ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (সপ্তম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (সপ্তম পর্ব)

৩০. বিয়ে করতে ভয় পাচ্ছি। আমি আগে পর্ন-আসক্ত ছিলাম। অনেক পর্ন দেখেছি,মাস্টারবেট করেছি। এগুলো ছেড়ে দিয়েছি। এখন বিয়ে করতে ভয় পাচ্ছি।

– প্রথমত পর্ন, মাস্টারবেশন থেকে পুরোপুরি সরে আসতে হবে, এগুলা করতে থাকলে শারীরিক ক্ষতি রিকভার করা সম্ভব না।

– প্রচুর পানি, শাকসব্জ্‌ ফলমূল, দুধ, কলা, বাদাম, খেজুর কিশমিশ, আঙ্গুর খেতে হবে।

– কালোজিরা খেতে হবে। (খাওয়ার নিয়মঃ ভর্তা করে ভাত দিয়ে খেতে পারেন। আবার কালিজিরা এর তেল টাও মধু দিয়ে খেতে পারেন। সকালে খালি পেটে এক চা চামচ মধু+এক চা চামচ তেল/ এক চা চামচ মধু+এক চিমটি কালোজিরা)

– ব্যায়াম করতে হবে। (ব্যায়াম নিয়ে টিপস পেতে এই পেজে – https://www.facebook.com/RijaalGym/ যোগাযোগ করুন)

– রাতে ১১ টার ভেতর ঘুমাতে হবে। দেরি করা যাবে না। সকাল সকাল উঠতে হবে। পারলে দুপুরে একটু ঘুমুতে হবে।

– আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দু’আ করতে থাকুন। আল্লাহ্‌ বলেছেন, ‘আর তোমাদের যদি কোন দুঃখ দৈন্য স্পর্শ করে তখন তা দূর করার জন্য তাকেই তোমরা বিনীতভাবে ডাকতে শুরু কর’। (সূরা আন নাহলঃ আয়াত ৫৩)
.
এভাবে ৩-৬ মাস চলুন। ইনশা আল্লাহ্‌ আর ভয় নেই।
.
চাইলে একজন ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। একজন ইউরোলজিস্ট বা স্কিন এন্ড স্কেক্স এক্সপার্টকে দেখাতে পারেন। যদি আপনার পেনিসে কোনো সমস্যা থাকে উনারা চিকিৎসা করবেন। যদি পেনিসে কোন সমস্যা না থাকে তাহলে উনারা মনোবিদ রেফার করে দিবেন বা নিজে কোনো মনোবিদের কাছে যাবেন। সাইকিয়াট্রিস্ট মানেই পাগলের ডাক্তার না। এতে লজ্জা পাবেন না। আর মনোবিদের পরামর্শ মেনে চলুন ইনশা আল্লাহ্‌।
.
তারপর আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে বিয়ে করে ফেলুন ইনশা আল্লাহ্‌। বিয়ের পর বা বিয়ের আগের রাতে www.facebook.com/shamsul.shakti – ভাইয়ের একটা নোট আছে,সেটা পড়ে নিয়েন। (দয়া করে এখন পড়বেন না, নোটটা পড়ে কোনো পাপে জড়ালে তার দায়ভার আমাদের নয়)। সব ঠিক হয়ে যাবে ইনশা আল্লাহ্‌। দুশ্চিন্তা করবেন না।
———-

৩১. পেনিসের সাইজ নিয়ে খুব চিন্তা হয়,আগা মোটা,গোড়া চিকন ইত্যাদি

– উত্তেজিত অবস্থায় পুরুষ লিঙ্গের গড় দৈর্ঘ্য হয়ে থাকে ৪.৭ থেকে ৬.৩ ইঞ্চি। অনেকের মতে পেনিসের গড় দৈর্ঘ্য ৫.১-৫.৯ ইঞ্চি।

মূলত পর্ন ভিডিও দেখে দেখে বা চটিগল্পের কারণে ছেলেপেলেদের মধ্যে পেনিসের সাইজ নিয়ে মারাত্মকভুল ধারণা তৈরি হয়।

তবে আপনার পেনিস যদি লম্বার সর্বনিম্ন ৪ (চার) ইঞ্চিও হয়ে থাকে তাহলেও আপনার স্ত্রীকে তৃপ্তি দিতে আপনার কোনো সমস্যা হবে না। অনেক বিশেষজ্ঞরা আবার এও বলে থাকেন স্ত্রীকে অরগাজম দিতে মাত্র ৩ ইঞ্চি লম্বা পেনিস হলেই যথেষ্ট।
.
– বড় পেনিস মানেই বেশি আনন্দ, কথাটা ঠিক নয় ।

– পেনিস কখনই একেবারে সোজা হয়না । একটু বাকা থাকেই ।

– পেনিসের গোঁড়া চিকন আগা মোটা এটা কোন সমস্যা নয় । স্কুল জীবন থেকেই রাস্তাঘাটের তথাকথিত হার্বাল, কবিরাজ এবং ভেষজ ডাক্তারদের বিভ্রান্তিকর লেকচার শুনতে শুনতে অনেকের মধ্যেই এ বিষয়ে একটা বদ্ধমূল ভূল ধারণা তৈরি হয়ে আছে ।

– কোন যাদুকরী তেল বা মালিশ পেনিস ‘তেমন’ বড় করতে সক্ষম নয় । এগুলা ভুয়া । আসক্তদের এসব ব্যবহার না করাই ভালো। মালিশ করতে গিয়ে দেখবেন আপনি উত্তেজিত হয়ে মাস্টারবেট করে ফেলছেন, পর্ন দেখে ফেলছেন।

– বেশি বড় পেনিস হলে মেয়েরা আনন্দ পাওয়ার বদলে ব্যাথা পায় । এমনকি সেটা যৌন আতঙ্কেও রুপ নিতে পারে অনেক নারীদের জন্য। মেয়েরা সাধারণত ছোটো পেনিসেই সন্তুষ্ট থাকে।

– ক্ষুদ্র পেনিস বলতে ২.৭৬ ইঞ্চির চেয়ে ছোট পেনিস বুঝায় । সেক্ষেত্রে যথাযথ চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে।

– গোঁড়া চিকন আগা মোটা বা বাঁকা পেনিস যৌনমিলনে কোন সমস্যার সৃষ্টি করেনা। এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।

– স্ত্রী ছাড়াই পেনিস শক্ত এবং দৃঢ হয়ে যায় এমন কোনো কাজ যেমন: বেগানা নারীর দিকে তাকানো, অশ্লীল সাহিত্য পড়া, কম্পিউটার বা মোবাইলে খারাপ কিছু দেখা থেকে বিরত থাকুন।

– ৪০ দিনের মধ্য পুরুষাঙ্গের গোড়ার চুল কাটুন।

– আপনার যৌন স্বাস্থের দিকে নজর দিন। এটাও আপনার শরীরেরই অংশ। নিয়মিত পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করুন। কারণ পুরুষরা দৈনন্দিন খাবার দাবার থেকেই তাদের যৌন শক্তি লাভ করে থাকে।
.
এই পর্যন্ত পড়ার পর আপনার অনেক উত্তেজনা চলে আসতে পারে। নিজের ভবিষ্যৎ স্ত্রীর সাথে অন্তরজ্ঞ হবার চিন্তা,ফ্যান্টাসি মাথায় আসতে পারে। আল্লাহ্‌কে ভয় করুন। নিজেকে সামলান। অশ্লীল চিন্তা মাথা থেকে দূর করে দিন। ভুলেও অশ্লীল চিন্তায় বুঁদ হয়ে থাকবেন না। তা না হলে আপনি কিছুক্ষণের মধ্যেই পর্ন দেখে ফেলবেন বা মাস্টারবেট করে ফেলতে পারেন। সাবধান।
(https://www.medicalnewstoday.com/articles/271647.php)
———-

৩২. কখন ডাক্তার দেখাবো? কাকে দেখাবো?

নরমালি পর্ন দেখার ফলে ইরেক্টাইল ডিসফাওংশন ( লিঙ্গোত্থানে সমস্যা) বা প্রি ম্যাচুউর ইজাকুলেশন (অকাল বীর্যপাত) হলে পর্ন মাস্টারবেশন ছেড়ে দিলে এবং একটু ভালোমতো খাওয়া দাওয়া করলে ৩-৬ মাস বা কারো কারো আরেকটু বেশি সময় লাগে। আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলবেননা।

পরবর্তীতে কোন সমস্যা দেখা দিলে বা এ বিষয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা কাজ করলে একজন ইউরোলজিস্ট বা স্কিন এন্ড স্কেক্স এক্সপার্টকে দেখাতে পারেন।

এলাকাভিত্তিক ডাক্তার এবং মনোবিদদের লিস্ট- http://lostmodesty.com/doctorlist/
———-

৩৩. পর্নসাইট ব্লক করবো কিভাবে?

