ট্যাবু!!

ট্যাবু!!

১. তরী পেজের ভাইদের দীর্ঘশ্বাস-

.
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
.
ঈসায়ি সন দু’ হাজার নয়। ক্লাস এইটে উঠলাম। বাড়ি থেকে অনেক দূরের এক স্কুলে ট্রান্সফার করা হলো আমায়। প্রথমবারের মতো হোস্টেল লাইফের অভিজ্ঞতা হলো। হঠাৎ একদিন আবিষ্কার করলাম, পাশের সিটে দুজন নীল ছবি দেখছে। ভয়ংকর এক জগতের সাথে পরিচিত হলাম আমি। নীল দানব। পর্নোগ্রাফি
.
আমি আমার বন্ধুদের দেখেছি, মেয়ে ক্লাসমেইটদের নিয়ে সারাক্ষণ সেক্স ফ্যান্টাসিতে বুদ হয়ে থাকতে। বান্ধবীদের শারীরিক বিশ্লেষণে মগ্ন থাকতে দেখেছি। আমি তাদের দেখেছি ক্লাসের ম্যাডামদের নিয়ে সেক্স ফ্যান্টাসিতে ভোগতে। কে কাকে কল্পনা করে মাস্টারবেশন করেছে তা নিয়ে সময়ের পর সময় পার করতে দেখেছি। এছাড়াও এমন সব নির্লজ্জপনা দৃশ্য আমি দেখেছি যা বর্ণনা করা আমার দ্বারা সম্ভব না।
.
কেন তাদের চিন্তাভাবনা, চালচলন এমন হয়ে গেলো? কী তাদেরকে এমনসব বেহায়াপনার দাস বানিয়ে ফেললো? পর্নোগ্রাফি। হ্যাঁ, পর্নোগ্রাফি। আরও আছে চটিগল্প। চটিগল্প এতোটাই জঘন্য গল্প যে এখানে সম্পর্কের দেয়াল থাকে না। চটিগল্প পড়তে পড়তে, পর্ন দেখতে দেখতে ব্রেইনের স্ট্রাকচার-ই পাল্টে গেছে। মস্তিষ্ক হয়েছে বিকৃত। অন্তর হয়েছে দূষিত।
.
এই যে পর্নের ছড়াছড়ি, এটা কখনকার ঘটনা? এটা তখনকার ঘটনা যখন বাংলার মানুষ ‘ফোরজি’ তো দূরের কথা, ‘ফোরজি’ ব্যবহার করার স্মার্টফোনের কথাও চিন্তা করতো না। তখন ছিলো MP3, MP4 এর যুগ। এটা ২০০৯ সালের ঘটনা। আজ থেকে দশ বছর আগের কথা। দশ বছর আগেই যদি ক্লাস এইটের ছাত্রদের অবস্থা এই হয়, তাহলে দশ বছর পর আজকে তা কোথায় পৌঁছেছে?
.
কিছুদিন আগে আমরা ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে এন্টিপর্ন ক্যাম্পেইন করার জন্য গিয়েছিলাম। কর্তৃপক্ষের অনুমতি চাইতে গেলে জনৈক ভদ্রলোক ভেটো দিয়ে বলেছিলেন, “মাধ্যমিকের ছেলেরা এসব (পর্নগ্রাফি) সম্পর্কে জানেনা। জানলেও দুই একজন।” উনার এই কথা দুঃখজনক নয়। এটা কমেডি। এটা হাইস্যকর।

 

২. ‘পর্ন নিয়ে কথা বলায় চিন্তিত সমাজ’ এর উদ্দেশ্যে Lost Modesty Supporting Team Chittagong University ভাইদের কিছু বার্তা-

.
আসুন পড়ি:
.
রংপুর নগরীতে প্রথম শ্রেণীর এক শিশু মেয়েকে গণধর্ষণ করেছে তিনজন শিশু।তাদের বয়স যথাক্রমে ৯,১০ ও ১১ বছর। আর মেয়ে শিশুটির বয়স ছিলো ৬ বছর! রংপুর মহানগরীর হাজিরহাট থানার ২নং ওয়ার্ডের পূর্ব গোয়ালু গ্রামে ঘটে ঘটনাটি। (https://tinyurl.com/y6kkzsqr)
.
আজকে আমার ৯ম শ্রেণীতে পড়ুয়া স্টুডেন্টের সিলেবাস দেখতে গিয়ে তার শারীরিক শিক্ষা না জানি কি একটা বইয়ে ‘বয়ঃসন্ধিকাল ও প্রজনন প্রক্রিয়া’ টাইপ কিছু একটা চোখে পড়লো। যতটুকু জানি বর্তমানে ক্লাস ৮ম এর নিচেও এসব নিয়ে পাঠ্য বইয়ে আলোচনা করা হয়।
.
২০১২ সালের কথা। তখন আমি ৯ম শ্রেণীতে পড়তাম। তখন জীববিজ্ঞান বইয়ে ব্যাঙের একটি অধ্যায় ছিলো সেখানে ব্যাঙের প্রজনন নামে একটি টপিক ছিলো। লেখা ছিলো এরকম যে, ‘প্রজননের সময় সঙ্গমকরার জন্য ব্যাঙ ঘেঙর ঘেঙর করে ডাকে…….’
আমাদের যে স্যার ছিলেন তিনি আমাদের ব্যাঙ অধ্যায়টি পড়ানোর সময় এই টপিকটি পড়াননি। এড়িয়ে গিয়েছিলেন। আমরাও স্যারকে বলিনি। নিজেরা বুঝে নিয়েছিলাম।
.
বর্তমানে যুগ পাল্টেছে। এখন ব্যাঙ পড়তে হয়না। সরাসরি বাচ্চারা ‘মানুষ’ পড়ে। মানুষের প্রজনন পড়ে। জানা ও পড়াটা দোষের নয়। কিন্তু সেটা সময় যখন হবে তখন জানুক না। কিন্তু পিচ্চি পিচ্চি বাচ্চাগুলোকে মাল্টিমিডিয়া দিয়ে বয়ঃসন্ধিকাল বুঝানোর মানে কি!
.
#লস্টমডেস্টি‘র কাজ করার সময় মাঝে মাঝে যখন মানুষকে লিফলেট বিতরন করি। পেজ থেকে কিছু বলা হয় তখন অনেক মানুষই অভিযোগ করেন যে,’আমাদের কাজের জন্য ছোট ছোট বাচ্চাদের হিতে বিপরীত হয়ে যাচ্ছেনা তো আবার! ফেসবুক ও ইউটিউবে অনেক টিনেজার আছে।তারা আমাদের এসব কাজ দেখে কৌতুহলী হয়ে যাচ্ছেনাতো আবার?!’
.
আমরা যখন কাজ করতে যাই তখন হিতে বিপরীত হয়ে যায়। অথচ স্কুলে পিচ্ছি পিচ্ছি বাচ্চাগুলোকে যখন বয়ঃসন্ধিকাল পড়ানো হয় সেটাতে সমস্যা হয় না!
.
প্রগতিশীল ভাই আমার। বলুন তো এই যে শিশু ছেলে গুলো ধর্ষণ করেছে তার কারণ কি? তারা ধর্ষণ জিনিসটা সম্পর্কে বুঝলো কি করে? এই বয়সে একটা মেয়েইবা চিনলো কি করে? এই বাচ্চা ছেলেগুলোর কি মনমানসিকতা দোষ? নারী শরীরের প্রতি লোভ টা দোষ?
উত্তরগুলো দিন যদি পারেন।
বলুন কি দায়ী এসবের জন্য? কে দায়ী?
.
এখন তো মোবাইলে দুই টিপ দিলেই দুধের বাচ্চাও পর্নো সাইটে প্রবেশ করতে পারে। তাইলে দোষ কিসের? আপনার কি করণীয়?

