অনিবার্য যত ক্ষয় (প্রথম পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

বাকের ভাইকে (এইসব দিনরাত্রি নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র)   নিয়ে নব্বইয়ের দশকে অবিশ্বাস্য রকমের মাতামাতি করা হয়েছে  এদেশে । সেই সময়ের উঠতি তরুণেরা বাকের ভাইয়ের মতো দাঁড়ি রেখে, ব্যাকব্রাশ করে চুল আঁচড়িয়ে  সানগ্লাস চোখে ঘুরে বেড়াতো , মিছিলে শ্লোগান দিত – আমরা সবাই বাকের হবো , এত মোনা কোথায় পাব’?

বাকের ভাইয়ের ফাঁসি আটকানোর জন্য রাস্তায় মিছিল করা হয়েছে, লেখককে হুমকি ধামকিও দেওয়া হয়েছে – বাকের ভাইয়ের ফাঁসি হলে দেখে নেওয়া হবে, অভিনেতা কাদেরেরে ( নাটকে বাকের ভাইয়ের শাগরেদ) বাসায় নাকি ঠিল ছোঁড়া হয়েছে । এরকম একটা কথা শুনেছিলাম বাকের ভাইয়ের ফাঁসির পর তার কুলখানির আয়োজনও নাকি করা হয়েছিল ।

বর্তমান সময়ে দেশে   কিরনমালা সিরিয়াল নিয়ে যা হচ্ছে তা মিডিয়া কিভাবে মানুষের আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারে তার একটা ক্ল্যাসিক উদাহরণ হয়ে থাকবে । পুরো চিত্রটা পাওয়ার জন্য  নিচে কিছু  খবরের লিংক দেওয়া হলে, পড়ে দেখা যেতে পারে –

★”কিরনমালা নিয়ে দুই বোনের ঝগড়া। একজনের আত্মহত্যা”

[ http://bit.ly/2bvgPRn ]

.★”কিরনমালা নিয়ে স্বামির সাথে ঝগড়া, এক গৃহবধুর আত্মহত্যা”

[ http://bit.ly/2bELj0Z ]

.

★”কিরনমালা নিয়ে দুই গ্রামে সংঘর্ষ। পুলিশের ১০ রাউন্ড গুলি। আড়াইশতাধিক আহত।” [ http://bit.ly/2btqtF2 ]

.

★”কিরনমালা দেখতে না দেয়ায় ৭ বছরের ছেলের আত্মহত্যা”

[ http://bit.ly/2btpTXY ]

.

★”কিরনমালা দেখতে না দেয়ায় মোহাম্মদপুরে আরেক ১৪ বছরের মেয়ের আত্মহত্যা” [ http://bit.ly/2btqE3s ]

.

★”মা কিরনমালা দেখার সময় দুই ভাই-বোনের পানিতে ডুবে মৃত্যু”

[ http://bit.ly/2btqGrO ]

.

★‘কিরণমালা’ দেখছেন মা, পুড়ে মরল মেয়ে

[http://bit.ly/2b8pg3L]

[ সংকলনে – Muhammad Tafazzul ]

নাটক, সিনেমা,মিডিয়া, গল্প, উপন্যাস এগুলো মানুষের মনোজগতকে নিয়ন্ত্রণ করার খুবই শক্তিশালী মাধ্যম ।  এই মিডিয়াই ঠিক করে দেয় আমরা কাকে নিয়ে চিন্তা করব, কিভাবে চিন্তা করব, কার দুঃখে কেঁদে বুক ভাসাবো, কার আনন্দে আনন্দিত হব , কি পোশাক পড়বো, কি খাবার খাব  সবকিছু । মানুষ হিমুর মতো পাগল সেজে খালি পায়ে হেঁটে বেড়ায় রাস্তায়,  ফুটবলারদের মতো  হেয়ারকাট দেয়,  শাহরুখ, রনবীরদের  মতো প্রেম করে ,  বিজ্ঞাপনের মডেলদের মতো  পোশাক আশাক পড়ে ।

‘আমি তো শুধু দেখছি কিছু করছি না , কারো ক্ষতি তো করছি না’ এই টাইপের একটা কথা প্রায়ই শোনা যায় অনেক পর্ণ আসক্তদের  থেকে । অনেকে নিছক অজ্ঞতাবশত এই কথা বলে, আবার অনেকে নিজেদের পর্ণদেখাকে জাস্টিফাই করার জন্য এরকম একটা অন্তঃসারশূন্য ,ফাঁপা দাবী করে ।

আপনি যদি বিশ্বাস করেন যে পর্ণমুভি/ আইটেম সং বা  মিউজিক ভিডিও (সফটকোর পর্ণ)  দেখা ধর্ষণ, যৌন বিকৃতি , শিশুনির্যাতন এর প্রভাবক হিসেবে কাজ করে , অনেক সময় প্রধান চালকের ভূমিকা পালন করে তাহলে এই লিখা পড়ে আপনার লাভ নেই । আপনি সত্যটা জানেন ।  শুধু শুধু সময় নষ্ট  হবে ।

এই লিখাটা তাদের জন্য যারা কোনরকম তথ্য-প্রমাণ ছাড়া , কোন একাডেমিক গবেষণা ছাড়া গায়ের জোরে প্রমাণ করতে চান , “পর্ণমুভি  ক্ষতিকর নয় , ধর্ষণ বা যৌন বিকৃতির জন্য এটা দায়ী নয়”, “আমি তো শুধু দেখছি, কিছু করছি না”।

লিখার আসল অংশে প্রবেশ করার পূর্বে কিছু কথা বলে নিতে চাই ।  আমরা এই আর্টিকেলের প্রথমেই বাকের ভাই এবং কিরনমালা’র উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছি মানুষ যা দেখে , মিডিয়া যেটা তার সামনে হাইলাইট করে দেখায় সেটা তার ওপর কতোটা প্রভাব বিস্তার করে । মিছিল থেকে শুরু করে খুন !

তাহলে একটা মানুষ যদি রেগুলার  পর্ণমুভি দেখে সেটা তার আচার আচরনে প্রভাব ফেলবে এটাও তো অস্বাভাবিক কিছু না ।

খুব সুচতুরভাবে   আমাদের  পৃথিবীতে পর্ণমুভিকে  স্বাভাবিক একটা ব্যাপার বানিয়ে ফেলা হচ্ছে (নরমালাইজড) । আসল পর্ণ তো আছেই [ http://tinyurl.com/9ys2k],  বিজ্ঞাপন , বিলবোর্ড আইটেম সং, মিউজিক ভিডিওতে পর্ণস্টারদের অনুকরণ করা হচ্ছে । মুভি, সিরিয়াল গুলোর মাধ্যমে  বিকৃত যৌনাচার কে (এনাল সেক্স, ওরাল সেক্স ) যেমন  প্রমোট  করা হচ্ছে , তেমনি সমকামীদের জন্যেও একটা শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে  । পর্ণমুভি অতিসহজলভ্য করে ফেলা হয়েছে । বাংলাদেশের ১৩-১৭ বছর বয়সীদের শতকরা ৭৭ জন  নিয়মিত পর্ণমুভি দেখছে [http://tinyurl.com/z8mzjqs ] ।

এগুলোর ফলাফল তো আমরা হাতে নাতেই পাচ্ছি ।

গত কয়েক বছরে খুব দ্রুত  আমাদের সমাজে অশ্লীলতাকে বরন করে নেওয়ার একটা সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে । আমাদের দেশে  ফেসবুকে গ্রুপ খুলে লাখ লাখ ছেলে মেয়ে  নির্লজ্জ রসিকতায় মেতে উঠছে । আমাদের তরুণ তরুণীরা  কাম তাড়নায় পাগল হয়ে ভাদ্র মাসের কুত্তাদের মতো রাস্তাঘাটে, লিটনের ফ্ল্যাটে , ক্লাসরুমে শরীরের উত্তাপ মেপে নিচ্ছে । বিছানায়   পর্ণস্টারদের অনুকরণ করছে, পশুর মতো  একে অপরকে ব্যবহার করছে । ।  দশ  বছর আগেও টিভিতে যে দৃশ্য  একাকী দেখলেও আমরা লজ্জায় লাল হয়ে যেতাম, তারচেয়েও অশ্লীল দৃশ্য আমরা ফ্যামিলি শুদ্ধ বসে দেখছি  ।

আর কথা বাড়াতে চাই না ।  ধৈর্য ধরে পড়ে ফেলুন , ধর্ষণ, বিকৃত যৌনাচার বা শিশুনির্যাতনের সঙ্গে পর্ণমুভির কি সম্পর্ক তা নিয়ে লিখা একাডেমিক , রসকষহীন ,খুবই বিরক্তিকর এই আর্টিকেলটি ।

ধন্যবাদ ।

যৌন নিপীড়ন,লাঞ্ছনা,অবমাননা,ধর্ষণ,অজাচার,উৎপীড়ন ও অন্যান্য যৌন অপরাধ যেমন নারী পাচার ও যৌন দাসত্বের সাথে পর্নোগ্রাফির সম্পর্ক:

“পর্নোগ্রাফি হল থিওরি আর রেপ হল তার বাস্তবায়ন।”

-রবিন মরগান (Going Too Far: The Personal Chronicle of a Feminist)

