সত্য বলতে লজ্জা নেই

সত্য বলতে লজ্জা নেই

পুরুষ যেন নারীর প্রতি আকর্ষিত হয়, এভাবেই নারীকে সৃজন করা হয়েছে। নারীদেহের গড়নের প্রতি পুরুষের দুর্বলতা আছে। পুরুষের গড়নের প্রতিও নারীর দুর্বলতা আছে, এটা সিস্টেম। এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক যে আপনাকে একটা মেয়ে আঁকতে দিলে আপনি শরীরের বাকি অংশের চেয়ে কোমর সরু করে আঁকবেন। বয়ঃসন্ধিকালে নারীর ডিম্বাশয় থেকে ইস্ট্রোজেন হরমোন বেরিয়ে পুরো দেহে নানান জায়গায় প্রভাব ফেলা শুরু করে। ফলে কন্ঠস্বর চিকন হয়, ত্বকের নিচে চর্বিস্তর জমে শরীর নরম-মোলায়েম হয়, ত্বক মসৃণ হয়, স্তন-নিতম্ব-উরুতে অতিরিক্ত চর্বি জমা হয়ে ‘নারীসুলভ’ আকার (Feminine Contour) চলে আসে। এবং এই উঁচুনিচু জিওগ্রাফি পুরুষকে আকর্ষণ করে, তাদের কাছে ভালো লাগে।গবেষকরা বলেছেন, চেহারার সৌন্দর্যের চেয়ে পুরুষ বেশি গুরুত্ব দেয় ফিগারকে। বিশেষ করে ‘বালুঘড়ি’র মত গড়ন (hourglass figures)। এবং এই অনুভূতি হতে পুরুষের মগজ সময় নেয় সেকেন্ডেরও কম সময়। মানে সেকেন্ডের কম সময়ে [ড] একজন পুরুষ একটা মেয়ের ফিগার দেখে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়, মেয়েটি আকর্ষণীয় কি না। তাদের মতে, মেয়েদের নিতম্ব ও কোমরের অনুপাত (waist-to-hip ratio) ০.৭ হলে সেটা হল সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফিগার। এবং এই অনুপাত নারীর সুস্থতা ও উর্বরতার জন্যও ভাল। বিভিন্ন কালচারে এই অনুপাত ০.৬-০.৮ এর মধ্যে [1]

                                                                                    বালুঘড়ি
New Zealand-এর Victoria University of Wellington –এর অধীন School of Biological Sciences এর নৃতাত্ত্বিক Dr Barnaby Dixson এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয় Archives of Sexual Behaviour -এর 2011তে ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় (শিরোনাম: Eye-tracking of men’s preferences for waist-to-hip ratio and breast size of women.) [2]। একই নারীর ছবিতে বুক, কোমর ও নিতম্বের মাপকে বাড়িয়ে কমিয়ে ভলান্টিয়ারদের দেখানো হয়। ইনফ্রারেড ক্যামেরার দ্বারা তাদের চোখ কোথায় কতবার আটকাচ্ছে দেখা হয় (numbers of visual fixations), কতক্ষণ কোথায় আটকে আছে তা দেখা হয় (dwell times), প্রথমবারেই কোথায় আটকাচ্ছে (initial fixations) তাও দেখা হয়। তারা পেলেন, সব পুরুষের চোখ প্রথমেই নারীর যে অঙ্গে আটকায় তা হল বুক আর কোমর। সবচেয়ে বেশি সময় আটকে থাকেও এই দুই জায়গায়। তবে বার বার তাকিয়েছে এবং বেশিক্ষণ ধরে তাকিয়েছে বুকের দিকে, কোমর-হিপের মাপ যাই হোক। আর মার্কিং করার সময় বেশি আকর্ষণীয় হিসেবে মার্ক দিয়েছে চিকন কোমর ও ‘বালুঘড়ি’ শেপের ফিগারকে, স্তনের মাপ যাই হোক। ডেইলিমেইল [3] ও টেলিগ্রাফ পত্রিকায়ও এসেছে গবেষণাটি [4]। তাহলে বুঝা গেল, পুরুষের সব আকর্ষণের কেন্দ্র তিনটা জায়গা [ঢ]। বয়সন্ধিকালে ইস্ট্রোজেন হরমোনের কারণে যে নারীসুলভ প্যাটার্নে চর্বি জমে (Female distribution of fat) তার ফলেই তৈরি হয় এই নারীসুলভ গড়ন। কেউ যদি অধিকাংশ পুরুষের দৃষ্টির উদ্দীপক হতে না চায়, অলক্ষ্যে থাকতে চায় তাহলে এমন পোশাক পরিধান করতে হবে যাতে এই টিপিক্যাল ‘বালিঘড়ি’ শেপ অস্পষ্ট হয়ে যায়, নারীদেহের উঁচুনিচু যেন বুঝা না যায়। এবার ৭ জন মেয়েকে প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়। তাদের ওজন না কমিয়ে কেবল কোমরের চর্বি কেটে নিতম্বে লাগিয়ে দেয়া হয়, সুন্দর শেপ দেয়ার জন্য। এবার এই মেয়েগুলোর সার্জারির আগের ছবি আর সার্জারির পরের ছবি দেখানো হয় বছর পঁচিশেক বয়েসের ১৪ টা ছেলেকে। তাদের ব্রেইন স্ক্যান করে পাওয়া গেল কী জানেন? আমাদের ব্রেইনে ‘Reward Center’ নামে একটা কেন্দ্র আছে। দেখে নেন, ১ নং জায়গাটার নাম VTA (Ventral Tegmental Area), ২ নং জায়গাটার নাম (nucleus accumbens) , আর ৩ নং জায়গাটা হল ফ্রন্টাল কর্টেক্স যা আমাদের ব্যক্তিত্ব নিয়ন্ত্রণ করে। এই তীর চিহ্নিত রাস্তার নাম ‘Dopamin Pathway’। এই জায়গাগুলোতে যে নার্ভকোষ থাকে তারা ‘ডোপামিন’ নামক নিউরোহরমোন ক্ষরণ করে ৩ নং জায়গায় উত্তেজনা তৈরি করে।

                                                                           রিওয়ার্ড সেন্টার
আর ২ নং জায়গাটা আসক্তি সৃষ্টির জায়গা (highly sensitive to rewards and is the seat of addictive behavior)। আমাদের মগজ সব ধরনের আনন্দের অনুভূতি এভাবে তৈরি করে, সেটা বেতন-বোনাস-লটারী জেতাই হোক, যৌনমিলন হোক, কিংবা হোক নান্নার কাচ্চি, অথবা নেশাদ্রব্য [5]। তবে ড্রাগ এ এলাকায় ডোপামিনের বন্যা বইয়ে দেয়, ফলে এত আনন্দ হয় যেটা আসক্ত লোক আবার পেতে চায়। এভাবে নেশা বা আসক্তি হয় [6]। এই ১৪ টা ছেলের ব্রেইন স্ক্যান করে পাওয়া গেল, সার্জারি করার পরের ছবি দেখে (এবং কোমর নিতম্বের অনুপাত ০.৭ এর কাছাকাছি) ওদের এই এলাকাগুলো উত্তেজিত হচ্ছে। [ণ] সুতরাং, পর্নোগ্রাফি একটা নেশা। (প্রমাণিত) আমেরিকার Georgia রাজ্যে Gwinnett College-এর Neuroscientist Steven M. Platek সাহেবের এই গবেষণা প্রকাশিত হয় PLoS One জার্নালে 5 ফেব্রুয়ারি, 2010 সংখ্যায় Optimal waist-to-hip ratios in women activate neural reward centers in men শিরোনামে [7]। তিনি Livescience ম্যাগাজিনকে বলেন, পর্নোআসক্তি এবং আসক্ত লোকের পর্নো ছাড়া যে erectile dysfunction (উত্থানরহিত) হয় তার একটা ক্লু হতে পারে এই গবেষণাটি [8]। আমরা দেখলাম, নারীর ফিগার দেখাটা নেশার মত, স্রেফ দেখাটাই [ড+ণ]। সেক্স উত্তেজিত করবে Reward Center-কে এটা তো খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু স্রেফ দেখাটাও একজন পুরুষে ড্রাগের মত অনুভূতি তৈরি করছে, বিষয়টা একটূ লোমহর্ষক না? এবং কারো ফিগার মূল্যায়ন হয়ে এই অনুভূতি তৈরি হতে সময় নিচ্ছে সেকেন্ডেরও কম সময়, এমন না যে একটানা তাকিয়ে দেখার পর এমন হচ্ছে। এবার এর সাথে আপনি মিলিয়ে নিন [ট] University of Arizona-র প্রফেসর Mary P. Koss- এর কথাটা, ধর্ষণ ব্যাপারটা অনেকটা মাত্রা-নির্ভর (Dose). [9] তাহলে আমাদের এই ফিটিং ফ্যাশন, স্বচ্ছ ওড়না, ফিতাওয়ালা বোরকা, উরুর অবয়ব প্রকাশ করে দেয়া লেগিংস কী এক ফোঁটাও দায়ী নয়? একটুও দায়ী নয়? এখন আপনিই হিসেব করুন, আপনি কতজনের কত নম্বর ডোজ হয়েছেন? আপনি কতজনের নেশাদ্রব্য হয়েছেন এ যাবত? আপনার Optimal waist-to-hip ratio কত অগণিত পুরুষের neural reward center-কে ডোপামিনে ভাসিয়েছে? ভিকটিমের পোশাক হয়ত সরাসরি দায়ী নয়, তবে আর যে হাজার হাজার নারী ধর্ষকটার সামনে দিয়ে হেঁটেছে বেসামালভাবে, তাদের ফিটিং স্বচ্ছ পোশাকের দায়, প্রকাশমান দেহাবয়বের দায় তো এড়ানো যাবে না। গবেষণাগুলোর ইঙ্গিত তো তাই বলছে, না কি?

