রুদ্ধদ্বার

রুদ্ধদ্বার

ট্রেনে আসছিলাম। কিছু টিকিট বিহীন যাত্রী থাকে। সিট না পেলে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করে। আখাউড়া থেকে সম্ভবত এরকমই এক মেয়ে ভ্রমণ করলো। সিট না পেয়ে আমাদের সিট সংলগ্ন পথে দাঁড়ালো। হাবভাবে বোঝা গেল, আন্তরিক, কথা বলতে আগ্রহী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আরেক পুরুষ যাত্রী উঠলো টিকিট বিহীন। মেয়েটার পাশেই দাঁড়ালো। ট্রেনে এমনিতেই অনেক ভীড়। আখাউড়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত অবৈধ যাত্রীর সংখ্যা বেশি থাকে। ছুটির দিনগুলার আগে-পরে এদের দৌরাত্ম্যে বৈধ যাত্রীদের উঠানামাই কষ্টকর হয়ে পড়ে।

যাত্রী দুজন পরস্পর আলাপ শুরু করলো। মাঝে আমাদের সাথেও বলছে। কিছু পর ছেলেটা ফেবু আইডি চাইলো। মেয়েটাও কঠিন এক নাম বলে দিলো। সাথে রিকু পাঠানো যায় না, মেসেজ দিতে হবে ইত্যাদি। আমরাও টিকিট বিহীন যাত্রী মাড়িয়ে বহু কষ্টে নরসিংদী নেমে পড়লাম।

………..

শ্বশুরবাড়িতে একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। একটা মেয়ে খুন হয়েছে ঈদের রাতে। নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। এমনকি খুনের পর তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে।
.
শুনলাম, মেয়েটা পরকীয়ার বলি। পরিচয় সম্ভবত মাজারে। এরপর মন দেয়া-নেয়া। পরে শারীরিক সম্পর্ক করতে চায়, মেয়েটা নাকি রাজি হয় নি। ছেলেটা বিবাহিত। ১ম স্ত্রীর সাথে তালাকের পর ২য় স্ত্রীর ঘরে সন্তান আছে। বখাটে ধরনের। মূলত ধর্ষণের জন্যই বিয়ের কথা বলে ঈদের দিন নিয়ে আসে।

………..

পুরো রামাদান জুড়েই এমন নিউজ দেখেছি কদিন পরপর। ধর্ষণ, গণ ধর্ষণের পর হত্যা। পাশাপাশি আরেক ধরনের নিউজও চোখে পড়ে, ‘বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অবস্থান! অধিকাংশ সময় দেখা যায়, প্রেমিক পালিয়ে গেছে! কোন ক্ষেত্রে ঐ প্রেমিকের স্ত্রী-সন্তানও আছে। আবার পালিয়ে আসা মেয়েও স্বামী-সন্তান ছেড়ে আসছে। আবার দেখলাম, উভয়ে একাধিক সন্তানের জনক-জননী স্বামী, স্ত্রী, সন্তান রেখে পালিয়ে গেছে!

…………

দুটো জিনিস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে পাশাপাশি কঠিনও করে দেয়া হয়েছে। প্রথমটা বিয়ে। এটা আইন করে বন্ধ করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, ১৮র আগে মেয়েদের বিয়ে দেয়া যাবে না। ১৮র পূর্বে ‘বাল্যবিয়ের’ নামে বন্ধ করে দেয়া বিয়েগুলোর খবর পত্রিকায় ফলাও করে প্রচার করা হয়। ইউএনও’র আর কোন কাজ থাক বা না থাক, বিয়ে বন্ধ করা তার প্রধান কাজ। এবং এটা বিরাট সফলতা হিসেবেও দেখা হয়।
.
দ্বিতীয়ত বন্ধ করা হয়েছে সকাল বেলার দ্বীনি শিক্ষা। এটা আইন না করলেও, সকালের সাধারণ শিক্ষা বা স্কুলগুলাকে এমন নিয়মে আনা হয়েছে, সকালের মাকতাবের শিক্ষাটা অলিখিত বে-আইনের মাধ্যমে বন্ধ হয়ে গেছে। সকালের মাকতাবে শুধু কায়দা-কুরআন পড়ানো হত না। এখানে সুরে সুরে বিভিন্ন মাসআলা, তাজউইদ বা উচ্চারণের সাথে নৈতিকতা শিক্ষা দেয়া হতো। সুরগুলা বাচ্চাদের অন্তরে গেঁথে যেতো। বড় হলেও এগুলা অন্তরে সুরের সাথে বাজতো। আমাদের এখনও বাজে। শিশুকালের এই নৈতিকতা তাকে বড় কালেও অনেক অন্যায় হতে বিরত রাখতো। সে নারীকে সম্মানের সাথে দেখতো। চোখ তুলে তাকাতো না। ধর্ষণ তো তার জন্য মরে যাওয়ার শামিল।
.
এবং একটা জিনিস খুলে দেয়া হয়েছে। অশ্লীলতা। অশ্লীলতার দরজা প্রায় সর্ব দিক দিয়ে খুলে দেয়া হয়েছে। এটা বন্ধুত্বের নামে, এটা সহশিক্ষার নামে, এটা আধুনিকায়নের নামে, এটা নারীর ক্ষমতায়নের নামে, এটা নারী-পুরুষের সমান অধিকারের নামে।

…………

পুরুষের স্বভাব হল, সে সুযোগে নারীকে পেতে চাইবে। সে যখন বিবাহিত হয়, তখন সুযোগ পেলে ভিন্ন নারীর সাথে শারীরিক সম্পর্কই তার উদ্দেশ্য। অপরদিকে নারীর স্বভাব হল, সে এক পুরুষকেই এককভাবে চাইবে। সেটা স্বামীকে ছেড়ে প্রেমিকের সাথে পালিয়ে গিয়েও হোক।

………..

নারী-পুরুষের মাঝে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। নারীর বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। পুরুষের দ্বীনি শিক্ষা বন্ধ করা হয়েছে।
.
নারীকে সমাজে, লোকালয়ে ব্যাপক করা হয়েছে। তারা পুরুষের সাথে অবাধে মিশছে। পুরুষের স্বভাব চাইছে তাকে শারীরিকভাবে পেতে। নারীর বয়স বৈধ পন্থায় তাকে পাওয়া রুদ্ধ করেছে। নারী-পুরুষের দ্বীনি শিক্ষা নাই। তারা অবৈধভাবেই মেলামেশা করছে। এবার নারীর স্বভাব চাইছে, ঐ পুরুষকে এককভাবে পেতে। নৈতিকতাহীন পুরুষের আশপাশে নতুন নতুন অল্পবয়স্কা, সমবয়স্কা নারী। সে অবৈধভাবেই যখন নিত্যনতুন নারী সঙ্গ পাচ্ছে, কেন পুরনো এক নারীর সাথে চিরকালের জন্য আবদ্ধ হবে? অথবা সে বৈধভাবে আগে থেকেই এক নারীর সাথে আবদ্ধ। সম্প্রতি যৌন চাহিদায় মেলামেশা করা নতুন নারীকে সে কিভাবে স্থান দিবে?
.
এসব থেকে টানাপোড়েন এবং শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভিকটিম আমাদের নারীরাই। প্রতিদিনই তারা কোথাও না কোথাও খুন হচ্ছে, ধর্ষণ হচ্ছে, গণধর্ষণ হচ্ছে এমনকি খুনের পরও ধর্ষণ হচ্ছে নতুবা আগুন ঢেলে দেয়া হচ্ছে। নৃশংসভাবে তাদের মারা হচ্ছে।

……….

পরিত্রাণের জন্য সর্বপ্রথম একটা চালু জিনিস বন্ধ করতে হবে। অশ্লীলতা। সেটা যে নামেই হোক। উপরে নামগুলা বর্ণনা করা হয়েছে।
.
এবং দুটো বন্ধ জিনিস খুলে দিতে হবে। একটা বিয়ে। বিয়ে অবাধ করতে হবে। বিয়ে অবাধ করলে নারী নিরাপদ হবে। আরেকটা, সকাল বেলার দ্বীনি শিক্ষা। এটা বাধ্যতামূলক করে দিতে হবে। একটা বাচ্চার অন্তরে যখন আল্লাহর ভয়, ভালবাসা প্রবেশ করিয়ে দেয়া হবে, তার থেকে বাকি সবাই নিরাপদ হয়ে যাবে, ইনশা-আল্লহ! বড় হয়ে তার সামনে উলঙ্গ নারী পড়ে থাকলেও সে চোখ তুলে তাকাবে না। ধর্ষণ দূরে থাক!
.
Written by: Nijam Uddin

শেয়ার করুনঃ

কুড়ানো মুক্তো (দ্বিতীয় পর্ব)

শয়তানকে ঠেকানো অনেকটা হাত দিয়ে জলস্রোত ঠেকানোর মতো। ইস্তেগফার আর সর্বোচ্চ সতর্কতা ছাড়া বাঁচার উপায় নাই।

যৌনতা প্রকাশকারী অশ্লীল মেয়েদের চেয়ে ভয়ঙ্কর কিছু রাস্তায় আছে বলে মনে হয়না। অথচ তাঁরা মনে করে সৌন্দর্য প্রকাশের অধিকার তাদের আছে। আর মাত্রই দেখলাম শিশু বিবাহ বন্ধের ডাক দিয়ে বলা হচ্ছে ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যাবে না। এটা আপনি বলতেই পারেন কিন্তু একটা মেয়ে কম বেশি ১২ বছরের পর যে আর শিশু থাকে না তা বোধকরি কারও অজানা নয়। পারলে সে প্রক্রিয়াটা ঠেকিয়ে দেন না! পারবেন প্রতি  মাসের পুর্নিমাকে হাত দিয়ে আড়াল করতে?

