‘স্বর্গের দিন! স্বর্গের রাত!'(দ্বিতীয় পর্ব)

‘স্বর্গের দিন! স্বর্গের রাত!'(দ্বিতীয় পর্ব)

কাতাদা সান বেশ আবেগের সাথে কথা বলেন। কথা বলেন আনিমেশান নিয়ে। বলেন তাঁর ভালো লাগার আনিমেশানের কথা, তাঁর এনিমেশানের কর্ম জীবনের দীর্ঘ ৩০ বছরের কথা। জাপানের আনিমেশানের সাফল্যের পাশাপাশি জাপানের অর্থনৈতিক অবনতির কথা। জাপানের উন্নত জীবনের অন্তরালের ভয়াবহ দঃস্বপ্নময় জীবনের কথা।
.
একদিন তিনি বলছিলেন, “টোকিওতে ‘ইয়ামানোতে সেন’ (একটি ট্রেন লাইন) এ চড়লে প্রায়ই একটা ঘোষণা আমরা শুনতে পায়। অমুক সময়ের অমুক ট্রেন অত মিনিট দেরি করে ফেলেছে। অত্যন্ত দুঃখিত। দেরি হওয়ার পিছনে বিশেষ কোন কারণ নেই। …….” তিনি জিজ্ঞেস করলেন “বলুনতো, দেরি হওয়ার পিছনে বিশেষ কোন কারণ নেই এর মানে কী?”
.
আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না। বললাম হয়তো কোনো ছোটখাটো সমস্যাজনিত কারণে ট্রেন লেট করে ফেলেছে তাই এটা বলছে। তিনি বললেন, “না। কারণটা আসলে অনেক বড় এবং কারণটা প্রতিদিন ই ঘটছে এবং দিনে কয়েকবারও ঘটছে, কিন্তু সেটা আবার যন্ত্রের ত্রুটি বা রেল কতৃপক্ষের ত্রুটি জনিত কারণও নয়। আসলে কারণটা ঘটায় সাধারণ মানুষ। বলতে পারবেন কারা?”
আমি বলতে পারলাম না।
তিনি বললেন, “আত্মহত্যাকারীরা”। (জাপানে আত্মহত্যাকারীরা চলন্ত ট্রেনের নীচে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন।) বলে গানের সুরে সুরে ট্রেনের ঘোষনাটা আবার আওড়াতে থাকলেন। তাকে একটু হতাশ মনে হল।
.
আমি একটু সমবেদনা দেখাবার জন্যে বলতে থাকলাম “সত্যিই। জাপানে এত আত্মহত্যা করে সবাই; আমার খুব খারাপ লাগে।” আমার এক গায়িকা বান্ধবীও যে গত বছর আত্মহত্যা করেছে সে কথাও তাকে বললাম। এছাড়া ওইখানের স্কুল জীবনের কতগুলো হতাশাগ্রস্ত বন্ধু ও বান্ধবীদেরকে নিয়েও যে আমি একটু শঙ্কিত তাও তাকে বললাম। বললাম আসলে টাকা না থাকলে জাপানের জীবন অনেক কঠিন, তাই না? তিনি বললেন, “ঠিক তাই, শিপু ভাই। আপনার যদি টাকা না থাকে তাহলে জাপান হয়ে যাবে আপনার জন্যে দোযখ। না পারবেন ঘুমিয়ে থাকতে, না পারবেন জেগে থাকতে। ২৪ ঘন্টা আপনাকে দৌড়াতে হবে টাকা রোজগারের পিছনে”।

