ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (চতুর্থ পর্ব )

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (চতুর্থ পর্ব )

১৩. অবসর সময়ে/ যখন মন খারাপ থাকে তখন পর্ন দেখি, মাস্টারবেট করি । কী করব?

বই থেকে ‘তবু হেমন্ত এলে অবসর পাওয়া যাবে’ ও ‘ফাঁদ’ – এই শিরোনামের সবগুলা লিখা ভালোমতো পড়বেন।

ফাঁদ (প্রথম পর্ব ) – https://bit.ly/2CL3DXq

ফাঁদ – দ্বিতীয় পর্ব- https://bit.ly/2Od7b63

‘ফাঁদ’ (তৃতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2Od4nWz

‘ফাঁদ’ (চতুর্থ পর্ব ) – https://bit.ly/2CPbF1s

ফাঁদ (পঞ্চম পর্ব)- https://bit.ly/2x77Puk

ফাঁদ (ষষ্ঠ পর্ব)- https://bit.ly/2NIckWN

তবু হেমন্ত এলে অবসর পাওয়া যাবে… (প্রথম পর্ব) – https://bit.ly/2p1ZBAe

তবু হেমন্ত এলে অবসর পাওয়া যাবে… (দ্বিতীয় পর্ব)- https://bit.ly/2COW6qx

তবু হেমন্ত এলে অবসর পাওয়া যাবে… (তৃতীয় পর্ব)- https://bit.ly/2Mo5ssx

তবু হেমন্ত এলে অবসর পাওয়া যাবে (শেষ পর্ব)- https://bit.ly/2ModIca

প্রেসার কুকার- https://bit.ly/2oZSN67

– সারাদিন ঘরে বসে থাকা যাবেনা। মাঠে গিয়ে খেলাধুলা করতে হবে। খেলাধুলা করার সুযোগ না থাকলে বাহিরে গিয়ে হাটাহাটি করতে হবে। সমাজসেবা মূলক কাজে সাহায্য করা, ছাদে বাগান করা, বিড়াল,পাখি, খরগোশ পোষা মানে হবি টাইপের কিছুতে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে।
– ছোটো ভাইবোন কাজিনদের সাথে ( মেয়েদের জন্য মেয়ে কাজিন, ছেলেদের জন্য ছেলে কাজিন) সময় কাটাতে হবে। বাবা মার সাথে কথা বলতে হবে।
– ব্যায়াম করতে হবে। মসজিদে গিয়ে পাঁচওয়াক্ত নামাজ পড়লে মন ফ্রেশ হয়ে যাবে
– সপ্তাহে একদিন কোথাও থেকে ঘুরে আসতে হবে।
-পরকাল নিয়ে লেকচার সিরিজ শুনতে হবে। নবী রাসূল এবং সাহাবীদের জীবনি পড়তে হবে। এই বইগুলা পড়ে ফেলতে পারেন।হতাশা মন খারাপ কাটানোর জন্য খুব কার্যকরী ইনশা আল্লাহ্‌-

  • তুমি ফিরবে বলে, জাকারিয়া মাসুদ (সমর্পণ প্রকাশন)
  • যেকোনো একটা সীরাহ। আর রাহিখুল মাখতুম অথবা সীরাহ (রেইনড্রপ্স প্রকাশনী)
  • সাহাবা কেরামের ঈমানদীপ্ত জীবনী, ড. আবদুর রহমান রাফাত পাশা (রাহনুমা প্রকাশনী)
  • তাবেঈদের ঈমানদীপ্ত জীবনী, ড. আবদুর রহমান রাফাত পাশা (রাহনুমা প্রকাশনী)
  • যৌবনের মৌবনে, মাওলানা জুলফিকার আহমাদ
  • জীবিকার খোঁজে, ইমাম মুহাম্মাদ (প্রকাশনী : মাকতাবাতুল বায়ান)
  • আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল, ইমাম ইবনু আবিদ দুনইয়া (প্রকাশনী : মাকতাবাতুল বায়ান)
  • কুদৃষ্টি, মাওলানা জুলফিকার আহমদ
  • নবীজির পদাঙ্ক অনুসরণ, ইবনে রজব হাম্বলী (রহঃ) (সীরাত পাবলিকেশন)

– দিনে এক ঘন্টা হলেও ক্লাসের পড়া পড়তে হবে। পড়াশোনা না করার কারণে অনেকেই হতাশায় ডুবে যায়। পড়াশোনা করলে হতাশা কেটে যাবে ইনশা আল্লাহ।

(যদি বুঝতে পারেন খুব বেশি মন খারাপ, আত্মহত্যার কথা বলছে, বা এটেম্পট নিয়েছেন তাহলে অবশ্যই অবশ্যই মনোবিদের পরামর্শ নিতে বলবেন। বাবা মাকেও সাথে নিয়ে যেতে বলবেন)

.

১৪. চটিগল্প পড়ি। ছাড়তে পারছিনা । কী করব?

পর্ন, মাস্টারবেশনে আসক্তদের যে টিপস দেন, এদেরকেও সেই একই টিপস দিবেন। এদের জন্য স্পেশাল কিছু টিপস হলো-

-ফেসবুকের সব চটিগল্পের পেইজ আনলাইক করে দিতে হবে। গ্রুপগুলো থেকে লিভ নিতে হবে। এই পেইজগুলো ফলো করতে হবে-

-কোনো বন্ধুর সাথে বাজে কথোপকথোনে জড়ানো যাবেনা। মেয়েদের সঙ্গে তো নয়ই। ফেইক আইডি থাকলে আইডি একেবারে নষ্ট করে ফেলতে হবে। যখনই চটি পড়তে ইচ্ছে করবে, তখনই আল্লাহ্‌র কাছে আশ্রয় চাইবেন, আমাদের পেইজের বা গ্রুপের পোস্টগুলো পড়তে থাকবেন। দরকার হলে এডমিন বা মডারেটরদের নক দিবেন।

-প্রচুর বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জীবনী, সাহাবীদের জীবনী, ঈমানদারদের জীবনী পড়তে হবে। বইয়ের লিস্ট আগেই দেওয়া হয়েছে।

-ভাবী,কাজিন, ম্যাডাম,কাজের মেয়ে, মানে যাদের নিয়ে চটিগল্প পড়েন তাদের থেকে অবশ্যই দূরে দূরে থাকতে হবে। মানে পর্দা করতে হবে। ম্যাডামের ক্লাস করতেই হলে সামনে না বসে পেছনের সিটগুলোতে বসবেন। সুযোগ পেলেই চোখ নিচু করে রাখবেন। ইস্তেগফার করতে থাকবেন। ভাবী,কাজিন,কাজের মেয়ে এদের সাথে কঠোর পর্দা করতে হবে। না হলে পর্ন, হস্তমৈথুন তো বটেই জিনার সম্ভাবনাও থাকে। এগুলো মেনে না চললে এই আসক্তি কাটাতে পারবেন না।

-অনেকে ইনসেস্ট চটি পড়ে। মা,বোনদের নিয়ে ফ্যান্টাসি করে।এরকম হলে অবশ্যই সপ্তাহে একবার সূরা বাকারাহ পড়তে  বা শুনতে হবে। আগের টিপসগুলা তো থাকবেই। আর এক ঘরে  কখনোই  ঘুমানো যাবেনা, এক বিছানাতে তো নয়ই। মা, বোন ঘুমিয়ে থাকলে কখনোই  ঘরে  ঢোকা যাবেনা। উনাদের জামা কাপড় থেকেও দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। পারলে কয়েকদিনের জন্য কোথাও থেকে ঘুরে আসতে হবে।

এই লিখাগুলা পড়তে দিবেন-

নেশা যখন চটি গল্প পড়া (প্রথম পর্ব) – https://bit.ly/2CPX7i8

নেশা যখন চটি গল্প পড়া (দ্বিতীয় পর্ব)- https://bit.ly/2NdygJX

নেশা যখন চটি গল্প পড়া (তৃতীয় পর্ব)- https://bit.ly/2CPWuoM

নেশা যখন চটি গল্প পড়া (শেষ পর্ব)- https://bit.ly/2p3KtCf

‘ফাঁদ’ (চতুর্থ পর্ব ) – https://bit.ly/2CPbF1s

সকাল সন্ধ্যার আমলগুলো করতে হবে। দরকার হলে https://www.facebook.com/groups/ruqyahbd/ এই গ্রুপে পোস্ট দিবেন। যিনার রুকাইয়া শুনবেন উনাদের পরামর্শ নিয়ে।

 

১৫. বাথরুমে পর্ন দেখি,মাস্টারবেট করি-

  • খোলা জায়গায় গোসল করবেন যদি সম্ভব হয়। শরীরে কিছু কাপড় রাখবেন। পেনিস পারতপক্ষে ধরবেন না। তাকিয়ে থাকবেননা। সাবান দেওয়ার সময় বা লোম পরিষ্কার সময় খুব সতর্ক থাকবেন। বাজে চিন্তা মাথায় আসতে পারে এসময়। বিশেষ করে লোম পরিষ্কার করার সময় বাথরুমে যাবার আগে আল্লাহ্‌র কাছে দু’আ করে যাবেন। তিনি যেন আপনাকে হেফাযত করেন।
  • কখনোই মোবাইল নিয়ে বাথরুমে যাবেননা। গোসল করার সময় দরজা খোলা রাখবেন অল্প একটু।  যেন বাহিরে থেকে আপনি ভেতরে কি করছেন সেটা দেখা যায়/বোঝা যায়। বাথরুমের বাহিরে মোবাইলে কুরআন ছেড়ে রাখবেন। সাবধান বাথরুমের ভেতরে মোবাইল রেখে কখনো কুরআন ছেড়ে রাখবেননা।
  • বেশি সময় থাকবেন না বাথরুমে। এটা নবীর(সাঃ) সুন্নাহ পরিপন্থী কাজ।
  • বাথরুমে প্রবেশের দু’আ পড়বেন। বের হবার পরেও দু’আ পড়বেন। হিসনুল মুসলিমিন এপ্স দেখে বা দু’আর বই দেখে শিখে নেবেন। লিংক- https://greentechapps.com/apps/hisnulbn

 

১৬. গান শুনা ছাড়তে চাই..

যেকোনো অভ্যাস ত্যাগের ২টি মূল স্টেপ থাকে। হোক সেটা পর্ন, মাস্টারবেশন অথবা গান বাজনা। আপনার এই দুইটাই ধারাবাহিক ভাবে ফলো করতে হবে।

-প্রথমত আপনার সব ডিভাইস থেকে যেকোনো ধরনের গান/ বাজনা সম্পূর্ণরূপে ডিলিট করে দিন। এটা করতে গিয়ে দ্বিতীয় কোনো চিন্তা করবেন না। শায়তান অবশ্যই আপনার চিন্তার ভিতর এসে আপনাকে অল্টারনেট পরামর্শ দিবে। যেমন- “এখনই ডিলিট করা দরকার নাই। আগে গান শোনা কমুক, আসতে আসতে ডিলিট কইরো।” অথবা – “আচ্ছা… ডিলিট কর… তবে এই দুইটা গান রাখ। একদিনেই তো সব বন্ধ করা পসিবল না…” শায়তানের এই ডাক  আপনার কাছে আসার আগেই আপনি মেমরি থেকে সব শিফট-ডিলিট করে দিন। আপনি এই গান ছাড়া টিকবেন নাকি মারা যাবেন… এরকম চিন্তা হয়তো মাথায় আসবে। কিন্তু এখানে বলছি এই চিন্তা আসার আগেই যেন কাজটা করে ফেলেন। কোনো রকম চিন্তা করা যাবে না। আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে ডিলিট করে দিন।

-দ্বিতীয়ত, আপনার এই গান শোনার যে অভ্যাসটা ছিল, এটাকে পরিবর্তন করতে হবে ভাল অভ্যাস দ্বারা। আল্লাহ্‌ তা’আলা কুরআনে এমনটিই আমাদের জানিয়েছেন সূরাহ ফুসসিলাতে। ৩৪ নং আয়াতে তিনি বলেন “… খারাপকে প্রতিহত কর ভাল দিয়ে…”।

সুতরাং এখন আপনার ভাল কিছু অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে যা আপনার খারাপ অভ্যাসকে প্রতিস্থাপন করবে। কি কি করতে পারেন তার একটা সাজেশন দেয়া যেতে পারে- কুরআন পড়তে এবং শুনতে পারেন নিয়মিত। বই পড়ার অভ্যাস করতে পারেন। বইয়ের লিস্ট-

  • যেকোনো একটা সীরাহ, আর রাহিখুল মাখতুম, অথবা রেইনড্রপ্সের সীরাহ
  • সাহাবা কেরামায়ের ঈমানদীপ্ত জীবনি, ড আবদুর রহমান রাফাত পাশা , রাহনুমা প্রকাশনী
  • তাবেঈদের ঈমানদীপ্ত জীবনি ড আবদুর রহমান রাফাত পাশা, রাহনুমা প্রকাশনী
  • নারী সাহাবীদের ঈমানদীপ্ত জীবনি ড আবদুর রহমান রাফাত পাশা , রাহনুমা প্রকাশনী
  • যৌবনের মৌবনে, মাওলানা জুলফিকার আহমাদ নকশাবন্দী
  • জীবিকার খোঁজে লেখক :ইমাম মুহাম্মাদ প্রকাশনী : মাকতাবাতুল বায়ান
  • আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল লেখক :ইমাম ইবনু আবিদ দুনইয়া প্রকাশনী :মাকতাবাতুল বায়ান
  • তাওহিদের মূলনীতি, আহমেদ মুসা জিবরিল, ইল্মহাউস পাবলিকেশন
  • কুদৃষ্টি,মাহবুবুলওলামা হযরত মাওলানা জুলফিকার আহমদ (দা. বা.)
  • নবীজির পদাঙ্ক অনুসরণ, ইবনে রজব হাম্বলী (রহঃ),সীরাত পাবলিকেশন
  • অন্তরের রোগ ১ ও ২, শাইখ সালেহ আল মুনাজ্জিদ, রুহামা পাবলিকেশন।

