নীল রঙের অন্ধকার (দশম কিস্তি)

নীল রঙের অন্ধকার (দশম কিস্তি)

আমি তখন তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ি। মা বাবার সাথে থাকতাম।পড়ালেখায় মোটামুটি ছিলাম।আমার বাবা একটু বদমেজাজি টাইপের ছিলেন।ছোটোকাল থেকেই তিনি পড়ালেখার জন্য কঠোর প্রকৃতির ছিলেন।পরীক্ষায় একটু ভুল করলেই তুলকালাম কান্ড শুরু করতেন। সবার সামনে অপমান করা, তুলনা করা, গালি দেওয়া এগুলো সাধারণ ব্যাপার।তবে তিনি কখনো নামায পড়তে নিয়ে যাননি বা উৎসাহও দেননি।

শাস্তির ভয়ে ধীরে ধীরে পড়ালেখায় উন্নতি হয় এবং ৫ম শ্রেনীতে বৃত্তিও লাভ করি।তবে আমার, পড়ালেখা ও বাবার প্রতি তেমন ভালবাসা ছিল না।আমি ৬ষ্ঠ শ্রেনিতে থাকা অবস্থায় আমার বাবা মারা যান। তারপর আমরা নানার কাছে চলে আসি।এখান থেকেই শুরু হয় জীবনের নষ্ট অধ্যায়।আমার ছোট মামাও ছিল খুব রাগী। এদিকে বাবা না থাকাতে আমি এখন স্বাধীন মনে করতাম নিজেকে।

নানার বাড়ি অনেক বড় ছিল সামনে মার্কেট ছিল।পড়ার জন্য আলাদা রুম ছিল।তখন অবসর পেলেই বাইরে চলে যেতাম এবং দোকানের আংকেলদের সাথে গল্প করতাম।কারণ ঘরে থাকলে মামা,নানা নানী এদের ভাষণ শুনতে হতো।যেখানে কোন ভালবাসা ছিল না ছিল শুধু তিক্ততা। তাই বাইরের লোকদোর মিষ্টি মিষ্টি কথাগুলো খুব ভাল লাগত।এভাবে বছর খানেক কাটল।তখন ৭ম শ্রেণির শেষ দিকে।দোকানের এক আংকেল সবসময় মিষ্টি কথা বলত সে আস্তে আস্তে অশ্লীল কথা বলতে শুরু করল।তখন সেসব কথা শুনতে ভালই লাগত।সে নিজের গোপনাঙ্গও দেখাত।মাঝে মাঝে অশ্লীল ছবিও দেখাত।সে একদিন আমাকে হস্তমৈথুন করে দেখায় আর বলে ঘরে গিয়ে নিজে নিজে করার জন্য এতে নাকি শরীর ভাল লাগে।আর আমিও ঘরে গিয়ে শুরু করলাম। তখন কিন্তু আমার সপ্নদোষ শুরু হয়নি।

প্রথম প্রথম হস্তমৈথুন করতে অনেক সময় লাগলেও ধীরে ধীরে সময় কমে আসতে লাগল।একই সময় আর একটি ঘটনা ঘটে।আমার মামার বিয়ে উপলক্ষে মামার রুম পরিষ্কার করার দায়িত্ব পড়লো আমার উপর।এদিকে রুম পরিষ্কার করতে গিয়ে আমার হাতে পড়ল এক গাদা চটি বই।আমার তো সোনায় সোহাগা।আমি সেখন থেকে কয়েকটি বই সরিয়ে রাখলাম।পরে সময় পেলেই অথবা পড়ার ফাঁকে এগুলো নিয়ে বসতাম।সেখানে ছেলে মেয়ের অশ্লীল ছবিও ছিল।আর কাহিনী গুলোর ভাষা সারাদিন মনের ভিতর গেঁথে থাকত।

ইচ্ছে মতো হস্তমৈথুন করতাম।রোযা রেখেও করতাম।নামায তো পড়তামই না জুমার নামাযে মাঝে মাঝে যেতাম।তবে নামায হতো না কারন নামাযের নিয়ম কানুন জানতাম না।আর নামায পড়তে গেলেই লিঙ্গ দিয়ে আঠালো পানি চলে আসত।এদিকে চটি কাহিনী পড়ে সারাদিন শুধু মেয়েদের দেহ নিয়ে ভাবতাম।

তখন ৮ম শ্রেনিতে প্রথম। বন্ধুদের সাথা বাংলা ছবি দেখতে যাই।আর বড় পর্দায় মেয়েদের অশ্লীলতা দেখে অবাক হয়ে গেলাম।তখন থেকেই সিনেমার নেশা।এদিকে পড়ালেখাও বরবাদ।আর একটি নতুন সমস্যা দেখা দিল তা হলো বেশি প্রস্রাব হতো আর হস্তমৈথুনের পর আরো বেশি প্রস্রাব হতো।তখন নামাযও শিখে নিয়েছি নিজে নিজে।নামায শিক্ষা বইয়ে এসবের কুফল যানতে পেরে হস্তমৈথুনের মাত্রা কমিয়ে দিলাম তবে একেবারে ছাড়তে পারিনি। সিনেমা আর চটি বই একেবারেই ছাড়তে পারিনি।

৮ম থেকে ৯ম শ্রেনীতে উঠলাম। রোল ৮থেকে হলো ১৭।মানে অবনতি।৯ম ও১০ম এই দুই বছর প্রায় প্রতি সপ্তাহেই বাংলা সিনেমা দেখতাম। মাঝে মাঝে  হস্তমৈথুন করতাম।এস এস সি পরীক্ষা য় কোনরকমে পাশ করলাম।

কলেজে উঠে নতুন নেশা লাগল।শহরে গিয়ে ইংরেজি ছবি দেখা আর বন্ধুদের সাথে সিডি ভাড়া করে পর্ন দেখা। এভাবে পড়ালেখা বরবাদ হয়ে গেল।ইন্টার আর পাশ করা হল না।এভাবে ৪ বছর গ্যাপ হওয়ার পর আবার নতুন করে পড়া শুরু করলাম।সব ধরনের অশ্লীল সিনেমা দেখা হস্তমৈথুন বাদ দিলাম।ইন্টার পাশ করলাম।ইন্টারের পর বন্ধুদের সাথে মিশে  মেয়েদেরর প্রেমে পড়ে আবার পড়ালেখায় ২ বছরের গ্যাপ দিতে হল।তারপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। এখন মাস্টার্স কমপ্লিট করছি। এখন সিনেমা বাদ দিলে কি হবে সিনেমাতে যা তখন দেখতাম এখন বাংলা টিভি খুললেই তা দেখা যায়।