.

অবশ্যই দেখুন- পতনের আওয়াজ পাওয়া যায় 
পর্নোগ্রাফি-মাস্টারবেশন এর কুফল নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে চাইলে পড়ুন- আলোর মিছিল

 

শেয়ার করুনঃ
পর্ন আসক্তি গিলে খাচ্ছে কিশোরদের!

পর্ন আসক্তি গিলে খাচ্ছে কিশোরদের!

পর্ন আসক্তি গিলে খাচ্ছে কিশোরদের। নিরিবিলি সময় কাটানো, রাতে একা বিছানায় শুয়ে বাটন চাপছে অনর্গল। সবই পর্ন মুভি। রিডিং রুমে থাবা মেলেছে পর্ন মুভি। জীবনের শুরুতেই এমন আসক্তি পাল্টে দিচ্ছে কারো কারো জীবন। কেউ কেউ কিশোর বয়স থেকেই হয়ে উঠছে বেপরোয়া। নারীসঙ্গ খুঁজতে হয়ে উঠে পাগলপ্রায়। এই কিশোরদের দিয়েই ঘটছে অঘটন।
.
রাজধানীর একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র সুফি আয়ান। বাবা ইতালি প্রবাসী। মা বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। দুই ভাই বোনের মধ্যে আয়ান ছোট। বড় বোন একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবিতে পড়ছেন। মা অফিসে, বড় আপু বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকায় স্কুলের সময় বাদ দিয়ে বাকি সময়টা তাকে একাই বাসায় থাকতে হয়। আর এ সময়টা সে স্মার্ট ট্যাব নিয়ে পড়ে থাকে। এতো কম বয়সেই তাকে চোখে বইতে হচ্ছে ভারি পাওয়ার ওয়ালা মোটা কাচের চশমা। স্কুল থেকে ফিরে কোনোভাবে ড্রেসটা চেঞ্জ করে নিজের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। প্রায় সময়ই একা ঘরে চুপচাপ বসে থাকে। একা রুমে সারাদিন কি করে তার খবর জানে না মা বা বড় বোন।
.
একদিন অনার্স পড়ুয়া বোন বাসায় এসে দেখে ট্যাব হাতে নিয়েই কখন জানি ঘুমিয়ে পড়েছে তার আদরের ছোট ভাই। ট্যাব বন্ধ করতে গিয়ে হঠাৎ তার বোনের চক্ষু চড়কগাছ। যে ভাইকে খুব ছোট বলে এতদিন জেনে এসেছে তার ট্যাবে কিনা পর্ন সাইটের ভিডিও চলছে। অফিস থেকে মা ফেরার পর তাকে পুরো বিষয়টা জানায়। এরপর সুফির মা ছেলের সঙ্গে ফ্রি হওয়ার ভান ধরে কিছু অ্যাডাল্ট গল্পের ছলে জানতে পারে ছেলে অনেক আগে থেকেই পর্ন মুভির প্রতি আসক্ত। আর সে এসব কোথা থেকে জেনেছে জানতে চাইলে সুফি জানায়, ক্লাস সেভেনে পড়াকালীন সর্বপ্রথম তার এক বন্ধুর ট্যাবে ৮-১০ বন্ধু মিলে বিদেশি বিভিন্ন পর্ন ভিডিও দেখে।
.
একইভাবে রাজধানীতে সরকারি চাকরিজীবী এক বাবা একদিন তার ইন্টারমিডিয়েটে পড়ুয়া কিশোর ছেলে রায়হানকে দেখে রুমের দরজা আটকে ওয়াইফাই কানেকশন দেয়া কম্পিউটারে বসে অ্যাডাল্ট মুভি দেখছে। ছোট সময় বাচ্চাদের মা মারা যাওয়ার পর আর বিয়ে করেননি বাবা সায়েম ফরায়েজী। দুই ছেলেকে নিয়েই চলছে সংসার। ছেলের এই বিপথে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি সায়েম। তাই একদিন ছেলেকে প্রচণ্ড মার দেয়ার কারণে সে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর এক বন্ধুর বাসায় গিয়ে পায় ছেলেকে। এ সময় তার বন্ধুর কাছ থেকে জানতে পারে স্কুল শেষ করে সারাদিন একা একা বাসায় থাকতে খুব বিরক্ত লাগার কথা সে তার আরেক বন্ধুকে জানালে সে তাকে এই অ্যাডাল্ট মুভি দেখতে পরামর্শ দেয়। তাই যখনই সুযোগ পায় তখনই পর্ন মুভি দেখে রায়হান। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ‘প্রযুক্তি’ শিরোনামে একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে শিশুরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না। যৌন সহিংসতার প্রতি আকৃষ্ট হয়, অশ্লীলতার চর্চা বেড়ে যায়। মা-বাবাকে অসম্মান করতে শেখে, সামাজিক মূল্যবোধ নষ্ট হয়ে যায়, মনে ধর্ষণের ইচ্ছা জাগিয়ে তোলে।
.
রাজধানীর স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে পর্নছবির আসক্তি। ইন্টারনেটে পর্নসাইটের অনিয়ন্ত্রণ খুব সহজেই শিশুদের ঠেলে দিচ্ছে অন্ধকার জগতের দিকে। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে এই শিশু-কিশোররাই জড়িয়ে পড়ছে বড় বড় অপরাধের সঙ্গে।
.
একটি বেসরকারি গবেষণায় উঠে এসেছে, রাজধানীতে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের প্রায় ৭৭ ভাগ কোনো না কোনো ভাবে পর্নোগ্রাফি দেখছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, বিকৃত যৌন শিক্ষার মধ্যে দিয়ে বেড়ে ওঠা এসব শিশু পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতার পাশাপাশি সরকারকে কঠোর হবার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
.
বিভিন্ন সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, ১৬ থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রতি একশ’ ছেলেমেয়ের মধ্যে ৬৬ জনই যৌন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। মনোচিকিৎসকরা মনে করেন, এভাবে ছেলেমেয়েদের মধ্যে পর্ন আসক্তি বাড়তে থাকলে আগামী দুই দশকের মধ্যে সামাজিক মূল্যবোধ আর ধর্মীয় অনুশাসন বলে কিছু থাকবে না।
.
বর্তমান যুগে যোগাযোগের সহজ মাধ্যম ইন্টারনেট। আর এ ইন্টারনেটেই যখন সহজ প্রবেশাধিকার দিয়ে ইনডেক্স করা ৪৫০ মিলিয়ন পর্নোগ্রাফিক সাইট তখন প্রিয় সন্তানের জন্য অভিভাবকের উদ্বিগ্নতা প্রশমিত করার যেন উপায় থাকে না। যখন পরিসংখ্যান বলে, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১৬ থেকে ১৯ বছর বয়সের ৩৮ ভাগই ইন্টারনেটে আসক্ত তখন অভিভাবকদের ভাবতে হয় অনেক কিছু। আর সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কারণে সম্পূর্ণ অপ্রতাশিতভাবে ৫ থেকে ৭ বছরের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশুর ১২ শতাংশ এবং ৮ থেকে ১৭ বছরের ১৬ শতাংশ শিশুর সামনে ইনডেক্স করা এই ৪৫০ মিলিয়ন পেইজগুলোর সাজেশন্স চলে আসে। শিশু মন পরিচিত হয় পর্নোগ্রাফি নামক ভয়াল মানসিক বিকারের সঙ্গে। পরিসংখ্যানের এ তথ্যে, আধুনিক প্রযুক্তিকে আশীর্বাদের চেয়ে অভিশাপ হিসেবেই ধরা হয় অভিভাবকদের জন্য।
.
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের এক জরিপে উঠে এসেছে দেশের ৭৭ শতাংশ কিশোর-কিশোরী পর্ন দেখে। আর এগুলো দেখতে তারা ব্যবহার করছে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও ট্যাবের মতো সহজলভ্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি। এছাড়া ঘরে ঘরে ব্রডব্যান্ড আর ওয়াইফাই সহজলভ্য হওয়াতে এর বিস্তার বেড়েছে অনেক বেশি। শিশু কিশোরদের জন্য পর্ন দেখা সামাজিকভাবে নানারকম সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সুস্থ স্বাভাবিক যৌন শিক্ষা না থাকায় শিশু কিশোরদের মনোজগতে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। অল্প বয়স থেকেই পর্ন মুভি দেখার ফলে নানারকম সামাজিক অবক্ষয়ের ঘটনা ঘটছে। ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মাঝে অ্যামেচার পর্ন বানানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে ।
.