 

ইসলামিক লেকচার শুনতে পারেন। পরকাল নিয়ে চিন্তা করুন, বই পড়ুন, লেকচার শুনুন।

ইসলামিক নাশীদ শুনতে পারেন। তবে এখানে সতর্ক থাকতে হবে। এখন অনেক নাশীদে ভাল ভাল টাইটেল থাকে কিন্তু ভিতরে ঠিকই বাদ্যযন্ত্র থাকে। এর চাইতে বরং কুরআন শুনুন। অন্তর বিগলিত হয়ে যাবে। শুনতে পারেন এগুলো- https://tinyurl.com/y4cylvmm, http://bit.ly/2lkMIBU

হালাল কাজে নিজে ব্যস্ত রাখুন। অফলাইন দাওয়াতের কাজ করুন। ব্যায়াম করুন। খেলাধুলা করুন। মোট কথা নিজেকে হালাল কাজে ব্যস্ত রাখুন যেন গান শুনার চাহিদা না থাকে।

আরেকটা  জিনিস হলো পরিবেশ। এমন পরিবশে থাকবেন না যা আপনাকে গান শুনতে প্রলুব্ধ করে। পরিবেশ বলতে এখানে বন্ধু-বান্ধবও সম্পৃক্ত। বন্ধুরা হঠাত একটা গানের লিংক আপনাকে পাঠাতে পারে অথবা কনসার্টের ইনভাইটেশন দিবে। এগুলো আপনার পথকে অবশ্যই কঠিন করে দিবে। তাই দ্বীনি বন্ধু গড়ে তুলুন। তারা আপনার এই সমস্যায় আপনাকে সাহায্য করবে। আল্লাহ্‌র ইবাদতের দিকে আরও আহ্বান করবে। সবচেয়ে বড় কথা, সলাত কখনও ছাড়বেন না। সলাত পড়তে থাকুন আর দুআ করতে থাকুন। ইন শা আল্লাহ্‌ তিনি সহজ করে দিবেন।

আমরা খুব ছোটো মানুষ। আমাদের লিখার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ্‌।  যেকোনো ধরণের পরামর্শ বা সাজেশন  হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ …

পড়ুন আগের পর্বগুলোঃ

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (প্রথম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারগার (দ্বিতীয় পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (তৃতীয় পর্ব)

শেয়ার করুনঃ
ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (তৃতীয় পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (তৃতীয় পর্ব)

১১. আজ খুব পর্ন দেখতে ইচ্ছে করছে-

কোনো এক সেনাবাহিনীর অনুপ্রেরণামূলক একটা ভিডিওতে দেখেছিলাম, একটু পর পর একজন ইস্পাতকঠিন গলায় জিজ্ঞাসা করছে, “আমি কে?” ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে ততোধিক ইস্পাতকঠিন গলায় উত্তর দেয়া হচ্ছে, “আমি একজন গর্বিত সৈনিক!”

আর্মি ট্রেনিং এ বার বার সৈন্যদের স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় তার পরিচয়, স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় সে একজন সৈনিক, সে এমন কোনো কাজ করতে পারবে না যাতে তার সৈনিক সত্তার অপমান হয়। পরাজয় শব্দটা তার অভিধানে থাকা চলবে না, সে কখনো মাথানত করবে না, প্রাণ থাকতে একচুল পিছু হটবে না, যুদ্ধক্ষেত্রে তার উপস্থিতি হবে আক্রমণাত্মক। বার বার স্মরণ করিয়ে দেয়ার মাধ্যমে সৈনিকদের মানসিকভাবে তৈরি করা হয় যুদ্ধক্ষেত্রের বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সামলানোর জন্য।

ভাই আপনিও তো একজন সৈনিক, আপনি তো অনবরত লড়ছেন পর্ন আর হস্তমৈথুন আসক্তির বিরুদ্ধে, শয়তানের বিরুদ্ধে। আপনার নিজেকে বার বার মনে করিয়ে দিতে হবে আপনি একজন সৈনিক, আপনি দাঁড়িয়ে আছেন যুদ্ধক্ষেত্রের একরাশ বিপদের মাঝখানে। আপনার চারিদিকে শত্রু, শয়তান যেকোনো দিক দিয়ে আক্রমণ করে পর্ন/হস্তমৈথুনের বিরুদ্ধে আপনি যে প্রতিরক্ষা ব্যূহ গড়ে তুলেছেন, তা তছনছ করে দিতে পারে। বার বার নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে, আপনি এখন যুদ্ধে আছেন। এতে করে আপনি ফোকাসড থাকবেন। শয়তান সহজেই আপনাকে ফাঁদে ফেলতে পারবে না ইন শা আল্লাহ্‌।

পর্ন ভিডিও দেখার পর বা হস্তমৈথুন করার পরের অনুভূতি আপনি যে কাগজের টুকরোতে লিখেছিলেন সে কাগজে চোখ বুলাতে থাকুন। পর্ন ভিডিও দেখার জন্য বা হস্তমৈথুন করার জন্য মন আঁকুপাঁকু করলে দৌড়ে গোপন জায়গা থেকে বের করে আনুন ওই কাগজগুলো। মনোযোগ দিয়ে, চিন্তা করে পড়ুন। আপনার হয়তো খুব ইচ্ছে জেগেছে কাজটি করার। কিন্তু আপনি ভাল করেই জানেন কাজটি করার ঠিক পরবর্তী মুহূর্তে আপনার অনুভূতিটা। হতাশা আর ব্যর্থতায় আপনি ডুবে যান। কাজ করার জন্য কোনো শক্তি, মনোবল কিছুই পান না। সমাজে কারো সাথে মিশতে পারেন না। ঘরের কোণায় পড়ে থাকেন। এতো গেল শুধু দুনিয়ার কথা। আর আখিরাতের কথা তো আছেই। চিন্তা করুন পাপের বোঝা কত ভারী করবেন। আর সেদিন যদি আল্লাহ্‌ আপনার হিসাব সবার সামনে নেয়। আল্লাহ্‌ না করুক। সেদিন তো সবই উপস্থিত থাকবে। সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। সবার সামনে আপনি অপমানিত। ছুড়ে ফেলা হবে এমন এক জায়গায় যেখানে না আপনি জীবিত থাকবেন না মৃত। প্রতিটা মুহূর্ত যেন আগের থেকে আরও বেশী কষ্টদায়ক। এমন আযাব যেটা থাকে সবসময়, আর সবথেকে বেশি পরিমানে। আখিরাতের এই ফিকির বেশি করে করুন। ইন শা আল্লাহ্‌ এই ফিকির আপনাকে পাপ থেকে দূরে রাখবে।

আপনি এখন খুবই ক্রিটিকাল অবস্থায় আছেন। এখন যদি আপনি আপনার প্রবৃত্তির কাছে হেরে যান, তাহলে অবস্থা খুবই খারাপ হবে। অধিকাংশ মানুষই বোঝে পর্ন দেখা খারাপ, হস্তমৈথুন করা ক্ষতিকর। কিন্তু ভেতর থেকে যখন পর্ন দেখার নেশা ওঠে তখন সে কিছুক্ষণ নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করে, না আমি ওসব দেখব না… কিন্তু যুদ্ধ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। সে আত্মসমর্পণ করে তার প্রবৃত্তির কাছে। আপনার সকল ইচ্ছাশক্তি এক করে লড়াই করুন প্রবৃত্তির সাথে।

আর আল্লাহ্‌কে  ডাকতে থাকুন অনবরত। বার বার মনে করতে থাকুন এ আসক্তি কীভাবে আপনাকে বঞ্চিত করেছে জীবন উপভোগ করা থেকে! কী ভয়ঙ্কর ক্ষতি করেছে আপনার! আপনার জন্য কী করুণ পরিণতি অপেক্ষা করে আছে! জায়গা পরিবর্তন করুন, শুয়ে থাকলে উঠে বসুন। বসে থাকলে ঘর থেকে বের হয়ে যান। এমন কোথাও যান যেখানে আলো আছে, মানুষ আছে, যেখানে উষ্ণতা আছে। ভিযুয়ালাইয করার চেষ্টা করুন, বিষধর এক সাপ আপনাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে দংশন করছে। নিজের সমগ্র সত্তা দিয়ে লড়াই করুন

 

 

প্রতিরক্ষামূলক-

-বেশি বেশি ইস্তেগফার করুন আর নফসের বিরুদ্ধে জিতার চেষ্টা করতে থাকুন।

-সব রকমের ডিভাইস এমনভাবে কনফিগার করে রাখুন যাতে সেগুলোতে কোনো অশ্লীল কোনো কিছুই (দেখা/পড়া) না যায়।

-আল্লাহ্‌র কাছে খাস দিলে পরিপূর্নভাবে নিজেকে সমর্পণ করুন এবং এই নফসের বিরুদ্ধে জয় লাভ করার জন্য উনার কাছে সাহায্য চান। যাতে করে আপনি এই কামনা থেকে মুক্তি লাভ করেন। এবং যাতে আল্লাহ্‌ আপনার জন্য সহজ করে দেয়। আর যেন আল্লাহ্‌ আপনাকে হারাম থেকে দূরে রাখে এবং হালালের ব্যবস্থা করে দেয়।

-সময়মত জামাতে সলাত আদায় করুন। সাথে অতিরিক্ত নফল সলাতও আদায় করার চেষ্টা করবেন।

-বেশি বেশি রোজা রাখার চেষ্টা করবেন। দৈনিক কুরআন পড়বেন।

-সবসময় মনে রাখবেন যে আল্লাহ্‌ সুবাহানাহু ওয়া তা’আলা আপনাকে দেখছেন। তিনিই মালিক। তিনি চাইলেই আপনার গুনাহকে সবার কাছে প্রকাশ করে দিতে পারেন। তাই পাপ করার সময় যেন কোনো স্পর্ধা আপনার না আসে।

-দ্বীনি বন্ধু জোগার করুন। তারা আপনাকে হালাল পথে চলার এবং হারাম থেকে বেঁচে থাকার জন্য অনেক সহযোগিতা করবে ইন শা আল্লাহ্‌।

-দৈনিক ব্যায়াম করুন। বেশির ভাগ সময় ভাল কাজগুলোতে কাটান। যেমন ভাল ভাল বই পরতে পারেন। সাবধান!! গল্প উপন্যাসের বইটে অনেক উত্তেজনামূলক লিখা থাকে। তাই ইসলামিক বই পড়বেন বেশি করে।

 

প্রতিরোধমূলক-

– হঠাৎ করে কামনা জাগ্রত হলে প্রথমে চিন্তা করবেন কোন জিনিসটা আপনাকে ট্রিগার করেছে। কারন সেই জিনিসটা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। হতে পারে বাসায় একা থাকা বা মডারেট কোনো গল্পেরে বই পড়া যেখানে উত্তেজনা মূলক লিখা লেখা ছিল। এই ধরনের পরিবেশ, এই ধরনের গল্পের বই থেকে যতদূরে থাকা সম্ভব দূরে থাকতে হবে।

– কামনা জাগ্রত হওয়ার সাথে সাথেই যেন আপনি নির্জনতা থেকে সরে পড়ুন। প্রয়োজন হলে বাসা থেকে বের হয়ে যান। হেটে আসুন। মূল কথা নিজেকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলুন যেন আপনি চাইলেও কাজ সম্পাদন করার সুযোগটা না থাকে। তবে বের হওয়ার সময় মনে রাখবেন যে আপনি যেন আপনার দৃষ্টি হেফাযত করেন। না হলে যেই লাউ সেই কদু। বাইরে বের হয়ে উত্তেজনামূলক দৃশ্য দেখে বাসায় এসে নিজেকে কন্ট্রল করতে পারবেন না।

-আপনি ওযু করে ২ রাকাহ সলাত আদায় করুন। আগে থেকে সূরাহ আয-যালযালাহ, আল-ক্বরি’আহ এর মত সূরাহ/আয়াত অর্থসহ মুখস্ত করে রাখুন, যেখানে ক্বিয়ামত এবং হাশরের কথা উল্লেখ এবং বর্ণনা করা হয়েছে। সলাতে এসব সূরাহ/ আয়াত তিলাওয়াত করবেন আর অবশ্যই অর্থের দিকে খেয়াল রাখবেন। চিন্তা করবেন আগামীকালই শেষদিবস হতে পারে। অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে সলাত আদায় করবেন।

 

পিছলে গেলে-

মূলত এই সেকশনটা দিতে অনেকটা অনুৎসাহিত বোধ করি। কারন এখানে একটা শয়তানে বড় রকমের ফাঁদ আছে যদি না আপনি আপনার ওয়াদার উপর অটল থাকেন। সুতরাং সাবধান থাকতে হবে। এটা কোনো ভাবেই হারাম কাজ করার একটা অল্টারনেট হালাল পথ না যে আপনি হারাম কাজ করবেন আর পরে কয়েকটা আমল করবেন, তাহলেই কাটা-কাটি হয়ে যাবে। নিশ্চই আল্লাহ্‌ মনের কথা জানেন। আপনি যদি নিয়ত করেন যে পাপ কাজটা করি, করে আমল করে নিব, তাহলে আপনি নিজেকেই ধোকা দিচ্ছেন। এটার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শত চেষ্টা করেও যদি আপনি পা পিছলে যান, সেক্ষেত্রে করনীয় কি।

-খাস দিলে তওবাহ করবেন। তওবাহর কবুলের শর্তগুলো যেন রক্ষিত হয়। আপনার মধ্যে যেন অনুশোচনাবোধ থাকে, আপনি গুনাহট ছেড়ে দিবেন, আর আপনি যেন প্রতিজ্ঞা করেন যে আপনি সামনে আর কখনই এটা না।

-প্রত্যেকবার বেশি বেশি করে সদকাহ করবেন।

-নফল সলাতের সংখ্যা বাড়িয়ে দিবেন। পাপ কাজ করলে সলাত পড়তে পারবেন না এরকম ফাঁদে পড়বেন না। পবিত্র হয়ে আরোও বেশি করে সলাত আদায় করবেন। শায়তান তাহলে আপনাকে খারাপ কাজের দিকে কম টানবে, যখন দেখবে এর ফলে আপনি আরো বেশি করে সলাত আদায় করছেন।

