নীড়ে ফেরার গল্প (সপ্তম কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (সপ্তম কিস্তি)

আসসালামু আলাইকুম

অন্ধকারকে আলো ভেবে জড়িয়ে ধরা ছেলেটার গল্প এটি। মরীচিকাকে সে ছুঁতে চাইতো, মিথ্যাকে আপন ভেবে গায়ে মাখাতো, বুকের মধ্যে পুষে রাখতো অভিশপ্ত এক জঞ্জালকে।
.
ছোটবেলা থেকেই আমাদের ‘ছেলেটা’ ভালো স্টুডেন্ট ছিলো। একেবারে, মায়ের চোখের মনি, বলতে গেলে সবার চোখের মনি, মায়ের ক্ষেত্রে একটু বেশীই ; কারণ মায়েরা মমতাময়ী। সারা পৃথিবীর সমস্ত মমতা এনাদের থেকেই আসে। মায়ের চোখের আড়াল হতো না সে। চাইলেও মা হতে দিতো না। সন্ধ্যায় যখন সে বন্ধুদের সাথে খেলার পরে মাগরিবের নামাজ পড়তে যেতো এবং ফিরতে একটু দেরী হতো, বোরকা চাপিয়ে বেরিয়ে পড়তো মা, সাথে থাকতো একবুক হতাশা আর ছেলে হারানোর ভয়।

আমাদের ‘ছেলেটা’ একটু বড় হলো, স্কুলে ভর্তি হলো। কী কান্নাটা-ই-না কেঁদেছিলো সেদিন। ছেলেটার কান্না গিয়ে ধাক্কা দেয় একজন স্যারের বুকে। ছেলেটাকে কোলে তুলে নিলেন সোফার বালিশের মতো। হাতে গুঁজে দিলেন কিছু টাকা। আল্লাহ স্যারটাকে ভালো রাখুক সবসময়। দুবছর পড়ার পর ছেলেটা এলো নতুন স্কুলে। নতুন মানুষ। নতুন পরিবেশ। ছেলেটা পরিচিত হয় ‘বন্ধুত্ব’ শব্দটার সাথে। কিছু বন্ধু তৈরী হয় তার। কত্ত সুন্দর জীবন যাচ্ছিলো তার….

আগেই বলেছিলাম, আমাদের ‘ছেলেটা’ ভালো স্টুডেন্ট ছিলো। ক্লাস ফাইভে পরীক্ষা দিয়ে সে আল্লাহ সুবহানাহু তা’লার অশেষ রহমতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়। সবাই মাথায় নিয়ে নাচতে থাকলো আমাদের গল্পের নায়ককে। এত্ত খুশী, এত্ত আনন্দ রাখার জায়গা তো মা-বাবা খুঁজে পাচ্ছে না।

হাইস্কুলে পা রাখলো আমাদের ‘ছেলেটা’। নতুন নতুন গোঁফ গজানো শুরু হলো। বুক উঁচিয়ে চলার প্রবণতা বাড়লো। দুনিয়াটাকে নিজের মতো বানাতে শুরু করলো আমাদের গল্পের হিরো। বিপরীত লিঙ্গের প্রতি জন্মালো আকর্ষণ। নেতিবাচক জিনিস জানার আকাঙ্ক্ষা তাকে অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে নিয়েছে তার আট পায়ে। ছোটোবেলা থেকেই টিভিতে বাংলা ছবি দেখতো সে। একটা সময় বুঝে উঠে সে, জীবনকে আরো সুন্দর করতে হলে দরকার একজন বিপরীত লিঙ্গের মানুষ। সে ডুবে থাকতে লাগলো অবাস্তব সব কল্পনায় – এদিকে মা-বাবা একের পর এক লড়ে যাচ্ছে তার সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার উদ্যমে।

হাইস্কুলের বন্ধুগুলোকে বড্ড স্মার্ট মনে হতো আমাদের ‘ছেলেটার’। কত্ত আধুনিক ওরা। কথায় কথায় গালি আওড়াতে পারে। হিন্দী গান বুঝে – আবার গাইতেও পারে। ছেলেটা তাদের সান্নিধ্যে আসলো। লুফে নিলো সেই আকাঙ্ক্ষিত (!) গালি গুলো। এখন সেও গালি দিতে পারে। জীবনের উপর যে সাদা-কালোর পরতটা ছিলো, সেটা সরে যাচ্ছিলো দিনদিন। আহা, কত্ত সুন্দর এই পৃথিবী। কিছু বন্ধুকে খুব ভালো লাগতো তার। তারা মাঝেমাঝে ওকে ধরে নামাজে নিয়ে যেতো। সবাই মিলে মানুষকে বিরক্ত করতো। হোটেলে গিয়ে বিল চাপিয়ে দিতো একে অন্যের ঘাঁড়ে।
.
একদিন বাসার ছাদে আমাদের ‘ছেলেটা’ আবিষ্কার করে বসে এক নতুন জিনিস। অভিশপ্ত এক জিনিস। যেটা নষ্ট করে একজন মানুষকে, একটা পরিবারকে, একটা জাতিকে। পর্নোগ্রাফি। মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে পড়ে থাকা উলঙ্গ শরীরটাকে দেখে বড্ড আনন্দ হতো ছেলেটার। একে একে পরিচিত হলো চটিগল্প আর মাস্টারবেশনের সাথে। একটু একটু করে পাওয়া এই সাময়িক সুখ বাড়াচ্ছিলো হতাশা, গ্লানি আর পরনির্ভরতা।
.
কম্বাইন্ড ক্লাস ছিলো আমাদের ‘ছেলেটার’ স্কুলে। একপাশে ছেলেরা বসতো, একপাশে মেয়েরা। কোনো একদিন সৌভাগ্যবশত (নাকি দূর্ভাগ্যবশত?) দেখা পায় একটি মেয়ের। তাদেরই ক্লাসের। ক্লাসের ফাঁকে লুকিয়ে লুকিয়ে ছেলেটা মাঝেমাঝে দেখতো মেয়েটা’কে। ছেলেটা এ কথা কাউকে জানালো না। নিজের মধ্যে চাপিয়ে রাখলো। মেয়েটাকে স্যাররা কখনো বকাঝকা করলে বা মারলে, আড়ালে স্যারকে গালি দিতো আমাদের হিরো। গালি দেয়া তার অভ্যেসে পরিণত হলো।
.
কিছুদিন ছেলেটা, মেয়েটাকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতে দেখতেই পার করে দিলো। ছেলেটার ফেসবুক একাউন্টে একদিন সন্ধ্যা বেলায় ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসে ক্লাসের সেই মেয়েটির। সমস্ত শরীরটা অবশের মতো হয়ে উঠলো। আমাদের ‘ছেলেটা’ হুট করে বলেই দিলো – আই লাভ ইউ। মেয়েটা অসম্মতিসূচক কিছু বলেনি। একরাতে লজ্জা ভেঙে মেয়েটাকে ফোন দিয়ে বসে ছেলেটা। দু-তিনবার চেষ্টার পরে দুজনেই সম্মলিতভাবেই কথা বলতে সক্ষম হয়। এরপর প্রত্যেকদিন রাতেই ছেলেটা কথা বলতো মেয়েটার সাথে। দুজনে ম্যাচিং ড্রেস পরে ক্লাসে আসতো। একদিন মেয়েটাও বেঞ্চের নিচ দিয়ে ছেলেটার হাত ধরে বসে। ছেলেটা নিজেকে সামলে নিয়েছিলো কোনোমতে।
.
ছেলেটার জেএসসি পরীক্ষা সামনে। মা-বাবার ঘুম হচ্ছে না টেনশনে। কোনো একটা কারনে ছেলেটার মনে হয়, মেয়েদের পর্দা করা ফরজ। কিন্তু তার প্রিয়তমা পর্দা করে না। পর্দা করা নিয়ে ঝগড়া করেই জেএসসি পরীক্ষার সময় আমাদের ‘ছেলেটা’ তার এই জীবনের(অবান্তর) ইতি টানলো। জেএসসি শেষ করলো। রেজাল্ট দিলো। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের রহমতে সে আবারো ভালো রেজাল্ট করেছে। কিন্তু, বন্ধুদের দেখাদেখি করে। কিছুদিন পর সে ভুলে গেলো বিপরীত লিঙ্গের সেই মানুষটাকে।
.
এরই মাঝে ডুবে গেলো অন্য এক জগতে। সেখানে আছে গান, মিউজিক, মুভি। একে একে সে পরিচিত হলো মিউজিকের বিভিন্ন জনরার সাথে। রক, মেটাল, হেভি মেটাল, ব্ল্যাক মেটাল, ডেথ মেটাল, থ্র‍্যাশ মেটাল…. এখন আর সে তার নতুন প্রিয়তমার হাত ধরতে লজ্জা পায় না।
.
ছেলেটার বন্ধুত্বের খাতায় যোগ হয় কিছু নতুন বন্ধু। কোনো একসময় সে আবারো পরিচিত হয় নতুন এক মেয়ের সাথে। কিন্তু বন্ধু হিসেবে। মেয়েটার পাশে যতক্ষন সে থাকতো, তার হার্টবিট বাড়তো শুধু। সে চাইতো মেয়েটা তার হাত ধরুক। সারাক্ষন তার সাথে কথা বলুক। কিন্তু, সে এই সম্পর্কটাকে (নাকি বেহায়াপনা?) নাম দিয়েছে ফ্রেন্ডশীপ। দুজনে প্রাইভেট পড়তো একসাথে। স্যারের অনুপস্থিতিতে স্যারের রুমের সে জড়িয়ে যায় এক অভিশাপের সাথে, এক পাপাচারের সাথে। যিনা। রুমের লাইট অফ করে দিয়েছিলো সে। মেয়েটার চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারে না সে। পাশের রুম থেকে আসা মৃদু আলোতে সে মেয়েটাকে বুকে জড়িয়ে ধরার অনুমতি পেয়েছিলো। আল্লাহ সুবহানাহু তা’লা তাকে এই যিনার গুনাহ থেকে মাফ করুন। সুযোগ পেলেই সে মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরতো, চুমু খেত। জীবনের অর্থ বদলে গেছে। মরীচিকাটা’কে সে সত্যি ভাবতে শুরু করলো।
.