ছেলেরা ১৪ বছর বয়স থেকে পরিণত যদিও আইন তাকে শিশু বলে। আইনে বলা শিশু যে আসলে কি ধুর্ত সিংহ সেটা তার খপ্পরে না পড়লে বোঝা যায় না। দেখেন মানুষের বিবেচনা বুদ্ধি এক আর যিনি মানুষের স্রষ্টা তার বিবেচনা আর বুদ্ধি আরেক। তিনিই তৃষ্ণা সৃষ্টি করেছেন আবার তিনিই পানির ব্যাবস্থা করেছেন। এখন কেউ যদি বলে যতই তৃষ্ণার্ত  হও পানি পাবে না বাতাস খাও, হবে? হবে না। দেখেন বোনেরা এটা এমন একটা বাস্তবতা যে মানুষ সৃষ্টিগতভাবেই এমন।

আমি একটা বাস্তব উদাহরন দিই। একটা নামকরা বিশাল গৌরবপুর্ন ঐতিহাসিক ইউনিভার্সিটিতে আমার কিছু বন্ধু ছিলো। একদিন তাদের আবাসিকে গিয়ে দেখলাম মোবাইলে কিছু ভিডিও দেখছে। কিসের জানেন? মোবাইলের ক্যামেরা অন করে সবার অগোচরে ধারন করা মেয়েদের শরীরের ভিডিও। বুঝেন এবার সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারীদের ক্ষুধা কত তীব্র। ও হ্যাঁ আমার ভার্সিটিতেও যে এমন কিছু ছিলো না এমন না। মেধাবীদের বুদ্ধি জানেনতো ! সে তো ছিলো ২০০৭ এখন ২০১৬। অগ্রগামী টেকনোলজির সুবিধা কোথায় চলে গেছে! সাথে গেছে চাহিদাও।

বোনেরা! এই বিষয় নিয়ে লেখার কোনদিন ইচ্ছা হয়নি। কিন্তু রাস্তায় চলতে ভীষন কষ্ট হয়। ডানে বামে সামনে কোথাও আপনারা  কোন সুযোগ রাখেননি। সবসময় নিচে তাকিয়ে চলা সহজ নয়। আপনার উপর অনিচ্ছাকৃত একটা দৃষ্টি হয়ত মাফ হবে কিন্তু তার প্রভাব অন্তর জালিয়ে দেয়। যদি বিশ্বাস না হয় তাহলে এমন কোন মেয়েকে জিজ্ঞেস করুন জোর করে যার নিকাব খুলে নেওয়া হয়েছে অতঃপর তার অন্তরের কি অবস্থা হয়। বিশ্বাস করেনআপনার নগ্নতা আমাদের আনন্দ দেয় না, আযাব দেয়।

বোনেরা! বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে যেহেতু এড়ানোর উপায় নাই। লক্ষাধিক পিপাসিত যুবকের মাঝে নিজের সৌন্দর্যকে প্রকাশ করে যৌনতাকে উস্কে দেওয়ার কোন মানে নাই। জান্নাতের সুধাতো দুরের কথা ঘ্রানও কিন্তু জুটবে না।

 [ সংগৃহীত ]

যে দু’চোখ দিয়ে মুভি, নাটক, পোস্টার, বিলবোর্ড, পত্রিকা, বিজ্ঞাপন আর স্ক্রীনে নারীদের সম্মান হরণ করা হয় প্রতিদিন-প্রতিক্ষণ, তোমার সেই দু’চোখ যে ধর্ষকেরই চোখ তা তোমাকে কেউ বলে দিবে না। কেউ তোমাকে বলে দিবে না যে তোমার জঘন্য ঐ দুই চোখ ব্যভিচারী চোখ।
.
ছেলে তুমি সাবধান!

সুরা নূরের ৩০ নং আয়াতে তোমার সর্বশক্তিমান প্রতিপালক, প্রজ্ঞাময় ন্যায় বিচারক তোমাকেই তোমার দৃষ্টি সংযত রাখার “আদেশ” করেছেন, ওইটুকু মনেগেঁথে রেখে আগে নিজে ঠিক হও, পশু থেকে  মানুষ হও, তাহলেই হবে। তোমার কাছ থেকে তোমার ব্যাপারে ৩০ নং আয়াতেরই হিসেব নেয়া হবে এটা ভুলে যেও না। কক্ষণো না।
.
কুরআনে কোনকিছুই এমনি এমনি নেই। ছেলেদেরকে এমনি এমনি খেলাচ্ছলে আগে আদেশ করা হয়নি। ৩১ নং আয়াতে যাবার আগে ৩০ নং আয়াতটাকে জীবনে প্রতিষ্ঠা করে নাও ছেলে। ৩১ নং আয়াতে যাদেরকে আদেশ করা হয়েছে তাদের হিসেব তাঁরা দিবেন। তাঁরা সেই আদেশ মেনে না চললে তোমার কিছুই করার নেই। তুমি বড়জোর তাদেরকে আয়াতটা জানাতে পারো, দু’আ করতে পারো নিজের আম্মু, বোন, স্ত্রী আর কন্যার জন্যে। এইতো!
.
তবে তারা সেটা না মানলেও মনে রেখো, তুমি কিন্তু তোমাকে করা আদেশটুকু মানতে বাধ্য। যারা আয়াতটার আদেশ লঙ্ঘন করেন তাদেরকেও তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে তুমি বাধ্য। এইটা ভুলে গিয়ে তাদের করণীয় কর্তব্য নিয়ে রগ ফুলিয়ে বিতর্ক করে নিজের কর্তব্যকে এড়িয়ে গিয়ে জাস্টিফাই করবার দুঃসাহস তুমি করতেই পারো, কিন্তু তাতে ছাড় তুমি পাবে না, একটুও না, এইটুকু জেনে রাখো। যেসব কন্যা, স্ত্রী, মা কিংবা বোনের সম্মান তুমি নষ্ট করেই যাচ্ছো প্রতিদিন, তুমি কি মনে করেছো তার পইপই করে হিসেব নেয়া হবে না? তোমারই দু’চোখ সবচাইতে ভয়ংকর দিনে তোমার বিপক্ষেই সাক্ষী দিয়ে তোমারই মহাধ্বংসের কারণ হবে না? এত্তো সোজা?
.
ভাইরে, নিজের হিসেব নিয়ে চিন্তিত হও। নিজে ঠিক হও।

[ সংগৃহীত]

 

কোথাও কেউ নির্যাতিত হবে তখনই শাহবাগীরা কিংবা বিবিসির মত এন্টিইসলামিক গ্রুপগুলো ইসলামিক রুলিংস টেনে আনবে । তনু হত্যার ঘটনায় শাহবাগীরা তাদের ইভেন্টের ইন্ট্রোতে খেঁজ কাটা কুমিরের গল্পের মত হিজাবকে টেনে আনছে। আবার বিবিসির মত তুখোড় (!!) মিডিয়াও যখন বলে হিজাব করেও নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে পারেনি, তখন এদের ভন্ডামিগুলো বুঝা যায়। অথচ ইসলামিক রুলিংসগুলো একটা আরেকটার সাথে এমনভাবে যুক্ত যে একটা ব্রেক করলে অন্যটির সাথে ভারসাম্য হারাবে। ইসলাম কমপ্লিট কোড অব লাইফ। চুজ এন্ড পিক মেন্টালিটি নিয়ে প্র্যাকটিস করতে গেলে ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

গতবছর পহেলা বৈশাখের ঘটনায়ও মুক্তমনা!! ভন্ডরা মূল ঘটনা রেখে ইসলামিক রুলিংসের বিরোধিতা করছিল । সে সময়ের জুবায়ের ভাইয়ের লেখাটা বর্তমানের জন্য সত্য–

” নারী সংক্রান্ত যেকোন আলোচনায় অবধারিতভাবে যে কথাটি উঠে আসবে তা হল-“অমুক অমুক বিধান মেনেও তো মেয়েরা তমুক তমুক সমস্যায় পড়ে”। এটা হল শয়তানের শয়তানি, চালবাজের চালবাজি আর ইসলামকে ফিশিং গেম জ্ঞান করে চুজএন্ড পিকের ফল।

আগেও বলেছি, ইসলামের বিধানগুলো একটা অন্যটার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটাকে বাদ দিয়ে আরেকটা মানলে সমস্যা থেকেই যাবে। মাহরাম ছাড়া নারীরা সফর করবে না

এটাই আদেশ, তাই বলে মাহরামকে নিয়ে যেখানে খুশি যাব আর সমস্যায় পড়ব না, তা না। কোনখানে যাওয়া যাবে আর কোনখানে যাওয়া যাবে না সেই ব্যাপারেও ইসলামের কিছু বলার আছে। টিএসসিতে নিগৃহীত হওয়া নারীর সাথে তার স্বামী ছিল, এই তথ্য মাহরাম থাকার প্রয়োজনীয়তা কমায় না। যেমাহরাম আপনাকে নিয়ে বখাটেদের ভিড়ে গমন করায়, সে আবার কীসের প্রটেক্টর?