এখানে আমার জীবনের সম্পূর্ণ ঘটনা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। কারণ এটা থেকে মানুষ অনেক শিক্ষা নেবে।এখানে আর একটি কথা বলে রাখা ভালো, যে আমাকে হস্তমৈথুন শিখিয়েছে সে অনেকবার আমার সাথে খারাপ কাজ করতে চাইছে।আরো যে সকল আংকেলদের সাথে মিশেছি তারা কয়কজন বাদে সবারই মনে খারাপি ছিল।আর আমি একটু ভীতু ছিলাম ছোট থেকেই।

এখান থেকে যে শিক্ষাগুলো নেওয়া যায়:
১.শিশুদেরকে সাহস দিতে হবে,পারিবারিক ভালবাসাই শিশুর নিরাপদ ভবিষৎ গড়তে সহায়তা করে।
২.পড়ার জন্য শিশুদের অতিরিক্ত টর্চার করা উচিত নয়, কারণ সকলের ক্ষমতা এক নয়।
৩.আজেবাজে বই ঘরে রাখা উচিত নয়। না পড়লে আরো ভাল।
৩.যখন কোন শিশু আপনার সাথে কথা বলে তাকে কখনো অশ্লীল শিক্ষা দিবেন না। আপনারও ছেলে ভাগিনা,ভাইপো থাকতে পারে।আর যে শিশুকে খারাপ শিক্ষা দিবেন সে বড় হয়ে আপনাকে ঘৃনা করবে।
৪. আর পড়াশোনা করা  অবস্থায় কোন মেয়ের সাথে প্রেম করবেন না।

চলবে ইনশা আল্লাহ …

শেয়ার করুনঃ
নীল রঙের অন্ধকার (প্রথম কিস্তি)

নীল রঙের অন্ধকার (প্রথম কিস্তি)

পর্ন মুভি বিষাক্ত মাকড়াশার মতো  জাল বিছিয়ে রাখে । গ্ল্যামার আর চাকচিক্যে আকৃষ্ট হয়ে যে কেউ আটকে পড়তে পারে এই জালে । একবার জালে আটকা পড়লে  সেই জাল ভেদ করে বেরিয়ে আসা  অত্যন্ত কঠিন । মাকড়াশা যেভাবে পোকাকে  তিলে তিলে মেরে ফেলে পর্ন মুভিও আপনাকে  ঠিক সেভাবেই একটু একটু করে ধ্বংস করে ফেলবে । আপনি আস্তে আস্তে হারাবেন আপনার স্বাস্থ্য, আপনার পরিবার, আপনার চাকুরী, এমনকি আপনার ভালবাসার মানুষটিকেও । আমাদের এই সিরিজে আমরা আপনাদের কিছু সত্যিকারের গল্প বলে যাব । গল্পগুলো কিছু পর্ন আসক্ত মানুষের । কীভাবে তারা হারিয়ে ফেলেছেন এই জীবনের মূল্যবান সবকিছুই, নীল রঙের অন্ধকার গহ্বরে  কিভাবে তারা ডুবে যাচ্ছেন সেই গল্প ।

ব্যর্থতা আর আর্দ্রতার গল্প!

দীর্ঘশ্বাস আর নীরব আর্তনাদের গল্প!

নষ্ট হবার গল্প!

পাঠক, আপনাকে স্বাগতম !

আমার স্বামী পর্ন আসক্ত। এটি কষ্টকর , কারণ আমি একজন সমাজ কর্মী । তার সাথে পরিচয়ের আগ থেকেই আমি পর্নের বিরুদ্ধে লড়ে আসছি। আমি  ব্যক্তি, পরিবার, এবং সমাজের উপর তার ধ্বংসাত্মক প্রভাব দেখেছি। আমি সারাটা জীবন যুদ্ধ করেছি। আমি ছোটবেলা থেকেই উত্ত্যাক্তকারীর কবলে পড়েছি, কিন্তু আমি সেক্স এবং যৌনতাকে স্পেশাল মনে করি। সেই দম্পতিদের জন্য এটা নিষ্পাপ এবং পবিত্র একটা উপহার যারা পরস্পরের প্রতি নিজেকে উৎসর্গ করেছে। আমার আর আমার স্বামীর মূল্যবোধ একই ধরনের ছিল। আমরা পরস্পরের সাথে সব সময় আমাদের চিন্তা চেতনা শেয়ার করতাম। আমরা পরস্পরের জন্য নিজেকে, নিজের ভালবাসাকে , নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলাম।

আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের মুহূর্ত যেদিন সে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আর তার পর দিন ছিল সবচেয়ে খারাপ দিন। আমাদের বাগদান উদযাপন করতে , আর আমার পরিবারকে বাগদানের আংটি দেখাতে আমরা একসাথে আমাদের বাসায় যাই। ফেরার পথে সে আমাকে বললে যে সে আমাকে কিছু বলতে চায়। সে মনে করেছিল এটা এত গুরুত্বপূর্ণ না। তারপরেও আমার জানা উচিত।

সে পর্নে  আসক্ত ছিল। ১২ বছর বয়স থেকে সে পর্নে  আসক্ত ছিল। আমার সাথে দেখা হবার আগ পর্যন্ত তার কখনও অনুতাপ হয়নি । আমি মেনে নিতে চেষ্টা করলাম। আমার  সবটা দক্ষতা দিয়ে তাকে পর্ন ত্যাগ করার জন্য উৎসাহিত করলাম। বাসায় ফিরে এসে নিজেকে একা আবিষ্কার করলাম। খুব কাঁদলাম। আমি জানতাম এটা আমার দোষ ছিল না , আমি কোন খারাপ কাজ করিনি। এমনকি পরিস্থিতি এতটা খারাপও ছিল না। সেতো শুধু পর্ন দেখেছে। নাইট ক্লাব বা পতিতালয়ে যায়নি। সে এখনও একজন ভাল মানুষ। তাকে আমি ভালবেসেছি, তার খারাপ অতীত জেনেও।