.
তিনি বলতে থাকলেন… “আজকে আপনারা মনে করছেন যে, জাপানীরা না জানি কত বড়লোক, কত সুখী। কিন্তু না। না। আপনাদের ধারণা সম্পূর্ণভাবে ভুল। সাধারণ জাপানীদের হাতে কোন টাকা নেই, আছে শুধু লোনের বোঝা আর পরিশোধের চাপ। সুখী থাকবে কিভাবে। আপনাদের তো এখনও লোনের বোঝা সেভাবে হয়ে ওঠেনি। আপনারা তো এখনো আমাদের মত তথাকথিত উন্নত জীবন-কারাগারে বন্দী হননি। তাই আপনাদের এখনও প্রতিদিন, এবং মাসের শেষে বিভিন্ন ধরণের বিল পরিশোধের টাকা গুনতে হয়না। আপানারা এখনও স্বাধীন। তাই আপনারা চাইলে মাঠে ঘুমিয়েও ২/৩ বেলা খেয়ে না খেয়েও জীবনটা পার করে দিতে পারবেন। কিন্তু আমরা জাপানীরা পারবোনা। আমাদের সে সামাজিক স্বাধীনতা নেই। না চাইলেও আমাদের ইমারতের মধ্যেই বসবাস করতে হয় এবং তার জন্য ভাড়া দিতেই হয়। ফ্লাট ভাড়া করতে গিয়ে ইন্স্যুরেন্স, গ্যারান্টি ইত্যাদি বিষয়ক অনেক কাগজ জোগাড় করতে হয়। ভাড়া জোগাড় করতে গিয়ে কাজ করতে হয়। কাজ করতে হলে খেতে হয়। ৩ বেলা না চাইলেও অন্তত ২ বেলা অবশ্যই খেতে হয় এবং তার জন্য টাকাও গুনতে হয়। কারণ না খেলে কাজ করতে পারবো না। এর পরে আছে সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে প্রয়োজনের পাহাড়। পোশাক আশাক আরও কত কি। তাল মিলিয়ে না চলতে পারলে আপনি সবার চোখে হয়ে যেতে থাকবেন একজন এলিয়েন। যা জাপানে বসবাসের জন্য ভয়াবহ। কারণ জাপানীরা এলিয়েন পছন্দ করেনা। তারা সবাইকে একই রকম দেখতে চায়। এবং আপনি সেভাবে সমাজের সাথে মেলাতে গিয়ে দেখবেন এক সময় আর পেরে উঠছেন না। আপনি রোজগারের জন্যে দৌড়াতে দৌড়াতে এক সময় শারীরিকভাবে এবং মানসিক ভাবে ক্লান্ত হতে থাকবেন। আপনি আবিষ্কার করবেন যে, আপনি সামাজিক ভাবে চলতে গিয়ে বিভিন্ন রকম বিল (অধিকাংশ জিনিষই আপনি সেখানে কিস্তিতে কিনতে পারবেন) পরিশোধ করতে গিয়ে আপনার কাজের সময়ের পরিমাণ আরো বাড়াতে হচ্ছে প্রতিদিন। একসময়ে আবিষ্কার করবেন যে, সারাদিন আপনি দাসের মত খাটছেন এবং রোজগারের জন্য যে কাজ করছেন তা আপনার পছন্দের কাজ নয়; এবং আপনি সে কজে আনন্দ তো পাচ্ছেনই না বরং কষ্ট পাচ্ছেন।
.
এরপর যা হবে তা এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের মত। আপনার আর কাজে যেতে ইচ্ছে করবেনা, তারপরও বাধ্য হয়ে আপনি যাবেন। কাজে গিয়ে কর্মস্থলের মানুষদেরকে আপনার খারাপ লাগতে শুরু হবে। দোকানদার, পাওনাদারদেরকে আপনার খারাপ লাগতে থাকবে, কিন্তু আপনি এসব কিছুই প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন না বা সে সুযোগও আপনাকে দেয়া হবে না। আপনি হতাশার অতলতায় ক্রমশ ডুবতে থাকবেন। এক সময় হয়ত এমন কিছু ঘটনা আপনার সামনে এসে দাড়াতে থাকবে যে আপনি আর মোকাবেলা করার শক্তিও পাবেন না। আপনি হতাশার ঘোরের মধ্যে আরো তলিয়ে যেতে থাকবেন। নিজের জীবনকে অদৃশ্য করে পালিয়ে বাঁচতে চাইবেন। লাফিয়ে পড়বেন ইয়ামানোতে সেনের ট্রেনের নীচে। তারপর ট্রেনে আরো একটা ঘোষনা হবে…
.
< ...... সময়ের ...... ট্রেন ...... মিনিট দেরি করে ফেলেছে। অত্যন্ত দুঃক্ষিত। দেরি হওয়ার পিছনে বিশেষ কোন কারণ নেই। >…….” কথা গুলো বলতে বলতে জাপানের টেলিভিশান এবং সিনেমা হলের জন্য নির্মিত অসংখ্য হৃদয়স্পর্শী গল্পের আনিমেটর কাতাদার চোখ দুটো চিক চিক করে উঠল।
.
আমি বললাম, ‘তাহলে আমরা কী ভালো আছি? আমাদেরও তো এখন ঢাকা শহরে বসবাস করতে অনেক খরচের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আমদেরও তো আনেক কাজ করতে হচ্ছে’।
.
তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ,আপনাদেরও অনেক খরচের সম্মুখীন হতে হচ্ছে, তবে আমাদের ধারে কাছেও এখনও পৌঁছাতে পারেননি আপনারা। ঢাকা শহরেও আপনারা চাইলে স্বাধীনভাবে অথবা খরচ না করেও জীবন যাপন করতে পারবেন এখনও। আর গ্রামে গেলে তো আরো চাহিদা কম। আপনি চাইলে অল্প কাজ করে, অল্প খেয়ে পরে, আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করেও আপনার জীবনটাকে পার করে দিতে পারবেন। কিন্তু আপনাদের সমস্যা হচ্ছে, আপনারাও আমাদের মত ভুল করতে শুরু করেছেন। আপনারাও চাইছেন আমাদের মত ব্যায়বহুল জীবনযাপন করতে। আপনারা আমাদের মত দেশের (যেমন জাপান, আমেরিকা, ইউরোপ, ইত্যাদি দেশকে) অনুকরণ করে ঢাকা শহরকে একটা ব্যায়বহুল শহরে পরিণত করে সুখী হতে চাচ্ছেন।
.
কিন্তু আপনারা আসলে আমাদের মতই ভুল করছেন। এখন ঢাকা শহরে অনেক গুলো শপিং মল হয়েছে। ভিতরে ঢুকলে তথাকথিত উন্নত দেশের সাথে এগুলোর তেমন বিশেষ পার্থক্য দেখা যায়না। এর কিছু দিন পরে দেখবেন আপনাদের দেশে Kiosk, Jusco ইত্যাদি আরও সব বড় বড় শপিং মল ঢুকে পড়বে এবং তারা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। শুধু তাই নয়। এরা আপনাদের সব ছোট ছোট দোকান পাট, ব্যাবসা ইত্যাদিকে খেয়ে ফেলে দিবে। ফলাফল, আস্তে আস্তে আপনাদের সাধারণ মানুষের হাতে আর ব্যবসা থাকবে না। আপনারা ক্রমান্বয়ে হতে থাকবেন শুধু তাদের ব্যবসার জ্বালানির মসলা। আপনারা তাদেরকে মাথায় তুলে রাখার জন্য তথা কথিত উন্নত জীবন যাপনের নামে শুধু তাদের ব্যবহারের বস্তু হয়ে পড়বেন। আপনারা তাদের দ্রব্য তৈরী ও ক্রয় দুটোই করবেন।
.
তবে এখনই আপনাদেরকে ঐ ভয়াবহতার মধ্যে পড়তে হবেনা। এখন বরং আপনারা অনেক সুখী আছেন। কারণ এখন সেই সমাজ গড়ার প্রক্রিয়ার মধে আছেন আপনারা। প্রতিদিন আপনাদের একটু একটু করে রোজগারের টাকার অঙ্ক বাড়ছে, একটু একটু করে একেকটা যন্ত্রের অধিকারী হচ্ছেন। একটা ফ্রিজের, একটা ইলেক্ট্রিক ওভেনের মালিক হচ্ছেন, একটা সুন্দর শপিং মলে তথাকথিত আধুনিক পদ্ধতিতে কেনাকাটা করার সুযোগ পাচ্ছেন, কিছুদিন পরে গাড়ী বাড়ী, রাস্তা ঘাট সব কিছুরই অধিকারী হবেন তাও একটু একটু বুঝতে পারছেন। ফলে আপনাদের স্বপ্ন আছে। এবং সেই স্বপ্নই আপনাদেরকে এখন সুখে রেখেছে।
.
কিন্তু তারপর আসবে সেই সময়, হয়ত আপনাদের পরবর্তী প্রজন্ম অপেক্ষা করছে আপনাদের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে। তাদের আর কোন কিছু পাওয়ার স্বপ্ন থাকবেনা, থাকবে শুধু দুঃস্বপ্ন। সবই তারা পেয়ে যাবে। আপনারা যেমন চেয়েছিলেন ঠিক তেমন দেশই তারা পাবে। তাদের গাড়ী, বাড়ী, ওয়াশিং ম্যাশিন, রাস্তা ঘাট সবই থাকবে। গলায় বিদেশীদের মত টাইও থাকবে। কিন্তু সেই টাই হয়ে যাবে তাদের গলার ফাঁস। আপনারা যে জীবনটা পাওয়ার জন্য একসময় স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাদেরকে সেই জীবনে বসবাস করতে বাধ্য করা হবে। তাদেরকে বাধ্য করা হবে তথাকতিথ আধুনিক ইমারতে বসবাস করতে, তাদেরকে বাধ্য করা হবে তথাকতিথ শপিং মলে কেনাকাটা করতে, এবং সর্বপরি তাদেরকে বাধ্য করা হবে ঐ সবের সমস্ত ব্যায়ভারও বহন করতে। এবং তারপর যা হবে তা ঠিক এখন যেমন হচ্ছে আমাদের মত দেশ গুলোতে…
.
…তাদের আর কাজে যেতে ইচ্ছে করবেনা, তারপরও বাধ্য হয়ে তারা যাবে। কাজে গিয়ে কর্মস্থলের মানুষদেরকে তার খারাপ লাগতে শুরু হবে। দোকানদার, পাওনাদার দেরকে তার খারাপ লাগতে থাকবে, কিন্তু সে এসব কিছুই প্রকাশ করার সুযোগ পাবেনা বা সে সুযোগও তাকে দেয়া হবে না। সে হতাশার অতলতায় ক্রমশ ডুবতে থাকবে। এক সময় হয়ত এমন কিছু ঘটনা তার সামনে এসে দাড়াতে থাকবে যে সে আর মোকাবেলা করার শক্তিও পাবেনা। সে হতাশার ঘোরের মধ্যে আরো তলিয়ে যেতে থাকবে। নিজের জীবনকে অদৃশ্য করে পালিয়ে বাঁচতে চাইবে। লাফিয়ে পড়বে ইয়ামানোতে সেনের মত কোন এক ট্রেনের নীচে। তারপর ট্রেনে একটা ঘোষনা হবে। .
.
< ...... সময়ের ...... ট্রেন ...... মিনিট দেরি করে ফেলেছে। অত্যন্ত দুঃক্ষিত। দেরি হওয়ার পিছনে বিশেষ কোন কারণ নেই। >…….”
.
(ট্রেনের নীচে আত্মহত্যা করলে কোন কষ্ট ছাড়া মৃত্যু হবে এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। গবেষকদের মতে ট্রেনের নীচে শরীর কেটে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলেও সত্যিকারের মৃত্যু হতে কমপক্ষে ২ ঘন্টা সময় লাগে এবং ঐ ২ ঘন্টা কল্পনাতীত যন্ত্রনা ঐ আত্মহত্যাকারীকে সহ্য করতে হয়।)
.
বেশ কিছুক্ষন নীরব হয়ে বসে থাকলেন আনিমেটর কাতাদা। একসময় আবার ছবি আঁকতে শুরু করলেন।

.
আমি ভাবতে থাকলাম; জীবনের উন্নতি, সমাজের উন্নতি, দেশ, নদী নালা, রঙ্গীন ধান ক্ষেত, হলুদ সর্ষের ক্ষেত, ঢাকা শহরের মিশে যাওয়া খাল বিল, শিমুল ফুলের গাছ, রাতের শিয়ালের ডাক, ভর দুপুরের পাখির গান, টিনের চালে ঝমঝম বৃষ্টির শব্দ, মুড়ি, সর্ষের তেল আর দেশি পিঁয়াজের ঝাঁঝ, …
.
…আর বাবার কলমের কালি এবং মায়ের সেলাইয়ের সুঁতা দিয়ে স্কুলের খাতার মধ্যে হরেক রকম ডিজাইন তৈরী করে ছোট বোনকে আনন্দ দেয়ার কথা।
.
হঠাৎ করে জানালার ওপাশ থেকে মটর সাইকেলের বিকট শব্দে আমার স্বপ্নের ঘোর কেটে গেল। জানালা খুলতেই দেখলাম অসংখ্য মানুষ, অসংখ্য গাড়ী। একে অপরকে সরে যেতে বলছে, রিক্সাওয়ালাকে ট্রাফিক পেটাচ্ছে, গাড়ীর ড্রাইভার গাড়ী থেকে নেমে পথচারীর কলার চেপে ধরেছে, ফুটপাথে এক মটর সাইকেল পথচারীদেরকে ধমক দিতে দিতে সামনে এগিয়ে চলেছে। ……
.
…একটি ছোট্ট ছেলে মুখে হাত দিয়ে ফুটপাথে বসে কি যেন ভাবছে ……… …
.
চলবে ইনশা আল্লাহ্‌…
(সংগৃহীত)
.
‘স্বর্গের দিন! স্বর্গের রাত!’প্রথম পর্ব
.
অবশ্যই পড়ুন-
প্রতিযোগিতার দর্শন যেভাবে আত্মহত্যা ডেকে আনে
.
পড়ুন-
কেন জাপানিরা এত আত্মহত্যাপ্রবণ?
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনঃজাপান কেন আত্মহত্যাপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত?

কাজের চাপে মৃত্যু: জাপানের এক অস্বাভাবিক সমস্যা

আরো পড়ুন-
Japan’s youth suicide rate highest in 30 years
Why is Depression So Prevalent in Japan?