ফ্রি মিক্সিং এর স্বর্গরাজ্যে স্বেচ্ছায় নিজেকে ভাসিয়ে দিলে শুধু স্বামী কেন, বাকি তেরজন মাহরাম সাথে থাকলেও বিপদ এড়ানো যাবে না। প্রথমত এবং প্রধানত, মেয়েরা ঘরের ভেতর থাকবে এটাই

আল্লাহ’র হুকুম।শরীয়তসম্মত জরুরতে যখন বেরোবে তখন আপাদপমস্তক আবৃত থাকবে, নো সাজসজ্জা, নো পারফিউম; আর দূরত্ব বেশি হলে মাহরাম সাথে থাকা মাস্ট।

এই অবধি বলার পর শয়তান আরেক যুক্তি এনে হাজির করবে-“অথচ মেয়েরা নিজের ঘরেও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়, তবে ঘরে থেকে লাভটা কী?”

আল্লাহর ওয়াস্তে অন্তরের ধুলো সরান। মেয়েরা ঘরেও হ্যারসড হয় বটে। কাদের দ্বারা হয়?

– খালাতো- মামাতো-চাচাতো ভাই, দুঃসম্পর্কের চাচা-মামা ইত্যাদি দ্বারা।

ইসলাম কিন্তু এও বলে দিয়েছে মেয়ের ঘরে এরা অ্যালাউড না, এরা গায়েরে মাহরাম, এদের সামনে দেখা দেওয়া যাবে না। অথচ কী অবলীলায়  একঘরে তাদের রেখে বাপ-ভাই রা বেরিয়ে যায় বাসা থেকে, আর দুর্ঘটনা ঘটলে দোষ নাকি মোল্লাদের। এদের মস্তিষ্কে কী পরিমাণ আচ্ছাদন পড়েছে!

[ সংগৃহীত] ]

রাতে পর্ণ দেখে অপবিত্র শরীরে ঘুমালে। সকালে ক্লাসের মেয়েদের শরীর নিয়ে চর্চা করলে। রাস্তা ঘাটে চোখ দিয়ে নানা কিছু দেখে খায়েশ মেটালে। বন্ধুদের আড্ডায় আরেক জনের বোনকে নিয়ে যা ইচ্ছা তারই চর্চা করলে। বিকালে এসে ফেসবুকে তনু ধর্ষণের বিরুদ্ধে লেখা স্ট্যাটাসে লাইক দিলে এবং প্রতিবাদী ফেসবুক ইভেন্টগুলোতে going দিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর গিললে।

না, এত সহজ নয়। যুবক! তোমার ঝামেলা আছে। তোমার অন্তরে মারাত্মক ব্যাধি আছে। ভাল হও, ভাল হবার ভাণ ধরো না। কারণ তোমার প্রতিদিনকার আচরণে মনে হয়না আমাদের বোনেরা তোমার কাছে নিরাপদ।

[ সংগৃহীত]

চলবে ইনশা আল্লাহ …

কুড়ানো মুক্তো (প্রথম পর্ব) – https://bit.ly/2oZCWEn

কুড়ানো মুক্তো (তৃতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2x3aGoY

কুড়ানো মুক্তো (চতুর্থ পর্ব) – https://bit.ly/2x8qyWv

কুড়ানো মুক্তো (পঞ্চম পর্ব)- https://bit.ly/2x33lpc

শেয়ার করুনঃ

কুড়ানো মুক্তো(তৃতীয় পর্ব)

এক যে ছিল দেশ ……

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

একটা দেশ ছিল। সে দেশে একসময় স্কুল-কলেজে নৈতিকতা শেখানো হতো। ছেলে-মেয়েরা অনেক লাজুক ছিল। লজ্জা তাদের কাছে “ঈমানের অঙ্গ” ছিল।
.
একদিন এক সে দেশে পশ্চিম থেকে নতুন সংস্কৃতি নিয়ে আসা হলো। ছেলেমেয়ের ফ্রী-মিক্সিং সহজ হয়ে গেলো। বলা হলো “আই কন্টাক্ট করা বাধ্যতামূলক”, “লজ্জায় ক্ষয়”। দিন যেতে থাকলো। একসাথে বসে আড্ডা দেওয়া সহজ হয়ে গেলো। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এলো ডিজুস। বললো গার্লফ্রেন্ড জুটাও। আছে “দুনিয়ার সুখ”। কথা বলো দিন-রাত “ফ্রি”। আর ঠেকায় কে?
.
এয়ারটেল এসে জানালো তারা “ভালোবাসার টানে পাশে আনে”। বাংলালিংক দেখলো তাদের “দিন বদলের গল্প” আর কেউ শুনছে না। সুড়সুড়ি না দিতে পারলে মার্কেটে টেকা দায়। তারাও আনলো বাংলালালিংক “দেশ”। নাচানাচি শুরু হলো দেদারসে। কিছুদিন পর আরো বিভিন্ন বিতিকিচ্ছা। এরপর আরো অনেক কিছু এলো।
.
“অশ্লীলতা”কে ডালভাত বানাতে মরিয়া “প্রথম আলো”, “ডেইলি স্টার” থেকে শুরু করে সব পত্রিকা। ডঃ মেহতাব খানম পরামর্শ দিলেন, “শারীরিক সম্পর্ক দোষের কিছু না”। ডেইলি স্টারে বের হতে লাগলো শো-বিজ। অশ্লীলতায় সয়লাব হয়ে গেলো। প্রথম আলো “কারিনা রুটি বানাতে পারে” কিনা এই খবর রাখে। রাখে তাদের বাসায় কে কখন আসে সে কথা। এভাবেই সেলিব্রিটি-স্টার তৈরি করলো। ছেলে-মেয়েদের শেখালো তাদের মতো হও। আরেক মীরজাফর কলাম লিখে বাচ্চাদের পরামর্শ দিলো ধর্ম না শিখে প্রেম শিখতে। পাঠ্যবইয়ে ইসলামকে বানানো হলো ভিলেন।
.
ছেলে-মেয়েরা হিন্দি মুভি-সিরিয়াল থেকে শিখলো প্রেম কতটা মহৎ। এবার এর সাথে যুক্ত হলো কলকাতার যৌনতাভিত্তিক সিনেমা। সব সহজ হয়ে গেল। পরিবর্তন মাইন্ডসেটের। মোবাইলে মোবাইলে, সাইটে সাইটে অশ্লীলতার জয়জয়কার হয়ে গেল। চেতনা ব্যবসায়ীরা সফল।
.
একের পর এক ঘটনা ঘটতে থাকলো। ইভ টিজিং বেড়ে গেল। বেড়ে গেলো ধর্ষণ। কেউ বললো পর্দার প্রয়োজনীয়তা। কেউ বললো দৃষ্টি সংযত রাখার কথা। কুর’আনে এই সমাধান আছে জেনেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সবাই যার যার মতো চলতে থাকলো। শুরু করলো পালটা ডিস্কোর্স। পোশাক দায়ী নাকি মানসিকতা দায়ী। অথচ পাগলেও বুঝবে দুটোই দায়ী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্দা করাই কাল হয়ে দাঁড়ালো। লম্পট মানসিকতার শিক্ষকরা একের পর এক ঘটনা ঘটাতেই লাগলো।
.
খুব বেশি খুন থেকে শুরু করে রেইপ কেস বেড়ে গেলো। বেড়ে গেলো ব্যভিচার। এই দেশে ব্যভিচার আইনসিদ্ধ। ইচ্ছাকৃত হলে “নো প্রবলেম”। যে কয়টা রেইপ হয়েছে তার বিচারেও শুভঙ্কর বাবুর ফাঁকি।
.
ইয়ং জেনারেশন খুব অনুপ্রেরণা পেল। তারা দেখলো যারা আসলেই জীবনের মানে বুঝেছে এই দেশ তাদের মূল্য দেয় না মোটেই। এদেশে স্টার হলো পতিতারা। সহজ কথা। আবারো বলছি। পতিতারা। হলিউড-বলিউডের তথাকথিত সেলিব্রিটিদের পূজা করতে শিখিয়েছে এই মিডিয়া। স্বভাবতই ছেলে-মেয়েরা তাদের মতোই হতে চাইলো। ভুলে গেল লাজ-লজ্জা সব।

