আয় কান্না ঝেঁপে …

আয় কান্না ঝেঁপে …

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

সন্ধ্যার মরে আসে রোদ চিরকাল আমার মন খারাপ করে দেয় । মাঝে মাঝে  সারাদিন ঝুম বৃষ্টি হয়।  সন্ধ্যার দিকে বৃষ্টি কিছুটা ক্লান্ত হয়ে টিপ টিপ করে পড়ে বা কখনো সম্পূর্ণ থেমে যায় । ধূসর একটা আলোয় ভরে যায় চারপাশ । কেউ  খেয়াল করে , কেউ করে না ।নারিকেল আর গগনশিরীষের বৃষ্টি ভেজা পাতা সেই ধুসর আলোতেও চিকচিক করে । দূরের আকাশে কালো একটা বিন্দুর মতো সোনালী ডানার চিল ভেসে বেড়ায় । করুন সুরে ডেকে ওঠে মাঝে মাঝে । চিরকাল খামখেয়ালী জীবন যাপন করা আমি উদাস হয়ে যায় । হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ইচ্ছে করে ।

কত বেদনা!

কত বিচ্ছেদ!

কত কথা রাখতে না পারা !

Image result for young man crying in salah

কথা দিয়েছিলাম আমার রব্বকে, ইয়া রব্ব! এবারের মতো মাফ করে দাও । আর কোনদিন একা রুমে ল্যাপটপে বসবনা ।

সেই কথা রাখতে পারিনি বহুবার আমার এই ২৩ বছরের জীবনে ।

বহুবার নির্লজ্জের মতো অন্ধকার জগতটাতে ফিরে গেছি । আর তারপর আক্ষেপের অশ্রু আমাকে ঘুম পাড়িয়েছে। অন্ধকার এত কেন টানে আমায়?

রব্বের কাছে দু’হাত তুলে চেয়েছিলাম, “ইয়া রব্ব! ভালো একটা ভার্সিটিতে  চান্স পাইয়ে দাও”

আমার রব্ব আমাকে নিরাশ করেননি ।

ভার্সিটিতে আসার পর ভুলে গেলাম আমার রব্বকে । বন্ধু, আড্ডা,গান, ফেসবুকিং, চ্যাটিং এর ভীড়ে হারিয়ে ফেললাম আমার রব্বকে ।

আমার রব্ব কিছুই বলেননি আমাকে । কোন শাস্তিও দেননি ।

মনে রঙ লাগার বয়সে মনে ধরেছিল এক বালিকাকে । কালো হরিনী চোখের সেই বালিকা যখন সবুজ ওড়না মাথায় দিয়ে আড়চোখে তাকাতো, আমি তখন অভিকর্ষ বলকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে উড়াল দিতাম আকাশে। ভালোবাসা ছুঁয়ে ফেলতো আকাশ । পৃথিবীর সব সুখ  চলে আসতো আমার দখলে ।

রব্বকে কথা দিয়েছিলাম, কখনো হারাম সম্পর্কে জড়াবো না । হারাম সম্পর্কে জড়ায়নি কখনো সেটা ঠিক , কিন্তু চেষ্টা তো কম করিনি ! রব্ব আমাকে দয়া করে প্রত্যেকবার ফিতনা থেকে বাঁচিয়েছেন ।

দুটো সিজদাহ্‌ কি কখনো দিয়েছি রব্বের এই রহমতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য?

চাইলেই কি রব্ব পারেন না, আমার চোখদুটোর আলো কেড়ে নিতে ?

যে চোখ দিয়ে আমি গোগ্রাসে গিলি এক্সরেটেড মুভি গুলো?

যে চোখ দিয়ে আমি লুকিয়ে লুকিয়ে দেখি বালিকার রাঙ্গা রাজকন্যার মতো মুখটা ?

কোন মুখে দাঁড়াবো আমি আমার রব্বের সামনে, যেদিন আমার চোখ, আমার হাত,আমার পা, আমার কান , আমার ত্বক সাক্ষ্য দিবে আমার বিরুদ্ধে ?  আমাকে এমন আমলনামা পড়তে দেওয়া হবে যেটা্তে আমার করা প্রত্যেকটা কাজ খুটিনাটি সহকারে লিখা আছে ?

সেদিন শুনছিলাম  ইউসুফ (আঃ) এর অসাধারণ কাহিনী । চুড়ান্ত মাত্রার   আল্লাহ্‌ভীতি, পবিত্র থাকার অদম্য ইচ্ছা ! ক্রীতদাস ইউসুফ(আঃ) এর ওপর ক্রাশ খেয়ে ফেললেন তাঁরই মালিকের স্ত্রী । মহিলার অবশ্য করার কিছু  ছিলনা, আল্লাহ্‌,  ইউসুফ (আঃ)কে পৃথিবীর অর্ধেক রূপ যে দিয়েছিলেন । মহিলা,কিভাবে নিজেকে সামলাবে ?  ইউসুফ (আঃ) কে ফাঁদে ফেলার চক্রান্ত আটা শুরু হল । ইউসুফ (আঃ) হাত তুললেন আল্লাহ্‌র কাছে , “ইয়া আল্লাহ্‌ ! এরা আমাকে যেদিকে আহব্বান করে তার চেয়ে কারাগারো আমার অধিক প্রিয়  …’

জুলায়খা, ইউসুফ’র(আঃ) মালিকের স্ত্রী ছিল   সুন্দরী,লাস্যময়ী সেই সঙ্গে তাঁর ওপর প্রভাবশীল।  তারপরেও ইউসুফ (আঃ)  ফিরিয়ে দিয়েছেন জুলায়খাকে । কতভাবেই না ইউসুফ (আঃ) কে প্রলোভন দেখানো হয়েছে । তারপরেও তাঁকে ভুলানো যায়নি ।

আর, আমি সামান্য কোন মেয়ের চাহনিতেই কুপোকাত হয়ে  যায় । জুলায়খাদের এসে আমাকে প্রলোভন দেখাতে হয়না । আমি নিজেই ভার্চুয়াল জুলায়খাদের আড্ডায় হানা দেই । ঘন্টার পর ঘন্টা পড়ে থাকি নীল রঙের সেই জগতটাতে । বাস্তবে উনার মতো অবস্থায় পড়লে কি হাল হতো আমার !

ইউসুফ (আঃ)  তো আমার মতোই রক্ত  মাংসের মানুষ   ছিলেন ।   পুরোপুরি তার মতো হতে নাই’বা পারলাম , কিছুটা যদি হতে পারতাম উনার মতো ! কিছুটা !

জানালার বাহিরের আকাশটা আজ অনেক কালো । মেঘ জমে একাকার  শীতল একটা বাতাসে সজনে গাছের সাদা ফুল গুলো তিরতির করে কাপছে । বোধহয় একটু পরেই ঝুম বৃষ্টি নামবে  ।

ইশ! আমার বুকের মধ্যেও যদি  অনুতাপের  মেঘ জমতো , অশ্রু হয়ে অঝোরে  ঝরে পড়তো ভারী ভারী  সেই মেঘগুলো ! আমার অন্তর তো কঠিন হয়ে গেছে । অনেক কঠিন । পাথরের চেয়েও কঠিন ।

পাথর ফেটেও তো মাঝে মাঝে ঝরনা বের হয়ে আসে । কিন্ত আমার অন্তর তো আল্লাহর ভয়ে আল্লাহর স্মরনে বিগলিত হয় না । শেষ কবে সলাতে কেঁদেছি  মনে আছে ? শেষ কবে ঐ জঘন্য পাপ কাজটা করার পর জায়নামাজে সিজদাহয় লুটিয়ে পড়ে  ক্ষমা চেয়েছি ?

