Published on

শান্তি পাব কোথায় গিয়ে ?

hero image

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

আর ত্রিশ মিনিট পরে আপনার ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইলেক্ট্রনিক্স -২ পরীক্ষা । আপনি ওপ-এম্প এর সার্কিট ঠিকমতো সলভ করতে পারেননা , টাইমারের সার্কিট দেখলে মনে হয় কাগজে অর্থহীন কিছু আকাআঁকি । তারওপর কোর্স টিচার মারাত্মক রকমের হাড় কিপটা । নাম্বার দিতেই চান না , আর সেই সাথে তাঁর অতীত সুনাম আছে প্রশ্নপত্র কঠিন করে স্টুডেন্টদের সাথে “মজা” নেওয়ার । নিরুপায় হয়ে পরীক্ষায় আসতে পারে এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর পিডিএফ বানিয়ে আপনি মোবাইলে নিয়ে নিলেন । কিন্তু পরীক্ষার হলে মোবাইল নিয়ে যাওয়া নিষেধ । কোন স্টুডেন্টের কাছে মোবাইল পেলেই তৎক্ষণাৎ সেই স্টুডেন্টকে পরীক্ষার হল থেকে বহিষ্কার করে দেওয়া হয় । সেই সাথে একবছর ড্রপ । তো এরকম একটা ভয়াবহ পরিস্থতিতে, আপনি পকেট থেকে আলতো করে মোবাইল বের করে টুকলিবাজি শুরু করেছেন পরীক্ষার হলে । স্বাভাবিকভাবেই আপনি প্রচণ্ড অস্থিরতায় ভুগছেন । ফ্যানের নীচে থেকেও আপনার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে গেছে । হার্টবিট বেড়ে গেছে । আপনি সারাক্ষণ ভয়ে ভয়ে আছেন এই বুঝি স্যারের হাতে ধরা খেয়ে গেলেন ।

আপনার অন্তর বড় অশান্ত , বড় অস্থির ।

সুবহানআল্লাহ, একটু চিন্তা করে, দেখুন দুনিয়ার সামান্য মানুষের বানানো আইন ভাঙ্গার কারণে , খুব ছোট একটা অপরাধ করার কারণেই আপনার মনের শান্তি কর্পূরের মতো উবে গেছে । তাহলে আকাশ ও জমীনের সৃষ্টিকর্তা , যিনি একেবারে শূন্য থেকে সবকিছু সৃষ্টি করেছেন সেই মহিমান্বিত আল্লাহর (সুবঃ) আইন প্রতিনিয়ত ভেঙ্গে , প্রতিনিয়ত আল্লাহর সঙ্গে বিদ্রোহ করে আপনি কী করে অন্তরে শান্তি পাবেন? বলুন, কীভাবে শান্তি পাবেন ?

আল্লাহ (সুবঃ) আপনাকে বলেছিলেন দৃষ্টি সংযত করতে , চোখের হেফাজত করতে ।

"......মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।"

(সূরা নূর : ৩০)

আপনি প্রতিনিয়ত তাঁর সেই আদেশকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাচ্ছেন । রাস্তায় মেয়েদেরকে চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছেন , বন্ধুদের সঙ্গে মেয়েদের ফিগার নিয়ে থিসিস করছেন , গভীর রাতে আপনার মোবাইলের স্ক্রিন নীল হয়ে যায়, সার্ফিং করে বেড়ান এক্সরেটেড সব ওয়েবসাইটে, পর্নস্টার আর আইটেম গার্লরা আপনার ড্রিম গার্ল, স্বপ্নের রাজকন্যা । আপনি কিভাবে শান্তি পাবেন ?

বন্ধু , আড্ডা , গান , জিএফ, বিএফ , সিরিয়াল ,ফেসবুকিং, সেলফি , ডিএসএলআর, কেএফসি, পিৎজাহাট এগুলো নিয়েই আপনার কেটে যাচ্ছে অষ্টপ্রহর । ভাবছেন ,সুখেই আছি । বুকে হাত রেখে একবার সত্যি করে বলুন তো, আপনি কী আসলেই শান্তিতে আছেন, সুখে আছেন ?

কেন এক বিকেল বেলা ঘুম থেকে উঠে শেষ বিকেলের আলোয় অজানা কারণে আপনার মন খারাপ হয়ে যায়? গভীর রাতে কি যেন ভেবে আপনার চোখ ভিজে যায় জলে । দলা বাধা কষ্টগুলে ভিড় জমায় বুকের ভেতর । অন্তরটা খাঁ খাঁ করে । কি যেন নেয় আপনার । কোথায় যেন একটা অপরিপূর্ণতা । কোথায় যেন কিসের একটা অভাব । জীবনটা বড্ড বেশী জটিল মনে হয় ।

আইটেম গার্লদের কোমর দোলানি আর দেহের ভাঁজ দেখে আপনার মন কি অস্থির , অশান্ত হয়ে যায় না ? মনের ভেতরের পশুটা কি আপনাকে কুঁরে কুঁরে খায় না? প্রত্যেক বার পর্ন মুভি দেখার পর , মাস্টারবেট করার পর আপনার কি মরে যেতে ইচ্ছে করে না ? মনে হয়না কেন করলাম , কেন করলাম , কেন কেন ...... ?

কিসের নেশায় ডুবে আছেন ভাই আপনি ? কিসের নেশায় ?