.
১) এর মাঝে ভিডিও ভাইরাল হয়। এক ছেলে আরেক মেয়ে সম্পর্কে “খেয়ে ছেড়ে” দেওয়ার কথা বলে।
২) ভিডিও ভাইরাল হয়। কলেজ ড্রেসে ফিল্মি কায়দায় প্রপোজ করে, (বলতেও পারছিনা), ভিডিও করে।
৩) ভিডিও ভাইরাল হয়। স্কুল ড্রেসে ফিল্মি কায়দায় প্রপোজ করে, (বলতেও পারছিনা), (বলতেও পারছিনা), ভিডিও করে।
.
আরেকদল বলতে লাগলো, “তো হয়েছে টা কী? নিজেদের সম্মতিতেই তো?” অথচ যা ছিল “বিয়ে” এখন তার জায়গায় “সম্মতি” নিয়ে আসা হয়েছে। কুর’আনে যাকে বলা হয়েছে ব্যভিচার। এই গুনাহর মাত্রাটা হত্যার পরেই।
.
আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা জেনার কাছেও যেওনা”। ব্যভিচারী নারী ও পুরুষকে শাস্তি দিতে আমাদের যেনো দয়ানুভুতি সৃষ্টি না হয় সে ব্যপারে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন মহান রাব্বুল ‘আলামীন।
.
ন্যুনতম লজ্জাটাও উঠে যাচ্ছে। অবস্থা কতটা শোচনীয় কল্পনা করা যাচ্ছে না। কোনটাই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ভাবছি আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।
.
হ্যাঁ! এই কথাগুলো লিখেছি কারণ আমরা এ প্রজন্মের লোক। এ প্রজন্মকে এমন বিকৃত দেখতে চাইনা। চাইনা। আমরা এমন দেশ চাইনা। আমরা পরিবর্তন চাই। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। ইয়া আল্লাহ, আমাদের হেফাজত করুন। আর দেশটাকে অশ্লীলতার আধার বানাতে প্রচেষ্টারত গোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিন। আমীন

– Abu Zuwainah

আমাদেরই সহপাঠী, কাসিন ফেসবুকে এমন আছে, যারা যত রকমের মডেল (রূপোপজীবিনী – রূপ বেচা যার জীবিকা), এক্ট্রেস, এমনকি পর্নস্টারদের পেইজে লাইক দিয়ে রাখছে। তাদের পোস্টে লাইক দিচ্ছে।
.
সেগুলা মানুষের নিউজ-ফিডে এসে পড়ছে! সাজেশন লিস্টে এসে পড়ছে। নৈতিকভাবে কতোখানি নিচে নেমে গেলে একজন প্রকাশ্যে নিজের পার্ভার্টেড কামাসক্তি এভাবে প্রকাশ করতে পারে! অনেকে তো বুঝিয়ে বলার পরও এসব চালিয়ে যায়।
.
প্রচলিত নাটক-সিনেমা-গানও যে এর বাইরে তাও না! এসবই অশ্লীলতার অন্তর্ভুক্ত। অন্তর্ভুক্ত যত অশ্লীলতা প্রচারকারী সংবাদও। কে কার বিছানায় শুইলো, কার mms লিক হয়েছে, কে শুটিং এ “সাহসী” দৃশ্যে অভিনয় করলো, এগুলা নিয়ে আলোচনা করাও অশ্লীলতা প্রচারের অন্তর্ভুক্ত। যদি এটা বাস্তবে সত্যও হয়, তবুও। অশ্লীল যেকোনও সংবাদ রাখ-ঢাক করাই ইসলামের বিধান।
.
ব্যক্তিগত একপেরিয়েন্স বলি; সেদিন একটা নতুন আইডি খুলেছি ফেসবুকে। স্কুল, কলেজ আর ভার্সিটির সামান্য কিছু সহপাঠীদের নিয়ে। একেবারেই ব্যাবহার করা হয় না বলতে গেলে। গতকাল লগ-ইন করেছিলাম।
.
সার্চবারে একটা ওয়ার্ড, সেটা যাই হোক, প্রেস করার সাথে সাথেই নিচে সব নোংরা একাউন্ট আর পেজের রেসাল্ট! এমন না যে আমার আইডি থেকে এসব আগে সার্চ করা হয়েছে। বরং ফেসবুকের ‘গ্রাফ-সার্চ’ বন্ধুদের সার্চগুলা প্রেফার করছে!
.
আমার যেই সহপাঠীরা ভাবছে, “আমার সার্চ তো কেউ দেখছে না”, বিষয়টা মোটেই তা না। বরং আপনার সার্চ হিস্ট্রি আপনি ক্লিয়ার করলেও সেটা যাবে না। আপনার সার্চবারে একটা ওয়ার্ড লিখলেই তা পাওয়া যাবে। আপনার যে কোনও আপনজনের কাছে যে কোনও দিন আপনি হয়ে যেতে পারেন লাঞ্ছিত!
.
বলার অপেক্ষা রাখে না, আমাদের সহপাঠীদের মানসিকতা কী। অথচ এরাই সহপাঠিনীদের ব্যাপারে দাবি করেঃ “এরা আমাদের বোনের মত।” যদিও বোনের মত সহপাঠিনীদের সাথে এমন সব “ফান” করে, যা এভাবে স্বামী-স্ত্রীরাও করতে লজ্জা পাবে!
.
আর বোনদের আড়াল হলে, নিজের দুই কানে শুনেছি, এসব কথা না চাইলেও আশে-পাশে থেকে কানে আসে; কত্তো সুন্দর রূপ ও দেহের প্রশংসা! “মাল”, “লেজ”, সহ আরও কত্ত বাহারি শব্দ। ফল-ফলাদির সাথে সাদৃশ্য রেখে তাদের “বোনদের” এক্সপোসড হওয়া দেহের বিভিন্ন অংগ নিয়ে তারা যা বলে, সেগুলা সুস্থ ভাষায় প্রকাশ করার মত না।
.
যারা ধর্ষণের প্রতিবাদে সবার চেয়ে বেশি লাফালাফি করে, যেন কয়টা লাইক কামাই হয়, ফলোওয়ার বাড়ে, নিউজে তাকে কাভারেজ দেয়া হয়, তাদের বেশিরভাগ অংশই কথায় কথায় অন্যের মা-বোনকে মুখ দিয়ে ধর্ষণ করে যায়! এটাকে তারা খুলনেসের অংশই মনে করে!
.
সেদিন ভার্সিটিতে ক্লাসে যাওয়ার পথে তিন ছেলের কথা কানে আসলো। একজন আরেকজনকে হিংসার সাথে বাহবা দিচ্ছে, কারণ তার দুই পাশে দুই সুন্দরী সহপাঠিনী বসেছে, যাদেরকে সবার সামনে তারা ‘বোনের-মত’ পরিচয় দেয়। তাদের কুরুচিপূর্ণ কথা উহ্য রাখলাম।
.
একদল মেয়ে আছে, যারা এই ছেলেদের মতই পার্ভার্ট; এরা এগুলা খারাপ কি দেখবে – উপভোগ করে! তাদের বাদে, অনেক বোনই আছেন, এগুলা বুঝেন না। তারা এই ছেলেগুলাকে ভাইয়ের মতই ভাবেন। কিন্তু জানেন না, এই “ভাইয়ের-মত” ছেলেগুলাই তার দিকে কীভাবে দৃষ্টি দেয়, আর তাদের বন্ধুদের কাছে তাকে কিভাবে উপস্থাপন করে!
.
ফ্রি মিক্সিং এ অভ্যস্থ এই ধরণের অধিকাংশ ছেলেদের সমাজে “ভালো ছেলে – Good boy” হিসেবে দেখা হয়। ফ্রি-মিক্সিং এর এই ঘটনাগুলো ‘বিচ্ছিন্ন’ ও ‘তাদের বয়সের দোষ’ বলে এড়িয়ে যায় সমাজ! ফলে সমাধান আর হয়য় না, ফলশ্রুতিতে অশ্লীলতার সাথে সাথে ধর্ষনের ঘটনাও বেড়ে যায়।
.
প্রাকৃতিক ভাবেই একজন পুরুষের নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি আর একজন নারীর পুরুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়। এই বিষয়টা মিডিয়ার অপপ্রচার আর পরিবার-সমাজের অসচেতনতার কারণে নারীদের অনেকেরই অজানা রয়ে যায়।
.

