হে বোন…

হে বোন…

“আমার কাছে একটি চিঠি এল। লিখেছেন এক ভদ্র মহিলা। চিঠিতে নাম ঠিকানা নেই। তবে ভাষা ও উপস্থাপন থেকে বোঝা যাচ্ছে বিদুষী নারী। সেখানে তিনি তার মত করে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, আর কিছু প্রস্তাবনা ও পরামর্শ তুলে ধরেছেন। তার একটি বক্তব্য ছিল এরকম-
.
‘‘আপনি একজন আরব নারীর প্রতি লক্ষ করুন, কত সংকীর্ণ জীবন সে যাপন করে। আর একজন পশ্চিমা নারীকে দেখুন, তার জীবন কত প্রশস্ত। লক্ষ করুন, একজন পশ্চিমা নারী কত স্বাধীন ও মুক্ত, আর আরব নারী কতটা পরাধীন ও বন্দী।’’
.
চিঠির এ পর্যন্ত এসে আমি থেমে গেলাম। তার এ বক্তব্য নিয়ে কিছুক্ষণ ভাবলাম। তারপর সিদ্ধান্ত নিলাম, তার পত্রের উত্তর দিব ইনশাআল্লাহ। তার সামনে তুলে ধরব তার (এবং তার মত অন্য অনেকের) ভাবনার ভুলটা কোথায়। পরক্ষণেই মনে পড়ল তার নাম ঠিকানা তো আমার জানা নেই, তাহলে কীভাবে সম্ভব। তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম, (কোনো পত্রিকায়) একটি প্রবন্ধ আকারে তার পত্রের উত্তর দিব। এই ভদ্র মহিলা এবং তার মত আরো যারা এমন ধারণা পোষণ করেন, বরং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, তারা বোঝেন না বা স্বীকার করেন না যে, তাদের এই ধারণা নিছক ভাবনা-কল্পনা, বাস্তবতার সাথে যার কোনোই মিল নেই।
.
ড. শায়েখ বাহজাহ আলবায়তারকে এক আমেরিকান নারী যা বলেছিল, সেটিই তাদের এ ভুল ধারণার সবচেয়ে সঠিক, বস্তুনিষ্ঠ ও সারগর্ভ উত্তর।
.
ড. বাহজাহ আমাকে বলেছেন, তিনি আমেরিকাতে একটি কনফারেন্সে মুসলিম নারী ও নিজ সম্পদে তার একক অধিকার-বিষয়ে আলোচনা করছিলেন; -মুসলিম নারীর সম্পদে রয়েছে তার একচ্ছত্র অধিকার। তার সম্পদে স্বামী বা পিতা কারোরই হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার নেই। কোনো নারী প্রাপ্তবয়স্কা হওয়ার পরও যদি সে দরিদ্র হয় তাহলে তার ব্যয়ভার বর্তাবে তার পিতা বা ভাইয়ের উপর। যদি পিতা বা ভাই কেউ না থাকে সেক্ষেত্রে (পর্যায়ক্রমে) নিকটাত্মীয়দের উপর। বিবাহ পর্যন্ত অথবা তার স্বচ্ছলতা আসা পর্যন্ত তারা তার ব্যয়ভার বহন করবে। তারপর যখন বিবাহ হবে তখন তার সকল দায়-দায়িত্ব ন্যস্ত হবে স্বামীর উপর। যদিও স্বামী সম্পদহীন সাধারণ শ্রমিক হয় আর স্ত্রীর অঢেল সম্পদ থাকে, ইত্যাদি ইত্যাদি। যা আমাদের জানা আছে, কিন্তু তাদের (পশ্চিমাদের) এ বিষয়ে কিছুই জানা নেই। একথা শুনে এক প্রসিদ্ধ আমেরিকান লেখিকা দাঁড়িয়ে গেলেন। বললেন, ‘‘আপনি যেমনটি বলছেন, নারীর জীবন যদি আপনাদের সমাজে এমন সুখেরই হয়, তাহলে আমাকে নিয়ে চলুন, আমি সেখানে ছয় মাস থাকব তারপর আমাকে হত্যা করে ফেলুন। (অর্থাৎ, ছয় মাস এমন সুখের জীবন কাটানোর পর মরতেও আমার কোনো আপত্তি নেই।)’’ ড. বাহজাহ তার একথা শুনে আশ্চর্য হলেন। তার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলেন এবং এমন মন্তব্যের কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি নিজের এবং সেখানকার নারীদের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরে বললেন, একজন আমেরিকান নারী বাহ্যত দেখা যায় স্বাধীন, আসলে সে পরাধীন। মনে হয় সে সম্মানিত, আসলে সে লাঞ্ছিত। ছোট ছোট বিষয়ে দেখা যায় তারা নারীকে সম্মান দেখাচ্ছে, কিন্তু বড় বড় বিষয়ে তারা তাকে লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত করে। গাড়ি থেকে নামার সময় হাত ধরে নামাচ্ছে, ঘরে বা কোথাও প্রবেশের সময় তাকে আগে প্রবেশ করতে দিচ্ছে। কখনো কখনো ট্রামে (এক প্রকার যানবাহন) পুরুষ দাঁড়িয়ে গিয়ে নারীকে বসতে দিচ্ছে অথবা নারীর চলার জন্য রাস্তা ছেড়ে দিচ্ছে। কিন্তু এর বিপরীতে অন্যান্য অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে নারীর সাথে অনেক হীন আচরণ করা হয়, যা অসহনীয় ও ভাষায় প্রকাশ করার অযোগ্য। এখানে একটি মেয়ে যখন প্রাপ্তবয়স্কা হয়, পিতা তার থেকে হাত গুটিয়ে নেয়। তার জন্য বাড়ির দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। পিতা আপন কন্যাকে বলে, যাও এখন কামাই করে খাও। আজ থেকে আমার কাছে তোমার আর কোনো চাওয়া পাওয়া নেই। তখন বেচারি নিরুপায় হয়ে একাই জীবন সাগরে ঝাঁপ দেয়। সে জানেনা সে সাগরের গভীরতা। জানে না ঢেউ-স্রোতের প্রবলতা। জানে না তার কুমির-হাঙরের হিংস্রতা। এমনকি সে এ-ও জানে না জীবন সাগরের উজান-ভাটা কী জিনিস? কীভাবে সে মোকাবেলা করবে এসবকিছুর। কিন্তু তার পরিবারের তাতে কিছুই যায় আসে না। সে শ্রমের বিনিময়ে খাবে, না শরীরের বিনিময়ে, তা তাদের ভাববার বিষয় নয়। তারা তাকে জিজ্ঞেস করবে না, সে আপন হাতের কামাই খাচ্ছে নাকি…! আর এটা শুধু আমেরিকার কথা নয়, গোটা পশ্চিমা বিশ্বের চিত্র।