Android মোবাইলে পর্ন ব্লক করার উপায়ঃ

১. যদি মোবাইল ইন্টারনেট বাসার WiFi এর মাধ্যমে চালান তাহলে এই ভিডিও দেখুন- https://youtu.be/K2CLMulY864

(এখানে বলে রাখা ভালো, apps lock দিয়ে অন্যান্য ব্রাউজার লক করার সময় পাসওয়ার্ড দিবে অন্য আরেকজন, হয় আপনার বন্ধু বা বাসার কেউ। যে দিবে সে আপনাকে আর পাসওয়ার্ড জানাবে না, ওটা জেনে গেলে লাভ হবে না। আরেকটা কাজ করতে পারেন, ইচ্ছামত কঠিন কম্বিনেশন ইউজ করে একটা পাসোয়ার্ড লিখবেন কাগজে, অ্যাপে ভেরিফিকেশন শেষ হয়ে গেলে ওই কাগজ ছিড়ে ফেলুন বা পুড়িয়ে দিন। তবে প্রথমটি করাই উচিত। অন্য কারো সাহায্য নেওয়া)

এই ভিডিও অনুযায়ী কাজ করার পর আপনাকে আরেকটা কাজ করতে হবে। গুগল সেটিং থেকে Safe Search অন করে দিতে হবে। এই লিঙ্ক দেখুন- https://www.wikihow.com/Block-Porn-from-Google-Search

২. যদি মোবাইল ডাটার মাধ্যমে ইন্টারনেট চালান তাহলে এই ভিডিও দেখবেন- https://youtu.be/vH0n43Rz67Q
.
iOS মোবাইলে এবং PC তে পর্ন ব্লক করার উপায়ঃ

পড়ুন – http://lostmodesty.com/muktobichoron/
.
কোন স্টেপ বুঝতে প্রব্লেম হলে পর্নোগ্রাফিঃ মানবতার জন্য হুমকি পেজে ইনবক্স করুন।
.
আরেকটা কথা, আমরা যত সফটওয়্যারই ব্যবহার করি না কেন সবগুলোর কোন না কোন glitch আছে। সহজেই ফাকি দেয়া যায়। তাই এদের ভরসায় বসে থাকলে হবে না, নিজের মন থেকেই রেসিস্টেন্স নিয়ে আসতে হবে। যত যাই হোক আমি পর্ন দেখবো না চটি পড়বো না মাস্টারবেট করবো না- এইরকম দৃঢ়তা লাগবে ভাই। নিজের মন কে শাসন করতে হবে। যেভাবে ট্রেইনিং দেয়া হয় বিশেষ কাজে দক্ষ শ্রমিক গড়ে তুলতে সেভাবে নিজের মন কে, নফস কে ট্রেইন করতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে এক পর্ন বা চটি বা হস্তমৈথুন কিভাবে মনকে কলুষিত করে, হতাশা বাড়িয়ে দেয়, কিছু না পাওয়ার তাড়না তীব্রভাবে বাড়ায় তোলে, ইবাদত নষ্ট করে, মানুষকে পশুতে পরিনত করে। এভাবে ট্রেইন আপ করুন নিজের মনকে। পর্ন ব্লক সফটওয়্যার অনেকটা সেফটি রিং গুলার মত, যেই রিং ধরে ধরে সাঁতার শেখা শুরু হয় বা এক্সপার্ট ড্রাইভার এর মত যে আপনাকে সতর্ক করবে গাড়ি চালানো শেখার সময়। এরা শর্ট টার্ম সাপোর্ট দিবে, কিন্তু দিনশেষে আপনাকেই হাল ধরতে হবে, নিজেকে ডেভেলপ করতে হবে।
———-

৩৪. ইউটিউব এর ফিতনা

পড়ুন- https://tinyurl.com/ycyesvvc
———-

৩৫. মোবাইলে অ্যাড ব্লক করবো কিভাবে? + শেয়ারইট এর ফিতনা

পড়ুন – http://lostmodesty.com/muktobichoron/
.

আমরা খুব ছোটো মানুষ। আমাদের লিখার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ্‌। যেকোনো ধরণের পরামর্শ বা সাজেশন হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ …
.
পড়ুন আগের পর্বগুলাঃ http://lostmodesty.com/vengefelokaragar/

শেয়ার করুনঃ
ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (ষষ্ঠ পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (ষষ্ঠ পর্ব)

২৯. আমি অনেক শুকনো। বন্ধু-বান্ধব আমাকে নিয়ে মজা করে। হতাশা লাগে। হতাশা থেকে পর্ন দেখি। মাস্টারবেট করি।

একসময় আমার ওজন ছিল ৫২ কেজি। শুকনা থাকার ফলে একবার আমি আর আমার এক বন্ধু বেশ বড়ধরণের একটা এক্সিডেন্ট থেকে বেঁচে গিয়েছিলাম। রাস্তা পার হবার সময় আমি আর  বন্ধু দুই বাসের চিপায় পড়ে গিয়েছিলাম। তারপর যদি সোজা থাকতাম তাহলেও চিপায় পড়ে চ্যাপ্টা হয়ে যাইতাম। দুইজনে বাকা হয়ে গেলাম আড়াআড়ি ভাবে। শরীর ঘেঁষে বাস চলে গেল। একটু মোটা হলেই সেদিন দুইজনেই মারা যেতাম।  শুকনা থাকার কারণে দৌড়ে সহজে কেউ পারতোনা, মোটা বন্ধুদের তুলনায় খেলাধুলায় বেশ ভালোই ছিলাম, গরমে হাঁসফাঁস কম করতাম।

৫২ কেজি ওজনের আমি এক রোযার মাসে শুকাইয়া হলাম ৫০ কেজির মতো। রোযার পর একমাস কেন জানি একটু বেশি বেশি খেলাম, রাত ১০টার মধ্যে ঘুমিয়ে ফজরের সময় উঠলাম, রিলাক্স থাকলাম, দুশ্চিন্তা, টেনশন থেকে দূরে থাকলাম। এক মাসের মাথায় ওজন বাড়ল ৬ কেজি। হলাম ৫৬ কেজি। দেড় মাস পর যখন হল থেকে বাসায় গেলাম তখন আমার ওজন ৬১ কেজি ছুঁই ছুঁই।  মায়ের মুখে হাসি আর ধরেনা। জীবনে এই প্রথমবারের মতো  বাসায় ফেরার পর মা বললোনা যে তুই শুকিয়ে কঙ্কাল হয়ে গিয়েছি। মানুষজন আমাকে এসে জিজ্ঞাসা করল, এই তুমি কি খাইছো? কেমনে এতো মোটা হলা? আল্লাহ্‌র কসম। একবিন্দুও বাড়িয়ে বলছিনা।

শরীর শুকনা, কেন মোটা হচ্ছিনা, এসব ভেবে, তালপাতার সেপাই, কাঠি, হ্যাঙ্গার, বাতাস উঠলে পড়ে যাবি সাবধান এসব কথা শুনে আর  বন্ধুরা টিশার্ট পরে মাসল দেখিয়ে বেড়ায়, মেয়েরা দেখে আর ক্রাশ খাই মেইনলি এসব দেখে মন খারাপ হয়। হতাশা আসে, হতাশা থেকে অনেকেই হীনমন্যতায় ভোগে, মানুষজনের সামনে সহজ হতে পারেনা, মিশতে পারেনা, নিজেকে গুটিয়ে নেয়। অনেকেই গভীর দুঃখবোধ থেকে পর্ন দেখে ফেলে মাস্টারবেট করে ফেলে।

দুইজন সুপার হিরোর গল্প শোনা যাক।

প্রথমজন হলেন এমন একজন যিনি এই দুনিয়ার বুকে যতো মানুষ হেঁটে বেড়িয়েছেন নবী, রাসূলের (আঃ) পর তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ। দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন। সাত আসমানের ওপর থেকে আল্লাহ্‌ (সুবঃ) যাকে সালাম পাঠিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন আল্লাহ্‌র রাসূল (সাঃ) এর সবসময়ের সঙ্গী, ইসলামের প্রথম খলিফা। আল্লাহ্‌র রাসূল মারা যাবার পরে সবাই যখন হতবিহব্বল, কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন, উমার ইবনে খাত্তাবের (রাঃ) মতো মহাবীর, প্রবল ব্যক্তিত্বের অধিকারী মানুষও শিশুর মতো আচরণ করছিলেন তখন একা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনেন এই সুপার হিরো। তিনি আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহুম।

আলী ইবনে আবু তালিব (রাঃ) এমন সাহসী, এমন দুর্ধর্ষ যোদ্ধা ছিলেন, এমন এক পর্বতসমান ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন যে শত্রুরা তাঁর নাম শুনলেই ভয়ে কাপাকাপি করতো। তিনিই হলেন সেই ব্যক্তি যিনি খায়বারের যুদ্ধে দুর্গের দরজাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন, যেটা যুদ্ধের পরে ৭০ জন মানুষ মিলেও তুলতে পারিনি। এই আলি (রাঃ) একদিন মানুষদের জিজ্ঞাসা করলেন, বলো তো সবচাইতে কে বেশি সাহসী? উত্তর এলো- আপনি,আপনি সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী হে আবুল হাসান (আলী রাঃ)’ ।  আলী (রাঃ) বললেন না, কক্ষনোনা। আমি কোনো ডুয়েল লড়াইয়ে কখনো পরাজিত হইনি, কিন্তু তারপরেও আবু বকর (রাঃ) আমার চাইতেও অনেক অনেক সাহসী। তিনি সবচেয়ে বেশি সাহসী।

(https://www.youtube.com/watch?v=rWb2Bao0JfE )

আলী (রাঃ) বললেন, বদরের যুদ্ধে একটি কমান্ড সেন্টার স্থাপন করা হল। যেখানে থেকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যুদ্ধ পরিচালনা করবেন। সেই তাবুর নিরাপত্তা প্রদানের জন্য ভলান্টিয়ার আহবান করা হলো। আমাদের কেউই এগিয়ে গেল না। এগিয়ে গেলেন কেবল আবু বকর (রাঃ)। তরবারী হাতে তিনি আল্লাহ্‌র রাসূলের (সাঃ) তাঁবু পাহারা দিচ্ছিলেন। বিশ্বাস করো, তাঁর মতো সাহসী আমি কাউকেই দেখিনি’।

(https://www.kalamullah.com/Books/Abu%20Bakr%20As-Siddeeq.pdf  page,112)

সুবহান আল্লাহ্‌ একবার চিন্তা করুন, আলীর (রাঃ) মতো মানুষ, সার্টিফিকেট দিচ্ছেন আবু বকর (রাঃ) এর মতো সাহসী মানুষ তিনি  আর দেখেননি।

এই পর্যন্ত পড়ার পর এবার আবু বকর (রাঃ) এর শারীরিক গঠনের কথা চিন্তা করুন। কেমন ছিলেন তিনি ? অনেক লম্বা, মাসলের হাট বাজার বসিয়ে ফেলা এমন একজন কেউ ?

উত্তর একটু পরে দিচ্ছি।

.