“পুরুষরা পর্নোগ্রাফির পেছনে পয়সা ঢালে আর ধকল যায় নারীদের ওপর ধর্ষণ আর নিপীড়নের আকারে এমন এক সমাজের কাছে যা তাদের তুচ্ছ সেক্সুয়াল অবজেক্ট হিসেবে গ্রহণ করে।” -রোসালি ম্যাগিও (The Dictionary of Bias-Free Usage)

“আমি জেলে লম্বা সময় কাটিয়েছি এবং অনেকের সাথেই কথা হয়েছে যাদের অপরাধের মূল উৎস হল পর্ণ।তাদের প্রত্যেকেই ছিল এতে বাজেভাবে আসক্ত।F.B.I. এর নিজস্ব সিরিয়াল হোমোসাইড এর গবেষণায় এসেছে, সিরিয়াল কিলারদের মধ্যে সবচেয়ে কমোন ইন্টারেস্ট হল পর্ণ যা একেবারে সত্য।”
-টেড বান্ডি (Serial Killer & Rapist of at least 28 Women & Girls)

পড়তে পারেন এই তিনটি লিখা –

http://bit.ly/2coKlub

http://bit.ly/2bztRsK

http://bit.ly/2by3Kc0

পর্নোগ্রাফি ও উদ্দামতা:

২০১০ সালের একটি রিসার্চ নিয়ে আলোচনা করা যাক যা সম্পন্ন করেন ম্যারি অ্যানি লেইডেন (PhD, Director of the Sexual Trauma and Psychopathology Program Center for Cognitive Therapy, Department of Psychiatry, University of Pennsylvania)

পর্ণের উত্তেজনা ব্যাক্তিকে ফ্যান্টাসির সীমানা ডিঙ্গিয়ে ভয়াবহ বাস্তবতার মুখে ঠেলতে পারে।একটা এক্সপেরিমেন্টে একদল পুরুষকে দেখানো হয় রেইপ পর্ণ এবং আরেক দলকে নন-রেইপ পর্ণ।এরপর কোন রকম হাতের স্পর্শ ছাড়া নিজেদের সর্বোচ্চ মাত্রায় উত্তেজিত করতে বলা হল।এতে দেখা যায়, যাদের রেইপ পর্ণ দেখানো হয়েছে তাদের ফ্যান্টাসিগুলো ছিল অধিক বর্বর বাকিদের তুলনায়।আরেক গবেষণায় এসেছে, যেকোন ধাঁচের পর্ণই হোক না কেনো তার সাথে সরাসরি সম্পর্ক আছে অকথ্য গালাগালি, ড্রাগস আর অ্যালকোহলের।আর এসবই একজনকে দিয়ে ধর্ষণ করানোর জন্য যথেষ্ট।তাই যারা উগ্র লেভেলের পর্ণ দেখে, তাদের দ্বারা ধর্ষণের সম্ভাবনাও বিপুল থাকে।যাদের ডেইট রেইপ করার কলঙ্ক আছে তাদের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে প্লেবয় টাইপের  কিছু ম্যাগাজিন বেশ ভূমিকা রেখেছে ।  দেখা গিয়েছে যে,যেসব স্টেইটে এইসব ম্যাগাজিনের সার্কুলেশনের হার বেশি সেসব স্টেইটে ধর্ষণের হারও বেশি।

যেসব কিশোর এই সব পর্ণ দেখে অভ্যস্ত তাদের ৪২% হল সেক্স অফেন্ডার।সাধারণ কিশোরদের তুলনায় এদের পর্ণে জড়িয়ে পড়াটা খুবই স্বাভাবিক।৫-৮ বছর বয়সের মধ্যেই তা সম্ভব।এদের খুব কম সংখ্যক নিশ্চিত করেছে যে নিজেদের এই কুকর্মের পেছনে পর্ণ দায়ী নয়।তবে বাকিদের ক্ষেত্রে পর্ণই প্রধান কারণ।
এখন কিছু পরিসংখ্যান দেখা যাক।হার্ডকোর পর্নোগ্রাফি লেলিয়ে দিয়েছে বিভিন্ন ধাঁচের অপরাধীকে তাদের অপরাধ সংঘটনের জন্য।যেমন,চাইল্ড মলেস্টার(৬৭%),ইনসেস্ট অফেন্ডার(৫৩%) ও রেইপিস্ট(৮৯%)।এদের সবাই যে শুধু পর্ণ দেখার পরই ভিক্টিমদের উপর হামলা করত তা নয়,এদের অনেকেই রেগুলার পর্ণ দেখায় আসক্ত ছিল যা তাদের বর্বর হতে রসদ জুগিয়েছে এবং ওগুলো যে হার্ডকোর লেভেলের ছিল তাও কিন্তু নয়।তাই একজন পুরুষের পুরুষত্বের অপব্যবহার তার পর্ণ দেখার হারের ওপরও নির্ভর করে।যারা তাদের দৈহিক সামর্থ্যকে বাজেভাবে কাজে লাগায় বা যারা নারীদের কেবল আমোদের উপাদান হিসেবে উপভোগ করে আসছে তাদের দ্বারা শঙ্কিত হবার শঙ্কা অনেক বেশি থাকে।

এবার কিছু ভিক্টিমের বক্তব্য শোনা যাক।১০০ জন ভিক্টিমের মধ্যে ২৮% বলেছে যে তাদের ওপর হামলাকারী ব্যাক্তি পর্ণ দেখেছিল আর বাকিদের মধ্যে ৫৮% এ ব্যাপারে ঠিক নিশ্চিত নয়।আবার প্রথম শ্রেণির ভিক্টিমদের ৪০% বলেছে যে তাদের ওপর যে নির্যাতন করা হয়েছিল তার একটি অংশ ছিল পর্ণ।বাকি ৪৩% বলেছে যে নির্যাতনের প্রকৃতি পর্ণে যা দেখানো হচ্ছিল তার মতোই ছিল অনেকটা।১৮% এর ধারণা অনুযায়ী,পর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে নির্যাতনকারী আরও ধর্ষকামী হয়ে উঠেছিল।১০০ জনের মধ্যে ১২% জানিয়েছে যে নির্যাতনকারী হুবুহু তার দেখা পর্ণের অনুরুপ ঘটিয়েছে তাদের সাথে আর ১৪% জানিয়েছে যে তাদের দিয়ে জোরপূর্বক কিছু বর্বর কাজ করানো হয়েছিল।

সবশেষে মূল কথা হল,পর্নোগ্রাফির জগৎ আপনাকে অস্বাভাবিক ব্যবহারে অভ্যস্ত করাবে।ধীরে ধীরে আপনার জীবনের নিত্যনৈমিত্তিক অংশে পরিণত হবে এবং আপনার বিকৃত মস্তিষ্ক এক সময় আপনার কাছে স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।এই বিষের সংক্রমণ থেকে কেউই নিরাপদ নয়।হতে পারে সে পুরুষ বা নারী, যুবক বা যুবতী, বাচ্চা বা বুড়ো, বিবাহিত কিংবা অবিবাহিত।

#অনিবার্য_যত_ক্ষয়

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ ……

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টীম কর্তৃক অনূদিত)

পড়তে পারেন –

অনিবার্য যত ক্ষয়’ (দ্বিতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2x5OdHU
অনিবার্য যত ক্ষয়’ (শেষ পর্ব) – https://bit.ly/2O7Pgxf

রেফারেন্সঃ http://bit.ly/2c8x0li

শেয়ার করুনঃ
১০৮ টি নীলপদ্ম (প্রথম পর্ব)

১০৮ টি নীলপদ্ম (প্রথম পর্ব)

সৃষ্টির একবারের শুরুর সেই সময়টা । আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়েছে ।  তিনি জান্নাতে থাকেন । একা একা  কিছুটা বিষণ্ণ মনে   ঘুরে বেড়ান । আই রিপিট “জান্নাতে” মন খারাপ করে ঘুরে বেড়ান । অবশেষে আল্লাহ্‌ (সুবঃ), আদম (আঃ) এর সঙ্গী   হাওয়া (আঃ) কে সৃষ্টি করলেন।আদম (আঃ) এর বিষন্নতা কেটে গেল।

স্বামী / স্ত্রী এবং তাদের মধ্যেকার অন্তরঙ্গতা  আল্লাহ্‌ (সুবঃ) এর এক বিশাল নিয়ামত । স্বামী / স্ত্রী একজন অপরের চোখ শীতলকারী , প্রশান্তি দানকারী । হাজার বছর ধরেই স্বামী স্ত্রীর এই অসম্ভব সুন্দর সম্পর্ক, একে অপরের প্রতি স্রদ্ধাবোধ, ত্যাগ স্বীকারের হাজার হাজার  কাহিনী  লিপিবদ্ধ হয়েছে, মহাকাব্য রচিত হয়েছে , রচিত হয়েছে অসংখ্য অশ্রু  ঝরানো উপাখ্যান । কিন্তু আমাদের এই তথাকথিত আধুনিক মহান সভ্যতায় বদলে গেছে  স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক ।