শেয়ার করুনঃ
‘স্বর্গের দিন! স্বর্গের রাত!’ (প্রথম পর্ব)

‘স্বর্গের দিন! স্বর্গের রাত!’ (প্রথম পর্ব)

এক বছরের বেশি হয়ে গেল আমার প্রবাস জীবনের – জার্মানির হামবুর্গ শহরে। হামবুর্গ আন্তর্জাতিক শহর – ১৮০ এর বেশী দেশের মানুষের এখানে বসবাস। এখানে আসার আগে মাত্র একজন বাংলাদেশীকে চিনতাম, তার উপর হামবুর্গে বাংলাদেশীর সংখ্যা হাতেগোনা হয়ার কারনে প্রথম থেকেই বিদেশি বন্ধবান্ধব জুটে জায়, এদের সাথেই উঠাবসা চলে। পূর্বের চায়না থেকে পশ্চিমের আমেরিকা – সবার সাথে মেশার সুযোগ হয়েছে…ইংলিশটা ভাল হয়ার কারনে অনেক জার্মান বন্ধুও জুটেছে (হাম্বুরগের জার্মানরা তাদের ইংলিশ এর উন্নতির বেপারে খুবই সচেতন :D)….উইকেন্ডের সারা রাত জেগে জীবন ভিত্তিক আড্ডাও হয়েছে। সব মিলিয়ে আমি বলব গত এক বছর আমার জীবনের সবচেয়ে শিক্ষামূলক সময় কাটিয়েছি – বেশ কিছু জিনিশ উপলব্ধি করেছি….
.
ছোটবেলায় আমার কাজিনের (Tamal vai)কল্যাণে হলিউড মুভি দেখা হয়েছে অনেক। মুভি দেখতাম আর আফসোস করতাম – ইশ!! কেন যে আমেরিকা-ইউরোপে জন্ম হলনা!!! কত সুন্দর বাল্যকাল কাটাতাম!!! স্কুল থেকে প্রতি বছর অন্য দেশে ট্রিপে নিয়ে যেত, সামারে বনেবাদারে ক্যাম্পিং করতাম, শীতকালে উইন্টার স্পোর্ট করতাম, ১৩-১৪ বছর বয়স থেকে গার্লফ্রেন্ড থাক্ত, ১৬ বছর থেকে পার্টটাইম কাজ শুরু করে টাকা জমায় ২০-২১ বছরে ওয়ার্ল্ড ট্রিপ দিতাম! what a life that would have been……অনেক রাগ ছিল বিধাতার উপর…গরীব দেশে জন্ম দেয়ার কারনে।
.
আজ আমি এক বছর প্রবাস জীবন কাটানোর পর প্রতিদিন একবার আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায করি, গরীব-মুসলিম দেশে জন্ম দেয়ার কারনে……একটু ব্যাখা করার চেষ্টা করি, কেন এই উপলব্ধি।
.
জার্মানি আসার আগে জার্মানির উপর কিছু আর্টিকেল পড়েছিলাম। এমন একটা আর্টিকেল এ ছিল লাভ ইন জার্মানি এর উপরে। আর্টিকেলের একটা জিনিস বেশ অবাক লাগসে – জার্মানরা “আমি তোমাকে ভালবাসি” – এই কথাটা পারত পক্ষে বলে না। ২-৩ বছরের সম্পরকের পর ও ওরা ভালবাসার কথা এরায় চলে। প্রথমে বিশ্বাস করি নাই। এখানে এসে জার্মানদের সাথে মিশার পর, বেশ কিছু জার্মান ফ্যামিলির কাছ থেকে দেখার পর ব্যাপারটা উপলব্ধি করতে পারসি।
.
এখানে বিয়ে ৪-৫ বছরের বেশি টিকে না। অধিকাংশ ফ্যামিলি বাচ্চা ছোট থাকা অবস্থায় ভেঙ্গে যায়। এর ফলে যেটা হয় যে, বাচ্চা ছোট বয়স থেকেই দেখে যে বাবা-মা দুই জনের কাছেই কয়েক মাস পর পরই গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড আসতেসে…কেউই স্থায়ী হয় না। ছোট বেলা থেকেই একটা শিক্ষা ওরা নিয়ে নেয়, “মানুষ আসবে মানুষ যাবে”। যার কারনে অটমেটিকালি মানসিক আত্মরক্ষা এর কারনে ওরা কোন মানুষের প্রতি ইমশোনাল ডেভেলপমেন্ট করতে পারে না। কারন আনকনশাসলি ওরা এটা ধরেই নেয় যে, কেউই বেশিদিন থাকবে না। তার উপর ১৩-১৪ বয়স থেকেই ফিসিকাল রিলেশনশিপ শুরু করে দেয় – ভালবাশা এর জন্য না, আসলেই ফিসিকাল কিউরিসিটি থেকে এবং প্রতি বছর নতুন নতুন। যার কারনে নারীপুরুষ সম্পর্কের ভিতর ওদের কাছে কোন কিছু বাকি থাকে না। যার ফলে ওরা পুরা নারীপুরুষ সম্পর্কের বিষয়ে ইন্সেন্সিটিভ হয়ে যায়।
.
একটা এক্সামপল দেই, এখানে ছেলে-মেয়ে বন্ধু (শুধু বন্ধু)একসাথে ঘুমায়…কোনরকম সমস্যা ছাড়া। গার্লফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ডকে জিজ্ঞাসা করা, কার সাথে চ্যাট করতেসে, কারসাথে পার্টিতে যাচ্ছে – এগুলো রুড।
রিলেশনশিপ ওদের কাছে নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হয়া, নতুন শরীর এর অনুভূতি নেয়া মাত্র……ভালবাসা এর অনুভূতি এক অবাস্তব বিষয়। বলিঊডের মুভি দেখে প্রচণ্ড অবাক হয় – সত্যিই কি ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্টের মানুষরা এতোটা রোমান্টিক??? এতো অনুভূতি ওদের আসে কোথা থেকে???
.
আরেকটা বিষয় হল কালেক্টিভিসম অ্যান্ড ইন্ডিভিডুয়ালিসম। গরীব দেশের সমাজ কালিক্টিভিস্টিক হয় সারভাইভাল এর জন্য। কারন সরকার সমাজ সবসময় ব্যাসিক নিড ফিলাপ করে না। যার কারনে আমরা ছোটবেলা থেকেই পরিবার, বন্ধু, ভালোবাসার মানুষ এর জন্য স্যাক্রিফাইস করা শিখি…এটাইতো ভালবাসা, অনুভূতির জগতের ব্যাসিক।
.
আর একটা ইন্ডিভিডুয়ালিস্টিক সোসাইটিতে স্যাক্রিফাইস এর কন্সেপ্টটা অচেনা……একানকার মোটো হল – “তোমার জীবন এটা, তাই কর, যেটা শুধু তোমার জীবনের জন্য ভাল”। যার ফলে প্রতিটা মানুষ বাচে শুধু নিজের জন্য-আমাদের জন্য যেটা সায়েন্স ফিকশন, কল্পনার বাইরে। একারণে পরিবার-ভালবাসার মধ্যে এইধরনের প্রশ্ন খুবই কমন – “ও কি আমাকে সুখী করছে? ওকেই কি আমি চাই? আমার বাবা-মা এর সাথে থাকার কারনে আমার বযক্তিগত জীবন কি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে?”- পুরো জীবন জুরেই এইসব প্রশ্নের উত্তর খুজতে খুজতে চলে যায়…অনুভব আর করা হয় না। ওরা খুবই অবাক হয় শুনে, যখন আমি বলি, আমাদের প্রশ্নগুলো পুরো উল্টো – আমারা চিন্তা করি আমার আমাদের বাব-মাকে সুখী করতে পারছি কিনা, ভালবাসার মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে পারছি কিনা…
.
আর সবথেকে বড় বিষয় হল, গডলেস সোসাইটিতে বড় হবার কারণে শিখে, এই জীবনটাই আসল, এরপর আর কিছু নাই, সব শেষ! সব মানুষের পক্ষে তার এইধরনের বাস্তবতা মেনে নেয়া কঠিন। হার্টে সত্তের অপূর্ণতা থেকেই যায়।
.
মজার একটা বিষয় হল ছোটবেলা থেকেই এতোটা রোবোটিক যে, এখানে আপনি জার্মান কোন বাচ্চাকে কাঁদতে দেখবেন না। রাস্তায় যদি কোন বাচ্চার কান্না শুনেন, তাহলে চোখ বন্ধ করে বুঝে নিবেন টার্কিশ বা আরব বাচ্চা। আমি এখন পর্যন্ত একটা জার্মান বাচ্চাকে কান্তে দেখি নাই…সত্তি!!!!!!!!
.
আমার এই অভিজ্ঞতার পর ছোটবেলার ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ডের প্রতি হিংসা, ওদের প্রতি করুণায় পরিণত হয়েছে। যতবারই জার্মানদের সাথে এইসব বিষয়ে কথা বলেছি, ততবারই গম্ভীর হযে গেছে, ২-৩ জন কেঁদেও দিয়েছে। আসলেই ওদের মনের ইমোশনাল ভেকেন্সিটা একটু ফিল করতে পারলে ভয় লাগে…কিভাবে এভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব??? উত্তর হল উইকডেতে কাজে ব্যস্ত থাকা, উইকেন্ডে মাতাল হয়ে সব ভুলে যাওয়া…মাঝে মাঝে সাইক্রিটিস্ট ভিসিট করা, এন্টি দিপ্রেসসিভ ড্রাগ নেয়া……নতুন রিলেশনশিপ খোজা, রাস্তায় প্রথম ২-৩ মাস ওপেনে কড়া ভালোবাসা(!) বহিঃপ্রকাশ করা……তারপর আবার প্রথম থেকে শুরু করা…..
.
আসলেই আল্লাহর কাছে অগনিত শুকরিয়া, বাংলাদেশের মত গরিব ও রক্ষণশীল মুসলিম দেশে জন্ম দেয়ার জন্য। যেখানে এমন মা পেয়েছি যে তার, ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়েছে ছেলে-মেয়েকে মানুষ করার জন্য। যেখানে বাবা পেয়েছি যে শখ করে নিজের জন্য একটা ঘড়িও কিনেনি – ছেলেমেয়েদের পেছনে খরচ করার জন্য। যেখানে পরিবার পেয়েছি যার কথা ভাবলেই সব দুঃখ কষ্ট ম্লান হয়ে যায়। যেখানে আল্লাহ তোমাকে পেয়েছি – আখিরাতের কথা চিন্তা করার সুযোগ পেয়েছি……
.
My last word would be my greatest realization in life, „Whatever that sounds good or looks good is not necessarily good “… Dear Generation Y, stop following west blindly. I know that it looks like a joy ride, but it’s all a downhill fall which has almost no way back unless Allah wants. May Allah make us among those upon whom he has bestowed His grace. May Allah guide us all to the right path and make us the grateful of His grace. Ameen

