ক্যামেরার পেছনে

ক্যামেরার পেছনে

দর্শকদের কাছে পর্ণোগ্রাফী সুখ ও রোমাঞ্ছের এক জগত বলে মনে হয়। কিন্তু যারা এটা তৈরি করে বা এতে পারফর্ম করে, তাদের অধিকাংশই মাদক সেবন, যৌন-রোগ, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও আদম পাচারের সাথে জড়িত।

নিজেদের মোহময় রূপ ধরে রাখতে পর্ন ইন্ডাস্ট্রি ব্যাপক পরিশ্রম করে। যদিও ক্যামেরার পিছনে রয়ে গেছে মাদক সেবন, আদম পাচারের পাশবিক বাস্তবতা।

কিছু পরিবর্তন, পরিমার্জনের মাধ্যমে পর্নমুভিকে এমন ভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন পর্দায় যা ঘটছে আ বেশ উপভোগ্য। কিন্তু আন-কাট ভার্সনের গল্প পুরোটাই বিপরীত। পর্ন পারফর্মারদেরকে তাদের এজেন্ট এবং পরিচালকরা নিয়মিত ভীতি প্রদর্শন করে। তাদেরকে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে এমন সব কাজ করতে বাধ্য করা হয় যা তারা করতে চায়না।

পর্ণোগ্রফাররা শুধুমাত্র অভিনেতাদের শারীরিক ও মানসিক কষ্টগুলোই কাট-ছাট করে না, বরং তারা এই সত্যটাকেই লুকায় যে, অধিকাংশ পারফর্মারদের পারফর্ম করতে বাধ্য করা হয় এবং তাদের আর কোন উপায়ই থাকে না।

প্রতারণার একটা অংশ এটাও যে, তারা চায় যেন সাধারণ মানুষ এই কথা মনে করে যে পর্ন একটা বৈধ বিনোদন যা গ্ল্যামারাস মানুষদের স্বেচ্ছায় তৈরি। দর্শকদের জন্য এটা খুবই প্রমোদ্ময় কারণ যারা এতে পারফর্ম করে তারা এটাকে বেশ উপভোগ করে। কিন্তু যে সত্যটা তারা লুকায় তা হলো, পারফর্মাররা এই জন্য হাসিমুখে উপভোগের অভিনয় করে যে ক্যামেরার পিছনে তার দিকে তাক করা আছে পিস্তল। লাস্যময় মুখটা গোমড়া হলেই হয়তো তা নিশানা ভেদ করবে।

আর একটা কুফল হলো আদম পাচার। যেহেতু এটা গোপন ব্যবসা তাই স্পষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া বেশ মুশকিল। কিন্তু যেসব ঘটনা আলোর মুখ দেখেছে তা সত্যই গা হিম করার মতো। যেমন, ২০১১ সালে মায়ামির দুইজন বাসিন্দার বিরূদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয় যে, তারা ৫ বছর যাবত মেয়েদেরকে পাচারের ফাঁদে ফেলার জন্য নানাভাবে প্রলুব্ধ করে। প্রথমে তারা মডেলিং এর প্রস্তাব দেয়। যখন তারা অডিশনের জন্য আসে তখন তাদেরকে নেশাগ্রস্ত করা হয়। এরপর অপহরণ অথবা ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের ভিডিও করে তা পর্ণোগ্রাফীর দোকানে বিক্রি কতা হয়। একই বছর, মিসৌরির এক দম্পতির বিরুদ্ধে এক মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে পর্ন অভিনয়ে বাধ্য করার অভিযোগ আনা হয়। তারা মেয়েটিকে মারধর করে, পানিতে চুবিয়ে, শ্বাসরোধ করে, আরো নির্যাতন করতে থাকে যতক্ষন না সে রাজি হয়। তাদের তোলা একটি ছবি একটি পর্ন ম্যাগাজিন এর প্রচ্ছদে স্থান পায়।

এ ঘটনা দুটো তো শুধু প্রারম্ভিকা, এরকম শত ঘটনা পর্দার আড়ালেই রয়ে গেছে। যার একটি হয়ত প্রকাশ পায়, কিন্তু শত মেয়ে নীরবে এর শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এছাড়াও অনেককে পতিতাবৃত্তির শিকার হতে হয়।। বর্তমানে পর্ণের প্রসারে পতিতাবৃত্তি আর  যৌনব্যবসাকে খুব স্বাভাবিক মনে করা হয়। পর্ন পারফর্মারদের যৌন ব্যবসায় যোগদানে অবাক হবার কিছু নেই। বরং, এ দুটো যেন একই গাছের ফল। যে সকল লোক পর্ণে আসক্ত তারা অন্যদের দ্বিগুনেরও অধিকবার পতিতালয়ে যায়। অনেক সময় খদ্দেরকে আকৃষ্ট করতে ঐসব মেয়েদের নগ্ন ছবি দেখানো হয়, যা থেকে সে বাছাই করে। এইসব মেয়েদের অধিকাংশই পাচারের শিকার যারা তাদের দালাল কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত এবং তার ইচ্ছনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘের সাবেক একজন প্রতিনিধি ড। জেনিস বলেন,“দালাল ও পাচারকারীরা তাদের শিকার যৈন্দাস রূপে ব্যবহারের জন্য পর্ণোগ্রাফীকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। অশ্লীল সব ভিডিও দেখে মেয়েরা নিজেদের নিয়তিকে বুঝে যায় এবং তা মেনে নিতে বাধ্য হয়।”

