মিথ্যের শেকল যত

মিথ্যের শেকল যত

পর্নোগ্রাফি সরাসরি বিকৃত যৌনাচার এবং যৌন-নিপীড়নের প্রভাবক হিসাবে কাজ করে। যৌনতা যেমন শারীরিক, তেমনই মানসিক। পর্নোগ্রাফি টার্গেট করে মানুষের মনকে, আর একবার মনের ওপর প্রভাব বিস্তার করার পর সেটার ছাপ পড়তে শুরু করে শরীরের ওপর। পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত সবাই বের হয়ে রেইপ করা শুরু করে দেয়, ব্যাপারটা এমন না। তবে পর্ন সেক্সের ব্যাপারে স্বাভাবিক ধারণাকে বদলে দিয়ে বিকৃত ও অস্বাভাবিক যৌনতার ইচ্ছে তৈরি করে। পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত সবার মধ্যেই বিকৃত যৌনতার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়।

প্রথমবার হার্ডকোর পর্নোগ্রাফি দেখার সময় অনেক কিছুই আপনার কাছে অস্বাভাবিক, নোংরা মনে হবে। গা ঘিনঘিন করবে। কিন্তু ক্রমাগত এ ধরনের পর্ন ভিডিও দেখতে থাকলে এক সময় আপনার কাছেই এসব কাজকে খুব স্বাভাবিক লাগবে। শুধু তা-ই না, আপনার মধ্যে এমন আচরণ করার আকর্ষণ জন্মাবে। পর্নোগ্রাফি এভাবে আমাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অবসেসিভ এবং প্যাথোলজিকাল টেন্ডেন্সি গড়ে তোলে।

একেক জনের মধ্যে একেক ধরনের আসক্তি, অবসেশন, বিকার বা প্যাথোলজিকাল আচরণের প্রবণতা তৈরি হয়। এটা হতে পারে হস্তমৈথুন, ভয়ারিযম,[1] অ্যানাল-ওরাল সেক্সের মতো বিকৃত যৌনাচার, ক্রমাগত সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসিতে ভোগা, গ্রুপ সেক্স, সমকামিতা, শিশুকামিতা, ধর্ষণ করার প্রবণতা, ব্যাপক বহুগামিতা অথবা অন্য কোনো যৌন-মানসিক বিকৃতি।

সহজ ভাষায়, পর্নোগ্রাফি মানুষের স্বাভাবিক যৌন প্রবণতা নষ্ট করে দেয়। পর্নোগ্রাফি যত “কড়া” ধাঁচের হয়, পর্ন-আসক্ত দর্শকের ওপর সেটার প্রভাব তত তীব্র হয়। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্ন ভিডিওগুলোতে সহিসংতার ব্যাপক উপস্থিতির কারণে এখন পর্ন-আসক্তদের মধ্যে ধর্ষণ-প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কথাগুলোর সাথে স্বাভাবিক বিবেচনাবোধ-সম্পন্ন কারও দ্বিমত করার কথা না। একজন মানুষ যার ফিতরাহ (Natural Disposition/সহজাত প্রবণতা) নষ্ট হয়ে যায়নি, এ কথাগুলো স্বীকার করে নেবেন। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। অর্থনীতিতে। যখন কোনো সমীকরণে অর্থনীতি ঢুকে পড়ে, সবচেয়ে সোজাসাপ্টা বিষয়গুলোও চরম গোলমেলে হয়ে ওঠে।

গ্লোবাল পর্নোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রির সাথে যুক্ত শত শত বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। ২০০৬ সালে এ ইন্ডাস্ট্রির মোট আয় ছিল ৯৭ বিলিয়ন ডলার। মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যামাযন, ইয়াহু, অ্যাপল এবং নেটফ্লিক্সের সম্মিলিত আয়ের চেয়ে বেশি![2]

বছরে পর্ন ইন্ডাস্ট্রির প্রফিট ১৫ বিলিয়ন ডলার। সে তুলনায় হলিউডের বাৎসরিক প্রফিট? ১০ বিলিয়ন ডলার।[3]

আর এ তো শুধু ঘোষিত আয়ের হিসেব। পর্ন ইন্ডাস্ট্রির লেনদেনের বড় একটা অংশ কখনো রিপোর্টেড হয় না।[4] অর্থাৎ এ ইন্ডাস্ট্রির প্রকৃত সাইযটা আরও বড়। যখন কোনো কিছুর সাথে এত এত টাকা জড়িত থাকে, তখন সেটাকে ক্ষতিকর হিসাবে স্বীকার করা, ঘোষণা দেয়া বেশ কঠিন হয়ে যায়। সহজ সমীকরণে গোলমেলে অর্থনীতি ঢুকে পড়ে। সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁসকে রক্ষা করাটা হয়ে দাঁড়ায় রুটি-রুজি আর পুঁজির প্রশ্ন। ফার্মাসিউটিক্যাল, হোটেল ও ট্যুরিযম, ক্যাইবল ও স্যাটেলাইট টেলিভিশন নেটওয়ার্ক, ওয়াল স্ট্রিট, গ্লোবাল সেক্স ট্র্যাফিকিং, সেক্সোলজি ও সাইকোলজি—এ সবগুলো ইন্ডাস্ট্রি বিভিন্নভাবে লাভবান হয় পর্ন ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে।

ব্যক্তি ও সমাজের ওপর পর্নের ক্ষতিকর প্রভাবের কথা আড়াল করে পর্নকে নির্দোষ ও উপকারী বিনোদন প্রমাণ করতে তাই ধরাবাঁধা কু-যুক্তি আর অপবিজ্ঞান ব্যবহার করে চালানো হয় ব্যাপক প্রপাগ্যান্ডা। আর পর্নোগ্রাফি ও হস্তমৈথুনের ফাঁদে আটকে পড়া অনেকেই অন্ধের মতো এ ফাঁকাবুলিগুলো ক্রমাগত আওড়ে যান।

এমনই একটি বহুল ব্যবহৃত তত্ত্ব হলো “Catharsis Theory” বা “Catharsis Effect”। বার বার এ তত্ত্বের রেফারেন্স টেনে এনে অনেকেই দাবি করে বসে, “ধর্ষণ, যৌন-নিপীড়ন, যৌনবিকৃতি, মানসিক বিকৃতি, শিশুকাম এগুলোর পেছনে পর্নোগ্রাফি প্রভাবক হিসেবে কাজ তো করেই না, বরং সমাজ থেকে এ অপরাধগুলোর মাত্রা কমিয়ে ফেলার জন্য পর্নোগ্রাফি খুবই কার্যকর। একেবারে ব্রহ্মাস্ত্র!”

 

তো কীভাবে এই ব্রহ্মাস্ত্র কাজ করে?

এ তত্ত্বের প্রবক্তারা ব্যাখ্যা করেন এভাবে –

ধরুন, কেউ কামের জ্বালায় একদম অস্থির হয়ে আছে। পাগলপ্রায় অবস্থা। যেকোনো উপায়ে, যার সাথেই হোক অন্তরঙ্গ না হতে পারলে সমূহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা। কিন্তু সেই লোকের কোনো সুযোগ নেই কারও সঙ্গে অন্তরঙ্গ হবার। এখন সে কী করবে? প্রবৃত্তির ক্রমাগত অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সে হাত বাড়াতে পারে তার আশেপাশের যেকোনো নারীর দিকে, শিশুদের দিকে নজর দেয়াও অসম্ভব কিছু না, পতিতালয়েও যেতে পারে! কিন্তু যদি তার পর্ন দেখার সুযোগ থাকে, তাহলে নিজের ভেতরের ক্রমেই বাড়তে থাকা প্রেশারটুকু রিলিয করে দিয়ে ঠান্ডা হতে পারবে। সমাজের অগণিত মানুষ রক্ষা পাবে বিপর্যয়ের হাত থেকে।

মনে করুন, একজন ব্যক্তি সম্ভাব্য শিশু ধর্ষক। বহুদিন থেকেই তার ইচ্ছা শিশুদের নিপীড়ন করার। কিন্তু সুযোগের অভাবে সেটা সম্ভব হয়ে উঠেনা। এখন এই ব্যক্তিকে যদি ক্রমাগত চাইল্ড পর্ন দেখানো হয়, তাহলে সে কিছুদিন পর শিশুদের সঙ্গে যৌনমিলনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।[5] এভাবে মানুষের যৌনতাড়না, যৌনবিকৃতি, যৌন-নিপীড়নের ইচ্ছা, সেক্স ফ্যান্টাসিগুলো পর্ন দেখার মাধ্যমে পূরণ হয়ে যাবে। বাস্তবজীবনে আর এসব বিকৃত কাজকর্ম করার দরকার হবে না। সমাজ রক্ষা পাবে ক্ষতির হাত থেকে।[6]

এই পর্যন্ত পড়ার পর মনে হয় ঠিকই তো! পর্নোগ্রাফি যৌনচাহিদা (তা যতই বিকৃত হোক না কেন) পূরণের একটা নিরাপদ রাস্তা তৈরি করে দিয়ে সমাজকে মারাত্মক বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচাচ্ছে।

কিন্তু আসলে ব্যাপারটা ঠিক উল্টো। এ থিওরিকে বহু আগেই এক্সপার্টরা বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছেন।[7], [8]

তাহলে শুভংকরের ফাঁকিটা কোথায়?

যে এক্সপেরিমেন্টের ওপর ভিত্তি করে Catharsis Theory দেয়া হয়েছিল তার এক্সপেরিমেন্টাল সেটআপ ছিল খুবই অগোছালো। মানসম্মত এবং গ্রহণযোগ্য গবেষণার জন্য যে স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখা দরকার তার কিছুই করা হয়নি।[9] টেনেটুনে ৩০ জনের একটু বেশি মানুষের (৩২ জন) ওপর ১৫ দিন ধরে গবেষণা চালিয়ে Catharsis Theory-এর উপসংহার টানা হয়। এ ৩২ জনের মধ্যে ২৩ জনের একটা গ্রুপকে একটানা ১৫ দিন, ৯০ মিনিট করে একই ঘরানার পর্ন ভিডিও দেখানো হয়। ১৫ দিন পর ২৩ জনের গ্রুপটা জানায়, শুরুতে তারা পর্ন ভিডিও দেখে উত্তেজিত হতো, কিন্তু পরে তারা পর্ন ভিডিওতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। একই রকমের পর্ন ভিডিও দেখার ফলে তাদের একঘেয়েমি পেয়ে বসে। শুভংকরের ফাঁকিটা এখানেই। পর্নকে নির্দোষ প্রমাণ করার বদলে এটা আসলে মানুষের যৌনতার ওপর পর্নের ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর প্রভাবের একটি প্রমাণ।

ব্যাপারটা একটু চিন্তা করুন। একই ধরনের পর্ন টানা ১৫ দিন; মাত্র ১৫ দিন দেখলেই মানুষের একঘেয়ে লাগতে শুরু করে। একই ধাঁচের পর্ন তাদের আর আগের মতো উত্তেজিত করতে পারে না। মনে করুন আপনি বিরিয়ানি খেতে পছন্দ করেন, এখন আপনাকে যদি ক্রমাগত কয়েকদিন ধরে বিরিয়ানি খাওয়ানো হতেই থাকে, হতেই থাকে, তাহলে একপর্যায়ে আপনি আর বিরিয়ানি খেতে চাইবেন না। এটাই স্বাভাবিক। তেমনিভাবে একই ঘরানার পর্ন ভিডিও বার বার দেখতে থাকলে তাতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা খুবই স্বাভাবিক।

এমন অবস্থায় একঘেয়েমি দূর করার জন্য মানুষ কী করতে পারে? তারা বোরড হয়ে পর্ন দেখা ছেড়ে দেয়? অথবা তাদের আচরণ এবং যৌন-চাহিদার ওপর পর্নোগ্রাফির কোনো প্রভাব পড়ে না? আমরা কিন্তু ইতিমধ্যেই বুঝতে পারছি যে, কিছুটা হলেও যৌন-চাহিদার ওপর প্রভাব পড়ছে। কারণ, কয়েকদিন পর্ন দেখার পরই দর্শকের উত্তেজিত হবার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, কমে যাচ্ছে সংবেদনশীলতা।