কতটুকু ভালোবাসেন আল্লাহ আমাদেরকে ? কতটুকু ?

এক মায়ের ছেলে হারিয়ে গিয়েছে । অনেক  খোঁজাখুজির পরেও ছেলেকে পাওয়া গেলনা ।  মায়ের পাগল হতে বাকী । এমন সময়  হারানো ছেলেকে পাওয়া গেল । মা পরম মমতায় জড়িয়ে ধরলেন ছেলেকে।  ভালোবাসার অশ্রু তার দুগাল বেয়ে অঝোরে নামছে । রোদ পড়ে চিকচিক করছে মুক্তোর মতো ।  এই মায়ের পক্ষে কি এই অবস্থায় সাত রাজার ধন  এই ছেলেকে  আগুনে ফেলে দেওয়া সম্ভব হবে ?

আল্লাহ আমাদেরকে  এই মায়ের চেয়েও অনেক অনেক গুন বেশি ভালোবাসেন । বাবামার অবাধ্য হলে তাদের কথা না শুনলে, তাদের মনে কষ্ট দিলে সন্তান্দের প্রতি তাদের ভালোবাসায় ভাটা পড়ে যায়

কিন্তু  আল্লাহর ভালোবাসায় কখনো ভাটা পড়ে না । আমি যখন আল্লাহকে   স্মরন করি , আল্লাহও আমাকে  স্মরন করেন । যখন তাকে ভুলে যাই, তার অবাধ্যতা করি তখনো তিনি আমাকে মনে করেন ।  আমার জন্য ক্ষুধার খাদ্য পাঠিয়ে দেন , তৃষনার     পানি  পাঠিয়ে দেন , বুক ভরে   শ্বাস  নিতে দেন মুক্ত  বাতাসে ।

অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন কখন আমি তাকে ডাকবো । মনের অজান্তেই একবার ইয়া রব্ব বলে ডাক দিলেই তিনি আনন্দিত হয়ে সাড়া দেন – ইয়া আবদি! হে আমার বান্দা বলো , বলো তোমার কি চাই ?

আমি যখন আল্লাহর দিকে এক ধাপ এগিয়ে যায় আল্লাহ আমার দিকে দশ ধাপ এগিয়ে আসেন , আমি  আল্লাহর দিকে হেঁটে গেলে তিনি দৌড়িয়ে আসেন । আল্লাহ সুযোগ খোঁজেন আমাকে ক্ষমা করে দেবার । অজুর পানির মাধ্যমে তিনি আমার পাপগুলো ঝরিয়ে দেন, দুই সলাতের মাধ্যমে মাঝের সময় গুলোতে করা পাপ গুলো ক্ষমা করে দেন । তিনি রাতে ক্ষমার হাত বাড়িয়ে দেন দিনের পাপীদের জন্য , আর দিনে ক্ষমার হাত বাড়িয়ে দেন রাতের পাপীদের জন্য ।

তিনি ঘোষনা দিয়ে রেখেছেন কেউ যদি তার সঙ্গে আকাশ সমান উঁচু পাপ নিয়েও দেখা করে কিন্তু শিরক না করে তাহলে তিনি তাকে ক্ষমা করে দিবেন ।  তারপর তিনি প্রবেশ করাবেন এমন এক জান্নাতে [ http://bit.ly/2eXDZPI ]  যা কোন চোখ দেখেনি , কোন  অন্তর চিন্তাও করেনি ।

[http://bit.ly/2f24Adb]

“হে আমার বান্দাগন ! যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছো তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়োনা, নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন । তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও করুনাময় । [আয-যুমারঃ ৫৩]

আমার সলাত, আমার সিজদাহ, আমার তাসবীহ কোন  কিছুরই কি প্রয়োজন আছে  আল্লাহ’র ?  আমি তো ক্ষুদ্র, অতি  নগন্য এক  সৃষ্টি । এই পৃথিবীর তুলনায় আমি কত ক্ষুদ্র । আমাদের এই পৃথিবীর   তুলনায় সূর্‌য প্রায় তের লক্ষগুন বড় । সূরযের পর আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে  কাছে যে নক্ষত্র রয়েছে  তার নাম Proxima Centauri . পৃথিবী থেকে যার দূরত্ব প্রায় ৪.৫ আলোক বর্‌ষ ।

আলোর বেগ সবচাইতে বেশী । আলো এক সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে ফেলে । আর পৃথিবীথেকে এই আলোরই  Proxima Centauri তে যেতে সময়  লাগবে ৪.৫ বছর । ভাবা যায় কতদূরে আছে Proxima Centauri!

এরকম ১০০ বিলিয়ন নক্ষত্র রয়েছে আমরা যে গ্যালাক্সিতে রয়েছি সেই ‘ মিল্কি ওয়েতে’।  মহাবিশ্বে আবার ১০০ বিলিয়নের মতো গ্যালাক্সি রয়েছে ।  ২০০৪ সালে বিজ্ঞানীরা একটি নতুন গ্যালাক্সি আবিষ্কার করতে সক্ষম হন । যার নাম তাঁরা দেন ABEL 135 IR 116 .  এই বাবাজি পৃথিবী থেকে ১৩.২ বিলিয়ন দূরে অবস্থিত ।

আর এই সব কিছুই প্রথম আসমানে  । দ্বিতীয় আসমান প্রথম আসমানের তুলনায় কত বিশাল সেটা ব্যাখ্যা করার জন্য হাদীসে মরুভুমি এবং একটা আংটির কথা বলা হয়েছে । মরুভূমির বিশাল বুকে পড়ে থাকা একটি আংটি মরুভূমির তুলনায় যতটা ক্ষুদ্র । প্রথম আসমান দ্বিতীয় আসমানের তুলনায় ততোটুকুই ক্ষুদ্র । এভাবে  দ্বিতীয় আসমান তৃতীয় আসমানের তুলনায় ক্ষুদ্র , তৃতীয়, চতুর্‌থ আসমানের তুলনায় ক্ষুদ্র । এভাবে চলতে চলতে সপ্তম আসমানে যেয়ে ঠেকে ।

[http://bit.ly/2fpWjUE  ]

সুবহানাল্লাহ্‌! কত বড় এই মহাবিশ্ব । এই মহাবিশ্বের প্রতিটি কোণায়, চিপায় চাপায় সবখানে ফিরিশতারা রয়েছেন  আল্লাহকে সিজদাহরত অবস্থায় । আমার সিজদাহ আল্লাহর কি কাজে আসবে ? হাদীসে কুদসীতে এসেছে ,” আল্লাহ বলছেন, “হে  মানুষ এবং জিন! তোমরা শুনে নাও তোমাদের সবাই যদি সবচেয়ে বিশুদ্ধ হৃদয়ের অধিকারী হয়ে যাও তাহলে আমার রাজত্বের কিছুই বৃদ্ধি হবে না । যদি তোমরা সবাই সবচেয়ে পাপী হৃদয়ের অধিকারীও হয়ে যাও তাহলে আমার রাজত্বের কিছুই বৃদ্ধি হবে না । তোমাদের সবার চাওয়াও যদি পূরন করে দেই, তাহলেও আমার কাছে যা আছে তার কিছুই ফুরাবে না ।

[http://bit.ly/2dQE4XX ]

আমার কোনকিছুরই প্রয়োজন নেই তাঁর। কোনকিছুরই প্রয়োজন নেই । রাজাদের রাজা তিনি, বাদশাহদের বাদশাহ ।  তারপরেও আল্লাহ আমাকে এতোটা ভালোবাসেন , আমাকে ক্ষমা করে দেওয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকেন, আমার জন্য আরশের ওপর থেকে প্রতি রাতে প্রথম আসমানে নেমে আসেন , আমার জন্য জান্নাতে এত এত নিয়ামত প্রস্তুত করে রেখেছেন ।

আর কতকাল  এই আল্লাহর সঙ্গে  দস্যুতা করে বেড়াবো ? আর কতকাল এই  আল্লাহকে ভুলে থাকবো ? আর কতকাল  নিজের নফসের কাছে পরাজিত হব?