ঠুনকো হয়ে গেছে  স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কটা ভালোবাসায় মিশে গেছে ফরমালিন । কমে গেছে একে অপরের প্রতি দায়বদ্ধতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ।  আমাদের দাদা দাদী, নানা নানীদের জেনারেশান,   অত দূরে যেতে হবে না, আমাদের বাবা মার জেনারেশানের স্বামী স্ত্রীর  সম্পর্কের মধ্যে যে পরিমাণ সততা ছিল ,যে পরিমাণ আবেগ ছিল তা আমাদের জেনারেশানের মধ্যে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বছরের পর বছর ধরে তাঁরা একসাথে একি ছাদের নিচে ঘুমিয়েছেন , জীবনের সকল দুঃখ কষ্ট সহ্য করেছেন , সকল প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে একসঙ্গে যুদ্ধ করেছেন, হাতে হাত রেখে দাঁড়িয়েছেন জীবনের পক্ষে।

আমাদের জেনারেশানের দাম্পত্য জীবন অনেকটা পিকনিকের মতো । একে অন্যকে  দেখে দুজনকেই দুজনের  অনেক “কুউউল” মনে হল , তারপর  দুজনে বিয়ে করে কিছুদিন “এনজয়” করল । তারপর একরাতে মশারী খাটাতে যেয়ে  দুজনের হালকা কথা কাটাকাটি শুরু হল , তারপর ঝগড়া , তারপর রাত দুপুরে দুই পক্ষের অভিভাবক ডেকে ডিভোর্স ।

খালাস।

আবার কিছুদিন পর অন্য একজনকে দেখে অনেক ‘কুউউল’ মনে হল, তারপর আবার বিয়ে , তারপর কিছুদিন এনজয়, ফেসবুকের ওয়ালপেজ ভর্তি বেডরূম সেলফি , তারপর একদিন সামান্য কারণে হুট করে  ডিভোর্স ।  এই দুষ্ট চক্র চলতেই থাকে ।

কিন্তু কেন?

কেন হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসা  স্বামী স্ত্রীর মধুর সম্পর্কের আজ এই  বেহাল দশা ? কেন এক নিদারুণ দুঃসময়ে টালমাটাল পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী বন্ধনগুলোর একটি?

অনেক গুলো ফ্যাক্টর আছে এর পিছনে । পুঁজিবাদী চিন্তাভাবনা ,সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে নিজের প্রবৃত্তির দাসত্ব

করা,সেকুল্যারিজমের প্রসার,মিডিয়ার মগজধোলাই,নারীবাদের উত্থান ।

আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর পর্নমুভি, আইটেম সং,  সর্বোপরি মিডিয়ার pornification এবং নারীকে শুধু মাত্র

দেহসর্বস্ব ‘সেক্স অবজেক্ট’ হিসেবে দেখানোর  ট্রেন্ড ।  এই কম আলোচিত বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই আমাদের   এই লিখাটি

সামনে এগুবে ইনশা আল্লাহ্‌  ।

আমাদের জেনারেশান  লাগামছাড়া অশ্লীলতা আর বেহায়াপনায় গা ভাসিয়েছে । এক দুই  ঘন্টানেট  ব্রাউজিং করেই তারা

বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে “যখন কিছুই লুকানোর থাকেনা” টাইপ মেয়েদের ছবি দেখে ফেলে তা আমাদের বাপ দাদারা তাঁদের

সারাজীবনে দেখেছে কিনা সন্দেহ । হাই স্পীড নেট , এন্ড্রয়েড ফোনের কল্যানে পর্ন মুভি আলু পটলের মতোই সহজলভ্য

হয়ে গেছে আর আমাদের ছেলে মেয়েরা তা গোগ্রাসে গিলছে ।

প্রতি সেকেন্ডে গড়ে ২৮,২৫৮ জন মানুষ পর্ন দেখছে [১] University of Montreal  এর গবেষকরা এমন একজনকেও খুঁজে পাননি যে জীবনে কখনোই পর্ণ দেখেনি।[২]

Security technology company Bitdefender এর গবেষনা থেকে দেখা যাচ্ছে,পর্নসাইটে যাতায়াত করে এমন ১০ জনের মধ্যে ১ জনের বয়স দশ বছরের নিচে । এবং এই দুধের বাচ্চা গুলো রেপপর্ন টাইপের জঘন্য জঘন্য সব ক্যাটাগরির পর্ন দেখে । [৩]

পর্নমুভি দেখে, চটি গল্প পড়ে বড় হওয়া এইসব ছেলে মেয়েরা যৌনতা সম্পর্কে অতিরঞ্জিত, অবাস্তব ধারনা নিয়ে বড় হয়ে ঊঠছে ।  এদের সেক্স এডুকেশানের  মাধ্যমও এই পর্ন মুভি। National Union of Students(NUS) এর জরিপ থেকে দেখা যাচ্ছে শতকরা ৬০ জন স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটির ছেলেমেয়েরা যৌনতা সম্পর্কে জানার জন্য পর্ণ মুভি দেখছে।[৪]

অস্ট্রেলিয়ান গবেষক Maree Crabbe এবং David Corlett এর ভাষ্যে,‘ আমাদের সংস্কৃতিটাই এমন হয়ে গিয়েছে যে কিশোর,তরুণরা কীভাবে যৌনতাকে উপলব্ধি করবে এবং যৌনতার মুখোমুখি দাঁড়াবে সেটা শেখাচ্ছে পর্ণ। সেক্স এডুকেশানের প্রভাবশালী মাধ্যম হচ্ছে পর্ণ’। [৫]

মানুষ কোন একটা বিষয় বার বার দেখতে থাকলে এবং সেটা তার ভালো লাগলে একসময় না একসময় সে সেটা করতে চাই । কাজেই  বিয়ের পর শুরু হচ্ছে ঝামেলা। [৬]

পর্নমুভিতে আসক্ত হওয়ার কারণে বিয়ের আগে  থেকেই  স্বামীর মনে নারী দেহের বিভিন্ন অঙ্গের আকার  আকৃতি   সম্পর্কে অতিরঞ্জিত এবং অবাস্তব ধারনা থাকে। [৭] তার  অবচেতন মন এটা ধারণা করে থাকে যে সব  নারীর দেহই  পর্নমুভির অভিনেত্রীদের মতো । এবং  নারীরা  বিছানায়, পর্নঅভিনেত্রীদের মতোই বেপরোয়া । কিন্তু সে যখন আসল সত্যটা আবিষ্কার করে বসে তখন সে হতাশ হয়ে যায় এবং দাম্পত্য জীবনে শুরু হয় অশান্তি।

মুদ্রার ওপর পিঠটাও দেখে ফেলা যাক । পর্নমুভিতে আসক্ত নারীরাও ছেলেদের দেহ সম্পর্কে অতিরঞ্জিত ধারনা করে বসে থাকে । বিয়ের পর সে যখন আবিষ্কার করে তার স্বামীর দেহ পর্নমুভিতে দেখানো পুরুষদের মতো না , তার স্বামী পর্নমুভিতে দেখানো পুরুষটার মতো এক্ট করতে পারছে না বা  ডিউরেশান পর্নমুভির চেয়ে  অনেক কম । তখন সে তার স্বামীকে নিয়ে অসন্তুষ্টিতে ভুগছে । দাম্পত্য কলহ শুরু হচ্ছে । পরকীয়ার সূত্রপাত হচ্ছে ।  পরকীয়ার পালে জোর হাওয়া লাগাতে ইন্ডিয়ান বস্তাপচা সিরিয়াল তো আছেই ।

দুজনের কেউই ভেবে দেখছেনা পর্নমুভিতে যেগুলো দেখানো হচ্ছে সেগুলো  কতটা ফেক ।কতটা এডিটিং করা হয়েছে । পর্নঅভিনেত্রীদের “শরীর” বলুন আর পর্নঅভিনেতার “শরীর” বলুন এগুলো সব কিছুই স্বাভাবিক আকারের চেয়ে অতিরিক্ত বড় আকারে পর্নমুভিতে এডিটিং এর মাধ্যমে উপস্থাপনা করা হয় । অনেক ঘাম ঝরিয়ে , বিশেষ ব্যামায় করে, সার্জারির মাধ্যমে এইগুলো বড় করা হয় । স্বাভাবিক নারী পুরুষের দেহ তাদের মত হবে না এটাই সত্য ।  আর ত্রিশ চল্লিশ মিনিটের একটি পর্নমুভি হয়তো সাত দিন ধরে শুটিং করা হচ্ছে ,পুরুষ অভিনেতা বা অভিনেত্রীরা যৌন শক্তি বর্ধক ড্রাগস নিয়ে তাতে পারফর্ম করছে , আর এর ভোক্তারা  নীল স্ক্রীনের সামনে  পর্ন মুভি দেখে ভেবে নিচ্ছেন তারা বোধহয় “একশটেই” চল্লিশ পঞ্চাশ মিনিট  স্টে করতে পারে । পর্নআসক্ত স্ত্রী ভাবছে পর্নমুভির অভিনেতা এতক্ষন পারলে আমার স্বামী কেন পারছে না তার নিশ্চয় সমস্যা আছে, পর্নআসক্ত স্বামী ভাবছে আরে সে এতক্ষন পারলে আমি কেন পারি না , নিশ্চয় আমার কোন সমস্যা আছে।

