Published on

নীল রঙের অন্ধকার (নবম কিস্তি)

আমি পর্ন দেখা শুরু করি আট বছর বয়স থেকে। তখন আমি স্কুলে পড়তাম। বন্ধুরাই আসলে আমাকে প্রথম এটা সম্পর্কে বলে। আমি ঐ দিনই তা দেখি। এভাবেই আমার আসক্তি শুরু হয়। ১২ বছর পরে আমি যখন কলেজে ভর্তি হই , তখনও আমি পুরোদমে পর্ন দেখা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। আসলে পর্ন থেকে দূরে সরে যাবার কোন ইচ্ছেই আমার ছিলনা। আমি নিজেও বুঝতে পারতাম যে এটা ঠিক হচ্ছে না কিন্তু কেন যেন এটা বাদ দিতে পারতাম না! এই আসক্তির ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কেও আমার তেমন কোন ধারণা ছিলনা। কতই না বোকা ছিলাম আমি!!!

.

সমস্যার শুরু হয় আমার বিয়ের পর থেকে। আমার মাথায় গেঁথে ছিল পর্ন ভিডিওগুলোর শিক্ষা। সত্যি কথা বলতে, যৌনতা সম্পর্কে আমি সবকিছুই জেনেছিলাম পর্ন থেকে । আমার স্ত্রী জানতো যে আমি পর্নমুভিতে আসক্ত। কিন্তু এ ব্যাপারে সে কখনো কোন কিছু বলতোনা। আসলে তারও এটা নিয়ে পরিষ্কার ধারণা ছিল না। সে ভাবতো আমার অন্য কিছু স্বাভাবিক চলছে আর তার প্রতিই বিশ্বস্ত থাকছি , তাই এটা নিয়ে তার চিন্তা না করলেও চলবে। আমি নিজেতো আসক্ত ছিলামই, পাশাপাশি তাকেও পর্ন দেখানো শুরু করি। আমরা চাইতাম পর্নমুভির মতো করে অন্তরঙ্গ হতে। আসলে এটা যে বাস্তবতা বর্জিত একটা জগৎ তা মাথাতেই আসতো না।

প্রথম প্রথম সে এটা করতো আমাকে খুশি করতে গিয়ে। কিন্তু পরে সে নিজেও আসক্ত হয়ে পড়ে। পর্নমুভি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটা অংশ হয়ে পড়ে।

.

সে আমাকে প্রায়ই জিজ্ঞাসা করতো কোন দৃশ্যটা আমার বেশি ভালো লাগে, তারপর সে পর্দার পর্ন অভিনেত্রীদের অনুকরণের চেষ্টা করতো। তার হাঁটা-চলাফেরা, সাজসজ্জা সব কিছুই হয়ে যাচ্ছিল পর্ন অভিনেত্রীদের মতো। আমি প্রথম দিকে খুশিই হতাম এই ভেবে যে, আমার স্ত্রী তো আমাকে খুশি করতেই এরকম করছে।

.

কিন্তু ঘটনা অন্য দিকে মোড় নিতে থাকে!

একদিন আমার স্ত্রী ‘গ্রুপ-সেক্স’ এর ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করল। এমনকি সে সমকামিতার প্রতিও আগ্রহী হয়ে ওঠে।আমি তাকে বোঝালাম যে সে ভুল পথে যাচ্ছে, বাস্তবতা আর কল্পনা গুলিয়ে ফেলেছে কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে!! যা সর্বনাশ হবার তা ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে!

বুঝতে পারছিলাম, আমরা ক্রমাগত ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

আমাদের মধ্যেকার সম্পর্ক দিন দিন খারাপ হচ্ছিল, ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকতো। এর মাঝে আমি শারীরিক অসুস্থতার অন্য চাকুরী হারালাম।চিকিৎসার জন্য পানির মতো টাকা খরচ হচ্ছিল। আমার প্রতি আমার স্ত্রীর ব্যবহার আমূল বদলে গেল। আমাকে যেন সে মানুষই মনে করতোনা।

সার্জারির ধকল আর তার এই ব্যবহারে আমি তখন টালমাটাল। হায়! আমার জীবনের সবই বুঝি শেষ।

কিন্তু এত কিছুর পরেও সে পর্ন আসক্তি কমাতে পারে নি, বরং আমাকেও নানা ভাবে জোরাজোরি করতো। কিন্তু সত্যি কথা বলতে আমার তখন স্বাভাবিক নড়াচড়া করতেই কষ্ট হতো,পর্ন অভিনেতাদের মতো অন্তরঙ্গ হওয়া তো দূরের কথা!

