হৃদয়ের ঋণ (প্রথম কিস্তি)

হৃদয়ের ঋণ (প্রথম কিস্তি)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম।

ছোটবেলা থেকেই খাম খেয়ালী ছিলাম।ভার্সিটিতে ওঠার পর  খামখেয়ালীপনা আরো বেড়েছিল। খামখেয়ালীপনার তোড়ে জীবনটা হয়ে গিয়েছিল  একেবারেই ছন্নছাড়া। প্রথম সেমিস্টারের রেজাল্ট মোটামুটি হয়েছিল। পরের সেমিস্টারের রেজাল্ট খারাপ হল খুব।

ধাক্কা খেলাম একটা।

সমাজটাকে বদলে দেওয়ার কথা বলতো,মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশপ্রেম গড়ার কথা বলতো এমন একটা সংগঠনে স্বেচ্ছাশ্রম দিতাম তখন। গাধার মতো খাটতাম, বাড়ি ফিরতে রাত হতো, প্রায় প্রতিদিন বাবা মার বকুনি খেতে হতো। দ্বিতীয় সেমিস্টার শেষে অবাক হয়ে দেখলাম ঘুনে ধরা সমাজ পরিবর্তনের কথা বলে যারা,তাদের অন্তরেই অনেক আগে ঘুন ধরেছে। মুক্তিযুদ্ধ এদের কাছে স্রেফ ব্যাবসার প্রোডাক্ট,আর কিছুনা।

ধাক্কা খেলাম আরেকটা।

তৃতীয় এবং শেষ ধাক্কাটা খেলাম প্রায় একই সময়ে । এটাই  ছিল সবচেয়ে বড় ধাক্কা। সে অনেক কথা, অন্য কোথাও অন্য একদিন বলব ইনশা আল্লাহ্‌।

এখন পেছনে ফিরে দেখলে,সেই দিনগুলোর কথা ভাবলে  অটোমেটিক বেশ বড়সড় একটা আলহামদুলিল্লাহ্‌ চলে  আসে অন্তর থেকে। সেই সময়,সেই ধাক্কাগুলো আমার খুব বেশি প্রয়োজন ছিল। সেই ধাক্কাগুলো না খেলে হয়তো আর প্রত্যাবর্তন করা হতো হতোনা আমার রবের দিকে। হেমন্ত আর মান্নাদে শুনে রুপালী আগুন ঝরা অসংখ্য নক্ষত্রের রাত কাটিয়ে দেওয়া আমার হয়তো কোনদিন সুযোগ হতোনা শেষ রাতে উঠে রবের সামনে নতমুখে দাঁড়ানোর।

 

সেই সন্ধ্যাটার কথা কোনদিন ভুলতে পারবোনা । জানুয়ারীর ৩ তারিখ ছিল বোধহয়। মাগরিবের সালাতের পর মসজিদে বসে ছিলাম একরাশ হতাশা নিয়ে। জীবনের হিসেব না মেলা ঘটনাগুলো একে একে আসছিল দুঃখের পসরা সাজিয়ে। ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছিল। হুট করে অন্তরের ভেতর থেকে কে জানি বললো,‘ ফিরে আয়, এখনো সময় আছে ফিরে আয় তোর রবের কাছে, আত্মসমর্পণ কর তোর রবের কাছে পরিপূর্ণভাবে। সিজদায় পড়ে গেলাম। তওবা  করলাম। অশ্রুর সঙ্গে সঙ্গে বুকের ভেতর জমাট বাঁধা দুঃখ কষ্টগুলোও বের হয়ে গেল। শান্তি পেলাম, অন্যরকম এক শান্তি,যার বর্ণনা দেওয়ার ক্ষমতা নেই আমার।

জীবনটা সুস্থির হতে শুরু করলেও একাডেমিক লাইফ নিয়ে ছিলাম চরম হতাশায়। এই সময় আল্লাহ্‌ সাহায্য পাঠালেন রুমমেট দুইজনের মাধ্যমে। একরুমমেটের এক দুপুরে বলা অগোছালো কিছু কথাবার্তা আমার আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনলো অনেকটাই। পরের তিনটা বছর প্রত্যেকটা পরীক্ষার আগে রুমমেট দুইজন আমাকে পড়া বুঝিয়ে দিত, নোট করে দিত। ক্লাসে শেষ বেঞ্চগুলোতে বসে আমি আরামসে ঘুম দিতাম বা গল্পের বই পড়তাম কারণ আমি জানতাম আমার রুমমেট মনযোগ দিয়ে ক্লাস করছে। পাস করা অনেক কষ্টকর হয়ে যেত আমার জন্য যদি আমার এই রুমমেট দুইজন না থাকতো। আল্লাহ্‌ আমাদেরকে জান্নাতেও একত্রিত করুক।

মানুষ যখন খুব বিপদে পড়ে,দুঃখ দুর্দশা,হতাশা আর গ্লানি যখন মানুষকে ঘিরে ধরে তখন একা একা তার পক্ষে লড়াই করে টিকে থাকা অসম্ভব রকমের কঠিন হয়ে পড়ে। তখন তার ভীষণ ভীষণ প্রয়োজন পড়ে কিছু হৃদয়ের ঋণের,দুটো সহানুভূতি আর উৎসাহের কথা,কিছু সান্ত্বনা, কিছু সাহস যোগানো মানুষের। একা একা মানুষের পক্ষে জীবনযুদ্ধ কতসময় ধরেই বা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব? ইসলাম এইজন্যেই একা একা থাকার চেয়ে জামাআত বদ্ধ হয়ে থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। দলবদ্ধ হয়ে থাকলেই না শয়তানের বিরুদ্ধে এবং আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসুলের (সাঃ) শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াইটা জুতসই হবে।

আমাদের সমাজে সবচেয়ে বেশী ভুল বোঝা হয় বোধহয় পর্ন/মাস্টারবেশনে আসক্তদেরকে।এই ছেলেদের দুঃখ-কষ্ট আর দীর্ঘশ্বাসগুলো এই সমাজ কোনদিন বোঝেনি,বোঝার চেষ্টাও করেনি। পর্ন/মাস্টারবেশন আসক্তির ভয়াবহতা  অনুভব করতে পারেন না বেশীরভাগ মানুষই। এটা যে কি গভীর এক অসুখ, এই আসক্তি যে কোকেন বা হিরোইন আসক্তির মতোই ক্ষতিকর তা কয়জন মানুষ জানেন? কয়জন মানুষই’বা উপলব্ধি করতে পারেন একজন পর্ন/মাস্টারবেশনে আসক্ত ছেলের অবসাদ আর গ্লানির গভীরতা?

