ফাঁদ (ষষ্ঠ পর্ব)

ফাঁদ (ষষ্ঠ পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

কোনো ভাই-ই যখন আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের যাত্রা শুরু করেন উনারা অনেক সমস্যার মুখোমুখি হোন। এই সমস্যাগুলো আমাদের ভাইদের ভীতি, হতাশা আর দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দেয়। প্রকৃতপক্ষে বেশিরভাগ সময় ই সেগুলো আসলে আশংকার কোনো কারনই না। বিষয়টা আরেকটু ক্লিয়ার করে বলি।
.
আমাদের ভাইয়েরা অনেকেই প্রশ্ন করেন… “বদঅভ্যাস ছাড়ার পর ঘনঘন স্বপ্নদোষ হচ্ছে” কেউ আবার বলেন “স্বপ্নদোষ হয় না”।  (এগুলো আসলে কোনো সমস্যাই নয়- পড়ুন- ভুলে ভরা স্বপ্ন )অনেকে আবার প্রশ্ন করেন “লিঙ্গের ..এরকম দেখা যাচ্ছে”… এরকম অনেক অনেক প্রশ্ন।
.
দেখুন। শয়তান হল মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। শয়তানের মিশন আপনাকে আমাকে তার সাথে জাহান্নামের আগুনে নিয়ে যাবে। তাহলে শয়তানের কি করার? শয়তান কি বাজারের মাঝখানে একটা স্টল বসাবে, যেখানে একটা পোস্টার থাকবে তাতে লেখা থাকবে, “আল্লাহর অবাধ্য করুন। কুফুরী করুন। আমার সাথে জাহান্নামের টিকিট কিনুন”
.
শয়তান কি এটা করবে? না। কারন এটা কখনই মুমিন বান্দার উপর কার্যকর হবে না।

তাই শয়তানের টেকনিক হল আসতে আসতে আল্লাহর বান্দাদেরকে তার দিকে নিয়ে যাওয়া। দেখুন, শয়তান যদি বারসিসার কাছে গিয়ে সরাসরি বলত, “হে বারসিসা, তুমি আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে আমাকে সিজদা কর”, বারসিসা কখনই করত না। তাই শয়তান তাকে ছলে বলে, আসতে আসতে একটু একটু করে কুফুরী এবং শিরকের দিকে নিয়ে গিয়েছে। আর তার প্রথম স্টেপগুলি ছিল খুবই ইনোসেন্ট (আপাত দৃষ্টিতে)। প্রথম স্টেপগুলি দেখে মনে হয়, আমি তো আল্লারই সন্তুষ্টি কামাই করছি।

একই ভাবে, শয়তান আদম আলাইহিসসালামকে ভুলিয়ে সেই গাছের ফলটি খাওয়ার ব্যবস্থাও করেছে। প্রথমেই গিয়ে বলেনি যে, “হে আদম, তুমি এই নিষিদ্ধ ফলটি গ্রহন কর”। মূলত এই ধীরে ধীরে আগানো শয়তানের একটি কৌশল।
.
এখন আমরা আমাদের কথায় ফিরে আসি। যে ভাইটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পর্ন, মাস্টারবেশন এর মত চরম গুনাহর কাজ থেকে ফিরে আসার চেষ্টা করছে, শয়তান কি তাদের এত সহজে ছেড়ে দিবে। শয়তান তার মধ্যে ওয়াসওয়াসা দিতে থাকে। ভাইটির মাঝে চিন্তা হয়, “আচ্ছা, আমি পুরুষত্ব হারাইনি তো”। তো চেক করার জন্য শয়তান বুদ্ধি দেয়, “এক কাজ কর, একটু পর্ন দেখে দেখ সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা। না না… কোনো উপভোগ করার জন্য না। শুধু চেক করেই ফিরে আসবা।”

এভাবেই অনেকদিন বন্ধ থাকার পর দেখা হয় যায় ১-২ মিনিটের জন্য। পরেরদিন সুযোগ করে বলবে। “গতকাল দেখেই যখন ফেলেছ আজকে আরেকটু দেখ।”। এভাবে বেশ কিছুদিন পর বলবে, “শালা, ভন্ডামি বাদ দে, দেখতে থাক”।

একই ভাবে, মাস্টারবেশনের ক্ষেত্রেও শয়তান ওয়াসওয়াসা দেয়। প্রথমে বলে, “দেখ ভাই, তোমারতো অনেকদিন ধরে স্বপ্নদোষ হয় না, আজকে একটু মাস্টবেট করে দেখতো সব ঠিকঠাক আছে নাকি”। একদিন দুইদিন করে আসতে আসতে আবার আপনাকে পর্ন, মাস্টারবেশনের এই জালে আপনাকে আবার আটকে ফেলবে। ব্যস!! শয়তার তার মিশনে সার্থক। আর আপনি অনন্তকালের জন্য ডুবতে থাকবেন এই অন্ধকার জগতে।

সুতরাং, ভাইয়েরা আমার। মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন এসব চিন্তা। এগুলো নিয়ে বেশি মাথা ঘামাবেন না। নিজেকে বার বার মনে করিয়ে দিন এসব চিন্তা শয়তানের ফাঁদ। সে চায় আপনাকে এই নীল জগতের চিরবাসিন্দা করতে। তাই এসব দুশ্চিন্তা করবেন না। পুরুষত্ব আছে কি না গেছে এসব না চিন্তা করে পুরুষত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য যে সাস্থ্যকর জীবন যাপন করা উচিৎ সেদিকে ফোকাস করুন। নিজের জীবনে ইসলামকে প্রয়োগ করুন। ইলম অন্বেষণ করুন। আমল করুন। এক্সারসাইজ করুন। সাস্থ্যকর খাবার খান। পরিমিত ঘুমান। পরিবারকে সময় দিন। দরকার হলে রান্নাতেও হাত লাগাতে পারেন। নিজেকে ব্যস্ত করে ফেলুন। আর যদি অবসর সময় পান, আল্লাহর দ্বীনের মেহনত করুন। কিছুই যদি করতে না পারেন, তাহলে আপনার বাসার সামনে এই রাস্তাটা যে আছে, সেখানে যেই ইটটা পড়েছিল, ঐযে আপনি যে হোচোট খেয়েছিলেন। ওটা সরিয়ে আসুন। সদকার সাওয়াবও অর্জন করবেন।

যদি দেখেন যে আপনি যেই সমস্যায় আছেন সেটা আসলেই গুরুত্বর। ইগনর করা যায় না। ফিজিকাল সমস্যাও অনুভব করেন। তাহলে চিকিৎসকের কাছে যান।

আর সর্ব অবস্থায় আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার আর দু আ করতে থাকুন। আল্লাহ্‌ই আমাদের রব। তিনিই সব সমস্যার সমাধান করেন।

চলবে ইনশা আল্লাহ…

( একটা সময় ছিল যখন আমাদের টিমের লিখালিখির কাজটা দুই একজন ভাইই দেখতেন। আলহামদুলিল্লাহ! নতুন নতুন লেখক আমাদের টিমে যোগদান করছেন। আজকের এই লিখাটি লিখেছেন আমাদের টিমের সর্বকনিষ্ঠ মেম্বার। আদরের ছোটভাইটির জন্য আপনারা সবাই দিলখুলে দু’আ করবেন ইনশা আল্লাহ।)