নয়নের আলো

আমরা এই পর্যায়ে একটু জেনে নেব, আমরা কীভাবে দেখি। যেমন ধরেন, একটা লাল আপেল। ঘরটা অন্ধকার, আপেলের উপর কোন আলো পড়ছে না, তাই অন্ধকার ঘরে আপনি আপেলটা দেখতে পাচ্ছেন না। এবার লাইট জ্বালালেন। ঝলমল করে উঠল ঘর। আলোর কিছুটা আপেলের উপরও পড়ল। আপনারা হয়ত জেনে থাকবেন, সাদা আলো আসলে সাদা না, ৭ রঙা আলোর মিশেল।

                                                                                  সাত রঙ
বেনীআসহকলা- বেগুনী, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল। এই ৭ রঙ মিলেমিশে হয় সাদা রঙের আলো। এই লাল আপেলে যখন আলোটা পড়ল, আপেলটা সবগুলো রঙকে শুষে নিল, শুধু লাল আলোটাকে ফিরিয়ে দিল, প্রতিফলন করে দিল। এই ফিরিয়ে দেয়া লাল আলোটুকু আপনার চোখের মণির ভিতর দিয়ে চলে গেল চোখের পিছনে। সেখানে কিছু স্পেশাল কোষ আছে যারা আলো পড়লে বিদ্যুত তৈরি করে। লাল আলো গিয়ে ওদেরকে উত্তেজিত করল, তারা বিদ্যুত তৈরি করে মাথার পিছনে পাঠাল। আর আপনার আপেলাকারের লাল কিছু একটা দেখার অনুভূতি হল। বিঃদ্রঃ কালো কিন্তু কোন আলো না, কোন রঙের আলো না থাকলে কালো দেখা যায়। কালো জিনিস সব রঙকে শুষে নেয়। তাই কালো দেখায়।

                                                                   লাল কীভাবে দেখি
চোখের পিছনে যে জায়গায় আলো গিয়ে পড়ে, সেখানে একটা বিন্দু আছে যেখানে স্পেশাল কোষগুলো ঘনভাবে থাকে। জায়গাটার নাম ‘ফোভিয়া সেন্ট্রালিস’। যখন কোন বস্তুর আলো গিয়ে এখানে পড়ে তখন সেটা স্পষ্ট দেখা যায়। মানে বস্তুটা ফোকাস হয়।

                                                                         ফোভিয়া সেন্ট্রালিস
আপনি আপেলটা দেখছেন, আপেলের পাশে জগ-গ্লাস-অন্যান্য জিনিসও আপনি দেখছেন, কিন্তু আপেলটাকে বাকিগুলোর চেয়ে একটু বেশি দেখছেন। মানে আপেলের আলোগুলো গিয়ে জায়গামত পড়েছে, ঐ বিন্দুতে। ব্যাপারটা এমন—

                                                                      ফোকাস ননফোকাস
আর সামনে তাকালে আপনি পাশের অনেককিছুও দেখেন কিন্তু। ফোকাস ছাড়া বাকি যতদূর মাথা স্থির রেখে আপনার নজরে আসে, পুরোটাকে বলে দৃষ্টিক্ষেত্র বা Visual Field. এই ফিল্ডে যা থাকবে, সব আপনার নজরে আছে, ফিল্ডের বাইরে আমরা দেখি না।

                                                                                ভিজুয়াল ফিল্ড
সাধারণত কোন একটা জিনিস ফোকাস করলে আমরা আরেকটা ফোকাসে যাই যখন আমাদের ভিজুয়াল ফিল্ডে কোন কিছু আমাদের দৃষ্টিকে আকর্ষণ করে। যেমন ফিল্ডের মধ্যে কোনকিছু নড়ে উঠল [ত] বা উজ্জ্বল হয়ে উঠল [থ], তখন আমরা আগের ফোকাস চেঞ্জ করে ঐ আন্দোলিত বা উজ্জ্বল বস্তুকে ফোকাস করি। নিজে নিজেই পরীক্ষা করে দেখুন।

উদ্দীপকের সমাধান ১:

রাস্তায় যে হাজারো পুরুষ ঘুরে বেড়ায়, তাদের প্রত্যেকের ইউনিক মনোজগতকে জানা এমনকি অনুমান করাও অসম্ভব। আলোচনার আগে আমি আপনাদের স্মরণ করার অনুরোধ করছি ‘সিম্বোলিজম’ অধ্যায়টা। কত কিছু আমাদের যৌন-উদ্দীপনার কেন্দ্র হতে পারে। প্রয়োজনে আরেকবার পড়ে নেয়া যেতে পারে। একটা মেয়ের শরীরের প্রতিটা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আলাদাভাবে ও সামষ্টিকভাবে সিম্বলিক হতে পারে। আপনার কলিগ বা সহপাঠীদের মাঝে এমন কেউ আছে কি না যে আপনার হাতের সৌন্দর্য নিয়ে ফ্যান্টাসিতে আছে, তা আপনি আসলেই জানেন না। কেউ চুল নিয়ে, কেউ চোখ নিয়ে, বা কেউ পুরো আপনাকেই নিয়েই অন্ধকুঠূরিতে কোন পর্যায়ে আছে, তা জানার কোন উপায়ই নেই। তাই আপনি যদি যেকোন মানসিকতার পুরুষের কাছে উদ্দীপক না হতে চান তাহলে সর্বপ্রথম [ঢ] পুরুষের আকর্ষণের কেন্দ্রীয় তিন অংশ আপনাকে ঢেকে ফেলতে হবে, ‘বালিঘড়ি’ শেপকে ও waist-to-hip ratio-কে অস্পষ্ট করে দিতে হবে। এমন একটা পোষাক গায়ে চড়াতে হবে যাতে কোন উঁচুনিচু বুঝা না যায়। কুরআন আমাদের তা-ই জানাচ্ছে:
হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। (সূরা আল আহযাব: ৫৯)
বিশ্বাসী নারীদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টি কে নত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। তারা যা সাধারণতঃ প্রকাশ তা ব্যতীত তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের মাথার কাপড় দ্বারা বক্ষস্থল আবৃত রাখে। এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগন, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সূরা আন নূরঃ ৩১)
এখন আপনি কেমন আবরণ দ্বারা নিজেকে আবৃত করবেন। আচ্ছাদন কেমন হলে তা আপনাকে উদ্দীপকের ভূমিকা নেয়া থেকে সুরক্ষা দেবে। এখন আমরা যে আলোচনায় যাচ্ছি, এর সাথে ফিকহের কোন সম্পর্ক নেই। এই আলোচনা গ্রহণ বা বর্জন আপনার নিজের ইচ্ছে। ইসলাম আমাদের নিচের সিদ্ধান্তের অনেক কিছুরই অনুমোদন দেয়, নিষেধ করে না। আমরা আমাদের এতক্ষণের বৈজ্ঞানিক আলোচনার রেশ ধরে যে ফলাফলে পৌঁছবো সেগুলোর সবই অননুমোদিত তা কিন্তু নয়। আমরা আমাদের আলোচনা যেখানে আমাদের নিয়ে যায় সেখানে চলে যাব।
১. বোরকা অনুজ্জ্বল রঙের হবে। কালো বেস্ট। কারণ কালো রঙ আলোর পুরোটুকু শুষে নেয়। তাই কালো বস্তু থেকে দর্শকের চোখে আলো আসে না। নজর কাড়ে না। কালো না হলেও কালো জাতীয় (নেভী ব্লু, ধূসর)। মোটকথা ম্যাদামারা রঙের হওয়া চাই। উজ্জ্বল রঙ হলুদ-লাল-নীল-গোলাপী রঙ ভিজুয়াল ফিল্ডে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। এমন রঙের বোরকা ‘বোরকার উদ্দেশ্য’ পূরণ করে না। [ত]
২. প্রচলিত বোরকার কাপড় একটা আছে সিল্কের মত চকচকে। কালো হলেও চকচকে জিনিস আলো প্রতিফলন করে। তাই, ভিজুয়াল ফিল্ডে যেকোন চকচকে বস্তু নজর কাড়ে। এমন কাপড়ের বোরকায়ও উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। [ত]
৩. একটা কাপড়ের নাম বিএমডব্লিউ, হালে বেশ জনপ্রিয়। এই কাপড়ের সমস্যা হল বেশি আন্দোলিত হয়। ভিজুয়াল ফিল্ডে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি নড়াচড়ার দিকে দৃষ্টি চলে যায়। ফলে উদ্দীপকতা কমাতে বা নিজেকে দৃষ্টির অলক্ষ্যে রাখতে এজাতীয় বোরকাও অনুপযোগী। [থ]
৪. বোরকার উদ্দেশ্য হল, আপনার নিচের সুন্দর পোশাক, যেটা আপনার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিচ্ছে বহুগুণে- সেটা ঢাকা। যাতে আপনি কারো দৃষ্টি আকর্ষক না হন। যেহেতু কে আপনাকে দেখে কি ভাবছে, কী ডোজ নিচ্ছে, কী কল্পনা করছে আপনি জানেন না। ডিজাইনওয়ালা আর নানান ফ্যাশনেবল বোরকা তো সেই সৌন্দর্য্যবর্ধকই হয়ে গেল। তাহলে শুধু শুধু ডবল পোশাক পরে কী লাভ হল? কেউ যদি আপনাকে বলে- বাহ এই বোরকায় তো তোমাকে দারুণ মানিয়েছে। বা, চমৎকার লাগছে তোমাকে। তাহলে সেই বোরকা পরা অনর্থক। কারণ আপনি তো সুন্দর লাগার জন্য বোরকা পরছেন না, বরং সৌন্দর্য্য ঢাকার জন্যই সেটা পরার কথা।
৫. অর্ধসচ্ছ শিফন/জর্জেট জাতীয় কাপড়ের বোরকা পরার চেয়ে না পরাই তো ভাল। শুধু শুধু গরমে দুই স্তর সিনথেটিক কাপড় পরার কী দরকার। পর্দার উদ্দেশ্যও পুরা হল না, আবার গরমে কষ্টও হল। আর মানুষের স্বভাব হল কৌতূহল। যা স্পষ্ট দেখা যায়, তার চেয়ে যা আবছা দেখা যায়, তার প্রতি কৌতূহল বেশি কাজ করে। ফলে অর্ধস্বচ্ছ বোরকা আপনাকে আরও বেশি নজর আহ্বানকারী করে তুলবে।
৬. বোরকার কোমরের কাছে ফিতা যদি বেঁধে নেন, তবে বোরকা পরার উদ্দেশ্য ব্যাহত হল। বোরকার উদ্দেশ্য ছিল আপনার দেহকাঠামোকে অস্পষ্ট করে দেয়া। ফিতা বেঁধে কোমরের মাপকে প্রকাশ করে সেই গড়নকে আপনি স্পষ্ট করে দিলেন।
৭. হাল আমলের বোরকার ফ্যাশন হল ঘের অনেক বেশি রাখে গাউনের মত। সেদিন এক ফেসবুক পেইজ যারা দাবি করে যে তারা শারঈ বোরকা বিক্রি করেন। দেখলাম লিখেছে, “ঘের অনেক বেশি…You will feel like a princess”। মানে হল, রাজকন্যারা যেমন গাউন পরে সেরকম। বেশ, নিজেকে নিজে রাজকন্যা মনে হলে তো সমস্যা নেই। কিন্তু রাস্তার লোকে রাজকন্যা মনে করে চেয়ে থাকলে তো সমস্যা। পর্দার উদ্দেশ্য পুরা হল না। আর অতিরিক্ত কাপড় থাকলে তা হাঁটার সময় আন্দোলিত হবে বেশি [থ], ফলে ফোকাস টানবে বেশি।
৮. আর একটা ফেব্রিক সম্পর্কে বলে আমাদের এই আলোচনা শেষ করব, যেটা এখন ব্যাপক জনপ্রিয়। লন কাপড় পরতে আরামদায়ক হলেও শরীরের সাথে লেপ্টে থাকে বেশি। ফলে বাইরে থেকে শরীরের অবয়ব স্পষ্ট ফুটে ওঠে। যদিও আপনার পোশাকটা ফিটিং না, বা স্বচ্ছ না। আপনি ভাবছেন সব তো ঢাকাই, আসলে কাপড় লেপ্টে থেকে সব অবয়ব বুঝিয়ে দিচ্ছে।
আবু ইয়াযীদ মুযানী রাহ. বলেন, হযরত ওমর রা. মহিলাদেরকে কাবাতী (মিসরে প্রস্ত্ততকৃত এক ধরনের সাদা কাপড়) পরতে নিষেধ করতেন। লোকেরা বলল, এই কাপড়ে তো ত্বক দেখা যায় না। তিনি বললেন, ত্বক দেখা না গেলেও দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফুটে ওঠে।-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২৫২৮৮
তাহলে কেমন বোরকা পরলে উদ্দীপক হিসেবে আমার ভূমিকা মিনিমাম হবে?
১. নিকাবসহ কালো বা কালো জাতীয় রঙের
২. সুতি ধরনের কাপড় যা অতিরিক্ত দুলবে না, লেপ্টে থাকবে না। বরং কিছুটা ফুলে থাকবে, বডি শেপকে অস্পষ্ট করে দেবে। কাপড় সুতি হলে সিনথেটিক এসব কাপড়ের চেয়ে আরামও পাবেন বেশি। আরেকটা ব্যাপার আছে। সুতি কাপড় ইস্ত্রি নষ্ট হয়ে পরিপাটিভাব থাকে না, ফলে আপনার দিকে কেউ লক্ষ্যই করবে না, চোখ পড়লেও অনীহাভরে সরিয়ে নেবে। বোরকা পরার মূল উদ্দেশ্য সবচেয়ে সুন্দরভাবে পূরণ হবে।