চলবে ইনশা আল্লাহ…

(কালেক্টেড)

আরো পড়ুন-
একেই বলে সভ্যতা (প্রথম পর্ব) !!!: https://tinyurl.com/yaky6j8b
একেই বলে সভ্যতা (দ্বিতীয় পর্ব) !!!: https://bit.ly/2xbpnW5
এরই নাম স্বাধীনতা !!!: https://bit.ly/2xcsUnn
এরই নাম স্বাধীনতা!!! দ্বিতীয় পর্ব – https://bit.ly/2xce9kq
এরই নাম স্বাধীনতা!!! তৃতীয় পর্ব-https://bit.ly/2MxnRna
পাশ্চাত্যে বেড়ে ওঠা: https://bit.ly/2p1Irme
মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব-২: https://bit.ly/2Ms17VA
মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব- ৩ https://bit.ly/2p6dopk

শেয়ার করুনঃ
একেই বলে সভ্যতা (প্রথম পর্ব) !!!

একেই বলে সভ্যতা (প্রথম পর্ব) !!!

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

এক.

উত্তর প্রদেশ ।

ইন্ডিয়া ।

নিরিবিলি এক  আখক্ষেতের  মধ্যে  স্কুল পড়ুয়া এক মেয়ে  বসে  আছে ।

একদঙ্গল কামে উন্মত্ত পুরুষ তাকে ঘিরে ধরে আছে । মেয়েটি অসম্ভব কাপছে ,ফাঁদে পড়া হরিণীর মতো  ভীত চোখে  সে বারবার চারপাশে তাকাচ্ছে । মনে ক্ষীণ আশা, কেউ বুঝি তাকে উদ্ধার করবে এই পশুদের হাত থেকে । কিন্তু না,  শেষ রক্ষা হলো না ।  বুনো শুয়োরের মতো   ঘোত ঘোত করে    একজন হেসে উঠলো ।  মানুষরূপী একটা পশু ঝাঁপিয়ে পড়লো অসহায়  মেয়েটার ওপর ।

বিশ্বাস  করতে প্রচন্ড  কষ্ট হয়,  অসহায়  এক মেয়ের ওপর অত্যাচারের এই জঘন্য ঘটনা কেউ ভিডিও করে অনলাইনে আপ্লোড করে দিবে আর হাজার হাজার মানুষ  সেটা দেখে মনের এবং হাতের সুখ মেটাবে । মানুষের পক্ষে কি  এতটা  নিচে নামা সম্ভব  ? যুগ যুগ ধরে মানবতার জয়গান গেয়ে  লিখা সবগুলো কবিতাই কি মিথ্যে ?

কিন্তু বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে ইন্ডিয়ার উত্তর প্রদেশে  প্রতিনিয়ত  এরকম অসংখ্য ঘটনা ঘটে চলেছে

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে  ভারতের উত্তরপ্রদেশের  দোকানগুলোতে  পুলিশ এবং প্রশাসনের নাকের ডগার নিচে অসহায় মেয়েদের  উপর চালানো অত্যাচারের ভিডিও বিক্রী করা হচ্ছে । প্রতিদিন শত শত , আসলে  শত শত নয় হাজার হাজার রেপ ভিডিও বিক্রি করা হচ্ছে যেগুলোর মূল্য ৫০ রুপী থেকে ১৫০ রুপী ।

এক দোকানে একলোক  কেবল গোঁফ উঠতে শুরু করেছে এমন এক ছোকরাকে বলছে, ” জানিস আমি বোধহয়  এই লেটেস্ট, হটেস্ট ভিডিওর এই মেয়েকে চিনি” । ভিডিওটাতে সদ্য বিশের কোঠা পার হওয়া  এক মেয়ের উপর দুইটা পশু অত্যাচার করছে । অসহায় মেয়েটির কন্ঠে আকুতি ঝরে পড়ছে , “ মাফ ক্যারো, মাফ ক্যারো । কমসে কম ভিডিও তো মাত উঠারো” ।

এক সিনিয়র পুলিশের ভাষ্যমতে রেপের দৃশ্য ভিডিও করে রাখা হয় ভিক্টিমকে ব্ল্যাকমেইল করার জন্য । পুলিশের বিভিন্ন উৎস থেকে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে প্রশাসন কোনমতেই এই জঘন্য ঘটনাগুলো বন্ধ করতে পারবে না ।[১]

আল জাজিরার ভিডিও প্রতিবেদন – http://bit.ly/2fsTzmV

যে সব দেশ গুলো থেকে সবচেয়ে বেশী পর্নমুভি দেখা হয় তাদের মধ্যে  ইন্ডিয়া তিন নম্বরে । ইন্ডিয়ান মহিলারও ব্যাপক হারে পর্ন দেখছে ইদানীং [২,৩]  ।

একটা প্রদেশে চালানো জরিপ থেকে দেখা যায় ৪০ শতাংশ পুরুষ “রেপ পর্ন” দেখে [৪] ।

আইটেম সং, ইন্ডিয়ান মুভির, মিডিয়ার মাধ্যমে জনগণকে তো সবসময় সুড়সুড়ি দেওয়া হচ্ছেই ।

ইন্ডিয়াতে প্রতি ২০ মিনিটে একটা করে রেপ হচ্ছে[৫] । বিশ্বের যে দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশী রেপের ঘটনা ঘটে তার প্রথম ১০ টি দেশের মধ্যে ইন্ডিয়া রয়েছে [৬,৭] ।

ইন্ডিয়াতে প্রচুর পরিমান চাইল্ড এবিউজের ঘটনা ঘটে। বিশ্বের অনেক দেশের গনমাধ্যমেই এ ব্যাপারে অনেক রিপোর্ট হয়েছে [৮,৯,১০] । এমনকি বিশ্বের সবচেয়ে বেশী  চাইল্ড এবিউজ হয় এমন পাঁচটা দেশের শর্টলিস্টেও রয়েছে ইন্ডিয়ার নাম [১১]

আর কত মা, বোন  ধর্ষিত  হলে আমরা বুঝবো  নারীস্বাধীনতা আর প্রগতিশীলতার সব বুলি ফাঁপা ?  মিথ্যে , প্রতারনা , ধোঁকা ?

আর কত শিশু যৌন নিপীড়িত হলে   তবে আমাদের হুঁশ ফিরবে ?

আর কত   বোনের ঘর ভাংলে, আর কত বোন আত্মহত্যা করলে  তবে আমরা চিনবো আমাদের আসল শত্রুকে ?

#know_your_enemy

#একেই_বলে_সভ্যতা

#নারী_স্বাধীনতা

দুই.

প্রিয় বন্ধুরা,

আর তিন দিন মাত্র বাকি। তারপরেই আমি  All Boys Private High School থেকে গ্রাজুয়েট করে ফেলব। বলতে গেলে আমি কখনই পর্নমুভির ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারিনি। ৪ বছর পূর্বে আমি যখন সবে মাত্র স্কুলে ভর্তি হলাম, তখন বুঝতে পারলাম এটা কতটা ভয়ংকর হতে পারে।

সেই দিনের সব কিছুই আমার স্পষ্ট মনে আছে। আমার মা স্কুলের কর্তৃপক্ষের সাথে একটা মিটিং করে ফিরলেন। আমাকে কাছে ডেকে বললেন-“দেখ বাবা, আজ তোমার স্কুলের কর্তৃপক্ষ আমাকে সতর্ক করলেন পর্নমুভির ব্যাপারে।”

আসল সমস্যাটা হল, কোন বাবা-মা’ই বিশ্বাস করতে চাননা তাদের সন্তান পর্ন দেখে। খুব কম বাবা-মা’ই তাদের ১২-১৩ বছরের ছেলের ফোন বা পিসি চেক করেন।

আরেকটা সমস্যা হচ্ছে স্কুলের কর্তৃপক্ষ মনে করে যে বাচ্চারা  পর্নের ভয়াবহতা ভাল করেই জানে। কিন্তু এটা মোটেও সঠিক নয়।

স্কুলের প্রথম সপ্তাহে নতুন বন্ধুদের সঙ্গে বসেছিলাম। আমি বরাবরই একটু লাজুক স্বভাবের। চুপচাপ তাদের কথাগুলি শুনছিলাম। “নতুন ভিডিওটা দেখেছিস ? আরে ঐ যে ঐ ভিডিওটা !, জানিস, সেদিন একটা নতুন ওয়েব-সাইট পেয়েছি।”

বুঝতে পারছিলাম না ওরা কি নিয়ে কথা বলছে। এই ধরনের ছেলেদের সাথে আমি আগে কখন ওঠাবসা করিনি।

এই ভাবেই দিন কাটতে থাকল। আড্ডা দিতে বসলেই এই ধরনেরে কথা শুরু হত।

একদিন, একজন আমাকে প্রশ্ন করল, “এই, তোর পছন্দের ওয়েব-সাইট কোনটা ?”