মানুষ সাধারণত প্রথম দিকে সফটকোর ঘরানার পর্ন দেখে। একসময় সফটকোর পর্ন তাদের কাছে একঘেয়ে লাগতে শুরু করে। তখন তারা ঝুঁকে হার্ডকোর পর্নোগ্রাফির দিকে। একসময় হার্ডকোর পর্নোগ্রাফিও তাদের উত্তেজিত করার জন্য যথেষ্ট হয় না। পর্ন-আসক্ত ব্যক্তি তখন ঝুঁকে আরও কড়া ধাঁচের পর্নোগ্রাফির দিকে। পশুকাম, শিশুকাম, রেইপপর্ন, ট্যাবু ইত্যাদি চরম বিকৃত ধরনের পর্ন দেখা শুরু করে।[10] একইসাথে ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে পর্ন-আসক্তি। মানে পর্ন দেখার সময় ক্রমাগত বাড়তে থাকে। আসক্তির শুরুর দিকে কেউ সপ্তাহে এক ঘণ্টা পর্ন দেখলে, কিছুদিন পর সে হয়তো সপ্তাহে দুই ঘণ্টা পর্ন দেখবে, এভাবে ধীরে ধীরে পর্ন দেখার পরিমাণ বাড়তে থাকে। সেই সাথে বাড়তে থাকে পর্দায় দেখা জিনিসগুলো বাস্তব জীবনে অনুকরণ করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা।

এখন কেউ হয়তো বলতে পারে, “যারা পর্ন দেখে তাদের সবাই কি ধর্ষণ কিংবা শিশুনির্যাতন শুরু করে? অবশ্যই না। তাই পর্নোগ্রাফি রেইপ কিংবা অন্যান্য যৌন-বিকৃতিকে প্রভাবিত করে, এমন বলা ভুল।“

এ কথাটা আসলে টোবাকো ইন্ডাস্ট্রির এ ভুল দাবির মতো যে, “যেহেতু অনেক ধূমপায়ীই ফুসফুস ক্যান্সারে মারা যায় না, তাই ধূমপান ফুসফুস ক্যান্সারের কারণ না।” পর্ন ভিডিও দেখেই সবাই রেইপ করতে বেড়িয়ে পরে না, এ কথা সত্য। কিন্তু এ থেকে কি এই উপসংহার টানা যায়, পর্ন আসলে ধর্ষণ প্রতিরোধ করে? দুটো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের দিকে তাকানো যাক।

১. সাধারণত পর্নোগ্রাফি দেখার পর মানুষ কী করে?

২. পর্নোগ্রাফি দেখা কি দর্শকের ওপর কোনো যৌন-মনস্তাত্ত্বিক (psychosexual) প্রভাব ফেলে?

প্রথম প্রশ্নের উত্তরটা সবার জানা। কেউ পর্ন দেখা শেষ করে চুপচাপ পড়াশোনা, অফিসের কাজ অথবা পরিবারের লোকজনের সাথে আলাপচারিতায় ফেরত যায় না। পর্ন দেখার পর অবশ্যই “ঠান্ডা” হতে হয়। কোনো কারণে তখনই সম্ভব না হলে, একটু নিরিবিলিতে, উপযুক্ত সুযোগ পাওয়ামাত্র ব্যক্তি “ঠান্ডা” হতে চায়। পর্ন দেখার পর অধিকাংশ মানুষ হস্তমৈথুন করে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পর্ন দেখা হয় হস্তমৈথুন করার জন্য। এটা একটা সার্কুলার লুপের মতো।

যদিও অধিকাংশ মানুষের কাছে সেক্সের তুলনায় হস্তমৈথুন যৌনক্রিয়া হিসাবে হয়তো “নিম্নমানের” অলটারনেটিভ, কিন্তু তবুও দিন শেষ হস্তমৈথুন একটা যৌনক্রিয়া। সুতরাং এ কথা আমরা সবাই স্বীকার করি যে, মানুষ পর্ন দেখে যৌনক্রিয়ায় (হস্তমৈথুন) লিপ্ত হয় অথবা যৌনক্রিয়ার আগে নিজেকে উত্তেজিত করার জন্য পর্ন দেখে। পর্ন দেখা, গান শোনা কিংবা নাটক দেখার মতো নিছক কোনো প্যাসিভ, নিষ্ক্রিয় বিনোদন না। বরং পর্ন দেখা এমন এক প্রক্রিয়ার অংশ যার সাথে বাস্তব যৌনক্রিয়া অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। পর্ন দেখার পর আপনি রিলিয খুজবেনই। এটাই স্বাভাবিক। পর্নোগ্রাফি এবং বীর্যপাতের আনন্দ অর্জন, একসূত্রে গাঁথা। যৌনক্রিয়ার মাধ্যমে বীর্যপাত বা শীর্ষসুখে পৌঁছানো হলো পর্ন দেখার স্বাভাবিক পরিণতি।[11] এটুকু পর্যন্ত স্বীকার করে নিতে সুস্থ মস্তিষ্কের কারও আপত্তি থাকার কথা না।

যদি এটুকু আপনি স্বীকার করে নেন তাহলে আসলে প্রশ্নটা দাঁড়ায়, আপনি কি মনে করেন সব ক্ষেত্রে এ “যৌনক্রিয়া” হস্তমৈথুনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে? পর্ন-আসক্ত ব্যক্তি শুধু হস্তমৈথুনেই আগ্রহী হবে? চিন্তা করতে থাকুন, সেই ফাঁকে আমরা দ্বিতীয় প্রশ্নটার উত্তরের দিকে একটু নজর বুলিয়ে নিই।

পর্নোগ্রাফি দেখা কি দর্শকের ওপর কোনো যৌন-মনস্তাত্ত্বিক (psychosexual) প্রভাব ফেলে?

হ্যাঁ। পর্নোগ্রাফি দর্শকের যৌন-মনস্তত্ত্বের ওপর প্রভাব ফেলে। পর্নোগ্রাফিকে উপকারী প্রমাণ করার জন্য যে তত্ত্ব প্রচার করা হয়, সেটা দিয়েই এটা প্রমাণ করা যায়। একই ধরনের পর্ন একটানা দেখার কারণে একঘেয়ে লাগা—এটা একটা যৌন-মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন। আগে যা দেখে দর্শক উত্তেজিত হচ্ছিল, এখন সেটাতে আর তার হচ্ছে না, এটা হলো যৌন-মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের ফলাফল। পর্নের কারণে দর্শকের যৌনচাহিদা এবং যৌনচিন্তার ধরন বদলে যাচ্ছে।

পর্নে দেখা যৌনাচারগুলো ছাড়া সাধারণ যৌন আচরণ পর্ন-আসক্ত অনেকের কাছে একেবারেই পানসে মনে হয়। অনেকের জন্য পর্ন বা বিকৃত যৌনাচার ছাড়া স্বাভাবিকভাবে উত্তেজিত হওয়া কঠিন হয়ে যায়, এটা আরেকটা প্রমাণ। পর্ন-আসক্ত ব্যক্তি বাস্তব জীবনে পর্ন ভিডিওতে দেখা কাজগুলোর অনুকরণ করতে চায়, এটা আরও একটা প্রমাণ।

পর্ন দেখে মানুষ শুধু রিলিয পাচ্ছে না, বিশেষ ধরনের যৌনাচারের জন্য তার মধ্যে তীব্র আকাঙ্ক্ষাও তৈরি হচ্ছে এবং শুধু এটুকুতেই আসলে ক্যাথারসিস থিওরি ভুল প্রমাণিত হয়ে যায়।[12]

এখানে একটা বিষয় হলো যৌন-মনস্তত্ত্বের ওপর পর্নোগ্রাফির এ প্রভাব সাথে সাথে কার্যকর হয় না। যারা পর্নোগ্রাফিকে উপকারী বলেন, তারা মূলত এ পয়েন্টের ওপর ভিত্তি করে নিজেদের দাবি প্রমাণ করতে চান। কিন্তু সমস্যা হলো পর্নোগ্রাফির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী, সেটা তারা এড়িয়ে যান। পর্ন দেখেই কেউ রেইপ করতে বের হয়ে যায় না, কিন্তু তার মানে এটা না যে, এর কোনো প্রভাব তার ওপর পড়েনি। যৌন-মনস্তত্ত্বের ওপর পর্নোগ্রাফির যে প্রভাব সেটা ধীরে ধীরে কার্যকর হয়। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বার বার পর্নোগ্রাফি দেখার ফলে, তার চিন্তার কাঠামোতে পরিবর্তন আসে।

পর্ন-আসক্ত ব্যক্তি পর্ন দেখা বা পর্নের দৃশ্য নিয়ে ফ্যান্টাসাইয করা ছাড়া উত্তেজিত হতে পারে না। আবার ক্রমাগত পর্ন দেখতে থাকলে সময়ের সাথে সাথে পর্নের মাধ্যমে তার উত্তেজিত হবার ক্ষমতাও কমতে থাকে। আরও বেশি সহিংস, আরও বেশি বিকৃত পর্ন ছাড়া সে উত্তেজিত হতে পারে না। এ প্রক্রিয়া চলতে থাকলে একপর্যায়ে সেক্স সম্পর্কে তার চিন্তা, বাস্তব জীবনের স্বাভাবিক যৌন আচরণ থেকে একবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সহজ ভাষায় প্রথমত পর্নোগ্রাফি মানুষকে যৌনক্রিয়াতে তীব্রভাবে উদ্বুদ্ধ করে। আর দ্বিতীয়ত পর্নোগ্রাফির যৌনক্রিয়ার ব্যাপারে মানুষের প্রেফারেন্সকে বদলে দেয়। তার যৌনচাহিদা এবং যৌনমনস্তত্ত্ব বিকৃত হয়ে যায়।

একদিকে তার মধ্যে তীব্র যৌনাকাঙ্ক্ষা কাজ করে, অন্যদিকে স্বাভাবিকভাবে তৃপ্ত হওয়া তার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। নারী, বিয়ে, সেক্স, রেইপ, বিকৃত যৌনাচার ইত্যাদি নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং আচরণ বদলে যায়। এমন ব্যক্তির রেইপ, শিশুকাম কিংবা অন্য কোনো বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হবার সম্ভাবনা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।

“সিগারেট থেকে শুরু, শেষকালে হেরোইন”, ব্যাপারটা অনেকটা এমন। এটা মাদকাসক্তির ক্লাসিক প্যাটার্ন। শুরুতে অল্পেই নেশা হয়ে যায়। কিন্তু সময়ের সাথে চাহিদা বাড়তে থাকে। আগে যতটুকুতে “ধরত”, তাতে আর হয় না। নেশা চড়াতে আরও বেশি মাদকের দরকার হয়। সেই সাথে তৈরি হতে থাকে মাদকের ওপর ডিপেন্ডেস, আসক্তি। এভাবে মাদকাসক্তি ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়। পর্ন-আসক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও বিষয়টা এমন।

চিন্তা করে দেখুন, একজন পর্ন-আসক্ত ব্যক্তি যখন এমন অবস্থার মধ্যে দিয়ে যায়, তখন তার যৌন-মনস্তত্ত্বের কী অবস্থা হয়? নিত্যনতুন নারী কিংবা শিশুদেহের হার্ডকোর পর্নোগ্রাফি দেখেও যে লোক উত্তেজিত হতে পারে না, বাস্তবের রক্ত-মাংস-ঘামের নারীর সাথে স্বাভাবিক যৌনতা কি তাকে উত্তেজিত করতে পারবে? এভাবে একজন লোক যখন চরম পর্যায়ে পৌঁছে, যখন ধর্ষণের ভিডিও কিংবা শিশুদের ধর্ষণের ভিডিও পর্যন্ত তার কাছে একঘেয়ে লাগা শুরু করে, তখন সে কী করে? কী তাকে উত্তেজিত করবে? সে কি অতৃপ্তির জ্বালা, এ তীব্র ক্ষুধা নীরবে সয়ে যাবে? আপনি-আমি, আমরা সবাই জানি, তীব্র যৌনাকাঙ্ক্ষা নিছক “মনের জোরে” চেপে রাখা যায় না। সাময়িকভাবে পারা গেলেও সেটা স্থায়ী হয় না। এক সময় না এক সময় বিস্ফোরণ ঘটেই।

আসলে পর্নোগ্রাফি রিলিযের কাজ তো করেই না; বরং আকাঙ্ক্ষাকে আরও তীব্র করে এবং আসক্ত ব্যক্তিকে বিকৃত যৌনাচারের দিকে নিয়ে যায়। ফলে সমাজে যৌন-নিপীড়ন, শিশুকাম, রেইপসহ অন্যান্য বিকৃত কামের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। যার অনেক প্রমাণ আমরা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি, আরও অসংখ্য প্রমাণ চারপাশের পৃথিবীতে আপনি পাবেন। এত গেল যৌনচাহিদা এবং যৌন-মনস্তাত্ত্বিক দিকের কথা। এ ছাড়া কমন সেন্সের মাপকাঠিতেও ক্যাথারসিস থিওরি বা পর্নোগ্রাফি “উপকারী” হবার অন্য কোনো থিওরি, একেবারেই টেকে না। যদি কেউ বার বার ইয়াবা কিংবা হেরোইন খাবার ভিডিও দেখে, যদি এসব ভিডিওতে এ কাজগুলোকে গ্ল্যামারাইযড করে উপস্থাপন করা হয়, তাহলে কি সমাজে ইয়াবা কিংবা হেরোইন ব্যবহার কমে যাবে? আচ্ছা ধরুন আপনাকে বলা হলো, বাংলাদেশের প্রাইমারি স্কুলগুলোতে শিক্ষক কর্তৃক শিশুদের শারীরিক আঘাত করার হার কমাতে। আপনি কি এটার সলিউশান হিসাবে এসব শিক্ষকদের বলবেন, ছোট বাচ্চাদের পেটানোর এবং টর্চার করার নতুন নতুন ভিডিও নিয়ম করে দেখতে?