আমাদের আরেকজন সুপারহিরো হলেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)। কুরআনে তাঁর ছিল অগাধ পান্ডিত্য। একরাতে তাঁর কুরআন তিলাওয়াত শুনে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মন্তব্য করেছিলেন- কুরআন যেরকম সরস ও প্রাণবন্ত রূপে নাজিল হয়েছে, ঠিক সেরকম পড়ে যদি কেই আনন্দ পেতে চায়, তাহলে তার উচিত ইবনে উম্মে আবদ অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের কেরাতে তা পড়া’।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) শুধুই কেবল একজন কুরআনের শ্রেষ্ঠ বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াতকারী,কুরআনের পণ্ডিত, আবিদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন শক্তিশালী, আত্মপ্রত্যয়ী এবং যুদ্ধের ময়দানের একদম সামনের সারির মুজাহিদ। বিলাল (রাঃ) এর ওপর সর্বাধিক অত্যাচারকারী  উমাইইয়া ইবনে খালাফকে তিনি বদরের যুদ্ধে জাহান্নামের টিকিট ধরিয়ে দিয়েছিলেন।

তাঁর সাহসিকতা, তাঁর বীরত্বের উদাহরণ হিসেবে এটা বলাই যথেষ্ট যে তিনিই সর্বপ্রথম মুসলিম যিনি  রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর পর পৃথিবীর বুকে উচ্চ আওয়াজে কুরআন পড়েছিলেন।

.

সেই সময় মক্কার কুরাইশদের অত্যাচারের মুখে সাহাবীদের (রাঃ) পক্ষে উচ্চ আওয়াজে কুরআন পড়ে কুরাইশদের শোনানো সম্ভব হচ্ছিল না। আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বললেন, ‘আমিই তাদের উচ্চ আওয়াজে কুরআন পড়ে শোনাবো’।

সকলে হায় হায় করে উঠলেন, ‘ আপনার ব্যাপারে আমরা ভরসা পাইনা। আমাদের প্রয়োজন এমন একজন মানুষ- যার বংশ বড় এবং জনবলও বেশি। যারা তাঁর হেফাযত করবে এবং কুরাইশের ক্ষতি থেকে তাকে সুরক্ষা দেবে’।

তিনি, বাকিদের কথা না শুনে ক্বাবা শরীফে গিয়ে উচ্চকন্ঠে সূরা আররহমান তিলাওয়াত করা শুরু করেন- আররহমান, আল্লামাল কুরআন…

কুরাইশরা স্তব্ধ হয়ে গেল! এই পুঁচকে রাখালের সাহস কতো বড়!  দে মাইর দে। সবাই মিলে আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদকে (রাঃ) অনেক পেটালো। রক্তে রঞ্জিত করে ফেলল। কিন্তু তিনি তাদের কাছে মার খেতে খেতেও তিলাওয়াত অব্যাহত রাখেন। তিলাওয়াত শেষে রক্তাক্ত অবস্থায় সাহাবীদের মাঝে ফেরত আসেন। সাহাবীরা তাঁর এ অবস্থা দেখে বললেন- এটাই আমরা আশঙ্কা করছিলাম।

তিনি বললেন, আল্লাহ্‌র কসম! এই মুহূর্তে আল্লাহর দুশমনরা আমার চোখে এত পরিমাণ তুচ্ছ যে এর আগে তারা এতো তুচ্ছ ছিলনা। আপনারা চাইলে আমি আবার আগামীকাল একই কাজ করব’।

(সাহাবা কেরামায়ের ঈমানদীপ্ত জীবনি, প্রথম খন্ড ড আবদুর রহমান রাফাত পাশা , রাহনুমা প্রকাশনী)

.

এই মর্দে মুজাহিদ আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ)  কেমন ছিলেন? পালোয়ান? মাসলম্যান ?

আমাদের প্রথম সুপারহিরো আবুবকর (রাঃ) এর কাছে ফেরত যাওয়া যাক। কেমন ছিল তাঁর শারীরিক গঠন? তাঁর মেয়ে আম্মাজান আঈশা (রাঃ) আমাদের জানাচ্ছেন- ‘বাবা ছিলেন খুবই শুকনা। এতোই শুকনা যে তাঁর কোমরে পায়জামা ঠিকমতো থাকতোনা। পড়ে যেত খানিকপর পর। তাঁর চোখগুলো ছিল গর্তে বসা। তিনি যেন বাতাসে ভেসে ভেসে হাঁটতেন। এতোটাই শুকনো ছিলেন তিনি’। রাদিয়াল্লাহু আনহুম। (https://www.youtube.com/watch?v=PoWhAxt8pJg&t=219s)

আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) ছিলেন অনেক শুকনো। একবার তিনি খেজুরের গাছে উঠছিলেন। তাঁর সরু সরু কাঠির মতো পা দেখে অনেকেই হাসাহাসি শুরু করে দিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তখন ঐ সাহাবীদের বললেন, ‘ তোমরা কেন এমন করছো? তোমরা কেন হাসছো? কসম সেই সত্তার যার হাতে আমার প্রাণ, আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদের পা যদি মিজানের পাল্লায় ওজন করা হয় তাহলে তা উহুদ পাহাড়ের চাইতেও বেশি ভারি হবে।

(https://www.youtube.com/watch?v=4IxXei_SvAQ  )

.

ভাই আসল কনফিডেন্স, আসল শক্তি গায়ের মাসল দিয়ে আসেনা, আসে আল্লাহ্‌র ভয়, আল্লাহ্‌কে চিনতে পারা, তাওহীদকে বুঝতে পারার মাধ্যমে। মেয়েদের ক্রাশ হওয়া, মেয়েদের সাথে ফুচকামি করার মধ্যে পুরুষ হবার কিছু নাই, পুরুষ তো তাঁরাই যারা ফজরের সালাতে ঘুম থেকে উঠতে পারেন, রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, চোখের হেফাযত করতে পারেন, নির্জনে, ঘরের কোণে কেউ যখন দেখছেনা এমন মুহূর্তে নিজেকে পাপের হাত থেকে রক্ষা  করতে পারেন, আল্লাহ্‌র শত্রুদের মনে কাপন ধরিয়ে দিতে পারে্ন। সাহসিকতা, নির্ভীকতার সঙ্গে চিকনা না মোটকু না সুঠাম দেহ এসব জড়িত না। এসব কোনো ফ্যাক্টরই না।  নিজের শুকনা শরীর নিয়ে কক্ষনো হীনমন্যতায় ভুগবেন না। এই শরীরের বড়ত্ব, এই শরীর দিয়ে ভাব মারা, ধরাকে সরা জ্ঞান করা আযরাইলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যাবে। মাটিতে পচে যাবে। পোকা ধরবে।  আর আল্লাহ্‌র কাছে আপনি কতো সম্মানিত তা আপনি দেখতে কেমন, শুকনা না মোটা এসবের ধার ধারেনা

‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি অধিক সম্মানিত যিনি তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক খোদাভীরু। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং সব বিষয়ে অবহিত’ (সূরা হুজরাত : ১৩)।

.

ভাইয়া দেখুন, একটা বয়সে সবাই একটু শুকনা থাকে। তারপর যখন বয়স বাড়তে শুরু করে তখন তালপেতার সেপাই থেকে ভুড়ির আড়তদার হয়ে যায়। এগুলো নিয়ে চিন্তা করবেন না ভাইয়া। সব ঠিক হয়ে যাবে ইনশা আল্লাহ্‌।

রাত জাগবেন না। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠবেন।  ব্যায়াম করবেন।  বেশি বেশি খাওয়া দাওয়া করুন। এক দুই মাস সেই লেভেলের একটা খাওয়া দিন । পর্ন, মাস্টারবেশন, সিগারেট বাদ দিন। দেখেন কি হয়।

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমার মায়ের ইচ্ছা ছিল আমাকে স্বাস্থ্যবতী বানিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পাঠাবেন। এজন্য তিনি অনেক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, কিন্তু কোন ফল হয়নি। শেষে তিনি আমাকে পাকা খেজুরের সাথে শসা বা খিরা খাওয়াতে থাকলে আমি তাতে উত্তমরূপে স্বাস্থ্যের অধিকারী হই। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৯০৩

.

এটা নিয়ে মন খারাপ করার কিছু নেই।  আমি শুকনো আমাকে অনেক খারাপ দেখায়, কোনো মেয়ে আমাকে পছন্দ করবেনা, আমার বিয়ে হবেনা এসব ভেবে ভেবে কষ্ট পাবেন না। হীনমন্যতায় ভোগারো কিছু নেই। আল্লাহ্‌ যদি আপনার কপালে বিয়ে লিখে রাখেন তাহলে বিয়ে হবেই । কেউ ঠেকাতে পারবেনা।  আর ভাইয়া আল্লাহ্‌র কাছে প্রিয় হতে চেষ্টা করুন। আল্লাহ্‌র ভালোবাসা পাবার চেষ্টা করুন। তাহলে আপনি মানুষের ভালোবাসা পাবেন। আল্লাহ্‌ আপনার চেহারায় নূর ঢেলে দিবেন।

যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে ভালোবাসে আল্লাহ তাআলাও তাকে ভালোবাসেন। হাদিসের বর্ণনায় আল্লাহর ভালোবাসার মাধ্যমেই মানুষ দুনিয়াতে জনপ্রিয়তা লাভ করে।

পক্ষান্তরে আল্লাহর অবাধ্য কাজ করলেই বান্দা তার বিরাগভাজন হয়ে যায়। সুতরাং যে বান্দার প্রতি আল্লাহ তাআলা ঘৃণা পোষণ করেন, এ ঘৃণার প্রভাবও কঠিন আকারে বিস্তৃতি লাভ করে। দুনিয়াতে সে হয় অপমানিত ও লাঞ্ছিত।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ যখন কোনো ব্যক্তিকে ভালোবাসেন, তখন জিবরিলকে ডেকে বলেন, আমি অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসি, সুতরাং তুমিও তাকে ভালোবাস।