আমি বললাম-“আমি পর্ন দেখিনা”।

সঙ্গে সঙ্গে হাসির রোল পড়ে গেল। একজন মন্তব্য করল,”তুইতো দুধের বাচ্চা। যা বাড়ি গিয়ে আম্মুকে বল ফিডার খাব”। আর একজন হাসি থামিয়ে, সিরিয়াস হয়ে বলল-“যা ব্যাটা চাপা মারিস না। পৃথিবীতে সবাই পর্ন দেখে।”

বুঝলাম- পর্ন শুধু বড়দের সমস্যা নয়, এটা বর্তমানে বিশ্বের প্রয় সবার সমস্যা।

পরের বছরই অবাক হয়ে দেখলাম আমার ঐ বন্ধুগুলা পর্নের প্রভাবে কতটা পরিবর্তিত হয়ে গেছে।

তারা তাদের গার্লফ্রেন্ডের সাথে একান্ত মুহূর্তের ছবিগুল সবার সাথে শেয়ার করতে শুরু করল। রসালো , রগরগে মন্তব্য করাও থেমে থাকল না।

গার্লফ্রেন্ডদের  শরীর নিয়েই  তাদের যত আগ্রহ। কেউ ভুলেও প্রশ্ন করেনা যে তাদের  গার্লফ্রেন্ড মানুষ হিসেবে কেমন ? বই পড়তে ভালবাসে কিনা ? ডাকটিকেট জমানর শখ আছে কিনা ?

আমার মনে হত তারা তাদের গার্লফ্রেন্ডদের ভোগ্য পণ্যের মত ‘ইউজ’ এবং ‘এবিউজ’ করছে। ইচ্ছেমত মজা কর তাদের সাথে তারপর ভাল না লাগলে বা পুরোনো হয়ে গেলে ছুড়ে ফেলে দাও। ভালবাসা তাদের কাছে এতটাই সস্তা।

তাদের এই অধঃপতন এবং নারী জাতির প্রতি এমন মনোভাব একটা জিনিসেরই ফসল আর তা হল ‘পর্নোগ্রাফি আসক্তি’।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হল- পর্ন দেখা এবং নারীদের নিয়ে এমন ‘ছিনিমিনি’ খেলা পৌরষের মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে যত নিচে নামতে পারবে, যার ‘প্লে-বয়’ ইমেজ যত বেশি সে তত বেশী আসল পুরুষ।

যারা নারীদেরকে আসলেই সম্মান করে, নারীর শরীরটা নয় বরং তার মনটাকেই যারা প্রাধান্য দেয়; আজকাল তাদের নিয়ে রসিকতা করা হয়। নপুংসক,হিজড়া  এরকম হাবিজাবি আরও কত কি বলা হয়। [১২]

তিন.

….রাতে আমার মা যখন অফিসে থাকত তখন আমার পিতা আমাকে খুব খারাপ ভাবে স্পর্শ করত এবং আরো অনেক কিছু করতো । আমি তখন খুব ছোট, মাত্র ১০ বছর বয়স ।

যে দিন জানতাম আমার মা আজ রাতে বাসায় থাকবেনা, সেদিন আমার সারাদিন খুব অস্বস্তিতে কাটত, আতঙ্কে থাকতাম এই ভেবে যা না জানি রাতটা কীভাবে কাটবে !

আমি এই ব্যাপারটা নিয়ে এতটাই ভীত ছিলাম যে কাওকে কোনদিন এইনিয়ে মুখ ফুটে কিছু বলতে পারিনি। বাবা আমাকে সবসময় চাপ দিত- যেন আমি  মুখ বন্ধ করে রাখি – মা জানতে পারলে আমাকে বাসা থেকে বের করে দেবে।

স্কুলের এমন কোন বন্ধু ছিলনা যাদের সাথে আমি এটা শেয়ার করতে পারতাম । ৪ বছর ধরে আমি এই নরকযন্ত্রণা ভোগ করেছি। [১৩]

চার.

যুক্তরাজ্যে কিশোর ভাইয়ের হাতে ধর্ষিতা হয়েছে তার ৮ বছরের বোন। ১৩ বছরের ওই কিশোর বাড়িতে পর্নো ছবি দেখার পর নিজের বোনকে ধর্ষণ করে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আহত বোনকে চিকিৎসা দেওয়ার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

ঘটনার দিন তাদের বাবা-মা বাড়িতে ছিলেন না। ওই কিশোর তখন তার এক বন্ধুর সঙ্গে এক্সবক্স গেমস কনসোলে পর্নো ছবি দেখে। ঘটনার পর পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গেছে।

পরে সে পুলিশকে জানায়, অনলাইনে দেখা ছবির কিছু অংশ সে কপি করে রাখে। এরপর সে ছবির নায়ক-নায়িকা যেসব যৌনক্রিয়া করেছিল সেগুলো অনুকরণ করার চেষ্টা চালায় এবং নিজের বোনের ওপর চড়াও হয়। নিজের অপরাধ স্বীকার করে বলে, বয়স কম হওয়ায় সে তার বোনকেই বেছে নিয়েছিল। আইনগত কারণে ওই কিশোরের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

গত বুধবার ছেলেটিকে ইংল্যান্ডের ব্ল্যাকবার্ন আদালতে হাজির করা হয়। ম্যাজিস্টেটের কাছে সে নিজের দোষ স্বীকার করেছে তবে তাকে তার পরিবারের কাছ থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছে। আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর সে বর্তমানে এক নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছে।

এই ঘটনা গোটা যুক্তরাজ্যে অভিভাবকরা তাদের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন। কেননা ভিডিও গেমস খেলার যন্ত্রের মাধ্যমে শিশুরা সহজেই অনলাইনের পর্নো সাইটগুলোতে যেতে পারে। অনেকে অবশ্য যন্ত্রটি কেনার সময়ই দোকানিদের সহায়তায় পর্নো সাইটগুলো ব্লক করে দেন। তবে এতেও কাজ হচ্ছে না। বাড়িতে থাকা অন্যান্য উপকরণ যেমন এক্সবক্স, প্লে-স্টেশন, আইপড ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিশুদের পক্ষে নিষিদ্ধ সাইটগুলোতে সহজেই প্রবেশ করে ডাউনলোড করা সম্ভব।
সূত্র : দ্য মিরর [১৪]

ঘটনাগুলো  কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পাশ্চাত্যের ঘরে ঘরে এগুলো খুবই সাধারণ ঘটনা। আগ্রহী হলে পড়তে পারেন এই লিংকের  [১৫] লিখাগুলো  ।

পাঁচ.

আমি জানি এই আর্টিকেলের [১৬] সবটুকুই সত্য, কারণ আমি বেড়ে উঠেছি ‘জার্মানিতে’। আমি জানি এই সভ্যতা কতটা পচে গেছে। বিশেষ করে বিজ্ঞাপন গুলো । আপনি কখনই এই অশ্লীল বিজ্ঞাপন থেকে বাচতে পারবেন না । টিভি,ম্যাগাজিন,নিউজপেপার… কোথায় নেই ? ছোট থেকেই আপনাকে শেখানো  হবে এগুলি খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।

সিক্সত গ্রেডে পরার সময়কার একটি ঘটনা। ‘সেক্স এডুকেশন’ ক্লাসে টিচার খুব বড় একটা কাগজ নিয়ে এসে, আমাদের বললেন-”  যৌনতা সম্পর্কে যা যা মনে আসে সব এখানে লিখ, যৌনতার নিয়ম কানুন গুলো লিখতে ভুলনা যেন!! লেখ শেষ হলে আমরা এগুলি নিয়ে আলোচনা করব।”

কি ভয়ংকর অবস্থা, তাইনা ? তবে  আমি আপনাকে কখনই বলবনা স্কুলে আমাদের কতটা গ্রাফিক, কতটা অশ্লীল সাহিত্যের বই পড়তে দেয়া হত। ওইসব কথা মনে করতেই আমার রুচিতে বাধে ।

আমি কখনই চাইবো না  আমার ছেলেমেয়েরা জার্মানীতে বেড়ে উঠুক ।

—Sebastian Bradley.