রেফারেন্স

[1] চীনে ও তানজানিয়ায় ০.৬, ইন্ডিয়ান ও ককেশীয় আমেরিকানদের ০.৭ ও ক্যামেরুনে ০.৮ পাওয়া গেছে। Dixson, A.F. (2012) Primate Sexuality: Comparative Studies of the Prosimians, Monkeys, Apes and Human Beings (Second Edition). Oxford: Oxford University Press. এর বরাতে https://www.psychologytoday.com/us/blog/how-we-do-it/201507/waists-hips-and-the-sexy-hourglass-shape
[5] Harvard Mental Health Letter, How addiction hijacks the brain https://www.health.harvard.edu/newsletter_article/how-addiction-hijacks-the-brain
[6] The Brain on Drugs: From Reward to Addiction, Nora D.Volkow ও Marisela Morales, National Institute on Drug Abuse, National Institutes of Health, Bethesda, MD 20892, USA প্রকাশিত হয় জার্নাল Cell (Volume 162, Issue 4, 13 August 2015, Pages 712-725) https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S0092867415009629
[7] https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/20140088 https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC2918777/ (Curvaceous female bodies activate neural reward centers in men)
শেয়ার করুনঃ
আমি তারায় তারায় রটিয়ে দিব

আমি তারায় তারায় রটিয়ে দিব

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

আমি তারায় তারায় রটিয়ে দিব …………

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

জানিস দোস্ত গতকাল না কঠিন একটা পাপ করে ফেলেছি । গতকাল রুমে কেউ ছিল না , দরজাটা বন্ধ করে , অনলাইনে যেয়ে ………

ভাই থামেন , আর কথা বাড়াইয়েন না ।  আপনার যে  পাপ কাজের কথা আল্লাহ(সুবঃ) ছাড়া আর কোন কাক পক্ষীও টের পায়নি ,আপনার  যে পাপ  আল্লাহ (সুবঃ) গোপন করে রেখেছিলেন মানুষের কাছ থেকে, সেটা আপনি নিজে সকলের সামনে প্রকাশ করে দিয়ে , নিজের কি সর্বনাশ করছেন জানলে মাথার চুল একটা একটা করে ছিড়ে চান্দু হয়ে যেতেন তারপরেও আক্ষেপ ফুরাতো না ।

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন –  আমার সকল উম্মত মাফ পাবে, তবে প্রকাশকারী ব্যতীত। আর নিশ্চয় এ বড়ই ধৃষ্টতা যে, কোন ব্যক্তি রাতে অপরাধ করল যা আল্লাহ্ গোপন রাখলেন। কিন্তু সে ভোর হলে বলে বেড়াতে লাগল, হে অমুক! আমি আজ রাতে এমন এমন কর্ম করেছি। অথচ সে এমন অবস্থায় রাত অতিবাহিত করল যে, আল্লাহ্ তার কর্ম গোপন রেখেছিলেন, আর সে ভোরে উঠে তার উপর আল্লাহ্‌’র  পর্দা খুলে ফেলল। [সহীহ বুখারি]

আরেকটা বর্ণনায়[১] এসেছে – আল্লাহ (সুবঃ) হাশরের ময়দানে ফেরেশতাদের বলবেন যাও আমার অমুক অমুক বান্দাকে ডেকে নিয়ে এসো । ফেরেশতাগন বান্দাদেরকে নিয়ে এসে আল্লাহ (সুবঃ) এর সামনে দাঁড় করিয়ে দিবেন । আল্লাহ (সুবঃ) বান্দাদেরকে বলবেন ,“ হে আমার বান্দা! আমার কাছে এসো । বান্দা  আল্লাহ’র (সুবঃ) কাছে এসে দাঁড়াবে  আল্লাহ (সুবঃ) বান্দাকে আরো কাছে ডাকবেন । বান্দা আল্লাহ’র (সুবঃ) আরো কাছে যেয়ে দাঁড়াবে । এভাবে বান্দা আল্লাহ’র (সুবঃ) এতো কাছে চলে যাবে যে   সে নুর দ্বারা  আচ্ছাদিত হয়ে যাবে । আল্লাহ্‌ (সুবঃ) এবং তার মাঝে শুধু একটা পর্দা থাকবে । কোন ফেরেশতা তাকে আর দেখতেও পাবে না , শুনতেও পাবে না আল্লাহ্‌ (সুবঃ) এবং বান্দার কথোপকথন ।

শুধু  আল্লাহ্‌ (সুবঃ) আর তাঁর  বান্দা ।

আল্লাহ্‌ (সুবঃ) তাঁর বান্দাকে বলবেন , “ইয়া আব্‌দি , দেখ তোমার আমলনামা ,তুমি নিজেই দেখ পৃথিবীতে কি করে এসেছো তুমি” ।

বান্দা তার আমলনামায় চোখ বুলাবে – শুধু পাপ আর পাপ , রাশি রাশি পাপ ।

আল্লাহ্‌ (সুবঃ) বলবেন ,“ ইয়া আব্‌দি ,তুমি কি জানতে না তুমি গোপনে যে কাজ কর আমি  সেটাও দেখতে পাই ? তুমি কি জানতে না একদিন তোমাকে আমার সামনে দাঁড়াতে হবে ? তুমি কি জানতে না একদিন আমি তোমার সব কাজের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করব ?

বান্দা উত্তর দিবে , “ইয়া রব্ব! আমি জানতাম , জানতাম ……… আমি জানতাম” ।

আল্লাহ্‌ (সুবঃ) বলবেন,“ তাহলে  কেন তুমি এই কাজ গুলো করেছিলে ? কেন” ?

বান্দা উত্তর দিবে , “ইয়া রব্ব! আপানর সামনে এই পাপের বোঝা নিয়ে  দাঁড়িয়ে আমার বিচার করার চেয়ে আমাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা আপনার জন্য অনেক সহজ”।

আল্লাহ্‌ (সুবঃ) বলবেন,“ পাতা উল্টাও , পরের পৃষ্ঠায় যাও”।

বান্দা পরের পাতায় যেয়ে দেখবে  পুরোটাই আগের চেয়েও জঘন্য গুনাহ দ্বারা পরিপূর্ণ । এভাবে সে পুরো আমলনামার পাতা উল্টিয়ে ফেলবে । প্রত্যেকটা পাতাতেই  আগের পাতার চেয়ে আরো বেশী , আরো জঘন্য গুনাহ দেখতে পাবে সে ।   বান্দা প্রচন্ড মন খারাপ করে ফেলবে । প্রচন্ড হতাশ হয়ে সে ভাববে – আমাকে আল্লাহ্‌ (সুবঃ) নিশ্চয়ই এখনো জাহান্নামের আগুনের  গর্তে ফেলে দিবেন । আমি তো ভালো আমলও করেছিলাম ,কিন্তু সেগুলো আমার কাজে আসলো কই  ?  আমার পাপই আমাকে ধ্বংস করে ছাড়লো!

আল্লাহ্‌ (সুবঃ) বান্দাকে বলবেন , “ ইয়া আব্‌দি! তুমি কেন তোমার পাপকাজ গুলো গোপন করে রেখেছিলে দুনিয়ার জীবনে”?

