ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ মাস্টারবেশন থেকে মুক্তি (শেষ কিস্তি)

ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ মাস্টারবেশন থেকে মুক্তি (শেষ কিস্তি)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম। 

হস্তমৈথুন ও Diet Meal Plans: –

 কিছু কিছু খাদ্য দ্বারা আমাদের Libido (desire for sexual activity ) নিয়ন্ত্রিত হয় । এই বিষয়ে Cynthia Sass (author of S.A.S.S Yourself Slim) বলেন — “Studies show that certain foods or nutrients do play a role in boosting libido and supporting a healthy sex life.” [1]

যেসব খাবার Libido বাড়ায় তাদের বলা হয় Aphrodisiac Foods বলে। Aphrodisiac Foods মানুষের Libido বাড়াতে সাহায্য করেএই জন্য একে Foods of Love ও বলা হয় । অপরদিকে Anti-aphrodisiac বা Anaphrodisiac Foods মানুষের Libido কমাতে সাহায্য করে । তাই আপনার ফুড প্ল্যানে যদি Aphrodisiac Foods বেশি থাকে তাহলে আপনার Sexual Urge ঘন ঘন হতে পারে এবং পাওয়ারফুলও হতে পারে। তাই হস্তমৈথুন রোধে আপনাকে একটা ব্যালেন্সড ডায়েট মেনে চলতে হবে যেখানে Aphrodisiac Foods এর পরিমাণ অতিরিক্ত হবে না । Anti-aphrodisiac foods গুলো আমি খেতে বলব না কারণ এইগুলোর খারাপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে।তাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাল হয় যদি Aphrodisiac Foods খাওয়া কমিয়ে দেয়া হয় ।

আমি কিছু Aphrodisiac Foods এর নাম বলছি ব্যাখ্যাসহ এবং Anti-aphrodisiac এর সম্পর্কেও কিছু তথ্য দিব ।

Aphrodisiac Foods :-

Fruits:-

Watermelon (তরমুজ ) :- তরমুজের একটা টুকরো sweet libido-booster হিসেবে কাজ করতে সক্ষম । Texas A&M Fruit and Vegetable improvement Center এর রিসার্চাররা ২০০৮ সালে এক আর্টিকেলে বলেন যেতরমুজের কিছু উপাদান আছে যা মানুষের শরীরে Viagra- like effects দিতে সক্ষম।

তরমুজ একধরণের Phytonutrient উপাদান ধারণ করে যার নাম হল Citruline । এই Citruline কে আমাদের শরীর arginine নামক অ্যামিনো এসিডে কনভার্ট করে । আর এই arginine আমাদের শরীরে নাইট্রিক এসিডের লেভেল বাড়ায় যার ফলে আমাদের Blood vessel গুলো relaxed হয় ।আর Viagra মেডিসিনও এই একই পদ্ধতিতে কাজ করে থাকে। তাই যখন এই ফলের সিজন আসবে তখন অবিবাহিতদের জন্য এই ফলটা একটু কম খাওয়াই ভাল হবে।

Mango (আম ) :- Vitamin E এর ভাল প্রাকৃতিক উৎস হল আম । এই Vitamin E কে বলা হয় sex vitamin । এইজন্য আম হল একটা Aphrodisiac Fruit 

Banana (কলা ) :- কলা হল B-group Vitamin ও পটাশিয়ামের দারুণ উৎস। এই দুটি পুষ্টি উপাদান সেক্স হরমোন প্রোডাকশনে ব্যবহৃত হয় । এছাড়া কলা ‘Bromelain ‘ নামক এনজাইম প্রডুস করে ধারণা করা হয় এই এনজাইম male libido বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

Apple (আপেল) :- আপেলে ‘Quercetin’ নামক একধরনের antioxidant থাকে ।‘Quercetin’ এর কারণেই একে Aphrodisiac Fruit বলে গণ্য করা হয়। এছাড়া বেরি কাল-আংগুর চেরিতেও ‘Quercetin’ থাকে ।

Animal-Based Protein:-

Egg (ডিম) :- ডিম হল হাই প্রোটিনযুক্ত খাদ্য। আর প্রোটিন Aphrodisiac effect বাড়ায় । এছাড়া ডিম হল L-arginine নামক অ্যামিনো এসিডের ভাল উৎস । আর এই L-arginine যৌন রোগ erectile dysfunction এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় । তাই বিবাহিত ভাইয়েরা বেশি বেশি ডিম খান আর অবিবাহিতরা ডিম খাওয়া কমিয়ে দিন ।

Meat (মাংস ) :- বিফ ও চিকেনে Carnitine ও L-arginine নামক অ্যামিনো এসিড থাকে আর থাকে জিংক । Carnitine ও L-arginine রক্তপ্রবাহ ইম্প্রুভ করে এবং সেক্সুয়াল Function এর জন্যও এরা গুরুত্বপূর্ণ । জিংকও সেক্সুয়াল Function এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।

 Vegetables:-

Tomato (টমেটো :- Love Apple নামে পরিচিত টমেটোতে প্রচুর ভিটামিন-এ থাকে । আর এই ভিটামিন-এ টেস্টোস্টেরন উৎপাদনে Vital Role পালন করে।

Carrot (গাজর):- গাজরকে ভায়াগ্রার ভেজিটেবিল ভার্সন বলা যায়।কারণ গাজরে ভিটামিন-এ ও ভিটামিন-ই দুইটাই থাকে যা সেক্স হরমোনকে পজিটিভলি ইফেক্ট করে থাকে ।

 Chilies (মরিচ ) :- মরিচে থাকা Capsaicin হার্টবিট বাড়ায় এবং endorphin রিলিজ করতে সাহায্য করে যা কিনা Libido বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে ।

Others:- Honey (মধু) :- মধুতে প্রচুর ভিটামিন-বি থাকে যা টেস্টোস্টেরন উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন হয়।

Garlic (রসুন ) :- রসুনে ‘ Allicin ‘ নামক পদার্থ থাকে । ‘ Allicin ‘ সেক্সুয়াল অর্গানগুলোতে রক্তপ্রবাহ বাড়ায় যা কিনা Libido বৃদ্ধিতে সহায়ক । এছাড়া আরো Aphrodisiac Foods আছে। আমি শুধু যেগুলো সহজলভ্য সেগুলোর নামই উল্লেখ করেছি ।

Anti-Aphrodisiac Foods :-

প্রাচীন যুগ থেকেই Anti-Aphrodisiac এর খোঁজ শুরু হয়ে ছিল । মধ্যযুগে যৌন চাহিদা কমানোর জন্য সাধুরা Chaste Tree এর Berry খেত ।যদিও এখন Anti-Aphrodisiac হিসেবে এটা ব্যবহৃত হয় না। বেশির ভাগ Anti-Aphrodisiac এর ব্যাড ইফেক্টস আছে কিছু ।কারণ কিছু Anti-Aphrodisiac টেস্টোস্টেরনের লেভেল একেবারে কমিয়ে দেয় ।আর টেস্টোস্টেরন পুরুষের দেহ গঠনে ও রিপ্রোডাক্টিভ সিস্টেমে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।

