চোরাবালি (পঞ্চম পর্ব)

অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের ফলে টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ কমে যেতে পারেঃ 

প্রথমে আমাদের জানতে হবে যে টেস্টোস্টেরন [১] আসলে কি? এটার গুরুত্বটাই বা আসলে কি ?

টেস্টোস্টেরন আসলে একটা গুরুত্বপূর্ণ হরমোন যা পুরুষ হিসেবে আমাদের অতি দরকারী।

টেস্টোস্টেরন যেমন পুরুষের শরীরে প্রজননতন্ত্রের টিস্যু যেমন টেস্টিস , প্রোস্টেট গঠনে ভুমিকা রাখে

তেমনি পেশী বৃদ্ধিতে, হাড়ের গঠনে, চুলের বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে । এটা অস্টিওপরোসিস নামক রোগের প্রতিরোধেও কাজ করে।

অর্থাৎ এটা আমাদের স্বাস্থ্য গঠনের পাশাপাশি যৌন কার্যাবলীতেও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে ।

এখন এটা নিয়ে আপনি বিতর্ক করতে পারেন যে হস্তমৈথুন করলে যদি টেস্টোস্টেরন কমে যায়, তাহলে তো স্বাভাবিক যৌন ক্রিয়াতেও তা কমে যাবে? তাহলে কি মানুষ স্বাভাবিক যৌন ক্রিয়াও বাদ দিয়ে থাকবে?

 

আসলে হস্তমৈথুন আর স্বাভাবিক যৌন ক্রিয়ার মাঝে আকাশ পাতাল পার্থক্য। এটা শুধু মুখের কথা না ,এটা বৈজ্ঞানিকভাবেই প্রমাণিত। হস্তমৈথুন আর স্বাভাবিক যৌন ক্রিয়ার সময় আমাদের মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখায়। স্বাভাবিক যৌন ক্রিয়ার পরে একজন পুরুষ কখনই নিঃস্ব,রিক্ত অনুভূতি নিয়ে তার পরের কয়েকটা দিন

পার করে না কারণ তখন টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।[২]

এবার একটা লেখা পড়া যাক। Real Natural Men ব্লগের একটা আর্টিকেল –

“টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ বৃদ্ধির নানা কারণ আছে ,তবে তারমধ্যে সবচেয়ে প্রধান হচ্ছে স্বাভাবিক যৌন ক্রিয়া। এটা তাহলে একটা মজার ব্যাপার, তাই না? উদাহরণ হিসেবে একটা ঘটনা জানা যাক। ১৯৯২ সালে একটা পরীক্ষা করা হয়েছিল । এটা চালানো হয়েছিল ৪টি দম্পতির উপর । আসলে এটা জানার ছিল যে তাদের দাম্পত্যকালিন স্বাভাবিক যৌন ক্রিয়ার দিন এবং তাদের মাঝে যেদিন কোনরূপ যৌন ক্রিয়া হয় না ,এই দুই ধরনের দিনে তাদের টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ কি অবস্থায় থাকে। দেখা যায় যে , যে রাতে তারা স্বাভাবিক যৌন ক্রিয়া করেছে ,তারপর তাদের টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে যে রাতে তাদের মাঝে কোন রূপ যৌন ক্রিয়া হয় নি, তারপর তাদের টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় নি।

 

২০০৩ সালে, হস্তমৈথুন থেকে বিরত থাকা ও টেস্টোস্টেরনের পরিমাণের উপর এর প্রভাব নিয়ে পুরুষদের উপর একটা পরীক্ষা চালানো হয়। সেটার ফলাফলে দেখা যায় যে, হস্তমৈথুন থেকে বিরত থাকার প্রথম ১ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ স্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পায় । কিন্তু এরপর আরেকটা বড় ‘কিন্তু’ আছে । ৬ষ্ঠ আর ৭ম দিনে এই বৃদ্ধির হয়ে যায় ১৪৭%!!!! এই ৭ দিনের পরে টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ তার স্বাভাবিক পর্যায়ে যায়।”[৩]

এখন দেখা যাক  কেন আমাদের টেস্টোস্টেরন দরকারঃ

  • ·         এনার্জি
  • ·         স্মৃতিশক্তি
  • ·         মনোযোগ
  • ·         আত্মমর্যাদাবোধ
  • ·         আত্মনিয়ন্ত্রণ
  • ·         সুগঠিত পেশি
  • ·         দৈহিক শক্তি
  • ·         কাজ করার সক্ষমতা
  • ·         গলার স্বরের গম্ভীরতা
  • ·         মানসিক প্রশান্তি
  • ·         পুরুষের মত আচরণ
  • ·         প্রভাবশালী আচরণ
  • ·         লোহিত রক্ত কণিকা উৎপাদন
  • ·         হাড়ের স্বাভাবিক গঠনে
  • ·         যৌন ক্রিয়ার জন্য পর্যাপ্ত আমিষ সরবরাহ করা
  • ·         দীর্ঘস্থায়ী যৌন ক্রিয়াতে
  • ·         স্বাস্থ্যকর মেটাবলিজম উৎপাদনে
  • ·         লিভারের কার্যাবলীতে
  • ·         সুগঠিত প্রস্টেট গ্রন্থি গঠনে

এথেকে আমরা বুঝতে পারছি যে টেস্টোস্টেরন আমাদের শরীরের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা উপাদান। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানটাকেই আমারা হস্তমৈথুনের মাধ্যমে নষ্ট করে দিচ্ছি। এই ব্যাপারটা কি আমরা কখনও একটু মনোযোগ দিয়ে চিন্তা করি? [৪,৫,৬]

আচ্ছা যদি টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ কমে যায় তাহলে কী হতে পারে?

 

  • ·         ক্লান্তিভাব
  • ·         বিষণ্ণতা
  • ·         দুর্বল স্মৃতি শক্তি
  • ·         মনোযোগ কমে যাওয়া
  • ·         অতিরিক্ত অস্থিরতা
  • ·         কম শারীরিক সক্ষমতা
  • ·         আত্মনিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়া
  • ·         পুরুষালি আচরণ কমে যাওয়া
  • ·         আচরণে মিনমিনে ভাব আসা
  • ·         স্বাভাবিক যৌন ক্রিয়াতে আগ্রহ না থাকা
  • ·         দ্রুত বীর্যপাত
  • ·         দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
  • ·         মেরুদণ্ডে ব্যথা
  • ·         পেশী সুগঠিত না হওয়া
  • ·         শরীরে চর্বি হয়ে যাওয়া
  • ·         হাড় ক্ষয়ে যাওয়া
  • ·         চুল পড়ে যাওয়া [৭,৮,৯]

ক্রমাগত হস্তমৈথুন করে যাওয়ার ফলে আপনার আচরণ হয়ে পড়তে পারে অপরিণতদের মতঃ

অপরিণত আচরণ বলতে আমরা আসলে কী বুঝি? আসলে যাদের আচরণে অতিরিক্ত অস্থিরতা, কম আত্মনিয়ন্ত্রণ , অধৈর্য, কম মনোযোগ এগুলো ফুটে ওঠে, তাদের আচরণই মূলত বলা হয় অপরিণত আচরণ। এগুলো আসলে করবে বাচ্চারা। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির আচরণে অবশ্যই এসব জিনিস থাকবে না।

আচ্ছা আমরা তো একটু আগেই আলোচনা করলাম টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ কমে যাওয়ার ফলাফল নিয়ে। সেটা আর অপরিণত আচরণ তো আসলে দেখা যাচ্ছে তাহলে একই জিনিস।

আর আমার নিজের মতামত জানতে চাইলে বলবো যে যখন আমি হস্তমৈথুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসি , আমার আচরণ আগের থেকে অনেক পরিণত হয়ে যায় যা একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের সাথে মানানসই। আমি নিজেই এখন বুঝতে পারি যে আমি অনেক ভালো ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারি, আমি আগের থেকেও আরও বেশি ধৈর্যশীল, আত্মনিয়ন্ত্রণশীল, অধিক মনযোগী, আগের থেকে শান্ত হয়ে বসে থাকতে পারি এবং আগের থেকে বেশি মনেও রাখতে পারি। এখন আমার নিজেরই লজ্জা হয় যে আগে আমি এমন আচরণ কীভাবে করতাম!!

অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের কারণে আপনার ভিতর থেকে পুরুষালি ও প্রভাবশালী আচরণ কমিয়ে দেবেঃ

মানব সভ্যতার শুরুতে মানুষ ছোট ছোট দলে বাস করত, আধুনিক সমাজের মত সুযোগ সুবিধা সেখানে ছিলনা। সেই সমাজ ব্যবস্থাতেও একটা জিনিস বিদ্যমান ছিল।সাধারণত দলের সবচেয়ে শক্তিশালী, প্রভাবশালী সদস্য,দলনেতা সঙ্গিনী হিসেবে পেত দলের সবচেয়ে

ভালো মেয়েকে। আর এটা সে তার নিজের ইচ্ছামত করতে পারতো। অপেক্ষাকৃত দুর্বল , কম প্রভাবশালী বা সাধারণ পুরুষ রা তার তাদের সঙ্গিনী পেত তার পরে। মূলত দলনেতা যেসব মেয়েকে তার সঙ্গিনী হিসেবে নিত না তারাই এসব পুরুষদের কপালে জুটত।

এখনকার আধুনিক সমাজের সাথে আদিম সমাজের অনেক পার্থক্য থাকলেও এই ধারাটা কিন্তু এখনও

আছে । আমরা আমাদের স্কুল, কলেজ , বন্ধুদের মাঝে বা আমাদের কর্মক্ষেত্রের দিকে তাকালেই এর প্রমাণ পাবো।

তাহলে কিন্তু বোঝা যাচ্ছে একজন পুরুষের জীবনে তার পুরুষালি আচরণ , সুন্দর ব্যক্তিত্বের গুরুত্ব ঠিক কতটা । আর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে টেস্টোস্টেরন।

একজন সত্যিকারের পুরুষ হবে প্রবল আত্মবিশ্বাসী, তার কথাবার্তা ,আচার আচরনণেই তার ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠবে। তার আচরণের মাখে কোন মিনমিন করা স্বভাব থাকবে না । আর এই জাতীয় পুরুষের প্রতি সবাই সহজেই আকৃষ্ট হয় ।

আর এই ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকতে হলে টেস্টোস্টেরনের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা আগেই

আলোচনা করেছি । আসলে আমরা যখন হস্তমৈথুন করে করে আমাদের টেস্টোস্টেরন নিঃশেষ করতে থাকি , আমরা তখন বাইরে একটা পুরুষের খোলসের মাঝি আবদ্ধ থাকি। আমাদের ভেতরটা হয়ে যায় – দুর্বল, ভীতু স্বভাবের।

এর থেকে মুক্তির উপায় তো আপনার হাতেই। হস্তমৈথুন বাদ দিয়ে দিন । একমাত্র সমাধান তো এটাই।

আমি যখন হস্তমৈথুন বাদ দিয়ে দেই, সে সপ্তাহ থেকেই আমি নিজের নিজের ভিতরে আমূল পরিবর্তন বুঝতে পারি। আমার কাছে মনে হচ্ছিল আমি আগের থেকে আরও বড় , শক্তিশালী হয়ে গেছি। আমি বুক ভরে শান্তিতে শ্বাস নিতে পারছি কাজ বিপদ বা কঠিন হয়েছে তো কি হয়েছে, আমি ভয় পাই না তাতে। আমার প্রতি অন্যদের ধারনাও পাল্টাতে শুরু করলো। আর আমার নিজের মাঝে থাকা এই নতুন ‘আমি’ টাকে আমি এতদিন জানতামই না!!!!!

(বি.দ্র. এখানে মূল লেখকের কথা বলা হয়েছে)

আবার ভয় পাই না মানে এটা না যে আমি ইচ্ছা করে মারামারিতে লিপ্ত হচ্ছি বা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছি। আমি নিজের প্রতি এখন আত্মবিশ্বাসী যে ঝামেলা দেখলে তা থেকে পালিয়ে যাবো না। আমি মনে করি, সবাই ছেলে হিসেবে জন্মালেও প্রকৃত পুরুষ সবাই হয়ে উঠতে পারে না । হস্তমৈথুনের ফলে আমরা নিজেরাও জানি না যে আমরা কি অপার সুন্দর ভবিষ্যৎ নষ্ট করছি!

আচ্ছা আপনি কাদেরকে আসল পুরুষ বলে মনে করেন ? মেসি রোনালদো নেইমার বা সাকিব আল হাসান কে , তাইতো ? এরাই আপনার আদর্শ, আপনার তথাকথিত স্বপ্নের পুরুষ !

এখন সত্যি করে বলুন তো আপনার কি মনে হয় এরা সারাদিন বাসায় বসে থেকে হস্তমৈথুন করে? আপনি মনে করেন যে এরা সারাদিন দরজা বন্ধ করে বসে থেকে চুপচাপ শুধু পর্নদেখে?[১০,১১,১২]

অতিরিক্ত হস্তমৈথুন প্রায়ই জন্ম দেয় অতিরিক্ত অস্থিরতাঃ

হস্তমৈথুনের অস্থিরতার জন্ম দেয়। আর এটার সবচেয়ে বড় প্রমাণ আমি নিজেই। আমি প্রায়ই অস্থির , অধৈর্য হয়ে থাকতাম সব ব্যাপারে। কিন্তু আমি এর কারণ খুঁজে পেতাম না।

হস্তমৈথুন বাদ দেয়ার সাথে সাথে আমার ভিতরে নানা পরিবর্তন আসতে থাকে। আমার আচরণ সংযমী হতে থাকে। অস্থিরতা, অধৈর্য এই ব্যাপারগুলো আমার মাঝে হারিয়ে যেতে থাকে। এটা আমার জন্য আসলেই অনেক বড় শান্তির ছিল। আমি সব সময় আর অস্থির হয়ে থাকি না এটা চিন্তা করে যে ,অন্যরা আমাকে নিয়ে কি ভাবছে।

আমার এই পরিবর্তনের কারণ নিশ্চয়ই আপনারা এখন বুঝতে পারছেন । আসলে হস্তমৈথুনের সাথে সাথে আমাদের শরীর থেকে বিপুল পরিমাণ টেস্টোস্টেরন বের হয়ে যায়। আর অতিরিক্ত অস্থিরতাও আসে মূলত এটার জন্যই।

আসলে এটা সিগারেট খাওয়ার মতোই ব্যাপার । মানুষ ধূমপান করে মনের অস্থিরতা, দুঃচিন্তা দূর করতে কিন্তু হয় আসলে তার উল্টাটা। ধূমপানের কারণে মানুষের মনের অস্থিরতা, দুঃচিন্তা আরও বেড়ে যায়।হস্তমৈথুনের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা ঠিক তাই।[১৩]

হস্তমৈথুন মানুষের বিষণ্ণতা বাড়ায়ঃ

একজন যখন হস্তমৈথুন করে ,তখন সে তার ডোপামিন নিঃসরণকারী গ্রন্থিগুলোকে নষ্ট করে ফেলতে থাকে। ডোপামিনের গুরুত্ব নিয়ে আগেই আলোচনা করা হয়েছে। তারপরে আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছি মানুষের আনন্দের অনুভূতি আসে মূলত ডোপামিন থেকেই। আর কেউ যখন তার ডোপামিন ব্যয় করে এই হস্তমৈথুন থেকে পাওয়া অল্প আনন্দের পিছনে , তার তখন আর হস্তমৈথুন ছাড়া কিছুই হতাশা, উৎকণ্ঠা, কর্মক্ষেত্রের মেন্টাল স্ট্রেস থেকে পালিয়ে বাঁচার জন্য অনেকেই হস্তমৈথুন করেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে হতাশা, উৎকণ্ঠা, মেন্টাল স্ট্রেস আবারো ফিরে আসে শতগুন শক্তিশালী হয়ে।ভালো লাগে না।[১৪]

এই বিকৃত রুচির কাজের ফলাফলটা কী কেউ চিন্তা করি?

