আলেয়ার আলো   

আলেয়ার আলো   

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম।

পাশের বাসার নাফিস ভাই। এক ক্লাস উপরে পড়তেন। একজন পরিপূর্ণ অলরাউন্ডার, চ্যাম্পিয়ন। যেমন পড়াশোনায় তেমনি বিতর্ক,আবৃত্তি, গল্প লিখা, বাবা মার সাথে সুন্দর ব্যবহার।  আমাদের পরিবারের কাছে তিনি সেলিব্রেটি টাইপের কিছু ছিলেন। দূর আকাশের তারা। (আমার কাছে অবশ্য ভিলেন।) উঠতে বসতে বাবা মা তাকে অনুসরণ করতে বলেন- নাফিসের মত হ, সে এতক্ষণ পড়াশোনা করে, সে দুপুরে ঘুমায় তোর মতো টো টো করে রোদে ঘুরে বেড়ায় না। মাথার চুল এতো বড় কেন তোর, শার্টের উপরের বোতাম দুইটা খোলা কেন, নাফিসের চুল দেখিস কতো সুন্দর করে কাটা। মা গিয়ে নাফিস ভাইয়ার কাছ থেকে নোট নিয়ে আসতেন,সাজেশন নিয়ে আসতেন,  পারলে নাফিস ভাইয়ার পা ধোঁয়া পানি নিয়ে এসে আমাকে খাওয়ান…

মানুষের ফিতরাহ এমন সে সফলদের অনুসরণ করতে চায়। সফলরা যে পথে চলে সফলতা পেয়েছে সে পথ তাদের টানে দুর্নিবার আকর্ষণে।

পাশ্চাত্যের বস্তুগত উন্নতি দেখে চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়া বিশ্ব অন্ধভাবে অনুকরণ, অনুসরণ করেছে পাশ্চাত্যকে। আগপিছ কিছু না ভেবেই ডিরেক্ট কপিপেস্ট করেছে পাশ্চাত্যের জীবনবোধ, দর্শন, রাষ্ট্র সমাজ পরিচালনা পদ্ধতি। পাশ্চাত্য যাই বলেছে যেটা করতে বলেছে আসমানী ওহীর মতো  মাথা পেতে নিয়েছে বাকী বিশ্ব। যারা মেনে নিতে চায়নি, তাদেরকে জোর করে মানতে বাধ্য করা হয়েছে। কখনো পারমানবিক বোমা, কখনো ড্রোন হামলা, কখনো কুটিল ষড়জন্ত্রের মাধ্যমে পাশ্চাত্য তাদের মতবাদ চাপিয়ে দিয়েছে।

নারীদের প্রতি সহিংসতা বিশেষ করে যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ কীভাবে বন্ধ করা যায়? এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে পাশ্চাত্য বলল- পুরুষের আধিপত্যশীল মনোভাব দূর করতে হবে, নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে, পুরুষের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে, নারী পুরুষের মধ্যে বন্ধুত্বসুলভ মেলামেশার ব্যবস্থা করতে হবে বেশি বেশি, পতিতালয় খুলতে হবে বেশি বেশি।

সফলদের অন্ধভাবে অনুসরণ করার সহজাত প্রবৃত্তি থেকে বাকী বিশ্ব মেনে নিয়েছে এগুলো। আমল করেছে পাশ্চাত্যের ফর্মুলায়।

.পাশ্চাত্য নারীমুক্তির যে তরীকা বাতলে দিয়েছিল সেটা কোনো দেশেই কোনো স্থানেই নারীদের মুক্তি দিতে পারেনি। বরং যে দেশ যতোবেশি তাদের তরীকায় আমল করেছে সে দেশে নারীরা ততোবেশি নির্যাতিত হয়েছে, ধর্ষণের শিকার হয়েছে।  প্রতি ৯৮ সেকেন্ডে একজন আমেরিকানকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়, [http://tinyurl.com/k8ehojc ], প্রতি ৬ জন নারীর মধ্যে ১ জন এবং প্রতি ৩৩ জন পুরুষের মধ্যে একজন তাদের লাইফটাইমে একবার হলেও ধর্ষণের শিকার হয়।[http://tinyurl.com/nm3gp5o ]

.মহান সভ্যতার অনুগামী আরেকদেশ অস্ট্রেলিয়াতে প্রতি ছয় জন মহিলার মধ্যে একজন যৌন নিপীড়নের শিকার হন তাদের সংগী ব্যতীত অন্য ব্যক্তিদের হাতে।সংগীদের দ্বারা যৌন নিপীড়ন বিবেচনায় আনলে যৌন নিপীড়নের হার নেমে আসে প্রতি পাঁচ জনে একজন।
অস্ট্রেলিয়াতে নারীদের যৌন নিপীড়নের হার পৃথিবীর অন্যান্য দেশের এভারেজ যৌন নিপীড়নের হারের দুইগুনেরও বেশী।
http://tinyurl.com/ya7jlwmx, http://tinyurl.com/yafduj5j, http://tinyurl.com/y7kstly5

ইংল্যান্ড এবং ওয়ালেসের প্রতি ১৪ জন প্রাপ্তবয়স্কদের একজন বাল্যকালে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন । গ্রেট ব্রিটেন শিশু নিপীড়কদের স্বর্গরাজ্য।
https://goo.gl/9cckzW, https://goo.gl/ZFfa1E
.
আমেরিকাতে প্রতি ৪ হন নারীর একজন এবং প্রতি ৬ জন পুরুষের একজন ১৮ বছরে পা দেবার পূর্বে একবার হলেও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। তারমানে এখন আমেরিকাতে ৪২ মিলিয়নের বেশী প্রাপ্তবয়স্ক আছেন যারা শৈশবে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন।
https://goo.gl/wmko27https://goo.gl/9FMiuh
.
বিশ্বের যে দেশগুলোতে শিশুরা সর্বাধিক যৌন নিপীড়নের শিকার হয় সেই দেশগুলোর সংক্ষিপ্ত তালিকাতেও রয়েছে আমেরিকা এবং ইংল্যান্ড এর নাম।
https://goo.gl/b8MgJd
আমেরিকাতে প্রতি পাঁচজন নারীশিক্ষার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নির্যাতনের শিকার হন
[https://goo.gl/JKAccc ]
.
অস্ট্রেলিয়ান ইউনিভার্সিটিগুলোতেও প্রতি পাঁচ জনে একজন যৌন নিপীড়নের শিকার হন।প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ।
http://tinyurl.com/ybgly3z9 http://tinyurl.com/yccfsdzd

ব্রিটেনে কর্মক্ষেত্রে অর্ধেক নারীই যৌন হয়রানির শিকার হন। [http://www.bbc.com/bengali/news-41746980 ]
.
শুধু ব্রিটেন নয়,জার্মানি আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া,কানাডা,চীন,জাপান,ভারত,হংকং কোন দেশের কর্মক্ষেত্রে নারীরা নিরাপদ?
পড়ুনঃ
https://goo.gl/CkM5LO  https://goo.gl/LknhGH  https://goo.gl/yDWvur
দেখুনঃ
https://www.youtube.com/watch?v=KvHU5hZSGCA&feature=youtu.be

প্যারিসের পাব্লিক ট্রান্সপোর্টে শতকরা ১০০ জন নারীই যৌন নির্যাতনের শিকার হন।
https://goo.gl/jx1oB4  https://goo.gl/rmozJW  https://goo.gl/fxyhfH
.
ইংল্যান্ড,আমেরিকা, কানাডা,ইন্ডিয়াতেও এর ব্যতিক্রম দেখা যায়না
পড়ুন,
আমেরিকার রাস্তাঘাটে যৌন হয়রানিঃ
https://goo.gl/cMXq4k  https://goo.gl/zVMKkV
.
ইংল্যান্ডের রাস্তাঘাটে যৌন হয়রানিঃ
https://goo.gl/JWwb52  https://goo.gl/njUwNg
.
কানাডার রাস্তাঘাটে যৌন হয়রানিঃ
https://goo.gl/HphYfF https://goo.gl/b5EvTC
.
ইন্ডিয়ার রাস্তাঘাটে যৌন হয়রানিঃ
https://goo.gl/JnBhVj  https://goo.gl/nRCQ5J  https://goo.gl/pCWaLZ

পাশ্চাত্যের বাতলে দেওয়া সিস্টেম গ্রীসের মেয়েদের বাধ্য করেছে সামান্য একটা স্যান্ডউইচের বিনিময়ে শরীর বিক্রী করতে।
https://goo.gl/24a1hd  https://goo.gl/tiuf5S

পাশ্চাত্যের নারীমুক্তি,নারীস্বাধীনতা আর নারীর ক্ষমতায়নের  মুখোসের আড়ালের চেহারা উন্মোচন করে ছেড়েছে #MeToo মুভমেন্ট। হলিউড বলিউডের প্রভাবশালী অভিনেত্রী, গায়িকা, সংসদসদস্য,  উর্ধতন কর্মকর্তা…কেউই রক্ষা পায়নি যৌন নিপীড়নের হাত থেকে। অথচ পাশ্চাত্য বলেছিল এসব পেশা নারীর ক্ষমতায়নের উৎকৃষ্ট নমুনা। নারীরা এসব পেশার মাধ্যমে নিজেদের ইম্পাওরড (Empowered) করবে।

পাশ্চাত্য শুধু তত্ত্ব কপচিয়ে গিয়েছে কিন্তু সেই তত্ত্ব যে সফল হবে, নারীদের মুক্ত করবে সেই প্রমাণ রাখতে তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এই যে বছরের পর বছর জুড়ে তাদের তরীকায় বিশ্ব আমল করে যাচ্ছে নারীদের ওপর যৌন নির্যাতন কমেছে?  আমরা কেন তাহলে পাশ্চাত্যের জীবন দর্শন নিয়ে প্রশ্ন তুলবোনা? কেন তাদের এই মাতব্বরি মেনে নিব? কোন দুঃখে আমরা এরকম ফেল্টুস এক সভ্যতার অনুসরণ করব?

কাফিরদের আকাশ ছোঁয়া দালান কোঠা, স্বর্ণ রৌপ্য, সুন্দরী নারী, সুসজ্জিত,চোখ ধাঁধানো শহর দেখে যেন মুসলিমরা তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে না পড়ে, যেন তাদের অনুসরণ করা না শুরু করে সেজন্য আল্লাহ্‌ (সুবঃ) সতর্ক করে বলছেন-

“নগরীতে কাফেরদের চাল-চলন তোমাদেরকে যেন ধোঁকা না দেয়। এটা (দুনিয়ার জীবনের প্রাচুর্য) হলো সামান্য ফায়দা, এরপর তাদের ঠিকানা হলো জাহান্নাম। আর থাকার জায়গা হিসেবে সেটা অত্যন্ত নিকৃষ্ট”।
সুরা আলে-ইমরান, আয়াত ১৯৬-১৯৭

আল্লাহ্‌ (সুবঃ) কেন এভাবে সতর্ক করে দিচ্ছেন ইসলামের শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ মানুষগুলোকে? যেন কাফিরদের সুরম্য অট্টালিকা, ঝকঝকে রাস্তাঘাট, আলোয় ভেসে যাওয়া মায়াবী রাত, সাদা চামড়া, টেকনোলজি, শক্তিশালী আর্মি দেখে মুসলিমদের মনে হীনমন্যতার জন্ম না হয়। মুসলিমদের মনে যেন ভুলেও এ চিন্তার জন্ম না হয় আমরা ইসলাম অনুসরণ করছি দেখেই আজ আমাদের এই করুণ অবস্থা। ওদের মতো হতে পারলেই ওদের মত ও পথ অনুসরণ করলেই আমরা ওদের মতো সফল হয়ে যাব। আমাদেরও ওদের মতো সুউচ্চ প্রাসাদ হবে, বড় বড় ব্রিজ হবে, ফ্লাইওভার হবে, আমাদের বাড়ি হবে, গাড়ি হবে, আমরা সাদা চামড়ার মতো পটাশ পটাশ করে ইংরেজিতে কথা বলব, বার্গার পিতজা খাব, সুপার শপে ক্রেন ঠেলতে ঠেলতে আলু পটল কিনব। উফ! কী কুল কী অসাম এক লাইফ!