Anti-Aphrodisiac Drug এর কাজ হল ভায়াগ্রার বিপরীত যাকে Anti-Viagra বলা হয় । আর এই ড্রাগগুলো সাধারণত জেলে থাকা বন্দীদের দেয়া হয় যাতে বন্দীদের যৌন উত্তেজনা প্রশমিত হয় ।এছাড়া যাদের Over-active Sexual Drive আছে তারাও ডাক্তারের পরামর্শে এই ধরনের ড্রাগ নিয়ে থাকেন।

আমি শুধু দুইটা পয়েন্ট দিব Anti-Aphrodisiac সম্পর্কে –

১) Rice :- ভাত খাওয়ার মাধ্যমে টেস্টোস্টেরনের লেভেল কমানো যায় ।[2] কারণ ভাতে ফ্যাট কম থাকে । আর এর সাইড ইফেক্টসও নেই ।

২) Green and Yellow Vegetables :- সবুজ এবং হলুদ শাক-সবজিও ভাল Anti-Aphrodisiac হিসেবে কাজ করে ।

ডায়েট যেভাবে করবেন :-

Aphrodisiac Food গুলোর বড় লিস্ট দেখে হয়তো অনেকে ভাবছেন যে, “আরে ভাই সব খাবারের নামই তো দিয়ে দিলেন তাহলে আমরা খাব টা কি ? ” আসলে আমি Aphrodisiac Food খেতে নিষেধ করি নি। আমি বলতে চাচ্ছি যে আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যেন Aphrodisiac Food গুলো কম থাকে। যেমন ধরুন–কেউ সকালে পুরো অর্ধেক একটা তরমুজ খেয়ে নাস্তা করলদুপুরে চিকেন খেল বিকালের নাস্তায় কলা ও আম খেল আবার রাত্রে বিফ ও ডিম খেল! তাহলে এটা হয়ে যাবে Aphrodisiac Based Diet Plan ।তাই আপনাকে যেটা করতে হবে সেটা হল প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই ধরনের খাবার কমিয়ে রাখা ,একেরবারেই ছেড়ে দিতে হবে এমন কোন কথা নেই। কারণ Aphrodisiac খাদ্যগুলোর মধ্যে কিছু আছে যা স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভাল ।

আর সবচেয়ে ভাল হয় Plant Based Diet করলে । কারণ গবেষণায় দেখা যায় যে , Plant Based Diet মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়ায় । তাই শাক-সবজি বেশি খাবেন আর Animal-Based খাদ্য যেমন – বিফ ,চিকেন এগুলো কম খাবেন।

আর আপনি যদি হস্তমৈথুন থেকে একেবারেই মুক্তি পেয়ে যান তাহলে এই ডায়েট Plan স্ট্রিকলি ফলো করার দরকার নেই । যদি আপনি ১ম  ও ২য় কিস্তির  সমাধানগুলোও স্ট্রিকলি মেনে চলেন তাহলে এই ডায়েট Plan আপনার জন্য Optional হবে।

আল্লাহ্‌ আমাদের হস্তমৈথুনের ফিতনা থেকে হিফাজত করুন । আমীন ।

 পড়ুনঃ 

ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ মাস্টারবেশন থেকে মুক্তি – https://bit.ly/2N9OeEM
ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ মাস্টারবেশন থেকে মুক্তি (দ্বিতীয় কিস্তি) – https://bit.ly/2p2f9E1 

 

লেখক-  ফরহাদ হোসেইন মিঠু ।  উনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত। আল্লাহ ভাইকে উত্তম প্রতিদান দান করুক। 

রেফারেন্স :-

[2] “Foods That Fight Pain: ” by Dr. Neal Barnard

[3] পুষ্টিবিজ্ঞানের তথ্যগুলো নেয়া হয়েছে বিভিন্ন আর্টিকেল থেকে।

শেয়ার করুনঃ
ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ মাস্টারবেশন  থেকে মুক্তি

ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ মাস্টারবেশন থেকে মুক্তি

শহুরে মুরগীর কুঠির জীবন চাওয়া-পাওয়া ,সাফল্য-ব্যর্থতার সংজ্ঞা পালটে দিয়েছে । কর্ম ব্যস্ত জীবনের চাপে পিষ্ট হয়ে আমাদের হাসফাস অবস্থা । ভোগবাদী সমাজ সুকুমার বৃত্তি গুলো  ধ্বংস করে দিচ্ছে । নগ্নতা, অশ্লীলতা, অনাচারকে সাদরে বরণ করে নেওয়ার জন্য   ড্রয়িংরুমে হাজার হাজার টাকা দিয়ে কেনা “বোকা বাক্সটা”তো সাজিয়েই রেখেছিই । এরকম এক ভয়াবহ অস্থির  সমাজে তরুণরা যে নানা বদ অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে যাবে সেটাই স্বাভাবিক । আমাদের তরুণরা যত রকম বদ অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে গেছে তার মধ্যে বেশ ভয়াবহ একটা হল হস্তমৈথুন  ।

তরুণদের ছি ছি করে লাভ নেই, গাধার সামনে মুলো ঝুলোলে  এরকমই হয় । অনেক তরুণ আছে যারা এই    থেকে বের হয়ে আসতে চায় । কিন্তু “ভালবাসার  মোড়কে কাম বেচা” এই সমাজে সেটা প্রায় অসম্ভব । আবার এই পঁচে যাওয়া সমাজটাও তো পরিবর্তিত হচ্ছেনা। তাহলে কীভাবে কি ? সারা জীবনই কি তরুণেরা হস্তমৈথুনের দুষ্টচক্রের মধ্যে বন্দী হয়েই থাকবে? মাথা কুটে কুটে দিন পার করবে?

অসম্ভবকে সম্ভব করাই মানুষের কাজ । চলুন দেখি কীভাবে বের হয়ে আসবেন এই ভয়ঙ্কর দুষ্টচক্র থেকে

 

১) প্রথমেই উপলব্ধি করুন এটা আপনার জন্য ভাল না ।

আপনি কি  এর ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে জানেন –

  •  হস্তমৈথুন   আপনাকে দীর্ঘ মেয়াদী বিষন্নতায় ভোগাবে
  • আপনাকে ভাবতে শেখাবে শুধুমাত্র এটাই আপনাকে সুখ দিতে পারে
  • দাম্পত্য জীবনে আপনি ভয়াবহ রকমের ব্যর্থ হবেন
  • এটা করার পর আপনার নিজেরই নিজেকে ঘৃণা করতে ইচ্ছা করবে । নিজের কাছে নিজেকেই দোষী দোষী বলে মনে হবে । আপনার স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় ব্যাঘাত ঘটবে।
  • হস্তমোইথুন একপর্যায়ে আপনার প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে ।

এছাড়াও অতিরিক্ত হস্তমৈথুন করলে  আপনি যে সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হবেন

  •  পিঠ এবং পিঠের নিম্নাংশে ব্যাথা
  • চুল পড়া
  • অলসতা
  • চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়া
  • সবসময় ক্লান্তি অনুভব করা
  • স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া
  • আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া

অতিরিক্ত হস্তমৈথুন  আপনার ইজাকুলেশান টাইমকে কমিয়ে দিবে । এতে আপনার লাইফ পার্টনার অতৃপ্তিতে ভুগবেন, যা অনেক পাপের পথ খুলে দিতে পারে ।

