পর্ণমুভি, মানবপাচার এবং পাশ্চাত্যের যৌন দাসত্বের গল্প (দ্বিতীয়  কিস্তি)

পর্ণমুভি, মানবপাচার এবং পাশ্চাত্যের যৌন দাসত্বের গল্প (দ্বিতীয় কিস্তি)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

কিছুক্ষণ হলো ভেতরের পশুটা গোঙ্গাতে শুরু করেছে। কোনোমতেই দমাতে পারছেন না। এক সময় সবকিছু ফেলে ছুটে গেলেন পিসির কাছে। নেট কানেক্ট করে লগ ইন করলেন আপনার পছন্দের এক্স-রেইটেড ওয়েবসাইটে। পাগলের মতো একের পর এক পেইজ ব্রাউয করে যাচ্ছেন। প্রত্যেকটা পেইজের পর্ন অভিনেত্রীদের ছবি, ভিডিও আপনি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন, ক্রমাগত ঢোক গিলছেন। ফ্যান্টাসির জগতে রসিয়ে রসিয়ে খাচ্ছেন প্রতিটি দেহ।

এমন সময় কোনো এক পর্ন অভিনেত্রীর ছবি আপনাকে উত্তেজনার চরমে পৌঁছে দিলো। পুড়িয়ে ছারখার করে দিলো কামের আগুনে। তার শরীরের স্বাদ আপনার চাই-ই চাই। শরীরের খাঁজগুলো থেকে বহু কষ্টে চোখ সরিয়ে আপনি তাকালেন তার মুখের দিকে এবং আবিষ্কার করে বসলেন—এ আপনার বোন!

চিন্তা করুন সেই মুহূর্তে আপনার কেমন লাগবে!

ভাই আমার, নীল পর্দার ওপাশের নারীরাও কারও না-কারও বোন, কারও না-কারও মেয়ে। তাদেরও একটা পরিবার ছিল বাবা-মার আদর, মায়া-মমতা ছিল ছোটভাইয়ের সঙ্গে খুনসুটি ছিল, প্রিয় মানুষটার জন্য তাদের বুকেও ছিল এক সমুদ্র ভালোবাসা। ছিল ঝগড়া, আড়ি দেয়া, মান-অভিমান। কিন্তু হঠাৎই এক দমকা বাতাসে বদলে গেছে তাদের জীবন। পরিণত হতে হয়েছে অন্যের লালসা পূরণের বস্তুতে।

ভয়ঙ্কর এ ইন্ডাস্ট্রিতে কেন কাজ করতে আসে মানুষ?এর পেছনে কয়েকটা ফ্যাক্টর কাজ করে। অল্পবয়স্ক, দুনিয়ার বাস্তবতা সম্পর্কে অজ্ঞ কিশোরী-তরুণীদের চোখ ধাঁধিয়ে যায় পর্ন ইন্ডাস্ট্রির গ্ল্যামারে। খ্যাতি, টাকা, উদ্দাম যৌনজীবনের রঙিন স্বপ্ন নিয়ে তারা পা বাড়ায় এই অন্ধকার জগতে। প্রেমে প্রতারণা, ধর্ষণ, ছোটবেলায় যৌন-নিপীড়নের শিকার হওয়া, বাবা-মার ডিভোর্স এগুলোও কারণের অন্তর্ভুক্ত। টিউশান ফি, ড্রাগের টাকা জোগাড় করা কিংবা বেকারত্বের হতাশা থেকেও অনেকে এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে আসে। তবে পর্ন অভিনেত্রীদের বেশ বড়সড়ো একটা অংশ ইন্ডাস্ট্রিতে আসে মানব-পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে। মাদক বাণিজ্যের পর মানবপাচার হলো বর্তমান আধুনিক সভ্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও সুসংগঠিত ইন্ডাস্ট্রি। মানবপাচারের ব্যবসায় প্রতিবছর লেনদেন হয় প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলারের।[1]

অ্যামেরিকাতে নারী ও শিশু পাচার করা হয় শুধু সেক্স ইন্ডাস্ট্রিগুলোর চাহিদা মেটানোর জন্য। যৌন বাণিজ্যের চাহিদা মেটাতে মানবপাচারের যে ভয়াবহতা সেটা ভালোভাবে বোঝার জন্য কিছু তথ্য জানা দরকার :

National Center for Missing and Exploited Children এর প্রেসিডেন্ট আর্নি অ্যালেনের মতে শুধু অ্যামেরিকাতেই সেক্স ইন্ডাস্ট্রির (পতিতাবৃত্তি, পর্ন ইন্ডাস্ট্রি) জন্য প্রতি বছর এক লাখের মতো শিশু পাচার করা হয়।[2]

অ্যামেরিকার Department of Health and Human Services এর অধীনস্থ Human Trafficking Program এর সাবেক ডাইরেক্টর স্টিভ ওয়্যাগনারের মতে এ সংখ্যা প্রায় সোয়া এক লাখ।[3]

প্রতিবছর পুরো পৃথিবীতে ছয় থেকে আট লক্ষ নারী ও শিশু মানবপাচারের শিকার হয়। এদের বেশির ভাগেরই জায়গা হয় ইউরোপ-অ্যামেরিকার সেক্স ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে (পতিতালয়, পর্ন ইন্ডাস্ট্রি, স্ট্রিপ ক্লাব ইত্যাদি)।[4]

পর্নোগ্রাফি যেভাবে আদম ব্যবসায়ীদের জন্য চাহিদা সৃষ্টি করছেঃ

কোন কোন ফ্যাক্টর সেক্স ট্র্যাফিকিং-কে প্রভাবিত করে তার ওপর অ্যামেরিকান সংস্থা Shared Hope International একবার একটা প্রতিবেদন তৈরি করেছিল। প্রতিবেদনে দেখা গেল পর্ন ইন্ডাস্ট্রি হলো সেই ফ্যাক্টরগুলোর একটি যেগুলোর কারণে কিছু অমানুষ মানবপাচারে (যাদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু) জড়িয়ে পড়ে।[5] পাচারকৃত এসব মানুষগুলোর বেশির ভাগেরই শেষ ঠিকানা হয় ইউরোপ বা অ্যামেরিকার মত কোনো সভ্য মহান দেশের (?) পতিতালয়, স্ট্রিপ ক্লাব বা পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে—যৌনদাসী হিসেবে। আবার কোনো কোনো সময় শুধু পর্ন ইন্ডাস্ট্রির চাহিদা মেটানোর জন্যই নারী ও শিশু পাচার করা হয়। কিন্তু কেন পর্ন ইন্ডাস্ট্রির সাথে মানবপাচার জড়িত?

এ প্রশ্নের উত্তর পাবেন পর্নোগ্রাফি কীভাবে একজনের মস্তিষ্ককে পরিবর্তন করে, তার মাঝে। বিজ্ঞানীদের মতে আমাদের মস্তিষ্কে “মিরর স্নায়ু” নামে একধরনের মস্তিষ্ক কোষ আছে। যখন আমরা নিজেরা কোনো কিছু করি অথবা অন্যরা যা করছে তা দেখি তখন এ স্নায়ুগুলো উদ্দীপ্ত হয়। এই কারণেই চলচ্চিত্রের দৃশ্য আমাদের কাঁদায় অথবা ভয় পাওয়ায়। এ কারণেই কিছু লোক টিভিতে ফুটবল খেলা দেখার সময় তীব্র উত্তেজনা ও আবেগের মিশেলে খেলার সাথে জড়িয়ে যায়। চিন্তা করুন, খেলার মাঠে তারকা ফুটবলারের পায়ের জাদু দেখে আপনার কি মনে হয় না, ইশ! ওদের মতো আমিও যদি এ রকম খেলতে পারতাম! ফুটবলার বলুন, সিনেমা বা সিরিয়ালের নায়ক বলুন, না চাইলেও অবেচতনভাবেই আপনি কিন্তু তাদের অনুকরণ করেন—পোশাক-আশাক থেকে শুরু করে, ভাবভঙ্গি, কথাবার্তা, হাঁটাচলা, হেয়ারকাট… তাই না?[6]

একজন মানুষ যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে পর্ন ভিডিও দেখে, পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে যায়, তখন সেও চায় পর্দায় দেখা জিনিসগুলো বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে। আমরা আগেই এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আর যে প্রজন্মের যৌনশিক্ষার, যৌনতা সম্পর্কে ধারণা পাবার একমাত্র অথবা প্রধান মাধ্যম পর্নোগ্রাফি, যে প্রজন্মের পর্নোগ্রাফিতে হাতেখড়ি হচ্ছে শৈশবেই, সেই প্রজন্মের কাছে যৌনতার অর্থ একটাই—পর্ন ভিডিওতে দেখা যৌনতা। কিন্তু এই পর্ন ভিডিওগুলোতে যৌনতার নামে দেখানো হচ্ছে এক মিথ্যে, বিকৃত এবং অতিরঞ্জিত গল্প।

এমনভাবে যৌনতাকে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা কোনো সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে চিন্তা করাও সম্ভব না। যদিও পর্নোগ্রাফি দেখতে দেখতে এখন অধিকাংশ মানুষ এগুলোকে স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নিয়েছে। আর সেই সাথে নারীদের ওপর ভয়ঙ্কর অত্যাচার তো আছেই। একজন পর্ন-আসক্ত ব্যক্তি যখন পর্দায় দেখা জিনিসগুলো বাস্তবে করতে যায় তখন তাকে বেশ কয়েকটা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

প্রথমত, আগেই বলা হয়েছে খুব অল্প বয়সে পর্নোগ্রাফির সাথে পরিচিত হবার ফলে কিশোর-কিশোরীরা বাস্তব যৌনতার দিকে ঝুঁকে পড়ে। বিয়ে বা গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ডের মাধ্যমে দৈহিক চাহিদা মেটাতে না পারলে বাধ্য হয়ে তাদের যেতে হয় পতিতালয়ে। এভাবে পতিতার চাহিদা বাড়ে, বাড়ে মানবপাচার।

দ্বিতীয়ত, পর্ন-আসক্তদের সঙ্গিনীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বেডরুমে পর্ন অভিনেত্রীদের মতো নির্লজ্জ হতে পারে না। পর্ন ভিডিওতে দেখানো দৃশ্যগুলোর অনুকরণ করতে চায় না। কিন্তু একজন পর্ন-আসক্ত ব্যক্তির এমন অবস্থা হয় যে, পর্নে দেখা যৌন আচরণগুলো না করতে পারলে, সে কোনোভাবেই তৃপ্ত হতে পারে না। বাধ্য হয়ে একসময় তাকে যেতে হয় পতিতালয়ে। পতিতালয়গুলো তাদের খদ্দেরদের চাহিদা পূরণের জন্য হাত পাতে মানব-পাচারকারীদের কাছে আর মানব-পাচারকারীদের শিকারে পরিণত হয় লক্ষ লক্ষ অসহায় নারী ও শিশু।

যারা পর্ন ভিডিও দেখেন তাদেরটি বিশ্বাস করতে কষ্ট হতে পারে। কিন্তু এমন হাজার হাজার পর্ন-আসক্ত পাওয়া যাবে যাদের পর্ন-আসক্তির শেষ পরিণতি ছিল পতিতালয়ে গমন। নয়টি দেশের ৮৫৪ জন পতিতাকে নিয়ে করা জরিপে দেখা গেছে, ৪৭ শতাংশ পতিতা জানিয়েছে, তাদের খদ্দেররা তাদের ঠিক সেটাই করতে বাধ্য করে যেটা তারা আগে পর্ন ভিডিওতে দেখেছে।[7] Oral History Project এর জরিপে দেখা গেছে শতকরা ৮৬ জন পতিতা বলছে তাদের খদ্দের তাদের পর্ন ভিডিও দেখিয়ে বলে তোমরা পর্দার ওই অভিনেত্রীকে হুবহু অনুকরণ করো।[8]