এক জরিপে[১] নয়টি দেশের ৮৫৪ জন পতিতার শতকরা ৪৯ ভাগ স্বীকার করেছে যে তাদের কাজের সময় পতিতাবৃত্তির সময় তা ভিডিও করে পর্ন মুভি বানানো হয়েছে। শতকরা ৪৭ ভাগ বলেছে যে, তাদের পুরুষ সঙ্গীরা তাদেরকে ঐসব কাজ করতে বাধ্য করেছে যা তা পর্ন মুভিতে দেখে। এতে বেশ কজন আহত হওয়ার কথাও স্বীকার করে।

অবশেষে বলতে হয়, পর্ন যৌন ব্যবসার জ্বালানি যোগান দেয়। পর্ন আর পতিতাবৃত্তি দুইটিই যৌন ব্যবসা নামক বিষবৃক্ষের দু’টি ফল।

রেফারেন্সঃ

[১]Farley, Melissa, Ann Cotton, Jacqueline Lynne, Sybill Zumbeck, Frida Spiwak, Maria E. Reyes, Dinorah Alvarez, and Ufuk Sezgin. “Prostitutuion and Trafficking in Nine Countries: An Update on Violence and Posttraumatic Stress Disorder.” Journal of Trauma 2, iss. 3 & 4 (2003), 44.http://www.prostitutionresearch.com/pdf/Prostitutionin9Countries.pdf (accessed April 26, 2014).

শেয়ার করুনঃ
পর্দার ওপাশে

পর্দার ওপাশে

পর্নমুভি তার গ্ল্যামার আর চাকচিক্যের চোখ ধাঁধানিতে  সেই অনেক যুগ আগে থেকেই বলে চলেছে এক মিথ্যা গল্প । এই মিথ্যা গল্প নারী আর যৌনতা সম্পর্কে । পর্নমুভি গুলোতে নারীদেরকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন তারা ব্যাপারটা করতে খুব খুব উদগ্রীব এবং তারা ব্যাপারটা খুব উপভোগ করছে । কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে পর্নমুভির অভিনেতা অভিনেত্রীরা কেউই ব্যাপারটা একদমই উপভোগ করেন না ।কেবলমাত্র  ঠেকায় পড়ে  তারা এই কাজ গুলো করতে বাধ্য হন । তাদেরকে বিশেষ করে নারীদের চরমভাবে নির্যাতন করা হয় ।

পর্নইন্ডাস্ট্রির মুনাফার অঙ্কটা বেশ স্বাস্থ্যবান । তাই ডিরেক্টর এবং প্রডিউসাররাও এই অমানবিক কাজ করতে দ্বিধা বোধ করে না । আপনার কাছে পর্নমুভি তো একেবারেই সহজলভ্য তাই না ? কেবল মাউসের  দুটো ক্লিকের ব্যাপার ।  তারপরেই পর্নমুভির অবিরত ভান্ডার  এবং আপনার বিকৃত লালসা চরিতার্থ করার সূচনা । কিন্তু  নীল স্ক্রিনের গ্ল্যামার দেখে ‘টাস্কি’ খাওয়া আপনি কখনো কি জানতে চেয়েছেন  স্ক্রিনের ওইপাশের গল্পগুলো ? এক একটা ছবি, এক একটা ভিডিওতে  আবদ্ধ রয়েছে আপনারই কোন এক বোনের কোন এক ভাইয়ের হৃদয়ের করুণ হাহাকার ।পর্নমুভির হতভাগ্য অভিনেতা অভিনেত্রীদের  কংক্রিটের চার দেয়ালের মাঝে বন্দী যতসব আর্তনাদ আর  দুঃস্বপ্নের অভিজ্ঞতা গুলোর সবটুকু আমরা হয়তো বুঝতে পারব না । কিন্তু তারপরেও চেষ্টা করতে দোষ কি । এখানে এমন কিছু পর্ন অভিনেতা অভিনেত্রীদের অভিজ্ঞতার  বর্ণনা করা হল যারা সেই নরকে ক্ষতবিক্ষত হলেও সেখান  থেকে কোনমতে বেঁচে ফিরতে পেরেছেন ।

“ পর্নইন্ডাস্ট্রি  এর  সঙ্গে জড়িত লোকদের অনুভূতি একেবারেই ভোঁতা করে দেয় । এর সঙ্গে জড়িত লোকজন তাদের পারিবারিক এবং সামাজিক জীবনে    অনুভূতিহীন জড় পদার্থের মত আচরণ করে, প্রেতাত্মার মত হেঁটে বেড়ায় ।  পর্নইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের যেভাবে এবিউজ করা হয় তা অকল্পনীয় ।  এখানে নারীদের উপর  যেভাবে নির্যাতন করা হয় তা  মানসিক ভাবে সুস্থ কোন লোকের পক্ষে কখনোই করা সম্ভব না । আমি অল্প কিছু সময় পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছিলাম । কিন্তু এই অল্পসময়ে আমি যে ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গেছি তা ভাবলে এখনো আমি শিউরে উঠি”।

.

“ সত্যি কথা বলতে আমি আমার জীবনকে ঘৃণা করি । আমি নিজেকেও প্রচুর প্রচুর ঘৃণা করি । আমি বেঁচে থাকতে চাইনা । আমি বেশ কয়েকবার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছি”।

.