.
নারীকে পণ্য বানানো নষ্ট মিডিয়া ও নষ্ট সমাজ ব্যাবস্থা আমাদের বোনদের আজ শেখায় সৌন্দর্য্যের সংজ্ঞা, সৌন্দর্য্য কার কাছে, কীভাবে প্রকাশ করতে হবে, তার উপায়।
.
আমার এই ছোট্ট লাইফে, অনেক মেয়েদের দেখেছি, তারা লাইফে কোনোও এক সময় হলেও মডেল হওয়ার স্বপ্ন দেখতো! বিশেষত সাদা মেয়েরা। তাদেরকে শিখানোই হয়েছে, “পুরুষের কাছ থেকে দেহের ও সৌন্দর্যের বাহবা পাওয়াটাই তোমার জীবনের সার্থকতা!”
.
একথা অনস্বীকার্য যে, আমাদের সমাজে দ্বীনের যা চর্চা হয়, তাতে নারীগণ বেশ পিছিয়ে। অথচ সালাফগণের থেকে জানা যায়, তাদের নারীগণ দ্বীনের জ্ঞানে পুরুষদের থেকে কম ছিলেন না। হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাঃ এর জ্বলন্ত প্রমাণ। একারণের তারা উত্তম মা ছিলেন। উত্তম সন্তান তৈরি করতে পেরেছেন। সচেতনতা বাড়াতে ইসলামের চেয়ে উত্তম কোনও বিকল্প কেউ কখনই দিতে পারবে না।
.
বয়েজ স্কুলেই দেখেছি, সুন্দরী টিচারদের উপভোগের জন্য “কোমলমতি ছেলে” -দের একদল কীভাবে সামনের বেঞ্চে যায়, আরেকদল পিছনের বেঞ্চে যায়। পিছনের বেঞ্চে কী হয়, না লিখি।
.
কম্বাইন্ড স্কুলের ভয়াবহতা আমার খুব জানা নেই। আমাদের সময়ের দু-একটা ঘটনা শুনেছি, এটা বলার দরকার রাখি না, এগুলা সেই ৬০-৭০ এর দশক থেকেই এমন, আমার আব্বার ডায়রীতে এক মিশনারি শিক্ষকের জবান থেকে উনি এরকমই লিখে রেখেছিলেন, সেই শিক্ষক এসব কারণে তখন চাকরিই ছেড়ে -চটির সাথে পরিচিতি আসলে কিন্তু কাসিন আর বন্ধুদের থেকেই হয়ে থাকে, যেগুলা সেই “বড়োদের” ডেস্ক থেকে মারা। এটা আমাদের সময়কার কথা। এখন হাই স্পিড ইন্টারনেটের বদৌলতে, যে কোনও শিশু নিজেই এগুলা আবিষ্কার করে ফেলতে পারে কয়েক ক্লিকে। বন্ধুদের পর্ন ছড়িয়ে দেয়ার এক ভয়ংকর পরিণতি নিয়ে একটা ভিডিও আছে ইউটিউবেঃ youtu.be/jE5m5qjMEzE.
.
পার্ভার্শন এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, কোনও লাজুক ছেলে যদি এইসব “শর্ট-ড্রেস, হাতাহাতি, ওরনা টানার খেলা” দেখে বিরক্তি প্রকাশ করে, তবে সে হয়ে যায় পার্ভার্টদের দৃষ্টিতে পার্ভার্ট। পার্ভার্শনে আক্রান্ত ছেলে-মেয়েরা তাদের কাজগুলোকে যৌনতার মাঝেই কাউন্ট করে না।
.
http://www.yourbrainonporn.com/ এ একটা ভিডিও দেখেছিলাম এই বিষয়ে যে, পর্ন কিভাবে ব্রেইনের উপর এই পার্ভাশন এফেক্ট তৈরি করে, যাতে করে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্রমশঃ দুর্বল হওয়া নার্ভ গুলো বুঝেই উঠতে পারে না যে, একজন পর্ন-নেশা-মুক্ত মানুষের উত্তেজনা তাদের থেকে আরও দ্রুত ও অল্পতেই তৈরি হয়।
.
ছেলে বা মেয়ে যে কেউই এতে সমানভাবেই আক্রান্ত হতে পারে, হয়তো বা এ কারণেই মেয়েরা তাদের নারী-সুলভ শালীনতা হারিয়ে ফেলছে। ছেলেরাও অসংযত আচরণকে প্রচার-প্রসার করে বেড়াচ্ছে। এভাবে তারা অজান্তেই জেনারেশন আফটার জেনারেশন অশ্লীলতার প্রচার করে যাচ্ছে।
.
ইহুদি-খ্রিস্টানরা খুব ভালো করেই বুঝে যে, শক্তির লড়াইয়ে মুসলিমদের সাথে তারা পারবে না। আদর্শগত যুদ্ধে তাই তারা যুবক-যুবতীদেরকে ডুবিয়ে রেখেছে বিভিন্ন লেভেলের অশ্লীলতায়।
.
আল্লাহ অশ্লীলতার প্রচারকারীদের ইহকাল ও পরকালে শাস্তি দিবেন বলেছেন। সম্ভবত আজকে মুসলিমদের এই করুণ অবস্থার পিছে অশ্লীলতায় ডুবে থাকা সমাজই দায়ী।
.
আল্লাহ বলেনঃ
.
“যারা পছন্দ করে যে, ঈমানদারদের মধ্যে অশ্লীলতা প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্যে ইহাকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না।
যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত এবং আল্লাহ দয়ালু, মেহেরবান না হতেন, তবে কত কিছুই হয়ে যেত!
.
ওহে যারা ঈমান এনেছো! তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। যে কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তখন তো শয়তান নির্লজ্জতা ও মন্দ কাজেরই আদেশ করবে।
.
যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া তোমাদের প্রতি না থাকত, তবে তোমাদের কেউ কখনও পবিত্র হতে পারতে না। কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পবিত্র করেন। আল্লাহ সবকিছু শোনেন, জানেন।”
.
[সূরাহ্‌ আন্‌-নূর, আয়াত ১৯-২১]
.
লেখক- অজ্ঞাত

পড়ুন-

কুড়ানো মুক্তো (প্রথম পর্ব) – https://bit.ly/2oZCWEn
কুড়ানো মুক্তো (দ্বিতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2p1YeS2
কুড়ানো মুক্তো (চতুর্থ পর্ব) – https://bit.ly/2x8qyWv
কুড়ানো মুক্তো (পঞ্চম পর্ব)- https://bit.ly/2x33lpc
শেয়ার করুনঃ
কুড়ানো মুক্তো (চতুর্থ পর্ব)

কুড়ানো মুক্তো (চতুর্থ পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

[বউয়ের ছবি ফেসবুকে আপলোডের লোভ যারা সামলাতে পারে না, তাদের উদ্দেশ্যে !]

১।

‘আমার হাসবেন্ড আমাকে অনেক আদর করে, যত্ন নেয়… আমার জন্য রান্না করে।’

নিউজফিডে এমন অনেক মন্তব্য বা অন্তরঙ্গ ছবি প্রায়ই দেখতে পাই। মন থেকে তখন বলি, ‘আলহামদুলিল্লাহ্‌, বারাকাল্লাহ। আল্লাহ্‌ যেন এমনি রাখেন।’ কিন্তু কতটুকু উচিত নিজেদের এরকম ছবি দেয়া বা একান্ত নিজেদেরকার কথাগুলো সবাইকে বলে বেড়ানো, তা অবশ্যই ভেবে দেখতে হবে। স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক খুব অনন্য, অন্য কিছুর সাথে তার তুলনা চলে না। কিন্তু তা নিজেদের ঘরের দরজার ভিতরেই আবদ্ধ থাকা ভালো।

 

বেপর্দা স্ত্রী হোক বা পর্দানশীল, কোন পুরুষ যদি তার স্ত্রীর সাথে তোলা অন্তরঙ্গ ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচারের অনুমতি দেয়, তার মানে কিন্তু একটাই- তার ভালো লাগে অন্যরা তার স্ত্রীকে কামনার বস্তু মনে করলে, হয়ত কিছুটা গর্ববোধও হয়ে থাকে। শুনতে খারাপ শুনাচ্ছে হয়ত, কিন্তু ছবিগুলোতে বন্ধুদের মন্তব্য পড়লেই ব্যাপারটা স্পষ্ট বোঝা যায়- ‘ইসস, কবে পাব এরকম একটা বউ।’ অথবা ‘যা লাগতেসে না, হট কাপল।’, বা ‘আমাকেও খুঁজে দে রে এরকম বউ।’ আচ্ছা, আপনার সুন্দর বউটাকে আপনার থাকতে দিন না, সবার সাথে শেয়ার করার কি একান্ত প্রয়োজন? মনে রাখবেন, যে আপনার বউকে সুন্দর, হট, চরম বিশেষণে প্রশংসা করছে, সে নিশ্চয়ই মনে মনে সব রকম মাপ-জোঁক করে ফেলেছে- আপনার স্ত্রীর কোমরের বাঁক, দীঘল কালো চুল, সুকোমল বাহু- কিছুই তার চোখে বাদ পড়েনি। পর্দার প্রয়োজনীয়তা ঠিক এখানেই।

