আত্মোপলব্ধি

আত্মোপলব্ধি

আমাদের প্রজন্ম পর্নোগ্রাফি দ্বারা ব্যাপকভাবে আক্রান্ত, আর এই আসক্তি খুব অল্প বয়স থেকেই শুরু হয়। পর্নোগ্রাফি যেসব সমস্যা তৈরি করে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, এটি বিনোদন পাবার জন্য অন্য মানুষকে পণ্য হিসেবে বিবেচনা করতে শেখায়।

আমরা এই বিষয়ে গবেষণার পাশাপাশি ডেভিন নামের একজন কলেজ ছাত্রের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। পর্নোগ্রাফি কীভাবে তার জীবনকে আক্রান্ত করেছে, সে বিষয়ে আমরা তার সাথে কথা বলেছি এবং পর্নোগ্রাফি কীভাবে তার মানসিকতার পরিবর্তন করেছে, এ ব্যাপারে সে তার বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।

নিচের উক্তিগুলো ডেভিনের সাক্ষাৎকার থেকে নেয়া, সেই সাথে কিছু আলোচনা তুলে ধরা হলোঃ

“আমি যখন প্রথম পর্নোগ্রাফি দেখি তখন আমি ৭ম শ্রেণীর ছাত্র। আমি ইন্টারনেটে একটি পর্ন  ওয়েবসাইট এর বিজ্ঞাপন দেখতে পাই। এটা অনেক জঘন্য ছিল। ৮ম শ্রেণীতে থাকাকালীন অবস্থায় আমি পর্নোগ্রাফিতে পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে পড়ি।”

এটা প্রমানিত যে,পর্নোগ্রাফি একটি ক্রমবর্ধমান আসক্তি। অসংখ্য জরিপে দেখা গিয়েছে, পর্নো গ্রাফি মানুষের মানসিকতাকে এমন করে দেয় যে, সে অন্য মানুষকে “মানুষ” হিসেবে মর্যাদা দিতে ভুলে যায় এবং অন্যান্যদের সাথে তার সম্পর্কের উপরও খারাপ প্রভাব পড়ে। সে দেহের আকার, আকৃতি ও দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেখে মানুষকে বিচার করতে থাকে। সে অবচেতন মনেই অন্যান্যদেরকে এমনকি নিজের ভালোবাসার মানুষকে শুধুই বিনোদনের বস্তু হিসেবে ভাবতে শুরু করে, সে এটা ভুলে যায় যে তাদেরও মানুষের মত চিন্তা, অনুভূতি, ব্যক্তিত্ব ও আবেগ আছে। এটা প্রকৃত ভালোবাসার বিপরীত। পর্নো গ্রাফি নারী-পুরুষকে শুধু যৌন মিলনের উপকরণ হিসেবে কল্পনা করতে শেখায়, যেটি প্রকৃত ভালোবাসাকে হত্যা করে।[১,২]

“আমি লক্ষ্য করলাম, পর্নোগ্রাফিতে আমি যেসব চরিত্র দেখতাম, তারা যেন আমার সাথেই অবস্থান করছে। ক্যাম্পাসে হাঁটার সময় যখন মেয়েদের দেখতাম, আমি শুধু তাদের দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো দেখতে পেতাম। বাস্তবিক পক্ষে, আমি না চাইলেও আমার চোখ এই বিষয়গুলোই দেখত। আমি অবচেতন মনে মেয়েদেরকে তাদের দৈহিক আকৃতি দেখে বিচার করতাম। পর্নোগ্রাফি আমাকে মেয়েদের ব্যাপারে এসব চিন্তা ছাড়া ভালো কোন কিছু চিন্তা করতে বাধা দিয়েছে।”

পর্ন  ভিডিওতে যেসব মানুষদের দেখা যায় তাদেরও একটা বাস্তব জীবন আছে। একজন  সাবেক  পর্নো  অভিনেত্রী  এক সাক্ষাৎকারে পর্নোগ্রাফি সম্পর্কে বলেছিলেন, “পুরুষরা বারবার আপনার মুখে আঘাত করছে আপনাকে উত্তেজিত করার জন্য এবং এভাবে চলছেই। পর্নোগ্রাফিতে আপনাকে একটি পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়-অনুভূতিসম্পন্ন মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। এখানকার মানুষগুলো মাদক সেবন করে কারণ তারা এধরনের জীবনকে ভুলে থাকতে চায়।”

এই কথাগুলো শুনেও কি আপনার পর্নোগ্রাফিকে যৌন উত্তেজক মনে হচ্ছে?

অবশ্যই না। প্রকৃতপক্ষে, পর্ন  ইন্ডাস্ট্রির মানুষদের কাছে যৌনতার সংজ্ঞা এই রকমই।

২০০৫ সালে, ৪০০ জন লোকের উপর জরিপে দেখা যায়, পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ব্যক্তিরা অন্যদের চেয়ে বেশি একাকীত্ব বোধ করে।[৩]

পর্নোগ্রাফিতে সুন্দর ও আকর্ষণীয় পরিবেশে দুজন মানুষের মধ্যে অপার্থিব যৌন আনন্দের দৃশ্য তৈরি করা হয়-যেটা বাস্তবিক পক্ষে সম্ভব নয়। পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ব্যক্তিরা বাস্তব জীবনে এ ধরনের অপার্থিব যৌন আনন্দ প্রত্যাশা করে, ফলে তারা অসন্তুষ্টিতে ভোগে।

“পর্নোগ্রাফি চরম একাকীত্ব সৃষ্টির একটি মাধ্যম। আমি যখন একাকীত্ব বোধ করতাম তখন পর্ন  দেখতাম এবং এটা আমার একাকীত্ব কমাতে পারত না বরং বৃদ্ধি করত। কখনো একঘেয়ে লাগলে, হতাশ বা নিজের প্রতি রাগান্বিত হলেও আমি পর্নোগ্রাফিতে ডুবে থাকতাম।”[৪,৫]

মূল লিখাটি- https://fightthenewdrug.org/an-interview-with-a-porn-addict/

রেফারেন্সঃ

[১] http://bit.ly/2n3OHtd

[২] http://bit.ly/2DoqNys

[৩] http://bit.ly/2EZ8X5B

[৪] http://bit.ly/2DnE9ew

[৫] http://bit.ly/2DulYaT

শেয়ার করুনঃ
পর্নঃজীবনের স্বাদ নষ্টকারী

পর্নঃজীবনের স্বাদ নষ্টকারী

পর্নোগ্রাফি একটি সামাজিক মহামারি ব্যাধি। শিশু, তরুণ, ও প্রাপ্তবয়স্ক কেউ এর প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, ইন্টারনেট এর মাধ্যমে অপ-সংস্কৃতির অবাধ প্রবেশ এর প্রধান কারণ।

পর্নোগ্রাফির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা আমাদের উদ্দেশ্য। মানুষ পর্নমুভির ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জেনে সচেতন হবে এ আশায় ব্যক্তিগতভাবে পর্নমুভি দেখার ক্ষতিকর ফলাফল ভোগ করেছেন এমন অনেকেই  তাদের কাহিনী আমাদের সাথে নির্দ্বিধায় শেয়ার করেছেন।

