ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (দশম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (দশম পর্ব)

৪৪. বিয়ে করতে চাই। বাসায় কীভাবে বলব?

‘তুমি এক দূরতর দ্বীপ’ সিরিজটা ফলো করুন ।

https://tinyurl.com/y5jjwyhk
https://tinyurl.com/y2qnlgj6
https://tinyurl.com/y4nawtfx
https://tinyurl.com/y2lzlwvk

এছাড়া পড়ুন-

তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ (প্রথম কিস্তি)- https://bit.ly/2x9b6Ky
তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ (দ্বিতীয় কিস্তি) – https://bit.ly/2N7VFfu
তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ (তৃতীয় কিস্তি)- https://bit.ly/2NzWn1h
———-

৪৫. আমি একজন মেয়েকে খুব পছন্দ করি। তাকে নিজের করে পাবার জন্য অনেক দু’আ করেছি। কিন্তু পাচ্ছিনা। এই হতাশা থেকেই পড়াশোনা হয়না, মাস্টারবেট করি, পর্ন দেখি।

পড়ুন-

উত্তরের অপেক্ষায় – https://bit.ly/2NFlzXn

‘দুশো তিপ্পান্নতম প্রেম’ সিরিজটা অবশ্যই পড়বেন।
https://tinyurl.com/y33vksbh
https://tinyurl.com/y6qfdsqv
https://tinyurl.com/y5aujvsm
.
সেই সাথে মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটাও পড়তে হবে ইনশা আল্লাহ্‌।
.
ভাই দেখেন আপনি আসলেই যদি তাকে চাইতেন তাহলে তাকে পাওয়ার যোগ্যতাও অর্জন করতেন। জানপ্রাণ খাটিয়ে লড়াই করতেন। তার বাবার কাছ থেকে তাকে চেয়ে নেওয়ার জন্য নিজে আগে যোগ্য হয়ে উঠতেন। রাস্তার পোলাপানের মতো প্রেম নামক স্বস্তা জিনিস চাইতেন না।
———-

৪৬. ব্রেকাপ হয়েছে। আর কিছুই ভালো লাগছেনা। মনের দুঃখে পর্ন দেখতেছি, মাস্টারবেট করতেছি

‘দুশো তিপ্পান্নতম প্রেম’ সিরিজটা পড়বেন।
.
এছাড়া পড়বেন-

আততায়ী ভালোবাসা-https://bit.ly/2QpXqTn
শান্তি পাব কোথায় গিয়ে – https://bit.ly/2x6IIJ8

এই লেকচার সিরিজ শুনবেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত- www.raindropsmedia.org/porokal
.
(এগুলো নিয়ে আমাদের আরো লিখা হচ্ছে। আপডেটেট লিখার জন্য পেইজের সাথে কন্ট্যাক্ট রাইখেন)
———-

৪৭. প্রেম ভালোবাসাঘটিত ব্যাপার স্যাপার

এগুলো পড়তে পারেন-

https://tinyurl.com/y33vksbh
https://tinyurl.com/y6qfdsqv
https://tinyurl.com/y5aujvsm
আঁধার আলো- https://tinyurl.com/y396r4dj
হারাম রিলেশন- https://tinyurl.com/y3n8nl8r
আততায়ী ভালোবাসা (প্রথম পর্ব)- https://bit.ly/2QpXqTn
ফাগুনের দিন শেষ হবে একদিন (প্রথম পর্ব) – https://bit.ly/2p5QWga
তোমরা কি এমনি এমনি জান্নাতে চলে যাবে? – https://bit.ly/2CSdVVE
আয় কান্না ঝেপে … https://bit.ly/2QpCbRz
আরশের ছায়া – https://bit.ly/2x6oHSQ
উত্তরের অপেক্ষায় – https://bit.ly/2NFlzXn
আল্লাহ্‌র কাছে আসার গল্প – https://bit.ly/2x8apA8
শান্তি পাব কোথায় গিয়ে – https://bit.ly/2x6IIJ8
তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ (প্রথম কিস্তি)- https://bit.ly/2x9b6Ky
তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ (দ্বিতীয় কিস্তি) – https://bit.ly/2N7VFfu
তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ (তৃতীয় কিস্তি)- https://bit.ly/2NzWn1h
ভালোবাসা ও বাস্তবতা – https://bit.ly/2x9blFs
———-

৪৮. আমি সমকামিতায় আসক্ত। কী করব?

এই লিখাটা পড়ুন – আর রিজালু বির রিজাল… – https://tinyurl.com/y3tew4cj

পর্নোগ্রাফিঃ মানবতার জন্য হুমকি পেইজে নক দিন।
———-

৪৯. সমকামীদের দোষ কী? আল্লাহ্‌য় তো ওদের এমন করে বানিয়েছে?

সমকামিতা ন্যাচারাল না। (পড়ুন-https://tinyurl.com/y3tew4cj)। আল্লাহ্‌ মানুষকে সমকামী করে বানান না। যদি বানাতেন তাহলে সমকামীদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতেন না।

http://lostmodesty.com/at_a_glance/ পেজে যান। সেকশন ৩ এ ‘সমকামিতা কি স্বাভাবিক?’ এর লিখাগুলা পড়ুন।
———-

৫০. পর্ন দেখা নিয়ে ইসলাম কি বলে ? , মাস্টাবেশনের ব্যাপারে ইসলামের কী মত ?

“পর্নোগ্রাফি ও ইসলাম” – https://bit.ly/2CSSYKc

আমরা কি হস্তমৈথুন করতে পারবো? – https://bit.ly/2Mph4eVhttps://tinyurl.com/yxask2e7
———-

৫১. বীর্যপাত না করে হস্তমৈথুনের কারণে কি রোজা ভঙ্গ হবে?