ততদিনে তার ঈমান খুব ভালো ভাবেই দূর্বল হয়ে পড়ে। সারাদিন মিউজিক নিয়ে থাকতো, রাত জেগে মুভি দেখতো। কতো ফজর যে ঘুমিয়ে কাঁটিয়েছে, তার হিসেব নেই। নামাজ পড়ে মজা পাওয়া যেত না। তেমন কেন বিধিনিষেধ না থাকলে, শুক্রবারেও মসজিদে যেত না আমাদের হিরো’টা। বহুবার সে ‘প্যান্ট নাপাক’ বলে ফিরে এসেছে মসজিদের সামনে থেকে। তার বন্ধুরা নামাজ পড়তো, ইচ্ছে করেই সে দাঁড়িয়ে থাকতো মসজিদের বাইরে। মনে মনে গাইতো দেশী বিদেশী বিভিন্ন নামকরা ব্যান্ডের গান। একসময় তার মধ্যে চলে আসে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি। মা-বাবার সাথে রাগারাখি করা নিত্যদিনের রুটিন। মাঝেমাঝে সিদ্ধান্ত নেয়, মেয়েটাকে ছেড়ে যাবার। মেয়েটা একবার জড়িয়ে ধরলেই সে ভুলে যেতো পুরোনো সব সিদ্ধান্তগুলোর। সেই পুরোনো বাড়িটার দোতলায় ছেলেটাকে সেদিন প্রথম চুমু দিয়েছিলো মেয়েটা। সেই দৃশ্য কেউ না দেখলেও, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দেখেছিলেন। আল্লাহ তাদের মাফ করুক।

.

ছেলেটা এসএসসি দিলো, দেখাদেখি করার অভ্যেসটা এবারো তাকে এনে দিলো ভালো রেজাল্ট। এলাকায় ভালো কলেজ না থাকায় পাড়ি দিলো ঢাকায়। সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলো মা-বাবার স্বপ্ন। আবারো ডুবে যেতে লাগলো  মিউজিক, মুভি, পর্নোগ্রাফি এবং মাস্টারবেশনে। রাতদিন হতাশ থাকতো। দিন দিন আত্মবিশ্বাস কমে যাচ্ছিলো। বাড়ি থেকে মা-বাবা ফোন করলে অসহ্য মনে হতো। সারাদিন কাটাতো শুয়ে বসেই।

.

একদিন আমাদের ‘ছেলেটা’ তার আরেক বন্ধুকে নিয়ে যায় নীলক্ষেতে। উদ্দেশ্য ‘বই কেনা’। নীলক্ষেত থেকে একটু দূরেই বাটা সিগন্যাল থেকে সামান্য হাঁটলেই অন্য বন্ধুর বাসা। ভুত চাপলো সেদিনের রাতটা তাদের বাসায় থাকায়। প্রচুর আড্ডা দেয়া যাবে, গান বাজনা হবে, পঁচানো হবে একে অন্যকে। বাসায় এসেই কতক্ষন আড্ডা দিলো তারা। আড্ডার এক পর্যায়ে তার এক বন্ধু তাকে ‘পর্নোগ্রাফি’র খারাপ দিক নিয়ে একটি ভিডিও দেখায়। খুব মনযোগ সহকারে ভিডিওটি দেখে সে। তার মস্তিষ্কের ডোপামিনগুলো ক্রমশ ছোটাছুটি করছিলো। কিছু একটা তাকে তাড়া দিচ্ছিলো। তার কেন যেন মনে হচ্ছিলো, সব মিথ্যে ছিলো তার অতীত। সে নিজেকে নিচু ভাবতে শুরু করলো।

পরদিন দুপুরে সে নিজের বাসায় ফিরে আসে। কিন্তু, গতরাতের চিন্তাটা তার মাথায় গেঁথে আছে। সে ঘাঁটাঘাঁটি করে সন্ধান পায় একটি বইয়ের। নাম ‘মুক্ত বাতাসের খোঁজে’। পর্নোগ্রাফির ভয়াবহতা জানার পর সে শিউরে উঠে। সে বুঝে উঠে যে, এটাই সেই মুক্ত বাতাস, যেটা সে এতদিন খুঁজার চেষ্টা করতো বিপরীত লিঙ্গের মানুষটির বুকে, গালে, ঠোঁটে।