বিস্তারিত পড়ুন চোরাবালি সিরিজে

২) হস্তমৈথুন  যে বেশ ক্ষতিকর এটা আপনি উপলব্ধি করে ফেলেছেন । তারমানে আপনি হস্তমৈথুন   থেকে রিকভারি করার প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ করে ফেলেছনে ।   এখন আপনার কাজ হল কেন আপনি হস্তমৈথুন   করেন এই বিষয়টা বের করে ফেলা । আপনার প্রাত্যাহিক রুটিনের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে ফেলুন; কি কি বিষয়সমূহ আপনাকে হস্তমৈথুন  করতে বাধ্য করছে ।

আপনি কি

  • প্রাত্যাহিক রুটিনে আপনি বিরক্ত হয়ে গেছেন ?
  • অধিকাংশ সময়ই একা থাকেন ?
  • হতাশ?
  •      হতাশা, দুশ্চিন্তা, ক্লান্তি,জীবনের গ্লানি,অবসাদ  দূর করার জন্য হস্তমৈথুন করেন ?
  • আপনার হাতে প্রচুর অবসর সময় এবং আপনার করার কিছুই নেই?
  • নিয়মিত পর্ন মুভি, আইটেম সং দেখেন?

৩) এবার আমরা দেখব কীভাবে হস্তমৈথুন  এর দুষ্টচক্র ভেঙ্গে বের হয়ে আসতে হবে ।

প্রথমত, আপনি  নিজের উপর ভরসা করতে শিখুন । প্রচুর পরিমানে দু’আ করুন আল্লাহ্‌র কাছে । দু’আর শক্তিকে কখনোই অবহেলা করবেন না । অনেক অনেক লোক আল্লাহ্‌র উপর ভরসা করে তাঁর কাছে দু’আ করার মাধ্যমে হস্তমৈথুন   থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছে । কাজেই আপনি দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হন, আপনি হস্তমৈথুন করা ছাড়তে চান এবং আপনি অবশই সেটা পারবেন।

আপনার অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন । কোন বিষয়ে আগ্রহ থাকলে (ফটোগ্রাফি, সাইক্লিং) সেটা নিয়ে লেগে থাকার চেষ্টা করুন । হবি গ্রোআপ করার চেষ্টা করুন । ভালো, দ্বীনি ফ্রেন্ড সার্কেলের সংস্পর্শে থাকার চেষ্টা করুন ।

সবসময় মনে রাখবেন, আপনি  অবশ্যই হস্তমৈথুন করা পুরোপুরি ছেড়ে দিতে পারবেন । এবং হস্তমৈথুনের   বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে আপনি একা নন ।

এছাড়াও যা করতে পারেন

  • জীবন কে উপভোগ করতে শিখুন
  • আপনার প্রাত্যাহিক জীবনকে যতবেশি সম্ভব কর্মব্যস্ত করে তুলুন
  • রোজা রাখতে পারেন । এটা আপনার অতিরিক্ত এনার্জি শুষে নিয়ে আপনাকে হস্তমৈথুনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে (সপ্তাহে অন্তত একদিন রোজা রাখার চেষ্টা করুন । সোমবার অথবা বৃহস্পতিবার । রাসূল (সাঃ) বলেছেন,যার বিয়ে করার সামর্থ্য আছে সে যেন বিয়ে করে নেয় । আর বিয়ে করার সামর্থ্য না থাকলে সে যেন রোজা রাখে।)

আপনি যদি কতগুলো অভ্যাস বদলাতে পারেন তাহলে ইনশা আল্লাহ্‌ অবশ্যই  হস্তমৈথুন করা ছাড়তে পারবেন ।

  • সালাত আদায় করার চেষ্টা করুন। নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।
  • পর্ন মুভি দেখা বন্ধ করুন  । কম্পিউটার এমন যায়গায় রাখুন  যেখানের বসে কিছু দেখলে সবাই আপনাকে দেখতে পাবে ।
  • চোখের হেফাজত করুন। (এটা খুব খুব জরুরি)  বিভিন্ন পত্রিকার বিনোদন পেইজ, ক্রোড়পত্র পড়া থেকে  বিরত থাকুন । মিউজিক ভিডিও, ভারতীয় অশ্লীল বিনোদন থেকে নিজেকে বাঁচান ।
  • যে সময়টাতে এবং যে যায়গাটাতে আপনার মধ্যে হস্তমৈথুন করার ইচ্ছা জাগ্রত হয় সেই সময় একা একা না থেকে মানুষজনের সংস্পর্শে থাকার চেষ্টা করুন । এবং পারতপক্ষে সেই  যায়গাতে যাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখুন
  • যদি গোসলখানায় এই ব্যাপারটা মাঝে মাঝেই ঘটে, তাহলে গোসলখানায় যতকম সময় থাকা সম্ভব ততকম সময় থাকুন । গোসলখানায় বিভিন্ন জটিল বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে থাকুন । মনে মনে ম্যাথ সল্ভ করতে পারেন । ধাঁধার উত্তর খুজতে পারেন । নিজেকে যত কম সম্ভব তত কম স্পর্শ করুন
  • নিয়মিত এক্সারসাইজ করুন । জগিং করতে পারেন,সাঁতার কাটতে পারেন । বাচ্চাদের সঙ্গে খেলতে পারেন।

একটা বিষয় মাথায় রাখা খুব খুব জরুরী সেটা হল আপনি  প্রথমবারেই  হস্তমৈথুন করা ছেড়ে দিতে পারবেন না । আপনি যদি প্রত্যেকদিন হস্তমৈথুন করেন তাহলে নিজেকে টার্গেট দিন , এখন থেকে আগামী ৩ দিন আমি হস্তমৈথুন করব না । এই টার্গেট পূরন করতে পারলে নতুন টার্গেট ঠিক করুন আমি আগামী ৭ দিন হস্তমৈথুন করব না । এটা পূরন করতে পারলে আবার নতুন টার্গেট ঠিক করুন। আমি আগামী ১৪ দিন মাস্টারব্রেট করব না । এভাবে চালিয়ে যেতে থাকেন । আর হ্যাঁ প্রতিবার টার্গেট পূরন করার পর নিজেকে  পুরষ্কার  দিতে ভুলবেন না । চকোলেট খেতে পছন্দ করেন, তো বেশি বেশি চকোলেট খান । বিরিয়ানীর কথা শুনলেই জিভে জল চলে আসে , তাহলে ঘুরে আসুন বিরিয়ানির দোকান থেকে ।

আর নিজের জন্য প্রচুর পরিমাণ দু’আ করতে থাকুন ।

ইনশা আল্লাহ্‌ আপনি পারবেনই  ।

শেয়ার করুনঃ
বৃত্তের বাইরেঃ পর্নোগ্রাফি থেকে মুক্তি

বৃত্তের বাইরেঃ পর্নোগ্রাফি থেকে মুক্তি

যদিও বিষয়টি নতুন, পর্নোগ্রাফি পৃথিবীর প্রায় সকল শ্রেণীর মানুষকে আক্রান্ত করেছে। পুরনো দিনগুলোই ভালো ছিল, কারণ তখনকার লোকজন এরকম কোন বিষয়ের মুখোমুখি হয়নি যেটি তাদেরকে কামনা ও যৌনলালসার গোলাম বানিয়ে দেয়। প্রতি মাসে প্রায় ৭.৫ কোটি লোক প্রাপ্তবয়স্কদের (adult) ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে, সার্চ ইঞ্জিনে প্রায় ২৫ শতাংশ সার্চ থাকে পর্নোগ্রাফি সম্পর্কিত এবং পর্নোগ্রাফি থেকে সারাবিশ্বে আয় হয় প্রায় ৫৭ বিলিয়ন ডলার।