সফলদের অনুসরণ করার সেই চিরায়ত প্রবৃত্তি যেন আমাদের ফিতনাহয় না ফেলে দেয়।

বাইরে থেকে দেখে যতোটাই উন্নত,মহান,সুখী,সমৃদ্ধ মনে হোকনা কেন যে সভ্যতা কুফরের ওপর দাঁড়িয়ে আছে সেটা কখনো সত্যিকার অর্থে সফল হতে পারেনা।  চাকচিক্য আর প্রাচুর্যের চোখ ধাঁধানি সভ্যতার পচনকে আড়াল করতে পারেনা। পারেনা মানুষকে শান্তি দিতে।

আমরা এখানে অত্যন্ত স্বল্প পরিসরে শুধু যৌন নির্যাতনের ব্যাপারগুলো তুলে ধরেছি। পাশ্চাত্যের সামাজিক,পারিবারিক জীবনের হতাশা বিচ্ছিন্নতা, তরুণ তরুণীদের আত্মহত্যার হার, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ছিনতাই,লুটপাট,ডাকাতি,মানব পাচার, ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করলে রাত কাবার হয়ে যাবে তবু আলোচনা শেষ হবেনা।

অনুরোধ থাকবে এই লিখাগুলো পড়ার- স্বর্গের দিন স্বর্গের রাত

https://tinyurl.com/ybx2meqm  https://tinyurl.com/y9wvg9dj  https://tinyurl.com/y7gvpe4w

বাংলাদেশ কি এখন তার নিকট ইতিহাসের মধ্যে সবচাইতে বেশি সেকুল্যার না? সবচাইতে বেশি পাশ্চাত্যের অনুসরণ করছেনা ? চেতনা, ফ্রি মিক্সিং, ফ্রি সেক্স, পতিতা গমনের সুবিধা,লিটনের ফ্ল্যাট নারীর ক্ষমতায়ন, নারী শিক্ষা, পুরুষদের মানসিকতা পরিবর্তনের চেষ্টা, বস্তুগত উন্নয়ন, ফ্লাইওভার,রাস্তাঘাট  স্মরণকালের ইতিহাসের মধ্যে সবচাইতে বেশি হচ্ছে না । কিন্তু তারপরেও কেন এতো ধর্ষণ হচ্ছে। দুই আড়াই বছরের শিশুও ধর্ষণ হচ্ছে? ধর্ষণ হচ্ছে প্রৌঢ়া  বা বৃদ্ধারাও

তাহলে সমাধান কী ? ধর্ষণ কীভাবে কমবে? কোন  তরীকায় আমল করতে হবে?

আরবের সেই সময়টাকে বলা হতো আইয়ামে জাহেলিয়্যা- অন্ধকারের যুগ। নারীরা ছিল কেবলই ভোগের পাত্র, কন্যা শিশুদের জীবন্ত পুঁতে ফেলা হতো। নারীর মান সম্মান বলে কিছু ছিলনা। একটা কুকুরের যে অধিকার ছিল, নারীর সে অধিকারটুকুও ছিলনা বরবর,মদখোর রক্তপিপাসু, যুদ্ধবাজ আরবদের কাছে।

কয়েকবছরের ব্যবধানে এই আরব এমন পালটে গেল যে নারীরা একাকী দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সফর করতে আসত, কিন্তু কেউ একবার চোখ তুলে তাকাতেও সাহস করতোনা। ধর্ষণ করা, যৌন নিপীড়ন করাতো দূরে থাক,চোখ তুলেও কেউ তাকাতোনা।

কিসের পরশে রাতারাতি বদলে গিয়েছিল বর্বর নারীলোভী আরবেরা? ইতিহাসকে প্রশ্ন করুন। ইতিহাস আপনাকে জবাব দিবে-  আরবদের সেই পরশ পাথর ছিল বিশুদ্ধ তাওহীদ, আল ওয়ালা ওয়াল বারাহ, খিলাফাহ, মিল্লাতে ইবরাহীম। কুরআনি আইন।

এগুলো অতীতের রূপকথা  নয়। একদম বাস্তব। পাশ্চাত্যের মতো নারীর নিরাপত্তার জন্য কেবল এই  থিওরি ঐ থিওরি কপচানো নয়, বরং বাস্তবে প্রয়োগ করে দেখানো হয়েছিল যে আসলেই শরীয়া নারীকে নিরাপত্তার চাদরে আবৃত করে রাখে। কোনো লম্পট চোখ তুলে তাকানোর সাহস পর্যন্ত দেখাতে পারেনা।

আদি ইবনে হাতিম তাঈ ছিলেন আরবের তাঈ অঞ্চলের বাদশাহ।  বাধ্য হয়ে আসতে হল মদীনায় এলেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে । মুসলিমদের  ফকিরী হালত দেখে ইসলাম গ্রহণ করতে কিছুটা দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর ঘরের একমাত্র খেজুরের গদিতে বসালেন আদি ইবনে হাতিম তাঈকে। তারপর বললেন এমন কিছু কথা যা আমাদের সময়ের জন্য খুবই খুবই প্রাসঙ্গিক।

‘হে আদিই! নিশ্চয় তুমি মুসলিমজাতির অভাব ও দারিদ্র দেখে এই দ্বীন গ্রহণ করতে ভয় পাচ্ছো। যদি সেটাই হয়ে থাকে, তাহলে তুমি শুনে নাও, আমি  আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, এমন একটি সময় খুব কাছে এসে গেছে যখন তাদের মাঝে ধন- ঐশ্বর্যের এত প্রাচুর্য হবে যে যাকাত ও সাদাকাহ নেওয়ার কোনো মানুষ থাকবেনা।

হে আদিই! মনে হচ্ছে তুমি মুসলিমজাতির সংখ্যা স্বল্পতা এবং বিরোধী ও শত্রুদের অগণিত সংখ্যা দেখে এই দ্বীন ইসলাম গ্রহণে দ্বিধাবোধ করছ। যদি তাই হয় তাহলে মনে রেখো, আমি আল্লাহ্‌র নামে শপথ করে বলছি, খুব শীঘ্রই তুমি শুনতে পাবে সুদূর কাদেসিয়া থেকে উটের পিঠে চড়ে একাকিনী মহিলা আল্লাহ্‌র ঘর যিয়ারতে আসবে। একমাত্র আল্লাহ্‌র ভয় ছাড়া  তার মনে আর কোনো ভীতি থাকবেনা।

সম্ভবত তোমার ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধকতা এটাও যে তুমি রাষ্ট্র ক্ষমতা ও বাদশাহী দেখতে পাচ্ছ অমুসলিমদের হাতে। আল্লাহর কসম! খুব শিগগির তুমি শুনবে এবং দেখবে যে এ অবস্থার পরিবর্তন  হয়েছে । দেখবে ইরাকের বাবেল নগরীর সাদা মহলগুলো (রাজপ্রসাদা) মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণে এসে গেছে। পারস্যসম্রাট কিসরা ইবনে হুরমুজানের ধনভান্ডার তাদেরই কবজায় এসে পড়েছে’।‘

আদি ইবনে হাতিম তাঈ বলেন, ‘আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম অবাক বিস্ময়ে জানতে চাইলাম, কিসরা ইবনে হুরমুজানের সব ধন-ভান্ডার’?

তিনি জবাব দিলেন, ‘হ্যাঁ, কিসরা ইবনে হুরমুজানের  সব ধন-ভান্ডার’।

আদিই বলেন, ‘তখন আমি কালিমা-ই শাহাদাত পড়ে ইসলাম গ্রহণ করে নিলাম’।

আদিই ইবনে হাতিম দীর্ঘজীবী হয়েছিলেন। তিনি বলতেন, ‘ প্রিয় নবীর দুইটি ভবিশ্যতবাণী তো দেখেই ফেলেছি। তৃতীয়টি দেখা বাদ রয়েছে। আল্লাহর কসম করে বলছি  সেটাও ঘটবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আমি নিজের চোখে দেখেছি, সুদূর কাদেসিয়া থেকে উটে চড়ে একাকিনী মহিলা নির্ভয়ে বাইতুল্লাহর উদ্দেশ্যে আসে…

আমি নিজে সেই সেনাদলের অগ্রভাগে থেকে অভিযান শরিক হয়েছিলাম,যারা কিসরার ধনভান্ডার কবজা করেছিল। আমি  আল্লাহ্‌র কসম করে বলছি, তৃতীয় ভবিশ্যত বাণীটিও  ঘটবেই’।

.আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় তাঁর প্রিয় নবীর ঘোষনার বাস্তবায়ন ঘটেছিল, তৃতীয় ঘোষণার বাস্তব  রূপায়ন দেখা গেল পঞ্চম খলীফায়ে রাশেদ উমর ইবনে আবদুল আযীযের শাসনামলে। তাঁর আমলে ইসলামী সাম্রাজ্যে ধন-সম্পদের এত প্রাচুর্য  দেখা দিল যে, তিনি সরকারি লোক মারফত পথে পথে ঘোষণা দিলেন , ‘ যাকার নেবার মতো কে আছো’?

কিন্তু একজন মানুষও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ( সাহাবায়ে কেরামের ঈমানদীপ্ত জীবন প্রথম খনড, রাহনুমা পাবলিকেশন,  পৃষ্ঠা ২২১-২২৩)

মুসলমান কেন পাশ্চাত্যের আলেয়ার পিছনে ঘুরছিস?  দুনিয়ার সুখ সমৃদ্ধি, শান্তি, নিরাপত্তা, ক্ষমতা অর্জনের ম্যানুয়াল তোর চোখের সামনেই। অবহেলায় অযত্নে পড়ে আছে টেবিলের কোণায়। ধুলো মুছে একবার খুলে দেখ। শক্ত করে আঁকড়ে ধর মিল্লাতে ইবরাহীমকে।

#LostModesty #মুক্ত_বাতাসের_খোঁজে #ধর্ষণ #BanPorn

শেয়ার করুনঃ
স্বর্গের দিন! স্বর্গের রাত! (ষষ্ঠ পর্ব)

স্বর্গের দিন! স্বর্গের রাত! (ষষ্ঠ পর্ব)

দশ.