“পর্নইন্ডাস্ট্রিতে যাবার ৯ মাসের মধ্যে আমি সেখান থেকে বের হয়ে এসেছি । কিন্তু এর জন্য আমাকে খুব চড়া মূল্য দিতে হয়েছে । আমি ডিস্প্লাসিয়া (এক প্রকারের  std= sexual transmitted disease) এ আক্রান্ত  হই । এবং কিছুদিন পরে আমি গর্ভবতী হয়ে পড়ি । এব্রোশান করা ছাড়া আমার কোন উপায়ই ছিল না । এটা আমাকে শারীরিক এবং মানসিক ভাবে প্রচন্ড আঘাত করে। আমাকে তিলে তিলে শেষ করে দিয়েছে ।

‘আর সব পর্নঅভিনেত্রীদের মতোই আমি এই মিথ্যাটা সবসময় বলি। আমাকে যখন মানুষজন  প্রশ্ন করে, ঐ পর্নমুভির ঐ হার্ডকোর সীনটা করার সময় আপনার কেমন লেগেছিল । আমি হাসি হাসি মুখ করে বলি , “আমার ভাল না লাগলে কি আমি ঐ সীনটা করতাম? আমার ভালো না লাগলে আমি কোন কাজই করি না, পর্নইন্ডাস্ট্রিতে আমার কাজের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে’।

এভাবেই দিনের পর দিন আমাকে মিথ্যা বলে যেতে হয়। আসল সত্যটা হচ্ছে আমি কখনোই চাইনা এইসব দৃশ্যে অভিনয় করতে । কিন্তু  ঐসব হার্ডকোর দৃশ্যে অভিনয় না করলে আমি কখনোই এই ইন্ডাস্ট্রিতে কোন কাজ পাব না’।

‘১০৪ ডিগ্রী জ্বর নিয়েও আমাকে ঘন্টার পর ঘন্টা শুটিং করতে হয়েছে । আমি কাঁদছিলাম । খুব করে চাইছিলাম বাসায় চলে যেতে । কিন্তু আমার এজেন্ট  চাচ্ছিলনা আমি  শুটিং শেষ না করেই বাসায় চলে যাব । অগ্যতা আমাকে প্রচন্ড শরীর খারাপ নিয়েই কাজ করতে হয়েছিল ।

আর একদিন পরিচালককে খুশি করার জন্য চুক্তি ছিল না এমন একজন লোকের সঙ্গে আমাকে অভিনয় করতে হয়েছিল । সেই লোকটা ছিল একটা পাষণ্ড । আমাকে মেঝেতে  ফেলে লাথি মারছিল । আমি মেঝের  এদিক সেদিক ছিটকে যাচ্ছিলাম । পরিচালক একপর্যায়ে শুটিং বন্ধ করে আসল পেমেন্টের চেয়ে কিছু কম টাকা দিয়ে আমাকে বাসায় পাঠিয়ে দিল । কারণ তারা যা চাচ্ছিল , আমি  সেটা করতে একেবারেই রাজি ছিলাম না’।

আমরা অনেকেই ভুল ধারণা করে বসে থাকি পর্নঅভিনেতাদের কাজ বোধহয় পৃথিবীর সবচেয়ে মজার কাজ। তারা মজা পাচ্ছে আবার টাকাও পাচ্ছে!

পর্নঅভিনেতাদের অভিনয় করার জন্যে প্রচুর পরিমাণ যৌন শক্তিবর্ধক ওষুধ সেবন করতে হয় পরিণতিতে ভুগতে হয়  বিভিন্ন রকমের জটিল অসুখ-বিসুখে।

অবসাদ,হতাশা,গ্লানি তো রয়েছেই। মারাত্মক রকমের মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন তারা। পর্নমুভিতে অভিনয় করে যে টাকা উপার্জন করেন তার বেশিরভাগই চলে যায় মাদকের পেছনে।। নারীর প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ রূপে বদলে যায়। কোন নারীকেই তারা ভালবাসতে পারেননা, ভুলে যান ভালোবাসা কী।

নারী ছাড়া কীভাবে একজন পুরুষ সম্পূর্ণ হতে পারে? সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত নারীর কাছে পুরুষেরা ঋণী। নারীর জলে স্নান করেই তো পুরুষ হয়েছে বিশুদ্ধ,সভ্য,পবিত্র। জীবনের বন্ধুর পথে নারী বন্ধু হয়ে হাত ধরে রেখেছিল বলেই না পুরুষ পেয়েছে জীবনের বন্ধুর পথে চলার সাহস।

পর্নঅভিনেতারা কোন নারীর সঙ্গেই ভালোবাসার সম্পর্কে জড়াতে পারেননা,  জীবনের কী করুণ পরিণতি! পৌরষত্বের কী নিদারুণ অপমান!

এর পরেও কি আপনি মাউসে দুটো ক্লিক করে উঁকি মারবেন  সেই নিষ্ঠুর নীল  দুনিয়ায় ?

রেফারেন্সঃ

[১] https://goo.gl/jXCdFt

[২] https://goo.gl/GS8hbM

[৩]https://goo.gl/33HJcn

[৪] https://goo.gl/dYnBuJ

শেয়ার করুনঃ
আমি কীভাবে পর্নোগ্রাফিতে আসলাম, কেন ছাড়লাম এবং কেন সবাই এটা পরিহার করবে- By Jessica Mendes

আমি কীভাবে পর্নোগ্রাফিতে আসলাম, কেন ছাড়লাম এবং কেন সবাই এটা পরিহার করবে- By Jessica Mendes

আমি আমার ১৮তম জন্মদিনের পরদিন পর্নোগ্রাফিতে জড়িয়ে পড়ি। এখানে আমি ঘটনাটি বর্ণনা করছি…

আমার বয়স ১৮ হবার এক সপ্তাহ আগে আমি Craigslist নামক ওয়েবসাইটে চাকরির খোঁজ করছিলাম। সেখানে আমি “মডেলিং করে মাসে ২০০০০-৩০০০০ ডলার আয় করুন” শিরোনামে একটি বিজ্ঞাপন দেখতে পেলাম। সেই বিজ্ঞাপনে পর্নোগ্রাফি বা ভিডিও সম্পর্কে কিছু লেখা ছিল না, তারা শুধু তাদেরকে একটি ছবি মেইল করে পাঠাতে বলেছিল। আমি একসময় তাদেরকে আমার একটি ছবি পাঠাই। তারা তৎক্ষণাৎ আমার সাথে যোগাযোগ করে এবং আমি কখন তাদের সাথে দেখা করব তা জানতে চায়। তারা তখন আমাকে বলেছিল যে, তারা ‘প্লেবয়’ ম্যাগাজিনের মডেলদের মত মডেলিং করার জন্য মেয়ে খুঁজছে।