ইন্টারনেট আসার আগে, আত্মনিয়ন্ত্রণহীন ও আত্মসম্মানহীন কিছু লোক দোকানে প্রাপ্তবয়স্কদের (adult) ম্যাগাজিন বা ভিডিও কিনতে যেতো, কিন্তু এখন বাড়িতে বসে এবং সবার চোখের আড়ালেই এগুলো পাওয়া সম্ভব।

“সবার চোখের আড়ালে” কথাটা ঠিক না, আল্লাহ তা’লা সবসময় তো দেখছেনই।

একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের সামাজিক দিকগুলো নিয়ে খুব ভালো আলোচনা আছে। যেসব লোক পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত, যারা এটা থেকে বিরত হওয়ার চেষ্টা করছেন এবং যারা এ আসক্তি থেকে ফিরে এসেছেন তারা সবাই সেখানে তাদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।  কিছু জনপ্রিয় বক্তাদের কাছ থেকে ইসলামিক উপদেশও যুক্ত করা হয়েছে। সবকিছু প্রকাশ করা সম্ভব না হলেও, এ ধরনের আসক্তি থেকে সফলভাবে ফিরে আসার গল্প ও কিছু উপদেশ সংযুক্ত করা হয়েছে, যেটি এ ধরনের অভ্যাস থেকে ফিরে আসতে সাহায্য করবে। তেমনি কিছু টিপস নিয়েই আমাদের এই লিখাটি।

…আমি ২৫ বছর বয়সের একজন যুবক, আমি পর্ন আসক্তি ও হস্তমৈথুন আসক্তি থেকে ফিরে আসার চেষ্টা করছি। আমার বয়স যখন ১০-১১ বছর, তখন হঠাৎই হস্তমৈথুন শুরু করি। তখন বুঝতে পারিনি আমি কি করছি এবং আমি জানতাম না যে এটা হারাম (আমি এটা গোপনে করতাম, যদিও আমি তখন ছোট ছিলাম তবুও আমি বুঝতাম যে এটা খারাপ)। যাইহোক, আমি এটা প্রায় ২ বছর পর্যন্ত চালিয়ে যাই এবং তারপর একদিন পর্নোগ্রাফি আবিষ্কার করি। আমি বিব্রত বোধ করতাম বলে দোকান থেকে ম্যাগাজিন কিনতে পারতাম না, তাই আমি পর্নোগ্রাফি সম্পর্কিত বিষয় এর জন্য বড়দের পুরনো বইপত্র খোঁজাখুঁজি করতাম।

আমি অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকতাম এবং আমার বাবা-মা ঘুমিয়ে পড়লে শেষ রাতের অশ্লীল অনুষ্ঠান দেখার জন্য টি.ভি. চালিয়ে রাখতাম। (আমি এগুলো গোপনে দেখার জন্য দরজা ভিড়িয়ে রাখতাম এবং কেউ আসার শব্দ পেলে সাথে সাথে তা লুকিয়ে ফেলতাম)।

একসময় বিষয়টা আমার কাছে খুব খারাপ মনে হলো এবং আমি নিজেকে অপরাধী বোধ করলাম। তাই বিষয়টা নিয়ে আমার বাবার সাথে কথা বলার সিদ্ধান্ত নিলাম, তখন আমার বয়স ছিলো ১৩। তিনি এ ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করলেন এবং আমাকে কিছু বাস্তবধর্মী উপদেশ দিলেন। উপদেশগুলো কয়েকমাস পর্যন্ত কাজ করলো এবং আমার বাবা মনে করলেন যে তিনি সফল হয়েছেন। কিন্তু, দুর্ভাগ্যবশত আমি আবার আগের অভ্যাসে ফিরে গেলাম।

আমি এগুলো কয়েকবছর পর্যন্ত চালিয়ে গেলাম, আমার বয়স ১৫/১৬ হওয়া পর্যন্ত (এই সময়টাতে আমার নিজেকে অপরাধী মনে হয়েছে, কিন্তু তারপরও আমি চালিয়ে গিয়েছি)। এটা হওয়ার কারণ, ইন্টারনেট সহজলভ্য হয়ে গিয়েছিল। এর ফলে পর্ন ভিডিও দেখা আমার জন্য অনেক সহজ হয়ে গেলো (এগুলোর জন্য কোন দোকানে যাওয়ার দরকার ছিলো না, বরং ইন্টারনেটে বিভিন্ন ধরনের পর্ন ভিডিও সহজেই পাওয়া যেত)।

পর্নআসক্তি মাদকাসক্তির মতোই, আপনি এখানে বিনামূল্যে যুক্ত হতে পারবেন, তারপর যখন পুরোপুরি আসক্ত হয়ে পড়বেন তখন আপনি বাধ্য হবেন বিক্রেতার কাছে ফিরে যেতে। কিন্তু আপনাকে  টাকা খরচ করতে হবে আরো উন্নত মানের পর্ন ভিডিও পাওয়ার জন্য। প্রায় দুই বছর পর আমি লক্ষ্য করলাম বিনামূল্যে পাওয়া পর্ন ভিডিওগুলো আমার জন্য যথেষ্ট না, আমার চাহিদা বাড়তে থাকায় তা মেটানোর জন্য আরো বেশি পর্ন ভিডিও প্রয়োজন। এক কথায় বলতে গেলে, যতই দিন যাচ্ছিল ততই এসবের চাহিদা বাড়তে থাকলো। আমার বয়স যখন প্রায় ২০, তখন আমি এ সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় হিসেবে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলাম।

দুর্ভাগ্যবশত, বিয়ে করার পর কয়েকমাস এগুলো থেকে বিরত থাকলেও আমি আবার আগের অভ্যাসে ফিরে গেলাম।

যাইহোক, প্রায় এক বছর আগে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আমার এতটা নীচে নামার কারণ হচ্ছে আমার ভেতরের পশুত্ব, এটা আমাকে সব দিক থেকে গ্রাস করেছে। আমি অনেকবার চেষ্টা করেছি এই পশুটাকে হত্যা করার জন্য, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি।

তারপরও, এক বছর আগে এমন কিছু একটা ঘটেছিল যার ফলে আজ আমি এই ফোরামে বলতে পারছি যে, আমি এই পশুটাকে হত্যা করেছি। আসলে আজ আমার বিজয়ের প্রথম বর্ষপূর্তি। অন্যান্য আসক্তদের মতো আমারও মনের ভেতর ধারণা ছিল যে, আমি হয়ত নিজেকে বেশিদিন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবো না। এক বছর আগে আমি যখন এসব থেকে ফিরে আসলাম, তখন বুঝতে পারলাম যে, আমার মনের ভেতরের এই ধারণা দূর করতে হবে। কারণ, এই ধারণা আমার ফিরে আসাকে অর্থহীন করে দেবে। তাই আমি স্থির হয়ে বসে পর্নোগ্রাফির সব খারাপ প্রতিক্রিয়াগুলো সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করলাম এবং নিম্নোক্ত প্রতিক্রিয়াগুলো খুঁজে পেলামঃ

১। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, এটি আপনাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে।

২। সবসময় নিজেকে অপরাধী ও নিরর্থক মনে হবে।

৩। সবসময় নিজের কাছে লজ্জিত হবেন, যার ফলে নিজের আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাস কমে যাবে।

৪। মূল্যবান সময় নষ্ট হবে, যে সময়টাতে নতুন কিছু শেখা বা বন্ধুদের সাথে উপভোগ করতে পারতেন।

৫। নিজের কাজগুলোকে গোপন রাখার জন্য মিথ্যা বলতে হবে এবং এই মিথ্যাগুলোকে ঢাকার জন্য আবার মিথ্যা বলতে হবে, এভাবে চলতেই থাকবে।

৬। স্ত্রীর সাথে দৈহিক মিলন খুবই অস্বাভাবিক মনে হবে।

৭। স্ত্রীর সাথে দৈহিক মিলনের পর যে তৃপ্তি পাওয়া যায় তার তুলনায় হস্তমৈথুন এর আনন্দ খুবই সামান্য।

৮। সত্যিকথা বলতে, পর্নোগ্রাফি এবং পতিতাদের পেছনে ১০ বছরে আমি প্রায় ১৫০০০ ইউরো নষ্ট করেছি। এই অর্থ আমি গরিবদের দান করতে পারতাম, ১০ বার ছুটিতে ভ্রমণ করতে পারতাম অথবা অন্তত ৪-৫ বার পবিত্র মক্কা নগরীতে ভ্রমণ করতে পারতাম।

৯। ভালো কাজ (যেমন আল্লাহ্‌কে খুশি করার জন্য কুরআন পড়া বা মুসলিমদের সাহায্য করা) এসব কাজের প্রতি অনাগ্রহ তৈরি হয়। কারণ, সবসময় মনে হয়, আমি এত খারাপ কাজ করেছি, এখন ভালো কাজ করে আর কি হবে?

১০। আমি পর্ন ভিডিও দেখছি, এই বিষয়টা আমার স্ত্রীর জন্য অনেক কষ্টকর ছিল। আমার কাছেও এটা অনেক অপমানজনক ছিল, কারণ আমি তার সাথে প্রতারণা করছিলাম।

সুতরাং, আমি কীভাবে এটা থেকে মুক্তি পেলাম?

এটা আসলে নিচের কাজগুলোর সমন্বয়ের ফলে হয়েছেঃ

১। আমি সবসময় উপরের ১০টি খারাপ প্রতিক্রিয়া স্মরণ করার চেষ্টা করতাম। (আমি এগুলো লিখে নিয়েছিলাম এবং প্রতিদিন পড়তাম।)

২। প্রতিদিন কুরআন পড়তাম, দোয়া করতাম এবং দান-খয়রাত করতাম।

৩। বাসায় যথাসম্ভব একা না থাকতে চেষ্টা করতাম।

৪। সময়মত নামায আদায় করতাম।

৫। আমরা যখন বাসায় থাকতাম তখন আমার স্ত্রীকে বলতাম আকর্ষণীয় পোশাক পড়তে।

৬। পর্ন ভিডিও দেখা এবং হস্তমৈথুনের পর নিজেকে কি পরিমাণ অপরাধী, হতাশ ও লজ্জিত মনে হয় সেটা সবসময় স্মরণ রাখতাম।

৭। অনেকেই আমার সাথে একমত হবেন যে, যখন কেউ একাকী ও বিষণ্ণ বোধ করে এবং হাতে অলস সময় থাকে তখন সে পর্ন ভিডিও দেখে। অলস সময় কীভাবে কাটাতে হয় সে ব্যাপারে ইসলামের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিছুদিন আগে আমি একটি ইসলামিক বয়ান শুনেছি, সেখানে ইমাম বলছিলেন অলস সময়ে শয়তান সহজেই ধোঁকা দেয়। এই সময়টা মানুষের জন্য খুব ক্ষতিকর হতে পারে। যখন হাতে কোন কাজ থাকে না, কোন কিছুতে মনোযোগ দেয়ার মত কিছু থাকে না, তখন এই শুন্যতা পূরণের জন্য মানুষ পর্নোগ্রাফির মত পাপ কাজে জড়িয়ে পড়ে।

সুতরাং, নিজেকে সবসময় ভালো কিছু নিয়ে ব্যস্ত রাখতে হবে (যেমন বই পড়া, বন্ধুদের সাথে দেখা করা, খেলাধুলা করা, কোন উন্নয়নমূলক কাজ করা, কৌতুক জাতীয় অনুষ্ঠান দেখা বা এমন কিছু করা যেটা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম নয়)। হাতে প্রচুর সময় থাকলে কখনো অলসভাবে বসে থাকা যাবে না, কারণ এই অলসতাই আপনাকে ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে।

আরো কিছু পরামর্শঃ

এই ৭ টি পয়েন্ট ছাড়াও আরো কিছু পরামর্শ আছে যেগুলো আমার কাজে লেগেছে।

–আমি আল্লাহ্‌র কাছে ওয়াদা করেছিলাম যে, আমি যদি আবার আগের অভ্যাসে ফিরে যাই তাহলে, একটানা ১২০ দিন রোযা রাখবো।

–প্রতিদিন আমি আয়নার সামনে দাঁড়াই এবং নিজেকে বলি ‘কক্ষনো না’, ‘কক্ষনো না’, বারবার বলি। (এর মানে হচ্ছে আমি কখনো আমার আগের জীবনে ফিরে যাব না)

–আমার একটা গোপন নোটবই আছে যেটা আমি শুধু এই কাজের জন্যই কিনেছি। আমি সেখানে বছরের প্রতিটি সফল দিনের পাশে একটি করে টিক চিহ্ন দেই, টিক চিহ্ন মানে হচ্ছে ঐদিন আমি পর্ন ভিডিও দেখিনি অথবা একটি ক্রস চিহ্ন যার মনে হচ্ছে ব্যর্থতা। আলহামদুলিল্লাহ্‌, আমার নোটবইতে এখন ৩৬৫টি টিক চিহ্ন রয়েছে, একটিও ক্রস নেই। আমি এই টিক চিহ্নগুলো সবসময় দেখি এবং এগুলো আমাকে বিজয়ের আনন্দ দান করে। আমি আমার নোটবইতে কোন ক্রস চিহ্ন দেখতে চাই না, কারণ এটা আমার আগের জীবনে ফিরে যাওয়া নির্দেশ করবে। এই ক্রসগুলো আমাকে হতাশ করবে, তাই আমি এগুলো পুরোপুরিভাবে পরিহার করার চেষ্টা করি।

আমি আশা করি এই পরামর্শগুলো সবার কাজে লাগবে। আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি যাতে সঠিক পথে থাকতে পারি।

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)

শেয়ার করুনঃ
লিটমাস টেস্টঃ যেভাবে বুঝবেন আপনি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত …

লিটমাস টেস্টঃ যেভাবে বুঝবেন আপনি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত …

যেকোনো সমস্যা সমাধানের পূর্বশর্ত হচ্ছে সমস্যাটা স্বীকার করে নেয়া। পর্ন-আসক্তির ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা তা-ই। প্রথমেই আপনাকে স্বীকার করতে হবে যে আপনি পর্নে আসক্ত, তবেই কেবল ভেতর থেকে আসক্তি দূর করার তাগাদা পাবেন। পর্ন-আসক্ত হবার পরেও আপনি যদি গোঁ ধরে থাকেন যে আপনি পর্ন-আসক্ত না, শুধু মাঝেমধ্যে দু-একটা পর্ন ভিডিও দেখেন, তাহলে কারোরই সাধ্য নেই আপনাকে সাহায্য করার।

আমরা আপনাকে ৫ টি প্রশ্ন দিচ্ছি[1], [2]

নিজেকে এ প্রশ্নগুলো জিজ্ঞাসা করুন। একটি প্রশ্নের জবাবও যদি “হ্যাঁ” হয়, তাহলে বুঝবেন, বিপদঘণ্টা বেজে গেছে। আপনি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়েছেন।

প্রথম প্রশ্ন : দিন দিন আপনার পর্ন ভিডিও দেখার সময় কি বেড়ে যাচ্ছে? একবার পর্ন দেখতে বসলে খেয়াল থাকে না কতটা সময় কেটে গেছে? প্রত্যেকদিন বা প্রত্যেকবার কি আপনি আগের দিনের চেয়ে বেশি সময় ধরে পর্ন ভিডিও দেখছেন?

পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত লোকেরা প্রতিদিন তাদের পর্ন ভিডিও দেখার পরিমাণ একটু একটু করে বাড়িয়ে দেয়। ব্যাপারটা মাদক ব্যবহারের মতো। নিয়মিত মাদক ব্যবহার করা শুরু করলে একসময় মানুষ আবিষ্কার করে, আগে যে ডোজে “কাজ” হতো, এখন আর তাতে হয় না। নিয়মিত ব্যবহারকারীরা তাই ক্রমান্বয়ে মাদকের পরিমাণ বাড়াতে থাকে।

পর্ন-আসক্তদের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একই রকম। তারা একটা পর্ন ভিডিও এক-দু বার দেখার পর তাতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। মাদকাসক্তের রুটিনে তিনটি মূল কাজ থাকে। মাদকের জন্য টাকা জোগাড়, মাদক কেনা, নেশা করা। তার দৈনন্দিন জীবন, চিন্তাভাবনা, প্ল্যান-প্রোগ্রাম সব এ তিনটিকে ঘিরে আবর্তিত হয়।

পর্ন আসক্তের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একই রকম। পার্থক্য হলো ফ্রি ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফির এ যুগে পর্ন-আসক্ত ব্যক্তিকে টাকার চিন্তা করতে হয় না। পর্ন-আসক্ত ব্যক্তির সময় যায় নতুন নতুন পর্ন ভিডিও খুঁজে বের করতে। এ খোঁজাখুঁজির ব্যাপারটা তাদের প্রতিদিনের রুটিনের অনেকটা সময় নিয়ে নেয়। এতে তারা স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি বা কর্মক্ষেত্রে যেতে দেরি করে ফেলে, অলসতা বোধ করে এবং কাজ করে কূল পায় না।

আপনার মধ্যে এই লক্ষণগুলো থাকলে বুঝবেন আপনি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়েছেন।

দ্বিতীয় প্রশ্ন : আপনি কি সফটকোর পর্ন ভিডিও ছেড়ে হার্ডকোর পর্ন দেখা শুরু করেছেন?

পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত লোকেরা প্রথম অবস্থায় সফটকোর পর্ন ভিডিও দেখে। কিছুদিন পর তারা সফটকোর পর্নে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এটা তাদের কাছে আর যথেষ্ট “উত্তেজক” মনে হয় না। তারা নতুন, আর “কড়া” কিছু খুঁজে বেড়ায়। আস্তে আস্তে হার্ডকোর পর্ন ভিডিও দেখতে শুরু করে। এভাবে তারা একসময় এমন একটা অবস্থায় পৌঁছায় যখন অজাচার, সমকামিতা বা শিশুদের ধর্ষণের ভিডিও তাদের উত্তেজিত করে, তাদের কাছে স্বাভাবিক বিষয় বলে মনে হয়। ওরাল সেক্স, অ্যানাল সেক্সের মতো জঘন্য বিষয়গুলোও তাদের কাছে ডালভাত হয়ে যায়।

আপনার এ রকম অবস্থা হলে বুঝবেন বিপদঘণ্টা বেজে গেছে—আপনি মারাত্মকভাবে পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত।

তৃতীয় প্রশ্ন : আপনার মাথায় কি সারাদিন পর্ন ভিডিওতে দেখা দৃশ্যগুলো ঘুরতে থাকে?

পর্ন ভিডিও দেখার পর একজন পর্ন-আসক্ত ব্যক্তির মাথায় অনেকক্ষণ এটার রেশ থেকে যায়। ভিডিওতে দেখা দৃশ্যগুলো তার মাথায় ক্রমাগত ঘুরপাক খায়। পড়াশোনা করার সময়, অফিসে কাজ করার সময়, রাতে ঘুমানোর আগে, অলস বসে থাকার সময়, এমনকি নামাজ পড়ার সময়ও তার মস্তিষ্ক অনেকটা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই শেষ দেখা পর্ন ভিডিওর দৃশ্যগুলো নিয়ে ভাবতে থাকে। পর্ন ভিডিওর নায়িকাদের শরীরের সাথে সে তার আশেপাশের মহিলাদের শরীর তুলনা করে, তার স্ত্রীর শরীর (মেয়েরা স্বামীর শরীর এবং বিছানায় তার স্বামীর পারফরম্যান্স) এবং বিছানার পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তুষ্টিতে ভোগে। পর্ন ভিডিওতে দেখানো পদ্ধতিতে তার সঙ্গীর সাথে সে যৌনমিলন করতে চায়। পার্টনার রাজি না হলে সে রেগে যায় এবং মনঃক্ষুণ্ণ হয়। সম্পর্কে সৃষ্টি হয় জটিলতা।

এই বিষয়গুলোর একটিও আপনার মধ্যে থাকলে আপনি বুঝবেন, আপনি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত।

চতুর্থ প্রশ্ন : পর্ন ভিডিও দেখার পর আপনি কি বিষণ্ণবোধ করেন? দিন দিন হতাশা কি আপনাকে গ্রাস করে ফেলছে? আপনি কি অস্থিরতায় ভুগছেন? নিজের আচরণের জন্য লজ্জিত? সব সময় নিজের মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করে?