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ ……

#একেই_বলে_সভ্যতা

[লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত]

পড়ুন-

মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব-১: https://bit.ly/2OhCeO0
মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব-২: https://bit.ly/2Ms17VA
মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব- ৩ https://bit.ly/2p6dopk
একেই বলে সভ্যতা (দ্বিতীয় পর্ব) !!!: https://bit.ly/2xbpnW5
এরই নাম স্বাধীনতা !!!: https://bit.ly/2xcsUnn
এরই নাম স্বাধীনতা!!! দ্বিতীয় পর্ব – https://bit.ly/2xce9kq
এরই নাম স্বাধীনতা!!! তৃতীয় পর্ব-https://bit.ly/2MxnRna
পাশ্চাত্যে বেড়ে ওঠা: https://bit.ly/2p1Irme
নারী যখন পন্য: https://bit.ly/2OilZQH
অভিশপ্তনগরী: https://bit.ly/2MumYeW

“****” ম্যাম গার্ড পড়ছিলঃ বুঝতে পারছিলাম না, প্যান্ট সামলাবো নাকি কলম !!! – https://bit.ly/2x3Krif

রেফারেন্সঃ

[১] http://bit.ly/2azmaGv

[২] http://tinyurl.com/jy5d6zf

[৩] http://tinyurl.com/z2qxzdw

[৪] http://preview.tinyurl.com/jl2ttct

[৫] http://tinyurl.com/hy2xphf

[৬] http://tinyurl.com/zlfdcuw

[৭] http://tinyurl.com/z2x8oz7

[৮] http://tinyurl.com/gwqhbta

[৯] http://tinyurl.com/zgs665u

[১০] http://tinyurl.com/hos7vdl

[১১] http://tinyurl.com/ld4zxd9

[১২] ঘটনাটি www.fightthenewdrug.com  থেকে সংগৃহীত।

[১৩] http://tinyurl.com/hjq2a29

[১৪] http://tinyurl.com/zerbb5v

[১৫] http://www.antipornography.org/harm_stories.html

[১৬] http://fightthenewdrug.org/germanys-legalized-prostitution-industry-looks-like-a-real-life-horror-movie/

 

শেয়ার করুনঃ
মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব-১

মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব-১

আমেরিকা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড  নিজেদেরকে দাবী করে এক মহান সভ্যতার ধারক হিসেবে । যার অন্যতম ফিচার  গনতন্ত্র, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা আর নারীদের সমান অধিকার । পৃথিবীর বুকে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য তাদের  তোড়জোড়ের অভাব নেই । war on terror এর নামে তারা মুসলিম দেশ গুলোতে আক্রমণ করতে দুইবার চিন্তা করে না । মুসলিম নারীদের জন্য তাদের মায়াকান্নার শেষ নেই । তারা বলে মুসলিমরা নারীদেরকে বোরখার আড়ালে রেখে,নারীদেরকে  ঘরে বন্দী করে রেখে  তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে , তাদেরকে এক অদৃশ্য দাসত্বের শিকলে বেঁধে রেখেছে । তারা মুসলিম নারীদেরকে বোরখার আড়াল থেকে বের করে এনে, শরীয়া আইনের দাসত্বের শৃঙ্খল ভেংগে ফেলে  তাদেরকে পুরুষের সমান অধিকার দিতে চায় । অথচ তাদের দেশেই তারা  নারীদের অধিকার কেড়ে নিয়ে  নারীদেরকে পন্য বানিয়ে ফেলেছে । তারাই পর্ন ইন্ডাস্ট্রি বানিয়েছে,তারাই সেখানে  নারীদের সাথে পশুর মতো আচরণ করছে । বাসায়, স্কুলে, কলেজে, রাস্তাঘাটে, অফিসে, হাসপাতালে , সেনাবাহিনীতে কোথাও নারীরা নিরাপদ নয়। সবখানেই নারীরা চরম ভাবে যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে । আমাদের এই সিরিজে আমরা চেষ্টা করব এই পাশ্চাত্য সভ্যতার ভন্ডামী আপনাদের সামনে তুলে ধরার । আমরা চেষ্টা করব সেই সব  হতভাগ্য বোনদের  বুকফাটা হাহাকার গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছে দেবার যারা এই তথাকথিত আধুনিক, মক্তমনা, নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী সমাজের দ্বারা ভয়ংকর যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ।

.

“আমেরিকান আর্মির  মহিলা সদস্যরা শত্রুদের নিয়ে ততোটা বেশী শংকিত থাকে না ,  যতটা বেশী  শঙ্কিত থাকে তাদের পুরুষ সহকর্মীদের হাতে যৌন নিপীড়িত হবার  ভয়ে  ……”।

.

একটা গভীর  দীর্ঘশ্বাস ছেড়েই এই কথা গুলো বললেন ডোরা হারনান্দেজ যিনি প্রায় দশ বছরেরও বেশী সময় ধরে কাজ করেছেন আমেরিকান নেভি এবং আর্মি ন্যাশনাল গার্ডএ । ডোরা হারনান্দেজ সহ আরো কয়েকজন প্রবীণ ভদ্রমহিলার সঙ্গে কথা হচ্ছিল যারা  আমেরিকার সামরিক বাহিনীতে  কাজ করেছেন অনেক বছর , ইরাক এবং আফগানিস্থান যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছেন । এই ফ্রন্টগুলোতে  কোনমতে  তারা সারভাইভ করতে পেরেছেন  কিন্তু পুরো কর্মজীবন জুড়ে তাদেরকে আরোও একটি যুদ্ধ করতে হয়েছে  নীরবে-এবং সেই যুদ্ধে তারা প্রতিনিয়তই পরাজিত হয়েছেন । তাদের সেই নীরব যুদ্ধ ধর্ষণের বিরুদ্ধে ।

পেন্টাগনের নিজেস্ব  রিসার্চ থেকেই  বের হয়ে এসেছে যে আমেরিকান সামরিক বাহিণীর  প্রতি চার জন মহিলা সদস্যের একজন তাদের ক্যারিয়ার জুড়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হয় ।

ডোরা হারনান্দেজ থেমে যাবার পর  মুখ খুললেন সাবিনা র‍্যাংগেল , টেক্সাসে,  এলপাসোর অদূরে তাঁর বাসার ড্রয়িংরুমে বসেই আমাদের কথা হচ্ছিল, “ আমি যখন আর্মির বুট ক্যাম্পে ছিলাম তখন আমি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম এবং যখন নেভিতে গেলাম তখন একেবারে  ধর্ষণের শিকার হলাম” ।

জেমি লিভিংস্টোন ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন  ইউ.এস নেভিতে  তিনি বললেন, আমি জানতাম   ইউ এস আর্মির কালচারটাই এমন যে  সৈনিক এবং অফিসাররা  রেপ করাকে তাদের অধিকার  মনে করে । তাই আমি রেপের ঘটনা গুলো চেপে যেতাম আর আমার বসই আমাকে রেপ করত, কাজেই আমি কাকে রিপোর্ট করব’?

ভদ্রমহিলাগন একে একে আমেরিকান  আর্মিতে তাদের উপর করা যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো বলে চলছিলেন । তারা কেউই পূর্ব পরিচিত ছিলেন না , কিন্তু আমেরিকান আর্মিতে  নিজেদের সহকর্মী এবং বসদের হাতে তারা যে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সেই  দুঃসহ অভিজ্ঞতাই তাদেরকে একে অপরের কাছে নিয়ে এসেছে । হৃদয়ের সবকটা জানালা খুলে দিয়ে তারা একজন অপরজনের দুঃখগুলো ভাগাভাগি করে নিচ্ছিলেন ।

পেন্টাগনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে (২০১০ সাল,) ইউ এস আর্মিতে প্রতি বছর উনিশ হাজারের মতো যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে । (২০১১ সালে এটার পরিমাণ ছিল ছাব্বিশ হাজার)ইউ এস আর্মির মহিলা সদস্যরা আমেরিকার বেসামরিক মহিলাদের থেকে অধিক মাত্রায় যৌন নির্যাতনের ঝুকিতে থাকে । পেন্টাগনের  Sexual Assault Prevention and Response office এর প্রধান গ্যারী প্যাটন বলেন , আমাদের অবশ্যই এই কালচারটা পরিবর্তন করতে হবে । যৌন নির্যাতনকে  স্বাভাবিক ব্যাপার হিসেবে মেনে নিলে চলবে না ।  ভিক্টিমের ইউনিটের সবাইকে যৌন নির্যাতনের ব্যাপারটিকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে ।

সাবিনা র‍্যাংগেল  হাইস্কুল শেষ করেই আর্মিতে  জোগদান করেছিলেন । তার  ক্ষেত্রে যৌন নির্যাতনের ব্যাপারটা শুরু হয়েছিল  আর্মির বুট ক্যাম্পে একদিন ট্রেনিং করার সময় তার  ড্রিল সার্জেন্ট এর দ্বারা । সাবিনা র‍্যাংগেল প্রথমে ভেবেছিলেন তার সার্জেন্ট বোধহয় তাকে  ড্রিল করার ব্যাপারে নির্দেশনা দিচ্ছেন , কিন্তু আসলে  সার্জেন্ট  তার  শরীরে হাত বুলানোর চেষ্টা করছিলেন ।

সাবিনা  র‍্যাংগেল বুট ক্যাম্প শেষ করার পর আর  আর্মি ছেড়ে চলে আসেন । যৌন নির্যাতনের ঘটনা  চেপে যান সবার কাছ থেকে ।

পেন্টাগনের পরিসংখ্যান অনুসারে মাত্র ১৪ শতাংশ যৌন নির্যাতনের ঘটনা রিপোর্ট করা হয় । বাকী ৮৬ শতাংশ ঘটনা লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকে যায় । অনেক ভিক্টিম অভিযোগ করেন তার নির্যাতনকারী তার চেয়ে উঁচু র‍্যাংকের।অনেকে অভিযোগ করেন  যৌন নির্যাতনের শিকার হলে যেই  কর্মকর্তার কাছে রিপোর্ট করতে হবে ,  সেই সব কর্মকর্তাই আমাকে  যৌন নির্যাতন করেছে । র‍্যাংগেলের ক্ষেত্রেও এইরকমটা হয়েছিল ।

র‍্যাংগেল  ২০০০ সালের দিকে আবার ইউ এস  সামরিক বাহিনীতে যোগদান করেন । এইবার তিনি  নেভিতে । এল পাসোতে ইউ এস নেভীর একটা ঘাঁটিতে তিনি  কাজ করার দায়িত্ব পান ।