কিন্তু আমার ধারনা ভুল ছিল। আমি তার সম্পর্কে ভুল ধারনা করেছি। সে এমন একজন মানুষ যে প্রমাণ করেছে, বছরের পর বছর পর্ন দেখেও মানুষের যৌন তাড়না পুরণ হয় না। সে এমন একজন মানুষ যে তার চোখ দিয়ে মেয়েদেরকে ব্যবহার করেছে , অবমাননা করেছে। কাজেই সে নির্দোষ না। সে এইসব কথা আমার কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছে। আর এমন সময় সে এগুলো প্রকাশ করেছে জখন আমার আর ফিরে যাবার পথ খোলা নেই। নেই কোন প্রশ্ন করার সুযোগ। আমি নিজেকে প্রশ্ন করি, “আগে থেকে জানলে আমি কি বিয়েতে রাজি হতাম? আমি কি তাকে প্রায়শ্চিত্ত করতে বলতাম? ” হয়তোবা করতাম। কিন্তু তার এই সত্য লুকিয়ে রাখা আমাকে দুর্বল করে দিয়েছে। এটা আমাকে এক বিকৃত যৌন চাহিদার এক রাক্ষসের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করছে।

এরপর বিয়েটা হয়েই গেল। সে সৎ থাকবে বলে আমাকে কথা দিয়েছিল। সে বলেছিল, যদি আমি চাই তবে আমরা সারা জীবন কোন সাপোর্ট গ্রুপে যাব। অবচেতন ভাবে তার কর্মকাণ্ডের দায়ভার আমি নিতে শুরু করলাম। আমরা সাপোর্ট গ্রুপে গেলাম । সেখানে পাশাপাশি দুইটা রুম ছিল। আমি সারাটা সময় কাঁদলাম। তাদের কথা শুনলাম। কিছু রূপসী মেয়ে তাদের সঙ্গীর অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার জন্য নিজেকে দোষারোপ করছিল । তারা খুব বড় ধরনের মানসিক আঘাত পেয়েছিল। আসলে একজনের ভুলের কারণে যখন নির্দোষ কাওকে পস্তাতে হয় তখন এমন হওয়া স্বাভাবিক। আমি সেই পুরুষমানুষ গুলোকে ঘৃণা করি। সেখানে গেলে আমার নিজেকে লাঞ্ছিত মনে হয়। আর সেখানে নিয়ে যাবার জন্য আমার স্বামীকেও ঘৃণা করি। আমি এই কাউন্সেলিং সেশনে যাওয়া পছন্দ করি না। কারণ আমি জানি সেখানে কারা যায়। সেদিন সে খুশিমনেই কাউন্সেলিং গ্রুপ থেকে ফেরে। কিন্তু আমি গাড়ি পর্যন্ত যাবার আগেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ি। বাসায় ফিরে সে আমার কাছে বসে। কিন্তু সে বোঝে না আমার ভিতর কি চলছে। সে আস্তে আস্তে ভাল হতে থাকে। কিন্তু আমার গায়ে “Wife of a Porn Addict.” লেবেলটা চিরতরে লেগে যায়।

তার আর আমার সম্পর্কের পবিত্রতা নষ্ট হয়ে গেছে। সেকি পর্ন তারকাদের সাথে আমার তুলনা করবে না? সেকি আমাকে আসলেই ভালবাসবে? সে কীভাবে আমাকে ভালবাসবে যেখানে আমাকে দেখলেই তার পর্নমুভির কথা মনে পড়ে?

বিয়ের পর কিছুদিন সব ভালোই চলছিল। একদিন আমি অফিসের মিটিং সেরে তাড়াতাড়ি বাসায় খাবার খেতে ফিরলাম। খাওয়া সেরে আমি তাকে বিদায় জানালাম। একটু পরে সে আমাকে মেইল করল যে তার আবার পর্ন দেখতে ইচ্ছা হচ্ছে। কিন্তু সে দেখবে কিনা বুঝতে পারছে না। আমি বুঝতে পারলাম , এটা এমন এক আসক্তি, যা থেকে সে কখনোওই ও মুক্তি পায় নি । এরপর থেকে আমি খুব ভয়ে থাকি, খুব সতর্ক থাকে।

আমি বুঝতে পারলাম অন্তরঙ্গতাকে আমি শুধু তাকে আমার কাছে বেধে রাখার জন্য ব্যবহার করি। আমার ইচ্ছা না থাকলেও এটা করতে হয়। এরপর তার যৌন অক্ষমতা দেখা দিতে লাগল। আমার ভয় হয় যে আমি তাকে পর্নোগ্রাফির জগতে হারিয়ে ফেলব।

আমি ডায়েট করা শুরু করেছি। এখন আমার নিজের শরীর কে আমি নিজেই ঘৃণা করি। আমি এখন সবসময় তার প্রতি সন্ধিহান। আমি তার অতীতের জন্য ক্ষুব্ধ। কিন্তু সে আমাকে খুশি রাখতে সচেষ্ট।তাই আমি এখন কাউন্সেলিংএ যাই কীভাবে তাকে মাফ করবো তা বুঝতে। আমি যাই করি না কেন,সে হয়ত আর ভালো হবে না। আমার সাথে সে কখনোই সুখী হবে না। আমি এসব মেনে নিয়েছি।

আমার স্বামী  তার বড় ভাই ও বাবার মাধ্যমে খুব ছোটবেলাতে পর্নোগ্রাফির সঙ্গে পরিচিত হয়ে যায়। সে এর নেতিবাচক ফলাফল বোঝার বয়স হবার আগেই আসক্ত হয়েছে। আর আমি… আমি আমার মনে ভিতর অবিশ্বাস পুষে নিয়ে চলেছি। প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছি এই অচেনা পৃথিবীর সাথে মানিয়ে নেবার। পর্নের বেড়াজালে আমরা আজ আবদ্ধ।

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)

পড়ুন-

নীল রঙের অন্ধকার (দ্বিতীয় কিস্তি):  https://bit.ly/2xg34yS

নীল রঙের অন্ধকার (তৃতীয় কিস্তি): https://bit.ly/2x6jBFY

নীল রঙের অন্ধকার (চতুর্থ কিস্তি): https://bit.ly/2x7BEvA

নীল রঙের অন্ধকার (পঞ্চম কিস্তি): https://bit.ly/2x7WuuS

নীল রঙের অন্ধকার (ষষ্ঠ কিস্তি): https://bit.ly/2xf97TY

নীল রঙের অন্ধকার (সপ্তম কিস্তি):  https://bit.ly/2p3UUFS

নীল রঙের অন্ধকার (অষ্টম কিস্তি):  https://bit.ly/2xf8VUK

নীল রঙের অন্ধকার (নবম কিস্তি):  https://bit.ly/2QquLgS

শেয়ার করুনঃ
নীল রঙের অন্ধকার (ষষ্ঠ কিস্তি)