পড়ুন- আগের পর্বগুলো

শেয়ার করুনঃ
অন্ধকার থেকে আলোর পথে

অন্ধকার থেকে আলোর পথে

(আমাদের গ্রুপ মেম্বার খাদিমুল হাক্ব ভাই সংক্ষেপে পর্নোগ্রাফি-মাস্টারবেশন নিয়ে ‘অন্ধকার থেকে আলোর পথে’ শিরোনামে এই লিখাটি লিখেছেন মাশাআল্লাহ। আল্লাহ উনার পরিশ্রমকে কবুল করে নিক। আপনাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে এটা মনোযোগ দিয়ে পড়বেন ও দিকনির্দেশনাগুলো ফলো করবেন ইনশাআল্লাহ।)
আসসালামু আলাইকুম। আলহামদুলিল্লাহ, অবশেষে শেষ করতে পারলাম। প্রয়োজনীয় কাজের ফাঁকে ফাঁকে দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস ধরে এই পোস্টটি লিখলাম। আমার জন্য দোআ করবেন। আল্লাহ তাআ’লা যেনো আমার নেক আশাগুলো কবুল করেন। আর পোস্টটি লিখতে যাদের সাহায্য নিয়েছি, আল্লাহ তাআ’লা যেনো তাদের দুনিয়া ও আখিরাতে উত্তম বিনিময় দান করেন। আল্লাহ তাআ’লা এই লিখাটি যেন সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করেন। আমিন।
*** বিশেষভাবে বলছি, এখনই পড়ুন। পরে পড়বেন বলে রেখা দিবেন না। শয়তান ধোঁকা দিতে পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيم
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
অর্থঃ পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
এই লিখাটিকে মোট ৫ টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১/ কোরআন এবং হাদিস থেকে সংগৃহীত আয়াত ও হাদিস
২/ পর্ণগ্রাফির ক্ষতিকর দিকসমূহ
৩/ রিকভারির জন্য দিকনির্দেশনাসমূহ
৪/ কিভাবে মোবাইল /পিসিতে পর্ণগ্রাফি ব্লক করা যায়
৫/ App/ গ্রন্থ/ বইসমূহ
.
*** ইসলামে হস্তমৈথুন হারাম। http://bit.ly/2rml5bZ
এই হারাম কাজ থেকে বাঁচতে হলে আপনাকে যা যা করতে হবেঃ (কোরআন ও হাদিসের আলোকে)
০১. (শরীয়তে বর্ণিত কারণগুলো ব্যাতিরেকে) নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত সালাত জামা’আতের সাথে পড়তেই হবে।
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, তোমরা নামায কায়িম কর, যাকাত দাও এবং রুকূ‘কারীদের সঙ্গে রুকূ‘ কর।(সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ৪৩)
.
সালাত/নামায মানুষকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, তোমার প্রতি যা ওয়াহী করা হয়েছে কিতাব থেকে তা পাঠ কর আর নামায প্রতিষ্ঠা কর; নামায অশ্লীল ও মন্দ কাজ হতে বিরত রাখে। নিশ্চয়ই আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ (বিষয়)। তোমরা যা কর আল্লাহ তা জানেন। (সূরা আল-আনকাবূত, আয়াত ৪৫)
.
সালাত/নামায কায়েম করলে আপনি পাবেন, মর্যাদা, ক্ষমা ও সম্মান জনক রিযিক।
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, সে সমস্ত লোক যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে এবং আমি তাদেরকে যে রুযী দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। তারাই হল সত্যিকার ঈমানদার! তাদের জন্য রয়েছে স্বীয় পরওয়ারদেগারের নিকট মর্যাদা, ক্ষমা এবং সম্মানজনক রুযী। (সূরা আল-আনফাল, আয়াত ৩-৪ )
৫ ওয়াক্ত সালাত/নামায পড়লে আল্লাহ তাআ’লা আপনার গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেবেন।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছেন, “বলতো যদি তোমাদের কারো বাড়ির সামনে একটি নদী থাকে, আর সে তাতে প্রত্যহ পাঁচবার গোসল করে, তাহলে কি তাঁর দেহে কোন ময়লা থাকবে? তারা বললেন, তাঁর দেহে কোনরূপ ময়লা বাকী থাকবে না। আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উদাহরণ। এর মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তাআলা বান্দার গুনাহসমুহ মিটিয়ে দেন।” (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫২৮)
*** আপনাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে।
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, আর যারা নিজেদের নামাযের ব্যাপারে যত্নবান। তারাই হল উত্তরাধিকারী। তারা ফিরদাউসের উত্তরাধিকার লাভ করবে, যাতে তারা চিরস্থায়ী হবে। (সূরা আল-মু’মিনুন, আয়াত ৯ -১১)
.
ফজরের সালাত/নামাযের গুরুত্ব অনেক অনেক বেশি। আল্লাহ তাআ’লা বলেন, সূর্য হেলে পড়ার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম কর এবং ফজরের কুরআন*। নিশ্চয় ফজরের কুরআন (ফেরেশতাদের) উপস্থিতির সময়।*‘ফজরের কুরআন’ দ্বারা উদ্দেশ্য ফজরের সালাত।(সূরা বানী ইসরাঈল, আয়াত ৭৮)
.
যে ব্যক্তি ফজরের সালাত/নামাজ পড়বে, সে আল্লাহর জিম্মায়/দায়িত্বে থাকবে।
আব্দুল্লাহ বিন উমার থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি ফজরের নামায (জামাআতে) পড়ে, সে ব্যক্তি (সন্ধ্যা পর্যন্ত) আল্লাহর দায়িত্বে থাকে।” হাদিস সম্ভার, হাদিস নং ৬৯২ (ত্বাবারানী ১৩০৩২, সহীহুল জামে’ ৬৩৪৩নং)
আর দেখা গেছে ফজরের সালাত/নামায না পড়লেই শয়তান পর্নগ্রাফি দেখতে এবং হস্তমৈথুন করতে উৎসাহ দেয়।
.
ফজরের সময় উঠতে না পারলে Alarm দিবেন। এর জন্য আপনি Alarmy নামের অসাধারণ এই App টি ব্যবহার করতে পারেন। এটি প্লেস্টোর এ পাবেন। http://bit.ly/2RBfGcx
.
যদি কখনো কোন সালাতের/নামাযের সময় ঘুমিয়ে থাকেন কিংবা স্বলাত/নামায পড়তে ভুলে যান, তাহলে জাগা/স্মরণ হওয়া মাত্র তা পড়ে নিবেন।
আবূ কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, সহাবীগন তাদের ঘুমে বাড়াবাড়ির কথা আলোচনা করলেন। কেউ বলেন, লোকেরা ঘুমিয়ে থাকে, এমনকি সূর্য উঠে যায়। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ঘুমে কোন বাড়াবাড়ি নেই, বাড়াবাড়ি হয় জাগ্রত অবস্থায়। সুতরাং তোমাদের কেউ সলাতের কথা ভুলে গেলে বা তা না পড়ে ঘুমিয়ে গেলে সে যেন তা স্মরণে আসার সাথে সাথে পড়ে নেয় অথবা পরদিন স্ব স্ব ওয়াক্তে পড়ে নেয়। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৬৯৮, সূরা ত্বাহা ১৪, বুখারী ৫৯৫, ৭৪৭১; মুসলিম ৬৮১, তিরমিযী ১৭৭, নাসায়ী ৬১৫-১৭, ৪৪৬; আবূ দাঊদ ৪৩৭, ৪৪১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ২৯৪, সহীহ আবূ দাউদ ৪৬৪)
*** যেকোনো মূল্যে জীবন বাজি রেখে নামাজ পড়তেই হবে। আজ থেকে শপথ করুন, জীবন চলে যায় যাক তবু ১ ওয়াক্ত নামায মিস দিবেন না।
.
০২. নিয়মিত সামর্থ্য অনুযায়ী দান করাঃ কারণ সাদাকা (যাকাত বা দান-খায়রাত) গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেয়, যেভাবে পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়।
কা’ব ইবনু উজারা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ হে কা’ব ইবনু উজরা! আমার পরে যেসব নেতার উদয় হবে আমি তাদের (খারাবী) থেকে তোমার জন্য আল্লাহ তা’আলার সহায়তা প্রার্থনা করি। যে ব্যক্তি তাদের দ্বারস্থ হলো (সান্নিধ্য লাভ করলো), তাদের মিথ্যাকে সত্য বললো এবং তাদের স্বৈরাচার ও যুলুম-নির্যাতনে সহায়তা করলো, আমার সাথে ঐ ব্যক্তির কোন সম্পর্ক নেই এবং এ ব্যক্তির সাথে আমারো কোন সংস্রব নেই। ঐ ব্যক্তি ‘কাওসার’ নামক হাউজের ধারে আমার নিকট আসতে পারবে না। অপরদিকে যে ব্যক্তি তাদের দ্বারস্থ হলো (তাদের কোন পদ গ্রহণ করলো) কিন্তু তাদের মিথ্যাকে সত্য বলে মানল না এবং তাদের স্বৈরাচার ও যুলুম-নির্যাতনে সহায়তা করলো না, আমার সাথে এ ব্যক্তির সম্পর্ক রয়েছে এবং এ ব্যক্তির সাথে আমারও সম্পর্ক রয়েছে। শীঘ্রই সে ‘কাওসার’ নামক হাউজের কাছে আমার সাথে দেখা করবে। হে কা’ব ইবনু উজরা! নামায হল (মুক্তির) সনদ, রোজা হল মজবুত ঢাল (জাহান্নামের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধক) এবং সাদাকা (যাকাত বা দান-খায়রাত) গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেয়, যেভাবে পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়। হে কা’ব ইবনু উজরা! হারাম (পন্থায় উপার্জিত সম্পদ) দ্বারা সৃষ্ট ও পরিপুষ্ট গোশত (দেহ) -এর জন্য (জাহান্নামের) আগুনই উপযুক্ত। (জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৬১৪ -সহীহ। তালীকুর রাগীব- (৩/১৫, ১৫০)
.
যাকাত বা দানের কারনে কখনো সম্পদের কমতি হয় না।
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যাকাত বা দানের কারনে কখনো সম্পদের কমতি হয় না। অবশ্যই ক্ষমা ও উদারতার দ্বারা আল্লাহ্‌ তা‘আলা মান-সম্মান বাড়িয়ে দেন। আল্লাহ্‌ তা‘আলার সন্তুষ্টি হাসিলের উদ্দেশ্যে যে লোক বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন করে আল্লাহ্‌ তা‘আলা তাকে অতি মর্যাদা সম্পন্ন করেন। (জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২০২৯) সহীহ, ইরওয়া (২২০০) , সহীহাহ (২৩২৮) , মুসলিম।
.
দান আপনার সম্পদকে বৃদ্ধি করবে।
“যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-সম্পদ ব্যয় করে তাদের উপমা যেমন একটি শস্যবীজ, তা হতে উৎপন্ন হল সাতটি শীষ, প্রত্যেক শীষে (উৎপন্ন হল) এক শত শস্য, এবং আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা করেন বর্ধিত করে দেন; বস্তুতঃ আল্লাহ হচ্ছেন অতি দানশীল, সর্বজ্ঞ।” (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২৬১)
.
দানকারীর জন্য ফেরেশতারা তার দানের উত্তম প্রতিদান চেয়ে আল্লাহর কাছে দো’আ করে।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাঁদের একজন বলেন, হে আল্লাহ! দাতাকে তার দানের উত্তম প্রতিদান দিন আর অপরজন বলেন, হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস করে দিন। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৪৪২)
.
যে লোক দুনিয়াতে অন্য কারো অভাব দূর করে দেয়, তার দুনিয়া ও আখিরাতের অসুবিধাগুলোকে আল্লাহ্‌ তা‘আলা সহজ করে দিবেন।
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে লোক কোন মুসলমান লোকের দুনিয়াবী বিপদাপদের মধ্যে একটি বিপদও দূর করে দেয়, আল্লাহ্‌ তা‘আলা তার পরকালের বিপদাপদের কোন একটি বিপদ দূর করে নিবেন। যে লোক দুনিয়াতে অন্য কারো অভাব দূর করে দেয়, তার দুনিয়া ও আখিরাতের অসুবিধাগুলোকে আল্লাহ্‌ তা‘আলা সহজ করে দিবেন। যে লোক দুনিয়ায় কোন মুসলমানের দোষ-ক্রটিকে গোপন রাখে, আল্লাহ্‌ তা‘আলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ-ক্রটি গোপন রাখবেন। যে পর্যন্ত বান্দাহ তার ভাইয়ের সাহায্য-সহযোগিতায় নিয়োজিত থাকে, সে পর্যন্ত আল্লাহ্‌ তা‘আলাও তাঁর সাহায্য-সহযোগিতায় নিয়োজিত থাকেন। (জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৯৩০) সহীহ্‌, ইবনু মা-জাহ (১২২৫) , মুসলিম।
০৩. যে দোআ গুলো মুখস্ত করা জরুরিঃ
যদি কখনো শয়তান পর্ণগ্রাফি দেখতে ও হস্তমৈথুন করতে ওসওসা দেয়া শুরু করে তাহলে সাথে সাথে তা (মোবাইল /ল্যাপটপ/ডেক্সটপ ) বন্ধ করে সাথে সাথে পড়ুন↓
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجيمِ
আ‘ঊযু বিল্লা-হি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম
অর্থঃ বিতাড়িত শয়তান থেকে আমি আল্লাহ্‌র আশ্রয় নিচ্ছি।
আবূ দাউদ ১/২০৩, ইবন মাজাহ্‌ ১/২৬৫, নং ৮০৭। আর পূর্বে ৩১ নং হাদীসে এর তাখরীজ চলে গেছে। আরও দেখুন, সূরা আল-মুমিনূন এর ৯৭-৯৮
এরপর দ্রুত অযু করে, দু’রাকআত সালাত আদায় করে, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। (ইনশাআল্লাহ) আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন। আবূ দাউদ ২/৮৬, ১৫২১; তিরমিযী ২/২৫৭, নং ৪০৬; আর শাইখ আলবানী (রহঃ) সহীহ আবি দাউদে ১/২৮৩ একে সহীহ বলে মত প্রকাশ করেছেন।
[উপরোক্ত দোআটি অডিও সহকারে শুনতে এবং মুখস্ত করতে হিসনুল মুসলিম এপটির “সব দোয়া অধ্যায় এর ৪৫ নং দোয়াটি দেখুন ]
.
শয়তান হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয়↓
رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ
রব্বি আ‘ঊযুবিকা মিন্ হামাযা -তিশ্ শাইয়া-ত্বীন্।
অর্থঃ হে আমার রব, আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার কাছে পানাহ চাই।
وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونِ
অ আ‘ঊ যুবিকা রব্বি আইঁ ইয়াহ্দ্বুরূন্।
অর্থঃ আর হে আমার রব, আমার কাছে তাদের উপস্থিতি হতে আপনার কাছে পানাহ চাই।
সূরা আল মু’মিনূন – ২৩:৯৭-৯৮
[উপরোক্ত দোআটি অডিও সহকারে শুনতে এবং মুখস্ত করতে হিসনুল মুসলিম এপটির “সব দোয়া অধ্যায় এর ১৮২ নং দোয়াটি দেখুন ]
.
চক্ষু শীতলকারী স্ত্রী ও সন্তান লাভ করার দোয়া↓
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
রব্বানা-হাব্লানা-মিন্ আয্ওয়া-জ্বিনা-অ র্যুরিয়্যা-তিনা-কুররাতা আ’ইয়ুনিঁও অজ্বআল্না-লিল্মুত্তাকীনা ইমা-মা-। সূরা আল-ফুরকান – ২৫:৭৪
অর্থঃ হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন যারা আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন
[উপরোক্ত দোআটি অডিও সহকারে শুনতে এবং মুখস্ত করতে হিসনুল মুসলিম এপটির “সব দোয়া অধ্যায় এর ১৮৬ নং দোয়াটি দেখুন ]
.
দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যান চাওয়া।
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
রব্বানায় আ-তিনা-ফিদ্ দুন্ইয়া-হাসানাতাওঁ অফিল্ আ-খিরাতি হাসানাতাওঁ অক্বিনা-‘আযা-বান্না-র। সূরা আল বাকারাহ – ২:২০১
অর্থঃ হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন। আর আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন।
[উপরোক্ত দোআটি অডিও সহকারে শুনতে এবং মুখস্ত করতে হিসনুল মুসলিম এপটির “সব দোয়া অধ্যায় এর ২৭.২ নং দোয়াটি দেখুন ]
.
শয়তান থেকে হেফাজত থাকতে প্রতিদিন সকালে এ দোয়াটি পড়বেন↓
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে লোক একশ’বার এ দু’আ’টি পড়বেঃ
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ،
লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মূলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর।
অর্থঃ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর, আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
তাহলে সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তানের নিকট হতে মাহফুজ (হেফাজতে) থাকবে। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩২৯৩)
[উপরোক্ত দোআটি অডিও সহকারে শুনতে এবং মুখস্ত করতে হিসনুল মুসলিম এপটির “সব দোয়া অধ্যায় এর ২৭.১৯ নং দোয়াটি দেখুন ]
.
প্রতিদিন ঘুমানোর সময় আগে অযু করুন। তারপর এই দো’আ টি পড়ুন। ঐ রাতে আপনি মারা গেলে ফিতরাত তথা দীন ইসলামের উপর মারা যাবেন, ইনশাআল্লাহ। রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তুমি বিছানা গ্রহণ করবে, তখন নামাযের মত ওযু করবে, তারপর তোমার ডান পার্শ্বদেশে শুয়ে পড়বে। তারপর বল,
اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ
আল্লা-হুম্মা আস্‌লামতু নাফ্‌সী ইলাইকা, ওয়া ফাউওয়াদ্বতু আমরী ইলাইকা, ওয়া ওয়াজ্জাহ্‌তু ওয়াজহিয়া ইলাইকা, ওয়াআলজা’তু যাহ্‌রী ইলাইকা, রাগবাতান ওয়া রাহবাতান ইলাইকা। লা মালজা’আ ওয়ালা মান্‌জা মিনকা ইল্লা ইলাইকা। আ-মানতু বিকিতা-বিকাল্লাযী আনযালতা ওয়াবিনাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালতা
.
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি নিজেকে আপনার কাছে সঁপে দিলাম। আমার যাবতীয় বিষয় আপনার কাছেই সোপর্দ করলাম, আমার চেহারা আপনার দিকেই ফিরালাম, আর আমার পৃষ্ঠদেশকে আপনার দিকেই ন্যস্ত করলাম; আপনার প্রতি অনুরাগী হয়ে এবং আপনার ভয়ে ভীত হয়ে। একমাত্র আপনার নিকট ছাড়া আপনার (পাকড়াও) থেকে বাঁচার কোনো আশ্রয়স্থল নেই এবং কোনো মুক্তির উপায় নেই। আমি ঈমান এনেছি আপনার নাযিলকৃত কিতাবের উপর এবং আপনার প্রেরিত নবীর উপর।”
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে এই দো’আটি শিক্ষা দিলেন, তাকে বলেন: “যদি তুমি ঐ রাতে মারা যাও তবে ‘ফিতরাত’ তথা দীন ইসলামের উপর মারা গেলে। (“বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১১৩, নং ৬৩১৩; মুসলিম ৪/২০৮১, নং ২৭১০)
[উপরোক্ত দোআটি অডিও সহকারে শুনতে এবং মুখস্ত করতে হিসনুল মুসলিম এপটির “সব দোয়া অধ্যায় এর ২৮.১৩ নং দোয়াটি দেখুন ]
.
আয়াতুল কুরসি প্রত্যেক ফরজ স্বলাত/নামাযের পর, শোয়ার আগে এবং সকালে ও বিকালে পড়বেন↓
اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ –
সূরা আল-বাকারাহ্‌ ২৫৫
.
অর্থঃ আল্লাহ্, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ্ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়। আসমানসমূহে যা রয়েছে ও যমীনে যা রয়েছে সবই তাঁর। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তাঁর ‘কুরসী’ আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। আর তিনি সুউচ্চ সুমহান।
এ দোআটি পড়লে সারা রাত্র আপনি শয়তান থেকে হেফাজতে থাকবেন। বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ), ৪/৪৮৭, নং ২৩১১।
আর যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ স্বলাত/নামাযের পর পড়লে তার মৃত্যু ব্যতীত জান্নাতে যাওয়ার পথে আর কোন বাধা থাকবে না। নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল্লাইলাহ, নং ১০০; ইবনুস সুন্নী, নং ১২১। আর শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহুল জামে‘ ৫/৩৩৯ তে এবং সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহা ২/৬৯৭, নং ৯৭২ তে সহীহ বলেছেন। আর আয়াতটি দেখুন, সূরা আল-বাকারাহ্‌-২৫৫।
[উপরোক্ত দোআটি অডিও সহকারে শুনতে এবং মুখস্ত করতে হিসনুল মুসলিম এপটির “সব দোয়া অধ্যায় এর ২৫.৬ নং দোয়াটি দেখুন ]
.
যে ব্যক্তি সকালে তা (আয়াতুল কুরসী) বলবে সে বিকাল হওয়া পর্যন্ত জিন শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকবে, আর যে ব্যক্তি বিকালে তা বলবে সে সকাল হওয়া পর্যন্ত জিন শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকবে।
তবে শুরুতে আ‘ঊযু বিল্লা-হি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম বলে নিবেন।
.
হাদীসটি হাকিম সংকলন করেছেন, ১/৫৬২। আর শাইখ আলবানী একে সহীহুত তারগীব ওয়াত-তারহীবে সহীহ বলেছেন ১/২৭৩। আর তিনি একে নাসাঈ, তাবারানীর দিকে সম্পর্কযুক্ত করেছেন এবং বলেছেন, তাবারানীর সনদ ‘জাইয়্যেদ’ বা ভালো।
[উপরোক্ত দোআটি অডিও সহকারে শুনতে এবং মুখস্ত করতে হিসনুল মুসলিম এপটির “সব দোয়া অধ্যায় এর ২৭.২ নং দোয়াটি দেখুন ]
.
০৪. তওবা/ইস্তেগফার করাঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “যে ব্যক্তি বলবে,
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الْعَظيمَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ القَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيهِ
আস্তাগফিরুল্লা-হাল ‘আযীমল্লাযী লা ইলা-হা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কায়্যূমু ওয়া আতূবু ইলাইহি।
অর্থঃ আমি মহামহিম আল্লাহ্‌র নিকট ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তিনি চিরস্থায়ী, সর্বসত্তার ধারক। আর আমি তাঁরই নিকট তওবা করছি।’
.
আল্লাহ তাকে মাফ করে দিবেন, যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নকারী হয়।
আবূ দাউদ ২/৮৫, নং ১৫১৭; তিরমিযী ৫/৫৬৯, নং ৩৫৭৭; আল-হাকিম এবং সহীহ বলেছেন, তার সাথে ইমাম যাহাবী ঐকমত্য পোষণ করেছেন, ১/৫১১, আর শাইখুল আলবানীও সহীহ বলেছেন। দেখুন, সহীহুত তিরমিযী ৩/১৮২, জামেউল উসূল লি আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৪/৩৮৯-৩৯০, আরনাঊত এর সম্পাদনাসহ।
রাসূল ﷺ দৈনিক একশত বার তাওবা করতেন। মুসলিম, ৪/২০৭৬, নং ২৭০২।
.
রাসুল ﷺ বলেন, একজন বান্দা তার রবের সবচেয়ে কাছে তখনই থাকে, যখন সে সেজদায় যায়, সুতরাং তোমরা তখন বেশি বেশি করে দোয়া কর। মুসলিম, ১/৩৫০; নং ৪৮২।
[উপরোক্ত দোআটি অডিও সহকারে শুনতে এবং মুখস্ত করতে হিসনুল মুসলিম এপটির “সব দোয়া অধ্যায় এর ১২৯ নং দোয়াটি দেখুন ]
উপরে বর্নিত সবগুলো দোআ ও যিকির (হিসনুল মুসলিম) অ্যাপটি পেতে লিংকঃ https://goo.gl/hmWsrH এটি প্লে স্টোর এ পাবেন।
.
০৫. নিয়মিত তাহাজ্জুদ সালাত/নামায পড়ার চেষ্টা করবেন। কারণ ফরয সালাতের পর রাতের নামাজ/সলাতই (তাহাজ্জুদ) সর্বোত্তম।আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রমাযান মাসের পর আল্লাহর মাস মুহররম-এর সওম হচ্ছে সর্বোত্তম এবং ফরয সালাতের পর রাতের সলাতই সর্বোত্তম। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৪২৯)