সেই রাতটা সে পুরোটা কাটিয়ে দিয়েছিলো ইউটিউবে ইসলাম নিয়ে ঘাটাঘাটি করে। ‘জাহান্নামের ভয়াবহতা’ নিয়ে একটা বয়ান শুনে তার লোম দাঁড়িয়ে যায়। সিদ্ধান্ত নেয় নিজেকে পালটে ফেলার। আর কোনো পর্ন না। যে গানগুলো ছাড়া সে তার জীবনকে অর্থহীন মনে করতো, এক ক্লিকেই ডিলিট করে দিলো সব । অনেক হাল্কা অনুভব করলো। নামাজ পড়া শুরু করলো। অনেকদিন পর হাতে নিলো কুরআন শরীফ। কম্বল ছেড়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে ওযূ করে আদায় করে নিল জীবনের প্রথম তাহাজ্জুদ নামাজ। অহংকারকে দমিয়ে রেখে শুরু করলো টাকনুর উপরে প্যান্ট পরা। দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা ছেড়ে দিয়েছে এখন সে। মা-বাবার সাথে ডেইলি কথা না বললে কেমন যেন খালি খালি মনে হয় তার। আস্তে আস্তে সে জামায়াতে নামাজ পড়া শুরু করলো। এখন তার জীবনে কোনো ডিপ্রেশন নেই। আত্মবিশ্বাস উপচে পড়ছে তার। এভাবেই চলতে থাকুক আমাদের ‘ছেলেটা’র জীবন।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এভাবেই আলোর পথে ফিরিয়ে আনুক আমাদের সবগুলো ‘ছেলে’কে।

চলবে ইনশা আল্লাহ…

নীড়ে ফেরার গল্প (প্রথম কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (দ্বিতীয় কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (তৃতীয় কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (চতুর্থ কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (পঞ্চম কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (ষষ্ঠ কিস্তি)

মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইয়ের লিংক-

 

শেয়ার করুনঃ
নীড়ে ফেরার গল্প (ষষ্ঠ কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (ষষ্ঠ কিস্তি)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

এগারো

আমি আদনান।

গ্রামের সহজ, সরল ছেলে।ছোট থেকে আমার অভ্যাস ছিল বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা ও ছোটা -ছোটি করা।স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরে বই গুলো টেবিলে রেখে সোজা মাঠে।এই ভাবে সময় গুলো অতিক্রম করছিলাম। তখনও আমি পর্নোগ্রাফি সম্পর্কে একে বারে অজ্ঞ।একদিন আমারা কিছু ফ্রেন্ডরা মিলে প্রথম পর্নোগ্রাফি দেখি।দেখার পর আমার মাঝে ভাল লাগার একটি অনুভুতি তৈরী হয়।সেই থেকে পর্নোগ্রাফি মধ্যে জড়িয়ে পড়ি।

আমার একটা চায়না মোবাইল ছিল। সেই মোবাইলে অনেক পর্ন লোড করি এবং দেখা শুরু করি।এরপর যা হবার তাই হল।আমি যখন পর্নোগ্রাফি দেখি তখন নিজেকে কন্ট্রোল করার জন্য হস্তমৈথুন করতাম। প্রথম বারের অনুভুতিটা ছিল খুবই আনন্দদায়ক। এর ফাঁকে কীভাবে যে হস্তমৈথুনে জড়িয়ে পড়লাম টেরও পেলামনা।

নিজেকে আবিষ্কার করলাম অন্ধকারের আস্তঁকুড়ে।সব সময় জীবন নিয়ে খুব হতাশার মধ্য থাকতাম। মনে হতো আমাকে দিয়ে কিছু হবেনা।আগে অনেক কাজ করতে পারতাম। কিন্তু এখন একটু কাজ করলেই হাঁফিয়ে উঠি। চোখে কিছুটা কম দেখি। সারা দিন ঘরের কোণায়  বসে থাকি।

একদিন আমার এক ফ্রেন্ড আমাকে কিছু লেকচার দেয়েছিল শোনার জন্য। নাম পরকালের পথে যাত্রা (https://www.raindropsmedia.org/porokal/ )। লেকচার শোনার পর  নিজেকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে চিনতে পারলাম। আল্লাহ সুবহনাহু তা’আলা কেন আমাকে সৃষ্টি করেছেন,আমার শেষ গন্তব্য কোথায়… । অবশেষে আল্লাহ সুবহনাহু তা’আলার অসীম অনুগ্রহে আমি হিদায়েতের আলো পাই । আমি এখন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি । দাঁড়িও রেখেছি আলহামদুলিল্লাহ!

ইসলামে বিধি বিধানের উপর চলার চেষ্টা করি।আগে গান, মুভি ও খেলা দেখতাম। আস্তে আস্তে সব কিছু ছেড়ে দিই।এখন ইসলাম নিয়ে জানতে ও পড়তে ভালবাসি।আলহামদুলিল্লাহ আমি অনেক দিন যাবত পর্নোগ্রাফির এই নীল জগৎ ছেড়ে মুক্ত বাতাসের শ্বাস নিচ্ছি।

আল্লাহ (সুবঃ) বলেন: ‘বলুন, হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়োওনা। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন।তিনি ক্ষমাশীল,পরম দয়ালু” (সূরা আয- জুমার-৫৩)

.

 

কী ছিল না এই ধ্বংসের জগৎটাতে। এর কিছু ভয়াবহ ক্ষতি নিচে তুলে ধরলাম।
.

১) পর্নোগ্রাফি আপনাকে ভালবাসার বিকৃতি শেখায়।
২) পর্নোগ্রাফি আপনার মানবিক অনুভুতি নষ্ট করে ফেলে।
৩) পর্নোগ্রাফি আপনার স্বরণ শক্তি কমায়,আপনার মধ্যে ডিপ্রেশন তৈরি করে।
৪) পর্নোগ্রাফি আপনাকে অক্ষম করে দিতে পারে
৫) আপনি যখন পর্নোগ্রাফি দেখেন আপনি পতিতা তৈরি করেন।
৬) সব কিছু আপনার আমলনামায় লিপি বদ্ধ হচ্ছে।

.

পর্নোগ্রাফি আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়ঃ-
.

১) ডিজিটাল মিড়িয়ার কোন মেয়ের দিকে তাকাবেন না।
২) দৃষ্টি নামিয়ে চলাফেরা করার চেষ্টা করুন।
৩) খারাপ ফ্রেন্ডসার্কেল থেকে দূরে থাকুন।
৪) একাকী না থেকে দ্বীনী ভাইদের সাথে সময় কাটান।
৫) কিছুতেই নামাজ ছাড়বেনা।
৬) মাঝে সাঝে নফল রোজা রাখুন।
৭) আল্লাহর কাছে নিয়মিত দোয়া করুন।

শেষ কথা:

‘হে ভাই আমার মনে রাখবেন – আপনি যত পাপ করতে পারেন, আল্লাহ্ তার চেয়েও বেশি ক্ষমা করতে পারেন , কিন্তু শর্ত হলো আপনাকে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হোন – আর কোনোদিন পর্ন দেখবেন না। যদি শয়তানের ফাঁদে পড়ে কখনো দেখে ফেলেন তো সাথে সাথে গোসল করে দুই রাকআত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে তাওবাহ করে নিন, দেরি করবেন না। তারপর দ্বিগুন দৃঢ়তা নিয়ে আবার প্রতিজ্ঞা করুন – আর কোনদিন পর্ন দেখবেন না, আপনি আর শয়তানের দাস হবেন না, শয়তান বরং আপনার দাস হবে। কিছুতেই হাল ছাড়বেন না, কিছুতেই না, শয়তান তার শয়তানীতে হাল ছাড়েনি, আপনিও আপনার ঈমানদারীতে হাল ছাড়বেন না। শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোই সফলতা নয়, গন্তব্যে পৌঁছানোর যাত্রাটাও সফলতা।

রাসূলুল্লাহ(সাঃ) বলেছেন,”কেউ যদি আমাকে দুটো জিনিসের নিশ্চয়তা দেয়,তাহলে আমি তাকে জান্নাতের নিশ্চয়তা দিচ্ছি। সে দুটো জিনিস হলো জিহ্বা এবং দুই রানের মাঝখানের লজ্জাস্থান” ( বুখারিঃ ৬১০৯)

আল্লাহ (সুবঃ) বলেন, ‘(জান্নাত প্রস্তুত রাখা হয়েছে তাদের জন্য) যারা কোনও অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা নিজেদের প্রতি যুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।
আল্লাহ্‌ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবে’? (সূরা আলে-ইমরান ৩:১৩৫)

.

চলবে ইনশা আল্লাহ…

         

                                                   

নীড়ে ফেরার গল্প (প্রথম কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (দ্বিতীয় কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (তৃতীয় কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (চতুর্থ কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (পঞ্চম কিস্তি)

মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইয়ের লিংক-

 

 

শেয়ার করুনঃ
নীড়ে ফেরার গল্প (পঞ্চম কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (পঞ্চম কিস্তি)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

নয়.

বয়স আমার ২৬

তখন ক্লাশ সেভেনে পড়ি৷ একদিন এক বন্ধু তার বাসায় আমন্ত্রণ করলো কি এক জিনিস দেখাবে সেইটার জন্য। আমি যখন বাসায় ঢুকলাম দেখলাম বাসায় ওর বাবা-মা কেউ নেই৷ কাজের মেয়েটাও নাই। আর  সোফাসেটে আমার পরিচিত কয়েকটি মুখ বসা (বন্ধু-বান্ধব)

সেই সময় মোবাইল বা ইন্টারনেট এতো বেশি এভেইলেবেল ছিলো না। যেই কারণে কোনো সময় নষ্ট না করে ওই বন্ধুটিই তার ডিভিডিতে ছেড়ে দিলো পর্ন। হাসির ব্যাপার হচ্ছে জীবনের প্রথম দেখেছিলাম ওইদিন পর্ন। আর তারপরেই এক হতাশাজনক কান্ড ঘটালো আমার সামনেই। সবাই উলঙ্গ হয়ে মাস্টারবেশনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ৷ আমার কাছে ব্যাপারটা ভালো না লাগায় আমি চলে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু ওরা আমাকে চলে যেতে দেয়নি ৷ আমাকেও বলেছিলো তাদের সাথে মাষ্টারবেট করতে৷ এই রকম পরিস্থিতিতে আমার জায়গায় আপনি হলে কী করতেন?

এক্সাক্টলি আমিও তাই করেছি। মিথ্যা একটা ঢং করেছি সবার সামনে যে হ্যাঁ আমিও করছি। কারণ, আমার লজ্জা লাগছিলো । আমি আমার উপরে বালিশ রেখে দিয়েছিলাম। বুদ্ধিটাও তাদেরই ছিলো। আমি কিন্তু তখন কিছুই করিনি৷ আমি যখন সেই জায়গা থেকে চলে আসি তখন কেনো যেনো সেদিন রাতে ঘুম আসছিলো না। চোখ বন্ধ করলেই সেই পর্ন ভেসে উঠছিলো চোখের সামনে৷

তারপরের তিনদিন আমি ওদের মতো প্র্যাক্টিস করা শুরু করি৷ আশ্চর্য্য হলেও সত্যি আমার প্রথম বীর্যপাত হয়েছিলো তিনদিন পর। কারণ, যখনই লাস্ট টাইম চলে আসছিলো আমার মনে হতো প্রসাব আসছে আর তাই বন্ধ করে দিতাম। তো এভাবেই তিনদিন লেগেছিলো শুধু এইটুকু বুঝতে।

তারপর থেকেই শুরু চলছে চলছে চলছেই…….

সব এলোমেলো হয়ে যেতে লাগলো। ক্লাসের সবচেয়ে ব্রিলিয়ান্ট বয় কীভাবে লাস্ট বয় হয়ে গেলাম টেরই পেলাম না৷ পড়াশোনা করতে ইচ্ছে করতোনা। সারাদিন একা একা থাকতে ইচ্ছে হতো। আমার কাছে মনে হতো এই জীবন থেকে মরে যাওয়া অনেক ভালো। চেষ্টাও করেছিলাম। কিন্তু মরতে পারিনি।

তারপর থেকে নেশায় ডুবে থাকতাম সব সময়। মদ, গাঁজা, ঘুমের ট্যাবলেট এগুলোর মধ্যেই ডুবে থাকতাম। কিন্তু তারপরেও কোনো লাভ হতো না। নেশার মধ্যেও মনে হতো আমি মাস্টারবেট করছি।

হঠাৎ একদিন সূর্যের দেখা মিললো যেইটার তালাশ অনেকদিন ধরেই করছিলাম। আর সেটি হলো ইসলামের ছায়াতল। একদিন নেশার ঘোরেই ছিলাম কিনা মনে নেই এক বন্ধুর কাছে শুনেছিলাম তাহাজ্জুদের নামাযের গুরুত্ব। আমি এক অসাধারণ শান্তি খুজে পেলাম এই তাহাজ্জুদে। আল্লাহর দরবারে একদিন তাহাজ্জুদ পড়ে বলেছিলাম “আল্লাহ আমাকে এই নেশা থেকে বাচাও. আমাকে সব ধরনের অপকর্ম থেকে বাচাও। সারাজীবন আমি তোমার গোলাম হয়েই থাকবো।” তারপর থেকেই নিয়মিত হয়ে যাই নামাযে।

আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করেছেন।

আর আমিও তার গোলাম হয়েই থেকে গেলাম।

আজ ৩ বছর হলো আমি সেই সব অপকর্ম থেকে মুক্ত। আল্লাহই রক্ষা করেছেন।সব এডিক্টেড মানুষদের বলছি যারা এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়৷ একদিন তাহাজ্জুদ পড়েই দেখুন না যদি আপনিও সেই ভাগ্যবানদের একজন হতে পারেন। আর অবশ্যই পাঁচ ওয়াক্ত নামায জাময়াতের সাথে পড়বেন। দেখবেন ভালো করার মালিক আপনাকে ভালো করে দিয়েছেনই। আল্লাহই তো সিফা দান কারী। তাঁর কাছেই চান

দশ

আমি সারাদিন খারাপ কাজে ব্যস্ত কিন্তু ভাল হতে চাইতাম । অনেকের মোটিভেশনাল ভিডিও দেখতাম । অনেক হুজুরের ওয়াজ ও শুনতাম । তৎক্ষণাৎ রক্ত গরম হয়ে যেত ২-৪ দিন সেই উদ্যমে থাকতে পারতাম । একটানা ১০ দিন আমার দ্বারা পরিবর্তিত হওয়া সম্ভব হয় নাই ।