.
প্রফেসর ড. ইয়াহইয়া আশশাম্মা‘ আমাকে আজ থেকে ৩৩ বছর আগে (তিনি প্যারিস থেকে পড়াশোনা শেষ করে ফেরার পরপরই) বলেছেন, তিনি একটি বাসায় গেলেন, সে বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নেয়ার জন্য। তিনি বাসায় ঢোকার সময় দেখলেন, একটি মেয়ে চোখ মুছতে মুছতে বের হচ্ছে। তিনি কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা জানালো, সে এ বাড়িরই মেয়ে। সে স্বাধীনভাবে একা থাকার জন্য আমাদের থেকে পৃথক হয়ে গেছে। ড. ইয়াহইয়া বললেন, তাকে যে আমি কাঁদতে দেখলাম! তখন তারা বলল, হাঁ, সে এসেছিল আমাদের বাসার একটি রুম ভাড়া নেয়ার জন্য, কিন্তু আমরা তাকে ভাড়া দিতে রাজি হইনি। তিনি বললেন, কেন? তারা বলল, কারণ সে ২০ ফ্রাঙ্ক দিতে চাচ্ছে। কিন্তু অন্যের কাছে ভাড়া দিলে আমরা পাবো ৩০ ফ্রাঙ্ক!
.
পাঠক! আপনার যদি বিশ্বাস না হয় (বিশ্বাস না হওয়ারই কথা। কারণ এমন ঘটনা একজন আরব বা মুসলিমের কাছে অবিশ্বাস্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত) আপনি ডক্টর সাহেবকে জিজ্ঞেস করে দেখুন। তিনি আপনাকে নিশ্চিত করবেন যে, তিনি এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি ছাড়াও ইউরোপ-আমেরিকায় থেকেছেন আমাদের এমন অনেক বন্ধুই এজাতীয় ঘটনা শুনিয়েছেন, যারা তাদের সাথে মিশেছেন এবং কাছ থেকে তাদেরকে দেখেছেন। একজন মুমিন নারীর কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, তার ইজ্জত-আব্রু। জীবনের বিনিময়ে হলেও সে এর হেফাযত করে। কিন্তু একজন পশ্চিমা নারী! সামান্য রুটির জন্য সে তার সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু ইজ্জত-আব্রু বিলিয়ে দিচ্ছে। কোনো পাঠক হয়ত পড়ে থাকবেন; বিশিষ্ট লেখক-সাহিত্যিক তাওফীক হাকীম পশ্চিমা এক নারীর বিষয়ে লিখেছেন, যে নাকি নিজেকে তার (তাওফীক হাকীম) হাতে সঁপে দিয়েছিল। তার সাথে বসবাস করেছিল স্ত্রীর মত। বিনিময়ে সে পাবে মাথা গোঁজার ঠাঁই ও দু’বেলা রুটি। পরবর্তীতে ঐ নারীর প্রতি বিরক্ত হয়ে সে তাকে তাড়িয়ে দেয়।[1]
.
প্রিয় বোন! মুসলিম নারী নিজেকে হেফাযত করেছে ; হেজাব গ্রহণ করেছে। ফলে সে সম্মানিত ও দামী হয়েছে। পর্দার বিধানকে আপন করেছে, অন্যায় সম্পর্ক থেকে বিরত থেকেছে। ফলে পুরুষই তাকে খোঁজ করে ফিরছে, তার জন্য পয়গাম পাঠাচ্ছে। মোটা অংকের মোহর পরিশোধ করে তাকে জীবনসঙ্গীনী বানাচ্ছে। আর পশ্চিমা নারী নিজেকে প্রদর্শন করেছে ও সহজলভ্য করেছে। ফলে সে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হয়েছে। কারণ, সহজলভ্য প্রতিটি বস্তই মূল্যহীন। প্রথম যুগের আরব কবিদের অবস্থা ছিল, তাদের সামনে যদি নারীর হাতের তালু ও কব্জিটুকুও প্রকাশ পেত তাহলে তাদের হৃদয়ে তরঙ্গ খেলে যেত, দেহ-আত্মায় প্রেমের স্পন্দন জেগে উঠত, যবান কবিতা-সচল হত, শব্দ-ছন্দের ঝর্ণা প্রবাহিত হত। কারণ, আরব নারী থাকত হেজাবে ঢাকা, পরপুরুষের দৃষ্টির আড়ালে। আর পশ্চিমা নারী! সী-বীচে তার উপর-নিচ সব থাকে উন্মুক্ত। পুরুষ তার পায়ের গোছার দিকে তাকায়, কিন্তু তা তার মনে কোনো প্রভাব ফেলে না। হৃদয়কে নাড়া দেয় না। স্পন্দিত হওয়ার কোনো উপকরণ সেখানে সে খুঁজে পায় না। নারীর পায়ের গোছা আর চেয়ারের পায়া যেন একসমান! আর এ কারণেই তাদের সমাজে বিয়ের বাজার মন্দা। বিবাহ তো আজীবনের বন্ধন। নারী-পুরুষ সে বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এর মাধ্যমে তারা তাদের বিশেষ চাহিদা পূরণ করে। আর সেটিই বিবাহের প্রথম আকর্ষণ। এখন সে সমাজে যখন বন্ধন থেকে মুক্ত থেকেই চাহিদা মেটানো যায়, তখন কেন একজন পুরুষ বিবাহনামক বন্ধনে আবদ্ধ হতে যাবে, নিজেকে সে ঝামেলায় জড়াবে?
.
আজ পশ্চিমা নারী বিবাহের মত পবিত্র বন্ধন থেকে বঞ্চিত। ফলে সে হারিয়েছে পরিবার ও তার ভরণ-পোষণের দায়িত্বশীলকে। বঞ্চিত হয়েছে জীবিকার নিরাপত্তা থেকে, মাথার উপরের নিরাপদ ছায়া থেকে। ফলে জীবন ধারণের জন্য সে গ্রহণ করেছে সব ধরণের পেশা, হীন থেকে হীনতর কাজ। সে আজ কারখানার শ্রমিক, রোদে খাটা কৃষক, পথের ঝাড়ুদার! আমাদের বন্ধুরা যারা ইউরোপে থেকেছেন, তারা সেখানে নারীদেরকে পাবলিক টয়লেটও পরিষ্কার করতে দেখেছেন। (আমি নিজেও ১৯৭০ ও ১৯৭৬ সনে নিজ চোখে তা দেখেছি।) আর কিছু নারী আছে যারা জুতা পালিশের কাজ করে। একটি বাক্স বহন করে এবং সারাদিন ফুটপাথে থাকে। এদের কাউকে কাউকে দেখা যায় সাথে বই, কাস্টমারের ফাঁকে ফাঁকে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোনো লোক এসে তার দিকে পা বাড়িয়ে দিলে সে বই ছেড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে জুতা পালিশে। এই তো পশ্চিমা নারীর মর্যাদা ও স্বাধীনতার সাতকাহন।
.
এদিকে মুসলিম নারী নিজগৃহে অবস্থান করে, আর পুরুষ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তার ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করে। একজন মুসলিম নারী যখন বিবাহের বয়সে উপনীত হয় তখন পুরুষ তার জন্য প্রস্তাব পাঠায় এবং তার পর্যন্ত পৌঁছতে মোটা অংকের মোহর পরিশোধ করে। স্বামী প্রদত্ত এ সম্পদ নারীর একার, এর একমাত্র মালিক সে। এতে তার অনুমতি ব্যতীত আপন পিতা, ভাই বা স্বামী কারো হস্তক্ষেপের কোনো অধিকার নেই। আর পশ্চিমা নারী! তার নিজেকেই ছুটতে হয় পুরুষ সঙ্গীর খোঁজে। তারপর ঐ পুরুষ পর্যন্ত পৌঁছতে তাকে পঞ্চাশ হোঁচট খেতে হয়। কখনো কখনো এমন তীব্র হোঁচট খায় যে, এক হোঁচটেই সবকিছু খোয়াতে হয়, এমনকি জীবনটা পর্যন্ত! এতকিছুর পর যদিওবা তার পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম হয়, বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য তাকে গুণতে হয় মোটা অংকের অর্থ। যেন স্ত্রী স্বামীকে মোহর দিয়ে বিবাহ করছে! এরপর থাকলো স্ত্রীর সম্পদ। সেখানেও তার একচ্ছত্র কর্তৃত্ব চলবে না। স্বামীও হস্তক্ষেপ করবে তার সম্পদে। আর মুসলিম নারীর সম্পদ! একমাত্র তার, কারো হস্তক্ষেপ চলবে না তার সম্পদে।
.
