতেও এটা হয়। এটা পর্ন এডিকশানের একটা রোগ। না চাইলেও এসব হতেই থাকবে নিত্যদিন।

৬. পর্ন দেখাই যদি শেষ আমল হয় তবে কি হবে চিন্তা করে দেখা উচিত। সাডেন ডেথ অহরহ হচ্ছে পৃথিবীতে। মালাকুল মাউতের অ্যাপয়েন্টমেন্ট যদি ঠিক পর্ন দেখার পরেই হয় তাহলে কি হবে! দুইটা গুনাহে লিপ্ত থাকা অবস্থায় মৃত্য হলে ঈমান হারা অবস্থায় মারা যেতে হয়। মদ্যপান আর যিনাহ। হাদিসের ভাষায় মুমিনের মাথার উপর থেকে ঈমান তখন সরে যায়।

৭. আল্লাহ যদি তরিত শাস্তি দেন? যদি চোখের শক্তি নিয়ে যান? অন্ধ হয়ে গেলে পর্ন কেন, ঘরের দরজাটাও দেখা হবে না তখন।

৮. অপবিত্রদের সঙ্গিনী সাধারণত অপবিত্রই হয়। বিয়ের পর বুঝলেন আপনার স্ত্রী সতী না। বিয়ের

পরেও ঘৃণ্য কাজগুলো সে করেই যাচ্ছে। আপনি হয়তো ভাবছেন বিয়ের পর পর্ন দেখবেন না, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। অ্যাডিক্টেডরা বিয়ের পরেও পর্নস্টারদের নেশা থেকে ফিরতে পারে না। It’s now or never situation. থামাতে হলে এখনই। না হয় আর পারবেন না কোনদিনও। সংসার ভেঙ্গে যেতে পারে এই একটি ইস্যুর কারণে। সূরা নূরের ২৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, “দুশ্চরিত্রা নারীকূল দুশ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যে এবং দুশ্চরিত্র পুরুষকুল দুশ্চরিত্রা নারীকুলের জন্যে। সচ্চরিত্রা নারীকুল সচ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যে এবং সচ্চরিত্র পুরুষকুল সচ্চরিত্রা নারীকুলের জন্যে। তাদের সম্পর্কে লোকে যা বলে, তার সাথে তারা সম্পর্কহীন। তাদের জন্যে আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা।”

(কালেক্টেড)

#

বেশী বেশী করে দু’আ করুন – ফরজ নামাজ গুলোর পরে, সিজদাহতে, তাহাজ্জুদের সালাতে । পর্ন , মাস্টারবেশন, আইটেম সং তথা সকল প্রকার প্রকাশ্য এবং গোপন অশ্লীলতা থেকে আশ্রয় চান আপনার রব, আরশের মালিক মহান আল্লাহ্‌ (সুবঃ) এর কাছে ।

“তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব।” [গাফির – ৬০]

“বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে।”[আল বাকারা:১৮৬]

মহিমান্বিত আল্লাহ্‌ (সুবঃ) কোন রকম স্তম্ভ ছাড়াই এই আকাশকে উঁচু করে রেখেছেন , আমাকে আপনাকে এই মহাবিশ্বকে সৃষ্টি করেছেন একেবারে শুন্য থেকে । কাজেই তাঁর পক্ষে আপনাকে পর্ন , মাস্টারবেশন থেকে মুক্ত করা কোন ব্যাপার না । আপনাকে সৎ হতে হবে , অন্তর থেকে চাইতে হবে আমি এগুলো থেকে মুক্তি পেতে চাই , সিজদায় লুটিয়ে পড়ে চোখের পানিতে জায়নামাজ ভিজিয়ে আপনার রবের নিকট সাহায্য চাইতে হবে । ইনশা আল্লাহ্‌ তিনি আপনাকে সাহায্য করবেন ।

“জেনে রাখ, অবশ্যই আল্লাহ্‌র সাহায্য অতি নিকটে।” (সুরা বাকারাহ , আয়াত-২১৪)

দু’আর শক্তিকে অবহেলা করবেন না । আমি পার্সোনালী অনেককে চিনি যারা এই দু’আর কারণে পর্নমুভি, মাস্টারবেশন আর আইটেম সং এর কলুষিত জগত থেকে বের হয়ে এসে শ্বাস নিয়েছে মুক্ত বাতাসে । So keep calm and make dua “হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছো তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও করুণাময়।”[আয-যুমারঃ৫৩]