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের করা একটি কেস স্টাডিতে দেখা গেছে, মিসেস শায়লা একটি স্কুলের সিনিয়র শিক্ষিকা। ওনাকে সবাই শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। একদিন পরীক্ষার হলে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রকে তিনি বকা দেন অসদুপায় অবলম্বন করার জন্য। এ ঘটনা তিনি ভুলেই যেতেন। কিন্তু দু’দিন পরে উক্ত শিক্ষিকার বাথরুমের বাইরের দেয়ালে খুবই আপত্তিকর এক ছবি আঁকা দেখতে পান ওই শিক্ষিকা। আর সেই ছবির নারী পুরুষের জায়গায় ওনার আর এক জুনিয়র শিক্ষকের নাম লেখা। এই ঘটনায় তিনি খুবই মর্মাহত হন আর ভেঙে পড়েন। তদন্তে বেরিয়ে পড়ে কাজটি সেই ছাত্রের করা আর এই দুজন শিক্ষক তাকে আরেকজনের খাতা দেখে লেখায় বকা দিয়েছিল। তাই সে প্রতিশোধ নিতে এমন কাজ করেছে। একটা শিশুর ভাবনার অস্বাভাবিকতা উঠে আসে এ ধরনের ঘটনায়।
.
শিশু কিশোর উন্নয়ন ও মনো-সামাজিক সংস্থা প্রেরণার সাধারণ সম্পাদক ও সাইকো থেরাপিস্ট এসজেড রেজিনা পারভীন বলেন, বয়ঃসন্ধিকালে প্রত্যেক শিশুকেই সুস্থ আর স্বাভাবিক যৌনতা সম্পর্কে জানা উচিত। যদি না জানে তার ফলে দেখা যায় তারা পর্নসহ বিভিন্ন অ্যাডাল্ট সাইটগুলো দেখে যৌন সম্পর্ককে অস্বাভাবিক ভাবতে শুরু করে। এর প্রভাব পড়ে তাদের সামাজিক আচরণে। এমনকি বড় হওয়ার পরে দাম্পত্য সম্পর্কে এর প্রভাব পড়ছে। অনেক সময়ই অনেক স্বামী পর্ন মুভি যেভাবে দেখে ঠিক একইভাবে যৌন সম্পর্ক করতে চায় আর স্ত্রী রাজি না হলে শুরু করে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার।
.
পর্ন মুভি ইন্ডাস্ট্রি বিশ্বজুড়ে বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করে। তাই ইন্টারনেটে এগুলো খুবই সহজলভ্য। স্বাভাবিক নানা বিষয়ে সার্চ করলেও পর্ন মুভির লিংক চলে আসে। আর ইদানীং সবচাইতে ভয়ানক যে ব্যাপারটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা হল অডিও পর্নের প্রচলন। এটাই এখন সবচাইতে ভয়ানক। একজন কিশোর কানে হেডফোন গুঁজে কী শুনছে তা সহজে বোঝা যাবেনা। সামনে বই খুলে বসে অডিও পর্ন শুনে শুনে আপনার আদরের শিশু বা কিশোর সন্তানটির সুস্থ স্বাভাবিক সম্পর্ক নিয়ে অত্যন্ত কুৎসিত ধারণা পাচ্ছে। সে তখন নিজের পরিবারের নারী ছাড়া বাকি সব নারীদের নিয়ে বাজে চিন্তা করছে আর এটাকে সে মোটেই খারাপ ভাবছে না। শুনতে শুনতে তার কান ও চোখ এটাকে স্বাভাবিক বলে ভাবতে শুরু করছে।
.
মনোবিজ্ঞানীরা মনে করছেন পর্নোগ্রাফি অন্যান্য মাদকের মতোই একটা আসক্তি। মাদক যেমন মাদকাসক্তকে প্রভাবিত করে, নীল ছবিগুলোও মানুষের মস্তিষ্কে ঠিক সেভাবেই প্রভাব ফেলে। শিশু কিশোরদের বেলায়তো আরো একধাপ এগিয়ে। ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় পর্নোগ্রাফি আসক্তি মাদকের চেয়েও ভয়ানক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এই গবেষণার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিষ্পাপতার দিন শেষ হয়ে গেছে। মানুষ এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনেক কিছুই জানতে পারে। এটা হচ্ছে ঘরে হেরোইন রেখে শিশুকে ছেড়ে দেয়ার মতো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোবিজ্ঞানী জেফরি সেটিনোভারের মতে, আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের বুঝতে সাহায্য করেছে, পর্নোগ্রাফির আসক্তি হেরোইনের মতোই। বিজ্ঞান গবেষকদের দাবি, যারা অধিক মাত্রায় অশ্লীল দৃশ্য উপভোগ করেন, তাদের মগজের ধূসর পদার্থ উল্লেখযোগ্য হারে কমতে থাকে। ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষা থেকে গবেষকরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে অবিরল যৌন দৃশ্য উপভোগ করলে মস্তিষ্কে তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। আমরা শঙ্কিত যে আগামী প্রজন্ম একটি মেধাহীন ও অসুস্থ সমাজ উপহার দিবে।
.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, কিশোরদের প্রেমঘটিত কারণসহ নানা কারণে পর্নোগ্রাফিসহ বিভিন্ন ধরনের অন্যায় কাজের প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ছে। ফিলিপাইন, ভিয়েতনামসহ উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে সরকারিভাবে কিশোরদের পর্নসাইটে প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক দেশের সরকার এই সাইটগুলো বন্ধ করলেও আমাদের দেশে ওভাবে বন্ধ হয়নি। শিশু কিশোরদের বয়সের ডিমান্ড কমাতে বয়স এবং বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিল রেখে তাদের চাহিদা পূরণ করতে হবে। যে বয়সে যতটুকু প্রাপ্য তাকে ততটুকু সুবিধা প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে অভিভাবক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে এক ধরনের প্রেসার থাকতে হবে। রাষ্ট্র এক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
.
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, কিশোরদের পর্ন আসক্তি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হচ্ছে- রাষ্ট্রীয়, পারিবারিক, সামাজিক উদাসীনতা। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য পর্ন সাইট বন্ধ করে দিয়েছে। যেটা আমাদের দেশে এখনো ওভাবে হয়নি। দ্বিতীয়ত হচ্ছে বর্তমান সময়ে বাবা মা এতটাই ব্যস্ত সময় কাটায় যে তাদের সন্তানকে খুব একটা সময় দিতে পারে না। ফলে শিশুরা একাকী সময় কাটাতে এবং শরীর বৃত্তীয় কামনা নিবৃত্ত করতে পর্ন সাইটের আশ্রয় নেয়। এই সর্বনাশা পথ থেকে সন্তানদের ফেরাতে বাবা মা’ই পারেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে।
.
সমাজবিজ্ঞানি অধ্যাপক রাশেদা ইরশাদ নাসির বলেন, আমাদের সমাজে ফ্যামিলি বন্ডিংসটা কমে যাচ্ছে। বাবা মায়েরা অনেক বেশি ব্যস্ত থাকায় ছেলেমেয়েকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারে না। একই সঙ্গে প্রযুক্তির যেমন ভালো দিক আছে তেমনি খারাপ দিকও আছে। এক্ষেত্রে বাচ্চাদের কোনো বিষয়ে চাপ প্রয়োগ না করে তার মধ্যে এমন মনোবৃত্তি তৈরি করতে হবে যেন সে লুকিয়ে লুকিয়ে পর্নোগ্রাফি বা নিষিদ্ধ কোনো জিনিসের প্রতি আসক্ত না হয়। বাচ্চাদের এই পজেটিভ মনোবৃত্তি তৈরিতে পরিবার, বাবা-মা, শিক্ষক, গণমাধ্যম সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
.
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সস্টিটিউটের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. নাসরীন ওয়াদুদ বলেন, চীনসহ বিভিন্ন দেশে পর্ন সাইটগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে যেটা আমাদের দেশে বহালতবিয়তে চলছে। আমাদের সমাজে অতি আধুনিক কিছু বাবা মা তাদের সন্তানদের কিশোর বয়সেই হাতে একটি স্মার্ট ফোন কিনে দিয়ে জাতে উঠতে চায়। ফলে বাচ্চারা তাদের ইচ্ছামতো বিভিন্ন সাইটগুলোতে প্রবেশ করে খেয়ালখুশিমতো পার পেয়ে যাচ্ছে। এভাবেই এক্সাইটমেন্টের জায়গা থেকে কিশোররা একটু একটু করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অপরাধের দিকে পা বাড়ায়। কিশোরদের এই অতিমাত্রায় আধুনিকতা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য বিপদ বয়ে আনবে।
.
সূত্র: মানবজমিন
.
অবশ্যই দেখুন- https://tinyurl.com/y43344jc
পড়তে পারেন-
শেয়ার করুনঃ
আইটেম সং, শিশু নির্যাতন এবং বলিউডী দুনিয়ার ভন্ডামী