পরে আমি নিজেই তাদের সাথে কথা বলার জন্য তাদের অফিসে গেলাম। আমি সেখানে কর্মরত একজন মহিলার সাথে প্রায় চার ঘণ্টা কথা বললাম এবং সবশেষে তিনি আমাকে জানালেন যে, তিনি মূলত পর্নোগ্রাফি তৈরির জন্য মেয়েদেরকে নিয়োগ দেন। তারপর তিনি আমাকে একটা কাগজে আমি কোন কোন ক্যাটাগরিতে কাজ করার জন্য তৈরি আছি তা চিহ্নিত করতে বললেন।

সত্যিকথা বলতে, মেয়েরা অল্প সময়ে বেশি অর্থ উপার্জনের জন্য এ পেশায় আসে, বিশেষ করে হাইস্কুল/কলেজ পাশ করা মেয়েরা। পর্নোগ্রাফির ভিডিও দেখে সেসব মেয়েদের পর্ন সম্পর্কে একটা অস্পষ্ট ধারণা থাকে, কিন্তু বাস্তবে পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে মেয়েদেরকে কি করতে হয় সে সম্পর্কে তাদের কোন ধারণাই থাকে না, যতক্ষণ না তারা পর্ন ইন্ডাস্ট্রির গভীরে প্রবেশ করে।

আমার সাথে যা হয়েছিল তা বলতে গেলে আমি এখনো বিব্রত বোধ করি। আমার নিজেকে খুব ছোট মনে হয়, কারণ পর্ন ইন্ডাস্ট্রির লোকদের সব কথাই আমি সরল মনে বিশ্বাস করেছিলাম। আমি অর্থের প্রতি এতই আসক্ত ছিলাম যে, তাদের সব মিথ্যা কথাগুলোই বিশ্বাস করেছিলাম।

আমার বয়স এখন ২০ এবং আমার বয়স ১৯ হওয়ার কিছুদিন পরে আমি পর্ন ইন্ডাস্ট্রি ত্যাগ করি। সুতরাং, আমি অনেকদিন ধরে এসব করছি না। যাইহোক, আমার অনেকদিন সময় লেগেছে তাদের মিথ্যা কথাগুলো বুঝতে এবং এখন আমি পর্ন ইন্ডাস্ট্রির প্রকৃত চেহারা চিনতে পেরেছি। আমার এই জিনিসটি বুঝতে অনেক কষ্ট হয়েছিল যে, পর্নোগ্রাফি মানে নারীর ক্ষমতায়ন/স্বাধীনতা নয় এবং এটি মেয়েদের জন্য নিরাপদও নয়। ঐ ইন্ডাস্ট্রিতে থাকতে আমি যখনই আমার মানসিকতা পরিবর্তন করতে চেয়েছি, তখনি ইন্ডাস্ট্রির লোকদের কথায় সে পরিকল্পনা বাদ দিয়ে দিয়েছি।

ইন্ডাস্ট্রিতে থাকতে প্রথম দিকে আমার খুব খারাপ কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছিল। কিছু দৃশ্য আমার জন্য এতই পাশবিক ছিলো যে আমি কাঁদতে বাধ্য হয়েছিলাম। কিন্তু পরে অন্যান্য মেয়েদের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম যে, এরকম দৃশ্যে কান্নাকাটি করা পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। তাই আমি পর্নোগ্রাফি ত্যাগ করলাম না।

এমনকি আমার ১০ বারেরও বেশি জরুরি চিকিৎসা নিতে হয়েছিলো বিভিন্ন রকম শারীরিক, যৌন ও জীবাণুঘটিত অসুস্থতার জন্য। তারপরও আমি পর্নোগ্রাফি ত্যাগ করিনি, কারণ এসব পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে খুব স্বাভাবিক ঘটনা। আমি Chlamydia, Gonorrhea বা অন্যান্য STD(Sexually Transmitted Disease) তে আক্রান্ত অনেক মেয়েদের দেখেছি এবং এসব দুরারোগ্য ও ছোঁয়াচে রোগকে তারা খুব স্বাভাবিক রোগ মনে করে।

সবশেষে যে জিনিসটি আমাকে পর্নোগ্রাফি ত্যাগ করতে বাধ্য করল তা হচ্ছে, পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে কর্মরত লোকজনদের ক্যামেরার বাইরের জীবন সম্পর্কে জানা –তাদের জীবনটা আগে কেমন ছিল, তারা তাদের এই কাজকে এবং তাদের নিজেকে কি পরিমাণ ঘৃণা করে, এসব সম্পর্কে জানা। আমি বুঝতে পারলাম যে, আমি তাদের মত জীবন চাইনা।

যে সময়টাতে আমি চিন্তা করছিলাম যে, পর্নোগ্রাফি ছাড়ব কি ছাড়ব না, ঠিক তখনি ইন্ডাস্ট্রির একজন পুরনো কর্মীর দেহে Syphilis রোগের জীবাণু পাওয়া গেলো। এর ফলে খুব সহজেই আমি পর্নোগ্রাফি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। এবং আমি যদি ঠিক তখনি ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে আসতাম তাহলে আমার জীবনে হয়ত আর কোন গুরুতর ঘটনা ঘটতো না।

অনেকে প্রশ্ন করতে পারে যে, একজন পর্ন অভিনেত্রীর দেহে রোগের জীবাণু কেন থাকবে? তাদের কি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় না? যদিও আমি অনেকগুলো ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে পর্নোগ্রাফি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তবুও আমি সবগুলো ক্ষতিকর দিক একসাথে পর্যবেক্ষণ করার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।