গত দুই বছর ধরে আমি আমার অসফলতার কারণ খুঁজেছি এবং পেয়েছি কেন আমি হেরে যাই । আমার দৈনন্দিন কোন কাজটি আমাকে হারিয়ে দিচ্ছে । এই কারণটি খুঁজে পাবার আগে আমি অন্যদের দায়ী করতাম আমার পরাজয়ের জন্য। যা আমাকে আরো অসফল ও অলস করে তুলেছিল । রাগের সাগরে আমাকে নিমজ্জিত করে রেখেছিল ।

অসফলতার কারণটা খুঁজে পাবার পরে আমি চেষ্টা করেছি এটা থেকে বের হতে কিন্তু কোন ভাবেই পারছিলামনা। অতঃপর সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় ( যিনি সকল সৃষ্টি জগতের মালিক ও অসীম দয়ালু এবং পরম করুণাময় । যার গুন বলে শেষ করা যায় না ) এবং এক বন্ধুর দেওয়া একটা বই যেটা আমি বিরক্তি নিয়ে পড়া শুরু করলেও সকল কর্ম বাদ দিয়ে ধৈর্য নিয়ে বইটা একটানা পড়ে ফেলি । একটানা পড়ার কারণ বইটি মাত্র ২২৮ পেজ । যা আমার পক্ষে অতি তাড়াতাড়ি পড়া সম্ভব এবং এর আগে আর কিছু বই পড়েছি যা কিনা ৫০ ৬০ পেজ পড়েই হাল ছেড়েছি কিংবা কোননা কোন কারণে পড়া হয় নাই কিন্তু পড়ার  সুপ্ত ইচ্ছা ছিল ।

তখনই সাথে পরিকল্পনা করলাম যে আমি বই পড়া চালিয়ে যাবো । সবার আগে এমন বই পড়তে হবে যেটা দিয়ে সব থেকে বেশি জ্ঞান অর্জন করা যায় । আর কুরআনের থেকে ভাল কি আর হতে পারে ?

আফসোস আরবি পড়া অনেক আগেই ভুলে গেছি । দীর্ঘদিন ধরেই চিন্তা করছিলাম যে আবার শুরু করবো কোন হুজুরের কাছে । কিন্তু পারিনি এখনো । তো এর আগে সূরা আল ইমরান পর্যন্ত বাংলা অর্থ পড়েছিলাম ইউনিভার্সিটিতে থাকা অবস্থায় । সুরা বাকারা পড়েই আমার এমন ভাল লাগা শুরু হয়েছিল যে কোন এক সাবজেক্ট এর সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার আগের রাতে পড়া বাদ দিয়ে বাংলা অর্থ পড়া শুরু করেছিলাম । পরীক্ষা টা কেমন দিছিলাম এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না।  আফসোসের ব্যাপার, কুরআনের অনুবাদ পড়াটা চালিয়ে যেতে পারিনি । তবে অনেক পরিবর্তন এসেছিল নিজের মধ্যে ।

এত বছর পরে সেই আবার শুরু করেছি । তবে এবার শুধু অর্থ পড়েই হাল ছেড়ে দিচ্ছি না । যেহেতু কুরআন ইসলামিক কিতাব যা কিনা ইসলামের শেষ আসমানি কিতাব যা অবতীর্ণ হয়েছিল ইসলামের পথ প্রদর্শনকারী শেষ নবী ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর, তাই চিন্তা করলাম এর পাশাপাশি আমার অন্য যে কোন একটা বই পড়তে হবে । রাসুল (সাঃ) এর স্বাস্থ্যবিধান নামক একটি বই পড়তাম এর আগে । ৫০-৬০ পেজ পড়া হয়েছিল ভাবলাম এটাই শেষ করি । কিন্তু পরে মনে পড়লো আর একটি বই আছে নাম ইসলামী মনোবিজ্ঞান । তখন স্বাস্থ্যবিধান বইটা বাদ দিয়ে এই বইটি ও পড়তে শুরু করি । যেটা সত্যিই আমাকে অনেক সাহায্য করতেছে । এবং চিন্তাই বদল করে দিয়েছে ।

যেখানে সারাদিন আমি ১০০ চিন্তা মাথায় নিয়ে ঘুরতাম যা সবই ছিল নেগেটিভ । আর এই মাত্র ১২ দিনে আমার মাথায় হাজার পজিটিভ চিন্তা এনে দিয়েছে । যার ধরুন ১০ দিনে ঘুম ঠিক মতন হয় নাই কিন্তু একটুও বিচলিত হই নাই । আজকেই তাহাজ্জুত নামাজ পড়েছি এবং দোয়া করেছি নিজের জন্য যা আগে এমন ভাবে করা হয় নাই এর আগে কোনদিন ।

আসরের নামাজ জামাতে পড়েই হুজুরের কাছে কোরআন পড়া শিখবো মাগরিবের আজান পর্যন্ত এমন শপথ করে নিয়েছি । কথাও বলেছি হুজুরের সাথে । তবে তার ওই সময়টায় বর্তমানে ব্যস্ততা থাকায় তার কাছে পড়া হচ্ছে না । এক মামা বলেছেন তিনি অন্য হুজুরের ব্যবস্থা করে দিবেন, আলহামদুলিল্লাহ্‌ । আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যেই শেখা শুরু করে দিব, ইনশাআল্লাহ্‌ ।

আমি জানি মাত্র ১০-১২ দিনের গল্পে সফলতার ঘোষণা দেয়াটা অনেক বড় বোকামির পরিচয় । এতক্ষণে যদি কেউ আমার লেখা পরে থাকেন হয়তো আপনিই বলবেন যে আরে ব্যাটা আগে এটা ধরে রাখ দেখি  ক্যামনে পারিস । ১২ দিনের পরিবর্তন দিয়া আসছে আমার স্ট্যাটাস দিতে । আর অনেক প্রবাদ বাক্য ঝেড়ে দিলেন 🙁 ।

বিশ্বাস করুন আমার মন খারাপ হয় নাই । কারণ আমার মনের মধ্যে এখন যা বয়ে যাচ্ছে এই লেখাটাতে তার বিন্দুমাত্র ফুটে উঠেছে। আল্লাহর রহমতে আমি আমার এই পরিবর্তন ধরে রাখতে চাই ।  আমার স্বপ্ন আমি মানুষের জন্য এমন কিছু করতে চাই যা এই মুহূর্তে আমার নিজের আশা কামনার চেয়ে লক্ষ কোটিগুণ ডোপামিন ক্ষরণ করছে আমার মস্তিষ্কে । এখন আপনি আমাকে যত পঁচাবেন আমার ততই লাভ । আমার যুদ্ধ টা আপনার সাথে নয় আমার যুদ্ধটা আমার মধ্যে বসে থাকা শয়তানের সাথে । আমার হৃদয়ে ভিত্তি ঘরে নেওয়া ইবলিসের সাথে । আমি ইবলিসকেই পরাজিত করতে চাই । আমার কোন ইচ্ছা নাই আপনাকে কথার মাধ্যমে কষ্ট দিয়ে আঘাত করতে । বরং আমি আপনার জন্য দোয়া করবো যে আপনি একদিন আল্লাহ’র ইচ্চায় জ্ঞান চর্চায় মনোনিবেশ করে আপনার ভুল টা বুঝতে পারেন ।