এই বিকৃত রুচির জঘন্য কাজের মাধ্যমে মানুষ যখন আসক্ত হয়ে পড়ে, তখন আর তার স্বাভাবিক কোন কিছুই ভালো লাগে না। সে আর জীবনে অন্য কোন কিছুই উপভোগ করতে পারে না। সে সবসময় একটা বিষণ্ণতায় ভোগে। কিন্তু সে যখন হস্তমৈথুন বাদ দিয়ে দেয় ,তার ডোপামিন নিঃসরণকারী গ্রন্থিগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরত আসতে থাকে। আর ডোপামিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থায় চলে আসলে, তার জীবন থেকে বিষণ্ণতাও দূর হতে থাকে।

সে আক্ষরিক অর্থেই তার জীবনকে উপভোগ করতে শুরু করে। এটাই তো হওয়া উচিত আসলে। সে আনন্দ খুঁজে পেতে থাকে চারপাশের ছোটখাট ব্যাপারগুলো থেকেই।

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ ……

মূললিখাটি -https://tinyurl.com/y76a7cna

পড়ুন বাকী পর্বগুলো –

পর্বত জয়ের প্রতিজ্ঞা – https://bit.ly/2Mo58dj

চোরাবালি প্রথম পর্ব – https://bit.ly/2ObItTt
চোরাবালি দ্বিতীয় পর্ব – https://bit.ly/2Qm0j7D
চোরাবালি তৃতীয় পর্ব – https://bit.ly/2p0HR8l
চোরাবালি চতুর্থ পর্ব – https://bit.ly/2QoRtGb
চোরাবালি ষষ্ঠ পর্ব- https://bit.ly/2QocEIA
চোরাবালি সপ্তম পর্ব- https://bit.ly/2x9hr81
চোরাবালি অষ্টম পর্ব- https://bit.ly/2NAhrbd
মাস্টারবেশন কী মাসলগ্রোথ এবং এথলেটিক পারফরম্যান্সের ক্ষতি করে?- https://bit.ly/2NzycUa
মিথ্যের শেকল যতো- https://bit.ly/2QpkT7f
সমকামিতা এবং হস্তমৈথুন আদিম মানুষের মধ্যে বিরল!- https://bit.ly/2CQOOT2
.

রেফারেন্সঃ

[১] https://goo.gl/7v2l2Q

[২] https://goo.gl/WUD998

[৩] https://goo.gl/lcVKqZ

[৪] https://goo.gl/Im1Ys9

[৫] https://goo.gl/inIO1g

[৬] https://goo.gl/nQfFFo

[৭] https://goo.gl/qQ76S9

[৮] https://goo.gl/tV2T8N

[৯] https://goo.gl/wJvCsl

[১০] https://goo.gl/v6hj4e

[১১]https://goo.gl/1A6W8Q

[১২]https://goo.gl/F7P8KO]

[১৩] https://goo.gl/Xskb4A

[১৪] Compulsive Masturbation: The Secret Sexual Disorder -http://bit.ly/2oVPOcq; Husted J, Edwards A. Personality correlates of male sexual arousal and behavior. Archives of Sexual Behavior 1976;5:149–5; Frohlich P, Meston C. Sexual functioning and self-reported depressive symptoms among college women. Journal of sex research 2002;39:321–5; Cyranowski JM, Bromberger J, Youk A, Matthews K, Kravitz HM, Powell LH. Lifetime depression history and sexual function in women at midlife. Archives of Sexual Behavior 2004;33:539–48

শেয়ার করুনঃ

চোরাবালি (ষষ্ঠ পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

অতিরিক্ত হস্তমৈথুন আপনাকে মানসিকভাবে দুর্বল, ভীতু আর লজ্জিত করে রাখবেঃ

হস্তমৈথুনের কারণে আপনার কি কি মানসিক সমস্যা হবে সেটা আগেই আলোচনা করা হয়েছে (পড়ুন আগের পর্বগুলো)। আপনি সবসময় অস্থিরতা বোধ করবেন, একটা পাপবোধে নিমজ্জিত থাকবেন ভাবে থাকবেন। আপনি চাইলেও স্বাভাবিক হতে পারবেন না। কারণ হস্তমৈথুন আপনাকে ভিতর থেকে শেষ করে ফেলছে। গ্রাস করে ফেলছে আপনার আবেগ-অনুভূতিগুলো।

সত্যি কথা বলতে আমি নিজেও এরকম অবস্থার মাঝে গিয়েছি। আমি অনেক চেষ্টা করেছি স্বাভাবিক থাকতে কিন্তু ভিতর থেকে কোন ইচ্ছা জাগতো না, কোন জোর পেতামনা। কিন্তু যখন হস্তমৈথুন বাদ দিলাম ,অনেক ক্ষেত্রেই আমার ভিতরে পরিবর্তন আসতে শুরু করলো। আমি স্বাভাবিকভাবেই মানুষজনের সঙ্গে কথা বলতে পারি এখন। এজন্য কোন জড়তা বা ভীতি এগুলো কাজ করে না।

(বি.দ্র. এখানে মূল লেখকের কথা বলা হয়েছে)

ক্রমাগত হস্তমৈথুন আপনার আত্মনিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দেবেঃ

সত্যি কথা বলতে কথা বলতে ক্রমাগত হস্তমৈথুন আপনার আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ দিনদিন কমিয়ে দিবে। কেন কিভাবে কমাবে তা নিয়ে আগেই আলোচনা করা হয়েছে। এখন দেখা যাক এগুলোর ফলে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

মেয়েরা কিন্তু তাদের জীবনসঙ্গী হিসেবে পুরুষালি স্বভাবের ছেলেদেরই বেশি প্রাধান্য দেয়। আত্মনিয়ন্ত্রণহীন বা অনেকটা লুতুপুতু স্বভাবের ছেলেদের কিছু সময়ের জন্য ভালো লাগলেও বা কাছাকাছি থাকলেও কখনই এদের মতো কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে চায় না।

আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা আসলেই একটি বড় যোগ্যতা। আপনি আপনার মনের আবেগে ভেসে হারিয়ে যাচ্ছেন না ,এই যোগ্যতাকে কখনই ছোট করে দেখার উপায় নেই। আত্মনিয়ন্ত্রণ শুধু আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যই ভালো না, আমাদের ব্যক্তিত্বও গড়ে উঠে এর উপর ভিত্তি করে।

আর হস্তমৈথুনের ফলে আপনার এই আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাটাই শেষ হতে থাকে। আপনার মন হতে থাকে অস্থিরতায় ভরপুর। অল্পতেই নিয়ন্ত্রণ হারান নিজের প্রতি আবেগ তাড়িত হয়ে। হতাশা , কাজে অনীহা এই সব কিছুই আসলে এটার ফল।

অথচ আপনি শুধু হস্তমৈথুন করা থেকেই বিরত থেকে দেখুন ,আপনার জীবন থেকে এই সব হতাশা ,অস্থিরতা দূর হয়ে যাবে।

আগে যেসব ব্যাপারে আপনি অল্পতেই অতিরিক্ত আবেগ তাড়িত হয়ে পড়তেন, উত্তেজিত হয়ে পড়তেন , সেগুলো আপনি এখন  আর গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভাববেনই না। এবং নিজেই এখন বুঝতে পারবেন যে আপনি কতটা বোকাই না ছিলেন!

হস্তমৈথুনের ফলে আপনি শারীরিকভাবে অনেক নমনীয়, ভঙ্গুর হয়ে পড়বেনঃ

আমাদের শরীর হচ্ছে আমাদের মনের আয়নাস্বরূপ। আপনি আপনার মনের ভিতরকার অবস্থা বেশি দিন চাপা দিয়ে রাখতে পারবেন না । আপনার কথাবার্তা,কাজকর্ম,অভিব্যক্তির মাধ্যমেই এগুলো ফুটে ওঠে।

আর হস্তমৈথুনের কারণে আপনার মনের ভিতরে ক্রমাগত অস্থিরতা আপনি লুকিয়ে রাখবেন যেখানে আপনি আপনার মনের জোরটাই ধ্বংস করে ফেলছেন? এটা আপনি পারবেনও না। আপনার সাথে কেউ কথা বললেই তা বুঝতে পারবে যে আপনার মনের ভিতরে অস্থিরতা কাজ করছে।

আর মানসিকভাবে দুর্বল হবার কারণে আপনার আচরণও হবে সেরকমই- ভীত, অবসাদগ্রস্ত, কোন কিছু ভালো না লাগা।

আপনি ভাবেন যে আপনি তো আপনার অস্থিরতার কথা কাউকে বলছেন না, আপনার নিজের মাঝেই তা রেখেছেন কিন্তু আপনার আচরণ তা ঠিকই প্রকাশ করে দিচ্ছে।

আপনি এই অবস্থা থেকে মুক্তি চান? আপনি চান আপনার আচরণ আরও দৃঢ় প্রত্যয়ী হোক? প্রথমে তাহলে আপনার হস্তমৈথুনের অভ্যাস বাদ দিন। তারপর দেখুন কি হয়।