বীর্যপাত হলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। না হলে ভাঙ্গবে না। বিস্তারিত পড়ুনঃ https://tinyurl.com/y43j95oh
———-

৫২. আজেবাজে চিন্তা থেকে বেঁচে থাকতে বই পড়ে সময় কাটাতে চাই। বইয়ের লিস্ট দিন।

(১) যেকোনো একটা সীরাহ। আর রাহিখুল মাখতুম অথবা রেইনড্রপ্সের সীরাহ

(২) সাহাবা কেরামায়ের ঈমানদীপ্ত জীবনি, ড আবদুর রহমান রাফাত পাশা , রাহনুমা প্রকাশনী

(৩) তাবেঈদের ঈমানদীপ্ত জীবনি ড আবদুর রহমান রাফাত পাশা, রাহনুমা প্রকাশনী

(৪) নারী সাহাবীদের ঈমানদীপ্ত জীবনি ড আবদুর রহমান রাফাত পাশা , রাহনুমা প্রকাশনী

(৫) যৌবনের মৌবনে, মাওলানা জুলফিকার আহমাদ নকশাবন্দী

(৬) জীবিকার খোঁজে লেখক : ইমাম মুহাম্মাদ, প্রকাশনী : মাকতাবাতুল বায়ান

(৭) আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল লেখক : ইমাম ইবনু আবিদ দুনইয়া, প্রকাশনী : মাকতাবাতুল বায়ান

(৮) তাওহিদের মূলনীতি, আহমেদ মুসা জিবরিল, ইলমহাউস পাবলিকেশন

(৯) কুদৃষ্টি, মাহবুবুলওলামা হযরত মাওলানা জুলফিকার আহমদ (দা. বা.)

(১০) নবীজির পদাঙ্ক অনুসরণ, ইবনে রজব হাম্বলী (রহঃ), সীরাত পাবলিকেশন

(১১) অন্তরের রোগ ১ ও ২, শাইখ সালেহ আল মুনাজ্জিদ, রুহামা পাবলিকেশন।
———-

আমরা খুব ছোটো মানুষ। আমাদের লিখার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ্‌। যেকোনো ধরণের পরামর্শ বা সাজেশন হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।
.
পড়ুন আগের পর্বগুলা- http://lostmodesty.com/vengefelokaragar
———-

আল্লাহ (সুবঃ) আমাকে এবং আপনাদের তাঁর দ্বীনের জন্য কবুল করে নিক। নিয়্যত ঠিক রেখে শুধু তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কাজ করে যাওয়ার তৌফিক দিক। রিয়া থেকে মুক্তি দিক। আমাদের কাজে বারাকাহ দিক। আমাদের উসিলায় অসহায় ভাইবোনদের অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসুক। আমাদের আমৃত্যু দ্বীনের ওপর অটল থাকার তৌফিক দিক।

দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর ওপর । ভোরের শিশিরের মতো রহমত ঝরে পড়ুক সাহাবী আযমাইনদের কবরে।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

-লস্টমডেস্টি টিম

শেয়ার করুনঃ
ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (নবম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (নবম পর্ব)

৪২. পর্ন না থাকলে সমাজে আরো ধর্ষণ বেড়ে যাবে।

এই প্রশ্ন মূলত ক্যাথারসিস থিওরির একটা রূপমাত্র। যেটা অনেক আগেই ভুল প্রমাণিত হয়েছে। অবশ্যই অবশ্যই পড়ুন- http://lostmodesty.com/mitthershikol/
.
পর্ন দেখার সাথে যদি রেইপের হার কমে, তাহলে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পর্ন প্রডিউস করা এবং পর্নোগ্রাফির সবচেয়ে বড় গ্রাহক অ্যামেরিকাতে কেন এত রেইপ হয়? কেন অ্যামেরিকান মিলিটারি, কলেজ, হলিউড সব জায়গাতে এত ধর্ষণ, এত যৌন-নিপীড়ন হয়? কেন রেইপ পর্ন ইন্ডিয়াতে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকার পরও ভারতে রেইপ না কমে বরং ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়?

প্রতি ৯৮ সেকেন্ডে একজন আমেরিকানকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়, [http://tinyurl.com/k8ehojc], প্রতি ৬ জন নারীর মধ্যে ১ জন এবং প্রতি ৩৩ জন পুরুষের মধ্যে একজন তাদের লাইফটাইমে একবার হলেও ধর্ষণের শিকার হয়।[http://tinyurl.com/nm3gp5o ]
.
অবশ্যই অবশ্যই এই ভিডিওটা দেখুন- ‘ভুল উত্তর- ধর্ষণ কেন হয়’https://youtu.be/QwMxLee3LDw

এবং পড়ুন এই লিখা- আলেয়ার আলো- http://tinyurl.com/y4llbybc
.
পর্ন আসক্তির সঙ্গে নারী নির্যাতনের সরাসরি সংযোগ রয়েছে। অসংখ্য গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে পর্ন আসক্তি নারীদের প্রতি সহিংসতাকে তীব্রভাবে উৎসাহিত করে। ধর্ষণের অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। তারমানে এই নয় যে যারা পর্ন দেখে তারা সবাই ধর্ষণ করতে বেরিয়ে পড়ে। কিন্তু যারা ধর্ষক,সিরিয়াল কিলার, শিশুযৌন নির্যাতক,সমকামী তাদের প্রায় সবাই পর্ন আসক্ত।

বিস্তারিত জানতে পড়ুন-

অনিবার্য যত ক্ষয় (প্রথম পর্ব) –https://bit.ly/2N7SbtA
‘অনিবার্য যত ক্ষয়’ (দ্বিতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2x5OdHU
অনিবার্য যত ক্ষয়’ (শেষ পর্ব) – https://bit.ly/2O7Pgxf
———-

৪৩. মাস্টারবেশন শরীরের জন্য উপকারি? অনেকেই তো বলে। আপনারা কেন এমন বলছেন ?