নানা আঙ্গিকে, নানা লোকেশানে চাকচিক্যময় ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে ছোট বাচ্চাদের মারা এবং মার খেতে দেখার ভিডিও কি তাদের পেটানোর ইচ্ছা ও মানসিকতাকে নষ্ট করে দেবে? সুস্থ মস্তিষ্কের কোনো মানুষ কি আদৌ এ ধরনের “সমাধান” সিরিয়াসলি নেবে? পর্ন দেখার সাথে যদি রেইপের হার কমে, তাহলে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পর্ন প্রডিউস করা এবং পর্নোগ্রাফির সবচেয়ে বড় গ্রাহক অ্যামেরিকাতে কেন এত রেইপ হয়? কেন অ্যামেরিকান মিলিটারি, কলেজ, হলিউড সব জায়গাতে এত ধর্ষণ, এত যৌন-নিপীড়ন হয়? কেন রেইপ পর্ন ইন্ডিয়াতে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকার পরও ভারতে রেইপ না কমে বরং ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়? স্রেফ স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে এ ধরনের গোঁজামিল দেয়া কথা ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফির মতো এতটা ক্ষতিকর বিষয়কে “নির্দোষ বিনোদন” প্রমাণ করার প্রপাগ্যান্ডা চালানো হয়। হস্তমৈথুনের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একই রকম। বর্তমান সময়ের অধিকাংশ ডাক্তার, এক্সপার্ট এবং ইন্টারনেট ওয়েবসাইট আপনাকে বলবে, হস্তমৈথুন একেবারেই ক্ষতিকর না।

এদিক-সেদিক থেকে নানা জোড়াতালি দেয়া প্রমাণ তুলে এনে প্রমাণ করতে চাইবে হস্তমৈথুন “প্রায় নিশ্চিতভাবেই” শরীরের জন্য ভালো। এটা একেবারেই “ন্যাচারাল” একটি বিষয়, এ নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। হস্তমৈথুন শরীরের জন্য ভালো বা স্বাভাবিক যৌন আচরণ এ ধরনের কোনো কংক্রিট প্রমাণ নেই। হস্তমৈথুন “স্বাভাবিক”, “ন্যাচারাল” এসব কথার প্রচলন আজ থেকে মাত্র সাত-আট দশক আগে। এর আগ পর্যন্ত হস্তমৈথুনকে, বিশেষ করে নিয়মিত ও ক্রনিক হস্তমৈথুনকে একটি অস্বাভাবিক যৌনাচার হিসাবেই দেখা হতো। এমনকি নানা যৌনবিকৃতিকে হোয়াইটওয়াশ করা, সিগমুন্ড ফ্রয়েডের মতো বিকৃত মানসিকতার লোকও হস্তমৈথুনক অস্বাভাবিক মনে করত।

মূলত হস্তমৈথুনকে স্বাভাবিক এবং উপকারী হিসেবে দেখার প্রবণতা শুরু হয় ১৯৪৯ সালে আলফ্রেড কিনসির Sexual Behavior In The Human Male প্রকাশিত হবার পর। এ বইটি এবং ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত তার আরেকটি বই Sexual Behavior in the Human female, ম্যাস মিডিয়ার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পাশ্চাত্যে ঝড় তোলে। যৌনতা সম্পর্কে পাশ্চাত্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে আনে আমূল পরিবর্তন। পাশ্চাত্যের ইতিহাসের অন্য কোনো বই বা রিপোর্ট পাশ্চাত্যকে এতটা বদলে দেয়নি যেমন এই দুটি বই দিয়েছিল। আধুনিক সেক্স এডুকেশান, সাইকোলজি এবং সেক্স সম্পর্কে চিকিৎসকদের সার্বিক চিন্তা কিনসির এই দুটি বইয়ের ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হচ্ছে। যৌনতা সম্পর্কে আধুনিক পশ্চিমা ধারণা একেবারে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গড়ে উঠেছে আলফ্রেড কিনসির এই দুই বিখ্যাত “থিসিসের” ওপর ভিত্তি করে। তার এ বইয়ে কিনসি চরম পর্যায়ের বিকৃত কিছু চিন্তাকে বিজ্ঞানের নামে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। সে দাবি করে শিশুরা জন্মগত ভাবেই, এমনকি গর্ভে থাকা অবস্থা থেকেই সেক্সুয়ালি এক্টিভ। তার মতে শিশুরা একেবারে ছোটকাল থেকেই হস্তমৈথুন করা শুরু করে।

কত ছোটকাল থেকে?

কিনসির দাবি হল দুই, চার, সাত মাস বয়সী শিশুরাও নাকি হস্তমৈথুনের মাধ্যমে চরমানন্দে (Orgasm) পৌঁছাতে সক্ষম! সাত মাস বয়সী একটি শিশু এবং এক বছরের নিচের আরও পাঁচজন শিশুকে সে নিজে নাকি শীর্ষসুখ অর্জন করতে দেখেছে।[13] সে আরও বলে, এত কমবয়স্ক শিশুরা বয়স্ক সঙ্গী/সঙ্গিনীদের সঙ্গে আনন্দদায়ক এবং উপকারী যৌনমিলন করতেই পারে, এবং এমন করা উচিত।[14] অভিভাবকদের উচিত ৬-৭ বছর বয়স থেকে শুরু করে শিশুদের হস্তমৈথুন করানো এবং একসাথে মিলেমিশে হস্তমৈথুন করা!

কিনসি আরও দাবি করে, অধিকাংশ মানুষ আসলে উভকামী, যৌনতার কোনো নির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। কোনো যৌনতাই অস্বাভাবিক না। সমকাম, উভকাম, শিশুকাম, পশুকাম, অজাচার, যার যা ইচ্ছে সেটা করবে, এতে কোনো সমস্যা নেই।[15]

আসলে কিনসি নিজে ছিল একজন চরম মাত্রার বিকৃত মানসিকতার লোক। ব্যক্তিজীবনে ভয়ঙ্কর বিকৃত যৌনাচারে অভ্যস্ত। তার “রিসার্চ” ছিল জালিয়াতিতে ভরা। পরবর্তীকালে এই “মহান” বিজ্ঞানীর কাজগুলো ভুল প্রমাণিত হয়েছে বিজ্ঞানীদের হাতেই। বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন আলফ্রেড কিনসির দাবিগুলোর তেমন কোনো সায়েন্টিফিক ভিত্তি নেই, তার তথ্য-উপাত্তগুলো যথেষ্ট পরিমাণে গোঁজামিলে ভরপুর।[16] এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য অনেক সময় সাবজেক্টের ওপর চরম যৌন-নির্যাতন চালানো হয়েছে, রেহাই দেয়া হয়নি শিশুদেরও। কিন্তু ততদিনে ক্ষতি যা হবার হয়ে গেছে। “হস্তমৈথুন ক্ষতিকর না; বরং উপকারী” কিনসির জোর গলায় দাবি করা এ চরম মিথ্যা সেক্স এডুকেশানের বইগুলোতে বার বার খুব বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এটাকে ধ্রুব সত্য বলে মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু হস্তমৈথুন যদি স্বাভাবিক ও ভালো হয়, তাহলে প্রথমবার হস্তমৈথুনের পর কেন মনের ওপর অনুশোচনার একটা গাঢ় পর্দা নেমে আসে?

প্রথমবার হস্তমৈথুনের মাধ্যমে বীর্যপাত করার প্রায় সবার চরম অনুশোচনা হয়। ভাষা, ভৌগোলিক অবস্থান, ধর্ম-বর্ণভেদে এমন অবস্থায় মানুষের মনে হয় সে খুব খারাপ কিছু একটা করে ফেলেছে। অনুভূতিটা সর্বজনীন। এর ব্যাখ্যা কী? হস্তমৈথুন ভালো প্রমাণ করতে চাওয়া “বিশেষজ্ঞরা” বলবে, ধর্ম এবং সামাজিক মূল্যবোধ আমাদের চিন্তা করতে শেখায় যে, এ কাজটা খারাপ। এটা একটা পাপ। আর এ জন্যই মানুষের মধ্যে অনুশোচনা কাজ করে।

এ ব্যাখ্যার ভুল কোথায়?

কোনো কাজের ব্যাপারে ধর্মের বক্তব্য দ্বারা প্রভাবিত হবার জন্য আপনাকে তো আগে কাজটাকে চিনতে হবে, সেটার সম্পর্কে ধর্মের বক্তব্য জানতে হবে। কিন্তু আপনি দেখবেন হস্তমৈথুনের মাধ্যমে প্রথম বীর্যপাতের অভিজ্ঞতার সময় অনেকেরই ধারণাই থাকে না আসলে কী হচ্ছে। যে ছেলেটা বুঝতেই পারছে না কী হলো, সে কীভাবে ওই কাজের ব্যাপারে ধর্মের বক্তব্য জানবে, আর সেটা দিয়ে প্রভাবিত হবে? আসলে এটাই হলো ফিতরাহ, মানুষের সহজাত প্রবণতা (Natural Disposition)। মানুষের সহজাত নৈতিক কম্পাস তাকে জানিয়ে দেয় কাজটা খারাপ। আর তাই প্রথম প্রথম সবাই অনুশোচনায় ভোগে। কিন্তু পরে মানুষ এর যৌক্তিকতা দাঁড় করায়, একে স্বাভাবিক মনে করা শুরু করে।

এ ছাড়া বাস্তব অভিজ্ঞতাও প্রমাণ করে হস্তমৈথুন আসক্তি শুধু সমস্যাই না; বরং ভয়ঙ্কর রকমের মনোদৈহিক সমস্যা। ভুক্তভোগীদের কিছু অভিজ্ঞতা এরই মধ্যে আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। হস্তমৈথুনে আসক্তদের এমন করুণ উপাখ্যান এক-দুটো না। অজস্র।

হস্তমৈথুনকে স্বাভাবিক প্রমাণে উঠেপড়ে লাগার পেছনে আরেকটা বড় কারণ হলো, সেই পুরনো কালপ্রিট—অর্থনীতি। হস্তমৈথুন আসক্তি আর পর্নোগ্রাফি অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। এ দুয়ে মিলে এক চক্র তৈরি করে। আর এ চক্রে আটকা পড়ে শত সহস্র প্রাণ। যদি হস্তমৈথুনকে ক্ষতিকর বলে স্বীকার করে নেয়া হয়, হস্তমৈথুন না করতে মানুষকে উৎসাহ দেয়া হয়, হস্তমৈথুন আসক্তি বন্ধে কাউন্সেলিং করা হয়, তাহলে শত বিলিয়ন ডলারের পর্নোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রির কী হবে? এ অতিকায় ইন্ডাস্ট্রি কি নিজ অস্তিত্বের প্রতি এমন হুমকিকে মেনে নেবে? নাকি নিজের অঢেল সম্পদ ব্যবহার করে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে অ্যাকাডেমিয়া, মিডিয়া এবং “বিশেষজ্ঞদের” মাধ্যমে হস্তমৈথুনকে স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক প্রমাণে?