আল্লাহর স্মরনে অন্তর বিগলিত হবার সময়  কি এখনো আসে নি  ?

আবু বকর (রাঃ) ছিলেন,  নবীদের (আঃ) পর এই জমীনের বুকে হেঁটে বেড়ানো সবচেয়ে পুন্যবান মানুষ । আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর কাছে বেশ   কয়েকবার জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন তিনি । তারপরেও সলাতে আল্লাহর ভয়ে তিনি কাঁদতেন । উমারের (রাঃ) মতো ক্ষ্যাপাটে লোকও সলাতে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে শিশুর মতো কাঁদতেন । উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) তো কাঁদতে কাঁদতে নিজের দাড়ি ভিজিয়ে ফেলতেন । দুইজনেই দুনিয়াতে থাকতে জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন ।

আমি কি বিশাল এক পাপী।  সন্ত্রাসী , আল্লাহদ্রোহী । তারপরেও আমার চোখ শুষ্ক ।

অভিশপ্ত আমার দু’চোখ।

অভিশপ্ত ।

উঠো, হে পাপাত্মা উঠে দাঁড়াও তোমার রব্বের সামনে নতমুখে । সব জানেন তিনি , সব । গোপনে রাতের আঁধারে একা একা তুমি যা করেছিলে সব জানেন তিনি । তারপরেও তিনি অপেক্ষা করে আছেন তোমার জন্য ।তিনি তোমাকে তাঁর সামনে নতমুখে দেখতে চান ।  তোমাকে ক্ষমা করে দিয়ে তিনি তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন । আহ! জান্নাতে ।

হে পাপাত্মা,  উঠে দাঁড়াও । আর একবার তোমার রব্বকে কথা দাও তুমি ভালো হয়ে যাবে । শিশুর মতো অঝোরে কাঁদো , এই চোখের পানি তোমার রব্বের কাছে সব চাইতে প্রিয় ।

কাঁদো হে পাপাত্মা  কাঁদো ।

 

শেয়ার করুনঃ
আরশের ছায়া

আরশের ছায়া

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

প্রাণপ্রিয় ভাই, আমরা জানি, বর্তমানে বিভিন্ন কারণে যুব সমাজ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। অনেক যুবক বিভিন্ন পঙ্কিল অন্ধকারের পথে নীতি-নৈতিকতা হারিয়ে উদভ্রান্তের মত ঘুরে বেড়াচ্ছে। যেনা-ব্যাভিচার হয়ে দাঁড়িয়েছে খুব সাধারণ ব্যাপার। অথচ ইসলামে এ কাজটি কঠিনভবে নিষিদ্ধ। এর জন্য রয়েছে অত্যন্ত কঠিন শাস্তি। পক্ষান্তরে কোন ব্যক্তি যদি এ কাজ থেকে দূরে থাকতে পারে তার জন্য রয়েছে বিরাট পূরস্কার। আজকের এই পোষ্টে কোন ব্যক্তি সুযোগ পাওয়ার পরেও যদি এ ঘৃণিত অপকর্ম থেকে বিরত থাকে তাহলে তার জন্য আল্লাহ তাআলা কী পুরস্কার ঘোষণা করেছেন তা কুরআন ও হাদীসের আলোকে অতি সংক্ষেপে তুলে ধরা হল।

কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দান:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ تَعَالَى فِي ظِلِّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ إِمَامٌ عَادِلٌ وَشَابٌّ نَشَأَ فِي عِبَادَةِ اللَّهِ وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ فِي الْمَسَاجِدِ وَرَجُلَانِ تَحَابَّا فِي اللَّهِ اجْتَمَعَا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ فَقَالَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا حَتَّى لَا تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهَ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاه

“যে দিন আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া কোন ছায়া থাকবেনা সে দিন সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাঁর আরশের নিচে ছায়া দান করবেন। তারা হলেনঃ

(১) ন্যায়পরায়ণ শাসক

(২) যে যুবক তাঁর প্রভুর এবাদতের মাঝে প্রতিপালিত হয়ে বড় হয়েছে।

(৩) যে ব্যক্তির মন সর্বদা মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকে।

(৪) এমন দুই ব্যক্তি, যারা আল্লাহর সন্তষ্টির জন্যে একে অপরকে ভালবাসে। আল্লাহর জন্য তারা পরস্পরে একত্রিত হয় এবং আল্লাহর জন্য পরস্পরে বিচ্ছিন্ন হয়।

(৫) এমন পুরুষ যাকে একজন সুন্দরী ও সম্ভ্রান- বংশের মহিলা নিজের দিকে আহবান করে, আর সে পুরুষ বলেঃ আমি আল্লাহকে ভয় করি। (তাই তোমার ডাকে সাড়া দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়)।

(৬) যে দানশীল ব্যক্তি এমন গোপনে দান করে, ডান হাত দিয়ে যা দান করে, বাম হাত তা অবগত হতে পারেনা। অর্থাৎ তিনি কেবল আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জনের জন্যেই দান করেন। তাই মানুষকে শুনানো বা দেখানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনা।

(৭) যে ব্যক্তি নির্জনে বসে আল্লাহকে স্মরণ করে চোখের পানি প্রবাহিত করে”।

(সহীহ বুখারী)

আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার মর্যাদা লাভঃ

ইউসুফ (আঃ)এর ঘটনাটি এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি এই মহান মর্যাদা অর্জনে সক্ষম হয়েছিলেন। এই ঘটনায় যুবকদের জন্য শিক্ষার বিষয় রয়েছে। ঘটনাটি আল্লাহ্‌ তাআলা কুরআনুল কারীমে উল্লেখ করে বলেনঃ

وَرَاوَدَتْهُ الَّتِي هُوَ فِي بَيْتِهَا عَنْ نَفْسِهِ وَغَلَّقَتِ الأبْوَابَ وَقَالَتْ هَيْتَ لَكَ قَالَ مَعَاذَ اللَّهِ إِنَّهُ رَبِّي أَحْسَنَ مَثْوَايَ إِنَّهُ لا يُفْلِحُ الظالمون الظَّالِمُونَ