দু-একজন ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পর্ন অভিনেত্রীদের দেহে রোগের জীবাণু বা অন্যান্য যৌনঘটিত রোগের পরীক্ষা করা হয় না। এমনকি আমার মত কোন পর্ন অভিনেত্রী অসুস্থ বা আহত হলে, চিকিৎসার জন্য তাদের নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করতে হয়। পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে দু-একটি কোম্পানি ছাড়া অধিকাংশ কোম্পানিগুলোই তাদের কর্মীদের যৌন নিরাপত্তার জন্য তেমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। তাই পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে কর্মীরা অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হয়।

আমি আরো বুঝতে পারলাম যে, আমাকে ব্যবহার করে কোম্পানিগুলো যে পরিমাণ অর্থ আয় করছে তার তুলনায় আমার বেতন ২০০০০-৩০০০০ ডলার কিছুই না। প্রকৃতপক্ষে, কর্মীদেরকে যে পরিমাণ অর্থ দেয়া হয় সেটা কোম্পানির আয়ের তুলনায় খুবই নগণ্য। পর্ন অভিনেত্রীরা কখনো খুব জনপ্রিয় বা কালজয়ী হয়ে উঠতে পারে না যাতে করে তাদের ভিডিও গুলো থেকে কোম্পানিগুলো বহুবছর পর্যন্ত আয় করতে পারবে। তাই পর্ন অভিনেত্রীদেরকে এককালীন অর্থ দেয়া হয়।

আমি আরো উল্লেখ করতে চাই যে, প্রথমদিকে আমার একটা ভুল ধারণা ছিল যে পর্নোগ্রাফিই হচ্ছে কলেজ ডিগ্রি ছাড়া চাকরি পাওয়ার একমাত্র উপায়। আমি অল্পবেতনের ছোটখাটো কোন কাজ না করে বেশি অর্থ উপার্জন করতে চাইছিলাম এবং একই সাথে কলেজে পড়ালেখাও চালিয়ে যেতে চাইছিলাম। কিন্তু, অধিকাংশ মেয়েদের মত আমার পক্ষে সবকিছুর খরচ জোগানো সম্ভব ছিলো না। আমার বিশ্বাস ছিল যে, পর্নোগ্রাফিই আমার জন্য অর্থ উপার্জনের একমাত্র উপায় যাতে আমি আমার সব প্রয়োজন ও চাহিদা মেটাতে পারি।

পর্নোগ্রাফি ছাড়ার পরপরই আমি আবার লেখাপড়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলাম। পাশাপাশি বিভিন্ন কাজে দক্ষতা অর্জন করতে থাকলাম। আমি নানান ধরনের মানুষের সাথে দেখা করে বুঝতে পারলাম যে, আমি এবং আমার বন্ধুরা মিলে এমন কিছু কাজ করতে পারি যাতে করে আমার প্রয়োজন ও চাহিদা মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ আয় করতে পারি –যেমন Stocks, Internet Marketing, Video Game Live Streaming, Managing Businesses ইত্যাদি। এরকম আরো অনেক কাজ করা যায়।

যেসব ছাত্রছাত্রীদের মা-বাবা পড়াশুনার খরচ দিতে পারে না তারা এ ধরনের কাজ করে নিজেদের খরচ চালায়। তারা পড়ালেখার পাশাপাশি হাতখরচের জন্য বিভিন্ন ধরনের কাজ খুঁজে বের করে। এবং সে কাজগুলো পর্নোগ্রাফির মত নিজেদের ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর নয়।

পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে কর্মরত ব্যক্তিরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়। এটি এমন একটি জায়গা যেখানে আপনি কখনোই সফলতা পাবেন না। সুতরাং, আপনি যদি স্বাভাবিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত থাকেন, তাহলে কেন পর্নোগ্রাফিতে জড়িয়ে জন্য আপনার স্বাস্থ্য, আপনার ভবিষ্যৎ, সবার সাথে সুসম্পর্ক, আত্মসম্মান, খ্যাতি এবং সর্বোপরি আপনার ব্যক্তিত্ব কে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন?

২০১৩ সালে পাঁচ জন যৌনকর্মী HIV তে আক্রান্ত হওয়ায় একটি পর্ন ইন্ডাস্ট্রিকে তিন বার বন্ধ করে দেয়া হয়। এ ধরনের ঘটনা কি সবার জন্য বড় একটি সতর্কীকরণ নয়? আমার কাছে এটা অনেক হতাশাজনক মনে হয় যে, এখনো কিছু মানুষ এসব ইন্ডাস্ট্রিতে যোগ দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করে। আমি যখন পর্নোগ্রাফিতে আসার সিদ্ধান্ত নেই তখন এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটলে আমি অবশ্যই পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে আসতাম না। আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবতী মনে করি, কারণ এ ধরনের কোন রোগ সংক্রমণের আগেই আমি পর্ন ইন্ডাস্ট্রি ত্যাগ করেছি।

বাস্তবতা হচ্ছে, পর্নোগ্রাফি করে খুব জনপ্রিয় হওয়া বা ভাল কিছু অর্জন করা সম্ভব না। বর্তমানে আমি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সুখী এবং স্বাভাবিক জীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করি। আমি সবাইকে পর্নোগ্রাফির ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে বলে যাবো, কারণ আমি মনে করি, কেউ যদি আগে থেকে আমাকে পর্নোগ্রাফির খারাপ দিকগুলো সম্পর্কে ভালভাবে বলতো, তাহলে আমি হয়ত পর্নোগ্রাফিতে জড়িয়ে পড়তাম না।

আমি যদি একজন মানুষকেও পর্নোগ্রাফির ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারি, তাহলে আমার প্রচেষ্টা সার্থক হবে!

