তুমি এক দূরতর দ্বীপ (সপ্তম কিস্তি)

তুমি এক দূরতর দ্বীপ (সপ্তম কিস্তি)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম।
.
আরেকটা সিচুয়েশন ধরো, তুমি বাসায় বিয়ের কথা বললে, আলহামদুলিল্লাহ বাসায় বিয়ে দিতে রাজি হলো, কিন্তু অনেক খোঁজাখুঁজি করে তোমার সাথে বিয়েতে বসবে এমন দ্বীনদ্বার কোনো মেয়ে পাওয়া গেলনা। কিন্তু নন প্র্যাকটিসিং মেয়ে রাজি ? তাহলে কী করবে?

বিয়ে করবেনা। কেন করবেনা তার উত্তর আগের পর্বেই আলোচনা করা হয়েছে। ধৈর্য ধরো। আল্লাহর কাছে দু’আ করতে থাকো। আর্থিক সামর্থ্য উপার্জনের চেষ্টা করতে থাকো। আর দ্বীনদার মেয়ে খুঁজতে থাকো। আল্লাহ ব্যবস্থা করে দেবেন ইনশা আল্লাহ।
.
একটা কথা ভাই, যদি বাবা মা রাজি থাকে, মেয়েও পাও, শুধু ভালো চাকুরী নেই, অল্প টাকা আয় রোজগার এই কারণে বিয়েতে দেরী কোরোনা। আল্লাহর ওয়াদা যে বিয়ের মাধ্যমে তিনি মানুষকে রিযিক বাড়িয়ে দেন।

“আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ ও সৎকর্মশীল দাস দাসীদের বিবাহ দাও। তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও মহাজ্ঞানী।” (সূরা আন-নূর,আয়াতঃ৩২)
.
তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল করে বিয়ে করে ফেল। একটুকুও দেরি করোনা। কতো যুবক যুবতী এই সুযোগের অপেক্ষায় অস্থির হয়ে দিন গুনছে আর তুমি সেই সুযোগ পাবার পরেও এভাবে হেলায় নষ্ট কোরোনা। নিজের পাপের ভার আর বাড়িয়োনা।
.
যদি এমন সিচুয়েশন হয় যে মিয়া বিবি এবং ফ্যামিলি সবাই রাজি। সবাই অপেক্ষা করে আছে কবে মিয়া আর বিবির পড়াশোনা শেষ হবে, অথবা ভালো একটা চাকুরী পাবে…
এটাও মারাত্মক রকমের ভুল কাজ। এরকম সিচুয়েশনে অবশ্যই কোনোকিছুর জন্য অপেক্ষা না করে বিয়ে করে ফেলা উচিত। আকদ করে রাখা হলো পরে না হয় ওয়ালিমা করা হল। এই রকম অবস্থায় মিয়া বিবি অনেক অনেক গুনাহ করে ফেলে। এমনকি যিনা পর্যন্ত। তুমি যদি এরকম অবস্থায় নিজেকে আবিষ্কার করো তাহলে অবশ্যই বিয়ে করে ফেলবে। ওয়ালিমা না হয় পরেই কইরো।
.
বিয়ের কথা বাসায় বলা, বাবা মাকে রাজি করানো, মেয়ে দেখা,বলে-ব্যাটে মেলা, চার চোখ এক হওয়া খুব লম্বা, দীর্ঘ একটা প্রসেস। আজকে বাসায় বললা আর আগামীকাল বাসার লোকজন তোমাকে এসে বলল- ‘ওঠ ছোঁড়া তোর বিয়ে…’ এরকম ভাবলে স্বপ্নভঙ্গ হতে খুব বেশি সময় লাগবেনা। তোমার দুই চোখে হয়তো ছিল ব্যাকুল স্থপতির মতো শুধুই জীবন গড়ার নেশা কিন্তু পৃথিবী তোমাকে ভুল বুঝবে। তোমার দু’চোখে দেখবে শুধু জৈব রসায়নের অনল। অনেক কটু কথা শোনা লাগতে পারে তোমাকে, অনেক অপমান, ট্যাড়া ট্যাড়া মন্তব্য, ব্যঙ্গ বিদ্রুপ। বাবা মাকে রাজি করাতে, মেয়েকে খুঁজে পেতে, মেয়ের বাবা মাকে রাজি করাতে অনেক সময় লাগতে পারে। সেই মধুররাতে বালিকার হাত ধরে স্বপ্নের প্রহর শুরুর আগ পর্যন্ত তোমাকে পেছনে ফেলে যেতে হতে পারে ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের এক সময়। পাড়ি দিতে হতে পারে লম্বা বন্ধুর এক পথ। এই কথাগুলো যেন মাথায় থাকে। এবং এই কষ্ট সহ্য করার মানসিকতা না থাকলে, জীবনের সুকঠিন কংক্রিটে ঠোকর খেতে না চাইলে, হে আমার বিয়ে পাগল ভাইটি, জেনে রাখো তোমাকে নিশ্চিত দুঃখ পেতে হবে। কাঁদতে হবে।
.
আরেকটা কথা এখানে বলেই ফেলা যায়। অনেক ভাই আছেন, যারা চোখের হেফাযত করেন, হারাম রিলেশন,মুভি সিরিয়াল নাটকের কথা শুনলে সাপ দেখে চমকে দূরে সরে যাবার মতো দূরে সরে যান। এক কথায় পবিত্র জীবন যাপন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিয়ের পরে বউকে কীভাবে কতক্ষণ আদর করবেন ইত্যাদি ভেবে দিনরাত পার করেন (এই বিষয়গুলো বিয়ের দিন সকালে বা বিয়ের পর অভিজ্ঞ কারো কাছ থেকে বা বইপত্র পড়ে জেনে নেওয়া উচিত। আগে এসব জানলে পর্ণ দেখা বা হস্তমৈথুন বা ব্যাভিচারে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপক সম্ভাবনা থাকে)। এসব ভাবতে ভাবতে কেউ কেউ মাস্টারবেট করে ফেলেন কখন বা পর্ণসাইটে চলে যান তা টের পাননা। চতুর শয়তান এই চিন্তাভাবনাগুলো দিয়ে অনেককেই ঘোল খাইয়ে ছাড়ে। এই চিন্তাগুলো থেকে সাবধান থাকবো। এই চিন্তাগুলো আমাদের মাথাতে আসতে পারে। কিন্তু তাকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবেনা কোনোমতেই। একটু সুযোগ দিলেই আমাদের দিয়ে পাপ করিয়ে ছাড়বে। মাস্টারবেট বা পর্ণ না দেখলেও আমরা যে অশ্লীল চিন্তা করছি এটাতেই তো আমার পাপ হচ্ছে। রাস্তার একটা মেয়েকে নিয়ে চিন্তা করাও যেমন পাপ তেমনি ভবিষ্যৎ বউকে নিয়ে চিন্তা করাও পাপ। … আমি তো আমার হবু বউকে নিয়েই ভাবছি অন্য কাউকে নিয়ে তো নয়… ওয়েল, তুমি কি তাকে বিয়ে করেছো? আমাকে গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারবা যে এই মেয়ের সাথেই তোমার বিয়ে হবে?

শেষমুহূর্তের ঝড়ে কতো নিশ্চিত বিয়ে ভেঙ্গে গেলো। এই ভুল করবেনা। সে এখনো বেগানা নারী। এখনো তোমাদের বিয়ে হয়নি। এখনো তার সাথে পর্দা মেইন্টেইন করতে হবে।
.
বিয়ে ঠিক হবার পর বিয়ে হবার আগ পর্যন্ত ফেইসবুকের ইনবক্সে টেম্পু চালাবোনা, সম্পর্ক সহজ করা, পরস্পরকে জেনে নেবার উসীলায় ফোনে কথা বলবোনা। রেস্টুরেন্ট, সিনেমাহলের অন্ধকার বা পার্কের চিপাচাপা খুঁজবোনা। এই সময়টা অত্যন্ত নাজুক এক সময়। নিজে জেনেছি, শুনেছি, দেখেছি এই নাজুক সময়ে পোলাপান ধুমায়ে সেক্সচ্যাট করছে, ফোনে অশ্লীল সব কথা বলছে বা বিয়ে তো হবেই, কাজেই এখনই সব কিছু করে ফেললে দোষ কি, এই চিন্তা করে বিছানায় শুয়ে পড়ছে!
ভাই সাবধান, এসব কাজ ভুলেও, ভুলেও করবেনা। এগুলো সুস্পষ্ট সব জিনা। আল্লাহকে ভয় করি ভাইয়া। আমরা আল্লাহকে ভয় করি।
.
এই নষ্ট হয়ে যাওয়া পৃথিবীতে ভালো মেয়ে কি পাবো, প্রেম না করলে ফ্রেশ মেয়ে পাবনা, এরেঞ্জড ম্যারেজ করা মানে সেকেন্ডহ্যান্ড, অন্যের ইউজড জিনিস বিয়ে করা, প্রেম না করলে অচেনা অপরিচতার সঙ্গে মনের মিল হবেনা এ ধরণের চিন্তা ভাবনা ভুলেও করবোনা। ভাইয়া দেখো, যারা ভালো মেয়ে, যারা পবিত্র মেয়ে, তোমার বা তুমি যাদের কাছে এই নেতিবাচক কথাগুলো শোনো তাদের সাথে এসে ইনবক্সে গুতাগুতি করবেনা, ঢলাঢলি করবেনা। জাস্ট ফ্রেন্ড, বেস্ট ফ্রেন্ড কালচার, রিকশায় ঘোরাঘুরি করা, প্রেম করা, চাইলেই ভালোবাসার প্রমাণ দেখানোর জন্য ভিডিও কলে কাপড় খোলা বা লিটনের ফ্ল্যাটে যাওয়া তো বহুত দূরের কথা!এই শ্রেণীর মেয়েদের দেখেই পৃথিবীর তাবৎ মেয়ে সম্পর্কে এমন বাজে ধারণা করে ফেললাম আমরা?
.

‘”যে আল্লাহ্‌কে ভয় করে আর ধৈর্য ধরে, আল্লাহ্‌ এমন ভালো মানুষদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।” [সূরা ইউসুফ ১২ঃ৯০]

“দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য; দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য; সচ্চরিত্রা নারী সচ্চরিত্র পুরুষের জন্য এবং সচ্চরিত্র পুরুষ সচ্চরিত্রা নারীর জন্য। লোকে যা বলে এরা তা থেকে পবিত্র; এদের জন্য রয়েছে ক্ষমা এবং সম্মানজনক জীবিকা।” [সূরা আন্‌-নূর ২৪ঃ২৬]


ভাই দেখ, অনেক ভালোমেয়ে আছে। তুমি যেমন এই ঘোর কলুষতার বর্ষণ থেকে নিজেকে মুক্ত করে রাখার জন্য দাঁতে দাঁত চেপে যুদ্ধ করে যাচ্ছো, বিশ্বাস করো তেমনি এই একই আকাশের নিচে, একই পৃথিবীর বুকে অসংখ্য বোনেরাও দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে যাচ্ছে, অপেক্ষা করে আছে কবে পবিত্রতার ঘোড়ায় চড়ে আসবে তার রাজপুত্র। কবে এই দমবন্ধ হয়ে আসা পৃথিবীতে তারা দুজনে মিলে দুরুমের ভাড়া বাসায় একটুকরো জান্নাত রচনা করবে। এসবের কতোটুকুই বা তুমি জেনেছো? ভেবেছো?
.
ভাই চতুর্দিকে ভালোবাসার আকাল দেখে তুমি হতাশ হবেনা। যদি তুমি পবিত্র থাকো, যদি তোমার ভালোবাসা, জীবনসঙ্গিনীর জন্য অপেক্ষা মৌলিক হয় তাহলে আল্লাহ্ তোমাকে নিশ্চিত ভালো একজন মেয়ের সাথে জুড়ি বেঁধে দিবেন।জীবনের ভালোবাসা হয়তো কোনো এক ভোরে চুপ করে কড়া নাড়বে তোমার দরজায়।
দেইখো।

চলবে, ইনশাআল্লাহ…

প্রথম কিস্তি

দ্বিতীয় কিস্তি 

তৃতীয় কিস্তি

চতুর্থ কিস্তি

পঞ্চম কিস্তি

ষষ্ঠ কিস্তি 

.