এইভাবে পর্নআসক্ত স্বামী তার আত্মবিশ্বাস  হারিয়ে ফেলছে আর স্ত্রীরাও অসন্তুষ্টিতে ভুগছে । স্বামী স্ত্রীর ভালবাসায় ভাটা পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের (যৌন বিশেষজ্ঞ,চিকিৎসক,মনোবিদ,মনোবিজ্ঞানী,প্রফেসর) শতাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে [৮] পর্ন,মারাত্মক রকমের যৌন সমস্যা সৃষ্টি করে। ইরেক্টাইল  ডিসফাংশন (লিঙ্গ উত্থিত না হওয়া) থেকে শুরু করে , প্রিম্যাচিউর ইউজাকুলেশান(অকাল বীর্যপাত), যৌনতার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, অতৃপ্ত থাকা,স্বামী স্ত্রীর মধ্যেকার ভালোবাসা কমে যাওয়া, যৌনতায় আগ্রাসন প্রদর্শন…

বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে যুবকদের যৌনসমস্যা যতোটা বৃদ্ধি পেয়েছে পৃথিবীর ইতিহাসে এর আগে কখনো এরকম হয়নি। ৭জন নেভি চিকিৎসক সহ আরো অনেক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে লিখিত একটি গবেষণাপত্র [৯], [১০] থেকে দেখা যাচ্ছে, ১৪ থেকে ৩৫ শতাংশ পুরুষ ইরেক্টাইল ডিসফাংশন জনিত সমস্যায় আক্রান্ত। যৌনতায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন এমন পুরুষের সংখ্যা শতকরা ১৬ থেকে ৩৭ জন। এই পুরুষদের কারো কারো বয়স ৪০ বছর বা তার চেয়ে কম , কেউ কেউ ২৫ বছর বয়সী টগবগে যুবক , কেউ কেউ সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া টিনেজার!

অনলাইন ফ্রি পর্নোগ্রাফি যুগের পূর্বের (?-২০০৬) বিভিন্ন গবেষণা থেকে দেখা গিয়েছে ৪০ বছর বা এর চেয়ে কম বয়সী পুরুষদের মাত্র ২-৫ শতাংশ পুরুষ ইরেক্টাইল ডিসফাংশনে আক্রান্ত। ৩৫ বছর বা এর চেয়ে কমবয়সী কেউ ইরেক্টাইল ডিসফাংশনে আক্রান্ত এমনটা শোনাই যেতনা। তার মানে গত কয়েক বছরে তরুণ,যুবকদের ইরেক্টাইল ডিসফাংশন  প্রায়  ১০০০% বেড়েছে। এর পেছনে দায়ি কে ?

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌……

পড়ুন-

১০৮ টি নীলপদ্ম (দ্বিতীয় কিস্তি)- https://bit.ly/2oZy6ab
১০৮ টি নীলপদ্ম (শেষ কিস্তি)- https://bit.ly/2QodAwv

রেফারেন্সঃ

[১] https://goo.gl/NxUWuY

[২]https://goo.gl/Z6TwPJ

[৩][ http://bit.ly/2fdBY1a

[৪]  https://goo.gl/HdfMq6

[৫] https://goo.gl/PGF6zX

[৬]Cicely Alice Marston and Ruth Lewis. “Anal Heterosex Among Young People and Implications for Health Promotion: A Qualitative Study in the UK,” BMJ Open 4, no. 8 (2014).

[৭] Emily Leickly, Kimberly Nelson, and Jane Simoni, “Sexually Explicit Online Media, Body Satisfaction, and Partner Expectations Among Men who have Sex with Men: A Qualitative Study,” Sexuality Research & Social Policy (2016). doi:10.1007/s13178-016-0248-7

[৮] https://goo.gl/tGJ4Nd

[৯] https://goo.gl/9FbhBs

[১০] https://goo.gl/ANeYcd

শেয়ার করুনঃ
‘মাদকের রাজ্যে’

‘মাদকের রাজ্যে’

‘মাদকের রাজ্যে’

মেঘের অনেক রং।

কখনো রক্তের মতো টকটকে লাল।

কখনো নীল।

কখনো সবুজ।

কখনো সজনে ফুলের মতো সাদা।

এখন অবশ্য মেঘের রং ধূসর।

টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ছে।

মন খারাপ করে দেওয়া বৃষ্টি।

সেদিন সকালে বৃষ্টি ছিল কিনা মনে নেই, তবে কেন জানি আমার মন খারাপ ছিল ভীষণ। বিক্ষিপ্ত ভাবে নেট ব্রাউজিং করছিলাম। হটাৎই একটা লিখা চোখে পড়ল। কে জানতো এই লিখাটি বদলে দিবে আমার জীবনের গতিপথ!

লেখকের মুন্সিয়ানা আছে বটে, বাস্তব ঘটনা, তথ্য উপাত্ত আর কিছু বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে আশ্চর্য এক কাহিনী ফেঁদে বসে আছেন; পর্ন আসক্তি নাকি কোকেইন বা হিরোইন আসক্তির মতোই ক্ষতিকর! এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম লিখাটি। হজম করতে সময় লাগলো কিছুটা।

পর্ন দেখলে আপনার যে ক্ষতিটা হবে কোকেইন,হিরোইন ইত্যাদি কড়া মাদক সেবনেও আপনার একই ক্ষতি হবে! শুধু তাই না পর্ন আসক্তি আপনার মস্তিষ্কের গঠণই বদলে ফেলবে!

কিন্তু কেন? আপনি কিছু খেলেন না, পান করলেন না, ঘরের এককোণে বসে বসে পর্ন দেখলেন তারপরেও কেন কোকেইন বা হিরোইন সেবনের মতো ক্ষতির শিকার হবেন আপনি?  কেন আপনার মস্তিষ্ক পরিবর্তিত হয়ে যাবে?

এই ‘কেন’র উত্তর পাবার জন্য বিজ্ঞানের কিছু কচকচানি শুনতে হবে। চেষ্টা করছি যতোটা সম্ভব সহজ ভাবে বোঝানোর।

আমাদের মস্তিষ্কের একটা অংশকে বলা হয় রিওয়ার্ড সেন্টার। এটার কাজ হল আপনাকে পুরষ্কৃত করার মাধ্যমে আনন্দের অনুভূতি দেওয়া, বেঁচে থাকার প্রেরণা দেওয়া[1,2]। সহজ বাংলায় বলি, ছোট বেলায় ফেলুদা পড়ার নেশা ছিল। বাসা থেকে বলতো পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট কর তাহলে ফেলুদার বই কিনে দেওয়া হবে। পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার পর আমাকে ফেলুদার বই কিনে  দিয়ে ভালো ফলাফলের জন্য পুরুষ্কৃত করা হল। রিওয়ার্ড সেন্টার ঠিক এই কাজটাই করে। যেসব কাজগুলো আপনার জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাবে ভালো কিছু খাওয়া,কিছু পাবার জন্য কঠোর পরিশ্রম করা সেই সব কাজগুলোর জন্য আপনাকে প্রেরণা দিবে এবং কাজ শেষ হলে পুরষ্কার প্রদান করবে।

কিন্তু রিওয়ার্ড সেন্টার কীভাবে  আমাদের পুরষ্কৃত করে? মেকানিজম টা কী?

রিওয়ার্ড সেন্টার এই পুরষ্কার দেবার জন্য ডোপামিন এবং অক্সিটোসিন নামের দুটি কেমিক্যাল রিলিজ করে। এই কেমিক্যাল গুলো পাইকারী হারে উৎপন্ন হয় যখন রিওয়ার্ড সেন্টার অনুভব করে পুরষ্কার দেওয়ার মতো কিছু ঘটেছে। এই দুইটি কেমিক্যাল উৎপন্ন হলেই খেল খতম… এরপর আকাশে বাতাসে শুধু আনন্দ আর আনন্দ। আনন্দম, আনন্দম,আনন্দম।[3]

কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো এই ‘রিওয়ার্ড সেন্টারটি’ খুব সহজেই বেহাত হয়ে যায়। [4]

 

আফিম বা কোকেন জাতীয় মাদকদ্রব্য কোন প্রকার ঝক্কি ঝামেলা ছাড়াই ‘আরামসে’ রিওয়ার্ড সেন্টারকে উত্তেজিত করে তোলে। মস্তিষ্কে ডোপামিন আর অক্সিটোসিনের জলোচ্ছ্বাস শুরু হয় পরিণতিতে কবি গুরুর ভাষায়  ‘সুখের মতো ব্যাথা’ অনুভূত হতে থাকে। [5]

পর্নও, মাদক দ্রব্যের মতো খুব সহজেই মস্তিষ্কে ডোপামিনের বন্যা বইয়ে দিয়ে এর দর্শককে ক্ষনিকের জন্য সুতীব্র আনন্দ দিতে পারে [6]। পর্নআসক্ত এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্ক স্ক্যান করে দেখা গিয়েছে তাদের মস্তিষ্কের গঠন হুবহু এক[7]।  লেকিন  পিকচার আভি বাকী হ্যায়…

ডোপামিন ব্রেইন পালসের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পুরুষ্কার পাবার নতুন রাস্তা তৈরি করে। যার ফলে এর দর্শক ঠিক আগের কাজটাতে ফিরে যায় যার কারণে প্রথমবার ডোপামিন নির্গত হয়েছিল। এই কারণেই এক বার পর্ন দেখলে বার বার দেখতে ইচ্ছে করে। [8]

দুধের দাঁত পড়তে শুরু করেছে তখন কেবল। বহু কষ্টে ব্যাট তুলে ধরতে পারি । আশেপাশে আমার মতো কয়েকজন পিচ্চিকে নিয়ে একটা দল গঠন করা হল। বল থাকলেও ব্যাট ছিলনা। কারোরই সাহস ছিলনা বাবার কাছে ব্যাটের আবদার করার। অগ্যতা একজন তার বড় ভাইয়ের হাতে পায়ে ধরে  তাল গাছের ডাল চেঁছে ব্যাট বানানোর ব্যবস্থা করল। সেই ব্যাট নিয়ে আমাদের কী যে আনন্দ!