 

আর এই লিখাটি খুব ভালোমতো পড়ুন ইনশা আল্লাহ্‌- https://tinyurl.com/yxzmxakb

 

১২. রাতে ঘুমানোর আগে মাস্টারবেট না করলে ঘুম আসে না,ঘুমাতে অনেক কষ্ট হয়।

  • রাতে ঘুমানোর আগে অযু করে নিবেন। পারলে দুরাকাত নামায পড়ে নিবেন।
  • হিসনুল মুসলিম বই বা এপ্স থেকে ঘুমানোর দু’আগুলো পড়ে নিবেন ।লিংক- https://greentechapps.com/apps/hisnulbn
  • এরপরও ঘুম না ধরলে উঠে ক্লাসের পড়া পড়তে থাকবেন। ঘুম ধরবেনা ওর বাপ ধরবে ।
  • ঘুমানোর সময় কুরআন তিলাওয়াত শুনতে পারেন।
  • লেকচার শুনতে পারেন। পরকাল নিয়ে, নবী রাসূল, সাহাবীদের কাহিনী, যেগুলো অন্তর নরম করে।( ইসলাম বিকৃতকারী, সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া আজমাইন বা সালাফদের বুঝের বাহিরে গিয়ে ইসলামকে ব্যাখ্যা করে এমন অগ্রহণযোগ্য আলিমদের লেকচার কখনোই সাজেস্ট করবেননা।)
  • দিনে ব্যায়াম করতে হবে। সারাদিন ঘরে বসে শুয়ে থাকলে হবেনা ।

 

আমরা খুব ছোটো মানুষ। আমাদের লিখার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ্‌।  যেকোনো ধরণের পরামর্শ বা সাজেশন  হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ …

পড়ুন আগের পর্বগুলো-

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (প্রথম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারগার (দ্বিতীয় পর্ব)

 

 

শেয়ার করুনঃ
মুক্ত বিচরণ

মুক্ত বিচরণ

(পিসি ও মোবাইলে অশ্লীল অ্যাড ও পর্নসাইট ব্লক করার উপায় নিয়ে গুছিয়ে নোট টি লিখেছেন- Muhammad Sabuz Ahmed)
.
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে ইন্টারনেট ইউজ করে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া ভার। এই ইন্টারনেটের যেমন সুযোগ সুবিধা আছে, ঠিক তেমনি ভাবে এর অপকারিতার লিষ্টও বেশ লম্বা। দৈনন্দিন নানা কাজে আমাদের ইন্টারনেট ইউজ করতে হয়। যারা নিয়মিত ইন্টারনেট ইউজ করি, তারা খুব ভালো মতই জানি যে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার ফলে, আমরা বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখতে পাই। এই বিজ্ঞাপন যেমন বিভিন্ন প্রোডাক্টের হয়ে থাকে ঠিক একে ঘিরে রয়েছে অশ্লীলতাও। বিজ্ঞাপনে এখন অর্ধ-নগ্ন নারী থাকা যেন স্বাভাবিকে পরিনত হয়েছে। আসলে এ বিজ্ঞাপনের ফাঁকে ফাঁকে আমাদের কাছে চলে আসে অপ্রত্যাশিত কিছু, বিভিন্ন পর্ন সাইট। যেমন আপনি নেট ব্রাউজ করতে করতে হঠাৎ খেয়াল করলেন থ্রি ডি গেমস, ক্লিক করার সাথে সাথে আপনাকে নিয়ে চলে যাবে গেমসের পর্নোগ্রাফির ওয়ার্ল্ডে। এছাড়াও বিভিন্ন সাইটে ব্রাউজ করার সময় বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন দেখতে পাই। এর থেকে বাচার উপায় কি? আর এই চরম বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন থেকে আমরা কিভাবে শান্তি মত ব্রাউজ করতে পারি তার কয়েকটি টেকনিক আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

.

বিজ্ঞাপনমুক্ত বিচরণঃ

Google Chrome বা Firefox ইউজ করিনা এমন লোক খুঁজে পাওয়া ভার। তাই আমি এ দুটি ব্রাউজার দিয়ে কিভাবে বিজ্ঞাপন বন্ধ করা যায় সাথে সাথে সকল পর্ন সাইটও বন্ধ করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করব।
প্রথমে আমার দেওয়া লিংকে ক্লিক করে আপনি যে ব্রাউজার ইউজ করছেন সে ব্রাউজারে একটা এক্সটেনশন ইন্সটল করে নিন।
.
১. Ad block plus এক্সটেনশন ইউজ করতে পারেন, বেশ ভালো এক্সটেনশন। (নামানোর লিঙ্কঃ google chrome এর জন্য, firefox এর জন্য)
Adblock Plus এর জন্য Facebook annoyence blocker নামের একটা প্লাগইন আছে, ওটা ইন্সটল করলে ফেসবুক অ্যাড ব্লক করতে আর কিছু লাগবে না।
.
২. ublock origin -এটিও ইউজ করতে পারেন, বেশ হালকা এবং কাজের দিক থেকে বেশ পটু। (নামানোর লিঙ্কঃ google chrome এর জন্য, firefox এর জন্য) । তবে এই এক্সটেনশন ফেসবুকের বিজ্ঞাপন দূর করতে পারে না বিশেষ করে sponsored ad গুলো। 
.
৩. ফেসবুক এর sponsored ad, friends you may know, page/group suggestion এই ট্যাবগুলো যথেষ্ট ফিতনাময় ও অনেকাংশে অশ্লীলও বটে । এক্ষেত্রে আমরা সাজেস্ট করি fb purity এক্সটেনশনটি। খুবই চমৎকার, ইচ্ছামত কাস্টোমাইজ করে নেয়া যায় হোমপেজ।

.

পর্ন সাইটমুক্ত বিচরণঃ

এবার চলুন দেখে আসি কিভাবে ব্রাউজারের মাধ্যমে adult content ‘সার্চ’ থেকে মুক্ত থাকতে পারি। এই পদ্ধতিটি কাজে লাগাতে হলে আপনাকে অব্যশই আপনার ব্রাউজারে লগিন করতে হবে। আমি যেহেতু google chrome ইউজ করি সেহেতু আমি আমার জিমেইল দিয়ে ব্রাউজারে লগিন করেছি।
.
প্রথমে আপনি নিচের লিংকে ক্লিক করুন। দেখুন ওখানে Turn on safe search নামে একটি option আছে ওটাতে টিক দিন। ব্যস কাজ শেষ বেরিয়ে আসুন। এখন থেকে আপনি আর কোন explicit image সার্চ করে পাবেন না। আসলে এই পদ্ধতি ইউজ করে আপনি সম্পূর্ন পর্ন সাইট থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন না। এইটি জাস্ট আপনাকে নুড ইমেজ থেকে ও ক্ষেত্র বিশেষ এডাল্ট সার্চ থেকে রক্ষা করবে। পর্ন সাইট ব্লক করার জন্য পরের সেকশন দেখুন।
উভয় ব্রাউজারের জন্য লিংকঃ https://www.google.com/preferences

.

রাউটার থেকে যেভাবে বন্ধ করবেন পর্ন সাইটঃ

এই পদ্ধতি আমি দেখাচ্ছি tplink রাউটারের ক্ষেত্রে, তবে প্রায় সব রাউটারে এই অপশনগুলো আছে জাস্ট আপনাকে খুজে নিতে হবে। প্রথমে আপনি আপনার রাউটারে লগিন করুন। tplink রাউটারের জন্যে এই লিংক ইউজ করুন। http://tplinkwifi.net/ বা http://192.168.0.1/ , এরপর আইডি পাসওয়ার্ড দিয়ে লগিন করুন। এক্সেস করার পর হাতের বামে দেখুন DHCP নামে একটি option আছে ক্লিক করুন। এরপর দেখুন নিচে দুইটা অপশন আছে-
.
১। DNS Server
২। Secondary DNS Server
.
ওখানে নিচের দেয়া দুইটা ডিএনএস সার্ভার কপিপেস্ট করে বসিয়ে দিন।
DNS Server: 185.228.168.168
Secondary DNS Server:
185.228.169.168
.
save করুন। তারপর আবার হাতের বামে system tools নামে একটি option আছে ওটাতে ক্লিক করুন। দেখুন reboot নামে অপশন আছে ওটাতে ক্লিক করুন। এতক্ষণ রাউটারে যে প্রসেসসগুলো করলাম তা ঠিক মত যেন কাজ করে তাই রিবুট দিলাম। একটু সময় নিবে।
এরপর থেকে আপনার রাউটার থেকে কেউ পর্ন সাইটে প্রবেশ করতে পারবে না। এমনকি আপনিও।

আরো কিছু DNS Server আছে, চাইলে এইগুলোও ব্যবহার করতে পারেন।
.
Norton ConnectSafe DNS IP addresses:
198.153.192.50
198.153.194.50
Yandex DNS IP addresses:
77.88.8.7
77.88.8.3
.
এতক্ষন PC, Laptop এ কিভাবে আমরা বিজ্ঞাপনমুক্ত ও পর্নমুক্ত থাকতে পারি সেই আলোচনা করলাম। এবার চলুন স্মার্ট ফোনে কিভাবে এর থেকে পরিত্রান পেতে পারি। সেদিক গুলো দেখা যাক।

.

For Android Devices:

Blokada app টি নামিয়ে অন্যান্য এপের মত ইন্সটল করে নিন। লিংকঃ https://blokada.org/index.html । ইন্সটল এর পর জাস্ট কিছু সেটিং চেঞ্জ করলে আপনার প্রিয় ফোনটিও হয়ে উঠবে বিজ্ঞাপনমুক্ত। (এখানে উল্লেখ্য যে, পর্ন ব্লক করার ক্ষেত্রে স্পিন ব্রাউজার (android) খুবই কার্যকরী, যার বিস্তারিত বর্ণনা আছে ‘বিষে বিষক্ষয়’ আর্টিকেলে। পড়ে নিন।)
.
প্রথমে এপটি active করুন। এক্টিভ করতে সর্বশেষ নিচের গোল বাটনটি প্রেস করুন। এক্টিভ হলে উপরে লেখা আসবে ‘’Blokada is active’’। এরপর blacklist অপশনে গিয়ে StevenBlack Unified + porn অপশনটি on করে দিন। তারপর Advanced Settings এ গিয়ে Lists download frequency টা ONCE A Week সিলেক্ট করে দিন। এরপর যেসব অপশনগুলো ON করে দিবেন তার লিস্ট নিচে দিয়ে দিলাম।
.
Download on Wifi only
Start on boot
Keep alive
Aggressive wakeup
DNS fallback
আর একটি মাত্র অপশন OFF করে দিন সেটি হলঃ
reports

.

For iOS devices:

Safari তে Ad block করার জন্য এই এপটি ইউজ করতে পারেন। এটি এডাল্ট সাইটও ব্লক করে। এপটি ওপেন করে Block ads, protect privacy, block adult sites অপশনগুলো ON করে দিন।
নানা কাজের জন্যে আমরা নানান এপ ইউজ করে থাকি। এর সিংহভাগ এপেই আছে বিজ্ঞাপন। তাই এর থেকে উত্তরনের উপায় হল Luna app ইউজ করা। বেশ কাজের।
.
WiFi কে রাখুন অশ্লীলতা মুক্ত (iOS ডিভাইসের জন্যে):
প্রথমে setting এ যান তারপর পরপর wi-fi তে গিয়ে ওয়াইফাই কানেক্ট করুন। এর পর পাশে i (আই) চিহ্নতে ক্লিক করুন। একটু নিচে গিয়ে দেখুন লেখা আছে Configure DNS ওটাতে ক্লিক করুন।Manual সিলেক্ট করে দিন। এরপর add server অপশনে গিয়ে নিচের দুইটা সার্ভার এড্রেস বসিয়ে দিন।
185.228.168.168
185.228.169.168
চাইলে অন্য DNS সার্ভারও বসাতে পারেন। আমার মতে এই সার্ভারটা বেশ ভাল এডাল্ট কন্টেন্ট ব্লক করার জন্য। আরো একটি পদ্ধতি এপ্লাই করতে পারেন limit adult content যেটা ios devices গুলোতে ডিফল্টই থাকে। কিভাবে করবেন তার লিংক নিচে দেয়া হল।

.

Sharing is Caring:

দৈনন্দিন আমরা একজন অন্যের কাছ থেকে বিভিন্ন ফাইল, ডকুমেন্ট আদান প্রদান করে থাকি। আর এর জন্যে আমরা ডিপেন্ড করি ShareIt নামক এপ উপর। কিন্তু এই শেয়ার ইট এপে কত অশ্লীল এড আসে তার ইয়াত্তা নেই। এক্ষেত্রে ShareIt এর অ্যাড ফ্রি মড ভার্সনটি ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া Mi Drop ইউজ করতে পারি। কোন এড নেই আর স্পিড বেশ ভাল। কোন অংশেই শেয়ার ইট থেকে কম নয়। ইউজ করলেই বুঝতে পারবেন। Mi drop play store link: https://tinyurl.com/y5v5m2ze
.
অনেকেই চিন্তা করছেন আচ্ছা আমি নাহয় এই এপটা ইউজ করলাম কিন্তু যার কাছে ফাইল নিব বা দিব তার যদি এই এপটি ইন্সটল না থাকে তখন? এর সমাধানও আছে। এপটি ওপেন করুন। নিচে অপশন আছে Share Mi Drop, ক্লিক করে Bluetooth দিয়ে দিয়ে দিন বন্ধুকে। মাত্র কয়েক mb। এরপর সে ইন্সটল করে ফেলবে তার মোবাইলেও। ব্যস এখন থেকে ফাইল আদান প্রদান হোক বিজ্ঞাপনহীন।

.