শেয়ার করুনঃ
তুমি এক দূরতর দ্বীপ (ষষ্ঠ কিস্তি)

তুমি এক দূরতর দ্বীপ (ষষ্ঠ কিস্তি)

.
বাবা মাকে রাজি করানোর সময় তাদের সাথে বেয়াদবি করা যাবেনা। ভদ্রভাবে বোঝাতে হবে। ঠান্ডা মাথায় তাঁদের কথা শুনবো আমরা। তাঁরা কী চান, আমাদের বিয়ে নিয়ে তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী এগুলো ভালোমতো শুনে নিব। তাঁদের মনের কথা না জানলে আমরা তাঁদের পটাতে পারবনা। কঠিন হয়ে যাবে। সব বিষয়ে ইস্তেখারা করবো , হুটহাট করে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবনা। এই বয়সটাতে মানুষ আবেগের বশে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। দুনিয়ার সব মেয়েকেই বিবাহ উপযোগ্য পাত্রী বলে মনে হয়। বাবা মার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাবো। পাত্রী দেখা, পাত্রীর অভিভাবকদের সাথে কথোপকথন সবক্ষেত্রেই বাবা মা সঙ্গে রাখবো, গুরুজনদের সঙ্গে পরামর্শ করবো।
.
এখানে একজন মিড্যলম্যান থাকলে খুব ভালো হয়। প্রব্লেম সল্ভার টাইপের। যিনি তোমার এবং তোমার বাবা মার সঙ্গে কথা চালাচালি করবেন। লজ্জা, ভয় ইত্যাদি কারণে অনেক ছেলে তাঁদের বাবামাকে চাহিদার কথা বলতে পারেনা, ঠিকমতো বোঝাতে পারেনা। তো যদি অন্য কেউ ছেলের হয়ে বাবা মাকে বোঝাতে পারেন তাহলে জটিলতা কমে যায়। খুঁজে দেখ, দুলাভাই, মামা, চাচা, কাজিন বা পাড়াতো কোনো বড়ভাই বা মুরুব্বি পাও কিনা যে তোমার হয়ে ওকালতি করবে।
.
মনে করো বিয়ে করার জন্য তোমার আর্থিক সামর্থ্য আছে। কিন্তু বাবা মা কোনোমতেই বিয়ে দিতে রাজি হচ্ছেন না। তুমি অনেক বুঝিয়েছো, অনেক চেষ্টা করেছো, কিন্তু তারপরেও কোনোমতেই বাবা মা রাজি হচ্ছেন না । এখন কী করবে?
দেখ এই সমস্যার চিরন্তন সর্বজনীন কোনো সমাধান নেই। এক একজনের ক্ষেত্রে এক এক রকম হবে। এবং প্রত্যেক ক্ষেত্রেই বিজ্ঞ আলিম, অভিজ্ঞ ভাই,মুরুব্বীদের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।
.
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী মেয়েদের বিয়ের জন্য ওয়ালির (পুরুষ অভিভাবক) অনুমতি আবশ্যক নয়। কোনো কোনো মাযহাব অনুসারে মেয়েদের বিয়ের জন্য পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি লাগবে। ছেলেদের জন্য লাগবেনা। তুমি যদি ব্যক্তিত্ববান হও, বিয়ের পরে অভিভাবকদের মধ্যে যে গ্যাঞ্জাম লাগবে, সেইটা ট্যাকল দেওয়ার যোগ্যতা থাকে, সাহস থাকে, তাহলে ইস্তিখারা করে এবং আলিমদের সঙ্গে পরামর্শ করে বিয়ে করে ফেলতে পারো ইনশা আল্লাহ। আর যদি সেই যোগ্যতা, সাহস, কষ্ট স্বীকার করার মানসিকতা না থাকে তাহলে বিয়ে করবেনা। সবর করবে, আল্লাহর কাছে দু’আ করবে বেশি বেশি, দান সাদাকাহ করবে। বিয়ে করবে না।
.
অনেকেই আছে বাবা মাকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করে ফেলে। তারপর বাবা মার কাছ থেকে বউ লুকিয়ে রাখে। মাসের পর মাস চলে যায়, বছর পার হয়ে যায়, বাবা মাকে ভয়ে বউয়ের কথা বলতেই পারেনা।

নারীবাদীরা অবশ্য মুখে স্বীকার করেনা। কিন্তু অন্তরে ঠিকই একটা হাহাকার থাকে। সব মেয়েরাই তাদের জীবন সাজায় বিয়েকে কেন্দ্র করে। কতো স্বপ্ন যে দেখে তারা বিয়ে নিয়ে ! বিয়ে, স্বামী, সন্তান, শ্বশুরবাড়ি নিয়ে তারা কতো সুখ-ছবি আঁকে মনে মনে! এইসব পোলাপান মেয়েদের সারাজীবনের স্বপ্নগুলো স্টীম রোলার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। বিয়ে করে ঠিকই স্ত্রীর কাছ থেকে চোখের শীতলতা খুঁজে পায়, নিজের শরীরের চাহিদা মেটায়, কিন্তু স্ত্রীকে প্রাপ্য সম্মান, সামাজিক স্বীকৃতি আদায় করে দেয়না। স্ত্রীর গর্ভে নিজের সন্তান আসার পরেও কাপুরুষের দলের সাহস হয়না বাবা মার সামনে স্ত্রীকে নিয়ে যাবার। অনেকের কথা জানি যারা বিয়ে করে কিছুদিন ‘ভোগ’ (সরি টু ইউজ দিস ওয়ার্ড) করে চম্পট দেয়। স্ত্রীদের অসহায় করে ইউরোপ আমেরিকায় ‘জ্ঞ্যানার্জন’ করতে যায়। খোঁজ খবর রাখেনা। অনেকে গর্ভপাত পর্যন্ত করে। তথাকথিত দ্বীনি ভাইবোনদের মধ্যেই এমন কেইস আছে। এইসব ছেলেরা আঙ্গুল চোষা বাচ্চা রয়ে গেছে, এদের পুরুষের ভান করা উচিত না।

এইসব পোলাপানদের কানের নিচে থাপড়ানো উচিত সকাল বিকাল দুবেলা রুটিন করে। নিজের স্ত্রীর অধিকার আদায় করার মুরোদ নেই, মায়ের সামনে নিজের স্ত্রীকে নিয়ে দাঁড়ানোর মেরুদ্বন্ড নেই, বিয়া করতে আইছো কেন মিয়া, যাওগা, গিয়া ফিডার খাও!
.
ভাই আমাদের যদি কমফোর্ট জোন থেকে বের হবার সাহস না থাকে তাহলে ভুলেও এই ভুল করবোনা আমরা। এটাতো স্পষ্ট ভয়ঙ্কর ধরণের জুলুম। একজন মেয়ের স্বপ্ন, মেয়ের জীবন নষ্ট করার, এভাবে কষ্ট দেবার কোনো অধিকার তোমার,আমার নেই। আল্লাহকে ভয় করি ভাই। আল্লাহ আর জুলুমের শিকার ব্যক্তির দু’আর মাঝখানে কোনো পর্দা থাকেনা, সে যদি কাফির মুশরিক হয় তারপরেও। আল্লাহকে ভয় করি। ধ্বংস হয়ে যাবো। জ্বলে পুড়ে মরবো।
.
যদি আর্থিক সামর্থ্য না থাকে আর বাবা মা বিয়ে দিতে কোনোমতেই রাজি না হয় তাহলে কী করবে ?

কী করবে আমরা আগেই আলোচনা করেছি। আবার চোখ বুলিয়ে নাও। আর্থিক সামর্থ্য অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। দু’আ কর‍তে হবে দান সাদকাহ করতে হবে। ইস্তেগফার পড়তে হবে। তাহাজ্জুদের সালাতে সিজদায় পড়ে বেশি বেশি দু’আ করতে হবে। আল্লাহ রিযিকের ফায়সালা করে দিবেন ইনশা আল্লাহ।
.
নিজের আর্থিক সামর্থ্য নেই দেখে বিয়ে করবনা বা বিয়ে করা যাবেনা এখন- এটা ভেবে বসে থাকবেনা। আগে চাকুরী পেয়ে নেই, আগে ব্যবসাটা গুছিয়ে ফেলি এসব চিন্তাভাবনা শয়তানের ধোঁকা। আর্থিক সামর্থ্য অর্জন এবং বিয়ের চেষ্টা একসাথে চলবে। আল্লাহ্‌র ওয়াদা নিজ চরিত্র রক্ষার্থে বিয়ে করতে যায় এমন যুবকদের তিনি অবশ্যই সাহায্য করবেন। আত তিরমিযীর একটি বিশুদ্ধ হাদীসে এরকম বর্ণনা এসেছে, ‘তিন শ্রেণীর লোকদের সাহায্য করাকে আল্লাহ (সুবঃ) নিজের কর্তব্য বলে স্থির করেছেন- (১) সেই মুজাহিদ,যিনি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেন। (২) সেই ক্রীতদাস যে তার মালিকের সাথে একটা নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা প্রদানের মাধ্যমে মুক্তির চুক্তি করেছে এবং (৩) সেই যুবক যে নিজের চরিত্র রক্ষার জন্য বিয়ে করতে চায়’। https://tinyurl.com/y6hmrltr
.
অনেকের ক্ষেত্রে এমন হতে পারে যে, তুমি বাসায় বিয়ের কথা বলেছো। বাসা থেকে ইসলাম প্র্যাকটিস করেনা, পর্দা করেনা এমন কোনো মেয়েকে বিয়ে করার জন্য ঠিক করেছে। বাসা থেকে অনেক জোর দিচ্ছে। ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছে- ‘বিয়ে করে বউকে তোর মতো হুজুর বানিয়ে নিস’ এরকম অনেক কথার মাধ্যমে তোমার ব্রেইন ওয়াশ করার চেষ্টা করছে। তুমি ছোট থেকেই ফ্যামিলির সব কথা শুনে এসেছো। এখন কী করবে ? পরিবারের সবার মতের বিরুদ্ধে যাবে? নাকি ফ্যামিলির কথা মতো নন প্র্যাক্টিসিং মেয়েকেই বিয়ে করবে?
.
সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রাদিআল্লাহু আনহু) এর একটি ঘটনা শোনানো যাক। তাঁর পুরো জীবন বিশেষ করে যৌবন তিনি আল্লাহ্‌র রাস্তায় উৎসর্গ করেছেন । কোন কোন বর্ণনামতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পরিবারের বাহিরে ইসলাম গ্রহণ করা চতুর্থ ব্যক্তি, আবার কোন কোন বর্ণনা মোতাবেক তৃতীয় ব্যক্তি । তিনি সেই দশজন সৌভাগ্যবান ব্যক্তির মধ্যে একজন যাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন ।
.
সাদ রাদিআল্লাহু আনহু যখন ইসলাম গ্রহণ করেন তখনো তাঁর জীবনের ২০টি বসন্ত পার হয়নি । ইসলাম গ্রহনের পূর্বে তিনি এক অদ্ভূত স্বপ্ন দেখেন । তিনি স্বপ্ন দেখেন, তিনি অন্ধকারে ছিলেন। এমন সময় আকাশে একটা চাঁদ উঠে সবকিছু আলোকিত করে দিল। তিনি চাঁদটাকে অনুসরণ করতে থাকলেন। কিছুক্ষণ পড়ে তিনি আবু বকর,আলী এবং জায়েদ ইবন হারিসা রাদিআল্লাহু আনহুম দের সেই চাঁদটা অনুসরণ করতে দেখলেন।