আমি আমার জীবনে প্রথমবার পর্দার গুরুত্ব বুঝলাম যেদিন আমি যেখানে পড়াতাম সেখানে এক ছাত্র, বেশী বয়স না, ১২-১৩ হবে, আরেকজনের সাথে কথা বলতে বলতেই আরেক ছাত্রর (তারই বন্ধু) মায়ের দিকে হা করে তাকিয়ে ছিল। মহিলা শালীন পোশাকই পরা ছিলেন, আমাদের সমাজে যাকে শালীন বলা হয়, তবে যখন উনি মাটি থেকে কিছু তোলার জন্য ঝুঁকলেন, তখন অতটুকু ছেলেটাও তাকিয়ে থাকল। বন্ধুর মা-র দিকেই যদি চোখ পড়ে, বন্ধুর বউ তো আরও আপন! এটা কিন্তু Natural instinct। আপনি দেখবেন, বাতাসে কারো কামিজ একটু এদিক ওদিক হলে চট করে সবার নজর ওখানে চলে যায়- আমার আপনারও, ছেলেদের দোষ দিয়ে কি লাভ? যেখানে সমাজের এই হীন অবস্থা, সেখানে আপনি নিজের বেডরুমের দরজা জনসম্মুখে উন্মুক্ত করে দিলে কিভাবে হবে?

হাসাদের ভয় তো আছেই ষোলোআনা- নজর লাগা তো কোন রূপকথার গল্প নয়। যে কারো নজরই লাগতে পারে। আমি ‘আলহামদুলিল্লাহ্‌’ বললাম হয়ত, কিন্তু কিঞ্চিত মন খারাপও করলাম, কই আমার স্বামী তো কোনদিন এরকম চাইনিজ জাপানিজ রান্না করল না আমার জন্য! ফলাফল? আমার সংসারেও অশান্তি, আপনারটাও নজর লেগে হয়ত বিষাদময় হয়ে গেল। যদি সত্যি সুখী হয়ে থাকেন, আল্লাহ্‌র কাছে শোকরানা করলেই যথেষ্ট। স্বামী স্ত্রী যখন নামাজ পড়বেন, তখন আল্লাহ্‌র কাছে মাথা নত করে তার রহমতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন যাতে সারাজীবন এমন সুসম্পর্ক অটুট থাকে।

Save your wife from hungry eyes, Save yourself from Fitna.

২।

ভাইয়েরা আপনারা যারা নিজেদের স্ত্রীদেরকে পরপুরুষের চোখের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করছেন, স্ত্রীদের ছবি ফেসবুকে দিয়ে সবাইকে দেখাচ্ছেন, স্ত্রীকে সাজিয়ে নিয়ে বাইরে বের হচ্ছেন আর পরপুরুষ ও লম্পটরা চোখকে পরিতৃপ্ত করছে সেসব প্রত্যেক পুরুষের “দাইয়্যুস” টার্মটির ব্যাপারে জ্ঞান থাকা আবশ্যক। একজন পুরুষ হাদিসের ভাষ্যমতে দাইয়্যুস সাব্যস্ত হবে যদি সে তার বোন, স্ত্রী, কন্যাদের বেপর্দাভাবে চলাফেরা করাকে বন্ধ না করে, তাদেরকে অশ্লীলতা, ব্যভিচার থেকে দূরে না রাখে। যেসব ভাইয়েরা এখনও দাইয়্যুসের কাতারে আছেন আজই তাওবা করুন, নিজের পরিবারের মহিলাদের বুঝান, দাওয়াহ দিন। তারপরও না বুঝলে বাধ্য করুন, কেননা তাদের ব্যাপারে আপনি জিজ্ঞাসিত হবেন। এমনকি আপনার জান্নাত জাহান্নামও অনেকাংশে তাদের উপর নির্ভর করছে। কারণ তারা আপনার অধিনস্ত।

রাসুলুল্লাহ(ﷺ)বলেছেন,

“তিনজন আছেন যাদের দিকে আল্লাহ সুবহানু তায়ালা কিয়ামাতের দিন নজর দেবেন না। যে পিতামাতার অবাধ্য, যে নারী বেশভূষায় পুরুষের অনুকরণ করে এবং দাইয়্যুস ব্যক্তি।”

[সুনান আন নাসাঈ: ২৫৬২, হাদিস সাহীহ]

ইমাম আহমাদের বর্ণনাকৃত অন্য আরেকটি সাহীহ হাদীসে ‘আল্লাহ নজর দেবেন না’ এর সাথে এসেছে দাইয়্যুস ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। [মুসনাদে আহমাদ]

রাসুলুল্লাহ(ﷺ) আরও বলেছেন, “আল্লাহ প্রত্যেক আদম সন্তানের জন্যে তার অংশের অনিবার্য জিনা লিখে রেখেছেন, হোক সে তার ব্যাপারে জ্ঞাত বা অজ্ঞাত। চোখের জিনা হল দৃষ্টিপাত করা (যে দিকে বা যার দিকে দৃষ্টি দেবার অনুমতি নেই সেদিকে দৃষ্টিপাত করা), জিহ্বার জিনা হল উচ্চারণ করা (যা উচ্চারণ করা বা বলা বৈধ নয়)। আর নফসের ইচ্ছা জাগে (জিনার জন্যে) এবং গুপ্তাংগ তা বাস্তবতায় রূপ দেয় অথবা তা অস্বীকার করে।“ [সাহীহ বুখারীঃ ৬৬১২]

উলামায়ে কিরামের মতে মুখের জিনা, চোখের জিনা, হাতের জিনা, পায়ের জিনা সবই জিনার দরজা আর অনস্বীকার্য অংশ। অতএব যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে এইসব জিনা থেকে বাধা দেবে না, সে ব্যক্তিও দাইয়্যুসের কাতারে পরে যাবে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে দাইয়্যুস হওয়া থেকে হিফাজত করুন এবং মা বোনদের যথাযথভাবে পর্দা করারতাওফিক দান করুন।

৩ ।

//আমার স্ত্রী সর্বাবস্থায় আমারই স্ত্রী। আমার স্ত্রীর সৌন্দর্য উপভোগ ও অবলোকনের পূর্ণ অধিকার একমাত্র আমারই। যে কোন স্ত্রীর রূপ ও ভূষণ-সজ্জার সৌন্দর্য-দর্শনের একমাত্র হকদার সেই মহিলার স্বামী। এই যদি হয়ে থাকে সর্বজন স্বীকৃত সত্য, তাহলে আমার স্ত্রীর চেহারা দশজনকে আহবান করে দেখাবার কোন প্রয়োজন পড়ে না। পকেটের পয়সা খরচ করে পত্রিকায় এ্যাড ছাপিয়ে পরোহ্মভাবে এ কথা বুঝবার-ও তো দরকার পড়েনা যে, দেখ দেখ দুনিয়ার মানুষ আমি কি একখানা চীজ পেয়েছি।//

(তাহলে ফেসবুকে যে নব দম্পতিদের ছবি আপলোডের হিড়িক বয়ে যায় তার কী হবে!)

//নিজের স্ত্রীকে স্বশরীরে বা তার স্ব-ছবিকে হাজার হাজার লোকের চোখের সামনে তুলে ধরলে অনেকে হা-পিত্তেস করবে, টীকা টিপ্পনী কাটবে। বলুনতো এসব কেমন করে বরদাস্ত করা যায়? মান ইজ্জত ও সৌন্দর্যের নিরাপত্তার জন্য ইসলাম পর্দা প্রথার যে ব্যবস্থা রেখেছে, সেই ব্যবস্থার বাইরে কদম রাখলেই নানা কথা শোনতে হয়, নানা কেলেংকারী ডেকে আনা হয়। নানা অঘটন ঘটে।//

//সদ্যবিবাহিতা স্ত্রীর চেহারা কাগজে ছাপিয়ে/ ফেসবুকে আপলোড করে কি লাভ? তিনিতো দশের মনোরঞ্জনের জন্য আমার স্ত্রী হয়ে আমার ঘরে আসেননি। তাছাড়া তিনি কোন বাজারী পণ্যও নন যে, তাকে বাজারে পরিচিতি করাতে হবে বাজারজাত হওয়ার জন্য। হাঁ, এমন কোন চিন্তা কারো মনে প্রচ্ছন্নে উঁকি দিয়ে থাকলে অবশ্য ভিন্ন কথা, কিন্তু তা যদি না হয়ে থাকে, তাহলে নিজের সুন্দরী বউয়ের এ্যাড ছাপিয়ে বাজারী সওদার মত দশজনের দৃষ্টি আকর্ষনের কি অর্থ থাকতে পারে? পাবলিসিটির নেশা যদি একান্তই না কাটে, তাহলে ছবি ছাড়া বিয়ের সংবাদটা সংবাদ হিসেবে ছাপিয়ে দিলেই তো হয় সুখী দাম্পত্য জীবনের দোয়া চেয়ে।//

