এই লকডাউন আমাদের অনেক কিছুই বোঝার ও উপলব্ধি করার সু্যোগ দিয়েছে। মুক্তমনাদের চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে ” My life, my Rule ” এর অসারতা। কি অবাক হচ্ছেন!

সেকুলার মিডিয়া ও ফেসবুকে ইসলাম বিদ্বেষীদের প্রকোপে বা কল্যাণে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে জানাযার খবর বা বহিঃদেশের মধ্যে ইন্ডিয়া তে তাবলীগ জামাত নিয়ে coronazihad নিউজ টা তো কারো অজানা নয়। কিন্তু উন্নত বিশ্ব ও সভ্যতার ধারক বাহক দেশগুলো মৃত্যু ঢল থাকার পড়েও তাদের anti -lockdown প্রটেস্ট আমাদের চোখে পড়তেছে না।
.
মিশিগানে মানুষরা আর্মড হয়ে প্রটেস্ট করতেছে, বন্দুক নিয়ে ঘুরতেছে। তারা আর বাসায় থাকবে না। সবাই জার্নালিস্ট দের বলতেছে-
” You are the virus” [1]

Idaho স্টেট এ মানুষ অপেন স্ট্রীটে প্রটেস্ট রত অবস্থায় হুংকার দিচ্ছে ” Freedom over Fear ” [2]

Pennsylvania এর উন্নত জায়গায় কথা শুনলেই আমাদের লোম দাড়িয়ে যায় টাইপ অবস্থা। সেখানের Harrisburg এ অপেন স্ট্রীটে হাজার মানুষের সামনে সবুজ ট্রাকে শোডাউন হচ্ছে ” Jesus Is my vaccine ” [3]

Virginia স্টেট এর শিক্ষিত মানুষজন মনে করছে এই লকডাউন তাদের মানবিক অধিকারে আঘাত হানতেছে। তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে করা হচ্ছে। তাই তারা হুংকার দিয়ে ” pro-choice” স্লোগান দিচ্ছে –
“My body, My choice “[4]

বিজ্ঞানপুরীর মানুষজন anti vaccination এর টি শার্ট পরে প্রটেস্ট এ নেমে পড়েছে এবং জানায় তারা বিজ্ঞানী আর হেলথ কেয়ারদের বিশ্বাস করে না। Austin, Texas এ মানুষ “Fire Fauci ” করে করে চিক্কুর পেড়ে গলা ভেংগে ফেলছে। যে কিনা Dr Anthony Fauci, director of the National Institute of Allergy and Infectious diseases. [5]

Lansing, Michigan প্রটেস্টারদের টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হইলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করে। ” Give me work, Not money, I hear that ” [6]
.
এরকম শখানেক নিউজ তুলে আনা যাবে। Google করলেই হাজার ছবি আর বড় বড় নিউজের লিংক পেয়ে যাবেন৷এইখানকার প্রথম টা বাদে সবগুলোই খানিকটা পুরনো এপ্রিল মাসের যখন ২০০০-২৫০০ মানুষ মারা যাচ্ছিল একদম পিক পয়েন্টে। তখন সেখানকার মানুষের আচরণ। কি ভাবছেন US এ অনেক মানুষ তাই এরকম কাজ ঘটবেই। এটা কিছু না। US এর উপর আমাদের ঈমান আসলেও অনেক শক্ত। আসেন অন্য দেশগুলোর অবস্থা দেখি।
.
৩৩০০০ মৃত্যুর মুখ দেখা UK এর স্বাধীনতাকামী মানুষজন লিফলেট বিলাচ্ছে “bring a picnic, some music and [have] some fun and say yes to life”[7]

অনেকে মনে করতেছে এইটা ফেক ভাইরাস এবং বিল গেটস এর ষড়যন্ত্র। অনেকে আফসোস করতেছে এই জেনারেশন এ এসে আমাদের কেন ফ্রিডম নাই [8]

Scotland এ সভ্য সমাজের মানুষেরা protest এর জন্য সবাই মিলে “Group hug ” করতেছে। No more Lockdown, No more House Arrest করে করে চেচাচ্ছে। [9]

এরকম আরো রংতামাশার পসরা বসিয়ে রেখেছে Uk এর প্রটেস্টাররা। পোলান্ডের মানুষ জড়ো হয় তারা লকডাউন মানবে না, তাদের অনেকের চাকুরী আছে জার্মানিতে তারা সেখানে যাবে। [10]