পর্নস্টারের নিটোল দেহ , জিএফের ‘মনে ঝড় তোলা চোখ, আইটেম গার্লদের লাস্যময়ী হাসি ? আপনি এদেরকে কি একেবারে নিজের মতো করে কখনো পাবেন ? পাবেন না । এরা তো ইলিউশান ছাড়া কিছুই না । এরা একদিন বুড়িয়ে যাবে । দেহে অনেক ভাঁজ পড়বে , চামড়া কুচকিয়ে যাবে, দাঁত পড়ে যাবে , চোখ ধূসর হয়ে যাবে , চুল পাটের শনের মতো হয়ে যাবে । সবশেষে মাটির নীচে পোকা মাকড়ে খুবলে খুবলে খাবে এদের দেহ , গলে পচে দুর্গন্ধ ছড়াবে ।

এতেই আপনার এত আকর্ষণ! এদের কারণেই আপনি সেই জাহান্নামের আগুণকে তুড়িমেরে উড়িয়ে দিচ্ছেন , যা অন্তর পর্যন্ত পুড়িয়ে ফেলবে আর যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর ।

আপনি ভুলে যাচ্ছেন আপনার সেই “আয়তনয়না” জান্নাতি স্ত্রীর কথা যিনি আপনার জন্য লক্ষ কোটি বছর ধরে অপেক্ষা করে আছেন । যাঁর মাথার স্কার্ফ এই দুনিয়া এবং আকাশের মধ্যবর্তী সবকিছুর থেকেও উত্তম । প্রবাল ও পদ্মরাগ সদৃশ জান্নাতের স্ত্রীদের সৌন্দর্যের ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ (সুবঃ) সার্টিফিকেট দিয়েছেন ।

জান্নাতেও ঝুম বৃষ্টি হবে , আপনার জান্নাতি স্ত্রীকে নিয়ে রিকশায় বসে আপনি লক্ষ কোটি বছর ধরে বৃষ্টি বিলাস করতে পারবেন , হা করে জ্যোৎস্না গিলতে পারবেন , শেষ বিকেলের মরে আসা নরম হলুদ আলোয় দুজন দুজনার চোখের দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে দিতে পারবেন হাজার হাজার বছর ।

দুজনে ঘুরে বেড়াবেন জান্নাতের বাগানে । মাথার উপর থেকে ঝরে পড়বে গাছের ঝরা পাতা । আপনাদের শরীরে আলতো পরশ বুলিয়ে দিয়ে যাবে । আপনার স্ত্রী আপনার কাঁধে মাথা রেখে হাঁটবে , আপনি তাঁকে শোনাবেন জান্নাতের কোন প্রেমের গান , পশু পাখি অবাক হয়ে শুনবে আপনার গান । এত সুন্দর গান কে গায় তা দেখার জন্য চাঁদটাও হয়তো উঁকি দিবে আকাশে ।

আমি আপনি কত পাগল , কত পাগল !!!

......"নারী জাতির প্রতি ভালোবাসা , সন্তান সন্ততি , কাঁড়ি কাঁড়ি সোনা রুপা , পছন্দসই ঘোড়া , গৃহপালিত জন্তু ও জমীনের ফসল মানব সন্তানের জন্য লোভনীয় করে রাখা হয়েছে । অথচ এ সবই হচ্ছে পার্থিব জীবনের কিছু ভোগের সামগ্রী মাত্র । উৎকৃষ্ট আশ্রয় তো একমাত্র আল্লাহ্‌র কাছেই রয়েছে ।

(সুরা আলে ইমরান , আয়াত -১৪)

পর্নমুভির ফ্যান্টাসি , আইটেম গার্লদের গ্ল্যামারে কোন শান্তি নেই । এগুলো আপনার অন্তরকে ক্ষত বিক্ষত করে তোলে । শান্তি নেই ঝুম বৃষ্টিতে ‘জিএফের” সঙ্গে একি রিকশাতে পাশাপাশি বসে কাকভেজা হয়ে ভিজাতে, চাঁদনী পসর রাতে হা করে জ্যোৎস্না গিলাতে । এগুলো আপনাকে ক্ষনিকের আনন্দ দিতে পারে কিন্তু শান্তি দিতে পারে না ।

শান্তি আছে , আল্লাহর আদেশ মেনে দৃষ্টি হেফাজত করার মধ্যে । শান্তি আছে আপনার রবকে সিজদাহ করার মধ্যে , রবের সামনে রাতে একাকী দাঁড়িয়ে চোখের পানি ফেলাতে । নিজের নফসের অবাধ্যতা করে রবের দাসত্ব করাতে । ভাই এই শান্তি অমূল্য । দুনিয়ার কোন কিছুর বিনিময়ে এই শান্তি পাওয়া যায় না। একবার এই শান্তি পেলে আপনি বারবার চাইবেন এই শান্তি পেতে । একবার চেষ্টা করেই দেখুন না । একটা সপ্তাহ আল্লাহ্‌র নফরমানী না করে চোখের হেফাজত করে দেখুন না ফলাফল কি হয় । শান্তি না পেলে ভাল না লাগলে আবার আগের লাইফ স্টাইলে ফিরে গেলেন । একবার তো চেষ্টা করে দেখবেন ।

“ .........অবশ্যই আল্লাহর স্মরণে হৃদয় প্রশান্ত হয়।” (আল কুর'আনঃ সূরা ১৩, আয়াত ২৮).