(কালেক্টেড)

চলবে ইনশা আল্লাহ ………

কুড়ানো মুক্তো (দ্বিতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2p1YeS2
কুড়ানো মুক্তো (তৃতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2x3aGoY
কুড়ানো মুক্তো (চতুর্থ পর্ব) – https://bit.ly/2x8qyWv
কুড়ানো মুক্তো (পঞ্চম পর্ব)- https://bit.ly/2x33lpc
শেয়ার করুনঃ

কুড়ানো মুক্তো (পঞ্চম পর্ব )

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

মানুষ যে কয়টা ফিতরাত নিয়ে জন্মায় তার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ফিতরাত হলো যৌনতা। মানুষের শারীরিক এবং মানসিক যৌন চাহিদা রয়েছে এবং এটা এমন এক চাহিদা যার কোন অলটারনেটিভ নেই, তাই মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এই চাহিদা চরতার্থ করার প্রয়াস পায়, বৈধ উপায়ে না পারলে অবৈধ উপায়ে। এখন কেউ যদি বলে সে সারাদিন অশ্লীল ছবি দেখছে, পর্ণ দেখছে, বান্ধবীকে সাথে নিয়ে হাটে- মাঠে- ঘাটে, লিটনের ফ্ল্যাটে ঘুরে বেড়াচ্ছে কিন্তু এটা তার মধ্যে কোন অনুভূতিই তৈরী করছে না তাহলে হয় সে মিথ্যে বলছে না হয় তার মেডিক্যাল সমস্যা আছে।
.
.
যারা আজকের আধুনিক সভ্য মানুষের আদি পিতামাতারা জংলি হয়ে বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতো বলে গাঁজাখুরি থিউরি দিয়ে থাকে তারাও নিজেদের ইজ্জতের বিষয়ে অল্পবিস্তর সচেতন। তাই কিনা তারা অন্তত এতটুকু বলে আদিম মানুষ বনে জঙ্গলে ল্যাংটো হয়ে ঘুরে বেড়াতো না, তারা পশুর চামড়া, ঘাস, লতাপাতা দিয়ে নিজেদের লজ্জাস্থান ঢেকে রাখতো, তারপর তাদের থিওরিতে নীতিবাক্য হিসেবে কিছু টীকা থাকে যেমন, মানুষ প্রাকৃতিক ভাবেই সমাজবদ্ধ, লজ্জাশীলতা সেটা আমাদের আদিম যুগ থেকেই মানুষের মধ্যে বাই বর্ন ছিল ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব আমরা আমাদের স্কুলের বইতে পড়েছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে যে মানুষ দাবি করে এরকম একটা জংলী পূর্বপুরুষদের আদিমতা চাপিয়ে তারা এখন আধুনিক, সভ্য হয়েছে সেই তারাই এখন পোশাক আশাকে, চালচলনে, ভাবাদর্শে সেই আদিমতাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

