বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম । সেই পুরনো  অনুভূতিটা আবার ফিরে আসলো; যেই অনুভূতিটা একসময় আমার জীবনকে বিষিয়ে তুলেছিল। সকালে ফেসবুকে লগইন করার পর দেখলাম একটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এসেছে । মানুষটা ফেসবুকে কেমন তা দেখার জন্য তাঁর টাইমলাইনে গেলাম । প্রথমেই একটা ছবি পড়লো সামনে । সেটা দেখে আমার ভীমড়ি খাবার জোগাড় । পালিয়ে বাঁচার জন্য স্ক্রল করে নীচে নামলাম । ওরে বাপরে! চাঁদু তো দেখি পুরো টাইম লাইন জুড়েই পর্নস্টারদের মেলা বসিয়েছে । তাড়াতাড়ি বের হয়ে আসলাম ফেসবুক থেকে । অনেক বছর ধরেই আমি পর্নমুভিতে আসক্ত ছিলাম । অনেক চেষ্টার পরে সে আসক্তি কাটিয়ে উঠতে পেরেছি । আলহামদুলিল্লাহ । তারপর অনেক দিন চলে গেছে । পর্নমুভি দেখিনি একবারও। এরকম গ্রাফিক ছবিও না । হার্টবিট কিছুটা বেড়ে গেল । ভেতরে হরমোনের জোয়ার শুরু হল । বিস্মৃতির অতল থেকে বহুদিন আগে দেখা পর্নমুভির টুকরো টুকরো দৃশ্যগুলো মাথার মধ্যে ঘুরতে শুরু করল । আমি বেশ আতঙ্কিত হয়ে গেলাম । আমি জানি এর পর কি ঘটতে চলেছে । আমি যখন পর্ন আসক্ত ছিলাম তখন মাঝে মাঝেই  কসম টসম খেয়ে প্রতিজ্ঞা করতাম, ‘আল্লাহ! এবারই শেষ । আমি আর  কখনোই পর্ন দেখবনা” । প্রতিজ্ঞার উপর টিকে থাকতাম কয়েকদিন । তারপর আবার যেই কে সেই । যে কয়েকটা দিন ভালো থাকতাম সেই কয়েকটা দিন মাথার মধ্যে  কিছুক্ষণ পরপরই পর্নমুভিতে দেখা কোন দৃশ্য ঘাই মারতো । এমনকি নামাযের মধ্যেও । নিজেকে সামলাতে কষ্ট হতো । ঐগুলো নিয়ে চিন্তা করতাম । তারপর  একটু দুর্বল মুহূর্তে এই পর্ন ইমেজ গুলোর কাছে হার মানতাম । আবার দেখে ফেলতাম পর্ন । মাস্টারবেট করতাম । পর্ন আসক্তির শেষের দিকে যখন দৃশ্যগুলো মাথায় উঁকি মারতো তখন সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতাম । তো আজকে যখন সেই পুরনো অনুভূতি ফিরে আসলো তখন হুট করেই মাথাতে একটা চিন্তা আসলো । আচ্ছা পর্নমুভির ঐ মেয়েগুলোর হেদায়েতের জন্য আল্লাহর কাছে দুয়া করলে কেমন হয়! সঙ্গে সঙ্গে দু’আ করলাম – -      আল্লাহ তুমি ঐ মেয়েগুলোকে হেদায়াত দাও । একান্ত তোমার কাছ থেকে অনুগ্রহ দান করো -      আল্লাহ তুমি ওই মেয়েগুলোকে ওই নরক থেকে উদ্ধার করো । তাদের হৃদয়ের ক্ষতগুলো সারিয়ে দাও । -      আল্লাহ ওই মেয়েদের জন্য তুমি অভিভাবক নির্ধারণ করে দাও পরের একসপ্তাহ ধরে ফেসবুকে দেখা সেই মেয়েটার ছবি আমার মাথাতে ঘুরতে থাকলো । আমার ভেতরে একটা চাপ তৈরি হতে থাকলো পর্নমুভি দেখার । প্রত্যেকবারই আমি আল্লাহর কাছে ঐ মেয়েটার হেদায়াতের জন্য দু’আ করতে থাকলাম । একটা সময়ে আমার ফোকাস পরিবর্তন হয়ে গেল। ঐ মেয়েটার কথা আর মাথাতেই আসলো না ।   একসময় আমি জানতামই  না পর্নইন্ডাস্ট্রি গুলোতে মেয়েদের ওপর কি জঘন্য নির্যাতন[১,২,৩] চালানো হয় ।