বান্দ জবাব দেবে , “ ইয়া রব্ব! আমি আমার পাপগুলো নিয়ে লজ্জিত ছিলাম’।

আল্লাহ্‌ (সুবঃ) বলবেন ,“ তুমি কি দেখনি পৃথিবীতে  আমি তোমার পাপগুল মানুষের নিকট থেকে গোপন করে রেখেছিলাম । এটা ছিল তোমার প্রতি আমার রহমাহ । আজকেও আমি তোমার পাপগুলো মানুষের নিকট থেকে গোপন করে রাখবো” ।

[ অন্য একটা বর্ণনায়  এসেছে – আল্লাহ্‌ (সুবঃ) বলবেন , “দুনিয়াতে তুমি তোমার মুসলিম ভাইয়ের দোষ গোপন করে রাখতে, তাই আজকে আমিও তোমার দোষ গোপন করে রাখব” ।]

আল্লাহ্‌ (সুবঃ) বান্দাকে বলবেন , “এবার আমলনামার পাতা উল্টাও” ।

আমলনামা খুলতেই বান্দার চোখ কপালে উঠে যাবে । পুরো আমলনামা জুড়েই শুধু ভালো কাজ । পাপকাজ গুলোর টিকিরও খোঁজ নেই ।

ফেরেশতারাও জানবে না  যে আল্লাহ্‌ (সুবঃ) বান্দার সমস্ত পাপ আমলনামা থেকে  মুছে ফেলে  ভালো কাজ দিয়ে পূর্ণ করে দিয়েছেন ।

অতঃপর বান্দাকে মাফ করে দেওয়া হবে  ।  [সহীহ বুখারি]

ভাই , পর্নমুভি দেখা বা মাস্টারবেট করা ছাড়তে না পারলেও চেষ্টা করুন এগুলো সবার নিকট থেকে গোপন করে রাখতে ,   আল্লাহ্‌ (সুবঃ) ছাড়া  পাপের কোন সাক্ষী না রাখতে ।  আল্লাহ্‌’র (সুবঃ) দয়া হলে তিনি হয়তো আপনার এই গোপন পাপ গুলো দুনিয়াতেও গোপন রাখবেন এবং হাশরের ময়দানেও গোপন রেখে আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন । অযথা সবাইকে বলে বেড়িয়ে কেন ক্ষমা পাবার  এই সুযোগটা হারাবেন ?

বন্ধুদের সঙ্গে বসে পর্ন দেখে , মেয়েদের ফিগার বিশ্লেষণ করে বা কোন কারণ ছাড়াই [২]  স্রেফ মজা করার জন্য বন্ধুদের সঙ্গে কে কত পর্ন দেখে , কার কত জিবি কালেকশান , কে কতবার মাস্টারবেট  করে এগুলো নিয়ে  আলোচনা করে নিজেই  নিজের পায়ে কুড়াল মারবেন না, ভাই । একদিন আফসোস  করতে হবে এই সব “ফান” করার জন্য । কিন্তু তখন কিছুই করার থাকবেনা ।

কিছুই করার থাকবেনা ……

পড়ে দেখতে পারেন – ডেস্টিনি – https://bit.ly/2MqWqLv

রেফারেন্সঃ

[১] https://www.youtube.com/watch?v=W58xj93ljPM

[২] পর্ন মুভি/ মাস্টারবেশন আসক্তি ছাড়ার জন্য কোন দ্বীনি ভাই , বন্ধু বা কাছের কোন মানুষের  সাহায্য নেওয়া  খুব জরুরী । একা একা আসক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার চেয়ে জোট বেঁধে লড়াই করা অনেক অনেক গুন ভালো । তারমানে এই নয় যে , আপনি যদু কদু মধু সবাইকে বলে বেড়াবেন আপনার পর্ন আসক্তি/ মাস্টারবেশন আসক্তির কথা , আর সবার কাছ থেকে সিমপ্যাথি পাবার চেষ্টা করবেন ।

শেয়ার করুনঃ
অমূল্য নিয়ামাত চোখের খিয়ানত করছি না তো??

অমূল্য নিয়ামাত চোখের খিয়ানত করছি না তো??

রুমে কেউ নেই,দরজা বন্ধ। সামনে ল্যাপটপ ও ইন্টারনেটের অবাধ জগত। যেখানে ইচ্ছা সেখানে সার্ফিং করার সুযোগ। কেউ তো আর দেখছে না! শয়তানের ধোঁকা দেয়ার সুবর্ণ সুযোগ। আর মানবিক দুর্বলতা ও ঈমানি দুর্বলতার কারণে সেই ধোঁকায় পরার সমূহ সম্ভাবনা। বন্ধুর কাছ থেকে পেনড্রাইভ ও পোর্টেবল হার্ডডিস্ক ভর্তি করে আনা হারাম কন্টেন্টে ল্যাপটপ পূর্ণ। লাখ লাখ হারাম সাইট তো আছেই। হারামে প্রবেশ করতে একটি ক্লিকই যথেষ্ট।

বেনামাজিদের কথা বাদই দেয়া যাক, যারা নামাজ পরেন তারা অন্য গুনাহ থেকে বিরত থাকতে পারলেও শয়তানের এই আহবানকে মাঝে মধ্যে উপেক্ষা করতে পারেন না। কেননা হারাম জিনিসকে শুধুমাত্র হারাম জানলেই তা থেকে বাঁচা যায় না বরং ওই হারামকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করা দরকার। নিজেকে বুঝানো দরকার “কেউ না দেখলেও আল্লাহ্‌ তো দেখছেন”। আর মহান আল্লাহ্‌র সাহায্য থাকা তো অবশ্যই দরকার। শয়তানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের এই বিজনেস মুসলিমদের মহান আল্লাহ্‌র হুকুম থেকে গাফেল করার জন্যই। এমন কাউকে পাওয়া যাবে না যে ইন্টারনেট ইউজ করে কিন্তু জীবনে কখনই এই হারাম জিনিসের প্রতি দৃষ্টি দেয়নি। কিন্তু ১/২/৩ বার গুনাহ হয়েছে বলে একে অভ্যাসে পরিণত করা মহান আল্লাহ্‌র হুকুমের প্রতি অবজ্ঞার শামিল।

ভুল হয়েছে, ক্ষমা চাইতে হবে, বারবার ক্ষমা চাইতে হবে আর এই হারাম থেকে বেঁচে থাকার জন্য মহান আল্লাহ্‌র কাছে সাহায্য চাইতে হবে।

যার চোখ নেই সেই একমাত্র জানে চোখের কদর কতোটুকু। এতো বড় নিয়ামাত চোখের শুকরিয়া কি আমরা হারাম দিকে দৃষ্টি দেয়ার মাধ্যমে আদায় করবো? ওয়াল্লাহি!

“তারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা কোন মন্দ কাজে জড়িত হয়ে নিজের উপর জুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবেন? তারা নিজের কৃতকর্মের জন্য হঠকারিতা প্রদর্শন করে না এবং জেনে-শুনে তাই করতে থাকে না।” (আল-ইমরানঃ১৩৫)

“আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকেঃ আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।” (আন-নিসাঃ১৮)

এই জঘন্য গুনাহে নিমজ্জিত হওয়ার আগে আমাদের একটিবার ওইসব শহীদদের কথা মাথায় রাখা উচিত যাদের শাহাদাতের কারণে আজকে দ্বীন ইসলাম আপনার আমার পর্যন্ত এসেছে। আমরা তো সবাই শহিদ হতে চাই না। এবং শহিদ হওয়া সবার জন্য সম্ভবও নয়। মহান আল্লাহ্‌ যাকে অনুগ্রহ করেন একমাত্র সেই এই মহান নিয়ামাত লাভ করেন। আমাদের দরকার একটু নফসের কুরবানি। নফসের ধোঁকা থেকে নিজেকে হিফাজত করা।

খুব কি কঠিন কাজ???? সেইসব শহিদদের তুলনায় আমাদের নফসের কুরবানি কি বেশি হয়ে গেলো???? কখনই নয়।

নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত সালাত গুরুত্বসহকারে আদায় করা এবং মহান আল্লাহ্‌র সাহায্য ছাড়া বর্তমানের সবচেয়ে জঘন্য এই গুনাহ থেকে কেউ বেঁচে থাকতে পারবে না। খুশুর সহিত ৫ ওয়াক্ত সালাত জামাতে আদায় এবং মহান আল্লাহ্‌র কাছে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার দু’য়া করলে অবশ্যই মহান আল্লাহ্‌ সাহায্য করবেন।

মহান আল্লাহ্‌ বলেন,

“আপনি আপনার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট কিতাব পাঠ করুন এবং নামায কায়েম করুন। নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে। আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন তোমরা যা কর।” (সূরা আল-আনকাবুতঃ৪৫)

ফেসবুকের নিউজ ফিড ও নেট সার্ফিং এর সময় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার কিছু টিপসঃ