পর্ন/মাস্টারবেশন আসক্তি এই ছেলেগুলোর শরীর ভেঙ্গে চুরে দেয়, যৌন শক্তি ধ্বংস করে দেয়, আত্মবিশ্বাস ধ্বংস করে দেয়,আত্মিক শূন্যতা সৃষ্টি করে,জীবন এদের কাছে নরকতুল্য মনে হয়, এই ছেলেগুলো নিজেদেরকে প্রচন্ড ঘৃণা করে। এদের অনেকের পক্ষেই একা একা সম্ভব হয়না পর্ন/মাস্টারবেশন আসক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার। প্রয়োজন হয় কিছু হৃদয়ের ঋণের। মানুষের সাহায্য সহযোগিতা,সহানুভূতির।

আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পর্ন/মাস্টারবেশন আসক্তি প্রবেশ করলেও এখন পর্যন্ত এই সমাজে এটাকে ট্যাবু করে রাখা হয়েছে। খোলাখুলি এটা নিয়ে তেমন কেউ কথা বলেনা, যারা কথা বলে অনেকসময়ই তাদেরকে একটু অন্য চোখে দেখা হয়, ঠাট্টা তামাশা করা হয়। একজন পর্নআসক্ত ছেলে সাহায্যের জন্য অন্য কারো কাছে যাবে,তার  অন্ধকার,গোপন জগতের কষ্টগুলোর কথা  কারো সঙ্গে শেয়ার করবে এটা এই সমাজের বাস্তবতায়  খুবই কঠিন। এতোটাই কঠিন যে এরচেয়ে পর্ন আসক্তরা   একা একা পর্নআসক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করাটা সুবিধাজনক মনে করে। অথচ একা একা লড়াই করে অন্য কারো সাহায্য না নিয়ে পর্ন/মাস্টারবেশন আসক্তি থেকে মুক্ত হয়েছে এমন নজির খুবই কম।

কোন গাঁজাখোর বা কোন বোতলবাজ যখন স্বেচ্ছায় তার পরিবারের কাছে যেয়ে বলে,‘আমি ভালো হয়ে যেতে চাই, এই নেশা ছাড়তে চাই’ তখন পরিবার,সমাজ তাকে খুব সাধুবাদ জানায়, হাজার হাজার টাকা খরচ করে তাকে কাউন্সেলিং করায়,মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে যায়। অথচ পর্ন/মাস্টারবেশন আসক্তি এই নেশাগুলোর চেয়েও অনেক অনেকগুন ভয়ংকর। জীবন নিয়ে অতিষ্ঠ হবার পরেই কেবল একজন পর্ন আসক্ত ছেলে  লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে, শত দ্বিধাদ্বন্দে ভোগার পরেও পরিবার বা কাছের কোন মানুষের  নিকট সাহায্যের জন্য যায়। যখন তার খুব বেশি প্রয়োজন হয় হৃদয়ের ঋন আর সহানুভূতির ঠিক তখন পরিবার,সমাজ তাকে দূরে ঠেলে দেয় । একনিমিষেই এই অসহায় ছেলেগুলোর পৃথিবীর সব রং নিভে যায়। বাবা মা ভাবেন, ‘ছি!ছি! আমার ছেলে কীভাবে এতোটা খারাপ হয়ে গেল!’  যেই সমাজের মানুষজন ‘গুডবয়’ ট্যাগ দিয়েছিল এই ছেলেদেরকে,সেই সমাজের মানুষজনের চোখেই এই ছেলেগুলো ‘লুইচ্চা’ হয়ে যায়।

এই সমাজে লুইচ্চামির ডেফিনেশানটা আলাদা। গভীর রাতে গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে ফোনালাপ  লুইচ্চামি না, ফুটপাতে জাস্ট ফ্রেন্ডদের মধ্যে ঢলাঢলির সময় এই সমাজ চুপ করে থাকে;এইগুলা লুইচ্চামি না। ঈদ,পুজা,একুশে ফেব্রুয়ারী, সহ সব উৎসবের দিনকে ভ্যালেন্টাইন ডে বানিয়ে ফেলে লিটনের ফ্ল্যাটে যাওয়াও লুইচ্চামি না। এইগুলা বরং স্বাভাবিক।  বয়সের দোষ।

পাপ থেকে দূরে সরে থাকার জন্য সাহায্য চাওয়াটা শুধু লুইচ্চামি!

হায়রে সমাজ!

হায়রে এই সমাজের মানুষ!

(আগামী পর্বে সমাপ্য ইনশা আল্লাহ্‌……)

পড়ুনঃ হৃদয়ের ঋণ (শেষ কিস্তি)- https://bit.ly/2NHUza4

শেয়ার করুনঃ
হৃদয়ের ঋণ (শেষ কিস্তি)