হস্তমৈথুন আপনার আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দেয়ঃ

মাস্টারবেশনের ঠিক পরের অবস্থাটার কথা চিন্তা করুন, আপনি হস্তমৈথুন  করে ঠান্ডা হয়ে শুয়ে পড়লেন বিছানায়, বদ্ধ ঘরের স্যাঁতস্যাঁতে বাতাসে  দলবেঁধে ভেসে বেড়াতে লাগলো জীবনের সেই সব  প্রশ্নগুলো যার উত্তর আপনি এখনো পাননি, একে একে আসতে শুরু করল জীবনের হিসেব না মেলা সব ঘটনাগুলো। মন খারাপ হওয়া শুরু হল আপনার।‘ধুর! শালা! আমার জীবনটা তো পুরোপুরিই নষ্ট হয়ে গেল, আমি একটা ফেলটুস, আমি একটা গান্ডু, আমি কিচ্ছু করতে পারি না, আমার দ্বারা কিসসু হবে না’

বড় হতে হলে,সফল হতে হলে আত্মবিশ্বাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক ফ্যাক্টর। হস্তমৈথুন   আপনার নিজের ওপর বিশ্বাসটাকে একেবারেই গুঁড়িয়ে দেয়। এক-দুই মাস হস্তমৈথুন  থেকে দূরে থাকুন। দেখবেন আপনার ভেতর আত্মবিশ্বাস টইটম্বুর হয়ে আছে।

অতিরক্ত হস্তমৈথুন আপনার মনোযোগ কমিয়ে দেয়ঃ

২০০১ সালের একটা গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, হস্তমৈথুন করার ৩০ মিনিটের মাঝে

Noradrenaline (Norepinephrine)এর পরিমাণ অনেক কমে গিয়েছে।

এর ফলে কি হবে?

কারণ Noradrenaline [১] এমন একটা হরমোন যা আপনার কোন জিনিসের প্রতি অখণ্ড মনোযোগ ধরে রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আর সেই জিনিটাই আপনি হস্তমৈথুন করে কমিয়ে ফেলছেন , আপনার মনোযোগ তাহলে থাকবে কীভাবে!!!!!!

এছাড়া আপনি তো হস্তমৈথুন করে আপনার Dopamine,Testosteroneএগুলোরও তো স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরত আসতে সময়ের দরকার হয়ে পড়ে।

একটা বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, হস্তমৈথুনের পরবর্তী এই অবস্থা কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় আসতে অন্তত ২ সপ্তাহ সময় লাগে[২]

চিন্তা করে দেখুন, হস্তমৈথুন  করার দিনটাতে আপনি ক্লাসে, পড়ার টেবিলে বা অন্য কোন কাজে   কি মনযোগ দিতে পারেন, না সবসময় মাথার মধ্যে লাগামছাড়া চিন্তা ভাবনা ঘোরাফেরা করে?

চলবে ইনশা আল্লাহ …

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)

মূল লিখাটিঃhttps://tinyurl.com/y76a7cna

রেফারেন্সঃ

[১] https://goo.gl/sHwjQ7

[২] https://goo.gl/cZSbbu

পড়ুন –

পর্বত জয়ের প্রতিজ্ঞা – https://bit.ly/2Mo58dj

চোরাবালি প্রথম পর্ব – https://bit.ly/2ObItTt
চোরাবালি দ্বিতীয় পর্ব – https://bit.ly/2Qm0j7D
চোরাবালি তৃতীয় পর্ব – https://bit.ly/2p0HR8l
চোরাবালি চতুর্থ পর্ব – https://bit.ly/2QoRtGb
চোরাবালি পঞ্চম পর্ব- https://bit.ly/2Nzoh0M
চোরাবালি সপ্তম পর্ব- https://bit.ly/2x9hr81
চোরাবালি অষ্টম পর্ব- https://bit.ly/2NAhrbd
মাস্টারবেশন কী মাসলগ্রোথ এবং এথলেটিক পারফরম্যান্সের ক্ষতি করে?- https://bit.ly/2NzycUa
মিথ্যের শেকল যতো- https://bit.ly/2QpkT7f
সমকামিতা এবং হস্তমৈথুন আদিম মানুষের মধ্যে বিরল!- https://bit.ly/2CQOOT2
শেয়ার করুনঃ
সমকামিতা এবং হস্তমৈথুনের অভ্যাস আদিম মানুষের মধ্যে বিরল!!

সমকামিতা এবং হস্তমৈথুনের অভ্যাস আদিম মানুষের মধ্যে বিরল!!

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম।

‘হস্তমৈথুন খুব সাধারণ একটা ব্যাপার’, ‘এটা সবাই করে’ ‘এটা এমন একটা যৌন কর্ম যা সৃষ্টির শুরু থেকে সবাই করে আসছে’ এই কথাগুলো বলে বর্তমান প্রজন্মকে হস্তমৈথুনের পক্ষে ব্রেইনওয়াশড করা হচ্ছে। যখন এই ভুল ধারণাগুলোর বিপরীতে যুক্তি দেখান হয় তখন এমন কিছু অর্ধশিক্ষিত এবং মিথ্যাবাদী লোক যারা নিজেদের যৌনবিশেষজ্ঞ দাবি করে এবং যাদের এই যৌন শিক্ষার ভিত্তিই হল ধর্ষণ এবং শিশুকাম, তারা তেড়েফুঁড়ে আসে। “হস্তমৈথুন একটি স্বাস্থ্যকর এবং স্বাভাবিক ব্যাপার” যারা এর বিরোধিতা করছে তাদেরকে নিয়ে উল্টো ব্যাঙ্গ করা হয় এবং তাদেরকে ধর্মান্ধ ট্যাগ লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে।পর্ন বা হস্তমৈথুনের পক্ষে যতই বাগাড়ম্বরপূর্ণ যুক্তি দেয়া হোক না কেন বিজ্ঞান কিন্তু বিপরীত কথা বলছে। বিজ্ঞান বলছে হস্তমৈথুন কোনভাবেই সাধারণ কিংবা প্রাকৃতিক কোন ঘটনা হতে পারে না এবং এর স্বপক্ষে প্রমাণও হাজির করছে।

আকা নামক একদল শিকারি গোত্র যাদের কাছে পাশ্চাত্যের সেক্সুয়াল প্রোপাগান্ডা এখনও পৌঁছায়নি তাদের উপর চালানো জরিপের উপর ভিত্তি করে ২০১০ সালের অক্টোবরে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। সেই রিপোর্ট থেকে বেরিয়ে আসে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য। সেই রিপোর্টে বলা হয় – “আমরা তাদেরকে সমকামিতা এবং হস্তমৈথুন নিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এবং আমরা বিস্মিত হয়েছি যে তাদের এ সম্বন্ধে কোন ধারনাই নেই। তাদের সমকামিতা এবং হস্তমৈথুনের কোন পরিভাষা নেই। তাই তাদেরকে বোঝাতেই কষ্ট হয়েছে। আমরা যখন তাদের বুঝাচ্ছিলাম তখন তারা হাসছিল। আমরা ভেবেছিলাম তারা বোধহয় প্রকৃতিগত ভাবে লজ্জাশীল। কিন্তু অস্বাভাবিক হলেও এটাই ওদের বৈশিষ্ট….।”

আকা এবং এঙ্গান্ডু গোত্র দুটির মধ্যে সমকামিতা (গে অথবা লেসবিয়ান) সম্পূর্ণ অপরিচিত। বিশেষ করে আকা গোত্রটিকে সমকামিতা সম্পর্কে বোঝাতে বেশি কষ্ট হয়েছে। তাদের নিজস্ব কোন পরিভাষা না থাকায় বারবার বলে সমকামিতা সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়েছে।

গবেষক দল যখন তাদেরকে বুঝাচ্ছিল তখন তারা সমকামিতা এবং হস্তমৈথুনের কথা শুনে হাসছিল।

সমকামিতার মত হস্তমৈথুন সম্পর্কেও তাদের ধারণা দিতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তাদের কাছে ব্যাপারটি অস্বাভাবিক এবং তারা বলেছে যে কঙ্গো থেকে দূরবর্তী অঞ্চলে হয়ত এর প্রচলন থাকতে পারে কিন্তু তাদের নিকট এটা অজানা। হস্তমৈথুনের জন্য তাদের নিজস্ব কোন পরিভাষাও নেই। আমরা তাদের পুরুষদের জিজ্ঞেস করেছিলাম যে তারা বিয়ের পূর্বে হস্তমৈথুন করত কিনা কিন্তু তারা সেটাও করত না।

তাদের সবাই বলেছে যে বিয়ের পূর্বে তারা কখনই হস্তমৈথুন করেনি। কল্পনা করুন যে একদল পুরুষ কখনই বিয়ের পূর্বে কিংবা পরে হস্তমৈথুন করেনি!!