পরের বার “কেন হস্তমৈথুন ভালো”, “হস্তমৈথুনের ১৮ অজানা উপকারিতা” জাতীয় ইন্টারনেট আর্টিকেলগুলো পড়ার সময় এ বিষয়টা মাথায় রাখবেন।

সর্বোপরি মুসলিম হিসাবে আমাদের ফ্রেইম অফ রেফারেন্স কোনটা আগে সেটা আমাদের বুঝতে হবে। এতক্ষণ যা কিছু আমরা আলোচনা করেছি, এ সবকিছু হলো সেকেন্ডারি, গৌণ প্রমাণ। মুসলিম হিসাবে আমাদের জন্য প্রাইমারি প্রমাণ হলো ইসলামী শারীয়াহর বক্তব্য। আর ইসলামের বক্তব্য হলো হস্তমৈথুন হারাম।[17] একজন মুসলিমের জন্য প্রমাণ হিসাবে এটাই যথেষ্ট হওয়া উচিত। যেখানে ইসলামের স্পষ্ট বিধান আছে সেখানে বিজ্ঞানের “প্রায় নিশ্চিত” মত গোনায় ধরার মতো কিছু না। বিশেষ করে বিষয়টি যখন নৈতিকতার সাথে সম্পর্কিত। যেমন বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিয়ে-বহির্ভূত সেক্স ক্ষতিকর কিছু না। বরং আধুনিক পশ্চিমা দর্শনে এটা স্বাভাবিক, এমনকি প্রশংসনীয়। অন্যদিকে যিনা ইসলামের দৃষ্টিতে কবিরা গুনাহ। বিজ্ঞান যদি কাল থেকে যিনাকে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে প্রচার করা শুরু করে, তাহলে এতে একজন মুসলিমের কিছুই যায় আসে না। যিনার ব্যাপারে তার ধারণা এতে বদলে যাবে না।

সুতরাং হস্তমৈথুন যদি কখনো বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সুনিশ্চিতভাবে স্বাস্থ্যকর বলে প্রমাণিতও হয় (যেটা এখনো হয়নি) তবুও এতে একজন মুসলিমের দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আসার কথা না, কারণ ইসলামের মাপকাঠিতে কাজটা অনৈতিক এবং হারাম। আর বাস্তবতা হলো মনোদৈহিকভাবে হস্তমৈথুন এবং পর্ন-আসক্তি দুটোই অত্যন্ত ক্ষতিকর। আমরা ইতিমধ্যেই আলোচনা করেছি কীভাবে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবার ও সমাজ কেউই মুক্তি পায়নি।

পর্ন-আসক্তি আর হস্তমৈথুনের চক্র ব্যক্তির জীবনকে হতাশা, গ্লানি আর পুনরাবৃত্তির চোরাবালিতে আটকে ফেলে। এ বৃত্তে আটকা পরে তিলে তিলে ক্ষয়ে যেতে থাকে শত সহস্র মানবাত্মা। এ চক্র ভাঙার, এ বৃত্তের বাইরে যাবার উপায় কী? আদৌ কি সম্ভব?

পড়ুন- http://lostmodesty.com/tag/ঝেটিয়ে-বিদায়-করুন-বেয়াড়া/

 

রেফারেন্সঃ

[1] Voyeurism – ঈক্ষণকামিতা। অপরের যৌনক্রিয়া দেখে যৌন তৃপ্তি পাওয়া।

[2] Pornography addiction: A neuroscience perspective,Donald L. Hilton, Jr and Clark Watts – https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3050060/]

[3] How Big is the Porn Industry? – http://bit.ly/2AVUgxT

[4] How large is the adult entertainment industry? – http://to.pbs.org/2FxiEt7

[5] Bart & Jozsa, 1980, p. 210

[6] Kelly, Wingfield, & Regan, 1995, p. 23

[7] Catharine A. MacKinnon, “X-Underrated: Living in a World the Pornographers Have Made,” in Big Porn Inc., edited by Melinda Tankard Reist and Abigail Bray, 9–15. North Melbourne, Australia: Spinifex Press, 2011

[8] Sommers & Check, 1987

[9] Diamond, 1980; Howard, Reifler, & Liptzin, 1991

[10] Zillmann & Bryant, 1986, p. 577

[11] Cline, 1974; Osanka & Johann, 1989.

[12] Sommers & Check, 1987

[13] Sex education as bullying, page 7

[14] Kinsey, Sex and Fraud, page 3

[15] Ibid, page 2

[16] Ibid, page 1

[17] Ruling on masturbation and how to cure the problem – https://islamqa.info/en/329

শেয়ার করুনঃ
চোরাবালি (অষ্টম পর্ব)

চোরাবালি (অষ্টম পর্ব)

আসসালামু-আলাইকুম।

আমি এনামুল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ তৃতীয় বর্ষে পড়ছি। সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর কসম আমি একটা মিথ্যা কথাও এখানে বলব না, পুরোটাই আমার এবং পরিচিতজনদের সাথে ঘটে যাওয়া বাস্তবতা। এখন আমার বয়স বিশের এর কাছাকাছি কিন্তু ছোট থেকেই অন্যদের তুলনায় একটু চিকন। বন্ধুদের সাথে তেমন মিশি না আর আমার বন্ধুর সংখ্যাও হাতে গোনা কয়েকজন। কারো কারো কাছে হস্তমৈথুন সম্পর্কে শুনতাম কিন্তু ততটা বুঝতাম না। গত বছর দুয়েক আগে কৌতূহলবশত হস্তমৈথুন করেই ফেলি। অদ্ভুদ রকমের পাগল করে দেয়া একটি সুখকর অনুভূতি পেলাম প্রথম বার। এরপর থেকে এটা বারবার আমাকে ছায়ার মত আকর্ষণ করত।
.
কিছুদিন পর পর্ন দেখার সাথে সাথে একই সময়ে এটা করতে শুরু করলাম। সপ্তাহে ৩,৪ দিন বা তার বেশি হস্তমৈথুন করতাম। কিন্তু প্রতিবারই এটা করার পর এমন হতাশার সৃষ্টি হত যেন সব শেষ! স্পার্ম বের হয়ে যাওয়ার কয়েক সেকেন্ড পরেই মনে হত আমি একি করলাম, প্রতিবারই তওবা করতাম যে জীবনে আর এই কাজ করব না। একদিন বা তার বেশি সময় মন খারাপ করে হতাশায় ডুবে থাকতাম কিন্তু দুইদিন পর আবার যেই-সেই! এভাবেই বারবার পুনরাবৃত্তি হচ্ছিল প্রায় দেড়টি বছর ধরে। কোন ভাল কাজ করতে আগ্রহ পেতাম না। ভাল কোন কাজ করার সময় মনে হত কি লাভ এসব করে, আমিতো কঠিন অপরাধে জড়িয়ে আছি। এমনিতেই শুকনা ছিলাম আর দিনে দিনে আরো ডালপালা হয়ে যাচ্ছিলাম, তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল হতাশার মাত্রা। একটা সময় খেয়াল করলাম অতীতের অনেক কিছুই আমি মনে করতে পারছি না, বারবার চেষ্টা করছি কিন্তু তবুও পারছি না। একটা সহজ বিষয় বুঝতে বা মনে রাখতে খুব বেগ পেতে হচ্ছে, কোন কাজে শক্তি পাচ্ছিনা। আগে প্রতিদিন ১৫ কি.মি. সাইকেল চালিয়ে কলেজে যেতাম কিন্তু এখন বাজারে যেতেই হাঁপিয়ে যাই।
.
যাইহোক, আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুর কাছে তার জীবনের গল্প শুনেছিলাম অনেকবার। প্রতিদিন কয়েকবার করে মাস্টারবেট করত সে। কয়েক বছর পর ধাতুক্ষয়ের সাথে তার এমন অবস্থা হয়েছিল যে, তার বীর্য থেকে পায়খানার চেয়ে বাজে দুর্গন্ধ বের হত। একেকটা সময় মাথাব্যথায় অজ্ঞান হয়ে যেত। মেধাবী ছেলেটার ক্যারিয়ার, ভবিষ্যৎ সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলা যায়।
.
আমার জীবনে ফিরে আসি, হঠাৎ একদিন রাতে আমার ঘুম ভেঙে যায়, দেখলাম আমার পরনের লুঙ্গি ভিজা। নাহ সেটা পানি বা প্রস্রাব ছিলনা, স্পার্ম ছিল। কিন্তু আমি তো স্বপ্নে কিছু দেখিনি, স্বপ্নদোষ তো হয়নি তাহলে এরকম কেন? খেয়াল করলাম অটোমেটিক স্পার্ম বের হচ্ছে ফোটা ফোটা করে। দুইদিন পর রাতে আবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল। মনে পড়ল সেই বন্ধুটির কথা, ভাবলাম আমিও কি তার পথে হাটছি, তার পরিণতি কি আমাকে হাতছানি দিচ্ছে????
এতটাই দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছিলাম যে মহান আল্লাহর কাছে তওবা করলাম “আল্লাহ প্রয়োজনে আমার বউ বাচ্চা কিছু লাগবে না আমি জীবনে কোন খারাপ কাজ করব না, কিন্তু আমাকে ওর পরিণতি দিয়েন না” জেলার সবচেয়ে ভাল ডাক্তারের কাছে গেলাম কিন্তু কয়েক মাস ধরে আমার প্রস্রাবের সাথে স্পার্ম বের হচ্ছে এবং সাথে শারীরিক এবং মানসিক দুর্বলতা তো আছেই। সিজিপিএ ৩.৫০ থেকে ২.৭৫ এ নেমে গেল! ওই বন্ধুর কাছ থেকে জানতে পারলাম আমার পরিচিত অনেক ছেলেই এই অসুখে আক্রান্ত এবং সবার এই সমস্যার শুরু হস্তমৈথুন থেকে।
.
পর্ন,মাস্টারবেশন থেকে এখন আমি দূরে। সময় থাকতে ভাল হওয়ার সুযোগ পেয়েও আমি হাতছাড়া করেছিলাম কিন্তু আজ প্রকৃতি আমাকে জোর করে শান্ত করেছে। জানিনা কবে এই অসুস্থতা থেকে মুক্তি পাব কিংবা আদৌ মুক্তি পাব কিনা শঙ্কিত। অনেকটা সময় নিয়ে মোবাইল কিবোর্ডে কষ্ট করে লিখলাম, প্রয়োজনে লিখার ভুলগুলো সংশোধন করে হলেও লিখাটা প্রকাশ করবেন যেন মাস্টারবেশনে আক্রান্ত ভাইয়েরা একটু হলেও এর ভয়াবহতা বুঝতে পারে।
আইডি নেমটা মেনশন করবেন না

পড়ুন-

চোরাবালি প্রথম পর্ব – https://bit.ly/2ObItTt
চোরাবালি দ্বিতীয় পর্ব – https://bit.ly/2Qm0j7D
চোরাবালি তৃতীয় পর্ব – https://bit.ly/2p0HR8l
চোরাবালি চতুর্থ পর্ব – https://bit.ly/2QoRtGb
চোরাবালি পঞ্চম পর্ব- https://bit.ly/2Nzoh0M
চোরাবালি ষষ্ঠ পর্ব- https://bit.ly/2QocEIA
চোরাবালি সপ্তম পর্ব- https://bit.ly/2x9hr81
মাস্টারবেশন কী মাসলগ্রোথ এবং এথলেটিক পারফরম্যান্সের ক্ষতি করে?- https://bit.ly/2NzycUa
মিথ্যের শেকল যতো- https://bit.ly/2QpkT7f
সমকামিতা এবং হস্তমৈথুন আদিম মানুষের মধ্যে বিরল!- https://bit.ly/2CQOOT2
.