সিস্টেম ওয়ার্কস। এটা দেখার জন্য পশ্চিমা দেশগুলো ভালো জায়গা। আমেরিকাও এর মধ্যে অন্যতম। মানুষ এই একটি কারণে এখান থেকে যেতে চায় না। সুবিধায় অসুবিধা বোঝে না। জাগতিক সুবিধা জীবনের জন্য জরুরী।  জীবন যদি এখানেই শেষ হয়ে যেত, তাহলে বেশ মজা হতো। এই মজায় যারা মজে যায়, তাদের জন্য নগদ সুবিধাই আসল। মরার পর যে জীবন আছে, সে জীবনের সুবিধা তাদের ভাবায় না।

এদেশে লাল বাতি জ্বললে গাড়ি থামে। পুলিশ না থাকলেও থামে। আবার কোথাও বাতি নাই। কেবল লেখা আছে, স্টপ। সেখানেও গাড়ি থামে। আশেপাশে তাকায়। শূন্য প্রান্তর হলেও গাড়ি চালিয়ে দেয় না। হয়তো কোনো মানুষ রাস্তা পার হবে। ড্রাইভার গাড়ি থামিয়ে অপেক্ষা করে। এমন দৃশ্য অবাক না করে পারে না। বাস-ট্রেনে লাইন ভাঙে না কেউ। ধাক্কা-ধাক্কি নেই। এটুকু শান্তি মানুষ চায়। এ শান্তির এখানে কোনো অভাব নেই। এরকম কিছু আমাদের দেশে ভাবা যায় না। এ মুহূর্তে কল্পনাও করা যাচ্ছে না। রাস্তায় চলার এই এক সুবিধা জীবনের দর্শনকেই পাল্টে দেয়। সে আর দেশে ফিরে যেতে চায় না।

সরকারী কোনো সুবিধা নিতে এদেশে কোনো ঘুষ দিতে হয় না। সিস্টেম ওয়ার্কস। লাইন লম্বা হলেও ভাগেরটা ঠিকই মেলে। ব্যাংক? গাড়ি থেকেও নামতে হয় না। সীটে বসেই সেরে নেওয়া যায় টাকা জমা ও তোলার কাজ।

এখানকার দোকানপাট আরেক জগত। জিনিস কিনে বাড়ি গেলেন। দ্রব্যটা পছন্দ হচ্ছে না। ফিরিয়ে দিন। চাইলে টাকাও ফেরত পাবেন । আপনাকে কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে হবে না। এমন দেশ কে ছাড়তে চাইবে? মুসলমানদের অনেক আখলাখ তারা নিয়েছে। আমল করছে। ফল পাচ্ছে। আমরা তাদের বাহবা দেই। মনে করতে শুরু করি তাদের কাছ থেকেই মানবিকতা শিখতে হবে। সবচেয়ে বড় অমানবিক-স্রস্টাকে না মানা। আবার এটা যারা মানে, তারা এদেশে থেকে মুত্তাকী হতে পারতেন। সেখানেও সিস্টেম কাজ করে। তাকে আমেরিকান বানায়, মুত্তাকী হতে দেয় না।

এগারো.

ঘরের  মানুষ ঘরে থাকতে  চায় না। সবাই বাইরে বেরোতে চায়। বাইরের জগত দেখতে চায়। দু-পা ফেলে গাছের পাতায় শিশির দেখার আশা-লুকাতে পারে না। শীতের সকালে দেখে। গ্রীস্মেও। বেলায়-বেলায় সবসময়য় কি পাতায় শিশির থাকে? মানতে চায় না। ওখানে এখন শিশির নেই।  যেও না। ঠেকানো যায় না। সে নিজে পরখ করতে চায়। না থাকলেও সে যাবেই। আকাশে মেঘ গর্জন করছে। গর্জন কানে লাগে না। বৃষ্টিতে ভেজে একাকার হয়ে বাড়ি ফেরে। ফিরতেই হয়। না ফেরার দেশে পাড়ি দেওয়ার আগ পর্যন্ত এভাবে যাওয়া-আসার মধ্যেই সে থাকে। নারী-পুরুষ সবাই। ছেলে-মেয়েরাও। আঠারোর পরে আর কাউকেই এখন ঘরে রাখা যায় না। সবাই সব অধিকার ভোগ করে মজা নিতে চায়। সরকারও সেগুলো দিয়েছে। আইন করে নিশ্চিত করেছে। যিনি এ স্বাধীনতা দেননি, তার কথা মনে থাকে না।

আমেরিকায় এসে প্রায় সব পুরুষই নারীবাদী হয়ে ওঠে। নারীদের অধিকার দিতে উঠেপড়ে লাগে। আর তাদের প্রথম অধিকার হলো কামাই করার সুযোগ দেওয়া। মাইগ্রেন্ট করা মুসলমানদের অনেক পরিবারে শিক্ষিত নারী থাকে। আবার অনেকের এদেশে এসে আর পড়ালেখা করার সুযোগ থাকে না। বয়স হয়ে গেছে। অথবা ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। কিন্তু চাকুরী করানোর সুযোগ তারা খুব কমই মিস করে। ব্যস, তারপর তাদের আর নারীবাদী তত্ত্ব নিয়ে সংশয় থাকে না। মৌলবাদী ধ্যান-ধারণার মানুষও নারীবাদী হওয়াতে দোষের কিছু দেখে না।

নারীবাদী কথাটা নারীদের আবিষ্কার নয়। পুরুষদের। চার্লস ফোরিয়ার (Charles Fourier) এই শব্দটির জনক। ফ্রান্সে ১৮৩৭ সাল থেকে শুরু হয়ে এখন পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়েছে। নারীরা যদি ঘরেই থাকে, তাহলে তাদের ভোগ করার সুযোগ মিলবে না। সুতরাং একটা ধোঁয়া তুলে তাদের রাস্তায় বের করতে হবে। সম অধিকারের কথা বলতে হবে। উন্নতির কথা বলতে হবে। আধুনিকতার কথা বলে গণহারে তাদের চাকুরী দিতে হবে। হলোও তা-ই। নারীরা বের হলো। আগে কোনো ধর্মের নারীরা এত খোলামেলা ছিল না। এখন যখন ধর্ম ফেলে উন্নতির জোয়ার লাগল, তখন আর বাঁধ মানল না। বের হয়ে একেবারে নিজেদের উজাড় করে দিল। প্রযুক্তি তাদের ভোগপণ্য বানিয়ে ফেলল। যদিও বলা হয়, এটা আধুনিক সংস্কৃতি। মূলত এর মাধ্যমেই তাদের বেহায়াপনার শুরু। এখান থেকেই বাকি অবরুদ্ধ জায়গাগুলোতে পৌঁছে। মুসলমান নারীরাও আর ঘরে থাকতে পারল না।

এদেশে নারীরা পুরুষদের পাশাপাশি কাজ করে। আমাদের দেশেও করে। এখন গ্লোবাল কালচারে এটা আলোচ্য বিষয় নয়। মূল সমস্যা পর্দার কনসেপ্ট  পাল্টে গেছে। জিন্স আর টি শার্টের সঙ্গে মাথায় হিজাব দিলেই পর্দা হয়ে গেল। ধুমধাম পার্টি আর পুরুষদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশায় অসুবিধা দেখেনা কেউ। কিছু বললেই তেড়ে আসে। এসব মাসআলা এদেশে বেকার। নাচতে নেমে কেউ ঘোমটা দেয় না। ঘোমটা দেওয়ার কথা বলাটাই অন্যায়। নাচ থামাবেন, না  ঘোমটা দেওয়ার কথা বলবেন? আসলে ঈমানই অন্তরে থাকেনা। ঈমানের প্রসঙ্গ তুললেও বিপদ। তারা নামায পড়ে। রোযা রাখে। ইফতার পার্টিও দেয়। এই এক মেলানো-মেশানো কালচার চলছে। বেঁচে থাকতে হলে অনেক কিছুই করতে হয়। আস্তে আস্তে পরিবর্তন হবে। সেটা এতই আস্তে যে, মরে গেলেও আর হয়না। কামিজ ছেড়ে যে মহিলা জিন্স পরে,তার কাছে ঈমানের সংজ্ঞা ডিফারেন্ট। তাকে ঘরে ফেরানো মুশকিল।

এভাবে ঘর ছাড়া নারীরা বাইরের রোদ্দুরে গা পুড়িয়ে ঘরে ফেরে। একদিন বুড়ো হয়। তখন ভোগ করতে পারে,না ভোগের পাত্র থাকে! ফেলে আসা শৈশব মনে পড়ে। হুযুরদের কথা মনে উঁকি দেয়। মা-বাবারা স্মৃতিও ভেসে ওঠে। কী লাভ হলো এতোসব করে ? গাড়ি-বাড়ি আর বিলাসিতায় সব পড়ে থাকে এক কোণে। এখন ফেরার সময়। যিনি এ জীবন দিয়েছিলেন, তার কাছে ফিরে যেতে হবে। একা একা সেসব স্মৃতি মাড়িয়ে যেই একটু ভালো হতে চায়, শরীরের হাড়-গোড় মুচড়ে ওঠে।  মৃত্যুর অপেক্ষা ছাড়া আর কিছুই করার থাকেনা। সুযোগও মেলেনা।

বারো.

মানুষ আশা করে। স্বপ্ন দেখে। একটু ভালো থাকতে চায়। কাজ আর আনন্দ নিয়ে থাকতে চায়। নিরিবিলি কাটাতে চায় আলস্যের সময়। ঝামেলায় জড়াতে চায় না। পাশ্চাত্যে এগুলো পেতে স্বপ্ন দেখতে হয় না। এমনিতেই মেলে। কেউ কারো পেছনে লেগে নেই। যে যার কাজ করছে। সামাজিক নিয়ম-কানুন ছকে বাঁধা । সব ঘড়ির কাঁটায় চলে। মানুষও। ঝামেলা যে হয় না, তা না। চুরি,ডাকাতি,খুন-খারাবি সবই হয়। এগুলো না থাকলে ভালো এত  ভালো হতো না। এর মূলে কাজ করে এদেশের এডুকেশন সিস্টেম। ভারী বোঝা এরা এত হালকা করে বহন করতে জানে, সিস্টেমে না ঢুকলে বোঝা যায় না।

আমাদের দেশে শিশুদের উপর প্রথমে ভারী বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়। তারপর তারা যখন বড় হয়, তখন সেগুলো মাথা থেকেই ফেলে দেয়। সমাজ অন্ধকারে যেতে থাকে। আলোর মুখ দেখে না। সেক্যুলার হয়েও পাশ্চাত্যের ভালো কিছু নিতে পারেনা। কিন্তু খারাপ নিতে ভুল করে না। আমেরিকান এডুকেশান সিস্টেমের মন্দ দিকটা সবাই জানে। ভুক্তভোগী অনেক মুসলমানও সেসব নিয়ে কথা বলতে চান না।

পড়ালেখা করতেই হবে। বড় হতে হলে এর বিকল্প নেই। কত বড় হবে তুমি? এটা কারো জানা থাকেনা। টার্গেট থাকে। মজার ব্যাপার হলো  এদেশে ছেলেরা ফায়ারম্যান হতে চায়। গারবেজম্যান হতে চায়! সুপারম্যানও হতে চায়। চাইতেই পারে। মিডিয়াতে যা দেখে, তা-ই হতে চায়। এডুকেশন সিস্টেম এমন ,ইলেভেন ক্লাস না পেরোনো পর্যন্ত তার চাওয়া থামে না।  তারপর যারা টিকে যায়, তারা সোসাইটিতে আগে বাড়তে পারে। উচ্চ শিক্ষা নিতে পারে। এ পথ পরিক্রমা খুব সহজ না। মাল্টিকালচারে পড়ালেখা তার মেধা-মননে নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। বড় কিছু হতে শেখায়। তবে রিলিজিয়ন নিয়ে ভাবতে শেখায় না।

এদেশে রাস্তাঘাট যেমন সুন্দর,তেমন স্কুল কলেজও। খুবই প্রশস্ত জায়গা নিয়ে বানানো। খেলার মাঠ ছাড়া কোনো স্কুল নযরে পড়েনি।  শারীরিক ফিটনেস পড়ালেখার অংশ। খেলাচ্ছলেই ছেলেমেয়েদের পড়ানো হয়। খুবই ইফেক্টিভ। তুলনামূলক পাবলিক স্কুলে পড়া সহজ। খরচ কম। মাইগ্রেট করা অনেক মুসলমান ছেলে –মেয়েদের প্রথমে এখানেই হাতে খড়ি হয়। তারা যা দেখে তাতেই অভ্যস্ত হয়ে যায়। কালচার ভেবে লুফে নেয়। তাকেও জাতে ওঠার চেষ্টা করতে হয়। তখন তারা পাত ভুলে যায়। খুব আস্তে আস্তে সে আমেরিকান হয়ে ওঠে। বাবা মা টের পায় না।