আইটেম সং, শিশু নির্যাতন এবং বলিউডী দুনিয়ার ভন্ডামী

কারিনা কাপুরকে দেখলাম টিভিতে, মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে বেশ সোচ্চার । কয়েক মাস আগে তিনি বললেন যে, মুম্বাইতে সন্ধ্যা ছয়টার পর বের হওয়া, তিনি নিরাপদ মনে করেন না ।

প্রিয়াংকা চোপড়া, আমাদের সময়ের আরেকজন বলিউড ডিভা, অনেকদিন যাবত ধরেই মেয়েদের পণ্য বানানো কিংবা মেয়ে শিশুর বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছেন ।

অথচ এই দুই নায়িকার কাওকেই, সিনেমায় তাদের খোলামেলা পোশাকের ব্যাপারে আপত্তি তুলতে শোনা যায়না । অন্তত প্রিয়াংকার ক্ষেত্রে, তার ক্যারিয়ারের একটা বড় অংশ কেটেছে অর্ধনগ্ন হয়ে, উন্মত্ত কামুক পুরুষের সামনে নাচার দৃশ্যে অভিনয় করে ।

কোন সন্দেহ নেই, এই আইটেম গানগুলোতে মেয়েদের পণ্যরুপে উপস্থাপন করা হয় । আপনি কি ‘মুন্নি বদনাম’ ‘শিলা কি জাওয়ানি’ থেকে শুরু করে, ‘পাল্লু কে নিচে’ গানগুলোর কথা বুঝে শুনে বলতে পারবেন, যে কথাগুলো অশ্লীল নয় কিংবা নারীর সম্মানহানী করেনা ?

এইসব গানে ক্যাটরিনারা দেদারসে নাচবেন, আবার সমাজে নারীবাদীর মুখোশ পরে, ভদ্র সাজবেন ।

যদি এরপরেও আপনার দ্বিধা থাকে মনে, তাহলে একটা প্রশ্নের উত্তর দিন, ‘আইটেম কথাটার মানে কী?

একটু সচেতনতার সাথে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, কাদের এই আইটেম গান টার্গেট করে । কোন আইটেম গান, শিক্ষিত মধ্যবিত্তের পরিচিত পরিবেশে দৃশ্যায়ন করা হয়না । হয় করা হয় উচ্চবিত্তের বেহায়াপনা হিসেবে, নয়তো মফস্বল শহরের ভেতরে, টং দোকানের সামনে; যেখানে আইটেম আর তার কামার্ত বন্ধুরা সাধারণত পরে থাকে নিম্নবিত্তের পোশাক । এমনকি, নাচের ভঙ্গিমায়ও সেইসব লোকেদের টার্গেট করা হয়, যারা মহিলাদের একটা বাজারে পণ্যের চেয়ে বেশি কিছু ভাবতে পারেনা । আইটেমের চারিদিক ঘিরে থাকে নির্মাণ শ্রমিক, রিকশাওয়ালা বা অটো ড্রাইভারের পোশাক পরিহিতেরা । আপনি হয়ত শিক্ষিত মানুষ হয়ে ভাবতে পারবেন ক্যাটরিনা তো শুধুই অভিনয় করছে, কিন্তু মনে মনে একজন রিকশাওয়ালা হয়ে দেখুন । তার কাছে কী মেসেজ দিতে চান নায়িকারা?

তাই প্রিয়াংকা যখন বলেন, পুরুষ আর নারী সমান, তখন কি সব ক্লাসের মেয়েদের বুঝান নাকি কেবল তার মত উচ্চবিত্ত মহিলাদের । নিম্নবিত্তরা আইটেম গানের আইটেমের মতই পণ্য ?