আবদুল্লাহ্‌ বিন সালাম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন , রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনায় পদার্পণ করলে লোকেরা তাঁকে দেখার জন্যে ভীড় জমায় এবং বলাবলি হয় যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসেছেন। আমিও লোকেদের সাথে তাঁকে দেখতে গেলাম। আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারার দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম যে, এ চেহারা কোন মিথ্যাবাদীর চেহারা নয়। তখন তিনি সর্বপ্রথম যে কথা বললেন তা হলো : হে লোকসকল! তোমারা পরস্পর সালাম বিনিময় করো, অভুক্তকে আহার করাও এবং রাতের বেলা মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন সালাত পড়ো। তাহলে তোমারা নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৩৩৪)
তিরমিযী ২৪৮৫, দারিমী ১৪৬০, ইবনু মাজাহ ৩২৫১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ২৩৯, সহীহ তারগীব ৬১২, সহীহাহ ৫৬৯।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমাদের রব্ব প্রত্যেক রাতে যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বাকী থাকে তখন পৃথিবীর আসমানে নেমে আসেন এবং বলেন, আমার কাছে যে দু’য়া করবে, আমি তার দু’য়া কবুল করব। আমার কাছে যে চাইবে, আমি তাকে দেব। আমার কাছে যে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তাকে আমি ক্ষমা করে দেব।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৮৬) সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭৪৯৪
.
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি : সারা রাতের মধ্যে এমন একটি বিশেষ সময় আছে যে সময়ে কোন মুসলিম আল্লাহর কাছে দুন্ইয়া ও আখিরাতের কোন কল্যাণ প্রার্থনা করলে তিনি তাকে তা দান করেন। আর ঐ বিশেষ সময়টি প্রত্যেক রাতেই থাকে।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৬৫৫ (ই.ফা. ১৬৪০, ই.সে. ১৬৪৭) হাদিস সম্ভার, হাদিস নং ৮০০
রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ১১৮৬
.
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “নিশ্চয় এবাদতের জন্যে রাত্রিতে উঠা প্রবৃত্তি দলনে সহায়ক এবং স্পষ্ট উচ্চারণের অনুকূল।” (সূরা আল-মুযযাম্মিল, আয়াত ৬)
.
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “যে ব্যক্তি রাত্রিকালে সেজদার মাধ্যমে অথবা দাঁড়িয়ে এবাদত করে, পরকালের আশংকা রাখে এবং তার পালনকর্তার রহমত প্রত্যাশা করে, সে কি তার সমান, যে এরূপ করে না; বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তা-ভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান।” (সূরা আয-যুমার, আয়াত ৯)
.
আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘তারা (খোদাভীরুরা) রাত্রির সামান্য অংশেই নিদ্রা যেত এবং রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত।’ (সূরা আজ-জারিয়াত, আয়াত-১৭-১৮)
০৫. প্রতিদিন কোরআন তিলাওয়াত করবেনঃ অন্ততপক্ষে সূরা বাকারাহ্ পাঠ করবেন। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা নিজেদের ঘর-বাড়িগুলোকে কবরে পরিণত করো না । কেননা, যে বাড়িতে সূরা বাকারাহ পাঠ করা হয়, সে বাড়ি থেকে শয়তান পলায়ন করে ।” (মুসলিম) রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ১০২৫
(মুসলিম ৭৮০, তিরমিযী ২৮৭৭, আবূ দাঊদ ২০৪২, আহমাদ ৭৭৬২, ৮২৩৮, ৮৫৮৬, ৮৬৯৮, ৮৮০৯)
০৬. রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সুন্নত অনুসরণ করুন। দাড়ি রেখে দিন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের উল্টো করবেঃ দাড়ি লম্বা রাখবে, গোঁফ ছোট করবে।
.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) যখন হাজ্জ বা ‘উমরাহ করতেন, তখন তিনি তাঁর দাড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির বাইরে যতটুকু বেশী থাকত, তা কেটে ফেলতেন।সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৮৯২
[৫৮৯৩; মুসলিম ২/১৬, হাঃ ২৫৯, আহমাদ ৪৬৫৪] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৬০)
* এর ফলাফল হিসেবে মেয়েরা আপনাকে দেখে পর্দা করবে। *মুখে দাড়ি রেখে মেয়েদের দিকে তাকাতে আপনার লজ্জা করবে। সুতরাং এর ফলে আপনার চোখ নিচু রাখতে সাহায্য করবে।
* যদি আপনি রাসুল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণ করেন তাহলে স্বয়ং আল্লাহ আপনাকে ভালবাসবেন।
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “বলে দাও, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তবে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসকল ক্ষমা করবেন, বস্তুতঃ আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৩১)
*** আর আল্লাহ যাকে ভালবাসেন তার হেফাজতের দায়িত্বও তিনি নেন, ইনশাআল্লাহ।
০৭. সাদা পোশাক পরিধান করুন। রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাদা পোশাককে সর্বোত্তম পোশাক বলেছেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করো এবং তা দিয়ে তোমাদের মৃতদের কাফন পরাও; কেননা তা তোমাদের উত্তম পোশাক। আর তোমাদের জন্য উত্তম সুরমা হলো ‘ইসমিদ’ সুরমা; কারণ তা দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় এবং চোখের পাতার চুল গজায়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৮৭৮)
অনেকে মনে করে থাকেন, দাড়ি রাখলে চাকরি পাবেন না, বউ পাবেন না, হুজুরদের মত হলে কেও চাকরি দিবে না ইত্যাদি!
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “শয়তান তোমাদেরকে অভাব অনটনের ভীতি প্রদর্শন করে এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও বেশী অনুগ্রহের ওয়াদা করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সুবিজ্ঞ।” (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২৬৮)
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “যে মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তারা যা করত তার তুলনায় অবশ্যই আমি তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দেব।” (সূরা আন-নাহল, আয়াত ৯৭)
০৮. কবর জিয়ারত করাঃ কারণ কবর জিয়ারত আখেরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা কবর যিয়ারত করো। কেননা, তা তোমাদেরকে আখেরাত স্মরণ করিয়ে দেয়। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৫৬৯
মুসলিম ৯৭৬ ;নাসায়ী ২০৩৪; আবূ দাউদ ৩২৩৪; আহমাদ ৯৩৯৫ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
* মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
আবূ হুরায়রা (রাঃ), থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার মায়ের কবর যিয়ারত করেন। তিনি কান্নাকাটি করেন এবং তার সাথের লোকদেরও কাঁদান। অতঃপর তিনি বলেন, আমি আমার রবের নিকট তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি দেননি। আমি আমার রবের নিকট তার কবর যিয়ারতের অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি দেন। অতএব তোমরা কবর যিয়ারত করো। কেননা তা তোমাদের মৃত্যু স্মরণ করিয়ে দেয়। (সুনানে ইবনে মাজাহ – ১৫৭২)
মুসলিম ৯৭৬ ;নাসায়ী ২০৩৪; আবূ দাউদ ৩২৩৪; আহমাদ ৯৩৯৫ ইরওয়াহ ৭৭২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
* প্রতিদিন না পারলে সাপ্তাহে অন্তত ১ দিন (ভোর সকালে বা বিকালে) কবর জিয়ারত করবেন।
০৯. বিয়ে করাঃ আপনার যদি বিয়ের খরচ বহন ও শারীরিক সামর্থ্য থাকে তাহলে বিয়ে করে ফেলুন। কেননা, তা আপনার দৃষ্টি নিম্নগামী রাখতে ও লজ্জাস্থানকে হেফাজত করায় সহায়ক হবে। আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু মাস’উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – এর সঙ্গে আমরা কতক যুবক ছিলাম; আর আমাদের কোন কিছু ছিল না। এই হালতে আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন। হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কেননা বিয়ে তার দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হিফাযত করে এবং যার বিয়ে করার সামর্থ্য নেই, সে যেন সাওম পালন করে। কেননা, সাওম তার যৌনতাকে দমন করবে। (সহীহ বুখারী হাদিস নং ৫০৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৯৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৯৬)
১০. রোযা রাখাঃ যদি বিয়ে করতে না পারেন তাহলে রোযা রাখুন। কারণ রাসুল (সঃ) বলেছেনঃ যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে। কারণ তা যৌন উত্তেজনা প্রশমনকারী।” (সহীহ বুখারী ৫০৬৬)
* সপ্তাহে ২ দিন (সোম ও বৃহস্পতিবার) রোযা রাখবেন। এদিন রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রোযা রাখতেন।
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “(মানুষের) আমলসমূহ সোম ও বৃহস্পতিবারে (আল্লাহর দরবারে) পেশ করা হয়। তাই আমি ভালবাসি যে, আমার আমল এমন অবস্থায় পেশ করা হোক, যখন আমি সিয়ামের (রোযা) অবস্থায় থাকি।” (হাদিস সম্ভার, হাদিস নং ১০৯০) (তিরমিযী ৭৪৭, সহীহ তারগীব ১০২৭)
* তবে মনে রাখা প্রয়োজন, আল্লাহ্‌ তা’আলার নিকট সর্বাধিক প্রিয় সিয়াম/রোযা হল দাঊদ (‘আঃ)-এর সিয়াম/রোযা।
আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘আমর ইব্‌নুল ‘আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বলেছেনঃ আল্লাহ্‌র নিকট সর্বাধিক প্রিয় সালাত হল দাঊদ (‘আঃ)-এর সালাত। আর আল্লাহ্‌ তা’আলার নিকট সর্বাধিক প্রিয় সিয়াম হল দাঊদ (‘আঃ)-এর সিয়াম। তিনি [দাঊদ (‘আঃ)] অর্ধরাত পর্যন্ত ঘুমাতেন, এক তৃতীয়াংশ তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করতেন এবং রাতের এক ষষ্ঠাংশ ঘুমাতেন। তিনি একদিন সিয়াম পালন করতেন, একদিন সাওমবিহীন অবস্থায় থাকতেন। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১১৩১)
সুতরাং সম্ভব হলে অবশ্যই একদিন বাদে একদিন রোযা রাখবেন।
১১. হাসপাতালে রোগী দেখতে যাওয়াঃ বন্ধুদের সাথে নিয়ে অবসর সময়ে হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করুন। এর ফলে সত্তর হাজার ফেরেশতা আপনার জন্য দোয়া করতে থাকবে।
সুওয়াইর (রহঃ) হতে তাঁর পিতা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমার হাত ধরে আলী (রাঃ) বললেন, আমার সাথে চল, অসুস্থ হুসাইনকে দেখে আসি। আমরা তার নিকটে গিয়ে মূসা (রাঃ)-কে হাযির পেলাম। আলী (রাঃ) বললেন, হে আবূ মূসা! আপনি কি রোগী দেখতে এসেছেন না এমনি বেড়াতে এসেছেন? তিনি বললেন, না, রোগী দেখতে এসেছি। আলী (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমি বলতে শুনেছিঃ কোন মুসলমান যদি অন্যকোন মুসলিম রোগীকে সকাল বেলা দেখতে যায় তাহলে সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত দু’আ করতে থাকে। সে যদি সন্ধ্যায় তাকে দেখতে যায় তবে সত্তর হাজার ফেরেশতা ভোর পর্যন্ত তার জন্য দু’আ করতে থাকে এবং জান্নাতে তার জন্য একটি ফলের বাগান তৈরী হয়।
-সহীহ, তবে হাদীসে বর্ণিত যায়িরাণ শব্দের পরিবর্তে শামিতান শব্দ আছে। জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৯৬৯ -সহীহাহ (১৩৬৭), আর-রা ওয (১১৫৫)।
১২. জানাজায় অংশ গ্রহণ করাঃ যথাসম্ভব জানাযার নামায আদায় করার চেষ্টা করবেন। কারণ শুধু জানাযার নামায আদায় করলে আপনি পাবেন, একটি বড় পাহাড়ের সমান নেকি। আর দাফন পর্যন্ত থাকলে পাবেন দুইটি বড় পাহাড়ের সমান নেকি। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি জানাযার সলাত পড়ল, তার জন্য এক কীরাত সওয়াব। আর যে ব্যক্তি দাফনকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করল, তার জন্য দু’ কীরাত সওয়াব। লোকেরা বলল, দু’ কীরাত? তিনি বলেন, দুটি পাহাড়ের সমান।
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৫৩৯) সহীহুল বুখারী ৪৭ মুসলিম ৯৪৫, তিরমিযী ১০৪০, আবূ দাউদ ৩১৬৮, আহমাদ ৮০৬৬, ৯২৬৬, ৯৭২৯, ১০০১৮, ১০০৯০, ১০৪৯৪ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ
১৩. এতিমখানা বা কোন বৃদ্ধাশ্রমে ঘুরে আসা এবং সামর্থ অনুযায়ী সাহায্য করাঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বিধবা ও মিসকীনদের অভাব দূর করার জন্য সচেষ্ট ব্যক্তি আল্লাহ্‌র পথে জিহাদকারীর ন্যায়। [ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন] আমার ধারণা যে কা’নবী (বুখারীর উস্তাদ ‘আবদুল্লাহ) সন্দেহ প্রকাশ করেছেনঃ সে রাতভর দাঁড়ানো ব্যক্তির মত যে (‘ইবাদাতে) ক্লান্ত হয় না এবং এমন সিয়াম পালনকারীর মত, যে সিয়াম ভঙ্গ করে না।
(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬০০৭) (আঃপ্রঃ- ৫৫৭৩, ইঃফা- ৫৪৬৯)
১৪. বিবাহপূর্বক অবৈধ প্রেম থেকে বিরত থাকুনঃ কারণ, আল্লাহ তাআ’লা প্রকাশ্যে ব্যভিচার এবং গোপনে প্রণয়/প্রেম করতে নিষেধ করেছেন।
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “আজ তোমাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করা হল। আহলে কিতাবদের খাদ্য তোমাদের জন্যে হালাল এবং তোমাদের খাদ্য তাদের জন্য হালাল। তোমাদের জন্যে হালাল সতী-সাধ্বী মুসলমান নারী এবং তাদের সতী-সাধ্বী নারী, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তোমাদের পূর্বে, যখন তোমরা তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর তাদেরকে স্ত্রী করার জন্যে, কামবাসনা চরিতার্থ করার জন্যে কিংবা গুপ্ত প্রেমে লিপ্ত হওয়ার জন্যে নয়। যে ব্যক্তি বিশ্বাসের বিষয় অবিশ্বাস করে, তার শ্রম বিফলে যাবে এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৫)
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, আর যিনা-ব্যভিচারের কাছেও যেও না, তা হচ্ছে অশ্লীল কাজ আর অতি জঘন্য পথ। (সূরা বানী ইসরাঈল, আয়াত ৩২)
*** বিবাহপূর্বক প্রেম আপনাকে যিনা/ব্যভিচারের দিকে ধাবিত করবে। কারণ↓
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: মহান আল্লাহ তা’আলা আদাম সন্তানের জন্য তার ব্যভিচারের অংশ লিখে রেখেছেন, সে তা নিশ্চয়ই করবে। চোখের ব্যভিচার হল দেখা, জিহবার ব্যভিচার কথা বলা (যৌন উদ্দীপ্ত কথা বলা)। আর মন চায় ও আকাঙ্ক্ষা করে এবং গুপ্তাঙ্গ তাকে সত্য বা মিথ্যায় প্রতিপন্ন করে। [১]
কিন্তু সহীহ মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় আছে, আদাম সস্তানের জন্য তাকদীরে যিনার অংশ যতটুকু নির্ধারণ করা হয়েছে, সে ততটুকু অবশ্যই পাবে। দুই চোখের যিনা তাকানো, কানের যিনা যৌন উদ্দীপ্ত কথা শোনা, মুখের যিনা আবেগ উদ্দীপ্ত কথা বলা, হাতের যিনা (বেগানা নারীকে খারাপ উদ্দেশ্যে) স্পর্শ করা আর পায়ের যিনা ব্যভিচারের উদ্দেশে অগ্রসর হওয়া এবং মনের যিনা হল চাওয়া ও প্রত্যাশা করা। আর গুপ্তাঙ্গ তা সত্য বা মিথ্যায় প্রতিপন্ন করে। [2] ফুটনোট
[১] সহীহ : বুখারী ৬২৪৩, মুসলিম ২৬৫৭, আবূ দাঊদ ২১৫২, আহমাদ ৭৭১৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪৪২০, ইরওয়া ১৭৮৭, সহীহ আল জামি‘ ১৭৯৭।
[2] সহীহ : মুসলিম ২৬৫৭। মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ৮৬
*** যিনার ভয়াবহ শাস্তি ***
সামুরাহ বিন জুনদুব(রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নামায পড়ানোর পর আমাদের অভিমূখী হয়ে বললেন, আজ রাত আমি স্বপ্ন যোগে দেখলাম, আমার নিকট দু’জন ব্যক্তি আসল এবং আমাকে এক পবিত্র ভূমির দিকে নিয়ে গেল। আমরা তন্দুরের ন্যায় একটি গর্তের নিকট গিয়ে পৌঁছলাম, যার উপরের অংশ ছিল সঙ্কীর্ণ এবং নিচের অংশ ছিল প্রশস্ত। দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল এবং সে আগুনে কিছু পুরুষ ও মহিলা উলঙ্গাবস্থায় অবস্থান করছিল। যখন আগুনের শিখা বৃদ্ধি পায় তখন তারা উপরের দিকে চলে যায়, আর যখন আগুনের শিখা হ্রাস পায়, তখন শিখার সাথে সাথে তারাও নিচের দিকে নেমে আসে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? সে দু’জন ব্যক্তি বলল, এরা হল যিনাকারী নর-নারী। (বুখারী হাদীস নং-১৩৮৬)
১৫. সপ্নদোষ নিয়ে কিছু কথাঃ চিকিৎসকদের মতে সপ্নদোষ ক্ষতিকর নয়। https://goo.gl/ot2EGL
সপ্নদোষ একটি প্রাকৃতিক ব্যাপার। আল্লাহ তা’আলা এটিকে হারাম বলেননি। তিনি এটাকে সাবালকত্বের নিদর্শন বলেছেন। আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “আর তোমাদের সন্তানেরা বয়ঃপ্রাপ্ত হলে (সপ্নদোষের মাধ্যমে)….” (সূরা নুর, আয়াত ৫৯)। প্রথমবার সপ্নদোষ হবার পর থেকেই একজন বালককে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং তার উপর শরীয়াহ কার্যকর হবে। https://goo.gl/d94TQs
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন- তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে রাখা হয়েছেঃ ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, নাবালেগ, যতক্ষণ না সে বালেগ হয় এবং পাগল, যতক্ষণ না সে জ্ঞান ফিরে পায় বা সুস্থ হয়। -হাকিম সহীহ্‌ বলেছেন, ইবনু হিব্বানও বর্ণনা করেছেন। বুলুগুল মারাম, হাদিস নং ১০৮৫, আর দাউদ ৪৩৯৮, নাসায়ী ৩৪৩২, ইবনু মাজাহ ২০৪১, আহমাদ ২৪১৭৩,২৪১৮২, দারেমী ২২৯৬।
সুতরাং কোন ব্যক্তির ঘুমন্ত অবস্থায় সপ্নদোষ হলেও, তা আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হয় না।https://goo.gl/VBZhcE
***আল্লাহ যেহেতু এটিকে হারাম বলেননি সুতরাং এতে ক্ষতিকর কিছু নেই।
*** সপ্নদোষ কতদিন পরপর হয়?
আসলে এটি নিদিষ্ট করে বলা যায় না। কারও ১ সপ্তাহ পর পর, কারও বা ৩/৪ সপ্তাহ পরপর হয়।
আর কারও যদি দীর্ঘদিন ধরে সপ্নদোষ না হয় তবে ধৈর্য্য ধরুন।
সাধারণত শরীরে টেস্টোস্টোরনের (এক ধরনের হরমোন) পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেলে পুরনো বীর্য সপ্নদোষের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। এবং নতুন বীর্য তৈরি হয়। সম্ভাব্য কারণ, দীর্ঘসময় ধরে যৌন নিষ্ক্রিয়তার ফলে টেস্টোস্টোরন হরমোনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যার কারণে সপ্নদোষ হয়। https://goo.gl/GkWHLM (আল্লাহ ভাল জানেন)
সুতরাং আবারো বলছি ধৈর্য ধরুন।
হস্তমৈথুন করা ও পর্ণগ্রাফি দেখার ভয়াবহ ক্ষতিসমূহঃ
০১. লিঙ্গউথানজনিত সমস্যাঃ
পর্নআসক্তি এবং হস্তমৈথুনের প্রভাবে আপনি লিঙ্গউথানজনিত সমস্যায় পড়তে পারেন।
এই সমস্যার ফলে যৌনমিলনের সময় আপনার লিঙ্গ যতটুকু শক্ত থাকা দরকার ততটুকু শক্ত হবে না এবং যতসময় ধরে শক্ত থাকা প্রয়োজন তত সময় ধরে থাকবে না। ফলে আপনি হারাবেন স্বাভাবিক যৌনমিলনের সক্ষমতা। Ibid
এ সমস্যার ভুক্তভোগী একভাইয়ের বাস্তব ঘটনা দেখুন→ তথ্যসূত্রঃ লিংক→ http://bit.ly/2AGwGHc
০২. আপনি যৌনমিলনের ক্ষমতা হারাবেনঃ
ঘনঘন হস্তমৈথুনের সাথে সাথে পর্ণগ্রাফি দেখতে থাকলে একসময় আপনি যৌনমিলনের ক্ষমতাই হারিয়ে ফেলবেন। http://bit.ly/2DjTM6V
০৩. প্রস্টেট (মুত্রথলির) ক্যান্সারের ঝুঁকিঃ
যারা সপ্তাহে ২-৭ বার হস্তমৈথুন করে তাদের ৬০ বছর বয়সে প্রস্টেট ক্যান্সারের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৭৯% বেশি। আবার ২০-৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে যারা হস্তমৈথুন থেকে দূরে থাকে তাদের প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৭০% কম। http://bit.ly/2Q7TolX
০৪. মস্তিষ্কের ক্ষতিঃ একজন মানুষ যত বেশি পর্ণ দেখে তার মস্তিষ্কে তত বেশি ক্ষতি হতে থাকে। Angres, D. H. and Bettinardi-Angres, K. (2008). The Disease of Addiction: Origins, Treatment, and Recovery. Disease-a-Month 54: 696–721
*** পর্ণ-আসক্ত এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্ক স্ক্যান করে দেখা গিয়েছে, তাদের মস্তিষ্কের গঠন হুবুহু এক। http://bit.ly/2KSuAc4
০৫. টেস্টোস্টোরোনের পরিমাণ কমে যাবেঃ
হস্তমৈথুনের ফলে টেস্টোস্টোরোনের ( মানব দেহের এক ধরনের হরমোন) পরিমাণ কমে যেতে পারে। এর ফলে আপনি যে যে ভয়াবহ সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন↓
১/ হস্তমৈথুনের ফলে আপনার স্মৃতিশক্তি দূর্বল হয়ে পড়বে।
২/ আপনার দেহে ক্লান্তি ভাব চলে আসবে।
৩/ বিষন্নতা আপনাকে গ্রাস করবে।
৪/ মনযোগ কমে যাবে।
৫/ অতিরিক্ত অস্থিরতা প্রকাশ পাবে।
৬/ শারিরীক সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকবে।
৭/ আত্মনিয়ন্ত্রণ কমে যাবে।
৮/ পুরুষালি আচরণ কমতে ধাকবে।
৯/ আচরণে মিনমিনে ভাব চলে আসবে।
১০/ স্বাভাবিক যৌনক্রিয়াতে আগ্রহ হারাবেন।
১১/ দ্রুত বীর্যপাত হবে।
১২/ দৃষ্টিশক্তি কমে যাবে।
১৩/ মেরুদন্ডে ব্যথা হবে।
১৪/ পেশি সুগঠিত হবে না।
১৫/ শরীরে চর্বি জমে যাবে।
১৬/ হাড় ক্ষয়ে যাবে।
২৭/ হস্তমৈথুনের ফলে আপনার চুল পড়ে যাবে।
০৬. মেয়েদের যে সমস্যাগুলো হতে পারেঃ
*** হস্তমৈথুন নারীদের স্তন ক্যান্সার এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
Le MG, Bachelot A, Hill C.