(অনূদিত)

(ফিতনার ভয়ে রেফারেন্স দেওয়া হলোনা)

শেয়ার করুনঃ
নরক

নরক

পর্ণের দুনিয়াটাকে অনেক আকর্ষণীয় মনে হয় তাই না? কিন্তু ভিতরের কাহিনী কিন্তু একদম উল্টো। বিকৃত রুচির মানুষের চাহিদা মেটাতে গিয়ে কত মেয়েকে যে নির্মম অত্যাচারের শিকার হতে হয় আর কত মেয়ের চাপা কান্না যে বাতাসে হারিয়ে যায় সে খবর কি আমাদের কানে আসে? এই আর্টিকেলটাতে কিছু পরিসংখ্যান আর তথ্যের সাহায্যে পর্ণ অভিনেতা আর অভিনেত্রীদের ভয়াবহ জীবন তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

“ছেলেরা আপনার মুখে ঘুষি মারতে থাকবে, বলতে গেলে আপনাকে ছিড়ে ফেলবে।আপনার মনে হবে আপনার প্রাণ বেরিয়ে আসছে আর এটা থেমে থাকে না।আপনাকে এখানে একটা ভোগ্য বস্তু হিসেবে দেখানো হবে, মানুষ হিসেবে নয়।মানুষ যখন সমাজে নিজের স্থান খুজে পায় না তখনি সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে”। – সাবেক পর্ণ অভিনেত্রী

পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির একটি সেকেণ্ডারি নেচিবাচক প্রভাব হল  চুড়ান্ত পর্যায়ে   মাদকাসক্তি। একজন পর্ণ অভিনেত্রীর  স্বীকারোক্তি “আমরা যেসব মাদক ব্যবহার করি তা হল এক্সটেসি,কোকেইন,মারিজুয়ানা(গাজা),জানাক্স,ভালিউম,ভিসোডিন আর এলকোহল”

২০১২ সালে ১৭৭ জন পর্ণ অভিনেত্রীদের উপরে করা একটা জরিপে দেখা গেছে   জীবনে একবার হলেও ৭৯%  পর্ণ অভিনেত্রী  marijuana  ব্যবহার করেছেন , hallucinogens  ব্যবহার করেছেন ৩৯% , ecstasy  ব্যবহার করেছেন ৫০% , cocaine  ব্যবহার করেছেন ৪৪% , methamphetamine ব্যবহার করেছেন ২৭% , tranquilizers ব্যবহার করেছেন ২৬% , heroine ১০% ।

জানুয়ারি ২৮,২০০৮ এ এক পুরুষ পর্ণঅভিনেতা তার ব্লগে লিখেনঃ

“মাদক আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে খুব বড় একটি সমস্যা।কেউ যদি আপনাকে অন্য কিছু বলে তবে সে মিথ্যা বলছে।শুধু এই মাদকের জন্য অগণিত মেয়ে নিজেদের বেচে থাকার ইচ্ছা উদ্যম সব হারিয়ে ফেলেছে ।এটা চিন্তা করলেই  আমি খুবই কষ্ট পাই আর তাদের এই অধঃপতন খুবই বেদনাদায়ক,অন্তত আমার কাছে।এটা মানতেই হবে যে, বেশিরভাগ মাদকাসক্ত প্রফেশনাল সহায়তা ছাড়া তাদের অভিশপ্ত জীবন থেকে বের হয়ে আসতে পারেন না।আমি শুটিং সেট থেকে শুরু করে পার্টি এমনকি গাড়িতেও ড্রাগের যথেচ্ছ ব্যবহার দেখেছি।আনুমানিক ৯০%

জনবল(পারফরমার,ড্রাইভার,এজেন্ট,মালিক ইত্যাদি) মারিজুয়ানা(গাজা) তে আসক্ত।সম্প্রতি স্টেজে আমার সাথে কর্মরত মেয়েটি আচমকা অজ্ঞান হয়ে যায়(সে অক্সিকোন্টিনে আসক্ত ছিল)।আরেকটি মেয়ে GHB ওভারডোজ হয়ে সেটেই লুটিয়ে পড়ে(GHB-পার্টি ড্রাগ যেটা এলকোহলের সাথে সহজে মিশে না)।প্রেস্টিজিয়াস  পুরস্কার পেয়েও ইতিহাস আছে এমন মেয়েদের যারা এতই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিল যে তারা সেটা আনতে যেতে পারে নি।কারণ তারা প্রায় ৫০ পাউন্ড ওজন হারিয়ে নিজের চেহারা গঠন সব ধুলোয় মিশিয়ে ফেলে।প্রশ্ন হল এখানে মাদক এত সহজলভ্য কেন??প্রথমত এখানে মুলত ১৮-২১ বছরের মেয়েরা কাজ করে যাদের অনেকেই অশিক্ষিত নয়তো অল্প শিক্ষিত।অনেকেই আসে যারা বলতে গেলে কপর্দকশূন্য অথবা পিজার দোকানে সস্তা কাজ করে।

এখানে এসে তারা মাসে ১০ হাজার ডলার আয় করে যার বিনিময়ে মাসে তাএর ৫ ঘন্টা করে ১০-১২ দিন কাজ করতে হয়।মাদকের দালালরা হাঙরের মত তাদের শিকার করে।এই মেয়েদের হাতে থাকে অবসর সময় আর প্রচুর কাঁচা টাকা।দুইয়ে দুইয়ে চার মিলে মাদক ব্যবসায়ীদের বাজিমাত।