অতঃপর জিবরিল আলাইহিস সালাম তাকে ভালোবাসতে থাকেন। তারপর (জিবরিল) আকাশবাসীকে (ফেরেশতাদের) বলে দেন যে, আল্লাহ অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসেন। অতএব তোমরা তাকে ভালোবাস। তখন আকাশের সকল ফেরেশতা তাকে ভালোবাসতে থাকেন। অতঃপর সে ব্যক্তির জন্য জমিনেও জনপ্রিয়তা দান করা হয়।

আর আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ঘৃণা করেন তখন জিবরিলকে ডেকে বলেন, আমি অমুক ব্যক্তিকে ঘৃণা করি, তুমিও তাকে ঘৃণা কর। তখন জিবরিলও তাকে ঘৃণা করেন। এরপর আকাশবাসীকে বলে দেন যে, আল্লাহ অমুক ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন, তোমরাও তাকে ঘৃণা কর। তখন আকাশবাসীরা তাকে ঘৃণা করতে থাকে। অতঃপর তার জন্য জমিনেও মানুষের মনে ঘৃণা সৃষ্টি হয়।’ (মুসলিম, মিশকাত)

আরো পরামর্শের জন্য নক করুন- https://www.facebook.com/RijaalGym/

অবশ্যই শুনুন- https://www.youtube.com/watch?v=PoWhAxt8pJg&t=219s

 

আমরা খুব ছোটো মানুষ। আমাদের লিখার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ্‌।  যেকোনো ধরণের পরামর্শ বা সাজেশন  হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ …

পড়ুন আগের পর্বগুলা

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (প্রথম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারগার (দ্বিতীয় পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (তৃতীয় পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (চতুর্থ পর্ব )

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (পঞ্চম পর্ব)

 

শেয়ার করুনঃ
ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (পঞ্চম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (পঞ্চম পর্ব)

১৬. বিয়ে করে ফেললে কী মুক্তি পাবো?

আসক্তি কাটানোর জন্য খুব কমন একটা সাজেশন থাকে বিয়ে করে ফেলা। এইটা ২৫-২৬ বছরের নীচে কাউকে জোর দিয়ে বলবেননা। বলবেন তবে জোর দিয়ে না। যদি করে ফেলতে পারে (করে ফেলা উচিত) তাহলে খুবই ভালো । কিন্তু জোর দিয়ে বলবেন না। এর কারণ হলো- ২৫-২৬ বা এর চেয়ে কম বয়সী কারো পক্ষে বিয়ে করা আমাদের সমাজে কঠিন। এখন যদি ঐ ছেলেগুলাকে বিয়ে করতে বলেন তাহলে ওরা আসক্তি কাটানোর অন্য উপায় গুলো নিয়ে ভাববেনা। সারাদিন শুধু অহেতুক বিয়ে বিয়ে করে সময় নষ্ট করবে। ভাববে যে এখন পর্ন দেখি বা মাস্টারবেট করি, বিয়ের পরে তো সবই ঠিক হয়ে যাবে, মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইয়ে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা আছে। আসক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামের সঙ্গে সঙ্গে বিয়ের জন্য চেষ্টাও চলবে। আমাদের ভুল বুঝবেন না, আমরা বিয়ে করতে নিষেধ করছিনা। আমরা বলছি বিয়ের চেষ্টা এবং আসক্তি থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা পাশাপাশি চলবে ইন্সা আল্লাহ্‌ ।  এই লিখাটিও পড়তে পারেন-

কেন বিয়ে মাস্টারবেশনের সম্পূর্ণ সমাধান না-

http://lostmodesty.com/2018/08/কেন-বিয়ে-মাস্টারবেশনের-স/

১৭. আমার ভাই ক্লাস সেভেন এইটে পড়ে। তাকে কি মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটা পড়তে দিতে পারি?

জ্বী পারেন। কোনো সমস্যা নেই ইনশা আল্লাহ্‌। তবে সাবধানতার জন্য বলে দিয়েন  যে কিছু জানার থাকলে যেন আপনাকেই জিজ্ঞাসা করে।

১৮. আমাদের ছেলে/ভাই পর্ন দেখে কীনা কীভাবে বুঝব?

আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (দ্বিতীয় কিস্তি): https://tinyurl.com/yyvbtafg

মৃত্যু? দুই সেকেন্ড দূরে! (প্রথম পর্ব): https://bit.ly/2OcDLF9

১৯.  আমাদের ছেলে/ভাই পর্ন দেখলে কী করব?

আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (প্রথম কিস্তি): https://bit.ly/2CMF4sV

আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (দ্বিতীয় কিস্তি): https://tinyurl.com/yyvbtafg

আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (শেষ কিস্তি): https://bit.ly/2NzPdxm

হৃদয়ের ঋণ (প্রথম কিস্তি)- https://bit.ly/2MmESA9

হৃদয়ের ঋণ (শেষ কিস্তি)- https://bit.ly/2NHUza4

অবস্থা গুরুতর হলে একজন মনোবিদ/মেন্টরের কাছে নিয়ে যান। এটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

২০. ছেলেমেয়ে/ছোটোভাই,বোনদের সেক্স এডুকেশন কীভাবে দেওয়া যায়?

যৌনশিক্ষাঃ যে কথা বলা যায়না- https://tinyurl.com/y65agkbd

যৌনশিক্ষা: বাচ্চাদের কীভাবে বলা যেতে পারে- http://tinyurl.com/y4jav6vc

২১. আমার স্বামী পর্ন আসক্ত। কী করব ?

ও যখন পর্ন আসক্ত” (শেষ পর্ব): https://bit.ly/2p1M5fS

 

২২. আমি মাস্টারবেট করিনা, কিন্তু পর্ন দেখি-

ভাইয়া এটা ক্ষতিকর। পর্নও দেখা যাবেনা । মাস্টারবেটও করা যাবেনা। কোনোটাই করা যাবেনা।

২৩. প্রস্রাবের সাথে বীর্য বের হয়।

(এ ধরণের প্রশ্নের উত্তর কখনো আন্দাজে দিবেননা। আমাদের মেইন গ্রুপে বা পেইজে প্রশ্ন করতে বলবেন। হারবাল ডাক্তারের কাছে যাবার পরামর্শ দিবেন না। ডাক্তারের লিস্ট আমরা দিচ্ছি ইনশা আল্লাহ্‌ : এলাকাভিত্তিক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসকদের লিস্ট)

শুধু প্রস্রাবের সময় মাঝে মাঝে বীর্য যায়, বীর্যের কালার বা গন্ধ চেইঞ্জ না হয় তাহলে ইনশা আল্লাহ্‌ কিছুদিন পর ঠিক হয়ে যাবে। আপনি বেশি বেশি পানি খান, ইসুব গুলের ভূশি খান। পর্ন, মাস্টারবেশন,অশ্লীল চিন্তা একেবারে ছাড়ুন। আল্লাহ্‌র কাছে দু’আ করুন। এক দেড়মাস ওয়েট করুন। ঠিক না হলে ডাক্তারের কাছে যাইয়েন। আর যদি গন্ধ বা কালার চেইঞ্জ হয়ে যায় তাহলে দ্রুত চিকিৎসক দেখান।

অনেক সময় কষা পায়খানার ক্ষেত্রে কোথ দিলে এই তরল যেতে পারে। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য বা কষা পায়খানা দুর করুন, প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন, দিন দুইবার করে ইসবগুলের ভুসি পানিতে মিশিয়ে খাবেন,, পরিমিত ঘুমাবেন। এরপরও এই তরল অতিমাত্রায় প্রতিদিন বের হলে সমস্যা বলে বিবেচিত হবে। এর জন্য যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

 

২৪. আমি বিবাহিত। আমার দাম্পত্য জীবনে কিছু সমস্যা হচ্ছে

পর্ন, মাস্টারবেশন ছেড়ে দিন একেবারে। ব্যায়াম করুন। ডাক্তার দেখান। দয়াকরে যৌনশক্তি বর্ধক হারবাল টাইপের কোনো ওষুধ খাবেন না। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখান।

https://www.facebook.com/shamsul.shakti এই ভাইয়ের একটা নোট আছে। এইটা অবশ্যই অবশ্যই পড়তে হবে। উনাকে নক দিন।

(বিবাহিত ছাড়া কাউকে এই নোট পড়ার কথা বলবেন না। দিবেননা। আপনি যদি নিজে বিবাহিত না হয়ে থাকেন তাহলে এই নোট পড়বেন না। যদি এর অন্যথা করেন তাহলে তার ব্যাপারে আমরা দায়মুক্তি ঘোষণা করছি)

সেক্সের সময় কতো এই টাইপের কিছু প্রশ্ন পাবেন অবিবাহিত পোলাপানের কাছ থেকে। এদেরকে কখনোই এসব প্রশ্নের উত্তর দিবেন না। বলবেন যে বিয়ের পরে বা বিয়ের আগ দিয়ে দিয়ে যেন জেনে নেয়।এরা সারাদিন এসব নিয়ে ভাবে। সেক্স ফ্যান্টাসিতে ভোগে। তারপর বাধ্য হয়ে মাস্টারবেট করে।

২৫. মাস্টারবেশন বা পর্ন দেখার ফলে চেহারার উজ্জ্বল্যতা/লাবণ্যতা আগের তুলনায় আগের চাইতে কমে গিয়েছে।

পর্ন মাস্টারবেশন থেকে দূরে থাকবেন। পানি শাকসবজি খান বেশি বেশি। রাত জাগবেন না। একদম সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠবেন। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবেন। একদম দুশ্চিন্তা করবেন না। চাইলে হিজামাহ করাতে পারেন।হিজামায় উপকার পাওয়া যায়।  নিয়মিত কুরআন পড়বেন। পবিত্র জীবন যাপন করবেন।  ডাক্তার দেখাতে পারেন।