Characteristics of reproductive life and risk of breast cancer in a case-control study of young nulliparous women. Journal of Clinical Epidemiology 1989; 42:1227–33
*** অ্যানাল সেক্স (পায়ুপথে সঙ্গম) এর ফলে কিশোরীদের মলাশয়ের টিস্যু ছিঁড়ে যাচ্ছে। ফলে তারা প্রস্রাব ও মলত্যাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। এর ফলে তাদের কলোস্টমি ব্যাগ [ক] ব্যবহার করতে হচ্ছে।
*** ওরাল সেক্স (মুখে সঙ্গম) এর ফলে আক্রান্ত হচ্ছে HPV ভাইরাসে। আর এর ফলে গলায় ক্যান্সার হবার কারণে অনেককেই সার্জারীর আশ্রয় নিতে হচ্ছে। https:/cNoo.gl/14p2cN
*** মুখ ও গলার ক্যান্সারের অন্যতম কারণ ওরাল সেক্স। http://bit.ly/2V2jA0a
[ক] কলোস্টমি ব্যাগঃ মলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হলে, অপারেশন করে ফেলে দেয়া হয়। পেট ফুটো করে নাড়ির মুখ খুলে দেয়া হয়। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় কলোস্টমি। নাড়ির সাথে একটি ব্যাগ লাগানো থাকে। মল এসে সেই ব্যাগে জমা হয়। একটু পর পর ব্যাগ পরিস্কার করতে হয়। সাধারণত মলাশয়ে ক্যান্সারের রোগিদের ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। কিন্তু অ্যানাল সেক্সের কারণে মলাশয়ের ক্ষতির ফলে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও এমন অবস্থা হতে পারে।
Recovery এর জন্য যা যা করবেনঃ
০১. *** নিয়মিত কালো জিরা খাবেন। কারণ হাদিসে কালোজিরাকে মৃত্যু ছাড়া সব রোগের ঔষধ বলা হয়েছে।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছেনঃ কালো জিরা ‘সাম’ ছাড়া যাবতীয় রোগের ঔষধ।
ইবনু শিহাব বলেছেনঃ আর ‘সাম’ অর্থ হল মৃত্যু এবং কালো জিরাকে ‘শুনীয’ও বলা হয়। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৬৮৮) (আঃপ্রঃ ৫২৭৭, ইঃফাঃ ৫১৭৩)
খালিদ ইবনু সা‘দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমরা (যুদ্ধের অভিযানে) বের হলাম। আমাদের সঙ্গে ছিলেন গালিব ইবনু আবজার। তিনি পথে অসুস্থ হয়ে গেলেন। এরপর আমরা মদীনায় ফিরলাম তখনও তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাঁকে দেখাশুনা করতে আসেন ইবনু আবূ ‘আতীক। তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা এ কালো জিরা সাথে রেখ। এত্থেকে পাঁচটি কিংবা সাতটি দানা নিয়ে পিষে ফেলবে, তারপর তন্মধ্যে যাইতুনের কয়েক ফোঁটা তৈল ঢেলে দিয়ে তার নাকের এ দিক-ওদিকের ছিদ্র দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা করে প্রবিষ্ট করাবে। কেননা, ‘আয়িশাহ (রাঃ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছেনঃ এই কালো জিরা ‘সাম’ ছাড়া সব রোগের ঔষধ। আমি বললামঃ ‘সাম’ কী? তিনি বললেনঃ মৃত্যু। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৬৮৭ (আঃপ্রঃ ৫২৭৬, ইঃফাঃ ৫১৭২)
০২. *** যাইতুন এর তেলের ব্যবহারঃ
যাইতুন এর তেল কে ইংরেজিতে Olive oil (অলিভ ওয়েল) এবং বাংলাতে জলপাই এর তেল বলে।
উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যায়তুন তেল দিয়ে রুটি খাও ও তা দেহে মাখো। কারন তা বরকতপূর্ণ গাছ থেকে নির্গত হয়। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৩১৯
তিরমিযী ১৮৫১, সহীহাহ ৩৭৯, আত-তালীকুর রাগীব ৩/১২০, মুখতাসারুশ শামাইল ১৩৩, ১৩৪)
০৩. *** ত্বীন (ডুমুর) ফল ও যাইতুন (জলপাই) ফল খাবেনঃ
*** বৈজ্ঞানিকদের মতে এ দুটি ফল বৃদ্ধ পর্যন্ত আপনার যৌবনকে ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
*** খাওয়ার নিয়মঃ বিজ্ঞানীদের মতে ১টি ত্বীন (ডুমুর) ফল ও ৭টি যাইতুন (জলপাই) ফল খেলে মিথালনিক্স (যৌবন ধরে রাখতে সাহায্য কারী হরমোন) হরমোন তৈরি হবে, যেটা যৌন শক্তিকে সচল করে।
http://bit.ly/2zsfOUY (ভিডিও) http://bit.ly/2KFZXX5 (পর্ব ১) http://bit.ly/2KDL1J8 (পর্ব ২) http://bit.ly/2As4QhL (পর্ব ৩)
***আশ্চর্য বিষয় পবিত্র কোরআন এও আল্লাহ ডুমুর ফলের কথা শুধু ১ বার বলেছেন। আর জাইতুন ফলের কথা বলেছেন ৭ বার, সুবহানআল্লাহ। (পবিত্র কোরআন )
***পবিত্র কোরআনে এ দুটি ফল সম্পর্কে একটি সূরা নাযিল হয়েছে। (সূরা আত-ত্বীন, সূরা নং ৯৫)
০৪. *** মধু খাবেনঃ
কারণ মধুতে মানুষের জন্য আরোগ্য রয়েছে।
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, তোমার প্রতিপালক মৌমাছির প্রতি এলহাম করেছেন যে, পাহাড়ে, বৃক্ষে আর উঁচু চালে বাসা তৈরি কর।
এর পর প্রত্যেক ফল হতে কিছু কিছু আহার কর, অতঃপর তোমার রবের সহজ পথ অনুসরণ কর। ওর উদর হতে নির্গত হয় বিবিধ বর্ণের পানীয়, যাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিষেধক। অবশ্যই এতে রয়েছে নিদর্শন চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য। (সূরা নাহল, আয়াত ৬৮-৬৯)
*** নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয় দ্রব্য ছিল মিষ্টিদ্রব্য ও মধু। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৬১৪ (আঃপ্র- ৫২০৩, ইঃফাঃ- ৫০৯৯)
*** ইবনু আব্বাস (রাঃ), থেকে বর্ণিতঃ
তিন জিনিসে রোগমুক্তি নিহিতঃ মধুপানে, রক্তমোক্ষণে /শিংগা লাগানো /হিজামা করা
এবং তপ্ত লোহার দাগ গ্রহণে। তবে আমার উম্মাতকে আমি তপ্ত লোহার দাগ গ্রহণ করতে বারণ করেছি। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হাদীসটি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৪৯১
*** যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে মধুঃ
দৈহিক ও যৌনশক্তি বৃদ্ধির জন্য মধু গরম দুধের সাথে পান করলে খুবই ভালো ফল পাওয়া যায়।
***প্রতিদিন কালোজিরা মধু দিয়ে চিবিয়ে খেলে বা দৈনিক দুই চামচ আদার রস মধু দিয়ে খেলে প্রচুর পরিমাণে যৌনশক্তি বৃদ্ধি করে। http://bit.ly/2P93D44
০৫. *** খেজুর খেতে পারেনঃ
*** আমির ইবনু সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রহঃ) হতে নিজের পিতার সূত্র থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যহ সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন কোন ধরনের বিষ ও যাদু তাকে ক্ষতি করবে না। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৮৭৬
০৬. চিকিৎসকের পরামর্শঃ চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, এক মিনিট যৌনমিলনে খরচ হয়ঃ ছেলেদের 4.2 এবং মেয়েদের 3.1 ক্যালরি।
***প্রত্যেক বীর্যপাতের পর (সেটা সহবাস হোক কিংবা হস্তমৈথুন) ১ কাপ দই এবং প্রচুর পরিমাণ পানি পান করবেন।
*** যারা দীর্ঘদিন দিন ধরে হস্তমৈথুন থেকে বিরত আছেন, কিংবা চেষ্টা করছেন বিরত থাকার জন্য, তারা Recovery এর জন্য যা যা খাবেন↓
১) ১ টা ডিম
২) ২ চা চামচ মধু
৩) ১ কাপ দুধ
সকালে ও রাতে তিন মাস খাবেন। আশা করি এতে আপনার ক্ষতি পূরণ হবে এবং যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, ইনশাআল্লাহ।
*** পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে হবে।
*** বিঃদ্রঃ অবিবাহিতদের রাতে ডিম/দুধ না খাওয়ার জন্য বলছি। কারণ এটা হয়ত আপনার যৌন উত্তেজনাকে বৃদ্ধি করতে পারে।
.
চিকিৎসকের পরামর্শঃ (২)
কালোজিরা এবং মধু একসাথে যেভাবে খাবেনঃ। প্রতিদিন সকালবেলা ও রাতে ভাত খাওয়ার পর, ১ চা চামচ মধুর সাথে ৪ বা ৫ টা কালোজিরা বা কালোজিরার তেল খাবেন।
*** তবে সব রোগ থেকে সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন খেতে পারেন, ইনশাআল্লাহ। তথ্যসূত্রঃ → ডাঃ Md.Faijul Huq http://bit.ly/2BHThVp
০৭. চোখের জ্যোতি বৃদ্ধিতে যা করবেনঃ
ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ। তিনি বলেন, নবী (সঃ) বলেছেন, তোমরা ইছমিদ সুরমা ব্যবহার করো। কারণ, তা চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করে ও পরিষ্কার রাখে এবং অধিক ভ্রু উৎপন্ন করে (ভ্র উদগত হয়)। ইবনে আব্বাস (রাঃ) আরো বলেন, নবী (সঃ) এর একটি সুরমাদানী ছিল। প্রত্যেক রাত্রে (ঘুমানোর পূর্বে) ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে তিনবার সুরমা লাগাতেন। [৪২]
ব্যাখ্যা : সুরমা ব্যবহারের হুকুম ও পদ্ধতি :
নারী-পুরুষ সকলের জন্য চোখে সুরমা লাগানো ভালো। তবে সওয়াবের নিয়তে সুরমা লাগানো উচিত, যাতে চোখের উপকারের সাথে সাথে রাসূলুল্লাহ (সঃ) র এর সুন্নতের অনুসরণের সওয়াবও লাভ হয়। অত্র হাদীসে সুরমা ব্যবহারের তিনটি উপকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা বর্তমান বিজ্ঞানে হুবহু প্রমাণিত। এছাড়াও গবেষণায় আরো উপকারিতা পাওয়া গেছে সেগুলো হলো :
১. সর্বধরনের ছোয়াচে রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে।
২. চোখের প্রবেশকৃত ধূলাবালী নিঃসরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে প্রভৃতি।
৩. অত্যন্ত কার্যকরী জীবাণুনাশক।
৪. চোখে জ্বালাপোড়া খুব কম হয়। ফুটনোটঃ [৪২] সুনানুল কুবর লিল ইমাম বাইহাকী, হা/৮৫১৬। (শামায়েলে তিরমিযি, হাদিস নং ৪১)
০৮. *** চুল গজাতে যা করবেনঃ
অ্যালোভেরা ও পেঁয়াজের রসের ব্যবহার (পদ্ধতি ১)
পিয়াজ গ্লাসে নিয়ে ভাল করে থেতলে হালকা পানি দিয়ে মাথায় দিবেন। এমন ভাবে দিবেন যাতে মাথার চামড়ায় লাগে। ১ ঘন্টা পর শ্যামপু করে ফেলবেন। সে দিন এ্যালোভেরা দিবেন না। পরবর্তী দিন এ্যালোভেরার উপরের ছাল তুলে লিকুইড অংশ মাথায় ঘসবেন। পুরো মাথায়। তারপর ১ ঘন্টা রেখে শ্যামপু করে ফেলবেন।
তথ্যসূত্রঃ এই পোস্ট এর ২য় কমেন্টে পাবেন। লিংক→http://bit.ly/2KW068U
***অ্যালোভেরা ও পেঁয়াজের রস (পদ্ধতি ২)
উপকরণঃ পেঁয়াজের রস ১ কাপ, অ্যালোভেরা জেল ১ চামচ।
পেঁয়াজের রসের সাথে জাস্ট অ্যালোভেরা জেলটা মিশিয়ে নিন। এবার মাথার স্ক্যাল্পে ভালো করে লাগিয়ে নিন।একঘণ্টা মতো রেখে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ১ দিন করে করুন। একমাসে চুল হয়ে উঠবে ঘন কালো, ইনশাআল্লাহ। এই প্যাকে থাকা পেঁয়াজের রস আপনার চুল পড়া কমাবে এবং চুল নতুন করে গজাতেও সাহায্য করবে, ইনশাআল্লাহ। সংগৃহীত
হিজামাহ করাতে পারেন। খুব ইফেক্টিভ।
০৯. স্মরণশক্তি এবং জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য যা যা করবেন↓
এই দোআটি পড়বেন, সেজদায় কিংবা মোনাজাতে।
رَّبِّ زِدْنِى عِلْمًا
রব্বি যিদ্নী ‘ইল্মা-
অর্থঃ হে আমার রব, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন। সূরা ত্বাহা – ২০:১১৪
***মুখস্তশক্তি/স্মরণশক্তি বাড়ানোর জন্য গুনাহ পরিত্যাগ করুন↓
.ইয়াইয়া বিন ইয়াহইয়া (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক লোক মালেক বিন আনাস (রহঃ) কে বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ! মুখস্তশক্তি বাড়ানোর কোন কিছু আছে কি? তিনি বলেন: যদি কোন কিছু থাকে তাহলে সেটা হল: গুনাহ পরিত্যাগ করা।
যখন কোন মানুষ গুনাহ করে তখন এ গুনাহটি তাকে ঘিরে রাখে এবং গুনাহর ফলে তাকে দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনা পেয়ে বসে। সে গুনাহর কারণে তার চিন্তাধারা মশগুল হয়ে থাকে। এভাবে এ দুশ্চিন্তা তার অনুভূতির উপর আধিপত্য বিস্তার করে থাকে এবং তাকে অনেক কল্যাণকর কাজ থেকে দূরে রাখে। এর মধ্যে মুখস্থশক্তি অন্যতম। গ্রন্থঃ খতীব আল-জামে (২/৩৮৭)
*** ইমাম যুহরী (রহঃ) বলেন: তুমি মধু খাবে; কারণ এটি স্মৃতিশক্তির জন্য ভাল।
তিনি আরও বলেন: যে হাদিস মুখস্ত করতে চায় সে যেন কিসমিস খায়। গ্রন্থঃ (খতীব আল-বাগদাদীর ‘আল-জামে’ ২/৩৯৪)
*** অধিক হারে আল্লাহর যিকির করা। যেমন- সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ইত্যাদি পড়া। আল্লাহ তাআলা বলেন: “যখন ভুলে যান তখন আল্লাহর যিকির করুন” [সূরা কাহাফ, আয়াত: ২৪]
*** মুখস্থশক্তি বৃদ্ধি ও ভুলে যাওয়ার সমস্যা প্রতিরোধে আরও যে জিনিসটি সাহায্য করে সেটি হচ্ছে- মাথায় শিংগা লাগানো /হিজামা করা।
এটি পরীক্ষিত। (আরও বিস্তারিত জানতে ইবনুল কাইয়্যেম এর ‘আততিব্ব আন-নাবাবি’ পড়ুন)। [Source: Islamqa . Info → http://bit.ly/2CoDSKe ]
১০. জাহিলিয়াত থেকে মুক্তি পেতে করণীয়
أَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ
আ‘ঊযুবিল্লা-হি আন্ আকূনা মিনাল্ জ্বা-হিলীন্
অর্থঃ আমি মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি।
(সূরা আল বাকারাহ, আয়াত ৬৭)
[উপরোক্ত দোআটি অডিও সহকারে শুনতে এবং মুখস্ত করতে হিসনুল মুসলিম এপটির “সব দোয়া অধ্যায় এর ১৩৪ নং দোয়াটি দেখুন ]
১১. মোটা/ স্বাস্থ্যবান/স্বাস্থ্যবতী হতে করণীয়
‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমার মায়ের ইচ্ছা ছিল আমাকে স্বাস্থ্যবতী বানিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পাঠাবেন। এজন্য তিনি অনেক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, কিন্তু কোন ফল হয়নি। শেষে তিনি আমাকে পাকা খেজুরের সাথে শসা বা খিরা খাওয়াতে থাকলে আমি তাতে উত্তমরূপে স্বাস্থ্যের অধিকারী হই। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৯০৩
১২. শরীরে কোনো ব্যথা অনুভব করলে যা করবেন ও বলবেন
আপনার দেহের যে স্থানে আপনি ব্যথা অনুভব করছেন, সেখানে আপনার হাত রেখে তিনবার বলুন,
بِسْمِ اللَّهِ
বিসমিল্লাহ
অর্থঃ আল্লাহর নামে।
আর সাতবার বলুন,
أَعُوذُ بِاللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ
আ‘ঊযু বিল্লা-হি ওয়া ক্বুদরাতিহী মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহা-যিরু
অর্থঃ এই যে ব্যথা আমি অনুভব করছি এবং যার আমি আশঙ্কা করছি, তা থেকে আমি আল্লাহ্‌র এবং তাঁর কুদরতের আশ্রয় প্রার্থনা করছি। মুসলিম ৪/১৭২৮, নং ২২০২।
[উপরোক্ত দোআটি অডিও সহকারে শুনতে এবং মুখস্ত করতে হিসনুল মুসলিম এপটির “সব দোয়া অধ্যায় এর ১২৪ নং দোয়াটি দেখুন ]
নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন ব্যথা অনুভব করলে তিনি নিজেই ‘মুআব্বিজাত’ সূরাহগুলো (অর্থাৎ সূরাহ নাস ও ফালাক) পড়ে ফুঁ দিতেন। ব্যথা বৃদ্ধি পেলে আমি তা পড়ে তাঁর হাতে ফুঁ দিয়ে তা তাঁর ব্যথায় স্থানে বুলিয়ে দিতাম বরকত লাভের আশায়।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৯০২
১৩. রক্তমোক্ষণ /শিংগা লাগানো /হিজামা করা
আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা যেসব চিকিৎসা গ্রহণ করে থাকো তার মধ্যে রক্তমোক্ষণ হলো সর্বোত্তম চিকিৎসা। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৮৫৭
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খাদেম সালমা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, কেউ মাথাব্যথার অভিযোগ নিয়ে (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট এলে তিনি তাকে বলতেনঃ রক্তমোক্ষণ করাও। আর পায়ের ব্যথার অভিযোগের ক্ষেত্রে বলতেন : মেহেদী পাতার রস লাগাও। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৮৫৮
আবূ কাবশাহ আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সিঁথিতে এবং দু’ কাঁধের মধ্যখানে রক্তমোক্ষণ করাতেন। তিনি বলতেনঃ যে ব্যক্তি এই অঙ্গ হতে রক্তমোক্ষণ করাবে, সে কোন রোগের কোন ঔষধ ব্যবহার না করলেও তার অসুবিধা নেই। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৮৫৯
১৪. টেস্টোস্টোরোনের পরিমাণ বাড়াতে যা করবেন।
হস্তমৈথুন থেকে বিরত থাকার ১ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত টেস্টোস্টোরোনের পরিমাণ স্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। ৬ষ্ঠ আর ৭ম দিনে এই বৃদ্ধির হার হয়ে যায় ১৪৭%! এবং ৭ দিন পরে, টেস্টোস্টোরোনের পরিমাণ স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌছে যায়। http://bit.ly/2AigBa4
যেভাবে আপনার মোবাইল/পিসিতে পর্ণ সাইটব্লক করবেন↓
০১/ Spin browser play store থেকে ডাওনলোড করে নিন। http://bit.ly/2QnbGiF । এর সুবিধাঃ
***আপনি কোন পর্ণ সাইট ব্রাউজ করতে পারবেন না।
*** অনাকাঙ্খিত Add পাবেন না।
*** Youtube এ যত চেষ্টা করুন না কেন পর্ণ দেখতে পারবেন না। কারণ আপনি Restriction মোড off করে দিলেও, Automatic on হয়ে যাবে।
*** তবে শর্ত হল আপনার মোবাইল এর অন্য সব Browser Uninstall করে দিতে হবে।
[উল্লেখ্য এখন পর্যন্ত আর কোন Apps পাইনি যা দিয়ে Youtube porn বাধ্যগতভাবে Block করা যায়]
০২/ মোবাইল এর default browser কে diseable করে দিন। এবং Applock দিয়ে lock করে রাখুন।
অথবা মোবাইল root করে চিরদিনের জন্য uninstall করে দিন। যেকোন Android device root করতে দেখুন এই ভিডিওটি। http://bit.ly/2P7YLMO
***তবে অবশ্যই root সম্পর্কে আগে জেনে নিবেন।
০৩/ Spin browser দিয়ে Youtube থেকে অথবা youtube এর বাইরে থেকে কোন video download করতে চাইলে নিচের দুটি website ব্যবহার করুন।
****যে ভিডিওটি download করতে চান তার download লিংক কপি করে উপরের website গুলোর নিদিষ্ট স্থানে paste করলে video download শুরু হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।
বিঃদ্রঃ বিশেষভাবে বলছি, আপনার মোবাইলে tubemate/ vidmate রাখবেন না। হয়ত এটা আপনার পর্ণআসক্তির কারণ হতে পারে।
*** App lock ডাওনলোড করতে। http://bit.ly/2QkPaH8
যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত add block করতে install করুন appBrain ad detector। http://bit.ly/2r9n17B
***Add free (এড ছাড়া) Shareit ডাওনলোড করুন।
*** আপনার Android phone থেকে চিরতরে যেকোনো Add block করুন AdAway App দিয়ে (তবে সেট অবশ্যই রুট করা লাগবে)
০৪/ যতটুকু তথ্য পেয়েছি, এখন পর্যন্ত সরাসরি কম্পিউটারের জন্য Spin browser তৈরি হয়নি। তবে Bluestacks সফটওয়্যার দিয়ে আপনি কম্পিউটারেও Spin Browser ব্যবহার করতে পারেন। ভিডিও লিংক→ http://bit.ly/2LquRTE
*** আপনার PC তে Ram কম হলে এই Vysor Extention এর মাধ্যমে আপনি কম্পিউটারে Spin Browser ব্যবহার করতে পারেন। ভিডিও লিংক→ http://bit.ly/2S7GVvv
*** যারা কম্পিউটারে ফেসবুক Use করেন তারা add block করার জন্য Social Network add blocker এই Extension টি ব্যবহার করতে পারেন। লিংক→ http://bit.ly/2T2ShkS
০৫/ যারা ফেসবুক ব্যবহার করেন অনুরোধ থাকবে, কোন গায়রে মাহরামদের (যাদের বিয়ে করা যায়) আপনার Friend list এ এড
করবেন না।
*** এমন কোন খারাপ Friend রাখবেন না, যারা অশ্লীল ছবি আপলোড করে।
আর যাদের ফ্রেন্ড লিস্টে এখনও ছেলে অথবা মেয়ে ফ্রেন্ড আছে, তারা আনফ্রেন্ড করতে নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করুন↓
ছেলেদের জন্যঃ
আপনার ফ্রেন্ড লিস্টের মেয়েদেরকে আনফ্রেন্ড করতে চাইলে→
উপরের লিংক কাজ না হলে বিকল্প লিংক→ https://m.facebook.com/search/females/me/friends/intersect
মেয়েদের জন্যঃ
আপনার ফ্রেন্ড লিস্টের ছেলেদেরকে আনফ্রেন্ড করতে চাইলে→ https://www.facebook.com/search/males/me/friends/intersect
উপরের লিংক কাজ না হলে বিকল্প লিংক
যে App/ বই/গ্রন্থ/গুলো পড়া খুব জরুরীঃ
০১/ কুরআন মাজীদ App। প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ১ টি আয়াতের তরজমা ও তাফসীর পড়ুন। লিংক→ ( http://bit.ly/2EzhKOD )
০২/ আল হাদিস App। প্রতিদিন কমপক্ষে ১টি হাদিস পড়ুন। ( http://bit.ly/2PQA3kg )
০৩/ হিসনুল মুসলিম App ( https://goo.gl/hmWsrH )
সপ্তাহে অন্ততপক্ষে ১ টি দোআ মুখস্ত করার চেস্টা করুন। (তবে এই পোস্টে বর্ণিত দোআগুলো আগে মুখস্ত করবেন)
০৪/ মুক্ত বাতাসের খোঁজে বই। (এখানে আপনি পর্ণগ্রাফি এবং হস্তমৈথুন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন) দাম ২৩০ টাকা এবং যেখানে পাওয়া যাবে→http://bit.ly/2EK91tB
বইটির পিডিএফ লিংক →https://bit.ly/2SnGUDE
০৫/ https://islamqa.info/bn (আন্তর্জাতিক ফতোয়ার সাইট)
ফতোয়ার জন্য ভিজিট করতে পারেন। (পরিচালক শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ)
০৬/ সহস্রাধিক ইসলামীক PDF বই থেকে আপনার পছন্দের বই বাছাই করুন। চাইলে PDF থেকে বই এর ধারণা নিয়ে হার্ডকপি কিনতে পারেন → http://bit.ly/2L6fZdf
আল্লাহ তাআ’লা সবাইকে আমল করার তৌফিক দিন এবং পর্ণগ্রাফি এবং হস্তমৈথুনসহ যাবতীয় পাপাচার থেকে বিরত রাখুন। #আমিন
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন লোককে সৎ কাজের দিকে আহ্বান করবে, তার জন্যও সে পরিমাণ সাওয়াব রয়েছে যা তার অনুসারীদের জন্য রয়েছে, অথচ তাদের সাওয়াবের কোন অংশ একটুও কমবে না। অনুরূপ যে ব্যক্তি কাউকে গোমরাহীর দিকে আহ্বান করে তারও সে পরিমাণ গুনাহ হবে, যতটুকু গুনাহ তার অনুসারীদের জন্য হবে। অথচ এটা অনুসারীদের গুনাহ্‌কে একটুও কমাবে না। (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ১৫৮, সহীহ : মুসলিম ২৬৭৪)
শেয়ার করুনঃ
‘ঝড়ের পরে’