ঐগুলো জানার পরে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম ।   আমাদের বিকৃত লালসা চরিতার্থ করার জন্য কত মেয়ের যে জীবন নষ্ট হয় ! আমরা যেমন আটকা পড়েছি পর্ন এর নেশায় , ঐ মেয়েগুলোও তেমনি পর্ন ইন্ডাস্ট্রীর ফাঁদে পড়েছে । পাশ্চাত্য নারীদের স্বাধীনতা নিয়ে অনেক বড় বড় কথা বলে । অথচ এই পাশ্চাত্য আর তাদের পা চাটা  দেশগুলোতেই বড় বড় সব পর্ন ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে,  যেখানে নারীদেরকে স্লেইভ বানিয়ে রাখা হয়েছে । এটা নিয়ে পাশ্চাত্যের তেমন কোন মাথা ব্যাথা নেই । তাদের সব চিন্তা কেবল মুসলিম দেশের নারীদের বোরখা আর হিজাব খোলা নিয়ে । যেন বোরখা না পড়লে, হিজাব না করলেই নারীরা স্বাধীন হয়ে যাবে ![৪,৫] ভাই, আপনারো কি পর্ন ইমেজ থেকে মুক্তি মিলছে না ? বারবার চেষ্টা করেও ভুলতে  পারছেন না পর্নমুভিতে দেখা দৃশ্য গুলো ? অস্থির একটা সময় পার করছেন ?  পর্ন দেখার প্রচন্ড ইচ্ছে জাগছে আপনার মনে ? এরকম সময়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে আপনার জন্য আমার সাজেশান হল,  যখনই কোন দৃশ্য আপনার মাথায় আসবে সঙ্গে সঙ্গে সেই দৃশ্যের মেয়েগুলোর জন্য দু’আ করা। ছেলেদেরকেই বা বাদ দিবেন কেন ? ছেলেদের জন্যেও দু’আ করুন । এভাবে দু’আ করাটা খুবই ইফেক্টিভ । এর মাধ্যমে  আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাবে ।ঐ মেয়েগুলো আপনার কাছে এখন আর কেবল ভোগ করার সামগ্রী  না  বরং  সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না সব মানবীয় অনুভূতি নিয়ে রক্ত মাংশের একটা জলজ্যান্ত  মানুষ । যাদেরও ভালোবাসতে ইচ্ছে করে, ভালোবাসা পেতে ইচ্ছে করে , প্রিয় মানুষটার কাঁধে মাথা রেখে জোস্ন্যা দেখতে ইচ্ছে করে , প্রিয় মানুষটা যখন তার  কপালের অগোছাল চুল সরিয়ে চুমু খায় তখন তাদেরও এক অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে । আপনি আল্লাহর নাম স্মরণ করছেন , তাঁর কাছে দু’আ করছেন । এই সময় শয়তান  খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারবে না ।  আপনার ফোকাস চেইঞ্জ হয়ে যাবে । আর আপনার দু’আর কারণে যদি আল্লাহ্‌ সুবঃ কাউকে হেদায়াত দিয়েই দেন তাহলে কি বিপুল পরিমাণ পুরষ্কার আপনার জন্য অপেক্ষা করবে সেটাও ভেবে দেখার বিষয় । আমি এভাবে দু’আর  মাধ্যমে এই আসক্তি থেকে বের হয়ে এসেছি । আপনিও পারবেন ইনশা আল্লাহ্‌। [লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত] পড়তে পারেন - দু’আ তো করেছিলাম -  http://bit.ly/2g6cw10 রেফারেন্সঃ [১] https://goo.gl/RovGDs [২] https://goo.gl/HNVy7Z [৩] https://goo.gl/ua8ZNX [৪] http://bit.ly/2itCBWi [৫] https://goo.gl/v6qlS2