২৬. পর্ন দেখার ফলে চোখের সমস্যা দেখা দিয়েছে। চোখে কম দেখি

১) পর্ন,মাস্টারবেশন বাদ দিন। কুরআন পড়ুন বেশি বেশি। বাহিরে ঘোরাফেরা করুন, সবুজ দেখুন।পুষ্টিকর খাবার খান।

২) চোখের ডাক্তার দেখান।

৩) ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ। তিনি বলেন, নবী (সঃ) বলেছেন, তোমরা ইছমিদ সুরমা ব্যবহার করো। কারণ, তা চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করে ও পরিষ্কার রাখে এবং অধিক ভ্রু উৎপন্ন করে (ভ্র উদগত হয়)। ইবনে আব্বাস (রাঃ) আরো বলেন, নবী (সঃ) এর একটি সুরমাদানী ছিল। প্রত্যেক রাত্রে (ঘুমানোর পূর্বে) ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে তিনবার সুরমা লাগাতেন।

ব্যাখ্যা : সুরমা ব্যবহারের হুকুম ও পদ্ধতি :

নারী-পুরুষ সকলের জন্য চোখে সুরমা লাগানো ভালো। তবে সওয়াবের নিয়তে সুরমা লাগানো উচিত, যাতে চোখের উপকারের সাথে সাথে রাসূলুল্লাহ (সঃ) র এর সুন্নতের অনুসরণের সওয়াবও লাভ হয়। অত্র হাদীসে সুরমা ব্যবহারের তিনটি উপকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা বর্তমান বিজ্ঞানে হুবহু প্রমাণিত। এছাড়াও গবেষণায় আরো উপকারিতা পাওয়া গেছে সেগুলো হলো :

১. সর্বধরনের ছোয়াচে রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে।

২. চোখের প্রবেশকৃত ধূলাবালী নিঃসরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে প্রভৃতি।

৩. অত্যন্ত কার্যকরী জীবাণুনাশক।

৪. চোখে জ্বালাপোড়া খুব কম হয়। সুনানুল কুবর লিল ইমাম বাইহাকী, হা/৮৫১৬। (শামায়েলে তিরমিযি, হাদিস নং ৪১)

২৭. স্মরণশক্তি এবং জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য কী করব?

এই দোআটি পড়বেন-

رَّبِّ زِدْنِى عِلْمًا

রব্বি যিদ্নী ‘ইল্মা-

অর্থঃ হে আমার রব, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন। সূরা ত্বাহা – ২০:১১৪

***মুখস্তশক্তি/স্মরণশক্তি বাড়ানোর জন্য গুনাহ পরিত্যাগ করুন

.ইয়াইয়া বিন ইয়াহইয়া (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক লোক মালেক বিন আনাস (রহঃ) কে বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ! মুখস্তশক্তি বাড়ানোর কোন কিছু আছে কি? তিনি বলেন: যদি কোন কিছু থাকে তাহলে সেটা হল: গুনাহ পরিত্যাগ করা।

যখন কোন মানুষ গুনাহ করে তখন এ গুনাহটি তাকে ঘিরে রাখে এবং গুনাহর ফলে তাকে দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনা পেয়ে বসে। সে গুনাহর কারণে তার চিন্তাধারা মশগুল হয়ে থাকে। এভাবে এ দুশ্চিন্তা তার অনুভূতির উপর আধিপত্য বিস্তার করে থাকে এবং তাকে অনেক কল্যাণকর কাজ থেকে দূরে রাখে। এর মধ্যে মুখস্থশক্তি অন্যতম। গ্রন্থঃ খতীব আল-জামে (২/৩৮৭)

*** ইমাম যুহরী (রহঃ) বলেন: তুমি মধু খাবে; কারণ এটি স্মৃতিশক্তির জন্য ভাল।

তিনি আরও বলেন: যে হাদিস মুখস্ত করতে চায় সে যেন কিসমিস খায়। গ্রন্থঃ (খতীব আল-বাগদাদীর ‘আল-জামে’ ২/৩৯৪)

*** অধিক হারে আল্লাহর যিকির করা। যেমন- সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ইত্যাদি পড়া। আল্লাহ তাআলা বলেন: “যখন ভুলে যান তখন আল্লাহর যিকির করুন” [সূরা কাহাফ, আয়াত: ২৪]

*** মুখস্থশক্তি বৃদ্ধি ও ভুলে যাওয়ার সমস্যা প্রতিরোধে আরও যে জিনিসটি সাহায্য করে সেটি হচ্ছে- মাথায় শিংগা লাগানো /হিজামা করা।

এটি পরীক্ষিত। (আরও বিস্তারিত জানতে ইবনুল কাইয়্যেম এর ‘আততিব্ব আন-নাবাবি’ পড়ুন)। Source: Islamqa . Info → http://bit.ly/2CoDSKe

 

২৮. মাথার চুল উঠে যাচ্ছে ?

১) হিজামাহ করুন। হিজামাহ করা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সুন্নাহ। বিস্তারিত জানতে হিজামাহ লিখে গুগুলে সার্চ দিন।

২) চুলে পেয়াজের রস ব্যবহার করতে পারেন। কালোজিরার তেল,নিমের তেল, আমলা, মেথি এগুলোও বেশ উপকারী। এগুলোর ব্যবহার প্রণালী জানার জন্য গুগলে  একটু খুঁজে দেখুন।

৩) চুলের ডাক্তারের কাছে যেতে পারেন।

এটা নিয়ে মন খারাপ করার কিছু নেই। মাথার চুল পড়ে গেলে আমাকে কেমন দেখাবে, কোনো মেয়ে আমাকে পছন্দ করবেনা, আমার বিয়ে হবেনা এসব ভেবে ভেবে কষ্ট পাবেন না। হীনমন্যতায় ভোগারো কিছু নেই। আল্লাহ্‌ যদি আপনার কপালে বিয়ে লিখে রাখেন তাহলে বিয়ে হবেই । কেউ ঠেকাতে পারবেনা।  আর ভাইয়া আল্লাহ্‌র কাছে প্রিয় হতে চেষ্টা করুন। আল্লাহ্‌র ভালোবাসা পাবার চেষ্টা করুন। তাহলে আপনি মানুষের ভালোবাসা পাবেন। আল্লাহ্‌ আপনার চেহারায় নূর ঢেলে দিবেন।

যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে ভালোবাসে আল্লাহ তাআলাও তাকে ভালোবাসেন। হাদিসের বর্ণনায় আল্লাহর ভালোবাসার মাধ্যমেই মানুষ দুনিয়াতে জনপ্রিয়তা লাভ করে।

পক্ষান্তরে আল্লাহর অবাধ্য কাজ করলেই বান্দা তার বিরাগভাজন হয়ে যায়। সুতরাং যে বান্দার প্রতি আল্লাহ তাআলা ঘৃণা পোষণ করেন, এ ঘৃণার প্রভাবও কঠিন আকারে বিস্তৃতি লাভ করে। দুনিয়াতে সে হয় অপমানিত ও লাঞ্ছিত।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ যখন কোনো ব্যক্তিকে ভালোবাসেন, তখন জিবরিলকে ডেকে বলেন, আমি অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসি, সুতরাং তুমিও তাকে ভালোবাস।

অতঃপর জিবরিল আলাইহিস সালাম তাকে ভালোবাসতে থাকেন। তারপর (জিবরিল) আকাশবাসীকে (ফেরেশতাদের) বলে দেন যে, আল্লাহ অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসেন। অতএব তোমরা তাকে ভালোবাস। তখন আকাশের সকল ফেরেশতা তাকে ভালোবাসতে থাকেন। অতঃপর সে ব্যক্তির জন্য জমিনেও জনপ্রিয়তা দান করা হয়।

আর আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ঘৃণা করেন তখন জিবরিলকে ডেকে বলেন, আমি অমুক ব্যক্তিকে ঘৃণা করি, তুমিও তাকে ঘৃণা কর। তখন জিবরিলও তাকে ঘৃণা করেন। এরপর আকাশবাসীকে বলে দেন যে, আল্লাহ অমুক ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন, তোমরাও তাকে ঘৃণা কর। তখন আকাশবাসীরা তাকে ঘৃণা করতে থাকে। অতঃপর তার জন্য জমিনেও মানুষের মনে ঘৃণা সৃষ্টি হয়।’ (মুসলিম, মিশকাত)

ইতিহাসের দিকে তাকান । বড় বড় বীরদের মাথায় ছিল টাক। উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ), খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ), আলী (রাঃ)… । আপনি টাক নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না ভাই। যা আছে তা নিয়েই আল্লাহ্‌র কাছে কৃতজ্ঞতা আদায় করুন। অনেক মানুষের পা নেই, হাত নেই , অনেক মানুষ চোখে দেখেনা, অন্ধ, কথা শুনতে পায়না, বোবা,কালা তাদের চাইতে আপনি কি সুস্থ নন? নিয়ামত প্রাপ্ত নন?

ভাই সবর করুন, আল্লাহ্‌র ওপর রাজিখুশি থাকুন। আল্লাহ্‌ আপনাকে এর চাইতেও অনেক ভালো কিছু দিবেন –

আর তোমরা ধৈর্য ধর, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।
( সূরা আল-আনফাল : ৪৬)

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘মুমিনকে যেকোনো বিপদই স্পর্শ করুক না কেন আল্লাহ তার বিনিময়ে তার গুনাহ মাফ করে দেন। এমনকি (চলতি পথে) পায়ে যে কাঁটা বিঁধে (তার বিনিময়েও গুনাহ মাফ করা হয়।)’ বুখারী : ৫৬৪০; মুসলিম : ৬৭৩০।

উমর বিন আবদুল আজীজ রহ. বলেন, ‘যাকে আল্লাহ তাআলা কোনো নেয়ামত দিয়ে তা ছিনিয়ে নিয়েছেন এবং তার স্থলে তাকে সবর দান করেছেন, তো এই ব্যক্তি থেকে যা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে তার চেয়ে সেটাই উত্তম যা তাকে দান করা হয়েছে।’ বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান : ৯৫৬৫; মুসান্নাফ, ইবন আবী শাইবা : ৩৬২৪২।

ভাই, আল্লাহ্‌র ওপর ভরসা রাখুন। আল্লাহ্‌ আপনার জন্য নিশ্চয়ই উত্তম কোনো পরিকল্পনা করে রেখেছেন।

সাধ্যমতো চুলের যত্ন করুন। আল্লাহ্‌র কাছে দু’আ করুন।

 

আমরা খুব ছোটো মানুষ। আমাদের লিখার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ্‌।  যেকোনো ধরণের পরামর্শ বা সাজেশন  হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ …

পড়ুন আগের পর্বগুলোঃ

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (প্রথম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারগার (দ্বিতীয় পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (তৃতীয় পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (চতুর্থ পর্ব )

শেয়ার করুনঃ
ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (চতুর্থ পর্ব )

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (চতুর্থ পর্ব )

১৩. অবসর সময়ে/ যখন মন খারাপ থাকে তখন পর্ন দেখি, মাস্টারবেট করি । কী করব?