নাইন-টেন ক্লাসেই অনেক মেয়ে কনসিভ (Conceive) করে। মেয়েদের বয়ফ্রেন্ড, আর ছেলেদের গার্লফ্রেন্ড বাড়তে থাকে। সমকামিতাও বাড়ে। সমাজে এটা নিয়ে হৈচৈ হয় না। অগোচরে সম্পর্ক গড়ায় অনেক দূর। সেক্স বিষয়টা তাই পুরোনো আদলেই থাকে। আর রিলিজিয়ন বাসা-বাড়িতে আগে বাড়লেও স্কুল কলেজে বাড়ে না। আমেরিকান বানাতে চাইলে এটা ধরে রাখতেই হবে। সরকার এই একটা জায়গায় যা খেলার খেলে। মুখে কিছু বলে না। এজন্য বাবা-মা ধার্মিক বা মৌলবাদী হোক, তাতে অসুবিধা নেই। সরকার তাদের নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয়। তাদের সন্তানই টার্গেট। জেনারেশন কিল (Kill) করতে এর চেয়ে বড় অস্ত্র আর নেই।

এদেশে ইসলামী এডুকেশন সিস্টেমও আছে। মসজিদ কেন্দ্রিক স্কুল। সব শহরে এখনো গড়ে ওঠেনি। অনেক শহরেই আছে। মুসলমানদের জন্য একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ার সুযোগ করে দিয়েছে এ স্কুলগুলো। উচ্চ শিক্ষার দ্বার খোলা রেখেই এর কারিকুলাম বানানো হয়েছে।  এর ফলে ইসলামী কৃষ্টি কালচারের চর্চা হয়। অনেকে হাফেজও হয়। তবে ধরে রাখাটা সহজ হয়না । ইউনিভার্সিটিতে গেলে তারা তখন মূল ধারায় ফিরে আসে।  যাদের ভাগ্য ভালো, তারা নিজেদের বাঁচিয়ে চলে। আর নতুবা গা ভাসিয়ে দিয়ে, সত্যিকার আমেরিকান হয়ে ওঠে।

মুসলমান পরিবার কখনো পরবর্তী জেনারেশন হারাতে চায় না। পরিবেশের জন্য ঠিক রাখতেও পারেনা। বেঠিক চলতে চলতে আশার আলো দেখে সবাই। একদিন হয়তো জাগরণ হবে। তখন সব ঠিক হয়ে যাবে। সেদিন কবে আসবে? [১]

তেরো.

রাত ১১:৫৯ এ ফ্লাইট। টার্কিস এয়ারলাইনস। মইন ভাই এয়ারপোর্টে নিয়ে গেলেন। আমি এক নিঃসঙ্গ মানুষ আমেরিকা থেকে একা একা ফিরছি। আসার সময় প্রফেসর হযরত বার বার বলেছেন, ‘ একাই যাচ্ছ?’ ফেরার সময় যখন কথা হলো, তখনও বললেন, ‘তুমি তো একাই ফিরছ না?’ আমি তবু ফিরছি। মইন ভাই ফিরতে পারছেন না । না স্ত্রী -কন্যার কাছে, না নিজের দেশে। তিনি ফিরে যাবেন বাফেলো। আবার ছয়-সাত ঘন্টা ড্রাইভ। একাই।

পৌনঃপুনিক নিঃসঙ্গের দেশ আমেরিকা। সব থেকেও তারা খুব একা। আর যাদের কেউ নেই, তাদের অবস্থা আরও করুণ। নিঃসঙ্গের মাত্রা মাপা যায়না, তবু জীবন এগিয়ে চলে। মরুভূমিতে পথ হারালে ফেরা যায়না। আমৃত্যু অপেক্ষা মৃত্যুর জন্য। আকাশে উড়াল দিয়ে আমি বাহ্যিকভাবে সেই মৃত্যুকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেলাম।মৃত্যুকে পেছনে ফেলা যায়না।

আমাদেরও  যেতে হবে এবং একাই![২]

চলবে ইনশা আল্লাহ…

 

পড়ুন আগের পর্বগুলোঃ

স্বর্গের দিন স্বর্গের রাত (প্রথম পর্ব)

স্বর্গের দিন স্বর্গের রাত (দ্বিতীয় পর্ব)

স্বর্গের দিন স্বর্গের রাত (তৃতীয় পর্ব)

স্বর্গের দিন স্বর্গের রাত (চতুর্থ পর্ব)

স্বর্গের দিন! স্বর্গের রাত! (পঞ্চম পর্ব)

আরো পড়ুনঃ

মুখোশ উন্মোচনঃ প্রথম পর্ব

মুখোশ উন্মোচনঃ তৃতীয় পর্ব

নরক –

 

 

রেফারেন্সঃ

[১] একা একা আমেরিকা, পৃষ্ঠা  ৮২-৮৮,  লেখকঃ মুহাম্মাদ আদম আলী, সাবেক মেরিন অফিসার, প্রকাশনীঃ মাকতাবাতুল ফুরকান

[২] একা একা আমেরিকা, পৃষ্ঠা ১১২-১১৩,  লেখকঃ মুহাম্মাদ আদম আলী, সাবেক মেরিন অফিসার, প্রকাশনীঃ মাকতাবাতুল ফুরকান

 

শেয়ার করুনঃ
স্বর্গের দিন! স্বর্গের রাত! (পঞ্চম পর্ব)

স্বর্গের দিন! স্বর্গের রাত! (পঞ্চম পর্ব)

পাঁচ.

আমেরিকা একটা অদ্ভুত জায়গা । এখানে পাগলের সংখ্যা অনেক। এ পাগল গাড়ি চালায়। স্মার্টফোনে কথা বলে। কাজ করে। খায়। দেখে বোঝার উপায় নেই। কথা বললেই বুঝে আসে। কথার খেই পাওয়া যায় না।  কখন যে পাগল হয়ে  গেছে, সে নিজেও জানে না। তাদের বাড়ি থেকেও নাই। পরিবার থাকলেও কাছে পায়না।  সব হারানোর কষ্টে একসময় এরা বদ্ধ পাগল হয়েই যায়। এরকম এক পাগলের বাসায় রাতের দাওয়াত ছিল। সজিব জোর করলো। গেলাম। খাচ্ছি। খাওয়ার টেবিলে বসেই তিনি তার মেয়েকে বিদায় দিলেন। যাচ্ছে ফ্রাইডে নাইটে। আমাকে বললেন,‘ ওর এক বন্ধুর বার্থেডে পার্টিতে যাচ্ছে’।

এসব পাগলারা সত্য বলতে পারে না। এজন্যেই বুকের কষ্ট মাথায় ওঠে। নার্ভগুলো সব উলটে দেয়। যা দেখে, ভুলে থাকে। যা শোনে, চেপে যায়। কত আর আমেরিকান হয়ে থাকা যায়! ইসলামের কিছু বোধ তখনো তাড়া করে ফেরে। যুবতী মেয়ে সারা রাত আর বাসায় ফেরে না। বাবা-মা নির্ঘুম জেগে থাকে। রাতের পর রাত। এমন কয়টা রাত লাগে পাগল হতে’? [১]

ছয়.

চাচা এদেশে সাঁইত্রিশ বছর ধরে আছেন। মিলিয়ন ডলারের কয়েকটি বাড়ি আছে ক্যালিফোর্নিয়ায়। খুবই ধনী। এত ধন তার তেমন উপকার করেনি। তিনটি মেয়ে। বড় মেয়েটা  ভার্সিটি শেষ করে চাকুরী করেছে। এক হিন্দু বয়ফ্রেন্ড নিয়ে ঘোরে। এজন্য চাচার মন ভালো থাকেনা। বয়স হয়ে গেছে। বাঁচার আশাও আর বেশি দেখেন না। সম্পদ সব বিক্রি করে দিতে চাচ্ছেন। বিক্রি করে কি করবেন জিজ্ঞেস করিনি। বেশি কথা বলা যাচ্ছে না। তিনিই কথা বলে যাচ্ছেন। পরে ভাব করে কথা বলতে হবে। গাড়ি চলছে।[২]

সাত.

আজ এখানে ২৫ ডিসেম্বর । খৃস্টানদের বিশেষ দিন। তারিখটা উল্লেখ করলাম। দিবসের কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। মুসলমানরা এখানে খৃস্টানদের পাশাপাশি কাজ করে। তাদের সঙ্গে কথা বলতে হয়। শুভেচ্ছা জানাতে হয়। এজন্য হাসি-মুখে অনেকে বলে ফেলেঃ হ্যাপি ক্রিসমাস ডে। আমি শুনে ঘাবড়ে যাই। এ কথা বললে তো ঈমান থাকার কথা না। ব্যাপারটা কোনো আলেমকে জিজ্ঞেস করতে হবে।[৩]

আট.

নিউইয়র্কে আকাশ ছিল অনেক উপরে। উঁচু বিল্ডিং-এর ফাঁক গলে আকাশ দেখতে হতো। ডালাসে আকাশ অনেক নিচে। সোজা তাকালেই দৃষ্টি চলে যায়। দেশের শষ্যভরা ক্ষেত যেমন,মাইলের পর মাইল দিগন্ত বিস্তৃত, তেমন। আকাশ আকাশেই থাকে। শুধু মনের আকাশটাই ওঠানামা করে!

ডালাসের এই অঞ্চলে শষ্য-ক্ষেত নেই। তবে বাড়ি ঘর ছড়ানো ছিটানো। এত বিস্তৃত জায়গা, দৃষ্টিতে আটকায় না কিছুই। সোজা আকাশের নিঃসঙ্গতায় হারিয়ে যায়। রাস্তাঘাটে মানুষজন চোখে পড়েনা। ঘর-বাড়ির বাইরেও কেউ নেই। আবাসিক এলাকা যেন বিরান ভূমি। এখানে প্রতিটি মানুষ এরকম একা, নিঃসঙ্গ। সব থেকেও কেউ নেই।

ঘরের লোকজনও ঘরে থাকে না। কাজে থাকে। সবাই কাজে মগ্ন। ভালোবাসা আর খাওয়া-দাওয়া। জীবনের অংশ নয়। কাজের অংশ। কাজ মানেই টাকা। এজন্য ভালোবাসাও টেকে না বেশি দিন। টাকা না হলে জীবনও  মরে যায়। মরা জীবনে ইসলাম এককোণে পড়ে থাকে। যখন পাশ দিয়ে যায়, ছুঁয়ে দেখে। দূরে গেলে ভুলে যায়।

ফজর পড়েছি মসজিদে। গেইট দিয়ে বের হতেই একটা বাক্স চোখে পড়ল। বাক্সের ওপর লেখাঃ Bank of Akherah (আখেরাতের ব্যাংক) ইন্টারেস্টিং । এরকম এখনো দেখিনি দেশে। মসজিদে এলেই ভালো লাগে। দ্বীনদারি কিছু চোখে পড়ে। বাইরে এর ছাপ কোথাও নেই। আযানও মসজিদের চার দেয়ালে আটকে থাকে।

এখনকার ইয়ং জেনারেশনের খোঁজখবর নেওয়া মুশকিল। বাবাদের দেখা পেলেও সন্তানদের দেখা মেলে না। আমার ভাতিজাদের দেখে কিছুটা বোঝা যাচ্ছে। তাদের এখন স্কুল বন্ধ। সারাক্ষণ পাশে পাচ্ছি। একবার তাদের এক বন্ধু এল। একসাথে নামাযে যাব। তারপর জিমে খেলবে। গাড়িতে উঠতেই পরিচয় হলো। নাম হিশাম । মুসলমান। এদেশে জন্ম। বাবা শ্রীলংকান, আর মা মালয়েশিয়ান । পুরো আলখেল্লা পরে নামায পড়লো। ভালো লাগলো।

নামায শেষে তাদের জিমে ড্রপ করতে হবে। আবার কিছু সময় পাওয়া গেল। এই সুযোগে তার কুরআন পড়া শুনতে চাইলাম। সূরা ফাতিহা পড়তে বললাম । ছেলেটা জবাব দিল, ‘ আমার দাঁতে ব্যথা। কুরআন পড়তে পারব না’।

আমি শুনে অবাক হলাম। কথা বলতে  অসুবিধা হচ্ছে না। কুরআন পড়লে অসুবিধা হবে। এর মানে আমার বুঝতে বাকি থাকে না। চুপ মেরে গেলাম। পরে আমার ভাতিজা আমাকে বলেছেন, ‘তুমি তার কাছে কুরআন পড়া কেন শুনতে চেয়েছোঁ? সে মাইন্ড করেছে’। আমি তাকে আর কি জবাব দেব! এখন তার প্রতিও আমার ভয় বেড়ে গেল। আমরা বড় বেশি সেকেলে হয়ে গেছি! [৪]

নয়.