প্রিয় বোন! তুমি হয়ত বলবে, এটা অনেক আগের কথা। আমাদের এখানেও এখন বিবাহের বাজার মন্দা এবং অবিবাহিতা নারীর সংখ্যা অনেক। কথা ঠিক। কিন্তু ভেবে দেখেছ, কেন এমন হল? কারণ, আমরা এখন পশ্চিমাদের অনুকরণ শুরু করেছি। ঐসকল বিষয়ে তাদের অনুকরণ করছি, যেগুলো থেকে মুক্তির পথ তারা খুঁজছে এবং তাদের ঐসকল বিষয় গ্রহণ করতে শুরু করেছি, যেগুলো থেকে তারা পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে। কারণ, ঔপনিবেশিকরা গত শতাব্দীতে – যখন আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম এবং গাফেল ছিলাম – আমাদের মনে এই ধারণা বদ্ধমূল করে দিয়েছে যে, তারাই উন্নত, তারাই অগ্রগামী। তারা যা করছে সেটাই সঠিক। ফলে প্রতিটি বিষয়ে আমরা তাদের অন্ধ অনুকরণে মেতে উঠেছি; তাদের মত হতে পারাকেই পরম মোক্ষ লাভ মনে করছি! কিন্তু আরব (আরবের মানুষের স্বভাব-প্রকৃতি) কি সকল বিষয়ে এমন অন্ধ অনুকরণ মেনে নিতে পারে? তা কি তাদের আত্মসম্মানে বাধে না?
.
আত্মসম্মানবোধ তো আরবদেরই বেশি থাকার কথা। একারণেই তো অসম্মানের ভেবে তারা আপন কন্যাকে জ্যান্ত পূঁতে ফেলত (যদিও সেটা ছিল আত্মসম্মানবোধ প্রকাশের এক ঘৃণ্য উপায়)। সে আরবরা কি এটা মেনে নেবে যে, অনুষ্ঠানে অপরিচিত কোনো লোক এসে বলবে, ‘ইসমাহ লী’ দয়া করে একটু দেবেন কি! কী দিবে? সিগারেট ধরানোর জন্য দিয়াশলাই? কয়টা বাজে দেখার জন্য হাত ঘড়িটা এগিয়ে ধরবে? না, বরং আপন স্ত্রীকে, ঐ লোকটার সাথে নাচার জন্য; তার বক্ষ ঐ পুরুষের বক্ষের সাথে মেলানোর জন্য, তার চেহারা ঐ অপরিচিত মানুষটির চেহারার কাছাকাছি নিয়ে, তার পা ওর পায়ের কাছে নিয়ে হাতে হাত ধরে নাচার জন্য! কোনো আরব বা কোনো মুসলিম কি এটা মেনে নেবে? না, আত্মমর্যাদাশীল কোনো পুরুষই তা মেনে নেবে না। বরং প্রাণীকুলের মধ্যে নিকৃষ্ট খিনযীর ছাড়া অন্য কোনো প্রাণীও এটা মেনে নেবে না! এটাই হল পশ্চিমা নারীর হালচিত্র। এবার বলুন, পশ্চিমা নারী এমন কী ভালোর মাঝে আছে, যা আমরা আমাদের নারীদের জন্য কামনা করতে পারি?
.
ড. বাহজাহ আলবায়তারকে ঐ আমেরিকান লেখিকা যা বলেছিল তা আরেকবার স্মরণ করুন। যদি জিজ্ঞেস করেন, তাহলে প্রতিটি জার্মান এবং ফরাসী নারীও একই কথা বলবে। তোমরা আমাদের শরীয়ত বিষয়ে উচ্চবাচ্য কর, যা তা বল, -আমাদের শরীয়ত নারীকে পুরুষের অর্ধেক মীরাছ দেয়। পুরুষকে একাধিক বিবাহের সুযোগ দেয় ইত্যাদি। তাহলে তোমরা আমেরিকার নারীদের বলে দেখ, তারা পুরুষের অর্ধেক মিরাছ গ্রহণ করবে আর তাদের ভরণ-পোষণের যাবতীয় খরচ বহন করবে পুরুষ। দেখবে তারা প্রস্তাবপাঠ রাজি হয়ে যাবে। তেমনি জার্মানি নারীদের জিজ্ঞেস করে দেখতে পার, বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে তারা কি এই প্রত্যাশা করত না যে, তাদের প্রতি দশজনের জন্য একজন স্বামী হবে আর সে তাদের সাথে ইনসাফের মুআমালা করবে এবং তাদের ব্যয়ভার বহন করবে?
.
আল্লাহ যদি মানবজাতির জন্য এই সুযোগ না রাখতেন তাহলে কীভাবে জার্মান ও তার মত বিভিন্ন রাষ্ট্রে নারীর আধিক্যের বিষয়টির সমাধান হত? আল্লাহ তো মানুষকে এই স্বভাব দিয়েই সৃষ্টি করেছেন যে, নারী-পুরুষের মিলন অনিবার্য। একের ছাড়া অন্যের চলেই না! তারপর যখন প্রতি ১০০ জন নারীর বিপরীতে পুরুষের সংখ্যা ৫০ তখন অনিবার্যভাবে কি এই ফলাফল দাঁড়ায় না যে, প্রতি দু’জন নারীর জন্য একজন পুরুষ। বরং প্রতিটি প্রাণীর ক্ষেত্রেই তো আল্লাহর নিয়ম এই যে, মাদীর তুলনায় নর অর্ধেক বা তারও কম। মুরগি ও মৌমাছির কতভাগ নর? আরে পশ্চিমা পুরুষ কি চারজন নারী গ্রহণ করে না? বরং চারের বেশি! কিন্তু হারাম পথে!! . তোমাদের কাছে তো ইবলিসের ‘আকদে’ (চুক্তিতে,বন্ধনে) হারাম পন্থায় চার থেকে চলিস্নশ গার্লফ্রেন্ড আর বান্ধবী গ্রহণ দোষণীয় নয়, আর আল্লাহর ‘আকদে’ হালাল পথে চার বিবাহ দোষের? (অথচ কখনো কখনো তা নারীর জন্য একমাত্র রক্ষাকবচ!)
.
না হে বোন! একথা ভাববার কোনো কারণ নেই যে, পশ্চিমা নারী বেশি সুখী বা বেশি সম্মানিত! আল্লাহর কসম করে বলছি, এই পৃথিবীতে মুসলিম নারীই সবচেয়ে বেশি সুখী ও সম্মানিত। মুসলিমসমাজে স্বামী শুধুই তার স্ত্রীর জন্য; তার স্বামীতে কোনো গার্লফ্রেন্ড বা বান্ধবীর কোনো অধিকার নেই। তেমনি স্ত্রীও শুধুই তার স্বামীর জন্য; বয়ফ্রেন্ড বা বন্ধুর কোনো হস্তক্ষেপ সেখানে চলবে না। সে একান্তই তার স্বামীর, তার স্বামী একান্তই তার। সে স্বামী ছাড়া কারো সামনে নিজেকে সঁপে দেবে না। তার হেরেমে স্বামী ছাড়া কেউ প্রবেশ করবে না। তার আদ্যেপান্ত স্বামী ছাড়া কেউ জানবে না। বল হে বোন! এটাই কি পশ্চিমা বা তাদের অন্ধ অনুসারীদের কাছে মুসলিম নারীর দোষ; তার পরাধীনতা, তার বন্দীত্ব!? বল, কেউ কি এটা মেনে নেবে যে, তার স্ত্রী তার হবে এবং অন্য দশজনেরও!? বল, পবিত্রতা ও চারিত্রিক শুদ্ধতা কি দোষের? তাহলে কি যা কিছু ভালো তাকে বলব মন্দ, আর আলোকে বলব অন্ধকার!? ব্যস, যথেষ্ট হয়েছে অন্যের মস্তিষ্ক দিয়ে চিন্তা। অন্যের চোখ দিয়ে দেখা। অনেক হয়েছে বানরের মত গলায় অন্ধ অনুকরণের বেড়ি লাগিয়ে নেওয়া।
.
এখন আমাদের ফিরে আসতে হবে আত্মপরিচয়ের দিকে। ইসলামের দিকে, আরবের ঐতিহ্য ও বৈশিষ্ট্যের দিকে, চারিত্রিক পবিত্রতার দিকে। পশ্চিমা নারীরা তাদের মত চলুক, তাদের পুরুষরা তাদের জন্য যেটা কল্যাণকর মনে করে সেভাবেই চলুক। ওদের সাথে আমাদের কী সম্পর্ক? (ওদের তো আখেরাত বলে কিছু নেই। যাদের জীবনে আখেরাত-ভাবনা বলে কিছু নেই তাদের লাইফস্টাইল, তাদের জীবন-ভাবনা আমরা গ্রহণ করতে পারি কীভাবে। মুসলিম নারী তো সফল হতে চায় দুনিয়াতে ও আখেরাতে। সুতরাং ওদের জীবন আমাদের জীবন সম্পূর্ণ আলাদা।) আমাদের স্ত্রীরা চলুক আল্লাহ যেভাবে চান সেভাবে। আমরা তাদের জন্য যেভাবে চলা কল্যাণকর মনে করি সেভাবে। যাতে আমরা শুধুই তাদের হই। তাদেরকে নিয়েই আমরা সন্তুষ্ট থাকি। আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ থাক শুধু তাদের দিকে, অন্য কোনো নারীর দিকে নয়।
.
হে বোন! শুনে রাখো, পৃথিবীতে আমাদের নারীরাই শ্রেষ্ঠ; যতক্ষণ তারা হেজাবের পাবন্দী করবে, ইসলামের আদাবের প্রতি গুরুত্ব দিবে, আরবের স্বভাব-চরিত্র আর ইসলামের আহকামকে আঁকড়ে ধরে থাকবে এবং ঐ সমাজের রীতি-নীতি আপন করে নিবে, যে সমাজ জন্ম দিয়েছে আয়েশা, আসমা, খানসা ও খাওলার মত অগণিত মহিয়সী নারী। জন্ম দিয়েছে আলেমা, ফকীহা, মুহাদ্দিস ও সাহিত্যিক। উপহার দিয়েছে সতীসাধ্বী দ্বীনদার মা, যাদের থেকে জন্ম নিয়েছে বীর-বাহাদুর; যুদ্ধের ময়দানের বীর, বক্তৃতার মেম্বারের অনলবর্ষী বক্তা, চিন্তার জগতের অগ্রনায়ক। রাজত্ব ও অর্থ যাদের পদচুম্বন করত। আর তারাই ছিল পৃথিবীর কর্তা। তাদের হাতেই ছিল অর্ধ পৃথিবীর রাজত্ব। আর তোমরা ছিলে হে বোন! ঐ সকল বীর-বাহাদুরের জন্মদাতা মা, রত্মগর্ভা মহিয়সী জননী। l
.
[মা‘আন্নাস থেকে (পৃ. ১৬৯-১৭৬) ভাষান্তর : মুহাম্মাদ ফজলুল বারী] ___________________________________________________