বর্তমান সময়ের অধিকাংশ ডাক্তার, এক্সপার্ট এবং ইন্টারনেট ওয়েবসাইট আপনাকে বলবে, হস্তমৈথুন একেবারেই ক্ষতিকর না। এদিক-সেদিক থেকে নানা জোড়াতালি দেয়া প্রমাণ তুলে এনে প্রমাণ করতে চাইবে হস্তমৈথুন “প্রায় নিশ্চিতভাবেই” শরীরের জন্য ভালো। এটা একেবারেই “ন্যাচারাল” একটি বিষয়, এ নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। হস্তমৈথুন শরীরের জন্য ভালো বা স্বাভাবিক যৌন আচরণ এ ধরনের কোনো কংক্রিট প্রমাণ নেই। হস্তমৈথুন “স্বাভাবিক”, “ন্যাচারাল” এসব কথার প্রচলন আজ থেকে মাত্র সাত-আট দশক আগে। এর আগ পর্যন্ত হস্তমৈথুনকে, বিশেষ করে নিয়মিত ও ক্রনিক হস্তমৈথুনকে একটি অস্বাভাবিক যৌনাচার হিসাবেই দেখা হতো। এমনকি নানা যৌনবিকৃতিকে হোয়াইটওয়াশ করা, সিগমুন্ড ফ্রয়েডের মতো বিকৃত মানসিকতার লোকও হস্তমৈথুনক অস্বাভাবিক মনে করত।
.
মূলত হস্তমৈথুনকে স্বাভাবিক এবং উপকারী হিসেবে দেখার প্রবণতা শুরু হয় ১৯৪৯ সালে আলফ্রেড কিনসির Sexual Behavior In The Human Male প্রকাশিত হবার পর। এ বইটি এবং ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত তার আরেকটি বই Sexual Behavior in the Human female, ম্যাস মিডিয়ার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পাশ্চাত্যে ঝড় তোলে। যৌনতা সম্পর্কে পাশ্চাত্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে আনে আমূল পরিবর্তন। পাশ্চাত্যের ইতিহাসের অন্য কোনো বই বা রিপোর্ট পাশ্চাত্যকে এতটা বদলে দেয়নি যেমন এই দুটি বই দিয়েছিল। আধুনিক সেক্স এডুকেশান, সাইকোলজি এবং সেক্স সম্পর্কে চিকিৎসকদের সার্বিক চিন্তা কিনসির এই দুটি বইয়ের ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হচ্ছে। যৌনতা সম্পর্কে আধুনিক পশ্চিমা ধারণা একেবারে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গড়ে উঠেছে আলফ্রেড কিনসির এই দুই বিখ্যাত “থিসিসের” ওপর ভিত্তি করে। তার এ বইয়ে কিনসি চরম পর্যায়ের বিকৃত কিছু চিন্তাকে বিজ্ঞানের নামে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। সে দাবি করে শিশুরা জন্মগত ভাবেই, এমনকি গর্ভে থাকা অবস্থা থেকেই সেক্সুয়ালি এক্টিভ। তার মতে শিশুরা একেবারে ছোটকাল থেকেই হস্তমৈথুন করা শুরু করে।
.
কত ছোটকাল থেকে? কিনসির দাবি হল দুই, চার, সাত মাস বয়সী শিশুরাও নাকি হস্তমৈথুনের মাধ্যমে চরমানন্দে (Orgasm) পৌঁছাতে সক্ষম! সাত মাস বয়সী একটি শিশু এবং এক বছরের নিচের আরও পাঁচজন শিশুকে সে নিজে নাকি শীর্ষসুখ অর্জন করতে দেখেছে। সে আরও বলে, এত কমবয়স্ক শিশুরা বয়স্ক সঙ্গী/সঙ্গিনীদের সঙ্গে আনন্দদায়ক এবং উপকারী যৌনমিলন করতেই পারে, এবং এমন করা উচিত। অভিভাবকদের উচিত ৬-৭ বছর বয়স থেকে শুরু করে শিশুদের হস্তমৈথুন করানো এবং একসাথে মিলেমিশে হস্তমৈথুন করা!
.
কিনসি আরও দাবি করে, অধিকাংশ মানুষ আসলে উভকামী, যৌনতার কোনো নির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। কোনো যৌনতাই অস্বাভাবিক না। সমকাম, উভকাম, শিশুকাম, পশুকাম, অজাচার, যার যা ইচ্ছে সেটা করবে, এতে কোনো সমস্যা নেই।
আসলে কিনসি নিজে ছিল একজন চরম মাত্রার বিকৃত মানসিকতার লোক। ব্যক্তিজীবনে ভয়ঙ্কর বিকৃত যৌনাচারে অভ্যস্ত। তার “রিসার্চ” ছিল জালিয়াতিতে ভরা। পরবর্তীকালে এই “মহান” বিজ্ঞানীর কাজগুলো ভুল প্রমাণিত হয়েছে বিজ্ঞানীদের হাতেই।
.
বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন আলফ্রেড কিনসির দাবিগুলোর তেমন কোনো সায়েন্টিফিক ভিত্তি নেই, তার তথ্য-উপাত্তগুলো যথেষ্ট পরিমাণে গোঁজামিলে ভরপুর। এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য অনেক সময় সাবজেক্টের ওপর চরম যৌন-নির্যাতন চালানো হয়েছে, রেহাই দেয়া হয়নি শিশুদেরও। কিন্তু ততদিনে ক্ষতি যা হবার হয়ে গেছে। “হস্তমৈথুন ক্ষতিকর না; বরং উপকারী” কিনসির জোর গলায় দাবি করা এ চরম মিথ্যা সেক্স এডুকেশানের বইগুলোতে বার বার খুব বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এটাকে ধ্রুব সত্য বলে মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু হস্তমৈথুন যদি স্বাভাবিক ও ভালো হয়, তাহলে প্রথমবার হস্তমৈথুনের পর কেন মনের ওপর অনুশোচনার একটা গাঢ় পর্দা নেমে আসে?
.