তেমনি একটি সত্য কাহিনী টাইসন নামের(নাম পরিবর্তন করা হয়েছে)একজনের বাস্তব জীবন থেকে নেয়া। যেটি তার অতীতের ড্রাগস ও পর্নমুভি আসক্তির সাথে সংগ্রামের । টাইসনের গল্পটি আমরা বিরল ও অদ্ভুত ঘটনা বলতে পারতাম। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা সারা বিশ্বর শিশু, তরুণ, ও প্রাপ্তবয়স্ক থেকে যে হাজার হাজার মেইল এবং সরাসরি পত্র পেয়েছি তার বেশীরভাগে দেখা যায়, পর্নমুভি আসক্তির অভিজ্ঞতা সবক্ষেত্রে অনুরূপ।

…… আমি এককালে  ড্রাগস আসক্ত ছিলাম ।সেই আসক্তি কাটিয়ে উঠেছি অনেক দিন হল । ড্রাগসের সরাসরি শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। আমি বেঁচে আছি এজন্য নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি।

যদি আপনি আমাকে পাঁচ বছর আগে জিজ্ঞেস করতেন, আমি পর্ন মুভিকে কখনোই আসক্তি ও ড্রাগস হিসেবে বিবেচনা করতাম না। সত্যি কথা বলতে, আমি আপনার কথা হেসে উডিয়ে দিতাম। কিন্তু  আমি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে জেনেছি   পর্ন মুভি, ড্রাগসের মতোই ক্ষতিকর

আমি ভাবতাম পর্নোগ্রাফি  জীবনের একটা স্বাভাবিক অংশ ।  আমি মনে করতাম পর্ন মুভি ক্ষতিকর নয়। পর্নমুভি আমাকে  তো আমাকে বলছে না যাও কাউকে  খুন করে আসো বা   কারো ক্ষতি কর ।

কিন্তু একসময়  আমি একটি কঠিন সত্য আবিষ্কার করলাম  পর্ন মুভি আমার স্বাভাবিক জীবন যাত্রার ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে আমি রক্ত-মাংসের মানুষ ভেবে কোন  নারীর দিকে তাকাতে পারতাম না, তাকে শুধু কেনা-বেচার বস্তু ও কামনার আগুন উস্কে দেওয়ার সামগ্রী হিসেবে দেখতাম। আমি নিজের উপর আর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছিলাম না এবং এ ধরনের চিন্তাকে আমি যত বেশি প্রশ্রয় দিতাম তত বেশি পর্ন মুভির প্রতি ক্ষুধা বেড়ে যেত।

কিন্তু, ততক্ষণ আমি এটা থামানোর চেষ্টা করিনি, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি পর্ন মুভি আসক্তিকে  সত্যিকারভাবে ড্রাগস আসক্তির অনুরূপ হিসেবে দেখিনি। কোন এক বিকেলে,  যৌন আবেদনময়ী পোশাকে এক আকর্ষণীয় নারীকে দেখে আমি কামাতুর হয়ে গেলাম। ঠিক সেই মুহূর্তে আমি নারীর শরীর  পেতে চাইলাম।  এই অনুভূতি থেকে মুক্তি পেতে কিছু পর্নমুভি দেখতে চাইলাম। আমি ইন্টারনেটে আমার প্রিয় পর্ন সাইটে লগ অন করার জন্য তাড়াতাড়ি কম্পিউটারের কাছে  এ ছুটে গেলাম। আমি কোন কিছু পরোয়া করছিলাম না, আমি যে কোন উপায়ে শুধু পর্ন মুভি অথবা সেক্স চেয়েছিলাম। যখন আমার অবস্থা স্বাভাবিক হল ঠিক ঐ মুহূর্তে আমার মনে হল আরে  আমি একসময় ড্রাগ নিতে দেরি হলে যেরকম অস্থির হয়ে যেতাম , শরীরের প্রচন্ড চাপ অনুভব করতাম পর্ন মুভির ক্ষেত্রেও তো সেরকমটা হচ্ছে ।   আমি বুঝতে পারলাম যে আমি নিজের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি, এবং পর্ন মুভির  আসক্তি আমাকে শেষ করে ফেলেছে।

দুর্ভাগ্যবশত, এই চোখ-খুলে দেওয়া অভিজ্ঞতাটা অনেক দেরিতে হল। ড্রাগস আসক্তির চেয়ে পর্ন মুভি আসক্তি নির্মূল করতে আমার আরও অনেক বেশি বছর লেগেছিল। মনে করে দেখুন পূর্বে আমি বলেছিলাম যে আমার পর্ন  দেখা কাউকে আঘাত করছে কিনা, হায়! আমি কতই না ভুল ছিলাম ? আমার পর্ন  আসক্তি আমার স্ত্রী ও সন্তানের প্রায় অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। এই দুঃসহ অভিজ্ঞতা পাড়ি দেওয়ার সময় আমার অনেক বার মনে হয়েছে আত্মহত্যা করে ফেলি। কারন আমার মনে হত সম্ভবত আমি আর কখনো সাভাবিক জীবন ও সুস্থ সম্পর্কে ফিরতে পারবনা।

অনেকেই মনে করেন পর্ন মুভি শুধু  মজা, সেক্স, ও স্রেফ বিনোদনের জন্য । কিন্তু  এটা মোটেও ঠিক না । প্রায় সবাই জানে যে, ড্রাগস নেওয়া আপনার জন্য ভাল নয়, কিন্ত তারা কি জানে পর্ন মুভি আসক্তি ঠিক একই ভাবে আসক্তিপূর্ণ ও প্রিয়জনের সাথে সম্পর্ক বরবাদ করে দেয়? নিজে জেনেছি যে, ড্রাগস আসক্তির চেয়ে   পর্ন  আসক্তি থেকে রিকভার করা অধিকতর কঠিন। যারা আনন্দময় জীবন ও সম্পর্ক চায়, তাদের উচিত যে কোন মূল্য পর্ন মুভি থেকে দূরে থাকা। যদি আপনি ইতোমধ্যে এতে জড়িয়ে পড়েন তবে দ্রুত বেরিয়ে পড়ুন এবং সাহায্য নিন। এটা আপনাকে কখনো আনন্দ দেবেনা, বরং আরও বেশি ক্ষতি করবে। পর্ন মুভির আসক্তি থেকে  মুক্তি পাবার পর আমি  নতুন করে বাঁচতে শিখেছি , নারীদেরকে সম্মান করতে শিখেছি । জীবনটা আমার কাছে এখন অনেক বেশি মধুর মনে হয় ।

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)

মূল লিখাটি এই সাইট থেকে সংগৃহীত- https://fightthenewdrug.org/blog/

পড়ুন-

মাদকের রাজ্যে- https://bit.ly/2N4ONzA

নীল রঙের অন্ধকার (প্রথম কিস্তি): https://bit.ly/2NAWPjh
নীল রঙের অন্ধকার (দ্বিতীয় কিস্তি): https://bit.ly/2xg34yS
নীল রঙের অন্ধকার (তৃতীয় কিস্তি): https://bit.ly/2x6jBFY
নীল রঙের অন্ধকার (চতুর্থ কিস্তি): https://bit.ly/2x7BEvA
নীল রঙের অন্ধকার (পঞ্চম কিস্তি): https://bit.ly/2x7WuuS
নীল রঙের অন্ধকার (ষষ্ঠ কিস্তি): https://bit.ly/2xf97TY
নীল রঙের অন্ধকার (সপ্তম কিস্তি): https://bit.ly/2p3UUFS
নীল রঙের অন্ধকার (অষ্টম কিস্তি): https://bit.ly/2xf8VUK
নীল রঙের অন্ধকার (নবম কিস্তি): https://bit.ly/2QquLgS
শেয়ার করুনঃ
নরক