আমাদের মা-বোনেরা, নয় বছরের শিশুরা কিন্তু এই প্রিয়াংকাদেরই আজকে রোল মডেল বানাতে চান । এজন্যই কি গত দশ বছরে, এদেশের মহিলাদের পোশাকের ক্ষেত্রে বিপ্লব সাধিত হয়ে গেছে? ওড়না তো বলতে গেলে এখন কোন মেয়েই ‘প্রয়োজন’ হিসেবে পরেনা, পরে অতিরিক্ত একটি ফ্যাশনেবল কাপড় হিসেবে । ফিল্মের নায়িকারা যতই উপর উপরে তুলসি পাতা সাজুন, আসলে তারা প্রকাশ্যে, ছেলে ও মেয়েদের উভয়ের কাছেই ‘নারী শুধু পণ্য’ এই মেসেজ দিয়ে যাচ্ছেন । তাই সাত বছরের মেয়ে শিশুটি যখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে স্তন মাপে, আর ক্লাস ফাইভের ছেলের দ্বারা শিক্ষিকা অপদস্ত হয়, আমরা আর অবাক হইনা।

আপনি হয়ত ভাবছেন এগুলো শুধুই মুভি, বাস্তবে এর প্রভাব নেই। জেনে রাখুন, একটি রহস্য উপন্যাস যেমন, সুবিচারের মেসেজ দেয় আমাদের অবচেতন মনে, সাহিত্য উপন্যাস মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের ছাপ ফেলে, তেমনি এগুলোও নারীদের পণ্য বানিয়ে ফেলছে দিন কে দিন। আমার কথা বিশ্বাস না হলে, নিজ পরিবারের উপর পরীক্ষা করুন। আপনার সন্তান যদি আপনাকে সব বলতে পারে এমন হয়, তাহলে তাকে একটি আইটেম সং দেখতে দিয়ে, সে কী বুঝেছে জিজ্ঞেস করুন। আর যদি সে লজ্জা পায়, তাহলে ধরে নেবেন, হয় সে আপনাকে বন্ধু ভাবেনা, নয়তো এমন কিছু শিখেছে, যা নিজের খুব কাছের বন্ধুকেও বলতে সঙ্কোচ হয় তার ।

এইসব আইটেম গান দেখা থেকে বিরত থাকুন ।  আইটেম গয়ান  আপনাকে  ধীরে ধীরে পর্নোগ্রাফির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে; আপনি জানতেও পারছেন না ।

এটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে পৃথিবীর যেকোন স্তন্যপায়ী প্রাণী তথা mammals পুরুষের জন্য, টেস্টোস্টেরেন হরমোনের প্রভাব সহ্য করা কঠিন । এটি আপনাকে পাগল করে তোলে, বুনো হাতির মতই, বাধ্য করে পর্নোগ্রাফি আর  হস্তমৈথুনের মত অশ্লীল বিষয়ে নিজেকে জড়াতে । সাবধান ভাই। আল্লাহ্‌ আমাদের ও আমাদের প্রিয় পরিবারগুলোকে এই ফিতনা থেকে বাঁচার তৌফিক দিন।

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)

পড়তে পারেন-

আইটেম সং- https://bit.ly/2x5xMdW

অশনি সংকেত- https://bit.ly/2QoJTLH

শেয়ার করুনঃ
আইটেম সং

আইটেম সং

“আইটেম সং” খুবই রক্ত গরম করা ২ টা শব্দ অধিকাংশ তরুণ-তরুণীর কাছে।এর প্রবর্তক “শ্রদ্ধেয় বলিউড” ভাইজান।এ ভাইজান হইলেন সেইরাম টাকার মালিক।কিন্তু এই ভাইয়াটা একটু লম্পট ধরণের।কারণ মেয়েদের বা মহিলাদের,বাচ্চাদের বা বুড়িদের,চিকনি চামেলিদের বা পর্নস্টারদের দিয়ে যেইভাবে একের পর এক কোপ দিচ্ছেন আর আমরাও যা কোপ খাচ্ছি তাতে তো বিবেক নামের কিছু একটা কবেই বটি কাবাব হয়ে গেছে! আর পয়সা তো আসছেই আমাদের পকেট ভাঙ্গিয়ে।

আজকাল মুভির স্ক্রিপ্ট নিয়ে কেউ তোয়াক্কা করে না। মাল-মসলাটা  সলিড হলেই হয়। যেই আইটেম গানের lyrics যত কাতুকুতু দেওয়ার ক্ষমতা রাখবে সেই গান তত হিট এবং মুভি দেখে যদি গলির কুকুরেরও বমি আসে।তারপরও আমাদের(ভদ্র প্রাণীদের)ওই মুভি না দেখলে তো রাতের ঘুম হারাম।

অনেক মেয়েই মনে করে যে নিজের অস্তিত্বকে জগতের কাছে চাউর করতে হলে সেক্স আপিল থাকাটা বাঞ্ছনীয়। আর না থাকাটা awkward, তাদের এই ধারণাকে আরও মদত দেয় বেহুদা আইটেম সংগুলো। “রোম্যান্স করতে গিয়ে কিঞ্চিৎ নগ্ন হলে দোষ কী?”-টাইপ মানসিকতা অনেকটাই জনপ্রিয় এসবের কারণে।

ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে তো অবস্তা আরও ভয়াবহ। তারা যখন এইসব বেহুদা গান শুনছে তখন বাচ্চাকাল থেকেই  এই অমানবিকতাকে স্বাভাবিক বলে ধরে নিচ্ছে। বাবা-মারও কোন সমস্যাবোধ করছেননা। বাচ্চা ভাল-মন্দ বিচার করবে কীভাবে যদি তাদের প্রাথমিক শিক্ষকেরাই দিশেহারা হন?  প্রতিবেশী দেশের বিষ আমরাও শুষে নিয়েছি।

কার আউটফিট কতো সেক্সি,কার বাপের কত পয়সা আছে,কোন মেয়ের ফিগার সেই,কোন ছেলে কত ম্যানলি বা কে কত ভাল জব করে- এসব দিয়ে অনেক তরুণ-তরুণী নিজেদের যাচাই করতে পছন্দ করে। বলিউড বলেন আর যেই উডই বলেন এগুলো আমাদের মাঝে এক অসুস্থ ফ্যান্টাসির জগত তৈরি করে যা বাস্তবে ফলাতে গেলে আমাদের বিবেকহীনতার পথে পা ফেলতে হয় যা একজন সভ্য মানুষ কোনদিন কামনা করে না। কিন্তু বাস্তবে  আদৌ আমরা মন থেকে কতটুকু সভ্য হতে চাই?

তারকারা নিজেদের যথেষ্ট স্মার্ট ও সভ্য বলে মনে করেন। তারা তাদের কাজের জন্য মানুষের সম্মান ও প্রশংসা আশা করেন। কিন্তু নিজেদের classy people হিসেবে দাবি করা এই মানুষগুলা পয়সার লোভে যখন নিজেদের মূল্যবোধকে দ্বিধাহীনভাবে নিচুতে নামিয়ে আনেন তখন তারা কি আদৌ সভ্য থাকেন?

নাকি নর্ম বা কালচার বলে উড়িয়ে দিলেই কালো সাদা আর সাদা কালো হয়ে যায়? সবচেয়ে মজার বিষয় হল, যেই দুনিয়া ও পয়সার পূজা করে তারা প্রতিনিয়ত মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যাচ্ছে সেই দুনিয়াই একদিন তাদের ভুলে যাবে। অশ্লীলতার তেলে গরম হওয়া দর্শকেরা তাদের কোন কাজেই আসবে না আর না তাদের পয়সা তাদের সাথে কফিনে ঢুকবে।

 

বলিউডে কখনো শিলা জাওয়ান হয়,আবার কখনো মুন্নির বদনাম পুরো দেশ মাতায়। এখন তো আরও কত কি! আসলে পয়সা দিলে ফেভিকল দিয়ে চিপকানো বা বেবিডল পয়দা করা কোন ব্যাপারই না। বলিউডেরই এক বাসিন্দা নাওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী বলেন,“আইটেম সংগুলো নিষিদ্ধ করা খুব জরুরি।টিভি যদি ফ্যামিলির বিনোদনের জন্যই ব্যবহৃত হয়,তাহলে ফ্যামিলিতে তো বাচ্চারাও থাকে।তারা এসবের বাইরে কোনকিছু শিখতে পারে না।সারাদিন এই অর্থহীন নাচ-গান দেখার পর তারা বাস্তব জীবনে কপি-পেস্ট করার চেষ্টা করে।”[১,২]