প্রথমবার হস্তমৈথুনের মাধ্যমে বীর্যপাত করার প্রায় সবার চরম অনুশোচনা হয়। ভাষা, ভৌগোলিক অবস্থান, ধর্ম-বর্ণভেদে এমন অবস্থায় মানুষের মনে হয় সে খুব খারাপ কিছু একটা করে ফেলেছে। অনুভূতিটা সর্বজনীন। এর ব্যাখ্যা কী? হস্তমৈথুন ভালো প্রমাণ করতে চাওয়া “বিশেষজ্ঞরা” বলবে, ধর্ম এবং সামাজিক মূল্যবোধ আমাদের চিন্তা করতে শেখায় যে, এ কাজটা খারাপ। এটা একটা পাপ। আর এ জন্যই মানুষের মধ্যে অনুশোচনা কাজ করে।
এ ব্যাখ্যার ভুল কোথায়?
.
কোনো কাজের ব্যাপারে ধর্মের বক্তব্য দ্বারা প্রভাবিত হবার জন্য আপনাকে তো আগে কাজটাকে চিনতে হবে, সেটার সম্পর্কে ধর্মের বক্তব্য জানতে হবে। কিন্তু আপনি দেখবেন হস্তমৈথুনের মাধ্যমে প্রথম বীর্যপাতের অভিজ্ঞতার সময় অনেকেরই ধারণাই থাকে না আসলে কী হচ্ছে। যে ছেলেটা বুঝতেই পারছে না কী হলো, সে কীভাবে ওই কাজের ব্যাপারে ধর্মের বক্তব্য জানবে, আর সেটা দিয়ে প্রভাবিত হবে? আসলে এটাই হলো ফিতরাহ, মানুষের সহজাত প্রবণতা (Natural Disposition)। মানুষের সহজাত নৈতিক কম্পাস তাকে জানিয়ে দেয় কাজটা খারাপ। আর তাই প্রথম প্রথম সবাই অনুশোচনায় ভোগে। কিন্তু পরে মানুষ এর যৌক্তিকতা দাঁড় করায়, একে স্বাভাবিক মনে করা শুরু করে।
.
এ ছাড়া বাস্তব অভিজ্ঞতাও প্রমাণ করে হস্তমৈথুন আসক্তি শুধু সমস্যাই না; বরং ভয়ঙ্কর রকমের মনোদৈহিক সমস্যা। ভুক্তভোগীদের কিছু অভিজ্ঞতা এরই মধ্যে আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। হস্তমৈথুনে আসক্তদের এমন করুণ উপাখ্যান এক-দুটো না। অজস্র।
.
হস্তমৈথুনকে স্বাভাবিক প্রমাণে উঠেপড়ে লাগার পেছনে আরেকটা বড় কারণ হলো, সেই পুরনো কালপ্রিট—অর্থনীতি। হস্তমৈথুন আসক্তি আর পর্নোগ্রাফি অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। এ দুয়ে মিলে এক চক্র তৈরি করে। আর এ চক্রে আটকা পড়ে শত সহস্র প্রাণ। যদি হস্তমৈথুনকে ক্ষতিকর বলে স্বীকার করে নেয়া হয়, হস্তমৈথুন না করতে মানুষকে উৎসাহ দেয়া হয়, হস্তমৈথুন আসক্তি বন্ধে কাউন্সেলিং করা হয়, তাহলে শত বিলিয়ন ডলারের পর্নোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রির কী হবে? এ অতিকায় ইন্ডাস্ট্রি কি নিজ অস্তিত্বের প্রতি এমন হুমকিকে মেনে নেবে? নাকি নিজের অঢেল সম্পদ ব্যবহার করে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে অ্যাকাডেমিয়া, মিডিয়া এবং “বিশেষজ্ঞদের” মাধ্যমে হস্তমৈথুনকে স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক প্রমাণে?
.
পরের বার “কেন হস্তমৈথুন ভালো”, “হস্তমৈথুনের ১৮ অজানা উপকারিতা” জাতীয় ইন্টারনেট আর্টিকেলগুলো পড়ার সময় এ বিষয়টা মাথায় রাখবেন।
.
সর্বোপরি মুসলিম হিসাবে আমাদের ফ্রেইম অফ রেফারেন্স কোনটা আগে সেটা আমাদের বুঝতে হবে। এতক্ষণ যা কিছু আমরা আলোচনা করেছি, এ সবকিছু হলো সেকেন্ডারি, গৌণ প্রমাণ। মুসলিম হিসাবে আমাদের জন্য প্রাইমারি প্রমাণ হলো ইসলামী শারীয়াহর বক্তব্য। আর ইসলামের বক্তব্য হলো হস্তমৈথুন হারাম। (https://islamqa.info/bn/answers/329/) একজন মুসলিমের জন্য প্রমাণ হিসাবে এটাই যথেষ্ট হওয়া উচিত। যেখানে ইসলামের স্পষ্ট বিধান আছে সেখানে বিজ্ঞানের “প্রায় নিশ্চিত” মত গোনায় ধরার মতো কিছু না। বিশেষ করে বিষয়টি যখন নৈতিকতার সাথে সম্পর্কিত।
.
যেমন, বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিয়ে-বহির্ভূত সেক্স ক্ষতিকর কিছু না। বরং আধুনিক পশ্চিমা দর্শনে এটা স্বাভাবিক, এমনকি প্রশংসনীয়। অন্যদিকে যিনা ইসলামের দৃষ্টিতে কবিরা গুনাহ। বিজ্ঞান যদি কাল থেকে যিনাকে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে প্রচার করা শুরু করে, তাহলে এতে একজন মুসলিমের কিছুই যায় আসে না। যিনার ব্যাপারে তার ধারণা এতে বদলে যাবে না।
.
সুতরাং হস্তমৈথুন যদি কখনো বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সুনিশ্চিতভাবে স্বাস্থ্যকর বলে প্রমাণিতও হয় (যেটা এখনো হয়নি) তবুও এতে একজন মুসলিমের দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আসার কথা না, কারণ ইসলামের মাপকাঠিতে কাজটা অনৈতিক এবং হারাম। আর বাস্তবতা হলো মনোদৈহিকভাবে হস্তমৈথুন এবং পর্ন-আসক্তি দুটোই অত্যন্ত ক্ষতিকর। আমরা ইতিমধ্যেই আলোচনা করেছি কীভাবে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবার ও সমাজ কেউই মুক্তি পায়নি।
.
বিস্তারিত পড়ুন-

