যৌনশিক্ষা: বাচ্চাদের কীভাবে বলা যেতে পারে

যৌনশিক্ষা: বাচ্চাদের কীভাবে বলা যেতে পারে

(লিখেছেন- ডা. শামসুল আরেফীন)

.
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু। কেমন আছো তোমরা সবাই? আলহামদুলিল্লাহ। আমরা সবাই ভালো আছি। এত দুর্দিনেও আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ভালো রেখেছেন। চারিদিকে কত খুন-রাহাজানি-ধর্ষণ-অগ্নিকান্ড, এর মাঝেও আল্লাহ আমাদের আর আমাদের পরিবারের সবাইকে সুস্থ রেখেছেন, নিরাপদে রেখেছেন, এজন্য আল্লাহর লাখো কোটি শুকরিয়া। কী বলো তোমরা?
.
আজ আমরা খুব বড় একটা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করব। খুব বড় এবং খুব জটিল একটা সমস্যা। এই সমস্যাটা যদি আমরা এই ছোটবেলায়ই না ধরতে পারি, আমাদের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। আমরা যখন বড় হব, তখন সীমাহীন কষ্টে আমাদের জীবন ভরে যাবে, সে কষ্ট কাউকে বলাও যাবে না। এজন্য খুব মন দিয়ে আমাদের শুনতে হবে আজকের কথাগুলো। যত মন দিয়ে শুনবো, তত সমস্যাটা বুঝতে পারা যাবে। আর যত বুঝতে পারা যাবে, তত আমরা সেই মহাসমস্যা থেকে বাঁচতে পারব। শুনব তো সবাই?
.
তাহলে শুরু করা যাক। দেখো, আমরা ছোট ছিলাম। ছোট বেলায় আমরা খেলনা পছন্দ করতাম, রং-পেনসিল দিয়ে আঁকাআঁকি পছন্দ করতাম, কার্টুন পছন্দ করতাম। এরপর সেই বয়সটা চলে গেল। এখন তোমরা ক্রিকেট-ফুটবল পছন্দ কর। এখন তোমাকে বিল্ডিং সেট দিয়ে বসিয়ে দিলে ভালো লাগবে? লাগবে না। আমাদের পছন্দ পরিবর্তন হয়ে যায়, আবার আরেকটু বড় হলে এগুলোও ভালো লাগবে না। এর মানে, আমাদের মন-মানসিকতা বয়সের সাথে পরিবর্তন হয়।
.
শুধু তাই না। বয়সের সাথে আমাদের শরীরেও পরিবর্তন আসে। যেমন আমাদের শরীর সাইজে বড় হয়। তেমনি শরীরের ভিতরেও নানান পরিবর্তন হতে থাকে। ছেলেদের শরীরে বড় বড় পশম হয়, কণ্ঠস্বর মোটা হয়, হাড়গোড় শক্তপোক্ত হয়, শরীর পেশীবহুল হয়। তোমাদের কিন্তু এখন সেই মাঝামাঝি সময়টা চলছে। তোমরা এখন বাচ্চা থেকে পুরুষ মানুষ, বড়মানুষ হচ্ছো। এই সময়টাকে বলে ‘বয়ঃসন্ধিকাল’। বাসায় ছোটভাই আছে কার কার? খেয়াল করে দেখো তোমার আর তোমার ছোটভাইয়ের মধ্যে কত পার্থক্য। তাহলেই বুঝবে তুমি এখন বাচ্চা থেকে বড়মানুষ হচ্ছো। তোমার ঠোঁটের উপর গোঁফের রেখা আসছে, তোমার গলা মোটা হয়েছে। এসময় শরীরে খুব গন্ধ হয়, ঘামে খুব গন্ধ হয়, সেটা এসেছে, এটা চলে যাবে আরেকটু বড় হলে।
.
তবে এই পরিবর্তনগুলোর মাঝে আমাদের দুটো পরিবর্তন আছে, আমরা কাউকে বলতে পারি না, লজ্জা লাগে, তাই না? একটা হচ্ছে বাহুর নিচে বগলে আর নাভীর নিচে মোটা মোটা লোম ওঠে। এগুলো কেটে ফেলতে হয়, সপ্তাহে একবার শেভ করে ফেললে ভালো, শরীরে গন্ধ হয় না। নাহলে ঘাম আটকে থেকে গন্ধ হয়। প্রতি শুক্রবারে শেভ করার নিয়ম, আমাদের নবী আমাদের তাই শিখিয়েছেন। আর না কেটে ৪০ দিন পেরিয়ে গেলে গুনাহ লেখা হয়, শরীরে ঘাম আটকে থেকে গন্ধ হয়, কেউ কাছে আসতে চায় না, ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়া জমে ইনফেকশানও হতে পারে। আমরা প্রতি শুক্রবারে এটা শেভ করব, ঠিক আছে তো?
.
আরেকটা সমস্যা আমাদের হয়। প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে আঠালো একটা রসের মত আসে। একটু চাপ দিয়ে পেশাব করলে, বা পায়খানা একটু কষা হলে সেটা বেরিয়ে আসতে পারে। কিংবা কারো কারো রাতে ঘুমের ভেতরেও বেরিয়ে আসে, আসে কি না? এটাও খুব স্বাভাবিক, কোনো অসুখ না, একদম ভয়ের দুশ্চিন্তার কিছু নেই। তোমাদের হবে, আমাদের হয়েছে, আমাদের বাবাদের হয়েছে এই বয়সে। ঘুমের ভেতর স্পীডের সাথে বেরোলে গোসল করতে হয়। গোসলের আগ পর্যন্ত শরীর নাপাক থাকে, নামায পড়া যায় না, কুরআন ধরা যায় না, মসজিদে ঢুকা যায় না।
.
গোসলের নিয়ম হলো: প্রথমে ঐ জায়গা ধুয়ে নামাযের ওযুর মত ওযু করবে। এরপর গড়গড়াসহ কুলি করবে, গলার শেষ পর্যন্ত যেন পানি যায়। তারপর নাকের ভিতর পর্যন্ত পানি দেবে, পানি টেনে উঠাতে পারলে তো সবচেয়ে ভালো। আর লাস্টলি এমনভাবে গোসলটা করবে, যাতে প্রত্যেক লোমের নিচে পানি পৌঁছে, ডলে ডলে গোসল করবে। যাতে শরীরের কোথাও শুকনো না থাকে। আর যদি এমনি অন্য সময় স্পীডের সাথে না বেরোয়, এমনি চুঁইয়ে চুঁইয়ে আসে, তাহলে কেবল ওযু করলেই চলবে। এখন প্রশ্ন হল, এটা কেন আসে? প্রশ্ন আসছে তো?
.
চারপাশে দেখো। মানুষ দুই ধরনের: পুরুষ আর নারী। কেন দুই ধরনের? এক ধরনের কেন না? শুধু পুরুষ হতে পারত, কিংবা শুধু নারী? একপদের হলেই তো হতো? প্রশ্ন জাগে না মনে? এটা আল্লাহ তাআলার সিস্টেম। এই সিস্টেম আল্লাহ করে দিয়েছেন যাতে কিয়ামত পর্যন্ত দুটো মানুষ থেকে একটা মানুষ তৈরি হয়। একজন পুরুষ আর একজন নারী থেকে একটা নতুন মানুষ দুনিয়াতে আসে। এভাবে চলতে থাকবে। তোমার দাদা-দাদী থেকে তোমার বাবা এসেছেন। নানা-নানী থেকে তোমার আম্মু এসেছেন। আবার তোমার আব্বু-আম্মু থেকে তুমি দুনিয়াতে এসেছো। আবার তুমি-তোমার স্ত্রী থেকে আরেকটা নতুন মানুষ আসবে, যার এখন কোনো খোঁজ নেই। এভাবে তোমার বংশ চলতেই থাকবে। শুধু মানুষ না, অন্যান্য সব পশুপাখির ক্ষেত্রেও তাই। এই প্রক্রিয়াকে ইংরেজিতে বলে Reproduction, বাংলাতে ‘প্রজনন’। এটা কীভাবে হয়?
.
পুরুষ প্রাণীর শরীরে একটা বীজ তৈরি হয়, আর মেয়ে প্রাণীটার শরীরে তৈরি হয় জমি। জমিতে এই বীজ পৌঁছালে একটা নতুন সন্তান তৈরি হয়। যখন তুমি ছোট ছিলে তখন এই বীজ তৈরি হচ্ছিল না। এখন তুমি সেই বীজ তৈরির উপযুক্ত হচ্ছো, সেই বীজ তৈরি হওয়া শুরু হয়েছে তোমার শরীরে। আমাদের দেহে যে টেস্টিস/অণ্ডকোষ আছে, সেখানে তৈরি হয় এই বীজ। বীজ মজুদ রাখার একটা থলের মত জায়গাও আছে তোমার দেহে। যখন পেশাব পায়খানার সময় ঐ থলেতে চাপ পড়ে, তখন প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে একটু একটু করে বেরিয়ে আসে। এটাই ঐ আঠালো তরল, যা তুমি দেখো। কিংবা যখন তৈরি হয়ে হয়ে থলেটাতে আর ধরে না, তখন ঘুমের মাঝে উপচে বেরিয়ে আসে, যাকে বলে ‘স্বপ্নদোষ’। এটা বিলকুল কোন অসুখ না, অনেক বন্ধুবান্ধব তোমাকে বুঝাবে, এটা অসুখ। এটা কোনো অসুখই না, কোনো টেনশনের কিচ্ছু নাই। কিছুটা দুর্বল লাগতে পারে, সেজন্য তোমাকে যেটা করতে হবে, খাওয়া দাওয়া বাড়িয়ে দিতে হবে। প্রতিদিন ২ টা ডিম, দুধ, পুষ্টিকর খাবারদাবার খেতে হবে। ঠিক আছে না? বুঝতে পেরেছো সবাই? এটা নিয়ে টেনশন যদি কর, এই টেনশনটা ই শেষ পর্যন্ত রোগ হয়ে দাঁড়াবে। টেনশন না করলে তুমি অসুস্থ হবে না, সুতরাং কোনো টেনশান নয়।
.
এতক্ষণ পর্যন্ত আমরা কিন্তু নর্মাল বিষয়টা আলোচনা করলাম। এবার আমরা কিন্তু সমস্যায় প্রবেশ করছি। মন দিয়ে শুনো কিন্তু। আমাদের মাঝেই অনেক মানুষ, এমনকি তোমাদের বন্ধুরাও অনেকে এই সময়টা মারাত্মক এক খারাপ অভ্যাসে লিপ্ত হয়। তারা এই বীজ বের করে ফেলে ইচ্ছে করে। একবার থেকে বার বার। নিজ হাতে নিজের ভবিষ্যতকে শেষ করে দেয় তিলে তিলে। এই বয়সের বাজে অভ্যাস তাকে পরিণত বয়সে হতাশাগ্রস্ত একজন ব্যর্থ মানুষে পরিণত করে। একা একাই বেরিয়ে গেলে তা শরীরে খারাপ প্রভাব ফেলে না, কিন্তু নিজে ইচ্ছে করে বের করে ফেললে তা শরীরে সিরিয়াস ক্ষয় তৈরি করে। চলো দেখে নিই, এই সর্বনাশা অভ্যাসের ফলে কী কী দেখা দেয়:-