এত কথার পরেও একটা যদি রেখে যাই, আমি মাত্র শুরু করেছি । শয়তান এই মুহূর্তে তার লক্ষ্য সেনা নিয়ে আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে যে আমাকে সে হারাবেই । আর আমিও তাকে হারানোর সকল কৌশল প্রস্তুত করে চলেছি । এক মাত্র আল্লাহ্‌ই জানেন যে আমি কতটা সফল হবো কেননা আল্লাহ্‌ বলেছেন তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে হেদায়েত দান করে ।আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন যেন নিজের পরিবর্তন ধরে রাখতে পারি ।

এতক্ষণে অনেকের প্রশ্ন আসতেই পারে কোন সেই বই যা কিনা আমাকে মোটিভেট করেছে । তার নাম

” মুক্ত বাতাসের খোঁজে ” ।

যেহেতু আমার বন্ধু আমাকে এটি উপহার দিয়েছে তাই আমি ওর ফেইসবুক পেজ শেয়ার করে তাকে অতি নগণ্য সাহায্য করতে চাই ।

যারা বইটি পড়তে ইচ্ছুক, তারা https://www.facebook.com/iqrashop18 এইখানে যোগাযোগ করতে পারেন ।

আল্লাহ্‌ যিনি সৃষ্টিজগতের মহান পালনকর্তা এবং তার কোন শরীক নাই  মানে তার নেই কোন সন্তান, তার নাই কোন কামনা বাসনা, তার প্রয়োজন হয় না খাবারের, যার দরকার নাই কোন সঙ্গী, কেননা তিনি এক, অনন্য, যার সমতুল্য আর কেউ নাই যিনি মানুষ ও জিন জাতিকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তারই ইবাদত করার জন্য, এবং তারই আদেশে একদিন সবার মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে । এবং তিনিই আবার বিচার দিবসে আমাদের জীবিত করবেন ।

সবাইকে রহমত প্রদান করুন এবং সবাই আল্লাহ’র সাহায্য আশা করুক এই কামনায় আজকের মতন শেষ করছি ।

আল্লাহ্‌ হাফেজ । আসসালামু আলাইকুম ।

চলবে ইনশা আল্লাহ…

নীড়ে ফেরার গল্প (প্রথম কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (দ্বিতীয় কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (তৃতীয় কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (চতুর্থ কিস্তি)

মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইয়ের লিংক-

শেয়ার করুনঃ
নীড়ে ফেরার গল্প (চতুর্থ কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (চতুর্থ কিস্তি)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

ছয়

.আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

আমি বেশি কিছু বলতে চাইনা। শুধুমাত্র এটাই বলবো যে…….শুধুমাত্র এটাই বলবো যে কাজ-টা আমার জীবনে একেবারেই অসম্ভব মনে হতো,যে কাজটা আদৌ কোনোদিন ছাড়তে পারবো বলে ভাবিনি, যে কাজটার  যথেষ্ট ক্ষতিকর দিক  জানা  থাকার পরেও ছাড়তে পারছিলাম না, প্রতিনিয়ত ব্যর্থ-ই হচ্ছিলাম আমি,যার কারণে আমার জীবনটা অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছিল, যার কারণে আমি শেষ হয়ে যেতে নিচ্ছিলাম……..

আলহামদুলিল্লাহ্‌, সমস্ত প্রশংসা সেই মহান আল্লাহতালার,যার অশেষ রহমাতে আমি এই বইটি কেনো জানি পড়েছি।এবং এই বইটির উসিলায় ইনশাআল্লাহ,ইনশাআল্লাহ,ইনশাআল্লাহ আজ আমি পেরেছি সেই অসম্ভব কাজটিকে সম্ভব করতে।জ্বী হুম,আমি পুরোপুরিভাবে অনুভব করার পরই এই মেসেজটি টাইপিং করছি।

আমি ধন্যবাদ জানাই আপনাদের সবাইকে যারা এই বইটি লিখার পেছনে শ্রম,চেষ্টা চালিয়েছেন।সবার প্রতি আমার সালাম রইলো।আমি দোয়া করি যাতে আপনারা সবাই মুমিন বান্দা হিসেবে বেঁচে থাকেন এবং পরকালে জান্নাতবাসী হন।আজ আমি অনেক সুখী, আমার জীবন বদলে গিয়েছে।এই বইটা যেদিন হাতে নিয়েছিলাম সেদিন থেকে বদলে গিয়েছে আমার জীবন।অনেক আগ্রহ জাগতো হস্তমৈথন করার,কিন্তু বইতে পড়া সেই ভয়াবহ দিকগুলো মনে পড়লে,  বাস্তব জীবনে ধ্বংস হয়ে যাওয়া সেইসব জীবনের কাহিনী মনে পড়লে, তখন আর  এই নোংরা কাজ করতে পারতাম না।যখন মনে পড়তো বইতে পড়া সেইসব pornstar দের জীবন কাহিনী, তখন আর পারতাম না করতে সেই নোংরা বিকৃত কাজটা।

আমার এতো খুশি লাগছে যে, মনে চাচ্ছে আমার জীবনের এই অন্ধকার নিয়ে সব কথা বলি।আমার জীবনটা এমনভাবে বদলে গেছে যা আমি কখনো ভাবিনি।আর আমি পুরোপুরিভাবে সিউর হওয়ার পরই আপনাদের মেসেজ করেছি।আমি আগে থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে,যেদিন আমার পুরোপুরি মনে হবে যে আমার এই বিকৃত নেশা সেরে গিয়েছে সেদিন আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাবো।কখনো সম্ভব হলে আমি আমার এই নিয়ে পুরো কাহিনী মেসেজিং করে পাঠাবো ইন শা আল্লাহ।

আপনাদের জন্য অনেক দু’আ। আপনাদের উসিলায় তো আজ আমি রেহাই পেয়েছি ইন শা আল্লাহ।আমার জীবনে এটা কতোটা ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছিল আর আমি কনোভাবেই কনোভাবেই নিজেকে থামাতে পারছিলাম না।আজকেও আমি মাগরিবের নামাযের পর আপনাদের এই বই-টি পড়েছি।আমি বুঝাতে পারবোনা যে আপনাদের এই বইটা আমার জীবনে কতোটা প্রভাব ফেলেছে।আমি যখনই বইটা পরি তখনি মনে হয় যেনো হুবুহু নিজের জীবন কাহিনী পড়ছি।শুধুমাত্র এতোটুকুই ভিন্ন ছিল যে আমার জীবন ধ্বংস হওয়ার আগেই আমি বইটা পড়ছি।আল্লাহতালা আপনাদের সবাইকে জান্নাতবাসী করুন এবং দোয়া করি যাতে করে এ বইয়ের উসিলায় আমার মতো তরুণেরা এই নোংরা,বিককৃত কাজ থেকে রেহাই পাক ইনশাআল্লাহ।

আমার জন্যেও দোয়া করবেন যাতে আমি আর কোনোদিন ও এই নোংরা,বিকৃত কাজে লিপ্ত না হই এবং পরকাল ও ইহকালে মহান আল্লাহতালার প্রিয় মুমিন বান্দা হিসেবে জীবনযাপন করতে পারি ইন শা আল্লাহ।