‘ঝড়ের পরে’

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

মোমবাতির হলুদ শিখা শরতের রাতের মৃদু বাতাসে কাঁপছে ক্ষণে ক্ষণে। ঘরের এককোণে আলো আঁধারি ছায়া আর দুঃখের যে মিলনমেলা বসেছে সে সম্পর্কে ঘরের অন্য অধিবাসীর কোনো মাথাব্যাথা নেই। মাথা সচল থাকলে না ব্যাথা করবে। চাঁদু’র নাক সজোরে ডাক ছাড়ছে। ঘুমে বেহুঁশ। চারজার ফ্যানের একটানা ঘর ঘর শব্দ, ছন্দবদ্ধ নাক ডাকার আওয়াজ,আমার খাতা কলমের খসখসানি আর পাশের ঘরের দূরালাপনের প্রেমের ফিসফিসানি ছাড়া গোটা দুনিয়া যেন মরে গেছে। কবরের নিস্তব্ধতা।

একটু আগে সে জঘন্য পাপটা আবার করলাম। ৩৮ দিন পর। গুনে গুনে ৩৮ দিন পর। দিনের শুরুতে বুঝতেই পারিনি যে আজ রাতে এরকম কিছু ঘটতে যাচ্ছে। অবশ্য এটা পুরোপুরি সত্য নয়। কয়েকদিন থেকেই ঘুরে ফিরে পর্ন দেখতে ইচ্ছে করছিল। পর্ণে দেখা দৃশ্যগুলো মাথায় ঘুরছিল। স্মৃতি বড় প্রতারক, বড় নিষ্ঠুর। কতো চেষ্টা করেছি একদময়কার দেখা পর্ণের দৃশ্যগুলোর কথা ভুলে যেতে। কতো সাধনা করেছি। কিন্তু প্রতারক স্মৃতি বারবার তা মনে করিয়ে দিয়েছে। বারেবারে নীল কারাগারের হুলিয়া জারি করেছে। বহু কষ্টে এই ৩৮ টা দিন নিজেকে সামলিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু আজকে হেরে গেলাম।

আবার  হেরে গেলাম।

শরীর ভেঙ্গে যায়। মনে তৈরি হয় বিশাল ক্ষত। প্রশ্নের ঝড় বয়ে যায় মনোজগতে- এরকম টুকরো টুকরো মৃত্যুর চেয়ে কী একেবারেই মরণ ভালো ছিলনা?
চোখে প্লাবণ নামে। তবে সেই অনূভুতির কাছে এগুলো নেহায়েত তুচ্ছ। শরীর,মন নষ্ট হয়ে যাওয়ার কষ্টের চেয়েও তীব্র কষ্টটা হলো – আল্লাহর চোখের সামনে জঘন্য কাজটাতে লিপ্ত হওয়া। যখন ঘরের অন্ধকারে,নির্জনে নির্লজ্জ হয়েছিলাম, যখন মেতে উঠেছিলাম উন্মত্ত নীল মত্ততায় তখনো তো আমাকে আল্লাহ দেখেছেন! হায়! কী করে এতো নিকৃষ্ট হলাম? কেন আল্লাহকে লজ্জা করলাম না?
.
নিজের কষ্টগুলো কাছিমের মতো গুটিয়ে নিয়ে আবার হাসিমুখে নামতে হয় পৃথিবীর পথে । এই খেলা আর কতোকাল চলবে?