নীল রঙের অন্ধকার (ষষ্ঠ কিস্তি)

আমি সুমন(ছদ্মনাম),বয়স ১৯ বছর।

একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি। আমার জন্ম গ্রামের একটি ছোট পরিবারে।

আজ আমি আমার জীবনের ছয়টি বছরের কিছু গোপন কথা আপনাদেরকে বলব।

আমি তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি। সেই সময়টাতে আমাদের গ্রামে ভিসিডি ভাড়ায় আনা হতো এবং প্রায় সব বয়সের মানুষজন দেখতো। তখন বাংলা মুভিগুলোই দেখানো হতো। ভিসিডি আনা নেয়ার কাজটি যারা করতো একটা সময় তাদের সাথে আমার ভালো একটা সম্পর্ক হয়ে যায়।

সে বছর বৈশাখী মেলার দিন কয়েকজন বন্ধু মিলে মুভি দেখছি, তখন রাত প্রায় ১টা। একজন একটা মুভি চালালো যেটা ছিলো পর্নমুভি। আমি অবশ্য দেখতে চাইছিলাম না। সেইদিনই প্রথম পর্নমুভির সঙ্গে আমার পরিচয়।

এর মধ্যে আর কোন দিন পর্ন দেখিনি। তবে যখন ক্লাস সিক্সের শেষের দিকে- হঠাৎ একদিন রাতে দাদা সম্পর্কের একজনের সঙ্গে রাস্তায় দেখা হয় (সেই সময়টাতে অনেকগুলো বিষয় সম্পর্কে আমার স্পষ্ট কোন ধারণা ছিলো না)। তো ওই ব্যক্তির সাথে বিভিন্ন বিষয়ে কথা হচ্ছিল । একটা সময় দেখলাম উনি সেক্স রিলেটিড কথা বেশি বলছেন। আমি উনাকে অনেক সম্মান করতাম তাই পুরোটা সময় তার বিভিন্ন কথা শুনে গেলাম। ওইদিন রাতের কিছু কিছু কথা আমার মনে কৌতুহলের জন্ম দিয়েছিল। যাইহোক এভাবে আমার ক্লাস সিক্স শেষ হলো।

ক্লাস সেভেনে ।

পড়াশোনার চাপ অনেক, আমি পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত।এর মাঝে কয়েকজন বন্ধুর গ্রার্লফ্রেন্ড হয়। আমার  কিছু কিছু বিষয়ে জানার আগ্রহ বাড়তে থাকে । তখন যেগুলো জেনেছিলাম তার প্রায় সবই ছিল ভুল তথ্য ।যাইহোক,সেভেনের শেষ দিকে একটা মেয়ের সাথে আমার সম্পর্ক হয়ে যায়(যদিও এটা এই বয়সের জন্য নয়)। এর মাঝে আমি আরো ৪ বার ভিসিডিতে পর্নমুভি দেখি।

ক্লাস এইট।

পড়াশোনা আর আমার নতুন প্রেম,এই দুইটা নিয়েই আমার সময় কাটতো। অনেক ভালোই চলছিলো সম্পর্কটা আমার । আমি ওই মেয়েটার প্রতি  খুবই দুর্বল হয়ে যায় (এই বয়সের প্রেম জীবনে মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে, নিজের জীবন থেকেই আমি তা শিখেছি)। আমি একটা মাল্টিমিডিয়া ফোন নেই।মাঝে মাঝে মেমোরি কার্ডে পর্নমুভি এনে দেখতাম। ক্লাস এইটের শেষদিকে দুর্ভাগ্যবশত আমাদের ব্রেকআপ হয়ে যায়। ঠিক এর পর থেকেই আমার জীবন অন্যদিকে মোড় নেয়।

ক্লাস নাইন।

আমি একা হয়ে পড়ি, মনে বিষণ্ণতা। তখন একা থাকতে বেশি ভালো লাগতো।আস্তে আস্তে আমি সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। তখন মোবাইলে টানা দুইমাস পর্নমুভি দেখলাম। একদিন আমার এক বন্ধু  একটা লিংক দিলো, আমি মেগাবাইট কিনে সেখানে যাই এবং কিছু গল্প পড়ি।আসলে এগুলো ছিলো চটি গল্প, যা পরে বুঝতে পেরেছিলাম। তখন আমি সময় পেলেই মেগাবাইট কিনে বিভিন্ন সাইটে গিয়ে চটি গল্প পড়তাম। গল্পগুলো আমি অনেক উপভোগ করতাম তখন। স্বাভাবিক ভাবেই মাস্টারবেশনের একটা প্রভাব শুরু হয় আমার মধ্যে। ক্লাস নাইন শেষ হয় এভাবেই ।

 

ক্লাস টেন।

আমি দেখলাম মেয়েদের প্রতি আমার কোন বিশ্বাস বা ভালোবাসা অবশিষ্ট নেই, সব মেয়েকে মনে হয় প্রতারিণী (আসলে এটা আমি অনেক পরে বুঝতে পারি যে, প্রেমের সম্পর্ক নষ্ট হলে অনেকের কাছেই এমন মনে হয়)।

এই সময়টাতে আমি যৌনতার ব্যাপারে প্রচন্ড কৌতুহলী হয়ে উঠি।চটি গল্প বাদ দিয়ে আনলিমিটেড প্যাক কিনে পর্ন ডাউনলোড করতাম আর সেগুলো দেখতাম। তখন আমার স্বাস্থ্য  খারাপ হয়ে যেতে থাকে। তবুও আমি পর্ন দেখতে থাকি(আসলে পর্ন আর মাস্টারবেট, এই দুটোর মাঝে একটা সম্পর্ক সবসময় থাকে)। পর্ন না দেখলে তখন আর ভালো লাগতোনা। এমনও হয়েছে এসএসসি পরীক্ষার আগের রাতেও আমি পর্ন দেখে তারপর ঘুমিয়েছি। সুতরাং আপনারা বুঝতেই পারছেন তখন  কি  মারাত্মক পর্ন আসক্ত ছিলাম আমি। এমনও দিন গেছে আমি চার বারেরও বেশি পর্ন দেখেছি । এসএসসি পরীক্ষার পরের ফ্রি সময়টাতে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। এসএসসি রেজাল্ট ভয়াবহ রকমের খারাপ হয়।