“জংগলের অধিবাসীদের মধ্যেও হস্তমৈথুন অপরিচিত। রবার্ট বেইলি (ব্যক্তিগত সংবাদদাতা) একটি প্রজনন উর্বরতা সমীক্ষার জন্য কঙ্গোর ইতুরি জঙ্গলের পুরুষদের থেকে বীর্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। আমরা তার অভিজ্ঞতা জানতে চেয়েছিলাম। তিনি বলেছেন যে পুরুষদের থেকে বীর্য সংগ্রহ করা খুবই কঠিন ছিল। কিভাবে হস্তমৈথুন করে বীর্যপাত করতে হয় তা তাদেরকে বোঝানো যাচ্ছিল না। খোলাখুলি ভাবে জিনিসটা তাদেরকে বলার পর মাত্র তিন থেকে চারটি বীর্য নমুনা তারা সংগ্রহ করতে পেরেছিল। কিন্তু সেই নমুনা গুলো ছিল আবার যোনী হতে নির্গত তরল মিশ্রিত।

খুব অবাক লাগছে? গবেষকরা পুরুষদের বীর্য নমুনা নেয়ার জন্য তাদেরকে হস্তমৈথুন শেখান হল অথচ তারা স্ত্রী মিলনের মাধ্যমে বীর্যপাত করে সেই নমুনা জমা দিল। ওরাল সেক্স এবং পায়ুকাম এই কাজগুলো তাদের নিকট অজানা।

কারন এই ধরনের যৌনাচার প্রকৃতিগত নয়। পর্নএবং প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর মাধ্যমে এগুলো জনপ্রিয় বানানো হয়েছে।

“কিন্তু মানুষ যতই পাশ্চাত্যের রাজনীতি এবং অর্থনীতির সাথে পরিচিত হবে বা জড়িয়ে পড়বে ততই তাদের সভ্যতাকে স্বাভাবিক মনে হবে। অথচ বিভিন্ন দেশ হতে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত যাচাই করে দেখা গেছে যে পাশ্চাত্যদের যৌনাচার অস্বাভাবিক এবং বিকৃত।”

যারা দাবি করে হস্তমৈথুন এবং অন্যান্য বিকৃত যৌনাচার স্বাভাবিক তাদের জন্য এই তথ্যবহুল গবেষণাটি একটি চপেটাঘাত। পাশ্চাত্যের দেশগুলো তাদের বিকৃত যৌনাচার এবং উগ্র যৌনতা নির্ভর একটা সভ্যতা বাকি বিশ্বের উপর চাপিয়ে দিতে চায়। ওবামা প্রশাসন, জাতিসংঘ, কিন্সলে ইন্সিটিউট ইত্যাদির মাধ্যমে তারা আপনার দেশের মানুষকে বিকারগ্রস্ত করে রাখতে চায়।

“সমকামিতা এবং হস্তমৈথুন কর্মস্পৃহা কমিয়ে দেয় এবং তা কোনভাবেই একটি শিশুকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে না।”

“এই গোত্রগুলোর নারী ও পুরুষদের মধ্যে সমকামিতা এবং হস্তমৈথুনের অনুপস্থিতি আমাদের অবাক করেছে। বর্তমানের পাঠ্যবইগুলোতে বলা হচ্ছে উক্ত বিকৃত যৌনাচারগুলো স্বাভাবিক কিন্তু আকা এবং এঙ্গান্ডুর মানুষের যৌন অভ্যাসের সাথে এই ব্যাখ্যা মিলে না।”

বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তকে যেভাবে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের কারন, সমকামিতা, হস্তমৈথুন ইত্যাদি যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই প্রবন্ধটি সেটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

 

পড়া যেতে পারে এই বইগুলোঃ

১) https://goo.gl/CdqSGW

২) https://goo.gl/nEusPB

৩)https://goo.gl/ZKlSXE

দেখা যেতে পারে এই ভিডিওগুলোঃ

১) https://goo.gl/3DZ0EE

২) https://goo.gl/VVjexP

মাস্টারবেশনের অপকারিতা জানতে পড়ুন এই লিখাগুলোঃ

চোরাবালি প্রথম পর্ব – https://bit.ly/2ObItTt
চোরাবালি দ্বিতীয় পর্ব – https://bit.ly/2Qm0j7D
চোরাবালি তৃতীয় পর্ব – https://bit.ly/2p0HR8l
চোরাবালি চতুর্থ পর্ব – https://bit.ly/2QoRtGb
চোরাবালি পঞ্চম পর্ব- https://bit.ly/2Nzoh0M
চোরাবালি ষষ্ঠ পর্ব- https://bit.ly/2QocEIA
চোরাবালি সপ্তম পর্ব- https://bit.ly/2x9hr81
চোরাবালি অষ্টম পর্ব- https://bit.ly/2NAhrbd
মাস্টারবেশন কী মাসলগ্রোথ এবং এথলেটিক পারফরম্যান্সের ক্ষতি করে?- https://bit.ly/2NzycUa
মিথ্যের শেকল যতো- https://bit.ly/2QpkT7f

রেফারেন্সঃ https://goo.gl/l58VDg

শেয়ার করুনঃ

চোরাবালি (সপ্তম পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম।

 

হস্তমৈথুন  আপনাকে ‘চান্দু’ বানাবে:  

চুল পড়া নিয়ে ছেলেরা যে পরিমাণ টেনশান করে মেয়েরা তার এককানাকড়িও করে না বোধহয় । আমাদের সমাজের এখন যে অবস্থা তাতে মাথায় চুল কম ছেলেদের বিয়ে হতে বেশ ভালো পরিমাণ সমস্যা হয় । হাই স্যালারির জব, ঢাকায় এপার্টমেন্ট, গাড়ী সব ঠিক ঠাক থাকার পরেও মাথায় চুল কম থাকার কারণে বিয়ে ভেঙ্গে গেছে এরকম খবর মাঝে মাঝেই শোনা যায় । তো চুল পড়ার অনেক গুলো কারণ রয়েছে । সেই কারণগুলোর মধ্যে যে কারণটা নিয়ে আমরা আজকে গ্যাঁজাবো সেটা হচ্ছে মাস্টারবেশন

.

New York Times Health এর ভাষ্যমতে মানবদেহের হরমোনের পরিবর্তন চুল পড়ার অন্যতম কারণ । এবং দুঃখজনক ভাবে মাস্টারবেশনের মাধ্যমে খুব দ্রুত এবং ব্যাপক আকারে মানবদেহের হরমোন লেভেল পরিবর্তিত হয় যখন আপনি মাস্টারবেট করতে থাকবেন তখন আপনার দেহে খুবই দরকারী কিছু নিউরোকেমিক্যালস যেমন Testosterone, DHEA , HGH এগুলোর মাত্রা কমে যেতে থাকবে । আপনার দেহে কিছু ক্ষতিকর হরমোণ যেমন Prolactin, Cortisol এবং Dihydrotestosterone (DHT) খুব বেশী মাত্রায় তৈরি হবে । এর ব্যাটা Dihydrotestosterone (DHT) আপনার চুল পড়ার জন্য দায়ী ।

.

American Hair Loss Association এর তথ্য অনুসারে, DHT Hair follicles এ আক্রমণ চালিয়ে এর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করবে , Hair roots এর প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহের কাজে বাগড়া দিবে , Sebaceious gland কে স্টিমুলেট করে মাথার ত্বককে তৈলাক্ত করে তুলবে ।পরিনতিতে চুল ঝরে যাবে । [১,২,৩,৪]

 হস্তমৈথুনের কারণে নিজেকে অকর্মণ্য মনে হবেঃ

প্রথমে কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলা যাক। ব্যক্তিগত জীবনে আমি একজন কর্মব্যস্ত মানুষ। প্রতিদিন আমাকে নানা ধরনে কাজ করতে হয়। কিন্তু আমি যখন হস্তমৈথুনে আসক্ত ছিলাম , আমি সারা দিনে খুব কম কাজই ঠিকভাবে করতে পেরেছি।

.