 

রাতে শোবার সময় ভাবলাম আজ একটু দেরি করে ঘুমাই। আগামীকাল তেমনকোন কাজ নেই। ঘরেই বসে থাকতে হবে অলস। ভাতঘুম দিয়ে রাতের ঘুমের অভাব পুষিয়ে নিবনি। মোবাইল গুঁতোতে গুঁতোতে শেষমেশ নিজেকে আবিষ্কার করলাম পর্নসাইটে। তখনো ভেতরটা ঘুমিয়ে পড়েনি। বাঁধা আসলো। দেখিসনা। জলদি বের হয়ে যা!

নিজেকে বোঝালাম, শুধু দেখব, কিন্তু হস্তমৈথুন করবনা। আর এভাবেই শয়তানের পাতা প্রথম ফাঁদে পা দিলাম। তারপর একসময় হস্তমৈথুন করলাম। আসক্তির প্রথম পর্যায়ে সাধারণত এইসময়গুলোতে হতাশা আর আলসেমিপনায় গা ভাসিয়ে দিতাম। ঘন্টার পর ঘন্টা ঝিম ধরে কাটিয়ে দিতাম। কোনকোন সময় দুই তিন দিন। আজ চটজলদি গোসল সেরে ফেললাম। বাকী রাতটা জেগেই কাটাবো। ফজর,তাহাজ্জুদ কিছুই বাদ দেওয়া যাবেনা আজ। পাপ করেছি এবার কিছু পূন্য করা যাক। পাপে পূণ্যে কাটাকাটি।

 

‘…ভ্যাঁপসা গরম। কারেন্ট কখন আসবে বিন্দুমাত্র কোন ধারণা নেই। গম্ভীর ডাক ছেড়ে একটা প্যাঁচা এক গাছ থেকে অন্য গাছের উদ্দেশ্যে উড়াল দিল । মোমবাতি দ্রুত গলে যাচ্ছে। জমাটবাঁধা দুঃখগুলোও যদি এভাবে দ্রুত গলে যেত। অশ্রু হয়ে ঝরে পড়তো আমার দু’গাল বেয়ে। কাঁদতে পারিনা আমি আর। অথচ প্রথম প্রথম এই জঘন্য পাপগুলো করার পর কতো কাঁদতাম। ফুপিয়ে ফুপিয়ে, ডুকরে ডুকরে কাঁদতাম। ১০ -১২ হাজার বার করে ইস্তেগফার করতাম। আল্লাহ্‌ আমাকে এভাবেই শাস্তি দিচ্ছেন।
.
মোমবাতি গলে যাচ্ছে দ্রুত। মোমবাতি পুড়ছে। নিজেকে পুড়িয়ে আমাকে আলো দিচ্ছে। আমিও না হয় আজ নিজেকে পুড়িয়ে কিছুটা আলো দেবার চেষ্টা করি। অন্ধকারে আছি বলেই হয়তো খুব ভালোভাবে আলোকে আলাদা করতে পারি। বুঝতে পারি আলোর মহিমা!’

নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, অনেকদিন বিরতি দিয়ে পর্ন দেখা বা হস্তমৈথুন করার ঠিক পরের কিছুটা সময় বা কয়েকটা দিন খুব সাবধানে থাকতে হয়। একটু অসতর্ক হলেই, একটু গা ছাড়া দিলেই শয়তান এসে ক্যাঁক করে ধরে। পরপর বেশ কয়েকবার পর্ন দেখা বা মাস্টারবেট করা হয়ে যেতে পারে। কেন এমন হয়?

 

প্রথমত, অনেক দিন নিজের সাথে যুদ্ধ করে পর্ন দেখা বা হস্তমৈথুন করা থেকে নিজেকে বাঁচানোর পর হঠাৎ বাঁধ খুলে দিলে জোয়ার নামা খুব স্বাভাবিক। অল্প একটু পর্ন দেখে বা মাত্র একবার মাস্টারবেট করে নিজেকে তৃপ্ত করা যায়না (পর্ন দেখে বা মাস্টারবেট করে অবশ্য কক্ষনোই নিজেকে তৃপ্ত করা যায়না। সাময়িক তৃপ্তির কথা বলছিলাম আরকি) তাই বেশ কয়েকবার মাস্টারবেট করতে মন চায়।

দ্বিতীয়ত, অনেকদিন পর্ন দেখা থেকে নিজেকে বিরত রাখলে কিছুটা হলেও স্মৃতি ফিকে হয়ে যায়। স্মৃতির জোয়ার আপনাকে ভাসিয়ে  দিয়ে আবার পর্ন দেখতে বাধ্য করার শক্তি হারিয়ে ফেলে অনেকাংশেই।  কিন্তু অনেকদিন পর একবার পর্ন দেখা হয়ে গেলে মরে যাওয়া স্মৃতির গোড়ায় পানি ঢালা হয়। স্মৃতিরা নতুন উদ্যোমে মাথা তোলে। ফলাফল আবার ঘনঘন পরপর বেশ কয়েকবার পর্ন দেখে হস্তমৈথুন করে ফেলা।

তৃতীয়ত, অনেকদিন পর শয়তান আপনাকে বাগে পায়। এতোদিন সে আপনাকে দিয়ে পাপ করাতে পারেনি। আজ সুযোগ পেয়েছে। সে সর্বশক্তি নিয়োগ করে আপনার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। আপনাকে ক্রমাগত কুবুদ্ধি দিতে থাকবে। ওয়াস ওয়াসা দিতে থাকবে।

চতুর্থত, এটা বেশ শক্তিশালী একটা কারণ। দীর্ঘদিন পর প্রতিরোধ ভেঙ্গে পড়ায় আপনি হতাশ থাকবেন। গভীর দুঃখবোধ আপনাকে ভেঙ্গে চুরে ফেলবে। নিজেকে ঘৃণা করতে শুরু করবেন আপনি সেই মুহূর্ত থেকেই। এই নাজুক সময়ে নিজের হতাশা,দুঃখ,ঘৃণা, ভবিষ্যৎ ভাবনা, ক্রোধ সব ভোলার জন্য আপনি আবার ডুব মারবেন পর্নভিডিওতে।

তাই এই কয়দিন খুব হুঁশিয়ার থাকতে হবে আমাকে। কোনমতেই এই ফাঁদগুলোতে পা দেওয়া যাবেনা। আসক্তির প্রথম প্রথম কতোবার যে এই ফাঁদগুলোতে ফেসেছি।

 

মোমবাতির শিখা স্থির হয়ে গিয়েছে। বাতাস বলে কোন বস্তু ধরাধামে আছে বলে মনে হচ্ছেনা। গরম আরো বেড়েছে। ভ্যাঁপসা চিটচিটে গরম। যা বলছিলাম। প্রথম প্রথম এই ফাঁদগুলোতে অনেক ফেঁসেছি। পোড় খাওয়া আমি তারপর কিছুটা বুঝতে পারলাম কীভাবে এই ফাঁদগুলো থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়।

 

পর্ন দেখে ফেলার পর বা হস্তমৈথুন করে ফেলার পর আর একটুও দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে গোসল করে ফেলুন। তারপর ওযু করে দু রাকা’আত নামাজ পড়ে ফেলুন। মন খারাপ করে দীর্ঘশ্বাস আর দুশ্চিন্তা দিয়ে করুণ কাহিনী লিখার কোন দরকার নেই আপনার। যতোটা ভাবছেন ততোটা খারাপ কিছু হয়নি। বিছানায় শুয়ে পড়লে, একা একা থাকলে আপনার সমূহ সম্ভাবনা আছে আপনি কিছুক্ষণ পর আবার পর্ন দেখবেন।

মানুষ জনের কাছে যান। গল্প গুজব করুন। বাসায় ফোন করুন। বাবা মার সঙ্গে কথা বলুন। রোদে যান। আলো আর উষ্ণতার স্বাদ নিন। ভেঙ্গে পড়বেননা। একজন কাছের বন্ধু বা কাছের কোন মানুষের সাহায্য নেওয়া খুব জরুরি। যার সঙ্গে আপনি সবকিছু শেয়ার করবেন। সবখুলে বলে তার সাহায্য চাইবেন। অধিকাংশ মানুষই এই কাজটা করতে চায়না। গুরুত্ব দেয়না। কিন্তু এই কাজটা যে কতোটা জরুরি এবং ইফেক্টিভ যারা এটি করেছেন তারা খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পেরেছেন। প্রথম প্রথম আমিও গুরুত্ব দিয়েছিলাম না। পর্ণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তেমন সুবিধা করতে পারছিলাম না। পরে এক মেঘলা বিকেলে একজন বন্ধুকে সব বললাম। সাহায্য চাইলাম। এরপরে আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় ম্যাজিকের মতো সব কিছু ঘটতে থাকলো। খুব দ্রুত পর্ন দেখার পরিমাণ কমিয়ে ফেলতে পেরেছিলাম।

এই কয়েকটি দিন  এমন  কোন বন্ধু বা কাছের মানুষকে নয় নম্বর বিপদ সঙ্কেত জানিয়ে দিন। খুব বেশি বেশি তাঁদের সংস্পর্শে থাকুন। (কাছের মানুষ বলতে  আবার গার্লফ্রেন্ড মনে করবেন না। গার্লফ্রেন্ড পর্ন আসক্তি ছাড়ার ক্ষেত্রে অন্যতম অন্তরায়। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তো আছেই সেই সঙ্গে অনেক লোকের সাথে কথা বলে দেখেছি)

যে ডিভাইসে পর্ন দেখেছিলেন সে ডিভাইস তালাবদ্ধ করে রাখুন। তার পূর্বে ফেসবুক একাউন্ট ডিএক্টিভেট করে নিতে ভুলবেননা। মনে মনে স্থির সংকল্প করুন  যে আগামী তিন চারদিন ফেসবুকমুখো হবোনা ।  এন্ড্রোয়েড ফোনে পর্ন দেখলে তা তালাবদ্ধ করার পূর্বে সিমখুলে কমদামি একটি ফোনে নিয়ে নিন।

সবচেয়ে ভালো হয় বন্ধু বা কাছের কারো সাহায্য নিয়ে ফোনে স্পিন ব্রাউজার ইন্সটল করে নেওয়া। আর পিসির জন্য K9 । ব্যস খেল খতম। যা হবার হয়েছে ভুলে যান। শুর থেকে আবার সবকিছু শুরু করুন।

বেশি বেশি দান সদকা করুন। নামায এবং কুরআন পড়ার ব্যাপারে সিরিয়াস হন। মসজিদের বারন্দায় গিয়ে বসে থাকুন। স্রেফ বসে থাকুন।

এই নাজুক সময়ে ইস্তেগফার পড়লে বেশ কাজে দেয়। একবার এক ভাইয়ের কাছে শুনেছিলাম যে সে ১২ হাজার বারেরও বেশি ইস্তেগফার করেছিল।

পর্ণের দৃশ্যের কথা মাথায় আসা মাত্রই আপনি নিজের জন্য এবং ঐসব পর্ন অভিনেতা অভিনেত্রীদের জন্য দু’আ করবেন। পড়ুন- এই লিখাগুলো- দু’আ তো করেছিলামফাঁদ (প্রথম পর্ব )ফাঁদ – দ্বিতীয় পর্ব– ফাঁদ’ (তৃতীয় পর্ব) –‘ফাঁদ’ (চতুর্থ পর্ব )ফাঁদ (ষষ্ঠ পর্ব)

বেশি বেশি পর্ন এবং মাস্টারবেশনের ক্ষতিকর দিক নিয়ে লিখাগুলো পড়তে হবে। দিনে অন্তত একবার করে।

এবার আসুন হতাশার কথায়। দেখুন পর্ন দেখার পরে বা মাস্টারবেট করার পরে হতাশা, বিষণ্ণতা আসাটা খুবই স্বাভাবিক। আল্লাহর আইন অমান্য করার কারণে বিষন্নতার বর্ষা আপনাকে ভিজিয়ে ছাড়বেই। সেই সাথে পর্ন দেখার ফলে মস্তিষ্কে ডোপামিনের তেলেসমাতি। মড়ার ওপর খড়ার ঘা হিসেবে রুটিন ওলট পালট হয়ে যাওয়া। মন খারাপ করে বসে থাকলে বড় ভুল করবেন। অনেকেই ভীষণ দুঃখবোধ নিয়ে ঘুমুতে যায়। তিনচার ঘন্টা সেঁটে ঘুমানোর পরেও দুঃখবোধ নিয়েই ঘুম ভাঙ্গে। কাজের কাজ কিছুই হয়না। খাওয়া গোসল নামাজ পড়াশোনা সব শিকেয় ওঠে। এবেলার ভাত ওবেলা। মানসিক শূন্যতা তো আছেই সেই সাথে শরীরও দুর্বল হয়ে পড়ে। এই দুর্বলতা কাটাতেই নষ্ট হয়ে যায় জীবনের মূল্যবান কয়েকটা দিন।

ভাই চলুন একটু অন্যভাবে চিন্তা করি।  আপনার আশেপাশেই কতো অসংখ্য মানুষ রয়েছে যারা ভয়ঙ্কর রকমের পরনাসক্ত। কিন্তু এ নিয়ে তাদের তেমন কোন মাথা ব্যাথা নেয়। জীবনের একটা অংশে পরিণত করেছে পর্ন দেখে হস্তমৈথুন করা বা গার্লফ্রেন্ডের সাথে রুম ডেট করাকে।

আপনার অবস্থা কি তাদের চেয়ে ভালো নয়? আপনার মধ্যে কী পাপের অনুভূতি, হারাম হালালের অনুভূতি কাজ করেনা? এতো হতাশ হচ্ছেন কেন? যে সমাজ অশ্লীলতায় সয়লাব হয়ে গিয়েছে যে সমাজে পর্ন অভিনেতা, অভিনেত্রীরা ঘরের মানুষ হয়ে গিয়েছে সেই সমাজে আপনি স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে মুক্ত বাতাসের খোঁজ করছেন, টগবগে নিজের ভেতরটাকে শেকল পরিয়ে রাখতে চাচ্ছেন এটা কী বড় এক বিজয় নয়?