এই স্বপ্নের কিছুদিন পরেই তিনি আবু বকর (রাদিআল্লাহু আনহু) এর মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত পেয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন।
.
সাদ রাদিআল্লাহু আনহুতাঁর মায়ের খুবই অনুগত ছিলেন । মা বাবার অবাধ্য, মক্কার দুষ্টু ছেলেদেরকে প্রায়ই শুনতে হত , ‘দেখ, সাদ কে দেখ ! সে তার মায়ের কত অনুগত ! হতচ্ছাড়া তোরা সাদের মত হতে পারিস না?’।

ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আসার পর সাদ রাদিআল্লাহু আনহুকে তাঁর পরিবারের বিশেষ করে তাঁর মায়ের প্রচন্ড বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয় । তাঁর মা তাঁর নিকট এসে বললেন , “সাদ! তুমি যদি মুহাম্মাদের ধর্ম ত্যাগ না কর তাহলে আমি খাবার, পানি কিছুই স্পর্শ করব না এবং মক্কার গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদে দাঁড়িয়ে থাকব । এভাবে আমি যখন মারা যাব তখন মক্কার লোকজন তোমাকে দেখিয়ে বলবে এই পিশাচটা তার নিজের মাকে খুন করেছে”।

একদিন চলে গেল। সাদের মা কোন কিছুই খেলেন না। দুই দিন চলে গেল সাদের মা এদিনো কোন কিছুই পানি স্পর্শ করলেন না। তার শরীর প্রচন্ড খারাপ হয়ে গেল। তিন নাম্বার দিন সাদ রাদিআল্লাহু আনহু তাঁর মাকে যেয়ে বললেন, “ইয়া উম্মি! আপনার যদি ১০০টা প্রাণ থাকে আর আপনি যদি এভাবে আপনার ১০০টা প্রাণ কেও হত্যা করেন তাহলেও আমি আমার ইসলাম ত্যাগ করব না। ছেলের এমন পাহাড়ের মত দৃঢ়তা দেখে তাঁর মা অনশন ভঙ্গ করেন। (পরবর্তীতে সাদ রাদিআল্লাহু আনহুএর মা ইসলাম কবুল করেন। এই কাহিনী ইনশা আল্লাহ্‌ আর এক দিন বলা হবে)।
.
রহমান আল্লাহ্‌ সাদ (রাদিআল্লাহু আনহু) এর দৃঢ়তাকে সম্মান জানানোর জন্য কুর‘আনে আয়াত নাযিল করলেন যেটি কিয়ামাত পর্যন্ত তিলাওয়াত করা হবে ।

“আমি মানুষদের আদেশ করেছি তারা যেন তাদের পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করে । কিন্তু তারা যদি তোমাকে আল্লাহ্‌র সঙ্গে শিরক করার আদেশ দেয় যে ব্যাপারে তাদের কোন জ্ঞান নেই তাহলে তাদের মান্য করো না।”
https://tinyurl.com/y5nekf8x
.
আশা করছি, আমরা বুঝে গিয়েছি এরকম মুহূর্তে কী করতে হবে। ভাই, আল্লাহর অবাধ্য হয়ে কারো আনুগত্য করা যাবেনা। সেটা দেশের সংবিধান, প্রধানমন্ত্রী হোক আর বাবা-মা’ই হোক। যে মেয়ে ২০-২৫ বছরে ইসলাম নিয়ে সিরিয়াস হয়নি, সেই মেয়ে বিয়ের একদম পর পরেই ইসলাম নিয়ে সিরিয়াস হয়ে যাবে, পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়বে, রোযা রাখবে, পরিপূর্ণভাবে পর্দা করবে, ফ্রি মিক্সিং এড়িয়ে চলবে, মুভি সিরিয়াল দেখবেনা, ফেইসবুক ইনস্টাগ্রামে রং ঢঙ্গের ছবি দেবেনা, টিকটকে ভিডিও বানাবেনা – এগুলো হাস্যকর শোনাচ্ছে না ? যেই মেয়ে আল্লাহ্‌কে ভালোবেসে এগুলো ছাড়তে পারেনি, সেই মেয়ে তোমাকে ভালোবেসে এগুলো ছেড়ে দিবে? মুভি,উপন্যাসে এরকম হয়, কিন্তু বাস্তবে হয়না। আর যদি দেয়ও সেটার মূল্য কতোটুকু? আল্লাহ্‌র কাছে কি সেটা গ্রহণযোগ্য হবে? আল্লাহর জন্য তো সে দ্বীনে ফিরে আসেনি, সে ফিরে এসেছে তোমার কারণে, তোমার ভালোবাসায়। ঐ মেয়ের নিয়্যতেই তো ঘাপলা। বিখ্যাত সেই হাদীসের কথা তো জানোই- প্রকৃতপক্ষে সকল কাজের ফলাফল তার নিয়্যতের ওপর নির্ভরশীল।
.
ভাই আমরা কখনোই এমন মেয়েকে বিয়ে করবোনা। বাবা মা যতো কথায় বলুক না কেন। যতো অভিমানই করুক না কেন। ‘…এতো কষ্ট করে তোকে মানুষ করেছি, আমাদের কোনো শখ আহ্লাদ নেই,তুই আমাদের এতো কষ্ট দিচ্ছিস আল্লাহ কী বলেননি বাবা মাকে কষ্ট দেওয়া যাবেনা, তাদের প্রতি উহ, শব্দটিও উচ্চারণ করা যাবেনা , তোকে পেটে ধরে আমি ভুল করেছি ব্লা ব্লা ……’ কোনো কথাতেই আমাদের মন যেন না গলে। বাবা মার কোনো অধিকার নেই তুমি কাকে বিয়ে করবে কাকে করবেনা সেটা ঠিক করে দেওয়ার। এই অধিকার ইসলাম সম্পূর্ণভাবে তোমাকে দিয়েছে। সুস্পষ্টভাবে বলে দেওয়া আছে পাত্রীর দ্বীনদারিতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তুমি যদি আল্লাহর এই আদেশ মানতে গিয়ে বাবামার মনে কষ্ট দাও, তোমার কোনো পাপ হবেনা।
.
ভাই এটা শয়তানের খুব কার্যকরী ফাঁদ। ভুলেও এ ফাঁদে পা দেওয়া চলবেনা। ভুলেও না। কতো জজবাওয়ালা ভাইদের দেখলাম এই ফাঁদে পড়ে ভিজে বেড়াল হয়ে যেতে, দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তে। বউকে দ্বীনদার বানাবে কি নিজেই দ্বীন হারিয়ে ফেলেছে। দাড়ি কেটে ফেলেছে, সিনেমাহলে মুভি দেখতে যাচ্ছে, ফেইসবুকে ছবি দিচ্ছে জড়াজড়ি করে। ভাই, অধিকাংশ পুরুষই তার স্ত্রীদের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়। আমরা ভুলেও এই কাজ করবোনা।
.
অনেকদিন আগের এক মুজাহিদ এক খারেজি মহিলাকে বিয়ে করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল মহিলাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে ভালো করা। ঐ লোকের পরিণতি কী হয়েছিল জানো? অনুমান করার চেষ্টা করোতো!… ঐ লোক খারিজিদেরই সর্দার হয়ে গিয়েছিল। মুজাহিদ থেকে জাহান্নামের কুকুর খারিজিদের সর্দার! ভাই আমরা এই ভুল করবোনা। কোনো রিস্ক নেবোনা। বিয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই মেয়ের দ্বীনদারীকে প্রাধান্য দেবো।.
.

চলবে, ইনশাআল্লাহ…

শেয়ার করুনঃ
তুমি এক দূরতর দ্বীপ (পঞ্চম কিস্তি)

তুমি এক দূরতর দ্বীপ (পঞ্চম কিস্তি)

সারাদিন বিয়ে বিয়ে করে, বউ নিয়ে ফ্যান্টাসিতে ভুগে পড়াশোনার কথা একেবারে ভুলে যেয়োনা। তার মানে আবার এই না যে সারাদিন ক্যারিয়ার ক্যারিয়ার করবে। মুসলিম কখনো দুনিয়াবি ক্যারিয়ার কেন্দ্রিক হতে পারেনা।

দেখ ভাই, ধরো আমি যদি তোমার মা, বোনকে তুলে গালি দিলাম। এখন তুমি কী করবে?  আমাকে ‘সাইজ’ করতে গেলে উলটা সাইজ হয়ে যাবে, তোমার পড়াশোনার ক্ষতি হবে এই ভেবে কী তুমি চুপ করে থাকবে?

নিশ্চয়ই থাকবেনা, তাইতো?  

এখন দেখো আল্লাহ আমাদের, আমাদের মা বাবার চাইতেও বেশি ভালোবাসেন। আমাদের এতো এতো পাপের পরেও আমাদের আলো বাতাস দিয়ে যাচ্ছেন, অক্সিজেন দিয়ে যাচ্ছেন, আমাদের নিয়ামতের সাগরে ডুবিয়ে রেখেছেন। এখন এই আল্লাহর আইন প্রতিনিয়ত তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা হচ্ছে। কাবার চাইতেও আল্লাহর কাছে একজন মুসলিমের রক্ত প্রিয়। আজ  সেই মুসলিমদের রক্ত ঝরছে সারাবিশ্বজুড়ে, কুরানের মুসাহাফ ছিড়ে টয়লেটে ফ্ল্যাশ করে দেওয়া হচ্ছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করা হচ্ছে সেই সময় কীভাবে একজন মুসলিম দিনরাত ক্যারিয়ার চিন্তায় বিভোর হয়ে থাকতে পারে? বলো ভাই ?

আল্লাহর প্রতি, রাসূলের প্রতি আমাদের ভালোবাসা কী শুধুই লোক দেখানো? শুধুই মিথ্যে দাবী ?

পড়াশোনার অবশ্যই দরকার আছে ভাই। তবে একটু চিন্তা করা দরকার পড়াশোনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে।

এই যে আমরা ফিরিঙ্গিদের দেশ থেকে  এতো এতো পিএইচডি নিচ্ছি, এতো জ্ঞান বিজ্ঞান, এতো ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার, বিসিএস ক্যাডার আমাদের, এতো এতো গোল্ডেন এ+ … তারপরেও দেশে কেনো দুর্নীতির মহাউৎসব, কোটি কোটি টাকা লুট, হাজার হাজার টাকা দিয়ে বালিশ কেনা? ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা বৃদ্ধাশ্রম, খুন, ধর্ষণের মহামারি? ছয় সাত বছরের বাচ্চারাও ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা পায়না? মাদকে টাল যুবসমাজ?