Ivory coast এর মানুষজন হেলথ অফিশিয়াল এতটাই কম বিশ্বাস করে যে তারা টেস্টিং কিট সেন্টার ধ্বংস করে দিছে আর ভাবতেছে তারা কাল তাই তাদের কিছুই হবেনা। [11]

এছাড়াও ইন্ডিয়া, বেলজিয়াম,ইরাক, লেবানন, জার্মানি সহ আরো অনেক দেশে এইরকম প্রটেস্ট দেখা যাচ্ছে এই সময়ে। [12]
.
এত কাসুন্দী কেনই বা টানলাম। এরা তো আসলে মেজর portion না৷ এদের কারণে পুরা পৃথিবীর লকডাউন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে না। তাই তো!!

কিন্তু মানবতাবাদী ও হিউমান রাইটস এর ফেরিওয়ালা দের তো এইসব প্রটেস্ট এর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করার কথা ছিল। তাদের খুব প্রিয় ডায়ালগ ” My body, My choice “। তাহলে তারা কেন গর্জে উঠছে না। ও মাস্ক পড়তেছে না, বাইরে ঘুরতেছে না, ও মরবে। আমি তো বাসায় আটকা আছি সেফ আছি। দুইটা মতই আমাদের প্রাধান্য দেওয়া উচিত৷ মানুষকে বাইরে গেলে আটকানোর অধিকার আমাকে কে দিয়েছে!! তারা কিন্তু সরাসরি ভাবে মানুষের ক্ষতির কারণ না৷ হতে পারে পরোক্ষভাবে। ওদেরও ফিলিংস আছে, ওর মন আছে, মানসিকভাবে সুস্থ না থাকলে দেহ নিয়ে বেচে থেকে কি লাভ। অনেক গবেষণায় বলছে এই লকডাউনের জন্য US এর ৭৫০০০ মানুষ আলকোহল ও সুইসাইডে মারা যাবে। [13]
.
কই এরকম আবেগ কপচানো মানুষ পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ এক মিডিয়া এসব জিনিসে ফুয়েল দিচ্ছেনা, গভার্নমেন্ট সাথে নাই। আর তাদের নিজেদের গায়েও আগুন ভাপ টা পড়তেছে।সবচেয়ে বড় কথা তারা কেউই নৈতিকভাবে সৎ না। Individualism আর Materialistic মানুষজন হঠাৎ সামাজিক ভাবে বাচার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।

” আমি তো কারো ক্ষতি করছি না ” এইসব পাবলিকদের এই বিষয়ে হ্যারিকেন দিয়ে খুজলেও পাওয়া মুশকিল।

Passive smoking এর মাধ্যমে কত মানুষ ফুসফুসের রোগী হয়ে যাচ্ছে তা কি কোনো ক্ষতি না?
.
উপরের আন্দোলন গুলার সাথে ঠিক কয়েকদিন আগের LGBTQ আন্দোলনের খুব সুন্দর একটা মিল পাওয়া যায় আদর্শিকভাবে । সমকামিতা এবং তার অবাস্তব সাংসারিক জীবন যে সামাজিক বন্ধন নষ্ট করে দিচ্ছে এই ব্যাপারে কোনো আলাপ তো নেই৷যেখানে এইটার জীনগত কোনো প্রভাব নেই,[18] এইটা কেবল মানুষের প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং শিশুকাম, পশুকামের মতো যৌন বিকৃতি। [15] (বিস্তারিত জানতে পড়ুন, দারুল ইহদার ‘অভিশপ্ত রংধনু’) ।
.
তারপরেও উন্নত দেশে আমাদের বাচ্চা কাচ্চাদের জোর করে শেখানো হচ্ছে এইটাই স্বাভাবিক। এই শিক্ষা হয়ে গেছে আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক!!! এইটা সবাই জানে ছোট বয়সের শিক্ষার প্রভাব জীবনে দৃড়ভাবে থাকে আর তখনকার শিক্ষাকেই মানুষ সত্য বলে মেনে নেয়। এই হচ্ছে ফ্রিডম অফ চয়েসের নমুনা।

সমকামীদের বাচ্চা কাচ্চাদের মানসিক অবস্থা কি হয় তা নিয়ে আমরা কেউ ভাবিনা। তাদের অধিকাংশ STD, piles হয়ে কাতরাচ্ছে কিংবা pedophile হয়ে যাচ্ছে তার কোনো খোঁজ নেই।
.
আসেন আমাদের দেশের কথাই কিছু বলি না হয় – Lifespring এর কিছু কেইস। [17]