.
* শরীর দ্রুত ভেঙে পড়ে
* অকালে বুড়ো বুড়ো লাগে
* কোন কাজে আনন্দ লাগে না, সবসময় কেমন যেন বিমর্ষ লাগে।
* শরীর-মন চনমনে লাগে না, সতেজ থাকে না, ম্যাজমেজে লাগে
* কোমরে ব্যথা হয়
* মনোযোগ থাকে না পড়াশোনায়
* অল্পতেই ক্লান্ত লাগে
* পড়াশুনার রেজাল্ট খারাপ হতে থাকে, চেপে বসে হতাশা
* মাথাব্যথা করে
* চোখের দৃষ্টি কমে যেতে থাকে
* বীজ পাতলা হয়ে যায়, সন্তান হবার সম্ভাবনা কমে যায়
* লিঙ্গ নিস্তেজ হয়ে পড়ে
* লিঙ্গের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে, সোজা থাকে না
* স্ত্রীমিলনে আগ্রহ কমে
* স্ত্রীর চাহিদা মেটার আগেই দ্রুত বীর্যপাত হয়ে যায়
* দাম্পত্য জীবনে ব্যর্থ পুরুষ হিসেবে সাব্যস্ত হয়
* পারিবারিক কলহ, ডিভোর্স হতে পারে
* হতাশা একাকীত্ব জীবনকে ধ্বংস করে দেয়।
.
সুতরাং ছোট্টবন্ধুরা, তোমরা বুঝতে পারছ— এই ইচ্ছা করে বীজ বের করে ফেলাটা কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে। আর যদি এটা তুমি না কর, তাহলে শরীর থাকবে সতেজ, মন থাকে প্রফুল্ল। তোমার মনে হবে, যেন তুমি বিশ্ব জিতে নিতে পারো। এতোটা আত্মবিশ্বাস তোমার উপর ভর করবে। পড়াশুনা-চাকুরি-ক্যারিয়ার-দাম্পত্যজীবন সবখানে তুমি একজন সফল ব্যক্তি হবে। এখন তুমিই বেছে নাও তুমি কোনটা চাও। সবাই বলো আমরা কোনটা চাই?
.
শুধু তাই নয়, আমাদের মৃত্যুর পর এক অনন্ত জীবন শুরু। কবর-হাশর তারপর জান্নাত বা জাহান্নামের ফয়সালা হবে। এই নিজে ইচ্ছে করে বীজ বের করে ফেলা আল্লাহর কাছেও মারাত্মক বড় গুনাহ যাকে বলে কবীরা গুনাহ। অন্তর থেকে ফিরে আসার সংকল্প না করলে মানে তাওবা না করলে এই গুনাহ মাফ হয় না। বার বার কবীরা গুনাহ একসময় ঈমান চলে যাওয়ার কারণও হতে পারে। এজন্য জাহান্নামে কঠিন শাস্তির কথা এসেছে হাদিসে। এজন্য এমন কাজ, এমন অভ্যাস আমরা কেন করব যাতে দুনিয়াও শেষ হয়ে গেল, আখিরাতও শেষ হয়ে গেল। সবাই তাওবা করি আজ থেকে, আল্লাহ, আমরা এমন কাজ কখনো করব না। সবাই মন থেকে বলো। আর যাদের এই অভ্যাস আছে, তারাও তাওবা কর: বলো, আল্লাহ যা করেছি ভুল করেছি। আর কোনোদিন করবো না। বলেছো মনে মনে। মন থেকে আল্লাহকে বলতে হবে, তাঁকে কী ফাঁকি দেয়া যায়?
.
এবার আরেকটা মহাসমস্যার কথা তোমাদের শোনাবো। সেটা হলো: এই পুরুষ প্রজাতির বীজ নারী প্রজাতিতে ট্রান্সফারের জন্য একটা প্রক্রিয়া আছে। একটাই প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়েই সকল মানুষ জন্ম নেয়। পুরুষের জননাঙ্গ এবং নারীর জননাঙ্গকে একত্র করা হয় এবং বীজ দেয়া হয়। এই একটাই প্রক্রিয়া। পুরুষ নারীর প্রতি আকর্ষিত হবে, আর নারীর কাছে পুরুষদের ভালো লাগবে। এটাই নিয়ম। নারী-পুরুষের বাইরে যেকোন প্রকার জননাঙ্গ-কেন্দ্রিক আকর্ষণ হল অস্বাভাবিক ও অপরাধের কাজ। নারী-পুরুষের এই আকর্ষণ কাজে লাগিয়ে পশ্চিমা ধনী দেশগুলো কোটি কোটি ডলারের ব্যবসা করে, অশ্লীল ছবি-সিনেমার ব্যবসা। ইন্টারনেট ভর্তি করে রেখেছে এসব বাজে বাজে ছবিতে-ভিডিওতে। এগুলো যুবকেরা দেদারসে দেখছে, আর নিজের জীবনকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। কীভাবে সারা দুনিয়ায় যুবকেরা ধ্বংস হচ্ছে দেখবে? দেখো—
.
  •  অশ্লীল ছবি ভিডিওকে ইংরেজিতে বলে ‘পর্ন’। এখানে তারা নারী জাতিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে। নারীকে কেবলই পুরুষের ইচ্ছার দাসী হিসেবে দেখায়। যেন তার নিজের কোনো ইচ্ছে নেই, কোনো দাম নেই। যেন সে মানুষ না, কোনো বস্তু। যে এগুলো দেখে তার মনেও মেয়েদের সম্পর্কে বাজে বাজে ধারণা জেঁকে বসে।
  • এগুলোতে মানুষের শরীর সম্পর্কেও ভুল ধারণা জন্মে। মেকাপ করে মানুষের শরীর একদম নিখুঁত করে তোলে। ফলে বিয়ের পর যখন সে নিজের স্ত্রীর শরীর অত নিখুঁত পায় না, তখন পরিবারে অশান্তি শুরু হয়। পর্নে আসক্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক চিন্তার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
  • নিজেকে নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগে। নিজের শরীর, নিজের মিলন নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারে না,অহেতুক হতাশায় ভোগে। সে পর্নকে বাস্তব মনে করতে থাকে, অথচ ওগুলো সব অভিনয়।
  • পর্ন তাকে বার বার বীজ অপচয় করতে বাধ্য করে। পর্ন দেখে সে উত্তেজিত হয়, আর বার বার বীজ বের করে। ফলে তার শরীর-মন সব শেষ করে ফেলে।
  • পর্ন প্রচুর সময় নিয়ে নেয়। এটা নেশার মত। আজ যা দেখেছে। কাল তা ভালো লাগে না, আরেকটু বেশি মাত্রার প্রয়োজন হয়। তারপর আরেকটু বেশি। কাংক্ষিত কন্টেন্ট পেতে সে ইন্টারনেটে বেশি সময় দিতে থাকে। তার পড়াশুনা, চাকরি সবখানের পারফর্মেন্স খারাপ হতে থাকে। হতাশা তাকে গ্রাস করে বসে।
  • তোমরা পেপারে ‘ধর্ষণ’ শব্দটা খুব দেখছো ইদানীং। পেপার পড় কে কে? জানো এটা কী? এটা হচ্ছে— বীজ দেবার জন্য যে কাজটা নিজের স্ত্রীর সাথে করার কথা, সেই কাজটা অন্য মেয়ের সাথে জোর করে করা। এটা কঠিন অপরাধ ও গুনাহের কাজ। আসলে নিজ স্ত্রী ছাড়া যেকোন নারীকে এই বীজ দেয়াটাই খারাপ কাজ, কঠিন গুনাহ। আখিরাতে এজন্য কঠিন আজাব ভোগ করতে হবে, কে জানে কতদিন! সেটা মেয়েটার ইচ্ছাতেই হোক, আর অনিচ্ছাতেই হোক। তো পর্নের নেশায় যারা আক্রান্ত, তারা এই কাজের জন্য পাগল হয়ে যায়, নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। অন্য কারো ওপর আক্রমণ চালায় নিজের চাহিদা পূরণ করার জন্য। একবার চিন্তা কর, পেপারে তোমার ছবি এসে গেছে, তুমি অপরাধটা করেছো, তোমার বাবা-মায়ের চেহারাটা কেমন হবে, তারা কত লজ্জায় পড়ে যাবে, কতটা কষ্ট পাবে। এজন্য এসো আজ আমরা শপথ করি, আমরা কোনোদিন এই জিনিস দেখব না। কৌতূহলের বশেও না, কারণ বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এটা একটা নেশা। একবার যে দেখে সে আর ছাড়তে পারে না। তার দুনিয়ায় সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়, আর আখিরাতে তো কতকাল আগুনে জ্বলতে হবে তার ঠিক নেই, সেই আগুন দুনিয়ার আগুনের চেয়েও ৭০ গুণ তাপ বেশি হবে। যার যারা দেখেছো, এসো তাওবা করি, আল্লাহর কাছে ফিরে আসি। আয় আল্লাহ, আমাদের মাফ করে দিন। আমরা আর কোনোদিন এই সর্বনাশা জিনিস দেখব না। আপনি আমাদেরকে রক্ষা করেন। আমীন।
.
এখন এই যে তোমরা লেখাপড়া করছো। কেন? কারণ যে এখন খেলাধুলা কম করে লেখাপড়া বেশি বেশি করবে, সে পরে বৌবাচ্চা নিয়ে সুখে থাকবে, তাইতো? একইরকম ভাবে, এখন যে এই দুই জিনিস থেকে বেঁচে থাকবে, নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে। সে পরে মহাক্ষতি থেকে বেঁচে যাবে। আর যে খেলতামাশায় মত্ত হবে, পর্ন দেখা আর ইচ্ছা করে বীজ বের করার গুনাহে লিপ্ত হতেই থাকবে। তার পারিবারিক জীবন শেষ হবে, সেই চিন্তায় চিন্তায় সে নিজেও শেষ হয়ে যাবে। দুনিয়াই হয়ে যাবে তার দোযখ, আর মৃত্যুর পর দোযখ তো আছেই। এজন্য আজ আমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা করি, আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা কর এই কাজ থেকে। আমাদের তাওবা কবুল কর।
শেয়ার করুনঃ
যৌনশিক্ষা: যে কথা যায় না বলা