খেয়াল করলে দেখা যায় সব বড় বড় চুরি,বাটপারি, কেলেঙ্কারি, বাবা মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর মতো জানোয়ারের কাজে এগিয়ে শিক্ষিতরাই।

শিক্ষার উদ্দেশ্যতো ছিল মনুষ্যত্বের বিকাশ। প্রাণী থেকে মানুষ হওয়া। আমরা কেন জানি শিক্ষিত হয়ে উল্টো মানুষ থেকে প্রাণী হয়ে যাই! আলমারী ভর্তি সার্টিফিকেট অর্জন করে শুয়োর,কুকুর কিংবা তার চাইতেও নিচু স্তরে কেন নেমে যায় সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ?      

২৪ ঘন্টার মধ্যে অন্তত ১ ঘন্টা পড়াশোনা করোদেখবে আল্লাহ্‌ (সুবঃ) এই এক ঘন্টার পড়াতেই বারাকাহ দিয়ে দিবেন। রেগুলার পড়াশোনা কর। আল্লাহ্‌র কাছে আমলের পরিমাণ কম হলেও, নিয়মিত করা হয় এমন আমল প্রিয়। আল্লাহ্‌র কাছে দু’আ কর- ইয়া আল্লাহ্‌! আমার এই ১ ঘন্টার পড়াতেই বারাকাহ দিয়ে দাও। আমার হালাল রিযিকের জন্য যথেষ্ট করে দাও। আমার বিয়ের ব্যবস্থা করে দাও’। বাবা মার চোখে পড়ে এমন জায়গায় বসে  পড়বা। নিশ্চিত করবা তুমি যে রেগুলার পড়াশোনা কর এটা  বাবা মা দেখছেন। উনারা খুশি হবেন। বিয়ের জন্য রাজি করাতে সুবিধা হবে তোমার।   

সারাদিন কিন্তু তুমি, আমি দ্বীনের খেদমত করিনা, খেয়াল করলে দেখবে ২৪ টা ঘন্টার বেশির ভাগই আমরা পার করে দেই আলসেমি, ফেইসবুক,মেসেঞ্জার, ইউটিউবে পড়ে থেকে, বিয়ে নিয়ে ফ্যান্টাসি, আড্ডাবাজি আর অনর্থক কাজে।

 না দ্বীনের কাজ হয় না দুনিয়ার। ২৪ ঘন্টার মধ্যে মাত্র এক ঘন্টা পড়াশোনা করতে পারবোনা আমরা? রেসাল্ট খারাপ হলে, সেমিস্টার বা বছর ড্রপ হলে জীবনে অনেক জটিলতা সৃষ্টি হবে। এরকম অবস্থায় বেশিরভাগ পোলাপানই হতাশায় মুষড়ে পড়ে। পাললিক মৃত্তিকার মতো ঝুরজুরে হয়ে পড়বে  ঈমানী জজবা।

আরেকটা কথা, যদি ছাত্রজীবনে বিয়ে করতে না’ই পারো মানে বাবা মা কোনোমতেই রাজি না হয়, তাহলে এইটা অন্ততপক্ষে বলে রাখো যে পড়াশোনা শেষ হলেই সঙ্গে সঙ্গে যেন বিয়ে দেয়। চাকুরী করতে হবে,বাড়ি করতে হবে এরকম শর্ত যেন দিয়ে না রাখে। শেষবর্ষে এসেই মেয়ে দেখা শুরু করে দিতে বলো। অনেক সময় মেয়ে দেখতেই অনেক সময় চলে যায়।

এখন মনে কর পড়াশোনা শেষ হয়ে গিয়েছে, বেকার চাকুরী পাচ্ছোনা, বিয়েও হচ্ছেনা । তখন কি করবে?

সেই একই প্রসেস। চাকুরীর জন্যে বসে থাকবনা। টিউশনি করাবো, ব্যবসা করবো। বাবা মাকে বোঝাবো।

এখানেই আমাদের অনেক শিক্ষিত ভাইয়েরা ধরা খেয়ে যান। ছোটোবেলা থেকেই আমাদের মন মগজে একদম খোদাই করে দেওয়া হয় যে, কলম পিষে বড়লোক হতে হবে। লেখাপড়া করে যে ঘাড়িঘোড়া চড়ে সে। ভাইয়েরা পড়াশোনা শেষে চাকুরী না পেলে বেকার বসে থাকবে বছরের পর বছর, তবু ব্যবসা করতে চাইবে না।  এতো এলার্জি  ব্যবসার প্রতি-ব্যবসায় যদি করা লাগে তাহলে এতো পড়াশোনা করলাম কেন। তাহলে এতো পড়াশোনা করলাম কেন। তাও আবার শুধু চাকুরী পেলে হবেনা, সরকারি চাকুরী। পিওনের চাকুরী হোক, সমস্যা নেই তাও সরকারী চাকুরী লাগবে। জমি-জমা বিক্রী করে লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে হোক তবু সরকারি চাকুরী লাগবে।

 কোটি কোটি বেকারের এই দেশে সরকারি চাকুরী পাওয়াতো আর মুখের কিছু না। আদা জল খেয়ে সবাই সরকারি চাকুরীর পড়া পড়ে, তোতাপাখির মতো  সাধারণ জ্ঞান নামের ফালতু জিনিস মুখস্ত করে, কবি সাহিত্যিকদের জন্মদিন,মৃত্যুদিন মুখস্ত করে , বছরের পর বছর চলে যায়, মাথার চুল পরে চান্দু হয়ে যায়, চাকুরী আর হয়না। শরীর তো আর বসে থাকেনা। শরীরের ক্ষুধা ঠিকই লাগে। ভালো ছেলেগুলো সবর করে। নিজেকে পবিত্র রাখার চেষ্টা করে। বাকিরা পর্ণ হস্তমৈথুন বা লিটনের ফ্ল্যাটে ক্ষুধা মেটায়। হতাশার গহীনে গভীরে ডুবে যায়। কেউ মেয়ে বিয়ে দেয়না দেখে এমন ভাষায়  মেয়ের বাপ ভাইদের গালি দেই যে তা শুনলে ওদের চৌদ্দগুষ্ঠি কবর ছেড়ে উঠে আসবে।  

ভাই দেখ,  এরকম একটা চিন্তা আমাদের অনেকের মাথাতেই আসে যে এটা তো পুরোপুরি সমাজের দোষ, সমাজই তো এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেখানে চাকুরি (বিশেষ করে সরকারি) ছাড়া টিকে থাকা কষ্টকর। সমাজের মানুষজনই তো ঠিক করে দিয়েছে বিয়ের উপযুক্ত হবার জন্য, এস্টাব্লিশড হবার জন্য আমার সরকারি চাকুরী লাগবে। এখানে তো দোষ পুরোপুরি সমাজের। আমাদের কোনো দোষই নেই ! ঠিক?

ভুল!

ভাই তুমি দেখতো, যাদের চাকুরী নেইযারা ব্যবসা করে, যারা কৃষিকাজ করে,মুরগীর খামার দেই, মাছ চাষ করে তাদের কি বিয়ে হয়না? হয়। তাদেরকে কে মেয়ে দেয়?  তুমি, আমি সরকারি চাকুরি না করলেও কি তারা  তোমাকে আমাকে মেয়ে দেবেনা? যেই লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে, নেতার পেছনে ঘুরে ঘুরে আমি চাকুরী পাবার চেষ্টা করছি, সেই টাকা দিয়ে  ব্যবসা করলে হতোনা? আল্লাহর জমিন অনেক প্রশস্ত। তাঁর ওপর ভরসা করে মেহনত করলে,  ঠিকই রিযিকের সুন্দর ব্যবস্থা হয়ে যেত ইনশা আল্লাহ। ফুসকাওয়ালা,হালিমওয়ালারা  ব্যবসা করে ঢাকা শহরে বাড়ি করে ফেলে আর তুমি আমি আছো চাকুরী (সরকারী চাকুরী) নিয়ে!  ভাই দোষ একা সমাজের না। আমরাও দোষী। আমরা ভাব ধরেই বসে আছি। আমাদের অহংকারী মন চিন্তা করে, এতো উচ্চশিক্ষিত হয়ে আমি কেন ঐ চাষাভূষাদের কাজ করব? এসব আমার দ্বারা হবেনা। আমার একটা সম্মান আছেনা ! আমার বাবা ওমুক আমার চাচা তমুক! আমি সম্ভ্রান্ত বংশের ছেলে আর আমি কিনা   না আমার দ্বারা এসব হবেনা!

 এই  আত্মসম্মানই খেলো আমাদের! ধামড়া ছেলে হয়েও বাবার কাছে হাতখরচের টাকা নিতে আমাদের আত্মসম্মানে লাগেনা! বছরের পর বছর বেকার জীবন কাটাই, কিছু করার মুরোদ হয়নি আমাদের এখন  আমাদের আত্মসম্মান কোথায় থাকে? আত্মীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশী যখন খোঁচা মেরে কথা বলে, বাবা মা’র মাথা হেঁট হয়ে যায় তখনই বা কোথায় থাকে আমাদের আত্মসম্মান?  সরকারি চাকুরি আমরা শুধু এই জন্যেই চাইনা যে এর ফলে মেয়ের বাপদের মন গলবে, আমাদের হাতে মেয়ে তুলে দিবে। আমরা এজন্যে চাই যে সমাজের লোকদের সাথে যেন  ভাব মারতে পারি, আমার হাতে অনেক ক্ষমতা  থাকে, আমি পুলিশ, আমি বিসিএস ক্যাডার … আহ! ভাবই আলাদা! ইয়ো ম্যান,আই এম দ্যা বস…! সমাজের আর দশজন মানুষের মতো নই আমি, আমি আলাদা, অন্যরকম আভিজাত্যের অধিকারী। সরকারি চাকুরী ছাড়াও বিয়ে করা যায়।বাংলাদেশের অধিকাংশ লোকই সরকারি চাকুরী ছাড়া বিয়ে করে।(এখানে মেয়ের বাপদেরও দোষ আছে। এগুলো নিয়ে পরে আমরা একটা সিরিজ করব ইনশা আল্লাহ।)  

দেখ ভাই, দোষ অনেকেরই আছে। কিন্তু দোষ ধরার সময় আগে নিজেরটাই ধরা উচিত। নিজেদের দোষ খুজে বের করব, ঠিক হব নিজেরা, তারপর এই সমাজ, এই পৃথিবীকে বদলে দেব ইনশা আল্লাহ, তাইতো?