রিহেবিলিটেশন সেন্টারটা একটা কারাগার। এ কারাগারের কোনো পাহারাদার নেই। বিছানায় লেপ্টে থাকা রোগীদের  জন্য এর প্রয়োজনও নেই। পরিচিতজনরাও কম আসে। এদেশে এমনিতে পরিবারের বন্ধন ঠিক থাকেনা। বাবা-মা, ভাই-বোন – একসময় সবাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সবাই সবার জীবন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। রোগী দেখার সময় পায় না।

হাসপাতালগুলোও এ কালচার মেনে চলে। রোগীর সঙ্গে কেউ না থাকলে অসুবিধা হয়না। পুরো দায়িত্ব  তারা কাঁধে তুলে নেয়। দায়িত্বেরও সীমা থাকে। অকেজো মানুষদের সেবা করা  কঠিন কাজ । নার্সরাও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এজন্য এখানে এলে বাঁচতে চায় না কেউই। আমরা যখন ফিরছিলাম, তখন এক ঘর থেকে আওয়ায আসছে, Help! I need help ! তার এ চিৎকার কেউ শুনছে না । হেলপ! হেলপ ! চিৎকার চলছে।

পড়ুন আগের পর্বগুলোঃ

স্বর্গের দিন স্বর্গের রাত (প্রথম পর্ব)

স্বর্গের দিন স্বর্গের রাত (দ্বিতীয় পর্ব)

স্বর্গের দিন স্বর্গের রাত (তৃতীয় পর্ব)

স্বর্গের দিন স্বর্গের রাত (চতুর্থ পর্ব)

আরো পড়ুনঃ

মুখোশ উন্মোচনঃ প্রথম পর্ব

মুখোশ উন্মোচনঃ তৃতীয় পর্ব

নরক –

রেফারেন্সঃ

[১] একা একা আমেরিকা, পৃষ্ঠা ১০২,  লেখকঃ মুহাম্মাদ আদম আলী, সাবেক মেরিন অফিসার, প্রকাশনীঃ মাকতাবাতুল ফুরকান

[২]একা একা আমেরিকা, পৃষ্ঠা ৯৮,  লেখকঃ মুহাম্মাদ আদম আলী, সাবেক মেরিন অফিসার, প্রকাশনীঃ মাকতাবাতুল ফুরকান

[৩]একা একা আমেরিকা, পৃষ্ঠা ৫৮,  লেখকঃ মুহাম্মাদ আদম আলী, সাবেক মেরিন অফিসার, প্রকাশনীঃ মাকতাবাতুল ফুরকান

[৪] একা একা আমেরিকা, পৃষ্ঠা ৬৬-৬৭,  লেখকঃ মুহাম্মাদ আদম আলী, সাবেক মেরিন অফিসার, প্রকাশনীঃ মাকতাবাতুল ফুরকান

[৫] একা একা আমেরিকা, পৃষ্ঠা ৭০,  লেখকঃ মুহাম্মাদ আদম আলী, সাবেক মেরিন অফিসার, প্রকাশনীঃ মাকতাবাতুল ফুরকান

 

 

শেয়ার করুনঃ
স্বর্গের দিন স্বর্গের রাত (চতুর্থ পর্ব)

স্বর্গের দিন স্বর্গের রাত (চতুর্থ পর্ব)

[১]

জীবনের সব প্রথমই মানুষ মনে রাখে। স্বাদ বিস্বাদ যা-ই হোক । প্রথম বিস্বাদ যত তীব্র হয়, স্বাদ তত মজার হয় না। এজন্য বার বার ফিরে পেতে চায়।  পায়ও। সারাজীবনেও  আর সেই প্রথমকে ভুলতে পারেনা। পঞ্চমবার আমেরিকায় এসে প্রথমবারের কথা মনে হচ্ছে। সেইবার ডালাসে যে ধর্মীয় পরিবেশ ছিল, এটা এবার তেমন নেই।

ডালাসের রিচারডসনে উঠেছি আমি। অনেক বাঙালী পরিবার বসত গেড়েছে এখানে। অনেকে দেশে সব বিক্রি করে দিয়ে আমেরিকান হয়েছে। ভাগ্য ভালো যার, বাড়ি-গাড়ি করেছে। আর নতুবা ভাড়া বাড়িতেই কাটছে জীবন। বাস –ট্রেনে যাতায়াত। বুয়েটের অনেক ইঞ্জিনিয়ার আছে, তাদের অবস্থা তুলনামূলক ভালো। চাকুরী না থাকলে তাদের অবস্থাও কাহিল হয়ে যায়।

বউ ছাড়া থাকতে পারলেও এদেশে চাকুরী ছাড়া থাকা যায়না। আবার চাকুরী খুব ভালো হলে বউ হারানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায়। স্বামীর সম্পদ বেড়ে গেলে অনেক স্ত্রী ডিভোর্সে উৎসাহী হয়ে ওঠে। তখন তারা স্বামীর সম্পত্তির অর্ধেক পায়। সেলিব্রেটিদের মধ্যে এটা বেশি  হলেও এখন আমজনতাও এর স্বাদ পাচ্ছে। মুসলমানরাও বাদ পড়ছে না। আমাদের কাছে সবই সমস্যা লাগে। তাদের কাছে সব এক। বেঁচে থাকলেও যা, মরে গেলেও একইরকম। কালচারে মুসলমানরা এক হতে হতে এখন সমবিশ্বাসেও এগিয়ে যাচ্ছে। প্রথম জেনারেশন সারেন্ডার না করলেও থার্ড জেনারেশন নাগালে পাওয়া মুশকিল। ব্যতিক্রম আছে। সেটা প্রফেসর হযরত হামীদুর রহমান সাহেবকে দেখে সন্তানকে স্কুল-কলেজে পড়ানোর মতোই। একদিন আমার ছেলেও হামীদুর রহমান সাহেব হবে!

বিভিন্ন দেশের মানুষ আসে আমেরিকায়। মুসলমাররাও আসে। অনেকে পরিবার নিয়ে আসে। অন্যরা যা ইচ্ছা করে। মুসলমানরা তা করতে পারেনা। কিন্তু শুরুটা প্রায় সবার একইরকম।  প্রথমে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ধাক্কা সামলাতে হয়। আর এজন্য প্রয়োজনে  সব কিছুই জায়েজ মনে হয়। এ তালিকা অনেক বড়। তবে মুসলমানদের ভয়ানক কিছু করতে হয়। তাদের দ্বীনদারীতে কম্প্রোমাইজের চাপ বাড়ে। অনেকে দেশে থাকতে হয়তো নামায পড়তেন না। এখানে এসে আরও উদাসীন হন। আর যারা নামায পড়তেন, তাদের অনেকেই ছাড় দেন। এই ক’দিন পরেই সাচ্চা নামাযী হয়ে যাব। তাদের জন্য দিন আর শেষ হয়না। একসময় হয়তো নামায পড়েন, তখন বেলা পড়ে যায়। অবেলার দ্বীনদারীতে পরবর্তী জেনারেশন টেকানো যায় না। সব স্যাটেল হয়ে গেলেও ইসলামের মূল্যবোধ ঠিক থাকে না। মুখ থুবড়ে পরে।

[২]

এদেশ অনেক বড় দেশ। শুধু নিউইয়র্ক শহর দেখলে দেশ বোঝা যায় না। শহর থেকে বের হয়ে কোনো হাইওয়েতে উঠলেই চোখে পড়ে।  কত যে প্রান্তর খালি পড়ে আছে।, হিসেব নেই। অন্যান্য স্টেটে আরো বেশি। প্রকৃতির বিশালতায় মানুষের মনও বিশাল হওয়ার কথা। মন তো এক অনন্য সৃষ্টি।  এটা বিশাল হবার জন্য জায়গা লাগে না। দ্বীনের সঠিক বুঝ লাগে। এখানে কেন যেন সেটা উবে যায়!

মুসলমাররা অনেকেই হালাল-হারাম বেছে চলে। অনেকে পারেনা। আমার এলাকার পরিচিত একজন মদ খান না। কিন্তু মদের ভালো ককটেল বানাতে পারেন। তিনি যে হোটেলে কাজ করেন,এজন্য তার অনেক সুনাম।  দীর্ঘ দিন কাজ করেছেন। ছেলেদের এদেশে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।  তারা পড়ালেখা করে বড় চাকুরী করছে।  বাবা খুব খুশি। তারপর ? হঠাত এক ছেলে খৃস্টান মেয়েকে বিয়ে করে ফেলল। আরও দুই ছেলের অবস্থা বলার মতোনা। হারাম কামাই করে হয়তো প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়, মুসলমান থাকা যায়না। অনেক মুসলমান ঘরেই এই এক নতুন সমস্যা। ছেলে তো ইসলামেই থাকছেনা।

খুব বেশি তাবলীগে সময় দেন যারা, অথবা সন্তানদের মাদ্রাসায় পড়ান, তাঁরা ছাড়া বাকীদের অবস্থা একইরকম। কী রকম? তারা ছেলেদের  একটু কুরআন পড়িয়ে দিতে পারলে যেন হাঁফ ছেড়ে  বাঁচেন। আর মাঝে মাঝে যদি মসজিদে নিতে পারেন,তাহলে তো ছেলের মুসলমানিত্ব নিশ্চিত । এভাবে হয় না কিছুই। বেশিরভাগই বাবা-মাকে খুশি করার জন্য এসব করে। বয়স আঠারো হয়ে গেলেই ছেলে আসল আমেরিকান হয়ে ওঠে। তখন বাবা-মাদের আর কিছু করার থাকেনা। ছেলের বিয়ের বয়স হয়ে গেলেও জোর করতে পারে না। ছেলের ইচ্ছের কাছে নত হয়ে থাকতে হয়। আর এতে যদি হারাম কামাইয়ের হিস্যা থাকে, ঐ ছেলের ভাবভঙ্গি বোঝা  মুশকিল হয়ে ওঠে। সমাজ তো এখানে সামাজিক না। বিচ্ছিন্ন দ্বীপ । কেউ কিছু মনে করেনা।

যারা দ্বীনদারী রক্ষা করে চলার খুব চেষ্টা করেন, তারা নিজেরা নামায-কালাম পড়েন। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কিছু কসরত করেন। কিন্তু তা’লীম দেন না। পাঁচ ওয়াক্ত নামায আর কুরআন তিলাওয়াত ছাড়া ইসলামের আর কিছু শেখে না। রাসূলের নাম বলতে পারলেও সাহাবী কি জিনিস জানে না।  ইসলামের নিজস্ব কালচার আছে, এ বোধ উন্মেষের কোনো সুযোগই পায় না। তারা আমেরিকান কালচার নিয়ে পড়ে থাকে। ঘরে-বাইরে। খুব সহজেই দ্বীনদারী বিদায় নেয় । এটা হলো সেকেন্ড জেনারেশন। এরা নিজেরা যা শিখেছে, তা প্রাক্টিস করে না। থার্ড জেনারেশন আসতে আসতে সব ভুলে বসে। একদিন মুসলমান ছিল, এ বোধও আর কাজ করে না। আর খ্রিস্টান বিয়ে করলে তো আমেরিকা জিন্দাবাদ ।

.[৩]