[1] [কারো থেকে যদি কোনো পাপ প্রকাশ পায়, উচিত হল তা গোপন করা। কারণ, পাপের এলান আরো বড় পাপ। কিন্তু এসকল লেখক আল্লাহকেও ভয় করে না এবং এদের চক্ষু লজ্জাও থাকে না। -প্রবন্ধকার (ঠিক একাজটিই আমাদের দেশের এফ এম রেডিওগুলোতে হচ্ছে; ‘ফিজিক্যল রিলেশন’ নামে যিনার এলান হচ্ছে। দেখার যেন কেউ নেই! -অনুবাদক)]

Collected from: Mawaddah (পারিবারিক বন্ধন)

শেয়ার করুনঃ
হে আমার মেয়ে  (প্রথম কিস্তি )  !!!

হে আমার মেয়ে (প্রথম কিস্তি ) !!!

জীবন সায়াহে দাড়িয়ে আপন মেয়ের প্রতি একজন বয়োবৃদ্ধ পিতার হৃদয় নিংড়ানো উপদেশ

উপদেশ নং-১

হে আমার মেয়ে! আজ আমি চল্লিশের কোঠা পার হয়ে পঞ্চাশের কোঠায় উপনীত এক প্রৌঢ় যে যৌবনকে বিদায় জানাচ্ছে। এখন আমার নতুন কোন স্বপ্ন বা উচ্চ আকাঙ্খা নেই।

আমি অনেক দেশ ও শহর ভ্রমণ করেছি। বহু জাতির কৃষ্টি-কালচারের সাথে পরিচিত হয়েছি। জীবন ও জগৎ সম্পকে অনেক ধারণা অর্জন করেছি। আজ আমার কাছ থেকে কয়েকটি কথা শোন। কথাগুলো সঠিক ও সুস্পষ্ট। এগুলো আমি আমার বয়স ও অভিজ্ঞতার আলোকেই বলছি । আমি ছাড়া অন্য কেউ তোমাকে এগুলো বলবে না।

আমি অনেক লিখেছি। মিম্বারে ও সমাবেশে দাঁড়িয়ে অনেক ভাষণ

দিয়েছি। অনেক নসীহত পেশ করেছি। উত্তম চরিত্র অর্জনের আহবান জানিয়েছি । সকল প্রকার অন্যায় কাজ ও অশ্লীলতা বর্জনের ডাক দিয়েছি । নারীদেরকে ঘরে ফিরতে ও কুরআনের সুপ্রসিদ্ধ বিধান পদার আবরণে আবৃত হওয়ার আহবান জানিয়েছি।

লিখতে লিখতে কলম দুর্বল হয়ে গেছে। কথা বলার সময় মুখে তা আটকে যাচ্ছে । এত কিছু করার পরও আমি মনে করি না যে, আমরা কোন অশ্লীল কাজ সমাজ থেকে দূর করতে পেরেছি। বেহায়াপনা দিন দিন বেড়েই চলছে । পাপাচারিতা দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে এবং অশ্লীলতা দেশ থেকে দেশাস্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। আমার মনে হয় কোন ইসলামি দেশই এই আক্রমণ থেকে মুক্ত নয়। মিশর, সিরিয়া, তথা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের সীমা পার হয়ে পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ সমগ্র এশিয়ায় এর আক্রমণ বেড়েই চলছে। মহিলারা বের হচ্ছে পর্দাহীন হয়ে, সৌন্দর্যের স্থানগুলো প্রকাশ করে। মুখমন্ডল, বক্ষদেশ ও কেশ উন্মুক্ত করে ।

আমার ধারণা নসীহত করে আমরা সফল হইনি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। হে আমার কন্যা! তুমি কি জান কেন আমরা সফল হইনি? কেননা, আমরা এখনও গ্রহণযোগ্য পস্থায় নসীহত করতে পারিনি এবং সংশোধনের দরজায় পৌছতে পারিনি ।

হে আমার মেয়ে! সংশোধনের দরজা তোমার সামনে । দরজার চাবিও তোমার হাতে । বন্ধ তালা খুলে ভিতরে প্রবেশ করলেই সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে ।

উপদেশ নং-২

হে আমার মেয়ে! আমরা তোমার দ্বীনি বোনদেরকে আল্লাহর ভয় দেখিয়েছি, কিন্তু কাজ হয়নি। অতঃপর অবৈধ সম্পর্ক ও ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার কারণে ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছি। কিন্তু কোন ফল হয়নি। এ বিষয়ে অনেক বই লেখা হয়েছে। বহু বক্তৃতা দেয়া হয়েছে। তাও ব্যর্থ হয়েছে। এখন আমি কান্ত । শরীরে পরাজিত সৈনিকের ন্যায় ময়দান ছেড়ে বিদায় নিতে যাচ্ছি। আমরা বিদায় নিয়ে তোমার দ্বনি বোনদের ইজ্জত-সন্ত্রম ও সতীত্ব রক্ষার দায়িত্ব তোমার হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি। তোমার বিপদগামী বোনদেরকে উদ্ধার ও সংশোধনের দায়িত্ব তোমার উপরই রেখে দিয়ে তোমার সফলতার দিকে চেয়ে আছি ।