Warning:

পদ্ধতি গুলো এপ্লাই করার পর ভুলেও দেখার চেষ্টা করবেন না যে অশ্লীলসাইটগুলো ব্লক হল কিনা। ইন্টারনেট জগতে বাজে সাইটের সংখ্যা কত তা আপনি ভাবতেও পারবেন না। আপনার কাজ হল পদ্ধতিগুলো এপ্লাই করা চেক করা না। DNS server এর কাজ ও নিজেরটা নিজেই করে নিবে। কিভাবে কাজ করবে আপনার না বুঝলেও চলবে। আপনার উদ্দেশ্য তো সাইটগুলো ব্লক করা তাই না? আমি আবারও বলছি জাস্ট এপ্লাই, ডু নট চেক। ওকে?

.

সর্বশেষ কয়েকটি কথাঃ

পদ্ধতিগুলো এপ্লাই করেই অনেকেই এর থেকে যথাযত উপকৃত হতে পারবে না যদি না সে নিজের উপর কন্ট্রল করা না শিখে। কারন হয়ত কিছুদিন পর সেই এই পদ্ধতি গুলো রিসেট/ডিলেট করে দিয়ে এই নীল জগতে আবার আগের মত হারিয়ে যাবে। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার এই উপলব্ধি না আসবে যে এই পর্ন এইটা অশ্লীল, এটা অসভ্য, এটা জঘন্য, এটা ক্ষতিকারক, এর ক্ষতি ভয়াবহ, এটা চরিত্র ধ্বংসকারী ততক্ষন পর্যন্ত আপনি এই গোলক ধাঁধা থেকে বের হতে পারবেন না।

“নির্জন মুহূর্ত হলো আপনার আসল চরিত্র’’ -শাইখ আহমাদ মুসা জিবরীল

তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ তা পরিপুর্ণরূপে জানেন’’ [সূরাঃ তাওবাহ, আয়াত ১৬]

শেয়ার করুনঃ
ভেঙ্গে ফেলো এই কারগার (দ্বিতীয় পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারগার (দ্বিতীয় পর্ব)

৫. কয়েকদিন ভালো থাকি তারপর আবার শয়তান প্রলুব্ধ করে

১। প্রথমত হতাশ হবেন না। আপনার এই যাত্রা কখনই সহজ হওয়ার কথা নয়। তবে যে এই যাত্রা ছেড়ে দেয় নিশ্চয়ই সে চূড়ান্ত হতভাগা। আপনি লেগে থাকুন। ইন শা আল্লাহ্‌ আপনি সফল হবেন। অবশ্যই কিছুটা হতাশা থাকা দরকার। কিন্তু এই হতাশা আপনাকে যেন এই জিনিস থেকে দূরে থাকার আরও অনুপ্রেরণা দেয়। হতাশা থেকে যেন আপনি শিক্ষা নিন। আর, অনুপ্রেরণা পাওয়ার জন্য এগুলো পড়ুন –
https://tinyurl.com/y5zh7goq
https://tinyurl.com/y5zh7goq

২। খারাপ সব কিছু জীবন থেকে শুধু বাদ দিলে হবে না। খারাপকে পরিবর্তন করতে হবে ভাল দ্বারা। আপনি গান বাজনা বদলে কুরআন তিলাওয়াত শুনুন/ করুন। বিনোদন পেপার বাদ দিয়ে বিভিন্ন বই পড়ুন, ইসলামিক সাহিত্য ও আছে। খারাপ/ মেয়ে বন্ধু বাদ দিয়ে দ্বীনী বন্ধু/ ভাই গড়ুন। এগুলো অবশ্যই করবেন। হতে পারে এগুলোর অভাবেই আপনি পিছলে যাচ্ছেন। তাই এই পরিবর্তনগুলি যদি না করে থাকেন, আজই শুরু করে দিন। পরকাল নিয়ে চিন্তা করুন, বই পড়ুন, লেকচার শুনুন। এই পোস্ট দেখুন- https://tinyurl.com/yxlhe9yj

৩। সফটওয়্যারের পাসওয়ার্ড আপনি নিজে দিবেন না। এটি পড়ুন – http://lostmodesty.com/2018/08/বিষে-বিষক্ষয়/

৪। ফেইসবুকে যদি আপনি খারাপ কন্টেন্ট ফলো করে থাকেন আগে সেগুলো বাদ দিন। মেয়ে, গ্রুপ, পেইজ, সেলিব্রিটি, হলিউড বা এ ধরনের কিছু। আপনি ফেইসবুকে ছবি বন্ধও ও করে রাখতে পারেন। আর, ইমান, আমল বাচানোর জন্য ফেইসবুক ডিলিট করা যদি একান্তই প্রয়োজন হয়ে পড়ে তাহলে আল্লাহ্‌র উপর তাওাক্কুল করে ডিলিট করে দিন। আরও অনেক উপায়ে আপনি ভাইদের সাহায্য নিতে পারবেন ইন শা আল্লাহ্‌।

৫। যেদিন মনে হবে পারছেন না, হচ্ছে না, শয়তান আজেবাজে চিন্তা মাথায় আনছে ওইদিন/ পরদিন রোজা রাখবেন। সপ্তাহে সোম, বৃহস্পতিবার – এ ২ দিন রোজা রাখুন।

৬। ব্যায়াম করুন। খেলাধুলা করুন।

৭। যে কারণে ট্রিগারড হন, সেটা আইডেন্টিফাই করুন। সে সময়, দিন আইডেন্টিফাই করুন। সেভাবে সতর্কতা অবলম্বন করুন।

৮। নিজেকে টার্গেট দিন যে এই কয়দিন পর্ন দেখবনা। প্রথম প্রথম দিন গনুন, তারপর বন্ধ করে দিন।  এই কয়দিন পর্ন দেখেননি, মাস্টারবেট করেননি এই হিসাব রাখবেন না। এগুলা মাথায় আনবেন না। আপনি তো আর সেই পথে ফিরে যাবেন না। তাহলে সেই পথের দূরত্ব কেন পরিমাপ করবেন।

৬. মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটা পড়েছি। কাজ হয়না।

– বইটা শুধু পড়লেই হবেনা । সে অনুসারে আমলও করতে হবে। কোন জিনিসটা আপনাকে পর্ন-মাস্টারবেশনে প্রলুব্ধ করছে সেই ট্রিগার গুলার লিস্ট করুন। সেগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে।  ডায়েরি মেইন্টেইন করতে হবে। কাছের কোনো ভাই,বন্ধু বা এরকম কারো কাছ থেকে হেল্প নিতে হবে।

– পড়ুন- http://lostmodesty.com/2018/08/ফাঁদ-চতুর্থ-পর্ব/ , নীল কৃষ্ণগহ্বর

(উৎসাহ দেবেন যে ভাই আপনার উন্নতি হচ্ছে, চালিয়ে যান। একদিনে তো আর পারবেন না । ধীরে ধীরে আসক্তি থেকে মুক্তি পাবেন ইনশা আল্লাহ।) অবসর সময় ভালোমতো কাজে লাগাতে হবে । চোখের হেফাযত করতে হবে। আল্লাহ্‌র কাছে বেশি বেশি দু’আ করতে হবে। সূরা বাকারাহ সপ্তাহে একবার তিলাওয়াত করতে হবে। না পারলে তিলাওয়াত শুনবেন। প্রত্যেকবার মাস্টারবেট করার পর বা পর্ন দেখার পর ১০ রাকাত নফল নামায পড়বেন। আরো বেশিও হতে পারে। সাধ্যমতো দান খয়রাত করবেন।

এছাড়া ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর থেকেও কিছু টিপস দিয়ে দিতে পারেন।

 

৭. ভবিষ্যত স্ত্রীকে নিয়ে ফ্যান্টাসিতে ভুগছি, বীর্যপাতও হয়ে যায়, ৪ মাস হস্তমৈথুন করছি না এখন আবার এই সমস্যা হচ্ছে। করণীয় কী?

ভাই, এটা শয়তানের অস্পষ্ট একটি ধোকা। এটা স্পষ্ট কবীরা গুনাহ এবং অন্তরের জেনা। এটা না ছাড়তে পারলে আপনার জন্য জাহান্নাম অনিবার্য হয়ে যাবে। শয়তান খুব চালাক। সে যখন দেখে, কোন বান্দা মাস্টারবেশন কিংবা পর্ণোগ্রাফি থেকে দূরে আছে, তখন সে ভাবায় যে তোমার ভবিষ্যৎ বউয়ের কথা চিন্তা করো। একদম পরহেজগার, হিজাবী একটা মেয়ে তোমার বউ হবে। তাকে নিয়েই তো ভাবছো, বাজে কিছু তো করছো না। এভাবে সে অন্তরের জেনার দিকে আমাদের ঠেলে দেয়। প্রিয় ভাই, এরকম হলে সাথে সাথে আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে পানাহ( আউযুবিল্লাহিমিশ শাইতানি…..) চাইবেন। মৃত্যু, জাহান্নামের কথা স্মরণ করবেন। তারপরেও সমস্যা হলে ওযু করে দুই রাকাত নামাজ পড়বেন( আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুন)। এগুলা করার পরে ফিজিক্যাল কিছু ব্যায়াম করতে পারেন, গোপনীয় জায়গা( রুম) থেকে বের হয়ে প্রকাশ্যে কোন ভাইয়ের সাথে কথা বলতে পারেন, রাস্তায় হাটতে পারেন কিংবা অন্য যেকোন কিছু করে ( বই পড়া, ওয়াজ শোনা) আপনার মাইন্ড কনভার্ট করতে পারেন। তাহলেই ইনশাআল্লাহ, এটা থেকে পরিত্রাণ পাবেন। শুধু ট্রিক দিয়ে হবে না ভাই, আল্লাহর সাহায্য খুবই খুবই প্রয়োজন।
পর্ন থেকে বেঁচে থাকার জন্য যেমন সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন, যেমনভাবে মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটা ব্যবহার করেছিলেন এক্ষেত্রেও সেটা করতে হবে ভাইয়া।

আর হ্যা, সুরা নূরের ৩০ নম্বর আয়াতের উচ্চারন, অর্থ, তাফসীর সহ মুখস্থ করে এটা বার বার পড়তে থাকবেন।( মেইনলি রাস্তা-ঘাট, ফেসবুক, ইউটিউব, ফোন, পোষ্টার, টিভি, যেকোন জায়গায় গায়রে মাহরাম মেয়ের দিকে দ্বিতীয় বার তাকাবেন না, পারলে প্রথম বার ও তাকাবেন না। খুবই গুরুত্বপূর্ণ এটা। ঐসময় শয়তান ওয়াসওয়াসা দিবে, তাকানোর জন্য, তখন মনের সাথে যুদ্ধ করবেন। যেকোন মূল্যে শয়তানকে হারাতে হবে)

আর প্রিয় ভাই, মনে রাখবেন, বিয়ের আগে কোন মেয়ের চিন্তা আপনার জন্য বৈধ নয়। ঐ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, এসব চিন্তা থেকে।
আর নিশ্চিন্ত থাকুন, আমাদের রব প্রতিজ্ঞা করেছেন, কেউ যদি আল্লাহর জন্য কোন কিছু ত্যাগ করে তাহলে তিনি তাকে এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করবে।

চিন্তাভাবনা কীভাবে কন্ট্রোল করবেন জানতে পড়ুন- ‘ফাঁদ’ (চতুর্থ পর্ব  – https://bit.ly/2CPbF1s
আল্লাহ আমাদের হেদায়তের উপর অটল রাখুন। আমিন

 

৮. স্বপ্নদোষ নিয়ে ঝামেলায় আছি/ অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ হচ্ছে/ কিভাবে মুক্তি পাবো এ থেকে?

স্বপ্নদোষ অস্বাভাবিক কিছু না। প্রাপ্ত বয়স্কদের এটি হয়ে থাকে। এতে কোনো ক্ষতি/গুনাহ নেই। দুশ্চিন্তা করবেন না। শরীর দুর্বল লাগলে বেশি বেশি পুষ্টিকর খাবার খান। এই লিখাটি অবশ্যই পড়বেন- https://tinyurl.com/yah2hk3s

– ঘুমানোর ঠিক আগে পানি খাবেন না, অন্তত ১ ঘন্টা আগে পানি খাবেন,
– ঘুমানোর আগে ভালোভাবে প্রসাব করে অযু করে নিবেন,
– ঢিলাঢালা প্যান্ট বা লুঙ্গি পরে ঘুমাবেন
– উপুড় হয়ে শুবেন না। ঘুমাতে যান ডান দিকে কাত হয়ে।

– পর্ন কোনোমতেই দেখা যাবেনা। অশ্লীল চিন্তা করা যাবেনা কোনোমতেই। চিন্তাভাবনা কীভাবে কন্ট্রোল করবেন জানতে পড়ুন- ‘ফাঁদ’ (চতুর্থ পর্ব  – https://bit.ly/2CPbF1s

যদি মন খচখচ করতেই থাকে তাহলে এই লিখার সমাধান ট্রাই করতে পারেন – https://ruqyahbd.org/blog/312/zina

প্রশ্ন থাকলে যোগাযোগ করতে পারেনঃ https://www.facebook.com/groups/ruqyahbd/

স্বপ্নদোষ হলে উঠে ফরজ গোসল করে নিবেন। ফরজ গোসলের নিয়ম জানতে মুফতি মনসুরুল হক এর ‘কিতাবুস সুন্নাহ’ বইটির ( পিডিএফ- http://www.darsemansoor.com/wp-content/uploads/2017/12/kitabus_sunnah.pdf ) পৃষ্ঠা ১৪-১৬ পড়ে ফেলুন।

.