মানবপাচারের ব্যাপারে ইউএস স্টেইট ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র অ্যাডভাইযার লরা লেডারার তো সোজাসাপটা বলেই ফেলেছেন, পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে বাণিজ্যিক যৌন-নিপীড়নের (কমার্শিয়াল সেক্সের জন্য মানবপাচার) মার্কেটিং করা হয়।[9]

তৃতীয়ত, পর্ন-আসক্তরা তার সঙ্গিনীদের মধ্যে পর্ন অভিনেত্রীদের মতো দৈহিক সৌন্দর্য খুঁজে বেড়ায়। মনে মনে পর্ন অভিনেত্রীদের দেহের সাথে নিজেদের সঙ্গিনীর দেহের তুলনা করে সব সময়। কিন্তু তাদের হতাশ হতে হয়। পর্ন অভিনেত্রীরা সার্জারিসহ অন্যান্য বিভিন্ন উপায়ে তাদের দেহে কৃত্রিম সৌন্দর্য নিয়ে আসে, যেটা স্বাভাবিক অবস্থায় কোনো মানুষের মাঝে সচরাচর পাওয়া যায় না। কাজেই পর্ন-আসক্তরা তাদের সঙ্গিনীর “পানসে” শরীরের বদলে পর্ন অভিনেত্রীদের মতো শরীরের অধিকারিণী পতিতাদের কাছে যায়। আর পতিতার জোগান দেয়ার জন্য চলে মানবপাচার।

চতুর্থত, মানবপাচারের শিকার হওয়া হতভাগ্যদের জোর করে পর্ন ভিডিওতে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে হার্ডকোর পর্নোগ্রাফিতে। মানবপাচারের শিকার শতকরা ৭০ জন ভিকটিম জানায় যে, তাদের পর্ন ভিডিওতে অংশগ্রহণে বাধ্য করা হয়েছে।[10] পর্নোগ্রাফিকে ঘিরে চলছে নব্য দাসপ্রথা। মানবপাচারের শিকার নারীদের বানানো হচ্ছে যৌনদাসী। অথচ “ইসলাম নারীকে যৌনদাসী বানায়” বলে তারস্বরে চিৎকার করা পশ্চিমা বিশ্ব আর তাদের আদর্শিক সন্তান বাদামি চামড়ার ফিরিঙ্গিরা এ আধুনিক দাসত্ব নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ।

সফটকোর পর্ন থেকে মানুষ ধীরে ধীরে হার্ডকোর পর্নের দিকে ঝুঁকছে। বাড়ছে আরও বেশি এক্সট্রিম, নারীদের ওপর আরও বেশি অত্যাচার, আরও বেশি বিকৃত যৌনতার চাহিদা। সেই সাথে বাড়ছে লাইভ ওয়েবক্যাম সেক্স, লাইভ ধর্ষণ। “স্বাধীন” নারীদের তুলনায় মানবপাচারের শিকার যৌনদাসী বানানো নারীদের দ্বারা এই কাজগুলো করানো যেমন কম ঝামেলার, তেমনই কম খরচের। এককথায় বলতে গেলে সেক্স ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে মানব-পাচারকারীদের টাকা কামানোর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় বিষয়টা হলো পুরুষদের শিক্ষা দেয়া যে, নারীরা হলো কেবল ভোগের মাল। তাদের যেভাবে ইচ্ছে চেটেপুটে, খাবলে-ছিঁড়ে খাবার অধিকার তোমার আছে। আর পুরুষের মস্তিষ্কে এ বিশ্বাস ঢুকিয়ে দেয়ার জন্য পর্নোগ্রাফির চেয়ে ভালো আর কোনো মাধ্যম কি আছে?

একবার এক যুবক রাসূলের (সাঃ) কাছে এসে বলেছিল, “ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমাকে যিনা করার অনুমতি দিন।” এ কথা শুনে উপস্থিত সবাই চমকে উঠলেও রাসূলুল্লাহ স্নেহ ভরে তাকে কাছে ডাকলেন। তাকে প্রশ্ন করলেন, “তুমি কি তোমার মায়ের জন্য এটা পছন্দ করবে?” যুবকটি বললো, “না ইয়া রাসূলুল্লাহ । আল্লাহ আমাকে আপনার প্রতি উৎসর্গিত করুন। কোনো মানুষই তার মায়ের জন্য এটা পছন্দ করবে না।”

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) একে একে যুবকটিকে প্রশ্ন করলেন, তাহলে তোমার মেয়ের জন্য? তোমার বোনের জন্য? তোমার ফুফুর জন্য? তোমার খালার জন্য?

যুবক প্রতিবারও বললো, কোন মানুষই এটা পছন্দ করবে না।

তারপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তার শরীরে হাত রাখলেন এবং দু’আ করলেন- “ইয়া আল্লাহ তার গুনাহ ক্ষমা করুন, তার অন্তর পবিত্র করুন এবং তার চরিত্র রক্ষা করুন।” নবীর (সাঃ) কাছ থেকে এ শিক্ষা পাবার পর, যুবকটি পরবর্তী জীবনে রাস্তায় চলার সময়ও কোন দিকে চোখ তুলেও তাকাতো না।[11]

ভাই আমার, বিশ্বাস করুন, প্রতিটি পর্ন ভিডিওর ফ্যান্টাসির পেছনে লুকিয়ে আছে অনেক নরনারীর অসহায় আর্তনাদ, বুকের একেবারে গভীর থেকে উঠে আসা দীর্ঘশ্বাস, না-জানা অনেক স্বপ্ন ভাঙার গল্প। আপনি ও আপনার মতো অসংখ্যরা পর্ন ভিডিও দেখেন বলেই, আপনি নেট থেকে পর্ন ডাউনলোড করে চাহিদা সৃষ্টি করেন বলেই এসব অসহায় নারীদের, শিশুদের পড়তে হয় মানব-পাচারকারীদের কবলে, বেছে নিতে হয়েছে ভয়াবহ জীবন। পর্ন ওয়েবসাইটে করা আপনার প্রতিটি মাউস ক্লিকের কারণে হয়তো একজনের পৃথিবীটা তছনছ হয়ে যাচ্ছে। আপনার কোনো নিকটাত্মীয়া, আপনার বোনও যেকোনো দিন এ রকম ভয়াবহতার শিকার হবে না, তা কি আপনি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারবেন?

কী দরকার ক্ষণিকের আনন্দ, সাময়িক উত্তেজনার জন্য এ পৃথিবীর মুক্ত নির্মল বাতাসটাকে বিষাক্ত অশ্লীল করে ফেলার?

পড়ুন-

ক্যামেরার পিছনে: https://bit.ly/2Mt2T8C
পর্দার ওপাশে: https://bit.ly/2xbVZiK
আমি কিভাবে পর্নোগ্রাফিতে আসলাম, কেন ছাড়লাম এবং কেন সবাই এটা পরিহার করবে- By Jessica Mendes: https://bit.ly/2OhYxTP
.

রেফারেন্সঃ

[1] Human Trafficking by the Numbers – https://goo.gl/QsuQbi

[2] Sex+Money: A National Search for Human Worth. Produced by Morgan Perry and directed by Joel Angyal, 92 min., photogenX, 2011, DVD.

[3] Abolition(trailer). Produced by Pam Parish and directed by Andrew Tucciarone, 1.42 min., Whistlepeak, 2009, https://www.youtube.com/user/InnocenceAtlantaOrg (accessed April 25, 2014).

[4] মানবপাচার এবং পর্ন ইন্ডাস্ট্রির পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর দেখতে পারেন এ ভিডিওটি – Dr. Karen Countryman-Roswurm, LMSW, Ph.D. on human trafficking – https://goo.gl/Tc8wjF

এ ছাড়া ইন শা আল্লাহ লস্ট মডেস্টির পরবর্তী বই মিথ্যায় বসত-এ বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

[5] DEMAND. A Comparative Examination of Sex Tourism and Trafficking in Jamaica, Japan, the Netherlands, and the United State, page-5, – https://goo.gl/LNuoum

[6] Mirror neuron system – https://goo.gl/KuZtXs

[7] Farley, Melissa, Ann Cotton, Jacqueline Lynne, Sybill Zumbeck, Frida Spiwak, Maria E. Reyes, Dinorah Alvarez, and Ufuk Sezgin. “Prostitutuion and Trafficking in Nine Countries: An Update on Violence and Posttraumatic Stress Disorder.” Journal of Trauma 2, iss. 3 & 4 (2003);

www.prostitutionresearch.com/pdf/Prostitutionin9Countries.pdf

[8] Evelina Giobbe, “Confronting the Liberal Lies about Prostitution,” in The Sexual Liberals and the Attack on Feminism, eds. Dorchen Leidholdt and Janice G. Raymond. (Elmsford, Pergamon,1990), 67-81.

[9] Israel Gaither, Linda Smith, Janice Shaw-Crouse, Thomas Stack, Lisa Thompson, Shelley Luben, Laura Lederer, Patrick Trueman, David Shaheed, David Kuehne, Donna Rice Hughes, Judith Resiman, Mary Anne Layden, Patrick Fagan, William Struthers, and Ron DeHaas, “Porn Has Reshaped Our Culture,” Speech, Convergence Summit, from PureHope, Baltimore, April 17, 2011. http://www.covenanteyes.com/convergence/ (accessed April 26, 2014).