কিছুদিন এটা দিয়ে জম্পেশ খেলা হল, কিন্তু তারপর তালের এই ব্যাট দিয়ে আর খেলতে ইচ্ছে করতোনা। ইতিমধ্যে আমরা কিছুট বড় হয়ে গিয়েছি। কাঠমিস্ত্রীদের দিয়ে নিম কাঠের সুন্দর একটা ব্যাট বানানো হল। নীলরঙা এই ব্যাট এখনো আমার চোখে ভাসে! কত  ছক্কা যে মেরেছি এই ব্যাট দিয়ে!  কিছুদিন পরে এই ব্যাট দিয়েও খেলার আগ্রহ হারিয়ে ফেললাম। চাঁদা তুলে বেশ দামী কাঠের বল খেলার ব্যাট কেনা হল।

এতো প্যাঁচাল পাড়ার একটাই উদ্দেশ্য  আপনাদের বোঝানো যে মানুষ কোন কিছু নিয়ে খুব বেশীদিন সন্তুষ্ট থাকতে পারেনা। আল্লাহ্‌ (সুবঃ) মানুষকে এভাবেই সৃষ্টি করেছেন।

পর্নআসক্তির ক্ষেত্রেও ঠিক একই ঘটনা ঘটে। ধরুন, আপনি কোন সফটকোর পর্ন দেখলেন, একটি নির্দিষ্ট মাত্রার ডোপামিন রিলিজ হল আপনি আনন্দ পেলেন। পর পর কয়েকবার পর্নমুভি দেখার পর ঠিক একই পরিমাণ ডোপামিন রিলিজ হলেও আপনি আগের মতো আর আনন্দ পাবেননা। আপনি আর এই পর্ন মুভিতে সন্তুষ্ট থাকতে পারবেননা। আপনার প্রয়োজন পড়বে নতুন কিছুর। কেন এমন হয়?

 

কারন মাত্রারিক্ত ডোপামিন রিলিজ হলে মস্তিষ্ক ডোপামিনের ব্যাপারে কম সংবেদনশীল হয়ে যায়। অতিরিক্ত ডোপামিনের প্রভাব থেকে আত্মরক্ষার জন্য মস্তিষ্ক কিছু Receptor Nerve বিসর্জন দেয় [9]। এই Receptor Nerve এর কাজ হল ডোপামিন অণু গ্রহণ করে মস্তিষ্ককে এই সিগন্যাল দেওয়া যে আমি এতো এতো পরিমাণ ডোপামিন গ্রহণ করেছি । যখন Receptor Nerve এর সংখ্যা কমে যাচ্ছে তখন ডোপামিন রিলিজ হলেও সেটা গ্রহণ করার জন্য পর্যাপ্ত Receptor Nerve থাকছে না এবং মস্তিষ্ক ধরে নিচ্ছে উপস্থিত ডোপামিনের পরিমাণ খুব কম। এ কারনেই সেই একই পর্নমুভি দেখেও আপনি আগের চেয়ে কম আনন্দ পাচ্ছেন।

পূর্বের মতো আনন্দ পাবার জন্য আপনি তখন ঝুঁকে পড়বেন  হার্ডকোর পর্ন এর দিকে।  এতে ডোপামিন রিলিজের মাত্রা বাড়বে এবং আপনি পাবেন সেই পূর্বের সুতীব্র আনন্দ। সফট কোর পর্ন দিয়ে শুরু করে ডোপামিন লেভেলের সঙ্গে পাল্লা দেবার জন্য আপনি ধীরে ধীরে গে পর্ন, লেসবিয়ান পর্ন,চাইল্ড পর্ন এর মতো জঘন্য ক্যাটাগরির পর্ন দেখা শুরু করবেন।[10]

মাদকাসক্তদের ক্ষেত্রেও কিন্তু ঠিক এমনটাই ঘটে। সিগারেট থেকে যে মাদকাসক্তির সূচনা হয় তার শেষ হয় কোকেইন , হিরোইন দিয়ে।[11,12]

আমাদের মস্তিষ্কের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ হচ্ছে ফ্রন্টাল লোব। এই বাবাজির কাজ কী?

ল্যাবের করিডোর দিয়ে কোণ রূপবতী হেঁটে গেলে আপনার দুচোখে যে স্বপ্নের আবীর নামে তার জন্য দায়ী এই ফ্রন্টাল লোব। আমাদের ভাব প্রকাশের মাধ্যম মানে ভাষা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের পারদর্শিতা, সর্বোপরি আমাদের ব্যক্তিত্ব নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই ফ্রন্টাল লোব। [13]

মাদকাসক্তি,অতিরিক্ত খাওয়াদাওয়া,ইন্টারনেট আসক্তি,পর্ন এই ফ্রন্টাল লোবের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে। [14] ভয়ংকর ব্যাপার হলো- একজন মানুষ যতোবেশী পর্ণ দেখে, ঠিক ততোবেশী তার মস্তিষ্কের ক্ষতি  সাধিত হয়ে থাকে, এবং ক্ষতি থেকে রিকভার করাটাও কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়।[15]

আশাকরি বোঝা গিয়েছে আপাত দৃষ্টিতে নিরীহ মনে হলেও পর্নমুভি  মুভি কী বিশাল ক্ষতি করে আপনার মস্তিষ্কের।

রেফারেন্সঃ

[1]  Hilton, D. L., and Watts, C. (2011). Pornography Addiction: A Neuroscience Perspective. Surgical Neurology International, 2: 19; (http://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3050060/) Bostwick, J. M. and Bucci, J. E. (2008). Internet Sex Addiction Treated with Naltrexone. Mayo Clinic Proceedings 83, 2: 226–230; Nestler, E. J. (2005). Is There a Common Molecular Pathway for Addiction? Nature Neuroscience 9, 11: 1445–1449; Leshner, A. (1997). Addiction Is a Brain Disease and It Matters. Science 278: 45–7.

[2] Bostwick, J. M. and Bucci, J. E. (2008). Internet Sex Addiction Treated with Naltrexone. Mayo Clinic Proceedings 83, 2: 226–230; Balfour, M. E., Yu, L., and Coolen, L. M. (2004). Sexual Behavior and Sex-Associated Environmental Cues Activate the Mesolimbic System in Male Rats. Neuropsychopharmacology 29, 4:718–730; Leshner, A. (1997). Addiction Is a Brain Disease and It Matters. Science 278: 45–7.

[3]  Hedges, V. L., Chakravarty, S., Nestler, E. J., and Meisel, R. L. (2009). DeltaFosB Overexpression in the Nucleus Accumbens Enhances Sexual Reward in Female Syrian Hamsters. Genes Brain and Behavior 8, 4: 442–449; Bostwick, J. M. and Bucci, J. E. (2008). Internet Sex Addiction Treated with Naltrexone. Mayo Clinic Proceedings 83, 2: 226–230; Doidge, N. (2007). The Brain That Changes Itself. New York: Penguin Books, 108; Mick, T. M. and Hollander, E. (2006). Impulsive-Compulsive Sexual Behavior. CNS Spectrums, 11(12):944-955; Nestler, E. J. (2005). Is There a Common Molecular Pathway for Addiction? Nature Neuroscience 9, 11: 1445–1449; Leshner, A. (1997). Addiction Is a Brain Disease and It Matters. Science 278: 45–7.

 

[4] Doidge, N. (2007). The Brain That Changes Itself. New York: Penguin Books, 106;
Kauer, J. A., and Malenka, J. C. (2007). Synaptic Plasticity and Addiction. Nature Reviews Neuroscience 8: 844–858; Mick, T. M. and Hollander, E. (2006). Impulsive-Compulsive Sexual Behavior. CNS Spectrums, 11(12):944-955; Nestler, E. J. (2005). Is There a Common Molecular Pathway for Addiction? Nature Neuroscience 9, 11: 1445–1449; Leshner, A. (1997). Addiction Is a Brain Disease and It Matters. Science 278: 45–7.

[5] Doidge, N. (2007). The Brain That Changes Itself. New York: Penguin Books, 106; Nestler, E. J. (2005). Is There a Common Molecular Pathway for Addiction? Nature Neuroscience 9, 11: 1445–1449.

[6] Doidge, N. (2007). The Brain That Changes Itself. New York: Penguin Books, 106;
Nestler, E. J. (2005). Is There a Common Molecular Pathway for Addiction? Nature Neuroscience 9, 11: 1445–1449.