 

শেয়ার করুনঃ

চোরাবালি (তৃতীয় পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

আলফ্রেড কিনসে নামে কুখ্যাত এক সেক্স রিচার্‌সার ছিল আমেরিকাতে । লোকটা চল্লিশ  পঞ্চাশের দশকে এবং তার কিছু পরে সেক্স নিয়ে চরম ভুল ভাল কিছু গবেষণা করে।পাশ্চাত্যে চার্চের পতনের পর মানুষ ক্রমাগতই বস্তুবাদী হয়ে পড়ে । ইশ্বর, ধর্মের যায়গা দখল করে নেয়  বিজ্ঞান আর দর্শন । বিজ্ঞানকে নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলা যাবে না , বিজ্ঞান যা বলবে তা চোখ বন্ধ করে মেনে নিতে হবে । তো তথাকথিত মুক্তমনা, বিজ্ঞানমনস্ক আলফ্রেড কিনসে যখন বিজ্ঞানের অপব্যবহারের মাধ্যমে আপাতদৃষ্টিতে চমৎকার কিন্তু একাডেমিক্যালি একেবারেই অগ্রহনযোগ্য সব গবেষণা পত্র নিয়ে আসল তখন সমাজকে বাধ্য করা হল এগুলো মেনে নিতে । আলফ্রেড  কিনসের গবেষণাগুলো কাজে লাগিয়ে মুনাফা লুটতে হাজির হলো কুখ্যাত এক ইরোটিক ম্যাগাজিন, Sexuality Information and Education Council of the United States (SIECUS), শয়তানী সিস্টেমের এজেন্ডা বাস্তবায়নের শক্তিশালী এক হাতিয়ার হিসেবে পেল আলফ্রেড  কিনসের গবেষণাগুলো ।

সমাজের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হল চরমভাবে বিকৃত যৌনাচারগুলো । বলা হল, মানুষ যৌনতার ব্যাপারে সম্পূর্ণ স্বাধীন। এখানে ইশ্বর, সমাজ বা অভিভাবক কারো কোন হস্তক্ষেপ চলবে না । সে যা মন চায়  তা করতে পারবে । হস্তমৈথুন, এনাল সেক্স, ওরাল সেক্স, সমকামিতা,অযাচার,চাইলড সেক্স, পশুকামিতা সব কিছুকেই স্বাভাবিক করে ফেলার কার্যক্রম শুরু হল । আজকের পাশ্চাত্যের বেহায়াপনার শুরুটা শুরু হল এই ভন্ড গবেষকের হাত ধরে ।

(পরবর্তীতে ভন্ড আলফ্রেড কিনসের গবেষণা গুলো বিজ্ঞানী, চিকিৎসকদের কাছে একাডেমিক্যালি চরম মার খেয়েছিল । এগুলো নিয়ে  আমরা এক সময় খুব দীর্ঘ  আলোচনা করব ইনশা আল্লাহ্‌)

এই  প্রতারক কিনসে চল্লিশ-পঞ্চাশের  দশকে কোমর বেঁধে নেমে পড়ে আমেরিকার ফিজিশিয়ান এবং আমেরিকান সমাজের সমালোচনা করতে ।আমেরিকান  সমাজ সংকীর্ণমনা, মৌলবাদী প্রগতির পথে বাঁধা কারণ আমেরিকান সমাজে হস্তমৈথুন করাকে জঘন্য কাজ হিসেবে দেখা হয় । সে

ফিজিশিয়ানদের  তুলোধুনো করে ছাড়ে কারণ তাঁরা স্কুল গুলোতে বাচ্চাদের শেখান হস্তমৈথুন ক্ষতিকর ।

.

কিনসের নিজের ভাষায় , “ফিজিশিয়ানরা মাস্টারবেশনের ক্ষতিকারতা নিয়ে  হাইস্কুলের বাচ্চাদের সামনে অনেক বকবক করে ; তারা  দাবী করে বৈজ্ঞানিক ভাবেই প্রমানিত হস্তমৈথুন নার্ভাস ডিসঅর্ডার এবং নিউরোটিক ডিসটারবেন্স এর জন্য দায়ি। কিন্তু আসলে ঘটনা একটু অন্যরকম । তাদের  এই দাবীর স্বপক্ষে বিজ্ঞানের কিছুই করার নেই । তারা যে সমাজে বড় হয়ে উঠেছে সেই সমাজের নৈতিকতা বোধই  তাদেরকে হস্তমৈথুনকে ক্ষতিকর ভাবতে প্রভাবিত করেছে”

কিনসে চরম মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে জোর গলায় দাবী করে মাস্টারবেশনের কোন ক্ষতিকারতা নেই ।  তার এই মিথ্যা দাবীটাই সেক্স এডুকেশানের বই গুলোতে বার বার খুব বিশ্বাসযোগ্য ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এটাকে ধ্রুব সত্য বলে মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছে ।

.

ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস ! অন্য কোন গবেষক নয়, আলফ্রেড কিনসে নিজেই নিজের থিওরিকে মিথ্যা প্রমাণিত করে একসময় । স্বেচ্ছায় নয় অবশ্য; বাধ্য হয়ে । কিনসে  ছিল চরমমাত্রায় হস্তমৈথুনে আসক্ত। সে নিজের যৌনাঙ্গের ওপর ভয়াবহ  নির্যাতন নিপীড়ন চালায়, ফলে আক্রান্ত হয়  orchitis নামের এক লজ্জাজনক রোগে । কিনসের টেস্টিকলে অসহ্য ব্যাথা হতো । এই রোগের কারণে অকালেই কিনসে রিটার্ন টিকিট ছাড়াই পাড়ি জমায় জাহান্নামে । [১]

.

কিনসের গবেষণাগুলো দ্বারা পাশ্চাত্য ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয় আগেই বলা হয়েছ । এই গবেষণাগুলো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অনেকেই দাবী করেন হস্তমৈথুন শরীরের জন্য খুব উপকারী । হস্তমৈথুন প্রোটেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, এটা আপনাকে আরো পুরুষালী করে তোলে , দীর্ঘক্ষন বিছানায় পারফর্ম করতে সাহায্য করে আরো কত কি!

.

আমাদের এই  ‘চোরাবালি’ সিরিজের প্রথম দুই পর্বে আমরা তুলে ধরেছি মাস্টারবেশনে আসক্ত ভাইদের জীবন নষ্ট হয়ে  যাবার গল্পগুলো । এই পর্ব সহ সামনের কয়েকটা পর্বে আমরা বিজ্ঞান এবং সামাজিক গবেষণার সাহাজ্যে মাস্টারবেশনের ক্ষতিকারতা তুলে ধরার চেষ্টা করব যদি আল্লাহ্‌ তৌফিক দেন ।

হস্তমৈথুন তৈরি করবে নানা ধরণের যৌন জটিলতাঃ

আপনার যৌনজীবনকে বিষিয়ে তোলার জন্য এই এক হস্তমৈথুনই যথেষ্ট। আর যদি এর সাথে যোগ হয় পর্নোগ্রাফি, তাহলে তো সোনায় সোহাগা। পাশাপাশি হাত ধরে চলা এই দু’ ভাই আপনার জীবনকে লন্ডভন্ড করে দেবে, বুকের যমীনে সুখ স্বপ্নের যে ক্ষেত আপনি বহু যত্নে গড়ে তুলেছিলেন তা নিমিষেই পুড়িয়ে দেবে চৈত্রের খরতাপের মতোই।

.

অকাল বীর্যপাত বা Premature Ejaculation এর অন্যতম কারণ এই হস্তমৈথুন। হস্তমৈথুন করার সময় আপনি চেষ্টা করতে থাকেন কতো তাড়াতাড়ি চুড়ান্ত মুহূর্তে পৌঁছানো যায়, পাওয়া যায় শীর্ষসুখ। দেরি হলে ভালো লাগে না, অসহ্য বিরক্তি এসে ভর করে। এভাবে কিছুদিন হস্তমৈথুন করার পর আপনার মস্তিষ্ক বুঝে ফেলবে খুব তাড়াতাড়ি আপনি চুড়ান্ত মুহূর্তে পৌঁছাতে চাচ্ছেন। সে তখন এভাবেই নিজেকে প্রোগ্রাম করে নেবে। অল্প সময়েই আপনি শীর্ষসুখ পেয়ে যাবেন। স্ত্রীর সঙ্গে স্বাভাবিক অন্তরঙ্গতার সময়েও আপনার প্রোগ্রামড ব্রেইন অল্প সময়েই আপনাকে চুড়ান্ত মুহূর্তে পৌঁছে দেবে। আপনার স্ত্রী থাকবেন অতৃপ্ত।

.

হস্তমৈথুন আপনাকে যৌন মিলনের জন্য অযোগ্য, অক্ষম বানিয়ে দেবে। মেডিক্যাল সায়েন্সের ভাষায় একে বলা হয় Erectile Dysfunction (ED)। European Federation of Sexology এর প্রেসিডেন্ট সহ আরো অনেক বিশেষজ্ঞের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে পর্নআসক্তি এবং হস্তমৈথুনের যুগলবন্দী Erectile Dysfunction এর অন্যতম কারণ।

Erectile Dysfunction এর ফলে যৌনমিলনের সময় আপনার লিঙ্গ (Penis)  উত্থিত হবেনা, যতোটুকু কাঠিন্য দরকার ততোটুকু হবে না,অথবা যতোসময় ধরে শক্ত থাকা প্রয়োজন ততো সময় ধরে ধাকবেনা। ফলশ্রুতিতে আপনি হারাবেন স্বাভাবিক যৌনমিলনের সক্ষমতা।[২,৩,৪]

.

হস্তমৈথুনের কারণে আপনি স্বাভাবিক যৌনক্রিয়ার প্রতি আগ্রহ হারাতে থাকবেন। ২০১৫ সালের একটি গবেষণাপত্র অনুযায়ী হস্তমৈথুন এবং পর্ন দেখার ফলে বিবাহিত পুরুষেরা, তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে অন্তরঙ্গতার ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। স্ত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গতা তাদের কাছে একঘেয়ে লাগে। [৫]

হস্তমৈথুনের কারণে Chronic penile lymphedema নামের ঘিনঘিনে এক রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে । এই রোগে আক্রান্তদের লিঙ্গ কুৎসিত আকার ধারণ করে।  [৬]

.

দাম্পত্যজীবনে অশান্তিঃ

স্বাভাবিক যৌনমিলন যেখানে সুখী দাম্পত্যজীবন উপহার দেয়, ধুলো কাদামাটির এ পৃথিবীর বুকে জান্নাতী সুখের এক পশলা বৃষ্টি নামায় সেখানে, হস্তমৈথুন, পায়ু সংগম (Anal Sex), ওরাল সেক্স দাম্পত্যজীবনে মিশিয়ে দেয় জাহান্নামের ফ্লেভার। হতাশা,অতৃপ্তি,অশান্তি,ঝগড়াঝাঁটির অন্যতম প্রভাবক এই বিকৃত যৌনাচারগুলো। [৭,৮,৯]

.

Dr. Harry Fisch, যিনি Cornel University ‘র Urrrology এবং Reproductive Medicine এর ক্লিনিকাল প্রফেসর,মাস্টারবেশনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মন্তব্য করেন,

‘ঘন ঘন মাস্টারবেশনের কারণে একজন মানুষ ইরেকশানজনিত (পেনিস শক্ত হওয়া বা উত্থান) সমস্যায় ভুগতে শুরু করবে। মাস্টারবেশনের সাথে সাথে দেখতে থাকলে একসময় যৌনমিলনের ক্ষমতায় সে হারিয়ে ফেলবে’। [১০]

.

অতিরিক্ত মাস্টারবেশন ও পর্ন ব্রেইনে ডোপামিনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং আসক্তির জন্ম দিতে পারেঃ 

ডোপামিন এক প্রকার রাসায়নিক পদার্থ যা এক স্নায়ুকোষ থেকে আরেক স্নায়ুকোষ স্থানান্তরিত হয়।আমাদের ব্রেইনে এর ভূমিকা কী সেটা নিয়ে ‘মাদকের রাজ্যে’ শিরোনামের লিখাতে [১১] আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। হস্তমৈথুন করার পর আমাদের ব্রেইনে ডোপামিন নির্গত হয়, আমরা আনন্দ পাই। আরো  উদাহরণ হিসেবে বলা যায়  ড্রাগস নেওয়া,জুয়া খেলা,খাবার খাওয়া,দৈহিক মিলন ইত্যাদি ইত্যাদির কথা।আমরা যখন এইসবে মত্ত হই তখন আমাদের ব্রেইনে ডোপামিনের বন্যা বয়ে যায় এবং আমরা তৃপ্তি অনুভব করি।আর মাস্টারবেশনের ব্যাপারটা একটু স্পেশাল।মানে ধরুন একটা বাচ্চার হাতে বড়সড় ক্যাডবেরি ধরিয়ে দিলে বাচ্চার অবস্থা যেমন হয় ব্রেইনের অবস্থাও ঠিক তাই হয় যখন এর কারণে ডোপামিন নির্গত হয়।

এই কারণেই আমাদের অনেকেই এতে ড্রাগসের মতন আসক্ত।আমরা চাই বার বার সেই শিহরণ জাগানিয়া অনুভূতিটার স্বাদ পেতে। আর তাই শতোবার করলেও তা যথেষ্ট না।এভাবে ধীরে ধীরে আমাদের ব্রেইনের উপর ডোপামিনের চাঞ্চল্যকর প্রভাব আমাদের কাছে খুব স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।তাই নতুন উদ্দীপনা তৈরি হলেও আমাদের কাছে একসময় তা স্বাভাবিক বলেই মনে হয়।এই ক্যামিকালটা মানে ডোপামিন হল আসলে এমন এক উপাদান যে আপনাকে বলছে, যাও!মন চাচ্ছে যখন তখন একবারে ফাটায় দাও(উদ্দেশ্য হাসিল করেই ছাড়ো)।যৌন-ক্ষুধা,ঝুঁকি নেয়া,উদ্দীপনা,অনুপ্রেরণা,প্রত্যাশা ইত্যাদির সময় এমনটা ঘটে।ডোপামিনের ঘাটতির কারণে যে বিষয়গুলো নজরে আসে সেগুলো হলঃ যৌনক্ষুধা কমে যাওয়া,ঝুঁকি নেয়ার ভীতি কাজ করা,দুশ্চিন্তা বৃদ্ধি,ঝাঁঝালো প্রতিক্রিয়া,মনোযোগ দেওয়াতে অক্ষমতা,সামাজিকতা,অনুপ্রেরণা ও স্বাভাবিক প্রত্যাশার অভাব ইত্যাদি।আর ডোপামিনের স্বাভাবিক সঞ্চালন এসবের বিপরীত ঘটায়।মানসিক ও শারীরিকভাবে উৎফুল্ল করে তোলে।যারা পর্নের খোলস ত্যাগ করে বেরিয়ে এসেছে তারা এই পজিটিভিটির নির্ভেজাল সাক্ষী।[১২]

.