২০১২ সালে ১৭৭ জন পর্ণ অভিনেত্রীদের উপরে করা একটা জরিপে দেখা গেছে   জীবনে একবার হলেও ৭৯%  পর্ণ অভিনেত্রী  marijuana  ব্যবহার করেছেন , hallucinogens  ব্যবহার করেছেন ৩৯% , ecstasy  ব্যবহার করেছেন ৫০% , cocaine  ব্যবহার করেছেন ৪৪% , methamphetamine ব্যবহার করেছেন ২৭% , tranquilizers ব্যবহার করেছেন ২৬% , heroine ১০% ।

মাদকের ছড়াছড়ির সাথে সাথে নির্যাতনের বিষয়টিও ব্যাপক

আকারে ছড়িয়ে পড়েছে ইন্ডাস্ট্রিতে।একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে

১০০% স্ট্রিপার শারীরিক নির্যাতন অথবা গালাগালির শিকার হন।

৯১% রিপোর্টে দেখা গেছে কাস্টমাররা মৌখিক ভাবে তাদের

অপদস্ত করে, সাথে সাথে প্রায় সবাই শারীরিক নির্যাতনের সম্মুখীন হয়।

স্ট্রিপারদের গায়ে হাত দেয়া নিষিদ্ধ হলেও রিপোর্টে দেখা যায়

কাস্টমাররা তাদের হাতে(৮৮%), স্তনে(৭১%),পশ্চাৎদেশে(৯১%)

স্পর্শ করে।আক্রমণের ঘটনাও কম নয়।চুল টানা

(২৭%),চিমটি(৫৪%),চড় মারা(৫৮%) এমনকি কামড়ে

দেয়ার(৩৬%) মত ঘটনাও ঘটে।এই আক্রমণগুলো স্ট্রিপক্লাবের ভিতর বডিগার্ড আর স্টাফদের সামনেই ঘটে।

ইদানিং পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি জোর দিচ্ছে চড় থাপ্পড়, অমানবিক নির্যাতন আর থুথু ছিটানো রাফ আর পেইনফুল সেক্সের প্রতি। একটা সিনে পুরুষ অভিনেতা অভিনেত্রী কে ধরে টয়লেটের কমোডে মুখ ঢুকিয়ে চেপে ধরে। এই ইন্ডাস্ট্রিতে এটাই নাকি ক্লাইম্যাক্স। ৮৮% ভাগ ফিল্ম শারীরিক ও মানসিক ভয়াবহ নির্যাতনে ভরপুর।

আমাদের জানামতে ২০০৩ থেকে ২০১৪ সনের মধ্যেই সান ফেরনান্দ ভ্যালি , ক্যালিফোর্নিয়াতে অবস্থিত পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির প্রায় ১৫০০ যৌন কর্মীর ২২৮ জনই মৃত্যুবরণ করেছে এইডস , আত্মহত্যা , মাদক সেবনের মাধ্যমে । এদের অনেকেই হয়েছে হত্যার শিকার আবার অনেকে বরণ করেছে অকাল মৃত্যু । পৃথিবীর কোন ইন্ডাস্ট্রি , এমনকি মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি যা কিনা পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির চেয়েও ১০ গুণ বড় – এমন পরিসংখ্যান নেই । যেখানে একজন আমেরিকানের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ৭৮.৬ বছর সেখানে একজন যৌনকর্মীর প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ৩৬.২ বছর ।

পর্ণ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গুলোর খুব  গা ঘিনঘিনে  বিষয় হল যৌন রোগ  । লস অ্যাঞ্জেলস এর সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ২০-২৪ বছর বয়সীদের তুলনায় যৌনকর্মীদের ক্লামিডিয়া ও গনেরিয়া সংক্রমণ সম্ভবনা ১০ গুণ বেশি । তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে এই রোগগুলো সংক্রমণ সম্ভবনা যৌনকর্মীদের মাঝে কল্পনাতীত ভাবে বেশি । ডাক্তার শেরন মিশেল – সাবেক পর্ণ অভিনেত্রী ও AIM (Adult Industry Medical Healthcare Foundation) এর  ফাউন্ডারের সঙ্গে  এক সাক্ষাতকারে যৌন রোগের প্রাদুর্ভাবের কথা নিশ্চিত করেছেন । তিনি আরও উল্লেখ করেছেন “৬৬% যৌনকর্মী হারপিস এ ভোগেন , ১২-২৮% এর রয়েছে যৌন রোগ , ৭% এর রয়েছে HIV” ।

কোন যৌন রোগ আছে কিনা তার পরীক্ষা পর্ণ শিল্প আইনের আওতাভুক্ত নয় । কর্মীদের তাদের নিজ খরচে পরীক্ষা করাতে হয় । পর্ণ সেট এ একাধিক যৌন সঙ্গীর সাথে মেলামেশার দরুন পরীক্ষালব্ধ ফলাফল হয় অনিশ্চিত – যার ফলে পর্ণ শিল্পে যৌন রোগের প্রাদুর্ভাব আগ্রাসী ভূমিকা পালন করছে । পর্ণ স্টারদের অনেক কিছু বলার আছে পর্ণ ভোক্তাদের কাছে এই যৌনরোগগুলোর ব্যাপারে ।.

তো বুঝলেন তো , ল্যাপটপে বা মোবাইলের স্ক্রীনের এইপাশে বসে পর্ণমুভির জগতটাকে  যতই আকর্ষণীয় দেখাক না কেন , পর্দার ওপাশে  লুকিয়ে আছে কতটা   বর্বরতা  আর  নিষ্ঠুরতা ?