হৃদয়ের ঋণ (শেষ কিস্তি)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম।

লক্ষ লক্ষ ছেলেদের জীবন নষ্টের জন্য আমি,আপনি আমরা সবাই দায়ী। আমরা কি এই ছেলেগুলোর জন্য এমন একটা সমাজ তৈরি করিনি যার সবকিছুই যৌনতাকে উস্কে দেয়? প্রথম আলো যখন একজন ‘বিশেষ’ পর্নস্টারের মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করে এই দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে তাকে পরিচয় করিয়ে দেয় তখন কি আমরা চুপ করে থাকিনি? খোঁজ নিয়ে দেখেন এই বিশেষ পর্নস্টারের নাম জানার পর  কতো হাজার হাজার ছেলে পর্ন আসক্ত হয়েছে? নকশা আর বিনোদন পাতায়  প্রতিনিয়ত মেয়েদের কাপড়  খুলতে শেখানো হচ্ছে তারপরেও তো আমরা চুপ করে আছি। এই সেই প্রথম আলো যারা আলিমদের নামে মিথ্যাচার করে চলেছে, এই সেই প্রথম আলো যারা রানাপ্লাজার ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে মেরিল- প্রথম আলো পুরস্কারের আয়োজন করেছিল ২০১৩ সালে; পুরো দেশ ও জাতি যখন গভীর শোকে নিমজ্জিত তখন প্রথম আলো গং তথাকথিত জানোয়ার সেলিব্রেটিদের নিয়ে হাসি তামাশা আর রং ঢঙ্গে নেমেছিল,রানা প্লাজার হতাহতদের জন্য ত্রান গঠনের খেলা খেলে কুমিরের মায়া কান্না কেঁদেছিল। ২০১৭ সালেও হাওরবাসীর কান্নাকে উপেক্ষা করে এরা মেরিল-প্রথম আলো পুরুষ্কারের আয়োজন করলো। খুবই সস্তা রসিকতার মাধ্যমে লিটনের ফ্ল্যাটে যাওয়াকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হল। আমরা এই প্রথম আলোর বিরুদ্ধে চুপ। প্রথম আলোয় প্রকাশিত সংবাদকে আমরা ওহী’র চেয়েও বেশী বিশ্বাস করি।

প্রথম আলো,কালের কন্ঠ,বাংলাদেশ প্রতিদিন,চ্যানেলআই এই টাইপের মিডিয়াগুলো শয়তানের সাক্ষাৎ চ্যালা। এরাই এদেশে  লিটনের ফ্ল্যাটের আবিষ্কারক  ফারুকীগংকে প্রমোট করেছে,এরাই ভালোবাসা দিবসকে প্রমোট করেছে,এরাই ‘সুন্দরী প্রতিযোগিতার’ নামে মেয়েদেরকে কর্পোরেট প্রস্টিটিউট বানাচ্ছে। ফিচারের পর ফিচার লিখে কলামের পর কলাম জুড়ে এরা ক্রমাগত তরুণ তরুণীদের ব্রেইন ওয়াশ করে গিয়েছে এবং এখনো যাচ্ছে; জিন্স,টিশার্ট পড়ে ‘জাস্টফ্রেন্ডদের’ সঙ্গে ঢলাঢলি করাকে এরা নাম দিয়েছে ‘নারী স্বাধীনতা’। মাঝে মাঝে হাসিই পায়, শুধু মাত্র জিন্স টিশার্ট পড়ে ঢলাঢলি করলেই নারীরা স্বাধীন হয়ে যাবে! স্বাধীনতা এতোটাই সঙ্কীর্ণ?

.

লক্ষ লক্ষ ছেলে জীবন নষ্টের জন্য আমি,আপনি আমরা সবাই দায়ী। বাঙ্গালী সংস্কৃতির মোড়ল সেজে অনেককেই পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেই প্রতিনিয়ত অথচ বাঙ্গালী সংস্কৃতির সঙ্গে কোনভাবেই যায় না এমন বলিউডের আইটেম সং সাদরে গ্রহণ করেছি আমরা। বিদেশী টাকায় চলা এনজিওগুলো আমাদের দেশে সমকামিতার প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে আমরা  চুপ করে আছি । জুলহাস মান্নান কোং যখন ডলার খেয়ে এদেশে সমকামিতার প্রচার করেছিল তখনো আমরা চুপ করে ছিলাম, জুলহাস মান্নান মারা যাবার পরে  যখন মিডিয়াতে বিজ্ঞানমনস্ক হিসেবে উপস্থাপন করা হলো তখনো আমরা চুপ করে ছিলাম । সব হজম করে ফেলেছি । আমাদের হজমী শক্তি মাশা’আল্লাহ্‌ অসাধারণ।

.

একজন তরুণ তরুনীর নষ্ট হবার জন্য পারফেক্ট একটা গ্রাউন্ড তৈরি করে রেখেছি আমরা। বিলবোর্ড,ম্যাগাজিন,বিজ্ঞাপন,নাটক,সিনেমা সব জায়গাতেই নারীদেহের উগ্র প্রদর্শনী দেখে একজন টগবগে যুবক কিভাবে নিজেকে স্থির রাখতে পারবে? হয়তো  বিয়ে তাকে স্থির রাখতো, কিন্তু এই বিয়েকে আমরা কতোইনা কঠিন করে ফেলেছি। আরেকদল বুদ্ধিজীবী আর এনজিও ওয়ালাদের বাল্যবিবাহ নিয়ে ‘হুক্কা হুয়া’ আমরা মেনে নিয়েছি। নিজের ইচ্ছায় প্রাপ্তবয়স্ক ( তাদের ভাষায় অবশ্য নাদান দুধের বাচ্চা)  দুইজন  ছেলে মেয়ে  বিয়ে করতে চাইলে তারা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে, কিন্ত এই একই বয়সী দুধের বাচ্চাদের  এরা  লিটনের ফ্ল্যাটে যাওয়া শেখায়,সেক্স এডুকেশানের নামে শেখায় যৌনতার কলাকৌশল। আমরা এদের উৎপাতও মুখ বুঝে মেনে নিয়েছি।

.

কফিনের শেষ পেরেকটা ঠোকা হয়ে গিয়েছে তখন যখন মিডিয়া মগজ ধোলাই করে আমাদের জঙ্গি চিনিয়েছে।

আপনার সন্তান কি হুট করে নামায পড়া শুরু করেছে? দাড়ী কামানো বন্ধ করে দিয়েছে ?

আপনার সন্তানের কি বিপরীত লিঙ্গের কোন বন্ধু নেই? আপনার সন্তান কি প্রেম করেনা ?

আপনার সন্তান কি গান শোনে না ? মুভি সিরিয়াল দেখে না ?

এর উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তারমানে আপনার সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে, আপনার ছেলে/মেয়ে জঙ্গি বা পোটেনশিয়াল জঙ্গি!!