নরক

পর্ণের দুনিয়াটাকে অনেক আকর্ষণীয় মনে হয় তাই না? কিন্তু ভিতরের কাহিনী কিন্তু একদম উল্টো। বিকৃত রুচির মানুষের চাহিদা মেটাতে গিয়ে কত মেয়েকে যে নির্মম অত্যাচারের শিকার হতে হয় আর কত মেয়ের চাপা কান্না যে বাতাসে হারিয়ে যায় সে খবর কি আমাদের কানে আসে? এই আর্টিকেলটাতে কিছু পরিসংখ্যান আর তথ্যের সাহায্যে পর্ণ অভিনেতা আর অভিনেত্রীদের ভয়াবহ জীবন তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

“ছেলেরা আপনার মুখে ঘুষি মারতে থাকবে, বলতে গেলে আপনাকে ছিড়ে ফেলবে।আপনার মনে হবে আপনার প্রাণ বেরিয়ে আসছে আর এটা থেমে থাকে না।আপনাকে এখানে একটা ভোগ্য বস্তু হিসেবে দেখানো হবে, মানুষ হিসেবে নয়।মানুষ যখন সমাজে নিজের স্থান খুজে পায় না তখনি সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে”। – সাবেক পর্ণ অভিনেত্রী

পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির একটি সেকেণ্ডারি নেচিবাচক প্রভাব হল  চুড়ান্ত পর্যায়ে   মাদকাসক্তি। একজন পর্ণ অভিনেত্রীর  স্বীকারোক্তি “আমরা যেসব মাদক ব্যবহার করি তা হল এক্সটেসি,কোকেইন,মারিজুয়ানা(গাজা),জানাক্স,ভালিউম,ভিসোডিন আর এলকোহল”

২০১২ সালে ১৭৭ জন পর্ণ অভিনেত্রীদের উপরে করা একটা জরিপে দেখা গেছে   জীবনে একবার হলেও ৭৯%  পর্ণ অভিনেত্রী  marijuana  ব্যবহার করেছেন , hallucinogens  ব্যবহার করেছেন ৩৯% , ecstasy  ব্যবহার করেছেন ৫০% , cocaine  ব্যবহার করেছেন ৪৪% , methamphetamine ব্যবহার করেছেন ২৭% , tranquilizers ব্যবহার করেছেন ২৬% , heroine ১০% ।

জানুয়ারি ২৮,২০০৮ এ এক পুরুষ পর্ণঅভিনেতা তার ব্লগে লিখেনঃ

“মাদক আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে খুব বড় একটি সমস্যা।কেউ যদি আপনাকে অন্য কিছু বলে তবে সে মিথ্যা বলছে।শুধু এই মাদকের জন্য অগণিত মেয়ে নিজেদের বেচে থাকার ইচ্ছা উদ্যম সব হারিয়ে ফেলেছে ।এটা চিন্তা করলেই  আমি খুবই কষ্ট পাই আর তাদের এই অধঃপতন খুবই বেদনাদায়ক,অন্তত আমার কাছে।এটা মানতেই হবে যে, বেশিরভাগ মাদকাসক্ত প্রফেশনাল সহায়তা ছাড়া তাদের অভিশপ্ত জীবন থেকে বের হয়ে আসতে পারেন না।আমি শুটিং সেট থেকে শুরু করে পার্টি এমনকি গাড়িতেও ড্রাগের যথেচ্ছ ব্যবহার দেখেছি।আনুমানিক ৯০%

জনবল(পারফরমার,ড্রাইভার,এজেন্ট,মালিক ইত্যাদি) মারিজুয়ানা(গাজা) তে আসক্ত।সম্প্রতি স্টেজে আমার সাথে কর্মরত মেয়েটি আচমকা অজ্ঞান হয়ে যায়(সে অক্সিকোন্টিনে আসক্ত ছিল)।আরেকটি মেয়ে GHB ওভারডোজ হয়ে সেটেই লুটিয়ে পড়ে(GHB-পার্টি ড্রাগ যেটা এলকোহলের সাথে সহজে মিশে না)।প্রেস্টিজিয়াস  পুরস্কার পেয়েও ইতিহাস আছে এমন মেয়েদের যারা এতই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিল যে তারা সেটা আনতে যেতে পারে নি।কারণ তারা প্রায় ৫০ পাউন্ড ওজন হারিয়ে নিজের চেহারা গঠন সব ধুলোয় মিশিয়ে ফেলে।প্রশ্ন হল এখানে মাদক এত সহজলভ্য কেন??প্রথমত এখানে মুলত ১৮-২১ বছরের মেয়েরা কাজ করে যাদের অনেকেই অশিক্ষিত নয়তো অল্প শিক্ষিত।অনেকেই আসে যারা বলতে গেলে কপর্দকশূন্য অথবা পিজার দোকানে সস্তা কাজ করে।

এখানে এসে তারা মাসে ১০ হাজার ডলার আয় করে যার বিনিময়ে মাসে তাএর ৫ ঘন্টা করে ১০-১২ দিন কাজ করতে হয়।মাদকের দালালরা হাঙরের মত তাদের শিকার করে।এই মেয়েদের হাতে থাকে অবসর সময় আর প্রচুর কাঁচা টাকা।দুইয়ে দুইয়ে চার মিলে মাদক ব্যবসায়ীদের বাজিমাত।

২০১২ সালে ১৭৭ জন পর্ণ অভিনেত্রীদের উপরে করা একটা জরিপে দেখা গেছে   জীবনে একবার হলেও ৭৯%  পর্ণ অভিনেত্রী  marijuana  ব্যবহার করেছেন , hallucinogens  ব্যবহার করেছেন ৩৯% , ecstasy  ব্যবহার করেছেন ৫০% , cocaine  ব্যবহার করেছেন ৪৪% , methamphetamine ব্যবহার করেছেন ২৭% , tranquilizers ব্যবহার করেছেন ২৬% , heroine ১০% ।

মাদকের ছড়াছড়ির সাথে সাথে নির্যাতনের বিষয়টিও ব্যাপক

আকারে ছড়িয়ে পড়েছে ইন্ডাস্ট্রিতে।একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে

১০০% স্ট্রিপার শারীরিক নির্যাতন অথবা গালাগালির শিকার হন।

৯১% রিপোর্টে দেখা গেছে কাস্টমাররা মৌখিক ভাবে তাদের

অপদস্ত করে, সাথে সাথে প্রায় সবাই শারীরিক নির্যাতনের সম্মুখীন হয়।

স্ট্রিপারদের গায়ে হাত দেয়া নিষিদ্ধ হলেও রিপোর্টে দেখা যায়

কাস্টমাররা তাদের হাতে(৮৮%), স্তনে(৭১%),পশ্চাৎদেশে(৯১%)