[10] A report on the use of technology to recruit, groom and sell domestic minor sex trafficking victims – https://goo.gl/xATXmq

[11] সিলসিলা সহিহাহ৩৭০

শেয়ার করুনঃ
একগুচ্ছ অনুবাদ (প্রথম কিস্তি)

একগুচ্ছ অনুবাদ (প্রথম কিস্তি)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

 

আমাদের সমাজের অনেক গভীরে পর্ন মুভি শাখা প্রশাখা বিস্তার করে আছে । ছেলে, বুড়ো , মধ্য বয়স্ক বিবাহিত, অবিবাহিত এমনকি অনেক মেয়েরাও আজকাল পর্নমুভিতে আসক্ত। কিন্তু খুবই দুঃখের বিষয় এই ভয়ংকর গুনাহ সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করার প্রয়াস খুব একটা দেখা যায়না আমাদের দেশে । অনেক মানুষের সঠিক ধারনাও নেই পর্নমুভির অপকারিতা সম্পর্কে। আমাদের ব্লগের যাত্রা শুরু হয়েছিল মানুষজনকে পর্ন মুভির ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করে তোলা এবং চোখের হেফাজত করার মাধ্যমে আল্লাহ’র (সুবঃ) আনুগত্য করতে মানুষজনকে সহায়তা করার উদ্দেশ্য সামনে নিয়ে । আমাদের কাজটা একটু সহজ হত যদি বাংলা ভাষায় পর্ন মুভির ব্যাপার গুলো নিয়ে কোন ম্যাটেরিয়ালস থাকতো । কিন্তু বাংলা ভাষায় পর্নমুভির টপিক নিয়ে খুব কম কাজ হয়েছে । কাজেই ব্লগের আর্টিকেল লিখতে যেয়ে আমাদের বেশীরভাগ সময় সাহায্য নিতে হয় ইংরেজীতে লিখা বিভিন্ন বই কিংবা ওয়েবসাইটের । যেহেতু বাংলা ভাষায় এ ব্যাপার নিয়ে গবেষণা হয়নি আর তেমন কোন রিসোর্সও নেই এবং আমরা টুকটাক কাজ করছি এগুলো নিয়ে , কাজেই আমাদের মনে হয়েছে আমরা যতদূর পারি ইংরেজী ভাষার রিসোর্স গুলো বাংলায় অনুবাদ করে রাখি । কোন একসময় গবেষনা বা অন্য কোন কাজে কেউ এখান থেকে উপকৃত হতে পারেন ।

 

# একবার দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার প্রশাসন পর্ন মুভির ব্যাপারে বেশ উদার নীতি গ্রহণ করল । পর্ন মুভি বানানো ,প্রচার , প্রসার পূর্বে আইনত নিষিদ্ধ থাকলেও তারা সেসময় চোখ বুজে রাখতো । দেখেও না দেখার ভান করতো । ফলাফল – ধর্ষণের ঘটনা ২৮৪% বেড়ে গেল একই সময় অস্ট্রেলিয়ায় কুইন্সল্যান্ডে পর্নমুভির বিরুদ্ধে প্রশাসন থেকে খুব কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হল । কিছুদিন পর প্রশাসন দেখল ধর্ষণ ঘটনা পূর্বের তুলনায় মাত্র ২৩% বৃদ্ধি পেয়েছে । হাওয়াইতে একবার পর্নমুভির ব্যাপারে উদারনীতি গ্রহণ করা হল , কিছুদিন যাবার পর পর্নমুভির বিরুদ্ধে প্রশাসন থেকে খুব কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হল তারপর আবার উদারনীতি । ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেল যখন পর্ন মুভির ব্যাপারে উদারনীতি নেওয়া হয়েছিল তখন ধর্ষণের মাত্রা অনেক বেশী ছিল , যখন প্রশাসন কঠোরতা অবলম্বন করেছিল তখন ধর্ষণের মাত্রা কমে গিয়েছিল । তারপর আবার উদারনীতি গ্রহণ করার ফলে ধর্ষণের মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল । (১) বাংলাদেশেও ইদানীং ধর্ষণের মাত্রা বেড়ে গেছে । বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের জরিপ অনুসারে চলতি বছরের (২০১৫) জানুয়ারী থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে মোট ৪৯২ টি । ২০১৪ সালের পুরো বছরে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল মোট ৯৩৯ টি । (প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশী। এগুলো কেবল মাত্র রিপোর্ট কৃত কেসের ঘটনা ) বাংলাদেশের সাম্প্রতিককালের ধর্ষণের উচ্চ মাত্রার জন্য দায়ী হতে পারে এ দেশে পর্নমুভি , আইটেম সং নামক সফটকোর পর্ন মুভির ব্যাপক প্রসার । ঢাকা ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর আয়েশা মাহমুদাও মনে করেন পর্নমুভি এবং ড্রাগসের সহজ লভ্যতা বাংলাদেশে ধর্ষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে ।

 

(২) Porn_fuels_rape:

 

আমি দীর্ঘ দিন যাবত হাজতবাস করছি। আমি এমন অনেক লোকের সংগে মিশেছি যারা এক একজন ছিল ভয়ংকর অপরাধী। হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া প্রায় প্রত্যেকেই ছিল মারাত্মকভাবে পর্নমুভিতে আসক্ত। F.B.I নিজেরা একবার গবেষণা করে দেখেছিল সিরিয়াল কিলারদের সবার একটা বিষয় কমন- সেটা হল পর্ন আসক্তি । এবং আমি মনে করি এটা সত্য”। – Ted Bundy, Serial Killer & Rapist of at least 28 Women & Girls

 

# “…পর্নোগ্রাফি হল থিওরি আর ধর্ষণ হল তার প্র্যাক্টিকাল”। Robin Morgan

 

(৩)Porn fuels violence: Cameron Hooker নামক এক লোকের ফ্যান্টাসী ছিল নারীদের বেঁধে বস্ত্রহীণ করে তার উপর নির্যাতন চালানো । তার এরকম ফ্যান্টাসীর উৎস ছিল এক বিশাল হার্ডকোর পর্নমুভির কালেকশান । একবার সে এক নারীর হাত পা এবং চোখ বেঁধে নির্যাতন করছিল । এক পর্যায়ে সেই নারী তার চোখে বাঁধা কাপড়ের ফাক দিয়ে আবিষ্কার করে বসে যে দেয়ালে একটা নগ্ন মহিলার ছবি ঝোলানো আছে । ছবির সেই মহিলাটা যেভাবে যে পজিশানে ছিল, Cameron ও তাকে ঠিক সেভাবে সেই পজিশানে বেঁধে রেখেছে । অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল সেই ছবি দেখে Cameron এর ভেতরে যে বিকৃত ফ্যান্টাসীর সৃষ্টি হয়েছিল সে সেটাই বাস্তবায়ন করছে এই নারীকে নির্যাতন করার মাধ্যমে ।

 

(৪)  যারা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত তাদের পতিতালয়ে যাবার সম্ভাবনা সেই সব লোকদের থেকে বেশী থাকে যাদের পর্নমুভিতে আসক্তি নেই । আবার যেসব লোক নিয়মিতি পতিতালয়ে যায় তারা সেই সব লোকদের থেকে বেশীমাত্রায় পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত যারা হঠাৎ হঠাৎ পতিতালয়ে যায় ।

 

(৫) আপনি হয়তো ভাবতেই পারছেন না আপনার পর্ন আসক্তি একদিন আপনাকে পতিতালয়ে নিয়ে যাবে । কিন্তু এটাই বাস্তবতা । এমন হাজার হাজার পর্ন আসক্ত পাওয়া যাবে যাদের পর্ন আসক্তির শেষ পরিনতি ছিল পতিতালয়ে গমন । পর্নমুভি দেখা এমন একটা ভয়ংকর অভ্যাস যা খুলে দিবে আরো অনেক বড় বড় পাপের পথ ।

 

# “……… আমি আমার চিকিৎসা পেশার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি পর্নমুভি এর দর্শকদের যৌনক্ষমতা নষ্ট করে দেয় । পর্নমুভির ভোক্তাদের খুব বেশী যে সমস্যা হয় সেটা হল অকাল বীর্যপাত কিংবা সন্তান জন্মদানে অক্ষমতা । স্ক্রীনের ওপারের অবাস্তব যৌন ফ্যান্টাসীতে খুব বেশী সময় ধরে ডুবে থাকার কারণে বাস্তব জীবনে তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সঙ্গে বেডরুমে তারা প্রচন্ড অস্বস্তিতে ভোগে । পর্নমুভি তাদের ভেতরের প্রবৃত্তিটাকে সবসময় উত্তেজিত করে রাখে আরো বেশী বেশী যৌনতার জন্য কিন্তু একই সাথে এটা তাদের যৌন ক্ষমতা নষ্ট করে দেয় , দেখা দেয় অতৃপ্তি ”।– Dr. MaryAnne Layden

 

(৬) ভারত ক্রমাগতভাবে নারীদের জন্য অনিরাপদ রাষ্ট্রগুলোর একটিতে পরিণত হচ্ছে । ধর্ষণ সেখানকার নিত্তনৈমিত্তিক ঘটনা । ২০১২ সালে দিল্লীতে চলন্ত বাসে গ্যাং রেপের পাশবিকতা পুরো বিশ্বমিডিয়াতে ঝড় তুলেছিল । পুরো পৃথিবীর মানুষ বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গিয়েছিল – মানুষ এতটা নিষ্ঠুর কিভাবে হতে পারে! ভারতে ধর্ষণের বেশীরভাগ ঘটনাই চাপা পড়ে যায় , লোকলজ্জার ভয়ে খুব কম ধর্ষিতাই থানায় অভিযোগ করে , কিংবা মিডিয়ার কাছে যায় । তবে মাঝে মাঝে যেসব ধর্ষণের খবর মিডিয়াতে আসে সেগুলো এই একবিংশ শতাব্দীর তথাকথিত উন্নত, মহান সভ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে । ভারতের মতো গনতান্ত্রিক দেশের আধুনিক,মুক্তমনা, সভ্য সেকুল্যার সমাজের অন্তঃসারশুন্যতা প্রকাশ করে দেয় এই ধর্ষণের ঘটনাগুলো । বলিউডের অভিনেতা বিশেষ করে অভিনেত্রীরা ধর্ষণের বিরুদ্ধে বেশ তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান । তীব্র সমালোচনা করেন সেই সব পুরুষদের যারা নারীদের সম্মান করে না । অথচ এইসব অভিনেত্রীদের আয়ের একটা বড় অংশ আসে আইটেম সং এ অর্ধ নগ্ন হয়ে, কামার্ত পুরুষদের সামনে উত্তেজকভাবে নেচে নেচে । টাকার জন্য কাপড় খুলে বেডরুমের দৃশ্যে অভিনয় করতে এরা দ্বিধাবোধ করে না । এরা পুরুষদের বলে নারীদের সম্মান করতে অথচ এরাই আইটেম সঙ্গে পুরুষদের বলে আমি চিকেন তান্দুরী , তুই আমাকে মদ দিয়ে গিলে খা । সিনেমা একটি শক্তিশালী মাধ্যম ।মানুষ সিনেমায় তার প্রিয় নায়ক / নায়িকাকে যা করতে দেখে সেটা সে অনুকরন করতে চাই । কাজেই কারিনা কাপুর যখন আইটেম সং এ উত্তেজকভাবে নেচে নেচে , পুরুষদের কামার্ত করে এই মেসেজটা দেয় যে আমি চিকেন তান্দুরী, তুই আমাকে মদ দিয়ে গিলে খা তখন সেটার প্রতিক্রিয়া যে সমাজে ধর্ষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিবে এটা স্বাভাবিক ।

 

বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা ওমপুরিও মনে করেন , ভারতীয় চলচিত্রের আইটেম গানে অশ্লীলতার মাত্রা এত বেড়ে গেছে যে এটা ধর্ষণকে উৎসাহিত করে । পদ্মশী পুরষ্কার জেতা এই গুনী অভিনেতা বলেন , “ এখনকার হিন্দী মুভির আইটেম গানগুলো খুবই অশ্লীল । এই গানগুলোতে এমন সব ড্যান্স মুভমেন্ট আছে যা দেখে মনে হয় তারা বোধহয় সেক্সের ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছে গেছে । ক্ষমা করবেন এরকম শব্দ ব্যবহার করার জন্য । কিন্তু অবস্থাটা এতটাই ভয়াবহ ।
কেউ যদি তার অবদমিত যৌন আকাংখা পূরন করতে চাই তাহলে এসব গানের সিডি কিনে তা চালিয়ে দেখলেই পারে । পুরোনো দিন গুলোতে এরকমটা ছিল না । ষাট , সত্তর এমনকি আশির দশকের মুভি গুলোতে বার, নাইটক্লাবে চিত্রায়িত যে গানগুলো দেখানো হতো সেগুলো এতটা অশ্লীল ছিল না । পুরোনো দিনগুলোতে এত ধর্ষণের ঘটনাও ছিল না । আমি নিশ্চিত , আইটেম গান গুলো ধর্ষণের ঘটনা বাড়িয়ে দিচ্ছে ।

 

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)
চলবে ইনশা আল্লাহ ……

 

রেফারেন্সঃ
১) Court, J. (1984). Sex and violence a ripple effect. In Malamuth, N & Donnerstein, E (Eds), Pornography and sexual aggression. San Diego, Academic Press.