সাত

ঠিক মনে নেই কবে পা বাড়িয়েছিলাম এই অন্ধকার রাস্তায়। সম্ভবত ক্লাস ৯/১০। এই ২৬বছর বয়সে এসে অনুধাবন করলাম তিলতিল করে পাপের পাহাড় গড়েছি।
মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটার পেছনে যে ভাইদের অক্লান্ত পরিশ্রম আছে আল্লাহ তাদের ভাল করবেন।

প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তি আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে চাইতে এখন পর্যন্ত ৪০দিন এই পাপ থেকে বিরত আছি।

নিজেকে ব্যস্ত রাখি।
নামাজ পড়ি, বই পড়ি তা হোক গল্পের বা চাকরির পড়াশোনা, সাইক্লিং করি, সকালে উঠে ব্যায়াম করি, বিকেলে বাইরে হাঁটি, বাগান করি, ফ্যামিলি ডিসকাশনগুলায় অংশ নিই আগের চেয়ে বেশি।

সবমিলিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বেশ ভাল আছি এবং নিজের উপর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে শুরু করেছি।
ইনশাআল্লাহ এই অন্ধকূপ থেকে পুরোপুরি বের হয়ে আসবোই একদিন।

(ফেইক আইডি থেকে পোস্ট করার জন্য দুঃখিত)

আট

আসসালামু আলাইকুম।

আমার বয়স তখন ১৩। আব্বু বিদেশ থেকে সবে মাত্র নতুন ফোন পাঠিয়েছে৷ আমি পর্ন সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতাম না। কিন্তু আমার এক বন্ধু হঠাৎ করে আমায় একদিন বললো যে, ‘তোকে একটা জিনিস দেখাবো’। তখনো আমি নীল জগৎ সম্পর্কে কিছু জানতাম না। প্রথম দেখার পর অনেক ভয় পাই…কিন্তু নিজের অজান্তেই পর্ন ভাল লাগতে শুরু করে।

আমি ক্লাস সেভেনে থাকতেই একদম পুরোপরি পর্ন দেখা শুরু করি। তখনো ইন্টারনেট সম্পর্কে কিছু জানতাম না। দোকান থেকে ভরে নিয়ে আসতাম। এবং ক্লাস এইটে উঠার পর ২০-২৫ দিন পরপর হস্তমৈথুন করতাম। ক্লাস নাইনে ওঠার পর এটা মারাত্মক আকার ধারন করে। ক্লাসের মধ্যে নীল ছবি দেখতাম। ঠিক মতন ক্লাস করতাম না। ক্লাসের মেয়েদের দেহ একদম খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতাম। এমনকি porn  অভিনেত্রীর মতো করে বান্ধবীদের দেখতাম। ওদের ভেবে ভেবে হস্তমৈথুন করতাম।

২০১৪ সাল।

আব্বুর পাঠানো সেই ফোন আমি ব্যাবহার করতে থাকি… তারপর নেট সম্পর্কে ধারণা পাই। তখন থেকে আমার ফোন ভর্তি পর্ন থাকত।এর ফল আমি হাতেনাতে পাই… ক্লাস নাইন এর বার্ষিক পরীক্ষায় ২ বিষয়ে ফেল করি। এভাবে চলতেই থাকে আমার এই অবস্থা। কাওকেই এই বিষয় শেয়ার করতে পারতাম না লজ্জার ভয়ে।

খুব কষ্টে ssc পাশ করি। ssc exam এর পর কিছুদিন তাবলীগে  যাই।ওইখান থেকে এসে পাচঁ ওায়াক্ত নামাজ পড়া শুরু করি৷ কিছু দিন যাওয়ার পর আবারও আগের মতন হয়ে যাই। কিন্তু নামায পড়তাম তারপরেও আমি আমার মধ্যে ছিলাম না। আমার জীবনটা বেচে থেকেও মরার মতন ছিল। মেজাজ খিটখিটে হয়ে গেছিল৷ কিছুতেই শান্তি পেতাম না। বাসায় আম্মুর সাথে সবসময় ঝগড়া লেগেই থাকতো।আমার শরীর এতটাই দুর্বল থাকতো যে একা একা হাটতে কষ্ট হত। একদম শুকিয়ে গেছিলাম,, কিছুই মনে রাখতে পারতাম না।চেহারা নষ্ট হয়ে গেছিল।২০১৮ সালে hsc exam ও খারাপ হয়। খুব কষ্টে পাশ করি।

আমি নীল  জগৎ থেকে বের হতে চাইতাম কিন্তু পারতাম না।দেখা যেত ৪-৫ দিন পর্ন না দেখে আর হস্তমৈথুন না করে থাকতে পারতাম না। এটা আমার কাছে  নেশার মতো ছিল। সফ্টকোর থেকে হার্ডকোর এমনকি জঘন্য টাইপের পর্নও দেখতাম যা বলতেও লজ্জা হয়। তাছাড়া বলিউডের আইটেম song দেখেও মাথা ঠিক রাখতে পারতাম না। রাস্তায় কোন মেয়েকে যেতে দেখলে পুরো শরীর চোখ দিয়ে  স্ক্যান করতাম।

আমি এতটাই জঘন্য ছিলাম যে বলতেও নিজেকে ধিক্কার জানাতে ইচ্ছা হয়।
এরপর ফেইসবুকে কিছু ইসলামিক গ্রুপ খুজে পাই এবং আলেমের পরামর্শ নেই।
এবং মুক্ত বাতাসের_খোঁজে বইটা পড়ি। বইটা পড়ার পরে ভাষা হারিয়ে ফেলি…আমার মতে প্রতিটি যুবকের বইটা পড়া উচিত।আলহামদুলিল্লাহ এখন আমি পর্ন আসক্তি থেকে ফিরে এসেছি এবং আল্লাহর রাসুলের সুন্নত অনু্যায়ী চলার চেষ্টা করি।আমার অনুরোধ, যারা পর্ন আসক্ত যত তাড়াতাড়ি পারেন এই জগৎ থেকে বেরিয়ে আসেন। মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নিয়েই দেখুননা একবার।অন্তর শান্তিতে ভরে যাবে।

ইনশাআল্লাহ।

.

