এই পোস্টে যেই ছবি গুলো দেখছেন তা বাংলাদেশে তোলা এবং ‘HIGH COMMISSION OF CANADA TO BANGLADESH’ এর ভেরিফাইড পেইজ থেকে নেওয়া।

যারা জানেন না, তাদের জন্য উল্লেখ করছি, ছবিতে রঙিন যে পতাকা দেখতে পাচ্ছেন এটা হচ্ছে এলজিবিটি (লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল, ট্রান্সজেনডার) কমিউনিটির পতাকা। ফেসবুকে এই মাসে (জুন মাসে) নিশ্চয়ই বিভিন্ন পেইজে এই পতাকার রঙে করা ছবি দিতে দেখেছেন। যারাই দিচ্ছে তারাই সমকামিতা সহ নানা অনৈতিক এবং জঘন্য কিছু পাপের সমর্থনেই দিচ্ছে!

সমকামিতা ইসলামে হারাম এবং এমনকি এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের আইনেও  অবৈধ!

কিন্ত কানাডা, আমেরিকা,যুক্তরাষ্ট্রের মত কিছু দেশ তা পুরা বিশ্বে এবং তার মানে বাংলাদেশেও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রোপ্যাগান্ডা চলাচ্ছে!

আজ কানাডিয়ান হাই কমিশনের বাংলাদেশ ভিত্তিক পেইজ, বিভাগ প্রকাশ্যে সমকামিতা প্রমোট করার সাহস দেখাচ্ছে! তারা তাদের পোস্টে নিজেরাই লিখেছে যে তারা বাংলাদেশে সমকামী অধিকার গড়ে তুলতে চায়! তার এতটাই সাহস পেয়ে গিয়েছে যে এখন আর গোপনেও কাজ করছে না!

আর এই পতাকা উড়ানোতে তাদের সাথে  আমেরিকা, ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাসের প্রতিনিধিরাও যোগদান করেছিল- যেটা তাদের পোস্টে উল্লেখিত আছে। এবং সেসব দূতাবাসকেও ট্যাগ দেওয়া আছে।

এবং এসব কিছুর মধ্যে আমার মুসলিম হিসেবে সবচেয়ে কি বেশী খারাপ লেগেছে জানেন? এই পোস্টের অধিকাংশ রিএক্ট   মুসলিম এবং কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশীদের থেকে। এবং পজিটিভ রিএক্টের সংখ্যাই বেশী। যেই কয়েকজন প্রতিবাদ করেছে তাদের উপর যেন একেবারে ঝাপিয়ে পড়েছে মুসলিম নামধারী লিবারেলরা।

আজ বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেপরোয়া ভাবে সমকামিতা প্রমোট করা এবং সমাকামীদের প্রিয় দেশের মধ্যে অন্যতম একটি দেশ হল, কানাডা।

কিন্ত অনেক বড় এক অংশ অবুঝ বাংলাদেশী জনগণ কানাডাকে রীতিমত পৃথিবীর মাঝে এক বেহেস্ত মনে করে। এবং তাদের প্রধানমন্ত্রীকে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ লিডার টাইপের কিছু একটা মনে করে! কিছু হলেই ‘ঈশ! আমাদের যদি ট্রুডোর মত লিডার থাকত এরকম আফসোস করতে দেখা যায়!’

কিন্ত আপনি কি জানেন যে জাস্টিন ট্রুডো কানাডার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সমকামি সাপোর্টিং প্রধানমন্ত্রী? এবং সে সবচেয়ে বেশী প্রাইড প্যারেডে ( সমকামীদের র‍্যালি)  গিয়েছে?  পুরুষ এবং পুরুষের মাঝে বিয়ে, মহিলা এবং মহিলার মাঝে বিয়ে এসব খুব শক্তভাবে সমর্থন করে সে? ( পোস্টের  ছবি দেখুন, সমকামিদের পতাকা হাতে ট্রুডো। এরপরেও সন্দেহ থাকলে রেফারেন্সে দেওয়া লিংকগুলো চেক করে নিন)

কেন আজ বাংলাদেশীদের কাছে এত প্রিয় এই সমকামী দেশ এবং তার  প্রধানমন্ত্রী?

শুধু মাত্র সুন্দর কিছু কথা, ঈদ মুবারক ভিডিও আর সহজ ইমিগ্রেশন পলিসি পেয়েই বাংলাদেশীরা বোকা হয়ে গিয়েছে!

কেন আমরা আজ প্রশংসার জন্য সমকামিতার সমর্থক লিবারেলদের দিকে তাকিয়ে থাকব?