“আমার হাজব্যান্ড Bi-sexual। ও যেসব ছেলেদের সাথে এসব করে তাদের একটা নিজস্ব গ্রুপই আছে। আমার বিয়ের ৮ বছর পর আমি এটা জানতে পেরেছি। আপা আমি কেমন করে সহ্য করবো বলেন? আমার ঘেন্নায় মাঝে মাঝে মরে যেতে ইচ্ছা করে। আমাদের ঘরে দুইটা বেবি। ওদের মুখের দিকে তাকায় দাঁত কামড়ে পড়ে থাকি। কাকে বলব? কে বিশ্বাস করবে।”

-এই পুরো পরিবার ধ্বংস এবং দুইটা ফুটফুটে বাচ্চার দায় কি পড়তেছে কারো গায়ে। ঐ লোক তো কাউকে ক্ষতি করেনি। করেছে কি?
.
“আমার হোস্টেলে অনেকেই হোমো-সেক্সুয়াল। আমিও অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আগে আমার মেয়েদের দেখে এক্সাইটেড লাগতো। কিন্তু ৪ বছর ছেলেদের সাথে করতে করতে এখন মেয়েদের দেখে তেমন ফিল আসেনা। কিন্তু আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই!”

– এর স্বাভাবিক জীবনকে অস্বাভাবিক করতে পরিবেশ কি দায়ী নয়। এই দায় কে নেবে?
.
“আমি Foot Fetish। আমার কালেকশনে ২০০০+ মেয়ের পায়ের ছবি আছে যেগুলো দেখলে আমি সেক্সুয়ালি এক্সাইটেড হই। মেয়ে দেখলেই হামলে পড়তে মন চায়। বউকে অত্যাচার করে ফেলি ।”

এই ছেলেও খালি পর্নোগ্রাফি দেখত কারোর ক্ষতি করার নিয়ত ছিল না।
.
“প্রতিরাতে আমাকে মেরে মেরে তারপরে সে সেক্স করে। আমি ব্যথায় চিৎকার না করলে সে নাকি এক্সাইটেড হয়না! ওর অনেক টাকা। আমি গরীব ঘরের মেয়ে। আমাকে বাবা-মা বলে মুখ চেপে এখানে পড়ে থাকতে!”
.
কিন্তু তারপরো আমরা বলব পর্নোগ্রাফি একটা শিল্প, স্রেফ অভিনয় আর ধর্ষণ কমানোতেও এর ভূমিকা রয়েছে!

কুকুর কিংবা অন্য পশুর সাথে [14] সংগম করে এসে বাবা হিসেবে সে ছেলেকে কি নৈতিক শিক্ষা দিবে! কিন্তু তাকে মানা করতে গেলে বা সংশোধন করানোর জন্য এগুলে মানবতাবাদী সবাই তেড়ে আসবে ” Don’t Judge “.
.
মানবতাবাদীরা মুখে কথার ফুলঝুড়ি দিয়ে তাদের কার্যহাসিল করবে এবং তাদের পুজিবাদি চিন্তার বাস্তবায়ন ঘটাবে। কিন্তু এইটার দায়ভার নেওয়ার সময় হাত পা গুটিয়ে পালাবে৷ সবশেষে এই আজাবের ফল ভোগ করতে হচ্ছে পরিবার এবং কাছের মানুষদের। এই জ্বালা ভুক্তোভোগী ছাড়া কেউ টের পাচ্ছে না।

এই মানবতাবাদীদের মতে মানবিক বৈশিষ্ট্য, মূল্যবোধ ও বিশ্বাস পুরোপুরি পরিবেশের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। এইখানে নৈতিক মূল্যবোধ বা সার্বজনীন সত্যের কোনো স্থান নেই।

