আর রিজালু বির রিজাল…

আর রিজালু বির রিজাল…

সমকামিতা। হালের আলোচিত টপিক। কারো কাছে মানবিক, স্বাভাবিক। কারো কাছে পাশবিক, বিকৃতি। কারো কাছে ‘ঘেন্নার’, তবে ‘এটাও একটা ধরন’, ওদেরও আছে সমাজে বসবাসের অধিকার, ইত্যাদি। নিজের পছন্দমত যৌনচর্চার অধিকার। কেউ তো আবার আগ বাড়িয়ে জিনগত-জন্মগত- প্রাকৃতিক প্রমাণ করেও ছেড়েছে। আজিব হ্যায় ইয়ে দুনিয়া। যা ইচ্ছে প্রমাণ করে ফেলা যায়। সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য করে ফেলা যায়। নিজের চাহিদাকে বৈধতা দেয়া কেন ব্যাপারই না। প্রতারণার যুগ, এইজ অব দাজ্জাল (দাজ্জাল অর্থ চরম প্রতারক)। সব সম্ভবের যুগ।
ডাক্তার হওয়ার জন্য ম্যালা বইপত্র পড়তে হয়েছে। ১১ টা সাবজেক্টে প্রতিটার ২ টা মেইন বই, একটা গাইড ধরলে ৩৩ টা কেতাব খতম দিয়ে লাইসেন্স মিলেছে রোগীর গায়ে হাত দেয়ার। তাই, একটা দুটো বই পড়ে আপনি যেমন খুব সহজে ‘গে জিন’ এর অস্তিত্ব বিশ্বাস করে সমকামিতা-কে ‘হাতের স্পর্শ ছাড়াই প্রাকৃতিক’ বলে বিশ্বাস করে ফেলতে পারেন। আমি পারি না। জেনেটিক্সে ‘সমকামিতা’ প্রাকৃতিকভাবে প্রোগ্রামড কি না, তা নিয়ে পক্ষ বিপক্ষ তৈরি হলেও, মেডিকেল সায়েন্সে সমকামিতার ‘অপ্রাকৃতিকতা’ নিয়ে কোনই সন্দেহ নেই।
সমকামিতা যদি প্রাকৃতিকই হয়, স্বাভাবিকই হয়; তাহলে আমাদের শরীরের গঠন তা সাপোর্ট করার কথা। আমাদের এনাটমি ও শারীরতত্ত্ব তো সমকামবান্ধব হবার কথা। সমকামের জন্য যা যা প্রয়োজন, আমাদের গঠনও তেমনটাই হবার কথা। যেহেতু এটা প্রাকৃতিক দাবি করা হচ্ছে। সমকামের সাথে যায়- এমন বৈশিষ্ট্য পায়ু-লিঙ্গে পাওয়া গেলেই তো দাবিটা সঠিক হয় যে, সমকাম সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ও সুস্থ স্বাভাবিক যৌনক্রিয়া, তাই না? যেমন ধরেন যোনির গঠনটাই এমন যে পুরো জায়গাটা—
- ঘর্ষণ উপযোগী- প্রচুর পিচ্ছিলকারী তরল তৈরির ব্যবস্থা- এসিডিক পরিবেশ, ফলে বহিরাগত জীবাণু প্রতিরোধী- প্রসারণশীল- আনন্দের অনুভূতি সৃষ্টিকারী স্নায়ুসমৃদ্ধ
এসব বৈশিষ্ট্যই প্রমাণ করে যে, যোনিপথে মিলন একটা প্রাকৃতিক ব্যাপার। অপরপক্ষে নাকের ছিদ্র বা কানের ছিদ্রে এই বৈশিষ্ট্যগুলো নেই। যা প্রমাণ করে নাকের ছিদ্রে বা কানের ছিদ্রে মিলন, চাই সেটা যত আগে থেকেই প্র্যাকটিস করা হোক না কেন, কোনভাবেই প্রাকৃতিক নয়। এমন কোন জায়গায় মৈথুন আর যা-ই হোক প্রাকৃতিক হতে পারে না। অনুপযুক্ত স্থানে অনুপযুক্ত চর্চা অবশ্যই প্রকৃতিবিরুদ্ধ এবং ‘গে-জিন’ এর রূপকথা বানিয়ে দিলেই পায়ু মৈথুনের উপযুক্ত হয়ে যাবে না। মনে রাখবেন, কোন জিনেই লেখা থাকে না যে এটা ‘গে-জিন’। বরং এগুলো ধারণা করা হয় যে, হতে পারে এই জিন এই কাজের জন্য দায়ী। কিছু ভাইয়াকে এইসব ধারণাগত বিষয়কে এত বেশি বিশ্বাস করতে দেখা যায়, যদিও তারা দাবি করে তারা না দেখে কিছু বিশ্বাস করে না। যেহেতু গে-জিন আমার আলোচ্য বিষয় না, তাই আজ এখানে তা আলোচনা করছি না। চলুন দেখি, মানবদেহের গঠন আমাদের কী বলে।
ভূমিকাঃ
আগে কিছু কথা শিখে নিই যাতে পরের কথাবার্তা বুঝা যায়। আমাদের শরীর বহু কোষের সমন্বয়ে গঠিত। একই ধরনের একাধিক কোষ ভ্রূণদশায় যদি একই উৎস থেকে তৈরি হয়, আর যদি একই ধরনের কাজ করে সেই কোষের গ্রুপকে কলা/টিস্যু (Tissue) বলে। যেমন ধরেন নার্ভটিস্যু বা স্নায়ু কলা। ভ্রূণ অবস্থায় সবচেয়ে বাইরের লেয়ার থেকে এরা উৎপন্ন হয়ে সারা দেহে বিস্তার লাভ করে এবং নার্ভ তৈরি করে। সেন্স আনা-নেয়ার কাজটাই করে। আবার ধরেন, পেশীকলা। ভ্রূণের মধ্যস্তর থেকে তৈরি হয়, সারা শরীরে ছড়ায়, মাসল তৈরি করে, ওজন নেয়ার ও হাড্ডিকে বাঁকিয়ে নানান নড়াচড়ার কাজটা করে। অনেকগুলো কলা মিলেঝিলে যখন একটা কাজ করে তাকে বলে ‘অঙ্গ’। যেমন ধরেন, হার্ট । এর মধ্যে পেশীকলা-স্নায়ু কলা-যোজক কলা- আবরণী কলা সব মিলে রক্ত পাম্পের কাজটা করে।
কলাগুলোর মধ্যে আবরণী কলাটা (Epithelium) ডিটেইলস জানা দরকার। দেহের বাইরের ও ভিতরের আবরণ তৈরী করে যে কোষরা তাদেরকে আবরণী কলা বলে। চামড়ায় আছে, মুখের ভিতরের আবরণে এরা, রক্তনালীর ভিতরের আবরণে এরা, শ্বাসনালীর ভিতরের লেয়ারটায় এরা, ফুসফুস-ব্লাডার-পেশাবের নালী, সব সব। সব ধরনের আবরণ এরা সারি সারি কোষ বসে বসে তৈরি করে। এদেরকে সাংগঠনিকভাবে একসাথে কাজের ভিত্তিতে আবরণী কলা বলে।

                                                               ফুসফুসে আঁইশাকার কোষ
এরা আবার কয়েক ধরনের। যেখানে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় অণুর আদানপ্রদান দরকার, সেখানে আছে চ্যাপ্টা চ্যাপ্টা মাছের আঁইশের মত কোষওয়ালা আবরণী কলা। যেমন ফুসফুসের শেষ মাথায় (Alveolus) যেখানে অক্সিজেন-কার্বনডাইঅক্সাইড আদানপ্রদান হবে সেখানে অন্যগুলো থাকলে হবে না, সেখানে আছে এই আঁইশাকার আবরণী কলা, যাতে লেনদেন সম্ভব হয়। আবার এগুলো আছে রক্তনালীর ভিতরের লেয়ারে, কারণ সেখানে (বিশেষত কৈশিকজালিকায়) গ্লুকোজ, এমিনো এসিড, স্নেহ পদার্থ সরবরাহ করতে হবে, আবার বর্জ্য নিতে হবে রক্তে, আদানপ্রদানের জন্য সেখানেও একস্তর আঁইশাকার কোষ (Simple Squamous Epithelium)। কেন আইশাকার? যাতে অণুগুলোকে কম দৈর্ঘ্য অতিক্রম করতে হয়। কোষের বেধ কম, আঁইশের মত।
আবার যে আবরণকে ঘর্ষণ সহ্য করতে হবে বেশি সেখানে বহুস্তর আঁইশাকার আবরণী কলা (Stratified Squamous Epithelium)। যাতে অল্প পুরুত্বে কয়েকস্তর কোষ দেয়া যায়। উপরের লেয়ার ঘষায় উঠে গেলেও (Desquamation) তলায় আরও কয়েক লেয়ার থাকে যা জীবাণু প্রতিরোধ করবে। যেমন ধরেন মুখগহ্বরের ভিতরের লেয়ারটা। গোশত-হাড্ডি চাবায়ে, লাকড়ির মত টোস্ট কুড়মুড় করে খাচ্ছেন, এই কোষগুলো আছে বলে। অন্যকোষ থাকলে সারাবছর ঘা হয়ে থাকত। আবার অন্ননালী জুড়েও এই কোষ, কারণ আমরা একদম তরল করে গিলি না, কিছুটা চিবিয়েই গিলে ফেলি, শক্ত শক্ত ।
আবার কিছু জায়গা আছে যেখানে রস উৎপন্ন করাটাই কাজ। যেমন বিভিন্ন গ্ল্যান্ড। এখানে রস বানানোর কাঁচামাল জমানো লাগবে, রস বানানোর মেশিনপত্র রাখা লাগবে, আবার বানানো রস রাখারও জায়গা লাগবে। তাই এখানে আঁইশের মত চ্যাপ্টা হলে কাজ হচ্ছে না। এসমস্ত রসের কারখানার জন্য আছে ছক্কার গুটির মত (Cube) একস্তর কোষের আবরণী কলা। কিছুটা স্পেস যাতে পাওয়া যায়। যেমন ধরেন: লালাগ্রন্থি, থাইরয়েডগ্রন্থি।

                                                           পরিপাক আবরণী কোষ (একস্তর স্তম্ভাকার)
আর যেখানে রস উৎপাদনের চেয়ে রস শোষণ মুখ্য উদ্দেশ্য। সেখানে কন্টিনিউয়াস শোষণ হতে হবে। এজন্য আরও স্পেস বেশি লাগবে। এজন্য সেখানে একস্তরবিশিষ্ট স্তম্ভাকার কোষের আবরণ (Simple Columnar Epithelium)। থামের মত লম্বা লম্বা। পুরো পরিপাক নালী জুড়ে এরা। এখানে পদে পদে উৎপাদন আর শোষণ। রস উৎপাদন করে হজম, খাবারকে সরল তরল করা আর শোষণ। এজন্য এই ধরনের কোষকে পরিপাক আবরণী কলাও (Digestive/ Gastrointestinal Epithelium)বলে। পাকস্থলী-ক্ষুদ্রান্ত্র-কোলন-মলাশয়।
যেখানে যেটা দরকার সেখানে সেটা, কোন ব্যত্যয় নেই। অবশ্য একশ্রেণীর মানুষ একে দুর্ঘটনা মনে করে। এমনি এমনিই এমন ছন্দের মত, নিখুঁত নকশা তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করে। এনারা রোবটের কাজকাম নিখুঁত হলে এঞ্জিনিয়ারের প্রশংসা করে, কিন্তু এতো অতি-আণুবীক্ষণিক লেভেলের পারফেকশন নাকি লক্ষ লক্ষ ঠাডা পড়ে নিখুঁত হয়েছে বলে তিনারা বিশ্বাস করেন।
আচ্ছা, অন্য প্রসঙ্গে না গেলাম। যে ধরনের আবরণী কলার যেটা সহ্য করার ক্ষমতা নেই, সেখানে সেটা হলে (Stress) একটা সমস্যা হয়। যেমন ধরেন, পাকস্থলীর ভিতরের আবরণে আছে স্তম্ভাকার কোষ। এরা সেখানে এসিড, শ্লেষ্মা ও অন্যান্য রসটস তৈরি করে। এখন, অন্ননালীর আবরণ আবার আঁইশাকার।

                                           মেটাপ্লাসিয়া (দেখেন স্তম্ভ কোষ কীভাবে আঁইশ হচ্ছে)
যদি কারও দীর্ঘদিন পেটের খাবার উপরে উঠে আসার সমস্যা থাকে (Reflux), তাহলে ঐ আঁইশাকার কোষগুলো এসিডের ছ্যাঁকায় ছ্যাঁকায় পরিবর্তন হয়ে স্তম্ভাকার হয়ে যায়, এই প্রক্রিয়াকে বলে মেটাপ্লাসিয়া (Metaplasia)। এটা ভালো জিনিস না, ক্যান্সারপূর্ব লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত। এই অসুখকে বলে ‘ব্যারেটস ইসোফ্যাগাস’। আবার পিত্তথলিতে পানি শোষণ ও পিত্তরস সংগ্রহ হয়, এখানে আবরণী কলা ‘স্তম্ভাকার’। যদি দীর্ঘদিন কোন পাথর থাকে, তাহলে পাথরের ঘষায় ঘষায় এখানেও মেটাপ্লাসিয়া হতে পারে। কেননা ঘষার উপযোগী তো আঁইশকার কোষ। একই কাহিনী হতে পারে পেশাবের ব্লাডারেও। আবার শ্বাসনালীতে থাকে স্তম্ভাকার কোষ যাদের কাজ শ্লেষ্মা উৎপাদন। শেষপ্রান্তে গ্যাস অণু বিনিময়ের জন্য থাকে আঁইশাকার। ধূমপানের কারণে যে ক্যান্সার হয় তা মূলত নিকোটিনের কারণে না, তামাকের অন্যান্য উপাদানের কারণে, যেমন টার, বেনজিন। এসব কেমিক্যাল সহ্য করা স্তম্ভাকার কোষেরও কাজ নয়, একস্তর আঁইশেরও কাজ নয়।

                                           বামে শ্বাসনালীর মূল স্তম্ভ কোষ, ডানে আঁইশাকার ক্যান্সার কোষ
কেমিক্যাল সহ্য করতে চাই ত্বকের মত বহুস্তর আঁইশাকার কোষ, তাও আবার উপরে থাকতে হবে জড় কেরাটিন স্তর। ফলে এখানেও হবে মেটাপ্লাসিয়া। এবং ক্যান্সারে রূপ নেবে যদি কেমিক্যাল টর্চার চলতেই থাকে। স্তম্ভগুলো আঁইশে রূপান্তরিত হয়ে যে ক্যান্সার হবে তাকে বলে ‘আঁইশাকার কোষ ক্যান্সার’ (Sqamous Cell Carcinoma, SCC)। আর আঁইশগুলো ঘনকাকার হয়ে যে ক্যান্সার হবে তার নাম ‘ঘনকাকার কোষ ক্যান্সার’(Small Cell Carcinoma)। আশা করি এতটুকু ক্লিয়ার।

                                                   যোনির ভিতরের আবরণ (মাল্টিলেয়ার আঁইশ কোষ)
এবার মূল আলোচনা শুরু। পয়লা আমরা যোনিপথের (Vagina) গঠন দেখব। এটা একটা নালী বা টিউবের মত অঙ্গ। স্বাভাবিক অবস্থায় এর দৈর্ঘ্য থাকে ২.৭৫ ইঞ্চি থেকে ৩.২৫ ইঞ্চি। আর নারীর উত্তেজিত অবস্থায় বেড়ে দাঁড়ায় ৪.২৫-৪.৭৫ ইঞ্চি। [1] পুরো যোনিপথ তো বটেই, সেই সাথে পুরুষাঙ্গ যেখানে গিয়ে ধাক্কা দিতে পারে, মানে সারভিক্সের যে অংশ যোনিপথের দিকে বেরিয়ে থাকে (Ectocervix), সে অংশও মাল্টিলেয়ার আঁইশ কোষে আবৃত (ঘর্ষণ উপযোগী)। যদিও মূল সারভিক্সের (Endocervix) আবরণ একস্তর স্তম্ভ কোষের [2]। বামের ছবিতে দেখুন যোনিপথ ও বহিঃসারভিক্সের মাল্টিলেয়ার আঁইশ কোষ দেখা যাচ্ছে।

                                      বহিঃসারভিক্স ও যোনির আবরণ মাল্টিলেয়ার আঁশ কোষ ঘর্ষণ উপযোগী
উপরের ছবিতে দেখুন জরায়ুর একটা অংশ যোনিপথের দিকে বেরিয়ে আছে। ঐ অংশটাও (বহিঃসারভিক্স) যোনিপথের মত একই ঘর্ষণযোগ্য মাল্টিলেয়ার আঁইশ কোষ আবরণ দিয়ে আবৃত।

                                                                     পায়ুপথ ও মলদ্বার
এবার, পায়ুর গঠনটা দেখি চলেন। ছবিটা দেখতে হবে খুব ভালো করে। পায়ু একটা নালী (Tube)। মাঝখান থেকে লম্বালম্বি চিরে ফেললে এমন দেখাবে। ছোট ছোট ঢেউয়ের মত কাল দাগ দেয়া আছে দেখেছেন? ঐ বর্ডার থেকে লোমওয়ালা বর্ডার পর্যন্ত এলাকাটা হল ‘পায়ুপথ’ (Anal canal), মাত্র ৪ সে.মি. (৩-৫ সেমি) [3]। এই এলাকাটুকু মার্ক করে ‘Anoderm’ লেখা আছে, মানে হল এখানে আবরণ আমাদের চামড়ার মতই, কেবল লোম-ঘামগ্রন্থি এসব নেই। এর উপর থেকে রেক্টাম বা মলাশয় শুরু। মানে হল কালো ঢেউ ঢেউ দাগের নিচের টুকু জড় কেরাটিন যুক্ত মাল্টিলেয়ার আঁইশাকার কোষের আবরণ (ত্বকের মত), আর উপরের অংশ রেক্টামে একস্তর স্তম্ভটাইপ কোষের আবরণ (পৌষ্টিকনালীর বাকি অংশের মত)[4]