আদমেরই তো সন্তান আমরা। আদম (আঃ) ভুল করেছিলেন। আবার তওবা করে সংশোধন হয়েছিলেন। আমাদেরও তো ভুল হবে ভাই। একের পর এক ভুল করব আমরা। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভুল করব। আর বারে বারে আল্লাহ্‌র কাছে নত হব। নত হতে হতে দিন পার করে দিব। আল্লাহ্‌ তো এটাই চান।

ভাই নিজের ওপর রহম করুন । আপনি শেষ হয়ে যাননি। জীবনতো আমাদের কেবল শুরু। এখনি  আমাদের যাবার বেলা হয়নি।

এখন আমরা  কলুষতায় আকন্ঠ ডুবে আছি তাই বলে ভবিষ্যত এরকমই হবে সেটা তো কোথাও লিখা নেই। উমার ইবনে খাত্তাবকে (রাঃ) দেখুন । একসময় ছিলেন পাড় মাতাল। মদে চুর হয়ে থাকতেন । ছিলেন ইসলামের ঘোরতরো শত্রু। তিনি কখনো ইসলাম কবুল করবেন এ কথা ভুলেও কেউ ভাবেনি। বলা হতো যে খাত্তাবের গাধা ইসলাম কবুল করলেও করতে পারে কিন্তু উমার? কক্ষনো নয়।

তিনি কি ইসলাম গ্রহণ করেননি ? দুনিয়াকে দেখাননি অতীত মুছে ফেলা যায়।

আপনি মন খারাপ করে অলস হয়ে হতাশায় ডুবে থাকলে কিছুক্ষণ পর হয়তো আবার পর্ন দেখতে চাইবেন। হস্তমৈথুন করবেন। কয়েকদিন হয়তো চলবে একটানা।  এই দুঃখকে, এই শোককে কিন্তু একটু ভিন্নভাবে ভাবলেই শক্তিতে পরিণত করা যায়। পর্ন আসক্তির বিরুদ্ধে পরবরতি লড়াইয়ের রসদ জোগাড় করা যায়। এর পরের বার যখনই পর্ন দেখতে মন চাইবে বা হস্তমৈথুন করার তাগাদা আসবে তখন এই বিশাল রিক্ততা, শূন্যতায় ভরা মুহূর্তগুলোর কথা স্মরণ করবেন। নিজেকে প্রশ্ন করবেন আমি আবারো কী এই বেদনাবিধুর সময় পার করতে চাই ?

ভাই, আমাদের আশা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আল্লাহ্‌ (সুবঃ) আমাদের পুনরায় সুযোগ দিয়েছেন। এমনোতো  হতে পারতো আমাদের বাবা মা আমাদের হাতে নাতে ধরে ফেললেন। পর্ন দেখার সময় মৃত্যু এসে কড়া নাড়লো আমাদের দরজায়! হতো পারতোনা? এরকম কি হয়না?

আল্লাহ্‌ (সুবঃ) আমাদের বাঁচিয়েছেন এই লজ্জার হাত থেকে, জঘন্য পরিণতির হাত থেকে।ভাই, আল্লাহ্‌ আমাদের এভাবে পানিতে   ফেলে দিবেন না। তিনিই আমাদের কন্ঠনালীরও একদম নিকটে। আমাদের ওপর দয়া করাটাকে তো তিনি নিজের কর্তব্য বলে স্থির করেছেন। তিনি আমাদের ভুলে যাননি। না আমাদের পরিত্যাগ করেছেন। আমাদের গভীরের , গহীনের কষ্টগুলো তিনি জানেন। তিনি আমাদের ভুলে যাননি।

‘  তোমার মালিক কখনো কাউকে ভুলে থাকেননা’। (সূরা মারইয়াম,আয়াত ৬৪)

তিনি অচিরেই অবশ্যই অবশ্যই আমাদের মুক্তির ব্যবস্থা করে দিবেন। আমাদের শুধু লেগে থাকতে হবে।

ইনশা আল্লাহ্‌ মুক্তি এই সামনেই!

 

‘আর অবশ্যই তোমার জন্য পরবর্তী সময় পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে উত্তম। আর অচিরেই তোমার রব তোমাকে অনুগ্রহ দান করবেন, ফলে তুমি সন্তুষ্ট হবে’। (সূরা দুহা, আয়াত- ৪-৫)

 

( লস্ট মডেস্টি টিম কর্তৃক অনুলিখিত)

শেয়ার করুনঃ

ফাঁদ (প্রথম পর্ব )

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম।

কংক্রিটের  রাস্তায় পড়ে থাকা   কোল্ড ড্রিংক্সের খালি বোতলে কষে একটা লাথি মেরে রাগ আর  বিরক্তি দুটোই একসঙ্গে  ঝাড়লো রুম্মান । “ধুউউর! পেটে খিদে রেখে এভাবে পার্কের বেঞ্চিতে কতক্ষন বসে থাকা যায়” ?

সেই দুপুর থেকে সে বসে আছে এই বেঞ্চিতে । এখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতে চলল । পেটে দানাপিনা কিছুই পড়েনি টিফিনের পর ।

সামনের বেঞ্চিতে আধাশুয়ে থাকা উশকো খুশকো চুলের গাল  ভাঙ্গা লোকটা তার ইঁদুরের মতো পিটপিটে লাল চোখ দিয়ে অনেকক্ষন ধরে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে স্কুল ড্রেস পড়া রুম্মানের দিকে । রুম্মান অস্বস্তিবোধ করতে শুরু করলো । ঐ গাঞ্জাখোর ব্যাটাটা ছিনতাইকারী না হয়েই যায় না ।

“গাধা কোথাকার ! আমার কাছ থেকে ছিনতাই করার মতলবে আছে , আমার পকেটেতো  একটা ছেঁড়া দুটাকার নোটও নেই”  মনে মনে ভাবলো রুম্মান  ।

সেই দুপুরে স্কুল ছুটি দিলেও বাসায় যেতে ভয় পাচ্ছে রুম্মান । বেশ কয়েকবার বাসায় যাবার জন্য রওয়ানা দিয়ে আবার মাঝপথ থেকে ঘুরে এসেছে , সাহসে কুলোয়নি ।  আজ বাসায় গেলে তার বাবা তাকে “বানাবেই”। সূর্য সকালে ওঠে – সন্ধায় অস্ত যায় , গরু ঘাস খায় এইগুলো যেমন ধ্রুব সত্য , তেমনি আজকে সে যে তার বাপের হাতে ডলা খাবে সেটাও ধ্রুব সত্য।

 

গত সপ্তাহে  ক্লাসের টেক্সট বইয়ের মধ্যে লুকিয়ে লুকিয়ে  ক্যান্ডি ক্রাশ খেলার সময় সে  বাবার হাতে ধরা খেয়ছিল রেড হ্যান্ডেড – তখনো তার বাবা তাকে কিছু বলেননি । গত সপ্তাহের আগের সপ্তাহে সে দুপুরবেলা বাসা থেকে পালিয়ে হাজির হয়েছিল  পাড়ার মাঠে ।  বীর পুরুষের মতো  কাঠফাটা রোদে  ক্রিকেট খেলে জ্বর বাঁধিয়ে বিছানায় পড়ে ছিল সে বেশ কয়েকদিন , তখনো তার বাবা তাকে কিছু বলেননি । কিন্তু আজকে আর রক্ষা নেই  । আজকে মিড এক্সামের রেজাল্ট কার্ড দিয়েছে এবং সে দুইদুইটা সাব্জেক্টে ডাব্বু মেরে বসে আছে ।

ছিনতাইকারীর উটকো ঝামেলা থেকে বাবার হাতে পিট্টি খাওয়া ভাল। যা আছে কপালে ভেবে রুম্মান বেঞ্চি থেকে স্কুল ব্যাগটা তুলে কাঁধে নিয়ে , পানির খালি বোতলটা হাতে নিল ।  মক্তবের হুজুরের কাছ থেকে যত সূরা ক্বিরাত শিখেছিল  ছোট বেলায় তার সব বিড়বিড় করে পড়তে পড়তে হন হন করে হাঁটা দিল বাসার দিকে । …প্লিজ! আল্লাহ আজকে  পার করাইয়া দাও , সামনের শুক্রবার থেকেই নামাজ ধরব ,কথা দিলাম, পাক্কা , প্লিজ আল্লাহ প্লিজ ।

সুবহানাল্লাহ! মানুষের সাইকোলজিটাই এমন যে , মানুষ যখন অন্য কাউকে রাগিয়ে দেয় তখন সে তার সামনে যেতে ভয় পায় , ইতস্তত বোধ করে । শয়তান আদম সন্তানের  ঠিক এই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে ফন্দি আঁটে আদম সন্তানকে তার পরম করুণাময় অসীম দয়ালু রবের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ।

শয়তান আর নফসের পাল্লায় পড়ে ভয়াবহ পাপ করে ফেলেছেন – মনে করুন যে পর্ন মুভি দেখে ফেলেছেন বা মাস্টারবেট করে ফেলেছেন । হরমোনের প্রেসার কমার পর আপনার খেয়াল হল – হায়! হায়! আমি এ কি করলাম?  অনুশোচনার আগুনে আপনি দগ্ধ হচ্ছেন , ধিক্কার দিচ্ছেন নিজেকে।  তৎক্ষণাৎ গোসল করে এসে জায়নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন; উদ্দেশ্য  তওবা করা ।

রঙ্গমঞ্চে আগমন  হল শয়তান ব্যাটার । আপনাকে ওয়াসওয়াসা দিতে শুরু করল ,“ কিরে ভন্ড! একটু আগে আল্লাহর নফরমানী করে আবার এখন এসেছিস তওবা করতে ? যা ভাগ !  তোর দেখি  কোন লজ্জা শরম নাই, আল্লাহ’র সামনে দাঁড়াচ্ছিস কোন মুখে ? আল্লাহ কি তোকে মাফ করে দিবে মনে করেছিস”?

আপনি ভেবে দেখলেন – কথার মধ্যে তো বেশ যুক্তি আছে । দ্বিধা দ্বন্দে ভোগা শুরু করলেন   তওবা করবেন কি করবেন না , ভুলে গেলেন আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাঃ) তওবা করাকে কতটা উৎসাহিত করেছেন …

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন যারা তাঁর কাছে তওবা করে, এবং তিনি তাদেরকে ভালবাসেন যারা নিজেদেরকে পবিত্র করে।

—কুরআন, সূরা ২ (আল-বাকারা), আয়াত ২২২

অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভূলবশত মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে, এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন; আল্লাহ মহাজ্ঞানী রহস্যবিদ।

—কুরআন, সূরা ৪ (আন-নিসা), আয়াত ১৭

প্রত্যেক আদম সন্তানই পাপ করে, পাপীদের মধ্যে তারাই সর্বোত্তম যারা তওবা করে।

—সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং- ২৪৯৯

সহিহ বুখারীতে, আনাস ইবনে মালিক বর্ণনা করেন:

আল্লাহর রাসূল বলেন, “তোমাদের কেও মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া উট খুঁজে পেয়ে যতটা খুশি হয়,আল্লাহ তাঁর বান্দার তওবাতে তাঁর চেয়েও বেশি খুশি হন।”

সহীহ বুখারী৮:৭৫:৩২১

ব্যাস শয়তানের প্ল্যান সার্থক ।

শয়তানের কুমন্ত্রনা একেবারেই পাত্তা দিবেননা  , আপনাকে ভন্ড বললেও সে আসলে নিজেই ভন্ড । যে কোন পাপ করার পর এক   মাইক্রোসেকেন্ডও দেরি না করে তৎক্ষণাৎ তওবা করুন , বহুত “ফায়দা” হবে।

“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর সমীপে খাঁটি তওবা কর, এই আশায় যে তোমাদের প্রভু তোমাদের সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন আর তোমাদেরকে এমন উদ্যানসমূহে উপবিষ্ট করবেন যার নিম্নদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত থাকবে…”

—কুরআন,সূরা ৬৬ (আল-তাহরিম), আয়াত ৮

জালালুদ্দিন রুমী কী চমৎকার ভাবেই না বলেছেন –

“কড়া নাড়ো, তিনি তোমায় দরজা খুলে দেবেন
বিলীন হয়ে যাও, তিনি তোমায় সূর্যের মত উজ্জল করবেন
লুটিয়ে পড়ো, তিনি তোমায় বেহেশতে তুলে নেবেন
নিজেকে রিক্ত করো, তিনি তোমায় সবকিছু দিয়ে পূর্ণ করবেন”।

শয়তান বেচারার মন খুব খারাপ । এত চেষ্টার পরেও আপনার তওবা করা ঠেকাতে পারলো না । তার ষড়যন্ত্রের বাউন্সার,  দুর্দান্ত হুক করে আপনি পাঠিয়ে দিয়েছেন  মাঠের বাইরে । সে বুঝে ফেলেছে আপনাকে তওবা করা থেকে ফেরানোর মুরোদ ও’র কেন ও’র বাপ দাদা  চৌদ্দগুষ্ঠির কারো   নেই । কিন্তু  তারপরেও  দমে গেল না বেচারা । আবার রঙ্গমঞ্চে হাজির হল নতুন ফন্দি এঁটে –  এই তওবা দিয়েই ঘোল খাইয়ে ছাড়বে আপনাকে।  খেলা হবে ।

কুমন্ত্রণা দিতে শুরু করল আপনাকে – আগে পর্ন মুভিটা দেখ তার পর তওবা করে ফেললি । আরে ব্যাটা  জানিস না তওবা করলে আল্লাহ কি পরিমাণ খুশি হয় ? সব পাপ মাফ করে দেয়” ? তুইও মজা পেলি আর আল্লাহও খুশি হল !!! সাপও মরলো লাঠিও ভাংলো না !!!

ভাই, এরকম প্ল্যান করে পাপ করার পর তওবা করলে , তওবা  কি কবুল হবে ? আল্লাহ (সুবঃ) খুশি হবেন ? আপনিই বলুন কমনসেন্সটা কাজে লাগিয়ে ?

বিষয়টা অনেকটা এরকম – আপনি রাস্তায়  কাউকে  বলা নেই কওয়া নেই মনের সুখে কিল থাপ্পড় চড় ঘুষি মেরে, মুখের জিওগ্রাফি বদলে দিয়ে সরি বললেন – তারপর ঐ বেচারা কি হাসিমুখে চেহারার রক্ত মুছতে মুছতে বলবেন  – ইটস ওকে ব্রো ? নাকি মামা চাচা দোস্ত সব্বাইকে ফোন করে শার্টের হাতা গুটিয়ে আপনার দিকে তেড়ে আসবে –    তবে রে ব্যাটা …

আল্লাহ (সুবঃ) যে কাজ হারাম করেছেন সেই কাজ এভাবে প্ল্যান করে করলে আল্লাহ (সুবঃ) এর সঙ্গে কি রসিকতা করা হয়ে যায় না ? আল্লাহর সঙ্গে রসিকতা !!!