যৌনশিক্ষা: যে কথা যায় না বলা

যৌনতা নিজেই একটা ট্যাবু (যে কথা যায় না বলা)। ব্যাপারটা এমন না যে, শুধু পাক-ভারত-বাংলাতেই ট্যাবু, বা মুসলিমপ্রধান এলাকাগুলোতেই ট্যাবু। বেসিকালি চিরকাল ট্যাবুই ছিল একেশ্বরবাদী সমাজগুলোতে। রক্ষণশীল ইহুদী সমাজে ও ক্যাথলিক সমাজে যৌনবিষয়ক খোলামেলা আলোচনা হত, এমন খবর চোখে পড়ে না। মূর্তিপূজারী এবং প্যাগানসমাজে যৌনতা খানিকটা খোলামেলা থাকায় আলোচনাও ট্যাবু ছিল না, কখনোসখনো সেক্স ছিল পূজারই অংশ। এজন্য বাৎসায়নের কামসূত্র, খাজুরাহোর মন্দির, শিবলিঙ্গপূজায় এর আঁচ করা যায়। পরবর্তীতে দীর্ঘ মুসলিম শাসনের প্রভাবে যৌনবিষয়ক আলোচনা ব্যাপকতা হারায় এতদাঞ্চলে। গ্রেকো-রোমান সমাজে সমকামের ব্যাপক প্র্যাকটিস প্রমাণ করে যে স্বাভাবিক যৌনতাও কতটা খোলামেলা ছিল।
.
পুঁজিবাদের উত্থানে যখন সামাজিক-পারিবারিক-ধর্মীয় মূল্যবোধগুলো বাধা হয়ে দাঁড়াতে থাকল, তখন ট্যাবুগুলোকে ভেঙে ব্যবসাবান্ধব করার প্রয়োজন দেখা দিল। বিংশ শতকের শেষভাগে এসে এমন এমন সব থিওরির দেখা মিলল, যা যৌনতার সংজ্ঞাকেই বদলে দিল। খুব ভালো করে দেখেন, যৌনতার সংজ্ঞা বদলে দিতে পারলে সামাজিক-পারিবারিক-ধর্মীয় মূল্যবোধগুলো সব ভেঙে দেয়া যায় কারো মনে জেতা-ঘোড়ার উপর বাজি ধরতে পারলে, মানে বিজ্ঞানের মিশেলে যদি যৌনতার এইসব বিকৃত সংজ্ঞা বসিয়ে দিতে পারেন; তাহলে ধর্ম ও পরিবার থেকে তাকে বের করে আনা যায়। এখন সে পুঁজিবাদের সকল দোকানের সহজ শিকার, বান্ধা কাস্টমার। সেক্সুয়াল ফ্লুইডিটি, ট্রান্স-জেন্ডার, লাইফস্টাইলের নামে পশুকাম-সমকাম, ‘লিঙ্গ নাকি দৈহিক বিষয় না, সমাজ কর্তৃক আরোপিত’-ইত্যাদি কনসেপ্টের নামে সেই আয়োজনই করছে পুঁজিপতিরা। গে-জিনের আবিষ্কর্তা নিজে সমকামী, ‘জেন্ডার’ কনসেপ্টের পুরোধা জন মানি নিজে উভকামী। এগুলো না ধরতে পারলে আসেন মুড়ি খাই।
.
আমার স্বল্প পড়াশুনায় মনে হয়েছে, ইসলাম যৌনতাকে ঠিক সেভাবেই দেখে যেভাবে দেখা প্রয়োজন। এটা একই সাথে ট্যাবু (আলোচনা নিষেধ) এবং আলোচনা জরুরি। এর অবাধ আলোচনা যেমন নির্লজ্জতা, এর আলোচনা না থাকাটাও ঝুঁকিপূর্ণ। ঠিক ততটুকুই আলোচনা হওয়া চাই, যতটুকু ব্যক্তি-পরিবার-সমাজ ঠিক রাখতে দরকার। প্রয়োজনের সীমা ছাড়িয়ে ইয়ার্কি-ফ্যান্টাসির সীমায় গিয়ে পড়লে এটা অবশ্যই ট্যাবু। ‘সত্য বলতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল লজ্জা পান না’ নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই কথাতেই বুঝা যাচ্ছে, যেটুকু প্রয়োজন সেটুকু যৌন-আলোচনা বা যৌন শিক্ষা দীনেরই অংশ, যেহেতু যৌনজীবন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। এজন্য ইসলামে রজঃচক্র, স্বামী-স্ত্রী সহবাস, জানাবাত, বালেগ হওয়া প্রভৃতি সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা এবং আরও বিস্তারিত আলোচনার সূত্র দেয়া হয়েছে। কুরআন-হাদিস-ফিকহের কিতাবাদিতে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয়তা ও প্রায়োগিকতার মাঝে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে, যা দীনী ইলমেরই অংশ।
.
অথচ আজ মুসলিম সমাজেও যৌনশিক্ষা ট্যাবু কেন? যখন থেকে ব্রিটিশরা শিখিয়েছে ‘ইসলাম হল ধর্ম, জাস্ট ধর্ম’; সেদিন থেকে আমাদের ধ্বংস শুরু। নামাজ-রোযা-হজ্জের বাইরে আর কোথাও ইসলাম নেই। বাজার-অর্থব্যবস্থা-বিচার-আইন-লাইফস্টাইল সবখানে ইসলাম অপাংক্তেয় হয়ে গেছে সেদিন থেকে। ইসলাম মানে আর ‘আত্মসমর্পণ’ থাকেনি, ইসলাম মানে হয়ে গেছে ‘শান্তি’। স্বামী-স্ত্রীর মাঝখানেও যে ইসলাম আছে, আমার আর আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাঝেও যে ইসলাম দাঁড়িয়ে আছে— তা আজ স্বীকারই করে না, এমন মুসলিমও আছে। এজন্যই শোনা যায়— ‘সবকিছুর মধ্যে শুধু ধর্ম টেনে আনিস কেন?’। টেনে আনব কেন, ইসলাম তো আছেই সবকিছুর মধ্যে সবকিছুতে নিজের ইচ্ছাকে দমিয়ে আল্লাহর ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণকেই তো বলে ইসলাম।
.
ভূমিকা অনেক বড় হয়ে গেল, স্যরি। আপনি যদি সঠিক সময়ে সঠিক শিক্ষাটা তাকে না দেন, তবে বেঠিক সময়ে বেঠিক লোকে তাকে বেঠিক শিক্ষাটা দেবে। হয় সে বখে যাওয়া কোন বন্ধুর থেকে শিখবে, না হয় ইন্টারনেট তার শিক্ষক হবে, নয়তো কোন পর্নোম্যাগাজিন বা কলিকাতা হার্বালের পোস্টার থেকে সে যৌনতা সম্পর্কে একটা ভুল এবং অপ্রায়োগিক জ্ঞান পাবে, যার সাথে বাস্তবের কোন মিল নেই।
  • কোন ‘ইঁচড়ে-পচা’ বন্ধু তাকে শেখাবে ‘ডানহাতি স্ক্রু নিয়ম’। (সায়েন্সের পোলাপান বুঝবে)
  • ইন্টারনেট তার কাছে বমির-যোগ্য কিছু প্র্যাকটিসকে পবিত্র ও উপভোগ্য করে তুলবে।
  • ফুলবডি মেকাপ ও সিলিকন জেল ঢুকানো পর্নোস্টারগুলো স্বাভাবিক নারীদেহ সম্পর্কে তার মনে ভুল প্রত্যাশা গড়ে তুলবে।
  • সার্জারি করে বানানো অতিকায় পুরুষাঙ্গ তার মনে ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স তৈরি করবে।
  • ভায়াগ্রা খেয়ে ৭ দিন ধরে শুটিং করা ১০ মিনিটের ভিডিও বিয়ে নিয়ে তার মনে অমূলক অহেতুক আশঙ্কা তৈরি করবে।
  • আর বড় বড় করে ‘যৌন’ লেখা কলিকাতা হার্বালের পোস্টার তাকে বুঝাবে— তোমার শরীর থেকে কী না কী ইম্পর্টেন্ট জিনিস বের হয়ে যাচ্ছে, তু তো গ্যায়া।
.
আমি তো মনে করি প্রতিদিন যাদের বিয়ে হচ্ছে, ১% এরও সঠিক যৌনশিক্ষা নেই। সেদিনও এক রুগী পেলাম, ১০ মাস বিয়ে হয়েছে। দ্রুত বীর্যপাত হয়, দ্রুত নরম হয়ে যায়। ১০ মাস ধরেই এমন। স্ত্রী এখন ফোনে তার আরেক বন্ধুর সাথে বেশি বেশি সময় দিচ্ছে। অথচ সামান্য একটু যৌনশিক্ষা হয়ত জীবনটা সুখময় করতে পারত, যদিও সবই তকদীর, আমাদের সচেতন চেষ্টার কথাই বলছি।
.
পিরিয়ড শুরু হয়ে গেলে আমাদের মেয়েরা বেসিক যৌনশিক্ষাটা মায়ের কাছ থেকে পেয়ে ফেলে। নারী-পুরুষ বায়োলজির কারণ, ক্রিয়া, পিরিয়ডের কারণ ইত্যাদি সম্পর্কে মেয়েরা জেনে নেয় মায়ের কাছে থেকে। এজন্য মেয়েদের জানাটা সেফ ও সঠিক হয়। যতটুকু আলোচনা মা-মেয়েতে হয়, দীনী সীমারেখাগুলো আলোচনা করা থাকলে তা যথেষ্ট। আমরা একটা ডেমো দেখব একটু পরে। আর বিয়ের আগে ভাবী/বড়বোন/ সমবয়েসী খালা-ফুপুদের কেউ সহবাস রিলেটেড আলোচনাগুলো করে দিলেই হয়ে গেল। তবে সমস্যা হল, সবাই এগুলো নিয়ে জোকস করে, কেউ সিরিয়াসলি কিছু আলোচনা করে দেয়া দরকার। অবশ্য যাঁরা আলোচনা করবেন, তাঁদের ক’জনারই স্পষ্ট ধারণা আছে।
.
সমস্যা হল ছেলেদের, ব্যাপক সমস্যা। মেয়েরা মায়েরও ক্লোজ থাকে, বাবারও আদর পায়, পারতপক্ষে বাবারা মেয়েদের বকুনি/পিটুনি দেয় না বললেই চলে, মেয়েদের অত শাসন লাগেও না। কিন্তু ছেলেরা মায়ের আহ্লাদ পায়, কিন্তু এসব বিষয়ে ফ্রী হওয়া সম্ভব না। আবার বাপের সাথে কিছুটা মার-পিটের সম্পর্ক থাকে বলে বাবার সাথে বেশ দূরত্ব নিয়েই বড় হই আমরা। বাপে-তাড়ানো মায়ে-খেদানো। একারণে মেয়েরা যতখানি সঠিক যৌনশিক্ষা নিয়ে বড় হয়, ছেলেদের মনে ততটাই বেঠিক শিক্ষা গেড়ে বসে। তবে ফাইনাল কথা হল, ছেলেরা যৌনশিক্ষা বাপের থেকেই পেতে হবে। কেননা বাপ ছাড়া আর যত সোর্স সে এই বয়সে পায়, সবাই তাকে ভুল শিক্ষাটাই দিবে। বাপ হয়ে কীভাবে সম্ভব? কেন, মা হয়ে মেয়েকে শেখাতে পারলে বাপ হয়ে কেন পারবেন না? এসব ন্যাকামো বাদ দেন, বিষয়টা কতখানি জরুরি এটা ফীল করি আসেন। ছেলে পর্নো-আসক্ত বা সমকামী হয়ে গেলে তখন তো হায় হায় করবেন। কিছু পয়েন্ট মনে রাখতে হবে—