                                                 মলদ্বার ও পায়ুপথের আবরণী হঠাৎ পরিবর্তন
উপরের  ছবিতে তীর চিহ্নিত অংশে লক্ষ্য করুন, আবরণ হঠাৎ বদলে গেছে। বাম পাশে গোল গোল শ্লেষ্মাগ্রন্থি বিশিষ্ট পরিপাক আবরণী (digestive epithelium), আর ডানে মাল্টিলেয়ার আঁইশ টাইপ কোষ। বামে রেক্টাম, আর ডানে পায়ুপথ। আগের ছবিতে দেখেন সুপরিসর রেক্টাম থেকে বেশ চিকন পায়ুপথে মল আসার সময় বেশ ঘর্ষণের ঘটনা ঘটে, তাই মাল্টিলেয়ার আঁইশ দেয়া হয়েছে। এখন আমার কথা হলঃ
১.
এখানে আমরা দেখলাম, পায়ুপথের মাত্র ৪-৫ সেমি জায়গা ঘর্ষণ উপযোগী। পরের এলাকাগুলো মোটেও ঘর্ষণ উপযোগী নয়। পুরুষের গড় উত্থিত লিঙ্গের দৈর্ঘ্য ৫ ইঞ্চি, আমরা এক ইঞ্চি কমিয়ে ধরলাম। ৪ ইঞ্চি মানে ১০ সেমি। মানে লিঙ্গের বাকি ৫ সেমি গিয়ে আঘাত করবে রেক্টামের স্তম্ভাকার কোষের আবরণে, যা ঘর্ষণের জন্য অনুপযোগী। আর আমরা আগেই দেখেছি যে কাজের জন্য যা উপযোগী না, সেখানে সে কাজ হলে মেটাপ্লাসিয়া ঘটে। কোষের ধরন বদলে যায়, যা উপযুক্ত পরিবেশে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে। সমকামীদের মলদ্বারের ক্যান্সারের ঘটনা সাধারণ মানুষের চেয়ে ২০ গুণ বেশি। [5] আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি জানাচ্ছে, পায়ুমিলন পায়ুক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়ায়। আরও বেশি সম্ভাবনা বাড়ে সমকামী পায়ুমিলনে।[6]
২.
যেহেতু এমন জায়গায় গিয়ে আঘাত হচ্ছে যা একস্তরী স্তম্ভ কোষ, মাল্টিলেয়ার না। ফলে প্রতিবার সেক্সে ইনজুরি হবেই। আবরণী ক্ষতিগ্রস্ত হবেই। ফলে এইডস ভাইরাস, প্যাপিলোমা ভাইরাস ইনফেকশন ছড়ায় দ্রুত। এইডস তো এইডস-ই, আর প্যাপিলোমা ভাইরাস-ই মূলত ৮০-৯০% মলদ্বারের ক্যান্সারের জন্য দায়ী [7]
৩.
টিউমার-এর খারাপ জাতটাকেই (malignant) বলে ক্যান্সার। টিউমার বড় হতে সাহায্য করে আমাদের দেহে উৎপন্ন প্রোস্টাগ্লান্ডিন (PG) নামক কেমিক্যাল গ্রুপের PGE2 ও PGF2. আর টিউমার তৈরি শুরু হতে সাহায্য করে PGE2, PGF2, ও PGE1. এবং এই ৩ ধরনের PG-ই অত্যধিক পরিমাণে আছে বীর্যে। দেহস্থ অন্য যেকোন রস বা টিস্যুর চেয়ে বেশি। [8] মানে বীর্য সহ্য করার ক্ষেমতাও পায়ুর নেই, যা জরায়ুর আছে।
৪.
এবার একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মতামত তুলে ধরব। ডাক্তার Stephen E. Goldstone, MD সাহেব Mount Sinai School of Medicine, New York এ assistant clinical professor হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এবং তিনি gayhealth.com এর মেডিকেল ডিরেক্টর। তিনি ২০০০ সালের American Society of Colon and Rectal Surgeons এর বার্ষিক সম্মেলনে বলেন, ১৯৯৭ সালের আগে আমি আমার পুরো ক্যারিয়ারে একটা পায়ু ক্যান্সারের রোগী পেয়েছি। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত আমি আমার চেম্বারে রেফার হয়ে আসা ২০০ পুরুষ রোগীর ডাটা সংগ্রহ করি। এদের সবাই নন-ক্যান্সার সমস্যা নিয়ে এসেছিল। এদের ৬৬% ছিল এইচআইভি পজেটিভ। বায়োপসি করে পেলাম, এদের ৬০% এর হাইগ্রেড আঁইশ কোষের টিউমার ক্যান্সার যা এখনও ছড়িয়ে পড়েনি (high-grade squamous intraepithelial lesions (HSIL) আর ৩% এর পেলাম ছড়িয়ে পড়া (invasive) ক্যান্সার। যদিও এদের কারোরই ক্যান্সারের লক্ষণ প্রকাশ পায়নি। [9] ফাইনালি তিনি সিদ্ধান্ত দেন, সমকামী পুরুষেরা পায়ুপথের যেকোন সমস্যা নিয়ে এলেই তাদের গভীর পরীক্ষা (aggressive screening) করা দরকার। হতে পারে ভিতরে ক্যান্সার-পূর্ব আরও মারাত্মক কোন সমস্যা লুকিয়ে আছে।
৫.
পায়ুপথের অধিকাংশ ক্যান্সার Adenocarcinoma টাইপ, মানে গ্ল্যান্ড টাইপ। আঁইশকোষ ক্যান্সার (Sqamous Cell Carcinoma, SCC) খুব বিরল। কিন্তু অধুনা এই আঁইশকোষ ক্যান্সার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান University of California-র professor of clinical pathology জনাবা Teresa M. Darragh, MD ও associate director for gynecologic pathology জনাবা Barbara Winkler, MD.[10]
এই ক্যান্সার হচ্ছে ঠিক যে জায়গায় স্তম্ভাকার-টু-আঁইশাকার চেঞ্জটা হয়েছে তার সংলগ্ন উপরের অংশে যেখানে পুরোটাই স্তম্ভকোষ (squamo-columnar junction with the rectal columnar mucosa)। তাঁরা বলেন, পায়ুমৈথুনে (receptive anal intercourse) আঘাত-ইনজুরি-মেরামত চলতে থাকে, যা মেটাপ্লাসিয়া প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। (In this area of transition, there is active changeover of columnar epithelium to squamous epithelium through the process of squamous metaplasia. This process is accelerated by trauma, healing, and repair such as might be expected to occur with receptive anal intercourse.)

                                                                   পায়ুপথ ও মলদ্বার
আবার দিলাম ছবিটা। কালো জিগজ্যাগ দাগটা হল সেই জাংশন। এর উপরে শার্পলি স্তম্ভকোষ শুরু, নিচে শার্পলি মাল্টিলেয়ার আঁইশ কোষ শুরু। দাগের ঠিক উপরের জায়গাটাতেই মেটাপ্লাসিয়া বেশি হয় আমরা জানলাম, সমকামীদের ক্ষেত্রে। দেখেন এই জায়গাটা বাকি রেক্টামের চেয়ে উঁচু, লম্বা লম্বা ভার্টিকাল ভাঁজ আছে । মানে ঘষা এখানে লাগে বেশি, বাকি রেক্টামের চেয়ে। যা ঘষা লাগার জন্য তৈরি হয়নি, তাতে ঘষা লাগতে লাগতে একসময় তাই ঘটে যা আমরা আগে বলেছি—মেটাপ্লাসিয়া। এই মেটাপ্লাসিয়া থেকে হচ্ছে এই ক্রমবর্ধমান হারে আঁইশ কোষ ক্যান্সার।

                                                           উপরের নীল আর নিচের নীল মিলিয়ে দেখুন
৬.
এবার উপরের ছবির নীল রঙের জায়গাটা লক্ষ্য করুন। নীল যেগুলো দেখছেন, এগুলো শিরা, উচু জায়গাটাকে বলে ‘কুশন’ (coushion)। এখানে যে বিখ্যাত অসুখটা হয়, তার নাম আপনারা সবাই জানেন— পাইলস (haemorrhoid)। দেখুন, ঐ নীল অংশটাই বেড়ে গোটার মত হয়েছে।

                                   দুটো ভিন্ন রক্ত পরিবহন সিস্টেমের মিলনস্থল (Porto-systemic anastomosis)
পায়ুর এই জায়গাটা অতিমাত্রায় রক্তনালীসমৃদ্ধ। দুটো ভিন্ন রক্ত পরিবহন সিস্টেমের মিলনস্থল এটা (Porto-systemic anastomosis)। আবরণীর নিচেই রয়েছে প্রচুর রক্তজালক (venous plexus)। আঘাত/ঘর্ষণের জন্য এ জায়গাটা মোটেই নিরাপদ না। আসলে এই শিরাজালিকা চওড়া হয়ে ও মোটা হয়ে ঝুলে পড়ে হয় পাইলস। পাইলসের কারণগুলো যদি আমরা দেখিঃ [11]
- শিরা থেকে কম রক্ত ব্যাক করাঃ দীর্ঘসময় টয়লেটে বসে থাকা, গর্ভাবস্থা, পায়ুপেশীর অধিক সংকোচন- কোষ্ঠকাঠিন্য - পেটে অধিক চাপ দেয়া- গর্ভাবস্থা- পারিবারিক ইতিহাস- Lack of erect posture- Familial tendency- Higher socioeconomic status- Chronic diarrhea- Colon malignancy- Hepatic disease- Obesity- Elevated anal resting pressure- Spinal cord injury- Loss of rectal muscle tone- Rectal surgery- Episiotomy- Anal intercourse *****- Inflammatory bowel disease, including ulcerative colitis, and Crohn disease  
তাহলে দেখা গেল পাইলসের একটা কারণ হল পায়ুসঙ্গম। পায়ুসঙ্গম নিজেই অনেকগুলো রোগের কারণ। এটা ন্যাচারাল বিহেভিয়ার হলে তা এতো অসুখবিসুখের কারণ হবে কেন? ন্যাচার সাপোর্ট করে না বলেই তো এত সমেস্যা। ন্যাচারের বিরুদ্ধে যায় বলেই তো ন্যাচার বিদ্রোহ করে।
৭.
রয়টার্সের রিপোর্ট। ৬১৫০ জন নরনারীর ডাটা বিশ্লেষণ করলেন গবেষকগণ। এদের ৩৭% মহিলা একবার হলেও পায়ুসঙ্গম করেছেন। আর ৫% পুরুষ পাওয়া গেল যারা একবার হলেও পায়ুসঙ্গম করেছেন। প্রধান গবেষক Dr. Alayne Markland, University of Alabama জানান, পায়ুসঙ্গমের সাথে ‘পায়খানা ধরে রাখতে না পারা’র (fecal incontinence) সম্পর্ক আছে। এবং সেটা মেয়েদের চেয়ে পুরুষের ক্ষেত্রে বেশি। এই ৩৭% মহিলার ৫০% এরই মাসে একবার হলেও fecal incontinence হয়, মানে কাপড় নষ্ট হয় আর কি। আর পুরুষের ৩ গুণ বেশি হয় এই দুর্ঘটনা, প্যান্ট ভরায়ে ফেলে। [12]

                                                                      লিঙ্গের প্রস্থচ্ছেদ
৮.
পিরোনীজ ডিজিজ (Peyronie’s Disease) নামে একটা অসুখ আছে। গবেষকগণ মনে করেন, লিঙ্গে ইনজুরি হয়ে লিঙ্গের অভ্যন্তরে রক্তপাত হতে পারে। অনেকসময় ইনজুরি লক্ষ্য করার মত না-ও হতে পারে, তবে ভিতরে রক্তপাত হয়ে থাকে [13]। কারণ লিঙ্গ কোন মাংসপেশী নয়। এটা বিশেষ একধরনের স্পঞ্জের মত টিস্যু যার ভিতরে রক্ত প্রবেশ করে তা শক্ত হয়। আবার রক্ত বেরিয়ে গেলে নরম হয়ে পড়ে। নিচের ছবি দুটো দেখুন। CC-CS লেখা জায়গাগুলো স্পঞ্জের মত রক্ত ধরে রাখে, ফলে শক্ত হয়।