এই টাইপের লিখা সাংবাদিক নামক জানোয়ারেরা আমাদের পাতে তুলে দিয়েছে আর আমরা তা গিলে খেয়েছি। ডোনাল্ড ট্রাম্প হুদাই হুদাই সাংবাদিকদের এপর এতো চ্যাতা না, যথেষ্ট কারণ আছে ।

গান না শুনলে জঙ্গি! মেয়ে বন্ধু না থাকলে জঙ্গি ! মাই ফুট!

.

মুসলমানের ছেলে হটাত তওবা করে যে আল্লাহ্‌র দিকে ফিরে আসবে তারো উপায় নেয় । তাকে জঙ্গি ট্যাগ খেতে হবে। এই জঙ্গি ফিল্টারে সব সাহাবী(রাঃ) আটকে যাবেন; তাঁদেরও কোন মেয়ে বন্ধু ছিলনা,তাঁরা মুভি সিরিয়ালও দেখতেন না।

.

ইসলামের অনুশাসন মেনে চলা তরুণ-তরুনীদেরকে পর্ন/মাস্টারবেশন থেকে দূরে রাখতো পারতো।  কিন্তু আমরা তরুণ-তরুনীদের জন্য ইসলাম মেনে চলা এতোটাই কঠিন করে ফেলেছি বা ফেলছি যে ইসলাম মেনে চলা জলন্ত অঙ্গার হাতে নিয়ে থাকার মতোই কঠিন।

.

এতোসব প্রতিকূলতার মধ্যে পড়ে হরমোনের প্রেসারে কোন ছেলে যদি গভীর রাতে পর্ন দেখে মাস্টারবেট করে ফেলে তাহলে সে যেমন দোষী,আমরাও আমাদের এই সমাজটাও ঠিক ততোটাই দোষী। এই ছেলে যদি হাশরের ময়দানে আল্লাহ্‌র কাছে আমাদের বিরুদ্ধে বিচার চায় তাহলে আমাদের করার থাকবেন না কিছুই।

.

এভাবে আর কতোকাল চলবে ? কত ছেলের জীবন নষ্ট হলে আমাদের হুঁশ ফিরবে? আমরা কি দেখিনা সোনার এই দেশটাতে কি ব্যাপক হারে ধর্ষণের মাত্রা বেড়ে গেছে? ৩-৪ বছরের শিশুদেরকেও আজ রেহায়  দেওয়া হচ্ছে না ?

.

একজন পর্ন আসক্তের দুঃখ,কষ্ট,বেদনা সুস্থ স্বাভাবিক একজন মানুষের পক্ষে  বোঝা সম্ভব নয় কখনোই।

.

আমাদের আসলে সময় এসেছে নতুন করে চিন্তা করার। নতুন করে ভাবার। কেন এই দেশটাতে আজ এতো বেশী ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে? এদেশে ধর্ষণের হার বেড়ে যাবার জন্য কারা দায়ী? কারা এই দেশটাতে তরুণদের মধ্যে অস্লীলতার সয়লাব করে দিচ্ছে ? কোন কোন দেশ টাকা ঢালছে এই দেশে সমকামিতা প্রচারের জন্য? সেই টাকা গুলো কারা খাচ্ছে? কোন কোন দেশ আমাদের তরুণদের হাতে ফেন্সিডিল ধরিয়ে দিচ্ছে, ইয়াবার প্যাকেট তুলে দিচ্ছে? অপার সম্ভাবনাময় বাংলার তরুণদের তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে?

.

সময় এসেছে শত্রু চেনার।ভেবে বের করতে হবে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি কারা- মাথামোটা আইএস জঙ্গীরা ? কোন দেশ? কোন আইডিওলোজি? কোন মীরজাফরের দল ?

.

হে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, হে সমাজের নেতারা, হে আমার পিতারা,হে আমার বড় ভাইয়েরা  আর কতোকাল আপনারা উদাসীন হয়ে থাকবেন? এরা আপনাদেরই সন্তান,আপনাদেরই ছোটভাই, ছোটবোন। এই সাড়ে তিনহাত ভূমি এদেরও। আপনারা এদেরকে কেন এভাবে নির্বাসনে দিয়ে  রেখেছেন? কেন আপনারা এদেরকে ভুলে আছেন? কি হয়ে গেল আপনাদের? কোন হতাশায় হারিয়ে গেলেন আপনারা ? কেন আপনারা আজ দেখেও দেখছেননা, আপনাদের সন্তানেরা আজ ‘দুধে-ভাতে’ নেই? আপনাদের সন্তানের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে মাদক ? আপনাদের ছোটভাইদের যৌন ক্ষমতা নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে পর্ণ,আইটেম সং এর মাধ্যমে। আপনাদের ছোটভাই, ছোটবোনদেরকে কিছু এনজিও,কিছু মীরজাফর সমকামিতার শিক্ষা দিচ্ছে, আপনাদের ছোটভাইদের বানানো হচ্ছে ধর্ষক,ছোটবোনদের হতে হচ্ছে ধর্ষিত?

.

কি হয়ে গেল আপনাদের? কেন আপনারা চুপ করে আছেন? সন্তানদের প্রতি,ভাইবোনদের প্রতি আপনাদের সকল ভালোবাসাই কি তবে কেবল মুখের ফাঁপা বুলি ? লোক দেখানো? আপনাদের সন্তান যখন ছোট ছিল, তখন তার আধো আধো বুলি,ফোকলা দাঁতের হাসি পৃথিবীর সকল সুখ আপনাদের পায়ের কাছে এনে দেয়নি? আপনাদের সন্তানের ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় আপনারা কি বহু রাত নির্ঘুম কাটিয়ে দেননি, সারাদিন উদায়স্ত পরিশ্রম করেননি? তবে আজ যখন আপনাদের কলিজার টুকরো সেই সন্তানদেরকে  গলা টিপে টিপে মারছে একদল দাঁতালো শুয়োর,তখন কেন আপনারা চুপ করে আছেন? কেন? কেন?

.