আসলে হস্তমৈথুনের ফলে আমার স্বাভাবিক হতে কয়েকদিন লেগে যেত।

আমি অফিসে যেতাম । আমার সামনে কাজ জমে থাকতো। ভাবতাম কাজ শুরু করি। আবার পরক্ষণেই ভাবতাম, ধুর! যা হয় হবে, এখন কিছু করতে পারবো না।

তারপর আবার অপরাধবোধ কাজ করত কিন্তু কাজ শুরু করার জন্য মানসিক জোর , ইচ্ছা কিছুই পেতাম না।

এভাবে শুধু পিছিয়েই যেতাম।

আসলে অফিস তো অনেক পরের কথা , আমি  বাড়ির সাধারণ কাজ যেমন থালাবাসন ধোয়া, কাপড় ধোয়া , বাজার করা, বারিঘর পরিষ্কার করা – এগুলোও ঠিকমত করতাম না।

হস্তমৈথুন বাদ দেয়ার পর থেকে আমি নিজের মনের ভিতর থেকেই অন্য রকম একটা উৎসাহ পাওয়া শুরু করলাম। কাজকে আগের মতো আর বিরক্ত লাগতো না । আগে যেখানে কাজের পাহাড় জমে থাকতো ,সেখানে নিয়মিত কাজ করার কারণে আমার এরকম কোন আর চাপই থাকতো না ।[৫]

 

 হস্তমৈথুন আপনার আত্মমর্যাদাবোধ কমিয়ে দিবেঃ

আমরা আমাদের লেখার মূলত হস্তমৈথুনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলে ধরেছি। হস্তমৈথুনের কারণে কি কি হয় মূলত? – আপনার নিজের আচরণের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না, কাজে আগ্রহ জাগে না, অস্থিরতায় ভোগেন, স্বাভাবিক যৌন সম্পর্কের প্রতি থাকে না , আত্মপ্রত্যয় থাকে না। তো এত কিছুর পরেও আশা করেন যে আপনার কোন আত্মমর্যাদাবোধ বলে কিছু থাকবে?

.

হস্তমৈথুনের কারণে কোন নারীকেই আপনি সম্মানের চোখে দেখতে পারবেন নাঃ

যদি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি , তাহলে এক কথায় বলতে হয় যে , পর্নোগ্রাফিতে নারীদের দেখে ভাবতাম যে বাস্তবিক অর্থে তারা মনে হয় আসলেই এরকম। কোন নারীকে দেখলেই আমার এই  চিন্তাধারার সাথে মিলাতে চেষ্টা করতাম।

.

আসলে পর্নোগ্রাফি আর হস্তমৈথুনের কারণে কি হয় শেষ পর্যন্ত-

১)আপনি মূলত পর্নোগ্রাফি কেন্দ্রিক একটি কল্পনার জগতে বাস করবেন ।

২) পর্নোগ্রাফিতে মেয়েরা যেরকম করে, আপনার মনে হবে আসলেই মেয়েরা সেরকম । অথচ আপনি এটা বুঝতে পারবেন না যে পর্নোগ্রাফিতে যারা থাকে আসলে টাকার বিনিমিয়ে এরকম করে।

৩) আপনি ভাববেন যে পর্নোগ্রাফিতে অভিনয় করা পুরুষরাই ‘ আসল পুরুষ’ আর সেরকম হতে না পারলে আপনার কোন দাম নেই।

৪) আপনি মেয়েদেরকে একটা যৌনাবেদনময়ী বস্তু ছাড়া কিছুই ভাববেন না। এমন কি আপনার নিজের পরিবারের মেয়েদের নিয়েও এই ধরনের চিন্তা করতে আটকাবে না আপনার।

৫) সত্যিকার অর্থে আপনি নারীদেরকে একজন মানুষ হিসেবেই ভাববেন না।

চিন্তা করুন তো আপনি নিজেও তো একদিন বাবা হবেন। যাকে আপনি পর্নোগ্রাফিতে দেখছেন সে আপনার মেয়ে হলে আপনার কেমন লাগতো?

 

হস্তমৈথুনের কারণে আপনি স্বাভাবিক যৌনক্রিয়ার প্রতি আগ্রহ হারাতে থাকবেনঃ

পর্নভিডিও দেখলে আপনার মানসিক বিকাশ , চিন্তাধারা সবই সেটা কেন্দ্রিক হবে। আপনি যখন কোন নারীকে দেখবেন , তখন আপনার মনের মাঝে সেই পর্নভিডিও গুলোতে যা দেখেন ,সেটাই মনে হতে থাকবে।  আর একটা পর্নভিডিও তে যা দেখানো হয় সেটা কিন্তু স্বাভাবিক কিছু না।

একজন মানুষের মনে স্বাভাবিক ভাবেই যৌন কার্যাবলী সম্পর্কিত চিন্তা আসতে পারে। এটা খারাপ কিছু না । কিন্তু আপনি সারাদিন শুধু এসব চিন্তাই করবেন সেটা অবশ্যই দোষের। আর এই চিন্তাধারার সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে , হস্তমৈথুন।আসলে এটা আপনার জন্য সহজলভ্য একটা উপায় হয়ে দাঁড়ায়। আর এর ফলে আপনি স্বাভাবিক যৌন ক্রিয়া থেকে আগ্রহ হারাতে থাকবেন । হস্তমৈথুনকেই কাঙ্ক্ষিত জিনিস মনে হবে।

.

সুগঠিত মাংসপেশির জন্য হস্তমৈথুন বাদ দিনঃ

আপনি কোন শরীরচর্চাবিদকে জিজ্ঞাসা করে দেখতে পারেন , নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি হস্তমৈথুন করা থেকেও তাদের বিরত থাকতে বলা হয়।টেস্টোস্টেরন  হরমোন সুগঠিত মাংসপেশির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই হরমোন যদি  আপনি মাস্টারবেট করে  ক্রমশ শেষ করে ফেলেন ,তাহলে আপনার শরীর কীভাবে সুগঠিত থাকবে?  একজন পুরুষের শরীর হবে  সুগঠিত, স্টীলের মতো পেটানো,কঠিন;মেয়েদের মতো লতানো নরম- নমনীয় না।

অন্যদিকে মেয়েরাও স্বভাবতই সুগঠিত পুরুষদের প্রতিই আকৃষ্ট হয়। [৬,৭]

( বিস্তারিত আসছে ইনশা আল্লাহ্‌ …)

হস্তমৈথুনের কারণে আপনার ক্রমাগত পিঠ ব্যাথা হতে পারেঃ

এখনকার পুরুষদের মাঝে পিঠে তীব্র ব্যাথা হওয়ার কথা প্রায়ই শোনা  যায়। এরফলে চাকুরি বা পড়ার জায়গা বা কোন কাজেই ঠিকমতো বসে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ে।

শুনতে অবাক লাগলেও এটা সত্যি যে এখানেও টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ কমে যাওয়াটা একটা ভূমিকা রাখে।

.

দেখা যায় যে , যখন টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ কম থাকে তখন ব্যাথা অনেক তীব্র হয় । আবার যখন টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে যায়, তখন এই ব্যাথা কমে যায় বা দূর হয়ে যায়।

হস্তমৈথুন আপনার পুরুষত্ব কমিয়ে দেয়ঃ

দেখুন, প্রতিটা মানুষই একটা সুখী দাম্পত্য জীবন চায়। আর এক্ষেত্রে সঠিক যৌন জীবনও একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ ।আর হস্তমৈথুন করে করে আপনি সেই সুযোগ দিন দিন দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন। পর্নোগ্রাফি আর হস্তমৈথুনের মাধ্যমে আপনি যেমন মানসিক ভাবেও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন, তেমনি শারীরিকভাবেও অক্ষম হয়ে পড়ছেন দিনদিন। আপনি যদি দাম্পত্য জীবনে উপভোগ করতে চান, তাহলে এই মুহূর্তে পর্নোগ্রাফি আর হস্তমৈথুন – এই দুইটা জিনিসকেই ‘না’ বলুন।

.

 হস্তমৈথুন বাদ দিলে আপনার ঘুম ভালো হবেঃ

ঘুম আমাদের শরীরের জন্য অপরিহার্য একটি জিনিস। আপনার ঘুম ঠিক মতো হচ্ছে না মানে আপনার শরীর পুরোপুরি সুস্থ না। অনিদ্রা আমাদের কাজ করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

ঘুম ঠিকমতো না হলে আপনি কোন কাজই ঠিকমতো করতে পারবেন না। আলস্য, বিরক্তি আপনাকে ঘিরে থাকবে।

.

আপনাদের মনে হতে পারে, আলোচনা করি হস্তমৈথুন নিয়ে, এখানে অনিদ্রা-সুনিদ্রার কি সম্পর্ক?

হ্যা, আপনার ভালো ঘুমের জন্য টেস্টোস্টেরনের ভূমিকা আছে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই বলি, হস্তমৈথুন বাদ দেওয়ার পরে, আমার অনিদ্রা ধীরে ধীরে দূর হতে লাগলো। ঘুম থেকে উঠার পর আমার মাঝে কোন ক্লান্তিভাব থাকতো না। আগে মনে হত,  আরও শুয়ে থাকি। এখন আর সেটা নেই। [৮]

.