 

অনেক সময় টিভি খুললেই সঙ্কোচে পড়ে যেতে হয় যখন আশেপাশে বাচ্চাকাচ্চা থাকে আর বেমানানসই কিছু পর্দায় লাফিয়ে উঠে। ওদের এই বয়সের কৌতূহল যদি পজিটিভ হয় তাহলে তা উৎসাহ পাওয়ার যোগ্যতা রাখে কিন্তু যদি তার উলটো হয় তাহলে তা সামলানো মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। এই যুগে বিনোদনের নামে অশালীনতা ও নগ্নতা তাদের নিরীহ প্রাণগুলোকে ঝলসে খাচ্ছে।

 

এবার আসি একটু কঠিন প্রসঙ্গে। আজকাল টিভি কিংবা পত্র-পত্রিকায় খুবই পরিচিত একটি শব্দ হল “ধর্ষণ”। এত ধর্ষণের কাহিনী আমরা শুনে ফেলেছি যে এখন আর নতুন করে কোন মায়া-মমতা জাগে না, নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপারে বদলে গেছে। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে দিল্লিতে চলতি বাসে গ্যাং রেপ এর যে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে যায় তা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে।এছাড়াও ২০১৪ সালের মে মাসে ১৪ ও ১৬ বছরের দুই কিশোরীর গাছে ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকা দেহ উদ্ধার করা হয় উত্তরপ্রদেশে।২০ বছরের এক পাকিস্তানি মেয়েকেও প্রায় একই অবস্থায় পাওয়া যায়।এরা সকলেই গ্যাং রেপের শিকার।এরকম আরও অজস্র কেইস হরহামেশাই ঘটে চলছে নিজেদের আশেপাশে।

NCRB  এর পরিসংখ্যান অনুসারে প্রত্যেকদিন ইন্ডিয়াতে ৯৩ জন মহিলা ধর্ষণের শিকার হন । [৩] ।আরেকটি পরিসংখ্যান অনুসারে ইন্ডিয়াতে প্রতি ২০ মিনিটে একটা করে রেপ হচ্ছে[৪] । বিশ্বের যে দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশী রেপের ঘটনা ঘটে তার প্রথম ১০ টি দেশের মধ্যে ইন্ডিয়া রয়েছে [৫,৬] ।

ইন্ডিয়াতে প্রচুর পরিমান চাইল্ড এবিউজের ঘটনা ঘটে। বিশ্বের অনেক দেশের গনমাধ্যমেই এ ব্যাপারে অনেক রিপোর্ট হয়েছে [৭,৮,৯] । এমনকি বিশ্বের সবচেয়ে বেশী  চাইল্ড এবিউজ হয় এমন পাঁচটা দেশের শর্টলিস্টেও রয়েছে ইন্ডিয়ার নাম [১০]

এসবের পেছনে কি আইটেম গান গুলোর কোন ভূমিকা নেই?

এগুলো কি ভেতরের পাশবিকতা টেনে বের করছে না?

পিয়ার রিভিউ এক গবেষণাপত্র থেকে দেখা যাচ্ছে, যেসক আন্ডারগ্র্যাজুয়েট  শিক্ষার্থীরা ‘আগুন গরম’ মিউজিক ভিডিও দেখে , তারা সেক্স ফ্যান্টাসিতে ডুবে থাকে,  সম্পর্কের বড় একটা অংশ জুড়ে থাকে সঙ্গিনীর প্রতি যৌন সহিংসতা ।[১১]

আইটেম সংগুলোতে যা দেখায় তার সারমর্ম হল এই, একটা মেয়ে টাইট পোশাক পড়ে উন্মাদ নরপশুদের সামনে হাজির হবে। তারপর শুরু হবে বিরক্তিকর এক গান যেটার লিরিক্স এর সাথে মূল ছবির তেমন কোন খাতির নাই। সাথে চলবে নাচ যা হয়তো গাছের বানরেরও হট ফেভারিট হয়ে যাবে এক সময়। মেয়েটা তখনি সফল হবে যখন সে তার ভরা যৌবন দিয়ে উপস্থিত সবাইকে মত্ত করে। এই তো কাহিনী।

 

এসবের পরে মহিলাদের বা মেয়েদের আসলেই কি মা-বোনের চোখে দেখা সম্ভব হয়? অথচ আজ থেকে প্রায় ১৩-১৪ বছর আগে ইন্ডিয়ান কিছু চ্যানেলই নারীদের সম্মান ও অবস্থানকে উঁচুতে তুলে ধরতে উদ্যত ছিল। সাধারণ জীবনে নারীদের মর্যাদা বাড়ানো কিংবা নারী-পুরুষ বৈষম্য দূরীকরণেও মিডিয়া সক্রিয়তা দেখিয়ে ছিল।আজ তা দেখা প্রায় দুর্লভ।

বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা ওমপুরিও  মনে করেন , ভারতীয় চলচিত্রের আইটেম গানে  অশ্লীলতার  মাত্রা এত বেড়ে গেছে যে এটা ধর্ষণকে উৎসাহিত করে । পদ্মশ্রী পুরষ্কার জেতা এই অভিনেতা বলেন, “এখনকার হিন্দী মুভির  আইটেম গানগুলো খুবই অশ্লীল । এই গানগুলোতে এমন সব ড্যান্স মুভমেন্ট আছে যা  দেখে মনে হয় তারা বোধহয় সেক্সের ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছে গেছে । ক্ষমা করবেন এরকম শব্দ ব্যবহার করার জন্য । কিন্তু অবস্থাটা এতটাই ভয়াবহ।

কেউ যদি তার  অবদমিত যৌন আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে চাই তাহলে এসব গানের সিডি কিনে তা চালিয়ে দেখলেই পারে ।  পুরোনো দিন গুলোতে এরকমটা  ছিল না । ষাট , সত্তর এমনকি আশির দশকের মুভি গুলোতে বার, নাইটক্লাবে চিত্রায়িত যে গানগুলো দেখানো হতো সেগুলো এতটা অশ্লীল ছিল না ।  পুরোনো দিনগুলোতে এত ধর্ষণের ঘটনাও ছিল না । আমি নিশ্চিত , আইটেম গান গুলো ধর্ষণের  ঘটনা বাড়িয়ে দিচ্ছে ।[১২]

এবারে ধর্ষণ নিয়ে রাজনীতিবিদদের কিছু বক্তব্য পেশ করা হল। রাজনীতিবিদ বাবুলাল গড় বলেন,“এটি একটি সামাজিক অপরাধ যা নারী ও  পুরুষ দুইজনের উপরেই নির্ভর করে। কখনো এইটা ঠিক আবার কখনো না……অভিযোগ না আসা পর্যন্ত কিছুই করা সম্ভব না। যদি সে(মহিলা)না চায় তাহলে কারো সাহস নাই তাকে স্পর্শ করার।তাছাড়াও আইটেম নাম্বারগুলো বাজে পরিবেশ সৃষ্টি করে।” তিনি মনে করেন মেয়েদের ক্যারাটে বা জুডো শিখে রাখা উচিৎ নিজেদের সুরক্ষার জন্যে।[১৩]