                                                                          লিঙ্গের প্রস্থচ্ছেদ
অত্যধিক পরিমাণে রক্তনালী থাকার কারণে সামান্য ইনজুরি হলেও রক্তক্ষরণ হতেই পারে, আপনার অজ্ঞাতেই। ফলে সেখানে তৈরি হয় স্কার (বাংলায় ‘চল্টা’ বলা যেতে পারে), এদের বলা হয় ‘প্লাক’। ফলে লিঙ্গ বেঁকে যেতে পারে বা এবড়োখেবড়ো হয়ে যেতে পারে। কারো কারও প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে, এমনকি লিঙ্গ উত্থিত হবার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলতে পারে। জানাচ্ছে American Urological Association.[14] Southern Illinois University-র urologist Tobias Köhler, M.D. সাহেব জানাচ্ছেন ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকাকে, বেশি চাপ দিয়ে হস্তমৈথুন করলে হতে পারে এই অসুখটা [15]। তার মানে সামান্য এই ‘হাতের চাপেই’ রক্তক্ষরণ হয়ে যেতে পারে লিঙ্গের ভিতরে, কেউ তো আর কিল-ঘুষি দিয়ে মাস্টারবেশান করে না। বিছানা বা বালিশে ঘষাঘষি তো আরও মারাত্মক ব্যাপার। নিচের টেবিলটা খেয়াল করুনঃ
(ছবির ১ নং রেফারেন্স [16] ছবির ২ নং রেফারেন্স [17] ছবির ৩ নং রেফারেন্স [18])
167 mm Hg মানে 22264.8 প্যাসকেল চাপ। অর্থাৎ ৩.২২ পাউন্ড ওজন এক বর্গইঞ্চিতে যে পরিমাণ চাপ দেয়। মানে ১.৪৬ অর্থাৎ প্রায় দেড় কেজি একটা বাটখারা লিঙ্গে বেঁধে দিলে যে চাপ অনুভব হবে অতখানি চাপ দেয় মলদ্বার সংকোচন (লিঙ্গের গোড়ার ক্ষেত্রফল এক বর্গইঞ্চি ধরেছি)। অনেক প্রেসার। লিঙ্গের মত সেন্সিটিভ অঙ্গের জন্য এটা অনেক প্রেসার। লিঙ্গ প্রবেশনের জন্য মলদ্বার খুবই রিস্কি জায়গা। মলদ্বারের চাপ নেবার মত ক্ষমতা নেই পুরুষাঙ্গের। আর স্কুইজ ছাড়া সারাক্ষণ প্রেসার থাকে ৭৭০ গ্রাম ওজন ঝুলিয়ে দিলে যেমন লাগবে, তেমন। হস্তমৈথুনেও এত চাপ দেয়া হয় না। নিঃসন্দেহে পেনিসে ইনজুরি হতেই হবে। পেনিস আর মলদ্বারে ইনজুরি না করে সমকাম করা অসম্ভব।
আমরা পায়ুপথে আঙুল দিয়ে একটা পরীক্ষা করি (Digital Rectal Exam, DRE)। তখন টের পাওয়া যায়, কত শক্তভাবে মলদ্বার চাপ দেয়। এছাড়া একটা স্বয়ংক্রিয় সংকোচন আছে মলদ্বারের যাকে বলে Anal Reflex/Anal wink. অর্থাৎ পায়ুর আশেপাশের ত্বকে কোন খোঁচা/ চিমটি দিলে পায়ু সংকোচন হয়। [19] পায়ুমৈথুনে এই চাপ অতিক্রম করে চাপের বিরুদ্ধে লিঙ্গ প্রবেশ ও চালনা করাতে হয়। আবার ভিতরেও রেস্টিং প্রেসারের বিপরীতে লিঙ্গচালনা করতে হয়। সেখানে প্রচুর শিরাজালকের উপস্থিতিও আমরা দেখলাম। মোদ্দাকথা লিঙ্গ ও পায়ুর দৃশ্যমান কিংবা অদৃশ্যমান ইনজুরি না করে পায়ুমৈথুনের কোন সুযোগই নেই।
এজন্যই পায়ুমৈথুনে ২০ গুণ বেশি এইডসের সম্ভাবনা । আর এই রিস্ক আরও বাড়ে যদি আগে থেকেই রেক্টামে কোন ইনফেকশন থাকে [20]। আর আমরা দেখলাম, ইনজুরি ছাড়া পায়ুমৈথুন অসম্ভব। এক তো আবরণ ঘর্ষোণোপযোগী না, সিঙ্গেল লেয়ার, তার উপর আবার প্রেসার বেশি, ইনপুট প্রেসারও দিতে হবে বেশি, আবার রক্তজালিকা বেশি। তার উপর এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ জীবাণু প্রজাতি E. coli যারা রক্তে এন্ট্রি পেলেই ইনফেকশন করে।
৯.
যোনিপথের Skene’s ও Bartholin’s গ্রন্থি থেকে প্রচুর পিচ্ছিল তরল নির্গত হয়। একজন মহিলার কোন উত্তেজনা ছাড়াই প্রতিদিন ১.৫ গ্রাম তরল বের হয়। আর উত্তেজিত হলে তা বহুগুণে বেড়ে যায় (arousal fluid)। আর অর্গাজমের সময় তা আরও বৃদ্ধি পায় [21]
যোনিপথের মত পায়ুতে যথেষ্ট পিচ্ছিলকারকের উৎপাদনও নেই, ফলে প্রচুর লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করতে হয়। অনেক বিজ্ঞ সমকামী ভাইয়া বলতে পারেন, জেলী ব্যবহার করলেই তো আর আঘাত-ঘর্ষণের ফলে ইনজুরি আর হলো না। আচ্ছা, ২০১০ সালে International Conference on Microbicides এ ২ টা গবেষণা উপস্থাপন করা হয়। ৪৭ টি দেশের সহস্রাধিক মাইক্রোবায়োলজিস্ট অংশ নেন। এই দুটি রিপোর্টের সারমর্ম হল, পায়ুকামে জেলী (lubricants) ব্যবহারে এইডসের রিস্ক আরও বাড়ে [22]। একটিতে বাল্টিমোর ও লস এঞ্জেলসের ৯০০ পুরুষ ও মহিলার ডেটা নেয়া হয়। গবেষকগণ দেখেন, যারা জেলী ব্যবহার করে তারা ৩ গুণ বেশি যৌনবাহিত রোগের (rectal sexually transmitted infections) ঝুঁকিতে আছে। আরেকটা স্টাডি বলছে, জনপ্রিয় জেলীগুলোকে ল্যাবে নিয়ে দেখা গেছে, সেগুলোর অনেকগুলো রেক্টাল কোষের জন্য মরণঘাতী (toxic)। যার ফলে এগুলো ব্যবহারে এইডসের ভাইরাসের প্রবেশ হয় আরও সহজ। এমনকি পুরুষ না কি নারী, এইডস আছে না কি নেই, কোন শহরে থাকে, কনডম ইউজ করে কি না, গত মাসে কতজন যৌনসঙ্গীর সাথে মিলিত হয়েছে— এই সবগুলো ফ্যাক্টরকে সমান সমান নিয়েও দেখা গেছে, পায়ুমৈথুনের (receptive rectal intercourse) আগে জেলী (lubricant) ব্যবহার করার সাথে পায়ুর যৌনবাহিত রোগের সম্পর্ক জোরালোই রয়ে গেছে। (Even after controlling for gender, HIV status, city, condom use, and number of sex partners in the past month, the association between use lubricant before receptive rectal intercourse and rectal STIs remained strong) জানাচ্ছেন গবেষকদলের প্রধান Dr Pamina Gorbach যিনি School of Public Health এবং University of California, Los Angeles-এর David Geffen School of Medicine-এর একজন চিকিৎসক।
University of Pittsburgh ও Magee-Womens Research Institute এর Charlene Dezzutti, Ph.D এর নেতৃত্বে পরিচালিত আরেকটা গবেষণার রিপোর্টে বহুল প্রচলিত ৬ টা জেলী নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে,
- এতে অনেক বেশি পরিমাণে লবণ ও শুগার থাকে যা কোষের পানি টেনে নেয়। ডিহাইড্রেশান হয়ে মারা যায় আবরণী কোষ। ইনফেকশনের জায়গা করে দেয়।- আবার কোনটা পায়ুর ভালো ব্যাকটেরিয়ার পুরো বসতিই জ্বালিয়ে দেয়। ফলে খারাপ ব্যাকটেরিয়া আসার সুযোগ পায়।   
মোটকথা, যোনিতে যেখানে প্রচুর লুব্রিক্যান্ট ক্ষরণের ব্যবস্থা আছে, সে তুলনায় পায়ুতে প্রায় জিরো। লুব্রিক্যান্ট নিয়েও শেষরক্ষা নেই, ইনফেকশান হবেই। কেননা আগেই দেখেছি, কেমিক্যাল সহ্য করার জন্য চাই মাল্টিলেয়ার আঁইশ কোষের আবরণ। রেক্টামের একস্তর স্তম্ভকোষ মারা যাবে অহেতুক কেমিক্যাল টর্চারে।
সামারিঃ
মেয়েদের সমকামিতায় প্রবেশন (penetration) নেই বলে একে প্রকৃত মিলন বলা হয় না, তাই আজকের আলোচনায় জায়গা পায়নি। আর পুং সমকামিতা ছাড়াও নারীর সাথে পায়ুমৈথুনও আমাদের আলোচনার আওতায় এসেছে। মোদ্দাকথা, মানবদেহের প্রাকৃতিক গঠন সমকামিতার বা পায়ুমিলনের সাথে যায় না, এটা স্বাভাবিক প্র্যাকটিস না। কোনভাবেই প্রাকৃতিক তো নয়ই, বরং প্রকৃতিবিরুদ্ধ, যার বহিঃপ্রকাশ প্রাণঘাতী রোগ উৎপাদন (disease process).
আমরা ফরেনসিক মেডিসিন বইয়ে ‘প্রকৃতিবিরুদ্ধ যৌন অপরাধ’ (Unnatural Sexual Offence) অধ্যায়ে সমকামিতা, পশুকামিতা এসব পড়েছি, ইন্ডিয়ান রাইটারের লেখা বই। আজ ইন্ডিয়া সমকামিতার মত ‘প্রকৃতিবিরুদ্ধ যৌন অপরাধ’-কে অপরাধের লিস্ট থেকে উঠিয়ে দিলেই এর প্রকৃতিবিরুদ্ধতা চলে যাবে, প্রকৃতিবান্ধব হয়ে যাবে, তা না। যা টের পাবে প্রতিটি সমকামী তাদের জীবনের কোন এক পর্যায়ে। ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর প্রহর গুণবে আর স্মরণ করবে সেই সব অগ্নিঝরা দিনগুলোর কথা, আর অপেক্ষা করবে সামনের অগ্নিঝরা ভবিষ্যতের।
আর তিনারাই তো বিশ্বাস করেন— সারভাইভাল ফর দ্য ফিটেস্ট। পায়ুমিলনে তো ফিটেস্ট কোন প্র্যাকটিস না, প্রজাতির ধারা রক্ষায় এর কোন ভূমিকা নেই। সমকামীরা সামাজিক ও নৃতাত্ত্বিকভাবে আনফিট। মানবসমাজ ও মানবপ্রজাতি রক্ষায় তাদের কোন ভূমিকা নেই। এখন এই আনফিট অংশ মানবপ্রজাতির জন্য অপচয়, ওয়েস্টেজ। আগে হলে হিটলার ও স্ট্যালিন ‘সোশ্যাল ডারউইনিজম’ (আনফিট জনসংখ্যাকে সমাজ থেকে ঝেড়ে ফেলা) এপ্লাই করত। ভবিষ্যতে এরাও একা একাই বিলুপ্ত হয়ে যাবে, তবে সমাজে যেন এদের প্রভাব না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখা দরকার। সমকামিদের প্রতি ইসলামের বিধান এজন্যই দেয়া হয়েছে, যাতে এই ভয়ংকর আনন্যাচারাল রোগ সমাজে ছড়াতে না পারে। টপ ও বটম দুজনকেই হত্যা করার বিধান দেয়া হয়েছে, কেননা একজন বেঁচে থাকলেই সে আরেকজনকে প্ররোচিত করবে। ইসলামী শাসনব্যবস্থা না থাকায় এই ভয়াবহ অপরাধীদের থাবা থেকে সমাজ আজ নিরাপদ নয়। প্রতিকার সম্ভব নয় বলে আমাদের প্রতিরোধ করতে হবে এই ঘাতক ব্যাধি। আমার আপনার সন্তান যেন এই অপরাধের শিকার না হয়, এই ব্যাধিতে আক্রান্ত না হয়। নোট বেশি বড় হয়ে যাচ্ছে বলে আলোচনা এখানেই শেষ করছি। সমকামিতা প্রতিরোধ, কারণ, করণীয় সম্পর্কে একজন যুগসচেতন আলিমের লেখা আশা করছি। এ বিষয়ে আমার মনের কথাগুলো আমি চাই একজন আলিম বলুক। কিছু বিষয়ে কথা বললে নিজের গায়েই থুথু এসে পড়ে। আত্মসমালোচনার দিক দিয়ে উলামাদের লেখনী এ বিষয়ে আরও ভারসাম্যপূর্ণ হবে ইনশাআল্লাহ।
শেষকথাঃ
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিখ্যাত হাদিসটা মনে আছে না তাবারানী শরীফের সূত্রেঃ হে ইবনে মাসঊদ, কিয়ামাতের আলামত ও শর্তগুলো হল— এরপর আল্লাহর রাসূল একের পর এক কিয়ামাতের আলামাতসমূহ উল্লেখ করতে থাকেনঃ
- শিশুরা হয়ে যাবে ক্ষিপ্ত, দুর্ব্যবহারকারী- বৃষ্টি হবে জ্বালাময় (এসিড রেইন)- মানুষ যোগাযোগ করবে থালার সাহায্যে (ডিশ এন্টেনা)- এজন্য আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট হবে- বাদ্যযন্ত্র থাকবে মানুষের মাথার উপর (হেডফোন)- তাদের হৃদয়ে ফিতনা প্রদর্শন করা হবে ‘ম্যাট’ এর মত (টিভি) - নেতৃত্ব থাকবে সমাজের নিকৃষ্ট লোকদের হাতে- চোরকে সাধু ও সাধুকে চোর মনে করা হবে- মুমিনকে ছাগলের চেয়েও বেইজ্জত করা হবে- তাদের চুল থাকবে ‘বুখতি উট’ এর মত (Bactrian Camel)- আধুনিক ঘোড়া কাট
ভাবার্থ বললাম, এরকম আরও কিছু লক্ষণ উল্লেখ করেন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তার মধ্যে একটা ছিল— আর রিজালু বির রিজাল, ওয়ান নিসাউ বিন নিসা। পুরুষ পুরুষের সাথে মিলিত হবে, আর নারী নারীর সাথে।
১৪০০ বছর আগেই নবীজীকে জানানো হয়েছিল, কওমে লুত (আঃ) যেমন অফিসিয়ালি সমকাম প্র্যাকটিস করত, ১৪০০ বছর পরে তেমনি অফিসিয়ালি আবার ফিরে আসবে সেই ঘৃণ্য পাপাচার। কী? টেনশন? টেনশন লেনেকা নেহি, স্রেফ দেনে কা হ্যায়। বিজয় ঈমানওয়ালাদেরই হবে নিশ্চিত। সে বিজয়ে আমার কী অবদান রইল, সেটাই টেনশনের বিষয়।
সুবহানাল্লাহ।
সাদাকা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
আলহামদুলিল্লাহি আলা দীনিল ইসলাম।
লেখক- ডাঃ শামসুল আরেফীন
রেফারেন্সঃ
[1] https://www.webmd.com/women/features/vagina-size#1
[2] Junqueira's Basic Histology - Text and Atlas (13th Ed), Page 1031, 1034
[3] https://emedicine.medscape.com/article/1990236-overview
[4] Junqueira's Basic Histology - Text and Atlas (13th Ed), Page 709-710 
[5] Daling, J., Weiss, N., Hislop, T., Maden, C., Coates, R., Sherman, K., et al. (1987). Sexual practices, sexually transmitted diseases, and the incidence of anal cancer. The New England Journal of Medicine, 317(16): 973–7.অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন অব এইডস অর্গানাইজেশান এর সাইট (https://www.afao.org.au/article/gay-men-anal-cancer/#n17)
[6] https://www.cancer.org/cancer/anal-cancer/causes-risks-prevention/risk-factors.html 
[7] ঐ আর্টিকেলেই আছে। বরাতঃ International Journal of Cancer এর দুইটি রিসার্চ পেপার। (1) De Vuyst, H., Clifford G., Nascimento, M., Madeleine, M., Franceschi, S. (2009). Prevalence and type distribution of human papillomavirus in carcinoma and intraepithelial neoplasia of the vulva, vagina and anus: a meta-analysis. International Journal of Cancer, 124(7), 1626–36.(2)  Hoots, B., Palefsky, J., Pimenta, J., Smith, J. (2009). Human papillomavirus type distribution in anal cancer and anal intraepithelial lesions. International Journal of Cancer, 124(10), 2375–83.
[8] Journal of American Medical Association (JAMA) এর 
[9] http://www.cancernetwork.com/gastrointestinal-cancer/anal-cancer-incidence-rising-homosexual-men
[10] http://www.captodayonline.com/Archives/pap_ngc/NGC_analrectalcyto.html 
[11] https://emedicine.medscape.com/article/775407-overview#a6 
[12] American Journal of Gastroenterology, published online January 12, 2016 এর বরাতে রয়টার্স https://www.reuters.com/article/us-health-analsex-incontinence-idUSKCN0VD2RH
[13] https://www.webmd.com/men/peyronies-disease#1 
[14] https://www.urologyhealth.org/urologic-conditions/peyronies-disease
[15] https://nypost.com/2016/02/01/if-this-happens-to-you-youre-masturbating-too-much/
[16] https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3968922/ 
[17] https://obgyn.onlinelibrary.wiley.com/doi/abs/10.1034/j.1600-0412.2001.801003.x
[18] https://www.researchgate.net/figure/Recordings-of-vaginal-squeeze-pressure-measured-by-fiberoptic-microtup-transducer_fig1_286686766
[19] https://www.ncbi.nlm.nih.gov/books/NBK424/
[20] https://www.sciencedaily.com/releases/2010/05/100525094900.htm
[21] Lentz, Gretchen M. (2012). Comprehensive Gynecology (6th ed.). Philadelphia, PA: Elsevier. pp. 532–533.
[22] https://www.sciencedaily.com/releases/2010/05/100525094900.htm 
শেয়ার করুনঃ
আপেক্ষিক নৈতিকতা ও পেডোফিলিয়া