.
– বিষয়টা বার বার আলোচনা করার মত না। বার বার আলোচনা করলে সন্তান আর ভয় পাবে না আপনাকে, ওয়েট লস হবে। এজন্য আলোচনা হবে একদিনই, মাইন্ড ইট।
– আলোচনাটা হবে ইয়ার-দোস্ত স্টাইলে না, শিক্ষক-ছাত্র স্টাইলে। শিক্ষক-ছাত্র আজকের কনটেক্সটে বুঝা যাবে না। ওস্তাদ-শাগরেদ স্টাইলে।
– বাপ-ছেলে বা রাজা-প্রজা স্টাইলে হলে সে আপনার কথাটা নিতে পারবে না, হুকুম টাইপ কিছু মনে করবে। এজন্য হয়ে পারে বাপ-বেটা কোথায় বেড়াতে গেলেন, সাথে নিয়ে মার্কেটে গিয়ে একসাথে কিছু কিনলেন, একসাথে মাকে ছাড়া কোন রেস্টুরেন্টে খেলেন। মূল কথা পাড়ার আগে এমন কিছু একটা করতে হবে। যাতে পরের আলোচনাটা ‘হুকুম’ আকারে না হয়ে ‘ট্রেনিং সেশন’ আকারে হয়।
.
– শুরুটা এমন হতে পারে:
বাবা শোনো, তোমার সাথে খুব জরুরি একটা বিষয়ে আলোচনা করব। তুমি আজকের এই আলোচনাটা জীবনে কোনোদিন ভুলবে না। এমনকি আমি যেভাবে তোমাকে বলছি, সেভাবে তুমিও তোমার ছেলের সাথে এভাবে আলোচনা করবে। তুমি এখন এখন বড় হচ্ছো। ভেবে দেখ, একসময় তুমি খেলনা গাড়ি কত পছন্দ করতে। এখন তুমি ক্রিকেট সেট, ফুটবল এসব পছন্দ কর। বড় হবার সাথে সাথে তোমার মনের কিন্তু পরিবর্তন হয়েছে, দেখেছো? একইভাবে তোমার দেহেও পরিবর্তন এসেছে/আসছে/আসবে। লম্বায় বড় হবার সাথে সাথে তোমার গলার স্বর মোটা হবে, যেমন আমার। তোমার শরীরের গাঁথুনি শক্তপোক্ত হবে… এরই অংশ হিসেবে প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে প্রস্রাবের বদলে আঠালো এক ধরনের তরল আসতে পারে। তুমি ভয় পাবে না, এটাই স্বাভাবিক, সবার হয়, তোমার মত বয়সে আমারও হয়েছে। কখনও দেখবে ঘুমের ভিতরে বেরিয়েছে, ভয়ের কিছু নেই, এটা কোন অসুখ না…
.
– স্বপ্নদোষ বেশি হওয়াও কোন অসুখ না, এটা বুঝাবেন। একটা গ্লাসে দেড় গ্লাস পানি রাখলে বাকিটুকু উপচে পড়ে। তেমনি একটা বিষয় স্বপ্নদোষ। উৎপাদন তো চলছেই, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত হয়ে গেলে বেরিয়ে আসে। এখন তোমার করণীয়, বেশি বেশি ভাল ভাল খাবার খাওয়া। ফলমূল খাওয়া। ডিম-মাছ-মাংস খাওয়া। মন থেকে টেনশন দূর করে দেবেন।
.
– নারী-পুরুষ কেমিস্ট্রিটা খুব সংক্ষেপে বলে দেবেন:
দেখ, দুনিয়ায় দুই ধরনের মানুষ আছে। পুরুষ আর মহিলা। তোমার কি প্রশ্ন জাগে, কেন মানুষ এক ধরনের হল না? এটা হচ্ছে সিস্টেম। তোমার শরীরে যে আঠালো পদার্থ তৈরি হচ্ছে, সেটা হল বীজ। আর তুমি যে মেয়েকে বিয়ে করবে তার শরীরে এই বীজ পৌঁছালে, তোমাদের সন্তান জন্ম নেবে। এভাবে মানুষের জন্মের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেন আল্লাহ। এভাবে নতুন শিশু জন্ম নেয়।
.
– আবার আল্লাহর হুকুম জানিয়ে দিতে হবে:
তোমার দুষ্টু বন্ধুরা তোমাকে বিভিন্ন আজেবাজে বুদ্ধি দেবে। তুমি আমার কথা মনে রাখবে। সন্তানের জন্য বাবার চেয়ে ভালো আর কেউ চায় না। এই বীজ এমনিতেই উপচে বেরিয়ে গেলে সমস্যা নেই। কিন্তু তুমি স্বেচ্ছায় বের করলে আল্লাহ ভয়ংকর রাগ হবেন। তোমার শরীর ভেঙে পড়বে, তোমার বিবাহিত জীবনেও নানা অসুখবিসুখে অশান্তিতে আক্রান্ত হবে। এই বীজ কেবল তোমার স্ত্রীর জন্য, বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে নিজেকে শেষ করে দেবেনা। মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে হবে, ভালো লাগবে। কিন্তু আল্লাহ তোমাকে সেটা নিষেধ করেছেন, তোমার দৃষ্টিও কেবল তোমার স্ত্রীর জন্য। কোন খারাপ ছবি-সিনেমা থেকে সবসময় দূরে থাকবে, এগুলো যে বন্ধুরা দেখে বা দেয়, তাদের থেকেও দূরে থাকবে। নাহলে তোমার ভবিষ্যত কিন্তু অন্ধকার হয়ে যাবে, বাবা। সাবধান… বাবা হিসেবে তোমার কাছে আমার অনুরোধ। আর এ বিষয়ে যেকোন সমস্যা বা প্রশ্ন তুমি বন্ধুদের করবে না, আমাকে করবে, ঠিক আছে বাবা?
.
রাফলি এমন। এখন, কোন সময়ে আপনি তাকে এই সেশনটা নেবেন? কখন? ১১-১২ বছরে ছেলেরা বালেগ হয়। তবে এখন পর্নোর যুগে ৯-১০ বছরের বাচ্চারাই সব বোঝে। যদি সন্দেহ উদ্রেককারী লক্ষণ না পান তবে ১১-১২ বছরেই আলোচনাটা হবে। আর সন্দেহের কিছু পেলে, তখনই। আর মায়েরা মেয়েদের সাথে যথেষ্ট আলোচনা তো করেনই। বাকি আরেকটু জিনিস স্পষ্ট করে দেবেন:
.
– নারী-পুরুষ কেমিস্ট্রিটা:
মেয়েদের প্রতিমাসে একটা ডিম আসে, ডিম্বাণু বলে তাকে। একটাই পরিপক্ব হয়। ওটার প্রভাবে জরায়ুর (যেখানে বাচ্চা থাকে) জমিনটা উর্বর হয়, বীজ নেবার মত উপযুক্ত হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে বীজ পেলে তো বাচ্চা তৈরি হবে। আর যদি না পায়, তবে পুরো জমিনটা চাকা চাকা রক্তের আকারে বেরিয়ে আসে। এটা স্বাভাবিক, তুমি যেহেতু এখন বড় হয়েছো। এই বীজটা কোথায় আছে? বীজ আছে তোমার স্বামীর দেহে…
.
– আর আল্লাহর হুকুমগুলো:
আর এখন তুমি বড় হচ্ছ। মেয়েদের শরীরে যে সৌন্দর্য সেটা তোমার মাঝে এখন আসছে। ছেলেরা তোমার দিকে তাকাবে, তোমার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইবে। তুমি কারো দিকে তাকাবে না। কোন ছেলের সাথে কথা বলবে না… তোমার স্বামীর সাথে বিয়ে হবার আগ পর্যন্ত নিজেকে হেফাজত করে চলতে হবে…খারাপ বান্ধবী যারা ছেলেদের সাথে সম্পর্ক করে, আজেবাজে গল্প করে তাদের এড়িয়ে চলবে।
.
এখন কিশোর-কিশোরীদের নাকি আবার যৌনশিক্ষা দেয়া হচ্ছে সরকারি-বেসরকারিভাবে। সেখানে যৌন-তারল্য (তুমি যা ভাবো তাই তোমার যৌনতা, লিঙ্গের উপর না) শেখানো হয়। পারস্পরিক সম্মতিতে যৌন অনুভূতি প্রকাশ নাকি দোষণীয় না। সমকামিতাকে ইনিয়েবিনিয়ে স্বাভাবিক করে তোলা হয়। এরকম জঘন্য পরিস্থিতিতে আপনি যদি তাকে সঠিক শিক্ষা দিতে লজ্জা করেন, তাহলে আল্লাহ মাফ করুন অনাকাংক্ষিত কোন ঘটনায় কাকে দোষ দেবেন। আরেকটা বিষয়, তাকে ছোট করে না রেখে, এ বয়সেই তাকে আদর্শ স্ত্রী বা স্বামী হবার মানসিক শিক্ষা দেয়া শুরু করুন। মানসিক শিক্ষাগুলো বার বার দেয়া যাবে, সমস্যা নেই। পুঁজিবাদ যদি এ বয়সে তাকে সেক্সের জন্য ফিট মনে করে যৌনশিক্ষার জন্য উপযুক্ত মনে করে, তাহলে আপনি কেন তাকে সংসারশিক্ষার জন্য উপযুক্ত মনে করছেন না? বড় হয়ে ওঠা বয়সের দ্বারা নির্ধারণ হয় না, শিক্ষার দ্বারা হয়, মানসিক পরিপক্বতার দ্বারা হয়। আগের যুগে দেখেন ১৭-২৫ বছরেই তাদের কত কত অ্যাচিভমেন্ট, এখন কেন হচ্ছেনা। মনের বয়সকে আমরা আটকে দিয়েছি বলে। খেলাধুলা-কার্টুনের মাঝে তার সত্তাকে সীমাবদ্ধ ভাববেন না। এগুলোর বাইরে আরেকটা জগত তার মনে গড়ে উঠা শুরু হয়ে গেছে— যৌনমনোজগত। শুরুতেই সেই জগতে একটা টীকা (ভ্যাক্সিন) দিয়ে দেয়া আপনারই কাজ, যাতে পরে কোন রোগজীবাণু ঢুকতে না পারে। সঠিক ধারণাটা দিয়ে দিলে, ভুল ধারণাগুলো জায়গা পাবে না।
.
আরও কোন কিছু বাদ গেল কি না, জানাবেন। ‘কুররাতু আইয়ুন-২’ তে অ্যাড করে দিব ইনশাআল্লাহ। বিবাহিতদের যৌনশিক্ষার একটা আইডিয়া আমার কাছে আছে। ইনবক্সে অনেকেই পেয়েছেন, তারা অন্য বিবাহিতদের সাথে শেয়ার করবেন। আর অবিবাহিতদের জন্য একটা লিখছি, আল্লাহর ইচ্ছায়। পর্নো-হস্তমৈথুন সবকিছু মিলিয়ে তো, একটু সময় লাগছে।
.
আল্লাহ আমাদেরকে সন্তানের জন্য বেইজ্জতি হবার হাত থেকে হিফাজত করুন। আমীন।
(লিখেছেন- Shamsul Arefin Shakti)
শেয়ার করুনঃ
আমাদের সন্তান পর্ন  দেখে!!! (দ্বিতীয় কিস্তি)

আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (দ্বিতীয় কিস্তি)

যেভাবে বুঝবেন আপনার সন্তান পর্ন আসক্ত:

১) পর্ন দেখার পর সাধারনত ব্রাউযারের হিস্টোরি ডিলিট করে ফেলা হয়। আপনি যদি লক্ষ্য করেন আপনার সন্তান ব্রাউজিং হিস্টোরি ডিলিট করে ফেলছে তাহলে বুঝবেন সে অনলাইনে এমন কিছু করছে যেটা সে অন্য কাউকে দেখতে দিতে চাচ্ছেনা। হতে পারে সে অনলাইনে প্রেম করছে অথবা পর্ন ভিডিও দেখছে। শেষেরটি হবার সম্ভাবনাই বেশী। ২০১২ সালে করা Tru Research এর জরিপ অনুসারে ১৩-১৭ বছর বয়সী টিনেইজারদের ৭১ শতাংশ তাদের ব্রাউযার বা চ্যাট হিস্টোরি মুছে ফেলে যাতে তাদের বাবা মা কোন আন্দাজ করতে না পারে তারা অনলাইনে কী করে।[1]

২) আপনার সন্তান প্রাইভেসী নিয়ে খুবই খুঁতখুতে হয়ে পড়বে। তার নিজের ঘরের দরজা লাগিয়ে রাখবে।

৩) আপনি হুট করে ঘরে ঢুকলে চমকে যাবে। তার মধ্যে অস্বাভাবিক নড়াচড়া লক্ষ করবেন। ক্ষিপ্রগতিতে সে ট্যাব মিনিমাইয করে ফেলবে। ডেস্কটপ ওয়ালপেপারের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবে। হাত মাউসের ওপরে রেখে দ্রুত ইতস্তত বিক্ষিপ্ত ক্লিক করতে থাকবে, পেইজ রিফ্রেশ করতে থাকবে।

“কী করছো?” জিজ্ঞাসা করলে সে লাজুক হাসি হাসবে, এই সেই বলে কথা ঘুরানোর চেষ্টা করবে অথবা রেগে যাবে।

৪) কাঁথা/কম্বলের  নিচে লুকিয়ে লুকিয়ে  মোবাইল ব্যবহার করবে।

৫) রাত জেগে মোবাইল ব্যবহার করবে। বাইরে ঘোরাফেরা বা খেলাধুলা করার চেয়ে সারাদিন ঘরের কোণে পিসিতে বসে থাকবে।

একদম চুপচাপ হয়ে যাবে। আপনার পাশে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকবে, তেমন কোন নড়াচড়াও করবেন না, কোন কথাও বলবেনা। আপনি তার চেহারায় অস্বাভাবিকতা লক্ষ করবেন। যেমন- মুখ লাল হয়ে যাবে, জোরে জোরে নিঃশ্বাস পড়বে।

৬) বাথরুমে মোবাইল নিয়ে যাবে। বাথরুমে আগের চেয়ে দীর্ঘ সময় কাটাবে।

৭) পিসির স্ক্রিন দেয়ালের দিকে ঘুরিয়ে নিবে যেন স্ক্রিনে কী চলছে তা দেখা না যায়।

৮) পর্নসাইট ভিজিট করলে সাধারণত পপ আপের পরিমাণ বাড়তে থাকে।  নেট ব্রাউযিং করার সময় আপনি প্রচুর পরিমাণ পপআপ নোটিফিকেশান যন্ত্রণায় ভুগলে ধরে নেবেন  ডালমে কুচ কালা হ্যায়।

৯) যৌনতার প্রতি সে অস্বাভাবিক কৌতূহল দেখাবে। এমনকি আপনি অনাকাঙ্ক্ষিত প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারেন।

১০) তার আচার-আচরণে, অঙ্গভঙ্গীতে পর্নস্টারদের অনুকরণের ছাপ থাকবে।

১১) আপনি আবিষ্কার করবেন সে মাস্টারবেট করছে।

এ লক্ষণগুলো থাকলে বুঝবেন আপনার সন্তান পর্ন দেখছে। এর কিছু কিছু অবশ্য (২,৪) এটাও ইঙ্গিত করে যে আপনার সন্তান অন্য কারো সঙ্গে “মনের” লেনদেন করেছে।[2],[3],[4]

পড়ুন-

মৃত্যু? দুই সেকেন্ড দূরে! (প্রথম পর্ব): https://bit.ly/2OcDLF9

আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (প্রথম কিস্তি): https://bit.ly/2CMF4sV

আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (শেষ কিস্তি): https://bit.ly/2NzPdxm

হৃদয়ের ঋণ (প্রথম কিস্তি)- https://bit.ly/2MmESA9

হৃদয়ের ঋণ (শেষ কিস্তি)- https://bit.ly/2NHUza4

 