বই থেকে ‘তবু হেমন্ত এলে অবসর পাওয়া যাবে’ ও ‘ফাঁদ’ – এই শিরোনামের সবগুলা লিখা ভালোমতো পড়বেন।

ফাঁদ (প্রথম পর্ব ) – https://bit.ly/2CL3DXq

ফাঁদ – দ্বিতীয় পর্ব- https://bit.ly/2Od7b63

‘ফাঁদ’ (তৃতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2Od4nWz

‘ফাঁদ’ (চতুর্থ পর্ব ) – https://bit.ly/2CPbF1s

ফাঁদ (পঞ্চম পর্ব)- https://bit.ly/2x77Puk

ফাঁদ (ষষ্ঠ পর্ব)- https://bit.ly/2NIckWN

তবু হেমন্ত এলে অবসর পাওয়া যাবে… (প্রথম পর্ব) – https://bit.ly/2p1ZBAe

তবু হেমন্ত এলে অবসর পাওয়া যাবে… (দ্বিতীয় পর্ব)- https://bit.ly/2COW6qx

তবু হেমন্ত এলে অবসর পাওয়া যাবে… (তৃতীয় পর্ব)- https://bit.ly/2Mo5ssx

তবু হেমন্ত এলে অবসর পাওয়া যাবে (শেষ পর্ব)- https://bit.ly/2ModIca

প্রেসার কুকার- https://bit.ly/2oZSN67

– সারাদিন ঘরে বসে থাকা যাবেনা। মাঠে গিয়ে খেলাধুলা করতে হবে। খেলাধুলা করার সুযোগ না থাকলে বাহিরে গিয়ে হাটাহাটি করতে হবে। সমাজসেবা মূলক কাজে সাহায্য করা, ছাদে বাগান করা, বিড়াল,পাখি, খরগোশ পোষা মানে হবি টাইপের কিছুতে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে।
– ছোটো ভাইবোন কাজিনদের সাথে ( মেয়েদের জন্য মেয়ে কাজিন, ছেলেদের জন্য ছেলে কাজিন) সময় কাটাতে হবে। বাবা মার সাথে কথা বলতে হবে।
– ব্যায়াম করতে হবে। মসজিদে গিয়ে পাঁচওয়াক্ত নামাজ পড়লে মন ফ্রেশ হয়ে যাবে
– সপ্তাহে একদিন কোথাও থেকে ঘুরে আসতে হবে।
-পরকাল নিয়ে লেকচার সিরিজ শুনতে হবে। নবী রাসূল এবং সাহাবীদের জীবনি পড়তে হবে। এই বইগুলা পড়ে ফেলতে পারেন।হতাশা মন খারাপ কাটানোর জন্য খুব কার্যকরী ইনশা আল্লাহ্‌-

– দিনে এক ঘন্টা হলেও ক্লাসের পড়া পড়তে হবে। পড়াশোনা না করার কারণে অনেকেই হতাশায় ডুবে যায়। পড়াশোনা করলে হতাশা কেটে যাবে ইনশা আল্লাহ।

(যদি বুঝতে পারেন খুব বেশি মন খারাপ, আত্মহত্যার কথা বলছে, বা এটেম্পট নিয়েছেন তাহলে অবশ্যই অবশ্যই মনোবিদের পরামর্শ নিতে বলবেন। বাবা মাকেও সাথে নিয়ে যেতে বলবেন)

.

১৪. চটিগল্প পড়ি। ছাড়তে পারছিনা । কী করব?

পর্ন, মাস্টারবেশনে আসক্তদের যে টিপস দেন, এদেরকেও সেই একই টিপস দিবেন। এদের জন্য স্পেশাল কিছু টিপস হলো-

-ফেসবুকের সব চটিগল্পের পেইজ আনলাইক করে দিতে হবে। গ্রুপগুলো থেকে লিভ নিতে হবে। এই পেইজগুলো ফলো করতে হবে-

-কোনো বন্ধুর সাথে বাজে কথোপকথোনে জড়ানো যাবেনা। মেয়েদের সঙ্গে তো নয়ই। ফেইক আইডি থাকলে আইডি একেবারে নষ্ট করে ফেলতে হবে। যখনই চটি পড়তে ইচ্ছে করবে, তখনই আল্লাহ্‌র কাছে আশ্রয় চাইবেন, আমাদের পেইজের বা গ্রুপের পোস্টগুলো পড়তে থাকবেন। দরকার হলে এডমিন বা মডারেটরদের নক দিবেন।

-প্রচুর বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জীবনী, সাহাবীদের জীবনী, ঈমানদারদের জীবনী পড়তে হবে। বইয়ের লিস্ট আগেই দেওয়া হয়েছে।

-ভাবী,কাজিন, ম্যাডাম,কাজের মেয়ে, মানে যাদের নিয়ে চটিগল্প পড়েন তাদের থেকে অবশ্যই দূরে দূরে থাকতে হবে। মানে পর্দা করতে হবে। ম্যাডামের ক্লাস করতেই হলে সামনে না বসে পেছনের সিটগুলোতে বসবেন। সুযোগ পেলেই চোখ নিচু করে রাখবেন। ইস্তেগফার করতে থাকবেন। ভাবী,কাজিন,কাজের মেয়ে এদের সাথে কঠোর পর্দা করতে হবে। না হলে পর্ন, হস্তমৈথুন তো বটেই জিনার সম্ভাবনাও থাকে। এগুলো মেনে না চললে এই আসক্তি কাটাতে পারবেন না।

-অনেকে ইনসেস্ট চটি পড়ে। মা,বোনদের নিয়ে ফ্যান্টাসি করে।এরকম হলে অবশ্যই সপ্তাহে একবার সূরা বাকারাহ পড়তে  বা শুনতে হবে। আগের টিপসগুলা তো থাকবেই। আর এক ঘরে  কখনোই  ঘুমানো যাবেনা, এক বিছানাতে তো নয়ই। মা, বোন ঘুমিয়ে থাকলে কখনোই  ঘরে  ঢোকা যাবেনা। উনাদের জামা কাপড় থেকেও দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। পারলে কয়েকদিনের জন্য কোথাও থেকে ঘুরে আসতে হবে।

এই লিখাগুলা পড়তে দিবেন-

নেশা যখন চটি গল্প পড়া (প্রথম পর্ব) – https://bit.ly/2CPX7i8

নেশা যখন চটি গল্প পড়া (দ্বিতীয় পর্ব)- https://bit.ly/2NdygJX

নেশা যখন চটি গল্প পড়া (তৃতীয় পর্ব)- https://bit.ly/2CPWuoM

নেশা যখন চটি গল্প পড়া (শেষ পর্ব)- https://bit.ly/2p3KtCf

‘ফাঁদ’ (চতুর্থ পর্ব ) – https://bit.ly/2CPbF1s

সকাল সন্ধ্যার আমলগুলো করতে হবে। দরকার হলে https://www.facebook.com/groups/ruqyahbd/ এই গ্রুপে পোস্ট দিবেন। যিনার রুকাইয়া শুনবেন উনাদের পরামর্শ নিয়ে।

 

১৫. বাথরুমে পর্ন দেখি,মাস্টারবেট করি-

  • খোলা জায়গায় গোসল করবেন যদি সম্ভব হয়। শরীরে কিছু কাপড় রাখবেন। পেনিস পারতপক্ষে ধরবেন না। তাকিয়ে থাকবেননা। সাবান দেওয়ার সময় বা লোম পরিষ্কার সময় খুব সতর্ক থাকবেন। বাজে চিন্তা মাথায় আসতে পারে এসময়। বিশেষ করে লোম পরিষ্কার করার সময় বাথরুমে যাবার আগে আল্লাহ্‌র কাছে দু’আ করে যাবেন। তিনি যেন আপনাকে হেফাযত করেন।
  • কখনোই মোবাইল নিয়ে বাথরুমে যাবেননা। গোসল করার সময় দরজা খোলা রাখবেন অল্প একটু।  যেন বাহিরে থেকে আপনি ভেতরে কি করছেন সেটা দেখা যায়/বোঝা যায়। বাথরুমের বাহিরে মোবাইলে কুরআন ছেড়ে রাখবেন। সাবধান বাথরুমের ভেতরে মোবাইল রেখে কখনো কুরআন ছেড়ে রাখবেননা।
  • বেশি সময় থাকবেন না বাথরুমে। এটা নবীর(সাঃ) সুন্নাহ পরিপন্থী কাজ।
  • বাথরুমে প্রবেশের দু’আ পড়বেন। বের হবার পরেও দু’আ পড়বেন। হিসনুল মুসলিমিন এপ্স দেখে বা দু’আর বই দেখে শিখে নেবেন। লিংক- https://greentechapps.com/apps/hisnulbn

 

১৬. গান শুনা ছাড়তে চাই..