আর তাছাড়া – পর্ন দেখা অবস্থায় বা মাস্টারবেট করা অবস্থায় মারা গেলে কবরে বা হাশরের ময়দানে  কেমন আদর আপ্যায়ন পাবেন সেটাও চিন্তা কইরেন ।

সাধু সাবধান । শয়তান এরকম কুমন্ত্রনা দিতে শুরু করলে বিতাড়িত শয়তান থেকে  চটজলদি আশ্রয় চান আল্লাহর কাছে । ল্যাপটপ , ফোন (যেটাতে আপনি পর্ন মুভি দেখার প্রিপারেশান নিচ্ছিলেন) বন্ধ করে দিয়ে ওই যায়গা ছেড়ে চলে যান দূরে । মানুষ জনের কাছে । খুব ভালো হয় সঙ্গে সঙ্গে ওজু করে  দুই রাকাত সলাত আদায় করতে পারলে । আরো ভালো হয় জোরে আযান দিতে পারলে – জানেনইতো – আযান শুনলে শয়তান পাদু করতে করতে এলাকা ছেড়ে পালায় – দূর হ ব্যাটা পাঁজির পা ঝাড়া  শয়তান! দূর হ!  দূরে যেয়ে মর  ………

 

(চলবে ইনশা আল্লাহ)

পড়ুন-

ফাঁদ – দ্বিতীয় পর্ব- https://bit.ly/2Od7b63
‘ফাঁদ’ (তৃতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2Od4nWz
‘ফাঁদ’ (চতুর্থ পর্ব ) – https://bit.ly/2CPbF1s
ফাঁদ (পঞ্চম পর্ব)- https://bit.ly/2x77Puk
ফাঁদ (ষষ্ঠ পর্ব)- https://bit.ly/2NIckWN
শেয়ার করুনঃ
ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ মাস্টারবেশন থেকে মুক্তি (দ্বিতীয় কিস্তি)

ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ মাস্টারবেশন থেকে মুক্তি (দ্বিতীয় কিস্তি)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম।

হস্তমৈথুন  বর্তমানে  যুবকদের সবচেয়ে বড়  সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এই    সমস্যার জন্য  ব্যক্তির থেকে সমাজ বেশি দায়ী । বর্তমান পুঁজিবাদী সমাজ    ‘Late Marriage ‘ কে বেশি গুরুত্ব দেয়ায় এই সমস্যা আরো প্রকট হয়েছে। যখন    হালালের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় তখন স্বাভাবিকভাবেই হারামের দিকেই মানুষ    বেশি ঝুঁকে।

এই সমাজের কারণেই মুসলিম তরুণ সমাজের একটা বিরাট অংশ হস্তমৈথুন নামক একটা Destructive নেশায় আসক্ত ।

এই   নেশা থেকে মুক্তি পাবার উপায়গুলো আমি প্রধানত ১) ইসলামের আলোকে ও ২) বিজ্ঞানের আলোকে আলোচনা করব। অন্যান্য বিষয়ের আলোকেও কিছু আলোচনা করা হবে।

প্রথমে আমাদের জানা উচিত, কেন আমরা হস্তমৈথুন নামক নেশায় বার বার পতিত হই?  BRAIN SCIENCE   আমাদের এই প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম।

BRAIN SCIENCE OF MASTURBATION:

“মানুষের Main Sex Organ কোনটি?”এই প্রশ্নের উত্তরে  বেশিরভাগ মানুষই বলবে- “পুরুষাঙ্গ ও স্ত্রীর যৌনাঙ্গ” । এই উত্তরটা ভুল । মানুষের  প্রধান  Sex Organ  হল মানুষের মস্তিষ্ক ।[1]  কারণ  মস্তিষ্কের কিছু    Neurotransmitter মানুষের ‘ Sexual Process ‘ এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন    করে।

যখন একজন  ব্যক্তি হস্তমৈথুন করতে উদ্যত হয় তখন  সে  “Funnel Of  Sexual   Process”   এর মধ্য দিয়ে যায়। । [2]  হস্তমৈথুন করার জন্য সে যৌন  উত্তেজক  কিছু  দেখে  বা কল্পনা করে। যৌন উত্তেজক কিছু দেখা বা কল্পনা করার  ফলে তার  শরীরে ‘  Testosterone ‘ এর নিঃসরণ বেড়ে যায় । ‘ Testosterone ‘  ব্যক্তিকে   Sexually arouse করে এবং তাকে এই ফানেলে ঢুকিয়ে দেয়।

এরপর   শক্তিশালী কিছু Neurochemicals নিঃসরিত হয় ব্রেইনে। যেমন-Dopamine, Endorphins । এখানে Dopamine হল একধরনের নিউরোট্রান্সমিটার আর এর কারণেই আমরা ‘Sexual Plesure’ অনুভব করি। মূলত Dopamine  এর কারণেই মানুষে  হস্তমৈথুনে নেশাগ্রস্থ হয় ।

ব্যক্তি  যখন ফানেলে প্রবেশ করে  তখন এই কেমিক্যালগুলো ব্রেইনে  নিঃসরিত হয় আর এই  কেমিক্যালগুলোর উদ্দেশ্য হল  ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ উত্তেজনার  অবস্থায়  পৌঁছানো অর্থাৎ Orgasm । এই  কেমিক্যালগুলো খুবই পাওয়ারফুল আর এই  কারণেই  যখন ব্যক্তি ফানেলের গভীরে চলে  যায় তখন সে যেকোন উপায়ে Orgasm করতে  চায়  ,বলা যায় এই কেমিক্যালগুলো  ব্যক্তিকে এই কাজ করতে বাধ্য করে।

উদাহরণ  হিসেবে Dopamine এর কথা বলা  যায় । Dopamine এর অন্যতম কাজ হল  যৌনসংগীর  উপর ব্যক্তির মনোযোগ বৃদ্ধি  করা  ও অন্যান্য বিষয়ের উপর থেকে  মনোযোগ  সরিয়ে নেয়া। অর্থাৎ এটা আপনার  ব্রেনকে যৌক্তিকভাবে অন্যান্য বিষয়  নিয়ে  চিন্তা করতে বাধা দেয় এবং   ব্যক্তিকে Orgasm এ পৌঁছাতে ব্যস্ত রাখে।  আর  এই কারণে যখন কেউ “Funnel Of  Sexual  Process”  এর খুব ভিতরে ঢুকে পড়ে তখন  যুক্তি খুব ধীরে কাজ করে।

এর   ফলে ” এই সব করা ঠিক না ” ” জাহান্নামের আগুনের কথা ” , ”  আল্লাহ্‌  তাআলা  আমাকে দেখছেন ” ইত্যাদি যুক্তিগুলো ব্যক্তির ঈমান অনুযায়ী  কাজ করে।  যদি  কারো ঈমান মজবুত হয় তাহলে সে    “Funnel Of Sexual   Process” এর সর্বোচ্চ জায়গায় পৌঁছানোর ঠিক আগ মুহূর্তে ফিরে আসতে পারবে   ।যদি কোন   সুন্দরী নারী কোন পুরুষ আকর্ষনীয় ভঙ্গিতে আহ্বান করে তাহলে  ”  ‘Testosterone   ‘ এর একটা Boost  নিঃসরণ হবে যা কিনা Dopamine কে triggered  করার  মাধ্যমে  ব্যক্তিকে “Funnel Of Sexual  Process” এর গভীরে ঢুকিয়ে দিবে।

আর  এইজন্যই হয়তো আল্লাহ্‌ তাআলার আরশের নিচে সে ব্যক্তি স্থান  পাবে যাকে  কোন  সুন্দরী নারী ব্যভিচারের জন্য আহবান করে অথচ সে ব্যক্তি তা  অস্বীকার  করে।

কিন্তু যাদের ঈমান দুর্বল তাদের জন্য ফিরে আসা খুব কঠিন । এজন্য অনেক প্রাক্টিসিং মুসলিমও এই বদভ্যাস থেকে সহজে মুক্তি পায় না।

তো  আমরা বুঝতে পারছি যে হস্তমৈথুনের দ্বারা  মূলত ‘ Dopamine Addiction’  হয় । যখন Orgasm হয় তখন   Dopamine brainstorm এর সৃষ্টি হয় যা কিনা হিরোইন খাবার পর ব্রেনে যে ক্রিয়া হয় তার সমতুল্য। [3]

এখন   যারা এই বদভ্যাসে অভ্যস্ত তারা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন যে আপনাকে  “Funnel  Of  Sexual  Process” এর মধ্য থেকে ফিরে আসা শিখতে হবে  ও ‘Dopamine  Addiction ‘ ছাড়তে হবে। আর এই দুইটা  সমস্যার সবচাইতে সুন্দর  সমাধান  দিয়েছে ইসলাম।

আমি এখন ইসলামের আলোকে এই নেশা থেকে মুক্তি পাবার কিছু উপায় নিয়ে আলোচনা করব—

১) তাক্বওয়া:

অন্তরে   আল্লাহ্‌ তাআলার ভয় থাকতে হবে। আল্লাহ্‌ তাআলা আমাদের সর্বদা  আমাদের  দেখছেন , তাই যখনই  Sexual Urge অনুভব করবেন তখনই মনে রাখবেন যে  আল্লাহ্‌   তাআলা আপনাকে দেখছেন। তাঁর দৃষ্টিকে এড়িয়ে আপনি কখনোই কোন কাজ  করতে  পারবেন  না। আপনার কাজের জবাবদিহি আল্লাহ্‌ তাআলার কাছে করতে হবে।যদি তিনি অসন্তুষ্ট হন তাহলে আপনার পরিণাম হবে জাহান্নাম । — এই কথাগুলো মাথায় রাখবেন।আর তাক্বওয়া বৃদ্ধি পায় এমন আমল নিয়মিত করতে হবে। তাক্বওয়া আপনাকে সকল প্রকার হারাম থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম ।

২) সাওম পালন :

যারা   বিয়ে করতে পারছেন না তাদের জন্য উত্তম হল সাওম পালন করা । কারণ সাওম পালন করলে মানুষের ‘ Will Power ‘ বাড়ে এবং মানুষ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে ।আর  এই দুটি গুণ দিয়ে সহজেই একজন তার  Sexual Desire ‘কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ ) বলেন —

” হে যুবক সমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ে করার সামর্থ রাখে সে  যেন বিয়ে করে  ।  কেননা বিয়ে দৃষ্টি ও লজ্জাস্থান হিফাযাতের জন্য সবচেয়ে বেশি  সহায়ক ।  আর  যে সামর্থ রাখে না সে যেন সাওম পালন করে,কেননা সাওম যৌন  উত্তেজনা প্রশমনকারী।”[সহীহ মুসলিম]

আর এই কারণে রমাদান মাসে অনেকেই পুরো এক মাসই হস্তমৈথুন করা থেকে বিরত থাকতে পারেন।

৩)নিয়মিত স্বলাত আদায়:

ইসলাম   প্র্যাকটিস করা ছাড়া এই নেশা থেকে মুক্তি পাবার পসিভিলিটি খুবই কম। ইসলাম প্র্যাকটিস করতে হলে অবশ্যই আপনাকে নিয়মিত স্বলাত আদায় করতে হবে। আর স্বলাতের ফাযীলতগুলোর মধ্য একটি হল যে স্বলাত অশ্লীল কাজ থেকে মানুষকে বিরত  রাখে।

মহান আল্লাহ্‌ বলেন–

” নিশ্চয়ই স্বলাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। ” [সূরা আনকাবূত, আয়াত-৪৫ ]

হস্তমৈথুন অবশ্যই একটা Erotic Act তাই নিয়মিত যত্নের সাথে স্বলাত আদায় করলে অবশ্যই আপনি এই অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকতে সক্ষম হবেন। বিস্তারিত জানার  জন্য আয়াতটির তাফসীর দেখে নিবেন।

৪)দৃষ্টি সংযত রাখা :

এই বিষয়ে অনেকে যুবকই অসচেতন । একটা কথা আপনাকে মনে রাখতে হবে যে  ‘Sincerity’  ছাড়া কখনোই আপনি এই নেশা থেকে মুক্তি পাবেন না। আর   ‘Sincerity ‘ এর পরীক্ষায় আপনাকে  পাশ করতে হলে অবশ্যই যখন আপনাকে আপনার  দৃষ্টিকে সংযত   রাখতে হবে। অনেকে আছে যারা বেগানা নারীর দিকে এক নজরে তাকিয়ে থাকে হোক তা বাস্তবে বা টিভিতে  অথবা কম্পিউটার স্ক্রিনে।

রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ ) বলেন–

“চোখের যিনা হল দৃষ্টিপাত করা বা দেখা। “[বুখারী]

কোন   মেয়েকে  একনজরে দেখার পর আপনার প্রধান Sex Organ  ব্রেন, ইনপুট হওয়া   ডাটা এনালাইজ করা শুরু করে ।  যেহেতু আপনি বিপরীত লিঙ্গকে  দেখেছেন  সেহেতু   আপনার শরীরে অল্প হলেও  ‘Testosterone ‘  নিঃসরিত হবে ,  কতটা নিঃসরিত হবে তা নির্ভর করে ডাটার আকর্ষণীয়তার উপর । আর এইভাবেই যদি   আপনি কয়েকজনকে   দেখেন তাহলে আপনার ব্রেইন সেই ইমেজগুলো অল্পসময়ের জন্য হলেও  সেভ করে রাখবে   আর এই ইমেজগুলোই আপনার  অন্তরে লুকিয়ে থাকা কামনাগুলোকে  জাগ্রত করে দিবে এবং আপনার শরীরের সেক্সুয়াল মোড অন করে দিবে যার ফলাফল হতে পারে হস্তমৈথুন।

তাই অশ্লীলমুভি, অশ্লীল অনুষ্ঠান  ও  বেপর্দা নারীদের দিকে দৃষ্টিপাত  করা থেকে আপনাকে বিরত থাকতে হবে নাহলে  হস্তমৈথুন থেকে মুক্তি লাভ  করা আর  আকাশ-কুসুম কল্পনা করা একই কথা হবে।

৫)অবাধ মেলামেশা:

যেখানে   নারীদের দিকে তাকানোই হারাম সেখানে তাদের সাথে প্রেম করা , বন্ধুত্ব করা ,মেলামেশা করার তো প্রশ্নই আসে না। অবাধ মেলামেশাও পুরুষের সেক্সুয়াল মোড অন করে। পুরুষ যখন কোন নারীর সাথে ইন্টারেকশন করে তখনও তার শরীরের   ভিতর  ‘Testosterone ‘  নিঃসৃত হয়  এবং তাকে সেই নারীর সাথে সঙ্গম করার  জন্য   প্রস্তুত করে।[4]

আর  ‘Testosterone ‘  নিঃসরণের লেভেল  যদি  high  হয় তাহলে ব্যক্তি  Orgasm এর প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করে।  তাই  অবাধ মেলামেশা থেকে আপনাকে বিরত থাকতে হবে।

৬) বন্ধু নির্বাচন :

খারাপ  চরিত্রের বন্ধুদের সাথে মেলামেশা একেবারেই কমিয়ে দিতে হবে। আপনার ৫ জন বন্ধুর মধ্যে যদি ৪ জনই সেক্স এডিক্ট হয় , তাহলে আপনার সেক্স এডিক্ট   হবার সম্ভাবনা খুব বেশি।

রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ ) বলেছেন–

“মানুষ তার বন্ধুর স্বভাব-আচরণে প্রভাবিত হয়, সুতরাং  যাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে ,তার ব্যাপারে আগে ভেবে নাও। ” [আবু দাউদ, তিরমিযী]

তাই বন্ধু নির্বাচনে সতর্ক থাকতে হবে। যারা ইসলামের পথে সময় ব্যয় করছে তারাই হতে পারে আপনার উত্তম বন্ধু ।

এছাড়া যা যা করতে পারেন-

শয়তান   আমাদের অশ্লীলতার পথে পরিচালিত করতে চায়।তাই যখনই শয়তান আপনাকে  আহ্বান  করবে হারামের পথে তখনই আপনি দু’আ পড়ে শয়তানের কুমন্ত্রণা   থেকে  আল্লাহ্‌   তাআলার কাছে আশ্রয় চাইবেন। ‘হিসনুল মুসলিম ‘ বইয়ে এই সম্পর্কিত  দু’আ   পাবেন। আপনি ‘ আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজীম ‘ বলেও আশ্রয়   চাইতে   পারেন।

রাতে ঘুমানোর সময় পুরুষদের   যৌনাঙ্গ  কয়েকবার erect হয়। একে বলা হয়  ‘Nocturnal Penile Tumescence’ ।  এই  erection এর কারণেও অনেকে উত্তেজিত হয়ে  পড়ে এবং হস্তমৈথুন করে। এই  সমস্যা  থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য  রসূলুল্লাহ্‌  (সঃ ) এর সুন্নাহ অনুসরণ  করতে হবে।  যখন আপনি রাতে ঘুমাতে যাবেন তখন অযু করে  ঘুমাতে পারেন,   ঘুমানোর সময় যেসব  দু’আ পড়তে আমাদের বলা হয়েছে সেগুলো পড়তে  পারেন , ডান  কাতে শুতে হবে ,  পেটের উপর শোয়া যাবে না ইত্যাদি।

আপনার রুমে ক্বুর’আনের আয়াত ও হাদীস পোস্টারিং করতে পারেন । এতে  করে   যখন আপনার  Sexual Urge হবে তখন যুক্তি দিয়ে তা সহজে কমাতে পারবেন।

একটা   কথা মনে রাখবেন রাতারাতি আপনি এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন না, আপনাকে    ধৈর্য ধরতে হবে। কখনো ব্যর্থ হলে হতাশ না হয়ে আবার চেষ্টা করতে হবে।

আল্লাহ্‌ তাআলা আমাদের হস্তমৈথুনের ফিতনা থেকে  বিরত থাকার তওফীক দান করুন। আমীন ।

[আগামী কিস্তিতে বিজ্ঞানের আলোকে কিছু পয়েন্ট আলোচনা করা হবে, ইনশা’আল্লাহ্‌ । পড়ার আমন্ত্রণ রইল]

পড়ুন-

ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ মাস্টারবেশন থেকে মুক্তি – https://bit.ly/2N9OeEM
ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ মাস্টারবেশন থেকে মুক্তি (শেষ কিস্তি) – https://bit.ly/2oYwnls

লেখক-  ফরহাদ হোসেইন মিঠু ।  উনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত। আল্লাহ ভাইকে উত্তম প্রতিদান দান করুক।

তথ্যসূত্রঃ-

[1] Dr. Laura Berman

[2] Is Masturbation a Healthy Outlet?

[3] THE NEUROCHEMISTRY OF SEX

[4] Desires And Plesures Decoded , Documentry by Discovery Channel

শেয়ার করুনঃ