“আর সে ইউসুফ(আ) যে মহিলার ঘরে ছিল ঐ মহিলা তাকে ফুসলাতে লাগল এবং দরজাসমূহ বন্ধ করে দিল। সে মহিলা বলল: শুন, তোমাকে বলছি, এদিকে আস! সে বলল: আল্লাহ্‌ রক্ষা করুন; (তোমার স্বামী) আমার মালিক। তিনি আমাকে সযত্নে থাকতে দিয়েছেন। নিশ্চয় সীমা লংঘনকারীগণ সফল হয় না”। (সূরা ইউসুফঃ ২৩)

কে এই মহিলা? তিনি হচ্ছেন মিশরের শাসক আযীযের স্ত্রী। কুরআনের ভাষা অনুযায়ী বুঝা যায় ইউসূফ (আ এর অন্তরে বিষয়টি ঘুরপাক খাচ্ছিল এবং তিনি তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছিলেন। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তিনি এ কাজ থেকে বিরত থাকেন। আল্লাহ্‌ তার অন্তর থেকে অশ্লীল কাজের চিন্তা দূর করে দিয়েছেন। তিনি ছিলেন আল্লাহর খালেস বান্দা। এভাবেই আল্লাহ্‌ মুত্তাকীদেরকে রক্ষা করেন। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেনঃ

وَلَقَدْ هَمَّتْ بِهِ وَهَمَّ بِهَا لَوْلا أَنْ رَأَى بُرْهَانَ رَبِّهِ كَذَلِكَ لِنَصْرِفَ عَنْهُ السُّوءَ وَالْفَحْشَاءَ إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُخْلَصِينَ

“ নিশ্চয় মহিলা তাঁর বিষয়ে চিন্তা করেছিল এবং সে ইউসুফ (আ) ও মহিলার বিষয়ে চিন্তা করত। যদি না সে স্বীয় পালনকর্তার মহিমা অবলোকন করত। এমনিভাবে হয়েছে, যাতে আমি তার কাছ থেকে মন্দ ও নির্লজ্জ বিষয় সরিয়ে দেই। নিশ্চয় সে আমার মনোনীত বান্দাদের একজন। (সূরা ইউসুফঃ ২৪)

যে যুবক তার লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ

قَالَ مَنْ يَضْمَنْ لِي مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ أَضْمَنْ لَهُ الْجَنَّةَ

“যে ব্যক্তি তার মুখ ও লজ্জাস্থানের হেফাযত করবে আমি তার জন্যে বেহেশতের জিম্মাদার হবো”। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)

“আর ব্যভিচারের কাছেও যেও না, নিশ্চয়ই এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ। ” (আয়াত নং-৩২, সূরা নং- ১৭, বনী-ইসরাইল)

ব্যভিচার পরিত্যাগ করার উসীলা দিয়ে আল্লাহর কাছে দু’আ করলে তা কবুল হয় এবং আল্লাহ বিপদ থেকে রক্ষা করেনঃ সহীহ বুখারীতে উল্লেখিত বিখ্যাত তিন ব্যক্তির ঘটনাটি পড়ুন এবং দেখুন, আল্লাহ তাআলা কিভাবে তাদেরকে কঠিন বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন।

ইবনে উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, “অতীত কালে তিনজন লোক পথ চলছিল। পথিমধ্যে রাত্রি যাপন কারার জন্য তারা একটি পাহাড়ের গুহায় ঢুকে পড়ল। উপর থেকে বিশাল আকারের একটি পাথর গড়িয়ে এসে গুহার মুখ বন্ধ হয়ে গেল। তাদের জন্য বের হওয়ার কোন সুযোগ অবশিষ্ট রইলনা। তাদের একজন অপরজনকে বলতে লাগল, তোমরা প্রত্যেকেই আপন আপন সৎআমল আল্লাহর দরবারে তুলে ধরে তার উসীলা দিয়ে দু’আ করা ব্যতীত এই পাথর থেকে রেহাই পাওয়ার কোন উপায় নেই।

তাদের একজন বললঃ হে আল্লাহ! আমার পিতা-মাতা অতি বৃদ্ধাবস্থায় উপনীত হয়েছিল। আমি তাদের পূর্বে আমার পরিবার-পরিজন কিংবা দাস-দাসীকে দুধ পান করাতাম না। একদিন ঘাসের সন্ধানে আমি অনেক দূরে চলে গেলাম। তারা ঘুমিয়ে পড়ার পূর্বে আমি ফেরত আসতে পারলাম না। আমি তাদের জন্য দুধ দহন করলাম। অতঃপর আমি তাদেরকে পেয়ালা নিয়ে তাদের মাথার পাশে দাড়িয়ে রইলাম। আমি তাদের পূর্বে স্ত্রী-পরিবার এবং দাস-দাসীকে দুধ পান করানো অপছন্দ করলাম। দুধের পেয়ালা হাতে নিয়ে আমি দাঁড়িয়ে থাকলাম তাদের জাগ্রত হওয়ার অপেক্ষায়। এভাবে সারা রাত কেটে গিয়ে ফজর উদীত হলে আমার পিতা-মাতা ঘুম থেকে জেগে দুধ পান করলেন। হে আল্লাহ! আমি একাজটি একমাত্র আপনার সন’ষ্টি অর্জনের জন্য সম্পাদন করেছি। সুতরাং আমরা এই পাথরটির কারণে আমরা যে বিপদে পড়েছি তা থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করুন। এভাবে দু’আ করার সাথে সাথে পাথরটি একটু সরে গেল,কিন্তু তখনও বের হওয়ার মত রাস্তা হয়নি।

দ্বিতীয় ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহ! আমার একজন চাচতো বোন ছিল। তাকে আমি খুব ভালবাসতাম। আমি তার কাছে আমার মনোবাসনা পেশ করলাম। সে অস্বীকার করল। অবশেষে এক বছর খুব দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। তখন সে খাদ্যাভাবে পড়ে সাহায্যের জন্য আমার নিকট আসল। আমি তাকে একশত বিশ দিরহাম দিলাম এই শর্তে যে, সে আমার সাথে নির্জনে সাক্ষাৎ করবে। সে এতে রাজি হয়ে গেল। কিন্তু আমি যখন সম্পূর্ণ সুযোগ লাভ করলাম এবং তার দুই উরুর মাঝখানে বসে পড়লাম তখন সে বলতে লাগলঃ হে আল্লাহর বান্দা! আল্লাহকে ভয় কর। অন্যায়ভাবে মোহর ভঙ্গ করো না অর্থাৎ অন্যায়ভাবে তুমি আমার সতীত্ব হরণ করতে করো না। ফলে আমি তার সাথে সহবাস করাকে পাপের কাজ মনে করলাম। সুতরাং সে আমার সবচেয়ে কাছে হওয়া সত্বেও আমি তার কাছ থেকে চলে আসলাম। আর আমি তাকে যে একশটি স্বর্ণমুদ্রা দিয়েছিলাম তাও ছেড়ে দিলাম। হে আল্লাহ! আমি যদি একাজটি একমাত্র আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সম্পাদন করে থাকি তাহলে আমরা এই পাথরটির কারণে আমরা যে বিপদে পড়েছি তা থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করুন। এভাবে দু’আ করার সাথে সাথে পাথরটি একটু সরে গেল, কিন্তু তখনও বের হওয়ার মত আবস্থা হয়নি।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ তৃতীয়জন বললঃ হে আল্লাহ! নির্ধারিত মজুরীর বিনিময়ে আমি কয়েকটি শ্রমিক নিয়োগ করলাম। কাজ শেষে আমি তাদেরকে পারিশ্রমিক প্রদান করলাম। কিন্তু একজন লোক মজুরী গ্রহণ না করেই চলে গেল। আমি তার প্রাপ্য টাকা বাড়াতে থাকলাম। একপর্যায়ে তা প্রচুর সম্পদে পরিণত হল। কিছুকাল পর সে আমার নিকট এসে বললঃ হে আল্লাহর বান্দা! আমার মজুরী দিয়ে দাও। আমি তাকে বললামঃ এসব উট, গরু, ছাগল এবং গোলাম যা তুমি দেখতে পাচ্ছ তা সবই তোমার। সে বললঃ হে আল্লাহর বান্দা! আমার প্রাপ্য দিয়ে দাও এবং আমার সাথে বিদ্রুপ করোনা। আমি বললামঃ আমি তোমার সাথে বিদ্রুপ করছিনা; বরং এগুলো তোমারই। অতঃপর সে সমস- সম্পদ নিয়ে চলে গেল। একটিও রেখে যায়নি। হে আল্লাহ! আপনি যদি মনে করেন যে, আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য একাজটি করেছি, তাহলে আজ আমাদেরকে এখান থেকে বের হওয়ার ব্যবস্থা করে দিন। সাথে সাথে পাথরটি সম্পূর্ণরূপে সরে গেল। তারা নিরাপদে সেখান থেকে বের হয়ে এল।” (সহীহ বুখারী)

যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করে পবিত্রতার সাথে জীবন যাপন করে আল্লাহ তার সকল সমস্যা দূর কর দেন,তার অর্থ-সম্পত্তিতে বরকত দান করেন এ ছাড়াও তার জন্য রয়ছে অসংখ্য পুরস্কার। সর্বপরি আল্লাহ পরকালে তার জন্য প্রস্তুত করে রেখছেন চিরসুখের নিবাস জান্নাত। আসুন, মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা জানাই, হে আল্লাহ তুমি আমাদেরকে তোমার প্রতিশ্রুত জান্নাত থেকে বঞ্চিত করনা। আমাদেরকে কুলশমুক্ত পবিত্র জীবনগঠনের তাওফীক দাও। সেই সাথে আমাদের যুব সমাজকে অধ:পতনের হাত থেকে রক্ষা কর আর তাদেরকে বানাও আলোকিত পথের রাহবার। তুমিই একমাত্র সাহায্যকারী।

[ কৃতজ্ঞতাঃ বিবাহ একটি উত্তম বন্ধুত্ব ]

শেয়ার করুনঃ
রিমাইন্ডার (দ্বিতীয় পর্ব)

রিমাইন্ডার (দ্বিতীয় পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

রিমাইন্ডার – ২০

হে যুবক!
তোমাকে বলছি এখনো কি সময় হয়নি তোমার রবের দিকে ফিরে আসার ?
এখনো কি সময় হয়নি তোমার রবের দিকে প্রত্যাবর্তন করার?
আর কত সময় তুমি গুনাহ-এ বিভোর হয়ে থাকবে ? আর কত সময় তুমি পাপের সমুদ্রে হাবুডুবু খাবে ? আর কত সময় তুমি তোমার প্রতিপালক সম্পর্কে উদাসীন হয়ে থাকবে ?

তোমার প্রতিপালক তোমাকে লক্ষ্য করে বলছেনঃ
“হে লোকসকল ! কোন জিনিস তোমাকে তোমার প্রতিপালক সম্পর্কে উদাসীন করে রাখল ? ”

হে যুবক!
তুমি পাহাড়সম পরিমাণ গুনাহ করে ফেলেছ , গুনাহ করতে করতে গুনাহ’র সমুদ্রে হাবুডূবু খাচ্ছ,। পৃথিবীর এমন কোন খারাপ কাজ বাদ নেই, যেটা তুমি কর নি।
মনে মনে ভাবছো ! আল্লাহ সুবহানা ওয়া তা’আলা তোমাকে কখনোই ক্ষমা করবেন না।

আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে তুমি নৈরাশ হয়ে গেছ।
কিন্তু জেনে রাখ আল্লাহ তোমাকে লক্ষ্য করে বলছেনঃ
“হে আমার বান্দারা ! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ , যারা নিজেদের উপর অবিচার করেছ , তোমরা আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে নৈরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা তোমাদের সকল গুনাহকে ক্ষমা করে দিবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু”
—————————–
” তোমার রবের দিকে ফিরে এসো ”
(কালেক্টেড)

রিমাইন্ডার – ২১

(ভালো মানুষ হচ্ছে তারা,) যারা যখন কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেলে কিংবা (এর দ্বারা) নিজেদের ওপর নিজেরা যুলুম করে ফেলে (সাথে সাথেই) তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং গুনাহের জন্যে (আল্লাহর) ক্ষমা প্রার্থনা করে। কেননা আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কে আছে যে তাদের গুনাহ মাফ করে দিতে পারে? (তদুপরি) এরা জেনে বুঝে নিজেদের গুনাহের ওপর অটল হয়েও বসে থাকে না।

(সূরা আলে ইমরান, আয়াত -১৩৫)

রিমাইন্ডার-২২

লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাত ইল্লাহ বিল্লাহ ।

যতবারই এই ভিডিও (https://www.youtube.com/watch?v=pOFZ7sYS48M ) দেখছি , ততবারই উপলব্ধি করছি মানুষ কতটা অসহায় । মৃত্যুর চৌকাঠে পা রেখেও মানুষ গত দম্ভ আর অহংকারের সঙ্গে জমিনের বুকে হেঁটে বেড়ায় । ভাবটা এমন সে চিরদিন এভাবেই বেঁচে থাকবে , কোনদিন তাকে পোকা মাকড়ের ঘর অন্ধকার কবরে যেতে হবে না । মুনকার নাকীর কোনদিন তাকে রিমান্ডে নিবে না ।

কয়েকটা নিউজের লিংক দেওয়া হল । সবগুলো নিউজই একটা বিষয় কমন – আকস্মিক মৃত্যু ।
পর্ন দেখা অবস্থায় ।
শেষ বিচারের দিন কি অবস্থায় এরা আল্লাহ্‌র সঙ্গে দেখা করবেন , ভেবে দেখুন একবার ।
লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাত ইল্লাহ বিল্লাহ ।

ইয়া আল্লাহ্‌, আমাদের এরকম করুন পরিনতি থেকে রক্ষা করুন । আমাদের শেষকাজ যেন হয় আমাদের জীবনের সবচেয়ে ভালো কাজ । জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অংশ যেন হয় সর্বশেষ অংশ , আর জীবনের সবচেয়ে ভালো দিন যেন হয় শেষ বিচারের দিন ।

১) http://nyp.st/1UF7uEi

২) http://bit.ly/2EXt97O

৩) http://cbsn.ws/2DlDWZg

রিমাইন্ডার -২৩

“কোন পাপ করার জন্য আপনার কামনা যত বড় হবে, সেই পাপকে এড়িয়ে গেলে আপনার ঈমান তত বড় হবে।”
– শাইখ মুহাম্মাদ বিন আল-উসাইমিন