বলিউড আমাদের উচ্চমাত্রার যৌনতা গলধঃকরণ করাচ্ছে। বস্তুতই, যারা আমরা এই জিনিসগুলো উপভোগ করছি তারা বলিউডের চেয়ে কোন অংশেই কম দায়ী নয়। গত দশকে এই বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার একটাই কারণ- তা হল সমাজ তা অনুমোদন দিয়েছে। যখন এই ঝোঁক সমাজে প্রবেশ করেছিল তখনও সমাজ নির্লজ্জের মত চুপ ছিল । এমনকি আজ যখন  মহিলারা নৃত্য পরিবেশনের নামে  পতিতার চেয়েও  জঘন্য নায়িকারা  গায়ের ত্বক এবং শরীরের ভাঁজ প্রদর্শন করে যাচ্ছে আবার নিজেদের অভিনেত্রী হিসেবে দাবি করছে সমাজ তখনও চুপ ই থাকছে।

বলিউড এর এসব ‘আইটেম সং’ গুলোকে ভারত পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান যৌন  নিপীড়নের ঘটনার পিছনে দায়ী করাই যায়। মিডিয়া বিশেষ করে মুভি খুবই শক্তিশালী একটি মাধ্যম ।  আমি আপনি সবাই কম বেশি রুপালী পর্দার বাসিন্দাদের দেখে প্রভাবিত হই , অবচেতন মনে হলেও তাদেরকে অনুসরণ করি ।  সালমানের মতো সিক্স প্যাক চাই আমাদের,শাহরুখের মতো রোমান্টিক হতে ইচ্ছে করে।

তো মানুষ  যখন তাদের হিরো ,রোল মডেল  সালমান খান কে দেখে একটি মেয়ের পশ্চাৎ দেশে চড় মারতে, আবার অক্ষয় কুমারকে দেখে একটি মেয়ের কোমরে বাজেভাবে স্পর্শ করতে যে আবার তৎক্ষণাৎ অক্ষয়ের কোলে উঠে যায়। তখন মানুষ কি এতটুকুও প্রভাবিত হবে না ?

আমাদের ঘরে ঘরে  ড্রয়িং রুমে পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে আইটেম সং দেখার মতো মানসিকতা আমরা অর্জন করে ফেলেছি , গায়ে হলুদ , বিয়ে বা যেকোন পার্টি  আইটেম সং ছাড়া এখন  আর ঠিক জমে না , এমনকি  নিজেদেরকে ধর্মপ্রাণ মুসলিম (?) হিসেবে দাবী করে এমন মানুষে ভরা এই দেশটাতেও এখন আইটেম সং দেদারসে বানানো হচ্ছে । আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি কোন দিকে

আগাচ্ছি আমরা ?

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)

পড়তে পারেন-

অশনি সংকেত- https://bit.ly/2QoJTLH
আইটেম সং,শিশু নির্যাতন এবং বলিউডী দুনিয়ার ভন্ডামি – https://bit.ly/2MpWPhv

রেফারেন্স-

[১] http://bit.ly/2rC1mIx

[২] http://bit.ly/2rDmrSP

[৩] http://tinyurl.com/gu6fl5o

[৪] http://tinyurl.com/hy2xphf

[৫] http://tinyurl.com/zlfdcuw

[৬] http://tinyurl.com/z2x8oz7

[৭] http://tinyurl.com/gwqhbta

[৮] http://tinyurl.com/zgs665u

[৯] http://tinyurl.com/hos7vdl

[১০] http://tinyurl.com/ld4zxd9

[১১] Jennifer Stevens Aubrey, K. Megan Hopper, and Wanjiru G. Mbure, “Check That Body! The Effects of Sexually Objectifying Music Videos on College Men’s Sexual Beliefs,” Journal of Broadcasting and Electronic Media 55, no. 3 (2011): 360–379.

[১২] http://bit.ly/2naRVu1

[১৩] http://bit.ly/2DLPo3A

 

শেয়ার করুনঃ
অশনি সংকেত

অশনি সংকেত

বাংলাদেশের শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীদের অবস্থা কী? আমাদের সমাজের কতোটা গভীরে পর্নমুভি প্রভাব বিস্তার করেছে ?

বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে আপনাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাক Dr. Victor B. Cline সঙ্গে। Dr. Victor B. Cline ছিলেন University of Utah’র  Emeritus Professor,পড়াতেন Psychology , University of California, Berkeley  থেকে  Psychology’র ওপর Ph D

ডিগ্রি লাভ করেছিলেন। পরনোগ্রাফির প্রভাব নিয়ে আজীবন করে গিয়েছে অসংখ্য গবেষণা। [১]

.

Dr. Victor B. Cline আমাদের বলছেন পর্ন আসক্তির সূচনা থেকে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে বেশ কয়েকটি ধাপ পার করতে হয়।

ধাপগুলো হচ্ছে,

১) Addiction

২) Escalation

৩) Desensitization

৪) Acting Out

.
যদিও তাঁর এই মডেল ‘ব্যক্তি কেন্দ্রিক’ তারমানে এই মডেল দিয়ে একজন ব্যক্তির পর্ন আসক্তি ব্যাখ্যা করা যায়, তারপরেও আমরা মনে করি এই মডেল দিয়ে বাংলাদেশের সমাজে পরনোগ্রাফির সামগ্রিক প্রভাব ব্যাখ্যা করা সম্ভব। [২]

.

মহামারী আকারে বাংলাদেশের কিশোর তরুণদের পর্ন আসক্তির সূচনা হয়েছে বেশ কয়েকবছর পূর্বেই। স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট সহজলভ্য হবার পূর্বে সিডি ভাড়া করে কিশোর, তরুণরা পর্ন দেখত। ২০০৫ সালের দিক থেকে এমপি ফোর, এমপি ফাইভ টাইপের গান শোনা এবং দেখার ডিভাইস গুলো বাংলাদেশে জনপ্রিয় হতে থাকে। সেই সময় কম্পিউটারের দোকান থেকে টাকা দিয়ে এইসব ডিভাইসে পর্ন লোড করে নিত কিশোর তরুণরা।  কিন্তু তখনো পর্ন আসক্তি মহামারী আকারে  পৌঁছায়নি।

২০০৭ সাল থেকে বা এর পর থেকে মাল্টিমিডিয়া ফোন সহজলভ্য হতে থাকে। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে পর্ন আসক্তি। কিন্তু তখনো মহামারী হয়নি। ২০১০-২০১১ সালের দিকে ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়া শুরু হয়। মাল্টিমিডিয়া ফোন সবার হাতে হাতে পৌঁছে যায়। সেই সঙ্গে বলিউডে ‘আইটেম সং’ কালচার শুরু হয়। এই সময়েই মূলত পর্ন আসক্তি মহামারী আকার ধারণ করে ।

Dr. Victor B. Cline যে মডেল দিয়েছিলেন তার প্রথম ধাপে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

.

এই পুরোটা সময় জুড়ে পর্ন আসক্তরা যেমন মানসিকভাবে দিন দিন বিকৃত হয়েছে, নির্লজ্জ আর বেহায়া আচরণে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে সেই সাথে পর্ণে দেখা জিনিসগুলো বাস্তবজীবনেও করতে গেছে। অর্থাৎ Dr. Victor B. Cline মডেলের ৩ এবং ৪ নম্বর ধাপে পা ফেলেছে।

.