যেকোনো অভ্যাস ত্যাগের ২টি মূল স্টেপ থাকে। হোক সেটা পর্ন, মাস্টারবেশন অথবা গান বাজনা। আপনার এই দুইটাই ধারাবাহিক ভাবে ফলো করতে হবে।

-প্রথমত আপনার সব ডিভাইস থেকে যেকোনো ধরনের গান/ বাজনা সম্পূর্ণরূপে ডিলিট করে দিন। এটা করতে গিয়ে দ্বিতীয় কোনো চিন্তা করবেন না। শায়তান অবশ্যই আপনার চিন্তার ভিতর এসে আপনাকে অল্টারনেট পরামর্শ দিবে। যেমন- “এখনই ডিলিট করা দরকার নাই। আগে গান শোনা কমুক, আসতে আসতে ডিলিট কইরো।” অথবা – “আচ্ছা… ডিলিট কর… তবে এই দুইটা গান রাখ। একদিনেই তো সব বন্ধ করা পসিবল না…” শায়তানের এই ডাক  আপনার কাছে আসার আগেই আপনি মেমরি থেকে সব শিফট-ডিলিট করে দিন। আপনি এই গান ছাড়া টিকবেন নাকি মারা যাবেন… এরকম চিন্তা হয়তো মাথায় আসবে। কিন্তু এখানে বলছি এই চিন্তা আসার আগেই যেন কাজটা করে ফেলেন। কোনো রকম চিন্তা করা যাবে না। আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে ডিলিট করে দিন।

-দ্বিতীয়ত, আপনার এই গান শোনার যে অভ্যাসটা ছিল, এটাকে পরিবর্তন করতে হবে ভাল অভ্যাস দ্বারা। আল্লাহ্‌ তা’আলা কুরআনে এমনটিই আমাদের জানিয়েছেন সূরাহ ফুসসিলাতে। ৩৪ নং আয়াতে তিনি বলেন “… খারাপকে প্রতিহত কর ভাল দিয়ে…”।

সুতরাং এখন আপনার ভাল কিছু অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে যা আপনার খারাপ অভ্যাসকে প্রতিস্থাপন করবে। কি কি করতে পারেন তার একটা সাজেশন দেয়া যেতে পারে- কুরআন পড়তে এবং শুনতে পারেন নিয়মিত। বই পড়ার অভ্যাস করতে পারেন। বইয়ের লিস্ট-

  • যেকোনো একটা সীরাহ, আর রাহিখুল মাখতুম, অথবা রেইনড্রপ্সের সীরাহ
  • সাহাবা কেরামায়ের ঈমানদীপ্ত জীবনি, ড আবদুর রহমান রাফাত পাশা , রাহনুমা প্রকাশনী
  • তাবেঈদের ঈমানদীপ্ত জীবনি ড আবদুর রহমান রাফাত পাশা, রাহনুমা প্রকাশনী
  • নারী সাহাবীদের ঈমানদীপ্ত জীবনি ড আবদুর রহমান রাফাত পাশা , রাহনুমা প্রকাশনী
  • যৌবনের মৌবনে, মাওলানা জুলফিকার আহমাদ নকশাবন্দী
  • জীবিকার খোঁজে লেখক :ইমাম মুহাম্মাদ প্রকাশনী : মাকতাবাতুল বায়ান
  • আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল লেখক :ইমাম ইবনু আবিদ দুনইয়া প্রকাশনী :মাকতাবাতুল বায়ান
  • তাওহিদের মূলনীতি, আহমেদ মুসা জিবরিল, ইল্মহাউস পাবলিকেশন
  • কুদৃষ্টি,মাহবুবুলওলামা হযরত মাওলানা জুলফিকার আহমদ (দা. বা.)
  • নবীজির পদাঙ্ক অনুসরণ, ইবনে রজব হাম্বলী (রহঃ),সীরাত পাবলিকেশন
  • অন্তরের রোগ ১ ও ২, শাইখ সালেহ আল মুনাজ্জিদ, রুহামা পাবলিকেশন।

 

ইসলামিক লেকচার শুনতে পারেন। পরকাল নিয়ে চিন্তা করুন, বই পড়ুন, লেকচার শুনুন।

ইসলামিক নাশীদ শুনতে পারেন। তবে এখানে সতর্ক থাকতে হবে। এখন অনেক নাশীদে ভাল ভাল টাইটেল থাকে কিন্তু ভিতরে ঠিকই বাদ্যযন্ত্র থাকে। এর চাইতে বরং কুরআন শুনুন। অন্তর বিগলিত হয়ে যাবে। শুনতে পারেন এগুলো- https://tinyurl.com/y4cylvmm, http://bit.ly/2lkMIBU

হালাল কাজে নিজে ব্যস্ত রাখুন। অফলাইন দাওয়াতের কাজ করুন। ব্যায়াম করুন। খেলাধুলা করুন। মোট কথা নিজেকে হালাল কাজে ব্যস্ত রাখুন যেন গান শুনার চাহিদা না থাকে।

আরেকটা  জিনিস হলো পরিবেশ। এমন পরিবশে থাকবেন না যা আপনাকে গান শুনতে প্রলুব্ধ করে। পরিবেশ বলতে এখানে বন্ধু-বান্ধবও সম্পৃক্ত। বন্ধুরা হঠাত একটা গানের লিংক আপনাকে পাঠাতে পারে অথবা কনসার্টের ইনভাইটেশন দিবে। এগুলো আপনার পথকে অবশ্যই কঠিন করে দিবে। তাই দ্বীনি বন্ধু গড়ে তুলুন। তারা আপনার এই সমস্যায় আপনাকে সাহায্য করবে। আল্লাহ্‌র ইবাদতের দিকে আরও আহ্বান করবে। সবচেয়ে বড় কথা, সলাত কখনও ছাড়বেন না। সলাত পড়তে থাকুন আর দুআ করতে থাকুন। ইন শা আল্লাহ্‌ তিনি সহজ করে দিবেন।

আমরা খুব ছোটো মানুষ। আমাদের লিখার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ্‌।  যেকোনো ধরণের পরামর্শ বা সাজেশন  হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ …

পড়ুন আগের পর্বগুলোঃ

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (প্রথম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারগার (দ্বিতীয় পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (তৃতীয় পর্ব)

শেয়ার করুনঃ
ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (তৃতীয় পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (তৃতীয় পর্ব)

১১. আজ খুব পর্ন দেখতে ইচ্ছে করছে-

কোনো এক সেনাবাহিনীর অনুপ্রেরণামূলক একটা ভিডিওতে দেখেছিলাম, একটু পর পর একজন ইস্পাতকঠিন গলায় জিজ্ঞাসা করছে, “আমি কে?” ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে ততোধিক ইস্পাতকঠিন গলায় উত্তর দেয়া হচ্ছে, “আমি একজন গর্বিত সৈনিক!”

আর্মি ট্রেনিং এ বার বার সৈন্যদের স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় তার পরিচয়, স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় সে একজন সৈনিক, সে এমন কোনো কাজ করতে পারবে না যাতে তার সৈনিক সত্তার অপমান হয়। পরাজয় শব্দটা তার অভিধানে থাকা চলবে না, সে কখনো মাথানত করবে না, প্রাণ থাকতে একচুল পিছু হটবে না, যুদ্ধক্ষেত্রে তার উপস্থিতি হবে আক্রমণাত্মক। বার বার স্মরণ করিয়ে দেয়ার মাধ্যমে সৈনিকদের মানসিকভাবে তৈরি করা হয় যুদ্ধক্ষেত্রের বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সামলানোর জন্য।

ভাই আপনিও তো একজন সৈনিক, আপনি তো অনবরত লড়ছেন পর্ন আর হস্তমৈথুন আসক্তির বিরুদ্ধে, শয়তানের বিরুদ্ধে। আপনার নিজেকে বার বার মনে করিয়ে দিতে হবে আপনি একজন সৈনিক, আপনি দাঁড়িয়ে আছেন যুদ্ধক্ষেত্রের একরাশ বিপদের মাঝখানে। আপনার চারিদিকে শত্রু, শয়তান যেকোনো দিক দিয়ে আক্রমণ করে পর্ন/হস্তমৈথুনের বিরুদ্ধে আপনি যে প্রতিরক্ষা ব্যূহ গড়ে তুলেছেন, তা তছনছ করে দিতে পারে। বার বার নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে, আপনি এখন যুদ্ধে আছেন। এতে করে আপনি ফোকাসড থাকবেন। শয়তান সহজেই আপনাকে ফাঁদে ফেলতে পারবে না ইন শা আল্লাহ্‌।

পর্ন ভিডিও দেখার পর বা হস্তমৈথুন করার পরের অনুভূতি আপনি যে কাগজের টুকরোতে লিখেছিলেন সে কাগজে চোখ বুলাতে থাকুন। পর্ন ভিডিও দেখার জন্য বা হস্তমৈথুন করার জন্য মন আঁকুপাঁকু করলে দৌড়ে গোপন জায়গা থেকে বের করে আনুন ওই কাগজগুলো। মনোযোগ দিয়ে, চিন্তা করে পড়ুন। আপনার হয়তো খুব ইচ্ছে জেগেছে কাজটি করার। কিন্তু আপনি ভাল করেই জানেন কাজটি করার ঠিক পরবর্তী মুহূর্তে আপনার অনুভূতিটা। হতাশা আর ব্যর্থতায় আপনি ডুবে যান। কাজ করার জন্য কোনো শক্তি, মনোবল কিছুই পান না। সমাজে কারো সাথে মিশতে পারেন না। ঘরের কোণায় পড়ে থাকেন। এতো গেল শুধু দুনিয়ার কথা। আর আখিরাতের কথা তো আছেই। চিন্তা করুন পাপের বোঝা কত ভারী করবেন। আর সেদিন যদি আল্লাহ্‌ আপনার হিসাব সবার সামনে নেয়। আল্লাহ্‌ না করুক। সেদিন তো সবই উপস্থিত থাকবে। সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। সবার সামনে আপনি অপমানিত। ছুড়ে ফেলা হবে এমন এক জায়গায় যেখানে না আপনি জীবিত থাকবেন না মৃত। প্রতিটা মুহূর্ত যেন আগের থেকে আরও বেশী কষ্টদায়ক। এমন আযাব যেটা থাকে সবসময়, আর সবথেকে বেশি পরিমানে। আখিরাতের এই ফিকির বেশি করে করুন। ইন শা আল্লাহ্‌ এই ফিকির আপনাকে পাপ থেকে দূরে রাখবে।