উপদেশ নং-৩

হে আমার মেয়ে! তুমি জেনে রেখো যে, তোমার হেফাজত তোমার হাতেই। একথা সঠিক যে, পাপের পথে অগ্রসর হওয়াতে পুরুষকেই প্রথম দায়ী করা যায়। নারীগণ কখনই প্রথমে এ পথে অগ্রসর হয় না। তবে তাদের সম্মতি ব্যতীত কখনই তারা অগ্রসর হতে পারে না । নারীগণ নরম না হলে পুরুষেরা শক্ত হয় না। মহিলারা দরজা খুলে দেয় আর পুরুষেরা ভিতরে প্রবেশ করে ।

উপদেশ নং-৪

হে আমার মেয়ে! তুমি যদি চোরের জন্য ঘরের দরজা খুলে দাও । আর চোর চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় চিৎকার করে বল, হে লোকসকল!আমাকে সাহায্য কর । আমাকে সাহায্য কর । তাহলে তোমার চেচামেচি করা কি ঠিক হবে? তোমার কান্নাকাটিতে কি লাভ হবে? তোমার সাহায্যের জন্য কেউ কি এগিয়ে আসবে?

উপদেশ নং-৫

হে আমার মেয়ে যদি তুমি জানতে পারতে যে, পুরুষেরা হচ্ছে নেকড়ে, আর তুমি হচ্ছে ভেড়া, তাহলে কিন্তু তুমি নেকড়ের আক্রমণ থেকে ভেড়ার ন্যায় পলায়ন করতে । তুমি যদি জানতে পারতে যে, সকল পুরুষই চোর তাহলে কৃপণের ন্যায় তুমি তোমার সকল মূল্যবান সম্পদ পুরুষদের থেকে হেফাযত করার জন্য সিন্দুকে লুকিয়ে রাখতে ।

মনে রেখো, নেকড়ে কিন্তু ভেড়ার গোশত ছাড়া অন্য কিছু চায় না। আর পুরুষ তোমার কাছ থেকে যা ছিনিয়ে নিতে চায় তা কিন্তু ভেড়ার গোশতের চেয়ে অনেক মূল্যবান। তা যদি তোমার কাছ থেকে চলে যায়, তাহলে জেনে রাখবে তা হারিয়ে তোমার বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভাল। সে তোমার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদটি নষ্ট করতে চায়, যার মধ্যে নিহিত রয়েছে তোমার সম্মান, যা নিয়ে তুমি গর্ব কর এবং যা নিয়ে তুমি বেঁচে থাকতে চাও। নেকড়ে কর্তৃক ভেড়ার গোশত ভক্ষণের চেয়ে পুরুষ কর্তৃক নারীর সতিত্ব হরণ শতগুণ নিশংস ও বেদনাদায়ক। সে তোমার সতিত্বই ভক্ষণ করতে চায়।

উপদেশ নং-৬

হে আমার মেয়ে! আল্লাহর শপথ কোন পুরুষ যখন কোন যুবতী মহিলার দিকে দৃষ্টি দেয় তখন সে মহিলাটিকে বস্ত্রহীন অবস্থায় কল্পনা করে। এছাড়া সে অন্য কিছু চিন্তা করে না । তোমাকে কোন যুবক যদি বলে, সে তোমার উত্তমচরিত্রে মুগ্ধ, তোমার আচার-ব্যবহারে আকৃষ্ট এবং সে কেবল তোমার সাথে একজন বন্ধুর মতই আচরণ করে এবং সে হিসাবেই তোমার সাথে কথা বলতে চায়; তাহলে তুমি তা বিশ্বাস করো না। আল্লাহর শপথ! সে মিথ্যুক!

উপদেশ নং-৭

হে আমার মেয়ে! যুবকেরা তোমাদের আড়ালে যে সমস্ত কথা বলে তা যদি তোমরা শুনতে, তাহলে এক ভীষণ ভীতিকর বিষয় জানতে পারতে। কোন যুবক তোমার সাথে যে কথাই বলুক, যতই হাসুক, যত নরম কণ্ঠেই বলুক ও যত কোমল শব্দই ব্যবহার করুন, সেটি তার আসল চেহারা নয়; বরং সেটি তার অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের ভূমিকা ও ফাঁদ ব্যতীত অন্য কিছু নয়।

উপদেশ নং-৮

হে আমার মেয়ে! সে যদি তোমাকে তার ষড়যন্ত্রের জালে আটকাতে পারে তাহলে কি হবে? কি হবে তোমার অবস্থা? তোমার কি তা জানা আছে? একটু চিন্তা কর ।

কোন নারী যদি এমন কোন দুষ্ট পুরুষের কবলে পড়ে যায়, তখন সে হয়ত সেই পুরুষের সাথে মিলে কয়েক মিনিট কল্পিত স্বাদ উপভোগ করবে। তারপর কি হবে? তুমি কি তা জান? পরক্ষণই সে তাকে ভুলে যাবে। সে তাকে দ্বিতীয়বার পাওয়ার আশাপোষণ করবে। হয়ত কয়েকবারের জন্য তাকে পেলে পেতেও পারে, তবে স্বামী হিসাবে তার সাথে চিরদিন বসবাস করার জন্যে এবং স্বীয় যৌবন পার করার জন্যে নয় । সে অচিরেই তাকে ভুলে যাবে। এটিই সত্য। কিন্তু সেই মহিলাটি চির দিন সেই স্বল্প সময় উপভোগের জ্বালা ভোগ করতে থাকবে, যা কখনও শেষ হবে না। এও হতে পারে যে, সে তার পেটে এমন কলঙ্ক রেখে যাবে, যা থেকে কখনই সে পরিত্রাণ পাবে না। চির দিন তার কপালে হতাশার ছাপ থাকবে, চেহারায় দুশ্চিন্তার ছায়া পড়বে। সে তাকে ছেড়ে দিয়ে আরেকটি শিকার খুঁজতে থাকবে এবং নতুন নতুন সতীদের সতীত্ব ও সম্ভণ হরণ করার অনুসন্ধানে বের হবে।

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌

লিখেছেন শায়খ আলী আত তানতাবী ।

#হে_আমার_মেয়ে

শেয়ার করুনঃ
হে আমার মেয়ে (দ্বিতীয় কিস্তি) !!!

হে আমার মেয়ে (দ্বিতীয় কিস্তি) !!!