একবার  তার বেতনের চেকে কিছুটা সমস্যা হলে তিনি তাঁর কমান্ডার এক  সার্জেন্ট মেজরের  সঙ্গে  যোগাযোগ করলেন । সেই  সার্জেন্ট মেজর তাঁকে  তার অফিসে ডেকে পাঠালেন । তবে তিনি র‍্যাংগেলকে এই প্রস্তাবও দিলেন , “ তুমি যদি আমার সঙ্গে হোটেলে দেখা কর তাহলে, আমি তোমাকে খুশি করে দিব” ।

র‍্যাংগেল এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন । কিন্তু সেই সার্জেন্ট মেজর এতে একটুকুও না দমে র‍্যাংগেলকে বিছানায় যাবার প্রস্তাব দিতেই থাকলেন।

আমি যখন তার অফিসে গেলাম তখন আর কোন উপায় না পেয়ে  তার পি.এস (যিনি নিজেও একজন মহিলা) কে বললাম , যখন বস আমাকে ডাকবে এবং আমি যাবার পর ভেতর থেকে দরজা লক করে দিবে , প্লীজ আপনি এই সময়টাতে একটু পর পর দরজায় নক করবেন । তিনি কিছুটা ক্লান্তস্বরে উত্তর দিলেন , “সাবিনা ! শুধু তোমার সাথেই না , বস সবার সাথেই এরকম করে …।

আমরা,সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন বা আছেন এমন অনেক অনেক মহিলার সঙ্গে কথা বলেছি , যারা সবাই একটা ব্যাপারে একমত হয়েছেন – ইউ.এস সামরিক বাহিনীর পুরুষরা , সামরিক বাহিনীর নারীদের ধর্ষণ করাকে তাদের অধিকার মনে করে । সামরিক বাহিনীতে তো একটা কৌতুক প্রচলিতই আছে ,‘পুরুষ সহকর্মী বা অফিসারদের হাতে  ধর্ষিত হওয়া নারী অফিসার বা সৈন্যদের পেশাগত দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে’।

সাবিনা  র‍্যাংগেল একবার এক মিশনের দায়িত্ব পেলেন । সেই মিশনেও এই সার্জেন্ট মেজর ছিলেন  । এই সার্জেন্ট মেজর আর একজন সার্জেন্ট মেজরকে নিয়ে সাবিনা র‍্যাংগেল কে ধর্ষণ করতে থাকেন ।

সাবিনা র‍্যাংগেল বিভিন্ন সময় তার কমান্ডারদের (যাদের মধ্যে একজন মহিলা কমান্ডারও ছিলেন) তার ধর্ষিত হবার ঘটনা জানালে , তারা কোন পদক্ষেপ না নিয়ে সাবিনাকে ঘটনা গুলো চেপে যেতে বললেন । এমনকি কোন কোন অফিসার তাঁকে এই ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে উত্যক্ত করত ।

সাবিনা র‍্যাংগেল আস্তে আস্তে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়লেন । একদিন তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন  সামরিক বাহিনী ছেড়ে চলে যাবার – ব্যস অনেক হয়েছে আর এই পাশবিক নির্যাতন সহ্য করা যাবে না । তিনি জীবন নিয়ে হতাশ হয়ে পড়লেন । ধর্ষিত হবার দুঃসহ  স্মৃতি গুলো তাঁকে সারাক্ষন তাড়া করে বেড়াতে লাগলো । আত্মহত্যার চেষ্টাও করলেন কয়েকবার ……

শরীয়াহ আইনানুসারে, অপরাধ করার কারণে নারীদের দোররা মারলে   আমেরিকার মিডিয়াতে প্রতিবাদের ঝড় উঠে ,মুসলিমদের তুলোধুনো করে দেওয়া হয় , নারীবাদীরা মায়া কান্না কাঁদে,  হই চই শুরু করে দেয় – মুসলিমরা বর্বর, মধ্যযুগীয়, মুসলিমরা নারী স্বাধীনতার বিরোধী   ব্লা ব্লা ব্লা …

অথচ তাদের নিজেদের দেশের আর্মিতেই যে ভয়াবহ নারী নির্যাতন হয় সে ব্যাপারে  তারা চুপ  । কোথায়  তাদের মানবাধিকার, মত প্রকাশের অধিকার, কোথায়  নারী স্বাধীনতা ?

#ডাবলস্ট্যান্ডার্ড

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌  ……

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনুবাদিত )

পড়ুন-

মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব-২ http://lostmodesty.blogspot.com/2015/10/blog-post_25.html

মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব-৩  http://lostmodesty.blogspot.com/2015/12/blog-post_29.html

পাশ্চাত্যে বেড়ে ওঠা – http://lostmodesty.blogspot.com/2015/12/blog-post_17.html

রেফারেন্স-

১) http://www.npr.org/2013/03/20/174756788/off-the-battlefield-military-women-face-risks-from-male-troops

২)http://www.protectourdefenders.com/factsheet/

৩) http://www.globalresearch.ca/sexual-assault-against-women-in-the-us-armed-forces/5374784

শেয়ার করুনঃ
“****” ম্যাম গার্ড পড়ছিলঃ বুঝতে পারছিলাম         না, প্যান্ট সামলাবো নাকি কলম !!!

“****” ম্যাম গার্ড পড়ছিলঃ বুঝতে পারছিলাম না, প্যান্ট সামলাবো নাকি কলম !!!

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

বছর পাঁচেক আগের কথা । মফস্বল শহর থেকে ঢাকার এক দেশ বিখ্যাত কলেজে এইচ এস এসসি প্রথম বর্ষে ভর্তি হলাম। বাবা মা ছেড়ে একা একা ঢাকা শহরে এসেছি ,মন  ভার হয়ে থাকতো সবসময় । কিন্তু কলেজের স্যার আর ম্যামদের ক্লাসগুলো উপভোগ করতাম খুবই।

.

প্রত্যেকজন স্যার এবং ম্যাম ছিলেন প্রচন্ড পেশাদারিত্বের অধিকারী । সবার চোখে মুখে ছিল তাঁদের ছাত্রদের কিছু শেখানোর প্রবল আগ্রহ । ম্যাথ ডিপার্টমেন্ট এর এক শিক্ষক তো ছিলেন প্রবাদতুল্য মানুষ । শুধু একাডেমিক   পড়াশোনাই নয়, নীতি,নৈতিকতা,আদব,কায়দা   শেখানোরও প্রচন্ড চেষ্টা করতেন আমাদের স্যার এবং ম্যামরা । কলেজের অধ্যক্ষের মুখে তো লেগেই থাকতো,‘আমি ভালো ছাত্র চাই না , ভালো মানুষ চাই’।

.

বিশ্ব দাপিয়ে বেড়ানো অগণিত ভালো  ছাত্র কলেজ থেকে আগেও বের হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে ।কিন্তু  কয়জন ভালো মানুষ বের হচ্ছে তা  গবেষণার বিষয় ।

.

টিচারদের এমন আন্তরিকতা  থাকার পরেও , তাঁদের সঙ্গে বিশেষ করে ম্যাডামদের সঙ্গে আমারই কয়েকজন সহপাঠী এবং সিনিয়র ভাইদের বেয়াদবি  দেখে  টাসকি খেয়ে গেছলাম ।

ম্যডামরা যখন রোল কল করতেন (বিশেষ করে ম্যাডাম অল্প বয়স্কা এবং সুন্দরী হলে ) তখন পোলাপান একটু ন্যাকামো করে, নাকি স্বরে ইয়েস ম্যাম বলে রেসপন্স করত ।

বায়োলজী ক্লাসগুলোতে মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে ম্যডামদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলা হত ।পোলাপানের আড্ডার জটলা থেকে টুকরো টুকরো কথা কানে আসতো ……… অমুক ম্যডামকে শাড়ি পড়লে যা লাগে না , …… তমুক ম্যডাম একটা *** , অমুক ম্যডামের সেই ফিগার ……

আরো অনেক কথা যেগুলো শালীনতার মাত্রা অতিক্রম করে যাবে । এখানে না বলাটাই শ্রেয় ।

.

বেয়াদবি  এই পর্যন্ত থাকলেও সহ্য করা সম্ভব ছিল । কিন্তু একদিন এক ম্যডামের ক্লাসে  পেছনের দিকের বেশ কয়েকটা বেঞ্চের পোলাপান একসঙ্গে  ফোনের  লাউড  স্পীকারে পর্নমুভি ছেড়ে দিয়েছিল ।

ম্যাডাম সেদিন কাঁদতে কাঁদতে ক্লাস থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন ।

(এরকম কাহিনী অন্য একটা ক্লাসে অন্য একজন ম্যডামের সঙ্গেও করা হয়েছিল )

কলেজ লাইফের এই  ঘটনা গুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেই মনে করতাম । ভুলেও গিয়েছিলাম এইগুলো । কিন্তু কিছুদিন আগে আমাদের কলেজের ফেসবুক ফ্যান পেইজে (যেটা চালায় কলেজের প্রাক্তন এবং বর্তমান স্টুডেন্টরা)  একটা ট্রোল দেখে (ছবিতে দেখুন) আবারো টাসকি খেয়ে গেলাম ।  এতদিন যা কিছু ক্লাস রুমে করা হতো , যা কিছু মনের মধ্যেই চাপা পড়ে থাকতো বা বন্ধুদের আড্ডার সার্কেল থেকে বের হতে পারত না , তা ফেসবুকের খোলা বাজারে ঢাকঢোল পিটিয়ে জানান দিয়ে দেওয়া হল । বেয়াদবিটাকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে দেওয়া হল  আরকি ।

…… ****  “****” ম্যাম গার্ড পড়ছিলঃ বুঝতে পারছিলাম না, প্যান্ট সামলাবো নাকি কলম !!!