//নিজের ভোগের বস্তুকে এত পাবলিসিটি দিলে স্বাদ আর কিছু থাকে না। যার কাছে যে বস্তু যত বেশী দামী, সেই বস্তুর মালিক তত সযতনে তা সংরহ্মণ করে থাকেন। যে মালিক তার প্রিয় দামী বস্তুর কদর বুঝে না, সে এই মূল্যবান বস্তুটি এখানে সেখানে ফেলে রাখে, হাজার জন দেখে, নাড়াচাড়া করে, হাজার কথা বলে। এসব কথার মাঝে অশ্লীল মন্তব্যও থাকে বেশী। পাবলিসিটি আর প্রদর্শনী করলে মস্তানেরা কাছে ভিড়বার সুযোগ পায়। অতএব বিয়ের পরিচ্ছন্ন মানসিকতা নিয়ে যারা বিয়ে করেছেন, তারা নিঃসন্দেহে উত্তম কাজ করেছেন। এখন সুন্দরমত ঘর সংসার করুন। ঘরে বসে নিরিবিলি নতুন বউয়ের সংগে নতুন সংসার গড়ার আলাপ শুরু করুন। এ নিয়ে বাহিরে ডুগডুগি বাজাবেন না।//

৪।

*ফেসবুকে ও ব্লগে ছবি আপলোডের নেশায় দম্পতিরা

আপনি জানেন কি? কোথাও গেলেই ছবি তোলার এবং তা ফেসবুকে আপলোডের চিন্তা যদি আপনার মনে জাগে, তাহলে তা একটা মানসিক রোগ। আপনি এই রোগের উচ্চমানের রোগী নন তো? আপনি দু’জনের অন্তরঙ্গতা এখন ফেসবুকে চেনা অচেনা সবাইকে দেখিয়ে লাইক চাচ্ছেন? নাকি চাইছেন আপনার স্ত্রীকে সবাই দেখুক, দেখে মন্তব্য করুক আপনি সুন্দরী পেয়েছেন বউ। এই রূপ-চেহারা আর কয়দিন ভাই? ৫-৭ বছর পরে আর ছবি তুলতেও লজ্জা পাবেন এই চিন্তাগুলা মাথায় থাকলে। আর অল্প কিছু বছর পরেই আপনাদের দু’জনকেই সাদা কাপড়ে তুলে মাটির নিচে রেখে আসবে গন্ধ লাগবে বলে… এমন কিছু করতে যাবেন না, যার খারাপ প্রতিফল সেই কবরে আপনাকে ধাওয়া করবে…

আপনাদের দু’জনার জড়াজড়ি আর গলাগলি ছবি দেখে কেউ সুখী বলে ভেবেছেন? আপনি হয়ত জানেন না শয়তানের কাজ। আপনি হয়ত জানেন না ওয়াসওয়াসা কেমন হয়। আপনার কল্পনাই নেই আপনার খুব কাছের কারো কতটা হিংসার পাত্র আপনি হয়ে গেলেন। অথচ আপনি নিজেই জানেন, এই ছবি দেখে লোকে যতটা সুখী ভাববে আপনাদের, ততটা সুখী আপনারা নন।

প্রেম জিনিসটা দু’জনের মধ্যেই রাখুন। পারলে ইমাম আহমাদের মতন করে ৩০ বছর পরে গিয়ে বলবেন স্ত্রীর মৃত্যুর পরে যে তার স্ত্রীর সাথে তার কোনদিন ঝগড়া হয়নি। তারা একজন খেপে গেলে আরেকজন চুপ করে থাকতেন। প্রেম বুঝতে চান? তাহলে এই হলো প্রেম, ভালোবাসা।

ছবি প্রদর্শনের মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পাক সদ্য বিবাহিত দম্পতিরা। ভালোবাসা শুরুর দিকে বেশি থাকে, এসময়ের বিষয়গুলোকে মন দিয়ে গেঁথে নিন, তাতে সামনের সময়গুলোতে তা অনুপ্রেরণা দিবে, দু’জনের সম্পর্ক মধুময় হবে। এখন লোককে দেখিয়ে বেড়ালে আপনাদের ভালোবাসার গোপন আকর্ষণ নষ্ট হবে পরস্পরের কাছে। সাবধান হোন সময় থাকতেই।

৫।

কেন রে ভাই, বউয়ের ছবি কেন আপলোড দেয়া লাগবে? আপনার বউকে দেখে আমাদের লাভ কী? উল্টো আপনার আমল নষ্ট হচ্ছে, গুনাহ হচ্ছে, বউ যতই পর্দায় থাকুক না কেন খামাকা আমাদেরকে এইসব ছবি কেন দেখাচ্ছেন, আপনি বিয়ে করেছেন, নতুন বউ পেয়েছেন, মনে আনন্দ লাগছে বুঝতে পারছি, ভাই এটা আপনার ব্যক্তিগত আনন্দ, আপনার এই আনন্দ আল্লাহ্‌ আরো বাড়িয়ে দিন, মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহ্‌ আপনাকে আপনার বউ সমেত আনন্দের মধ্যে রাখুন সেই দুয়া করি। কিন্তু আপনার বউকে দেখে আমাদের কোন কাজ নেই ভাই, এটা একেবারেই অপ্রয়োজনীয় এবং গুনাহর কাজ।

courtesy : – * ১, -Nabila Noshin Shejuti

২ – Sabet Bin Mukter

* ৩- মরহুম জহুরী,

৪- সাফওয়ান

৫ – Abdullah Russel

[সংকলনে – বিবাহ একটি উত্তম বন্ধুত্ব (https://goo.gl/0kBV30) ডেস্ক ]

চলবে ইনশা আল্লাহ……

পড়ুন প্রথম তিনটি পর্ব –

কুড়ানো মুক্তো (প্রথম পর্ব) – https://bit.ly/2oZCWEn
কুড়ানো মুক্তো (দ্বিতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2p1YeS2
কুড়ানো মুক্তো (তৃতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2x3aGoY
কুড়ানো মুক্তো (পঞ্চম পর্ব)- https://bit.ly/2x33lpc
শেয়ার করুনঃ

কুড়ানো মুক্তো (প্রথম পর্ব)

ফেসবুক ব্রাউজিং করতে করতে অনেক সময় পর্ন এডিকশান এর উপরে বা অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার জন্য রিমাইন্ডার টাইপের বেশ ভালো ভালো লিখা চোখে পড়ে । আমাদের মনে হয়েছে এই লিখা গুলো পর্নমুভির আসক্তি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে । এভাবনা থেকেই এই সিরিজ শুরু করা । প্রতিটা লিখার শেষে এটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে সেটি উল্লেখ করার চেষ্টা করা হয়েছে ইনশা আল্লাহ । অনেক ভাইকে অবশ্য ফেসবুকে খুঁজেও পাওয়া যায়নি। আল্লাহ (সুবঃ) প্রত্যেক ভাইকেই উত্তম প্রতিদান দান করুক । লিখা গুলো ভাইদের নাজাতের উসীলা হয়ে যাক । (আমীন) (ফেসবুক, ব্লগ বা অন্য যেকোন জায়গার কোন লিখা আপনার কাছে যদি মনে হয় এটা পর্ন এডিকশান কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে তাহলে আমাদের ফেসবুক পেইজে যোগাযোগের অনুরোধ রইলো )

#

ভাই আমার , তুমি মানুষটা অনেক মুল্যবান । তোমার অনুতপ্ত হৃদয়ের একফোঁটা চোখের জল এই মহাবিশ্বের মালিকের কাছে অনেক অনেক প্রিয় । তোমার জন্য এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মানুষ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নির্ঘুম রাত কাটিয়ে তাঁর রবের কাছে দু’আ করতো । ১৪০০ বছর আগের সেই মানুষটা তোমাকে এতই ভালবাসতো যে , সেই মানুষটা আরাফাতের ময়দানে গ্রীষ্মের তপ্ত রোদে একটানা ছয়ঘন্টা আল্লাহ্‌র কাছে দু’আ করে গেছেন যেন আল্লাহ্‌ (সুবঃ) তোমাকে ক্ষমা করে দেন , তোমাকে তোমার আদি নিবাস জান্নাতে ফিরে যেতে দেন । রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “ কেউ যদি আমাকে দুটো জিনিসের গ্যারান্টি দেই তাহলে আমি তাকে জান্নাতের গ্যারান্টি দিচ্ছি । সেই দুটো জিনিস হল জিহ্বা এবং দুই রানের মাঝখানের লজ্জাস্থান ।” (রিয়াদুস সালেহীন )