বর্তমান ফিতনার যুগে চোখের গুনাহের সবচেয়ে উর্বর জায়গা হলো অনলাইন। এই দুনিয়ার প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে হাশরের ময়দানে। এমনকি ব্রাউজার হিস্টোরি,চ্যাট হিস্টোরি, প্রতিটি লাইক/কমেন্ট এর হিসাব দিতে হবে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে গুনাহ করতে চাইলে তাকে ঠেকানোর কেউ নেই। আমাদের মাথায় রাখা দরকার “browsing history” ডিলিট করতে পারলেও আমরা কিরামান কাতিবিন(দুই কাঁধের ভালো-মন্দ লিখার ফিরিশতাদ্বয়) এর লিখা ডিলিট করতে পারবোনা। একাগ্রচিত্তে তাওবা ছাড়া এই গুনাহ মাফ হবে না। যারা অনিচ্ছাকৃতচোখের গুনাহ থেকে বাঁচতে চান

তাদের জন্য কিছু টিপসঃ

১) অনলাইনের অযাচিত অ্যাড দূর করার জন্য addons হিসেবে Adblock ইউজ করতে পারেন। Firefox, chrome উভয় ব্রাউজারের জন্যই পাবেন। এতে ওয়েব পেজ দ্রুত লোড হবে। ব্যান্ডউইডও কম খরচ হবে। আজেবাজে অ্যাডও দেখতে হবে না।

https://addons.mozilla.org/en-US/firefox/addon/adblock-plus/

https://chrome.google.com/webstore/detail/adblock-plus/cfhdojbkjhnklbpkdaibdccddilifddb

২) ফেসবুকের ডান পাশে আসা বিভিন্ন মডেলদের ফলো করার আইডি, বিভিন্ন অশ্লীলপেজ এর অ্যাড ইত্যাদি দূর করার জন্য facebook purity ইউজ করতে পারেন। Firefox, chrome উভয় ব্রাউজারের জন্যই পাবেন।

https://addons.mozilla.org/en-US/firefox/addon/fb-purity-cleans-up-facebook/

https://chrome.google.com/webstore/detail/fb-purity-clean-up-facebo/ncdlagniojmheiklojdcpdaeepochckl?hl=en

৩) নিউজ ফিডে উল্টাপাল্টা ছবি শেয়ার দেয়া বন্ধুদের নিউজ ফিডে অফ করে দিতে পারেন। আইডির উপর কার্সর রাখলে following লিখাকে unfollow করে দেন। এতে ওই আইডি আপানার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকবে কিন্তু নিউজ ফিডে শো করবে না। এতে চোখের গুনাহও হলো না বন্ধুও রাগ করলো না। মাঝখানে আপনি ফিতনা থেকে বেঁচে গেলেন। সেও দ্বীনের দাওয়াত থেকে বঞ্চিত হলো না।

৪) ইউটিউবে এখন প্রচুর ইসলামিক চ্যানেল রয়েছে। ওই চ্যানেলগুলোকে সাবস্ক্রাইব করে রাখলে ইউটিউবে নিজের গুগুল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করে রাখলে শুধু ওই চ্যানেলগুলোর ভিডিওগুলোর অ্যাডই আসবে। এতে চোখকে অযাচিত জিনিস দেখা থেকে বিরত রাখতে পারবেন।

কুরআন ও হাদিস থেকে কিছু রিমাইন্ডারঃ

“মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।”

(সূরা নূর : ৩০)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, দৃষ্টি শয়তানের বিষাক্ত তীরসমূহের মধ্যে একটি বিষাক্ত তীর। যে ব্যাক্তি আমার ভয়ে কু-দৃষ্টি ত্যাগ করে আমি তাকে এমন একটি ঈমানী নুর দান করি, যার স্বাদ সে তার অন্তরে অনুভব করে। (তাবরানী)

হযরত হাসান (রা.) থেকে বণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে পুরুষ দৃষ্টিপাত করে এবং যে নারী দৃষ্টিপাত করার সুযোগ দেয় উভয়ই আল্লাহর নিকট অভিশপ্ত। (মিশকাত)

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ ফরমান, কিয়ামতের দিন সমস্ত চোখ ক্রন্দনরত অবস্থায় থাকবে। কিন্তু ঐ চোখ ক্রন্দনরত অবস্থায় থাকবে না, যে চোখ দুনিয়াতে নিষিদ্ধ বস্তু দেখা থেকে বিরত রয়েছে। (আত-তারগীব ওয়াত তারহীব।)

মহান আল্লাহ্‌ আমাদেরকে মাফ করুন ও শয়তানের ধোঁকা থেকে হিফাজত করুন। ঈমান আমলের যথাযথ হিফাজত করে দুনিয়া থেকে আখিরাতে যাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

শেয়ার করুনঃ
গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার ১০টি সহজ উপায়

গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার ১০টি সহজ উপায়

আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে জান্নাতে যাওয়া এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া। আর তা যদি করতে হয় তাহলে জেনে নেয়া ভাল যে জান্নাতে যাওয়ার পথ ফুল বিছানো পথ নয়। সে পথে চলতে গেলে আমাদের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে হবে। সহিহ হাদিসে এসেছে যে জাহান্নামকে ঘিরে রাখা হয়েছে কামনা বাসনা দ্বারা। অর্থাৎ মানুষের যা করতে ভাল লাগে তা দিয়ে জাহান্নামকে ঘিরে রাখা হয়েছে। আর জান্নাতকে ঘিরে রাখা হয়েছে দুঃখ-কষ্ট ও ধৈর্য দ্বারা।

গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার অনেক উপায় রয়েছে তার মধ্যে এখানে বর্তমানে বাস্তবতার ভিত্তিতে ১০টি সহজ উপায় নিয়ে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

১.গুনাহের সম্ভব্য রাস্তা বন্ধ করাঃ গুনাহ যাতে না হয় সে জন্য গুনাহের উপায় গুলো বন্ধ করে ফেলতে হবে। গুনাহর সামনে যখন একজন মানুষ দাঁড়ায় তখন গুনাহ থেকে নিজেকে ফিরিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এর চেয়ে সহজ হচ্ছে সেই গুনাহের যাতে কাছে না যেতে হয় সেই ব্যবস্থা করা। বিশেষ করে কোন কিছুর প্রতি যদি কারও আকর্ষণ থাকে তাহলে সেটা যদি সামনে এসে যায় তাহলে তা পাশ কাটিয়ে যাওয়া কঠিন। এর চেয়ে এর মুখোমুখি যাতে না হতে হয় সে ব্যবস্থা করা ভাল। সোজা কথায় খাল কেটে যেন আমরা কুমির না আনি। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন “মুমিনদেরকে বল তারা যেন দৃষ্টি অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।” এখানে আল্লাহ তাআলা প্রথমে দৃষ্টি অবনত রাখতে বলেছেন। তার কারন হচ্ছে দৃষ্টি অবনত রাখতে পারলে লজ্জাস্থানের হেফাজত অনেক সহজ হয়ে যায়।

বাস্তব একটি কেস নিয়ে আলোচনা করি। ইন্টারনেট বর্তমানে অনেক ফিতনার রাস্তা খুলে দিয়েছে। কিন্তু ইন্টারনেটবিহীন জীবন আবার অবাস্তব সাজেশন। তাহলে কি করতে পারি? যেটা করতে পারি সেটা হচ্ছে।