মিথ্যের শেকল যতো- https://bit.ly/2QpkT7f
চোরাবালি তৃতীয় পর্ব – https://bit.ly/2p0HR8l
চোরাবালি চতুর্থ পর্ব – https://bit.ly/2QoRtGb
চোরাবালি পঞ্চম পর্ব- https://bit.ly/2Nzoh0M
চোরাবালি ষষ্ঠ পর্ব- https://bit.ly/2QocEIA
চোরাবালি সপ্তম পর্ব- https://bit.ly/2x9hr81
চোরাবালি অষ্টম পর্ব- https://bit.ly/2NAhrbd
মাস্টারবেশন কী মাসলগ্রোথ এবং এথলেটিক পারফরম্যান্সের ক্ষতি করে?- https://bit.ly/2NzycUa
———-

আমরা খুব ছোটো মানুষ। আমাদের লিখার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ্‌। যেকোনো ধরণের পরামর্শ বা সাজেশন হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।
.
চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ …
.
পড়ুন আগের পর্বগুলা- http://lostmodesty.com/vengefelokaragar

শেয়ার করুনঃ
ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (অষ্টম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (অষ্টম পর্ব)

৩৬. বইয়ের পিডিএফ লিংক কোথায় পাবো ? বই কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

দেখুন- http://lostmodesty.com/muktobataserkhoje/
———-

৩৭. লস্ট মডেস্টির লিফলেট কোথায় পাবো ?

পড়ুন- http://lostmodesty.com/2019/04/lmleaflet/
———-

৩৮. পর্নোগ্রাফি-মাসটারবেশন নিয়ে কাজ করতে চাই। কিভাবে শুরু করবো? এলাকাভিত্তিক কাজ করতে কাদের সাথে যোগাযোগ করবো? ইত্যাদি।

http://lostmodesty.com/onupomuthan/ – এই পেজে যান। ৩ টা আর্টিকেল আছে ভালমত পড়ে নিন। প্রাথমিক গাইডলাইন পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ। এরপর যদি মনস্থির করে থাকেন যে আপনি আগাতে পারবেন তাহলে আমাদের পেজে ইনবক্স করবেন বা মেইল করবেন।
———-

৩৯. আপনারা যেটা করছেন সেটা ভুল করছেন। আপনাদের ক্যাম্পেইনের ফলে যারা পর্ন সম্পর্কে জানতোনা তারা বরং আরো জেনে যাবে। আপনাদের বইয়ের লিখাগুলা পড়ে অনেকেই পর্ন দেখা শুরু করবে বা মাস্টারবেট করবে।

এই ভিডিও দুইটা দেখুন আগে-

পতনের আওয়াজ পাওয়া যায়- http://tinyurl.com/y8d5xjso
অনুপম উত্থান- http://tinyurl.com/y9uyzgov

এই লিখাগুলো পড়ুন-

পর্ন আসক্তি গিলে খাচ্ছে কিশোরদের- http://tinyurl.com/y6o8bh96
অশনি সংকেত- https://bit.ly/2QoJTLH
“ফ্যান্টাসি কিংডম”(প্রথম কিস্তি): https://bit.ly/2x6Azo2
“ফ্যান্টাসি কিংডম”(দ্বিতীয় কিস্তি): https://bit.ly/2QrL9xJ
“ফ্যান্টাসি কিংডম”(শেষ কিস্তি): https://bit.ly/2NdAKIh
.
যেখানে বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে একটি বিভাগীয় শতকরা ৬০ ভাগেরও বেশি স্কুল কলেজ ছাত্র ছাত্রীর যৌন অভিজ্ঞতা হয়েছে সেখানে আপনি এন্টিপর্ন ক্যাম্পেইন নিয়ে আপত্তি তুললে ভুল করবেন ভাই।
.
ধরেন নামাযের মধ্যে আমাদের শয়তান ওয়াস ওয়াসা দেয়। নামাযে মনোযোগ থাকেনা। নামায ভুল হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। এই ভয়ে কি আপনি নামায পড়বেন না? ভাইয়া দেশের লাখ লাখ ( কোটি বলা উচিত) ছেলেমেয়ের যখন এই বেহাল দশা তখন দুই একজনের কারণে ক্যাম্পেইন বন্ধ করে দেওয়াটা কি শরীয়াহ সঙ্গত?
———-

৪০. পর্ন দেখলে কি কি ক্ষতি হয়? (বা, পর্নোগ্রাফি কেন মানবতার জন্য হুমকি?) , মাস্টারবেট করলে কি কি ক্ষতি হয়?