২) http://www.dhakatribune.com/crime/2015/jul/25/intelligence-100-rapes-six-months-most-unreported

৩) Theory and Practice: Pornography and Rape,” 1974 in “Going Too Far: The Personal Chronicle of a Feminist” (1977)

৪) The Perfect Victim (McGuire & Norton 1988). .” [p. 23 and p. 741] [p.741]

৫) Monto, M. (1999). Focusing on the clients of street prostitutes: a creative approach to reducing violence against women. Final report for the National Institute of Justice. Available at www.ncjrs.org.

৬)Reisman, Sanitover, Layden, and Weaver, “Hearing.”

 

শেয়ার করুনঃ

পর্নমুভি, মানবপাচার এবং পাশ্চাত্যের যৌন দাসত্বের গল্প (প্রথম কিস্তি)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

এই অভিশপ্ত জীবন শুরু হবার সময় আমার বয়স ছিল ৪ অথবা ৫ বছর। যদি ভেবে থাকেন যে, আমাকে মুখোশপরা ছেলেধরারা ধরে নিয়ে গিয়েছিল তাহলে ভুল ভাববেন। আমার গল্প আরো জঘন্য। একরাতে আমার সৎবাবা আমাকে বিছানা থেকে তুলে বলল, “তোমার চাচা তোমাকে দেখতে এসেছে।” আমি নিচে নেমে এলাম। নিচে কোন চাচা ছিল না। এর বদলে ছিল ঘিনঘিনে কিছু মানুষ। তারা আমাকে একজন করে কোলে নিতে থাকল। একটা বাস্কেটবলের মত আমাকে তারা পাস করতে থাকত একজনের থেকে আরেকজনের দিকে। এর বদলে আমার সৎবাবাকে তারা কিছু ডলার দিয়েছিল। আর আমার মা সেইখানেই নীরব দর্শকের মত দাঁড়িয়ে সব দেখছিল।

.আমাদের ঘরে সারারাতই অনেক লোক থাকত। আমার সৎবাবা এবং মা সারারাত তাদের সাথে মদ, গাঁজা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। আমার মা ছিল অনেকটা  নেতাগোছের। সে বেশিরভাগ সময়েই তারা একসাথে কি করবে তা সিদ্ধান্ত নিত। আমি যখন ঐ বয়সে ছিলাম তখন “চাচা”দের কোলে উঠা থেকে বেশি কিছু করতে হয়নি। আমি ছোট ছিলাম। আমার কোন বুঝই ছিল না যে, আসলে কি হতে যাচ্ছে। কয়েকবছর পরে তারা আমাকে “প্রাইভেট সেশন” এর জন্য পাঠাতে থাকল। হ্যা; এই প্রাইভেট সেশন মানে ঠিক তাই যা আপনি ভাবছেন। এখন হয়তো আপনি ভাবছেন, এইসব কথা আমি তখন কাউকে জানাইনি কেন? আমি জানিয়েছিলাম। ৬ বছর বয়সে আমি আমার শিক্ষককে বলেছিলাম যে, আমার চাচারা এসেছিল আর তাদের সাথে আমি অনেক মজা করেছি। (আমার মা ঠিক এই শব্দগুলোই ব্যবহার করত)। এরপরে যদি আপনি ভেবে থাকেন পুলিশের লোক এসে আমাদের বাড়ি থেকে সবাইকে ধরে জেলে ভরে দিল তাহলে আপনি ভুল ভাববেন। আমার শিক্ষক তখন আমার মাকে ডেকে আনালেন। আমার মা কোনভাবে কথার জোরে পার পেয়ে গেলেন। আমি বাড়ি ফিরে আসলে আমাকে চরম মার লাগালেন।

.

কি অদ্ভুত! তাইনা? এই ঘটনা যদি কোনো সিনেমায় দেখানো হয় তাহলে হয়তো ভাবতেন সিনেমার রাইটারের মাথায় সমস্যা আছে। কিন্তু বাস্তবতা খুবই অন্যরকম। প্রতিবছর সারাবিশ্বে আমার মত যৌনদাসীদের কেনাবেচার পেছনে ৯.৫ থেকে প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলারের কেনাবেচা হয়। তুলনা করে দেখতে পারেন এভাবে যে, সারা বছর পুমা কোম্পানি সারাবিশ্ব থেকে লাভ করে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের মত। কম করে হলেও এর দ্বিগুন ব্যবসা হয়। কিছুদিন আগে একটা জরিপে দেখা গেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে এরূপ ঘটনার স্বীকার মানুষদের ৮৩ শতাংশই এদেশেরই নাগরিক। এদেরও প্রায় অর্ধেক অপ্রাপ্তবয়স্ক; আমি যেমন ছিলাম। শুধুমাত্র এই জুনেই এফবিআই ১৬৮ জন বাচ্চাকে উদ্ধার করেছে। ২০০৮ সাল থেকে এইরকম অপারেশনে উদ্ধার করা হয়েছে ৪০০০ জনকে। এই ভিক্টিমদের কেউ কেউ ঘর ছেড়ে পালিয়ে আসা; কারো পিতৃভাগ্য খারাপ। তারা সবাই অদৃশ্য মানুষের মত। মুলধারার সমাজের চোখে এসব চোখে পড়ে না। সবার সামনে আমি খুব ভাল ছাত্রী ছিলাম; আমি কিছু পার্টটাইম জবও করতাম। এর বাইরে আমার একটি গোপন জগৎও ছিল। প্রথম অংশটা আমার মায়ের কাছে ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের কাছে আমার ইমেজ থাকতে হবে একটি “ভাল মেয়ে”র।

.

# এই বাণিজ্যের প্রধান মাধ্যম ইন্টারনেটঃ

….আমার মায়ের একটি ওয়েবক্যাম ছিল। কয়েক বছর সেই “চাচা”দের অধ্যায় শেষ হলে আমার মা ঠিক করলেন এই “ব্যবসা” অনলাইনে প্রসার ঘটাবেন। আমাকে ওয়েবক্যামশো করতে হত। আমার যদ্দূর মনে পড়ে এরকম প্রথম শো আমি করেছিলাম ৬ বছর বয়সে। আমার জীবনে একমাত্র আশার আলো ছিল আমার নানী। কিন্তু ৮ বছর বয়সে তিনি মারা যাবার পরে আমার “পসার” অনেক বেড়ে যায়। সে সময়ে ইয়াহু তে চ্যাটরুম ছিল এইসব কাজের জন্য। সেখানে বিভিন্ন কোডওয়ার্ডের মাধ্যমে আমার মা কথা বলত অন্যান্যদের সাথে। ক্রেতাদের জন্য পুরা একটা আলাদা কোডই ছিল। স্নো হোয়াইট মানে বুঝানো হতো ফর্সা এবং কালো চুলের মেয়ে। স্লিপিং বিউটি মানে বুঝানো হতো সোনালি চুল আর নীল চোখের মেয়ে। স্ট্রবেরি শর্টকেক মানে ছিল লালচুলো মেয়ে; ওরিওস বলে বুঝানো হত নিগ্রোদের। আর ফরচুন কুকি ছিল এশিয়ান মেয়েদের কোড।

.

আপাতত কথা বলা শেষে আমার মা আমাকে প্রাইভেট চ্যাটরুমে পাঠাত। আমাকে তখন ক্রেতাদের সাথে কথা বলতে হত। প্রথমে কথাবার্তা হত খুব স্বাভাবিকভাবে। এরপরে তারা সিদ্ধান্ত নিত তারা কি আমাকে ভোগ করতে চায় নাকি অন্যকিছু। তারা যদি রাজি না হত তখন আমার বাবা মা সেটাকে আমার দোষ হিসাবেই দেখত। আমার বয়স দশ পর্যন্ত এই ব্যবসা ভালমতই চলছিল।

এরপরে ছিল ব্যাকপেজ। এই ওয়েবসাইটটি ছিল আমার মাবাবার ব্যবসায়ের বিজ্ঞাপনের জন্য আদর্শ জায়গা। আমার মা বিজ্ঞাপন এমনভাবে দিতেন যেন, তিনি নিজেকেই বিক্রি করতে যাচ্ছেন। বিজ্ঞাপনটা দেয়া হত বিশেষ কোডের মাধ্যমে যেন যারা প্রকৃত ক্রেতা তারা বুঝতে পারে আসলে তিনি বিক্রি করছেন তার মেয়েকে।

.

আপনি একটি ভোগ্যপণ্যে পরিণত হন- সারাজীবনের জন্য অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের মতই এখানেও “মান নিয়ন্ত্রণ” করার ব্যবস্থা ছিল। সুন্দর, স্মার্ট মেয়েদের দাম ছিল বেশি। পণ্যের উপরে তাদের শতভাগ নিয়ন্ত্রনের দরকার ছিল। আবার কোন মেয়ের গায়ে যদি বেশি হাত তোলা হত তাহলে তাতে শরীরে দাগ পড়ে যেত যা অন্যদের নজরে পড়ত। তাই তারা আরো ক্রিয়েটিভ হয়ে উঠে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে। লোহার বাক্স কিংবা গাড়ির ট্রাংকে গরমে অজ্ঞান না হয়ে যাওয়া পর্যন্ত বন্দী করে রাখা ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ব্যপার।

.

মুলত, তাদের ইচ্ছা ছিল আমার টিনেজ বয়সের মধ্যভাগ পর্যন্ত আমাকে নিয়ে ব্যবসা করা আর এরপরে কারো কাছে বিক্রি করে দেওয়া। অনেক সময় স্কুলে লেকচার দেওয়া হত যে, বাবা মায়ের কত হাজার হাজার ডলার খরচ হয় একটা বাচ্চাকে মানুষ করতে। তবে আমার বাবামায়ের ছিল ভিন্ন ইচ্ছা। তারা আমাকে দেখেছিলেন বিনিয়োগ হিসেবে আমার বয়স যখন ১৪ তখন আমাকে কেনার জন্য প্রস্তাব আসতে থাকে। ১৫ বছর বয়সে একজন আমার জন্য পঞ্চাশ হাজার ডলার অফার দেয়। কিন্তু আমার বাবা মা রাজি হয়নি। তারা আমার জন্য দেড় থেকে দুইলাখ ডলারের আশা করছিলেন। (কখনো খেয়াল করে দেখেছেন কি যারা এইরকম যৌনতার জন্য দাসী কিনতে চায় তারা সবাইই অনেক টাকাওয়ালা?) যাইহোক, পরে সেই ক্রেতা সস্তায় বিদেশি একজনকে পেয়ে যায়। একটু বড় হয়ে আমি বিদেশি কয়েকজনের সাথে পরিচিত হই যাদেরকে আমার মতই বাধ্য করা হচ্ছিল পতিতাবৃত্তিতে। কেউ ছিল থাইল্যান্ডের, কেউ ছিল ভারতের, কেউবা এসেছিল আফ্রিকা থেকে। সবার কাহিনিই ছিল প্রায় একই রকম। পরিবার থেকে শুরু; এরপরে পারিবারিক বন্ধু এবং সেখান থেকেই একসময় অপরিচিত লোকদের মাঝে যাত্রা। আফ্রিকা থেকে যার সাথে পরিচয় হয়েছিল তার বাবামা চ্যাটরুমে তার মেয়ের রুপের প্রশংসা করত। একসময় তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়। একটা দত্তক প্রতিষ্ঠান তাকে গ্রহণ করে। তার জন্য কোন বাড়ি ছিল না; ছিল বাড়ি নামে পতিতালয়। থাইল্যান্ড থেকে যারা এসেছিল তাদেরকেও এইদেশে এনেছিল একই লোক।

.