মাত্রাতিরিক্ত মাস্টারবেশন ডোপামিনের কার্যকারিতা নিঃশেষ করে দেয়ঃ  
আমাদের ব্রেইনে যারা ডোপামিনের উপস্থিতি আমাদের টের পাইয়ে দেয় তাদের বলে রিসেপ্টর।যখন নেশাসক্ত হয়ে কোন কাজ বারবার করা হয় তখন এই রিসেপ্টরগুলোর কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়।তখন ডোপামিনের নিঃসরণে আমাদের ব্রেইন আর আগের মত সাড়া দেয় না বা উদ্দীপ্ত হয় না।

.

তাই ধরেন,যে আগে অল্পকিছু দেখেই উদ্দীপ্ত হতো এবং মাস্টারবেট করে নিজেকে ঠাণ্ডা করতো,তার আর এখন ওইসব সিম্পল জিনিসপত্র দেখে পোষাবে না।সে এখন ধাবিত হবে জোরদার ক্যাটাগরির দিকে যা পর্যায়ক্রমে বর্বর হতে থাকে।কারণ সাধারণ জিনিস দেখে তার উদ্দীপনা প্রায় অনুভূতিহীন।এতে করে তার আত্মতৃপ্তি বজায় থাকে।
কয়েকজন মহিলার সাথে কথা হয়েছে যারা বলেছে তারা যাদের স্বাভাবিক পুরুষ হিসেবে জানত তাদের কেউ কেউ নাকি গে-পর্ন দেখে নিজেদের পরিতৃপ্ত করে।কেননা এখন আর অন্যকিছুই তাদের ভালো লাগে না।

.
সবচেয়ে ভয়ংকর ও পরিতাপের বিষয় হল এইভাবে যখন পর্ন আমাদের জীবনের সাথে শক্তভাবে গেঁথে যায় তখন এক পর্যায়ে এই রিসেপ্টরগুলোর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।তখন স্বাভাবিকটা অস্বাভাবিক আর অস্বাভাবিকটা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।এজন্য কারো কারো দিনে ১০-২০ বারও মাস্টারবেট  করতে হয় শুধুমাত্র সন্তুষ্ট হওয়ার জন্য।কিছু কিছু মানুষ আছে যারা এতোটাই পর্নাসক্ত যে তারা তাদের গার্লফ্রেন্ড বা স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়ে এখন আর সুখ পায় না।পর্ন দেখে মাস্টারবেট না করলে অসম্পূর্ণতা থেকে যায়।এই কারণে বেশ কিছু ডিভোর্সও হয়েছে। [১৩,১৪,১৫,১৬]

.

আপনি হয়ে পড়বেন উদ্যমহীন,কুঁড়েঃ

তরতাজা অনুভূতি নিয়ে দিন শুরু করলেন, নতুন সূর্য আর সকালের এক কাপ চা অফুরন্ত প্রাণশক্তি নিয়ে কর্মক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়ার রসদ দিল আপনাকে। যে কোন কারণেই হোক মাস্টারবেট করে ফেললেন, তারপর আপনার আর কিচ্ছু করার ইচ্ছে করবে না। ঝিমিয়ে,ঘুমিয়ে দিন পার করে দিতে ইচ্ছে করবে।

কেন এমনটা হয়?

আমরা হয়তো অনেকেই আড্রেনেলিন হরমোনের নাম শুনেছি।আড্রেনাল গ্রন্থিগুলো থেকে এর উৎপত্তি।মূলত যখন ধকল খুব বেশি যায় তখন এই হরমোন নিঃসৃত হয়।এর ফলে ব্লাড সার্কুলেশন বৃদ্ধি পায়।আর ডোপামিন নিঃসরণের ফলেই এর নিঃসরণ শুরু হয়।অতিরিক্ত ডোপামিন বের হলে অতিরিক্ত আড্রেনেলিনও বের হয় আড্রেনাল গ্রন্থিগুলো থেকে।এর মধ্যে আবার ডোপামিন সংশ্লেষিত হয়ে তৈরি হয় নরআড্রেনেলিন যা আমাদের রক্তে হরমোন হিসেবে থাকে।এদের বাহিনীতে যোগ দেয় আরেক স্ট্রেস হরমোন কর্টিসোল।এই তিনে মিলে আমাদের হার্ট রেট বাড়াতে থাকে,শক্তি সঞ্চয়কারী কোষগুলো থেকে গ্লুকোজ বের করে আনে এবং স্কেলেটাল পেশিগুলোতে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি করে।আর এসবই আমাদের শরীরে মারাত্মক ধকল সৃষ্টি করে।

ফলস্বরূপ আমরা অনেক সময় উদ্যমহীন,ক্লান্ত বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। মাস্টারবেশনের কারণে ঠিক এ ঘটনাগুলোই ঘটে। নতুন কিছু করার আগ্রহ থাকে না।মন চায় ঘুমিয়ে বাকি সময়টুকু কাটিয়ে দিতে।ক্লাসের পড়া জমতেই থাকে, টেবিলে ফাইল স্তূপ হয়ে যায় কিন্তু কিছুই করার ইচ্ছে করে না। [১৭]

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌…

(লস্টমডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত,সংকলিত এবং পরিমার্জিত)

পড়ুন-

পর্বত জয়ের প্রতিজ্ঞা – https://bit.ly/2Mo58dj

চোরাবালি প্রথম পর্ব – https://bit.ly/2ObItTt
চোরাবালি দ্বিতীয় পর্ব – https://bit.ly/2Qm0j7D
চোরাবালি চতুর্থ পর্ব – https://bit.ly/2QoRtGb
চোরাবালি পঞ্চম পর্ব- https://bit.ly/2Nzoh0M
চোরাবালি ষষ্ঠ পর্ব- https://bit.ly/2QocEIA
চোরাবালি সপ্তম পর্ব- https://bit.ly/2x9hr81
চোরাবালি অষ্টম পর্ব- https://bit.ly/2NAhrbd
মাস্টারবেশন কী মাসলগ্রোথ এবং এথলেটিক পারফরম্যান্সের ক্ষতি করে?- https://bit.ly/2NzycUa
মিথ্যের শেকল যতো- https://bit.ly/2QpkT7f
সমকামিতা এবং হস্তমৈথুন আদিম মানুষের মধ্যে বিরল!- https://bit.ly/2CQOOT2

রেফারেন্সঃ

[১] http://www.drjudithreisman.com/archives/Sex_Education_as_Bullying.pdf  page 8

[২] http://www.em-consulte.com/article/1074113

[৩] http://bit.ly/2CS2Yi1

[৪]http://www.tandfonline.com/doi/abs/10.1080/14681994.2017.1365121

[৫] https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/25189834

[৬]Masturbation: Scientific Evidence and Islam’s View by Sayed Shahabuddin Hoseini, Springer Science+Business Media New York 2013; page-2

[৭]https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/19453891

[৮]https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/21676179

[৯]https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/17541850

[১০] https://yourbrainonporn.com/erectile-dysfunction-and-porn

[১১] http://bit.ly/2DgbZ9h

[১২] http://bit.ly/2dAkcWd

[১৩] http://slate.me/1f0SHhQ

[১৪] http://bit.ly/1pDYoqn

[১৫] http://bit.ly/2dAlSio

[১৬] http://bit.ly/2dMOZgG

[১৭] http://bit.ly/2BTKY9Z

শেয়ার করুনঃ

চোরাবালি (চতুর্থ পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

আপনি হবেন পরাজিত  এক  মানুষঃ 

হস্তমৈথুনের পরের কিছু মুহূর্ত আমরা কিন্তু অবাক হয়ে ভাবি যে আমি আসলে এটা কি করলাম! আমার কাছে একরম একেবারে পরাজিত মনে হচ্ছে কেন? যদি আমার পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী কিংবা একেবারেই অপরিচিত কেউও যদি জানতে পারে যে আমি এরকম পর্ন দেখি ও হস্তমৈথুন করি ,তাহলে তারা আমাকে কত খারাপই না ভাববে!

যদি কেউ আমাকে হস্তমৈথুন করার সময় হাতেনাতে ধরে ফেলে তাহলে সেটা কতই না লজ্জার ব্যাপার হবে!(আমার বড় ভাই এর কাছে আমি ধরা পড়েছিলাম তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর এবং সেটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে লজ্জাকর ঘটনা)

হস্তমৈথুন আপনাকে আসলে একটা পরাজিত মানুষে পরিণত করবে কারণ আপনি আসলে ঐ সময়ে আপনি মনে করেন যে স্ক্রিনের লোকটার মত আপনিও একই কাজ করছেন ঐ মহিলার সাথে। কিন্তু আপনি তো আসলে তা না। প্রকৃতপক্ষে আপনি আছেন কোন মোবাইল ,ম্যাগাজিন বা ল্যাপটপের সামনে এবং একজন বিকৃত রুচির অসুস্থ  মানুষের মতো আপনার যৌনাঙ্গ নিয়ে অস্থির হয়ে নাড়াচাড়া করছেন।

এই রকম মানুষ  হওয়া উচিত  না।

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে আমি হস্তমৈথুন করেন এটা দেখলে বা জানতে পারলে আপনার প্রতি মেয়েদের একটা বিরক্তিভাব জন্ম নিবে।

আপনি যখন পর্ন দেখেন আপনি আসলে তখন দুই বা ততোধিক লোকের,যাদের আপনি চেনেন না, একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্ত দেখছেন। তাদের যদি আপনি চিনতেন তাহলে সেটা এত রোমাঞ্চকর মনে হত?

তাহলে সেটাও কি আপনার কাছে রোমাঞ্চকর লাগতো যে আপনি জানালা দিয়ে সম্পূর্ণ অচেনা কোন দম্পতির একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্ত দেখছেন?

আসলে পর্ন দেখা বা কারও জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে সম্পূর্ণ অচেনা কোন দম্পতির একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্ত দেখার মাঝে কি কোন পার্থক্য আছে?

পর্ন দেখা মানে হচ্ছে এমন একটা জিনিস দেখা যা অধিকাংশ মানুষ একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে মনে করে। আমি জানি যখন আপনি পর্ন দেখেন তখন আপনার মনে এতকিছু আসে না কিন্তু আপনার আসলে আগেই এটা নিয়া ভাব উচিত ।

আপনি হয়তো আমার সাথে একমত নাও হতে পারেন।

কিন্তু এটা চিন্তা করেন যে, আপনি আপনার স্ত্রীর সাথে একান্তে সময় কাটাচ্ছেন এবং অন্য কেউ সেটা দেখে হস্তমৈথুন করছে ,তখন আপনার কেমন লাগবে? আমি নিশ্চিত, এতে আপনার চরম বিরক্ত, রাগ লাগবে।

আপনি হয়তো তর্ক করতে পারেন যে পর্ন ভিডিওগুলো যখন তৈরি করা হয় তখন তো তারা জানেই যে তাদের ভিডিও করা হচ্ছে । কিন্তু আপনি কেন সেই বিকৃতকামী ব্যক্তি হতে যাবেন যে অন্যদের একান্ত ব্যক্তিগত সময় দেখে?