সংক্ষেপে উত্তর চাইলে বলবো, আপনি ‘মুক্ত বাতাসের খোঁজে’ বইটা পড়ে শেষ করুন।
.
বই পড়ার ধৈর্য না থাকলে, অন্তত http://lostmodesty.com/at_a_glance/ এই পেজে গিয়ে সেকশন ২ ‘পর্নোগ্রাফি, মাস্টারবেশন, চটিগল্প – মানবতার জন্য হুমকি’ এর লিখাগুলো পড়ুন। উত্তর পেয়ে যাবেন।
———-

৪১. ধর্ষণের জন্য দায়ী কী ? কিভাবে কমানো যেতে পারে?

ধর্ষণের সমাধান করতে হলে অবশ্যই আগে সঠিকভাবে বের করতে হবে ধর্ষণের কারণগুলো।

দেখুন- https://tinyurl.com/rapestat
.
বিস্তারিত জানতে পড়ুন-

অনিবার্য যত ক্ষয় (প্রথম পর্ব) –https://bit.ly/2N7SbtA
‘অনিবার্য যত ক্ষয়’ (দ্বিতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2x5OdHU
অনিবার্য যত ক্ষয়’ (শেষ পর্ব) – https://bit.ly/2O7Pgxf
.
অবশ্যই অবশ্যই এই ভিডিওটা দেখুন- ভুল উত্তর- ধর্ষণ কেন হয়https://www.youtube.com/watch?v=QwMxLee3LDw
.
ধর্ষণ কেন হয়? কেন এদেশে ধর্ষণের প্রকোপ বেড়ে চলেছে?
.
এই প্রশ্নটাকে আমাদের দেশে দুইভাবে ডিল করা হয়। এবং দুইটাই প্রান্তিকতা। কোথাও ধর্ষণের খবর শুনলেই একদল নারীদের পোশাক দায়ী করে বসেন। আবার অন্যদিকে আরেকদল দোষ খুঁজে পান পুরুষের মানসিকতা- আমার দেহ আমি দেখাব! তুমি রেপ করবা কেন? ধর্ষণের পেছনের কারণগুলো সময় নিয়ে ভালোমতো বিশ্লেষণ করে কোন মতামত দেওয়ার মানসিকতা অনুপস্থিত আমাদের মাঝে। আসলে এতো সময় কোথায়? ব্যস্ত ডাক্তারের মতো তেমনকিছু না ভেবেই আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বসি। উপসংহার টেনে ফেলি।
.
ধর্ষণের জন্যে শুধু নারীর পোশাককে দায়ী করে বসলে ইসলাম বিদ্বেষীদের কোর্টে বল ঠেলে দেওয়া হয়। তারা তখন বাটি চালান দিয়ে হিজাবপরা বা মাদ্রাসার ছাত্রী এমন কোন বোনের নির্যাতনের খবর সামনে নিয়ে আসবে। তারপর দাঁত কেলিয়ে জিজ্ঞাসা করবে, ‘কই কাঠ মোল্লারা! তোমাদের হিজাব/নিকাব কি পারলো নারীর নিরাপত্তা দিতে? ওইসব সব পুরান আমলের রূপকথা! পর্দা নারীকে নিরাপত্তা দিতে পারেনা, এইটা নারীকে চার দেয়ালের মাঝে বন্দী করে রাখার হাতিয়ার। তাছাড়া এটা তো ইসলামের অংশও না! আরবের ‘লু’ হাওয়া থেকে বাঁচার জন্য আরবের নারীরা মাথায় কাপড় দিত!
.
অন্যদল পুরুষের মানসিকতাকে দায়ী করে ফেসবুক,ব্লগ কাঁপিয়ে, Don’t teach me how to dress, teach your son not to rape টাইপ প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিটিং মিছিল করে ক্ষ্যামা দেন। এরা ভুলেও কখনো দেশ এবং জাতির সামনে পরিষ্কার করে বলেন না পুরুষের মানসিকতা কেন বদলে যায়? কেন একজন পুরুষ ধর্ষকে পরিণত হয়? তার ঘরেও তো মা বোন আছে? পুরুষের মানসিকতা কীভাবে পরিবর্তন করতে হবে? কোন তরীকায় আমল করতে হবে? তাদের বলে দেওয়া তরীকা ফলো করে কোন কোন দেশ বা কোন কোন জাতি পুরুষদের মানসিকতা পরিবর্তন করেছে? নারীদের নিরাপত্তা দিতে পেরেছে? তারা উদাহরণ দিক। আমরা সেই সব জাতিদের দেখে অনুপ্রেরণা পাব। কিন্তু আপনি কখনোই দেখতে পাবেননা তারা কনক্রিট, পরীক্ষিত কোন প্ল্যান অফ একশ্যান জাতির সামনে উপস্থাপন করছে।
.
তাহলে ধর্ষণের সমাধান কী? এককথায় উত্তর – শরীয়াহ। আল্লাহর জমীনে আল্লাহ্‌র আইন প্রতিষ্ঠিত করা।
.
‘হে মানুষ, তোমাদের কাছে তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে নসীহত এসেছে। এটা মানুষের অন্তরে যেসব ব্যাধি আছে তার নিরাময় এবং মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত’। (সূরা- ইউনূস: ৫৭)
.
আল্লাহ্‌ (সুবঃ) আমাদের সৃষ্টি করেছেন। আমাদের মনোজগত,আমাদের সাইকোলজি আল্লাহ্‌র চেয়ে আর কে বেশি বুঝবে? তিনিই আমাদের পথ বলে দিয়েছেন সেই পথে পথচলাতেই আমাদের মুক্তি। শরীয়াহ আইন যেমন নিশ্চিত করবে নারীরা এমন পোশাক পরিধান করছে, যেন স্বসস্মানে সবাই পথ ছেড়ে দেয়,নারীকে দেয় রাণীর সম্মান। ঠিম তেমনিই খুঁজে খুঁজে বের করবে কেন পুরুষ পরিণত হয় ধর্ষকে। সমাজের অতি যৌনায়ান, আইটেম সং,পর্নোগ্রাফি , ড্রাগস, নারী পুরুষের ফ্রি মিক্সিং, সুন্দরী প্রতিযোগিতা, নাটক,সিনেমা,গানের মাধ্যমে তরুণ,তরুণীদের ব্রেইনওয়াশ,স্বেচ্ছাচারিতা,ধরাকে সরা জ্ঞান করা, পেশিশক্তির দাপট,মাফিয়াগিরি সব বন্ধ করবে। আপনি শরীয়াহর এক অংশ নিবেন আর যেটা আপনার পছন্দ হবেনা সেটা বাদ দিবেন তাহলে হবেনা।
.
“তবে কি তোমরা কিতাবের এক অংশের উপর ঈমান আনবে আর বাকী অংশকে অস্বীকার করবে? তোমাদের মধ্যে যারাই এরূপ করবে তাদের জন্য এ ছাড়া আর কি শাস্তি হতে পারে যে, দুনিয়ার জীবনে অপমান ও লাঞ্ছনা ভোগ করবে এবং আখিরাতে তাদেরকে কঠিন আযাবের দিকে ঘুরিয়ে দেয়া হবে। আর তোমরা যা কিছু করছো সে বিষয়ে আল্লাহ বেখবর নন।” (সূরা বাকারা: ৮৫)
.
আপনি পুরো শরীহায় বাস্তবায়ন করে দেখুন। নারীরা ঢেকে যাবে অলৌকিক এক নিরাপত্তার চাদরে। প্রমাণ ? একটু কষ্ট করে সাহাবী এবং তাবেঈগনদের যামানার ইতিহাস ঘেঁটে দেখুন এবং পড়ুন এই লিখা- আলেয়ার আলো-http://tinyurl.com/y4llbybc
———-
আমরা খুব ছোটো মানুষ। আমাদের লিখার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ্‌। যেকোনো ধরণের পরামর্শ বা সাজেশন হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।
.