উপদেশ নং-৯

হে আমার মেয়ে। এভাবে একটি যুবক অগণিত নারীকে নষ্ট করলেও আমাদের জালেম সমাজ তাকে একদিন ক্ষমা করে দিবে। সমাজ বলবে, একটি যুবক পথহারা ছিল, এখন সে সুপথে ফিরে এসেছে। এই অজুহাতে সে হয়ত সমাজের কাছে গৃহীত হবে এবং সকলেই তাকে গ্রহণ করে নিবে । কিন্তু তুমি অপমানিত, লাঞ্ছিত হয়ে চিরদিন পড়ে থাকবে । আজীবন তোমার জীবনে কালিমা লেগে থাকবে । কোন দিন তা মুছে যাবে না। আমাদের জালেম সমাজ কখনই তোমাকে ক্ষমা করবে না ।

উপদেশ নং-১০

হে আমার মেয়ে তোমার সম্মান তোমার হাতেই রেখে দিলাম এবং তোমার ইজ্জত-আব্রু ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব তোমার উপরই ছেড়ে দিলাম। সুতরাং তোমার বোনদেরকে উপদেশ দাও । বিপদগামীদের সংশোধন কর এবং সুপথে ফিরিয়ে আন ।

উপদেশ নং-১১

হে আমার মেয়ে তুমি তাদেরকে বল, হে আমার বোন, পথ চলার সময় কোন পুরুষ যদি তোমার দিকে তাকিয়ে দেখে তবে তুমি তার থেকে বিমুখ হয়ে যাও এবং তোমার চেহারা অন্য দিকে ঘুরিয়ে ফেল । এরপরও যদি তার কাছ থেকে সন্দেহজনক কোন আচরণ অনুভব কর কিংবা সে তোমার গায়ে হাত দিতে চায় অথবা কথার মাধ্যমে তোমাকে বিরক্ত করতে উদ্যত হয় তাহলে তোমার পা থেকে জুতা খুলে তার মাথায় আঘাত কর । তুমি যদি একাজটি করতে পার তাহলে দেখবে পথের সকলেই তোমার পক্ষ নিবে, তোমাকেই সাহায্য করবে। সে আর কখনও তোমার মত অন্য কোন নারীর উপর অসৎ দৃষ্টি দিবে না। সে যদি সত্যিই তোমাকে পছন্দ করে থাকে, তাহলে তোমার এই আচরণে তার ছশ ফিরবে, তাওবা করবে এবং তোমার সাথে হালাল সম্পর্ক বিবাহ গড়ার জন্যে বৈধ পন্থা অবলম্বনের দিকে অগ্রসর হবে ।

পার্থিব সম্মান, প্রতিপাত, ক্ষমতা-দাপটে একজন মেয়ে যত উচু স্তরেই পৌঁছে যাক না কেন, বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ছাড়া পূর্ণ সৌভাগ্য ও কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছতে পারবে না। বিবাহের ফলে সে হয়ত সতী স্ত্রী, সম্মানিত মা, গৃহিণী সবই হবে। রাণী, সম্রাজী সকলের ক্ষেত্রে একই কথা ।

মিসর ও সিরিয়ার দু’জন প্রসিদ্ধ মহিলা সাহিত্যিকের পরিচয় আমি জানি । ধন-সম্পদ, সাহিত্য সম্মান সবই তারা পেয়েছে। কিন্তু বিবাহসম্মদ হারিয়েছে । তারা উন্মাদের ন্যায় জীবন যাপন করছে । তাদের নাম বলতে আমাকে বাধ্য কর না। তারা খুবই প্রসিদ্ধ ।

বিবাহ একজন মহিলার চূড়ান্ত লক্ষ্য। যদিও সে সংসদের সদস্য, নেতার সঙ্গী হোক না কেন? অসতী নারীকে কেউ বিবাহ করে না। এখন যে যুবক তার সাথে প্রবঞ্চণা করে ধোঁকা দেয় সেও তাকে ছেড়ে চলে যায় এবং অন্য কোন সতী নারীকে বিবাহ করে। কেননা, সেও চায় না যে, তার গৃহকত্রী, তার সন্তানের মা একজন পতিতা হোক ।

বখাটে যুবক যখন তার প্রবৃত্তি চরিতার্থে কোন নষ্ট মেয়েকে কাছে না পায়, যে শয়তানী ধর্মের কথিত বিবাহ (লিভটগেদার) বসবে, তখনই সে ইসলামি পদ্ধতিতে হয়তো কাউকে বিবাহ করতে চাইবে ।

উপদেশ নং-১২

হে আমার মেয়ে! তোমাদের কারণেই আজকে বিবাহের বাজারে মন্দাভাব । তোমাদের মত মেয়েরা যদি পতিতা না হত তাহলে বিবাহ বাজারও মন্দা হত না এবং পাপের বাজার চালু হত না। এজন্য কেন সতী নারীদেরকে এই মহামারী দূর করতে উদ্বুদ্ধ করবে না। তোমরা তো আমাদের থেকে এক্ষেত্রে বেশী যোগ্য ও সক্ষম । কেননা, তোমরা মেয়েদের ভাষা বুক । তাদের হৃদয়ে প্রবেশ করতে পার । তোমাদের ন্যায় সৎ ভদ্র, ধাৰ্মিক মেয়ে ছাড়া অন্য কেউ এই ফেতনা দূর করতে পারবে না। সিরিয়ার অনেক পরিবারে বিবাহ উপযুক্ত মেয়ে আছে। কিন্তু তারা স্বামী পাচ্ছে না। কারণ, যুবকরা বৈধ স্ত্রীর স্থলে পতিতাদের সহজে পেয়ে যায়। ফলে বিবাহের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। আমার ধারণা অন্যান্য দেশেও একই অবস্থা।

উপদেশ নং-১৩

হে আমার মেয়ে! তোমাদের থেকে সাহিত্যিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষিকার একটি দল তৈরী কর যারা তোমার বিভ্রান্ত বোনদের সুপথে ফিরিয়ে আনবে। তাদেরকে আল্লাহর ভয় দেখাও। যদি তারা ভয় না পায় তবে বাস্তবতা বুঝাও ৷ তাদেরকে এভাবে বল, হে আমার বোন! তুমি আজকে সুন্দরী কিশোরী, তাই যুবক তোমার প্রতি আকর্ষণ দেখায়। তোমার চারপাশে ঘুরতে থাকে। কিন্তু এই সৌন্দর্য, তারুণ্য কি সর্বদা থাকবে? জগতের কিছুই তো নতুন থাকে না। সুতরাং যখন কুজো বুড়ি হয়ে যাবে তখন কি হবে? ভেবে দেখেছে? সেদিন কে তোমার দেখাশোনা করবে? তুমি কি জান সেদিন কে এই বুড়িকে দেখা শোনা করবে? তার ছেলে-মেয়ে, নাতিনাতনীরা। তখন এই বুড়িই পরিবারের সম্রাজ্ঞী সেজে বসবে। আর অন্যরা…তোমরাই ভাল জান তার কি হবে?

এখন তোমরাই বল যে, এই সামান্য ভোগ সেই বেদনাদায়ক কষ্টের সমপর্যায়ে কি হতে পারে? এরূপ ক্ষণিকের ভোগ – জীবন ক্রয় কতে চাও সেই লাঞ্ছনাকর জীবনের বিনিময়ে ।

এ ধরণের কথা বলার প্রয়োজন অনুভব করছি না। তোমার হত দরিদ্র অবলা বোনের পথ নিরদেশনায় তোমরা উদাসীন হয় না। তাদের যদি আলো দেখাতে নাই পার তাহলে অন্তত নতুন প্রজনের অবলা কিশোরীকে এদের পথে চলা থেকে দূরে রাখার চেষ্টা কর ।

উপদেশ নং-১৪

হে আমার মেয়ে আমি তোমাদের থেকে এটা চাই না যে, তোমরা এক লাফে মুসলিম মেয়ের অবস্থা পরিবর্তন করে ফেলবে । না, এটা অসম্ভব । হঠাৎ উন্নতি স্থায়ী হয় না। বরং তোমরা মুসলিম মেয়েদেরকে ধাপে ধাপে কল্যাণের দিকে নিয়ে যাবে। যেভাবে তারা পাপের পথে ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়েছে ।

প্রথমে তারা এক চুল ছোট করেছে, কাপড় সংক্ষিপ্ত করেছে। হিজাব পাতলা করেছে। এই করুণ অবস্থায় পৌঁছতে দীর্ঘ দিন লেগে গেছে। পরিবারের সম্রাক্ত পুরুষও তা বুঝতে পারে নি। অশ্লীল পত্রিকা, মিডিয়া এতে উৎসাহ দিয়েছে। আর বখাটে যুবকেরা এ দৃশ্য দেখে আনন্দ উল্লাস করেছে।

অথচ মুসলিম নারী সমাজ এত নিকৃষ্ট হয়েছে যা ইসলাম সমর্থন করে না, ইসলাম কেন, খ্রিস্টান অগ্নিপূজকরাও সমর্থন করে না। এমন কি নিরীহ পশুও তা দেখে লজ্জা পায় ।

দু’টি মোরগ যদি একটি মুরগীর পিছনে লেগে যায়, তাহলে তার আত্মসম্মান রক্ষার্থে পরস্পর যুদ্ধ করে । কিন্তু হায়! মুসলিম উম্মাহর কি অবস্থা!!