স্পর্শ করে।আক্রমণের ঘটনাও কম নয়।চুল টানা

(২৭%),চিমটি(৫৪%),চড় মারা(৫৮%) এমনকি কামড়ে

দেয়ার(৩৬%) মত ঘটনাও ঘটে।এই আক্রমণগুলো স্ট্রিপক্লাবের ভিতর বডিগার্ড আর স্টাফদের সামনেই ঘটে।

ইদানিং পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি জোর দিচ্ছে চড় থাপ্পড়, অমানবিক নির্যাতন আর থুথু ছিটানো রাফ আর পেইনফুল সেক্সের প্রতি। একটা সিনে পুরুষ অভিনেতা অভিনেত্রী কে ধরে টয়লেটের কমোডে মুখ ঢুকিয়ে চেপে ধরে। এই ইন্ডাস্ট্রিতে এটাই নাকি ক্লাইম্যাক্স। ৮৮% ভাগ ফিল্ম শারীরিক ও মানসিক ভয়াবহ নির্যাতনে ভরপুর।

আমাদের জানামতে ২০০৩ থেকে ২০১৪ সনের মধ্যেই সান ফেরনান্দ ভ্যালি , ক্যালিফোর্নিয়াতে অবস্থিত পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির প্রায় ১৫০০ যৌন কর্মীর ২২৮ জনই মৃত্যুবরণ করেছে এইডস , আত্মহত্যা , মাদক সেবনের মাধ্যমে । এদের অনেকেই হয়েছে হত্যার শিকার আবার অনেকে বরণ করেছে অকাল মৃত্যু । পৃথিবীর কোন ইন্ডাস্ট্রি , এমনকি মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি যা কিনা পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির চেয়েও ১০ গুণ বড় – এমন পরিসংখ্যান নেই । যেখানে একজন আমেরিকানের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ৭৮.৬ বছর সেখানে একজন যৌনকর্মীর প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ৩৬.২ বছর ।

পর্ণ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গুলোর খুব  গা ঘিনঘিনে  বিষয় হল যৌন রোগ  । লস অ্যাঞ্জেলস এর সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ২০-২৪ বছর বয়সীদের তুলনায় যৌনকর্মীদের ক্লামিডিয়া ও গনেরিয়া সংক্রমণ সম্ভবনা ১০ গুণ বেশি । তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে এই রোগগুলো সংক্রমণ সম্ভবনা যৌনকর্মীদের মাঝে কল্পনাতীত ভাবে বেশি । ডাক্তার শেরন মিশেল – সাবেক পর্ণ অভিনেত্রী ও AIM (Adult Industry Medical Healthcare Foundation) এর  ফাউন্ডারের সঙ্গে  এক সাক্ষাতকারে যৌন রোগের প্রাদুর্ভাবের কথা নিশ্চিত করেছেন । তিনি আরও উল্লেখ করেছেন “৬৬% যৌনকর্মী হারপিস এ ভোগেন , ১২-২৮% এর রয়েছে যৌন রোগ , ৭% এর রয়েছে HIV” ।

কোন যৌন রোগ আছে কিনা তার পরীক্ষা পর্ণ শিল্প আইনের আওতাভুক্ত নয় । কর্মীদের তাদের নিজ খরচে পরীক্ষা করাতে হয় । পর্ণ সেট এ একাধিক যৌন সঙ্গীর সাথে মেলামেশার দরুন পরীক্ষালব্ধ ফলাফল হয় অনিশ্চিত – যার ফলে পর্ণ শিল্পে যৌন রোগের প্রাদুর্ভাব আগ্রাসী ভূমিকা পালন করছে । পর্ণ স্টারদের অনেক কিছু বলার আছে পর্ণ ভোক্তাদের কাছে এই যৌনরোগগুলোর ব্যাপারে ।.

তো বুঝলেন তো , ল্যাপটপে বা মোবাইলের স্ক্রীনের এইপাশে বসে পর্ণমুভির জগতটাকে  যতই আকর্ষণীয় দেখাক না কেন , পর্দার ওপাশে  লুকিয়ে আছে কতটা   বর্বরতা  আর  নিষ্ঠুরতা ?

এখানে স্বাভাবিকভাবেই একটা প্রশ্ন এসে  যায় , পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা যদি  সত্যিই এতটা খারাপ হয় , সেখানে যদি নারীদেরকে এভাবেই নির্যাতন করা হয়  তা হলে পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি  বন্ধ করে দেওয়া হয়না কেন ? পর্ণ ওয়েবসাইটগুলো তো ব্লক করে দিলেই কেল্লাফতে । আর মানবাধিকার রক্ষায় সদা জাগ্রত , নারী স্বাধীনতার অগ্রদূত   আমেরিকা, ফ্রান্স এরা চুপ করে কেন ? সুশীল সমাজ , মুক্তমনারা কেন এগুলোর বিরুদ্ধে তেমন কোন কথা বলে না ?

–      কারণ  টাকা । জী টাকা ।

আপনাকে  পর্ণ মুভির বাজার সম্পর্কে একটা হালকা পাতলা ধারণা দিলেই ইনশা আল্লাহ্‌ বুঝতে পারবেন ব্যাপারটা ।

“Online pornography is the first consistently successful e-commerce product.”

–      Donna Rice Hughes  ( ceo of enough is enough,  working for ensuring  the internet safety of children and families)

পৃথিবীতে আনুমানিক ৪২ লক্ষ পর্ণ ওয়েবসাইট আছে যা মোট ওয়েবসাইটের ১২% । পৃথিবীর প্রায় ৭২ লক্ষ মানুষ এই ওয়েবসাইটগুলোর মাসিক পরিদর্শক । প্রত্যেক দিনের অনুসন্ধান আবেদনের (search request) চার ভাগের এক ভাগই থাকে পর্ণ বিষয়াবলীর উপর – যার পরিমাণ দাড়াই ৬৮ লক্ষ । যেখানে প্রায় ৪০ লক্ষ আমেরিকানই পর্ণ ওয়েবসাইটের নিয়মিত পরিদর্শক । U.S.A প্রাপ্তবয়স্ক চলচিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ১ বছরে প্রায় ৪০০০-১১০০০ চলচিত্র নির্মাণ করে – এবং এর মাধ্যমে আয় করে আনুমানিক ৯-১৩ লক্ষ কোটি মোটা অঙ্কের টাকা ।

২০০৬ সালে sex-related entertainment business’ থেকে শুধুমাত্র আমেরিকার ১৩ বিলিয়ন ডলার কামিয়েছে ।

-Fishbein, president of the Adult Video News Media network

এমনকি  পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি হলিউডের চেয়েও বেশী লাভজনক ।  প্রতিবছর গড়ে  ১৩০০০ পর্ণ মুভি তৈরি করা হয়  অন্যদিকে প্রতিবছর হলিউডে মাত্র ৫০৭ টি মুভি তৈরি করা হয় । পর্ণ মুভি থেকে মুনাফা আসে ১৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি আর হলিউডের মুভিগুলো থেকে  ৮.৮ বিলিয়ন ডলার । (Bridges and Wosnitzer, 2007).