ভাই আমার যে মানুষটা তোমার জন্য তায়েফে পাথরের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন, উহুদের ময়দানে তাঁর দাঁত হারিয়েছেন , যার জীবনের সকল চিন্তা চেতনা ছিল শুধু তোমাকেই ঘিরে সেই মানুষটার সঙ্গে হাশরের ময়দানে যখন তোমার দেখা হবে তুমি তাঁকে কি জবাব দেবে ? কোন মুখ নিয়ে তাঁর সামনে যাবে ? ভাই আমার , একবার কল্পনা কর , তুমি বিভিন্ন এডাল্ট ওয়েবসাইটে ঘুরে বেড়াচ্ছ,বলিউডের আইটেম সং গোগ্রাসে গিলছো এমন অবস্থায় যদি তোমার আম্মু , তোমার আব্বু তোমাকে দেখে ফেলে তাহলে তুমি কি পরিমাণ লজ্জিত হবে ? যদি মৃত্যুর ফেরেশতা তোমার সামনে আসে তখন কি অবস্থা হবে তোমার ? হাশরের ময়দানে তোমাকে যখন এই অবস্থায় তোলা হবে, যখন তোমার হাত তোমার পা, তোমার চোখ যখন তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিবে , রুমের দরজা লাগিয়ে, গভীর রাতে একা একা রুমে তুমি কি করতে সেগুলো যখন এই কোটি কোটি লোকের সামনে প্রকাশ করে দেওয়া হবে তখন লজ্জায় তুমি মাটির সাথে মিশে যেতে চাইবে । তখনকার কথাটা একবার চিন্তা কর (কালেক্টেড)

#

পর্ন এবং হস্তমৈথুন থেকে বাঁচার কিছু প্র‍্যাক্টিকাল সলিউশন:

১. দ্বিতীয় কোন রকমের চিন্তা ছাড়া ল্যাপটপ, হার্ড ড্রাইভ, মেমরি কার্ডে থাকা সমস্ত পর্ন ডিলিট করে দিতে হবে। ফাইলগুলো যেন আর রিকভার করা না যায়।

.

২. একাকীত্ব এভয়েড করতে হবে। দ্বীনি ভাইদের সাথে বেশি বেশি উঠা বসা থাকতে হবে। কোন ভাই যদি ব্যস্তও থাকে তারপরেও হালালভাবে তাকে রাজি করাতে হবে যেন উনি সময় দেন। আল্লাহ

ওয়ালা মানুষদের সাথে থাকলে আল্লাহর স্মরণ বাড়বে।

৩. খুচরা নুডিটি যেখানে আছে ঐসব কিছু ত্যাগ করতে হবে। হতে পারে তা নিউজ দেখা, হতে পারে ফেইসবুকের কোন বিদেশি পেইজ, হতে পারে গল্প, রোমেন্টিক কিছু, ব্লগ ইত্যাদি।

৪. পরিচিত অপরিচিত জানাযায় অংশগ্রহণ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। জানাযা থেকে এলে মন মানসিকতা অন্য রকম হয়ে যায়। খাটিয়া, কবর, কাফন ইত্যাদির ছবিগুলো পরবর্তী কয়েকদিন চোখে ভাসতে থাকে। এমন কোন অ্যাডিক্টেডকে পাওয়া যাবে না যে কিনা জানাযা থেকে এসে পর্ন দেখতে

বসে যায়।

৫. পর্ন মহিলাদেরকে এক প্রকারের অসম্মানিত ভাবে তুলে ধরে। রাস্তাঘাটে যেকোন মহিলার দিকে চোখে গেলে ঐ পর্নস্টারের মধ্যে খুঁজে বেড়ানো ব্যাপারগুলো র‍্যানডম মহিলাদের মাঝেও খুঁজে বেড়ায়। এভেন বাসায় মাহরামদের বেলাতেও এটা হয়। এটা পর্ন এডিকশানের একটা রোগ। না চাইলেও এসব হতেই থাকবে নিত্যদিন।

৬. পর্ন দেখাই যদি শেষ আমল হয় তবে কি হবে চিন্তা করে দেখা উচিত। সাডেন ডেথ অহরহ হচ্ছে পৃথিবীতে। মালাকুল মাউতের অ্যাপয়েন্টমেন্ট যদি ঠিক পর্ন দেখার পরেই হয় তাহলে কি হবে! দুইটা গুনাহে লিপ্ত থাকা অবস্থায় মৃত্য হলে ঈমান হারা অবস্থায় মারা যেতে হয়। মদ্যপান আর যিনাহ। হাদিসের ভাষায় মুমিনের মাথার উপর থেকে ঈমান তখন সরে যায়।

৭. আল্লাহ যদি তরিত শাস্তি দেন? যদি চোখের শক্তি নিয়ে যান? অন্ধ হয়ে গেলে পর্ন কেন, ঘরের দরজাটাও দেখা হবে না তখন।

৮. অপবিত্রদের সঙ্গিনী সাধারণত অপবিত্রই হয়। বিয়ের পর বুঝলেন আপনার স্ত্রী সতী না। বিয়ের

পরেও ঘৃণ্য কাজগুলো সে করেই যাচ্ছে। আপনি হয়তো ভাবছেন বিয়ের পর পর্ন দেখবেন না, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। অ্যাডিক্টেডরা বিয়ের পরেও পর্নস্টারদের নেশা থেকে ফিরতে পারে না। It’s now or never situation. থামাতে হলে এখনই। না হয় আর পারবেন না কোনদিনও। সংসার ভেঙ্গে যেতে পারে এই একটি ইস্যুর কারণে। সূরা নূরের ২৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, “দুশ্চরিত্রা নারীকূল দুশ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যে এবং দুশ্চরিত্র পুরুষকুল দুশ্চরিত্রা নারীকুলের জন্যে। সচ্চরিত্রা নারীকুল সচ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যে এবং সচ্চরিত্র পুরুষকুল সচ্চরিত্রা নারীকুলের জন্যে। তাদের সম্পর্কে লোকে যা বলে, তার সাথে তারা সম্পর্কহীন। তাদের জন্যে আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা।”

(কালেক্টেড)

#

বেশী বেশী করে দু’আ করুন – ফরজ নামাজ গুলোর পরে, সিজদাহতে, তাহাজ্জুদের সালাতে । পর্ন , মাস্টারবেশন, আইটেম সং তথা সকল প্রকার প্রকাশ্য এবং গোপন অশ্লীলতা থেকে আশ্রয় চান আপনার রব, আরশের মালিক মহান আল্লাহ্‌ (সুবঃ) এর কাছে ।

“তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব।” [গাফির – ৬০]

“বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে।”[আল বাকারা:১৮৬]

মহিমান্বিত আল্লাহ্‌ (সুবঃ) কোন রকম স্তম্ভ ছাড়াই এই আকাশকে উঁচু করে রেখেছেন , আমাকে আপনাকে এই মহাবিশ্বকে সৃষ্টি করেছেন একেবারে শুন্য থেকে । কাজেই তাঁর পক্ষে আপনাকে পর্ন , মাস্টারবেশন থেকে মুক্ত করা কোন ব্যাপার না । আপনাকে সৎ হতে হবে , অন্তর থেকে চাইতে হবে আমি এগুলো থেকে মুক্তি পেতে চাই , সিজদায় লুটিয়ে পড়ে চোখের পানিতে জায়নামাজ ভিজিয়ে আপনার রবের নিকট সাহায্য চাইতে হবে । ইনশা আল্লাহ্‌ তিনি আপনাকে সাহায্য করবেন ।

“জেনে রাখ, অবশ্যই আল্লাহ্‌র সাহায্য অতি নিকটে।” (সুরা বাকারাহ , আয়াত-২১৪)

দু’আর শক্তিকে অবহেলা করবেন না । আমি পার্সোনালী অনেককে চিনি যারা এই দু’আর কারণে পর্নমুভি, মাস্টারবেশন আর আইটেম সং এর কলুষিত জগত থেকে বের হয়ে এসে শ্বাস নিয়েছে মুক্ত বাতাসে । So keep calm and make dua “হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছো তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও করুণাময়।”[আয-যুমারঃ৫৩]

(কালেক্টেড)

চলবে ইনশা আল্লাহ ………

কুড়ানো মুক্তো (দ্বিতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2p1YeS2
কুড়ানো মুক্তো (তৃতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2x3aGoY
কুড়ানো মুক্তো (চতুর্থ পর্ব) – https://bit.ly/2x8qyWv
কুড়ানো মুক্তো (পঞ্চম পর্ব)- https://bit.ly/2x33lpc
শেয়ার করুনঃ