বাইরে আজ আইস কুল ঠাণ্ডা । হাত-পা জমে যাওয়ার মতো অবস্থা । তবু মানুষগুলো জমে যায় না । মুখে ঘন হাওয়া ছাড়তে ছাড়তে দিব্বি বেঁচে থাকে । কাজে যায় । ফিরে আসে । ঘরেই কাটে বেশিরভাগ সময় । ঘরে হট এয়ার সিস্টেম আছে। অনবরত হিটার চলছে । হিটারে শরীর গরম হয় । আত্মার শান্তি মেলে না । শান্তি দেওয়ার মানুষ টাই নেই । শুন্য ঘর । সেলফোন আর টিভি ছাড়া সঙ্গি কেউ নেই । অনেকের কুকুর থকে । একটা, দুইটা বিড়ালও থাকে । সবার থাকে না বড় নিঃসঙ্গ জীবন । এদেশে এরকম জীবন যে কত, পরিসংখ্যান জানা নেই । মুসলমানও দিন দিন এ সংখ্যা বাড়াচ্ছে ।

ফজরের পর স্টারবাকসের কফি খাচ্ছি। ভোর পাঁচটায় এ দোকান খোলে। সূর্য ওঠে আরও পরে। সকাল সাড়ে সাতটায়। মানুষ এখানে রোবটের মতো কাজে লেগে যায়। এই একটা জায়গায় কোনো তাড়া দিতে হয় না। ডলার তাকে মেশিন বানিয়ে ফেলে। উপায়ও নেই। কফি খেতে খেতে আমার ভাই গল্প করছেন। এদেশের মানুষের গল্প। কঠিন সব গল্প। শুনলে গা শিউরে ওঠে।

এক ভদ্রলোক দেশ থেকে কেবল বিয়ে করে বউ নিয়ে এসেছন। নিজে অড জব করে বউকে ডাক্তার বানালেন। পাস করেই বউ তাকে ফেলে চলে গেল। কোথায় বউয়ের কামাইয়ে আলিশান জীবন কাটাবে, এখন বউই নাই। অবশ্য বউয়ের কামাইয়ের দিকে এদেশে চেয়ে থাকার সুযোগ নেই। শেয়ারে হয়তো একটু ভালো বাসায় থাকা যেতো, এই যা।

এখানে বউ-ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে মানুষের আশাও কমে যায়। ভালো বাসায় থাকতে পারলেও ভালোবাসা হয় না। মহব্বতকে ওরা বলে ফিলিংস। এই ফিলিংস বুঝতে আমার সময় লেগেছে। হাই ড্যাড (Hi Dad)! বলা তাদের ফিলিংসের প্রকাশ। তাও বছরে একবার!

.আরেকদিন এক বাঙালী ভদ্রলোকের সঙ্গে দেখা হলো। সঙ্গে আমার ভাই। ভদ্রলোক এসে আমাদের খুব আন্তরিকভাবে এক অনুষ্ঠানের দাওয়াত দিলেন। তার স্ত্রী নার্সিং কোর্সে কোয়ালিফাই করেছে। এজন্য গ্র্যাজুয়েশন পার্টি হবে। সেখানে যেতে বললেন। লোকটার খুশি দেখে আমি অবাক। শেষ পর্যন্ত স্ত্রী থাকবে তো!

.সেকেন্ড জেনারেশনেরও বউ থাকছে না। বাবা-মা সত্তর থেকে আশি হাজার ডলার খরচ করে ওয়েডিং পার্টি করছে। এক বছরের মাথায় বিয়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে। হু কেয়ারস! দু-জনই উচ্চ শিক্ষিত। ভালো চাকুরী করে। সামান্য ইস্যুতেই ঘর ভেঙ্গে যাচ্ছে। তখন এসব ভাঙ্গা মন কী করে? সে বিষয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। ভুক্তভোগীরা জানে। অন্যের জানার সুযোগ হয় না।

এদেশে একার কামাইতে সংসার চলেনা। স্ত্রীকেও কাজ করতে হয়। সেটা আরেক জীবন। অফিস ডিউটি খুব কম পরিবারই করে। বেশিরভাগ অড জব। তাতে টাইমিং ঠিক থাকেনা। একজন যদি বিকেলে ঘরে ঢোকে, আরেকজন রাত বারোটায়। ভালোবাসা তখন টায়ার্ড হয়ে যায়, ডলার গুনেই পার করতে হয় পারিবারিক জীবন।

অনেকের স্ত্রী আমৃত্যু থাকে। বুড়ো হয়ে গেলেও পাশে থাকে। একজন অচল হলে আরেকজন হুইল চেয়ার ঠেলে। ভালোবাসা তখন আসল হয়। মরে গেলেও এদেশে শান্তি নেই। কাফন-দাফনে প্রায় দশ হাজার ডলার লাগে। আসল ভালোবাসা তখনো ডলারের চিন্তা থেকে মুক্তি পায়না। আমেরিকার ঘোর কাটলেও আর ফেরার সুযোগ থাকেনা।

[৪]

খুব ভালো থাকতে মন চায়। খুব ভালো হতে ইচ্ছে করেনা। ইচ্ছেটাই পাল্টে গেছে। মরা গাছে ফুল ফোঁটে না। এমনিতে ফুল ভালো লাগে। গাছের  পরিচর্যা করতে ইচ্ছে করে না। এখানে গাছ কি ছিল নাকি! একদিন হয়তো ছিল। সে গাছ মরে গেছে। এখন ঝরা পাতায় উঠোন ভর্তি। সেখান থেকে ফুলের টবে প্লাস্টিকের ফুল ফোঁটে। শিশিরে সিক্ত হয়। আহ! কি সৌন্দর্য! এ সৌন্দর্যে মুসলমানরা দিশেহারা। একবার দিশা হারালে হুঁশ ফেরানোর কেউ নেই। বিচ্ছিন্ন দ্বীপে কেউ সহজে প্রবেশ করে না।

বসবাসের জন্য একটা বাড়ি এদেশে খুব জরুরী। আর চলাফেরার জন্য একটা গাড়ি। হোটেল বয় হিসেবে কাজ করলেও এগুলো পেতে অসুবিধা হয় না। বাড়ি-গাড়ি রেডিই আছে। একটু কষ্ট করে কেবল সাহস করতে হয়।  মনে সাহস না থাকলেও পরিবেশ সাহসী করে তোলে। গাড়ির দোকানে পয়সা ছাড়া গেলেও একটা কিনে ফেরা যায়। বাড়ির জন্য একটু ঝামেলা সইতে হয়। ইনকামের ওপর উপর বাড়ির কোয়ালিটি ডিপেন্ড করে। সবই মেলে  মরগেজ (Mortgage)- এর উপর। বিশ্বাসে কমতি নেই এদের। সোস্যাল কার্ড থাকলেই আর কিছু চাইবে না। হাউজ লোন দিয়ে দেবে। মরে গেলেও অনেকের এ লোন শোধ হবে না। ব্যাংক তার হিস্যা বুঝে নেবে ঠিকই।

আমেরিকার ইকোনোমি সিস্টেম খুব কঠিন। সমাজের কণায় কণায় সুদের চাকা ঘুরছে। দ্বীনদাররা বেঁচে থাকতে চায় না যে এমন না। পারে না। ঘন্টায় দশ ডলারে কাজ করে সুদের চাকায় তেল না দিয়ে উপায় থাকেনা। খুব ভালো বেতনে যারা প্রফেশনাল জব করেন, তারা চাইলে কিছু পারেন। নগদ টাকায় বাড়ি-গাড়ি করেন।  এ দলে লাখে এক মিললেও বেশি। শীতের কষ্টে হাত পকেটে রাখতে হয়। আর সুদের ঘোরে চোখ-কান খোলা রাখা যায় না। জিবটাকে সচল রাখলেই চলে।

বাড়ি-গাড়ি করে অনেকে বিয়ে করে। এদেশে মানুষ অন্যের খবর রাখে না। তবে বিয়ে-শাদীর খবর ঠিকই রাখে। দাওয়াত দিলে ছুটে আসে। নিজেকে চেনানোর এই সুযোগ হাতছাড়া করে না কেউ। বিশাল  করে ওয়েডিং পার্টির আয়োজন করে। হাজার হাজার ডলার লোন করে। ক্রেডিট কার্ডে সুদের ধাক্কা লাগে। অন্তরে লাগেনা। মেহমানদের হাসি-তামাশায় অন্তর ফুলে ওঠে।  আগুনের পর আগুন জ্বলে। আগুন ছাড়েনা কাউকেই। দেখা যায়, লোন শোধ না হতেই  বিয়ে ভেঙ্গে যায়। বউ নাই। বিয়ের লোন টানতে হচ্ছে। তারা অবশ্য আবার বিয়ে করে। তবে প্রথমবারের মতো তামাশা আর করতে পারে না।

সুদের আগুন দেখা যায় না। পুড়ে ছারখার করলেও দেখা যায় না। এজন্য শিক্ষাও নেয় না কেউ। সম্ভবত কবরে না গেলে হুঁশ ফিরবে না কারোরই।

চলবে ইনশা আল্লাহ…

 

রেফারেন্সঃ

একা একা আমেরিকা, পৃষ্ঠা ৭৫-৮২,  লেখকঃ মুহাম্মাদ আদম আলী, প্রকাশনীঃ মাকতাবাতুল ফুরকান

 

পড়ুন আগের পর্বগুলোঃ

স্বর্গের দিন স্বর্গের রাত (প্রথম পর্ব)

স্বর্গের দিন স্বর্গের রাত (দ্বিতীয় পর্ব)

স্বর্গের দিন স্বর্গের রাত (তৃতীয় পর্ব)

আরো পড়ুনঃ

মুখোশ উন্মোচনঃ প্রথম পর্ব

মুখোশ উন্মোচনঃ তৃতীয় পর্ব

নরক –

 

 

শেয়ার করুনঃ
স্বর্গের দিন স্বর্গের রাত!( তৃতীয় পর্ব)

স্বর্গের দিন স্বর্গের রাত!( তৃতীয় পর্ব)

ছোটবেলা থেকেই বিদেশী মুভি দেখা বা বই পড়ার কারণে বিদেশ (স্পেশালি নর্থ আমেরিকা, ইউরোপ) এবং বিদেশের জীবন নিয়ে একটা ফ্যাসিনেশন থাকে সবার। ওয়েল, সবার থাকে কি না বলতে পারি না, অন্তত আমার ছিল। ওখানকার মানুষদের প্রতি মৃদু ইর্ষাও হত যে তারা ছোটবেলা থেকেই কি চমৎকার পরিবেশে, সুন্দর জায়গায় বড় হচ্ছে, থাকছে। মনে হত কোন মতে ওরকম একটা দেশে যেতে পারলেই কেল্লা ফতে। যতই সময় যাচ্ছে, আমি আল্লাহ্‌র প্রতি ততই কৃতজ্ঞ হচ্ছি যে উনি আমাকে চমৎকার একটি মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়ার সৌভাগ্য দিয়েছেন। দিয়েছেন পরিবারের প্রতি সম্পূর্ন নিবেদিত একজন মা এবং স্ত্রী-সন্তানদের সযত্নে আগলে রাখা একজন বাবা।

.. . কানাডায় আমার প্রবাসের প্রায় এক বছর পার হতে চলল। এই এক বছরে এখানকার মানুষদের প্রতি আমার সেই ফ্যাসিনেশনটি করুণায় পরিণত হয়েছে। পড়াশোনা আর অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজরের মানসিক যাঁতাকল নিয়ে গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্টদের কষ্টের কথা দেশের অনেকেই মোটামুটি শুনেন/জানেন বলে সেটা নিয়ে এখানে কথা বলবো না। তার চেয়ে বরং চেষ্টা করবো একটু ব্যাখ্যা করার কেন এখানের মানুষগুলো আমার চোখে ফ্যাসিনেশন থেকে করুণার পাত্রে পরিণত হল। তবে প্রথমেই বলে নেই যে এদের একদম সবকিছুই খারাপ না, কিছু কিছু জিনিস আমার ভাল লাগে। ওগুলোও বলবো। . .