[7] https://www.youtube.com/watch?v=OtQBxsf1st8

[8] Hilton, D. L. (2013). Pornography Addiction—A Supranormal Stimulus Considered in the Context of Neuroplasticity. Socioaffective Neuroscience & Psychology 3:20767; Pitchers, K. K., Vialou, V., Nestler, E. J., Laviolette, S. R., Lehman, M. N., and Coolen, L. M. (2013). Natural and Drug Rewards Act on Common Neural Plasticity Mechanisms with DeltaFosB as a Key Mediator. Journal of Neuroscience 33, 8: 3434-3442; Hedges, V. L., Chakravarty, S., Nestler, E. J., and Meisel, R. L. (2009). DeltaFosB Overexpression in the Nucleus Accumbens Enhances Sexual Reward in Female Syrian Hamsters. Genes Brain and Behavior 8, 4: 442–449; Hilton, D. L., and Watts, C. (2011). Pornography Addiction: A Neuroscience Perspective. Surgical Neurology International, 2: 19; (http://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3050060/)
Miner, M. H., Raymond, N., Mueller, B. A., Lloyd, M., Lim, K. O. (2009). Preliminary Investigation of the Impulsive and Neuroanatomical Characteristics of Compulsive Sexual Behavior. Psychiatry Research 174: 146–51; Angres, D. H. and Bettinardi-Angres, K. (2008). The Disease of Addiction: Origins, Treatment, and Recovery. Disease-a-Month 54: 696–721; Doidge, N. (2007). The Brain That Changes Itself. New York: Penguin Books, 107

[9] Hilton, D. L., and Watts, C. (2011). Pornography Addiction: A Neuroscience Perspective. Surgical Neurology International, 2: 19; (http://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3050060/) Angres, D. H. and Bettinardi-Angres, K. (2008). The Disease of Addiction: Origins, Treatment, and Recovery. Disease-a-Month 54: 696–721.

[10] Angres, D. H. and Bettinardi-Angres, K. (2008). The Disease of Addiction: Origins, Treatment, and Recovery. Disease-a-Month 54: 696–721; Zillmann, D. (2000). Influence of Unrestrained Access to Erotica on Adolescents’ and Young Adults’ Dispositions Toward Sexuality. Journal of Adolescent Health 27, 2: 41–44.

[11] http://fightthenewdrug.org/how-porn-affects-the-brain-like-a-drug/#sthash.ROBODp8y.dpbs

[12] https://www.yourbrainonporn.com/brain-scan-studies-porn-users

[13] https://www.healthline.com/human-body-maps/frontal-lobe/male

[14] Yuan, K., Quin, W., Lui, Y., and Tian, J. (2011). Internet Addiction: Neuroimaging Findings. Communicative & Integrative Biology 4, 6: 637–639; Zhou, Y., Lin, F., Du, Y., Qin, L., Zhao, Z., Xu, J., et al. (2011). Gray Matter Abnormalities in Internet Addiction: A Voxel-Based Morphometry Study. European Journal of Radiology 79, 1: 92–95; Miner, M. H., Raymond, N., Mueller, B. A., Lloyd, M., Lim, K. O. (2009). Preliminary Investigation of the Impulsive and Neuroanatomical Characteristics of Compulsive Sexual Behavior. Psychiatry Research 174: 146–51; Schiffer, B., Peschel, T., Paul, T., Gizewshi, E., Forshing, M., Leygraf, N., et al. (2007). Structural Brain Abnormalities in the Frontostriatal System and Cerebellum in Pedophilia. Journal of Psychiatric Research 41, 9: 754–762; Pannacciulli, N., Del Parigi, A., Chen, K., Le, D. S. N. T., Reiman, R. M., and Tataranni, P. A. (2006). Brain Abnormalities in Human Obesity: A Voxel-Based Morphometry Study. NeuroImage 31, 4: 1419–1425.

[15] Angres, D. H. and Bettinardi-Angres, K. (2008). The Disease of Addiction: Origins, Treatment, and Recovery. Disease-a-Month 54: 696–721.

শেয়ার করুনঃ
একটি নির্দয় পৃথিবী

একটি নির্দয় পৃথিবী

পর্নোগ্রাফি গত দুই দশক থেকেই জনসাধারণের বেডরুম, ড্রয়িংরুমে পৌঁছাতে শুরু করে স্যাটেলাইট চ্যানেল আর ভিসিআর এর মাধ্যমে । এবং এখনকার সময়টাতে ইন্টারনেটের বদৌলতে  একেবারেই সহজলভ্য হয়ে উঠেছে । কেবল দুই তিনটা ক্লিকের ব্যাপার । তারপরেই পর্ন এর বিশাল ভান্ডার ।

আতঙ্কিত হবার বিষয় হল,পর্নোগ্রাফির বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বা তার চেয়েও কয়েকগুণ দ্রুত গতিতে বেড়েছে শারীরিক নির্যাতন এবং ধর্ষণ , মাত্রাতিরিক্ত ভায়োলেন্স, জঘন্য পদ্ধতিতে  নারীদের নির্যাতন করার ঘটনা । সেই সাথে বেড়েছে ‘কামের’ দৌরাত্ম। টেলিভিশানের বিজ্ঞাপন,স্পোর্টস ম্যাগাজিন,কর্পোরেট অফিস ভার্সিটির ক্যাম্পাস কোথায় আজ ‘কামের’ কেনাবেচা চলে না ?

আবির্ভাবের সময় থেকেই  পর্নোগ্রাফি,বিকৃত কাম এবং বিকৃত পৌরষত্বের   মাখামাখি সম্পর্ক । তবে পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে এবং প্রভাবে  বর্তমানে মহিলাদের  যৌন হয়রানি এমনকি মারধোর করে বিকৃত পৌরষত্বের প্রকাশটা বেশ চোখে লাগার মত ।

সত্যি কথা বলতে কি , পর্নোগ্রাফি আমাদের এই হৃদয়হীন কর্পোরেট সমাজের নিষ্ঠুরতাকেই ফুটিয়ে তোলে । আমাদের সমাজটা কি হৃদয়হীন হয়ে যাই নি? আমরা কি অমানুষ হয়ে যাই নি ?  আমরা তো সেই সমাজে বাস করি, যাদের  আমেরিকা এবং তার ইয়ার দোস্তদের বাণিজ্যিক অবরোধের কারণে গাজায় হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হলেও কিছু যায় আসে না ।  ইরাকে পাঁচ লাখ শিশু না খেতে পেয়ে কুকুর বিড়ালের মতো  মৃত্যুবরন করলেই বা আমদের কি?  আফগানিস্তান, পাকিস্তানে ড্রোন হামলায় শত শত নাবিলার সংসার তছনছ হচ্ছে তো কি হয়েছে আমাদের তো কিছুই হয়নি ?

চৌদ্দ বছরের ইরাকী বালিকা আবীর-আল-জানবিকে গনধর্ষণ করে , তার পরিবারের সকল সদস্যকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করে মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেললেও আমাদের প্রতিবাদ করা তো দূরে থাক, এগুলো শুনতেও ইচ্ছা করে না ।

পর্নোগ্রাফির ভায়োলেন্স, নিষ্ঠুরতা , নারীদের সম্মানহানি করা আমাদের এই ঘুনে ধরা, ভোগবাদী স্বার্থপর সমাজেরই প্রতিচ্ছবি ।

আবু গারিব  কারাগারের আমেরিকান সৈন্যদের হাতে নির্যাতিত মুসলিম বন্দীদের যে কয়েকটা ছবি লিকড হয়েছে সেগুলো পর্ন এর চাইতেও জঘন্য । একটা ছবিতে দেখা যাচ্ছে এক আমেরিকান মহিলা সৈনিক এক উলঙ্গ পুরুষের গলায় দড়ি বেঁধে গরু ছাগলের মত টানছে ।

আর একটা ছবি শিকলে বাঁধা নগ্ন বন্দীর  ।

মুসলিম বন্দীদেরকে নগ্ন করে, মেঝেতে একজনের ওপর আর একজনকে সাজিয়ে মানুষের পিরামিড তৈরি করা হয়েছে এমন ছবিও ছিল  ।

এবং এরকম আরো শত শত ক্লাসিফাইড ছবি আছে, যেগুলোর নাগাল হয়তো সাধারণ মানুষ কখনো পাবে না । কয়েকজন কংগ্রেসম্যান এরকম কিছু ক্লাসিফাইড ছবি দেখেছেন । ইরাকী মুসলিম বন্দীদের  জোরপূর্বক মাস্টারবেট করতে বাধ্য করানোর ছবি, যৌন মিলনের অভিনয়ে বাধ্য করানোর ছবি । কারাগারের গার্ডদের যৌন মিলনের  ছবি ।

পর্ন, পেশাদার রেসলিং, টেলিভিশানের রিয়েলিটি শো, মিউজিক ভিডিও এবং কর্পোরেট কালচারের  অন্তসারশূন্যতা এবং ভয়াবহতা এই লিকড ছবিগুলো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় । এটা এমন একটি কালচার যা আপনার উপর আধিপত্য বিস্তার করে আপনাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করবে, আপনাকে মানসিক দাসত্বের শিকল পড়িয়ে দিবে এবং সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হল এটা আপনি কখনোই অনুধাবন করতে পারবেন না যে আপনি নিজেকে পুরোপুরি স্বাধীন একজন মানুষ হিসেবে দাবি করলেও আপনি যেদিন থেকে পর্ন এর খপ্পরে পড়েছেন সেদিনই আপনার স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলেছেন । আপনি আসলে একজন দাস  । এটি এমন একটি পৃথিবী যেখানে নৈতিকতা এবং দয়ার কোন স্থান নেই । এটি এমন একটি পৃথিবী যেখানে ভালবাসা আর কামের নামে  নারীদেরকে বাণিজ্যিক পন্যের মতো কেনাবেচা করা হয় । মানুষকে শেখায় শুধুমাত্র ভোগবাদী চোখদিয়ে আর একজনকে বিচার করতে  ।