রিমাইন্ডার – ২৪

যদি আপনি আপনার ঈমানের অবস্থা পরীক্ষা করতে চান তবে যখন একা থাকেন তখন নিজেকে পর্যবেক্ষণ করুন। একাকী থাকা অবস্থায় নিজেকে পর্যবেক্ষণ করুণ।
শুধু দু রাকাত সলাত আদায় এবং একদিন রোজা রাখার মাধ্যমে ঈমান সৃষ্টি হয় না..
বরং এটা সৃষ্টি হয় নিজের নফস এবং এর কামনা-বাসনার বিরুদ্ধে মুজাহাদা করার মাধ্যমে।
আল্লাহরর কসম! ইউসুফ(আ) এত বড় মর্যাদা এবং সফলতা লাভ করতে পেরেছেন তার নিজ প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার কারণে।
“পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করেছে এবং নিজেকে কামনা বাসনা থেকে নিবৃত্ত রেখেছে, তার ঠিকানা হবে জান্নাত”-(৭৯: ৪০-৪১)

যেদিন আল্লাহর আরশের ছায়া ব্যতিত আর কোন ছায়া থাকবে না, সেদিন যারা আল্লাহর আরশের ছায়ায় স্থান পাবে তাদের মধ্যে একজন হচ্ছে….যে নির্জনে আকাকী অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার দুই চোখ অশ্রুতে ভিজে যায়….

কৃতজ্ঞতাঃ- Bd Reminder : বাংলা ইসলামিক রিমাইন্ডার

রিমাইন্ডার – ২৫

আমাদের জীবনের বিশাল একটা সময় আমরা খরচ করি নিজেদের সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার জন্য। আমরা সবাই চাই পোষাক, পারফিউম, হেয়ারস্টাইল, আচরণ, বাচনভঙ্গি – সবক্ষেত্রেই মানুষের সামনে নিজেদের একটি পরিশীলিত রূপ তুলে ধরতে। আরেকজন মানুষ আমাকে দেখছে – এটা জানা মাত্রই সাধারণত আমাদের আচরণে একটা পরিবর্তন আসে। বিশেষ ভাবে বিপরীত লিঙ্গের কারো মনোযোগ পেলে আমরা বেশ অনেকটাই আত্মসচেতন হয়ে উঠি।
.
বলা যায় আমাদের সবার বিভিন্ন ভারশান বা সংস্করণ আছে। স্থান-কাল-প্রেক্ষাপট অনুযায়ী আমরা নিজেদের বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করি। জাকজমকপূর্ণ কোন বিয়ের অনুষ্ঠানে আমরা যেভাবে নিজেদের তুলে ধরতে চাই সেভাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুদের সামনে আমরা নিজেদের উপস্থাপন করি না। সহকর্মীদের সাথে আমাদের আচরণ যেমন হয়, নিজ পরিবারের সাথে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা সেভাবে আচরণ করি না।
.
অলস দুপুরে ভুঁড়ি উদোম করে নাক ডাকতে থাকা দোকানীও কাস্টোমার আসা মাত্র সলজ্জ ভাবে চেষ্টা করে নিজেকে উপস্থাপনীয় করে তুলতে। এলাকার সবচেয়ে বেপরোয়া ছেলেগুলোও মুরব্বি আর বড় ভাইদের সামনে সিগারেট ‘ব্যান’ করে। দুই হাতে পেছনে দিয়ে সুবোধ ছেলের মতো দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। বাসে অবলীলায় নাক খোঁচাতে থাকা লোকটাও যখন বুঝতে পারে মানুষ তার দিকে তাকিয়ে আছে, তখন চেষ্টা করে যথসম্ভব ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ভাবে নাকের ভেতর থেকে আঙ্গুল সরিয়ে আনার (অধিকাংশ ক্ষেত্রে)।
.
রিকশায় কিংবা সিএনজি প্রেমিক/প্রেমিকার সাথে পাবলিকলি অসভ্যতায় মেতে ওঠা ছেলে বা মেয়েটাও চিন্তা করতে পারে না তার মা-বাবা কিংবা পরিবারের কারো চোখের সামনে একই কাজ করার। রাস্তার মোড়ে মোড়ে রিকশাচালকদের কাছ থেকে ঘুষ নিতে থাকা লোকগুলোও চেষ্টা করে নিজেদের নির্লজ্জতা ঢাকার। ঘুষ যাদের জীবিকার মূল উৎস তারাও চেষ্টা করে কমিশন, স্পীড মানি, বখশিশ, নাস্তা-পানির টাকা – শ বিভিন্ন নামে নিজেদের অপরাধের একটা সম্মানজনক ব্যাখ্যা দেবার।
.
আর আমরা যখন সম্পূর্ণ একা, যখন আমরা নিশ্চিত থাকি আর কেউ আমাদের দেখছে না – তখন আমরা যেভাবে থাকি, লোকচক্ষুর সামনে আমরা সেভাবে থাকি না। সামাজিক সঙ্কোচ, লৌকিকতার সীমানা, চক্ষুলজ্জার লাগাম যখন থাকে না তখন আমরা অনেকাংশেই বদলে যাই। কেউ আমাকে দেখছে না এটা জানা আমাদের প্রভাবিত করে। আর তাই নির্জনে আমরা এমন অনেক কাজ করি যা কারো সামনে করার কথা আমরা কল্পনাও করি না।
.
কিন্তু আমরা ভুলে যাই একজন সব সময় আমাদের দেখছেন। যখন আমরা আমাদের পরিবারের চোখের আড়াল হই তখনো তিনি আমাদের দেখছেন, যখন আমরা লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়ে থাকি তখনো তিনি আমাদের দেখছেন। যখন আমরা লোকচক্ষুর অন্তরালে কিংবা অন্ধকারের আড়ালে সীমালঙ্ঘনে মেতে উঠি তখনো তিনি আমাদের দেখেন, যখন আমরা নিজেদেরকে ধুয়ে মুছে মানুষের সামনে আসি তখনো তিনি আমাদের দেখছেন।
.
তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন।
.
মাটির নিচে, আকাশের উপররে, সমুদ্রের গভীর কোন কিছুই তাঁর অগোচরে হয় না। কোন কিছুই তাঁর কাছে গোপন থাকে না। আপনার অপরাধ, আপনার সীমালঙ্ঘন, আপনার মুহুর্তের পদস্খলন এমনকি আপনার মনের গভীরে লুকিয়ে রাখা চিন্তাগুলো – আপনি কোন কিছুই তাঁর কাছ থেকে আড়াল করতে পারবেন না।
.
“আর তুমি যে অবস্থাতেই থাক না কেন আর যা কিছু তিলাওয়াত কর না কেন আল্লাহর পক্ষ হতে কুরআন থেকে এবং তোমরা যে আমলই কর না কেন, আমি তোমাদের উপর সাক্ষী থাকি, যখন তোমরা তাতে নিমগ্ন হও। তোমার রব থেকে গোপন থাকে না যমীনের বা আসমানের অণু পরিমাণ কিছুই এবং তা থেকে ছোট বা বড়, তবে (এর সব কিছুই) রয়েছে সুস্পষ্ট কিতাবে।” [সূরা ইউনুস। ৬১]
.
মানুষের ব্যাপারে আমরা লজ্জা বোধ করি। মানুষের দৃষ্টির ব্যাপারে আমরা সঙ্কোচবোধ করি। পারিপার্শ্বিকতার কারনে আমরা আমাদের আচরণ, ব্যবহার আর প্রবৃত্তির উপর লাগাম দেই। কিন্তু আমরা ভুলে থাকি আল্লাহ আমাদের দেখছেন। আমরা ভুলে যাই তিনি সব কিছু শোনেন, তিনি সব কিছু দেখেন, তিনি সব কিছু জানেন। আমরা ভুলে যাই তাঁর সামনে আমাদের দাঁড়াতে হবে। আমরা ভুলে যাই সেইদিন আমাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সাক্ষ্য দেবে। আমরা ভুলে যাই সেইদিন এমন এক কিতাব, এমন এক আমলনামা আমাদেরকে দেয়া হবে যাতে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ দেয়া হবে না।
.
যিনি অন্ধকারের সৃষ্টিকর্তা তিনি আপনাকে দেখছেন। যিনি আলোর সৃষ্টিকর্তা তিনি আপনাকে দেখছেন। যিনি সমস্ত কিছুর সৃষ্টিকর্তা, সেই মহাস্রষ্টা আপনাকে দেখছেন। প্রতিটি মূহুর্তে। এক সেকেন্ডের লক্ষ কোটি ভাগের এক ভাগের জন্যও তাঁর আড়াল আমরা হতে পারি না। তবুও কি আমরা আল্লাহকে স্মরণ করবো না? তবুও কি আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার দৃষ্টির ব্যাপারে সলজ্জ হবো না?
.
#KnowYourDeen
ইউটিউব লিঙ্ক – https://youtu.be/DO7R0MKGjQ0
কৃতজ্ঞতা Asif Adnan