চলবে ইনশা আল্লাহ…

নীড়ে ফেরার গল্প (প্রথম কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (দ্বিতীয় কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (তৃতীয় কিস্তি)

 

মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইয়ের লিংক-

শেয়ার করুনঃ
নীড়ে ফেরার গল্প (দ্বিতীয় কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (দ্বিতীয় কিস্তি)

আসসালামু আলাইকুম।

আমি  মফস্বলে বেড়ে ওঠা একজন সহজ সরল ছেলে।সারাদিন হই হুল্লোড় করে ঘুরতাম,বন্ধুদের সাথে খেলতাম।আব্বাকে অনুসরণ করে মসজিদে নিয়মিত নামাজ পড়তাম।সবে মক্তবে প্রথম কোরআন খতম দিয়েছি।আমার বয়স তখন তের বছর।ক্লাস সিক্স এ পড়ি।পর্নোগ্রাফি কি জিনিস আর হস্তমৈথুন কি জিনিস কিছুই বুঝতাম না।সেক্স কি জিনিস তাও বুজতাম না।অন্যরা এসব নিয়ে কথা বললে প্রচন্ড লজ্জা পেতাম।

একদিন আমার এক ভাগিনা (আমার থেকে দুই বছরের বড় হবে) বেড়াতে এসেছে আমাদের বাড়িতে।হেমন্তকালের প্রথমদিক,এমনিতেই আমার শরতকাল আর হেমন্তকাল ভালো লাগে।আকাশে সারি সারি মেঘের ভেলা,মাঠে সবুজ ধান আর ঝিরিঝিরি বাতাশের আবেশ!ঘর থেকে বেরুলেই মন জুড়িয়ে যায়।মাঠে ধানী জমির আইল ধরে হেটে বেড়াতাম,এখনো সময় পেলে ঘুরি।আমি ভাগনাকে নিয়ে চললাম ক্ষেতের আইলের দিকে।হাটছি আর আল্লাহর অপরুপ সৃষ্টি উপভোগ করছি।একটি জমিতে ধান অনেক লম্বা হয়েছে,এমন স্থানে এসে ভাগনা আচমকা বসে পড়ল,সাথে সাথে আমাকেও টেনে বসালো।বসে সে তার প্যান্ট খুলে ফেলল। আমি দেখেই বললাম তুমি এ কী কর? আমাকে বলল, ‘দেখ!’  সে  হস্তমৈথুন করতে লাগলো। কিছুক্ষণ পর দেখলাম সাদা সাদা ঘন কি একটা জিনিস বের হয়ে আসল। আমি তো দেখে অবাক! সে বলল যদি শরীর জেগে যায় আর মেয়ে না পাস তাহলে এভাবে চাহিদা মেটাতে হয়’।

আমার তখন কৌতুহলী মন।আমি অনেক শরম পেয়েছি কিন্তু মনে মনে এ রকম করার কৌতুহল বেড়েই চলল।এক সপ্তাহ পর আমি ভাবলাম আচ্ছা একবার করেই দেখি কি রকম লাগে!এই বলে হস্তমৈথুন শুরু করলাম।প্রায় দশ মিনিট যাবত এই নাফরমানি করে অবশেষে কি রকম যেন একটা তৃপ্তি পেলাম,এক ধরনের ভালো লাগা তৈরি হয়ে গেল।

.এরপর থেকে যে শুরু হলো আমার নিয়মিত হস্তমৈথুন!কোনদিন একবার,কোনদিন দুইবার,তিন বার,চারবার পর্যন্ত করতাম।ক্লাস নাইনে উঠার পর চাচাতো ভাইয়ের মোবাইল আসল বিদেশ থেকে।শুরু হলো মোবাইলে পর্ন দেখা আর হস্তমৈথুন করা।পর্ন দেখে কোনদিন আমি ছয়বার পর্যন্ত হস্তমৈথুন করেছি!

.কলেজে উঠার পর খেয়াল করলাম আমার শরীর ভেঙ্গে গেছে,স্মৃতিশক্তি কমে গেছে,কানে কম শুনি,চোখে কম দেখি।কিন্তু হস্তমৈথুনের হার বেড়েই চলল।সেই তের বছর বয়স থেকে শুরু হয়েছিল,আজ আমি ২৪ বছরের যুবক।এই বারোটা বছর আমি একটানা হস্তমৈথুন করেই গেছি!

.কত বড় গোনাহগার যে হয়েছি! আল্লাহ………যে আমি একসময় ফজরের নামাজের জন্য রাত তিনটায় মসজিদে যেতাম একা একা,সে আমি একটানা একমাস কিংবা তার থেকেও বেশি সময় মসজিদে যাইনি শুধু জুমার নামাজ ছাড়া!এক সময় বোধোদয় হলো হস্তমৈথুন ছাড়ার।গত দুইটা বছর ধরে চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না।ফেসবুকে একদিন একটা গ্রুপ দেখলাম”নাসিহাহ-দ্বীনি পরামর্শ”।গ্রুপে এড হলাম।গ্রুপের প্রতিটা পোস্ট মনোযোগ সহকারে পড়তাম আর আমল করার চেষ্টা করতাম।

.এর মধ্যে আমার মেজ বোন মারা গেলেন।আমি আরো মুষড়ে পড়লাম।ভেবে দেখলাম দুনিয়া দুই দিনের।তরতাজা আমার বোন যদি মারা যেতে পারেন তাহলে আমার বাঁচার কোন নিশ্চয়তা আছে?মারা গেলে সাথে নিয়ে যাবো কী?নামাজ কালামে মনোযোগী হলাম।কিন্তু হস্তমৈতুনের অভ্যাস ছাড়তে পারছিলাম না।ঠিক তখনি আমার কাছে আলোকবর্তিকা হয়ে আসল গ্রুপের একটি পোস্ট-হস্তমৈতুনের কুফল ও তার থেকে মুক্তির উপায়।সেখানেই দেখতে পাই মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটির নাম।সাথে সাথেই অর্ডার করি।পুরো বইটি পড়ে শেষ করি।পড়ার পর মনে হলো এতদিন আমি যা করেছি সবই ভুল,পাহাড় পর্বত সমান গুনাহ আমি করে ফেলেছি!কিন্তু আর না।আমি মহান আল্লাহর কাছে তাওবা করেছি আর করব না এসব।

.আগে প্রচুর হতাশ হতাম,এখন আর হতাশাবোধ করি না।আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে কাঁদি।রাহমানুর রাহীম আল্লাহ আমাকে হেদায়াত নসীব করেছেন।প্রায় তিনমাস যাবত আমি হস্তমৈথুন আর পর্নোগ্রাফি থেকে দুরে আছি।আমি শিউর আল্লাহ আমার এই গুনাহ রহমতে ভরপুর করে দিবেন।যাদের জন্য এটি সম্ভব হয়েছে তারা হলেন ঐ বড় ভাই যিনি গ্রুপে পোস্ট দিয়েছিলেন আর মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটি যারা লিখেছেন।আমি ধন্যবাদ দিয়ে শেষ করতে পারব না।আমার অন্তর এমন কি আমার হাড়ে ও দোআ দিবে এর জন্য।যারা মানুষকে পাপ কাজ থেকে বাঁচাতে এরকম একটি বই লিখেছেন।নিশ্চই কিয়ামাতের দিন এর উত্তম প্রতিদান পাবেন।ইনশাআল্লাহ।

.এখন আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি,কোরআনুল কারীমের একটা খতম ও ধরেছি।প্রতি সপ্তাহে একটা রোজা রাখি।আগে ফেসবুকে অশ্লীল পোস্ট দিতাম,এখন তাও দেইনা।আমি বেরিয়ে পড়েছি মুক্ত বাতাসের খোঁজে।দোআ করবেন আল্লাহ যেন আমাকে ইসলাম সম্পর্কে আরো বেশি জানার এবং ইবাদাত করার তৌফিক দান করেন।আর ইসলামের ছায়াতলেই কালিমার সহিত যেন শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করতে পারি।

আমীন।

পড়ুন-

নীড়ে ফেরার গল্প (প্রথম কিস্তি): https://bit.ly/2xbUIZ0
ইনবক্স থেকে: https://bit.ly/2QlBdpD

 

শেয়ার করুনঃ