আমি ছিলাম ছোট এক শহরের বাসিন্দা। সেখানকার অবস্থা ছিল কিচ্ছু দেখিনি, কিচ্ছু শুনিনি ধরণের। “মেয়েটা তার বাচ্চা। তার যা খুশি করতে পারে।” আমার সৎবাবাকে নিয়ে এই ছিল সমাজের মনোভাব। এই শহরে আমি যখনই কারো কাছে সাহায্য চেয়েছি তারা তা বিশ্বাসই করত না। অনেক ক্ষেত্রে তারা তখন উলটা আমার বাবামার সাথে যোগাযোগ করত। কিছু বড় হওয়ার পরে আমি আমার এক চাচীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। তিনি ছিলেন খুবই ভাল মানুষ। আমি তাকে আমার সব কথা খুলে বলি। তিনি সরাসরি আমার মাকে চার্জ করে বসেন। আমার মা ধুর্ততার সাথে এক কাহিনী ফেঁদে বসেন। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে নাকি আমাকে একটা রুমে এক ছেলের সাথে দেখে ফেলেছেন। এর জন্যই নাকি আমি উলটাপালটা নাটক শুরু করছি। পরে এইরকম সাহায্য চাওয়ার জন্য আমাকে শাস্তিও দেওয়া হয়।

.

স্কুলে কাউন্সেলররা খুব বড়গলায় বলত, যেকোন সমস্যাতে আমরা যেন তাদের সাথে যোগাযোগ করি। আমি আমার কাউন্সেলরকে সব খুলে বলেছিলাম। তিনি আমার মায়ের কাছে যাননি। তিনি আমার সৎবাবাকে ডেকে এনেছিলেন। তারপর তার সামনে আমাকে বলেন, “একটু আগে আমাকে যা বললে তা আবার বলো।” আমি ভয়ে কোন কথাই বলতে পারিনি। সেই রাত্রে আমার সৎবাবা আমাকে পিটিয়ে প্রায় মেরেই ফেলেছিলেন। আসলেও এই ঘটনা ছিল অবিশ্বাস্য। একজন পনের বছর বয়সী কেউ আপনাকে বলছে যে, তাকে নিয়মিত যৌনকর্মে বাধ্য করা হচ্ছে, নির্যাতন করা হচ্ছে; এবং এ কাজে লিপ্ত তারই একান্ত আপনজন তা হয়তো কেউই বিশ্বাস করবে না। আমি কাউন্সেলরদের দোষ দেই না। আর আমি যেখানে থাকতাম সেখানে মারের দাগ দেখালেও মানুষ ভাবত যে, নিশ্চয়ই “বেয়াদবি”র জন্য মার খেয়েছি। “চাইল্ড প্রোটেক্টিভ সার্ভিস” এর অবস্থা ছিল কাগুজে বাঘের মত। এর কারণ ছিল দুইটা। সরকারের তরফ থেকে কেউ পরিবারের কাজে বাঁধা দিত না। আর সবাইই সবাইকে চিনত। আমার স্থানীয় অফিসার ছিল আমারই এক কাজিন। সে নিজে মেয়ে হয়েও স্রেফ অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে রেখেছিল। আর আমার ঘটনাকে সে লিখেছিল যে, ফ্যামিলি সিক্রেট। আমার কথা প্রথম যে পুলিশ শুনেছিল সে নিয়মিত আমার সৎবাবার কাছ থেকে ড্রাগস নিত। সেও মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে রেখেছিল। আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে এই নরক থেকে পালাতে হলে আমাকে একাই এর ব্যবস্থা করতে হবে।

.

আমি এ রাস্তা থেকে কীভাবে পালিয়ে এলাম? এর পেছনে কোন শ্বাসরুদ্ধকর  কাহিনি নেই। আমি রাতের আঁধারে সবার চোখে ধুলো দিয়ে বের হয়ে আসিনি। আমি নিজেকে বেচতে রাজি হয়েছিলাম। আমার ভিতরে তখন চিন্তা ছিল, যেইই আমাকে কিনে নিক না কেন আমি হয়তো নিজ বাড়ির চেয়ে ভাল অবস্থায় থাকব । প্রথমে যে আমাকে কিনেছিল সে ছিল আমারই বয়সী। সে আমাকে কেনার সময় বলেছিল যে, সে আমাকে ভালবাসবে; স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে রাখবে। কিন্তু সে আমাকে তার বন্ধুদের সাথে বিছানায় যেতেও বাধ্য করে। আমি সেইখান থেকে পালিয়ে আসি। গৃহহীনদের জন্য একটা ক্যাম্পে আমার ঠিকানা হয়।

.

একসময় অন্য কোন পথ না পেয়ে আমি পুরাতন রাস্তায় ফিরে যাই। আমি ব্যাকপেজের মাধ্যমে নিজের বিজ্ঞাপন দেই। কয়েকজনের তরফ থেকে সাড়াও পাই। এদের মধ্যে যাকে সবচেয়ে ভাল মনে হয়েছিল তার অফার গ্রহণ করি। তিন বছরের জন্য তার সাথে আমার চুক্তি হয়। সে আমাকে দেয় টাকা বদলে আমি পাই খাদ্য,বস্ত্র, বাসস্থানের নিশ্চয়তা। তার আয় ছিল লাখ ডলারের ঘরে। তার দরকার ছিল একজন সুন্দরী যাকে সে বিভিন্ন পার্টিতে নিয়ে যেতে পারবে আবার চুপচাপ তার কথাও অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। এ সময়টা ছিল দোজখের মত। সে আমার প্রতিটা বিষয়ে নাক গলাতে থাকে। আমি কি পরব, কি বলব, এমনকি আমি কতটুকু ঘুমাতে পারব তাও সে ঠিক করে দিত। আমি তারকাছে পুরো তিনবছর থাকি। একপর্যায়ে সামাজিক স্ট্যাটাসের জন্য সে আমাকে কলেজে পাঠায়। আমি সেখানে একজনের সাথে পরিচিত হই। তার আর আমার সম্পর্ক শুধুই যৌনতার ছিল না। আমরা বন্ধুর মত সময় কাটাতাম। এক পর্যায়ে আমার মনিব আমাকে তার সাথে দেখতে পায়। তখন সে নিজেই আমাকে ভাগিয়ে দেয়।

.

এইভাবেই জীবনে প্রথমবারের মত আমি মুক্তির স্বাদ পাই। আমি আর কারো ভোগ্যপণ্য নই। এই জীবনের সাথে মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়। যেভাবে আমাকে সবসময় সুন্দরী, স্মার্ট থাকার অভিনয় করতে হত অনেক সময় নিজের অজান্তেই আমি তা করে বসি। আমি অনেক সময় ছেলেদের কাপড় পরে থাকতাম। আমি যে একটা মেয়ে তা লুকানর চেষ্টা করতাম নিজের অজান্তেই।

.

আমি এখন একটা অনলাইন বিজনেস এর সাথে জড়িত। আমি চ্যারিটি কাজের সাথে জড়িত। প্রতিদিন আমার লক্ষ্য একটাই। আয়নায় তাকালে যে মারের দাগওয়ালা মেয়েটাকে দেখা যায় তাকে হারানো। আমি জানি এভাবে প্রকাশ্যে কথা বলায় হয়তো আমার উপরে বিপদ আসতে পারে। কেউ হয়তো এই আর্টিকলটা আমার বাবামায়ের কাছেও পাঠিয়ে দিতে পারে। কিন্তু আমি আর কেয়ার করি না। আমি এইসব শেয়ার করছি যেন আরো দশটা মেয়েও তাদের কথা বলতে শিখে মানুষের জানা উচিত যে, আমেরিকা থেকে দাসপ্রথা উঠে যায়নি। আমরাই দক্ষভাবে দাসপ্রথা লুকিয়ে রাখতে শিখেছি ।

.

নারী স্বাধীনতার সূতিকাগার আমেরিকাতেই নারীদের এই শোচনীয় অবস্থা সত্যিই ভাবিয়ে তোলে।

চলবে ইনশা আল্লাহ …… (লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)

পড়তে পারেন-
ক্যামেরার পিছনে: https://bit.ly/2Mt2T8C
পর্দার ওপাশে: https://bit.ly/2xbVZiK
আমি কিভাবে পর্নোগ্রাফিতে আসলাম, কেন ছাড়লাম এবং কেন সবাই এটা পরিহার করবে- By Jessica Mendes: https://bit.ly/2OhYxTP
.

রেফারেন্স- http://www.womensfundingnetwork.org/enslaved-in-america-sex-trafficking-in-the-united-states/

শেয়ার করুনঃ
সিরিয়াল কিলার (প্রথম পর্ব)

সিরিয়াল কিলার (প্রথম পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

অত্যন্ত সুদর্শন আর হ্যান্ডসাম ছিল সে । লম্বা, ঋজু শরীরের কাঠামো , কোঁকড়ানো চুল, ঈগলের ঠোটের মতো বাঁকানো খাড়া নাক । প্রথম দর্শনে যে কেউই পছন্দ করে বসত , রাজ্যের  মায়াভরা চোখ দুটো যে কোন মেয়েরই রাতের ঘুম হারাম করার মতো যথেষ্ট ছিল ।

আইনের তুখোড় ছাত্র ,বিনয়ী নম্র ,  মার্জিত রুচির পোষাক আশাক সব মিলিয়ে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ।আপাদমস্তক নিপাট ভদ্রলোক ।

সুদর্শন চেহারা আর ভদ্রলোকের মুখোশের আড়ালে  সম্পূর্ণ অন্য একটা মানুষ ছিল সে- যেন রবার্ট লুই স্টিভেন্সনের গল্পের বই থেকে উঠে আসা বাস্তবের  ডক্টর জেকিল অ্যান্ড মিস্টার হাইড । সে ছিল একটা সিরিয়াল কিলার , রেপিস্ট , একটা নরপিশাচ । ৩০ এরও বেশি মেয়েকে সে নিজের হাতে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ভাবে খুন করেছিল যদিও বাস্তবে এ সংখ্যা আরো অনেক বেশী ।

লোকে তাকে টেড বান্ডি বলেই জানতো । শেয়ালের মতো ধূর্ত ছিল সে , বিড়ালের মতো নিঃশব্দ ছিল তার চলাফেরা ।  খুব নিখুঁত নারী শিকারের  প্ল্যান করতো বান্ডি , চিতার ক্ষিপ্রতায়  শিকার করে  স্রেফ  ভূতের মতো  মিলিয়ে যেত হাওয়ায় । বাঘা বাঘা পুলিশ অফিসার আর ঝানু ঝানু গোয়েন্দাদের নাকের জল আর চোখের জল এক করে ছেড়েছিল সে  । সত্তরের দশকে আমেরিকার ৭ টি প্রদেশ জুড়ে  কায়েম করে ফেলেছিল এক ত্রাসের রাজত্ব ।