শেয়ার করুনঃ
দু’আ নিয়ে কিছু কথা

দু’আ নিয়ে কিছু কথা

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

সেই পুরনো  অনুভূতিটা আবার ফিরে আসলো; যেই অনুভূতিটা একসময় আমার জীবনকে বিষিয়ে তুলেছিল।

সকালে ফেসবুকে লগইন করার পর দেখলাম একটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এসেছে । মানুষটা ফেসবুকে কেমন তা দেখার জন্য তাঁর টাইমলাইনে গেলাম । প্রথমেই একটা ছবি পড়লো সামনে । সেটা দেখে আমার ভীমড়ি খাবার জোগাড় । পালিয়ে বাঁচার জন্য স্ক্রল করে নীচে নামলাম । ওরে বাপরে! চাঁদু তো দেখি পুরো টাইম লাইন জুড়েই পর্নস্টারদের মেলা বসিয়েছে । তাড়াতাড়ি বের হয়ে আসলাম ফেসবুক থেকে ।

অনেক বছর ধরেই আমি পর্নমুভিতে আসক্ত ছিলাম । অনেক চেষ্টার পরে সে আসক্তি কাটিয়ে উঠতে পেরেছি । আলহামদুলিল্লাহ । তারপর অনেক দিন চলে গেছে । পর্নমুভি দেখিনি একবারও। এরকম গ্রাফিক ছবিও না । হার্টবিট কিছুটা বেড়ে গেল । ভেতরে হরমোনের জোয়ার শুরু হল । বিস্মৃতির অতল থেকে বহুদিন আগে দেখা পর্নমুভির টুকরো টুকরো দৃশ্যগুলো মাথার মধ্যে ঘুরতে শুরু করল । আমি বেশ আতঙ্কিত হয়ে গেলাম । আমি জানি এর পর কি ঘটতে চলেছে ।

আমি যখন পর্ন আসক্ত ছিলাম তখন মাঝে মাঝেই  কসম টসম খেয়ে প্রতিজ্ঞা করতাম, ‘আল্লাহ! এবারই শেষ । আমি আর  কখনোই পর্ন দেখবনা” ।

প্রতিজ্ঞার উপর টিকে থাকতাম কয়েকদিন । তারপর আবার যেই কে সেই । যে কয়েকটা দিন ভালো থাকতাম সেই কয়েকটা দিন মাথার মধ্যে  কিছুক্ষণ পরপরই পর্নমুভিতে দেখা কোন দৃশ্য ঘাই মারতো । এমনকি নামাযের মধ্যেও । নিজেকে সামলাতে কষ্ট হতো । ঐগুলো নিয়ে চিন্তা করতাম । তারপর  একটু দুর্বল মুহূর্তে এই পর্ন ইমেজ গুলোর কাছে হার মানতাম । আবার দেখে ফেলতাম পর্ন । মাস্টারবেট করতাম । পর্ন আসক্তির শেষের দিকে যখন দৃশ্যগুলো মাথায় উঁকি মারতো তখন সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতাম । তো আজকে যখন সেই পুরনো অনুভূতি ফিরে আসলো তখন হুট করেই মাথাতে একটা চিন্তা আসলো । আচ্ছা পর্নমুভির ঐ মেয়েগুলোর হেদায়েতের জন্য আল্লাহর কাছে দুয়া করলে কেমন হয়!

সঙ্গে সঙ্গে দু’আ করলাম –

–      আল্লাহ তুমি ঐ মেয়েগুলোকে হেদায়াত দাও । একান্ত তোমার কাছ থেকে অনুগ্রহ দান করো

–      আল্লাহ তুমি ওই মেয়েগুলোকে ওই নরক থেকে উদ্ধার করো । তাদের হৃদয়ের ক্ষতগুলো সারিয়ে দাও ।

–      আল্লাহ ওই মেয়েদের জন্য তুমি অভিভাবক নির্ধারণ করে দাও

পরের একসপ্তাহ ধরে ফেসবুকে দেখা সেই মেয়েটার ছবি আমার মাথাতে ঘুরতে থাকলো । আমার

ভেতরে একটা চাপ তৈরি হতে থাকলো পর্নমুভি দেখার । প্রত্যেকবারই আমি আল্লাহর কাছে ঐ মেয়েটার হেদায়াতের জন্য দু’আ করতে থাকলাম । একটা সময়ে আমার ফোকাস পরিবর্তন হয়ে গেল। ঐ মেয়েটার কথা আর মাথাতেই আসলো না ।

 

একসময় আমি জানতামই  না পর্নইন্ডাস্ট্রি গুলোতে মেয়েদের ওপর কি জঘন্য নির্যাতন[১,২,৩] চালানো হয় ।ঐগুলো জানার পরে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম ।   আমাদের বিকৃত লালসা চরিতার্থ করার জন্য কত মেয়ের যে জীবন নষ্ট হয় ! আমরা যেমন আটকা পড়েছি পর্ন এর নেশায় , ঐ মেয়েগুলোও তেমনি পর্ন ইন্ডাস্ট্রীর ফাঁদে পড়েছে ।

পাশ্চাত্য নারীদের স্বাধীনতা নিয়ে অনেক বড় বড় কথা বলে । অথচ এই পাশ্চাত্য আর তাদের পা চাটা  দেশগুলোতেই বড় বড় সব পর্ন ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে,  যেখানে নারীদেরকে স্লেইভ বানিয়ে রাখা হয়েছে । এটা নিয়ে পাশ্চাত্যের তেমন কোন মাথা ব্যাথা নেই । তাদের সব চিন্তা কেবল মুসলিম দেশের নারীদের বোরখা আর হিজাব খোলা নিয়ে । যেন বোরখা না পড়লে, হিজাব না করলেই নারীরা স্বাধীন হয়ে যাবে ![৪,৫]

ভাই, আপনারো কি পর্ন ইমেজ থেকে মুক্তি মিলছে না ? বারবার চেষ্টা করেও ভুলতে  পারছেন না পর্নমুভিতে দেখা দৃশ্য গুলো ? অস্থির একটা সময় পার করছেন ?  পর্ন দেখার প্রচন্ড ইচ্ছে জাগছে আপনার মনে ?