কলেজে ভর্তি হতে এলাম শহরে। তবে ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারিনা, স্যার ক্লাস করান আর আমি টেবিলের নিচে ফোন রেখে পর্ন ডাউনলোড করি। র্ফাস্ট ইয়ারের মাঝোমাঝি সময়ে আমি পিসি নিলাম। কম্পিউটারে এইচডি পর্ন দেখা শুরু হল। হয় দোকান থেকে টাকায় কিনে অথবা বন্ধুদের মোবাইল থেকে নিয়ে দেখি। কিছুদিন পর ব্রডব্র্যান্ড কানেকশন নেই- তখন অবস্থা আরো খারাপ হয়।কেননা অনলাইনে এইচডি পর্ন দেখা যায় যেকোন সময়।

একটা সময় আমি দেখলাম আমার কিছু মনে থাকে না- অথচ নয় দশ বছর আগের কথা সব মনে থাকে।হাজারো সমস্যায় জীবন তেজপাতা। আমি এও বুঝতে পারছিলাম আমি তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছি, কিন্তু পর্ন ছাড়া থাকতে পারছিনা। রাত ২টা বা ৩টা পর্যন্তও আমি পর্ন দেখি। যেহেতু আমি একা রুমে থাকতাম তাই আমি না চাইলেও বার বার দেখতে মন চাইতো।

একদিন ফেসবুকে এই (http://bit.ly/2niIvdK ) নোটটি দেখতে পাই । তখন আমার মনে হল “আমি হয়তো ভুল পথে আছি” এবং এর কিছুদিন পর আমি আরো একটি স্টেটাস দেখতে পাই  পর্নোগ্রাফিঃ মানবতার জন্য হুমকি (https://www.facebook.com/lostmodesty/ ) নামের একটি পেজে। সেদিন থেকে আমার ভেতর অপরাধবোধ কাজ করতে থাকে।আমি অনেক চিন্তা করি, কি করা যায় ? কয়েকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। আমি দেখলাম আমার ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই হচ্ছে না। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম “আর না” !!!!

[এই নোটটিতে(http://bit.ly/2niIvdK ) কিছু সমস্যা আছে। পর্ন/মাস্টারবেশন আসক্তি থেকে বাঁচার জন্য এখানে মেডিটেশান করার কথা বলা হয়েছে। মেডিটেশান করা শিরক। পড়ুন এই সিরিজের (http://www.quraneralo.com/quantam_1/ ) সব কয়টি লিখা- লস্ট মডেস্টি]

 

কিছু বিষয় নিয়ে অসংখ্যবার চিন্তা করেছি। পরে গুগলের সহায়তায় কিছু তথ্য পেলাম। একটা সময় নিজেকেই প্রশ্ন করলাম—-

(ক) পর্ন/মাস্টারবেশনের এর সুফল কী ?

-আমি এর কোন ভালো দিক খুজে পাইনি। শুধু মনের অদৃশ্য শান্তনা।

(খ) পর্ন/মাস্টারবেশনের এর কুফল কী ?

-প্রথমে আমি দেখলাম এটা ব্রেইনের ক্ষতি করছে। আমার অনেক কিছুই মনে থাকেনা, মেজাজ  খিটখিটে থাকে সবসময়।

শারীরিক ভাবে ক্ষতি হয়, আগে আমার যেখানে একটা কাজ করতে ৫মিনিট লাগতো, সেটা করতে এখন ১০মিনিটের মত সময় লাগে। বিভিন্ন অসুস্থতা সবসময় লেগেই থাকে।

মেয়েদেরকে সবসময় ভোগ্যপণ্য মনে হয়। একজন মেয়ে মানুষকে দেখলেই মনে হয় এও হয়তো সেই ধরনেরই মেয়ে।

পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকেনা।

জীবনটা একঘেয়ে হয়ে যায়।

পড়াশোনা বা ক্যারিয়ার সব নষ্ট হয়ে যায়।

নারী নির্যাতনে উৎসাহিত করে……

 আমি এ থেকে বের হয়ে আসতে চাইলাম। কিন্তু পারলাম না।

প্রথমত এটা এমন এক নেশা, যেটা আমার কাছে মাছ ধরার ফাঁদ হিসেবে মনে হয়। মাছের ফাঁদে মাছে ঢুকতে পারে কিন্তু সেখানে থেকে বের হওয়া অনেক কঠিন। এমন হয়েছে কয়েকদিন দুরে থেকেছি আবার শুরু হয়েছে। আমি ৫০ এরও অধিক পদ্ধতি প্রয়োগ করেছি, কোন কোন সময় আমি সফল আবার  কোন কোন সময় ব্যর্থ হয়েছি।

মাঝে এমন হয়েছে, যখন দেখছি আর পারছিনা তখন তাবলীগ জামতে চলে গেছি তিনদিনের জন্য। তখন দেখা গেলো আমার ভেতর আল্লাহর প্রতি একটা ভয় কাজ করে এবং ওগুলো দেখতে মন চাচ্ছে না।

এখন আমি এই কাজগুলো করছি-

১) কম্পিউটারে k-9 ওয়েব প্রটেকশন ইন্সটল করেছি, এবং এমন এক পাসওয়ার্ড যেটা আমিও যানিনা এবং পৃথিবীর কেউ যানে না।

k-9 এর ইউজার ইমেল(যে মেইল দিয়ে k9 রেজিঃ, ডাউনলোড, ইন্সটল করেছি) এর রিকভারি অপশন বন্ধ করেদিয়েছি, অথাৎ এই মেইলের পাসওয়ার্ড হারিয়ে গেলে বা ভুলে গেলে এটা আর রিকভারি করা যাবে না।

মেইলের পাসওয়ার্ড ছোট কাগজে লিছে একটি কোরআন শরিফের ভিতরে রেখে দিয়েছি(যদিও এটা ঠিক হয়েছে কিনা জানিনা, তবে আমি পাপ থেকে মুক্তি পেতে এটা করেছি)।

ইউটিউবে অনেক স্কেন্ডাল বা পর্ন ছড়িয়ে থাকে, বিভিন্ন  মুভিগুতে বেডরুমের দৃশ্য থাকে, যেগুলো আমাকে পর্ন দেখতে প্ররোচিত করে। আর এই কারনে এখন আগামী সাত দিনের জন্য ইউটিউ k-9 এর মাধ্যমে ব্লক করে রেখেছি। যেন আগামী সাত দিন ইউটিউব না দেখতে পারি(যদিও এটা অনেক কষ্টকর হবে)।