কি হয়ে গেল আপনাদের? কোন হতাশায় হারিয়ে গেলেন আপনারা ? কেন আপনারা আজ দেখেও দেখছেননা? কেন আপনারা এইভাবে নির্বাসন দিয়ে রেখেছেন এদেরকে? এই সাড়ে তিনহাত ভূমি তো এদেরও!

পড়ুনঃ হৃদয়ের ঋণ (প্রথম কিস্তি)- https://bit.ly/2MmESA9

শেয়ার করুনঃ
আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (শেষ কিস্তি)

আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (শেষ কিস্তি)

এক সকালে আপনি আবিষ্কার করলেন যে আপনার সন্তান পর্নোগ্রাফি দেখে। প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পেলেন। আপনার সন্তানের নিষ্পাপ পবিত্র মুখটা আপনার চোখের সামনে ভেসে উঠলো। আপনি কিছুতেই বুঝতে পারলেন না, আপনার শরীরের একটা টুকরো কীভাবে এ জঘন্য নেশায় আসক্ত হয়ে গেলো আর আপনি টেরও পেলেন না। এখন কী করবেন আপনি? ল্যাপটপ-পিসি ছিনিয়ে নেবেন? দুটো থাপ্পড় দিয়ে বকাঝকা করবেন? ঘর থেকে বের করে দেবেন ঘাড় ধরে, নাকি বিয়ে দিয়ে দেবেন? কীভাবে সন্তানকে ফেরাবেন সে নীল রঙের অন্ধকার জগত থেকে? লজ্জাজনক এ বিষয় নিয়ে কীভাবেই বা কথা বলবেন তার সাথে?

এসব জটিল সমস্যার সম্ভাব্য কিছু সমাধান নিয়ে আলোচনা করবো আমরা ইন শা আল্লাহ্‌।

১) প্রথমত ঘাবড়ে যাবেন না।

অধিকাংশ বাবামা-ই যে ভুলটা করে বসেন সেটা হল সন্তানকে পর্ন দেখা অবস্থায় হাতে নাতে ধরে ফেললে বা কোনভাবে বুঝতে পারলে যে তাদের সন্তান পর্ন দেখছে, রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এ ভুল কখনোই করবেননা। আপনার সন্তানকে আপনার সাথে মন খুলে কথা বলার সুযোগ দিন। আপনি রেগে গেলে সে পরবর্তীতে হয়তো আপনার চোখের আড়ালে অনেক কিছু করে বেড়াবে যা আপনি কোনদিন জানবেনও না। “শেষমেশ আমার ছেলের এ পরিণতি”, “এই শিক্ষা দিয়েছি তোমাকে”, “নিজের মুখ দেখাবা না আমার সামনে’’- এসব দয়া করে বলবেন না। একটু ধৈর্য ধরুন।

বিশ্বাস করুন, দোষী প্রমাণিত হবার পর আপনার বাচ্চার মধ্যে এক ধরনের অপরাধবোধ কাজ করবে। এ লজ্জাবোধ তার জন্য যথেষ্ট। তাকে বাড়তি লজ্জা  দেবেন না অহেতুক ধমকে দিয়ে। মনে রাখবেন যৌনতা সংক্রান্ত কৌতূহল অস্বাভাবিক না। যৌন চাহিদা ও যৌনতা নিয়ে জানার আগ্রহ আমাদের সবার মাঝেই আছে। এটি আমাদের সহজাত ফিতরাত। আপনি নিজে থেকে আপনার সন্তানের সাথে এ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেননি বা আপনার সাথে ওর কমিউনিকেশান গ্যাপ থেকে গেছে, পাশাপাশি চারপাশের যৌনতা তাড়িত পরিবেশের কারণে সে ভুল জায়গায় জ্ঞান আহরণ করতে গেছে।

আপনার সন্তান পর্নোগ্রাফির ফাঁদে পা দেওয়া এক নিরীহ শিকার মাত্র। আপনার সন্তান হয়তো তার বন্ধুদের বা অন্যকারো প্ররোচনায় আকৃষ্ট হয়ে তাদের মোবাইলে বা ল্যাপটপে পর্নোগ্রাফি দেখতে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। পর্নোগ্রাফির বাজার যেভাবে ইন্টারনেট ছেয়ে গেছে তাতে এর বিধ্বংসী ও বিষাক্ত প্রকোপ থেকে বাঁচা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া যে ওয়েবসাইটগুলোতে অশালীন কিছু নেই সেগুলোতে যে সব বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় তাও অনেক সময় পর্নোগ্রাফির দিকে টেনে নিয়ে যায়।

তাই আবারও বলছি, দয়া করে রাগ করবেন না। প্রথমে আপনার হয়তো ছেলে বা মেয়ের জন্য আফসোস হতে পারে। কিন্তু তারপরও যথেষ্ট সহানুভূতি নিয়ে সন্তানের সাথে কথা বলুন।তাকে বোঝান,“দেখো বাবা, আমার খারাপ লাগছে যে তুমি ওগুলো দেখেছো। বিশ্বাস করো আমি তোমার উপর রাগ করি নি। আমার রাগ তাদের উপর যারা এসব এভাবে ছড়িয়ে দিয়েছে তোমাদের মাঝে।”

 

আপনার সন্তানকে ভালমতো বোঝান যে যৌনতা নোংরা কিছু না। বাচ্চাদের যৌনতা সংক্রান্ত বাস্তবতা জানাতেই হবে। আর সেটা আপনার চেয়ে কে ওদের ভালোমতো জানাতে পারবে? লজ্জা করবেননা একদম! বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চাদের মধ্যে যৌনতা নিয়ে কৌতূহল জাগবে।আপনি যদি আপনার সন্তানের সঙ্গে যৌনতা নিয়ে তাদের বয়সের সাথে যায় এমন পরিমিত আলোচনা না করেন তাহলে সে তার কৌতূহল মেটানোর জন্য অন্য কারো কাছে যাবে। সেটা হতে পারে বন্ধু, কাযিন, ইন্টারনেট। আর এখান থেকেই পর্ন আসক্তির সূচনা হতে পারে। সেই সাথে যৌন নিপীড়িত হবার সম্ভাবনাও।