রেফারেন্সঃ

[1] Jamie Le, “The Digital Divide: How the Online Behavior of Teens is Getting Past Parents,” – http://bit.ly/2CIHg3i

[2] Warning Signs that Your Teen is Secretly Viewing Porn – http://bit.ly/2Cv9YBH

[3] Warning Signs That a Child May Be Viewing Pornography – http://bit.ly/2qqtWf2

[4] Warning signs that your child might be addicted to porn – https://www.smalley.cc/warning-signs-if-your-child-is-watching-online-porn/

শেয়ার করুনঃ
আমাদের সন্তান পর্ন  দেখে!! (প্রথম কিস্তি )

আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!! (প্রথম কিস্তি )

প্রথম পরিচয়

ক্লাস নাইন টেনের সময়টাতে গান শোনার প্রচন্ড নেশা ছিল। স্কুল আর ঘুমানোর সময় বাদ দিয়ে  প্রায়  পুরোটা সময়  একটার পর একটা গান শুনতাম। গান শোনা ছাড়া কেন জানি থাকতে পারতাম না। সে সময় আমার নিজের পিসি বা ফোন কিছুই ছিল না। গান শোনার একমাত্র সম্বল ছিল সনির এমপি ফাইভ। তখনো এন্ড্রয়েড ফোনের যুগ শুরু হয়নি। বাজার  দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নকিয়া ২৭০০ ক্লাসিক আর  চায়না ফোন। বন্ধুদের চায়না ফোনের লাউডস্পীকার  থেকে তাহসানের গান ভেসে আসতো, আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলতাম আর ভাবতাম কবে আমি  একটা এরকম “অস্থির” ফোনের গর্বিত মালিক হবো।

সারাক্ষণ যেহেতু গান শুনতাম তাই একটা গানে অল্প দিনেই অরুচি ধরে যেত। ইন্টারনেট তখন আমার কাছে স্বপ্নের মতো। গলির মোড়ের কম্পিউটারের দোকানই ভরসা। কয়েকদিন পর পর গলির মোড়ের  কম্পিউটারের দোকানে যেতে হতো নতুন গান ডাউনলোড দিতে। দশ বিশ টাকা দিলেই পুরো এমপি ফাইভ ভর্তি করে গান দিয়ে দিতো। এভাবে বার বার যাবার কারণে দোকানদারের সাথেও বেশ খাতির জমে গেল। তো একবার সে লোক আমার  এমপি ফাইভ লোড করে দিয়ে একটু বেশী টাকা চাইলো। আমি অবাক হয়ে  তার দিকে তাকাতেই সে একটা চোখ টিপ দিয়ে বললো, “মাল দিছি ছোট ভাই”।

পরে আমার অনেক  বন্ধুবান্ধবের কাছে অনেকটা একইরকমের গল্প শুনেছি। কেউ দোকানে গেছে কলকাতার বাংলা সিনেমা ডাউনলোড করে নিতে, কম্পিউটারের দোকানদার সেই সিনেমা তো দিয়েছেই সেই সাথে ফাউ হিসেবে কিছু নীল সিনেমাও দিয়ে দিয়েছে। তারপর আস্তে তাকে পর্ন ভিডিওতে আসক্ত বানিয়ে ফেলে দোকানের  ক্যাশ বাক্স ভরিয়েছে। আমার খুব কাছের অসম্ভব মেধাবী একজন বন্ধু এভাবে পর্ন ভিডিওতে আসক্ত হয়ে পড়াশোনা শিকেয় তুলে ফেলেছিল। খুব কাছ থেকে পর্নোগ্রাফির মুভির কারণে ওর বদলে যাওয়া দেখেছি। এই হাইস্পিড ইন্টারনেটের যুগেও প্রতিনিয়ত অনেককে দেখি এভাবে কম্পিউটারের দোকান থেকে মেমোরি কার্ড লোড করে নিতে (বিশেষ করে গ্রাম এবং মফস্বল অঞ্চলগুলোতে)। পঞ্চাশ-ষাট টাকার জন্য জাহান্নাম কিনে নিতে দুবারও ভাবছেন না এ সব দোকানদাররা।

“যারা পছন্দ করে যে, ঈমানদারদের সমাজে অশ্লীলতার প্রসার ঘটুক, তাদের জন্যে ইহাকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না”। [২৪:১৯]

পর্ন ভিডিওর সাথে পরিচয়ের আরেকটা কমন মাধ্যম হচ্ছে কচি বয়সেই “পেকে” যাওয়া বন্ধু বান্ধব। এই অকালপক্ক বন্ধু বান্ধবের দল কোন ভাবে পর্ন মুভির সন্ধান পেয়ে গেছে। তারপর তারা নিজেরা তো সেই জিনিস দেখেই সাথে সাথে তার ইয়ার দোস্তকেও সেটার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার মহান দায়িত্ব স্বেচ্ছায় নিজেদের কাঁধে তুলে নেয়। শেয়ার ইট, ব্লু টুথ, পেনড্রাইভ, হার্ডডিস্কে চলে লেনাদেনা।  ক্লাসের গোলগাল মোটা রিমের চশমা পড়া ভদ্র ছেলেটাকেও জোরাজুরি করে পর্ন ভিডিও দেখার জন্য। বন্ধুদের  চাপাচাপিতে নেহায়েত বাধ্য হয়েই ভদ্র, ভালো ছেলেটা হয়তো একবার পর্ন ভিডিও দেখে ফেলে। প্রথমবার দেখে তার বমি আসতে চাইলেও, পাসশাপাশি শরীরে অচেনা এক “ফিলিংস”-ও কাজ করে। পরে আবার দেখতে ইচ্ছে করে। তারপর আবার। এভাবেই একসময় ভালো ছেলেটাও আটকা পড়ে পর্ন মুভির জালে।

অনেক সময় ১০-১২ বছরের ছেলেরা শরীরে হুট করে আসা পরিবর্তন দেখে চমকে যায়, কিন্তু ভয়ে বা লজ্জায় বাবা মাকে এগুলো সম্পর্কে কোন প্রশ্ন করতে পারে না। কৌতূহল মেটাতে না পেরে বাধ্য হয়ে শেষমেষ আশ্রয় নেয় তাদের বন্ধুদের কাছে। বন্ধুদের সাথে এ কথা, এই আলোচনা সেই আলোচনা হতে হতে একসময় পর্ন, মাস্টারবেশন এই কথাগুলও চলে আসে। এভাবেও অনেকের পর্ন এবং মাস্টারবেশনের সাথে পরিচয় হয়ে যায়। আমার বাল্যকালের অনেক ইয়ার দোস্তদের এভাবেই পর্ন এবং মাস্টারবেশনের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল।

 

পর্নমুভির সঙ্গে পরিচয় ঘটার আর একটা মাধ্যম হচ্ছে বড়ভাই, কাযিন বা পাড়াতো ভাই বোনদের (বিশেষ করে গ্রামে এটা খুবই বেশী) পর্ন আসক্তি। বড়ভাই, বোন বা কাযিন পর্ন ভিডিওতে আসক্ত। তার  মোবাইলে বা পিসির মেমোরি ভর্তি পর্ন ভিডিও। ছোটভাই, বোন বা কাযিন সে মোবাইল বা পিসিতে মাঝে মাঝে গেইমস খেলে, ঘাঁটাঘাঁটি করে। হুট করে সে একদিন আবিষ্কার করে বসবে পর্ন ভিডিও। আমার খুব কাছের একজন আত্মীয়ের ছয় সাত বছরের পিচ্চির এভাবেই পর্নোগ্রাফির সাথে পরিচয় ঘটে গেছে।

কথাটা বলতে খুব খারাপ লাগছে কিন্তু তবুও বলি, এভাবে পাড়াতো ভাই বোন বা কাযিনদের মাধ্যমে যেসব বাচ্চাদের পর্নোগ্রাফির সাথে পরিচয় ঘটে, সেই পাড়াতো ভাই বোন বা কাযিনদের মাধ্যমে সেই বাচ্চাদের যৌন নিপীড়িত হবার খুব ভালো  একটা সম্ভাবনা থাকে।[1] কাজেই এটা খুবই সিরিয়াসলি নেয়া দরকার।

তবে পর্নোগ্রাফি এবং মাস্টারবেশনের সাথে টিনেইজার বা বাচ্চাদের পরিচিত হবার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হল ইন্টারনেট এবং স্যাটেলাইট চ্যানেল। অ্যামেরিকাতে শতকরা ৪৬ ভাগ কিশোর নেট ব্রাউযিং করা অবস্থায় নিজেরা পর্নোগ্রাফি না খুজলেও এমনি এমনিই পর্ন ভিডিওর খোঁজ পেয়ে যায়।[2] ১৫-১৭ বছর বয়সী টিনেইজারদের মধ্যে শতকরা ৭০ জন অনলাইনে স্বাস্থ্য বিষয়ক কন্টেন্ট ঘাটতে গিয়ে হুট করে পর্ন ভিডিওর সন্ধান পেয়ে যায়।[3]

 

তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে আপনার সন্তানকে একদিন না একদিন ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দিতেই হবে। আমরা সেটা নিষেধও করছি না। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন হলো, আপনি ১০-১২ বছরের একটা বাচ্চার হাতে কেন হাই স্পিড নেট তুলে দেবেন? কেন তাদের হাই কনফিয়াগেরশান ফোন তুলে দেবেন? ১০-১২ বছরের একটা বাচ্চা হাই কনফিগারেশান ফোন, হাই স্পিড নেট দিয়ে কী এমন গুরুত্বপূর্ন কাজ করবে ঠিক বুঝতে পারছি না? সে কি নেট ঘেঁটে অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার ব্যাপারে গবেষণা করবে? ইউটিউব থেকে টিউটোরিয়াল নামিয়ে দেখবে? উইকিপিডিয়াতে গিয়ে পড়াশোনা করবে? গুগলে বিভিন্ন শিক্ষামূলক বিষয় নিয়ে সার্চ করবে? ফেইসবুকে বিভিন্ন শিক্ষামূলক গ্রুপে থাকবে?