তাই এদের ব্যাপারে Dr Devid Ray Griffin বলেছেন, বস্তুবাদ ও ইন্দ্রিয়বাদ (sensationalism) যখন নাস্তিকতার সাথে সমন্বিত হয় তখন একটি নিয়ন্ত্রণবাদী (জড়), আপেক্ষিক ও শুন্যবাদী (nihilistic) দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠে যেখানে জীবনের চূড়ান্ত কোনো অর্থ নেই [16]
.
সামাজিকভাবে আমরা এদের স্টান্ডার্ড কে অন্ধ অনুকরণে ব্যস্ত, সামাজিকভাবে এমনিতেও চারিদিকে পচনের দুর্গন্ধ ছড়ানো শুরু করেছে। এখন তাই আমাদের উচিত সবাইকে নামায, ইবাদতের সাথে সাথে বেশী বেশী পরিপূর্ণ ইসলামি জীবনব্যবস্থার প্রতি দাওয়াত দেওয়া। নৈতিকতার মানদন্ড হিসেবে আল্লাহর মানদন্ড কে দৃড়ভাবে আকড়ে ধরা। কারণ আজকে অন্যায়কে পার্সোনাল ব্যাপার বলে ইগনোর করলে হয়তো কালকে সেটা আপনার ঘরেই চর্চা করা হবে। তখন আসল দূর্গন্ধ টের পাবেন। তাই আগেই সচেতন হওয়া উচিত এবং অন্যায়কে অন্যায় বলেই আখ্যায়িত করা উচিত।
.
শেষে কোরআনের আয়াত দিয়ে শেষ করছি

اَفَرَءَیۡتَ مَنِ اتَّخَذَ اِلٰـهَهٗ هَوٰىهُ وَاَضَلَّهُ اللّٰهُ عَلٰی عِلۡمٍ وَّخَتَمَ عَلٰی سَمۡعِهٖ وَقَلۡبِهٖ وَجَعَلَ عَلٰی بَصَرِهٖ غِشٰوَةً ؕ فَمَنۡ یَّهۡدِیۡهِ مِنۡۢ بَعۡدِ اللّٰهِ ؕ اَفَلَا تَذَكَّرُوۡنَ

তুমি কি সেই ব্যক্তিকে দেখেছো, যে তার প্রবৃত্তিকে তার উপাস্য বানিয়েছে? আল্লাহ জেনে শুনেই তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তার কানে ও অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তার চোখের ওপর একটি আবরণ লাগিয়ে রেখেছেন। অতএব, আল্লাহর পরে তাকে আর কে পথ দেখাবে? তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না? (সুরা জাসিয়া ঃ২৩)
.
এরপরো কি আমরা উপদেশ গ্রহণ না করেও আল্লাহর হুকুমের উপর প্রবৃত্তিকে প্রাধান্য দিব!
_____
রেফারেন্স-
[1] https://www.washingtonpost.com/nation/2020/05/15/noose-fight-coronavirus-protest/
[2] https://www.youtube.com/watch?v=2CfxNRV3GHQ
[3] https://twitter.com/miguelmarquez/status/1252262768591491072?s=19
[4] https://wset.com/newsletter-daily/gallery/groups-plan-to-protest-va-lockdown-in-richmond-thursday
[5] https://twitter.com/mannyNYT/status/1251564861257113602?s=19
[6] https://www.youtube.com/watch?v=4goSjEsJKuA&feature=youtu.be&t=344
[7] https://www.independent.co.uk/news/uk/home-news/coronavirus-lockdown-protests-uk-london-hyde-park-5g-conspiracy-theories-a9518506.html
[8] https://news.sky.com/story/coronavirus-arrests-in-hyde-park-as-lockdown-protesters-denounce-fake-virus-11989409
[9] https://www.standard.co.uk/news/uk/london-protest-coronavirus-lockdown-scotland-yard-a4430186.html
[10] https://www.reuters.com/article/us-health-coronavirus-cross-border-worke/hundreds-protest-against-lockdown-at-polish-german-border-idUSKCN2270BE
[11] https://www.bbc.com/news/world-africa-52189144
[12] https://www.factcheck.org/2020/05/u-s-isnt-the-only-country-with-lockdown-protests/
[13] https://medium.com/@ariadnelabs/social-distancing-this-is-not-a-snow-day-ac21d7fa78b4
[14] https://metro.co.uk/2017/04/13/the-dark-truth-about-bestiality-parties-6570714/?ito=article.amp.share.top.messenger
[15] W. L. Marshall, et al., “Early onset and deviant sexuality in child molesters,” Journal of interpersonal Violence 6 (1991): 323-336, cited in “Pedophilia: The Part of Homosexuality They Don’t Want You to see,” Colorado for Family Values Report, Vol. 14, March 1994.
[16] Griffin, D. R. (2000). Religion and scientific naturalism: Overcoming the conflicts. SUNY Press.
[17] https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=10221978534318704&id=1420699951
[18] https://science.sciencemag.org/content/sci/365/6456/eaat7693.full.pdf
.
লিখেছেনঃ Muhammad Atrehar Abir

শেয়ার করুনঃ