বৈরুত, ইস্কান্দার শহরের সমুদ্র সইকতে অনেক মুসলমান পুরুষ আছে। তারা আপন স্ত্রীদের বেপর্দা পরপুরুষ দেখলেও আত্মসম্মান বোধ করে না। পর পুরুষের সামনে তারা অর্ধ নগ্ন হয়ে বের হয়।

বিভিন্ন ক্লাব, নৈশ পার্টিতে অনেক মুসলিম তাদের মুসলিমা স্ত্রীদের পরপুরুষের সাথে নাচতে দেয়। পরম্পর আলিঙ্গন করে, গালে চুমু দেয়, শরীরে শুয়ে পড়ে। কিন্তু তাও কেউ অপছন্দ করে না।

মুসলিম ইউনিভাসিটিগুলোতে সহশিক্ষার বদৌলতে (?) যুবকরা বেপর্দা যুবতী শিক্ষার্থীর পাশে বসে। বেলোপনা চালিয়ে যায়। কিন্তু তাও মুসলিম পিতা-মাতা অপছন্দ করে না । হায় আফসোসা আমরা আজ কত নীচু হয়েছিা!

হে আমার মেয়ে! মুসলিম মেয়েদের এই করুণ অবস্থা একদিনে পরিবর্তন হবে না। এক লাফে তারা পূর্বের সেই আসল অবস্থায় ফিরে যাবে না; বরং আমরা সেভাবেই তাদেরকে ধীরে ধীরে পূর্বের অবস্থায় ফেরত নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব, যেভাবে পর্যায়ক্রমে তারা বর্তমানের করুন ও দুঃখজনক অবস্থায় এসে পৌছেছে।

আমাদের সামনে পথ অনেক দীর্ঘ পথ। যদি দীর্ঘ হয়, আর তার বিকল্প সংক্ষিপ্ত অন্য কোন পথ না থাকলে যে ব্যক্তি দীর্ঘ পথের অভিযোগ করে যাত্রা শুরু করবে না, সে কখনও তার গন্তব্যস্থলে পৌছতে পারবে না।

উপদেশ নং-১৫

হে আমার মেয়ে তুমি প্রথমে মুসলিম নারীদেরকে পুরুষদের সাথে খোলামেলা উঠা-বসা, চলাফেরা এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে বেপর্দা হয়ে সহশিক্ষায় প্রবেশ করতে নিষেধ কর । সেই সাথে সহ শিক্ষার খারাপ দিকগুলো তুলে ধর। তুমি তাদেরকে মুখ ঢেকে রাখতে বল। যদিও ফিতনার আশঙ্কা না থাকলে আমি মুখ ঢাকাকে ওয়াজিব মনে করি না। মুখ খুলে রাস্তায় চলার চেয়ে নির্জনে মুখ ঢেকে পুরুষের সাথে সাক্ষাৎ করা অধিক বিপদজনক ।

স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্বামীর ঘরে স্বামীর বন্ধুর সামনে বসে গল্প করা, আপ্যায়ান করা আর পাপের দরজা খুলে দেওয়া একই কথা। ভার্সিটিতে সহপাঠীর সাথে করমর্দন করা অন্যায়, তার সাথে অবিরাম কথা ও মোবাইলে আলাপচারিতা চালিয়ে যাওয়া ক্ষতিকর। একসাথে বিদ্যালয়ে যাওয়া অনুচিত। বান্ধবীর সাথে গৃহ শিক্ষকের রুমে একত্রিত হওয়া অপরাধ ।

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ ……

লেখকঃ  শায়খ আলী আত তানতাবী ।

প্রথম পর্ব পড়ুন এখানে – http://bit.ly/2dXoauu

#হে_আমার_মেয়ে

শেয়ার করুনঃ
হে আমার মেয়ে (শেষ কিস্তি)  !!!

হে আমার মেয়ে (শেষ কিস্তি) !!!

উপদেশ নং-১৬

হে আমার মেয়ে! তুমি এ বিষয়টি ভুলে যেও না যে, আল্লাহ্‌ তাআলা তোমাকে নারী হিসাবে সৃষ্টি করেছেন। আর তোমার সহপাঠীকে পুরুষ বানিয়েছেন। তোমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই এমন উপাদান যুক্ত করা হয়েছে, যার কারণে তোমরা একে অপরের প্রতি ঝুকে পড় । সুতরাং তোমাদের কেউ এমনকি পৃথিবীর সকল মানুষ মিলে চেষ্টা করলেও আল্লাহর সৃষ্টিতে কোন পরিবর্তন আনতে পারবে না। তারা কখনই নারীপুরুষের ব্যবধান উঠিয়ে দিয়ে উভয়কে সমান করতে পারবে না এবং নারী-পুরুষের পরম্পরের দিকে আকর্ষণকে ঠেকাতে পারবে না।

যারা সভ্যতার নামে নারী-পুরুষের মধ্যকার ব্যবধান উঠিয়ে দিতে চায় এবং উভয় শ্রেণীর জন্য সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে কর্মক্ষেত্রে মিশ্রিত হয়ে যাওয়ার আহবান জানায় তারা মিথ্যুক । কারণ, এর মাধ্যমে তারা নিজেদের মনের চাহিদা মেটাতে চায় এবং অন্যের স্ত্রী-কন্যাকে পাশে বসিয়ে নারীদের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চায় । সেই সাথে আরও কিছু করার সুযোগ পেলে তাও করতে চায়। কিন্তু এ কথাটি এখনও তারা খোলাসা করে বলার সাহস পাচ্ছে না। সুতরাং তারা নারীদের সম অধিকার প্রতিষ্ঠা, সভ্যতা ও উন্নয়নের যে সুর তুলছে তা নিছক সস্তা বক্তব্য ছাড়া আর কিছু নয়। এ সমস্ত কথার পিছনে তাহজুৰ-তামাদ্দুন, সভ্যতাউন্নতি অর্জন আদৌ তাদের উদ্দেশ্য নয়। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে মুসলিম সমাজকে তারা বোকা বানাচ্ছে ।

তারা যে মিথুক তার আরেকটি কারণ হল, যেই ইউরোপ-আমেরিকাকে তারা নিজেদের আদর্শ মনে করে এবং যাদেরকে তারা সভ্যতা, সংস্কৃতি ও উন্নতির পথ প্রদর্শক মনে করে মূলত তারা প্রকৃত সত্যকে উপলব্ধি করতে পারে নি। তারা যেটিকে সভ্যতা ও সংস্কৃতি মনে করে মূলত সেটি সভ্যতা ও সংস্কৃতি নয় । তাদের ভাষায় সত্য তা নয়, যা মিথ্যার বিরদ্ধাচারণ করে। বরং সত্য, সভ্যতা হচ্ছে তা যা প্যারিস, লন্ডন, নিউইয়র্ক থেকে এসেছে। তাদের ধারণায় নাচ, গান, বেহায়াপনা, উলঙ্গ, অর্ধ উলঙ্গ হওয়া, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সহশিক্ষায় অংশ নেওয়া, নারীদের খেলার মাঠে নাম এবং সমুদ্র সৈকতে গিয়ে বস্ত্রহীন হয়ে গোসল করাই সভ্যতা ও সংস্কৃতির মানদণ্ড।