স্বপ্নদোষ হয়ে যাবার পর অনেকের অনেক উত্তেজনা আসে শরীরে। রাতের স্বপ্নগুলা মাথার মধ্যে ঘোরাফেরা করে। পর্ন দেখতে বা মাস্টারবেট করতে মন চায়। খুব সাবধান থাকবেন। শয়তান আপনাকে খুব বেশি ওয়াসওয়াসা দিবে। দ্রুত গোসল করে ফেলবেন। বিছানা ত্যাগ করবেন। মন খারাপ করে শুয়ে বসে থাকবেন না। এই লিখার টিপস http://tinyurl.com/y58njrm9 অনুযায়ী আপনি  ডায়েরীতে  লিখে রেখেছিলেন কেন মাস্টারবেশন ছাড়তে চান, পর্ন দেখা ছাড়তে চান, এগুলো করার বা দেখার ঠিক পর পরের মন খারাপের অনুভূতি ইত্যাদি … ঐ ডায়েরী বের করে বারবার পড়বেন। মাথায় যখন বাজে চিন্তা আসবে তখন এই লিখা অনুযায়ী আমল করবেন- http://tinyurl.com/y65qp7a2 , http://tinyurl.com/yydw4ss7

মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটা পড়বেন। মৃত্যু,পরকাল জান্নাত জাহান্নাম নিয়ে ভাববেন।

.

এইদিন স্মার্টফোন থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করবেন। বিছানা থেকে দূরে থাকবেন যতোটুকু পারেন। বাহিরে ঘোরাঘুরি করবেন। খেলাধুলা করবেন। ভালোবন্ধু, বাবা মা, ভাইবোনদের সাথে সময় কাটাবেন। গোসল করার সময় বিশেষ করে লজ্জাস্থান ধোয়ার সময় খুব সাবধান থাকবেন। শরীরে কাপড় রাখবেন। একবারে সব কাপড় খুলে গোসল করবেন না। বাথরুমে যাবার আগে আল্লাহ্‌র কাছে দু’আ করে যাবেন। তিনি যেন আপনাকে হেফাযত করেন।  বাথরুমের বাহিরে মোবাইলে কুরআন ছেড়ে রাখবেন। সাবধান বাথরুমের ভেতরে মোবাইল রেখে কখনো কুরআন ছেড়ে রাখবেননা।  বেশি সময় থাকবেন না বাথরুমে। এটা নবীর(সাঃ) সুন্নাহ পরিপন্থী কাজ।বাথরুমে প্রবেশের দু’আ পড়বেন। বের হবার পরেও দু’আ পড়বেন। হিসনুল মুসলিমিন এপ্স দেখে বা দু’আর বই দেখে শিখে নেবেন। লিংক- https://tinyurl.com/y44avesm  (ios), https://tinyurl.com/h7w2tpj  (android)

 

৯. আমি ঘুমের মাঝে হস্থমৈথুন করি, নিজের অজান্তে। এটা যখন হয় শেষের দিকে আমি টের পাই। কিন্তু ততক্ষনে যা হবার হয়ে গেছে।পর্ন দেখা ছেড়েছি বাট এটা পারছি না।

 

ঘুমের মধ্যে বীর্য পাত অস্বাভাবিক কিছু না। এটা স্বপ্নদোষ বলেই মনে হচ্ছে। (স্বপ্নদোষের প্রশ্নের জন্য যে উত্তর দিয়েছিলেন সেটিই দিবেন)

– ঘুমানোর ঠিক আগে পানি খাবেন না, অন্তত ১ ঘন্টা আগে পানি খাবেন,
– ঘুমানোর আগে ভালোভাবে প্রসাব করে অযু করে নিবেন,
– ঢিলাঢালা প্যান্ট বা লুঙ্গি পরে ঘুমাবেন
– উপুড় হয়ে শুবেন না। ঘুমাতে যান ডান দিকে কাত হয়ে।

– পর্ন কোনোমতেই দেখা যাবেনা। অশ্লীল চিন্তা করা যাবেনা কোনোমতেই। চিন্তাভাবনা কীভাবে কন্ট্রোল করবেন জানতে পড়ুন- ‘ফাঁদ’ (চতুর্থ পর্ব  – https://bit.ly/2CPbF1s

 

আর অবশ্যই এই লিখার সমাধান ট্রাই করুন- https://ruqyahbd.org/blog/312/zina

প্রশ্ন থাকলে যোগাযোগ করতে পারেনঃ https://www.facebook.com/groups/ruqyahbd/

 

১০. লিংগ উত্তেজিত থাকলে মাঝেমাঝে এক প্রকার রস বের হয়। এইটা কি বীর্য? ফরজ গোসল করতে হবে?

এটাকে কামরস বা মযী বলে। ‘কামরস বা মযী’ সাদা স্বচ্ছ পিচ্ছিল পানি। যৌন উত্তেজনার সময় এটি বের হয়; যৌন চিন্তার ফলে কিংবা অন্য কোন কারণে। এটি বের হওয়ার সময় সুখানুভূতি হয় না এবং এটি বের হওয়ার পর যৌন নিস্তেজতা আসে না। এটি নাপাক, শরীরে লাগলে ধুয়ে ফেলা ফরয। কাপড়ে লাগলে ওই অংশটুকু ধুয়ে নিন। কামরস বের হলে ওজু ভেঙ্গে যাবে। কামরস বের হওয়ার কারণে গোসল ফরয হয় না। সোর্সঃ https://islamqa.info/bn/answers/99507

 

আমরা খুব ছোটো মানুষ। আমাদের লিখার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ্‌।  যেকোনো ধরণের পরামর্শ বা সাজেশন  হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ …

পড়ুন আগের পর্বগুলোঃ

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (প্রথম পর্ব) 

শেয়ার করুনঃ
নীল কৃষ্ণগহ্বর

নীল কৃষ্ণগহ্বর

(লিখেছেনঃ ডা. শামসুল আরেফীন)

ভূমিকা  

সবারই একটা অতীত থাকে। আজকের দরবেশেরও একটা অতীত ছিল। আজকের পাপীরও একটা ভবিষ্যত আছে। যাকে গুনাহ করতে দেখলেন, হয়তো তাকে দীর্ঘ লড়াইয়ের ‘একটা খণ্ডযুদ্ধে’ পরাস্ত হতে দেখলেন। সারাদিন এমন কতশত যুদ্ধে সে বিজয়মাল্য পড়ে, তা আপনার আমার জানারও কায়দা নেই। এজন্য বদ ধারণা করব না, হতাশ হব না। জীবনটাই যুদ্ধ, অদৃশ্য শত্রু নফস আর শয়তানের বিরুদ্ধে অসম যুদ্ধ। কখনও জিতব, কখনও হারব। তবে লড়া থামবে না, আত্মসমর্পণ করা চলবে না। অনেক ভাই নীল কৃষ্ণগহ্বরে আটকা পড়েছেন। উঠে আসার আকুতি বুকে নিয়ে কেউ উঠে এসেছেন অলরেডি, কেউ পা হড়কে পিছলে যাচ্ছেন, আবার উঠে আসবার চেষ্টা করছেন। দ্রুত মূল টপিকে চলে গেলাম। অনেক আলোচনা। বাই দ্য ওয়ে, আগে নিয়ত সহীহ করে নিই। এই লেখাটা লিখছি, নিজে প্রতিদিন একবার করে পড়ব বলে। আর এটা যদি কারো বিজয়ের উসীলা হয়, তাহলে আমার পরাজয়গুলো তার দুআয় মাফ হয়ে যেতেও পারে। আল্লাহুম্মা আমীন। পর্ন দেখা একটা নেশা। মাদক আমাদের ব্রেনের যে জায়গাগুলোকে উত্তেজিত করে, পর্নও তাই। আমাদের ছোট ছোট প্রতিটি আনন্দের অনুভূতির মাধ্যম হিসেবে কাজ করে ব্রেনের এক প্রকার কেমিক্যাল— ডোপামিন। অল্প অল্প করে বের হয়ে আনন্দের অনুভূতি তৈরি হয়। মাদক যে কাজটা করে, অনেক পরিমাণে ডোপামিন বের করে, ফলে অনেক বেশি মজা লাগে। একই পরিমাণ মজা মাদকাসক্ত আবার পেতে চায়, তাই বার বার নেয়। আসক্তি হয়ে গেল। এরপর যে পরিমাণ ডোপামিন বেরোলে মজাটা হত, সেই পরিমাণ ডোপামিন বের করতে মাদকের ডোজ বাড়াতে হয়, আগের ডোজে আর ঐ পরিমাণ বেরোয় না। পর্নোতেও একই ঘটনা ঘটে, একটা পর্যায়ে একই জাতীয় পর্নো আর ভাল্লাগে না, বৈচিত্র চাই। আমার মতে, মাদকের মতই পর্নো ছেড়ে দিতে চাইলাম, আর দিয়ে দিলাম, ব্যাপারটা এমন না হবার সম্ভাবনাই বেশি। কয়েকস্তরবিশিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেয়া চাই। কিছু জিনিস ছাড়তে হবে, আর মজার কিছু খোরাকও ব্রেনকে দিতে হবে। পর্ন যে পরিমাণ ডোপামিন নিঃসরণ করতো, ঐ পরিমাণ ডোপামিন আপনাকে বিকল্পপথে সরবরাহ করতে হবে।

১. ব্যক্তিগত আচার:

  • পেশাব-পায়খানা-গোসল সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে না করা। যদিও জায়েজ, আল্লাহকে লজ্জা করার একটা অভ্যাস তৈরির জন্য করব। একান্ত প্রয়োজনের সময় আল্লাহকে লজ্জা করা অভ্যাস হলে, গুনাহের সময়ও লজ্জা চলে আসবে।
  • নিজ লজ্জাস্থানের দিকে না তাকানো, স্পর্শ না করা। উসমান রা. তাকাতেন না। শয়তানের ধোঁকা আসতে পারে। প্লাস লজ্জার প্র্যাকটিস।
  • কোলবালিশ ব্যবহার না করা। ঘর্ষণে কামভাব জাগতে পারে।

২. আদাবুল ইন্তারনেত:

  • বিছানায় শুয়ে মোবাইলে নেট ইউজ করবো না, বসে করব।
  • অহেতুক ইন্টারনেট ব্রাউজ করব না। অহেতুক ফেসবুক স্ক্রল করব না।
  • রাত ১০টার পর নেটের সাথে কোন সম্পর্ক রাখব না।
  • একাকী যখন থাকব তখন নেট ব্যবহার করব না। সবার সামনে করব।
  • ধরেন টাইম মেশিনে করে গিয়ে একজন সাহাবী রা.কে যদি আজকের যুগে আনা যেত তিনি কী করতেন জানেন? তিনি ইন্টারনেটই ব্যবহার করতেন না, স্মার্টফোনই ব্যবহার করতেন না। যে জিনিস আমাকে আল্লাহর কাছে আসতে দেয় না, রসূলের বিরাগভাজন করে, সেই জিনিসই রাখব না। তাঁরা এমনই ছিলেন। নামাযের মধ্যে বাগানের কথা মনে পড়েছে, ঐ বাগানই সদকা করে দিতেন। জিহাদের শাহাদাতের মাঝে নববধূর চেহারা ভেসে উঠেছে, যাহ বিবিই তালাক। জিহাদ থেকে পালানোর চিন্তা আসতে পারে, ঘোড়াই মেরে ফেলব, যাতে পালাতে না পারি। যে বস্তু আমাকে আল্লাহ থেকে, জান্নাত থেকে দূরে নিয়ে যায়, সেই বস্তুই ত্যাগ করতেন। গুনাহ ত্যাগ করার জন্য, গুনাহ হবার সকল সম্ভাব্য পথকেই ত্যাগ করতেন। এটাই ‘সীরাতাল্লাযীনা আন’আমতা আলাইহিম’, সাহাবাদের পদ্ধতি। নিজেকে এই অবস্থার উপর তৈরি করতে হবে। টার্গেট ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি’, এর জন্য যা লাগে করতে প্রস্তুত, যতটুকু লাগে করতে লাব্বাইক।
  • হ্যাঁ, ইন্টারনেটে অনেক লাভ আছে। ইনফ্যাক্ট এই লেখাটাও ইন্টারনেটেই পড়ছেন। তবে ইন্টারনেট যার পর্নো-হস্তমৈথুনের কারণ হচ্ছে, তার জন্য এসব লাভ কোনো লাভই না। তার লাভের চেয়ে লস হচ্ছে ঢের ঢের বেশি।

৩. সামান্য ছিদ্র:

এই পয়েন্টটা খুব বুঝার আছে। উস্তায উমায়ের কোব্বাদি হাফিজাহুল্লাহ বলেন, একই গুনাহ বার বার হচ্ছে, মানে এটা নফসের গুনাহ, শয়তানের না। তবে শয়তান নফসকে জাগিয়ে দেয়। আর নফস নিজের চাহিদা পুরা করার সুযোগ খোঁজে। ধরেন আপনি খুব ডিটারমাইন্ড, হয় এস্পার নয় ওস্পার। আর পর্নো দেখব না, হস্তমৈথুন করব না। আপনার প্রতিজ্ঞায় কোন খুঁত নেই। কিন্তু ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ সুন্দরী কোন মেয়ের ছবি চলে এল, বা ফ্যাশনের পেজের কোন মডেল চলে এলো, তেমন উগ্র পোশাকও না। আপনি কিছুক্ষণ দেখলেন। আপনার প্রতিরোধ ব্যবস্থায় একটা ছিদ্র তৈরি হল। এই ছিদ্র বড় হতে থাকবে সারাদিন ধরে, এক পর্যায়ে অঘটন ঘটে যাবে। খুব খেয়াল করে দেখবেন, যেদিন অঘটন ঘটেছে সেদিন হয় এমন কিছু দেখেছেন,

– বা কোন গান-নাচ দেখেছেন,
– বা সিনেমা,
– বা পোস্টার চোখে পড়েছে, আপনি চোখ না সরিয়ে একটু দেখেছেন,
– কিংবা কোন পথচারী মেয়েকে একটু দেখেছেন।
– বা কোন ফরজ/সুন্নাত নামায ইচ্ছে করে ছুটেছে,
– বা রোজানা করেন এমন কোন নফল আমল অলসতা করে বাদ দিয়েছেন ইচ্ছে করে।

মানে ‘আল্লাহর স্মরণ’ হল ব্যারিকেড, এই ব্যারিকেডে যেকোন সামান্য ছিদ্রের সুযোগটা শয়তান নেবে। ঐ ছিদ্র দিয়ে নফসকে একটা খোঁচা দিয়ে জাগাবে। বাকিটুকু নফসেই করে নেবে। অতএব গাফেল থাকা যাবে না—