আপনার বাচ্চার যৌন শিক্ষার জন্য কখনোই স্কুলের ওপর নির্ভর করে বসে থাকবেননা। সেই সাথে স্কুল থেকে আপনার বাচ্চাকে সেক্স এডুকেশান কোর্সে কি শেখানো হচ্ছে সেই দিকে কড়া নজর রাখুন, মাঝেমাঝে তার বই ঘেঁটে দেখুন।

সেক্স এডুকেশান নিয়ে পুরো বিশ্বে ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চলছে। যৌন শিক্ষার নামে বাচ্চাদের বিকৃত এবং নিষিদ্ধ যৌনতার দিকে আকৃষ্ট করা হচ্ছে। কিন্ডারগার্ডেনের বাচ্চাদেরকেও রেহাই দেয়া হচ্ছে না। জার্মানিতে পাঁচ বছরের বাচ্চাদের শেখানো হচ্ছে কীভাবে কনডম ব্যবহার করতে হয়, কীভাবে অর্গাযম পেতে হয়![1]

সেক্স এডুকেশানের নামে কীভাবে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি নিষ্পাপ বাচ্চাদের জীবন ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে তার ওপর অসাধারন গবেষণামূলক কাজ করেছেন ড. জুডিথ রাইযম্যান, তবে সমাজ যৌনায়িত করার এজেন্ডায় বিপক্ষে যাবে বলে মিডিয়ায় এ খবর গুলো উঠে আসছে না।

আমরা বিশেষ ভাবে অনুরোধ করবো ড. জুডিথ রাইযম্যানের ওয়েবসাইট থেকে নিচের ভিডিওটি দেখতে,

The War on Children: The Comprehensive Sexuality Education Agenda – http://bit.ly/2AxY487

এবং এ বইটি পড়ার জন্য,

Sex Education as Bullying – http://bit.ly/2AztXgu

আপনার বাচ্চাকে বোঝান যৌনতা আল্লাহ্‌র (সুবঃ) পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একটি উপহার যার অধিকার বিয়ের মাধ্যমেই অর্জন করতে হয়। পৃথিবীতে বংশধারা টিকিয়ে রাখার পদ্ধতি এটি। এর মাধ্যমে আমরা আমাদের জীবনসঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে সুদৃঢ় ও অন্তরঙ্গ সম্পর্ক স্থাপন করতে সক্ষম হই। পরিবারের ভারসাম্য বজায় রাখতে আল্লাহ্‌র (সুবঃ) নির্ধারিত একটি পরিকল্পনা এটি। নিজেদের পশুবৃত্তিকে জাগিয়ে তোলার জন্য যৌনতা নয়। যদি আপনার ৮-১০ বছরে বয়েসি বাচ্চা পর্নোগ্রাফির ফাঁদে পা দিয়ে ফেললে, তাকে ভালো মতো বিষয়টি বুঝিয়ে বলুন।

“দেখো, আমি জানি তুমি যা দেখেছো তা দেখে প্রথমে তুমি ঘাবড়ে গিয়েছো, তোমার কাছে এসব মোটেও আনন্দের লাগে নি। তোমার বয়সের একজন ছেলে বা মেয়ের জন্য সেটাই স্বাভাবিক। এসবের সাথে মানিয়ে নেওয়ার বয়স এখনও তোমার হয় নি। তুমি কি জান যে আমাদের স্রষ্টাই আমাদের জন্য এ সিস্টেম তৈরী করে দিয়েছেন। কিন্তু, এটি শুধুমাত্র আম্মু আব্বুদের জন্যই যারা কেবল বিয়ের মাধ্যমেই এটি করতে পারেন। এটি খুব গোপন একটি বিষয়। আল্লাহ্‌ (সুবঃ) কখনই তা ঢাক-ঢোল পিটিয়ে করার আদেশ দেন নি। এরকম কাজ তিনি মোটেও পছন্দ করেন না। সবকিছুরই ভাল ও খারাপ আছে। সেক্স এর বেলাতেও তাই। সেক্সকে নিয়ে এরকম নোংরামি আমাদের স্রষ্টাকে রাগিয়ে তোলে।

দেখো, তুমি যেসব দেখছো তাতে তোমার দৃষ্টির হেফাজত হচ্ছে না। অথচ আল্লাহ্‌ (সুবঃ) কুরআনে আমাদের আদেশ করেছেন, দৃষ্টি এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করতে। তাঁর কথামতো চললে তিনি তোমাকে অনেক অনেক ভালবাসবেন। তিনি তোমাকে এমন এক জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যেখানে তোমার মন যা চায়, তুমি তাই করতে পারবে। সেখানে তোমাকে হোমওয়ার্ক করতে হবে না, স্কুলে যেতে হবে না। তোমার যে কাজগুলো সবচেয়ে ভাল লাগে তুমি সেখানে তার সবকিছুই চাওয়া মাত্রই করতে পারবে।

আর আল্লাহ্‌র (সুবঃ) কথা অমান্য করে এসব দেখলে তোমাকে আল্লাহ্‌ (সুবঃ) জাহান্নামের আগুনে শাস্তি দিবেন। সেখানে শুধু কষ্ট আর কষ্ট । এবার বলো তুমি কোনটা চাও?”