আপেক্ষিক নৈতিকতা ও পেডোফিলিয়া

কিছুদিন আগে টিএসসির ভাইরাল হওয়া ছবির প্রসঙ্গে বলেছিলাম নৈতিকতার মানদন্ডের গুরুত্বের কথা। কোন মানদন্ডের ওপর ভিত্তি করে আমরা কোন কিছুকে ভালো বা খারাপ বলবো? আমরা কি মানদন্ড হিসেবে নেবো প্রচলন, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা কিংবা কোন নির্দিষ্ট অঞ্চল বা জাতির ঐতিহ্য বা সংস্কৃতিকে? নাকি একটি সুনির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয় মানদন্ড থাকতে হবে। বলেছিলাম – ইসলামের বদলে সামাজিকতা, গ্রহণযোগ্যতা ও ঐতিহ্যকে মানদন্ড হিসেবে নিলে পশ্চিম থেকে আমাদের দিকে এগিয়ে আসা প্রচন্ড ও সর্বব্যাপী নৈতিক অধঃপতনের স্রোতের মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না। সময়ের সাথে বদলাতে থাকা নৈতিকতার কম্পাস বাঁধ দিতে পারে না, বরং অধঃপতন আর অবক্ষয়ের কারণ হয়ে ওঠে। পাবলিক পারসেপশান বদলায়, খুব দ্রুতই বদলায়। এক প্রজন্মের কাছে যা অকল্পনীয়, অন্য প্রজন্মের কাছে তাই হয়ে ওঠে স্বাভাবিক। গত এক শতাব্দী জুড়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পাবলিক পারসেপশান এবং জনমত পরিবর্তনের কাজ করে আসছে ম্যাস মিডিয়া। আধুনিক প্রপাগ্যান্ডার জনক এবং আনসাং হিরো ( বা অ্যান্টিহিরো) এডওয়ার্ড বারনেইস তার বই “প্রপাগ্যান্ডা”-তে মিডিয়ার মাধ্যমে সোশ্যাল এঞ্জিনিয়ারিং এর ধাপগুলো তুলে ধরেছেন খুব সহজবোধ্য ও খোলামেলাভাবে।
.
একটা বাস্তব উদাহরণ দেই। গত সপ্তাহ দুয়েক ধরে ধরে ইন্টারনেটে একটা বিষয় নিয়ে তুলকালাম হচ্ছে। জনপ্রিয় মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম TEDxTalk এর একটি পর্বে মিরজাম হেইন নামে একজন জার্মান মেডিক্যাল স্টুডেন্ট বলেছে – পেডোফিলিয়া বা শিশুকাম একটি অপরিবর্তনীয় যৌন প্রবৃত্তি (unchangeable sexual orientation)। একজন নারী ও পুরুষের পারস্পরিক যৌন কামনা যেমন স্বাভাবিক তেমনি কিছু মানুষ শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষন বোধ করে – এটাও স্বাভাবিক। তাই যারা পেডোফাইল- শিশুকামী – এই তাড়না, এই আকর্ষনবোধের কারণে তাদের দোষারোপ করা উচিৎ না। ভিডিওটি প্রকাশিত হবার সাথেসাথে ব্যাপক তর্কবিতর্ক শুরু হয় এবং তুমুল বিরোধিতার কারণে TEDxTalk বাধ্য হয় তাদের ইউটিউব চ্যানেল থেকে ভিডিও সরিয়ে নিতে।
.
মজার ব্যাপারটা হল শিশুকামের প্রবণতা স্বাভাবিক, অপরিবর্তনীয় এসব বলার পাশাপাশি হেইন এটাও বলেছে যে, শিশুকামের বাস্তবায়ন অপরাধ ও অনৈতিক। অর্থাৎ শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষন থাকা স্বাভাবিক কিন্তু এই কামনা বাস্তবায়িত করা, এই অ্যাট্র্যাকশানের ওপর কাজ করা অপরাধ।
.
এখানেই নৈতিকতার মানদন্ডের ব্যাপারে আমাদের আলোচনা প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
.
পেডোফিলিয়া যদি নারীপুরুষের পারস্পরিক শারীরিক আকর্ষনের মতোই যদি স্বাভাবিক এবং অপরিবর্তনীয় বিষয় হয় তাহলে এই আকর্ষনের ওপর আমল করা কেন অপরাধ হবে? কারণ একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যখন কোন শিশুর সাথে যৌনতায় লিপ্ত হয় তখন ব্যাপারটা দুজনের সম্মতিতে হয় না। অর্থাৎ এটা অপরাধ কারণে এখানে পারস্পরিক সম্মতি (Consent) অনুপস্থিত। একই কারণে পশুকামও অপরাধ, কারণ এক্ষেত্রেও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যৌনকর্ম হচ্ছে না। সম্মতি একপাক্ষিক। এটা হেইনের উত্তর। যদিও পশ্চিমের অনেকেই এখন তার বিরোধিতা করছে, কিন্তু যৌনতার ব্যাপারে আধুনিক পশ্চিমের ধারণা অনুযায়ী এ উত্তর সঠিক।
.
চিন্তা করে দেখুন, বিবাহবহির্ভূত সেক্স (যিনা), সমকামিতা, উভকামিতা, সুইঙ্গার সেক্স, হুকআপ কালচার (বহুগামীতা), গ্রুপসেক্সের মতো যৌনবিকৃতিগুলোর পক্ষে উদারনৈতিক পশ্চিমের ডিফেন্স কী?
.
“আমরা তো কারো ক্ষতি করছি না!”
.
“যতোক্ষন পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিয়ে কিছু করছি, ততোক্ষন কী সমস্যা?”
.
“ভালোবাসা কোন বাঁধা মানে না”
.
“দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যা ইচ্ছে করার অধিকার আছে, এবং এতে হস্তক্ষেপ করার স্বাধীনতা কারো নেই”
.
“আমার এ ব্যাপারটা (যেকোন যৌনবিকৃতি) জন্মগত”
.
মূলত এধরণের উত্তরই বিভিন্নভাবে আমরা শুনে আসছি। সুতরাং পেডোফিলিয়ার ব্যাপারে মিরজাম হেইন যা বলেছে তা পুরোপুরিভাবে পশ্চিমের এ দৃষ্টিভঙ্গি – এ মানদণ্ডের – সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
.
এখন প্রশ্ন করতে পারেন – এ মানদন্ডে সমস্যা কোথায়? হ্যাঁ এটা ইসলামের নৈতিকতার সাথে যায় না, কিন্তু পারস্পরিক সম্মতির শর্ত দিয়ে তো অ্যাটলিস্ট শিশুকামিতা ও পশুকামিতার মতো ব্যাপারগুলো আটকানো যায়, এটাই বা কম কিসে?
সমস্যা হল, এ শর্ত দিয়ে শিশুকামিতাকে আটকানো যায় না। ব্যাখ্যা করছি।
.
বলা হচ্ছে – শিশুর সাথে সেক্স একটি অপরাধ এবং অনৈতিক কাজ কারণ এখানে উভয়পক্ষের পারস্পরিক সম্মতি (consent) নেই।
পারস্পরিক সম্মতি নেই কেন?
.
কারণ একটা নির্দিষ্ট বয়সের আগে, বয়ঃপ্রাপ্ত হবার আগে শিশুর মধ্য যৌনতার ধারণা গড়ে ওঠে না। যেহেতু শিশুর মধ্যে যৌনতার ধারণা, নিজের যৌনতা সম্পর্কে সচেতনতাই নেই। তাই তার পক্ষে কোন যৌনকর্মে সম্মতি দেয়া (consent করা) সম্ভব না। অতএব শিশুর সাথে সেক্স আবশ্যিকভাবেই সম্মতি ছাড়া হচ্ছে, তাই এটি একটি অনৈতিক ও অপরাধ। যেমন একজন নারীর সাথে তার সম্মতি ছাড়া যৌনকর্ম করা রেইপ।
রাইট?
রং।
.
এ পুরো যুক্তির ভিত্তি হল “Consent” – সম্মতি। যদি আমি প্রমাণ করতে পারি যে এখন শিশুর যৌনতার ব্যাপারে সম্মতি দেয়ার মতো ম্যাচিউরিটি আছে, তাহলে কি এ যুক্তি আর দাড়াতে পারবে?
.
যদিও এখনো বিষয়টা ঠিক এভাবে আলোচনা করা হচ্ছে না, কিন্তু শিশুরাও যে “যৌনতা সম্পর্কে সচেতন” এটা অলরেডি পশ্চিমা অ্যাকাডেমিয়া এবং মিডিয়া সুপ্রতিষ্ঠিত একটি বিষয়। বিশ্বাস হচ্ছে না?
.
সেই পঞ্চাশের দশক থেকেই পশ্চিমা মনোবিজ্ঞানের অবস্থান হল শিশুরা জন্ম থেকেই যৌনতা সম্পর্কে সচেতন। যৌনতা সম্পর্কে আধুনিক সেক্সোলজির জনক ড. অ্যালফ্রেড কিনসি এবং আরেক মহারথী ড. জন মানির অবস্থানের দিকে তাকালেই বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে যায়। এ দুজনের অবস্থানের সারসংক্ষেপ হল –
.
১) জন্মের পর থেকেই শিশুরা যৌনতা সম্পর্কে সচেতন, সেক্সুয়ালি অ্যাক্টিভ এবং যৌনসুখ অর্জনে সক্ষম।
২) ১০-১১ বছর বয়েসী শিশু যৌন আকর্ষন অনুভব করতে পারে। তুলমামূলক ভাবে বয়স্ক কোন ব্যক্তির সাথে যৌন মিলন – শিশুর জন্য নেতিবাচকই হবে এমন কোন কথা নেই।
.
[রেফারেন্স ও বিস্তারিত আলোচনার জন্য দেখুন, ১) মিথ্যের শেকল যত, মুক্তো বাতাসের খোঁজে, ইলমহাউস পাবলিকেশন, ২) “পাঠক সাবধান! ভয়ের জগতে প্রবেশ করছো তুমি!! ফলো দা মানি – https://bit.ly/2FiZ03e]
.
যদি কিনসি আর জন মানির দেয়া যৌনতার ধারণা গ্রহণ করা হয় – যদি মানব যৌনতার ব্যাপারে আধুনিক পশ্চিমা চিন্তার মূলনীতিগুলো মেনে নেয়া হয় – তাহলে আর এ যুক্তি দেয়া যায় না যে শিশুকাম একটি অপরাধ কারণ শিশুদের পক্ষে Consent করা বা যৌনকর্মে সম্মতি দেয়া সম্ভব না। যদি কেউ যৌনতা সম্পর্কে সচেতন হয়, যৌনসুখ অর্জনে সক্ষম হয় এবং সক্রিয়ভাবে যৌনকর্মে অংশগ্রহণ করতে পারে, তাহলে সে সম্মতি কেন দিতে পারবে না?
.
শিশুকামের পক্ষে প্রচারণা চালানো অ্যামেরিকান ও ইউরোপিয়ান বিভিন্ন সংস্থা সত্তরের দশক থেকে ঠিক এ যুক্তিই ব্যবহার করে আসছে। দেখুন অ্যামেরিকান সমকামি শিশুকামি সংস্থা NAMBLA – North American Man Boy Love Association এর সদস্যদের বক্তব্য – https://www.youtube.com/watch?v=Ygrd29-_O3I
.
এতো গেল অ্যাকাডেমিয়ার কথা। সাধারণ মানুষের কী অবস্থা? অধিকাংশ সময়ই অ্যাকাডেমিকদের তত্ত্বকথার কচকচির সাথে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের তেমন কোন সম্পর্ক থাকে না। এক্ষেত্রেও ব্যাপারটা কি এরকম? সাধারণ মানুষও কি মনে করছে একজন শিশু যৌনতা সম্পর্কে সচেতন, নিজের যৌনতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দিতে সক্ষম ?
.
জি মনে করছে। কিংবা বলা ভালো তাদের মনে করানো হচ্ছে। এব্যাপারে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর জন্য মিডিয়া, এডুকেইশান সিস্টেম, পশ্চিমা সরকার এবং গ্লৌবাল অর্গাইনাইযেইশানগুলো (ইউএন, WHO ইত্যাদি) পুরোদমে কাজ করছে। ব্যাপারটা সম্ভবত আপনারও চোখে পড়েছে, তবে হয়তো কানেকশানটা ধরতে পারেননি।
.
গত দশ বছরে ট্র্যান্সজেন্ডার আইডেন্টিন্টি নিয়ে ঘটে যাওয়া ব্যাপারগুলো একটু মনে করার চেষ্টা করুন তো! কিছু শিরোনাম আবার মনে করিয়ে দেই –
.
“ব্রিটেনের প্রথম জেন্ডার ফ্লুয়িড পরিবার: বাবা নিজেকে নারীতে পরিণত করছেন, মা নিজেকে পুরুষ মনে করেন, আর ছেলে বড় হচ্ছে জেন্ডার নিউট্রাল হিসাবে”।
.
নিউ ইয়র্কে আইনি ভাবে ৩১ টি লৈঙ্গিক পরিচয়কে (Gender Identity) স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
.
ব্রিটিশ ডিপার্টমেন্ট স্টোর জন লুইস ঘোষণা করেছে তারা বাচ্চাদের পোশাক আর “ছেলে” বা “মেয়ে” ট্যাগ দিয়ে আলাদা করবে না। এখন থেকে তারা বাচ্চাদের শুধু “Unisexz”/”Gender Neutral” পোশাক বিক্রি করবে।
.
২০১৭ এর মার্চে টাইম ম্যাগাযিন মানুষের মৌলিক পরিচয় ও যৌনতার পরিবর্তনশীল সংজ্ঞার এ যুগ নিয়ে কাভার স্টোরি করেছে। Beyond ‘He’ or ‘She’: The Changing Meaning of Gender and Sexuality – শিরোনামের এ লেখায় সমকামী অধিকার নিয়ে কাজ করা অ্যাডভোকেসি গ্রুপ GLAAD এর একটি জরিপের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে অ্যামেরিকার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ এখন আর নিজেদের সম্পূর্ণভাবে স্বাভাবিক যৌনাচারে আকৃষ্ট (Heterosexual) অথবা সম্পূর্ণ ভাবে সমকামিতায় আকৃষ্ট মনে করে না। বরং “মাঝামাঝি কিছু একটাকে” বেছে নেয়। একইভাবে অ্যামেরিকান তরুনদের এক-তৃতীয়াংশ “পুরুষ” বা “নারী” হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয় না।
.
[রেফারেন্স ও বিস্তারিত আলোচনার জন্য দেখুন – “পাঠক সাবধান! ভয়ের জগতে প্রবেশ করছো তুমি!! ফলো দা মানি – https://bit.ly/2FiZ03e]
.
কিছুদিন আগে বাংলাদেশের ডেইলি স্টার তাদের সাপ্তাহিক সাপ্লিমেন্ট “Lifestyle” এ Gender fluidity/ Gender Neutrality – কে সমর্থন করে কাভার স্টোরি করেছে। [লিঙ্ক – https://bit.ly/2OngXCN]
.
নার্সারির বাচ্চাদের জেন্ডার ফ্লুয়িডিটির ব্যাপারে ক্লাস নিচ্ছে ড্র্যাগ কুইনরা। [https://nbcnews.to/2tkr4P2]
.
ব্রিটেনে প্রতি সপ্তাহে ৫০ জন শিশুকে Gender Dysphoria ও Gender Change সঙ্ক্রান্ত ক্লিনিকে পাঠানো হচ্ছে, যার মধ্যে ৪ বছর বয়েসী শিশুও আছে। শিশুদের মধ্যে লিঙ্গ পরিবর্তন অপারেশন বৃদ্ধি পাচ্ছে। [https://bit.ly/2LUsKai]
.
সংক্ষেপে ট্র্যান্সজেন্ডার আইডিওলজির মূল কথা হল – মানুষের ধরাবাঁধা কোন যৌনতা ও লৈঙ্গিক পরিচয় নেই। এ ব্যাপারটা একটা স্পেক্ট্রাম একটা রংধনুর মতো (হ্যাঁ এই জন্যই রংধুন সিম্বল ব্যবহার করা হয়)। কোন কিছু সাদাকালো না। এখানে আছে অনেক, অনেক রং। যে কোন মানুষ বা শিশু যদি বলে সে একজন নারী হিসেবে, বা পুরুষ হিসেবে, বা অন্য কোন “কিছু” হিসেবে পরিচিত হতে চায়, তবে তাই ধরে নিতে হবে। সে শারীরিকভাবে, জন্মসূত্রে যাই হোক না কেন!
.
মজার ব্যাপার হল ট্র্যান্সজেন্ডার মুভমেন্টের পক্ষে দেয়া যুক্তিগুলো দিয়ে খুব সহজে সমকামিতার পক্ষে দেয়া যুক্তিগুলো খন্ডন হয়ে যায়। সমকামিতার পক্ষে বহুল ব্যবহৃত একটি যুক্তি হল কিছু মানুষ জন্মগতভাবেই সমকামি হয় (‘born this way’)। আবার অনেকে বলার চেষ্টা করে একটি বিশেষ জিন (the gay gene) আছে যার কারণে কিছু মানুষ সমকামি হয়ে জন্মায়। অর্থাৎ তারা দাবি করে সমকামিতদের যৌনতা বায়োলজিকালি নির্ধারিত।
.
আবার দেখুন ট্র্যান্সজেন্ডার উন্মাদনার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে এরা বলছে যৌনতা, লৈঙ্গিক পরিচয়, এসবই পরিবর্তনশীল। কোন কিছুই পাথরে লেখা। যে নারী হিসী জন্মেছে সে একসময় পুরুষ হতে পারে, যে নারীদের প্রতি আকর্ষনবোধ করতো একসময় সে আকর্ষনবোধ করতে পারে পুরুষের প্রতি। এগুলো খুবই স্বাভাবিক ইত্যাদি। যদি তাই হয়, তাহলে নিশ্চয় সমকামিতা জন্মগত হতে পারে, যেহেতু জন্মগত লিঙ্গকেই স্বীকার করা হচ্ছে না। সমকামি জিন বলেও তাহলে কিছু থাকতে পারে না। এই যুক্তি অনুযায়ী সমকামিতা, উভকামিতা, পশুকামিতা, কিংবা নারী পুরুষের স্বাভাবিক যৌনতা – কোন কিছুই জিনগত না, বায়োলজিকালি নির্ধারিত না। এসবই এগুলো বদলাতে পারে। যার অর্থ একজন সমকামি, একসময় সমকামিতা থেকে বের হয়ে আসতে পারে। আর যদি সাধারণভাবেই একজন সমকামি সমকামিতা থেকে বের হয়ে আসতে পারে, তাহলে ট্রিটমেন্টের মাধ্যমেও এটা করা সম্ভব। অর্থাৎ ট্র্যান্সজেন্ডার উন্মাদনার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে মিলিট্যান্ট সেক্যুলারিযম সমকামিতার পক্ষে চালানো নিজেরদের প্রপাগ্যান্ডাকেই খন্ডন করে বসে আছে। তাদের এক কথা আরেক কথার সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। অসংলগ্ন ধ্যানধারণা ও মতাদর্শের মধ্যে এ প্যাটার্নটা বারবার দেখতে পাবেন।
.
লক্ষণীয় বিষয় হল এখানে সত্যিকারের ইন্টারসেক্স বা ট্রু হারমাফ্রোডাইটের কথা বলা আচ্ছে না। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী প্রতি ২০০০ জনে ১ জন True Hermaphrodite বা intersex ব্যক্তিকে পাওয়া যায়। জনসংখ্যার ০.০৫%। অর্থাৎ এরা এমন মানুষ সংখ্যায় খুবই কম। ট্র্যান্সজেন্ডার মুভমেন্টে এমন মানুষ/শিশুদের কথা বলা হচ্ছে যাদের শারীরিক কোন সমস্যা নেই। শারীরিকভাবে তারা পুর্নাংঙ্গ নারী বা পুরুষ। কিন্তু তারা মনে করেছে তারা ভুল দেহে আটকা পড়েছে। মিডিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী চার বছর বয়েসী শিশুদেরও এখন এমন মনে হচ্ছে, এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদেরকে ফ্রি-তে এমন ওষুধ দিচ্ছে যেগুলো তাদের স্বাভাবিক বয়ঃসন্ধিকে বিলম্বিত বা বন্ধ করবে (Puberty Blockers – horomone therapy) [https://to.pbs.org/2uUu1rt, https://bit.ly/2K1zjpy]
ট্র্যান্সজেন্ডার উন্মাদনা নিয়ে কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড রিডিং এর জন্য দেখুন –
.
নিচে দুটো দশ বছর বয়েসী ছেলের ভিডিও দিচ্ছি যারা দাবি করছে ২ এবং ৩ বছর বয়স থেকে “ড্র্যাগ” করা শুরু করেছে। এ বয়সেই তারা আবিষ্কার করেছে যে তাদের স্বাভাবিক শারীরিক পরিচয়ের বাইরেও তাদের মধ্যে অন্য একটি “সত্ত্বা” আছে। ড্র্যাগ (Drag) হল পশ্চিমা সমকামিদের একটি সাবকালচার যেখানে সমকামি পুরুষরা নারীদের মতো ড্রেসআপ ও মেইকআপ করে বিভিন্ন ধরণের স্টেইজ শো – রানওয়ে, গান, নাচ ইত্যাদি-তে অংশগ্রহণ করে। কাজটা যখন সমকামি পুরুষরা করে তখন তাকে বলা হয় “ড্র্যাগ কুইন”। “ড্র্যাগ কিং” এর ক্ষেত্রে ব্যাপারটা উল্টো। সমকামি নারীরা পুরুষের মতো ড্রেসআপ ও মেইকআপ করে। এধরণের অনুষ্ঠানগুলো হাইলি সেক্সুয়ালাইযড হয়ে থাকে। ভিডিওও অংভঙ্গি দেখলেই বুঝতে পারবেন। এবাচ্চাগুলো টিভিতে বড়দের যা করতে দেখেছে তাই কপি করছে।
‘ডেযমন্ড’ – https://www.youtube.com/watch?v=Qk0WA3VlFfA
‘ল্যাকট্যাশিয়া’ – https://www.youtube.com/watch?v=bdCXxUxI-WE
.
[দুটো ভিডিওতেই নানা জাতের অসভ্য মানুষের ফুটেজ আছে, সো নিজ দায়িত্বে দেখবেন বা দেখবেন না। ট্র্যান্সজেন্ডার মুভমেন্টের উন্মাদনার মাত্রা বোঝানো এবং প্রমাণ হিসেবে লিঙ্কগুলো দেয়া। আমি পারসোনালি ভিডিওগুলো দেখতে সাজেস্ট করবো না।]
.
আসুন এবার ডটগুলো মেলানো যাক। পুরো ব্যাপারটা এবার একটু স্টেপ বাই স্টেপ চিন্তা করুন –
১০ বছর বয়েসী বাচ্চারা বলছে তারা ২/৩ বছর বয়েস থেকেই নিজেদের মধ্যে এই ‘সত্ত্বা’ অনুভব করছে। কেউ অনুকরণ করছে ড্র্যাগ কুইনদের, আবার কেউ বলছে সে নিজের নিজের লিঙ্গ পরিবর্তন করতে চায়। অভিভাবক, সমাজ, রাষ্ট্র ও মিডিয়া তাদেরকে সমর্থন করছে, এবং এই বাচ্চাদের “অনুভূতির” ওপর বেইস করে জীবনকে আমূল বদলে দেয়া বিভিন্ন মেডিকাল প্রসিজারের দিকে যাচ্ছে। লক্ষ করুন, এ সিদ্ধান্তগুলোর সাথে যৌনতার ব্যাপার ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ৮ বছর বয়েসী একটা ছেলে যদি বলে সে হাইলি সেক্সুয়ালাইযড সমকামি সাবকালচারের সাথে আইডেন্টিফাই করে, অথবা যখন সে বলে সে আসলে পুরুষের দেহে আটকে পড়া একজন নারী – এবং আমরা যখন সেটা মেনে নেই, তখন মূলত আমরা এটাই মেনে নিচ্ছি যে নিজের যৌনতা ও শরীরের ব্যাপারে এ সিদ্ধান্তগুলো দেয়ার মতো ম্যাচিউরিটি তার মধ্যে এসেছে। অর্থাৎ এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার মাধ্যমে আমরা মেনে নিচ্ছি এ বয়েসী একটা বাচ্চার সম্মতি দেয়ার – consent করার – সক্ষমতা আছে।
“নিজের পুরো শরীরকে বদলে ফেলার ব্যাপারে, নিজের লিঙ্গ বদলে ফেলার ব্যাপারে যে মানুষ সিদ্ধান্ত দিতে পারে, কার সাথে শোবে সেই ব্যাপারে সে সিদ্ধান্ত দিতে পারবে না?”
.
একজন পেডোফাইল যদি প্রশ্ন করে, কী জবাব দেবেন? যদি যৌনতা এবং যৌন বিকৃতির ব্যাপারে পশ্চিমা চিন্তার মূল কাঠামোকে মেনে নেন, যদি আপনি মেনে নেন একটা শিশু তার লিঙ্গ পরিবর্তনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তাহলে আপনাকে এটাও মানতে হবে যে এই শিশু তাহলে যৌনকর্মের ব্যাপারেও সম্মতি দিতে পারে। সুতরাং যে যুক্তি দিয়ে মিরজাম হেইন এবং অন্যান্য আরো অনেকে শিশুকামকে অনৈতিক ও অপরাধ বলছেন তা ধোপে টেকে না। ট্র্যান্সজেন্ডার আইডিওলজি আমাদের দেখাচ্ছে যে শিশুরাও যৌনতার ব্যাপারে সচেতন, সক্রিয় ও সিদ্ধান্ত দিতে সক্ষম। এবং এভাবেই যৌনতার ব্যাপারে আধুনিক পশ্চিমা দর্শন – যা আমরা আধুনিকতার নামে গদগদ হয়ে গ্রহণ করেছি – সেটা শিশুকামীতাকে বৈধতা দেবে।
অলরেডি একে বৈধতা দেয়ার থিওরেটিকাল এবং রেটোরিকাল ফ্রেইমওয়ার্ক পুরোপুরি প্রস্তুত। এখন শুধু প্রয়োজন নিয়মিত কিছু আবেগঘন নভেল, সিরিয়াল, সিনেমা আর দেশে দেশে হাই-প্রোফাইল কিছু শিশু ট্র্যান্সজেন্ডার সেলিব্রিটি। ঠিক দু’দশক আগে যেভাবে সমকামিতার স্বাভাবিকীকরন ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরির জন্য মিডিয়াকে ব্যবহার করা হয়েছিল, বর্তমানে “ট্রান্সজেন্ডার রাইটস”-এর নামে ঠিক একই কাজ করা হচ্ছে।
[সমকামিতার স্বাভাবিকীকরন কিভাবে হল – https://bit.ly/2vdLmL6]
.
“যৌনতা, ব্যক্তি পরিচয় এসবই আপেক্ষিক। ব্যক্তির স্বাধীন সিদ্ধান্তের বিষয়। একজন মানুষ ভেতরে কেমন তাই মুখ্য। সামাজিক প্রথা আর পশ্চাৎপদতার কারণে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি উচিৎ না। যখন কারো ক্ষতি হচ্ছে না তখন বিরোধিতা কেন?” – এসব আর্গুমেন্টের মাধ্যমে এই বিকৃতি ও অসুস্থতাকে স্বাভাবিক, নির্দোষ কিছু হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। এবং একবার এই বিকৃতি গৃহীত হবার পর এই যুক্তি ব্যবহার করে বৈধতা দেয়া হবে পেডোফিলিয়ারও। আমার কথাটা স্মৃতিতে মজুদ করে রাখতে পারেন, বছর দশেক পর মিলিয়ে নেবেন।
.
এই অর্থহীন যৌনমানসিক বিকৃতির জট ইসলামের আলোতে খোলা খুব সহজ। আমরা জানি, আল্লাহ মানুষকে ফিতরাহর (natural disposition) ওপর সৃষ্টি করেছেন। মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা হল বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষন। জীবনের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে প্রতটি মানুষ বয়ঃপ্রাপ্ত (বালেগ) হয়, এবং তখন থেকে সে যৌনতায় সক্রিয় হবার সক্ষমতা অর্জন করে। অঞ্চল, আবহাওয়া ও পরিবেশভেদে এই বয়সের মধ্বেঁযে কিছু পার্ধেথক্য পরিলক্ষিত হয়। সমকামিতা জন্মগত না, স্বাভাবিক না। বরং একটি যৌনমানসিক বিকৃতি। আমরা জানি আল্লাহ ভুল করেন না। কাজেই ভুল করে, ছেলের দেহে মেয়ে বা মেয়ের দেহে ছেলে আটকা পড়েছে – এধরণের কিছু হওয়া সম্ভব না। হয় এটা মানসিক রোগ, বিকৃতি, বাহ্যিক কোন ফ্যাক্টরের প্রভাব (অ্যাবিউয, শক, ট্রমা ইত্যাদি) অথবা সিহর বা জ্বিন শায়াত্বিনের প্রভাব। আর যারা সত্যিকার অর্থে, শারীরিকভাবে ইন্টারসেক্স (ট্রু হারমাফ্রোডাইট) তাদের হুকুম আহাদিস থেকে স্পষ্ট, এবং এটা তাদের জন্য একটি পরীক্ষা।
.
কিন্তু যখনই আপনি পরম মানদন্ডকে ছেড়ে আপেক্ষিকের গলিতে ঢুকে পড়বেন, কোন কূলকিনারা পাবেন না। আপেক্ষিক নৈতিকতা আর সামাজিকতাকে নৈতিকতার মানদন্ড হিসেবে নেয়ার এই হল ফলাফল। যৌনতা এবং যৌনবিকৃতি এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে শক্তিশালী কারণ এ বিষয়গুলো সহজাতভাবে মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। কিন্তু একই ধরণের বিশৃঙ্খলা বিদ্যমান পশ্চিমা চিন্তা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অন্যান্য ক্ষেত্রেও। পশ্চিমা সভ্যতা তাদের উৎকর্ষের চরমে পৌছানোর পর এখন আছে অবক্ষয় আর অধঃপতনের পর্যায়ে। প্রত্যেক সভ্যতায় এই পর্যায়ে এসে নানান ধরণের যৌনবিকৃতি ও সীমালঙ্ঘন দেখা দেয়। লেইট স্টেইজ ডেকাডেন্স। পশ্চিম এখন এই অবস্থায় আছে। তাদের মধ্যে অনেকে এটা বুঝতেও পারছে। [https://bit.ly/2HtHdsg] কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা মুসলিমরা এখনো অনিমেষ নয়নে মুগ্ধ হয়ে পচতে শুরু করা অতিকায় এই কাঠামোর দিকে চেয়ে আছি। তাদের অনুকরণে নিজেদের উন্নতির স্বপ্ন দেখছি। অথচ সত্যিকারের দিকনির্দেশনা, সত্যিকারের পরশপাথর, পরম মানদন্ড – আল ফুরকান আমাদের হাতের কাছেই। কী বিচিত্র ইচ্ছাঅন্ধত্ব, কী অদ্ভূত আত্মঘৃণা!
====
লেখক- আসিফ আদনান
শেয়ার করুনঃ
মিথ্যের শেকল যত