 প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকিঃ

প্রস্টেট ক্যান্সার বা প্রস্টেট গ্রন্থিতে নানা রকম সমস্যা হয়েছে এমন রোগীর সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।এর জন্য দায়ী প্রধানত হস্তমৈথুন  ।

আমরা আবার অনেকেই উল্টা ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে আছি যে , মাস্টারবেশনই  প্রস্টেট ক্যান্সার রোধ করে।

আচ্ছা এ ব্যাপারে তর্কবিতর্ক বাদ দিয়ে দেখি গবেষণার ফলাফল কি। তাহলেই সন্দেহ দূর হবে ইনশা আল্লাহ্‌ ।

Polyxeni Dimitropoulou (PhD),Rosalind Eeles(PhD, FRCP),এবং Kenneth R. Muir (PhD) ৮৪০ জন মানুষের উপর গবেষণা করেন । তারা ৮৪০ জন মানুষের যাবতীয় যৌন তথ্য সংগ্রহ করেন। এদের মাঝে অর্ধেক প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে ৬০ বছর বয়সের মাঝে, বাকি অর্ধেক হয় নি।

তাদের এই গবেষণার ফলাফল ছিল, আশ্চর্যজনক।

“স্বাভাবিক যৌনক্রিয়া প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করে না, কিন্তু হস্তমৈথুন  করে। ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সের মাঝে হস্তমৈথুন  প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দেয়। এ বয়সে যারা সপ্তাহে ২-৭ বার হস্তমৈথুন  করে তাদের ৬০ বছর বয়সে প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি ৭৯% বেশি, যারা মাসে একবারেরও কম হস্তমৈথুন  করে তাদের থেকে।  [৯,১০]

প্রস্টেট ক্যান্সারের সঙ্গে সঙ্গে  হস্তমৈথুন ব্রেস্ট(স্তন) ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।

[১১]

.

 প্রকৃত পুরুষ হস্তমৈথুনে আসক্ত থাকে নাঃ

শুধুমাত্র ছেলে হিসেবে জন্মালেই তাকে পুরুষ বলা যায় না। একজন সত্যিকারের পুরুষের আচার-আচরণ, কাজ- কর্ম সব কিছুই হবে সত্যিকারের পুরুষের মতো।

.

আপনি নিজেই একটু চিন্তা করুন- একজন পর্নোগ্রাফি আসক্ত , নিয়মিত হস্তমৈথুন করে, ঠিকমত কোন কাজ করে না, কারও সাথে ভালোভাবে মিশে না- এরকম কাউকে কি আপনি মন থেকে পুরুষ ভাবতে পারবেন। আমি নিশ্চিত যে, আপনি মুখে বলতে না পারলেও মন থেকে এ ধরনের মানুষকে পছন্দ করতে পারবেন না। তো আপনি কীভাবে আশা করেন যে , এই কাজগুলি আপনি করলেও আপনার সাথে অন্যরা ব্যতিক্রম আচরণ করবে?

একজন পুরুষ তার জীবনের সব দিক দিয়েই আত্মতৃপ্ত থাকে। আপনি কি চান না যে আপনিও তাদের একজন হতে?

.

 আপনার সুন্দর জীবনঃ

আগের লিখাগুলোতে তো নানা ধরনের বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত দিয়ে  হস্তমৈথুনের কুফল তুলে ধরেছি, এখন শুধু নিজের যুক্তির উপর ভিত্তি করে কিছু আলোচনা করি।

একটা মানুষ আসলে জীবনে কি চায়? অবশ্যই, সুখী-সুন্দর একটা জীবন।

একটা পুরুষের ঘরে ও ঘরের বাইরে নানা ধরনের ভূমিকা পালন করতে হয়। জীবনের সুখ-শান্তিও আসলে এই ভূমিকার উপর নির্ভরশীল। ভূমিকা মানে শুধু এই কাজ করতে হবে – তা না, আপনি এই কাজগুলো কত ভাল ভাবে সম্পাদন করছে সেটা।

.

আর, আপনি যেখানে কোন কাজে মনোযোগ দিতে পারেন না, আপনার নিজের কাজই ঠিকমত করেন না, সেখানে আপনি অন্যের প্রতি দায়িত্ব কিভাবে পালন করবেন?

আমার নিজের কথাই বলি। যখন থেকে হস্তমৈথুন বাদ দিলাম, আমার নিজের জীবনই পাল্টে গেল। আমি আগের থেকে অনেক বেশি সুখী এখন। কারণ আমি শুধু একা না, আমার আশেপাশের সবাইকে নিয়েই এখন সুখে আছি। আমি আগের থেকে মন খুলে হাসি, সবার সাথে প্রাণবন্তভাবে মিশি। জীবনে সুখী হতে কি আরও বেশি কিছু দরকার?

শুধুমাত্র অল্প কিছু সময়ের বিকৃতরুচির আনন্দের জন্য অনেক আনন্দময় জীবনটাকে নষ্ট করার কোন মানেই নেই।

এতো এতো ক্ষতিকর দিক থাকার পরেও কেন হস্তমৈথুনকে উপকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়? কেন অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরাও এটাকে ক্ষতিকর মনে করেননা? উত্তর পেতে হলে অপেক্ষা করতে হবে আরো কিছুটা সময়।

(চলবে ইনশাআল্লাহ্‌…)

মূল লিখাটিঃ https://tinyurl.com/y76a7cna

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)

পড়ুনঃ

চোরাবালি প্রথম পর্ব – https://bit.ly/2ObItTt
চোরাবালি দ্বিতীয় পর্ব – https://bit.ly/2Qm0j7D
চোরাবালি তৃতীয় পর্ব – https://bit.ly/2p0HR8l
চোরাবালি চতুর্থ পর্ব – https://bit.ly/2QoRtGb
চোরাবালি পঞ্চম পর্ব- https://bit.ly/2Nzoh0M
চোরাবালি ষষ্ঠ পর্ব- https://bit.ly/2QocEIA
চোরাবালি অষ্টম পর্ব- https://bit.ly/2NAhrbd
মাস্টারবেশন কী মাসলগ্রোথ এবং এথলেটিক পারফরম্যান্সের ক্ষতি করে?- https://bit.ly/2NzycUa
মিথ্যের শেকল যতো- https://bit.ly/2QpkT7f
সমকামিতা এবং হস্তমৈথুন আদিম মানুষের মধ্যে বিরল!- https://bit.ly/2CQOOT2

রেফারেন্সঃ

[১] https://goo.gl/3aV9uZ

[২] https://goo.gl/DH2sJk

[৩] https://goo.gl/IFTCMQ

[৪] https://goo.gl/rR6co6

[৫] https://goo.gl/ECU3e2

[৬] https://goo.gl/BLgsOz

[৭] https://goo.gl/3aV9uZ

[৮] https://goo.gl/580zSg

[৯] Dimitropoulou, P., Lophatananon, A., Easton, D., Pocock, R., Dearnaley, D. P., Guy, M., Edwards, S., O’Brien, L., Hall, A., Wilkinson, R., The UK Genetic Prostate Cancer Study Collaborators, British Association of Urological Surgeons Section of Oncology, Eeles, R. and Muir, K. R. (2009), Sexual activity and prostate cancer risk in men diagnosed at a younger age. BJU International, 103: 178–185. doi: 10.1111/j.1464-410X.2008.08030.x

[১০] https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/3066144

[১১] Le MG, Bachelot A, Hill C. Characteristics of reproductive life and risk of breast cancer in a case-control study of young nulliparous women. Journal of Clinical Epidemiology 1989;42:1227–33

শেয়ার করুনঃ
“মাস্টারবেশন কি মাসল গ্রোথ এবং অ্যাথলেটিক পারফরম্যান্সের ক্ষতি করে?”

“মাস্টারবেশন কি মাসল গ্রোথ এবং অ্যাথলেটিক পারফরম্যান্সের ক্ষতি করে?”

সাধারণত এই প্রশ্ন করা “ব্রো”এর বয়স ১৮ থেকে ৩০ এর মাঝে হয়। হ্যাঁ, ব্রো বললাম। কারণ আমি কখনো কোন নারী অ্যাথলেটকে এই প্রশ্ন করতে দেখিনি। ঘনঘন মাস্টারবেশনের ফলে মাসল গেইন (অর্জিত মাসল) বা পারফরম্যান্স ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয়টা বিশেষত পুরুষদের মাঝে দেখা যায়।

.

মাস্টারবেশন কি আপনার গেইন ধ্বংস করতে পারে? প্রশ্নটির উত্তর দেওয়ার আগে আসুন কিছু পরিসংখ্যানে চোখ বুলানো যাক।

.