পর্নমুভি আমাদের সমাজে এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে যে এটা আর কারো চোখে লাগে না ।  যৌন হয়রানি, নির্যাতন, ধর্ষণ, শারীরিক এবং মানসিক টর্চার এইগুলোও মোটামুটি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে গেছে । সামাজিক লজ্জা বা সামাজিক এবং রাষ্টীয় দায়বদ্ধতা এই ব্যাপারগুলো হারিয়ে গেছে ।

বিল মারগোল্ড নামক একজন পর্ন মুভির অভিনেতা এবং প্রডিউসার  একবার খুব আক্ষেপ করে বলেছিলেন , “  আমি খুব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি , এই জঘন্য ইন্ডাস্ট্রিতে আমার কাজটাই হল নারীদের জঘন্য পদ্ধতিতে নির্যাতনের মাধ্যমে   কিছু বিকৃত মানসিকতার (স্যাডিস্ট) পুরুষদের বিকৃত বাসনা চরিতার্থ করা । আমি ভেতরের গোমর ফাঁস করে দিয়েছি বলে   এই ইন্ডাস্ট্রি আমাকে ঘৃণা করে , কিন্তু আমি কাউকে পরোয়া করি না । আমরা সেটে এবং স্ক্রীনে মহিলাদের ধরে পেটাই, তাদের যাচ্ছেতাই ভাষায় গালি গালাজ করি , তাদের উপর চরমভাবে নির্যাতন চালানো হয় । আশ্চর্যের ব্যাপার হল , আমি শুনেছি আমার  এই অমানবিক কাজ গুলো পর্দায় দেখে  পর্ন মুভির  দর্শকেরা চিৎকার করে, সিটি বাজিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে । আমি যখন কোন মহিলার গলা টিপে ধরি বা  তাদের সঙ্গে কুকুরের মত আচরণ করি তখন দর্শকেরা হাততালি দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে ।

এত কিছুর পর নারীদেরকে পর্নমুভিতে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় , যেন তারা এটা খুব উপভোগ করছে । তাদের মুখ দিয়ে এমন এমন ডায়ালগ দেওয়ানো হয় যা একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানসিকতার কেউ কখনোই বলতে চাইবে না ।

এটি একটি নির্দয় পৃথিবী ।

(“Empire of Illusion: The End of Literacy and the Triumph of Spectacle”

by Pulitzer Prize winning author Chris Hedges

এই বইয়ের একটি অনুচ্ছেদের আলোকে রচিত,  ঈষৎ সংক্ষেপিত এবং পরিমার্জিত)

শেয়ার করুনঃ
পর্নোগ্রাফি যেভাবে জীবন  ধ্বংস করেঃ পামেলা পলের সাক্ষাৎকার

পর্নোগ্রাফি যেভাবে জীবন ধ্বংস করেঃ পামেলা পলের সাক্ষাৎকার

পামেলা পল একজন আমেরিকান লেখিকা । পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে তাঁর কন্ঠস্বর বরাবরই সোচ্চার । তিনি পর্নোগ্রাফির ভয়াবহতা সম্পর্কে pornfield  নামে একটি বই লিখেন । এই বই সম্পর্কে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত সুন্দর ভাবে  পর্নোগ্রাফির ভয়াবহ দিক সম্পর্কে আলোচনা করেন । আমাদের পাঠকদের জন্য  সেই সাক্ষাৎকারের কিছু চুম্বকাংশ অনুবাদ করা হল

প্রশ্নঃ আমেরিকান সমাজে পর্নোগ্রাফির প্রসারে কোন বিষয়টা আপনাকে সবচেয়ে বেশী বিস্মিত করেছে?

পামেলা পলঃ  সত্যি কথা বলতে কি এই বইটা লিখার পূর্বে আমি কখনোই মনে করিনি পর্নোগ্রাফি এরকম ভয়াবহ একটা ইস্যু । আমি জানতাম আমেরিকাতে পর্নোগ্রাফির প্রচুর ভোক্তা আছে , কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম পর্নোগ্রাফি এমন কোন বিষয় না যে এটা কারো জীবন শেষ করে দিতে পারে । আমার মনে যে প্রশ্নটা জেগেছিল সেটা হচ্ছে ,” এইযে আমাদের সমাজে (আমেরিকান সমাজে) যে বিপুল পরিমাণ পর্নোগ্রাফি দেখা হয় সেটার কোন ইফেক্ট আছে কিনা?

কাজেই   গবেষণা করা শুরু করলাম । কেঁচো খুড়তে যেয়ে সাপ বেরিয়ে এল । আমি এমন কতগুলো লোকের সন্ধাণ পেলাম যাদের জীবন পর্নোগ্রাফি সম্পূর্ণরূপে  ধ্বংস করে দিয়েছে । এমনকি এমন কিছু লোকের সন্ধান পেলাম যারা পর্নোগ্রাফিতে পুরোপুরি আসক্ত না , কিন্তু এই পর্নোগ্রাফির প্রভাবে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে , চাকুরী হারিয়ে ফেলেছে । এইসব লোকেরা  মাঝে মাঝে অনুধাবন করতে পারে যে তারা আসলে পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত । কিন্তু তারা যে বিষয়টা কখনোই উপলব্ধি করতে পারেনা যে এটার পরিনাম কি ।

প্রশ্নঃ কোন স্পেসিফিক উদাহরণ দিতে পারেন ?

পামেলা পলঃ  একজন মহিলার সঙ্গে আমার প্রায় আধা ঘন্টার উপর ফোনালাপ হয়ে ছিল । উনি আমাকে বললেন, ‘আমি একসময় প্রচুর পর্ন মুভি দেখতাম । আমি এটাকে নিছক বিনোদন মনে করতাম । আমার হাসব্যান্ডও পর্নে আসক্ত ছিল । কিন্তু আমাদের দাম্পত্য জীবন ছিল খুবই হতাশাজনক । আমরা খুবই অসুখী ছিলাম”।

এই ভদ্র মহিলা পর্নোগ্রাফির বাহ্যিক জৌলুশে মুগ্ধ ছিল , কিন্তু যখন সে ব্যাপারটা খতিয়ে দেখলো তখন তার মোহ কেটে যেতে সময় লাগলোনা ।

আপনার আসল  প্রশ্নে ফিরে আসি । আপনি কয়টা উদাহরণ চান ? আমি যাদের সঙ্গে কথা বলেছি তারা সবাই পর্নোগ্রাফির ভয়াবহ পরিনতির শিকার ।

আমি প্রচন্ড বিস্মিত হয়েছি, যখন  লোকজন আমাকে বলতে শুরু করল যে পর্নোগ্রাফি তাদেরকে ব্যাপক বিনোদনের জোগান দেয় । কিন্তু একই সঙ্গে তারা  এটাও বললো  তাদের যৌন জীবনে তারা প্রচুর সমস্যার সম্মুখীন । তারা তাদের ইরেকশান নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা, তাদের স্ত্রীরা তাদের নিয়ে ভয়াবহ অসুখী এবং তারা স্বাভাবিক যৌনকর্মে তাদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে । পর্নোগ্রাফি এইসব হতভাগা লোকদের এমনভাবে প্রোগ্রামড করে ফেলেছে যে অনলাইনে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে পর্ন মুভি দেখাতেই তারা আনন্দ পায় ।

প্রশ্নঃ  আপনি আপনার বইয়ের এক যায়গায় বলেছেন   অনেকেই পর্ন সিরিয়াসলি নেয় না । হালকা ভাবে নেয় , মজা মনে করে।   কিন্তু আপনার বইয়ে কিছু লোকের কথা উল্লেখ করেছেন   যারা এটা খুব সিরিয়াস বিষয় হিসেবে নেই । তো ,হঠাত হঠাত পর্নমুভি দেখা এই  মানুষগুলো কিভাবে পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়ছে?

পামেলা পলঃ  পর্নোগ্রাফি  কিভাবে মানুষের উপর প্রভাব ফেলে এটা নিয়ে আমি পুরো একটা চ্যাপ্টার লিখেছি আমার বইতে । আমার বইয়ে এ ব্যাপারে  বিস্তারিত আলোচনা আছে । প্রথমত পর্নোগ্রাফি মানুষের সুকুমার বৃত্তিগুলো ধ্বংস করতে থাকে । একবার পর্ন মুভি দেখলে তার মধ্যে বার বার এটা করার প্রবনতা জাগে ।  সফট পর্ন  দেখা একজন লোক কিছুদিনের মধ্যেই এটাতে আর কোন আগ্রহ খুঁজে খুঁজে পায় না । সে নতুন কিছু চায় । আরো বেশি   আগ্রাসন , আরো বেশি খোলামেলা । এভাবে কয়েক ধাপ পেরিয়ে  সে একসময় নিজেকে আবিষ্কার করে হার্ডকোর পর্ন মুভি, চাইল্ড পর্ন দেখা অবস্থায় ।

আশঙ্কার কথা হল , যারা মাঝে মাঝে  পর্ন মুভি দেখে তাদের মধ্যেও   ঠিক  একই  উপসর্গ দেখা যায় (একটু কম মাত্রার) যেগুলো পাওয়া যায় পর্নোগ্রাফিতে আসক্তেদের মধ্যে ।

প্রশ্নঃ কোন নির্দিষ্ট বয়সের বা নির্দিষ্ট শ্রেণীর মানুষেরাই কি শুধু পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয় ?