এখানে আর একটা ব্যাপারও মাথায় রাখা জরুরী । পর্ণ মুভি তৈরি করার সময় খুব মোটা অংকের বাজেটের প্রয়োজন পড়ে না , কিন্তু হলিউডের মুভি গুলোর বাজেট হয় খুব বড়  অংকের । তারমানে পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি খুব অল্প টাকা বিনিয়োগ করে গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশ বড়সড় টাকা হাতিয়ে নেয়

পর্ণ মুভির ব্যবসা নিয়ে কথা বলতে গেলে ঘুরে ফিরেই  আমেরিকার নাম আসবে ।  আমেরিকা হল সে দেশ পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির খনি । এখানেই সবচেয়ে বেশী পর্ণ মুভি  তৈরি করা হয় ।   এই আমেরিকার  Californiaতে  বিশ্বের ৮৫% এডাল্ট কন্টেন্ট তৈরি হয়।বেশিরভাগ নারী প্রতিভা(!) এজেন্সি এই এলাকার আশে পাশেই অবস্থিত আর অনেক নারী মডেল এখানে আসেন পর্ণ ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে।পুরুষ মডেলদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা, এমনকি ছোট বড় সব পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি এই “California” তেই  অবস্থান করছে।পৃথিবীতে যতগুলো পর্ণ ওয়েবসাইট আছে তার শতকরা ৮৯ ভাগের মালিক আমেরিকানরা ।

তাহলে এবার বলুনতো দাদাবাবু , আমেরিকার কি দরকার পড়ছে পর্ণমুভির ইন্ডাস্ট্রী গুলো বন্ধ করে দেওয়া ?  অল্প পুঁজিতে পর্ণমুভি বানিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতানো বাদ দিয়ে  সে কেন  পর্ণ ইন্ডাস্ট্রী বন্ধ করবে ? সোনার ডিম পাড়া হাঁসকে  বোকা ছাড়া আর কে  জবাই করতে চায়, বলুন?

তাইলে,  পর্ণ ইন্ডাস্ট্রীতে ড্রাগসের ব্যবহার, নারী নির্যাতন  …… … আরো কি কি জানি ?

আমেরিকার মত উদার গনতান্ত্রিক দেশ , নারী স্বাধীণতায় বিশ্বাসী দেশ এগুলো মেনে নিবে ?

আরে ভাই সহজ ব্যাপারটা বোঝেন না কেন ,  টাকার  আর তেলের গন্ধ পেলে পশ্চিমা দেশগুলোর হুশ থাকেনা ।   আর নারী  নির্যাতন ? তাদের ভাষায় তো  শুধু  মুসলিমরাই নারী  নির্যাতন  করে- তারা নারীদেরকে পর্দার আড়ালে আবদ্ধ করে রাখে , তাদেরকে ঘরে বন্দী  করে রাখে , সম্পত্তিতে সমানধিকার দেয় না ব্লা ব্লা ব্লা ……… ।

 

বোঝা গেছে  আমেরিকা কি চীজ ?

#হিপোক্রিট

শেয়ার করুনঃ
‘অনিবার্য যত ক্ষয়’ (দ্বিতীয়  পর্ব)

‘অনিবার্য যত ক্ষয়’ (দ্বিতীয় পর্ব)

 

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

একেবারেই একাডেমিক ধাঁচের লিখা এটি । রসকষহীন । ধৈর্য ধরে পুরোটা পড়ার অনুরোধ রইলো পাঠকদের নিকট ।

অনেকেই একটা  ভুল ধারণা নিয়ে থাকেন  আমি তো শুধু পর্ণমুভি দেখছি ,ওইগুলো করছি না । কারো কোন   ক্ষতি করছিনা । পর্ণ দেখা  দোষের তো কিছু না । এই ভুল ধারণাটা ভেঙ্গে দেবার জন্য এই লিখাটাই  যথেষ্ট ইনশা আল্লাহ্‌ ।

প্রাপ্তবয়স্ক ও বাচ্চাদের ওপর পর্নোগ্রাফির প্রভাব-ডঃ ভিক্টর বি. ক্লাইন

একজন ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট হিসেবে আমি দীর্ঘকাল ধরে ট্রিটমেন্ট করে আসছি সেক্স অফেন্ডার, সেক্স অ্যাডিক্ট ও যৌন রোগধারী ব্যাক্তিদের যাদের সংখ্যা প্রায় ৩০০ এর মত।তাদের সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে অপ্রত্যাশিত ও অদম্য যৌন আচরণ, child molestation, exhibitionism, voyeurism, sadomasochism, fetishism and rape.

নিঃসন্দেহে বলার আর অপেক্ষা রাখে না যে এদের একমাত্র প্রেরণাদায়ক শক্তি পর্ণ,দু চারটে ব্যাতিক্রম বাদে।এদের প্রাইমারি স্টেজে একটা সিন্ড্রোম কাজ করে যাকে আমি বলি ফোর ফ্যাক্টর সিনড্রোম।মানে প্রথমে আসক্তি, তারপর তীব্রতা বৃদ্ধি, এরপর ঘটে সংবেদনশীলতার অভাব আর শেষটায় এসে বর্বর আচরণ।

 

এক্ষেত্রে পুরোটাই আস্তে আস্তে ঘটে।প্রথমে ব্যাক্তি পর্ণের লোভ সামলাতে না পেরে তার যে ক্যাটাগরি পছন্দ সেই ক্যাটাগরির পর্ণে নিমজ্জিত হয়।পর্যায়ক্রমে তার পরিমাণ বাড়তে থাকে।এই  ভয়ংকর চোরাবালি একসময় তাকে নেশাগ্রস্ত করে।অবশেষে বিবেবকে শূন্যে ভাসিয়ে ও ফলাফলের কথা না ভেবে জীবনের অন্যতম ভুল করে বসে যার জন্য পরবর্তীতে মানসিকভাবে পস্তাতে হয়।কাউকে কাউকে পর্ণ মুহূর্তের মধ্যে গরম করে আবার মুহূর্তের মধ্যেই স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসে।কিন্তু কারো কারো ভিতর ক্যান্সারের মত এঁটে যায় সারাজীবন।মানসিক থেরাপির শরণাপন্ন হতে হয় তখন।

 

যৌন অপরাধের সাথে পর্নোগ্রাফির ঘনিষ্ঠতা –ররি রিড

 

পর্ণের প্রতি অতিরিক্ত মাদকতা মানুষের বৈধ যৌন আচরণে বিকৃত পরিবর্তন আনে ঠিক যেভাবে মানুষের জীবনকে তিলে তিলে ক্ষয় করে অ্যালকোহল।অনেকে হয়তো স্বাভাবিক যৌন আচরণের ওপর পর্ণের প্রভাবটা মেনে নিবে না।তাদেরকে যদি একবার আমার চেয়ারে বসিয়ে শোনাতে পারতাম পর্ণাসক্তদের সঙ্গীদের তিক্ত ও তীব্র অভিজ্ঞতার কথা যা আমাকে হরহামেশাই শুনতে হয়, তাহলে বোধয় তাদের ধারণা পাল্টে যেত।এদের বাধ্য করা হয় অসুস্থ যৌন আচরণে লিপ্ত হতে।মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার এরা।কিন্তু এসব ঘটনা কেবল চার দেয়ালের মাঝেই আটকা থাকে।বিচারের জন্য কোর্টরুম পর্যন্ত আর পৌঁছায় না।যারা এই ধরণের অস্বাভাবিক ও জোরপূর্বক যৌন আচরণে তাদের সঙ্গীদের নিমজ্জিত করে তারা এটাকে খুব স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়।অনেক সময় অচেনা কারো দ্বারা ধর্ষিত হওয়ার চেয়েও মারাত্মক হতে পারে এসব অভিজ্ঞতা।