বি প্র্যাক্টিকাল। আপনার সন্তান গুগলে ঠিকই যাবে তবে “সালোক সংশ্লেষণ” নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করার জন্য না, পর্ন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করার জন্য। ইউটিউব থেকে টিউটোরিয়াল নামাবে না,  নামাবে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত পর্দায় “আগুন লাগানো” কোন আইটেম সং। ফেইসবুকের শিক্ষা মূলক গ্রুপ গুলোতে তাকে খুবই কম পাওয়া যাবে, সে বুঁদ হয়ে থাকবে কারো রঙ্গ লীলার কাহিনীতে কিংবা সময় কাটাবে বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে চ্যাট করে।

 

আপনার  সন্তানকে কি ফেরেশতা ভাবেন? সে কি মানুষ নয়? তার কি জৈবিক চাহিদা বলে কিছু নেই? পত্রিকা, বিলবোর্ড, টিভি, সিনেমা, ইন্টারনেট – তার প্রতি চারদিক থেকে ছুড়ে দেয়া হচ্ছে যৌনায়িত ইমেজারি। আপনি আপনার সন্তানকে নিয়ে একসাথে ড্রয়িংরুমে বসে বসে ভারতীয় নর্তকীর নাচ তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছেন, দেখছেন আইপিএল-বিপিএলের চিয়ারলিডারদের শরীরের ভাঁজ, মুভি দেখছেন, বাসায় প্রথম আলো টাইপ পত্রিকা রাখছেন যেটা পর্নস্টার, নর্তকী আর পতিতাদেরকে বাংলাদেশের মানুষজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার মহান দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে চলেছে। এখনকার বলিউডের এক একটা আইটেম সং পর্ন ভিডিওর চেয়েও খারাপ। নারী পুরুষের সব রসায়নই সেখানে দেখানো হচ্ছে।  আপনার সন্তান এগুলো দেখছে, হয়তো আপনার সাথে এক সাথে বসেই দেখছে কিন্তু  আপনি তাকে কিছুই বলেন না। এখন কোন  আইটেম সং তার ভালো লেগে গেলে সে সেটা ডাউনলোড করার জন্য নেটে তো ঘুরে বেড়াবেই। সেই আইটেম গার্ল এর নাম লিখে গুগল সার্চ তো করবেই। আর এসব জায়গা থেকেই সে খোঁজ পেয়ে যাবে পর্নোগ্রাফির জগতের। আর বীর বাঙালি গুগলের এমন অবস্থা করে ছেড়েছে যে গুগলে কোন বাংলা ওয়ার্ড লিখে সার্চ দিলেই অমুকের স্ক্যান্ডাল, তমুকের রাতের আঁধারে ধর্ষণ, এ জাতীয় খবরের লিংক চলে আসে।

আপনার সন্তান এমন এক সমাজে, এমন এক পরিবেশে আছে যেখানে প্রতিনিয়ত তার জৈবিক চাহিদাকে উস্কে দেয়া হচ্ছে। আপনার সামনেই সেটা হচ্ছে, আপনি এ নিয়ে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না, আপনার সন্তানকে এ যৌনতা তাড়িত সংস্কৃতি থেকে রক্ষার জন্য কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না – সে তো আগুন নেভানোর রাস্তা খুঁজবেই।

পরের বার টিভিতে যখন কোন আইটেম সং চলবে, একটা ছোট পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। অন্যান্য বারের মতো অন্যমনস্ক ভাবে চ্যানেল স্কিপ করে যাবেন না। ভালো করে খেয়াল করবেন। একটা ১০-১২ বছরের ছেলে কিংবা মেয়ের চোখে ভিডিওর প্রতিটি ফ্রেম দেখার চেষ্টা করবেন। গানের কথাগুলো মনযোগ দিয়ে শুনবেন। এধরণের ডজন ডজন বা শতো শতো আইটেম সং বর্তমান সমাজ ও সংস্কৃতিতে একটা ১০-২ বছরের কিংবা আরো ছোট ছেলে অথবা মেয়ের চিন্তা ও আচরণের ওপর ঠিক কী ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করার চেস্টা করে দেখুন। আশা করি সত্য অনুধাবনে কষ্ট হবে না।

এ আইটেম সং গুলো পর্ন আসক্তি তৈরি করে চলেছে। পর্নোগ্রাফির সাথে বাচ্চাদের পরিচয় হচ্ছে হয়তো ১০ -১২ বছর বয়সে, গোপনে লুকিয়ে লুকিয়ে বাচ্চারা এগুলো দেখছে। কিন্তু আপনি নিজেই সারাদিন টিভি ছেড়ে রেখে, খাওয়ানোর সময় বলিউডের গান ছেড়ে রেখে, একেবারে ছোট ছোট শিশুকে আইটেম সং এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন, যেখানে অনেক ক্ষেত্রেই পর্নোগ্রাফির চেয়েও বেশী উত্তেজক ভাবে নারী পুরুষের রসায়ন দেখানো হচ্ছে। মাঝে মাঝে বাজারের কোন ‘হিট’ গান ছেড়ে ওকে বলছেন, “বাবু! একটু নেচে দেখাওতো” বা “বাবু একটু গেয়ে শোনাও তো”। কখনো কি ভেবে দেখেছেন, নিজ হাতে আপনি ওর কত বড় সর্বনাশ করছেন?

পড়ুন-

মৃত্যু? দুই সেকেন্ড দূরে! (প্রথম পর্ব): https://bit.ly/2OcDLF9
আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (দ্বিতীয় কিস্তি): https://bit.ly/2N6WIMF
আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (শেষ কিস্তি): https://bit.ly/2NzPdxm
হৃদয়ের ঋণ (প্রথম কিস্তি)- https://bit.ly/2MmESA9
হৃদয়ের ঋণ (শেষ কিস্তি)- https://bit.ly/2NHUza4

রেফারেন্সঃ

[1] Porn Has Fueled A 400% Rise In Child-On-Child Assaults In The UK – http://bit.ly/2CV4q4r

[2] Influence Of New Media On Adolscent Sexual Health: Evidence And Opportunities – http://bit.ly/2CFwURY

[3] Rideout VJ, Foehr UG, Roberts DF. Generation M2: Media in the lives of 8- to 18-year-olds. Menlo Park, CA: Henry J. Kaiser Family Foundation; January 2010

শেয়ার করুনঃ
মৃত্যু? দুই সেকেন্ড দূরে!

মৃত্যু? দুই সেকেন্ড দূরে!

সাই সাই করে পঙ্খীরাজ ঘোড়ার মতো বাসটা উড়ে চলছিল কালো পিচে মোড়ানো প্রশস্ত রাজপথের বুকের ওপর দিয়ে। জানালার পাশের সিটে বসে ছিলাম। বাতাসে উড়ছিল মাথার কোঁকড়া চুল । পথের পাশের বাবলার গাছ,ভাঁটফুল, নাম না জানা জংলী লতার নীল নীল ফুল, আর ১১ কেভি ইলেক্ট্রিক লাইনের পুল, সব কিছু নিমেষেই হারিয়ে যাচ্ছিল চোখের সামনে থেকে। বাসের ভেতরে নীরবতা  জমাট বাঁধতে শুরু করেছে। একটু আগেও বেশ হইচই হচ্ছিল। আমার আশে পাশে বসে ছিল পনের ষোল বছর বয়সের বেশ কয়েকজন কিশোর । কেউ গল্প করছিল, কেউ উদাস হয়ে বাইরে চেয়ে ছিল, কেউ কেউ সিটে বা  এরওর ঘাড়ে মাথা রেখে মুখ হা করে ঘুমাচ্ছিল। শেষের ছেলেগুলো বেশ ক্লান্ত। একটু আগেও হাই ভলিউমে ‘বুরখা পড়া মেয়ে পাগল করেছে’ টাইপ গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জটলা বেঁধে কি নাচটাই না এরা নাচছিল। এরকম নাচ দেখার সৌভাগ্য (না দুর্ভাগ্য?) আগে কখনো হয়নি। তবে ন্যাশনাল জিওগ্রাফী চ্যানেলে আফ্রিকান গহীন অরণ্যের কিছু জংলীদের নাচ দেখেছিলাম। সেই নাচের সাথে এই ছেলেগুলোর নাচের বেশ মিল আছে! যাই হোক ছেলেগুলো আমার বন্ধু, আমরা সবাই একি ক্লাসে পড়তাম। স্কুল থেকে আমরা বনভোজনে যাচ্ছিলাম মুজিবনগর । বসন্তের এক অসহ্য সুন্দর দিন ছিল সেটি ।

সামনের সিটগুলোতে স্যারেরা বসেছিলেন। তাদের ঠিক পেছনেই জটলা বেঁধে বসে ছিল ছেলেদের এবং মেয়েদের কয়েকজন। বাস থেকে নামার পরে বেশ কয়েকজনের মুখে শুনলাম এই ছেলেমেয়েগুলো বাসের মধ্যে প্রায় পুরোটা রাস্তা একসাথে মোবাইলে পর্ন দেখেছে!