–   যদি খুব দরকার না হয় তাহলে লো স্পিড নেট ব্যবহার করা।

–   বিভিন্ন অ্যাপ্স আছে যা অশ্লীল ছবি/বিজ্ঞাপন ফিল্টার করে তা ব্যবহার করা।

–   একা একা রুমে বসে নেট ব্রাউজ না করা।

২. দৈনন্দিন রুটিন ঠিক করাঃ আমদের ডেইলি রুটিন সম্পূর্ণ অনৈসলামিক। আমরা দিন শুরু করি দেরিতে আর রাতে জেগে থাকি। এটা মহাবিপদ। রাত জেগে থেকে সকালে দেরি করা ঘুম থেকে উঠার ফলে আমাদের দিনের পর দিন ফজরের সালাত মিস হচ্ছে। স্টুডেন্ট লাইফে এটা আরও বড় সমস্যা। আমরা যদি সাহাবীদের লাইফ স্টাইল দেখি তাহলে দেখব যে তারা সকল কাজ দিনেই সম্পন্ন করতেন। রাসূল (স) আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন যে তার উম্মাতকে যেন সকালের প্রথম ভাগে বরকত দেয়া হয়। এবং আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেছিলেন। অনেক সময় মনে হতে পারে যে রাতে তো আমার পড়া ভাল হয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ভোরে পড়লে পড়া ভাল হয়। আরেকটি জিনিস হচ্ছে রাতের বেলা ফিতনার সুযোগ অনেক বেশি। তাই আমরা চেষ্টা করব যেন রাতের বেলা তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে ভোরে উঠার চেষ্টা করা। ২/৩ দিন চেষ্টা করলেই ইনশাআল্লাহ তা অভ্যাসে পরিণত হবে।

৩. নিয়মিত কুরআন চর্চা করাঃ প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত করা ও কুরআনের পিছনে সময় ব্যয় করা উচিত। তাহলে এই কুরআনই আমাদের গুনাহ থেকে টেনে তুলবে।

৪. সালাতকে সুন্দর করাঃ আমাদের চেষ্টা করতে হবে সালাতকে সুন্দর করতে হবে। আল্লাহ বলেছেন যে “নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে মন্দ ও অশ্লীল কাজ হতে দূরে রাখে।”

৫. আল্লাহর সাহায্য চাওয়াঃ গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা আল্লাহর সাহায্য ছাড়া সম্ভব নয়। আল্লাহ যদি সাহায্য করেন তাহলে তা সোজা হয়ে যায়। এইজন্য ইউসুফ (আ) কে যখন সেই সুন্দরী উচ্চ বংশীয় মহিলা খারাপ কাজের জন্য আহ্বান করল তখন তিনি একজন নবী ও দৃঢ় চরিত্রের হওয়া সত্ত্বেও সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন।

৬. গুনাহ ও গুনাহের কুফল সম্পর্কে জানাঃ আমাদেরকে জানতে হবে কোন কোন কাজ গুনাহ। আজকে মানুষ জানেই না কোন কাজ গুনাহ। এছাড়া আমাদের গুনাহের কুফল সম্পর্কেও জানতে হবে। তাহলে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা সহজ হবে। গুনাহের কুফল অনেক। যেমনঃ হিদায়াত থেকে বঞ্চিত হওয়া, জ্ঞান কমে যাওয়া, স্মরণশক্তি কমে যাওয়া, আল্লাহর সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হয়, জীবন জটিল হয়ে পড়ে ইত্যাদি।

৭. বিকল্প ব্যবস্থা করাঃ হারাম বিনোদন বাদ দিয়ে আমরা হালাল বিনোদন যেমন বিভিন্ন হালাল খেলাধূলা করা যেতে পারে। যারা মুভি দেখেন তারা বিভিন্ন ডকুমেন্টরি দেখতে পারেন। এভাবে হারামের হালাল বিকল্প খুঁজতে হবে।

৮. দৈনন্দিন জিকর করাঃ দৈনন্দিন বিভিন্ন জিকর রয়েছে যেগুলো গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। যেমন খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ বলা। ঘর থেকে বের হওয়ার আগে বলা “বিস্মিল্লাহি তাওাক্কালতু আলাল্লাহি লা হাওলা কুও্বাতা ইল্লা বিল্লাহ।” এভাবে সব কাজের আগে দোয়া রয়েছে যেগুলো চর্চা করলে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা যায়।

৯. কথা বলা, খাওয়া, মেলামেশা করা এগুলোর পরিমাণ কমানঃ কথা কম বলা কষ্টকর। কিন্তু যে বেশি কথা বলে তার গুনাহ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। রাসূল (স) বলেছেন যে আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে সে হয় ভাল কথা বলুক নাহয় চুপ থাকুক। কারন কথা বলতে বলতে এমন গুনাহ হয়ে যেতে পারে যার শাস্তি খুব সাংঘাতিক। এছাড়া অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে ব্যস্ত না হওয়া। এছাড়া বেশি না ঘুমান ও বেশি না খাওয়া। অর্থাৎ হালাল কাজ গুলোর মধ্যেও সীমারেখা টানা।

১০. ধৈর্য ধারণ করাঃ আমাদের ধৈর্যের খুব অভাব। কিন্তু গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে হলে ধৈর্য ধরতে হবে। ধৈর্য আসবে চেষ্টা করার মাধ্যমে। একজন লোক হয়ত আপনার পায়ে পাড়া দিয়ে চলে গেল আপনি চেষ্টা করুন তাকে কিছু না বলতে। আর ধৈর্য আয়ত্ত করার সবচেয়ে বড় সুযোগ হল রামাদান মাস।

(সংগৃহীত)

শেয়ার করুনঃ
শান্তি পাব কোথায় গিয়ে ?

শান্তি পাব কোথায় গিয়ে ?

বিসমিল্লাহির  রহমানীর রহীম

আর  ত্রিশ মিনিট পরে আপনার ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইলেক্ট্রনিক্স -২ পরীক্ষা । আপনি ওপ-এম্প এর সার্কিট  ঠিকমতো সলভ করতে পারেননা , টাইমারের সার্কিট দেখলে মনে হয় কাগজে অর্থহীন কিছু আকাআঁকি । তারওপর  কোর্স টিচার মারাত্মক রকমের হাড় কিপটা । নাম্বার দিতেই চান  না , আর সেই সাথে তাঁর  অতীত সুনাম আছে  প্রশ্নপত্র কঠিন করে স্টুডেন্টদের সাথে “মজা” নেওয়ার ।  নিরুপায় হয়ে  পরীক্ষায় আসতে পারে এমন  কিছু প্রশ্নের উত্তর পিডিএফ বানিয়ে আপনি মোবাইলে নিয়ে নিলেন ।    কিন্তু পরীক্ষার হলে মোবাইল নিয়ে যাওয়া নিষেধ  । কোন স্টুডেন্টের কাছে মোবাইল পেলেই তৎক্ষণাৎ সেই স্টুডেন্টকে পরীক্ষার হল থেকে বহিষ্কার করে দেওয়া হয় । সেই সাথে একবছর ড্রপ  । তো এরকম একটা ভয়াবহ পরিস্থতিতে,  আপনি পকেট থেকে আলতো করে মোবাইল বের করে টুকলিবাজি শুরু করেছেন পরীক্ষার হলে ।  স্বাভাবিকভাবেই আপনি প্রচণ্ড অস্থিরতায় ভুগছেন  ।  ফ্যানের নীচে থেকেও আপনার কপালে   বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে  গেছে  । হার্টবিট বেড়ে গেছে  ।  আপনি  সারাক্ষণ ভয়ে ভয়ে  আছেন এই বুঝি স্যারের হাতে ধরা খেয়ে গেলেন ।

আপনার অন্তর বড় অশান্ত , বড় অস্থির ।

সুবহানআল্লাহ, একটু চিন্তা করে,  দেখুন দুনিয়ার সামান্য মানুষের বানানো আইন ভাঙ্গার কারণে , খুব ছোট একটা অপরাধ করার কারণেই আপনার মনের শান্তি কর্পূরের মতো উবে গেছে । তাহলে আকাশ ও জমীনের সৃষ্টিকর্তা , যিনি একেবারে শূন্য থেকে সবকিছু সৃষ্টি করেছেন সেই মহিমান্বিত আল্লাহর (সুবঃ) আইন প্রতিনিয়ত ভেঙ্গে , প্রতিনিয়ত আল্লাহর সঙ্গে বিদ্রোহ করে আপনি কী করে অন্তরে শান্তি পাবেন?  বলুন, কীভাবে শান্তি পাবেন ?