 আপনি সবসময় অপরাধবোধে ভুগবেনঃ

প্রাথমিক পর্যায়ে, আমাদের ৯৯.৯% জানি যে হস্তমৈথুন হচ্ছে এমন একটা জিনিস যা অন্যদের সামনে করা যাবে না কারণ তারা মনে করতে পারে আপনি একজন বিকৃতকামী লোক। যারা হস্তমৈথুন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তারা, তারা যেখানেই যাক না কেন সবসময় সেই চিন্তা মাথার মাঝে আসতে থাকে। তারা এটা ভেবেই অনেকটা অস্থির থাকে যে তারা যে এই ধরনের জিনিস করে সেটা পরিবারের অন্যরা, এমনকি বাচ্চাদের কাছেও ধরা পড়লেও তারা কি মনে করবে। এটা আসলে আসলে অনেকটা পাপবোধের কারাগারের মতো যা তাদের তাড়া করে বেড়ায়। এটা তাদের মনে অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি করে। আসলে অনিয়ন্ত্রিত হস্তমৈথুন তাদের জীবন করে তোলে দুর্বিষহ।

এক ব্যক্তির অভিজ্ঞতা দেখা যাক,

“আমি আসলে কীভাবে বলবো বুঝতে পারছি না। আমি দিনে দুইবার করে হস্তমৈথুন করি। কিন্তু তা করার পরে আমার তা নিয়ে প্রচণ্ড অপরাধবোধ হয় এবং তা আমাকে পরের প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ঘিরে রাখে। মাঝে মাঝে তা আমার পুরো দিনটাই মাটি করে দেয়। হস্তমৈথুন নিয়ে আমি যা পড়েছি তাতে মনে হয়েছে যে এটা ছেলেদের জন্য সাধারণ একটা ব্যাপার , কিন্তু আমি এই লজ্জা ও অপরাধবোধের অনুভূতি কাটিয়ে উঠতে পারি না। আমি অনুভব করি যে আমার আরও ইচ্ছাশক্তির ব্যবহার করা উচিত হস্তমৈথুন বাদ দিতে কিন্তু পরে বুঝতে পারি যে আমি আসলে এটা পছন্দ করি আর তা বাদ দিতে চাই না। আমার তো মনে হয় যে আমি তো কাউকে আঘাত করছি না, তাহলে কেন তা বাদ দিবো? আমার কি কোন সমস্যা আছে? না হলে যেটাকে স্বাভাবিক বলে মনে করি তাতে আমার এই অপরাধবোধ হয় কেন?”

এখানে শুধু একজনের কথা লেখা হয়েছে কিন্তু এরকম আরও হাজার হাজার লোক আছে। [১]

আপনি হয়ে যাবেন অসামাজিকঃ

হস্তমৈথুন  করে করে ডোপামিনের ভারসাম্য নষ্ট করে ফেললে মন চাইবে সবসময় অন্ধকার ঘরের কোনায় বসে পর্ন দেখে দেখে হস্তমৈথুন  করতে।বন্ধুদের সংগে দেখা করা, আড্ডা দেওয়া, দলবেঁধে ঘুরতে যাওয়া এইগুলো অবধারিতভাবেই বিরক্তিকর লাগবে। পর্ন দেখা বা হস্তমৈথুন  করার উত্তেজনার কাছে মামার বাসায় বেড়াতে যাওয়ার উত্তেজনা নিছকই দুধভাত।

হস্তমৈথুনের কারণে আসলে আমরা জীবনকে ভালোমতো উপভোগ করার সুযোগটাই হারিয়ে ফেলছি।

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলি যখন আমি হস্তমৈথুন বাদ দিয়ে দিলাম , আমার একজন সামাজিক মানুষে পরিণত হয়ে গেলাম। আমি আবার আমার বন্ধুদের সাথে মজা করছি , গল্প করছি ,বেড়াতে যাচ্ছি। আমি মনে মনে ভাবতাম “জীবনটা তো আসলেই অনেক মজার।” যখন আমি  হস্তমৈথুনে আসক্ত ছিলাম ,আমার কখনই এই ধরনের অনুভূতি হতো না । আমার কোন উৎসাহই থাকতো না এসবের জন্য ।

[পড়তে পারেন – শান্তি পাব কোথায় গিয়ে  –  http://bit.ly/2gqcbH8 ]

জীবনের ছোট ছোট ব্যাপারগুলো থেকে আমি আপনি কম আনন্দ পাবেনঃ

হস্তমৈথুন  করে যদি আপনি ডোপামিন নিঃসরণকারী স্নায়ুগুলোকে দুর্বল বা একেবারে ধ্বংসই করে ফেলেন এবং আপনার মস্তিষ্ক ডোপামিনের স্বাভাবিক মাত্রা নির্ধারণ করতে না পারে ,তাহলে আপনি নিত্যদিনের সেই সব ছোট ছোট বিষয় থেকে  পুরোপুরি মজা পাবেন না যেসব বিষয়  থেকে একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ মজা পেয়ে থাকেন। যেমন ধরুন, ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটানো, ক্রিকেট খেলা, বৃষ্টিতে ভেজা, চাঁদনী পসর রাতে জ্যোৎস্না স্নান করা…  এই  কাজগুলো  আপনার  কাছে মনে হবে  একেবারেই বিরক্তিকর, অপ্রয়োজনীয়,আদিখ্যেতা।

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ ……

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)

রেফারেন্সঃ

[১] http://bit.ly/2hidby1

পড়ুন-

পর্বত জয়ের প্রতিজ্ঞা – https://bit.ly/2Mo58dj

চোরাবালি প্রথম পর্ব – https://bit.ly/2ObItTt
চোরাবালি দ্বিতীয় পর্ব – https://bit.ly/2Qm0j7D
চোরাবালি তৃতীয় পর্ব – https://bit.ly/2p0HR8l
চোরাবালি চতুর্থ পর্ব – https://bit.ly/2QoRtGb
চোরাবালি পঞ্চম পর্ব- https://bit.ly/2Nzoh0M
চোরাবালি ষষ্ঠ পর্ব- https://bit.ly/2QocEIA
চোরাবালি সপ্তম পর্ব- https://bit.ly/2x9hr81
চোরাবালি অষ্টম পর্ব- https://bit.ly/2NAhrbd
মাস্টারবেশন কী মাসলগ্রোথ এবং এথলেটিক পারফরম্যান্সের ক্ষতি করে?- https://bit.ly/2NzycUa
মিথ্যের শেকল যতো- https://bit.ly/2QpkT7f
সমকামিতা এবং হস্তমৈথুন আদিম মানুষের মধ্যে বিরল!- https://bit.ly/2CQOOT2
শেয়ার করুনঃ

চোরাবালি (পঞ্চম পর্ব)

অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের ফলে টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ কমে যেতে পারেঃ 

প্রথমে আমাদের জানতে হবে যে টেস্টোস্টেরন [১] আসলে কি? এটার গুরুত্বটাই বা আসলে কি ?

টেস্টোস্টেরন আসলে একটা গুরুত্বপূর্ণ হরমোন যা পুরুষ হিসেবে আমাদের অতি দরকারী।

টেস্টোস্টেরন যেমন পুরুষের শরীরে প্রজননতন্ত্রের টিস্যু যেমন টেস্টিস , প্রোস্টেট গঠনে ভুমিকা রাখে

তেমনি পেশী বৃদ্ধিতে, হাড়ের গঠনে, চুলের বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে । এটা অস্টিওপরোসিস নামক রোগের প্রতিরোধেও কাজ করে।

অর্থাৎ এটা আমাদের স্বাস্থ্য গঠনের পাশাপাশি যৌন কার্যাবলীতেও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে ।

এখন এটা নিয়ে আপনি বিতর্ক করতে পারেন যে হস্তমৈথুন করলে যদি টেস্টোস্টেরন কমে যায়, তাহলে তো স্বাভাবিক যৌন ক্রিয়াতেও তা কমে যাবে? তাহলে কি মানুষ স্বাভাবিক যৌন ক্রিয়াও বাদ দিয়ে থাকবে?

 

আসলে হস্তমৈথুন আর স্বাভাবিক যৌন ক্রিয়ার মাঝে আকাশ পাতাল পার্থক্য। এটা শুধু মুখের কথা না ,এটা বৈজ্ঞানিকভাবেই প্রমাণিত। হস্তমৈথুন আর স্বাভাবিক যৌন ক্রিয়ার সময় আমাদের মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখায়। স্বাভাবিক যৌন ক্রিয়ার পরে একজন পুরুষ কখনই নিঃস্ব,রিক্ত অনুভূতি নিয়ে তার পরের কয়েকটা দিন

পার করে না কারণ তখন টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।[২]

এবার একটা লেখা পড়া যাক। Real Natural Men ব্লগের একটা আর্টিকেল –

“টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ বৃদ্ধির নানা কারণ আছে ,তবে তারমধ্যে সবচেয়ে প্রধান হচ্ছে স্বাভাবিক যৌন ক্রিয়া। এটা তাহলে একটা মজার ব্যাপার, তাই না? উদাহরণ হিসেবে একটা ঘটনা জানা যাক। ১৯৯২ সালে একটা পরীক্ষা করা হয়েছিল । এটা চালানো হয়েছিল ৪টি দম্পতির উপর । আসলে এটা জানার ছিল যে তাদের দাম্পত্যকালিন স্বাভাবিক যৌন ক্রিয়ার দিন এবং তাদের মাঝে যেদিন কোনরূপ যৌন ক্রিয়া হয় না ,এই দুই ধরনের দিনে তাদের টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ কি অবস্থায় থাকে। দেখা যায় যে , যে রাতে তারা স্বাভাবিক যৌন ক্রিয়া করেছে ,তারপর তাদের টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে যে রাতে তাদের মাঝে কোন রূপ যৌন ক্রিয়া হয় নি, তারপর তাদের টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় নি।

 

২০০৩ সালে, হস্তমৈথুন থেকে বিরত থাকা ও টেস্টোস্টেরনের পরিমাণের উপর এর প্রভাব নিয়ে পুরুষদের উপর একটা পরীক্ষা চালানো হয়। সেটার ফলাফলে দেখা যায় যে, হস্তমৈথুন থেকে বিরত থাকার প্রথম ১ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ স্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পায় । কিন্তু এরপর আরেকটা বড় ‘কিন্তু’ আছে । ৬ষ্ঠ আর ৭ম দিনে এই বৃদ্ধির হয়ে যায় ১৪৭%!!!! এই ৭ দিনের পরে টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ তার স্বাভাবিক পর্যায়ে যায়।”[৩]

এখন দেখা যাক  কেন আমাদের টেস্টোস্টেরন দরকারঃ

  • ·         এনার্জি
  • ·         স্মৃতিশক্তি
  • ·         মনোযোগ
  • ·         আত্মমর্যাদাবোধ
  • ·         আত্মনিয়ন্ত্রণ
  • ·         সুগঠিত পেশি
  • ·         দৈহিক শক্তি
  • ·         কাজ করার সক্ষমতা
  • ·         গলার স্বরের গম্ভীরতা
  • ·         মানসিক প্রশান্তি
  • ·         পুরুষের মত আচরণ
  • ·         প্রভাবশালী আচরণ
  • ·         লোহিত রক্ত কণিকা উৎপাদন
  • ·         হাড়ের স্বাভাবিক গঠনে
  • ·         যৌন ক্রিয়ার জন্য পর্যাপ্ত আমিষ সরবরাহ করা
  • ·         দীর্ঘস্থায়ী যৌন ক্রিয়াতে
  • ·         স্বাস্থ্যকর মেটাবলিজম উৎপাদনে
  • ·         লিভারের কার্যাবলীতে
  • ·         সুগঠিত প্রস্টেট গ্রন্থি গঠনে

এথেকে আমরা বুঝতে পারছি যে টেস্টোস্টেরন আমাদের শরীরের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা উপাদান। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানটাকেই আমারা হস্তমৈথুনের মাধ্যমে নষ্ট করে দিচ্ছি। এই ব্যাপারটা কি আমরা কখনও একটু মনোযোগ দিয়ে চিন্তা করি? [৪,৫,৬]

আচ্ছা যদি টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ কমে যায় তাহলে কী হতে পারে?