.
দুর্ভাগ্যবশত সেদিন একটা আর্টিকেল পড়ছিলাম। আর্টিকেলটা যে টপিক নিয়ে হবে ভেবেছিলাম মূলত সেই টপিকে ছিল না তাই কিছুদূর গিয়েই অফ করতে হল। আর্টিকেলটা ছিল একটা কথিত কনজার্ভেটিভ মুসলিম ফ্যামিলিতে জন্ম নেওয়া একজন তরুরী তার মা বাবা, সমাজকে ফাঁকি দিয়ে কি করে ডজনেরও বেশী লোকের সাথে যৌনকর্ম সম্পন্ন করেছে তার খুঁটিনাটি। লেখাটা সেই তরুনী নিজেই লিখেছে এবং বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পত্রিকায় সেটা ছাপা হয়েছে, টুইটারে সেই আর্টিকেল নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে, এবং মাঝখান দিয়ে সেই তরুণী এরকম একটা অসভ্য কাজ করেও সো কলড সভ্য মানুষের আধুনিক দুনিয়াতে একজন সাহসী, উদারপন্থী নারী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। লজ্জাশীলতা আদিম যুগ থেকেই মানুষের মধ্যে ছিল এই থিউরিতে বিশ্বাস করা বিজ্ঞানমনস্ক মানুষেরা আজ লজ্জাহীনতা, যৌনতা, ব্যভিচারের গল্প বলে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য। তসলিমা নাসরিনরা দুই পয়সার বই বিক্রির জন্য নিজের, স্বামীর, মা বাপের, চাচা কাকু চৌদ্দ গোষ্ঠীর আকাম কুকামের ফিরিস্তি বর্ণনা করে যায় নির্দ্বিধায়। অমুক দল বিশ্বকাপ জিতলে তমুক বিবস্ত্র হবেন, বলিউড মাতাচ্ছেন অমুক পর্ণস্টার এসব আজ আমাদের পত্রিকার শিরোনাম হয়। পর্ণস্টারদের নামে বায়ান্ন হাজার টাকা দামে ঈদের পোশাক বিক্রি হয় এই আমাদের মুসলিম দেশে। আর আমাদের বাবা মায়েরাই সেসব পোশাক কিনে দেন তাদের মেয়েদের, জাতে তোলার জন্য, আধুনিক বানানোর জন্য। একটা রিপোর্ট বলছে মাঝে মাঝে তারকারা ইচ্ছে করেই নিজেদের যৌনকর্মের ভিডিও লিক করেন, শুধুমাত্র বিখ্যাত হওয়ার জন্য, মানুষের কাছে পরিচিত পাওয়ার জন্য, আলোচনায় থেকে তাদের আপকামিং মুভির কাটতি বাড়ানোর জন্য!
.
সামরিক আগ্রাসনের চেয়েও মুসলিম একটা জাতিকে ধ্বংস করার জন্য কাফেররা যেসব উপকরণ ব্যবহার করেছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হল অবাধ যৌনতা, অশ্লীলতা। যৌনতা আর অশ্লীলতার এই নব্য জাহিলিয়াত ১৪০০ বছর আগের জাহিলিয়াতকেও হার মানিয়েছে। সেই সময়ের জাহেলী যুগে মুশরিকরা বিবস্ত্র হয়ে কাবাঘর তাওয়াফ করত কারণ তারা বলত যে কাপড় পরিধান করে তারা আল্লাহর অবাধ্যতা করে সেই কাপড় পরিধান করে আল্লাহর ঘর তাওয়াফ তারা করতে পারবে না। কিন্তু সেই জাহিলিয়াত অজ্ঞতার কারণে ছিল, আজকের কু প্রবৃত্তি চরিতার্থ করার জাহিলিয়াত ছিল না। বিবস্ত্র হলেও মহিলারা তখন রাতের অন্ধকারে তাওাফ করত আর কবিতা আবৃত্তি করত, “আজ শরীরের কিয়দংশ অথবা পুরো শরীর বিবস্ত্র হয়ে যাবে। কিন্তু যে অংশ বিবস্ত্র হবে তা আমি পরপুরুষের জন্য বৈধ করে দিব না”। মক্কা বিজয়ের পর আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দ যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বায়াত দিতে আসলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম কুরআনের আয়াত পাঠ করলেন,
.
“হে নবী, ঈমানদার নারীরা যখন আপনার কাছে এসে আনুগত্যের শপথ করে যে, তারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না…” [সূরা মুমতাহিনাঃ ১২]
.
তখন সাথে সাথে হিন্দ বেশ বিস্ময়ের সাথে জিজ্ঞেস করল ইয়া রাসূলুল্লাহ! একজন স্বাধীন নারী কি যিনা করতে পারে? তারা মুশরিক ছিল, অজ্ঞ ছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে আখলাক ছিল, হায়া ছিল, শালীনতা ছিল। আর আজকের তথাকথিত সভ্যতার উৎকর্ষতার যুগে স্বাধীনতা আর উদারপন্থার মানে হল বেহায়া হওয়া, নির্লজ্জ হওয়া, যতটা পারা যায়!
.
শয়তান চায় আপনি নির্লজ্জ হোন, শয়তানের দোসর কাফের মুশরিকরাও চায় আপনি নির্লজ্জ হোন। কারণ তারা জানে সামরিক আগ্রাসন কিছু মানুষকে হত্যা করতে পারে, বাড়িঘর ধন সম্পদ ধ্বংস করতে পারে কিন্তু মানুষের শরীরের ভেতর যে অন্তর সেটা সামরিক শক্তি দিয়ে ধ্বংস করা যায় না। তবে হ্যাঁ সেটা খুব ধীরে ধীরে কলুষিত করা যায়, স্লো পয়জনিং করে অন্তরটাকে মেরে ফেলা যায়, পাথরের মত শক্ত করে দেওয়া যায়। আর এই কাজে সবচেয়ে ফলপ্রসূ হল অশ্লীলতা, যৌনতার নোংরামি। এটা একদিকে মানুষকে নৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেয় অন্যদিকে এমন এক অন্তর তৈরি করে যা আল্লাহর সাথে কোনভাবেই কানেক্টেড হতে পারে না। আল্লাহর কিতাব শুনে সেই অন্তর থাকে নির্লিপ্ত, নিথর। কারণ সেই অন্তর মরে গেছে। And finally there is a spiritual death! তাই আল্লাহ সুরা আল ইসরায় বলেন,
.
“আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ। [সূরা আল ইসরাঃ ৩২]”
.
আল্লাহ কিন্তু “লাতাযিনু” বা ব্যভিচার করো না স্রেফ এটা বলেননি। তিনি বলেছেন ব্যভিচারের ধারে কাছেও যেও না, অশ্লীলতার ধারে কাছেও যেও না। কারণ এটা একটা পথ, وساء سبيلا মন্দ পথ, নিকৃষ্ট পথ। অমুক মুভির ঐ কয় মিনিটের খারাপ দৃশ্যটা, ফেসবুক পেজের মাঝে মধ্যে খারাপ ছবিগুলো, ১৫+, ১৮+ যেভাবেই চিন্তা করুন না কেন একটু একটু করে এসব কাজই আপনাকে ঐ পথে নিয়ে যাচ্ছে। তাই আল্লাহ শুধু বলেননি ব্যভিচার করো না, বরং তিনি বলেছেন ব্যভিচারের ধারে কাছেও যেও না, ঐ পথটাই কখনো মাড়িও না। কারণ এটা আমাদের আধ্যাত্মিক মৃত্যু ঘটায়, এর প্রভাব পড়ে আমাদের ঈমানে, আমাদের সালাতে, আমাদের দোয়ায়।
.
ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে আল্লাহ এই আয়াতের পরের আয়াতে বলেছেন,