থিওডর রবার্ট বান্ডি ওরফে  টেড বান্ডির জন্ম মার্কিন মুলুকের Burlington এ, , ১৯৪৬ সালের ২৪শে নভেম্বর । বান্ডির  বাবা কে ছিল  তা নিয়ে কিছুটা সন্দেহ ছিল ।  বান্ডির মনে সারাজীবন মায়ের প্রতি চাপা একটা ক্ষোভ ছিল এ ব্যাপারটা নিয়ে ।

পড়াশোনাতে বেশ মেধাবীই ছিল টেড  বান্ডি ,১৯৭২ সালে ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটন থেকে গ্র্যাজুয়েশান কমপ্লিট করে সে ।

প্রথম আঘাতঃ

ঠিক কখন এবং কোথায় বান্ডি নারী শিকার শুরু করেছিল তা নিয়ে বিস্তর তদন্ত  হয়েছে , জল অনেক ঘোলা করা হয়েছে কিন্তু   আসল তথ্য বের করা সম্ভব হয়নি । বান্ডি এক এক সময় এক একজনকে এক এক রকম কথা বলতো ।

ধারনা করা হয় ১৯৬৯ সালে সে মেয়েদের কিডন্যাপ করা শুরু করলেও  খুন করা শুরু করে ১৯৭১ সালের পর থেকে ।

কিছু আলামত এবং তদন্ত  থেকে অনেক ডিটেক্টিভ আবার ধারনা করেন খুনি হিসেবে বান্ডির আত্মপ্রকাশ আরো অনেক আগে,  ১৯৬১ সালে ৮ বছর বয়সের একটা মেয়েকে খুন করার মাধ্যমে – যখন বান্ডির বয়স মাত্র ১৪ । বান্ডি অবশ্য চিরকাল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ।

টুকটাক কিডন্যাপিং এবং  দু একটা খুন করে হাত পাকানোর পর বান্ডি শুরু করে তার  আসল খেলা ১৯৭৪ সালে , ২৭ বছর বয়সে ।

শিকারঃ

বান্ডি টার্গেট করত হাল ফ্যাশনের আকর্ষণীয় পোশাক পড়া সুন্দরী কলেজ,ইউনিভার্সিটির  মেয়েদের  যাদের বয়স সাধারনত   ১৫-২৫ বছর । সুন্দর জামা কাপড় পড়ে কেতাদুরস্ত হয়ে মুখোশ, টর্চ লাইট , দড়ি দাড়া , সিঁধকাঠি , হ্যান্ডকাফ  ইত্যাদি  বাদামী  ভোক্সওয়াগানে চাপিয়ে বান্ডি বেরিয়ে পড়তো শিকারের খোঁজে । টহল দিয়ে বেড়াতো এমন জায়গাগুলোতে যেখানে নারীদের আনাগোনা খুব বেশি । কাউকে মনে ধরলে বা একা একা কোন সুন্দরী মেয়ে দেখলে নেমে আসতো গাড়ি থেকে ।

এই সেই বাদামী ভোক্সওয়াগান ; টেড বান্ডির অনেক পাপের সাক্ষী

তার  এক  হাত ঝোলানে থাকতো স্লিংএ বা এক পায়ে থাকতো প্লাস্টার – ভান করতো যেন  তার হাত / পা ভাঙ্গা । আরেক হাতে থাকতো  ভারী ব্রিফকেস  বা মোটা মোটা বই । টার্গেটের খুব কাছে যেয়ে টার্গেটের মনযোগ আকর্ষণের জন্য  বই গুলো সশব্দে ফেলে দিত বা এমন অভিনয় করত যে খুব কষ্ট হচ্ছে তার ব্রিফকেসটা বহন করতে  – জরুরী  সাহাজ্য দরকার ।

টার্গেট সাহাজ্য করতে আসলে সুদর্শন টেড বান্ডি “শুধু কথা দিয়েই চিড়ে ভিজিয়ে ফেলতো” । অনুরোধ করত বইগুলো গাড়ি পর্যন্ত পৌছে দেওয়ার । বই / ব্রিফকেস নিয়ে গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছানো মাত্রই নরক নেমে আসতো  টার্গেটের মাথায় ।

বেশ কয়েকদিন পর অসহায় মেয়েটার  বিকৃত ফুলে ঢোল হয়ে যাওয়া  জামা কাপড় ছাড়া লাশ পাওয়া যেত কোণ এক পরিত্যাক্ত জায়গায় – পাহাড় পর্বতে বা বনে জংগলে । অনেক সময় লাশের চিহ্নটুকুও পাওয়া যেত না ।

বান্ডি এতোটাই  বিকৃত মানসিকতার ছিল যে সে লাশ পচে গলে  যাওয়ার আগ পর্যন্ত লাশের সঙ্গে সেক্স করতো । হয়তো  একজায়গায় খুন করে ২০০ মাইল দূরের কোন এলাকায় যেয়ে সে আরেকটা খুন করতো , তারপর আবার প্রথম ক্রাইম স্পটে এসে লাশের ওপর ঝাল মিটাতো – আস্ত  শয়তান লোক ।

সিয়াটল , সল্টলেক সিটি , কলারাডো , ফ্লোড়িডার মেয়েরা  অদৃশ্য আতংকে ভুগতো , অজানা এক সাইকো ঘুরে বেড়াচ্ছে শহরে   না  জানি কখন কার পালা আসে । এক হোস্টেল থেকে আরেক হোস্টেলে যাবার সময় , থিয়েটার বা মুভি থেকে ফেরার পথে  এমনকি করিডোর দিয়ে এক রুম থেকে  অন্য রুমে যাবার সময়ও মেয়েরা গায়েব হয়ে যেত , চিরুনী অভিযান চালিয়েও ধরা যেত না ঘাতককে ।

মাঝে মাঝে  টুকটাক চাকুরী করলেও বান্ডির আয়ের একটা বড় উৎস ছিল পকেট কাটা  আরো নির্দিষ্ট করে  বললে মেয়েদের ভ্যানিটি ব্যাগ কাটা । হাত সাফাইও  ভালো জানতো সে । সুপার স্টোর গুলো থেকে জিনিস পত্র চুরি করার ওস্তাদ লোক ছিল এই বান্ডি  ।

একের পর এক মেয়ে রহস্যময় ভাবে গায়েব হয়ে যাচ্ছে অথচ রহস্যের  কোন কিনারা হচ্ছে না – ধরা পড়ছে না ঘাতক । king county sheriff  office  এর ডিটেক্টিভরা আর Seattle Police Department  কুত্তা পাগল হয়ে  গিয়েছিল অপরাধী ধরার জন্য । কিন্তু বান্ডির শিকারের সংখ্যা কুড়ি পার হবার আগ পর্যন্ত কেউই বুঝতে পারে নি তারা  প্রত্যেকেই আসলে  পৃথক পৃথক ভাবে একজন লোকের পেছনে ছুটছে ।

বান্ডির নারী শিকারের সরঞ্জাম

এর কারন ছিল অবশ্য – টেড বান্ডির মস্তিষ্ক ছিল ক্ষুরধার, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারার অভাবনীয় ক্ষমতা ছিল তার , ক্রাইম মেথোডোলজি নিয়ে গভীর  পড়াশোনা তাকে শিখিয়েছিল   কিভাবে কারো সন্দেহের উদ্রেক না করে ক্রাইম স্পটে আঙ্গুলের ছাপ বা এই জাতীয়  কোন ক্লু না ফেলে নিমিষেই  হাপিশ হওয়া যায় । ছদ্মবেশ ধারন করাতে ওস্তাদ ছিল সে –  চুলে দু আঙ্গুল চালিয়ে বা ফেসিয়াল এক্সপ্রেশান বদলে ফেলে খুব তাড়াতাড়িই নিজের চেহারা বদলে ফেলতে পারত – এ কারনেই কোন প্রত্যক্ষদর্শীই নির্দিষ্ট করে তার চেহারার বিবরন দিতে পারতোনা পুলিশকে ।

ফায়ার আর্মস ব্যবহার করা সে সচেতন ভাবেই এড়িয়ে গিয়েছিল নিজের আইডেন্টিটি লুকানোর জন্য – ব্যবহার করতো বাড়ির টুকুটাকি জিনিস – নাইলনের  দড়ি দাড়া , স্টকিং …

এতো বিশাল এলাকার পরিধিতে অল্প সময়ের ব্যবধানে  সে খুন এবং রেপ গুলো করতো যে পুলিশের পক্ষে বোঝা সম্ভব হতো না যে এই সব নারকীয় ঘটনার পেছনে একটা লোকই দায়ী – টেড বাণ্ডি , বান্ডির নিজের ভাষায় – “… the most cold-hearted son of a b***h you’ll ever meet  …

ঠিক কতটা খুন বান্ডি করেছিল তা নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারেন না – ৩০ টি খুনের ঘটনা সে নিজে স্বীকার করেছে । কিন্তু বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ সাক্ষ্য দেয় তার খুনের সংখ্যা প্রায় একশোর কাছাকাছি । টেড বান্ডির আইনজীবিও একসময় স্বীকার করেছিল টেড একশোর বেশী  হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত  ।

কি ছিল টেড বান্ডির এই অন্ধকার জগতের চালিকা শক্তি ? কেন  বিশ্ববিদ্যালয়ের উঁচু ডিগ্রীও টেড বান্ডিকে মানুশ বানাতে পারেনি ? টেড বান্ডির শেষ পরিনতিই বা কি ছিল ?

সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে সিরিয়াল কিলার  সিরিজের দ্বিতীয় পর্বে  ইনশা আল্লাহ

………

 

তথ্য সূত্র- ইন্টারনেট

শেয়ার করুনঃ
পর্নোগ্রাফি  যেভাবে  আমাকে সিরিয়াল কিলার বানিয়েছেঃ টেড বান্ডি’র  অন্তিম সাক্ষাৎকার

পর্নোগ্রাফি যেভাবে আমাকে সিরিয়াল কিলার বানিয়েছেঃ টেড বান্ডি’র অন্তিম সাক্ষাৎকার

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

টেড বান্ডি একজন কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার। ১৯৮৯ সালের ২৪ জানুয়ারী মৃত্যুর অব্যবহিত আগ মুহূর্তে মনোবিদ জেমস সি. ডবসনের কাছে তিনি এই কৌতূহলোদ্দীপক সাক্ষাৎকার প্রদান করেন।

টেড বান্ডি  ছিলেন খুবই সুদর্শন এক যুবক।  আইনের তুখোড় এই ছাত্র কীভাবে এই ভয়ঙ্কর অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে গেলেন?

জেমস সি. ডবসন তার সঙ্গে সাক্ষাৎ এর বর্ণনা দিচ্ছেন এইভাবে- “ আমাকে সাতটা স্টিলের দরজা এবং মেটাল ডিটেক্টরের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তার সঙ্গে কথা বলার জন্যে। এগুলো এতোই সংবেদনশীল ছিলো যে আমার টাই ট্যাক এমনকি জুতার পেরেক পর্যন্ত অ্যালার্ম বাজিয়ে দেওয়ার জন্যে যথেষ্ট ছিলো।

অবশেষে আমি একদম ভেতরের একটা কক্ষে গিয়ে পৌঁছলাম যেটা আমার এবং বান্ডির সাক্ষাৎ এর জন্যে পূর্বনির্ধারিত। খানিক বাদে বান্ডিকে সেখানে আনা হলো- ছয়জন কারারক্ষী তাকে ঘিরে ছিলো। আমাদের কথোপকথনের মাঝখানে হঠাৎ করে আলো কমিয়ে দেওয়া হয়। ”

 

জেমস সি. ডবসনঃ এখন প্রায় বেলা আড়াইটা।  অন্যথা না হলে আগামীকাল সকাল সাতটা নাগাদ আপনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা। ঠিক এই মুহূর্তে আপনার মনের মধ্যে কী চলছে? বিগত কয়েকদিনে ঠিক কী ধরণের  চিন্তা ভাবনা এসেছে আপনার মনের মধ্যে?