  • গান শোনা-নাটক-সিনেমার অভ্যাস বাদ দিতে না পারলে পর্ন-হস্তমৈথুন ছাড়ার চিন্তাও বাদ দেন।
  • নজরের হিফাজতে কোন কম্প্রোমাইজ নয়। নজর নিচে। কুরআনে আছে, শয়তান ওয়াদা করেছে, আদমসন্তানকে পথভ্রষ্ট করার জন্য আমি সামনে থেকে, পিছন থেকে ডানে থেকে, বামে থেকে আসব। উপর আর নিচ বলেনি। উপর দিকে তাকিয়ে রাস্তায় হাঁটলে আহত হবার সম্ভাবনা, তাই নিচের দিকে তাকিয়ে হাঁটা চাই। শুধু পর্নো না, সবরকম কুদৃষ্টির হিফাজত করতে হবে, কোন ছিদ্র রাখা যাবে না। নজর হেফাজতের পদক্ষেপ: (শাইখ উমায়ের কোব্বাদি-র মজলিস থেকে)
– অবনত চোখে চলা
– কুদৃষ্টির চাহিদা স্ত্রীর সাথে পুরা করা
– যার প্রতি কুদৃষ্টি পড়ল, তাকে নিজ মা-বোনের স্থানে কল্পনা করা। তবে এটার সুযোগ নেয়া যাবে না।
– সাথে সাথে ইস্তিগফার
– সর্বদা যিকিরের সাথে চলা। শয়তান যেন যিকিরের হাতিয়ার ছিনিয়ে নিতে না পারে।
– কৃপণ হলে অর্থের জরিমানা, অলস হলে আমলের জরিমানা (২ রাকাত সালাত) প্রতিবার খিয়ানতে।
– আজাবের কল্পনা, চোখে গরম শলাকা ঢূকানোর যাতনা কল্পনা করা। যে চোখ সামান্য বালি সহ্য করতে পারে না, তাতে জ্বলন্ত শলাকা ঢুকলে কেমন লাগবে?
  • নারী/ নারী ছবির দিকে প্রথম দৃষ্টি থেকেও বাঁচতে হবে। যদি আভাস পাওয়া যায় যে এটা একজন নারী, প্রথম দৃষ্টিও দেয়া যাবে না।
  • প্রতিদিন আপনি যে নফল আমলগুলো করেন, সেগুলো ইচ্ছে করে অলসতা করে বাদ দেবেন না।
  • ফরজ যেন না ছোটে, বিশেষ করে জামাতের সাথে নামায।
  • যেদিন প্রতিরক্ষায় ফাটল দেখা দিল, ঐদিন এক্সট্রা প্রতিরক্ষা জোরদার করতে হবে। কী করতে হবে নিচে বলছি।
  • যেদিন আপনার অঘটন ঘটে, সেদিন একবারের জন্য হলেও ক্ষুধাটা নফস আগে জানান দেয়। ধরেন, আজ বাসায় কেউ থাকবে না, বেড়াতে যাবে। তো তারা যাবার আগেই নফস আমাকে একবার মনে করিয়ে দেবে, আজ কিন্তু সুযোগ। এই পূর্বাভাস থেকে ঐদিন প্রতিরক্ষা জোরদার করতে হবে—
– ডিভাইসের সাথে দূরত্ব,
– ইন্টারনেট টোটাল বন্ধ,
– ডিভাইসের চার্জ না রাখা,
– নিজেকে বাইরের কাজে ব্যস্ত রাখা,
– এক্সট্রা নফল আমল করা,
– ব্যায়াম জাতীয় ক্লান্তিকর কাজ করা যাতে তাড়াতাড়ি ঘুম চলে আসে। বিকেলের দিকে ব্যায়াম করবেন, দৌড়াবেন। তাহলেও এশার পরে ভেঙ্গেচুরে ঘুম চলে আসবে।
– আমি কয়েকবার ঘুমের ওষুধ খেয়ে বাঁচার চেষ্টা করেছিলাম, আপনারা করবেন না, ওষুধ ভাল জিনিস না।

৪. কবে থেকে শুরু:

আজ থেকেই, এখন থেকেই শুরু। একটা ধোঁকা খুব আসে, আজকেই শেষবারের মত। আজকে একবার করে নেক্সট থেকে ভালো হয়ে যাব। না, এবার থেকেই লড়াই শুরু, এই মুহূর্ত থেকেই। আজগেই তোর-আমার মধ্যে একটা হেস্তনেস্ত করতে হবে। আজকে বেঁচে গেলেই আল্লাহর কাছে আমার ধাম করে প্রোমোশান হবে। হারাম থেকে বাঁচলে আল্লাহ হালালের ভিতরে ঐ হারামের হাজারগুণ বেশি স্বাদ দান করবেন। দুয়া করুন: ইয়া আল্লাহ, হালালের ভিতর এই পরিমাণ স্বাদ দান করুন যেন হারাম থেকে বাঁচতে পারি।

৫. কোন বাজে চিন্তা এলে:

অনেক সময় বাজে চিন্তা এসে পড়ে। আগের কোন নায়িকা বা পর্ন তারকার কোন দৃশ্য ভেসে ওঠে, এটা শয়তানের পক্ষ থেকে। কোন বদখেয়াল এলে চিন্তাকে ঘুরিয়ে দিতে হবে। হযরত আশরাফ আলী থানভী রাহ. বলেন, বদচিন্তা সমস্যার সমাধান হল ভ্রুক্ষেপহীনতা। মন্দ চিন্তা যদি আসে তবে আসুক। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই। এই চিন্তাই করবেন না যে, কী চিন্তা আসছে আর কী যাচ্ছে [1]

তবে এই চিন্তা ঘুরানোটা প্র্যাকটিসের বিষয়, একদিনে হবে না। প্র্যাকটিস হলো নামায আর যিকরুল্লাহ। যিকিরে-নামাযে ‘ছুটে যাওয়া’ মনকে বার বার ফিরিয়ে আনার অনুশীলন করি আমরা। প্র্যাকটিস করে করে মনের স্টিয়ারিং ঘুরানো সহজ হয়ে যাবে, প্রথম প্রথম অন্তরের উপর ভারি লাগবে। ধীরে ধীরে বিজয়ের আনন্দ হয়ে হয়ে একদম পানিভাত হয়ে যাবে।

নামায সকল অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে। অনেক হিকমাহ রয়েছে, তার মধ্যে এটাও একটা যে, আমি যদি নামাযে আমার মনকে ধরে রাখতে পারি সব ডিস্ট্রাকশানকে (মনোবিচ্ছিন্নতা) বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। তাহলে গুনাহের চিন্তাকেও শ্যাডো করে খেলা সহজ হয়ে যাবে। আল্টিমেটলি গুনাহটা ছেড়ে দেয়া সম্ভব হবে, যদি গুনাহের চিন্তাকে এড়িয়ে যেতে পারা যায়।

গুনাহের চিন্তা আসাটা গুনাহ না, তবে সেই চিন্তাটা লালন করে স্বাদ নিলে একসময় বাস্তবে করেও ফেলবেন।

৬. আমল:

কিছু আমলের কথা আলোচনায় আসবে। তবে দরজা খোলা রেখে আলমারিতে তালা দিয়ে লাভ নেই। মানে যথেষ্ট সতর্কতা নিয়ে এরপর আমলগুলো করলে কাজে দিবে। পর্নো দেখার উপায় সাথে রেখে (নেট+ডিভাইস) এগুলো খুব বেশিদিন আপনাকে ধরে রাখতে পারবে না। আগে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এরপর আমলগুলো করলে ফায়দা হবে।

  • নফল আমল বেশি বেশি। নফল সালাত (তাহাজ্জুদ, ইশরাক [2], চাশত [3], আওয়াবীন [4]), কুরআন তিলওয়াত, সকাল সন্ধ্যা যিকরের ওজীফা (সুবহানাল্লাহ-আলহামদুলিল্লাহ-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-আল্লাহু আকবার-লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ-ইস্তিগফার-দরুদ ১০০ বার করে প্রতিটা) কঠোরভাবে আদায় করতে থাকা। এগুলো হচ্ছে গুনাহ থেকে বাঁচার ব্যারিকেড। কেননা হাদিসে কুদসীতে আল্লাহ তাআলা বলেন:বান্দা নফল আমলের দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করে। এক পর্যায়ে আমি তার চোখ হই যা দ্বারা সে দেখে, আমি তার কান হই যা দ্বারা সে শোনে, আমি তার পা হই যা দ্বারা সে চলে। (অর্থাৎ সব অঙ্গের কাজকর্ম আল্লাহর ইচ্ছাধীন হয়ে যায়)।
  • রোজানা দাওয়াহ/ নাসীহা। মানে নিজের জবান দিয়ে এই কথাগুলো বের করা: আল্লাহ বাসীর (সর্বদ্রষ্টা), আল্লাহ শাহীদ (উপস্থিত), লাত্বীফুল খাবীর (গোপন বিষয় ও সর্ববিষয় অবগত)। আল্লাহর এই সিফতগুলোর আলোচনা যেন আমার জিহবায় থাকে। এক আসমান আরেক আসমানকে আড়াল করতে পারে না, এক যমীন আরেক যমীনকে তাঁর দৃষ্টির আড়ালে নিতে পারে না। একেলা গুনাহ করা যেন খোদ বিচারক নিজেই এখানে সাক্ষী। যে বিষয়ের দাওয়াত দিব, সেটা আমার ভিতরে আগে আসবে। এজন্য গোপন গুনাহ ত্যাগের বিষয়ের প্রতিদিন দাওয়াত দিব।
  • প্রতিদিন ফজরের পর ১০ বার সূরা ইখলাস। লাভ হল, ঐদিন তার দ্বারা কোনো গুনাহ হবে না, যদি সে গুনাহ ছাড়ার সংকল্পের উপর থাকে। মানে দুর্ঘটনাবশত কোন গুনাহ আচানক হয়ে যাবে না। এটা হাদিস, রেফারেন্স এই মুহূর্তে দিতে পারছি না।
  • প্রতি ফরজ নামাযের পর সূরা তাওবার শেষ দুই আয়াত পড়ে গা মাসেহ করা। এটা হাদিস না সম্ভবত। কোথাও পেয়েছিলাম। ভালো কাজ হয়।
  • নফল সিয়াম তো আছেই। এক টানা নয়। একদিন বাদে একদিন, দাউদ আ. এর রোযা। তবে অপুষ্টি যেন না হয়। ডায়েট ঠিক করে নিতে হবে।
  • প্রতিদিন কোন সময় শুধু দুয়া করা। ১০-১৫ মিনিট। আয় আল্লাহ, নফসকে দেখি না, শয়তানকেও দেখি না। আপনি সব দেখেন। আপনি সবার উপর ক্ষমতা রাখেন, ওরা আপনার উপর ক্ষমতা রাখে না। আয় আল্লাহ, এরা সব আপনার মাখলুক। আপনার এসব মাখলুকের ক্ষতি থেকে আমাকে বাঁচান। সদকার সাথে দুয়া বেশি কবুল।
  • কে যেন বেশি বেশি ‘সূরা নাস’ আর ‘সূরা ফালাক্ব’ পড়তে বলেছিল। অর্থ বুঝে বুঝে। সূরা ফালাক্বে মাখলুকের ক্ষতি থেকে হিফাজতের কথা আছে, আর সূরা নাসে মানুষ ও জ্বীন শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে।
  • বিয়ের ফিকির করা যেতে পারে। তবে বিয়ে করলেই মুক্তি পাবেন, তা কিন্তু না। বিয়ে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু আপনাকে গিলিয়ে চামচে করে খাইয়ে দেবে না।
  • রমাদান কিন্তু সবচেয়ে বড় মওকা। রমাদানের বিধান দেয়াই হয়েছে যাতে আমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারি।

 

৭. গুনাহ হয়ে গেলে:

শয়তানের সবচেয়ে প্রিয় শিকার হল ‘হতাশ মুমিন’। এজন্য আল্লাহ তাঁর রহমত হতে নিরাশ না হতে বলেছেন। কোথায় যেন পড়েছিলাম, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে যাওয়া হারাম। শিরক ছাড়া আর সকল গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দেবার সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের গুনাহের সমষ্টির চেয়েও আল্লাহর রহমত আরও বেশি। তাঁর রাগের উপর রহমত বিজয়ী। এজন্য কখনো হতাশ হওয়া যাবে না। এতো প্রচেষ্টার পরও গুনাহ হয়ে যেতে পারে, অসতর্ক মুহূর্তে শয়তান দিয়ে দিতে পারে ধোঁকা। আল্লাহর ‘দয়া’র ভুল ব্যাখ্যা করেই ধোঁকা আসতে পারে। এর পরের বার থেকে ভালো হয়ে যাবার আশা দিয়ে গুনাহ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু নিরাশ হওয়া যাবে না। আবার উঠে দাঁড়াতে হবে। আগে পিওর তাওবা করেছিলাম, গুনাহ হয়েছে, আবার পিওর তাওবা করতে হবে।

  • প্রতিবার নির্ভেজাল তাওবার অভ্যাস থাকতে হবে। তাওবা মানে বুকে ছ্যাপ দিয়ে ‘তৌবা তৌবা’ বা ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়া না। তাওবা মানে ‘ফিরে আসা’, ইউটার্ন। ৩ জিনিসের সম্মিলিত নাম তাওবা:-
– প্রথমত, গুনাহটার উপর অনুশোচনা। ইস, করে ফেললাম। ইস, যদি না করতাম।
– দ্বিতীয়ত, আর না করার সংকল্প। সামনে আর জীবনেও করবো না। যেহেতু তাওবা তসবী টিপে ১০০ বার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়ার নাম না। তাওবা হল আপনার আর আল্লাহর মাঝে একটা অমৌখিক চুক্তি। তাই আসলেই আপনার অনুশোচনা হয়েছে কি না, বা আসলেই আপনি সামনে আর না করার সংকল্প করলেন কী না, বা সংকল্পটা ইস্পাত না তুলতুলে— এগুলোতে লুকোছাপা বা জোচ্চুরি চলে না।
– তৃতীয়ত, যা করেছি, তা ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব হলে।