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ …
.
পড়ুন আগের পর্বগুলা- http://lostmodesty.com/vengefelokaragar

শেয়ার করুনঃ
ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (সপ্তম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (সপ্তম পর্ব)

৩০. বিয়ে করতে ভয় পাচ্ছি। আমি আগে পর্ন-আসক্ত ছিলাম। অনেক পর্ন দেখেছি,মাস্টারবেট করেছি। এগুলো ছেড়ে দিয়েছি। এখন বিয়ে করতে ভয় পাচ্ছি।

– প্রথমত পর্ন, মাস্টারবেশন থেকে পুরোপুরি সরে আসতে হবে, এগুলা করতে থাকলে শারীরিক ক্ষতি রিকভার করা সম্ভব না।

– প্রচুর পানি, শাকসব্জ্‌ ফলমূল, দুধ, কলা, বাদাম, খেজুর কিশমিশ, আঙ্গুর খেতে হবে।

– কালোজিরা খেতে হবে। (খাওয়ার নিয়মঃ ভর্তা করে ভাত দিয়ে খেতে পারেন। আবার কালিজিরা এর তেল টাও মধু দিয়ে খেতে পারেন। সকালে খালি পেটে এক চা চামচ মধু+এক চা চামচ তেল/ এক চা চামচ মধু+এক চিমটি কালোজিরা)

– ব্যায়াম করতে হবে। (ব্যায়াম নিয়ে টিপস পেতে এই পেজে – https://www.facebook.com/RijaalGym/ যোগাযোগ করুন)

– রাতে ১১ টার ভেতর ঘুমাতে হবে। দেরি করা যাবে না। সকাল সকাল উঠতে হবে। পারলে দুপুরে একটু ঘুমুতে হবে।

– আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দু’আ করতে থাকুন। আল্লাহ্‌ বলেছেন, ‘আর তোমাদের যদি কোন দুঃখ দৈন্য স্পর্শ করে তখন তা দূর করার জন্য তাকেই তোমরা বিনীতভাবে ডাকতে শুরু কর’। (সূরা আন নাহলঃ আয়াত ৫৩)
.
এভাবে ৩-৬ মাস চলুন। ইনশা আল্লাহ্‌ আর ভয় নেই।
.
চাইলে একজন ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। একজন ইউরোলজিস্ট বা স্কিন এন্ড স্কেক্স এক্সপার্টকে দেখাতে পারেন। যদি আপনার পেনিসে কোনো সমস্যা থাকে উনারা চিকিৎসা করবেন। যদি পেনিসে কোন সমস্যা না থাকে তাহলে উনারা মনোবিদ রেফার করে দিবেন বা নিজে কোনো মনোবিদের কাছে যাবেন। সাইকিয়াট্রিস্ট মানেই পাগলের ডাক্তার না। এতে লজ্জা পাবেন না। আর মনোবিদের পরামর্শ মেনে চলুন ইনশা আল্লাহ্‌।
.
তারপর আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে বিয়ে করে ফেলুন ইনশা আল্লাহ্‌। বিয়ের পর বা বিয়ের আগের রাতে www.facebook.com/shamsul.shakti – ভাইয়ের একটা নোট আছে,সেটা পড়ে নিয়েন। (দয়া করে এখন পড়বেন না, নোটটা পড়ে কোনো পাপে জড়ালে তার দায়ভার আমাদের নয়)। সব ঠিক হয়ে যাবে ইনশা আল্লাহ্‌। দুশ্চিন্তা করবেন না।
———-