টেডঃ আমি এটা বলবো না যে- সবকিছু আমার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে অথবা যা যা হতে চলেছে তার জন্যে আমি পুরোপুরি প্রস্তুত। মনে হচ্ছে- আমি প্রতিটা মুহূর্তের হিসাব রাখতে পারছি। মাঝেমধ্যেই স্নায়ুর উত্তেজনা হ্রাস পায়- তখন নিজেকে বড্ড শান্ত, খুব চুপচাপ মনে হয়। আবার মাঝেমধ্যে খুব বেশী অস্থির লাগে। ঠিক এই মুহূর্তে আমার মনের মধ্যে যেটা চলছে তা হচ্ছে- আমাকে যতোটা সম্ভব প্রতিটা মিনিট, প্রতিটা ঘণ্টার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে।এটা প্রতিটা মুহূর্ত ফলপ্রসূভাবে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। ঠিক এই মুহূর্তে আমি কিছুটা স্থিরতা অনুভব করছি। এর একটা বড়ো কারণ হচ্ছে- আমি এখন আপনার  সঙ্গে কথা বলছি।

জেমস সি. ডবসনঃনথি অনুযায়ী আপনি অনেক মহিলা এবং অল্পবয়সী তরুণীদের হত্যার দায়ে অভিযুক্ত।

টেডঃ হ্যাঁ! এটাসত্যি।

জেমস সি. ডবসনঃ কীভাবে এটা হলো? চলুন পেছন থেকে ঘুরে আসা যাক। কোন ঘটনাগুলো আপনার এই ধরণের আচরণকে প্রভাবিত করেছিলো? আপনার মতে- আপনি স্বাস্থ্যকর একটা পরিবেশে বেড়ে উঠেছিলেন। আপনি শারীরিক, মানসিক অথবা সেক্সুয়াল হেনস্থারও শিকার হন নি

কখনো।

টেডঃ  না, হই নি। এটাই সবচেয়ে বড়ো ট্র্যাজেডি। আমি দু’জন স্নেহপ্রবণ পিতা-মাতার সংস্পর্শে খুবই চমৎকার একটা বাসায় বেড়ে উঠেছি। আমরা পাঁচ ভাই আর এক বোন ছিলাম বাবা-মায়ের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে। আমরা নিয়মিত গির্জায় যেতাম। আমার বাবা-মা মদ তো দূরে থাক সিগারেট পর্যন্ত খেতেন না এমনকি জুয়াও খেলতেন না। কোনো শারীরিক হেনস্থা অথবা কলহও ছিলো না আমাদের বাসায়। আমি বলছি না- সবকিছু একেবারে যথাযথ ছিলো কিন্তু এটা ছিলো সন্তোষজনক, একটা ভালো খ্রিস্টান পরিবার।  আমি আশা করবো- কেউ খুব সহজে আমার পরিবারকে দোষারোপ করে বসবেন না আমার এহেন আচরণের জন্যে। আমার সঙ্গে আসলে কী হয়েছিলো- সেটা আমি অকপটে বলার চেষ্টা করছি।

বারো-তেরো বছর বয়সের একটা বাচ্চা ছেলে হিসাবে একদিন স্থানীয় মুদির দোকানে এবং ড্রাগ স্টোরে অপ্রত্যাশিতভাবেই আমি কিছু সফটকোর পর্নোগ্রাফির সন্ধান পেয়ে যাই। কমবয়সী তরুণেরা পাড়াপড়শিদের মধ্যে এসবের বিস্তার ঘটায় আর আমাদের প্রতিবেশীরা কী করতো জানেন? দরকার শেষে তারা এগুলো আবর্জনার স্তুপে ছুঁড়ে ফেলতো। সময়ের পরিক্রমায় আমরা অধিক উত্তেজক বইয়ের সংস্পর্শে আসলাম যেখানে আরও অনেক বেশী ছবি ছিলো। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই- এর মধ্যে গোয়েন্দা ম্যাগাজিনও ছিলো। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি- সবচেয়ে ক্ষতিকর পর্নোগ্রাফি হচ্ছে সেগুলো যেগুলোতে ভায়োলেন্স বিশেষত সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স উপস্থিত থাকে। এই দুইয়ের সমন্বয় এমন এক ধরণের বিধ্বংসী  আচরণের জন্ম দেয় যা বর্ণনা করাও ভীতিকর।

জেমস সি. ডবসনঃ আমাক এই ব্যাপারে বিস্তারিত বলুন। সেই মুহূর্তে আপনার মনের মধ্যে ঠিক কী চলছিলো ?

টেডঃ আরও কিছু বলার আগে এটা নিশ্চিত হওয়া জরুরী যে- আমি যা যা বলছি মানুষ তার পুরোটা বিশ্বাস করবে। আমি পুরো দায়ভার পর্নোগ্রাফির উপর চাপিয়ে দিচ্ছি না। আমি বলছি না যে- এটাই আমাকে বাইরে বের করে এনে খুনগুলো করতে বাধ্য করেছিলো। আমি যা যা করেছি তার পুরো দায়ভার আমি নিজে বহন করতে রাজী আছি। প্রশ্নটা এখানে নয়।  যেটা বুঝতে হবে সেটা হচ্ছে- এটা কীভাবে ধ্বংসাত্মক আচরণের  ছাঁচটা গড়ে দেয়।

জেমস সি. ডবসনঃ তার মানে এটা আপনার কল্পনার জগৎকে প্রভাবিত করেছিলো।

টেডঃ শুরুর দিকে এটা এই ধরণের চিন্তা প্রক্রিয়াকে ইন্ধন যোগায়। কিছু সময় বাদে এর কারণেই সম্পূর্ণ আলাদা একটা সত্ত্বা নিজের ভেতরে স্পষ্ট হয়ে উঠে।

জেমস সি. ডবসনঃ মুদ্রিত সামগ্রী ( Printed materials ) , ছবি, ভিডিও- এগুলোর মাধ্যমে আপনি আপনার কল্পনার জগতের যতোটা গভীরে সম্ভব গিয়েছিলেন। আর তারপরে এই আসক্তিই আপনাকে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্যে প্ররোচিত করেছিলো, তাই তো ?

টেডঃ  এসবে একবার আসক্ত হয়ে গেলে ( হ্যাঁ, আমি এটাকে আসক্তিই বলি ) আপনি অধিক শক্তিশালী, অধিক জোরালো উত্তেজকের সন্ধানে লেগে যাবেন। অপরাপর আসক্তির মতোই আপনি হন্যে হয়ে আরও শক্তিশালী কিছু খুঁজে বেড়াবেন যেটা আপনাকে অধিক উত্তেজনা এনে দিতে পারে। এই তালাশ ততোক্ষণ পর্যন্ত চলবে যতোক্ষণ না আপনি খাদের এক্কেবারে কিনারে এসে দাঁড়াচ্ছেন। এই অবস্থানে এসে আপনি ভাবতে শুরু করবেন- কেবল পড়ে অথবা দেখে আর চলছে না, আসল মজা সেই কাজগুলো নিজে এক্সপেরিয়েন্স করার মধ্যে।

জেমস সি. ডবসনঃ কাউকে ভিকটিমাইজ করার আগে আপনি ঠিক কতোদিন এই অবস্থায় ছিলেন ?

টেডঃ  প্রায় দুই বছরের মতো। ক্রিমিন্যাল এবং হিংস্র আচরণের ব্যাপারে তুমুল আগ্রহের সঙ্গে সঙ্গে এক ধরণের সঙ্কোচ কাজ করছিলো আমার ভেতরে। পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, প্রতিবেশী, স্কুল, গির্জা আমার মধ্যে এইধরণের সঙ্কোচবোধ তৈরি করে দিয়েছিলো।

আমি জানতাম- এই ধরণের কাজ সম্পাদনা তো দূরে থাক, এই ধরণের চিন্তা মনে আনাও ভুল। কিন্তু আমি ছিলাম খাদের এক্কেবারে কিনারে- নিজেকে বিরত রাখার শেষ চেষ্টাটুকু আমি চালিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু পর্নোগ্রাফি আমার কল্পনার জগৎকে এমনভাবে প্রভাবিত করেছিলো যে আমি প্রতিনিয়ত কেবল জর্জরিতই হচ্ছিলাম।

জেমস সি. ডবসনঃ আপনার কি মনে আছে- কোন ব্যাপারটা আপনাকে খাদের কিনারে এনে দাঁড় করিয়েছিলো ? যাবতীয় বিধি-নিষেধ হাওয়ায় উড়িয়ে দিলেন কীভাবে ?

টেডঃ এটা বর্ণনা করা খুবই কষ্টসাধ্য। ধ্বংসের চূড়ায় পৌঁছানোর জন্যে  আমার ভেতরে এক অদম্য উত্তেজনা কাজ করতো এবং আমি  জানতাম- এটা আমার নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। শৈশবে যে সীমারেখাগুলোর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিলো সেগুলো আমাকে পেছন থেকে টেনে ধরার জন্যে যথেষ্ট ছিলো না।

জেমস সি. ডবসনঃ এটাকে কি যৌন উত্তেজনা বলা যায় ?

টেডঃ এটাকে একরকম যৌন উত্তেজনা বলা চলে। এর সঙ্গে আরও কিছু ব্যাপার আছে। যেমন- বিধ্বংসী শক্তি গড়ে তোলার ব্যাপারে একরকম বাধ্যবাধকতা কাজ করতো। আরেকটা ব্যাপার যেটা না বললেই নয় সেটা হচ্ছে- অ্যালকোহলের সঙ্গে আমার সখ্যতা। পর্নোগ্রাফির ব্যাপারে আমার নগ্ন আসক্তির সঙ্গে এর যোগসূত্রটা কোথায় জানেন ? অ্যালকোহল আমার সঙ্কোচকে হ্রাস করেছে আর পর্নোগ্রাফি এটাকে ধীরে ধীরে বিনষ্ট করেছে।

জেমস সি. ডবসনঃ প্রথম খুন করার পরে আপনার উপর এর কী রকম প্রভাব পড়েছিলো ?  এরপরের দিনগুলোর অভিজ্ঞতা কী রকম ছিলো ?

টেডঃ এতোদিন পরে এসে এই ব্যাপারে কথা বলা একটু কঠিন। ব্যপারটা যদিও বলে বুঝানো কঠিন তবুও আমি চেষ্টা করছি। এটা অনেকটা  ভয়ঙ্কর কোনো দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার মতো ব্যাপার।  অতিনাটকীয়তা করতে না চাইলে আমাকে বলতে হবে-  এর সঙ্গে কেবল একটা জিনিসেরই তুলনা চলে। আমার নিজেকে বশীভূত মনে হচ্ছিলো- যেনো খুব ভয়ঙ্কর কিছু ভর করেছিলো আমার উপর। পরের দিন সকালে ঘুম ভেঙ্গে আমার কেবলই মনে হচ্ছিলো- আমি যা করেছি তার জন্যে আইনের চোখে এবং অবশ্যই ঈশ্বরের চোখে আমি অপরাধী। খানিক বাদেই যখন আমার খেয়াল হলো- পুরো কাজটা আমি  আমার নৈতিক মূল্যবোধকে অক্ষত রেখে খুবই ঠাণ্ডা মাথায় করেছি, আমি আতঙ্কে শিউরে উঠলাম।

জেমস সি. ডবসনঃ তার মানে খুনটা করার আগে আপনি জানতেনও না যে- আপনি এই ধরণের একটা কাজ করতে সমর্থ ?