 

  • ·         ক্লান্তিভাব
  • ·         বিষণ্ণতা
  • ·         দুর্বল স্মৃতি শক্তি
  • ·         মনোযোগ কমে যাওয়া
  • ·         অতিরিক্ত অস্থিরতা
  • ·         কম শারীরিক সক্ষমতা
  • ·         আত্মনিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়া
  • ·         পুরুষালি আচরণ কমে যাওয়া
  • ·         আচরণে মিনমিনে ভাব আসা
  • ·         স্বাভাবিক যৌন ক্রিয়াতে আগ্রহ না থাকা
  • ·         দ্রুত বীর্যপাত
  • ·         দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
  • ·         মেরুদণ্ডে ব্যথা
  • ·         পেশী সুগঠিত না হওয়া
  • ·         শরীরে চর্বি হয়ে যাওয়া
  • ·         হাড় ক্ষয়ে যাওয়া
  • ·         চুল পড়ে যাওয়া [৭,৮,৯]

ক্রমাগত হস্তমৈথুন করে যাওয়ার ফলে আপনার আচরণ হয়ে পড়তে পারে অপরিণতদের মতঃ

অপরিণত আচরণ বলতে আমরা আসলে কী বুঝি? আসলে যাদের আচরণে অতিরিক্ত অস্থিরতা, কম আত্মনিয়ন্ত্রণ , অধৈর্য, কম মনোযোগ এগুলো ফুটে ওঠে, তাদের আচরণই মূলত বলা হয় অপরিণত আচরণ। এগুলো আসলে করবে বাচ্চারা। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির আচরণে অবশ্যই এসব জিনিস থাকবে না।

আচ্ছা আমরা তো একটু আগেই আলোচনা করলাম টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ কমে যাওয়ার ফলাফল নিয়ে। সেটা আর অপরিণত আচরণ তো আসলে দেখা যাচ্ছে তাহলে একই জিনিস।

আর আমার নিজের মতামত জানতে চাইলে বলবো যে যখন আমি হস্তমৈথুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসি , আমার আচরণ আগের থেকে অনেক পরিণত হয়ে যায় যা একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের সাথে মানানসই। আমি নিজেই এখন বুঝতে পারি যে আমি অনেক ভালো ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারি, আমি আগের থেকেও আরও বেশি ধৈর্যশীল, আত্মনিয়ন্ত্রণশীল, অধিক মনযোগী, আগের থেকে শান্ত হয়ে বসে থাকতে পারি এবং আগের থেকে বেশি মনেও রাখতে পারি। এখন আমার নিজেরই লজ্জা হয় যে আগে আমি এমন আচরণ কীভাবে করতাম!!

অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের কারণে আপনার ভিতর থেকে পুরুষালি ও প্রভাবশালী আচরণ কমিয়ে দেবেঃ

মানব সভ্যতার শুরুতে মানুষ ছোট ছোট দলে বাস করত, আধুনিক সমাজের মত সুযোগ সুবিধা সেখানে ছিলনা। সেই সমাজ ব্যবস্থাতেও একটা জিনিস বিদ্যমান ছিল।সাধারণত দলের সবচেয়ে শক্তিশালী, প্রভাবশালী সদস্য,দলনেতা সঙ্গিনী হিসেবে পেত দলের সবচেয়ে

ভালো মেয়েকে। আর এটা সে তার নিজের ইচ্ছামত করতে পারতো। অপেক্ষাকৃত দুর্বল , কম প্রভাবশালী বা সাধারণ পুরুষ রা তার তাদের সঙ্গিনী পেত তার পরে। মূলত দলনেতা যেসব মেয়েকে তার সঙ্গিনী হিসেবে নিত না তারাই এসব পুরুষদের কপালে জুটত।

এখনকার আধুনিক সমাজের সাথে আদিম সমাজের অনেক পার্থক্য থাকলেও এই ধারাটা কিন্তু এখনও

আছে । আমরা আমাদের স্কুল, কলেজ , বন্ধুদের মাঝে বা আমাদের কর্মক্ষেত্রের দিকে তাকালেই এর প্রমাণ পাবো।

তাহলে কিন্তু বোঝা যাচ্ছে একজন পুরুষের জীবনে তার পুরুষালি আচরণ , সুন্দর ব্যক্তিত্বের গুরুত্ব ঠিক কতটা । আর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে টেস্টোস্টেরন।

একজন সত্যিকারের পুরুষ হবে প্রবল আত্মবিশ্বাসী, তার কথাবার্তা ,আচার আচরনণেই তার ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠবে। তার আচরণের মাখে কোন মিনমিন করা স্বভাব থাকবে না । আর এই জাতীয় পুরুষের প্রতি সবাই সহজেই আকৃষ্ট হয় ।

আর এই ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকতে হলে টেস্টোস্টেরনের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা আগেই

আলোচনা করেছি । আসলে আমরা যখন হস্তমৈথুন করে করে আমাদের টেস্টোস্টেরন নিঃশেষ করতে থাকি , আমরা তখন বাইরে একটা পুরুষের খোলসের মাঝি আবদ্ধ থাকি। আমাদের ভেতরটা হয়ে যায় – দুর্বল, ভীতু স্বভাবের।

এর থেকে মুক্তির উপায় তো আপনার হাতেই। হস্তমৈথুন বাদ দিয়ে দিন । একমাত্র সমাধান তো এটাই।

আমি যখন হস্তমৈথুন বাদ দিয়ে দেই, সে সপ্তাহ থেকেই আমি নিজের নিজের ভিতরে আমূল পরিবর্তন বুঝতে পারি। আমার কাছে মনে হচ্ছিল আমি আগের থেকে আরও বড় , শক্তিশালী হয়ে গেছি। আমি বুক ভরে শান্তিতে শ্বাস নিতে পারছি কাজ বিপদ বা কঠিন হয়েছে তো কি হয়েছে, আমি ভয় পাই না তাতে। আমার প্রতি অন্যদের ধারনাও পাল্টাতে শুরু করলো। আর আমার নিজের মাঝে থাকা এই নতুন ‘আমি’ টাকে আমি এতদিন জানতামই না!!!!!

(বি.দ্র. এখানে মূল লেখকের কথা বলা হয়েছে)

আবার ভয় পাই না মানে এটা না যে আমি ইচ্ছা করে মারামারিতে লিপ্ত হচ্ছি বা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছি। আমি নিজের প্রতি এখন আত্মবিশ্বাসী যে ঝামেলা দেখলে তা থেকে পালিয়ে যাবো না। আমি মনে করি, সবাই ছেলে হিসেবে জন্মালেও প্রকৃত পুরুষ সবাই হয়ে উঠতে পারে না । হস্তমৈথুনের ফলে আমরা নিজেরাও জানি না যে আমরা কি অপার সুন্দর ভবিষ্যৎ নষ্ট করছি!

আচ্ছা আপনি কাদেরকে আসল পুরুষ বলে মনে করেন ? মেসি রোনালদো নেইমার বা সাকিব আল হাসান কে , তাইতো ? এরাই আপনার আদর্শ, আপনার তথাকথিত স্বপ্নের পুরুষ !

এখন সত্যি করে বলুন তো আপনার কি মনে হয় এরা সারাদিন বাসায় বসে থেকে হস্তমৈথুন করে? আপনি মনে করেন যে এরা সারাদিন দরজা বন্ধ করে বসে থেকে চুপচাপ শুধু পর্নদেখে?[১০,১১,১২]

অতিরিক্ত হস্তমৈথুন প্রায়ই জন্ম দেয় অতিরিক্ত অস্থিরতাঃ

হস্তমৈথুনের অস্থিরতার জন্ম দেয়। আর এটার সবচেয়ে বড় প্রমাণ আমি নিজেই। আমি প্রায়ই অস্থির , অধৈর্য হয়ে থাকতাম সব ব্যাপারে। কিন্তু আমি এর কারণ খুঁজে পেতাম না।

হস্তমৈথুন বাদ দেয়ার সাথে সাথে আমার ভিতরে নানা পরিবর্তন আসতে থাকে। আমার আচরণ সংযমী হতে থাকে। অস্থিরতা, অধৈর্য এই ব্যাপারগুলো আমার মাঝে হারিয়ে যেতে থাকে। এটা আমার জন্য আসলেই অনেক বড় শান্তির ছিল। আমি সব সময় আর অস্থির হয়ে থাকি না এটা চিন্তা করে যে ,অন্যরা আমাকে নিয়ে কি ভাবছে।

আমার এই পরিবর্তনের কারণ নিশ্চয়ই আপনারা এখন বুঝতে পারছেন । আসলে হস্তমৈথুনের সাথে সাথে আমাদের শরীর থেকে বিপুল পরিমাণ টেস্টোস্টেরন বের হয়ে যায়। আর অতিরিক্ত অস্থিরতাও আসে মূলত এটার জন্যই।

আসলে এটা সিগারেট খাওয়ার মতোই ব্যাপার । মানুষ ধূমপান করে মনের অস্থিরতা, দুঃচিন্তা দূর করতে কিন্তু হয় আসলে তার উল্টাটা। ধূমপানের কারণে মানুষের মনের অস্থিরতা, দুঃচিন্তা আরও বেড়ে যায়।হস্তমৈথুনের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা ঠিক তাই।[১৩]

হস্তমৈথুন মানুষের বিষণ্ণতা বাড়ায়ঃ

একজন যখন হস্তমৈথুন করে ,তখন সে তার ডোপামিন নিঃসরণকারী গ্রন্থিগুলোকে নষ্ট করে ফেলতে থাকে। ডোপামিনের গুরুত্ব নিয়ে আগেই আলোচনা করা হয়েছে। তারপরে আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছি মানুষের আনন্দের অনুভূতি আসে মূলত ডোপামিন থেকেই। আর কেউ যখন তার ডোপামিন ব্যয় করে এই হস্তমৈথুন থেকে পাওয়া অল্প আনন্দের পিছনে , তার তখন আর হস্তমৈথুন ছাড়া কিছুই হতাশা, উৎকণ্ঠা, কর্মক্ষেত্রের মেন্টাল স্ট্রেস থেকে পালিয়ে বাঁচার জন্য অনেকেই হস্তমৈথুন করেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে হতাশা, উৎকণ্ঠা, মেন্টাল স্ট্রেস আবারো ফিরে আসে শতগুন শক্তিশালী হয়ে।ভালো লাগে না।[১৪]

এই বিকৃত রুচির কাজের ফলাফলটা কী কেউ চিন্তা করি?

এই বিকৃত রুচির জঘন্য কাজের মাধ্যমে মানুষ যখন আসক্ত হয়ে পড়ে, তখন আর তার স্বাভাবিক কোন কিছুই ভালো লাগে না। সে আর জীবনে অন্য কোন কিছুই উপভোগ করতে পারে না। সে সবসময় একটা বিষণ্ণতায় ভোগে। কিন্তু সে যখন হস্তমৈথুন বাদ দিয়ে দেয় ,তার ডোপামিন নিঃসরণকারী গ্রন্থিগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরত আসতে থাকে। আর ডোপামিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থায় চলে আসলে, তার জীবন থেকে বিষণ্ণতাও দূর হতে থাকে।

সে আক্ষরিক অর্থেই তার জীবনকে উপভোগ করতে শুরু করে। এটাই তো হওয়া উচিত আসলে। সে আনন্দ খুঁজে পেতে থাকে চারপাশের ছোটখাট ব্যাপারগুলো থেকেই।

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ ……

মূললিখাটি -https://tinyurl.com/y76a7cna

পড়ুন বাকী পর্বগুলো –

পর্বত জয়ের প্রতিজ্ঞা – https://bit.ly/2Mo58dj

চোরাবালি প্রথম পর্ব – https://bit.ly/2ObItTt
চোরাবালি দ্বিতীয় পর্ব – https://bit.ly/2Qm0j7D
চোরাবালি তৃতীয় পর্ব – https://bit.ly/2p0HR8l
চোরাবালি চতুর্থ পর্ব – https://bit.ly/2QoRtGb
চোরাবালি ষষ্ঠ পর্ব- https://bit.ly/2QocEIA
চোরাবালি সপ্তম পর্ব- https://bit.ly/2x9hr81
চোরাবালি অষ্টম পর্ব- https://bit.ly/2NAhrbd
মাস্টারবেশন কী মাসলগ্রোথ এবং এথলেটিক পারফরম্যান্সের ক্ষতি করে?- https://bit.ly/2NzycUa
মিথ্যের শেকল যতো- https://bit.ly/2QpkT7f
সমকামিতা এবং হস্তমৈথুন আদিম মানুষের মধ্যে বিরল!- https://bit.ly/2CQOOT2
.

রেফারেন্সঃ

[১] https://goo.gl/7v2l2Q

[২] https://goo.gl/WUD998

[৩] https://goo.gl/lcVKqZ

[৪] https://goo.gl/Im1Ys9

[৫] https://goo.gl/inIO1g

[৬] https://goo.gl/nQfFFo

[৭] https://goo.gl/qQ76S9

[৮] https://goo.gl/tV2T8N

[৯] https://goo.gl/wJvCsl

[১০] https://goo.gl/v6hj4e

[১১]https://goo.gl/1A6W8Q

[১২]https://goo.gl/F7P8KO]

[১৩] https://goo.gl/Xskb4A

[১৪] Compulsive Masturbation: The Secret Sexual Disorder -http://bit.ly/2oVPOcq; Husted J, Edwards A. Personality correlates of male sexual arousal and behavior. Archives of Sexual Behavior 1976;5:149–5; Frohlich P, Meston C. Sexual functioning and self-reported depressive symptoms among college women. Journal of sex research 2002;39:321–5; Cyranowski JM, Bromberger J, Youk A, Matthews K, Kravitz HM, Powell LH. Lifetime depression history and sexual function in women at midlife. Archives of Sexual Behavior 2004;33:539–48

শেয়ার করুনঃ