প্রচন্ড রকমের বিস্মিত হয়ে ছিলাম সেদিন ।

এরপর আস্তে আস্তে এরকম অনেক ঘটনা দেখে বিস্মিত হতে হতে আমার বিস্মিত হবার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেল। আমি জানলাম আমার স্কুলের সবচেয়ে সেরা বন্ধু ভয়ংকর রকমের পর্ন আসক্ত। কলেজে আমার পাশে বসা ছেলেটার হার্ডডিস্ক ভর্তি পর্ন। পেছনের বেঞ্চের ছেলেটা সারারাত মোবাইলে পর্ন দেখে আর ক্লাসে এসে ঘুমায়। কাছের একজন বন্ধু, খুবই ভদ্র,লাজুক ছেলে, পর্ন আসক্তির কারণে প্রচন্ড নির্লজ্জ হয়ে উঠলো। আমি দেখলাম  ক্লাস রুমের দরজা আটকে স্কুলের বন্ধুরা পর্ন দেখছে, কলেজের বন্ধুরা মোবাইলের লাউডস্পিকারে পর্ন ছেড়ে দিয়ে ম্যাডামকে বিরক্ত করছে, ম্যাডামদের নিয়ে রসালো আলাপে পার করে দিচ্ছে টিফিনের সময়টা। ফেসবুকে কুৎসিত ইঙ্গিত করে ট্রল বানাচ্ছে। ভার্সিটির র‍্যাগিং এ নবাগত  ছাত্রদের পর্নস্টারদের অনুকরণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

পাশের রুমের ভদ্র ছেলেটাও যখন কলেজের ব্যাগে চটিগল্পের বই নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, নামাজে যাওয়া ছেলেটাও যখন রুমমেটের সঙ্গে পর্নস্টারদের নিয়ে মজা করে, তখন আমি কি আর বিস্মিত হব?

খুব বড়সড় একটা ধাক্কা খেয়েছিলাম ২০১১ সালের রমাদানে। লাইলাতুল কদরের রাতে গ্রামের মসজিদে গিয়েছিলাম। নামাজ পড়ার মাঝে বিরতিতে খেয়াল করলাম বারো তের বছরের কিছু ছেলে মসজিদের বাইরের উঠোনের আমগাছের নিচে বসে জটলা বেঁধে মোবাইলে পর্ন দেখছে। হাতে নাতে ধরা।

ইয়া আল্লাহ্! রমাদান মাসে! লাইলাতুল ক্বদরের রাতে!

লা হাওলা ওয়ালা কুআতা ইল্লাহ বিল্লাহ!

ভার্সিটিতে আমি নিজে অনেক অনুনয় বিনয় করে কয়েকজনকে রাজি করাতে পেরেছিলাম হার্ডডিস্ক পরিষ্কার করতে। এদের কারো কারো হার্ডডিস্কে শত গিগাবাইটের ওপরে পর্ন ছিল !

আমরা যখন বেড়ে উঠেছি তখনো বাংলাদেশে মোবাইল, ইন্টারনেট সহজলভ্য ছিলনা। তখনই এরকম ভয়ংকর অবস্থা ছিল!

এখন কী অবস্থা হতে পারে চিন্তা করে দেখুন একবার!

পর্ন আসক্তির ওপরে বাংলাদেশে তেমন কোন গবেষণা হয়নি বললেই চলে। ২০১২ সালে কয়েকটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর কিছু ছাত্রছাত্রীর উপর চালানো একটি জরিপে দেখা যায় শতকরা ৭৬ জন শিক্ষার্থীর নিজের ফোন আছে। বাকিরা বাবামার ফোন ব্যবহার করে। এদের মধ্যে-

* ৮২ শতাংশ সুযোগ পেলে মোবাইলে পর্ন দেখে।

* ক্লাসে বসে পর্ন দেখে ৬২ শতাংশ।

* ৭৮ শতাংশ গড়ে ৮ ঘন্টা মোবাইলে ব্যয় করে।

* ৪৩ শতাংশ প্রেম করার উদ্দেশ্যে মোবাইল ব্যবহার করে।

সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে, বেসরকারী এক হিসাবে দেখা গেছে ফটোকপি আর মোবাইলে ফোনে গান/রিংটোন ভরে দেয়ার দোকানগুলো থেকে দেশে দৈনিক ২.৫ কোটি টাকার পর্ন বিক্রি হচ্ছে।[1]

এছাড়াও বাংলাদেশে থেকে এক মাসে গুগলে “পর্ন” শব্দটা সার্চ করা হয়েছে ০.৮ মিলিয়ন বার এরও বেশী। বিশ্বব্যাপী সংখ্যাটা হচ্ছে ৬১১ মিলিয়ন বার! “সেক্স” শব্দটা বাংলাদেশ থেকে সার্চ করা হয়েছে ২.২ মিলিয়ন বার। বিশ্বব্যাপী করা হয়েছে ৫০০ মিলিয়ন বার।  অন্যান্য পর্নোগ্রাফিক শব্দের ক্ষেত্রে অবস্থাও অনেকটা এমন।

৩০ জুলাই ২০১৩, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS) পর্নোগ্রাফির উপর একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। রিপোর্টে বলা হয়, ঢাকার সাইবার ক্যাফেগুলো থেকে প্রতি মাসে বিভিন্ন বয়সের মানুষেরা যে পরিমাণ পর্ন ডাউনলোড করে তার মূল্য ৩ কোটি টাকার মতো।[2]

 

“মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন” পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা গেছে, পর্ন ভিডিওতে আসক্ত রাজধানীতে ৭৭ শতাংশ কিশোর। অবস্থার ভয়াবহতা ফুটে ওঠে যমুনা টিভির একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও।[3]

কোন বাবা-মা’ ই বিশ্বাস করতে চাননা তাদের সন্তান পর্ন দেখার মতো এতোটা নিচে নামতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা বড় কঠিন। সিকিউরিটি টেকনোলজি কোম্পানি Bitdefender এর গবেষনা অনুযায়ী, পর্ন সাইটে যাতায়াত করা প্রতি দশ জনের মধ্যে ১ জনের বয়স দশ বছরের নিচে। আর এই দুধের বাচ্চা গুলো রেইপ পর্ন  জাতীয় জঘন্য জঘন্য সব ক্যাটাগরির পর্ন দেখছে।[4]

লা হাউলা কুউ’আতা ইল্লাহ বিল্লাহ!

NSPCC ChildLine এর  সাম্প্রতিক জরিপ অনুসারে ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সীদের মধ্যে শতকরা ১০ জন এই ভেবে ভীত যে, তারা পর্ণে আসক্ত হয়ে পড়েছে। তারা মনে করছে চাইলেও আর পর্ন দেখা বন্ধ করতে পারবে না।[5]

২০০৮ সালে ১৪-১৭ বছর বয়সীদের ওপরে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, এক তৃতীয়াংশেরও বেশী কিশোরেরা প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার হলেও পর্ন দেখে।[6]

পর্নমুভির সঙ্গে প্রথমবার পরিচিত হবার গড় বয়স ১১! সবচেয়ে বেশি পর্ন আসক্ত ১২-১৭ বছর বয়সীরাই![7]

 

শিশুদের জন্য ইন্টারনেটকে নিরাপদ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা এনজিও Childnet এর সিইও, এবং UK Safer Internet Centre এর একজন ডাইরেক্টর উইল গার্ডনার মন্তব্য করেন, “মা বাবার জন্য এটা বিশ্বাস করা খুবই কষ্টকর যে তাদের ছেলেমেয়েরা পর্ন দেখে । কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এখনকার সময়ে পর্নোগ্রাফি খুবই সহজলভ্য এবং বাচ্চারা খুবই অল্প বয়সেই পর্নোগ্রাফির সাথে পরিচিত হয়ে যায়”।[8]

আঁতকে ওঠার মতো আরো অনেক জরিপ আছে । সব লিখতে গেলে ঢাউস বই হয়ে যাবে ।

আপনি, আপনার ছোটভাই/বোন বা সন্তানকে যতই নিরীহ,ভদ্র আর ল্যাদা গ্যাদা কাঁচু মনে করেন না নিশ্চিত থাকুন সে একবার না একবার হলেও পর্ন দেখে ফেলেছে এবং অচিরেই তার পর্ন আসক্ত হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে । সর্বনাশ  হয়ে যাবার আগেই সাবধান হোন । দাঁত থাকতেই দাঁতের মূল্য বুঝুন । না হলে পরে পস্তাতে হবে ।

পর্নআসক্তি আপনার সন্তানের জন্য কতটা বিপদজনক তা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে “ফ্যান্টাসি কিংডম” সিরিজে। পড়ুন এখানে-

“ফ্যান্টাসি কিংডম”(প্রথম কিস্তি): https://bit.ly/2x6Azo2
“ফ্যান্টাসি কিংডম”(দ্বিতীয় কিস্তি): https://bit.ly/2QrL9xJ
“ফ্যান্টাসি কিংডম”(শেষ কিস্তি): https://bit.ly/2NdAKIh

আরো পড়ুন-

আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (প্রথম কিস্তি): https://bit.ly/2CMF4sV
আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (দ্বিতীয় কিস্তি): https://bit.ly/2N6WIMF
আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (শেষ কিস্তি): https://bit.ly/2NzPdxm
হৃদয়ের ঋণ (প্রথম কিস্তি)- https://bit.ly/2MmESA9
হৃদয়ের ঋণ (শেষ কিস্তি)- https://bit.ly/2NHUza4

রেফারেন্সঃ

[1] Porn addiction of bangladeshi school going children’s (an investigative tv report) –  http://bit.ly/2c0TR1p

[2] Let’s talk about porn – https://goo.gl/dC5ymX

[3] https://www.youtube.com/watch?v=jUxXQB8PW7s

[4] One In 10 Visitors To Graphic Porn Sites Are Under 10 Years Old- http://bit.ly/2fdBY1a

[5] “Pornography addiction worry” for tenth of 12 to 13-year-olds – https://goo.gl/EWVkvZ

[6] Bev Betkowski, “1 in 3 boys heavy porn users, study shows,” Eurekalert.org, Feb. 23, 2007. http://www.eurekalert.org/pub_releases/2007-02/uoa-oit022307.php (accessed Dec. 9, 2013).

[7] How Hardcore Internet Porn Is Sexually Damaging Teens- https://goo.gl/UFNxqi

[8] Here’s The Shocking Percentage Of 12-Year-Olds Who Admit They Struggle With Porn – http://bit.ly/1S8hnvQ

শেয়ার করুনঃ