এরকম সময়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে আপনার জন্য আমার সাজেশান হল,  যখনই কোন দৃশ্য আপনার মাথায় আসবে সঙ্গে সঙ্গে সেই দৃশ্যের মেয়েগুলোর জন্য দু’আ করা। ছেলেদেরকেই বা বাদ দিবেন কেন ? ছেলেদের জন্যেও দু’আ করুন ।

এভাবে দু’আ করাটা খুবই ইফেক্টিভ ।

এর মাধ্যমে  আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাবে ।ঐ মেয়েগুলো আপনার কাছে এখন আর কেবল ভোগ করার সামগ্রী  না  বরং  সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না সব মানবীয় অনুভূতি নিয়ে রক্ত মাংশের একটা জলজ্যান্ত  মানুষ । যাদেরও ভালোবাসতে ইচ্ছে করে, ভালোবাসা পেতে ইচ্ছে করে , প্রিয় মানুষটার কাঁধে মাথা রেখে জোস্ন্যা দেখতে ইচ্ছে করে , প্রিয় মানুষটা যখন তার  কপালের অগোছাল চুল সরিয়ে চুমু খায় তখন তাদেরও এক অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে ।

আপনি আল্লাহর নাম স্মরণ করছেন , তাঁর কাছে দু’আ করছেন । এই সময় শয়তান  খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারবে না ।  আপনার ফোকাস চেইঞ্জ হয়ে যাবে ।

আর আপনার দু’আর কারণে যদি আল্লাহ্‌ সুবঃ কাউকে হেদায়াত দিয়েই দেন তাহলে কি বিপুল পরিমাণ পুরষ্কার আপনার জন্য অপেক্ষা করবে সেটাও ভেবে দেখার বিষয় ।

আমি এভাবে দু’আর  মাধ্যমে এই আসক্তি থেকে বের হয়ে এসেছি । আপনিও পারবেন ইনশা আল্লাহ্‌।

[লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত]

পড়তে পারেন – দু’আ তো করেছিলাম –  http://bit.ly/2g6cw10

রেফারেন্সঃ

[১] https://goo.gl/RovGDs

[২] https://goo.gl/HNVy7Z

[৩] https://goo.gl/ua8ZNX

[৪] http://bit.ly/2itCBWi

[৫] https://goo.gl/v6qlS2

শেয়ার করুনঃ
আল্লাহ্‌র কাছে আসার গল্প …

আল্লাহ্‌র কাছে আসার গল্প …

ছেলেটির ভালো লাগতো মিথিলাকে, আর মেয়েটির তাহসানকে।

ছেলেটি বাথরুমে গুনগুন করে গাইতো আলো আলো আমি কখনো খুঁজে পাবোনা….

মেয়েটি রোজ সন্ধ্যায় চুল বাধার সময় গাইতো বিন্দু আমি, তুমি আমায় ঘিরে…..

দুজনেরই পছন্দের দম্পতি ছিল তাহসান- মিথিলা।

ছেলেটির একা থাকতে ভালো লাগতো। খোলা আকাশের নিচে শুয়ে শুয়ে তারা গুনতো আকাশের।

মেয়েটিও একা একা থাকতে ভালোবাসতো। অন্ধকার ঘরে শুয়ে থাকতো একা।

গণিত কিছুই বুঝতো না মেয়েটি। মেডিকেলে পড়তে গিয়েছিল তাই। ছেলেটি ছিল অঙ্কের ওস্তাদ। শখ করে পড়তে গিয়েছিল ইঞ্জিনিয়ারিং।

ছেলেটি ছিল লাজুক।
অনেক মেয়েকে ভালো লাগলেও মুখ ফুটে বলেনি কাউকে।
মেয়েটিও ।

ছেলেটি ভাবতো মনের মানুষটার মাথায় থাকবে সবুজ ওড়না। চোখ থাকবে লজ্জায় আনত।
মেয়েটি ভাবতো মনের মানুষটা ভালোবাসবে তার ঘোরলাগা কালো দু’চোখ দুচোখ।
একদিন দেখা হয়ে গেল তাদের ।

মেয়েটির মাথায় ছিল সবুজ ওড়না। চোখ দুটো লজ্জায় নামানো। ঠিক ছেলেটি যেমন চেয়েছিল।

ছেলেটির চোখ মুখে ছিল মুগ্ধতা আর বিস্ময়। বুকে ছিল সুখের মতো ব্যাথা। ঠিক মেয়েটি যেমন চেয়েছিল।

ইনবক্সে শুরু হলো কথা চালাচালি।

ছেলেটি শরতের এক বিকেলে মেয়েটিকে বললো তোমার জন্য দুরন্ত ষাঁড়ের চোখে বাঁধতে পারি লাল ফিতে,সারা পৃথিবী তন্ন তন্ন করে খুঁজে আনতে পারি ১০৮ টি নীলপদ্ম।

মেয়েটি শুধু হেসেছিল।
বুকে কাঁপন উঠেছিল ছেলেটির।

তারপর?

তারপর শীতল বাতাস বইতে শুরু করলো।
ভালোবাসা জমে মেঘ করে আসলো।

অঝোর ধারায় নামলো বৃষ্টি।
প্রেমের।

দিন যেতে থাকলো।
বদলে যেতে থাকলো দিন।

ছেলেটির অন্তর কেন জানি খাঁ খাঁ করতো। অশান্তি অশান্তি লাগতো সবসময়।

ছেলেটি একদিন জানলো এভাবে প্রেম করা হারাম।

ছেলেটি একদিন বুঝলো হারাম থেকে, আল্লাহর আইন অমান্য করে শান্তি পাওয়া যায় না কখনো।

মনের সঙ্গে কয়েকদিন যুদ্ধ করলো ছেলেটি। তারপর মেয়েটিকে জানালো।

মেয়েটির দুচোখে প্লাবণ নামলো।

ছেলেটি তবুও সরে গেল দূরে।

মেয়েটির বিয়ে হয়ে গেল ছয় মাস পরে।
তারপরে তার কি হল আমরা তা আর জানি না।

এদিকে ছেলেটির জীবনে এলো আমূল পরিবর্তন।

লুকিয়ে লুকিয়ে সলাতে কাঁদে সে।
খাঁ খাঁ করা বুকটা ভরে যায় অনাবিল প্রশান্তিতে।

ছেলেটি আজো খোলা আকাশের নিচে শুয়ে থাকে। চেয়ে থাকে শত সহস্র আলোক বর্ষ দূরের পুরোনো সেই নক্ষত্রের দিকে।

ছেলেটি আজো ভাবে একজনের কথা, আল্লাহ (সুবঃ) যাকে বানিয়েছেন বানানোর মতো করেই, প্রবাল ও পদ্মরাগ সদৃশ……. মাথায় সবুজ ওড়না, লজ্জায় আনত দুচোখ, দাঁড়িয়ে আছে আকাশের ওপারের লাল নীল মনিমুক্তো খচিত এক বাড়ির সামনে…

চিরদিনের সঙ্গী হবে বলে।
চোখ শীতল করবে বলে।

#আল্লাহর_কাছে_আসার_গল্প

শেয়ার করুনঃ