ভিক্টিম ধর্ষণের কারণ হিসেবে নিজেকে দোষারোপ করে না কারণ এখানে নিশ্চিতভাবে তার কোন দোষ নেই।কিন্তু যেসব বৈবাহিক সম্পর্কে সেক্সুয়াল ইন্টিমেসির নামে একপাক্ষিক বিনোদন আর লাম্পট্য চলে সেসব ক্ষেত্রে অনেক সময় অভিযোগকারী নিজেকে দায়ী করতে থাকে।মনে করে যে তাদের সঙ্গীর এই বাড়াবাড়িই বোধয় ঠিক।হয়তো এমনই হওয়া উচিৎ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক।সেক্স সম্বন্ধে নিজেদের ধারণাকে তখন রক্ষণশীল বা সেকেলে ধাঁচের ভাবতে শুরু করে।যখন সঙ্গীর ওপর অন্ধভাবে ভরসা করা শুরু করে তখন তারা ভাবে যে আমি হয়তো ওর চোখে যথেষ্ট সেক্সি হতে পারছি না,তাই ও পর্ণ দেখে।কাজেই এইটা আমার দোষ।একবার তো এক মহিলা আমাকে বলেই ফেলেছিলো যে অচেনা কারো হাতে একবার  নির্যাতিত হওয়া আর ১০ বছর ধরে পর্ণাসক্ত স্বামীর বেহাল্লাপনায় জড়িত থাকার মধ্যে বেছে নিতে বললে আমি প্রথমটাকেই বেছে নিবো।এইবার বুঝুন তাহলে ক্ষতিটা কোন পর্যায়ে নেমে এসেছে!

পর্নোগ্রাফির সাথে ধর্ষণের যোগসূত্র-ডঃ জুডিথ রিসম্যান  

F.B.I এর সিরিয়াল রেইপ প্রোফাইলার জন ডুগলাস তার বই “Journey Into Darkness” (1997) এ লিখেছেন, সিরিয়াল রেইপ কিলারদের আস্তানা তল্লাশি করে পাওয়া যায় পর্ণের ভাণ্ডার হয় স্টোর করা না হয় হোমমেইড।”The Evil That Men Do” (1998) বইতে রয় হেজেলউড বলেছেন,একবার এক সেক্স কিলারের সন্ধান পাই যে কিনা মেয়েদের বিভিন্ন পজিশনে বেঁধে রাখত ও টর্চার করত যা সে কোন এক পর্ণ ম্যাগাজিনে দেখেছিলো।আরেক রিপোর্টে এসেছে যে কিলারদের মধ্যে ৮১% তাদের অপরাধের জন্য প্রাথমিক মদতদাতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে পর্ণকে।পর্ণের ভোক্তা বাড়ার সাথে সাথে দিন দিন এসব অপরাধের সংখ্যাও বাড়ছে।সরকারের কোন সোচ্চার পদক্ষেপ নেই এ খাতে।অর্ধ শতক ধরে তামাকের ব্যবসা একসময় আমেরিকা মাত করেছিল আর আজ সে জায়গা নিয়েছে পর্ণ।

# ৬০% পুরুষ এ মত পোষণ করেছেন যে, যদি ধরা পড়ার সম্ভাবনা না থাকতো তাহলে তারা হয়তো কোন নারীকে দিয়ে জোরপূর্বক কিছু করাতেন যা তার পছন্দ হতো না বা পারলে ধর্ষণই করতেন।

-Briere, J. &Malamuth, N. (1983). Self-reported likelihood of sexually aggressive behavior: Attitudinal versus sexual explanations. Journal of Research in Personality, 17,315-323.

# অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বেশ ঢিলেঢালাভাবে পর্নোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট আইন মোতায়েন করা হয়।ফলস্বরূপ, ধর্ষণের হার বাড়ে ২৮৪%।কিন্তু একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে এ ব্যাপারে কঠোর আইন প্রয়োগ করে দেখা যায়, ধর্ষণের হার বেড়েছে মাত্র ২৩%।

আবার, হাওয়াইতে প্রথমে দুর্বল আইন প্রয়োগ করা হয়, এরপর তা মজবুত করা হয় এবং তারপর আবার পূর্বের অবস্থায় ফেরত নেয়া হয়।ধর্ষণের ফলাফলও আসে অনুরূপ।প্রথমে বাড়ে, এরপর কমে তারপর আবার মাত্রা ছাড়িয়ে যায়।
-Court, J. (1984). Sex and violence a ripple effect. In Malamuth, N &Donnerstein, E (Eds), Pornography and sexual aggression. San Diego, Academic Press.

# একদল পুরুষকে একটা ভিডিও দেখানো হল যেটাতে একজন নারী সেক্সুয়াল ভায়োলেন্সের মাধ্যমে উত্তেজিত ও কামুকী হয়ে ওঠে।আরেক দলকেও একই ধাঁচের কিছু একটা দেখানো হয় তবে তাতে সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স থাকে না।এইবার দুই দলকেই দেখানো হল পর্ণ যাতে রয়েছে ধর্ষণ।এরপর প্রথম দলের অধিকাংশ জানালো, তাদের চোখে পর্ণের মহিলাটির যেন ভোগান্তি কম আর তৃপ্তিই বেশি।কাজেই মহিলারা ধর্ষণ উপভোগ করে আর এমনই তাদের মতামত।
-Check, J. &Malamuth, N. (1985). An empirical assessment of some feminist hypotheses about rape. International Journal of Women’s Studies, 8, 414-423.

# এইবার মহিলাদের ব্যাপারটা দেখা যাক।অনেকে যারা বাচ্চাকাল থেকেই পর্ণের দুনিয়ায় ঢুকেছে, তাদের কাছে ধর্ষণের ভয়াবহতা হালকা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং তারা যেসব সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসিতে নিমজ্জিত হয় সেগুলোর মাঝে ধর্ষণও থাকে।

– Corne, S., Briere, J. &Esses, L. (1992). Women’s attitudes and fantasies about rape as a function of early exposure to pornography. Journal of Interpersonal Violence, Vol 7 No 4, pp 454-461.