মিথ্যের শেকল যত

পর্নোগ্রাফি সরাসরি বিকৃত যৌনাচার এবং যৌন-নিপীড়নের প্রভাবক হিসাবে কাজ করে। যৌনতা যেমন শারীরিক, তেমনই মানসিক। পর্নোগ্রাফি টার্গেট করে মানুষের মনকে, আর একবার মনের ওপর প্রভাব বিস্তার করার পর সেটার ছাপ পড়তে শুরু করে শরীরের ওপর। পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত সবাই বের হয়ে রেইপ করা শুরু করে দেয়, ব্যাপারটা এমন না। তবে পর্ন সেক্সের ব্যাপারে স্বাভাবিক ধারণাকে বদলে দিয়ে বিকৃত ও অস্বাভাবিক যৌনতার ইচ্ছে তৈরি করে। পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত সবার মধ্যেই বিকৃত যৌনতার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়।

প্রথমবার হার্ডকোর পর্নোগ্রাফি দেখার সময় অনেক কিছুই আপনার কাছে অস্বাভাবিক, নোংরা মনে হবে। গা ঘিনঘিন করবে। কিন্তু ক্রমাগত এ ধরনের পর্ন ভিডিও দেখতে থাকলে এক সময় আপনার কাছেই এসব কাজকে খুব স্বাভাবিক লাগবে। শুধু তা-ই না, আপনার মধ্যে এমন আচরণ করার আকর্ষণ জন্মাবে। পর্নোগ্রাফি এভাবে আমাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অবসেসিভ এবং প্যাথোলজিকাল টেন্ডেন্সি গড়ে তোলে।

একেক জনের মধ্যে একেক ধরনের আসক্তি, অবসেশন, বিকার বা প্যাথোলজিকাল আচরণের প্রবণতা তৈরি হয়। এটা হতে পারে হস্তমৈথুন, ভয়ারিযম,[1] অ্যানাল-ওরাল সেক্সের মতো বিকৃত যৌনাচার, ক্রমাগত সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসিতে ভোগা, গ্রুপ সেক্স, সমকামিতা, শিশুকামিতা, ধর্ষণ করার প্রবণতা, ব্যাপক বহুগামিতা অথবা অন্য কোনো যৌন-মানসিক বিকৃতি।

সহজ ভাষায়, পর্নোগ্রাফি মানুষের স্বাভাবিক যৌন প্রবণতা নষ্ট করে দেয়। পর্নোগ্রাফি যত “কড়া” ধাঁচের হয়, পর্ন-আসক্ত দর্শকের ওপর সেটার প্রভাব তত তীব্র হয়। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্ন ভিডিওগুলোতে সহিসংতার ব্যাপক উপস্থিতির কারণে এখন পর্ন-আসক্তদের মধ্যে ধর্ষণ-প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কথাগুলোর সাথে স্বাভাবিক বিবেচনাবোধ-সম্পন্ন কারও দ্বিমত করার কথা না। একজন মানুষ যার ফিতরাহ (Natural Disposition/সহজাত প্রবণতা) নষ্ট হয়ে যায়নি, এ কথাগুলো স্বীকার করে নেবেন। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। অর্থনীতিতে। যখন কোনো সমীকরণে অর্থনীতি ঢুকে পড়ে, সবচেয়ে সোজাসাপ্টা বিষয়গুলোও চরম গোলমেলে হয়ে ওঠে।

গ্লোবাল পর্নোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রির সাথে যুক্ত শত শত বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। ২০০৬ সালে এ ইন্ডাস্ট্রির মোট আয় ছিল ৯৭ বিলিয়ন ডলার। মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যামাযন, ইয়াহু, অ্যাপল এবং নেটফ্লিক্সের সম্মিলিত আয়ের চেয়ে বেশি![2]

বছরে পর্ন ইন্ডাস্ট্রির প্রফিট ১৫ বিলিয়ন ডলার। সে তুলনায় হলিউডের বাৎসরিক প্রফিট? ১০ বিলিয়ন ডলার।[3]

আর এ তো শুধু ঘোষিত আয়ের হিসেব। পর্ন ইন্ডাস্ট্রির লেনদেনের বড় একটা অংশ কখনো রিপোর্টেড হয় না।[4] অর্থাৎ এ ইন্ডাস্ট্রির প্রকৃত সাইযটা আরও বড়। যখন কোনো কিছুর সাথে এত এত টাকা জড়িত থাকে, তখন সেটাকে ক্ষতিকর হিসাবে স্বীকার করা, ঘোষণা দেয়া বেশ কঠিন হয়ে যায়। সহজ সমীকরণে গোলমেলে অর্থনীতি ঢুকে পড়ে। সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁসকে রক্ষা করাটা হয়ে দাঁড়ায় রুটি-রুজি আর পুঁজির প্রশ্ন। ফার্মাসিউটিক্যাল, হোটেল ও ট্যুরিযম, ক্যাইবল ও স্যাটেলাইট টেলিভিশন নেটওয়ার্ক, ওয়াল স্ট্রিট, গ্লোবাল সেক্স ট্র্যাফিকিং, সেক্সোলজি ও সাইকোলজি—এ সবগুলো ইন্ডাস্ট্রি বিভিন্নভাবে লাভবান হয় পর্ন ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে।

ব্যক্তি ও সমাজের ওপর পর্নের ক্ষতিকর প্রভাবের কথা আড়াল করে পর্নকে নির্দোষ ও উপকারী বিনোদন প্রমাণ করতে তাই ধরাবাঁধা কু-যুক্তি আর অপবিজ্ঞান ব্যবহার করে চালানো হয় ব্যাপক প্রপাগ্যান্ডা। আর পর্নোগ্রাফি ও হস্তমৈথুনের ফাঁদে আটকে পড়া অনেকেই অন্ধের মতো এ ফাঁকাবুলিগুলো ক্রমাগত আওড়ে যান।

এমনই একটি বহুল ব্যবহৃত তত্ত্ব হলো “Catharsis Theory” বা “Catharsis Effect”। বার বার এ তত্ত্বের রেফারেন্স টেনে এনে অনেকেই দাবি করে বসে, “ধর্ষণ, যৌন-নিপীড়ন, যৌনবিকৃতি, মানসিক বিকৃতি, শিশুকাম এগুলোর পেছনে পর্নোগ্রাফি প্রভাবক হিসেবে কাজ তো করেই না, বরং সমাজ থেকে এ অপরাধগুলোর মাত্রা কমিয়ে ফেলার জন্য পর্নোগ্রাফি খুবই কার্যকর। একেবারে ব্রহ্মাস্ত্র!”

 

তো কীভাবে এই ব্রহ্মাস্ত্র কাজ করে?

এ তত্ত্বের প্রবক্তারা ব্যাখ্যা করেন এভাবে –

ধরুন, কেউ কামের জ্বালায় একদম অস্থির হয়ে আছে। পাগলপ্রায় অবস্থা। যেকোনো উপায়ে, যার সাথেই হোক অন্তরঙ্গ না হতে পারলে সমূহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা। কিন্তু সেই লোকের কোনো সুযোগ নেই কারও সঙ্গে অন্তরঙ্গ হবার। এখন সে কী করবে? প্রবৃত্তির ক্রমাগত অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সে হাত বাড়াতে পারে তার আশেপাশের যেকোনো নারীর দিকে, শিশুদের দিকে নজর দেয়াও অসম্ভব কিছু না, পতিতালয়েও যেতে পারে! কিন্তু যদি তার পর্ন দেখার সুযোগ থাকে, তাহলে নিজের ভেতরের ক্রমেই বাড়তে থাকা প্রেশারটুকু রিলিয করে দিয়ে ঠান্ডা হতে পারবে। সমাজের অগণিত মানুষ রক্ষা পাবে বিপর্যয়ের হাত থেকে।

মনে করুন, একজন ব্যক্তি সম্ভাব্য শিশু ধর্ষক। বহুদিন থেকেই তার ইচ্ছা শিশুদের নিপীড়ন করার। কিন্তু সুযোগের অভাবে সেটা সম্ভব হয়ে উঠেনা। এখন এই ব্যক্তিকে যদি ক্রমাগত চাইল্ড পর্ন দেখানো হয়, তাহলে সে কিছুদিন পর শিশুদের সঙ্গে যৌনমিলনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।[5] এভাবে মানুষের যৌনতাড়না, যৌনবিকৃতি, যৌন-নিপীড়নের ইচ্ছা, সেক্স ফ্যান্টাসিগুলো পর্ন দেখার মাধ্যমে পূরণ হয়ে যাবে। বাস্তবজীবনে আর এসব বিকৃত কাজকর্ম করার দরকার হবে না। সমাজ রক্ষা পাবে ক্ষতির হাত থেকে।[6]

এই পর্যন্ত পড়ার পর মনে হয় ঠিকই তো! পর্নোগ্রাফি যৌনচাহিদা (তা যতই বিকৃত হোক না কেন) পূরণের একটা নিরাপদ রাস্তা তৈরি করে দিয়ে সমাজকে মারাত্মক বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচাচ্ছে।

কিন্তু আসলে ব্যাপারটা ঠিক উল্টো। এ থিওরিকে বহু আগেই এক্সপার্টরা বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছেন।[7], [8]

তাহলে শুভংকরের ফাঁকিটা কোথায়?