ভালো কাজ মানুষের অন্তরে প্রশান্তি সৃষ্টি করে, প্রচণ্ড ভালোলাগার অনুভূতি সৃষ্টি করে। অন্যদিকে মন্দ কাজ অন্তরকে অশান্ত করে তোলে, মানুষকে অপরাধবোধে ভোগায়। পর্ন ভিডিও দেখার পর বিষণ্ণবোধ করলে, অস্থিরতায় ভুগলে বুঝবেন এটা আপনার জন্য অশনিসংকেত।

পঞ্চম প্রশ্ন : আপনি কি নিজের কাছে বা অন্য কারও কাছে ওয়াদা করেছেন—আমি আর কখনোই পর্ন ভিডিও দেখব না, কিন্তু সেই ওয়াদা রাখতে পারেননি?

এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ব্যক্তিরা নিজের কাছে বা অন্য কারও কাছে প্রতিজ্ঞা করে যে, আমি আর কখনোই পর্ন ভিডিও দেখব না, কিন্তু কিছু সময় বা কয়েকদিন পরে তারা সেই প্রতিজ্ঞা বেমালুম ভুলে যায়, আবারও পর্ন দেখায় ফিরে যায়। অনেকে আবার আরেক কাঠি সরেস। প্রতিবার পর্ন ভিডিও দেখার আগে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়—এটাই শেষ বার, আমি আর জীবনে কখনোই পর্ন দেখা তো দূরের কথা, এর ধারেকাছেও ঘেঁষব না। কিন্তু কিছু সময় বা কয়েকদিন পরে তারা আবারও পর্ন দেখে এবং এবারও বলে এটাই আমার শেষ বার, এবারের পর আর কখনোই পর্ন দেখব না।

আর একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হলো পর্ন-আসক্তদের অনেকেই বলে, “আরে ধুর! আমি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হতে যাব কেন? আমি চাইলেই যেকোনো সময় এটা দেখা ছেড়ে দিতে পারি।” কিন্তু দুঃখের বিষয় তারা চাইলেই পর্ন ভিডিও দেখা ছাড়তে পারে না।

[1]  Porn Addiction 101 – https://goo.gl/ZyQ61r

[2] 5 Signs Your Porn Habit Is More Of A Problem Than You May Think- https://goo.gl/srPDjH

শেয়ার করুনঃ
এখনি সময় পর্নকে বিদায় বলার!

এখনি সময় পর্নকে বিদায় বলার!

একদিন আমি ফেসবুকে একটা প্রশ্ন পোস্ট করলাম – “কোন খারাপ স্বভাবটাকে এই রামাদানে একেবারেই ছেড়ে দিবেন বলে মনে করেন?”

আশ্চর্যজনকভাবে এক ভাই ডাইরেক্ট বলে দিলেন যে তিনি পর্ন দেখা ছাড়তে চান। মানে ব্যাপারটা একবার ভেবে দেখুন,  একজন মানুষ কোন পর্যায়ের হতাশায় ভুগলে এই ব্যাপারে জনসম্মুখে এভাবে মুখ খোলেন!

আসলে  লজ্জার মাথা খেয়ে তাঁর এই সত্যকথন, তাঁর সাহসের স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং এটাই প্রমাণ করছে যে তিনি নিজের সঙ্গে  অনবরত যুদ্ধ করছেন। আর আমরা এটাও বুঝতে পারছি যে তিনি তাঁর এই আসক্তি কাটানোর জন্য  আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কীভাবে রামাদান মাস সহিসালামতে কাটাবেন এটা নিয়ে তিনি মারাত্মক চিন্তিত। তিনি ভয়ে আছেন, রোজা থাকা অবস্থায় না আবার নিজেকে আটকাতে না পেরে কোন পর্ন website-এ গিয়ে পর্ন দেখা শুরু করে দেন।

আপনারা কেউ কেউ হতেবা এটা মনে করতে পারেন, “আস্তাগফিরুল্লাহ! রামাদান মাসে কেউ এমন করারতো দূরের কথা, এরকম কাজ করার চিন্তা কেমন করে করতে পারে?” যদি এই চিন্তা আপনার মাথায় এসে থাকে তাহলে একটু থামুন। আস্তাগফিরুল্লাহ না বলে বরং আলহামদুলিল্লাহ্‌ বলে আল্লাহর শুক্রিয়া আদায় করুন যে তিনি, আর-রহমান, আপনাকে এই ফিতনা থেকে বাঁচিয়েছেন আর তাঁর কাছে এই দোয়া করুন যে তিনি যেন আপনাকে পর্ন থেকে যিনা পর্যন্ত সব ধরণের হারাম থেকে রক্ষা করেন।

পর্নের প্রভাবঃ

যদিও পর্ন আসক্তির অনেক ক্ষতিকর ফলাফল আছে, এর মধ্যে যেটা তালিকার শীর্ষে রয়েছে সেটা হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর অন্তরঙ্গতার মধ্যে যেই প্রভাব এটা ফেলে। গবেষণা থেকে জানা যায় যে পর্নগ্রাফি কার্যক্রমে মানুষকে যৌন অনুভূতিহীন করে ফেলে। এর ফলে তাদের একই আনন্দ পেতে আরও বেশি উত্তেজনার প্রয়োজন হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, এর ফলে তাদের নিজের স্বামী/স্ত্রী পর্যায়ক্রমে তাদের যৌন চাহিদা পূরণ করার জন্য যথেষ্ট থাকে না।

পর্ন আসক্তির ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে সবারই জেনে রাখা উচিৎ। যারা এতে আসক্ত এবং যারা আসক্ত না, উভয়েরই। পর্ন আসক্তির ঠিক মদ কিংবা মাদকাসক্তির মতো। এটাকে হুট করে থামানো যায় না। এটার পিছনে সময় ও শ্রম ব্যায় করতে হয় আর পর্ন আসক্তির এতটা শক্তিশালী কেন এটা যতক্ষণ না কেউ ঠিক মতো না বুঝতে পারছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার পক্ষে এটা করা সম্ভব নয়। পর্ন আসক্তির তো যৌন আসক্তির  শুধুমাত্র একটা অংশ বিশেষ। পর্ন আসক্তি যিনার চেয়ে কম গুনাহের কাজ কিন্তু এটা যদি না ছাড়া যায় তাহলে এটাই এক সময় যিনার দিকে নিয়ে যাবে। ঠিক এই কারণেই আল্লাহ বলেছেন – “আর বাভিচারের কাছেও যেয়ো না…”(কুরআন ১৭:৩২)। আর পর্ন হচ্ছে যিনার দরজা। আসক্তি

এটা (পর্ন) কেন একটা পর্ন আসক্তিঃ

এই বিষয় নিয়ে গবেষণা থেকে জানা যায় যে পর্ন আসক্তি  এক ধরণের রাসায়নিক আসক্তি। অর্থাৎ, পর্নের প্রতি মানুষের আকর্ষণ মস্তিষ্কের উপর ঠিক সেই প্রভাবটাই ফেলে যেটা কোন মাদকদ্রব্য ফেলে। এমনকি এটাকে এই Wired articleটিতে “crack cocaine” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মেরি অ্যানি লেইডেন,  co-director of the Sexual Trauma and Psychopathology Program at the University of Pennsylvania’s Center for Cognitive Therapy, পর্নের ব্যাপারে বলেন, “একজন মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য যত ক্ষতিকর জিনিস আছে, আমার জানা মতে তার মধ্যে এটা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর।”