আপনার সন্তানের বয়স যদি আরেকটু বেশি হয় তাহলে তাকে তার বয়সের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবে বোঝান, কিন্তু কথার মূল টোন এরকম রাখার চেষ্টা করুন।

২) পরের ধাপটি হচ্ছে আপনার সন্তানকে পর্নোগ্রাফির ভয়াবহতা বোঝানো। এটা খুব, খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওর যদি পর্নোগ্রাফির ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকে তাহলে আজ হোক বা কাল হোক সে পর্ন ভিডিও দেখা শুরু করবেই করবে।

২০১০ সালে North London Secondary School এর ১৪-১৬ বছর বয়সীদের নিয়ে সার্ভে করা হয়। দেখা যায় যে শতকরা ৩০ জন  ১০ বছর বা তার চেয়ে কমবয়সেই অনলাইনে পর্নোগ্রাফি দেখে ফেলেছে। শতকরা ৭৫ জন জানিয়েছে তাদের বাবা-মা কখনোই পর্নোগ্রাফি না দেখার ব্যাপারে তাদের সাথে আলোচনা করেননি।[2]

আপনার সন্তানের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করুন। আপনার আলোচনাতে কী কী বিষয় উঠে আসবে বা আপনার উপস্থাপনা কেমন হবে সেটা নির্ভর করবে আপনার সন্তানের বয়সের ওপর। নিজে আপনার বাচ্চার সঙ্গে কথা বলতে লজ্জাবোধ করা উচিত না। নিরুপায় হলে আপনার বাচ্চাকে পর্নোগ্রাফির ভয়াবহতার ওপরে বই পড়াতে পারেন, ভিডিও দেখাতে পারেন। তবে নিশ্চিত করতে হবে যে সে পর্নোগ্রাফির ভয়াবহতার ওপর স্বচ্ছ একটা ধারণা পাচ্ছে।

৩) আপনার সন্তানকে পর্ন আসক্তি কাটানোর জন্য মোটিভেট করা শুরু করুন। এই বইয়ে দেওয়া টিপস গুলো ফলো করতে বলুন।

৪) আপনার সন্তানকে পারতপক্ষে একা থাকতে দেবেন না, বিশেষ করে অলস সময়ে। কারণ অলস সময়ই পর্নগ্রাফিতে আসক্ত হবার অন্যতম কারন।

তাকে নানা ধরনের খেলাধুলা বা প্রোডাক্টিভ কাজে ব্যস্ত রাখুন। ভিডিও গেইমস থেকে যতোটা পারুন দূরে রাখুন। অনলাইন ভিডিও গেইমসের পপ আপ অনেক সময়ই পর্ন সাইটের সন্ধান দিয়ে দেয়। তাকে নিয়ে ঘুরুন বা পারলে প্রতি সপ্তাহে একাবার ফ্যামিলি ট্রিপে বের হন। ওকে সময় দিন।

ফিরিঙ্গিদের অন্তঃসারশূন্য সভ্যতার চাকচিক্যে আমাদের চোখ ধাঁধিয়ে গিয়েছে। তাদের মতো হওয়াটাকেই আমরা আমাদের জীবনের পরমব্রত বানিয়ে ফেলেছি। দিনরাত টাকা, স্ট্যাটাস আর ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে ছুটতে পরিবারকে সময় দেয়ার সুযোগ হয় না আমাদের। মমতাময়ী মা’রাও আজকাল সন্তানের বুক ভাঙ্গা কান্নাকে ভুলে স্বাধীন হবার মিথ্যে আশায় ঘরের বাইরে অফিস আদালতে চাকরি করতে চলে এসেছেন।। সন্তান মানুষ হচ্ছে বুয়ার কাছে। বাবা মা ক্যারিয়ারের দোহাই দিয়ে সন্তানকে স্নেহ, মমতা, আদর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করে সেই শূন্যস্থান পূরণ করছেন ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেটস, খেলনা, দামী জামা কাপড় আর এক আকাশ স্বাধীনতা দিয়ে। সেই স্বাধীনতা ইট-কাঠ-পাথরের খাঁচায় বন্দী বাচ্চাদের বানাচ্ছে পর্ন আসক্ত কিংবা মাদকাসক্ত।

ছোট বেলায় আমি ভাত খাওয়া নিয়ে আমার মাকে আমি অনেক জ্বালিয়েছি। মা কতো কষ্ট করে, ধৈর্য ধরে, ডালিমকুমারের গল্প শুনিয়ে, কাঠবিড়ালী আর পেয়ারা গাছের পাতার আড়ালের বুলবুলি দেখিয়ে ভাই খাইয়েছে। এরকম গল্প আমাদের জেনারেশানের প্রায় প্রত্যেকটি ছেলেমেয়ের। এই যুগের চাকরিজীবী মায়েরা সারাদিন তো সন্তানদের তাদের স্নেহ,ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করেন, দিনশেষে ঘরে ফিরলেও সেই গল্পের তেমন কোন পরিবর্তন হয়না। হয়তো সারাদিন আপনার সন্তান চাতক পাখির মতো আপনার জন্য অপেক্ষা করে থাকে। কিন্তু ক্লান্ত শরীরে খুব বেশীক্ষণ আপনি তাকে সময় দিতে পারেননা। ভাত খেতে না চাইলে কার্টুনের সামনে বসিয়ে দেন। সন্তানের হাতে ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেট ধরিয়ে দিয়ে আপনি বিশ্রাম নেন। ধীরে ধীরে তার ছোট্ট মনটাতে ক্ষত সৃষ্টি হতে থাকে। গ্যাজেট আসক্তি তাকে বানিয়ে দেয় পর্ন আসক্ত।

একটু স্থির হয়ে বসে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করুন। কেন আপনি রাত দিন উদয়াস্ত পরিশ্রম করছেন? কেন টাকার পেছনে ছুটছেন? টাকার জন্যই কি বেঁচে থাকা নাকি বেঁচে থাকার জন্য টাকা? আপনার সন্তানকেই যদি আপনি সময় দিতে না পারেন, আপনার সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করতে না পারেন, তাহলে এতো টাকা পয়সা, ক্যারিয়ার দিয়ে কী করবেন? বোন আপনারা স্বাধীন হয়ে, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে কী করবেন যদি আপনার দেহের একটি অংশ মনে মনে আপনার ওপর অভিমান নিয়ে সারাজীবন পার করে দেয়, আপনাকে ঘৃণা করে?

ও কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে এগুলো খেয়াল করুন। বন্ধুবান্ধব বা অন্য কেউ ওকে পর্র্ন দেখার জন্য জোরাজোরি করলে কীভাবে টেকনিক্যালি “না” বলতে হবে শেখান। কাযিনদের সাথে ও কী নিয়ে গল্প গুজব করে সেগুলো কথায় কথায় জানুন। ছোট থেকেই ওকে পর্দা করাতে, নজরের হেফাযত করতে অভ্যস্ত করে তুলুন। বিপরীত লিঙ্গের কাযিন বা বন্ধুদের সঙ্গে পর্দা করার জন্য উৎসাহিত করুন। অনেক বাবামা’ই এটাকে গুরুত্ব দেন না । ভাবেন ওরা তো নিজের ভাইবোনের মতোই, তাছাড়া ছোট মানুষ…সমস্যা কী?