 

#অনিবার্য_যত_ক্ষয়

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ ……

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)

পড়তে পারেন –

‘অনিবার্য যত ক্ষয়’ (দ্বিতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2x5OdHU
অনিবার্য যত ক্ষয়’ (শেষ পর্ব)  https://bit.ly/2O7Pgxf

রেফারেন্স-

http://www.antipornography.org/sex_crimes.html

শেয়ার করুনঃ
‘অনিবার্য যত ক্ষয়’ (শেষ পর্ব)

‘অনিবার্য যত ক্ষয়’ (শেষ পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

আমেরিকান আর্মির  মহিলা সদস্যরা শত্রুদের নিয়ে ততোটা বেশী শংকিত থাকে না ,  যতটা বেশী  শঙ্কিত থাকে তাদের পুরুষ সহকর্মীদের হাতে যৌন নিপীড়িত হবার  ভয়ে  ……

একটা গভীর  দীর্ঘশ্বাস ছেড়েই এই কথা গুলো বললেন ডোরা হারনান্দেজ যিনি প্রায় দশ বছরেরও বেশী সময় ধরে কাজ করেছেন আমেরিকান নেভী এবং আর্মি ন্যাশনাল গার্ড এ । ডোরা হারনান্দেজ সহ আরো কয়েকজন প্রবীণ ভদ্রমহিলার সঙ্গে কথা হচ্ছিল যারা  আমেরিকার সামরিক বাহিনীতে  কাজ করেছেন অনেক বছর , ইরাক এবং আফগানিস্থান যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছেন । এই ফ্রন্টগুলোতে  কোনমতে  তারা সারভাইভ করতে পেরেছেন  কিন্তু পুরো কর্মজীবন জুড়ে তাদেরকে আরোও একটি যুদ্ধ করতে হয়েছে  নীরবে-এবং সেই যুদ্ধে তারা প্রতিনিয়তই পরাজিত হয়েছেন । তাদের সেই নীরব যুদ্ধ ধর্ষণের বিরুদ্ধে ।

 

পেন্টাগনের নিজেস্ব  রিসার্চ থেকেই  বের হয়ে এসেছে যে আমেরিকান সামরিক বাহিণীর  প্রতি চার জন মহিলা সদস্যের একজন তাদের ক্যারিয়ার জুড়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হয় ।

(পড়ুনঃ মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব-১: https://bit.ly/2OhCeO0 ) আমেরিকার সামরীক বাহিনীতে চলমান যৌন নির্যাতনের কারণ হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে মিলিটারি ক্যাম্পগুলোতে পরনোগ্রাফিক ম্যাগাজিনের সহজলভ্যতা । যৌন নির্যাতনের হার কমানোর জন্য  মিলিটারি ক্যাম্পগুলোতে এইসব ম্যাগাজিন ক্রয় বিক্রয় করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে । জয়েন্ট চীফ অফ স্টাফ বলেছেন ,“আমাদের বাহিনীতে বিরাজমান এই যৌন নির্যাতনের সংস্কৃতি পরিবর্তন করতেই হবে । আর এজন্যেই সামরিক ঘাঁটি গুলোতে পরনোগাফিক ম্যাগাজিন কেনাবেচা করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে”।

[তবে এই পদক্ষেপ অবস্থার কতটা উন্নতি ঘটাবে তাতে অনেকেই সন্দিহান। কারণ ক্যাম্পগুলো থেকে খুব সহজেই পর্ণসাইটে প্রবেশ করা যায়]

http://cbsn.ws/2bvrck9

http://bit.ly/2bvrkVA

অনেকেই একটা  ভুল ধারণা নিয়ে থাকেন  আমি তো শুধু পর্ণমুভি দেখছি ,ওইগুলো করছি না । কারো কোন   ক্ষতি করছিনা । পর্ণ দেখা  দোষের তো কিছু না । পর্ণ দেখার সঙ্গে ধর্ষণ বা শিশু নির্যাতনের কোন সম্পর্ক নেই ; এইগুলো পর্ণ সহজলভ্য হবার আগেও ছিল এখনো আছে । এই ভুল ধারণাগুলো ভেঙ্গে দেবার জন্য এই লিখাটাই (সিরিজের প্রথম দুটি লিখা পড়ুন এখানে- http://tinyurl.com/heblrdwhttp://tinyurl.com/h2uwum2 )  যথেষ্ট ইনশা আল্লাহ্‌ ।

একেবারেই একাডেমিক ধাঁচের লিখা এটি । রসকষহীন । ধৈর্য ধরে পুরোটা পড়ার অনুরোধ রইলো পাঠকদের নিকট ।

শিশু যৌন নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি -ডঃ ডায়ানা ই.এইচ.রাসেল

বারবার চাইল্ড পর্নোগ্রাফি দেখা ও তা দেখে মাস্টারবেট করার ফলে ব্যাক্তির বাস্তবে তা প্রতিফলিত করার ইচ্ছা প্রবল হয়ে উঠতে থাকে।এক মানসিক রোগী ছিল যে আসলে ছিল স্যাডিস্টিক সিরিয়াল রেইপিস্ট।৯ বছর বয়স থেকেই মেয়েদের টর্চার করার ফ্যান্টাসি তার মাথায় ঘুরপাক খেতে শুরু করে।১২ বছর বয়সে সেসব চিন্তাকে মাথায় এনে শুরু হয় মাস্টারবেশন।তা চলতে থাকে প্রতি মাসে ২০ বার করে।২২ বছর বয়সে সে তার প্রথম স্ত্রী ও অন্যান্য মহিলাদের ধর্ষণ করে।অনেকের কাছে পর্ণ অল্প সময়ের জন্য আনন্দের খোরাক জোগালেও কেউ কেউ এর হাত ধরেই জন্ম দেয় নির্মম বাস্তবতার যা নিষ্পাপ কিছু জীবনকে বিষাদময় করে তুলে অকল্পনীয়ভাবে।


ভার্নন গিবার্থের সঙ্গে সাক্ষাৎকার (
retired Lieutenant Commander with the NYPD and author of “Sex Related Homicide and Death Investigation: Practical and Clinical Perspectives”) যখন এসব ক্রিমিনালদের ঘটনা শুনি মানে তাদের ভিতরকার দুনিয়াটা স্পষ্ট চোখে দেখি, তখন এ বিষয়ে আর সন্দেহ থাকে না যে প্রকৃত নীরব ঘাতক কোনটি।এমন কিছু ফ্যান্টাসি আছে যা কোনদিনই বৈধ বা সভ্য না।কিন্তু এ ফ্যান্টাসিগুলোই কাউকে কাউকে আচ্ছামত পেয়ে বসে।এগুলো নশ্বর ও ক্ষণস্থায়ী।আর পরের ধাপে ব্যাক্তি শরণাপন্ন হয় পর্ণের।এতে করে ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট কোন ক্যাটাগরির উপর সে দিনের পর দিন দুর্বল হতে থাকে।ব্যাক্তি ভেদে তা ভিন্ন ভিন্ন।আর এক সময় সে লালসার জোয়ার নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরীহদের ওপর আর বাস্তবায়ন ঘটায় তার মনের ভেতর পুষে রাখা ফ্যান্টাসির।

ক্যাথারসিস থিওরি বা ক্যাথারসিস ইফেক্ট

এই টার্মটি হয়তো অনেকের কাছেই অজানা।সহজ বাংলায় বলতে গেলে বিশোধন তত্ত্ব বা বিশোধন প্রভাব।মানে এই থিওরি মতে, পর্ণকে ব্যবহার করে আমরা আমাদের বর্বর ফ্যান্টাসিগুলোকে লাগাম দিতে পারি।অর্থাৎ আমাদের মনের ক্ষুধাকে সাময়িকভাবে মিটিয়ে আমরা ধর্ষণ বা যে কোন প্রকার সেক্সুয়াল ভায়লেন্স ঠেকাতে পারি।কারণ ধর্ষণ করার আকাঙ্ক্ষা তো পর্ণই মিটিয়ে দিচ্ছে।আবার কষ্ট করে বাস্তব জীবনে কারো মানহানি করার কি দরকার?