আপনি এখন খুবই ক্রিটিকাল অবস্থায় আছেন। এখন যদি আপনি আপনার প্রবৃত্তির কাছে হেরে যান, তাহলে অবস্থা খুবই খারাপ হবে। অধিকাংশ মানুষই বোঝে পর্ন দেখা খারাপ, হস্তমৈথুন করা ক্ষতিকর। কিন্তু ভেতর থেকে যখন পর্ন দেখার নেশা ওঠে তখন সে কিছুক্ষণ নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করে, না আমি ওসব দেখব না… কিন্তু যুদ্ধ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। সে আত্মসমর্পণ করে তার প্রবৃত্তির কাছে। আপনার সকল ইচ্ছাশক্তি এক করে লড়াই করুন প্রবৃত্তির সাথে।

আর আল্লাহ্‌কে  ডাকতে থাকুন অনবরত। বার বার মনে করতে থাকুন এ আসক্তি কীভাবে আপনাকে বঞ্চিত করেছে জীবন উপভোগ করা থেকে! কী ভয়ঙ্কর ক্ষতি করেছে আপনার! আপনার জন্য কী করুণ পরিণতি অপেক্ষা করে আছে! জায়গা পরিবর্তন করুন, শুয়ে থাকলে উঠে বসুন। বসে থাকলে ঘর থেকে বের হয়ে যান। এমন কোথাও যান যেখানে আলো আছে, মানুষ আছে, যেখানে উষ্ণতা আছে। ভিযুয়ালাইয করার চেষ্টা করুন, বিষধর এক সাপ আপনাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে দংশন করছে। নিজের সমগ্র সত্তা দিয়ে লড়াই করুন

 

 

প্রতিরক্ষামূলক-

-বেশি বেশি ইস্তেগফার করুন আর নফসের বিরুদ্ধে জিতার চেষ্টা করতে থাকুন।

-সব রকমের ডিভাইস এমনভাবে কনফিগার করে রাখুন যাতে সেগুলোতে কোনো অশ্লীল কোনো কিছুই (দেখা/পড়া) না যায়।

-আল্লাহ্‌র কাছে খাস দিলে পরিপূর্নভাবে নিজেকে সমর্পণ করুন এবং এই নফসের বিরুদ্ধে জয় লাভ করার জন্য উনার কাছে সাহায্য চান। যাতে করে আপনি এই কামনা থেকে মুক্তি লাভ করেন। এবং যাতে আল্লাহ্‌ আপনার জন্য সহজ করে দেয়। আর যেন আল্লাহ্‌ আপনাকে হারাম থেকে দূরে রাখে এবং হালালের ব্যবস্থা করে দেয়।

-সময়মত জামাতে সলাত আদায় করুন। সাথে অতিরিক্ত নফল সলাতও আদায় করার চেষ্টা করবেন।

-বেশি বেশি রোজা রাখার চেষ্টা করবেন। দৈনিক কুরআন পড়বেন।

-সবসময় মনে রাখবেন যে আল্লাহ্‌ সুবাহানাহু ওয়া তা’আলা আপনাকে দেখছেন। তিনিই মালিক। তিনি চাইলেই আপনার গুনাহকে সবার কাছে প্রকাশ করে দিতে পারেন। তাই পাপ করার সময় যেন কোনো স্পর্ধা আপনার না আসে।

-দ্বীনি বন্ধু জোগার করুন। তারা আপনাকে হালাল পথে চলার এবং হারাম থেকে বেঁচে থাকার জন্য অনেক সহযোগিতা করবে ইন শা আল্লাহ্‌।

-দৈনিক ব্যায়াম করুন। বেশির ভাগ সময় ভাল কাজগুলোতে কাটান। যেমন ভাল ভাল বই পরতে পারেন। সাবধান!! গল্প উপন্যাসের বইটে অনেক উত্তেজনামূলক লিখা থাকে। তাই ইসলামিক বই পড়বেন বেশি করে।

 

প্রতিরোধমূলক-

– হঠাৎ করে কামনা জাগ্রত হলে প্রথমে চিন্তা করবেন কোন জিনিসটা আপনাকে ট্রিগার করেছে। কারন সেই জিনিসটা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। হতে পারে বাসায় একা থাকা বা মডারেট কোনো গল্পেরে বই পড়া যেখানে উত্তেজনা মূলক লিখা লেখা ছিল। এই ধরনের পরিবেশ, এই ধরনের গল্পের বই থেকে যতদূরে থাকা সম্ভব দূরে থাকতে হবে।

– কামনা জাগ্রত হওয়ার সাথে সাথেই যেন আপনি নির্জনতা থেকে সরে পড়ুন। প্রয়োজন হলে বাসা থেকে বের হয়ে যান। হেটে আসুন। মূল কথা নিজেকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলুন যেন আপনি চাইলেও কাজ সম্পাদন করার সুযোগটা না থাকে। তবে বের হওয়ার সময় মনে রাখবেন যে আপনি যেন আপনার দৃষ্টি হেফাযত করেন। না হলে যেই লাউ সেই কদু। বাইরে বের হয়ে উত্তেজনামূলক দৃশ্য দেখে বাসায় এসে নিজেকে কন্ট্রল করতে পারবেন না।

-আপনি ওযু করে ২ রাকাহ সলাত আদায় করুন। আগে থেকে সূরাহ আয-যালযালাহ, আল-ক্বরি’আহ এর মত সূরাহ/আয়াত অর্থসহ মুখস্ত করে রাখুন, যেখানে ক্বিয়ামত এবং হাশরের কথা উল্লেখ এবং বর্ণনা করা হয়েছে। সলাতে এসব সূরাহ/ আয়াত তিলাওয়াত করবেন আর অবশ্যই অর্থের দিকে খেয়াল রাখবেন। চিন্তা করবেন আগামীকালই শেষদিবস হতে পারে। অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে সলাত আদায় করবেন।

 

পিছলে গেলে-

মূলত এই সেকশনটা দিতে অনেকটা অনুৎসাহিত বোধ করি। কারন এখানে একটা শয়তানে বড় রকমের ফাঁদ আছে যদি না আপনি আপনার ওয়াদার উপর অটল থাকেন। সুতরাং সাবধান থাকতে হবে। এটা কোনো ভাবেই হারাম কাজ করার একটা অল্টারনেট হালাল পথ না যে আপনি হারাম কাজ করবেন আর পরে কয়েকটা আমল করবেন, তাহলেই কাটা-কাটি হয়ে যাবে। নিশ্চই আল্লাহ্‌ মনের কথা জানেন। আপনি যদি নিয়ত করেন যে পাপ কাজটা করি, করে আমল করে নিব, তাহলে আপনি নিজেকেই ধোকা দিচ্ছেন। এটার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শত চেষ্টা করেও যদি আপনি পা পিছলে যান, সেক্ষেত্রে করনীয় কি।

-খাস দিলে তওবাহ করবেন। তওবাহর কবুলের শর্তগুলো যেন রক্ষিত হয়। আপনার মধ্যে যেন অনুশোচনাবোধ থাকে, আপনি গুনাহট ছেড়ে দিবেন, আর আপনি যেন প্রতিজ্ঞা করেন যে আপনি সামনে আর কখনই এটা না।

-প্রত্যেকবার বেশি বেশি করে সদকাহ করবেন।

-নফল সলাতের সংখ্যা বাড়িয়ে দিবেন। পাপ কাজ করলে সলাত পড়তে পারবেন না এরকম ফাঁদে পড়বেন না। পবিত্র হয়ে আরোও বেশি করে সলাত আদায় করবেন। শায়তান তাহলে আপনাকে খারাপ কাজের দিকে কম টানবে, যখন দেখবে এর ফলে আপনি আরো বেশি করে সলাত আদায় করছেন।

 

আর এই লিখাটি খুব ভালোমতো পড়ুন ইনশা আল্লাহ্‌- https://tinyurl.com/yxzmxakb

 

১২. রাতে ঘুমানোর আগে মাস্টারবেট না করলে ঘুম আসে না,ঘুমাতে অনেক কষ্ট হয়।

  • রাতে ঘুমানোর আগে অযু করে নিবেন। পারলে দুরাকাত নামায পড়ে নিবেন।
  • হিসনুল মুসলিম বই বা এপ্স থেকে ঘুমানোর দু’আগুলো পড়ে নিবেন ।লিংক- https://greentechapps.com/apps/hisnulbn
  • এরপরও ঘুম না ধরলে উঠে ক্লাসের পড়া পড়তে থাকবেন। ঘুম ধরবেনা ওর বাপ ধরবে ।
  • ঘুমানোর সময় কুরআন তিলাওয়াত শুনতে পারেন।
  • লেকচার শুনতে পারেন। পরকাল নিয়ে, নবী রাসূল, সাহাবীদের কাহিনী, যেগুলো অন্তর নরম করে।( ইসলাম বিকৃতকারী, সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া আজমাইন বা সালাফদের বুঝের বাহিরে গিয়ে ইসলামকে ব্যাখ্যা করে এমন অগ্রহণযোগ্য আলিমদের লেকচার কখনোই সাজেস্ট করবেননা।)
  • দিনে ব্যায়াম করতে হবে। সারাদিন ঘরে বসে শুয়ে থাকলে হবেনা ।

 

আমরা খুব ছোটো মানুষ। আমাদের লিখার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ্‌।  যেকোনো ধরণের পরামর্শ বা সাজেশন  হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ …

পড়ুন আগের পর্বগুলো-

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (প্রথম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারগার (দ্বিতীয় পর্ব)

 

 

শেয়ার করুনঃ