আর প্রাচ্যের দেশ তথা মুসলিমদের মসজিদ, মাদরাসা, মদীনা, দামেস্ক এবং আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল ইসলামী প্রতিষ্ঠানে যে উন্নত চরিত্র, সুশিক্ষা, নারী-পুরুষের বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীন পবিত্রতার প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তাদের ধারণায় তা মুসলিমদের পশ্চাদমুখী হওয়ার এবং সভ্যতা ও সংস্কৃতির দিক থেকে পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ।

বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও ইউরোপ-আমেরিকা থেকে ঘুরে আসা বন্ধুদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, সেখানে বসবাসকারী অনেক পরিবার নারীপুরুষের খোলামেলা চলাফেরাতে সন্তুষ্ট নয় এবং এটি তাদেরকে শান্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আজ তারা বিকল্পের সন্ধান করছে।

ইউরোপ-আমেরিকায় এমন অসংখ্য পিতা-মাতা আছে, যারা তাদের যুবতী মেয়েদেরকে যুবক পুরুষদের সাথে চলাফেরা করতে ও মিশতে দেয় না। তারা তাদের সন্তানদেরকে সিনেমায় যেতে দেয় না। শুধু তাই নয়, তারা তাদের ঘরে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনামুক্ত চ্যানেল ব্যতীত অন্য কিছু ঢুকায় না। অথচ পরিতাপের বিষয় হচ্ছে আজ অধিকাংশ মুসলিম দেশের মুসলিমদের ঘর এগুলো থেকে মুক্ত নয়।

এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবীর কথা হচ্ছে, সহশিক্ষা প্রবল যৌন আকাঙ্খা কে দমন করে। চরিত্র সংশোধন করে এবং দেহ থেকে বাড়তি যৌন চাহিদাকে দূর করে দেয়। আমি তাদের জবাবে বলতে চাই যে, আপনারা কি রাশিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখেন না? যেই রাশিয়া কোন ধর্মে বিশ্বাস করে না, কোন পাত্রীর উপদেশে কর্ণপাত করে না, তারা কি সহশিক্ষা ও নারী পুরুষের সহ অবস্থানের খারাপ পরিণামের শিকার হয়ে তা থেকে ফেরত আসার ঘোষণা দেয় নি?

আমেরিকা প্রসঙ্গে আসি। পত্র-পত্রিকার রিপোর্ট প্রকাশ হচ্ছে যে, অবিবাহিত ছাত্রীদের মধ্যে গর্ভবতীর সংখ্যা সেখানে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে । এটি তাদের অন্যতম একটি বিরাট সমস্যা । আপনারা কি মুসলিম দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এমন সমস্যা দেখতে চান?

বরতমান সময়ে আমেরিকা এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য যৌন শিক্ষা নামক একটি বিষয় সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করে তা ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পাঠদান করছে। আমি মনে করি এর মাধ্যমে তারা আগুনের মধ্যে পেট্রোল ঢালছে। অল্প বয়স্ক নির্দোষ বালিকার মধ্যে লুকায়িত যৌন স্পৃহাকেই তারা জাগিয়ে তুলছে। স্কুল পর্যায়ের ছাত্রীদেরকে তারা কনডম ব্যাবহারের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং একজন পুরুষ একজন মহিলার শাথে কি করে তারা উথতি বয়সের বালিকাদের তাও শিক্ষা দিচ্ছে। আমাদের মধ্যে বসবাসকারী এক ধরণের মানুষ নামধারী শয়তান আমাদেরকেও তাদের কর্মকাণ্ড অনুসরণ করার সবক দিচ্ছে।

উপদেশ নং-১৭

হে আমার মেয়ে! আমি যুবকদের সম্বোধন করছি না। এও আশা করছি না যে, যুবকরা আমার কথা অবনত মস্তকে মেনে নিবে। আমি জানি তারা আমার কথা প্রত্যাখ্যান করবে এবং আমাকে বোকা বলবে । কারণ, তারা মনে করবে যে, আমি তাদেরকে যৌবনের স্বাদ উপভোগ করতে বাঁধা দিচ্ছি এবং তাদেরকে ভোগের সমুদ্রে সাঁতার কাটতে মানা করছি ।

তাই আমি তোমাদের সম্বোধন করছি হে আমার মেয়েরা। হে আমার ভালো, সতী মুসলিম মেয়েরা। কেননা, তোমরাই হায়েনার ছোবলে পড়। তোমাদের ইজ্জত সম্মান মাটিতে মিশে যায় । সুতরাং সতর্ক থাক । ইবলিসী ফাঁদে পড়ে নিজের জীবন ধবংস কর না । তোমরা তাদের কথায় কৰ্ণপাত করো না। কারণ, এ সমস্ত শয়তানদের অধিকাংশের স্ত্রী-সন্তান ও পরিবার নেই । তারা কেবল তোমাদেরকে উপভোগ করতে চায় ।

কিন্তু আমি! আমি কয়েকজন মেয়ের গর্বিত পিতা । তাই মুসলিম মেয়েদের রক্ষা করার দায়িত্ব আমার নিজের মেয়েকে রক্ষা করার মত । আমার নিজের মেয়ের জন্য যে কল্যাণ চাই তোমাদের জন্যও সেই কল্যাণ চাই ।

উপদেশ নং-১৮

হে আমার মেয়ে! তুমি তোমার বোনদেরকে বল, আমি তোমাদেরকে যে উপদেশ দিচ্ছি, তার বিনিময়ে আমি কিছুই চাই না। শুধু তোমাদেরকে অধ:পতনের হাত থেকে রক্ষা করতে চাই, তোমাদের কল্যাণ চাই, পবিত্র জীবনের সন্ধান দিতে চাই ।

উপদেশ নং-১৯

হে আমার মেয়ে এদের কবলে পড়ে কোন নারী যদি তার অমূল্য সম্পদ হারায়, তার মর্যাদা নষ্ট হয় এবং সম্ভ্রম ও সতীত্ব চলে যায়, তাহলে তার হারানো সম্পদ দুনিয়ার কেউ পুনরায় ফেরত দিতে পারবে না। অথচ যত দিন সেই নারীর শরীরে যৌবন অবশিষ্ট ছিল ততদিন পাপীষ্টরা তার সৌন্দর্যের চারপাশে ঘুরঘুর করেছে এবং তার প্রশংসা করেছে। যৌবন চলে যাওয়ার সাথে সাথেই কুকুর যেমন মৃত জওর মাংশ ভক্ষণ করে হভিডগুলো ফেলে রেখে চলে যায়, ঠিক তেমনি তারা তাকে রেখে দূরে চলে যায়।

উপদেশ নং-২০

হে আমার মেয়ে। এই ছিল তোমার প্রতি আমার সংক্ষিত্ত উপদেশ । তোমাকে যা বললাম, তাই সত্য। এটি ছাড়া কেউ যদি তোমাকে অন্য কথা বলে, তুমি তা বিশ্বাস করো না । জেনে রেখো! তোমার হাতেই সংশোধনের চাবিকাঠি। আমাদের হাতে নয় । তুমি চাইলে নিজেকে, তোমার বোনদেরকে এবং সমগ্র জাতিকে সংশোধন করতে পার । তোমার প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক ।

– তোমার পিতা

আল আত তানতাবী

সমাপ্ত

লেখকঃ শায়খ আলী আত তানতাবী ।  

প্রথম দুটি পর্ব পড়ুন এখানে –

প্রথম পর্ব- http://bit.ly/2dXoauu  

দ্বিতীয় পর্ব – http://bit.ly/2dt4X0T

#হে_আমার_মেয়ে

শেয়ার করুনঃ