.এখানে অনেক ধর্মের এবং অনেক ধরণের মানুষ আছে। আস্তিক, নাস্তিক, ট্রান্সজেন্ডার, হোমোসেক্সুয়াল সবই আছে প্রচুর পরিমাণে। ইহুদি অধ্যুষিত এলাকায় ইহুদি উপাসনালয়, স্কুল/কলেজ অনেক। আবার নগরের ভিতর জায়গায় জায়গায় খ্রিস্টানদের চার্চ আছে ভালই। “জেহোভার সাক্ষী” (Jehovah’s Witness) হল খ্রিস্টানদের ধর্মীয় দাওয়াত দেওয়ার একটি গ্রুপ। এরা সপ্তাহে একবার-দুইবার সবাই একসাথে বসে বিভিন্ন সোশাল অ্যাকটিভিটি করে (যেমন সবাই মিলে নতুন কোন ভাষা শেখা, বা শিক্ষামূলক ভিডিও দেখা) আর খ্রিস্ট ধর্মের গুণগান করে। মাঝে মাঝে নতুন কাউকে পেলে দাওয়াত দেয়। আমাকেও দুই-তিনবার ভদ্রভাবে দাওয়াত দিয়েছিল ওদের দুইজন। সাদা চামড়ার একজন মানুষ রাস্তায় হঠাত করে আমাকে দাঁড় করিয়ে মোটামুটি শুদ্ধ বাংলায় কথা বলে আমাকে দাওয়াত দিচ্ছে, বেশ অবাকই হয়েছিলাম। ঐ কাহিনীগুলো আরেকদিনের জন্য তোলা থাক। মসজিদও আছে মোটামুটি ভালই। বাংলাদেশ থেকে আসার পর যে জিনিসগুলো মিস করি, সেগুলোর একটা হল প্রতি ওয়াক্তে আযান শোনা। এখানের নিয়ম হল মসজিদে আযান হলে আযানের শব্দ শুধু মসজিদের ভিতরেই থাকবে, বাইরে যাবে না। তাই সাধারণত ঘড়িতে সময় দেখেই নামাজ পড়া লাগে, আযান শুনে নয় [১]।

আপাতদৃষ্টিতে এরা ধর্মনিরপেক্ষ। সরকার বড় গলায় তা-ই প্রচার করে। কিন্তু হর্তা-কর্তাদের নীতি নির্ধারণী দেখে বোঝা যাবে এরা আসলে অ্যান্টি-মুসলিম ছাড়া কিছুই না। কিছুদিন আগেই নিয়ম করা হয়েছে যে বাসে/ট্রেনে উঠতে হলে মুখ ঢেকে রাখা যাবে না। নিকাব করা যাবেনা। সরকারী কোন অফিসে চাকরি করতে হলে এমন কোন পোষাক পরা যাবে না যেটা দেখে তার ধর্ম বুঝা যায় (হিজাব, নিকাব, টুপি ইত্যাদি)। [২,৩,৪]

.সাধারণ মানুষদের কাছে ধর্ম বেশ সেনসিটিভ বিষয়। প্রফেশনাল ওয়ার্কপ্লেসে কেউ সাধারণত কারো ধর্ম নিয়ে কোন কথা বলে না। কোন মিটিং শেষে কোন নারী হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত এগিয়ে দিলে ভদ্র ভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলি যে আমি মুসলিম।. .

.যেহেতু এটা “উন্নত বিশ্ব”, তাই এখানে ট্রান্সজেন্ডার( Transgender বা Transexual এবং হিজড়া কিন্তু এক জিনিস নয়। হিজড়া মানে তো বুঝতেই পারছেন। Transgender বা Transexual হলো এমন একদল মানুষ যারা মনে করে তারা ভুল শরীরে আটকা পড়েছে। জন্মগতভাবে পুরুষ মনে করে যে, সে আসলে নারী কিন্তু পুরুষের শরীরে আটকা পরেছে। ঠিক একইভাবে জন্মগতভাবে নারী মনে করে যে সে আসলে পুরুষ, কিন্তু ভুলে নারীর শরীরে আটকা পড়েছে।-লস্টমডেস্টি), হোমোসেক্সুয়াল এবং হাজারো সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশনের মানুষের সংখ্যা অসামান্য। রাস্তা ঘাটে অহরহ এরকম কাপল ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। বছরে একবার ঘটা করে LGBT প্রাইডের র‍্যালি হয়।যদিও এখন শুধু LGBTতেই সীমাবদ্ধ নেই, কিছুদিন পর পরই একটা-দুইটা করে লেটার বা সিম্বল যোগ হতে থাকে, দেখা যাবে আমার এই লেখা লিখতে লিখতে আরো লেটার যোগ হয়ে গেছে, তাই শুধু LGBTতেই রেখে দিলাম। (কানাডা হলো বিশ্বের চতুর্থতম দেশ যারা সমলিঙ্গের বিয়েকে বৈধ্যতা দিয়েছে। আমেরিকারও অনেক আগে। সমকামী বিয়ের বৈধতা দানকারী প্রথম তিনটি দেশ হল যথাক্রমে নেদারল্যান্ড,বেলজিয়াম এবং স্পেইন- লস্টমডেস্টি। [৫,৬])

.এবারে একটু অন্য প্রসঙ্গে যাই। কিভাবে একটা সমস্যা থেকে আরো সমস্যা তৈরী হয়, কিভাবে সমস্যা সমাধানের ভান করতে হয়, এগুলো একটু আলোচনা করা যাক। শীতকালে রাস্তা-ঘাটে চলাচল করে একটু শান্তি পাওয়া যায়। ঠান্ডা যত বেশি, তত ভাল। কেন? কারণ, পোশাক। গরমের সময় নারীকূলের পোশাকের অবস্থা এত বাজে থাকে যে রাস্তা-ঘাটে চলাচল করতে গেলে প্রায় পুরোটা সময়ই চোখ মাটির দিকে রাখা ছাড়া উপায় থাকে না। আচ্ছা পোশাকের কথা তো বললাম। এবার এর সাথে “একেবারেই সম্পর্কহীন” আরেকটি জিনিস বলি। যৌন হয়রানি। কেন জানি (!) এসব দেশে যৌন হয়রানি খুবই বেশি।  এবং এরা এই সমস্যা সমাধানের জন্য খুবই তৎপর (!)। সব অফিসেই বছরে অন্তত একবার যৌন হয়রানি রোধে সেমিনার হবে। আমি রিসার্চ ট্রেইনি হিসাবে একটি সংস্থায় যোগ দেওয়ার কয়েকদিন পর একটি বাধ্যতামূলক সেমিনারের ইনভাইটেশন পেলাম। বিশাল অডিটোরিয়ামে সব কর্মীদের নিয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধমূলক এক সেমিনার। মূলত, কার সাথে কিভাবে কথা বলতে হবে, নারী সহকর্মীর সাথে খাজুরে আলাপের সময় কোন কোন কথা বলা যাবে আর কোন কোন কথা বলা যাবে না, স্পর্শ করা যাবে কি যাবে না, এসবই সবাইকে বলা হল ঘণ্টাখানেক ধরে।

.এদের একটা “যেমন খুশি তেমন সাজো” দিবস থাকে প্রতি বছর। আদর করে সেই দিবসকে হ্যালোউইন বলা হয়। হ্যালোউইনে নিজের স্বাধীনতার প্রকাশ ঘটাতে অনেকেই সর্বনিম্ন পরিমাণের কাপড় পরে রাস্তায় ঘোরাঘুরি করে। এই হ্যালোউইনের কয়েকদিন আগে থেকেই দেখলাম ক্যাম্পাসে বেশ কিছু পোস্টার যে হ্যালোউইনে মানুষ যেন যৌন হয়রানি থেকে সাবধান থাকে।

.এদের এই সব ঢং দেখে মনে হয় ব্যাপারটা এরকম- আমি জানি আগুনে হাত দিলে আমার হাত পুড়ে যাবে। আমি তাও আগুনে হাত দিব, কিন্তু চাইবো যে আমার হাত পুড়বে না, হাজার রকমের চেষ্টা করতে থাকবো হাত না পুড়ানোর, শুধু আগুন থেকে হাতটা টেনে বের করা ছাড়া। . কিছুদিন আগে একটা আর্টিকেল পড়লাম যে #metoo মুভমেন্টের কারণে এখন কর্মক্ষেত্রে পুরুষরা তাদের নারী সহকর্মীর সাথে একদম প্রয়োজন ছাড়া অযথা কোন সময় কাটাচ্ছেন না, একসাথে একান্তে লাঞ্চ বা ডিনার করা তো দূরের কথা (যা কি না খুবই প্রচলিত ছিল)। ঐ আর্টিকেলে নারী-পুরুষের এই দূরত্বকে নেতিবাচক জিনিস হিসাবে উল্লেখ করা হচ্ছিল, কিন্তু আমার বরং খুশিই লাগল।

(কানাডাতে নারী এবং শিশুদের ভয়ঙ্কর যৌন নিপীড়নের শিকার হতে হয়। প্রতি ৩ জন কানাডিয়ান নারীদের মধ্যে ১ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হন। প্রতি ৬ জন পুরুষের মধ্যে ১ জন জীবনে কমপক্ষে একবার হলেও যৌন নিপীড়নের শিকার হন। ভয়ের ব্যাপার হলো শতকরা ৫ জন তাদের যৌন নিপীড়নের ব্যাপারে মুখ খোলেন। #metoo মুভমেন্টের পর অবশ্য রিপোর্ট করার সংখ্যা বেড়েছে। ৬৭ শতাংশ কানাডিয়ান জানাচ্ছেন তারা কমপক্ষে এমন একজন নারীকে চেনেন যাকে দৈহিক বা যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। ধর্ষণের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় এলকোহল।[ ৭,৮,৯]

.২০১৪ সালের একটি জরিপ থেকে দেখা যাচ্ছে প্রায় ২৪ লক্ষ কানাডিয়ান শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। প্রকৃত সংখ্যা আরো বহুগুনে বেশি। আমরা আগেই বলেছি যে যৌন নিপীড়নের ব্যাপারে খুবই কম সংখ্যক কানাডিয়ান মুখ খোলেন। [১০]

Canadian Medical Association Journal বলছে এই সংখ্যা আরো বেশি। প্রায় ৩৬ লক্ষ। মানে হলো প্রতি ১০ জনে ১ জন ১৬ বছর বয়স হবার আগেই যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। [১১,১২]

কানাডার কর্মক্ষেত্র-অফিস আদালত নারীদের জন্য স্রেফ দোযখ।

নব্বই শতাংশের কিছু বেশী কানাডিয়ান নারীরা বলেছেন তারা তাদের কর্মক্ষেত্রে অন্তত একবার কর্মক্ষেত্রে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন । নব্বই শতাংশ পুরুষও স্বীকার করেছেন তারা অন্তত একটি কর্মক্ষেত্রে সংঘটিত যৌন নির্যাতনের কথা জানেন বা নিজে সাক্ষী ছিলেন । কর্মক্ষেত্রের এই যৌন হয়রানীই বোধহয় সেই প্রভাবকগুলোর একটা , যেগুলোর কারণে কানাডিয়ান নারীরা খুব ঘন ঘন চাকুরী পরিবর্তন করেন। [১৩]

Human Resources Professionals Association এর জরিপে উঠে এসেছে যে প্রতি তিন জনে একজন কানাডিয়ান নারী কর্মক্ষেত্রে যৌন নিপীড়নের শিকার হন। পুরুষরাও খুব বেশি পিছিয়ে নেই। প্রতি ১০০ জন পুরুষের ভেতর ১২ জন কর্মক্ষেতের যৌন নির্যাতনের শিকার হন। এই রিপোর্টেও উঠে এসেছে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে যৌন নিপীড়নের ঘটনার রিপোর্ট করা হয়না। বলাই বাহুল্য #metoo মুভমেন্টের পর এই ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে আসছে।– লস্টমডেস্টি। [১৪,১৫,১৬] )