বিয়ে একটি ইবাদাত। নামায, রোযা, হাজ্জ যাকাতের মতোই একটি ইবাদত এটি। ছাত্রাবস্থায় বেকার অবস্থাতেই বিয়ে  করা যায়। মেয়েও পাওয়া যায়। চোখ কপালে তুইলোনা আমার এই কথা শুনে।

মেয়ের বাপেরা তোমার হাতে মেয়ে তুলে দেয়না দেখে তুমি তাঁদের বকাঝকা করো, সমাজকে কষে গালি দিয়ে মনের সুখ খোঁজো। সাহাবীদের উদাহরণ টানো। কতো সহজেই তাঁদের বিয়ে হয়ে যেত, অভিজাত, রূপবতী  মহিলারা  নিঃস্ব, পথের ফকির সাহাবীদের বিয়ে করতেন। জ্বী,এগুলো সবই সত্যি। ঐ যুগ আর এ যুগের আকাশ পাতাল তফাত। কেন তফাত সেটিও আমরা আলোচনা করেছি। কীভাবে অবস্থা পরিবর্তন করতে হবে সেটা নিয়েও কথা বলেছি। তুমি সেগুলো না করে শুধু ঘ্যানঘ্যানে সুরে এই ভাঙ্গা রেকর্ড বাজিও না প্লিজ। অনেক পুরুষ সাহাবীতো বিধবা, বয়সে বড়, অসুন্দর নারীদেরও বিয়ে করেছেন। তুমি একটু খুঁজে দেখ, আশেপাশে অনেক অল্পবয়স্কা বিধবা, ডিভোর্সড মেয়েদের পাবে। তুমি তাঁদের বিয়ে করে নাও। এতীমখানায় যাও। অনেক মেয়ে পাবে। তাদের বিয়ে করো। তোমার আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে খুঁজে দেখ– মেয়ে পাবে। আশেপাশের পরিচিতদের মধ্যে খোজাখুজি করলেও তুমি মেয়ে পাবে। বেকার অবস্থায়, ছাত্রাবস্থাতেই তোমার সঙ্গে বিয়ে দিবে। তুমি তাদের বিয়ে করে নাও।

দেখ ভাই আমরা কী করি, আমরা সমাজের স্ট্যাটাসকে প্রাণভরে গালি দেই। গালি দিয়ে আবার সমাজের সেই স্ট্যাটাসকেই আঁকড়ে ধরি। আমরা  দশ বারোটা ফিল্টার বসাই। অমুক এলাকার মেয়ে লাগবে, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার লাগবে, ফ্যামিলি মিলতে হবে, সোশ্যাল স্ট্যাটাস মিলতে হবে ইত্যা ইত্যাদি। প্লাস সুন্দর, ফর্সা এসব তো আছেই। এই ফিল্টার সবগুলা রেখে আমরা কীভাবে আশা করি যে আমাদেরকে সমাজের বর্তমান অবস্থায় ‘প্রতিষ্ঠিত’ হবার আগে বিয়ে দেয়া হবে? এই বিষয়গুলো  অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে ভাই। সমাজ পরিবর্তনের  জন্য কোন পদক্ষেপ নিজে না নিয়ে আমরা কীভাবে এটা আশা করবো  যে সমাজবাস্তবতা এমনি এমনি বদলে যাবে? একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে  দেখব পৃথিবী বদলে গিয়েছে? আমরা বিয়ে করতে চাই, তারমানে মোটামুটি আমাদের একটা ম্যাচুইরিটি এসেছে। এসব তো বোঝার কথা আমাদের!

ভাই, নিজের কাছে একটু সৎ হলে দেখব, আসলে দিনশেষে  ইসলাম ব্যবহার করে  আমরা সুবিধা নিতে চাই। অভিজাত সুন্দরী মহিলারা গরীব সাহাবীদের বিয়ে করেছেন এটা আমরা ফোকাস করি, চাই যে সমাজ এটার ওপর আমল করুক। কিন্তু অনেক পুরুষ সাহাবা  যে সহায় সম্বলহীনা নারীদের বিয়ে করতেন সেটার ওপর আমরা আমল করতে চাইনা। আমরা চাই মেয়ের বাপেরা স্যাক্রিফাইস করে, মেয়ের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তায় ফেলে আমাদের সাথে যেন বিয়ে দেয়, কিন্তু আমরা চাইনা সাহাবীদের মতো স্যাক্রিফাইস করতে– নিজের কমফোরট জোন থেকে বের হয়ে বিধবা, ডিভোর্সড, এতীমখানার কোনো মেয়ে বা কম অবস্থা সম্পন্ন ফ্যামিলির কোনো মেয়েকে  বিয়ে করতে।  ‘বিয়ে তো জীবনে একবারই হয়, সমাজে আমার ফ্যামিলির একটা স্ট্যাটাস আছেনা, আমি কেন এরকম মেয়েদের বিয়ে করতে যাব’-এরকমভাবে চিন্তা ভাবনা করি তোমরা। ওয়েল, মেয়েদের বাপ ভাইদেরও তো সমাজে একটা স্ট্যাটাস আছে, তারা কেন আমাদের মতো  ছাত্র/ বেকার ছেলের হাতে মেয়েকে তুলে দিবে? তাদের মেয়ের বিয়েও তো একবারই হবে? আমরা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবো এমন গ্যারান্টি কি কোথাও আছে? আমাদের চাইতে সামাজিক অবস্থান একটু নিচুতে এমন ঘরে বিয়ে করতে আমাদের অস্বস্তি লাগলে, কেন মেয়ের বাপ/ভাইদের বেকার/ছাত্র পাত্রের হাতে মেয়ে তুলে দিতে অস্বস্তি লাগবেনা ?

এখানে কেউ হয়তো বলবে যে নারী সৌন্দর্য, বংশ, অর্থের দিকে ফোকাস করা তো জায়েজ, হাদিসে আছে। হ্যাঁ এটা সত্য। কিন্তু যখন বিয়ে করাটা আমাদের দ্বীন বাঁচানোর জন্য দরকার, গুনাহ থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য দরকার, এবং যখন আমরা জানি যে এই সমাজে বিয়ে কঠিন তখন আদৌ এই অজুহাত কি দেওয়া যায়? এই সবকিছুই আমরা হয়তো পাব, মেয়ে রূপকথা পাতা থেকে উঠে আসা ডানাকাটা পরীর মতো হবে, আমরা যে এলাকার চাই সে এলাকারই হবে, ফ্যামিলির স্ট্যাটাসও মিলবে কিন্তু সে ক্ষেত্রে বিয়ে করতে ৩০/৩৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগবে। তাহলে অপেক্ষা করতে থাকো, মেনে নাও, আর কানের কাছে সারাদিন ঘ্যানঘান করা বাদ দাও।

 ভাই আমরা কেন এটা নিপাতনে সিদ্ধ ধরে নিছি যে শুধু মেয়েপক্ষই স্যাক্রিফাইস করবে? কেন আমি স্যাক্রিফাইস করবোনা? কেন  তুমি করবেনা?   কিছু মনে করোনা ভাই, এটা কিন্তু একধরণের ভন্ডামি। 

চলবে ইনশা আল্লাহ…

আগের কিস্তিগুলো-

প্রথম কিস্তি

দ্বিতীয় কিস্তি 

তৃতীয় কিস্তি

চতুর্থ কিস্তি 

 

 

শেয়ার করুনঃ
তুমি এক দূরতর দ্বীপ (চতুর্থ কিস্তি)

তুমি এক দূরতর দ্বীপ (চতুর্থ কিস্তি)

তো যা বলছিলাম তুমি যে বিয়ে করার উপযুক্ত হয়েছো, ম্যাচিউরড হয়েছো তার অন্যতম একটি নিদর্শন হলো, তুমি ফেইসবুকে বিয়ে নিয়ে অনর্থক লাফালাফি  কম করবে। যারা এরকম করে তাদের নিয়ে মানুষজন হাসাহাসি করে, ইমম্যাচিউরড ভাবে। আর এই ইমম্যাচিউরড ছেলেদের হাতে কোন বাপ তাঁর মেয়েকে, কোন ভাই তার বোনকে তুলে দিবে, বলো? এভাবে ঘন্টায় ঘন্টায় ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিলে বিয়ে হয়না।

তোমার নিজের এই লড়াইয়ের কথা মনের মধ্যে গেঁথে নাও ভালোভাবে। ভুলে যেওনা কীভাবে সমাজ তোমাকে নির্বাসন দিয়ে রেখেছে, কতোটা কষ্ট,কতোটা দুঃখ বুকে নিয়ে তুমি দিন পার করছো। ভালোকরে গেঁথে নাও। কক্ষনো ভুলে যেওনা। তোমার অনাগত সন্তানদের এই কষ্টে পড়তে দিওনা। তাদের যৌবনের দুঃসময়ে তুমি বন্ধু হয়ে পাশে থেকো। অধিকাংশ বাবা মা, বাবা-মা হবার পরে নিজেদের  কৈশোর, যৌবনের সংগ্রামরত দিনগুলোর কথা ভুলে যান, একান্ত আপন হয়েও মনের অজান্তেই জল্লাদের নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন। তুমি এই ভুল কোরোনা। সযত্নে মনে গেঁথো রাখো। যদি কোনো ডায়েরীতে লিখে রাখতে পারো তাহলে খুব ভালো হয়।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণত বাবা আর আমাদের মাঝে এক অদ্ভূত দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়। মিটার কিলোমিটারের হিসেবে খুব বেশি দূরত্ব নেই কিন্তু তারপরেও মনে হয় বাবা ভূমধ্যসাগরের একপাশে আর আমরা অন্যপাশে। জীবনবাবু এই দূরত্বের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন… ‘এতো কাছে তবু কতো দূর…’।

একসময় যে বাবার সঙ্গে ক্রিকেট,রাজনীতি নিয়ে অকালপক্ক্বের মতো আলোচনা চলত, আমার ছোট্ট জীবনের ছোটো ছোটো সুখ,দুঃখ, টুকরো টুকরো অভিমান,আবদার … আমার ভেতর আমার বাহির সবটাই ছিল তাঁর কাছে কাঁচের মতো স্বচ্ছ সেই বাবার কাছে আমি এখন প্রায় অপরিচিত এক মানুষ। স্বল্প পরিচিত প্রতিবেশির বা অন্য সেকশনের ক্লাসমেটদের মতো যাদের সঙ্গে দেখা হলে হাই হ্যালো করে কুশলাদি জানা যায়, কিন্তু বেশিদূর কথা গড়ায় না।চোখের সামনেই  আমি কেমন বদলে গেলাম, কেমন অনাতিক্রম্য ব্যবধান  তৈরি হয়ে গেল… মা, বোন,ছোটোভাই বা অন্য কারো  সাহায্য ছাড়া যে দূরত্ব  অতিক্রম করে বাবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব না।

এ বড় শক্ত ম্যাজিক। বাঙালী বাবাদের পুত্রস্নেহ, ভালোবাসা,  তাঁদের গাম্ভীর্য আর ব্যক্তিত্বের কাছে প্রতিনিয়ত হেরে যায়।  খুব কম সৌভাগ্যবান  বাবারাই এই দেয়াল ভাঙতে পারেন। ঘাড়ে করে স্কুলে দিয়ে আসা, গলা জড়িয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া,ভাত তুলে খাওয়ানো বাবারাও ছেলের ব্যর্থতা আর দুঃখের প্রহরে কিছু দ্বিধা,কিছু সঙ্কোচ কিছু গাম্ভীর্য কাটিয়ে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে দুঃখ ভোলাতে পারেন না। ঘাড়ে হাত রেখে  সাহস যোগাতে পারেন না।

আমরা ছেলেরাও কি ছেলে হিসেবে হেরে যাইনি?  দুষ্টু ছেলেগুলো যখন আমার দুইটাকার সন্দেশ কেড়ে নিয়ে খেয়ে নিত, ওপরের ক্লাসের শুভ ভাইয়া যখন প্রায়ই আমাকে সারা দুপুর বল করিয়ে নিত কিন্ত এক ওভারও ব্যাট করতে দিতনা তখন আমি কি দৌড়ে গিয়ে বাবার কাছে নালিশ জানাতাম না? আজ যখন ‘জীবন’ আমাদের সাথে শুভ ভাইয়ার মতো বেঈমানি করে যাচ্ছে  আমরা কেন বাবার কাছে নালিশ করতে পারিনা? কেন বাবার কাছে গিয়ে বলতে পারিনা বাবা আমি আর পারছিনা… ? কী আমাদের টেনে ধরে রাখে? কে সেই কালপ্রিট যে আমাদেরকে আমাদের বাবাদের থেকে এক ধাক্কায় অনেক দূরে সরিয়ে ফেলল?