পামেলা পলঃ একসময় আমি বিশ্বাস করতাম পর্নোগ্রাফিতে  শুধু তারাই আসক্ত হয় যারা অশিক্ষিত,

অসচেতন । এটা শুধুমাত্র অবিবাহিত মানুষদের জন্যই । আমি ভাবতাম , প্রায়  প্রত্যেক টিন এজারদের  এমন একটা সময় পার করতে হয় , যে সময় তারা প্রচুর পরিমাণ পর্ন মুভি দেখে । পর্নের ব্যাপ্তিটা অনেক ছোট ।  কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের সমাজের প্রায় সকল বয়সের এবং সকল শ্রেণীর মানুষ পর্নোগ্রাফিতে  আসক্ত হয়ে পড়ছে । টিন এজার বলুন, মধ্যবয়স্কদের কথা বলুন, বৃদ্ধদের কথা বলুন  । সবাই পর্ন মুভি দেখে ।

আমি এমন অনেক উচ্চশিক্ষিত ইউনিভার্সিটি গ্র্যাজুয়েটেড লোকের কথা জানি , অনেক বিবাহিত, অবিবাহিত , বাগদান করা , ছোট ছোট বাচ্চা কাচ্চা আছে এমন লোকের কথা জানি যারা নিয়মিত পর্ন মুভি দেখেন ।  পর্নোগ্রাফি মানুষের বেডরুম , ড্রয়িং রুম থেকে শুরু করে স্কুল কলেজের ক্লাস রুমে , অফিস আদালতে, চার্চে সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে । অনেক মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি যারা নিজেদেরকে নিবেদিত প্রাণ  খৃষ্টান মনে করেন, তারা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ।  পর্নোগ্রাফি চার্চেও পৌঁছে গেছে । অনেক  সন্যাসীও এতে ভয়াবহ রকমের আসক্ত ।

প্রশ্নঃ আপনার বই এবং আপনার কথা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, ধার্মিক মানুষদের মধ্যে পর্ন মুভি দেখার প্রবনতাটা বেশ বেশি ! কিন্তু ব্যাপারটা একটু খাপছাড়া  হয়ে গেল না ?

পামেলা পলঃ   আসলে ধার্মিক  মানুষেরা এই ব্যাপারটাতে অনেক সৎ । তাদেরকে এই ব্যাপারে কোন প্রশ্ন করা হলে তারা প্রায় কোন কিছুই লুকোছাপা না করে সত্য কথাটা বলে দেন ।  সেকুল্যারদের মধ্যে এই জিনিসটার বেশ অভাব ।

বিভিন্ন পরিসংখ্যান করার সময় যখন ধার্মিক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসা করা হয় আপনি পর্নোগ্রাফি নিয়ে ভোগান্তিতে আছেন কিনা? তখন তারা সত্য কথাটাই বলে দেন । একটা বিষয় এখানে মাথায় রাখবেন , পর্নোগ্রাফি নিয়ে ভোগান্তিতে থাকা মানেই এটা নয় যে তারা নিয়মিত পর্ন মুভি দেখেন । এর মানে এটাও যে তারা পর্নোগ্রাফি থেকে দূরে সরে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন এবং একারনেই  এটা নিয়ে বেশ  ভোগান্তিতে আছেন ।

আমি যেটা মনে করি সেকুল্যারদের চেয়ে ধার্মিক লোকেরাই এই ব্যাপারটা নিয়ে বেশি সচেতন এবং এটার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে বেশি তৎপর ।

প্রশ্নঃ   পর্নোগ্রাফির সমস্যাটা দূর করার জন্য সেকুল্যাররা  ধার্মিক লোকদের থেকে কি  শিক্ষা নিতে পারে ?

পামেলা পলঃ  সেকুল্যারদের  ধর্মভিত্তিক কমিউনিটিদের মত পর্নোগ্রাফির নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করতে হবে । আমরা সবাই বলি, অমুক সমাজের এত শতাংশ লোক পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত, এত শতাংশ লোক পর্নোগ্রাফির কারণে ভয়াবহ জীবন কাটাচ্ছে , কিন্তু সত্যিকারঅর্থেই পর্নোগ্রাফিকে ভয়াবহ একটি বিষয় হিসেবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করার কাজ খুব একটা  হয়নি । আমরা কয়জনের সঙ্গে পর্নোগ্রাফির নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি ? এই ব্যাপারটাতে ধর্ম ভিত্তিকি কমিউনিটি গুলো অনেক অনেক এগিয়ে আছে । তারা অনেক আগেই পর্নোগ্রাফিকে একটা সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে । এবং এটার বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করে চলেছে । পর্নোগ্রাফির  বিরুদ্ধে  তাদের এই   ক্যাম্পেইন অনেক আগেই শুরু হয়েছে ।

প্রশ্নঃ  তো একজন মানুষ কখন বুঝতে পারবেন যে তিনি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়েছেন?

পামেলা পলঃ  দেখেন, এই  বিষয়টা এক একজনের   ক্ষেত্রে এক একরকম হয় । ­­­­ খুব কম সংখ্যক  লোক  দ্রুত ব্যাপারটা ধরতে পারে । বেশীরভাগ লোক বছরের পর বছর ধরে পর্নমুভি

দেখে যায় কিন্তু বুঝতেই পারে না তারা এতে ভয়াবহ রকমের আসক্ত হয়ে পড়েছে । এবং মজার ব্যাপার হল, তারা কখনো স্বীকার করতে চায়না যে তারা  পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ।

আমি প্রায় ২ ডজন লোকের সঙ্গে কথা বলেছি যারা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ।  তাদের যখন জিজ্ঞাসা করলাম আপনারা কতদিন ধরে পর্নমুভি দেখেন , তারা সবাই উত্তর দিতে লুকোছাপার আশ্রয় নিলেন । সবাই কিছুটা  সময় কমিয়ে উত্তর দিলেন  । একজনতো আমাকে বলেই বসলেন (যিনি প্রায় কয়েক বছর ধরে  প্রত্যেকদিন গভীর রাত পর্যন্ত পর্ন মুভিতে বুঁদ হয়ে থাকেন) আমি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত না !

 

তো কখন  বুঝবেন আপনি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ? কয়েকটা বেসিক রুল  বলি

মনে করুন, কেউ একজন সফটপর্ন দেখা শুরু করল । কিছুদিন পর সে যদি  নিজেকে  আবিষ্কার করে  চাইল্ড পর্ন বা গে পর্ন দেখা অবস্থায় তাহলে বুঝতে হবে  বিপদঘন্টা বেজে গেছে , ঐ লোক পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়েছে ।

আর একটা রুল বলি , এটাকে অবশ্য জেনারালাইজড করলে হবে না , এটা কিছু কিছু মানুষের জন্য । অনেক লোক আছে পর্ন মুভি দেখা শুরু করার কিছু দিন পর  পতিতালয়ে যেতে শুরু করে । কেউ কেউ অনলাইনে পতিতাদের  সঙ্গে চ্যাট করে । তাইলেই তো এই দুইটা রুল দিয়েই মোটামুটি বুঝতে পারবেন একজন মানুষ পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত কিনা ।

প্রশ্নঃ আপনি কি বিশ্বাস করেন আপনার বই পর্নোগ্রাফির  বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করবে?

পামেলা পলঃ আসলে মানুষের জানা দরকার পর্নোগ্রাফি শুধু নিছক বিনোদন নয় । এর সঙ্গে ভয়াবহ ক্ষতি

জড়িত  রয়েছে । মানুষজনের এমন লোকদের কথা গ্রহণ করা উচিত যারা একসময় পর্নে আসক্ত ছিল বা এটা নিয়ে পড়াশোনা করেছে ।  এমন একসময় ছিল যখন  চিকিৎসকরা রোগীদের প্রেস্ক্রাইব করত ধূমপান করার জন্য এবং মুভিতে সিগারেটকে বেশ হাইলাইট করে দেখানো হত । সময়টা ছিল এমন যে ‘পুরুষ’ হতে হলে আপনাকে ধূমপান করতেই হবে । কিন্তু যখন সবাই ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো জানতে পারলো, তখন থেকে ধূমপানের মাত্রা কমে যেতে থাকলো ।  এবং বর্তমানে এটাকে নেতিবাচক দিক হিসেবেই মেইনস্ট্রীম মিডিয়ায় উপস্থাপন করা হয় । আমি বলব পর্নোগ্রাফির ব্যাপারটাও সিগারেটের মতো । আমরা এটা নিয়ে যতবেশি  আলোচনা করব, এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানবো ,এটার বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে ততোবেশি সচেতনতা  সৃষ্টি হবে ।

(ঈষৎ সংক্ষেপিত এবং পরিমার্জিত)

রেফারেন্সঃ

http://www.beliefnet.com/news/2005/10/how-porn-destroys-lives.aspx

শেয়ার করুনঃ