যে এক্সপেরিমেন্টের ওপর ভিত্তি করে Catharsis Theory দেয়া হয়েছিল তার এক্সপেরিমেন্টাল সেটআপ ছিল খুবই অগোছালো। মানসম্মত এবং গ্রহণযোগ্য গবেষণার জন্য যে স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখা দরকার তার কিছুই করা হয়নি।[9] টেনেটুনে ৩০ জনের একটু বেশি মানুষের (৩২ জন) ওপর ১৫ দিন ধরে গবেষণা চালিয়ে Catharsis Theory-এর উপসংহার টানা হয়। এ ৩২ জনের মধ্যে ২৩ জনের একটা গ্রুপকে একটানা ১৫ দিন, ৯০ মিনিট করে একই ঘরানার পর্ন ভিডিও দেখানো হয়। ১৫ দিন পর ২৩ জনের গ্রুপটা জানায়, শুরুতে তারা পর্ন ভিডিও দেখে উত্তেজিত হতো, কিন্তু পরে তারা পর্ন ভিডিওতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। একই রকমের পর্ন ভিডিও দেখার ফলে তাদের একঘেয়েমি পেয়ে বসে। শুভংকরের ফাঁকিটা এখানেই। পর্নকে নির্দোষ প্রমাণ করার বদলে এটা আসলে মানুষের যৌনতার ওপর পর্নের ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর প্রভাবের একটি প্রমাণ।

ব্যাপারটা একটু চিন্তা করুন। একই ধরনের পর্ন টানা ১৫ দিন; মাত্র ১৫ দিন দেখলেই মানুষের একঘেয়ে লাগতে শুরু করে। একই ধাঁচের পর্ন তাদের আর আগের মতো উত্তেজিত করতে পারে না। মনে করুন আপনি বিরিয়ানি খেতে পছন্দ করেন, এখন আপনাকে যদি ক্রমাগত কয়েকদিন ধরে বিরিয়ানি খাওয়ানো হতেই থাকে, হতেই থাকে, তাহলে একপর্যায়ে আপনি আর বিরিয়ানি খেতে চাইবেন না। এটাই স্বাভাবিক। তেমনিভাবে একই ঘরানার পর্ন ভিডিও বার বার দেখতে থাকলে তাতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা খুবই স্বাভাবিক।

এমন অবস্থায় একঘেয়েমি দূর করার জন্য মানুষ কী করতে পারে? তারা বোরড হয়ে পর্ন দেখা ছেড়ে দেয়? অথবা তাদের আচরণ এবং যৌন-চাহিদার ওপর পর্নোগ্রাফির কোনো প্রভাব পড়ে না? আমরা কিন্তু ইতিমধ্যেই বুঝতে পারছি যে, কিছুটা হলেও যৌন-চাহিদার ওপর প্রভাব পড়ছে। কারণ, কয়েকদিন পর্ন দেখার পরই দর্শকের উত্তেজিত হবার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, কমে যাচ্ছে সংবেদনশীলতা।

মানুষ সাধারণত প্রথম দিকে সফটকোর ঘরানার পর্ন দেখে। একসময় সফটকোর পর্ন তাদের কাছে একঘেয়ে লাগতে শুরু করে। তখন তারা ঝুঁকে হার্ডকোর পর্নোগ্রাফির দিকে। একসময় হার্ডকোর পর্নোগ্রাফিও তাদের উত্তেজিত করার জন্য যথেষ্ট হয় না। পর্ন-আসক্ত ব্যক্তি তখন ঝুঁকে আরও কড়া ধাঁচের পর্নোগ্রাফির দিকে। পশুকাম, শিশুকাম, রেইপপর্ন, ট্যাবু ইত্যাদি চরম বিকৃত ধরনের পর্ন দেখা শুরু করে।[10] একইসাথে ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে পর্ন-আসক্তি। মানে পর্ন দেখার সময় ক্রমাগত বাড়তে থাকে। আসক্তির শুরুর দিকে কেউ সপ্তাহে এক ঘণ্টা পর্ন দেখলে, কিছুদিন পর সে হয়তো সপ্তাহে দুই ঘণ্টা পর্ন দেখবে, এভাবে ধীরে ধীরে পর্ন দেখার পরিমাণ বাড়তে থাকে। সেই সাথে বাড়তে থাকে পর্দায় দেখা জিনিসগুলো বাস্তব জীবনে অনুকরণ করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা।

এখন কেউ হয়তো বলতে পারে, “যারা পর্ন দেখে তাদের সবাই কি ধর্ষণ কিংবা শিশুনির্যাতন শুরু করে? অবশ্যই না। তাই পর্নোগ্রাফি রেইপ কিংবা অন্যান্য যৌন-বিকৃতিকে প্রভাবিত করে, এমন বলা ভুল।“

এ কথাটা আসলে টোবাকো ইন্ডাস্ট্রির এ ভুল দাবির মতো যে, “যেহেতু অনেক ধূমপায়ীই ফুসফুস ক্যান্সারে মারা যায় না, তাই ধূমপান ফুসফুস ক্যান্সারের কারণ না।” পর্ন ভিডিও দেখেই সবাই রেইপ করতে বেড়িয়ে পরে না, এ কথা সত্য। কিন্তু এ থেকে কি এই উপসংহার টানা যায়, পর্ন আসলে ধর্ষণ প্রতিরোধ করে? দুটো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের দিকে তাকানো যাক।

১. সাধারণত পর্নোগ্রাফি দেখার পর মানুষ কী করে?

২. পর্নোগ্রাফি দেখা কি দর্শকের ওপর কোনো যৌন-মনস্তাত্ত্বিক (psychosexual) প্রভাব ফেলে?

প্রথম প্রশ্নের উত্তরটা সবার জানা। কেউ পর্ন দেখা শেষ করে চুপচাপ পড়াশোনা, অফিসের কাজ অথবা পরিবারের লোকজনের সাথে আলাপচারিতায় ফেরত যায় না। পর্ন দেখার পর অবশ্যই “ঠান্ডা” হতে হয়। কোনো কারণে তখনই সম্ভব না হলে, একটু নিরিবিলিতে, উপযুক্ত সুযোগ পাওয়ামাত্র ব্যক্তি “ঠান্ডা” হতে চায়। পর্ন দেখার পর অধিকাংশ মানুষ হস্তমৈথুন করে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পর্ন দেখা হয় হস্তমৈথুন করার জন্য। এটা একটা সার্কুলার লুপের মতো।

যদিও অধিকাংশ মানুষের কাছে সেক্সের তুলনায় হস্তমৈথুন যৌনক্রিয়া হিসাবে হয়তো “নিম্নমানের” অলটারনেটিভ, কিন্তু তবুও দিন শেষ হস্তমৈথুন একটা যৌনক্রিয়া। সুতরাং এ কথা আমরা সবাই স্বীকার করি যে, মানুষ পর্ন দেখে যৌনক্রিয়ায় (হস্তমৈথুন) লিপ্ত হয় অথবা যৌনক্রিয়ার আগে নিজেকে উত্তেজিত করার জন্য পর্ন দেখে। পর্ন দেখা, গান শোনা কিংবা নাটক দেখার মতো নিছক কোনো প্যাসিভ, নিষ্ক্রিয় বিনোদন না। বরং পর্ন দেখা এমন এক প্রক্রিয়ার অংশ যার সাথে বাস্তব যৌনক্রিয়া অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। পর্ন দেখার পর আপনি রিলিয খুজবেনই। এটাই স্বাভাবিক। পর্নোগ্রাফি এবং বীর্যপাতের আনন্দ অর্জন, একসূত্রে গাঁথা। যৌনক্রিয়ার মাধ্যমে বীর্যপাত বা শীর্ষসুখে পৌঁছানো হলো পর্ন দেখার স্বাভাবিক পরিণতি।[11] এটুকু পর্যন্ত স্বীকার করে নিতে সুস্থ মস্তিষ্কের কারও আপত্তি থাকার কথা না।

যদি এটুকু আপনি স্বীকার করে নেন তাহলে আসলে প্রশ্নটা দাঁড়ায়, আপনি কি মনে করেন সব ক্ষেত্রে এ “যৌনক্রিয়া” হস্তমৈথুনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে? পর্ন-আসক্ত ব্যক্তি শুধু হস্তমৈথুনেই আগ্রহী হবে? চিন্তা করতে থাকুন, সেই ফাঁকে আমরা দ্বিতীয় প্রশ্নটার উত্তরের দিকে একটু নজর বুলিয়ে নিই।

পর্নোগ্রাফি দেখা কি দর্শকের ওপর কোনো যৌন-মনস্তাত্ত্বিক (psychosexual) প্রভাব ফেলে?

হ্যাঁ। পর্নোগ্রাফি দর্শকের যৌন-মনস্তত্ত্বের ওপর প্রভাব ফেলে। পর্নোগ্রাফিকে উপকারী প্রমাণ করার জন্য যে তত্ত্ব প্রচার করা হয়, সেটা দিয়েই এটা প্রমাণ করা যায়। একই ধরনের পর্ন একটানা দেখার কারণে একঘেয়ে লাগা—এটা একটা যৌন-মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন। আগে যা দেখে দর্শক উত্তেজিত হচ্ছিল, এখন সেটাতে আর তার হচ্ছে না, এটা হলো যৌন-মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের ফলাফল। পর্নের কারণে দর্শকের যৌনচাহিদা এবং যৌনচিন্তার ধরন বদলে যাচ্ছে।

পর্নে দেখা যৌনাচারগুলো ছাড়া সাধারণ যৌন আচরণ পর্ন-আসক্ত অনেকের কাছে একেবারেই পানসে মনে হয়। অনেকের জন্য পর্ন বা বিকৃত যৌনাচার ছাড়া স্বাভাবিকভাবে উত্তেজিত হওয়া কঠিন হয়ে যায়, এটা আরেকটা প্রমাণ। পর্ন-আসক্ত ব্যক্তি বাস্তব জীবনে পর্ন ভিডিওতে দেখা কাজগুলোর অনুকরণ করতে চায়, এটা আরও একটা প্রমাণ।

পর্ন দেখে মানুষ শুধু রিলিয পাচ্ছে না, বিশেষ ধরনের যৌনাচারের জন্য তার মধ্যে তীব্র আকাঙ্ক্ষাও তৈরি হচ্ছে এবং শুধু এটুকুতেই আসলে ক্যাথারসিস থিওরি ভুল প্রমাণিত হয়ে যায়।[12]

এখানে একটা বিষয় হলো যৌন-মনস্তত্ত্বের ওপর পর্নোগ্রাফির এ প্রভাব সাথে সাথে কার্যকর হয় না। যারা পর্নোগ্রাফিকে উপকারী বলেন, তারা মূলত এ পয়েন্টের ওপর ভিত্তি করে নিজেদের দাবি প্রমাণ করতে চান। কিন্তু সমস্যা হলো পর্নোগ্রাফির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী, সেটা তারা এড়িয়ে যান। পর্ন দেখেই কেউ রেইপ করতে বের হয়ে যায় না, কিন্তু তার মানে এটা না যে, এর কোনো প্রভাব তার ওপর পড়েনি। যৌন-মনস্তত্ত্বের ওপর পর্নোগ্রাফির যে প্রভাব সেটা ধীরে ধীরে কার্যকর হয়। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বার বার পর্নোগ্রাফি দেখার ফলে, তার চিন্তার কাঠামোতে পরিবর্তন আসে।

পর্ন-আসক্ত ব্যক্তি পর্ন দেখা বা পর্নের দৃশ্য নিয়ে ফ্যান্টাসাইয করা ছাড়া উত্তেজিত হতে পারে না। আবার ক্রমাগত পর্ন দেখতে থাকলে সময়ের সাথে সাথে পর্নের মাধ্যমে তার উত্তেজিত হবার ক্ষমতাও কমতে থাকে। আরও বেশি সহিংস, আরও বেশি বিকৃত পর্ন ছাড়া সে উত্তেজিত হতে পারে না। এ প্রক্রিয়া চলতে থাকলে একপর্যায়ে সেক্স সম্পর্কে তার চিন্তা, বাস্তব জীবনের স্বাভাবিক যৌন আচরণ থেকে একবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সহজ ভাষায় প্রথমত পর্নোগ্রাফি মানুষকে যৌনক্রিয়াতে তীব্রভাবে উদ্বুদ্ধ করে। আর দ্বিতীয়ত পর্নোগ্রাফির যৌনক্রিয়ার ব্যাপারে মানুষের প্রেফারেন্সকে বদলে দেয়। তার যৌনচাহিদা এবং যৌনমনস্তত্ত্ব বিকৃত হয়ে যায়।

একদিকে তার মধ্যে তীব্র যৌনাকাঙ্ক্ষা কাজ করে, অন্যদিকে স্বাভাবিকভাবে তৃপ্ত হওয়া তার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। নারী, বিয়ে, সেক্স, রেইপ, বিকৃত যৌনাচার ইত্যাদি নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং আচরণ বদলে যায়। এমন ব্যক্তির রেইপ, শিশুকাম কিংবা অন্য কোনো বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হবার সম্ভাবনা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।

“সিগারেট থেকে শুরু, শেষকালে হেরোইন”, ব্যাপারটা অনেকটা এমন। এটা মাদকাসক্তির ক্লাসিক প্যাটার্ন। শুরুতে অল্পেই নেশা হয়ে যায়। কিন্তু সময়ের সাথে চাহিদা বাড়তে থাকে। আগে যতটুকুতে “ধরত”, তাতে আর হয় না। নেশা চড়াতে আরও বেশি মাদকের দরকার হয়। সেই সাথে তৈরি হতে থাকে মাদকের ওপর ডিপেন্ডেস, আসক্তি। এভাবে মাদকাসক্তি ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়। পর্ন-আসক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও বিষয়টা এমন।

চিন্তা করে দেখুন, একজন পর্ন-আসক্ত ব্যক্তি যখন এমন অবস্থার মধ্যে দিয়ে যায়, তখন তার যৌন-মনস্তত্ত্বের কী অবস্থা হয়? নিত্যনতুন নারী কিংবা শিশুদেহের হার্ডকোর পর্নোগ্রাফি দেখেও যে লোক উত্তেজিত হতে পারে না, বাস্তবের রক্ত-মাংস-ঘামের নারীর সাথে স্বাভাবিক যৌনতা কি তাকে উত্তেজিত করতে পারবে? এভাবে একজন লোক যখন চরম পর্যায়ে পৌঁছে, যখন ধর্ষণের ভিডিও কিংবা শিশুদের ধর্ষণের ভিডিও পর্যন্ত তার কাছে একঘেয়ে লাগা শুরু করে, তখন সে কী করে? কী তাকে উত্তেজিত করবে? সে কি অতৃপ্তির জ্বালা, এ তীব্র ক্ষুধা নীরবে সয়ে যাবে? আপনি-আমি, আমরা সবাই জানি, তীব্র যৌনাকাঙ্ক্ষা নিছক “মনের জোরে” চেপে রাখা যায় না। সাময়িকভাবে পারা গেলেও সেটা স্থায়ী হয় না। এক সময় না এক সময় বিস্ফোরণ ঘটেই।

আসলে পর্নোগ্রাফি রিলিযের কাজ তো করেই না; বরং আকাঙ্ক্ষাকে আরও তীব্র করে এবং আসক্ত ব্যক্তিকে বিকৃত যৌনাচারের দিকে নিয়ে যায়। ফলে সমাজে যৌন-নিপীড়ন, শিশুকাম, রেইপসহ অন্যান্য বিকৃত কামের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। যার অনেক প্রমাণ আমরা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি, আরও অসংখ্য প্রমাণ চারপাশের পৃথিবীতে আপনি পাবেন। এত গেল যৌনচাহিদা এবং যৌন-মনস্তাত্ত্বিক দিকের কথা। এ ছাড়া কমন সেন্সের মাপকাঠিতেও ক্যাথারসিস থিওরি বা পর্নোগ্রাফি “উপকারী” হবার অন্য কোনো থিওরি, একেবারেই টেকে না। যদি কেউ বার বার ইয়াবা কিংবা হেরোইন খাবার ভিডিও দেখে, যদি এসব ভিডিওতে এ কাজগুলোকে গ্ল্যামারাইযড করে উপস্থাপন করা হয়, তাহলে কি সমাজে ইয়াবা কিংবা হেরোইন ব্যবহার কমে যাবে? আচ্ছা ধরুন আপনাকে বলা হলো, বাংলাদেশের প্রাইমারি স্কুলগুলোতে শিক্ষক কর্তৃক শিশুদের শারীরিক আঘাত করার হার কমাতে। আপনি কি এটার সলিউশান হিসাবে এসব শিক্ষকদের বলবেন, ছোট বাচ্চাদের পেটানোর এবং টর্চার করার নতুন নতুন ভিডিও নিয়ম করে দেখতে?

নানা আঙ্গিকে, নানা লোকেশানে চাকচিক্যময় ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে ছোট বাচ্চাদের মারা এবং মার খেতে দেখার ভিডিও কি তাদের পেটানোর ইচ্ছা ও মানসিকতাকে নষ্ট করে দেবে? সুস্থ মস্তিষ্কের কোনো মানুষ কি আদৌ এ ধরনের “সমাধান” সিরিয়াসলি নেবে? পর্ন দেখার সাথে যদি রেইপের হার কমে, তাহলে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পর্ন প্রডিউস করা এবং পর্নোগ্রাফির সবচেয়ে বড় গ্রাহক অ্যামেরিকাতে কেন এত রেইপ হয়? কেন অ্যামেরিকান মিলিটারি, কলেজ, হলিউড সব জায়গাতে এত ধর্ষণ, এত যৌন-নিপীড়ন হয়? কেন রেইপ পর্ন ইন্ডিয়াতে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকার পরও ভারতে রেইপ না কমে বরং ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়? স্রেফ স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে এ ধরনের গোঁজামিল দেয়া কথা ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফির মতো এতটা ক্ষতিকর বিষয়কে “নির্দোষ বিনোদন” প্রমাণ করার প্রপাগ্যান্ডা চালানো হয়। হস্তমৈথুনের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একই রকম। বর্তমান সময়ের অধিকাংশ ডাক্তার, এক্সপার্ট এবং ইন্টারনেট ওয়েবসাইট আপনাকে বলবে, হস্তমৈথুন একেবারেই ক্ষতিকর না।

এদিক-সেদিক থেকে নানা জোড়াতালি দেয়া প্রমাণ তুলে এনে প্রমাণ করতে চাইবে হস্তমৈথুন “প্রায় নিশ্চিতভাবেই” শরীরের জন্য ভালো। এটা একেবারেই “ন্যাচারাল” একটি বিষয়, এ নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। হস্তমৈথুন শরীরের জন্য ভালো বা স্বাভাবিক যৌন আচরণ এ ধরনের কোনো কংক্রিট প্রমাণ নেই। হস্তমৈথুন “স্বাভাবিক”, “ন্যাচারাল” এসব কথার প্রচলন আজ থেকে মাত্র সাত-আট দশক আগে। এর আগ পর্যন্ত হস্তমৈথুনকে, বিশেষ করে নিয়মিত ও ক্রনিক হস্তমৈথুনকে একটি অস্বাভাবিক যৌনাচার হিসাবেই দেখা হতো। এমনকি নানা যৌনবিকৃতিকে হোয়াইটওয়াশ করা, সিগমুন্ড ফ্রয়েডের মতো বিকৃত মানসিকতার লোকও হস্তমৈথুনক অস্বাভাবিক মনে করত।

মূলত হস্তমৈথুনকে স্বাভাবিক এবং উপকারী হিসেবে দেখার প্রবণতা শুরু হয় ১৯৪৯ সালে আলফ্রেড কিনসির Sexual Behavior In The Human Male প্রকাশিত হবার পর। এ বইটি এবং ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত তার আরেকটি বই Sexual Behavior in the Human female, ম্যাস মিডিয়ার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পাশ্চাত্যে ঝড় তোলে। যৌনতা সম্পর্কে পাশ্চাত্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে আনে আমূল পরিবর্তন। পাশ্চাত্যের ইতিহাসের অন্য কোনো বই বা রিপোর্ট পাশ্চাত্যকে এতটা বদলে দেয়নি যেমন এই দুটি বই দিয়েছিল। আধুনিক সেক্স এডুকেশান, সাইকোলজি এবং সেক্স সম্পর্কে চিকিৎসকদের সার্বিক চিন্তা কিনসির এই দুটি বইয়ের ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হচ্ছে। যৌনতা সম্পর্কে আধুনিক পশ্চিমা ধারণা একেবারে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গড়ে উঠেছে আলফ্রেড কিনসির এই দুই বিখ্যাত “থিসিসের” ওপর ভিত্তি করে। তার এ বইয়ে কিনসি চরম পর্যায়ের বিকৃত কিছু চিন্তাকে বিজ্ঞানের নামে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। সে দাবি করে শিশুরা জন্মগত ভাবেই, এমনকি গর্ভে থাকা অবস্থা থেকেই সেক্সুয়ালি এক্টিভ। তার মতে শিশুরা একেবারে ছোটকাল থেকেই হস্তমৈথুন করা শুরু করে।

কত ছোটকাল থেকে?