“সে প্রাণকে হত্যা করো না, যাকে আল্লাহ হারাম করেছেন…” [সূরা আল ইসরাঃ ৩৩]
.
আল্লাহ বলছেন নিরীহ মানুষকে হত্যা করো না, তার মানে ফিজিকাল মার্ডার। কিন্তু তার আগের আয়াতে আল্লাহ স্পিরিচুয়াল মার্ডারের কথা বলেছেন ,فاحشة যা অন্তরকে মেরে ফেলে আর এরপরই এসেছে ফিজিকাল মার্ডারের কথা قتل। আল্লাহ এখানে দুই ধরণের অপরাধের কথা উল্লেখ করেছেন একটি স্পিরিচুয়াল মার্ডার আরেকটি ফিজিক্যাল মার্ডার, কিন্তু স্পিরিচুয়াল মার্ডারের কথা আগে উল্লেখ করেছেন। কারণ যার আত্মা মরে যায় তার রক্ত মাংসের শরীরটার আর কি দাম থাকে। যার আত্মার শক্তি শেষ হয়ে যায় তার সিক্স প্যাক শরীরের শক্তি আর কি কাজে আসে! আর তাই শয়তান প্রথমে এই আত্মাকে শেষ করে দিতে চায়। আর সেটা আপনাকে ফাহেশা কাজে যুক্ত করার মাধ্যমে।
.
তাই যারা রাহমানের বান্দা হতে চায়, যারা এই দ্বীনের ঝাণ্ডা বহন করতে চায় তাদের উচিত শারীরিক এবং মানসিক দুইভাবেই শত্রুর বিরুদ্ধে প্রস্তুতি গ্রহণ করা। শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামরিক দুর্গ যেমন দরকার তেমনি দরকার আত্মাকে কুলষতা থেকে মুক্তির জন্য নিশ্ছিদ্র দুর্গ। দরকার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা। দরকার সমস্ত ফাহেশা এবং মন্দ কাজ থেকে আত্মাকে হেফাজরত করা। আল্লাহ বলেন,

“যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়। এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়”। [সূরা আশ শামসঃ ৯-১০]

লিখেছেন –  ইউসুফ আহমেদ

পড়ুন প্রথম চারটি  পর্বঃ

কুড়ানো মুক্তো (প্রথম পর্ব) – https://bit.ly/2oZCWEn
কুড়ানো মুক্তো (দ্বিতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2p1YeS2
কুড়ানো মুক্তো (তৃতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2x3aGoY
কুড়ানো মুক্তো (চতুর্থ পর্ব) – https://bit.ly/2x8qyWv
শেয়ার করুনঃ