এক প্রজন্মের সঙ্গে আরেক প্রজন্মের জেনারেশন গ্যাপ থাকবেই, থাকবে কিছুটা আড়াল, আড়ালের ফলশ্রুতিতে ভুল বোঝাবুঝি। নিপাতনে সিদ্ধ ব্যাপার এগুলো। কিন্তু বর্তমানে তিন চার বছরের ব্যবধানেই যেভাবে ব্যবধান গড়ে উঠছে সেখানে বাবাদের জেনারেশনের সঙ্গে (মায়েদের জেনারেশনের সঙ্গেও) ছেলেদের জেনারশনের দূরত্ব যেন অনেক আলোক বর্ষের হিসেব।

তাই হুট করে বাবা বা মাকে চমকে দিয়ে বিয়ের কথা  না বলাই উচিত। এই আপাত অস্বস্তিকর  আলোচনা করার টাইমিংটা খুব গুরুত্বপূর্ণ! তোমাকে সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় সঠিক কথা বলতে হবে। সঠিক সময়,সঠিক জায়গা,সঠিক কথা- এই তিনটি বিষয়ের একটি এদিক সেদিক হলে গিট্টু লেগে যাবার সম্ভাবনা আছে। মনে কর, বাবা অফিস থেকে বিদ্ধস্ত হয়ে রাতে ঘরে ফিরেছেন তখন গিয়ে যদি বল, তাহলে দুই একটা লাঠি তোমার পিঠে ভাংলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা। একটু খেয়াল করতে হবে।  তোমাকে এমন এক সময় এই কথাগুলো বলা শুরু করতে হবে যখন তোমারর বাবা-মায়ের মন ভালো থাকবে,  শারীরিক ক্লান্তি বা অন্য কোনো কারণ তোমার হৃদয়ের আকুতি আর তোমার বাবা-মা’র মাঝে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে.

.

হুট করে বাসায় বিয়ের কথা না বলে বরং কিছুটা প্ল্যান করে নাও। মনে মনে কথাগুলো সাজিয়ে নাও। বাবা,মা,  বড়ভাইয়া,বড়আপু যার সঙ্গে নির্ভয়ে, সাচ্ছন্দ্যে কথা বলতে পারো, তাঁর কাছে যাও সময় এবং অবস্থা বুঝে। দু’রাকাত নামায পড়ে নিতে পারো। কিছু দান সাদকা করতে পারো। ইস্তেগফার করে নাও। (আস্তাগফিরুল্লাহ পড়া) আলাদা বসিয়ে তাঁকে সব কথা খুলে বলো। তুমি বিয়ে করতে চাও,কেন চাও, কেন বিয়ে করা দরকার ইত্যাদি। মাথা ঠান্ডা রাখবে। তর্কে জড়াবেনা, সবচেয়ে বড় কথা লজ্জা পাবেনা। আসলে বাবা মা’কে যেয়ে নিজের বিয়ের কথা বলা বেশ লজ্জাদায়কই। যে করেই হোক এই লজ্জা কাটিয়ে উঠতে হবে। শুরুর ধাপটাই কঠিন। একবার লজ্জা কাটিয়ে শুধু বিয়ে শব্দটা  বলতে পারলে দেখবে বাকী আলোচনা খুব  সহজেই আগাবে। ঢালু জায়গায়  স্থির বলকে একটু ধাক্কা দিলেই বল গড়িয়ে অনেকদূর চলে যায়।

 

যদি নিজের বিয়ের কথা বাসার কাউকে বলতে না পারো, তাহলে খালা,ফুপি,মামা,দুলাভাই (মেয়েদের জন্য ভাবী), নানা,নানী,দাদা দাদীর হেল্প নিতে পারো।  পারিবারিক বন্ধু, পাড়াতো চাচা,বড়ভাই এদেরও সাহায্য নিতে পারো। যদি কারো কাছেই মুখ ফুটে নিজের বিয়ের কথা বলতে না পারো তাহলে মেসেজ দিয়ে বলতে পারো। অনেকেরই বাবা মার সামনে বিয়ের কথা বলতে গেলে হাত পা কাপাকাপি শুরু হয়ে যায়। গুছিয়ে কথা বলতে পারেনা, তাদের জন্য মেসেজিং (চিঠি টাইপ কিছু হতে পারে) খুব ভালো অপশন। মনের কথা সুন্দরভাবে পৌঁছানো যায় বাবা মার কাছে। আবারো বলি, লজ্জা করবেনা।লজ্জা করে আল্টিমেটলি কোন লাভ নেই। দেরি হয়ে যাবে শুভ কাজে। বিয়ের কথা তো একসময় বলতেই হবে বাসায়, বিয়ে তো  করতেই হবে, নাকি?

 

অধিকাংশ মানুষই একটা ভুল করে বসে। বাবা মা বা অন্য কোনো আপনজনকে বিয়ের কথা   বলতে গিয়েও বলেনা । আজ শেয়ার  করবো, কাল শেয়ার  করবো এভাবেই একদিন কাটিয়ে দেয়, দুই দিন কাটিয়ে দেয়। তারপর এক সপ্তাহ, তারপর কয়েক মাস, তারপর  বছর। তুমি যদি এভাবেই আজ বলবো কাল বলবো করতে থাকো তবে আর বলা হবে না, শুধু সময় বাড়তে থাকবে। তাই একটা সুন্দর দিন ঠিক করো,আল্লাহ্‌র নাম নাও। আর  ওইদিনই বাবা-মায়ের সাথে সব শেয়ার  করো।

 

বাসায় বিয়ের কথা বলার পরেই অবধারিতভাবে তোমার দিকে AK-47 এর  বুলেটের বেগে যে প্রশ্নগুলো ধেয়ে আসবে তার সম্মুখভাগেই থাকবে সেই চিরন্তন প্রশ্ন- বিয়ে করে বউকে খাওয়াবি কী?

দেখ, রিযিকের মালিক আল্লাহ এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।  বিয়ে করলে যে আল্লাহ রিযিকে বারাকাহ দেন, সন্দেহ নেই এই ব্যাপারেও। কিন্তু বাবা মা আত্মীয়স্বজনের বিয়ে করে বউকে খাওয়াবি কি প্রশ্নের উত্তরে যদি  তুমি  কুরআনের আয়াত আর উমার (রাঃ) এর উক্তি শুনিয়ে দাও

 

‘আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ ও সৎকর্মশীল দাস দাসীদের বিবাহ দাও। তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও মহাজ্ঞানী।’ {সূরা আন-নূর, আয়াত : ৩২}

উমর ইবন খাত্তাব রাদিআল্লাহু আনহুমা বলতেন, ওই ব্যক্তির ব্যাপার বিস্ময়কর যে বিয়ের মধ্যে প্রাচুর্য খোঁজে না। কারণ স্বয়ং আল্লাহ বলেছেন, ‘তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন।’

 

তুমি যদি বল- রিযিকের মালিক আল্লাহ, আল্লাহই ব্যবস্থা করে দিবেন তাহলে তাদের রাজি করাতে বেগ পেতে হবে। আমাদের সমাজের বেশিরভাগ বাবা মার ঈমানই এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি।  কংক্রিট একটা প্ল্যান অফ একশন তাদের সামনে উপস্থাপন করতে হবে তোমাকে।

মেয়েরা সাধারণত তাদের বাবা, বা ভাইয়ের বিশেষ আদরের হয়। মেয়েরা আল্লাহর তরফ থেকে এক বিশেষ মূল্যবান উপহার। দুনিয়ার দুঃখ,কষ্ট থেকে সযত্নে আগলিয়ে রাখেন তারা, যেন এতোটুকু কষ্ট তাদের মেয়ে তাদের বোন না পায়, যেন কোনো ক্লেদ কোনো গ্লানি তাদের স্পর্শ না করে। রাজা হতে না পারুক নিজে, কিন্তু প্রত্যেক বাবার কাছেই তার মেয়ে একজন রাজকন্যা। রাজকন্যাকে তারা কীভাবে কোনো বেকার ছেলের হাতে তুলে দিবেন? চাল নেই চুলো নেই এমন ছেলের হাতে তুলে দিলে তাদের রাজকন্যা কেমন থাকবে এই দুশ্চিন্তায় উদ্বিগ্ন হওয়া তাদের জন্য কী খুব অস্বাভাবিক কিছু? বিশেষ করে আল্লাহ্‌কে ভুলে যাওয়া চরম ভোগবাদী এই সমাজে ? তুমি আমার কথা শুনে অভিমানে গাল ফুলিয়ে বলতে পারো রাসূলুল্লাহর (সাঃ) যুগে কি এমন হয়নি? কপর্দক, কুৎসিত ছেলের সঙ্গে কি অভিজাত সুন্দরী মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয়নি?

হয়েছে ভাই। হয়েছে। এতোদূরে যেতে হবেনা, উসমানি খিলাফাতের আমলেও খিলাফাহর পক্ষ থেকেই বেকার যুবকদের বিয়ে দেওয়া হতো। আমাদের দাদা,বাবাদের আমলেও তো বেকার ছেলেদের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে এখনকার অভিভাবকদের মতো কেউ অনাগ্রহ পোষণ করতো না।

কিন্তু ভাই দেখ, সমাজ পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে এখন।  ভোগবাদিতা জেঁকে বসেছে, আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল, পুত পবিত্রতা, শালীনতাবোধ, আল্লাহর আইন সবকিছুকেই জাদুঘরে পাঠিয়ে ইসলামকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে, মিডিয়া প্রোপাগ্যান্ডার মাধ্যমে   পাশ্চাত্যের  আবর্জনায় মুসলিমদের মস্তিষ্ক ভরে গিয়েছে (এগুলো নিয়ে পরে একসময় বিস্তারিত আলোচনা হবে ইনশা আল্লাহ)। সমাজ আর আগের মতো নেই।

আগেকার বাবারা নিজ উদ্যোগেই তাদের বেকার যুবকদের  বিয়ে দিয়ে দিতেন, ছেলের বউকে খাওয়ানোর দায়িত্ব ছেলের ওপর এভাবে চাপিয়ে দিতেন না, আগেকার মেয়ের বাবারাও ছেলেদের ওপর এতোটা জুলুম করতেননা, শুধু চাকুরী থাকলেই হবেনা, সরকারি চাকুরী হতে হবে, বিসিএস ক্যাডার,পুলিশ হলে আরো ভালো, ঢাকায় ফ্ল্যাট থাকতে হবে, গাড়ি থাকতে হবে এইসব অদ্ভূত অদ্ভূত শর্তজুড়ে দিয়ে বিয়েকে জটিল করে ফেলতেন না। ছেলের এখন চাকুরী নেই,ছেলে এখন পড়াশোনা করছে তো কী হয়েছে, একদিন নিশ্চয়ই চাকুরী হবে, আর মেয়ে তো আমার না খেয়ে থাকবেনা, মারা যাবেনা, বেয়ায় সাহেব দেখে রাখবেন। ( শ্বশুরবাড়িতে নারী নির্যাতন নিয়ে কিছু কথা আছে। সেগুলো নিয়েও পরে বিস্তারিত আলোচনার ইচ্ছে আছে ইনশা আল্লাহ)

তুমি নিজের বাবা মা, এবং মেয়েদের বাবা মার দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তোলা বন্ধ করে বরং দেখ কেন বিয়ে কঠিন হয়ে গেল। কীভাবে বিয়েটাকে সহজ করা যায়। যখন তাওহীদ, ঈমানভিত্তিক সমাজ ছিল, যখন আল ওয়ালা ওয়াল বারাহর ওপর আমল জারি ছিল, যখন খিলাফাহ ছিল, যখন মুসলিমদের একজন নেতা ছিলেন, যখন মুসলিমরা পাশ্চাত্যের মিডিয়া প্রোপাগ্যান্ডার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিলোনা বা পাশ্চাত্য ঠিক সুবিধে করে উঠতে পারেনি মুসলিমদের সাথে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে, যখন মানুষের বানানো তন্ত্র মন্ত্রের মাদকে মুসলমান বেহুঁশ হয়ে পড়েনি  তখন বিয়ে সহজ ছিল।

ভাই, তুমি গভীরভাবে ভাবো, চিন্তা করো, এগুলো নিয়ে পড়াশোনা করো। কেন তোমার বুকে আজ বর্ষার হাহাকার? কেন অদেখা তার মুখে শ্রাবণের অন্ধকার? কেন তোমাদের মাঝে এই মানুষের দেয়াল ?

মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। ‘বিয়ে করে বউকে খাওয়াবি কি’ এই প্রশ্নের একটা কনক্রিট  উত্তর তোমাকে দিতে হবে। সেই সাথে দেন মোহরানার টাকা কোথায় পাবে, কোত্থুকে বিয়ের খরচ জোগাড় করবে সেগুলোর উত্তরও তোমার জানা লাগবে।

 

একারণেই আমরা বলি, তুমি ফেইসবুকে সারাদিন হাহুতাশ না করে টাকা রোজগারের হালাল কোন উপায় খুজে বের করার চেষ্টা কর। ‘বিয়ে করতে হবে’ এটুকু তোমার উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কী করা যেতে পারে, গন্তব্য পৌছুতে হলে কী করতে হবে তার প্ল্যান শুরু কর। একটু চোখকান খোলা রাখলেই দেখবে ছোটোখাটো ব্যবসা করার অনেক রাস্তা আছে । আর বেকারের কলিজার টুকরা, অন্ধের যষ্ঠী ‘টিউশনি’ তো আছেই। ব্যবসা করো, টিউশনি করো। বিয়ের জন্য টাকা জমাও।  আমার সাথে দুইজন ছেলে পড়তো। ভার্সিটির চার বছরে তারা টিউশনি করে ব্যাংকে প্রায় লাখ পাঁচেক টাকা জমিয়েছিল।

ভাই দেখ, বাচ্চা পোলাপান বিয়ের উপযুক্ত নয়। এদের একমাত্র কাজ মায়ের আঁচল ধরে কোনো কিছুর জন্য জিদ ধরা। ‘আমি বিয়া করমু, আমার বউ আইনা দাও তোমরা’ বাসার লোকদের কাছে এই যদি হয় তোমার এপ্রোচ, তাহলে আমি বলব, তুমি বিয়ের চিন্তা মাথা থেকে দূর করে দাও। বাজার থেকে ফিডার কিনে এনে ফিডার খাও। বউ কি মেলায় কিনতে পাওয়া কোনো খেলনা, যে বাবা মার কাছে জিদ ধরবা আর তা তোমাকে এনে দিবেন? নিজের বউয়ের সব খরচ বাবার কাছ থেকে নিতে তোমার লজ্জা করা উচিত, তোমার পৌরুষে আঘাত লাগা উচিত।

আল্লাহ্‌র ওয়াদা যে কোনো যুবক যদি নিজের চরিত্র রক্ষার জন্য বিয়ে করতে চাই তাহলে তিনি তাঁকে অবশ্যই সাহায্য করবেন। তুমি টাকা রোযগারের আন্তরিক করো, চেষ্টা কর, দেখবে আল্লাহ কীভাবে তোমার রিযিকে বারাকাহ ঢেলে দেন , কীভাবে সবকিছু সহজ করে দেন। আল্লাহ্‌র ওয়াদা সত্য। কিন্তু তোমাকে তো চেষ্টা করতে হবে।

তুমি যদি বাসার মানুষদের সাথে এভাবে শুধু জিদ ধরে থাকো তাহলে ব্যাপক সম্ভাবনা আছে যে তুমি বিয়ে করতে পারবানা। তারা তোমার কথা তারা হেসে উড়িয়ে দিবে, তোমার সাথে রাগারাগি করবে, তোমাকে নিয়ে কৌতুক করবে। ভাববে  এটা বোধহয় পিচ্চি ছেলের নতুন কোনো শখের আবদার। কিছুদিন পরে আবার ভুলে যাবে।

যেই সমাজে চাকুরী বা ব্যবসা আছে এমন ছেলেদেরও বিয়ে করা কঠিন হয়ে গিয়েছে, কণ্যার বাপদের মন কিছুতেই গলছে না,  সেই সমাজে  তোমার মতো একজন বেকার,ছাত্রের হাতে কোন ভরসায় একজন বাবা তার মেয়েকে তুলে দিবেন? শুধু আবদার ধরলেই তো হবেনা,জিদ করলেই তো হবেনা, বাস্তবতাও বুঝতে হবে।

ধরো তুমি বিয়ের জন্য টাকা জমাতে লাগলে, টিউশনি, ব্যবসা শুরু করলে তাহলে কী হবে?

এক.  বিয়ের ফান্ডে টাকা জমবে। পরে এটি বেশ কাজে লাগবে। বিয়ের পর বউয়ের খরচ দিতে পারবে।

দুই. তোমার বাবা মা যখন দেখবে যে তুমি এভাবে কষ্ট করছো, সপ্তাহে দুইদিন রোযা রাখছো তখন তাঁরা বুঝতে পারবেন যে না তুমি আসলেই বিয়ে নিয়ে সিরিয়াস। তুমি বিয়ে করতে চাও, অন্তর থেকেই চাও। বাবা-মা, বড় ভাই-বোনদের কাছে তাদের সন্তান, তাদের ভাই কখনো বড় হয়না, সেই গোলগাল নাদুস নুদুস পিচ্চিই থাকে । তোমার এই টিউশনি করা,ব্যসসা করা দেখে তাদের ভুল ভাংবে। তুমি আর সেই পিচ্চিটি নও, তুমি বড় হয়েছো, ম্যাচিউরড হয়েছো সেটা তাঁরা উপলব্ধি করবেন। দেখবে, তারা তোমার বিয়ের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠবেন। সবাই না হলে এক দুইজন অন্ততপক্ষে হবেন। এতেই তোমার বিয়ের কাজ অনেকটাই এগিয়ে যাবে ইনশা আল্লাহ।

 

তিন. মেয়ের ফ্যামিলি কিছুটা হলেও তোমার ওপর ভরসা পাবেন। তাঁরাও বুঝতে পারবেন যে তুমি দায়িত্ব নেওয়া শিখেছো, তাদের মেয়ের দায়িত্ব তুমি নিতে পারবে। তোমার সঙ্গে বিয়ে দিলে তাদের মেয়ে অন্তত জলে ভেসে যাবেনা।

 

 

 

চলবে ইনশা আল্লাহ

 

আগের কিস্তিগুলো-

প্রথম কিস্তি

দ্বিতীয় কিস্তি

তৃতীয় কিস্তি

বিশেষ কৃতজ্ঞতাঃ Early Marriage Campaign ফেইসবুক গ্রুপ

 

শেয়ার করুনঃ
তুমি এক দূরতর দ্বীপ (তৃতীয় কিস্তি)

তুমি এক দূরতর দ্বীপ (তৃতীয় কিস্তি)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

ভাই, দেখ দুনিয়ার নারী,ধন সম্পদ, সন্তানসন্ততি এগুলো একধরণের ফিতনাহ। এগুলো দ্বারা দুনিয়াকে সুশোভিত করে রাখা হয়েছে।

‘জেনে রাখ! তোমাদের অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি পরীক্ষার বিষয় মাত্র। আল্লাহর কাছে এর চেয়েও মহান প্রতিদান আছে।’ (সূরা আনফাল : ২৮)

‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের প্রতিপত্তি, ধন-সম্পত্তি ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না রাখে। যদি তোমরা গাফেল বা উদাসীন হও তবে অবশ্যই তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (সূরা মুনাফিকুন : ৯)

কতো সৎ মানুষের পদস্খলন হলো নারীর ফিতনায়, দ্বীনের অর্ধেক পূরণ করার জন্য বিয়ে করল, তারপর দ্বীনের বাকি অর্ধেকও হারিয়ে ফেলল, এমন মানুষ সমাজে বহু আছে। আল্লাহ্‌র দ্বীন কায়েমের স্বপ্ন দেখতো যেই যুবকের দু’চোখ, সেই যুবক বউয়ের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে গিয়ে আর ওসব নিয়ে ভাবার সময়ই পায়না।  বিপ্লবের মৃত্যু ঘটে শুরুর আগেই।

বিয়ে মানে শুধু রোমান্টিসিজমই নয়। বিয়ের পরে তোমার ঘাড়ে অনেক দায়িত্ব, কর্তব্য আসবে। তুমি যদি বিয়েকে শুধু রোমান্টিসিজম ভেবে বসে থাকো তাহলে  বিয়ের পরে  খাপ খাওয়াতে ঝামেলা হবে। মধুমাসের পরে  তোমার মোহভঙ্গ হবে। কঠিন,কঠোর  বাস্তবতা আঘাত হানবে। আগে থেকে প্রস্তুতি না থাকলে হয়তো তুমি ভেঙ্গেই পড়বে। কেন যে বিয়ে করলাম, বিয়ের আগেই তো ভালো ছিলাম এই চিন্তাও চলে আসতে পারে মাথাতে।

ভাই দেখ, তোমার এই বয়সে আগুন জ্বলে ওঠে প্রত্যেক শিরা উপশিরায়,সেই উত্তাপে বদলে যায় তোমার দুনিয়া। বদলে যায় দেখার দু’চোখ। নারীকে শুধু আর রক্তমাংসের মানুষ বলে মনে হয়না,নারীর মানবীয় বৈশিষ্ট্যের কথা তুমি ভুলে যাও। নারীকে সৌন্দর্য আর  পরিপূর্ণতার এমন পোষাক তুমি পরিয়ে রাখো যার আড়ালে ঢাকা পড়ে নারীর সকল দোষত্রুটি। নারীর কোনো ভুল, কোনো সীমাবদ্ধতা ধরা পড়েনা।  মূর্তি পুজারীর মতো নারীকে বানিয়ে ফেলো কল্যাণের প্রতিমা। মনে প্রাণে পুজো করো তাকে। যেন শুধু নারীর স্পর্শেই তোমার মুক্তি। নারী যেন পরশ পাথর যার ছোঁয়াতে আপাদমস্তক নিজেকে পালটিয়ে নিবে তুমি। কিন্তু পরে যখন আবিষ্কার করো নারীরও সীমাবদ্ধতা আছে, দোষত্রুটি আছে, সেও রক্ত মাংসের একজন মানুষ তখন মোহভঙ্গ হয়। হতাশ হও।

তোমার এই অপরিপক্ক চিন্তাভাবনার পালে জোর হাওয়া লাগায় নাটক,সিনেমা, গান আর পর্ন । অন্তরে নিঃসঙ্গতার অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। তোমাকে রোমান্টিসিজমে ভাসিয়ে নেয়। আর যৌবনের উত্তাপ ছড়িয়ে দেয় শিরা উপাশিরায়, প্রতিটি লোহিত রক্তকণিকায়।