এখানে স্বাভাবিকভাবেই একটা প্রশ্ন এসে  যায় , পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা যদি  সত্যিই এতটা খারাপ হয় , সেখানে যদি নারীদেরকে এভাবেই নির্যাতন করা হয়  তা হলে পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি  বন্ধ করে দেওয়া হয়না কেন ? পর্ণ ওয়েবসাইটগুলো তো ব্লক করে দিলেই কেল্লাফতে । আর মানবাধিকার রক্ষায় সদা জাগ্রত , নারী স্বাধীনতার অগ্রদূত   আমেরিকা, ফ্রান্স এরা চুপ করে কেন ? সুশীল সমাজ , মুক্তমনারা কেন এগুলোর বিরুদ্ধে তেমন কোন কথা বলে না ?

–      কারণ  টাকা । জী টাকা ।

আপনাকে  পর্ণ মুভির বাজার সম্পর্কে একটা হালকা পাতলা ধারণা দিলেই ইনশা আল্লাহ্‌ বুঝতে পারবেন ব্যাপারটা ।

“Online pornography is the first consistently successful e-commerce product.”

–      Donna Rice Hughes  ( ceo of enough is enough,  working for ensuring  the internet safety of children and families)

পৃথিবীতে আনুমানিক ৪২ লক্ষ পর্ণ ওয়েবসাইট আছে যা মোট ওয়েবসাইটের ১২% । পৃথিবীর প্রায় ৭২ লক্ষ মানুষ এই ওয়েবসাইটগুলোর মাসিক পরিদর্শক । প্রত্যেক দিনের অনুসন্ধান আবেদনের (search request) চার ভাগের এক ভাগই থাকে পর্ণ বিষয়াবলীর উপর – যার পরিমাণ দাড়াই ৬৮ লক্ষ । যেখানে প্রায় ৪০ লক্ষ আমেরিকানই পর্ণ ওয়েবসাইটের নিয়মিত পরিদর্শক । U.S.A প্রাপ্তবয়স্ক চলচিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ১ বছরে প্রায় ৪০০০-১১০০০ চলচিত্র নির্মাণ করে – এবং এর মাধ্যমে আয় করে আনুমানিক ৯-১৩ লক্ষ কোটি মোটা অঙ্কের টাকা ।

২০০৬ সালে sex-related entertainment business’ থেকে শুধুমাত্র আমেরিকার ১৩ বিলিয়ন ডলার কামিয়েছে ।

-Fishbein, president of the Adult Video News Media network

এমনকি  পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি হলিউডের চেয়েও বেশী লাভজনক ।  প্রতিবছর গড়ে  ১৩০০০ পর্ণ মুভি তৈরি করা হয়  অন্যদিকে প্রতিবছর হলিউডে মাত্র ৫০৭ টি মুভি তৈরি করা হয় । পর্ণ মুভি থেকে মুনাফা আসে ১৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি আর হলিউডের মুভিগুলো থেকে  ৮.৮ বিলিয়ন ডলার । (Bridges and Wosnitzer, 2007).

এখানে আর একটা ব্যাপারও মাথায় রাখা জরুরী । পর্ণ মুভি তৈরি করার সময় খুব মোটা অংকের বাজেটের প্রয়োজন পড়ে না , কিন্তু হলিউডের মুভি গুলোর বাজেট হয় খুব বড়  অংকের । তারমানে পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি খুব অল্প টাকা বিনিয়োগ করে গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশ বড়সড় টাকা হাতিয়ে নেয়

পর্ণ মুভির ব্যবসা নিয়ে কথা বলতে গেলে ঘুরে ফিরেই  আমেরিকার নাম আসবে ।  আমেরিকা হল সে দেশ পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির খনি । এখানেই সবচেয়ে বেশী পর্ণ মুভি  তৈরি করা হয় ।   এই আমেরিকার  Californiaতে  বিশ্বের ৮৫% এডাল্ট কন্টেন্ট তৈরি হয়।বেশিরভাগ নারী প্রতিভা(!) এজেন্সি এই এলাকার আশে পাশেই অবস্থিত আর অনেক নারী মডেল এখানে আসেন পর্ণ ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে।পুরুষ মডেলদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা, এমনকি ছোট বড় সব পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি এই “California” তেই  অবস্থান করছে।পৃথিবীতে যতগুলো পর্ণ ওয়েবসাইট আছে তার শতকরা ৮৯ ভাগের মালিক আমেরিকানরা ।

তাহলে এবার বলুনতো দাদাবাবু , আমেরিকার কি দরকার পড়ছে পর্ণমুভির ইন্ডাস্ট্রী গুলো বন্ধ করে দেওয়া ?  অল্প পুঁজিতে পর্ণমুভি বানিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতানো বাদ দিয়ে  সে কেন  পর্ণ ইন্ডাস্ট্রী বন্ধ করবে ? সোনার ডিম পাড়া হাঁসকে  বোকা ছাড়া আর কে  জবাই করতে চায়, বলুন?

তাইলে,  পর্ণ ইন্ডাস্ট্রীতে ড্রাগসের ব্যবহার, নারী নির্যাতন  …… … আরো কি কি জানি ?

আমেরিকার মত উদার গনতান্ত্রিক দেশ , নারী স্বাধীণতায় বিশ্বাসী দেশ এগুলো মেনে নিবে ?

আরে ভাই সহজ ব্যাপারটা বোঝেন না কেন ,  টাকার  আর তেলের গন্ধ পেলে পশ্চিমা দেশগুলোর হুশ থাকেনা ।   আর নারী  নির্যাতন ? তাদের ভাষায় তো  শুধু  মুসলিমরাই নারী  নির্যাতন  করে- তারা নারীদেরকে পর্দার আড়ালে আবদ্ধ করে রাখে , তাদেরকে ঘরে বন্দী  করে রাখে , সম্পত্তিতে সমানধিকার দেয় না ব্লা ব্লা ব্লা ……… ।

 

বোঝা গেছে  আমেরিকা কি চীজ ?

#হিপোক্রিট

শেয়ার করুনঃ