আর কেনই বা সমকামী দেশে যাওয়ার জন্য এতই উদগ্রীব থাকব?  তারা সহজ ইমিগ্রেশন দিলেই তাদের ভালো চোখে দেখব?

এবং দেখুন যেসব মুসলিমরা সেখানে থাকছে তাদের বেশিভাগ অলরেডি ব্রেইন-ওয়াশড হয়ে সমকামিতার মত জঘন্য পাপ সমর্থন করছে! কারন, আপনি যখন একটা দেশকে এবং তার লিডারকে সুপিরয়র মনে করবেন তাদের তারা যাই প্রচারিত হবে তা দ্বারা আপনি অনুপ্রাণিত হবেন!

এবং আজ কানাডার মত প্রথম বিশ্বের দেশে যেসব মুসলিম পরিবারের ছেলে মেয়ে ছোট থেকে বড় হচ্ছে তারা ইসলাম থেকে অনেক দুরে সরে যাচ্ছে। এবং ইসলাম থেকে দূরে সরে  যাওয়ার হার অনেক বেশী! এবং বর্তমানে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে তাদের মাঝে অধিকাংশই সমকামিতা, লিবারেলিজম, সেকুলারিজম ইত্যাদি সমর্থন করে! কানাডায় থাকা এক ভাইয়ের অভিজ্ঞতা পড়ুন এখানে

এবং সেখানে আরেকটি ব্যাপার হল মুসলিমদের উপর ব্যাড কপ – গুড কপ মেথড চালানো হয়েছে। এক রাজনৈতিক দল কিছুটা সহজ ইমিগ্রেশন পলিসি দেয় আর একটা কিছুটা কঠিন। এখন সহজ পলিসির লোভে এই দুই এর মাঝে মুসলিমরা একটা পার্টি সাপোর্ট দেয়, যারা কি না সমকামিতার মত পাপও প্রমোট করে! আর এটা আমার কোনো থিওরি না। তারা নিজেরাই বলছে, তারা নিজেরাই বলছে যে তারা বিশ্বে সমকামিতা ছড়িয়ে দিতে চায়! তাহলে তাদের সহজ ইমিগ্রেশন পলিসির পিছনে নিয়্যত কী তা আমাদের ভেবে দেখা উচিৎ না? এমন কি হতে পারে না যে তারা দেশের আপার ক্লাসদের তাদের দেশে নিয়ে এসব আইডিওলিজিতে অভ্যস্ত করে দিতে চায় যেন তারা সেটা নিজ নিজ দেশে ছড়িয়ে দিতে ভুমিকা পালন করে? এখন দেখা যাচ্ছে অনেক মেধাবি ছাত্র যে কি না দেশে থাকতে মুসলিম ছিল, ইসলাম প্র্যাকটিস করত সে বাহিরে পড়াশোনা করতে যেয়ে ধর্ম ছেড়ে দিচ্ছে। বা শুধু নামে মুসলিম থেকে এসব অপকর্ম সাপোর্ট করছে! তাহলে কী হচ্ছে? বিভিন্ন দেশের কিছু স্কিলড মেধাবিদের নিয়ে যেয়ে ব্রেইন-ওয়াশড করে দেওয়া হচ্ছে! কিন্ত আজ আমরা মুসলিমরা এসব নিয়ে চিন্তা করি না! কিছু টাকা কামানোর সুযোগ পেলে, বস্তুগত কিছু সুবিধা পেলে সব ভুলে যাই।

আর বাংলাদেশেও ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে এই শুনে বড় হচ্ছে, যে জাসটিন ট্রুডো  অসাধারণ নেতা। বাংলাদেশেও তার মত প্রয়োজন। এখন এর ফলে তারাও কি অবচেতন মনেই প্রভাবিত হচ্ছে না ট্রুডোর মত নেতাদের আইডল হিসেবে দেখতে! আপনি হয়ত বিস্তারিত যাচ্ছেন না, কিন্ত আপনার এরকম মন্তব্যের কারনে অন্য কেউ বা ছোট কেউ তার ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে তার মত হতে চেতে পারে। আমাদের ইসলামিক ইতিহাসে অসাধারণ সব নেতৃত্বের উদাহরণ আছে যাদের আমরা প্রশংসা করতি পারি, অনুপ্রেরনা নিতে পারি,  আল্লাহ্‌র রাসুল হজরত মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছেন। আমরা কেন অন্য কোন দিকে তাকাব?