কিনসির দাবি হল দুই, চার, সাত মাস বয়সী শিশুরাও নাকি হস্তমৈথুনের মাধ্যমে চরমানন্দে (Orgasm) পৌঁছাতে সক্ষম! সাত মাস বয়সী একটি শিশু এবং এক বছরের নিচের আরও পাঁচজন শিশুকে সে নিজে নাকি শীর্ষসুখ অর্জন করতে দেখেছে।[13] সে আরও বলে, এত কমবয়স্ক শিশুরা বয়স্ক সঙ্গী/সঙ্গিনীদের সঙ্গে আনন্দদায়ক এবং উপকারী যৌনমিলন করতেই পারে, এবং এমন করা উচিত।[14] অভিভাবকদের উচিত ৬-৭ বছর বয়স থেকে শুরু করে শিশুদের হস্তমৈথুন করানো এবং একসাথে মিলেমিশে হস্তমৈথুন করা!

কিনসি আরও দাবি করে, অধিকাংশ মানুষ আসলে উভকামী, যৌনতার কোনো নির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। কোনো যৌনতাই অস্বাভাবিক না। সমকাম, উভকাম, শিশুকাম, পশুকাম, অজাচার, যার যা ইচ্ছে সেটা করবে, এতে কোনো সমস্যা নেই।[15]

আসলে কিনসি নিজে ছিল একজন চরম মাত্রার বিকৃত মানসিকতার লোক। ব্যক্তিজীবনে ভয়ঙ্কর বিকৃত যৌনাচারে অভ্যস্ত। তার “রিসার্চ” ছিল জালিয়াতিতে ভরা। পরবর্তীকালে এই “মহান” বিজ্ঞানীর কাজগুলো ভুল প্রমাণিত হয়েছে বিজ্ঞানীদের হাতেই। বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন আলফ্রেড কিনসির দাবিগুলোর তেমন কোনো সায়েন্টিফিক ভিত্তি নেই, তার তথ্য-উপাত্তগুলো যথেষ্ট পরিমাণে গোঁজামিলে ভরপুর।[16] এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য অনেক সময় সাবজেক্টের ওপর চরম যৌন-নির্যাতন চালানো হয়েছে, রেহাই দেয়া হয়নি শিশুদেরও। কিন্তু ততদিনে ক্ষতি যা হবার হয়ে গেছে। “হস্তমৈথুন ক্ষতিকর না; বরং উপকারী” কিনসির জোর গলায় দাবি করা এ চরম মিথ্যা সেক্স এডুকেশানের বইগুলোতে বার বার খুব বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এটাকে ধ্রুব সত্য বলে মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু হস্তমৈথুন যদি স্বাভাবিক ও ভালো হয়, তাহলে প্রথমবার হস্তমৈথুনের পর কেন মনের ওপর অনুশোচনার একটা গাঢ় পর্দা নেমে আসে?

প্রথমবার হস্তমৈথুনের মাধ্যমে বীর্যপাত করার প্রায় সবার চরম অনুশোচনা হয়। ভাষা, ভৌগোলিক অবস্থান, ধর্ম-বর্ণভেদে এমন অবস্থায় মানুষের মনে হয় সে খুব খারাপ কিছু একটা করে ফেলেছে। অনুভূতিটা সর্বজনীন। এর ব্যাখ্যা কী? হস্তমৈথুন ভালো প্রমাণ করতে চাওয়া “বিশেষজ্ঞরা” বলবে, ধর্ম এবং সামাজিক মূল্যবোধ আমাদের চিন্তা করতে শেখায় যে, এ কাজটা খারাপ। এটা একটা পাপ। আর এ জন্যই মানুষের মধ্যে অনুশোচনা কাজ করে।

এ ব্যাখ্যার ভুল কোথায়?

কোনো কাজের ব্যাপারে ধর্মের বক্তব্য দ্বারা প্রভাবিত হবার জন্য আপনাকে তো আগে কাজটাকে চিনতে হবে, সেটার সম্পর্কে ধর্মের বক্তব্য জানতে হবে। কিন্তু আপনি দেখবেন হস্তমৈথুনের মাধ্যমে প্রথম বীর্যপাতের অভিজ্ঞতার সময় অনেকেরই ধারণাই থাকে না আসলে কী হচ্ছে। যে ছেলেটা বুঝতেই পারছে না কী হলো, সে কীভাবে ওই কাজের ব্যাপারে ধর্মের বক্তব্য জানবে, আর সেটা দিয়ে প্রভাবিত হবে? আসলে এটাই হলো ফিতরাহ, মানুষের সহজাত প্রবণতা (Natural Disposition)। মানুষের সহজাত নৈতিক কম্পাস তাকে জানিয়ে দেয় কাজটা খারাপ। আর তাই প্রথম প্রথম সবাই অনুশোচনায় ভোগে। কিন্তু পরে মানুষ এর যৌক্তিকতা দাঁড় করায়, একে স্বাভাবিক মনে করা শুরু করে।

এ ছাড়া বাস্তব অভিজ্ঞতাও প্রমাণ করে হস্তমৈথুন আসক্তি শুধু সমস্যাই না; বরং ভয়ঙ্কর রকমের মনোদৈহিক সমস্যা। ভুক্তভোগীদের কিছু অভিজ্ঞতা এরই মধ্যে আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। হস্তমৈথুনে আসক্তদের এমন করুণ উপাখ্যান এক-দুটো না। অজস্র।

হস্তমৈথুনকে স্বাভাবিক প্রমাণে উঠেপড়ে লাগার পেছনে আরেকটা বড় কারণ হলো, সেই পুরনো কালপ্রিট—অর্থনীতি। হস্তমৈথুন আসক্তি আর পর্নোগ্রাফি অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। এ দুয়ে মিলে এক চক্র তৈরি করে। আর এ চক্রে আটকা পড়ে শত সহস্র প্রাণ। যদি হস্তমৈথুনকে ক্ষতিকর বলে স্বীকার করে নেয়া হয়, হস্তমৈথুন না করতে মানুষকে উৎসাহ দেয়া হয়, হস্তমৈথুন আসক্তি বন্ধে কাউন্সেলিং করা হয়, তাহলে শত বিলিয়ন ডলারের পর্নোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রির কী হবে? এ অতিকায় ইন্ডাস্ট্রি কি নিজ অস্তিত্বের প্রতি এমন হুমকিকে মেনে নেবে? নাকি নিজের অঢেল সম্পদ ব্যবহার করে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে অ্যাকাডেমিয়া, মিডিয়া এবং “বিশেষজ্ঞদের” মাধ্যমে হস্তমৈথুনকে স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক প্রমাণে?

পরের বার “কেন হস্তমৈথুন ভালো”, “হস্তমৈথুনের ১৮ অজানা উপকারিতা” জাতীয় ইন্টারনেট আর্টিকেলগুলো পড়ার সময় এ বিষয়টা মাথায় রাখবেন।

সর্বোপরি মুসলিম হিসাবে আমাদের ফ্রেইম অফ রেফারেন্স কোনটা আগে সেটা আমাদের বুঝতে হবে। এতক্ষণ যা কিছু আমরা আলোচনা করেছি, এ সবকিছু হলো সেকেন্ডারি, গৌণ প্রমাণ। মুসলিম হিসাবে আমাদের জন্য প্রাইমারি প্রমাণ হলো ইসলামী শারীয়াহর বক্তব্য। আর ইসলামের বক্তব্য হলো হস্তমৈথুন হারাম।[17] একজন মুসলিমের জন্য প্রমাণ হিসাবে এটাই যথেষ্ট হওয়া উচিত। যেখানে ইসলামের স্পষ্ট বিধান আছে সেখানে বিজ্ঞানের “প্রায় নিশ্চিত” মত গোনায় ধরার মতো কিছু না। বিশেষ করে বিষয়টি যখন নৈতিকতার সাথে সম্পর্কিত। যেমন বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিয়ে-বহির্ভূত সেক্স ক্ষতিকর কিছু না। বরং আধুনিক পশ্চিমা দর্শনে এটা স্বাভাবিক, এমনকি প্রশংসনীয়। অন্যদিকে যিনা ইসলামের দৃষ্টিতে কবিরা গুনাহ। বিজ্ঞান যদি কাল থেকে যিনাকে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে প্রচার করা শুরু করে, তাহলে এতে একজন মুসলিমের কিছুই যায় আসে না। যিনার ব্যাপারে তার ধারণা এতে বদলে যাবে না।

সুতরাং হস্তমৈথুন যদি কখনো বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সুনিশ্চিতভাবে স্বাস্থ্যকর বলে প্রমাণিতও হয় (যেটা এখনো হয়নি) তবুও এতে একজন মুসলিমের দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আসার কথা না, কারণ ইসলামের মাপকাঠিতে কাজটা অনৈতিক এবং হারাম। আর বাস্তবতা হলো মনোদৈহিকভাবে হস্তমৈথুন এবং পর্ন-আসক্তি দুটোই অত্যন্ত ক্ষতিকর। আমরা ইতিমধ্যেই আলোচনা করেছি কীভাবে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবার ও সমাজ কেউই মুক্তি পায়নি।

পর্ন-আসক্তি আর হস্তমৈথুনের চক্র ব্যক্তির জীবনকে হতাশা, গ্লানি আর পুনরাবৃত্তির চোরাবালিতে আটকে ফেলে। এ বৃত্তে আটকা পরে তিলে তিলে ক্ষয়ে যেতে থাকে শত সহস্র মানবাত্মা। এ চক্র ভাঙার, এ বৃত্তের বাইরে যাবার উপায় কী? আদৌ কি সম্ভব?

পড়ুন- http://lostmodesty.com/tag/ঝেটিয়ে-বিদায়-করুন-বেয়াড়া/

 

রেফারেন্সঃ

[1] Voyeurism – ঈক্ষণকামিতা। অপরের যৌনক্রিয়া দেখে যৌন তৃপ্তি পাওয়া।

[2] Pornography addiction: A neuroscience perspective,Donald L. Hilton, Jr and Clark Watts – https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3050060/]

[3] How Big is the Porn Industry? – http://bit.ly/2AVUgxT

[4] How large is the adult entertainment industry? – http://to.pbs.org/2FxiEt7

[5] Bart & Jozsa, 1980, p. 210

[6] Kelly, Wingfield, & Regan, 1995, p. 23

[7] Catharine A. MacKinnon, “X-Underrated: Living in a World the Pornographers Have Made,” in Big Porn Inc., edited by Melinda Tankard Reist and Abigail Bray, 9–15. North Melbourne, Australia: Spinifex Press, 2011

[8] Sommers & Check, 1987

[9] Diamond, 1980; Howard, Reifler, & Liptzin, 1991

[10] Zillmann & Bryant, 1986, p. 577

[11] Cline, 1974; Osanka & Johann, 1989.

[12] Sommers & Check, 1987

[13] Sex education as bullying, page 7

[14] Kinsey, Sex and Fraud, page 3

[15] Ibid, page 2

[16] Ibid, page 1

[17] Ruling on masturbation and how to cure the problem – https://islamqa.info/en/329

শেয়ার করুনঃ
সমকামীদের ভ্রান্ত দাবি ও নাস্তিকদের মিথ্যাচার (প্রথম পর্ব)

সমকামীদের ভ্রান্ত দাবি ও নাস্তিকদের মিথ্যাচার (প্রথম পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

সত্যের একটা বৈশিষ্ট্য হল যে সত্য সবসময় উৎকৃষ্ট ও সঠিক বিষয়ের পক্ষেই থাকে , সত্য কখনোই কোন ভুল ও নিকৃষ্টের পক্ষ নেয় না। এইজন্যই মূলত যারা সমাজে নিকৃষ্ট কর্মকান্ডের প্রচার করতে যায় তখন তারা মূলত মিথ্যার আশ্ৰয়ই নেয়। ইতিহাস তারই সাক্ষী |

তাই স্বাভাবিকভাবেই সমকামী ও নাস্তিকরা তাদের হীন স্বাৰ্থ চরিতার্থ করার জন্য অনেক মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে মুক্তমনার প্রতিষ্ঠাতা নাস্তিক ব্লগার অভিজিত রায় তার সমকামিতা একটি বৈজ্ঞানিক এবং সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান বইয়ে বিজ্ঞান নিয়ে অনেক মিথ্যাচার করেছেন । এই বইয়ে তিনি সমকামিতা সম্পর্কিত পুরনো কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণার কথা উল্লেখ করেছেন যা কিনা পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা ভুল প্রমাণ করেছেন। আমি এখানে সমকামীদের প্রচারিত প্রধান কিছু ভ্রান্ত বৈজ্ঞানিক দাবির কথা তুলে ধরব, ইনশাআল্লাহ |

ভ্রান্ত দাবি-০১: “একজন মানুষ সমকামী হয়ে জন্মাতে পারে”

সমকামীরা তাদের হীন দাবি বাস্তবায়ন করার জন্য কয়েকজন বিজ্ঞানীর ভুল রিসার্চের আশ্রয় নিয়েছিল এবং এখনো নিচ্ছে। যেমন নাস্তিকদের ব্লগ মুক্তমনার প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত রায় তার সমকামিতা একটি বৈজ্ঞানিক এবং সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান বইয়ে বিজ্ঞান নিয়ে উল্টা-পাল্টা ও ভুল কথা বলেছেন। জন্মগতভাবে সমকামী হবার সম্ভাবনার কথা বলতে গিয়ে অভিজিত রায় বলেছেন–

” আরেকটি ইঙ্গিত পাওয়া গেছে Dean Hamer এর সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে ডিন হ্যামার তার গবেষণায় আমাদের ক্রোমোজোমের যে অংশটি (Xq28) সমকামিতা ত্বরান্বিত করে তা শনাক্ত করতে সমর্থ হয়েছেন” । [১]

তিনি শুরুতেই মিথ্যা বলেছেন। কারণ Dean Hamer এর এই ভুল গবেষণা সাম্প্রতিক না । এটা প্রায় ২১ বছরের পুরনো গবেষণা উনি কি উনার বই কপি-পেস্ট করে লিখেছেন নাকি? সাম্প্রতিক গবেষণা বলে আসলে তিনি পাঠককে আকর্ষণই করতে চেয়েছেন।

কেউ জন্মগতভাবে সমকামী হতে পারে না:

জন্মগতভাবে সমকামী হওয়া যায়- এই দাবির পক্ষে যার গবেষণাকে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে পেশ করার চেষ্টা করা হয় তিনি হলেন Dr. Dean Hamer  |

১৯৯৩ সালে বিখ্যাত সায়েন্টিফিক ম্যাগাজিন’Science Dr. Dean Hamer এর সমকামীতা নিয়ে স্টাডির বিষয়ে এক আর্টিকেল  প্রকাশ করে । সে আর্টিকেলে বলা হয় যে সমকামীতা বৈশিষ্ট্যের জন্য হয়তো কোন জিন দায়ী হতে পারে। ব্যাস,  সমকামীরা তো খুশিতে পাগল হয়ে গেল এই স্টাডি পড়ে।আর সমকামীদের পক্ষের মিডিয়া মাধ্যমগুলো এটা প্রমোট করা শুরু করল।

প্রথমে শুরু করলো  National Public Radio, এরপর Newsweek আরো রঙচং মেখে ‘Gay Gene’’  শিরোনামে  লিখা  প্রকাশ করল,এরপর দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরো রংচং লাগিয়ে খবরটা ছড়িয়ে দিল । অসৎ মিডিয়ার মত খারাপ জিনিস কমই আছে | Dr. Dean Hamer সাহেবকে মিডিয়া’Gay gene এর জনক বানিয়ে ফেলেছিল এরা । আসলে Dr. Dean Hamer এর গবেষণাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

অবশ্য পরে Dr. Dean Hamer এই বলে তার অবস্থান পরিস্কার করেছেন—–

” আমরা (গবেষণার) বংশবিবরণ থেকে যে simple Mendelian inheritence পাব বলে ভেবেছিলাম তা পাইনি। আসলে, আমরা একটাও সিঙ্গেল ফ্যামিলিতে হোমোসেক্সুয়ালিটি সুস্পষ্টভাবে কখনোও পাইনি যা কিনা মেন্ডেল তার peaplant এর গবেষণায় পেয়েছিলেন” | [২]

Dr. Dean Hamer এর গবেষণাকে অনেক বিজ্ঞানী ভুল প্রমাণ করেছেন।আমি কয়েকটা সফল রিসার্চের কথা বলছি—

১) মানবজাতি জেনেটিক্সের ফিল্ডে এক বিরাট বড় অর্জন করে যখন তারা”The Human Genome প্রজেক্ট কমপ্লিট করে|এই প্রজেক্ট শুরু হয়েছিল ১৯৯০ সালে এবং শেষ হয় ২০০৩ সালে। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে মানুষের জেনেটিক কোডের সিকুয়েন্সগুলোকে ম্যাপিং করার উদ্দেশ্যে এটি তৈরী করা হয় | [৩]  কিন্তু এই প্রজেক্ট দিয়ে তথাকথিত “Gay gene কে আইডেন্টিফাই করা সম্ভব হয়নি।

২) X ও Y হল মানুষের সেক্স ক্রোমোসোম | X ক্রোমোসোম ১৫৩ মিলিয়ন base pairs এবং ১১৬৮টি জিন ধারণ করে I X ক্রোমোসোমের থেকে ছোট ক্রোমোসোম Y তে আছে ৫০ মিলিয়ন base pairs এবং ২৫১টি জিন | এই ক্রোমোসোমগুলোকে নিয়ে গবেষণা করেছে Baylor University,The Max Planck University The Sanger Institue, Washington University fift:RiffTRUCTE & 25 of TI-55 & 3 & WICW; foil.5 WBi Gay gene এর অস্তিত্ব X ক্রোমোসোমেও পায়নি, Y ক্রোমোসোমেও পায়নি। [৪]