আসক্তি অতিক্রম করাঃ

আপনি যদি পর্নআসক্ত হয়ে থাকেন তাহলে এটা জেনে রাখুনঃ

১।আপনি একা নন

২।আপনি অভাগা বা খারাপ মানুষও নন

স্ত্রী এবং পরিবার, আপনারা জেনে রাখুনঃ

১।এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি আসক্তদের ব্যাপারে তাচ্ছিল্য করে কথা না বলে আপনি এই আসক্তিটার উপস্থিতি এবং বাস্তবতা স্বীকার করুন। তাদের সঙ্গে এইরকম আচরণ করলে তারা নিজেদেরকে আরও ছোট মনে করবে, নিজেদের ব্যাপারে আরও খারাপ অনুভব করবে এবং ফলে তাদের পর্নের মাধ্যমে endomorphine এর যেই আনন্দলাভের তীব্র অনুভুতি, সেটা পাওয়ার ইচ্ছা আবার জাগ্রত হবে।

২।পর্ন আসক্তি যে শুধু মাত্র আসক্তদের জন্যই ক্ষতিকর তা নয় বরং এটা তার স্বামী/স্ত্রীর জন্যও খারাপ। এটা বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার কারণও হয়ে দারাতে পারে। ঠিক এই জন্যই এই ব্যাপারটাকে এত তুচ্ছ মনে করা ঠিক নয়। পর্ন আসক্তদের স্বামী/স্ত্রীর কাছে আমার বিনিত অনুরধ থাকল যে আপনারা পুলিশ অফিসারের মতো কড়া ব্যবহার না করে বরং তাদের এই সমস্যার সমাধানে যোগদান করুন। তাদের আসক্তিটা আপনি কখনও জোর করে ছাড়াতে পারবেননা।

রামাদানকে কাজে লাগানোঃ

পর্ন আসক্তিকে অতিক্রম করার জন্য দুটি দরকারি জিনিস দরকার– দৃঢ় ইচ্ছা এবং বাস্তব পদক্ষেপ।

রামাদান মাসে আমাদেরকে রোজা রাখতে হয়। রাসুল(সাঃ) রোজা রাখার মাধ্যমে আমাদের যৌন আকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা শিখিয়েছেনঃ

রামাদান হল এমন একটা সময় যখন আমাদের রোজা রাখার অনেক “দৃঢ় ইচ্ছা” থাকে। রোজা রেখে আবার নিজের এই আসক্তির কারণে আমরা এটাকে ভেঙ্গে ফেলতে পারি না। রামাদানই হল একটা বাস্তব পদক্ষেপ।

সহযোগীর সাহায্য নেয়াঃ

এই আসক্তিটার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একজন সহযোগী রাখুন। এই সহযোগী হতে পারে আপনার কোন বন্ধু অথবা আপনার পরিবারের কোন সদস্য অথবা আপনার স্বামী বা স্ত্রী। আপনার এই সহযোগীকে বলুন আপনার কম্পিউটারে একটা পর্ন filtering monitor install করে দিতে এবং তাদেরকে দিয়ে আপনার কম্পিউটারে পাসওয়ার্ড সেট করে নিন এবং তাদের কাছ থেকে কথা নিন যে আপনি তাদের কাছ থেকে সেটা জানার যতই চেষ্টায় থাকুন না কেন তারা যেন কোন অবস্থাতেই সেটা আপনাকে না বলে।

আরও কিছু পরিবর্তনঃ

আপনার স্মার্ট ফোনটা বদলে ফেলুন – আপনার স্মার্ট ফোনটা বদলে একটা সস্তা ফোন ব্যবহার করুন। এমন কিছু যেটাতে ইন্টারনেট চলে না।

আপনার কম্পিউটার বদলে ফেলুন – এমন যদি হয়ে থাকে যে আপনি আপনার ল্যাপটপে পর্ন দেখেন তাহলে ওটা বাদ দিয়ে একটা ডেস্কটপ কিনে ফেলুন যেটা আপনার বাসার কোন খোলা জায়গায় রাখতে হবে যেখানে বসে আপনি পর্ন দেখতে পারবেন না।

আপনার টিভিটা বন্ধ রাখুন – আপনার কাছে যদি কোন পর্নের ভিডিও অথবা ডিভিডি থেকে থাকে সেগুলো নষ্ট করে ফেলুন অথবা ফেলে দিন। সহযোগীর সাহায্য নেয়াঃ

আরও কিছু কার্যকরী পদক্ষেপঃ

নিজেকে যাচাই করাঃ – আপনি নিজেকে নিজের কাজের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করুন এবং আপনার সহযোগীর সাথে আপনার addictionএর ব্যাপারে পরামর্শ নিন। একবার ভেবে দেখুনঃ আপনি যদি রোজা থাকা অবস্থায় নিজেকে সামলাতে পারেন তাহলে আপনি রামাদান মাসের রাত্রিগুলোতে, যেই রাতগুলো বছরের অন্য সব রাতের থেকে পবিত্র, এই সময়ে কেন সামলাতে পারবেন না? আর আপনি যদি নিজেকে রামাদান মাসে নিজেকে সামলাতে পারেন তাহলে রামাদান মাসে যেই আল্লাহকে আপনি মানেন বাকি মাসগুলোতেও কি আপনি একই আল্লাহকে মানেন না, যিনি সব সময় আপনাকে দেখেন?

সবসময় আল্লাহর কাছে দোয়া করুন – আল্লাহ, আত-তাওয়াবের কাছে ক্ষমা চান, আপনি যেই সময়টা ব্যায় করছেন, যেই চেষ্টাটা চালিয়ে যাচ্ছেন, তিনি যেন তাতে বরকত দান করেন এবং আপনার এই পরিক্ষাটা যেন উনি সহজ করে দেন। সবসময় মনে রাখুন যে একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছাতেই আপনি এই পরীক্ষায় পরেছেন এবং আপনি চেষ্টা করলে উনি ওনার রহমতের দ্বারা আপনাকে এটা থেকে আরও শক্তিশালী মু’মিন হিসেবে বের করবেন। এই পবিত্র মাসের রাতগুলোতে এবং ইফতারি করার আগের সময়গুলোতে আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, তাঁর সাহায্য চান।

এইরকম বেশি বেশি দোয়া করুন –

اللهم اني ظلمت نفسي ظلما كثيرا ولا يغفر الذنوب الا انت فاغفرلي مغفرة من عندك, وارحمني انك انت الغفور الرحيم

[O Allāh! I have wronged myself very much, and none can forgive sins, except You only. Grant me forgiveness, and have mercy upon me; indeed You are the Most Forgiving, Ever Merciful.] (Bukhāri)

বই পড়ুনঃ সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে  এই আসক্তি থেকে বের হয়ে আসার উপর যেই বইগুলো লেখা হয়েছে, সেগুলো পড়ে দেখা। ইচ্ছা  হারিয়ে ফেলার আগেই বইগুলো পড়া শুরু করুন।

মোট কথা, চেষ্টা করুন যে এই রামাদানে, যখন আপনার spiritual motivationটা অনেক বেশি ,এই সময়টাতে এমন কোন কিছু করার একটা অভ্যাস করুন যেটা আপনাকে শুধু এই রামাদানেই নয় বরং ভবিষ্যতেও  পর্ন থেকে দূরে রাখবে।

শেয়ার করুনঃ