ফোনে যেন নেট ইউজ করতে না পারি সেই জন্য রাউটার বিক্রি করে দিয়েছি।

আমি অনেক অনেকবার দেখেছি কুরআন তেলাওয়াত বা নামাজ অথাৎ ধর্মীয় বিষয়গুলো মনকে সতেজ রাখে এবং কোন অপরাধ করার আগে বিবেক দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হয়। এ কাজগুলো আমি আগে করতাম না। এখন করার চেষ্টা করি।

সবার সাথে কানেক্টেড থাকোর চিন্তা করছি।

এখন আমি শপথ করি আজকের পর আর না, কিন্তু ? কিন্তু দেখা গেলো কাল আবারো সেই একই কাজ করে ফেলি।আমার বড় সমস্যা হলো নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছি আমি। আমি জানি এর কারাপ দিকগুলো কিন্তু ওই সময়টাতে আমার আর এইসব কথা মনে থাকে না।

…এখানে সংক্ষেপে কিছুটা লিখার চেষ্টা করেছি মাত্র । ভোর ৫টা বাজতে চললো প্রায় । প্রয়োজনে আমি আরো জানাতে পারবো। আমি চাই আমার মত কেউ যেন এমন না হয়। তরুণদেরকে সতর্ক করুন প্লিজ, আমার দেখা অনেক ছেলে তার জীবনকে নষ্ট করছে প্রতিনিয়তই। আমার জন্য দোয়া করবেন, আপনাদের জন্যও দোয়া রইলো। আমার পরিচয়টি গোপন রাখবেন।

আরো পড়ুন –

নীল রঙের অন্ধকার (প্রথম কিস্তি): https://goo.gl/38nyqS

নীল রঙের অন্ধকার (দ্বিতীয় কিস্তি):   http://bit.ly/2hz9Pqu

নীল রঙের অন্ধকার (তৃতীয়  কিস্তি): http://bit.ly/2hwkT5K

নীল রঙের অন্ধকার (চতুর্থ কিস্তি): https://goo.gl/8cUK9B

নীল রঙের অন্ধকার (পঞ্চম কিস্তি): https://goo.gl/DFL62I

পর্ণঃ জীবনের স্বাদ নষ্টকারী: https://goo.gl/doMrt0

আত্মোপলব্ধিঃ  http://bit.ly/2ibGm4Z

k-9  ইন্সটল করার টিউটোরিয়াল –  https://goo.gl/v69n2c

শেয়ার করুনঃ
নীল রঙের অন্ধকার (দ্বিতীয় কিস্তি)

নীল রঙের অন্ধকার (দ্বিতীয় কিস্তি)

আমার নাম গ্যাব্রিয়েল ।

আমি একজন পর্ন  আসক্ত ।

বয়স যখন ১৩ চলছিল তখন একদিন হুট করেই আমি  পর্ন  মুভি দেখা শুরু করেছিলাম ।  প্রথমবার পর্ন  মুভি দেখার অভিজ্ঞতা আমার কাছে খুব সুখকর ছিলনা ।  আমার এখনো মনে আছে ,   প্রথম দিন পর্ন  মুভি দেখার সময় আমার গা গুলিয়ে উঠেছিল । পেটের ভেতরের নাড়ী ভুঁড়িগুলো দলা পাকিয়ে উপরে উঠে আসতে চাচ্ছিল । বমি করতে পারলে যেন আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচবো এরকম মনে  হচ্ছিল  । আসলে , ঐ পর্ন  মুভিটাতে আমি দেখেছিলাম একজন পুরুষ তার সঙ্গিনীর গলা চেপে ধরে তাকে পাশবিক ভাবে নির্যাতন করছে । আমার বয়স যেহেতু অনেক কম ছিল এবং আমি কখনোই এরকম দৃশ্য আগে দেখিনি এজন্য এটা আমি ঠিক হজম করতে পারছিলাম না ।  সেই ভয়াবহ দৃশ্য আমার  মস্তিষ্কে একেবারে চিরস্থায়ী যায়গা দখল করে নিল । আজকেও, এত বছর পরেও আমি সেই দৃশ্যগুলো চোখের সামনে  স্পষ্ট দেখতে পাই ।

প্রথমবার পর্ন  মুভি দেখার পর আমি বেশ কয়েকদিন মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম । সব সময় কেমন জানি অস্বস্তি লাগতো । ঠিকমতো খেতে বা ঘুমাতে পারতাম না ।  গা গুলাতো সবসময় ।   কিন্তু তারপরেও আমার ভেতর থেকে  সবসময় একটা তাড়না অনুভব করতাম পর্ন  দেখার । কে জানি আমাকে বলতো  , “ যা গ্যাব্রিয়েল যা  ল্যাপটপ টা অন করে পর্ন  দেখ”।   প্রথমবার পর্ন  মুভি দেখার দুঃসহ অভিজ্ঞতার পর  আমি চাচ্ছিলাম না আবার পর্ন  মুভি  দেখতে ।   কিন্তু ভেতরের তাড়নাটার কাছে , নগ্ন নারীদেহ দেখার লোভের কাছে কয়েকদিনের মধ্যেই আমি  পরাজিত হয়ে গেলাম ।   একদিন ল্যাপটপের কাছে আমাকে ছুটে যেতে হল , ব্রাউজার অন করে  পর্ন  ওয়েবসাইটে লগইন করে পর্ন  দেখতে হল । সেইদিন  থেকেই শুরু হল আমার জীবনের  অন্ধকার পর্ব ।

আমার কিশোর বয়সের এই আদিম প্রবৃত্তির আগুনে কেরেসিন ঢেলেছিল আমার বাবার পর্ন  আসক্তি । আমার বাবার কোন চাকুরী ছিল না । আমার মায়ের চাকুরীর উপরেই আমাদের পুরো সংসার নির্ভরশীল ছিল ।  মা যখন অফিসে চলে যেত,তখন আমার বাবা  ড্রয়িংরুমের সোফাতে বসে টিভিতে ঘন্টার পর ঘন্টা পর্ন  মুভি  দেখত ।  গ্রীষ্মের স্কুল ছুটির দিনগুলোতে আমাকে  বাড়িতেই থাকতে হত । আমার ভেতরে এমনিতেই সবসময় ছিল  পর্ন  দেখার তাড়না , তারওপর নিজের বাবাই যখন এভাবে ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে  কোনরকম রাখঢাক না রেখেই খোলামেলা  ভাবে পর্নমুভি দেখত তখন আমি আর কীভাবে নিজেকে আটকাবো ?