বিশ্বাস করুন, পর্ন আসক্তি তো বটেই, যিনার মতোর ভয়ংকর পাপের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারে বিপরীত লিঙ্গের কাযিন বা বন্ধুদের সাথে অবাধ মেলামেশা। ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে। মামী, চাচী এই ধরণের গাইরে মাহরামদের সাথেও যেন সে পর্দা মেনে চলতে পারে সেটাও আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে। কাজের মেয়ের ব্যাপারেও সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। ঘনঘন অন্য কারো বাসায় রাতে থাকতে চাইলে ভালোমতো খতিয়ে দেখতে হবে ব্যাপারটা কী। ওর শোয়ার বিছানা আলাদা করে দিতে হবে। অন্য কারো সঙ্গে ও বিছানা শেয়ার করবে না। এগুলোর অনেককিছুই আপনার কাছে বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ আলাদা। এই বিষয়গুলো না মেনে চলার কারণে কতো মানুষ যে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে, পর্ন আসক্ত কিনবা বিকৃত যৌনাচারে অভ্যস্ত হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই।

৫) তাকে মুসলিম ইতিহাসের হিরোদের সঙ্গে পরিচিয় করিয়ে দিন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবী (রা.), সালাফগণ, নুর উদ-দ্বীন জঙ্গি, সালাহ উদ-দ্বীন আইয়ুবী, তারিক বিন যিয়াদ, মুহাম্মদ বিন কাসিমদেরকে যেন সে রোল মডেল হিসেবে নেয় সে চেষ্টা অব্যাহত রাখুন। আপনার সন্তানের রোল মডেল যদি হয় বলিউড, হলিউডের চরিত্রহীন নায়ক-নায়িকা, কিংবা কোন স্পোর্টস পারসোনালিটি তাহলে তার নৈতিকতার বোধের অধঃপতন এবং পর্ন মুভিতে প্রায় অবশ্যাম্ভাবী হয়ে দাঁড়াবে, পাশপাশি পর্ন আসক্ত হয়ে গেলে সে আসক্তি কাটিয়ে ওঠাও হবে দুঃসাধ্য।

৬) বাসায় এমন কিছু রাখবেননা যা পর্নোগ্রাফির দিকে ধাবিত করে। প্রথম আলোর “নকশা”, “আনন্দ” কিংবা দৈনিক বিনোদনা পাতা, “সানন্দা’’, “আনন্দলোক” বা এধরণের ম্যাগাযিনও না। আইটেম সং, মিউযিক ভিডিও, বলিউড এবং হলিউডের সিনেমা – এগুলোও আপনার সন্তানের পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে যাবার কারণ হয়ে দাড়াতে পারে।

৭) বাসায় যে পিসি বা ল্যাপটপ আপনি আপনার সন্তানকে ব্যবহার করতে দিচ্ছেন তা ড্রয়িং রুম বা এমন কোন রুমে সরিয়ে নিন যেখানে আসতে যেতে সকলের চোখ একবার হলেও পড়বে।

৮) ইন্টারনেটে আপনার সন্তান কী পরিমাণ সময় কাটাবে তা নির্ধারিত করে দিন।

৯) আপনার সন্তানকে সোমবার এবং বৃহস্পতিবার নফল রোজা পালনের জন্য উৎসাহিত করুন। এটি যৌন প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য রাসূলুল্লাহর (সাঃ) জানিয়ে দেয়া পদ্ধতি।

১০) চাইলে সন্তানের জন্য বিয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন। বিয়ে পর্ন/মাস্টারবেশন আসক্তির পুরোপুরি সমাধান নয়, এ নিয়ে আমরা আগেই আলোচনা করেছি। তবে আসক্তির মাত্রা কমানোর জন্য এবং যারা এখনো আসক্ত নয় তাদের আসক্ত হওয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে বিয়ে।

 

১১) প্রচুর পরিমাণ দু’আ করুন। দান সাদকাহ করুন।

১২) পর্ন ওয়েবসাইটগুলো ব্লক করার সফটওয়্যার বা অ্যাপ্স ব্যবহার করুন। “বিষে বিষক্ষয়”(http://bit.ly/2Gr4L08) শিরোনামের লেখায় এ নিয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা পাবেন।

১৩) আপনার সন্তানকে পর্ন আসক্তি কাটানোর জন্য কিছুটা সময় দিন। একবারেই হুট করে সে পর্ন দেখা ছেড়ে দিতে পারবেনা। সময় লাগবে। ট্রিটমেন্টের সময় পর্ন দেখা অবস্থায় তাকে হাতেনাতে ধরে ফেললেও রাগারাগি করবেননা।

সর্বোপরি আল্লাহ’র (সুবঃ) ওপর তাওয়াক্কুল করতে হবে। আল্লাহর কাছে দু’আ করতে হবে কাছে প্রচুর।

(শেষ)

পড়ুন-

মৃত্যু? দুই সেকেন্ড দূরে! (প্রথম পর্ব): https://bit.ly/2OcDLF9
আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (প্রথম কিস্তি): https://bit.ly/2CMF4sV
আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (দ্বিতীয় কিস্তি): https://bit.ly/2N6WIMF
হৃদয়ের ঋণ (প্রথম কিস্তি)- https://bit.ly/2MmESA9
হৃদয়ের ঋণ (শেষ কিস্তি)- https://bit.ly/2NHUza4

রেফারেন্সঃ

[1] Outrage as five-year-olds get sex-education book on how to achieve orgasms and put on a condom in Germany – http://dailym.ai/2jf0WkG

[2] Put Porn In Its Place – http://bit.ly/2CxPxnJ

শেয়ার করুনঃ