কলেজের রানিং স্টূডেন্টদের বানানো  এই ট্রোলে আবার দেখলাম বেশ কয়েকজন রসিক সিনিয়র ভাইয়া কমেন্ট করে ব্যাপক মজা নিয়েছেন (ছবিতে দেখুন)

 

এই ম্যডামগুলোই  স্টুডেন্টদের কিছু   শেখাবেন বলে , রাত জেগে ক্লাসের প্রিপারেশান নেন, চল্লিশ পঞ্চাশ মিনিট ঠাই দাঁড়িয়ে ক্লাস নেন , বক বক করেন  , ব্ল্যাকবোর্ডে লিখতে লিখতে চকের গুঁড়ো খান , ফ্যানের নিচে থেকেও দর দর করে  ঘামেন  । যারা   এতটা আন্তরিকতা , এতটা স্নেহ , এতটা মমতা দিয়ে ক্লাসে পড়ানোর চেষ্টা করেন , তাঁদের সঙ্গেই  এমন ব্যবহার করা হল  ? এটা জাস্ট তাদের মুখের কথা , কিন্তু এটাই কি   কুৎসিত একটা ইঙ্গিত দেয় । তাহলে চিন্তা করুন  তাদের মনের ভেতরে কি লুকিয়ে আছে , ম্যামদের  নিয়ে তাদের চিন্তা ভাবনা কতদূর গড়িয়েছে!

.

কিছু  সিনিয়র ভাইয়দের দেখলাম  ওইখানে কমেন্ট করে মজা নিয়েছেন এবং  লাইক দিয়েছেন , বুঝলাম না  কী করে  তারা এমনটা করতে পারলেন। ছোট ভাইগুলার নাহয় এখনো ম্যাচিউরিটি আসে নি ,তারা নাহয় একটা  ভুল করে ফেলেছে  , সিনিয়র হিসেবে তাদের উচিত ছিল সেই ভুল শুধরিয়ে দেওয়া ।   কিন্তু তারা  সেই ভুল শুধরিয়ে না দিয়ে কমেন্ট করে  তাদেরকে আরো উৎসাহ দিলেন !এরাই না দেশের সবচেয়ে মেধাবী সন্তান ?  দেশ ও জাতির গর্ব ? দেশ না একদিন এরাই চালাবেন ?   এদের  টিচারও যদি  এদের   সেক্স ফ্যান্টাসির শিকার হওয়া থেকে রেহাই না পায় , তাহলে  তাদের সহপাঠী,  অফিসের কলিগ,  অধীনস্থ নারী কর্মচারীরা কী করে রেহাই পাবে ?

এরকম একটা প্রজন্ম নিয়ে আমরা কী স্বপ্ন দেখব,  বলুন ? এদের হাতে  যখন দেশ চালানোর ভার পড়বে  তখন কী অবস্থা হবে এই দেশের ?

.

বাংলাদেশে আজ এমন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছ যেখানে স্টুডেন্টদের হাতে মহিলা শিক্ষকদের  টিজিং এর শিকার হতে হয় । ঘটনা গুলো চাপা পড়ে থাকে । লোক লজ্জা আর মান সম্মান খোয়ানোর ভয়ে এইগুলো কেউ প্রকাশ করেন না । আর এইগুলো বলে বেড়ানোর কথাও না । একবার  এক আড্ডায়  আমার ভার্সিটির  পোলাপানের   অন্য  একটা ভার্সিটির  মহিলা ফ্যাকাল্টিদের ফিগার এনালাইসিস শোনার দুর্ভাগ্য হয়েছিল  । বেশিক্ষন সেখানে  বসে থাকতে পারিনি ।

.

(এখানে আমার একটা ব্যক্তিগত অব্জারভেশান বলে রাখি – এইটা জাস্ট আমার পার্সোনাল একটা মতামত –  স্টুডেন্টদের হাতে ম্যামদের নাকাল হবার পেছনে ম্যামরা নিজেরাও অনেকটা দায়ী । যেই লেভেলের সাজগোজ আর পোশাক আশাক পরে কিছু কিছু   ম্যাম ক্লাস রুমে যান , অমুকের গায়ে হলুদ, তমুকের বৌভাতে উনারা  যেরকম মাঞ্জা মেরে ফটোগ্রাফারদের হাতে শরীর ছেড়ে দেন এবং পরে সেইছবি গুলো ফেসবুকে আপলোড করেন, তাতে একজন স্টুডেন্টের পক্ষে তাদেরকে নিয়ে খুব ভালো কিছু ভাবা সম্ভব নয়   )

.

আসলে সারারাত ধরে পর্নমুভিতে নারীদের বস্ত্র হরণ দেখলে , আইটেম সং দিয়ে ফোনের মেমরি লোড করে রাখলে নারীদেরকে নিয়ে খুব একটা ভাল চিন্তা করা সম্ভব হয়না । নারীরাও যে মানুষ , তাদেরও হৃদয় আছে, তাদেরও মন আছে , একজোড়া চোখ আছে সেই চোখের ভেতরে একটা  আকাশ আছে এগুলো অনুধাবন করা যায়না । তাদেরকে শুধু একটা মাংসপিণ্ড মনে হয় যা নিয়ে উদ্দাম ফুর্তি করা যায়, রাত কাটানো যায়, কিন্তু ভালবাসা যায় না,  তার চোখের তারায় হারিয়ে যাওয়া যায় না , তাদেরকে সম্মান করা যায়না ।

.

ম্যামদের নিয়ে যারা এরকম চিন্তা ভাবনা করতে পারে তারা তাদের “জাস্ট ফ্রেন্ড” কিংবা ছোট বোন বড় বোন হিসেবে দেখা আশেপাশের মেয়েদের নিয়ে কোন লেভেলে চিন্তা করতে পারে তা  মাথায় একটু বুদ্ধি থাকলেই বোঝা যায় ।  মুখের সামনে আপু আপু বা দোস্ত দোস্ত করে মুখে ফেনা তুলে ফেললেও , ভদ্রতার মুখোশ পড়ে থাকলেও  এইসব ছেলেরা তাদের সেই আপুদের বা ইয়ার দোস্তদের অনুপস্থিতিতে তাদের ফিগার নিয়ে যে পোস্টমর্টেম করে তার রিপোর্ট  জানলে কোন ভদ্র মেয়ের পক্ষে তাদের সঙ্গে  মেশা  দূরে থাক কথা বলাও সম্ভব নয় । ফেসবুকে  আপুদের আপলোড করা পিক  দিয়ে যে    তার কত “জাস্ট ফ্রেন্ড” ছেলে বন্ধু   যৌবন জ্বালা নিভায় তা যদি এইসব আপুরা  জানতো !

তবে আজকাল  দিন বদলাইয়া গেছে । আজকালকার মেয়েরা নাকি তাদেরকে কেউ হট চিক , সেক্সি বললে খুশিই হয় ।  কোথায় চলেছে আমাদের এই সমাজটা,  কোথায় যাচ্ছি আমরা ?  আবহমান বাংলার সেই লজ্জাবতী নারীরা কোথায় গেল আজ?

.

জীম তানভীর ভাইয়ের একটা লিখার কিছু অংশ এখানে তুলে দিতে  ইচ্ছে করছে,

…………ছেলেরা যখন মেয়েদেরকে “slave” হিসেবে দেখতে শেখে তখন মেয়েরা শেখে শিলা হতে হবে,তাতে যৌবনজ্বালায় বিকারগ্রস্ত ছেলেদের চড়কির মত ঘোড়ানো যাবে।
তারা শেখে পার্লারে গিয়ে কি সব পেডিকিউর মেনিকিউর না করলে নাকি স্ট্যাটাস থাকে না।

তারা শেখে বড় মডেল কিংবা অভিনেত্রী হওয়ার জন্য নিজের চরিত্রকে ফটোগ্রাফার কিংবা প্রডিউসারের কাছে নিজের চরিত্র বিকিয়ে দেয়া দোষের কিছু না।

তারা সানন্দা টাইপের ম্যাগাজিনগুলো বিমুগ্ধ নয়নে পড়তে থাকে আর বুঝে ফেলে শরীর দেখিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার মূলমন্ত্র।

.

তারা হিন্দী সিরিয়াল দেখে আবিষ্কার করে নিজেকে সাজিয়ে রাখা হল স্মার্ট মেয়েদের কাজ !এই যদি আমরা শিখি,আমরা কিভাবে আশা করতে পারি একটা ছেলে একটা মেয়েকে সম্মান করবে ?

সম্মান অর্জন করা যায় শরীর দেখিয়ে? সৌন্দর্য দিয়ে ? সেক্সি মেয়ে দেখলে আমাদের চোখ বিনয়ে নুয়ে পড়ে নাকি কি যেন খুজে বেড়ায় ?
একটা মেয়ে কি গায়ের উপর থেকে ওড়না ফেলে দিয়ে আশা করে তার দাম বাড়বে ?

আজকে যে ছেলেটা জন্ম নিয়েছে সে শরীর নাচিয়ে কুদিয়ে বেড়ানো মিলার মিউজিক ভিডিও দেখে কি ভাববে সেটা কি আমরা চিন্তা করেছি ???

শেয়ার করুনঃ