আর বাবাও আমাকে কিছু বলতনা ।  বুঝতেই পারছেন পরিস্থিতি কেমন ছিল ।

দিনগুলো এভাবেই চলতে থাকলো ।  স্কুল শেষ করে কলেজে উঠলাম । আমার পর্ন  আসক্তিও আগের মতোই রইলো , কিছুটা বাড়লো বরং ।  আমি তখনো ঠিক বুঝতে পারি নি পর্ন  মুভির আসক্তি আমার কী ক্ষতি করে ফেলেছে ।  যখন বুঝলাম তখন অনেক দেরী হয়ে গেছে ।

জীবনের বেশ কয়েকটি বসন্ত  একাকী পার হবার  পর আমি পেলাম  ভালবাসার মানুষের   খোঁজ ।   প্রথম দেখাতেই ভালো লেগে গিয়েছিল দুজনকে দুজনার । এরপর    বিয়েটা সেরে ফেলতে খুব বেশি দেরী করিনি । কিন্তু আমাদের সংসারটা বেশি দিন টিকলো না ।  প্রথম দিকে  ভালোবাসার কোন কমতি ছিলনা । পাগলের মতো আমি  ভালোবাসতাম ওকে , সেও আমাকে পাগলের মতো ভালবাসতো  । কিন্তু সমস্যাটা ছিল অন্য যায়গায় ।

আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে  দৈহিকমিলনের সময়  সম্পূর্ণ অন্য এক মানুষে পরিণত হয়ে যেতাম  । প্রথম বার  পর্ন মুভিতে দেখা দৃশ্য গুলো আমার চোখের সামনে ভেসে উঠতো বারবার ।   ক্ষুধার্ত বাঘকে   একটুকরো মাংসের সামনে ফেলে  দিলে বাঘ যেমন হয়ে যায় আমার অবস্থাও অনেকটা তেমন হয়ে যেত । আমি যেন একটা পশু হয়ে যেতাম  , যে শুধু   নিজেকেই  তৃপ্ত করতে জানে , যার মন বলে কিছু নেই , যে কখনো  কাউকে ভালোবাসেনি , জানেও না  ভালবাসা কাকে বলে । দৈহিক মিলনের ব্যাপারটা আমার জন্য প্রচন্ড অস্বস্তিকর হয়ে যায় । পুরোটা সময় আমার  ভালবাসার মানুষটাকে  ভোগ করার  একটা মাংসপিন্ড ছাড়া আর কিছুই মনে করতে পারতাম না । আমার স্ত্রী সব  সহ্য করত । কিচ্ছু বলতনা আমাকে । ছলছল চোখে মাঝে মাঝে তাকাতো আমার দিকে। সেই কান্নাভেজা চোখে লেগে থাকতো  অজস্র নীরব দীর্ঘশ্বাস আর বুক ভাঙ্গা চাপা আর্তনাদ ।

নিজেকে ধিক্কার দিতাম বারবার । গ্যাব্রিয়েল , তুমি না তোমার স্ত্রীকে ভালবাসো ? তুমি না তার  নীল চোখের তারায়   খুঁজে  পাও সাত রাজার ধন ? তুমি না একদিন সমুদ্রের পাড়ে সূর্যাস্তের সময় হাঁটতে হাঁটতে  তাকে  স্বপ্ন দেখিয়েছিলে সাদা কালো জঞ্জালে ভরা মিথ্যে কথার এই পৃথিবীটাতে  লাল নীল সংসার পাতার ? তোমার কথা শুনে তাঁর দুচোখের  খুশির  সেই ঝিলিক তুমি ভুলে গেছো । ভুলে গেছো সেই সময়  কিভাবে পরমনির্ভরতায় সে তোমার কাঁধে মাথা রেখেছিল । তোমাকে ঘিরে সেও একটা স্বপ্ন দেখেছিল । সেও চেয়েছিল একটা  ছোট্ট সুখের সংসার ।   আজ তার সঙ্গেই তুমি এমন করছো ?  গ্যাব্রিয়েল তুমি খুব খারাপ মানুষ , গ্যাব্রিয়েল তুমি খুবই  খারাপ মানুষ ।

মানসিকভাবে আমি ভেঙ্গে পড়তে শুরু করলাম । আমার হৃদয়টা সবসময়  খাঁ খাঁ করত ।  আমি চাইতাম আমার স্ত্রীকে ভালবাসতে , পশুর মতো আচরণ না করতে । কিন্তু আমার পর্ন  আসক্তি আমার অন্তরের ভেতরে একটা বিরাট শুন্যতার সৃষ্টি করেছিল,   আমার সমস্ত স্বত্তা থেকে  শুষে নিয়েছিল স্বামী-স্ত্রীর “একান্ত” মুহূর্তে  ভালবাসতে পারার  ক্ষমতা  ।

আমি আর এই ভয়ঙ্কর মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছিলাম না  কিছুদিনের ভেতরেই আমাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল ।আমার এখন বারবার  মনে হয় , ঈশ! আমি যদি কোনদিন পর্ন মুভি না দেখতাম । আমার বাবা যদি পর্ন  আসক্ত না হতো । আমি যদি এমন কোন সমাজে বেড়ে উঠতাম যেখানে  নারীদেহকে স্ক্রিনে এভাবে   ভোগ্যপন্য বানিয়ে  ফেলা হয়নি – তাহলে  পছন্দের মানুষটিকে নিয়ে দেখা আমার স্বপ্নগুলো এভাবে মিথ্যে হয়ে যেত না , ছারখার হয়ে যেত না আমার পৃথিবীটা ।

বৃষ্টি খুব পছন্দ ছিল আমার ।   মাঝে মাঝেই  বৃষ্টিতে   ভিজতাম আমি । একটু বেশিক্ষণ ভিজলেই  আমার  স্ত্রী  ছাতা আর তোয়ালে নিয়ে  হাজির হয়ে যেত । জোরাজুরি করতো মাথা মুছে ছাতার নীচে চলে আসার । আমার যদি জ্বর চলে আসে !