আল্লাহ (সুবঃ) আপনাকে বলেছিলেন  দৃষ্টি সংযত করতে , চোখের হেফাজত করতে ।

“……মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।”

(সূরা নূর : ৩০)

আপনি প্রতিনিয়ত  তাঁর সেই আদেশকে বুড়ো আঙ্গুল  দেখাচ্ছেন । রাস্তায় মেয়েদেরকে চোখ দিয়ে  গিলে খাচ্ছেন ,  বন্ধুদের সঙ্গে মেয়েদের ফিগার নিয়ে থিসিস করছেন ,  গভীর রাতে আপনার  মোবাইলের স্ক্রিন নীল হয়ে  যায়, সার্ফিং করে বেড়ান এক্সরেটেড সব ওয়েবসাইটে, পর্নস্টার আর আইটেম গার্লরা আপনার  ড্রিম গার্ল, স্বপ্নের রাজকন্যা  । আপনি কিভাবে শান্তি পাবেন ?

বন্ধু , আড্ডা , গান , জিএফ, বিএফ ,  সিরিয়াল ,ফেসবুকিং, সেলফি , ডিএসএলআর, কেএফসি,  পিৎজাহাট  এগুলো নিয়েই আপনার কেটে যাচ্ছে অষ্টপ্রহর । ভাবছেন ,সুখেই আছি । বুকে হাত রেখে একবার সত্যি করে  বলুন তো, আপনি কী আসলেই শান্তিতে  আছেন, সুখে আছেন   ?

কেন এক বিকেল বেলা ঘুম থেকে উঠে শেষ বিকেলের আলোয়  অজানা কারণে আপনার মন খারাপ হয়ে যায়? গভীর রাতে কি  যেন ভেবে  আপনার চোখ ভিজে যায় জলে । দলা বাধা কষ্টগুলে ভিড় জমায় বুকের ভেতর ।   অন্তরটা খাঁ খাঁ করে  ।  কি যেন নেয় আপনার ।  কোথায় যেন একটা  অপরিপূর্ণতা । কোথায় যেন কিসের একটা অভাব ।   জীবনটা  বড্ড বেশী জটিল মনে হয়  ।

আইটেম গার্লদের কোমর দোলানি আর দেহের ভাঁজ দেখে আপনার  মন কি অস্থির , অশান্ত হয়ে যায় না ? মনের ভেতরের পশুটা কি আপনাকে কুঁরে কুঁরে  খায় না? প্রত্যেক বার পর্ন মুভি দেখার  পর , মাস্টারবেট করার পর  আপনার কি মরে  যেতে ইচ্ছে করে না ? মনে হয়না কেন করলাম , কেন করলাম , কেন কেন …… ?

 

কিসের নেশায় ডুবে আছেন ভাই আপনি ? কিসের নেশায় ?

পর্নস্টারের নিটোল দেহ ,  জিএফের ‘মনে ঝড় তোলা চোখ, আইটেম গার্লদের লাস্যময়ী হাসি ? আপনি এদেরকে কি একেবারে নিজের মতো করে কখনো পাবেন ? পাবেন না । এরা তো ইলিউশান ছাড়া কিছুই না । এরা একদিন বুড়িয়ে যাবে । দেহে অনেক ভাঁজ পড়বে , চামড়া কুচকিয়ে যাবে, দাঁত পড়ে যাবে , চোখ ধূসর হয়ে যাবে , চুল পাটের শনের মতো হয়ে যাবে । সবশেষে মাটির নীচে পোকা মাকড়ে খুবলে খুবলে খাবে এদের দেহ , গলে পচে দুর্গন্ধ ছড়াবে ।

এতেই আপনার এত আকর্ষণ! এদের কারণেই আপনি সেই জাহান্নামের আগুণকে তুড়িমেরে উড়িয়ে দিচ্ছেন , যা অন্তর পর্যন্ত পুড়িয়ে ফেলবে আর যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর ।

আপনি ভুলে যাচ্ছেন আপনার সেই “আয়তনয়না” জান্নাতি স্ত্রীর কথা যিনি আপনার জন্য লক্ষ কোটি বছর ধরে অপেক্ষা করে আছেন । যাঁর মাথার স্কার্ফ এই দুনিয়া এবং আকাশের মধ্যবর্তী সবকিছুর থেকেও উত্তম । প্রবাল ও পদ্মরাগ সদৃশ জান্নাতের স্ত্রীদের সৌন্দর্যের ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ (সুবঃ) সার্টিফিকেট দিয়েছেন ।

জান্নাতেও ঝুম বৃষ্টি হবে , আপনার জান্নাতি স্ত্রীকে নিয়ে রিকশায় বসে আপনি লক্ষ কোটি বছর ধরে বৃষ্টি বিলাস করতে পারবেন , হা করে জ্যোৎস্না গিলতে পারবেন , শেষ বিকেলের মরে আসা নরম হলুদ আলোয়  দুজন দুজনার চোখের দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে দিতে পারবেন হাজার হাজার বছর ।

দুজনে ঘুরে বেড়াবেন জান্নাতের বাগানে । মাথার উপর থেকে ঝরে পড়বে গাছের ঝরা পাতা । আপনাদের শরীরে আলতো পরশ বুলিয়ে দিয়ে যাবে । আপনার স্ত্রী আপনার কাঁধে মাথা রেখে হাঁটবে , আপনি তাঁকে শোনাবেন জান্নাতের কোন প্রেমের গান , পশু পাখি অবাক হয়ে শুনবে আপনার গান । এত সুন্দর গান কে গায় তা দেখার জন্য চাঁদটাও হয়তো উঁকি দিবে আকাশে ।

আমি আপনি কত পাগল , কত পাগল !!!

……”নারী জাতির প্রতি ভালোবাসা , সন্তান সন্ততি , কাঁড়ি কাঁড়ি সোনা রুপা , পছন্দসই ঘোড়া , গৃহপালিত জন্তু ও জমীনের ফসল মানব সন্তানের জন্য লোভনীয় করে রাখা হয়েছে । অথচ এ সবই হচ্ছে পার্থিব জীবনের কিছু ভোগের সামগ্রী মাত্র । উৎকৃষ্ট আশ্রয় তো একমাত্র আল্লাহ্‌র কাছেই রয়েছে ।

(সুরা আলে ইমরান , আয়াত -১৪)

পর্নমুভির ফ্যান্টাসি , আইটেম গার্লদের গ্ল্যামারে কোন শান্তি নেই ।  এগুলো আপনার অন্তরকে   ক্ষত বিক্ষত করে তোলে  ।  শান্তি নেই ঝুম বৃষ্টিতে ‘জিএফের” সঙ্গে একি  রিকশাতে পাশাপাশি বসে কাকভেজা হয়ে ভিজাতে, চাঁদনী  পসর রাতে হা করে জ্যোৎস্না গিলাতে । এগুলো আপনাকে ক্ষনিকের আনন্দ দিতে পারে কিন্তু শান্তি দিতে পারে না ।

 

শান্তি আছে , আল্লাহর আদেশ মেনে দৃষ্টি হেফাজত করার মধ্যে । শান্তি আছে আপনার রবকে সিজদাহ করার মধ্যে  , রবের সামনে রাতে  একাকী দাঁড়িয়ে চোখের পানি ফেলাতে । নিজের নফসের অবাধ্যতা করে রবের দাসত্ব করাতে ।  ভাই এই  শান্তি   অমূল্য । দুনিয়ার কোন  কিছুর বিনিময়ে এই শান্তি পাওয়া যায় না।  একবার এই শান্তি  পেলে আপনি বারবার চাইবেন এই শান্তি পেতে ।   একবার চেষ্টা করেই দেখুন না । একটা সপ্তাহ আল্লাহ্‌র নফরমানী না করে চোখের হেফাজত করে দেখুন না ফলাফল কি হয় ।  শান্তি না পেলে ভাল না লাগলে আবার আগের লাইফ  স্টাইলে ফিরে গেলেন । একবার তো  চেষ্টা  করে দেখবেন ।

 

“  ………অবশ্যই আল্লাহর স্মরণে হৃদয় প্রশান্ত হয়।” (আল কুর‘আনঃ সূরা ১৩, আয়াত ২৮).

শেয়ার করুনঃ