মাস্টারবেশন কতটা কমন?

১৫ থেকে ৫০ বছরের মাঝের ৬০-৬৫% পুরুষ বলেছেন তারা আগের মাসের কোন এক সময়ে মাস্টারবেট করেছিলেন। ২৫-২৯ বছরের পুরুষদের মাঝে সংখ্যাটি সবচেয়ে বেশি। [1]

.

কতজন মাস্টারবেট করেন?

৯৫% পুরুষ স্বীকার করেন তারা মাস্টারবেট করেন। সংখ্যাটি বিস্ময়জনকভাবে ৭০% এ নেমে আসে বিবাহিত পুরুষদের বেলায়।

.

ধরা পড়েছেন?

৪১% পুরুষ স্বীকার করেছেন যে তারা মাস্টারবেশনের সময় অন্য কারো কাছে ধরা পড়েছেন। [2]

মাস্টারবেশনের হার:

মোটামুটি ২৫% পুরুষ এক মাসে কয়েক বার মাস্টারবেট করেন। ১৫-২০% পুরুষ এক সপ্তাহে চার বারের বেশি করেন। তবে ৩০ বছরের উপরের পুরুষদের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি কমে যায়। বয়স পঞ্চাশের নাগাদ মাত্র ৬% পুরুষ সপ্তাহে চার বারের বেশি মাস্টারবেট করেন। ৭০ বছরের বেশি বয়স্ক পুরুষদের মাঝে ১.৫% আছেন যারা মাসে চার বারের বেশি মাস্টারবেট করেন। [3]

এবারে প্রশ্নে ফিরে আসা যাক। মাস্টারবেশন কি আপনার মাসল গেইন ধ্বংস করতে পারে? আমি বলি, হ্যাঁ!

.

১- মাস্টারবেশন ক্যাটাবোলিক:

মাস্টারবেশনের সাথে হাই ইন্টেন্সিটি ইন্টারভ্যাল ট্রেইনিং এর সাদৃশ্য আছে, যা অতিমাত্রায় ক্যাটাবোলিক। ক্যাটাবোলিক মানে হল, মাসল ধ্বংসকারী।

ক্যাটাবোলিজমের কিছু প্রতিকার আছে। ওগুলো কার্যকর হতেও পারে, নাও হতে পারে।

বিসিএএ (BCAA) বা প্রোটিন খেতে পারেন। কিন্তু সাবধানতার সাথে।

.

২- মাস্টারবেশন টেস্টোস্টেরন কমায়:

আপনি জিমে একেবারে নতুন হলেও আপনি জানবেন যে টেস্টোস্টেরন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মাসল গেইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল এটা।

মাস্টারবেশন আপনার দেহ থেকে টেস্টোস্টেরন নিঃশেষ করে দিচ্ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে একবার মাস্টারবেশনের পর টেস্টোস্টেরন লেভেল উঠে আসতে ৬ দিন সময় লাগে। এর মানে, টেস্টোস্টেরন লেভেল হাই রাখতে চাইলে মাস্টারবেশন ছাড়তে হবে।

অল্প কথায়, মাস্টারবেশনের ফলে টেস্টোস্টেরন লেভেল নেমে যাচ্ছে, আপনার মাসল ক্ষয়ে যাচ্ছে, এতে ইস্ট্রোজেন বাড়ছে। আপনার ওয়ার্কআউটের কোন লাভই হচ্ছে না।

.

৩- মাস্টারবেশনের পর কোন এনার্জি থাকছে না:

আপনি যে-ই হোন না কেন, যতই প্রি-ওয়ার্কআউট এবং স্টিমুল্যান্ট নেন না কেন, মাস্টারবেশনের পর হেভি স্কোয়াট করতে ব্যর্থ হবেন।

এনার্জি খরচ হয়েছে আপনার করা হাই ইন্টেন্সিটির কার্ডিও সেশনের ফলে (মাস্টারবেশনের ফলে), সাথে ছিল টেস্টোস্টেরনের ক্ষয়। আপনার দেহ শকে চলে যায় এবং বুঝে উঠতে পারে না কীভাবে রিকভার করবে।

.

৪- মাসল গ্লাইকোজেন ক্ষয়:

মাসলে শক্তি পেতে যতখানি কার্বোহাইড্রেট খেয়েছিলেন, ওগুলো সবই অত্যন্ত দ্রুত গতিতে নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে। যদি কখনো চিন্তা করে থাকেন আপনার মাসল কেন সমতল ভূমির মত, কারণটা আপনি এখন জানেন।

মাস্টারবেশন আপনার মাসলের গ্লাইকোজেনকে টেনে নিচ্ছে এবং সেই সাথে আপনার মাসল গেইনকেও।

৫- এক হাতের মাসল অন্য হাতের মাসলের চেয়ে বড়:

আপনি দুই হাত সমান ভাবে ব্যবহার না করে থাকলে মাস্টারবেশন আপনার দেহকে অপ্রতিসম বানানোর ঝুঁকি থাকে।

টানের মধ্যে থাকার কারণে পেশী তৈরী হয়। আপনি হয়তো ভাবছেন মাস্টারবেশনের ফলে তো পেশী ধ্বংস হয়, তাহলে এটা কিভাবে সম্ভব?

মাস্টারবেশনের সময়ে ঐ বাহুর গেইন হয় শুধু।

অন্য হাতের যথাযথ এক্সারসাইজ না করলে আপনার অপ্রতিসম দেহের ঝুঁকি থেকে যায়।

৬- দুষ্টচক্র:

বাস্তবতা হল, মানুষ জিমে যেতে গড়িমসি করে। আরো খারাপ ব্যাপার হল গড়িমসির পিছনে মাস্টারবেশনের ভূমিকা। এই বিষয়টা সবার শেষে উল্লেখ করার কারণ হল এখানে মোটামুটি সবগুলোকে একখানে করা হয়েছে-

  • মাস্টারবেশনের কারণে জিমে যেতে গড়িমসি
  • এনার্জি না থাকা
  • ক্যাটাবোলিজম
  • মাসল গ্লাইকোজেনের ঘাটতি
  • লো টেস্টোস্টেরনের লেভেল

এটি একটি দুষ্টচক্র, যার ফলে আপনার জিমে যাওয়া হয় না, উপরন্তু যেটুকু গেইন ছিল তাও ধ্বংস হয়।

শেষ কথা

মাস্টারবেশন আপনার গেইনের জন্য ক্ষতিকর। যদি চান যে আপনাকে দেখে মনে হোক আপনি ওয়ার্কআউট করেন, তাহলে গোসলের সময়/একলা রুমের “এক্সট্রা-কারিকুলার অ্যাকটিভিটি” বন্ধ করতে হবে।

যদি কখনো মনে হয় যেরকম মাসল বা শক্তি হওয়া উচিত তা হচ্ছে না, অথবা গেইন আরো হারাচ্ছেন, আপনি এখন জানেন তার কারণ।

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)

পড়ুনঃ

চোরাবালি প্রথম পর্ব – https://bit.ly/2ObItTt
চোরাবালি দ্বিতীয় পর্ব – https://bit.ly/2Qm0j7D
চোরাবালি তৃতীয় পর্ব – https://bit.ly/2p0HR8l
চোরাবালি চতুর্থ পর্ব – https://bit.ly/2QoRtGb
চোরাবালি পঞ্চম পর্ব- https://bit.ly/2Nzoh0M
চোরাবালি ষষ্ঠ পর্ব- https://bit.ly/2QocEIA
চোরাবালি সপ্তম পর্ব- https://bit.ly/2x9hr81
চোরাবালি অষ্টম পর্ব- https://bit.ly/2NAhrbd
মিথ্যের শেকল যতো- https://bit.ly/2QpkT7f
সমকামিতা এবং হস্তমৈথুন আদিম মানুষের মধ্যে বিরল!- https://bit.ly/2CQOOT2

আরো পড়ুনঃ

পর্বত জয়ের প্রতিজ্ঞা – https://bit.ly/2Mo58dj

মূল লিখাটিঃ https://goo.gl/Z9nPas

রেফারেন্স:

1) “Statistics | Masturbation | Sexual Health | Sexuality andU.” Sexuality andU. N.p., n.d. Web. 25 Feb. 2015.

2) “Infographic: Masturbation Facts and Statistics.” Pleated-Jeans.com. N.p., n.d. Web. 25 Feb. 2015.

3) “Dear Mona, I Masturbate More Than Once a Day. Am I Normal?”FiveThirtyEight. N.p., n.d. Web. 25 Feb. 2015.

শেয়ার করুনঃ