এখনো আকাশ কালো করে বৃষ্টি আসে । আমি সেই বৃষ্টিতে ভিজি ।  এখন আর ছাতা নিয়ে কেউ আসে না আমার জন্য ।

আমি কাঁদি ।

আমার চোখের পানি আর বৃষ্টির পানি মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় । আমার কানে বাজতে  থাকে একটা মিষ্টি কন্ঠ – এইযে সাহেব, আর  ঢং করতে হবে না । ঠান্ডা লেগে যাবে তো ।  তাড়াতাড়ি মাথা মুছে ছাতার নিচে চলে আসুন তো, কুইক ।

(মূল লিখাটি https://fightthenewdrug.org/ সাইট থেকে সংগৃহীত)

 

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত এবং পরিমার্জিত)

প্রথম পর্ব পড়ুন  এখানে

তৃতীয় পর্ব পড়ুন এখানে

চতুর্থ পর্ব পড়ুন এখানে

শেয়ার করুনঃ
নীল রঙের অন্ধকার (তৃতীয় কিস্তি)

নীল রঙের অন্ধকার (তৃতীয় কিস্তি)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

বাবা,

প্রথমেই বলে নি আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি আর তোমার জন্য আমার জীবনে যে ক্ষতি হয়েছে তার জন্য আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিচ্ছি। তোমার পর্ন দেখার কারণে আমার কি সমস্যা হয়েছে তা তোমার জানা উচিত। তুমি ভাবো এটা শুধু তোমার কিংবা তোমার আর আম্মার সম্পর্কে প্রভাব ফেলে।তুমি বুঝতেও পারোনি এটা কি গভীর সংকটে ফেলেছে তোমার সন্তানদের।

বয়স আমার ১২, সদ্য কিশোরী বয়সে পা দিচ্ছি, এমন সময়ই আমি তোমার কম্পিউটারে পর্ন আবিষ্কার করি।প্রথমত আমার খুব অবাক লাগতো, কারণ তুমি একদিকে আমাকে বলছ মুভি থেকে এটা ওটা না করতে আর নিজেই দিনের পর দিন এসব আবর্জনা গিলে চলেছ।আমি কি দেখব আর কি দেখব না এসব যখন তুমি বলতে আসতে তখন আমি এক কান দিয়ে শুনে আর এক কান দিয়ে বের করে দিতাম, কারণ আমি জানতাম তুমি একটা ভন্ড!

আমি জানতাম, আম্মা একমাত্র নারী না যাকে তুমি চাও।তুমি যে আড় চোখে আমাদের দেখতে আমার সেটা নজর এড়ায়নি। তোমাকে দেখে পুরুষ জাতির প্রতি আমার প্রবল বিতৃষ্ণা তৈরি হয়।ভেবে বসি, সব পুরুষই বোধহয় তোমার মতো বিকৃত মানসিকতার হয়!

তুমি আমাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছিলে কীভাবে আমার পোশাক আশে পাশের মানুষকে উদ্দীপ্ত করে আর কীভাবে আমার নিজের অন্তরাত্মাকে আরো সুন্দর করা উচিত।কিন্তু তোমার কাজে কর্মে আমি বুঝেছিলাম আমি তখনি সুন্দর হতে পারব যখন আমি ম্যাগাজিনের কভারের মেয়েটির মত বা তোমার পর্নের মেয়েটির মত হতে পারব। তোমার কথার কোন মূল্যই তাই আমার কাছে ছিল না,বরং তোমার ‘লেকচার’ শুনতে খুব বিরক্ত লাগতো।

যত দিন যাচ্ছিল, এই পচে যাওয়া সমাজ শুধু আমার কানের কাছে শুধু ভ্যান ভ্যান করে যাচ্ছিল, আমি তখনই নিজেকে সুন্দর ভাবতে পারব যখন আমি “তাদের” মত হব।তোমার প্রতি বিশ্বাসটা দিন দিন শূন্যের কোঠায় নেমে আসছিল, কারণ তুমি যা বলতে  ঠিক তার উল্টোটা করতে।আমি হন্যে হয়ে এমন একজনকে খুঁজে বেড়িয়েছি যে শুধু আমার অঙ্গসৌষ্ঠব এর জন্য আমাকে ভালবাসবেনা,আমি মানুষটার জন্য ভালবাসবে।

বাসায় আমার বান্ধবীরা এলে আমি ভাবতাম তুমি কী চোখে তাদের দেখতে! আমার বান্ধবীর মত দেখতে নাকি তোমার নষ্ট কল্পনার কোন এক অংশ হিসেবে?

আমি বিয়ে করলাম  এমন একজন পুরুষকে যার জীবনে পর্নোগ্রাফি ছোবল দিতে পারে নি।আমি এখনো আমার ভেতর থেকে পুরুষ জাতির প্রতি অবিশ্বাস ঝেড়ে ফেলতে পারিনি।হ্যাঁ বাবা, তোমার পর্ন দেখা আমার স্বামীর সাথে আমার সম্পর্কে বছরের পর বছর প্রভাব রেখে গেছে।

আমি তোমাকে শুধু একটা কথাই বলতে চাই, হয়তো তুমি এখনো বুঝবে না, তোমার পর্নআসক্তি শুধু তোমার জীবন ধ্বংস করে নি, আমাদের সবার জীবন নষ্টের বিষাক্ত বীজ বপন করেছে।আমি যখনি চিন্তা করি আমাদের সমাজে কি গভীর শিকড় গেড়ে বসে গেছে এই ভয়ংকর নেশা, আমি অসুস্থবোধ করি।আমার প্রচন্ড খারাপ লাগে যখন আমার ছোট্ট ছেলের সাথে পর্ণের ভয়াবহতা নিয়ে কথা কথা বলতে হয়।আমি তাকে বুঝাই পর্ন আর দশটা পাপাচারের মতই শুধু নিজেকে না, আশে পাশের সবাইকে আঘাত করে।

আমি তো তোমাকে ক্ষমা করেই দিয়েছি।ঈশ্বর আমাকে এই কুপ্রভাব থেকে যেভাবে সরিয়ে এনেছেন সে জন্য আমি তার প্রতি সত্যি কৃতজ্ঞ।এখনো মাঝে মাঝে শিউরে উঠি। আমি প্রার্থনা করি যেন তুমি এই নোংরা নেশা থেকে বের হয়ে আসতে পারো, আরও অসংখ্য পুরুষ যেন এর করালগ্রাস থেকে মুক্তি পায়।

-তোমার আদরের মেয়ে

রেফারেন্সঃ https://faithit.com/an-open-letter-to-the-dad-looking-at-porn/

পড়ুন – প্রথম পর্ব , দ্বিতীয় পর্ব , 

চতুর্থ পর্ব

শেয়ার করুনঃ