মুভি আইটেমসং পর্ন হস্তমৈথুন, গার্লফ্রেন্ড জাস্ট ফ্রেন্ড, ফ্রি মিক্সিং এগুলো থেকে শতভাগ দূরে থাকতে হবে। কঠোরভাবে চোখের হেফাযত করতে হবে। এগুলোই তো প্রধান কারণ যার কারণে তুমি অন্ধকার কানাগলিতে মাথা কুটে মরছো। যিনা,ব্যভিচার,বেহায়াপনা,লুচ্চামির হাতছানি উপেক্ষা করতে পারছনা।  বাবা মা, আত্মীয়স্বজন, একান্ত আপন মানুষগুলো তোমার প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। তুমি ঠাট্টা,তামাশার পাত্রে পরিণত হয়েছো। বিয়ে পাগলা সহ আরো অনেক উপাধি পেয়ে গিয়েছো।। ভাই এগুলো থেকে দূরে থাকো। দেখবে, তোমার অশান্ত হৃদয় অনেকটাই শান্ত হয়ে গিয়েছে। বিয়ের তীব্র প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে এসেছে। তুমি সবর করতে পারছো।  বালেগ হবার পরে তোমার যে শরীরের ক্ষুধা লাগবে সেটা বিয়ে ছাড়া  পুরোপুরি মিটবেনা, কিন্তু কিছুটা তো মিটবে। পুরো পেট না ভরুক, অর্ধেক পেট ভরবে। ক্ষিদের কথা, তীব্রতা কিছুটা ভুলে থাকতে পারবে। মুক্ত বাতাসের খোঁজে  বইটা ভালোমতো পড়ো। সে অনুসারে আমল করো। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও। আল্লাহ সহজ করে দিবেন।তাই বলে এটা না যে তুমি বিয়ে করতে দেরি করবে বা বিয়ে করার চেষ্টা থামিয়ে দেবে। বিয়ের চেষ্টা চলবে। পাশাপাশি এগুলোর দিকেও নজর দিবে।

মনে করো তুমি রোযা রেখেছো। ইফতারির অনেক দেরি। বারবার ফ্রিজ খুলে সুস্বাদু খাবার দেখতে থাকো, আম্মা রান্না করছে, সেখানে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকো, তাহলে তোমার ক্ষুধার তীব্রতা,কষ্ট বেড়ে যাবেনা? এখন এটা কী কোনো বুদ্ধিমানের কাজ হবে  রোযা রেখে সুস্বাদু খাবারের আশেপাশে ঘুরে বেড়ানো? তাদের ঘ্রাণ নেওয়া? বরং যতো বেশি খাবার থেকে দূরে থাকা যায়, যতো বেশি খাবারের কথা ভুলে থাকা যায় ততো ভালো। তোমার জন্য ইফতারি পর্যন্ত অপেক্ষা করা ততোবেশি সহজ হয়ে যাবে।

ভাই তাহলে চিন্তা করো, শরীরের ক্ষুধা নিয়ে( ক্ষুধা পূরণের হালাল উপায়ও নেই) কেন তুমি এমন কিছু করো  যা তোমাকে বারবার ক্ষুধার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? কেন তুমি মুভি আর নাটকে  ডুবে থাকো যা প্রতিনিয়ত  তোমার  শরীরের ক্ষুধা, তোমার নিঃসঙ্গতা বাড়িয়ে তোলে? কেন ইউটিউবে একটার পর একটা রোমান্টিক মিউজিক ভিডিও দেখে চলছো?  কেন তুমি জাস্টফ্রেন্ডদের সাথে একই রিকশায় ঘোরো, গায়ে হাত দিয়ে কথা বলো? কেন তুমি শপিংমল,রেস্তোরা, গার্লসস্কুল,কলেজ বা এমন জায়গাগুলোতে ঘোরাফেরা করো যেখানে  সুন্দরী, আকর্ষনীয়  মেয়েদের আনাগোনা? কেন রাস্তায় চোখ নামিয়ে চলোনা? কেন ফেসবুক ইন্সটাগ্রামে লাস্যময়ী,রুপবতী নারীদের ছবি জুম করে দেখ? ট্রল পেইজ বা গ্রুপগুলোতে ‘ফান’ করার নামে অশ্লীল, উত্তেজক কথাবার্তা বলো? রাত জেগে  খোল্লামখোল্লা মেয়েদের লাইভে একটিভ থাকো?

ভাই, তুমি তো রোযা রেখেছো, ইফতারির আগে তো খাবার খাবেনা, তাহলে কেন এভাবে নিজের ক্ষুধা বাড়িয়ে তুলছো? ক্ষুধা বাড়তে বাড়তে একসময় এমন অবস্থা হবে তুমি আর ক্ষুধার কষ্ট সহ্য করতে পারবেনা। হালালের পথ যেহেতু খোলা নেই, তুমি বেছে নিবে হারাম। পর্ন,হস্তমৈথুন, রুম ডেটিং,লিভ টুগেদার, ক্লাসরুমে,পার্কে,বাসে,চিপায় চাপায় বেহায়াপনা। আখিরাত তো নষ্ট হবেই, দুনিয়ার এই জীবনটাও বরবাদ হয়ে যাবে।কখনো  শান্তি পাবেনা। বুক জ্বলে যাবে ভাই, বুক জ্বলে যাবে।  অশান্তি আর অস্থিরতায়। তীব্র হতাশায়।

নারীর সাথে অন্তরংগতার ব্যাপারটিকে তোমরা  অপার্থিব সুখ আর শিহরণের প্যাকেজ ভেবে দিন রাত কল্পনা করো,  তা আসলে খুব সামান্য একটা ব্যাপার। মানুষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিন্তু স্বাভাবিক, সাধারণ একটা ব্যাপার। তোমরা যেরকম ভাবে একে কল্পনা করো, সেটি এর ধারে কাছেও নেই। ভাত খাওয়া, পানি খাওয়ার মতোই সাধারণ ব্যাপার এটি। সেরকম বিশেষত্ব কিছুই নেই।  অথচ এগুলো ভেবেই দিন রাত অস্থিরতা,অশান্তিতে ভোগো তুমি।

হারাম রিলেশন,লুচ্চামি ছেড়ে দাও। ফিরে আসো রবের পথে। যারা ফিরে এসেছে তারা বলেছে, যারা ফেরেনি তারাও বলেছে- ওপথে শান্তি নেই, সুখ নেই। প্রীতি নেই, ভালোবাসা নেই। ভালোবাসা ওপথে নয় , বরং ভালোবাসা তোমার রবের পথে, হ্যাঁ ভালোবাসা তোমার দ্বীনের পথে রয়েছে। চারপাশে ছড়ানো ছিটানো। অবশ্যই পড়- শান্তি পাবো কোথায় গিয়ে

তো যা বলছিলাম বিয়ে কিন্তু সকল সমস্যার সমাধান না। নারী কোনো ম্যাজিক জানেনা, যে চোখের পলকে তোমার জীবনের সকল সমস্যার সমাধান করে দিবে ম্যাজিলওয়ালারা যেমন টুপির ভেতর থেকে কবুতর বের  করে আনে। নারী তোমাকে হয়তো কিছুটা পাপ পঙ্কিলতা থেকে উদ্ধার করবে, কলুষতাময় নিশ্চিত পতন থেকে রক্ষা করবে, জীবনটাকে আরো একটু গুছিয়ে দিবে, কিন্তু সকল সমস্যার সমাধান করে দেবে না।বিয়ে সকল প্রশান্তির উৎসও না। এটা শতোভাগ সত্য যে আল্লাহ (সুবঃ) স্ত্রীদের মধ্যে চোখের শীতলতা রেখেছেন, স্ত্রীদেরকে প্রশান্তির উৎস বানিয়েছেন। কিন্তু  স্ত্রীরাই একমাত্র চোখের শীতলতার কারণ নয়, প্রশান্তি পাবার আশ্রয় স্থল নয়। তাই যদি হতো, তাহলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলতেন না , সালাতেই দান করা হয়েছে আমার চক্ষুর শীতলতা। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১২২৯৩; সুনানে নাসাঈ, হাদীস ৯৩৪০

অন্য হাদীসে বেলাল রা.-কে সম্বোধন করে বলেছেন,

সালাতের ব্যবস্থা করে আমাকে শান্তি দাও, হে বেলাল!। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৯৮৫

একটি বিষয় বোঝার চেষ্টা করি, যদি স্ত্রীই সর্বোচ্চ প্রশান্তির উৎস হতো, তাহলে সাহাবাগণ স্ত্রীর সাথেই বেশি সময় কাটাতেন। স্ত্রীর উষ্ম স্পর্শ ছেড়ে তাহাজ্জুতে দাঁড়াতেন না; স্ত্রীর মায়াবি আচলের বাধন খুলে দিনের বেলা  জিহাদের ময়দানে নামতেন না।
.

খালিদ বিন ওলীদ (রাঃ) বলতেন না, ‘আমি যেই নারীকে ভালবাসি তার সংগে আমার বিয়েও আমাকে ততটো আনন্দিত করবেনা, আমাকে যদি আমার ঔরসজাত কোন পুত্র সন্তান জন্মের সুসংবাদ দেওয়া হয় তাহলেও আমি ততোটা খুশি হবনা যতোটা খুশি আমি হব কোন এক হাড়কাঁপানো শীতের রাতে মুসলিম সৈন্যবাহিনীর সংগে কাফিরদেরকে আক্রমনের জন্য অপেক্ষা করা’

 

ভাই,আমরা তোমাকে বিয়ে করতে নিরুৎসাহিত করছিনা কোনোমতেই শুধু বাস্তবতাটা বোঝানোর চেষ্টা করছি। তুমি দেরি না করে অবশ্যই বিয়ে করে নিবে। বিয়ে তোমাকে অনেক পাপ পঙ্কিলতা থেকে রক্ষা করবে, অগোছালো জীবনটাকে গুছিয়ে দিবে, রিযিকে বারাকাহ দিবে, চোখ শীতল হবে। তবে তুমি এটা ভেবে বসে থেকোনা যে বিয়ের পর তোমরা রূপকথার রাজকন্যা রাজপুত্রদের   মতো ‘সুখে শান্তিতে চিরকাল বসবাস করিতে থাকবে’। কখনো আকাশে ঝড় উঠবেনা।

দাম্পত্য জীবন মানে এই সুখের তুফান তো, এই ঝগড়াঝাটি, মন কষাকষি । কখনো ঝকঝকে রোদ তো কখনো কালো মেঘ। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এবং তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে পর্যন্ত মনোমালিন্য হতো। এখন তুমি যে পরীক্ষা যে কষ্টগুলোর সম্মুখীন হচ্ছো বিয়ের পরে হয়তো এই কষ্টগুলো আর থাকবেনা, কিন্তু তুমি তখন হয়তো অন্য অনেক পরীক্ষার সম্মুখীন হবে, অন্য দিক থেকে কষ্টের মধ্যে পড়বে। কাজেই এই ব্যাপারগুলো তোমার মাথাতে যেন থাকে, তুমি এগুলোর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে থাকবে।

আবারো বলছি, আমাদেরকে ভুল বুঝোনা। জলদি বিয়ে করে নাও। একটুকু দেরি করোনা। কিন্তু এই ব্যাপারগুলোও মাথাতে রেখো।

চলবে ইনশা আল্লাহ…

আগের কিস্তিগুলো-

প্রথম কিস্তি

দ্বিতীয় কিস্তি 

বিশেষ কৃতজ্ঞতাঃ Early Marriage Campaign ফেইসবুক গ্রুপ

শেয়ার করুনঃ