তাহলে এবার দেখা যাক যে এই থিওরি কতোখানি যুক্তিযুক্ত।একটা এক্সপেরিমেন্টের কথা উল্লেখ করবো যা পরিচালনা করেন হাওয়ার্ড, রিফলার ও লিটজিন।২৩ জন পুরুষকে নিয়ে এই এক্সপেরিমেন্ট চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে তাদের একটি পর্নোগ্রাফিক মুভি দেখানো হয় এবং তাদের উত্তেজনা পর্যবেক্ষণ করা হয়।এরপর পনেরো দিন প্রতিদিন নব্বই মিনিটের জন্য অ্যাডাল্ট পর্ণ দেখানো হয়।ফলে দেখা যায়, সবার মধ্যে শুরুতে যে উত্তেজনা কাজ করছিলো তা ধীরে ধীরে হ্রাস পায় এবং তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

কাঠামোগত দিক দিয়ে দুর্বল এই এক্সপেরিমেন্টে কিছুই প্রমাণ হয় না।প্রথমত, কি ধরণের পর্ণ সাবজেক্টরা দেখতে চায় তার ক্ষেত্রে কোন স্বাধীনতা ছিল না।বাধ্য হয়ে তাদের সবাইকে একই পর্ণ দেখতে হয়েছে।অথচ একেক জনের চাহিদা একেক রকম।তাই অল্পতেই তাদের উৎসাহ ফুরিয়ে গেছে।দ্বিতীয়ত, লম্বা সময় ধরে এবং একটানা চলে আসা যে কোন কাজই মানুষকে একঘেয়েমি করে তুলে।তাদের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই।

এর বিপরীতে দেখবো জিলম্যান ও ব্রায়ান্ট এর এক্সপেরিমেন্ট।দুইটা গ্রুপে সাজানো হয় স্যাম্পলদের।প্রথমটা তৈরি করা হয় সমান সংখ্যক তরুণ ও তরুণী নিয়ে।এই আন্ডারগ্র্যাজুয়েটদের ডাকা হয় ২টি মিডওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে।পরবর্তী গ্রুপটাতেও থাকে সমান সংখ্যক তরুণ তরুণী।তবে তারা স্টুডেন্ট নয়।

এবার শুরু হয় এক্সপেরিমেন্ট।তাদেরকে অনেকগুলো অপশন দেওয়া হয় মানে কে কী ধাঁচের পর্ণ দেখতে চায়।একটা নির্দিষ্ট সময় পরে দেখা যায়, তারা যখন একটা ক্যাটাগরি দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে তখন ঝাঁপিয়ে পড়ছে অন্য আরেকটায় যা আগেরটার তুলনায় আরো বর্বর।মানে যেগুলো খুব অসুস্থ মানসিকতার পরিচয় বহন করে।

মাস্টারবেশন এর ফ্যাক্টরটাও এখানে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটা দর্শকদের কামবাসনাকে আরো জোরদার করে। তবে অনেক পুরুষের ক্ষেত্রেই মাস্টারবেশনের চেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে তার কল্পনার মানুষটির সাথে বাস্তবে মিলিত হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা।কিন্তু যখন দেখে বৈধভাবে তা হয়তো কোনদিন সম্ভব না, তখনই তাদের কেউ কেউ ভিতরের রাক্ষসটাকে টেনে বের করে আনে। বিভিন্ন পরিসংখ্যান ঘেটে এর বহু উদাহরণ দাঁড় করানো যায়।

তাই বলা চলে, ক্যাথারসিস থিওরির মূলত কোন ভিত্তি নাই।

অস্ট্রেলিয়ায় সম্প্রতি এক গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে পর্ণাসক্ত বাচ্চাদের
বাড়তি উগ্রতার কথা।প্রায় সবার কাছেই ইন্টারনেট সহজলভ্য ও এদের ৯০% স্বীকার করেছে যে অনলাইনে পর্ণ দেখার অভ্যাস আছে।এক চতুর্থাংশ জানিয়েছে, বড় ভাই বা বোনের সহায়তায় বা কোন বন্ধুর প্ররোচনায় পড়ে তারা পর্ণের জগতে পা ফেলেছে, অনেক সময় অনিচ্ছা সত্তেও।আরেক চতুর্থাংশ বলেছে, অনলাইনে যাওয়ার প্রাথমিক উদ্দেশ্যই ছিল পর্ণ দেখা।যখন আলাদাভাবে ডেকে অভিভাবকদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছে তখন তাদের প্রায় প্রত্যেকে তাদের সন্তানের অনলাইন ব্রাউসিং নিয়ে সন্দেহপ্রবণ মনোভাব ব্যক্ত করেছেন।

আচ্ছা! এটা কি হতে পারে যে পর্ণের মাধ্যমে ধর্ষণ রোধ সম্ভব?-রবার্ট পিটারস্

পর্নোগ্রাফির পক্ষে যারা, তারা লম্বা সময় ধরেই বলে আসছে যে যেসব ব্যাক্তি সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স ঘটানোর ইচ্ছা রাখে, পর্ণ তাদের সেই খায়েশকে লাগাম দেয় ও তাদের শান্ত করে।অনেকের ক্ষেত্রে তা সত্য হতে পারে কিন্তু একটু আগে যে পরিসংখ্যান দেখানো হল তাতে কি মনে হয় এতে লোকসানের চেয়ে লাভ বেশি হয়?মোটেই না।আর যদি তাই হতো তাহলে দিনের পর দিন এই অপরাধীদের সংখ্যা বাড়ছে কেনো? কারণ আজকের যুগে আমরা এটাকে বেশ সহজলভ্য করে তুলেছি তা যে ক্যাটাগরির কথাই বলুন না কেনো।
সম্প্রতি এক গবেষণায় এসেছে, যারা চাইল্ড পর্নোগ্রাফি দেখে অভ্যস্ত তাদের অর্ধেকের বেশি পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে বাচ্চা মেয়েদের উত্যক্ত করার অভিযোগে।সামাজিক গবেষণাগুলো থেকেও প্রতীয়মান হয় পর্ণের সাথে যৌন অপরাধের জোরদার সম্পর্কের কথা।

#অনিবার্য_যত_ক্ষয়

(শেষ)

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)

পড়ুন-

অনিবার্য যত ক্ষয় (প্রথম পর্ব) –https://bit.ly/2N7SbtA
‘অনিবার্য যত ক্ষয়’ (দ্বিতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2x5OdHU

মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব- ৩ https://bit.ly/2p6dopk
একেই বলে সভ্যতা (প্রথম পর্ব) !!!: https://tinyurl.com/yaky6j8b

 

রেফারেন্স-

http://www.antipornography.org/sex_crimes.html

শেয়ার করুনঃ