 

জাস্টিন ট্রুডো সমকামীদের পতাকার রঙের সাথে মিলিয়ে মোজা পরে একাত্মতা ঘোষনা করছেন।

কানাডিয়ান হাই কমিশনের সমকামিতার সমর্থন দিয়ে করা পোস্টের ছবি – ১

 

 

কানাডিয়ান হাই কমিশনের সমকামিতার সমর্থন দিয়ে করা পোস্টের ছবি – ২

কানাডিয়ান হাই কমিশনের সমকামিতার সমর্থন দিয়ে করা পোস্টের ছবি – ৩

কানাডিয়ান হাই কমিশনের সমকামিতার সমর্থন দিয়ে করা পোস্টে এক বাংগালী – কানাডিয়ান মুসলিমের ধন্যবাদ জানিয়ে করা কমেন্ট

নোট ১- কানাডিয়ান হাই কমিশনের এই পোস্টটি ১ বছরের আগে, আজ নতুন করে সমকামিতা ইস্যু আলোচনায় আশায় এখন পোস্টটা দিচ্ছি। আমি এটা সেই সময়েই দেখেছিলাম এবং বিভিন্ন পপুলার ইসলামিক পেইজে মেসেজ দিয়েছিলাম। কিন্ত ১০-১২ টা পেইজে মেসেজ দিয়েও একটা রিপ্লাইও পাই নাই। একেবারে কেউ আগ্রহ দেখায় নাই। তখন অবশ্য এই গ্রুপের মত কিছু গ্রুপ এবং পেইজ এবং লেখকদের চিনতাম না। তবে, এটা দুঃখের বিষয় যে আমাদের দেশের পপুলার ব্যক্তিরা এই বিষয়ে কোন সচেতনতা সৃষ্টি করছে না। ধরেন মিজানুর রহমান আজহারির মত ব্যক্তিত্বরা যাদের মিলিওন মিলিওন ফলোয়ার তারা এই ব্যাপারে কথা বললে কত বেশী মানুষ জানতে পারত!
সমকামীরা আইন বদলানোর জন্য লবিং করে যাচ্ছে, কাজ করে যাচ্ছে কোন বিরতি ছাড়া, আর আমরা মুসলিমরা ঘুমিয়ে আছি, তাদের যাদের কাছে আল্লাহ্‌র গাইডেন্স নাই তাদের কাজের গতি যদি আমাদের চেয়ে বেশী হয় তাহলে কিন্ত এর দায় আমাদের নিতে হবে, এর উত্তর আমাদের দিতে হবে, যখন আমাদের সমাজে এসব ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল, তখন আমরা মুসলিমরা কী করছিলাম?

চলুন আমরা জেগে উঠি, সবাই মিলে চেষ্টা করলে সফলতা আমরাই পাব ইন শা আল্লাহ্‌

নোট ২- উল্লেখ্য, ইরাকেও কানাডা, ইংল্যান্ড সহ কয়েকটি দেশ  সমকামিতার সমর্থনে পতাকা উড়িয়ে সোস্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করেছিল। কিন্ত পরবর্তীতে, ইরাকের প্রতিবাদ/অনুরধে তারা সেই পোস্ট ডিলিট করে দেয়। তার মানে ব্যাপারটা এমন না যে বাংলাদেশ সরকারের এখানে কিছু করার নাই। সরকার কী কিছু শুনছে?

 

চলবে ইনশা আল্লাহ…

(লেখক- অজ্ঞাত। কেউ লেখকের সন্ধান জানলে আমাদের জানাতে পারেন ইনশা আল্লাহ। আমরা এড করে দিব।)

(লস্ট মডেস্টি টিম কর্তৃক সম্পাদিত)

অবশ্যই পড়ুন-

সমকামি এজেন্ডাঃ ব্লু-প্রিন্ট

আর রিজালু বির রিজাল…

 

রেফারেন্সঃ

[১] High Commission of Canada to Dhaka, post source-  https://tinyurl.com/y74nju2b

[১] Justin Trudeau becomes first Canadian PM to visit a gay bar- https://tinyurl.com/y2kkpe53

[২] ‘I Am Sorry. We Are Sorry.’ Read Prime Minister Justin Trudeau’s Formal Apology to Canada’s LGBTQ Community- https://tinyurl.com/ycfuo9br

[৩] Justin Trudeau becomes first Canadian PM to march in Toronto’s Pride parade- https://tinyurl.com/y7r5conu

[৪] Trudeau, Quebec dignitaries march in Montreal Pride parade- https://tinyurl.com/ycssboqv

শেয়ার করুনঃ