.এখানের মানুষ খুবই আত্মকেন্দ্রিক এবং ক্যারিয়ার-ওরিয়েন্টেড। ছেলে-মেয়ে আঠারো-বিশ বছর বয়স হলেই বাবা-মা আশা করে ছেলে-মেয়েরা আলাদা হয়ে যাবে তাদের থেকে। সারা জীবন আত্মকেন্দ্রিক থাকার কারণে বুড়ো বয়সে গিয়ে দেখা যায় এরা একদম একা হয়ে গিয়েছে। হয় ওল্ড হোমে গিয়ে দিন কাটাতে হয়, অথবা নিজের বাড়িতেই প্রায় নিঃসঙ্গ ভাবে শেষ দিন গুলো পার করতে হয়। নিঃসন্তান এক বৃদ্ধাকে চিনি, যার বাবা-মা, স্বামী কেউ বেঁচে নেই, নেই কোন আত্মীয়-স্বজন। তার দিন কাটে একলা অ্যাপার্টমেন্টে। তার নিঃসঙ্গতার কথা চিন্তা করলে দম আটকে আসে আমার।

( প্রতি ৩ জন কানাডিয়ানদের ১ জন ভয়াবহ মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন।কিশোর কিশোরী তরুণ তরুণীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা ভয়াবহ। ছোট্ট বয়সটাতেই হতাশা,অবসাদ, ক্লেদ জাঁকিয়ে বসেছে এমন  কিশোর কিশোরী তরুণ, তরুণীর সংখ্যা  হুহু করে বাড়ছে। প্রতি পাঁচজনের একজন মনোযাতনায় ভুগছে। এদের সামনে লম্বা একটা সময় পড়ে আছে, জীবনতো শুরুই হয়নি কিন্তু এরই মধ্যে তাদের পৃথিবী  এতোটাই সঙ্কীর্ণ হয়ে পড়েছে যে অনেকে  আত্মহত্যা করে  পালিয়ে বাঁচতে চাইছে। এই বয়সের কানাডিয়ানদের মৃত্যুবরণের দ্বিতীয় শীর্ষ কারণ হল আত্মহত্যা।

ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ Dr. Jean Clinton সতর্ক সঙ্কেত জানিয়ে বলছেন, তরুণ তরুণীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মানসিক সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। অবশ্যই বলতে হবে আমাদের সমাজ  এক মহাসঙ্কটের ভেতর পড়েছে’।–লস্টমডেস্টি [১৭,১৮,১৯]। )

.যেহেতু ধর্মীয় বিধি-নিষেধ নেই, তাই এদের কাছে প্রেম-ভালোবাসার সংজ্ঞাও ভিন্ন। সম্ভাব্য পার্টনারের সাথে প্রথমেই শারীরিক সম্পর্ক করে, তারপর চিন্তা করে দেখে ভালো বাসা যাবে কি না, সম্পর্ক চালালে ক্যারিয়ারের ক্ষতি হবে কি না। ক্যারিয়ার এবং স্বার্থ প্রাধান্য পায় বলে সম্পর্কগুলোও হয় ঠুনকো, ভাংতে সময় লাগে না। . রিসার্চের কাজে আমাকে কয়েক জায়গায় কাজ করার দরকার হয়েছে। এক জায়গার অভিজ্ঞতা বলি। ওখানে আমার সাথে আরো ৩-৪ জন ছেলে কাজ করতো। আমি ওখানে নতুন, আর ঐ ছেলেগুলোকে বেশ ফ্রেন্ডলি মনে হত বলে ভাবতাম এদের সাথে ভাব জমাতে পারলে ভালই হবে। কাজের ফাঁকে ওরা গল্প করতো নিজেরা নিজেরা। একদিন শুনি যে একজন আরেকজনকে এক মেয়ের ব্যাপারে বলছে। মেয়েটার নাম মনে নাই, ধরে নিই লুসি। তো শুনলাম ছেলেটা বলছে, “আরে আমি লুসিকে কোনভাবেই বুঝাতে পারছি না যে ও আমার গার্লফ্রেন্ড না। ও মনে করছে আমরা কাপল। অথচ আমরা কাপল না! মাত্র দুইবার একসাথে রাত কাটিয়েছি আমরা! আর ও কি না মনে করছে আমি ওর বয়ফ্রেন্ড হয়ে গেছি।”

.বলা বাহুল্য, ছেলেটার ভাষা এতটা ভদ্র ছিল না। এই আলাপ শোনার পর ঐ ছেলেগুলোর সাথে আমার খাতির জমানোর শখ ঐ মুহুর্তেই উবে গেছে। . .

.মানুষ সব সময় একটা গোল বা লক্ষ্য মাথায় রেখে আগাতে থাকে। আপনি যখন স্কুলে পড়ছেন, তখন আপনার লক্ষ্য থাকে যে সামনের পরীক্ষাতে ভাল করা, এবং সামনের পরীক্ষাগুলোতে ভাল করলে ভাল একটা কলেজে চান্স পাবেন। একইভাবে কলেজ, ইউনিভার্সিটি, চাকরি, প্রমোশন, বিয়ে, সন্তান, আরো প্রমোশন। কিন্তু তারপর? আল্টিমেট গোল বা চূড়ান্ত লক্ষ্য কী? আস্তিক আর নাস্তিকের মধ্যে তফাৎটা এখানেই। আস্তিকের পরকালে বিশ্বাস আছে বলে তার অন্য সব লক্ষ্য অর্জন হলেও পরকালের লক্ষ্যটি মাথায় থাকে ঠিকই। কিন্তু নাস্তিক হওয়ার সাইড-ইফেক্টগুলোর একটি হল, কোন চূড়ান্ত লক্ষ্য না থাকা। চাকরি, প্রমোশন ইত্যাদি চলতে চলতে জীবনকে এক পর্যায়ে স্থির মনে হতে থাকে। লক্ষ্যহীন হয়ে পড়ে মানুষ তখন ভাল থাকতে পারে না। যেহেতু “আধুনিক” মানুষ মাত্রই নাস্তিক, তাই এদিকের মানুষের ডিপ্রেশন, মানসিক সমস্যা অত্যন্ত বেশি। আর এই ডিপ্রেশন চরমে পৌঁছে গেলে আত্মহত্যাও করে ফেলে। .

আত্মকেন্দ্রিক হওয়ার কারণে এরা খুবই বিচ্ছিন্ন থাকে একে অপরের থেকে। এর খারাপ দিক আছে, ভাল দিকও আছে। খারাপ দিক হল, এর ফলে ওরা কেমন জানি যান্ত্রিক হয়ে পড়ে এবং নানাবিধ মানসিক সমস্যায় বেশি ভুগে। ভাল দিক হল, কেউ কারো বিষয়ে নাক গলায় না। মানুষে কে কী ভাবলো, তা নিয়েও বেশি চিন্তা করে না। .

.এখানের মানুষদের আরো কিছু ভাল দিক হল তারা সাধারণত বেশ হেল্পফুল। সাহায্য চাইলে যথাসাধ্য সাহায্য করবে, আচার-ব্যবহারে খুবই অমায়িক (বেশির ভাগ সময়েই)। রেসিজম যে একেবারে নাই, তা না, সামান্য পরিমাণে হলেও আছে। কথা-বার্তা বললে সোজা-সাপ্টা কথাই বলে। আমি এখানে আসার পর একজন কানাডিয়ানের সাথে কথা বলতে গেলে যতটা সতর্ক থাকি, তার চেয়ে হাজারগুণে বেশি সতর্ক থাকি কোন বাংলাদেশীর সাথে কথা বলতে গেলে। ব্যাপারটা দুঃখজনক হলেও সত্যি।

. . এখানের ট্রান্সজেন্ডার, হোমোসেক্সুয়ালদের অভয়ারণ্য, ধর্মনিরপেক্ষতার নামে মুসলিম-বিদ্বেষ দেখে গা জ্বালা করে। লক্ষ্যহীন আত্মকেন্দ্রিক নিঃসঙ্গ মানুষগুলোকে দেখে করুণা হয়। বাংলাদেশ অন্য সব দিক দিয়ে একদম পচে গেলেও পারিবারিক বন্ধন আর মানসিক স্বাস্থ্যের দিক দিয়ে এসব “উন্নত বিশ্বের” চেয়ে ঢের এগিয়ে। .

এখানে অনেক কিছু দেখে-শুনে আরো একটা উপলব্ধি হয়েছে। মুসলিম ঘরে জন্মে, মুসলিম হয়ে থাকতে পারাও আল্লাহ্‌র পক্ষ অনেক বড় নিয়ামত। . . . “অতঃপর তোমরা তোমাদের রবের আর কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে?” [আল ক্বুরআন ৫৫:১৩]

চলবে ইনশা আল্লাহ…

পড়ুন আগের পর্বগুলোঃ

স্বর্গের দিন স্বর্গের রাত (প্রথম পর্ব)

স্বর্গের দিন স্বর্গের রাত (দ্বিতীয় পর্ব)

আরো পড়ুনঃ

মুখোশ উন্মোচনঃ প্রথম পর্ব

মুখোশ উন্মোচনঃ তৃতীয় পর্ব

নরক –

 

.

লেখকঃ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। লেখক, কানাডার  কিউবেকে  অধ্যয়নরত।.

রেফারেন্সঃ

[১] Loudspeakers in mosques- https://tinyurl.com/adjew8d

[২] Quebec bans niqab for public services with neutrality law- https://tinyurl.com/yd8swe7r

[৩] Quebec bans Muslim women from wearing face veils on public transport-   https://tinyurl.com/ybk6bpow

[৪] Quebec passes bill banning niqab, burka while receiving public services-https://tinyurl.com/y8b8s39u

[৫] Same-Sex Marriage in Canada- https://tinyurl.com/y9nr336q

[৬] TIMELINE | Same-sex rights in Canada-https://tinyurl.com/yaxq5rwt

[৭] Understanding the prevalence of sexual assault in our community is important, here are some statistics to understand the nature of sexual violence https://tinyurl.com/ycxgj5xd

[৮] One in seven sexual assault cases in 2017 deemed ‘unfounded’: StatsCan https://tinyurl.com/ybjtdl4x

[৯] Police-reported sexual assaults in Canada before and after #MeToo, 2016 and 2017 https://tinyurl.com/yd8kqlbu

[১০] Burczycka, M. and S. Conroy. 2017. “Family Violence in Canada: A Statistical Profile, 2015.” Juristat, Vol. 37, No. 1. Ottawa: Statistics Canada. Cat. No. 85-002-X.

[১১] Afifi, T., MacMillan, H., Boyle, M., Taillieu, T., Cheung, K., and J. Sareen. 2014. “Child Abuse and Mental Disorders in Canada,” Canadian Medical Association Journal, vol. 186, no. 9, pp. 1-9.

[১২] CHILD SEXUAL ABUSE BY K-12 SCHOOL PERSONNEL IN CANADA EXECUTIVE SUMMARY https://tinyurl.com/yalakf3z

[১৩] Sexual Harassment in the Workplace- http://tinyurl.com/ctvwqem

[১৪] Workplace Sexual Harassment An ‘Epidemic’ In Canada: Report- https://tinyurl.com/y9meee8g

[১৫] Workplace Sexual Harassment Poll: Most People Don’t Report Incidents https://tinyurl.com/ycryje2m

[১৬] More than half of adult women in Canada have experienced ‘unwanted sexual pressure,’ online survey suggests- https://tinyurl.com/ycj7dd6r

[১৭] Young Minds: Stress, anxiety plaguing Canadian youth- https://tinyurl.com/ycps7wur

[১৮] Why more Canadian millennials than ever are at ‘high risk’ of mental health issues https://tinyurl.com/ya6uc68p

[১৯] One-third of Canadians at ‘high risk’ for mental health concerns: poll https://tinyurl.com/yazjssqw

 

শেয়ার করুনঃ