আরেকটা জিনিস লক্ষ্য করতে শুরু করলাম। আমার স্ত্রী তার অফিস শেষ হবার প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা পর বাসায় আসতে শুরু করেছে। আমি তেমন একটা গুরুত্ব দিলাম না। কারণ তার মাঝে অনেক খারাপ কিছু থাকলেও আমার সাথে প্রতারণা করবে এই চিন্তা ঘুণাক্ষরেও মাথাতে আনতাম না। এতোটুকু বিশ্বাস অন্তত আমার ছিল।

কিন্তু আমাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করে কয়েকদিন পরে সে নিজেই আমাকে আমার এক বন্ধুর কথা বললো।সে স্বীকার করলো যে তার সাথে সে এক,ধরনের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে এবং আমার চেয়ে তাকেই বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়। এরপর একদিন ব্যাগ গুছিয়ে সে আমার সেই বন্ধুর কাছে চলে গেল।

আমার মাথায় সত্যিকার অর্থে আকাশ ভেঙ্গে পড়লো! হৃদয়টা দুমড়ে মুচড়ে গেল!

আমি আমার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য অনেক ভাবে চেষ্টা করলাম। কিন্তু কিছুতেই কাজ হল না। শেষ পর্যন্ত আমাদের ‘ডিভোর্স’ হয়ে গেল। একটা সুন্দর সাজানো সংসার শেষ হয়ে গেল।

ডিভোর্সের কয়েক মাস পরে বিভিন্ন দিক চিন্তা করে আমি বুঝতে পারলাম যে এই সব কিছুর মূলে রয়েছে পর্নোগ্রাফি।

আমার স্ত্রী তো শুরুতেই এরকম ছিল না। পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হওয়ার পর থেকেই তার এই পরিবর্তন শুরু। আমিই তাকে পর্ন দেখানো শুরু করেছিলাম। আর এর প্রায়শ্চিত্ত করলাম তাকে হারিয়ে ফেলে।

স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কের মাঝে নানা দিক থাকে। দায়িত্ববোধ, সহানুভূতিশীলতা, ভালবাসা সবকিছুই থাকে। অথচ আমরা এটা শুধু যৌনতার মাঝেই আটকে রেখেছিলাম। তার ফলাফল তো আমরা নিজেরাই ভোগ করলাম । আমি কোন দিন ভাবতে পারিনি সে আমাকে ছেড়ে অন্য কারও কাছে চলে যাবে।তাকেই’বা দোষ দেই কীভাবে?

আমার শারীরিক অসুস্থতাকে সে অক্ষমতা মনে করে নিজেকে বঞ্চিত ভাবতো। যার ফলাফল গিয়ে দাঁড়ায় ডিভোর্সে।”

====

আমাদের সমাজে এমন অগণিত দম্পতি রয়েছেন যারা একসঙ্গে মিলে পর্ন দেখেন।এর পেছনে অনেক গুলো কারণ থাকতে পারে। শয়তানের কুমন্ত্রণা রয়েছেই, সেই সঙ্গে একটু বাক্সের বাহিরে যেয়ে অন্তরঙ্গতাকে উপভোগ করতে চাওয়া। এটা ভেবে তারা ভুল করেন যে দুজনে একসঙ্গে পর্ন দেখলে বিছানায় প্রেমের তুফান বয়ে যাবে, ভালোবাসা জমে ক্ষীর হয়ে যাবে। অথচ বাস্তবতা পুরোটাই বিপরীত। স্বামী স্ত্রী মিলে একসঙ্গে পর্ন দেখতে বসার মুহূর্তেই তারা নিজ হাতে লিখে ফেলেন তাদের প্রেমের এপিটাফ। ১০৮টি নীলপদ্ম সিরিজে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এখানে সে আলোচনা পুনরায় টেনে আনা পাঠকদের শুধু বিরক্তিই উৎপাদন করবে। পাঠকদের নিকট হাতজোড় করে অনুরোধ করছি পড়ে আসুন ১০৮ নীলপদ্ম সিরিজের সবকয়টি পর্ব।

১০৮টি নীলপদ্ম (প্রথম পর্ব)-https://goo.gl/4oSpTV

১০৮টি নীলপদ্ম (দ্বিতীয় পর্ব)- https://goo.gl/98xQZV

১০৮টি নীলপদ্ম (শেষ পর্ব) http://bit.ly/2rsdkEv

মূল লিখার রেফারেন্সঃ

https://fightthenewdrug.org/asking-wife-to-watch-porn-with-me-ruined-our-marriage/

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)