৩) Gay gene এর স্রষ্টা বলা হয় যাকে সেই Dean Hamer ‘Gay gene’  এর কথা অস্বীকার করেছেন ।  Scientific American Magazine তাকে যখন জিজ্ঞেস করে যে সমকামীতা কি বায়োলজিতে solely rooted? তখন তিনি বলেছিলেন—

“Absolutely not.From twin studies, we already know that half or more of the variability in sexual orientation is not inherited.Our studies try to pinpoint the genetic factors … not negate the psychosocial factors.” [৫]

৪) Dr. George Rice নামের আরেকজন বিজ্ঞানী পরবতীতে ডিন হ্যামারের মত একই গবেষণা করেছিল।কিন্তু Dr. George এই গবেষণা থেকে কোন পজিটিভ ফলাফল লাভ করতে পারেননি। Dr. George Rice তার গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে বলেন—

” আমাদের গবেষণার তথ্য উপাত্ত এমন কোন জীনের উপস্থিতিকে সমর্থন করে না যা কিনা Xq28 পজিশন দ্বারা sexual orientation কে শক্তিশালীভাবে প্রভাবিত করতে পারে|” [৬]

৫) Dr. Neil Whitehead বায়োকেমেস্ট্রির পি এইচ ডি প্রাপ্ত একজন অধ্যাপক। উনি এই বিষয় নিয়ে প্রচুর গবেষণা করেছেন যা বিজ্ঞান মহলে সমাদৃত হয়েছে। উনি জন্মগতভাবে সমকামী হওয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়ে বলেন,

“সমকামিতা জন্মগত নয়, জিনেটিক দ্বারা নির্ধারিতও নয় এবং সমকামিতা অপরিবর্তনশীলও নয়। ”  [৭]

এছাড়া সমকামীরা Drs. J Michael Bailey, Richard C. Pillard এর পুরোনো Twin Studies রিসার্চকেও দাবি প্রমানে ব্যবহার করে । অথচ এই  স্টাডি উল্টো আরো প্রমাণ করে যে সমকামিতা জন্মগত নয়। আসলে শুধু জীন দ্বারা মানুষের যৌনতার ভূৎপত্তি নির্ধারত হয় না। কেউ জন্মগতভাবে Heterosexual ও না আবার কেউ জন্মগতভাবে Homosexualও না|বরং মানুষ যৌন আচরণ করতে শিখে পরিবেশ থেকে, বায়োলজিরও ভূমিকা আছে এইক্ষেত্রে |” [৭]

[পরে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ইনশা আল্লাহ্‌ । তবে এই কথা সত্য যে সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন কিভাবে নির্ধারিত হয় তা নিয়ে এখনোবিজ্ঞানীরা একমত হতে পারেননি। তারা মনে করেন যে জেনিটিক্যাল এবং এনভাইরনমেন্টাল ফ্যাক্টর উভয়ই এইক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে I Epigenetics এর দ্বারা এখন সমকামিতার ব্যাখ্যাটা আমার পছন্দের সময়ের অভাবে এটা নিয়ে আলোচনা করতে পারলাম না|এতটুকু বলা যায় যে,Epigenetics এ এনভাইরনমেন্টাল ফ্যাক্টরগুলোর কথা আসবে। আমি মনে করি কেউ জন্মগত সমকামী হলেও আগুমেন্টটা সমকামিতার পক্ষে যায় নাকারণ অনেকে ফিজিক্যাল সাইকোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার নিয়ে

জন্মাতে পারে ফিজিক্যাল সাইকোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার নিয়ে কারো জন্ম হতে পারলে সেক্সুয়াল ডিসঅর্ডার নিয়েও অনেকের জন্ম হতে পারে ডিসঅর্ডারকে ডিসঅর্ডার হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়াটাই সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে]



লিখেছেন-  Farhad Hossain

লেখক Faridpur Medical College এ অধ্যয়নরত

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ ……

#stand_aggainst_Lgbt_propaganda
#মিথ্যায়_বসত

রেফারেন্স-

১) www.narth.org/docs/istheregene.html

২) Hamer and copeland page-104

৩) How it works, issue 49

৪) www.trueorigin.org/gaygene01.asp

৫) New Evidence of a gay gene by Anastasia Touefexis, Time, November 13, 1995, vol. 146, issue 20,p.95

95

৬) George Rice, et al., “Male Homosexuality: Absence of Linkage to Microsatellite Markers at Xq28,” Science, Vol. 284, p. 667.

৭) Neil and Briar Whitehead,My Genes Made me Do it!,page 9

শেয়ার করুনঃ
সমকামীদের ভ্রান্ত দাবি ও নাস্তিকদের মিথ্যাচার (দ্বিতীয় পর্ব)

সমকামীদের ভ্রান্ত দাবি ও নাস্তিকদের মিথ্যাচার (দ্বিতীয় পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

সমকামীদের ভ্রান্ত দাবি-২:   সমকামীদের ব্রেন বিষমকামীদের ব্রেন থেকে আলাদা

অভিজিত রায় তার ‘সমকামিতা: একটি বৈজ্ঞানিক এবং সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান’  বইয়ে আরেকটি ভুল গবেষণার কথা উল্লেখ করেছেন।

তিনি Dr. Simon LeVay এর একটা গবেষণার কথা বলেছেন যা কিনা পরবতীতে বিজ্ঞানী মহল প্রত্যাখ্যান করেছে |  Dr. Simon LeVay তার এক রিসার্চে বলেছেন যে বিষমকামী পুরুষের হাইপোথ্যালামাসের Cluster cell INAH-3 এর সাথে সমকামীদের হাইপোথ্যালামাসের Cluster cell INAH-3 এর পার্থক্য আছে আর তাই সমকামিতা জন্মগতভাবে লাভ করা সম্ভব। [১]

অথচ তার গবেষণা ছিল দুর্বল। তিনি যে সমকামীদের নিয়ে গবেষণা করেছিলেন তারা আবার এইডসের কারণে মৃত্যুবরণ করেছিল। তাই তার গবেষণার সাবজেক্টগুলোর শুদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। Dr. A. Dean Byrd , LeVay এর গবেষণার সমালোচনা করে বলেন–

” প্রফেসর Breedlove তারা গবেষণার সারাংশে বলেছেন যে, ব্রেন স্থির অঙ্গ নয়। এটি পরিবর্তিত হয় এবং ব্যবহারের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়ায়তার রিসার্চ অনুযায়ী এটা বিশেষত যেন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঘটে। তাই যখন কেউ একটা বিশেষ কাজ বার বার করতে থাকে তখন নির্দিষ্ট একটা নিউরাল পথ শক্তিশালী হয়।যেহেতু ব্রেন একটা ফিজিক্যাল অঙ্গ তাই যখন এই নিউরাল পথগুলো শক্তিশালী হয় তখন এটি ব্রেনের রসায়নে প্রতিফলিত হয় । যে বার বার বাস্কেটবল খেলে তার মস্তিষ্ক এর সাথে রকেট সাইন্স নিয়ে পড়াশুনা করা ব্যক্তির মস্তিষ্কের পার্থক্য থাকবে। তেমনিভাবে, একজন সমকামী ব্যক্তির ব্যবহারও তার মস্তিষ্কের গঠন পরিবর্তন করে দেয়। তাই LeVay এর মত স্টাডি যদি গ্রহণযোগ্যও হয় তাহলেও দেখা যাবে যে এই স্টাডি যা বলছে ব্রেন সম্পর্কে, তা বিজ্ঞান আগে থেকেই জানে” । [২]

অর্থাৎ LeVay এর স্টাডি নতুন কিছুই প্রমাণ করতে পারেনি। অবশ্য ২০০১ সালে LeVay তার গবেষণার ব্যর্থতা স্বীকার করে বলেছেন–

” আমি যা পাই নি তা বলার প্রয়োজনবোধ করছি।আমি প্রমাণ করিনি যে, সমকামিতা জেনেটিক এবং আমি সমকামিতার জেনেটিক কোন কারণ বের করিনি । আমি প্রমাণ করিনি যে,  সমকামীরা জন্মগতভাবেই এইরকম যা মানুষ আমার কাজের ভুল ব্যাখ্যা করে বলে,  না আমি ব্রেনে কোন সমকামী কেন্দ্রে আবিষ্কার করেছি” । [৩]

অভিজিত রায়ের মত মানুষেরাই এভাবেই বিজ্ঞানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আসছে। কি আর করার সমকামী নাস্তিকদের মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করা ছাড়া অন্য কোন উপায় তো নেই, সত্য যে তাদের পক্ষ নিবে না!

রেফারেন্সঃ

[১] Simon LeVay, The Sexual Brain (Cambridge, Mass.: The MITPress, 1993), p. xii.

[২] Dr. A. Dean Byrd and Stony Olsen, “Homosexuality: Innate and Immutable?” Regent University Law Review, Vol. 14, pp. 516-517. (Original footnotes omitted.)

[৩]  D. Nimmons, “Sex and the brain,” Discover (March 1994), 64-71.

সমকামীদের ভ্রান্ত দাবি -৩:  Animals Do It, So It’s Natural, Right?

সমকামীরা প্রায়ই এই দাবি করে যে “পশুরা যেহেতু সমকামী হতে পারে সেহেতু এটা ন্যাচারাল আর তাই মানুষের পক্ষেও সমকামিতা স্বাভাবিক!”

প্রথমত আমাদের এটা জানতে হবে যে, পশুদের মাঝে কোন সমকামিতার প্রবৃত্তি (Homosexual Instinct) নেই। Antonio Pardo, Professor of Bioethics at the University of Navarre, Spain  পশুদের সমকামী হওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করে বলেন

“সঠিকভাবে বলতে গেলে, পশুদের মাঝে সমকামিতার কোন অস্তিত্ব নেই। বংশবৃদ্ধি করার প্রবৃত্তি থেকে পশুরা সবসময় বিপরীত লিংগের প্রতি আকৃষ্ট হয় ।  তাই একটা পশু কখনোই সমকামী হতে পারে না” [১]

আসলে সমকামীদের এই দাবিটা খুবই হাস্যকর ও অযৌক্তিক ।  সমকামীদের এই দাবি করার আগে বোঝা উচিৎ ছিল যে Human Nature আর Animal Nature এক না। Animal Nature এর সাথে Human Nature এর তুলনা করে তারা প্রমাণ করল যে তারা বিজ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞ । পশুদের মাঝে হোমোসেক্সুয়াল বিহেভিয়ার দেখে তারা ভেবেছে যে “মানুষ এই কাজ করলে কি সমস্যা?”

সমস্যা আছে ৷

প্রথমত,  তাদের এই তুলনা করাই ঠিক হয় নায় ।  আচ্ছা সমকামীদের জিজ্ঞেস করছি,  পশুদের মাঝে “filicide” ও “cannibalism” নামক বিহেভিয়ার দেখা যায় ।  flicide হয় যখন একজন পশু তার সন্তানকে খেয়ে ফেলে আর cannibalism হয় যখন কোন পশু তাদের নিজ প্রজাতির কোন সদস্যকে খেয়ে ফেলে । উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বিড়ালদের মাঝে flicide বৈশিষ্ট্যটি দেখা যায় Sarah Hartwell বিষয়টি এইভাবে ব্যাখ্যা করেছেন—-

” বেশিরভাগ স্ত্রী বিড়াল তাদের বাচ্চাদের ক্ষতি না করার জন্য নিজেদেরকে “play mode” ও “hunt mode” এ নিয়ে যেতে পারে। পুরুষ বিড়ালে “hunt mode” বন্ধ করার প্রক্রিয়াটা অসম্পূর্ণ এবং যখন তারা খেলার মাধ্যমে উত্তেজিত হয়ে যায় তখন তাদের শিকার করার প্রবৃত্তিটা জেগে উঠে এবং তারা তাদের বাচ্চাদের মেরেও ফেলতে পারে” [২]

মূলত বিড়ালের ছানাদের আচরণের কারণে পুরুষ বিড়াল তাদেরকে শিকার ভেবে ভুল করে এবং এর ফলে পুরুষ বিড়ালের শিকার করার প্রবৃত্তি জেগে  উঠে ।

আর cannibalism এর বিষয়টি Iran Nature and Wildlife Magazine এইভাবে ব্যাখ্যা করেছে —

“Cannibal is an animal which feeds on others of its own species…….. Around 140 different species show cannibalistic tendencies under various conditions.” [ ৩]

পশুদের  বিভিন্ন  প্রজাতিকে এই দুইটা কাজ করতে করতে দেখা যায় তো এখন কি এই কাজ করা আমাদের জন্যও স্বাভাবিক হবে ? নরখাদকদের তাহলে মানুষ খাওয়ার বৈধতা দিয়ে দিন সমকামী + নাস্তিকরা হয়তো ভবিষৎ এ বলবে, ” জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার নিমিত্তে আমাদের বেশি বেশি মানুষ খাওয়া উচিৎকারণ প্রাণীরা এই কাজ করে !  ” Black Widow মাকড়সা যেমন শারীরিক সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলে পুরুষ মাকড়সাকে খেয়ে ফেলে তেমনি সমকামী নাস্তিকরাও হয়তো নিজেদের শয্যাসংগীকেও খাওয়ার দাবি জানাবে !

এইসব দাবি যেমন হাস্যকর লাগছে সমকামিতা বৈধ করার দাবিটিও এইরকম ।  আর কে নাকি সমকামিতাকে বৈধতা দেয়ার পার্থনোজেনেসিসকে টেনে এনেছে ।  সে পার্থনোজেনেসিসের কথা টেনে এনে যে কত বড় বোকামি করেছে তা নিশ্চয় এখন বুঝতে পেরেছেন । সমকামী + নাস্তিক ভায়াদের বুঝা উচিৎ Human Sex ও  Animal Sex  এক জিনিস না । Ethologist Cesar Ades, Human Sex ও  Animal Sex   এর পার্থক্য গুলো বোঝাতে গিয়ে বলেছেন –

“Human beings have sex one way, while animals have it another. Human sex is a question of preference where one chooses the most attractive person to have pleasure. This is not true with animals. For them, it is a question of mating and reproduction. There is no physical or psychological pleasure…… The smell is decisive : when a female is n heat, she emits a scent, known as pheromone. This scent attracts the attention of the male, and makes him want to mate. This is sexual intercourse between animals. It is the law of nature. “[৩]

“মানুষ যৌন সঙ্গম করে একভাবে আর পশুরা করে আরেকভাবে মানুষের সঙ্গম হয় পছন্দের ভিত্তিতে যেখানে একজন সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যক্তিকে পছন্দ করে সঙ্গম করার জন্য। এটা পশুদের ক্ষেত্রে সত্য নয়। তাদের জন্য সঙ্গম করার লক্ষ্য হল বংশবৃদ্ধি করা। শারীরিক বা মানসিক সুখ অর্জন করা তাদের সঙ্গমের লক্ষ্য নয়। ” [৪]

Cesar Ades এর দারুণ ব্যাখ্যার পর আর এই বিষয়ে আর কিছু বলার প্রয়োজনবোধ করছি না ।

এখন আসি পশুদের Homosexual behaviour এর বিষয়ে । আগেই বলেছি যে পশুদের সমকামিতার প্রবৃত্তি নেই। পশুদের মাঝে Homosexual behaviour দেখা যায় সেটা “filicide” ও “cannibalism এর মতই এবনরমাল। কারণ পশুরা অনেক সময় যৌন সঙ্গী নির্ধারণ করতে গিয়ে ভুল করে।

কারণ পশুরা আমাদের মত বুদ্ধিমান প্রাণী না এরা যৌন সঙ্গী নির্ধারণ করতে স্বাদ, গন্ধ স্পর্শ ও শব্দ ব্যবহার করে আমাদের মত বুদ্ধি ব্যবহার করে না । উদাহরণ হিসেবে কুকুরের কথা বলা যায় । কোন male dog যদি কোন estrus female dog এর সাথে সঙ্গম করে আসে তাহলে সে male dog অন্য  male  dog কে আকর্ষণ করে , কারণ estrus female dog  এর সাথে সঙ্গম করার ফলে male dog , estrus female dog এর scent  বহন করে যা অন্যান্য male dog দের বিভ্রান্ত করে । কুকুর নিজেরা কিন্তু সমকামী না, তাদের যৌন সংগী নির্ধারণ করার দুর্বলতার কারণেই তারা একই লিংগের কুকুরের দ্বারা আকৃষ্ট হয় যা এবনরমাল বিহেভিয়ার হিসেবেই গণ্য হয়।

কুকুরের ঘটনাটা এইভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে …

“Not surprisingly, the smell of a female dog in heat can instigate a frenzy of mounting behaviors. Even other females who are not in heat will mount those who are Males will mount males who have just been with estrus females if they still bear their scent…. And males who catch wind of the estrus odor may mount the first thing (or unlucky person) they come into contact with.” [৫]

তাই পশুদের এইরকম আচরণ দেখে পশুকে সমকামী বলে ভারডিক্ট দেয়া হল চরম পর্যায়ের বোকামি৷

আরো ব্যাখ্যা দিতে পারি । কিন্তু যা দিয়েছি ,তাই যথেষ্ট মনে হয়েছে । আশা করি সবাই বুঝতে পেরেছেন । না  বুঝতে পারলে কোটেশনগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

সবশেষে সমকামী ও নাস্তিকদের একটা কথা বলব —

“Irrational Animal Behavior is No Blueprint For Rational Man.”

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ ……

#stand_aggainst_Lgbt_propaganda#মিথ্যায়_বসত

প্রথম পর্ব পড়ুন এখানে – http://lostmodesty.blogspot.com/2016/09/blog-post_29.html

লিখেছেন-  Farhad Hossain

লেখক Faridpur Medical College এ অধ্যয়নরত

তথ্যসূত্রঃ

[1]Sarah Hartwell, Cats that kill kittens

[2]cannibalism in animals (Our emphasis)

[3]]”Cachorro Gay?”

[4]Ibid. (Our emphasis.) |5|Frans B. M. de Waal, “Bonobo Sex and Society,” Scientific American, Mar. 1995, pp. 82-88

[6]Antonio Pardo, “Aspectos mZdicos de la homosexualidad,”Nuestro Tiempo, Jul.-Aug. 1995,pp. 82-89

শেয়ার করুনঃ