২০১২-২০১৩-২০১৪ সালের সময়টাতে বাংলাদেশ পার করে ফেলে Dr. Victor B. Cline মডেলের ২ নম্বর ধাপটা। এন্ড্রয়েড ফোন এবং হাইস্পীড ইন্টারনেট একদম সহজলভ্য হয়ে ওঠে। ইন্টারনেট পৌঁছে যায় সবার হাতে হাতে। ‘আইটেম সং’ প্রভাব বিস্তার করতে থাকে। নাটক, সিনেমা আরো অশ্লীল, আরো যৌন উত্তেজক হতে থাকে, প্রথম আলো একজন ‘বিশেষ পর্নস্টারের’ সংবাদ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ঘন ঘন ছাপাতে থাকে। বাঁধভাঙ্গা প্লাবণের মতো শিশু,কিশোর,তরুণদের ভাসিয়ে নেয় পরনোগ্রাফি।

কিন্ডারগার্ডেনের বাচ্চারাও পর্নমুভির খোঁজ পেয়ে যায়, ক্লাস থ্রি,ফোরের বাচ্চারাও হয়ে পড়ে পরনাসক্ত (অনেকের বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও এগুলো সত্যি। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে)

.

ডিসেন্টিসাইজড হওয়া শুরু হয়েছিল অনেক আগে থেকেই। কিন্তু মহামারী আকারে ছড়িয়ে তখনই যখন পর্ন এবং আইটেম সং (বাই ডেফিনেশান আইটেম সং ও একধরণের পর্ন)দেখার পরিমাণ বেড়েছে। কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীদের তথা সামগ্রিক সমাজের মানসিক বিকৃতি এবং অস্লীলতাকে স্বাভাবিক ব্যাপার হিসেবে গ্রহণ করে নেওয়ার প্রবণতা  ২০১৪-২০১৫ সাল থেকে চোখে লাগার মতো বৃদ্ধি পেয়েছে।

.

পর্ন দেখা এবং নারীদের নিয়ে ‘ছিনিমিনি’ খেলা পৌরষের মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে যত নিচে নামতে পারবে, যার ‘প্লে-বয়’ ইমেজ যত বেশি সে তত বেশী আসল পুরুষ।

যারা নারীদেরকে আসলেই সম্মান করে, নারীর শরীরটা নয় বরং তার মনটাকেই যারা প্রাধান্য দেয়; তাদের নিয়ে চলে রসিকতা,ব্যঙ্গ,বিদ্রুপ; নপুংসক,হিজড়া …।

.

পর্ন ফুয়েলড মিডিয়া প্লাস সমাজ মেয়েদের শিখিয়ে দিল কীভাবে পোশাক আশাক পড়লে কীভাবে চলাফেরা করলে তুমি যুগের সঙ্গে তালমিলিয়ে চলতে পারবে, তুমি থাকবে সবার মনযোগ আর আকর্ষণের কেন্দ্রে। জিনস, টপস, টিশার্ট,আঁটসাঁট পোশাক আশাক উগ্র মেকাপ বেড়েছে।  অভিভাবকেরা চোখ বন্ধ করে মেনে নিয়েছে  মেয়েদের  সন্ধ্যার পর ঘরে ফেরা, ছেলেবন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে জড়াজড়ি করে ঘুরে বেড়ানো। রাস্তাঘাটের অশ্লীলতা সমাজ নীরবে মেনে নিয়েছে। স্বাভাবিক ব্যাপার হিসেবে গ্রহণ করেছে।

.

সমাজের মানসিকতা এতোটাই বিকৃত হয়ে গিয়েছে যে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ড্রয়িংরুমে বসে ‘আইটেম সং’ দেখতেও কারো বাঁধছেনা। ‘আইটেম গার্ল’, ‘পর্নস্টার’রা ঘরের মানুষ হয়ে গিয়েছে।

বাংলাদেশ বর্তমানে পা ফেলেছে Dr. Victor B. Cline মডেলের ৪ নম্বর স্টেজে- Acting Out.

গতকয়েক বছরে পর্নমুভির অবশ্যম্ভাবী পরিণতি ধর্ষণ বেড়েছে ব্যাপক আকারে। শিশু,কিশোর,তরুণ-তরুণীরা অল্পবয়সে লিটনের ফ্ল্যাটের খোঁজ করছে, ফার্মেসির ব্যবসা ফুলে ফেঁপে উঠছে, ডাস্টবিন থেকে হররোজ নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে, অন্তরঙ্গমুহূর্ত ভিডিও করে রাখা হচ্ছে, এই ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে, ছড়িয়ে পড়ছে ইন্টারনেটে, ভুক্তভোগীরা ঝুলে পড়ছে সিলিংএ।

.

যৌনতার পদ্ধতি বদলে গেছে খুবই অল্প সময়ের ব্যবধানে। এনাল , সেক্সের,ওরাল সেক্সের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। চিপায় চাপায়, আড়ালে আবডালে, এমনকি ক্লাসরুমেও ওরলা সেক্সে লিপ্ত হতে দ্বিধাবোধ করছেনা কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীরা।  রিকশার হুডের নিচে, লোকাল বাসের পেছনের সিটে, রেস্টুরেন্ট আর সিনেমাহলের আলো আঁধারির ‘ক্লাসিক্যাল লুইচ্চামি’ তো রয়েছেই।

 

মাস্টারবেশনের পরিমাণ ভেঙ্গে ফেলেছে  পূর্বের সকল রেকর্ড। যৌন অক্ষমতা, যৌন অতৃপ্তি, যৌন অসন্তুষ্টি বেড়েছে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পরকীয়া,ব্যভিচার, পতিতাগমন,বিবাহ বিচ্ছেদ।

.

বাংলাদেশে পর্ন আসক্ত মানুষের সংখ্যা কোটি পার  হয়ে যাওয়াও অস্মভব কিছুনা। প্রতিনিয়ত অজস্র নতুন মানুষ Dr. Victor B. Cline মডেলের প্রথম, দ্বিতীয়,তৃতীয়  ধাপে পা ফেলছে।সবচেয়ে বেশী মানুষ বোধহয় রয়েছে তৃতীয় ধাপে; লক্ষ লক্ষ মানুষ মানসিকভাবে বিকৃত হয়ে গিয়েছে, বিকৃত যৌনচিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে অসংখ্য মানুষের মাথায়, সুযোগ পেলে এবং  প্রাইভেসি পেলে এরা যেকোণ সময় যে কারো সাথেই বিছানায় চলে যাবে।    এই মানুষ গুলো যখন তিন নম্বর ধাপ পেরিয়ে চার নম্বর ধাপে পা দিবে তখনকার কথা চিন্তা করলে রক্ত হিম হয়ে আসে।

.

গত তিন বছরের নিবিড় পর্যবেক্ষণ থেকে আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে এক জাহান্নামের  দোরগোড়ায়। কিছু মানুষ নিজহাতে জাহান্নামের দরজা খুলে ঝাঁপ দিয়েছে আগুনে, অগণিত মানুষ ঝাঁপ দেওয়ার জন্যে অপেক্ষা করে আছে। বর্তমান অবস্থার যদি উন্নতি না হয়, যদি পর্ন আসক্তির বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন শুরু না হয়, যদি পর্ন আসক্ত হবার কারণ গুলো বন্ধ না করা হয়, তাহলে আগামী দশ বছরের মধ্যে  বাংলাদেশের সামাজিক ব্যবস্থা ধ্বসে পড়বে, পারিবারিক কাঠামো ভেঙ্গে পড়বে।  প্রচলিত মূল্যবোধ, মহৎ রীতিনীতি, বিশ্বাস,শ্রদ্ধা,সম্মান,ভালোবাসা সব কিছুই বিলুপ্তির পথ ধরবে।

চলে যাবে সব কিছু নষ্টদের অধিকারে!

রেফারেন্সঃ

[১] https://en.wikipedia.org/wiki/Victor_Cline

[২] http://www.antipornography.org/sex_crimes.html

শেয়ার করুনঃ