টেডঃ আসলে এই ধরণের কাজ করার জন্যে ভেতরে ভেতরে যে প্রচণ্ড হিংস্র বাসনা কাজ করে- সেটা বর্ণনাতীত। আর একবার সেই কামনা চরিতার্থ হয়ে যাওয়া মাত্র ভেতরের বিধ্বংসী শক্তি রাতারাতি কোথায় যেনো মিলিয়ে যায়- আমি তখন নিজের মধ্যে ফিরে আসি। আসলে আমি ছিলাম খুবই সাধারণ একজন। আমি সরাইখানায় গিয়ে পড়ে থাকতাম না অথবা অকর্মাদের মতো ইতস্তত ঘুরেও বেড়াতাম না। আমি বাহ্যত যৌন বিকারগ্রস্থও ছিলাম না যাকে একপলক দেখেই লোকে বলে দিতে পারে- “ এর মধ্যে কোনো ভেজাল আছে। ” আমি ছিলাম খুবই সাধারণ একজন। আমার অনেক ভালো বন্ধু-বান্ধব ছিলো।

আমাদের মতো যারা মিডিয়ার হিংস্রতা বিশেষত পর্নোগ্রাফিক হিংস্রতা দ্বারা অতিমাত্রায় প্রভাবিত, তারা কেউই বাহ্যত দানবীয় নই। আমরা আপনাদেরই পুত্র, আপনাদেরই স্বামী। আর সবার মতোই আমরাও একটা পারিবারিক কাঠামোর মধ্যে বেড়ে উঠেছিলাম। কিন্তু এখন ব্যাপারটা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে- পর্নোগ্রাফি যে কারো বাসার মধ্যে  ঢুকে পড়ে এক ঝটকায় বাসার বাচ্চাটাকে পারিবারিক কাঠামোর বাইরে বের করে নিয়ে আসে। ঠিক যেমনভাবে বিশ-ত্রিশ বছর আগে এটা আমাকে ছোবল মেরে বাইরে বের করে এনেছিলো। আমার বাবা-মা তাদের ছেলেমেয়েদেরকে এসব থেকে বাঁচিয়ে রাখার ব্যাপারে আন্তরিক ছিলেন যেমনটা অপরাপর কট্টর খ্রিস্টান পরিবারেও হয় কিন্তু এসব প্রভাবকের ব্যাপারে সমাজ অনেকটাই শিথিল।  

জেমস সি. ডবসনঃ এই দেয়ালের বাইরেই শতো শতো সাংবাদিক আপনার সঙ্গে কথা বলার জন্যে গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। আপনি বেছে বেছে আমাকেই প্রবেশের অনুমতি দিয়েছেন কারণ আপনার বিশেষ কিছু বলা আছে। আপনার মনে হয়েছিলো- সফটকোর পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে হার্ডকোর পর্নোগ্রাফির দুনিয়ায় অনুপ্রবেশ ঘটে। এগুলো দর্শক ছাড়াও আরও অনেকভাবেই অন্যদের অপরিমেয় ক্ষতির কারণ হচ্ছে যেমন- মেয়েদের অ্যাবইউজড হওয়া এবং পরবর্তীতে নৃশংস মৃত্যুর জন্যে এগুলোই দায়ী।

টেডঃ আমি কোনো সমাজবিজ্ঞানী নই এবং ভান ধরে এটাও বলবো না যে- সভ্য সমাজের চিরাচরিত ধারনায় আমার বিশ্বাস আছে। কিন্তু আমি দীর্ঘদিন যাবত কারাগারে বন্দী এবং এই সময়ের মধ্যে আমি এমন অনেকের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি যারা ভায়োলেন্স ঘটানোর ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ। কিছু ব্যতিক্রম বাদে, তাদের প্রত্যেকেই পর্নোগ্রাফিতে গভীরেভাবে আসক্ত ছিলো। নরহত্যা সংক্রান্ত এফ.বি.আই এর নিজেদের রিপোর্ট  বলে- সিরিয়াল কিলারদের সাধারণ আগ্রহের বিষয় হচ্ছে পর্নোগ্রাফি। সুতরাং এটাকে উপেক্ষা করার কোনো উপায়ই নাই।  

জেমস সি. ডবসনঃ এই প্রভাবকগুলো না থাকলে আপনার জীবন কী রকম হতে পারতো ?

টেডঃ আমি জানি- এটা অনেক বেশি ভালো হতো। শুধু আমার জন্যেই না বরং আরও অনেক মানুষ যেমন ভিকটিম এবং তাদের পরিবারের জন্যেও ভালো হতো। এখানে কোনো প্রশ্নেরই কোনো অবকাশ নাই যে-  অনেক চমৎকার একটা জীবন হতো আমার।  আমি নিশ্চিত- প্রভাবকগুলো না থাকলে আমি কখনোই এই ধরনের ভায়োলেন্সের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলতাম না।

জেমস সি. ডবসনঃ আপনি কি কখনো আপনার সকল ভিকটিম এবং তাদের পরিবারের কথা ভেবে দেখেছেন ? এতোদিন বাদে তাদের জীবন আর আগের মতো নেই। তারা আর কখনোই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবে না- এটা ভাবলে কি আপনার মাঝে মধ্যে গভীর অনুশোচনা হয় না ?

টেডঃ    আমি জানি- মানুষ কেবল আমাকেই আমার কৃতকর্মের জন্যে দোষারোপ করবে। কিন্তু ঈশ্বরের কৃপায় দেরীতে হলেও আমি এমন একটা অবস্থানে এসে পৌঁছেছি যেখানে দাঁড়িয়ে আমি তাদের অসহনীয় বেদনা, তাদের ভোগান্তি অনুভব করতে পারি।  হ্যাঁ, অবশ্যই পারি ! বিগত কয়েকদিনে আমার সঙ্গে কয়েকজন তদন্তকারী কর্মকর্তার কথা হয়েছে অমীমাংসিত কেসগুলো নিয়ে- যেগুলোতে আমার সংশ্লিষ্টতা ছিলো। এতোদিন বাদে এসে এসব ব্যাপারে কথা বলা বেশ কঠিন। কারণ এটা ভয়ঙ্কর সেইসব অনুভূতি এবং চিন্তা-ভাবনাগুলোকে জাগিয়ে তোলে যেগুলো আমি একসময় বেশ ঠাণ্ডা মাথায় সম্পাদনা করেছিলাম।  অনুভূতিগুলোর দুয়ার পুনরায় খুলে গেছে এবং আমি সেইসব বিভীষিকার কথা ভাবলেই আঁতকে উঠি।

আমি আশা করবো- আমি যাদের অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়েছি তারা আমার অনুশোচনায় বিশ্বাস না করলেও এখন আমি যে কথাগুলো বলবো সেগুলো বিশ্বাস করবেন। আমাদের শহর, আমাদের সম্প্রদায় কিছু প্রভাবকের ব্যাপারে এতোটাই শিথিল যেগুলোর সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে।  আজ হোক কাল হোক এগুলো প্রকাশ পাবেই। মিডিয়ায় ভায়োলেন্স বিশেষত সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স এখন হরেক উপায়ে গিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমার ভয় হয় যখন আমি ক্যাবল টি.ভি. দেখি। আজকাল সিনেমার মাধ্যমে যেসব ভায়োলেন্স আমাদের বাসা অবধি পৌঁছে গেছে, ত্রিশ বছর আগে সেগুলো এক্স-রেটেড অ্যাডাল্ট থিয়েটারেও দেখানো হতো না।

জেমস সি. ডবসনঃ কাটা-ছেঁড়া দেখানো হয় এমন সব চলচ্চিত্রের কথা বলছেন?

টেডঃ দৃশ্যমান ভায়োলেন্সের চূড়ান্ত রূপ হচ্ছে এইটা। বিশেষতঃ যখন শিশুরা অরক্ষিত থাকে অথবা তারাও যে একদিন টেড বান্ডিতে বদলে যেতে পারে- এ ব্যাপারে অসতর্ক থাকে, তখন তাদের মধ্যে এই ধরণের আচরণ অনুকরণ করার প্রবণতা জন্মায়।

জেমস সি. ডবসনঃ আপনার কি মনে হয় রাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া এই সাজা আপনার প্রাপ্য?

টেডঃ খুব ভালো একটা প্রশ্ন করেছেন। মিথ্যা বলবো না- আমি  মরতে চাই না। এই শাস্তিটা আমার প্রাপ্য। অবশ্যই সমাজের সর্বোচ্চ শাস্তিটাই আমার প্রাপ্য। আমি মনে করি- আমি এবং আমার মতো অন্য যারা আছে তাদের থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখাটা সমাজের অধিকার। এ ব্যাপারে  সন্দেহের কোনো অবকাশ নাই। আমি আশা করবো- আমাদের আলোচনা থেকে এই ব্যাপারটা স্পষ্ট হবে যে, সমাজের তার নিজের কাছ থেকেই সুরক্ষা দরকার সবচেয়ে বেশী।

 যেটা আমি আগেও বলেছি- প্রভাবকগুলোর ব্যাপারে আমাদের সমাজের শিথিলতা চোখে পড়ার মতো। বিশেষতঃ এই ধরণের ভায়োলেন্ট পর্নোগ্রাফি। যখন সভ্য সমাজ টেড বান্ডিকে দোষারোপ করতে করতে পর্ন ম্যাগাজিনের পাশ দিয়ে দেখেও না দেখার ভান করে হেঁটে যাচ্ছে, তখন আসলে একদল তরুন তাদের অগোচরেই  টেড বান্ডিতে পরিণত হচ্ছে।  আক্ষেপের জায়গাটা ঠিক এখানেই।  

আমাকে মেরে ফেললেই ফুটফুটে বাচ্চাগুলো তাদের বাবা-মা’র কোলে ফিরে যাবে না অথবা আমার মৃত্যুতে তাদের কষ্টও লাঘব হবে না। কিন্তু এখনো অনেক ছোটো ছোটো বাচ্চা  যারা  এখন হয়তো রাস্তায় খেলাধুলায় রত, হয় কাল নয়তো পরশু মারা পড়বে। কারণ কী জানেন? অল্পবয়স্ক অনেক তরুণের কাছে আপত্তিকর ওইসব সামগ্রী এখন সহজলভ্য।

এই সাক্ষাৎকার গ্রহণের পরের দিন ঠিক সকাল সোয়া সাতটায় টেড বান্ডির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

অনুবাদ করেছেন- নাফিস রায়হান রিদিত । আল্লাহ (সুবঃ) তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুক । (আমীন)

টেড বান্ডি সম্পর্কে জানতে পড়ুন –

সিরিয়াল কিলার (প্রথম পর্ব) – https://bit.ly/2xfLATh
“সিরিয়াল কিলার (দ্বিতীয় পর্ব)- https://bit.ly/2COSULD
শেয়ার করুনঃ