প্রতিবার নির্ভেজাল তাওবার অভ্যাস একদিন আপনাকে গুনাহ ছাড়িয়ে দিবে ইনশাআল্লাহ। তাওবা নিয়ে তাবলীগের এক মুরুব্বি একটা উদাহরণ দিয়েছিলেন, আমার খুব মনে ধরেছিল:

এক গ্রামের মহিলা শীতের শেষে শীতের কাপড়চোপড়-কম্বলটম্বল জ্বাল দিবে। সারাবছরের জন্য তুলে রাখতে হবে তো, তাই। এজন্য বড় ডেকচিতে পানি গরম দিচ্ছিল। হঠাৎ মায়ের কী যেন মনে হল, উর্ধ্বশ্বাসে ছুটে একটু উঠোনে গেল, ধরেন বাথরুমেই পেয়েছে। খেয়াল নেই যে পাকঘরের দরজা আটকাতে হবে। মা যখন টয়লেটে, এর মধ্যে আড়াই বছরের বাচ্চাটা মায়ের খোঁজে এসে ডেগচিতে পড়ে সিদ্ধ হয়ে ভাসছে। এখন মা ফিরে এসে পাকঘরে পা দিয়ে ডেগচির দিকে তাকিয়ে মায়ের প্রথম অনুভূতিটা কেমন হবে? হায়, আমি কী করলাম। হায় আমি কেন পাকঘরের দরজা আটকায়ে গেলাম না। এই অনুভূতিটা হল তাওবা। এক কঠিন অপরাধবোধ। ঐ মা, সারাজীবন এটা ভুলবে না, আরও ১০টা বাচ্চা হলেও এই ঘটনা ভুলবে না, এবং আর কোনোদিন পাকঘরের দরজা না আটকে যাবে না। এই অনুভূতি আসা চাই গুনাহ হবার পর।

আর, তাওবার পর যদি গুনাহের কথা ভেবে মজা লাগে, তাহলে ধরে নেবেন তাওবা কবুল হয়নি। সবচেয়ে বড় কথা আল্লাহর কাছে ‘তাওবাতুন নাসুহা’র দুয়া করতে হবে, এমন তাওবা যা থেকে আর ফিরে আসা যায় না।

  • গুনাহ হয়ে গেলে নিজেকে শাস্তি দেয়া যেতে পারে। অনেক আলিম এই পরামর্শ দিয়েছেন। একবার গুনাহ হয়ে গেলে ২০ রাকাআত নফল নামায, বা ৩ টা রোযা। এভাবে একটা পরিমাণ ঠিক করে নিলে ধীরে ধীরে কাজ হবে।
  • গুনাহ হয়ে গেলে হাদিসের হুকুম সাথে সাথে কোনো নেক আমল করা। সাহাবী জিগ্যেস করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-ও কি একটা নেক আমল’। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: অবশ্যই।
  • মেমোরিতে ক্লিপ ডাউনলোড রেখে বা বুকমার্ক সেভ করে রেখে বা ডাউনলোড করা পর্ন কোন ড্রাইভে সেভ রেখে মোবাইল থেকে ডিলিট করে দিয়ে তাওবা হবে না। সামনে আবার লাগবে, সামনে আবার গুনাহ করার জন্য রেখে দিলাম, আবার মুখে মুখে তাওবার দাবি করলে তাওবা হলো? আপনি নিজেই জানেন আপনি তাওবা করেছেন কী না।

 

৮. বিবাহিতদের জন্য:

অনেকে বিয়ে করেও এই সর্বনাশা ফাঁদ থেকে বেরুতে পারছেন না। অসভ্য জিনিস দেখে দেখে রুচিটাই এমন হয়ে গেছে, সভ্য একটা মেয়ে আর আপনার রোচে না। পর্নোবেশ্যাদের ছলাকলা নখরা ঐ পবিত্র গৃহবধূ জানবে কোত্থেকে। তাই আপনি আড়াল খোঁজেন, বউ থেকে আলাদা হলেই হারিয়ে যান নীল কৃষ্ণগহ্বরে।

  • বউ ছাড়া না থাকার চেষ্টা করবেন।
  • প্রতিদিন সহবাস করবেন, যাদের বেশি পর্নের অভ্যাস। তাহলে চাহিদা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। প্রতিবারই স্ত্রীকে অর্গাজম করাতে হবে এমন না। খাওয়াদাওয়া ঠিক থাকলে দুর্বল লাগার কথা না।
  • মনে ওয়াসওয়াসা এলে, বা প্রতিরক্ষায় ফাটল এলে, বা গুনাহের স্বাদের কথা স্মরণ এলে সাথে সাথে বা দ্রুত স্ত্রীর সাথে প্রয়োজন পুরা করে ফেলবেন। প্রয়োজনটা রেখে দিবেন না। নফসকে কোনো চান্স দেয়া যাবে না। প্রয়োজনটা রেখে দিলে সুযোগমত নফস গুনাহ করিয়ে দেবে।
  • স্ত্রীকে পছন্দের পোশাক ইত্যাদি কিনে দেবেন। মানে নতুন বেশে দেখবেন। নতুনত্বের আকাঙ্ক্ষা একটু হলেও চেক দেয়া যাবে। ব্রেনকে কিছু সারপ্রাইজ দিতে হবে, কিছু ডোপামিন রিওয়ার্ড দিতে হবে। সামনে আলোচনায় আসছে।
  • এই সর্বনাশা রোগ থেকে বাঁচতে স্ত্রীদেরও সহায়তা দরকার। এটা স্ত্রীকে বুঝাবেন। তাঁর সহায়তা পেলে আপনার ছাড়া সহজ হবে। ‘মুক্ত বাতাসের খোঁজে’ বইয়ে বিস্তারিত আছে।

 

৯. নজরের হিফাজতের কিছু মোটিভেশান:

  • মানহাজ নির্বিশেষে শাইখ যুলফিকার আহমদ নকশবন্দী হাফিযাহুল্লাহ-র ‘যৌবনের মৌবনে’ বইটা প্রতিদিন পড়া চাই। আরেকটা বই ‘ঘুরে দাঁড়াও’, লেখক ওয়ায়েল ইব্রাহীম। এগুলো প্র্যাক্টিস বুক। প্রতিদিন একটু করে পড়া চাই, পড়ে ফেলে রাখলে হবে না।

– গোপন গুনাহ আল্লাহর অহংকারে আঘাত করে। আল্লাহর রহমত যেমন সবচেয়ে বেশি, তাঁর অহংকারও বেশি, অহংকার তাঁরই সাজে, অহংকার আল্লাহর চাদর। হাদিসে এসেছে কাল হাশরের মাঠে কিছু মানুষ তিহামা পাহাড়ের সমান নেকী নিয়ে উঠবে, কিন্তু সব শেষ হয়ে যাবে। সাহাবীরা যখন জিগ্যেস করলেন, তাঁড়া কারা। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: তারা তোমাদেরই মত আমল করে, রাত্রি জাগরণ করে, কিন্তু একাকী হলেই গোপন গুনাহে লিপ্ত হয়।

– জান্নাতে সবাই আল্লাহকে দেখবে। আল্লাহর দীদার হল জান্নাতীদের জন্য সবচেয়ে বড় নিয়ামত। জান্নাতীরা জান্নাতকে ভুলে যাবে আল্লাহকে দেখার পর। যে চোখ দুনিয়াতে নাপাক জিনিস দেখে সেই চোখ পাক আল্লাহকে কীভাবে দেখবে। ইস কত আফসোস ঐ ব্যক্তির জন্য, যে জান্নাতও পেল কিন্তু আল্লাহকে দেখার নিয়ামত পেলোনা। আমার চোখ আল্লাহকে দেখার যোগ্য আছে কি?

– কাল হাশরের মাঠে সূর্য যখন এক মাইল, আরেক হাদিসে এক হাত উপরে থাকবে। সবাই নিজ আমল পরিমাণ ঘামে হাবুডুবু খাবে। সেই কঠিন উত্তাপে ৭ শ্রেণীর লোক আরশের ছায়ায় থাকবে। তার মাঝে একপ্রকার হল, সেই যুবক যাকে উচ্চবংশীয়া সুন্দরী যুবতী নিজের দিকে ডাকে, আর সে বলে ‘আনা আখফুল্লাহ’, আমি আল্লাহকে ভয় করি। এখন কি কোন সুন্দরী কাউকে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ডাকবে, এসো আমার সাথে যিনা করো। না, এখনকার ভার্সন হল, সুন্দরী নারীর ছবি যুবককে ডাকে— এসো যুবক আমাকে ক্লিক করো, তাহলেই আমাকে পেয়ে যাবে। আমার সবকিছু পেয়ে যাবে। আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি, এসো ক্লিক কর। আর যুবক বলবে, আমি ক্লিক করবো না, আমি তো আল্লাহকে ভয় করি। পরনারীর ভিডিও-ফটো-বিলবোর্ড এগুলোও পরনারীর আহবান।

– নজরের হেফাজত যে করতে পারে না, তার ঈমানের সাথে মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ আছে।

১০. নিজেকে পুরস্কার দিন:

পর্নো দেখা একটা নেশা, আগেই বলেছি। মগজে ডোপামিন ক্ষরণ বাড়িয়ে ‘রিওয়ার্ড সেন্টার’কে উদ্দীপিত করে। আমাদের সব সুখের অনুভূতির জন্য, তৃপ্তির অনুভূতির জন্য এই সেন্টারে ডোপামিনের পরিমাণ দায়ী। এজন্য পর্নো ছাড়ার জন্য বিকল্প পথে আমাকে ডোপামিন সরবরাহ করতে হবে। নিজেকে ছোট ছোট পুরস্কার দিতে হবে, সুখ পাবার ব্যবস্থা করতে হবে। একটু বিস্তারিত বলি। ডোপামিন আমাদের ব্রেইনের একটা ইম্পর্টেন্ট নিউরোট্রান্সমিটার বা নিউরহরমোন। মানে হলো কেমিক্যাল সিগন্যাল, যেটা সব ধরনের আনন্দ/তৃপ্তি/ মোটিভেশানের জন্য প্রধানত দায়ী। আমাদের মগজ সব ধরনের আনন্দের অনুভূতি এভাবে তৈরি করে, সেটা বেতন-বোনাস-লটারী জেতাই হোক, যৌনমিলন হোক, কিংবা হোক নান্নার কাচ্চি, অথবা নেশাদ্রব্য [5]। তবে ড্রাগ এ এলাকায় ডোপামিনের বন্যা বইয়ে দেয়, ফলে এত আনন্দ হয় যেটা আসক্ত লোক বার বার পেতে চায়। এভাবে নেশা বা আসক্তি হয় [6]

– মজাদার জিনিস ছেড়ে দিলে আল্লাহ বিকল্প মজাদার জিনিস দিবেন। এটা আল্লাহর অভ্যাস।
– দৃষ্টি পড়ার পর যে আল্লাহর জন্য দৃষ্টি সরিয়ে নেবে, আল্লাহ জানান: আমি তাকে ঈমানের এমন স্বাদ দিব যা সে অন্তরে অনুভব করবে।

  • নিচের বিষয়গুলো সরাসরি ডোপামিনচালিত রিওয়ার্ড সিস্টেমের সাথে সম্পর্কিত:
– একটা ধ্যানমগ্ন নামাযের পর যে তৃপ্তি, দেখবেন তৃপ্তিটা আবার পেতে ইচ্ছে করে।
– ক্রন্দনময় একটা ইস্তেগফার সেশানের পর যে শীতল অনুভূতি, বার বার পেতে মন চায়
– কুরআন তিলওয়াতের সময় অর্থ বুঝতে পারার আনন্দ বা মজাটা
– সিজদায় পড়ে কান্নার পর ফ্রেশনেস, লম্বা তিলওয়াতের সাথে তাহাজ্জুদ বার বার পড়তে মন চায়

নিজেকে এই রিওয়ার্ডগুলো বার বার দিন।

  • কোনো একটা সাংগঠনিক কাজ করুন। একটা দাওয়াহ প্রোগ্রাম/ তাবলীগী জোড়/ মেহমানদারি/ দরিদ্রদের সাদাকা প্রোগ্রাম/ বা কোন একটা দীনের খেদমত/ শরীয়তসম্মত কোন সোশ্যালওয়ার্ক। দূরে দূরে থেকে নয়। নিজে দায়িত্ব নিয়ে, কষ্ট উঠিয়ে। কাজটা শেষ হবার পর আত্মতৃপ্তিটা রিওয়ার্ড সেন্টারের সাথে রিলেটেড। এরকম কাজ বার বার করুন।
  • নিজের প্রতি আল্লাহর অবারিত নিয়ামত স্মরণ করুন। আল্লাহ আপনাকে কী কী নিয়ামত দিয়েছেন। প্রতিটি নিয়ামত, প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি বৃষ্টির ফোঁটা, সন্তানের সাথে কাটানো প্রতিটি সেকেন্ড, স্ত্রীর সাথে খুনসুটির প্রতিটি শব্দ উপভোগ করুন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। আলহামদুলিল্লাহ শরীর সব রোমকূপ থেকে বলুন। এটাও ডোপামিনকে বাড়াবে। বার বার বলুন। এগুলোতে নেশাসক্ত হোন।

 

১১. যাদের শারীরিক ক্ষতি হয়ে গেছে তাদের কী করণীয়:

  • প্রথমত বদভ্যাস একেবারে ছেড়ে দিতে হবে। দ্বিতীয় কোনো অপশন নেই।
  • অনেকে বিয়ে করতে ভয় পান। যদি সকালে লিঙ্গোত্থান হয় (morning erection), মানে ঘুম থেকে জেগে মাঝে মাঝে লিঙ্গ শক্ত পান, তাহলে নির্ভয়ে বিবাহ করুন। বাকি যেটুকু শেখার বিয়ের আগের রাতে আমাকে বা ডা. মেহেদী ভাইকে নক করে সিলেবাসটা নিয়ে নিন।
  • লিঙ্গের আকার যাই হোক, গঠন বিগড়ে যাক, কোনো সমস্যা নেই। ঠিক করার জন্য কলিকাতা হার্বাল বা শিয়াল/ গন্ধগোকুল তেল মালিশ করবেন না, যেটুকু আছে সেটুকুও হারাবেন না। কিছু টেকনিক জানলে যেটুকু বাকি আছে , ওতেই সর্বোচ্চ উইকেট অর্জন করা সম্ভব। কোনো দুশ্চিন্তা নয়, বৎস।
  • বীর্যের মত পাতলা তরল আসছে/ বীর্য পাতলা হয়ে গেছে/অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ হচ্ছে/ প্রসাবের শেষে আঠালো পদার্থ বের হচ্ছে/ প্রস্রাবের উপরে কী কী যেন ভাসে। যা ইচ্ছা তাই হোক। এগুলা কোন অসুখ না। কলিকাতা হার্বাল আমাদের মনে গেঁথে দিয়েছে, তোমার শরীর থেকে কী না কী বেরিয়ে যাচ্ছে, তু তো গ্যায়া। যা হয় হোক।

এখন শোনেন, ঘটনা কী হয়। বীর্য (semen) ও বীর্যের সহকারী তরল (prostatic fluid) তো উৎপন্ন হতেই থাকে আর একটা বস্তার (seminal vesicle) মধ্যে এসে জমতেই থাকে। যেহেতু এতোদিন বের করে ফেলেছেন, তাই জমে উপচে পড়ার সুযোগ পায় নি। এখন যেহেতু বদভ্যাসটা বাদ দিয়েছেন, তাই জমে ভরে উপচে পড়ছে। ব্যস, এটাই ঘটনা।

কোনো ডাক্তার-ওষুধ কিচ্ছু দরকার নেই। আপনার কাজ শুধু খাওয়া দাওয়া ঠিক রাখা। বীর্য এমনিতেই ঘন হয়ে যাবে, খাবার দাবার ঠিক রাখলে আর বদভ্যাস বাদ দিলে।

যৌনশক্তিবর্ধক খাবার:

– মধু
– তরমুজ
– বাঁধাকপি
– ফুলকপি
– ফলমূল
– প্রচুর পানি
– চীনেবাদাম- কলা
– আপেল
– রসুন
– পেঁয়াজ
– তীন ফল
– পুঁইশাক
– ডালিম
– কুমড়ার বীচি
– মিষ্টি আলু
– ডিম
– মিসওয়াক (indiatimes.com)
– দুধ
– ব্ল্যাক চকলেট

 

নিচের খাবার গুলো পরিহার করুনঃ

– আর্টিফিশিয়াল সুইটেনার (কোক, জুস)
– পপকর্ন
– অতিরিক্ত লবণ
– এলকোহল
– পনির
– রেডমিট অধিক
– সোডা বেভারেজ (কোক, এনার্জি ড্রিংক জাতীয় সব)
– সিগারেট (তামাক জাতীয় সব)
– গাঁজা
– চিংড়ি
– মিন্ট (চকলেটে থাকে)
– বোতলজাত পানি
– বেশি ঝাল/মসলাযুক্ত খাবার (চিপস, চানাচুর)
– বেশি কফি
– জাংক ফুড
  • অনেকের আবার মনে হয় নামাযের মধ্যে কী যেন বেরিয়ে আসছে, বা সবসময় কী যেন বেরোচ্ছে। এগুলো শয়তানের ওয়াসওয়াসা। আপনার মনের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে শয়তান আপনাকে আমলের ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি করে দিচ্ছে। ইগনোর করুন, পাত্তা দেবেন না।
  • আর পায়খানার চাপে বা যেকোন ভাবে পাতলা তরল বের হলে গোসল করতে হয় না, কেবল অযু করে কাপড় বদলে নিলেই চলে। শুধু জোরসে তৃপ্তির সাথে ঘন তরল বের হলে গোসল ফরজ হয়।
  • স্মরণশক্তি কমে যাওয়া, চোখে কম দেখা ইত্যাদির জন্য আসলে কিছু করার নেই। খাওয়া দাওয়া ঠিক রেখে ডাক্তারের পরামর্শ মত চলবেন। এগুলো ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
  • আর দুয়া করতে হবে। আল্লাহ, যে ভুল করার করে ফেলেছি, মাফ করে দেন। আর ভুলের ক্ষতি থেকে বাঁচান।
  • আর যদি লিঙ্গ একেবারেই নিস্তেজ থাকে, মর্নিং ইরেকশনও না হয়। তবে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। দীনদার ডাক্তার হলে ভালো হয়। যেমন :

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বুলবুল (উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল) ও ডাক্তার মারুফ (হলি লাইফ, মালিবাগ রেলগেট)

আর যদি যৌনবাহিত কোন রোগ সন্দেহ করেন তবে দীনদার চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুল্লাহেল কাফী স্যার (খিদমাহ হাসপাতাল)-কে দেখাতে পারেন।

 

১২. সমকাম

আল্লাহ তাআলা একমাত্র শিরকের গুনাহ ছাড়া সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিতে পারেন। বান্দা যদি এক পৃথিবী সমান গুনাহ নিয়ে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হয়, তবে আল্লাহও এক দুনিয়া সমান রহমত নিয়ে তার সামনে হাজির হবেন। আল্লাহর ক্রোধের উপর তাঁর রহমত বিজয়ী। আল্লাহ গুনাহ মাফ করার ক্ষেত্রে কারো পরোয়া করেন না। যতক্ষণ বান্দা তাওবা করে, মাফ চায়, নিরাশ না হয়, ততক্ষণ আল্লাহ তার গুনাহকে মাফ করেন। সুতরাং হতাশ হবেন না ভাই। ফিরে আসুন। চেষ্টা করুন। আবার চেষ্টা করুন। বিদেশে কাউন্সেলিঙের মাধ্যমে কনভার্সনের বহু নজীর আছে। আমাদের দীনই তো সবচেয়ে বড় কাউন্সেলিং।

  • সকল প্রাক্তন সঙ্গীর নাম্বার ডিলিট করুন
  • ফোন নাম্বার চেঞ্জ করুন।
  • ফেসবুক ডিএক্টিভ করুন। একাউন্ট ডিলিট করুন।
  • মসজিদে দীনী সার্কেলে সময় বেশি দিন। দীনী কাজে ব্যস্ত থাকুন।
  • কোনো পুরুষের প্রতি দুর্বলতা অনুভব হলে তার সংস্রব পরিহার করুন, তার থেকে নজরের হেফাজত করুন।
  • পর্নো ও হস্তমৈথুন ছাড়তে যা যা আলোচনা হল, সেগুলো চর্চা করুন।
  • কাউন্সেলিং-এর জন্য উপরে দুইজন সাইকিয়াট্রিস্টের নাম দেয়া হল। তাদের সাথে যোগাযোগ করুন। শাইখ উমায়ের- এর সোহবতে যান, তাঁর বাতানো পদ্ধতিতে আত্মনিয়ন্ত্রণ অর্জন করুন। গুনাহ ছাড়া কঠিন হতে পারে, কিন্তু অসম্ভব নয়।
  • শারীরিক সমস্যাগুলোতে উপরের পরামর্শ অনুযায়ী আমল করুন।

[1] বিস্তারিত দেখুন ‘অনাহূত ভাবনা ও তার প্রতিকার’, হযরত মাওলানা মুফতি তকী উছমানী, মাসিক আল-কাউসার ফেব্রুয়ারী ২০০৯ সংখ্যা। https://www.alkawsar.com/bn/article/1408/
[2]
[3]
[4]
[5] Harvard Mental Health Letter, How addiction hijacks the brainhttps://www.health.harvard.edu/newsletter_article/how-addiction-hijacks-the-brain
[6] The Brain on Drugs: From Reward to Addiction, Nora D.Volkow ও Marisela Morales, National Institute on Drug Abuse, National Institutes of Health, Bethesda, MD 20892, USA প্রকাশিত হয় জার্নাল Cell (Volume 162, Issue 4, 13 August 2015, Pages 712-725) https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S0092867415009629

 

শেয়ার করুনঃ
এলাকাভিত্তিক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসকদের লিস্ট

এলাকাভিত্তিক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসকদের লিস্ট

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

(আপডেট হতে থাকবে ইনশা আল্লাহ্‌। লাস্ট আপডেট- ০৫/০৫/২০১৯)

নরমালি পর্ন দেখার ফলে ইরেক্টাইল ডিসফাংশন ( লিঙ্গোত্থানে সমস্যা) বা প্রি ম্যাচুউর ইজাকুলেশন (অকাল বীর্যপাত) হলে পর্ন মাস্টারবেশন ছেড়ে দিলে এবং একটু ভালোমতো খাওয়া দাওয়া করলে ৩-৬ মাস বা কারো কারো আরেকটু বেশি সময় লাগে ভালো হতে । ইনশা আল্লাহ্‌। আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলবেননা।

একজন ইউরোলজিস্ট বা স্কিন এন্ড স্কেক্স এক্সপার্টকে দেখাতে পারেন। যদি আপনার পেনিসে বা যৌনবাহিত  কোনো সমস্যা থাকে উনারা চিকিৎসা করবেন। যদি পেনিসে কোন সমস্যা না থাকে তাহলে উনারা মনোবিদ রেফার করে দিবেন বা নিজে কোনো মনোবিদের কাছে যাবেন। সাইকিয়াট্রিস্ট মানেই পাগলের ডাক্তার না। এতে লজ্জা পাবেন না। সরকারি মেডিকেলগুলোতে ফ্রি চিকিৎসা করানো হয়। টাকা পয়সার ঝামেলা থাকলে সরকারি মেডিকেলগুলোতে যাবেন ইনশা আল্লাহ্‌।

আপনি যদি  সমকামী হন বা গভীর হতাশায় ভোগেন, আত্মহত্যার ইচ্ছে জেগেছ মনে, দুইএকবার চেষ্টাও করেছেন তাহলে অবশ্যই অবশ্যই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা নফসের পরিশুদ্ধি নিয়ে কাজ করেন এমন একজন হাক্কানী আলিমের শরণাপন্ন হোন। ভাই, এটি খুবই জরুরী।

.

মনোরোগ বিশেষজ্ঞঃ

পর্নোগ্রাফি-হস্তমৈথুন-সমকামিতা, ডিপ্রেশন, আত্মহত্যার ইচ্ছা বা চেষ্টা করা ইত্যাদি সমস্যার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন নিচের শায়খন এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে। একটা কথা বলে রাখা প্রয়োজন মনে করছি। কোনো মানুষ সমকামী হয়ে জন্মগ্রহণ করেনা। আল্লাহ্‌ কাউকে সমকামী বানান না। মানুজ জন্মগতভাবে সমকামী- এই দাবীর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং পুরো উলটো। বিস্তারিত জানতে পড়ুন এই লিখাগুলো- https://tinyurl.com/y5web3yf

.

ঢাকাঃ

১) মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বুলবুল (উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল)

২) ডাক্তার মারুফ (হলি লাইফ, মালিবাগ রেলগেট)

৩) আনোয়ার ইদ্রিস হুজুর, ধোলাইপাড়(যাত্রাবাড়ি থেকে পোস্তগোলার দিকে যেতে), পূবালী ব্যাংকের ওপরে ৫ম তলায়, মারকাযুল বুহুস আল ইলমিয়্যাহ। মাসিক হালাকা- ইংরেজি মাসের ১ ও ১৫ তারিখ রাত ৮ টার দিকে। হুজুরের তাযকিয়াহ পদ্ধতি হলো তাওহীদ ও আখেরাত কেন্দ্রিক, একটু দীর্ঘমেয়াদী প্রসেস।

.

চিকিৎসকঃ

.

ঢাকাঃ

১) চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুল্লাহেল কাফী স্যার (খিদমাহ হাসপাতাল)

.

রাজশাহীঃ

১) ডা মুশিউল আলম মিরাজ, এমবিবিএস (রাজশাহী মেডিকেল কলেজ), যোগাযোগ-01675764525 .

২) ডা আশিক ইবনে মুস্তাফিজ, এমবিবিএস (রাজশাহী মেডিকেল কলেজ), যোগাযোগ-01521474378 .

৩) ডা.তাশদিত সিদ্দিকী, এমবিবিএস (রাজশাহী মেডিকেল কলেজ), যোগাযোগ-01716916768 .

৪) ডা.ফয়সাল আহমেদ অনিক,এমবিবিএস (রাজশাহী মেডিকেল কলেজ), যোগাযোগ-01725051064
.
খুলনাঃ
ডা. এজাজ কবির ,এমবিবিএস, যোগাযোগ-01515276330
.
সিলেটঃ
ডা. মুসা,এমবিবিএস, যোগাযোগ-8801711529029
.
(এই ডাক্তার ভাইয়েরা সেবা করার মানসিকতা থেকে ফোন নাম্বার পর্যন্ত দিয়ে দিয়েছেন। পাঠকদের প্রতি অনুরোধ থাকলো উনাদের এই সেবা করার মানসিকতার নেতিবাচক সুযোগ না নিতে। অযথা ফোন দিয়ে হয়রানি করবেন না প্লিজ। সম্ভব হলে উনাদের সঙ্গে দেখা করে প্রাপ্য সম্মানীটুকু দিয়ে উনাদেরকে এপ্রেসিয়েট করবেন। আপনারা যদি সামান্য কারণে উনাদের ফোন করেন তাহলে উনাদের পক্ষে হয়তো এমন ভাইগুলোকে সাহায্য করা সম্ভব হবেনা যাদের আসলেই সাহায্য দরকার ছিল। অনুরোধ থাকলো অযথা ডাক্তার ভাইদের বিরক্ত করবেন না)

.

তালিকা তৈরিতে যারা যারা সাহায্য করেছেন-

১) ডাঃ শামসুল আরেফিন শক্তি, বিসিএস(স্বাস্থ্য), এমবিবিএস (সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ)

২) আসিফ আদনান

৩) তাযকিয়াহলাইফ

সামগ্রিক তত্ত্বাবধান করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভাই।

শেয়ার করুনঃ