৩১. পেনিসের সাইজ নিয়ে খুব চিন্তা হয়,আগা মোটা,গোড়া চিকন ইত্যাদি

– উত্তেজিত অবস্থায় পুরুষ লিঙ্গের গড় দৈর্ঘ্য হয়ে থাকে ৪.৭ থেকে ৬.৩ ইঞ্চি। অনেকের মতে পেনিসের গড় দৈর্ঘ্য ৫.১-৫.৯ ইঞ্চি।

মূলত পর্ন ভিডিও দেখে দেখে বা চটিগল্পের কারণে ছেলেপেলেদের মধ্যে পেনিসের সাইজ নিয়ে মারাত্মকভুল ধারণা তৈরি হয়।

তবে আপনার পেনিস যদি লম্বার সর্বনিম্ন ৪ (চার) ইঞ্চিও হয়ে থাকে তাহলেও আপনার স্ত্রীকে তৃপ্তি দিতে আপনার কোনো সমস্যা হবে না। অনেক বিশেষজ্ঞরা আবার এও বলে থাকেন স্ত্রীকে অরগাজম দিতে মাত্র ৩ ইঞ্চি লম্বা পেনিস হলেই যথেষ্ট।
.
– বড় পেনিস মানেই বেশি আনন্দ, কথাটা ঠিক নয় ।

– পেনিস কখনই একেবারে সোজা হয়না । একটু বাকা থাকেই ।

– পেনিসের গোঁড়া চিকন আগা মোটা এটা কোন সমস্যা নয় । স্কুল জীবন থেকেই রাস্তাঘাটের তথাকথিত হার্বাল, কবিরাজ এবং ভেষজ ডাক্তারদের বিভ্রান্তিকর লেকচার শুনতে শুনতে অনেকের মধ্যেই এ বিষয়ে একটা বদ্ধমূল ভূল ধারণা তৈরি হয়ে আছে ।

– কোন যাদুকরী তেল বা মালিশ পেনিস ‘তেমন’ বড় করতে সক্ষম নয় । এগুলা ভুয়া । আসক্তদের এসব ব্যবহার না করাই ভালো। মালিশ করতে গিয়ে দেখবেন আপনি উত্তেজিত হয়ে মাস্টারবেট করে ফেলছেন, পর্ন দেখে ফেলছেন।

– বেশি বড় পেনিস হলে মেয়েরা আনন্দ পাওয়ার বদলে ব্যাথা পায় । এমনকি সেটা যৌন আতঙ্কেও রুপ নিতে পারে অনেক নারীদের জন্য। মেয়েরা সাধারণত ছোটো পেনিসেই সন্তুষ্ট থাকে।

– ক্ষুদ্র পেনিস বলতে ২.৭৬ ইঞ্চির চেয়ে ছোট পেনিস বুঝায় । সেক্ষেত্রে যথাযথ চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে।

– গোঁড়া চিকন আগা মোটা বা বাঁকা পেনিস যৌনমিলনে কোন সমস্যার সৃষ্টি করেনা। এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।

– স্ত্রী ছাড়াই পেনিস শক্ত এবং দৃঢ হয়ে যায় এমন কোনো কাজ যেমন: বেগানা নারীর দিকে তাকানো, অশ্লীল সাহিত্য পড়া, কম্পিউটার বা মোবাইলে খারাপ কিছু দেখা থেকে বিরত থাকুন।

– ৪০ দিনের মধ্য পুরুষাঙ্গের গোড়ার চুল কাটুন।

– আপনার যৌন স্বাস্থের দিকে নজর দিন। এটাও আপনার শরীরেরই অংশ। নিয়মিত পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করুন। কারণ পুরুষরা দৈনন্দিন খাবার দাবার থেকেই তাদের যৌন শক্তি লাভ করে থাকে।
.
এই পর্যন্ত পড়ার পর আপনার অনেক উত্তেজনা চলে আসতে পারে। নিজের ভবিষ্যৎ স্ত্রীর সাথে অন্তরজ্ঞ হবার চিন্তা,ফ্যান্টাসি মাথায় আসতে পারে। আল্লাহ্‌কে ভয় করুন। নিজেকে সামলান। অশ্লীল চিন্তা মাথা থেকে দূর করে দিন। ভুলেও অশ্লীল চিন্তায় বুঁদ হয়ে থাকবেন না। তা না হলে আপনি কিছুক্ষণের মধ্যেই পর্ন দেখে ফেলবেন বা মাস্টারবেট করে ফেলতে পারেন। সাবধান।
(https://www.medicalnewstoday.com/articles/271647.php)
———-

৩২. কখন ডাক্তার দেখাবো? কাকে দেখাবো?

নরমালি পর্ন দেখার ফলে ইরেক্টাইল ডিসফাওংশন ( লিঙ্গোত্থানে সমস্যা) বা প্রি ম্যাচুউর ইজাকুলেশন (অকাল বীর্যপাত) হলে পর্ন মাস্টারবেশন ছেড়ে দিলে এবং একটু ভালোমতো খাওয়া দাওয়া করলে ৩-৬ মাস বা কারো কারো আরেকটু বেশি সময় লাগে। আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলবেননা।

পরবর্তীতে কোন সমস্যা দেখা দিলে বা এ বিষয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা কাজ করলে একজন ইউরোলজিস্ট বা স্কিন এন্ড স্কেক্স এক্সপার্টকে দেখাতে পারেন।

এলাকাভিত্তিক ডাক্তার এবং মনোবিদদের লিস্ট- http://lostmodesty.com/doctorlist/
———-

৩৩. পর্নসাইট ব্লক করবো কিভাবে?

Android মোবাইলে পর্ন ব্লক করার উপায়ঃ

১. যদি মোবাইল ইন্টারনেট বাসার WiFi এর মাধ্যমে চালান তাহলে এই ভিডিও দেখুন- https://youtu.be/K2CLMulY864

(এখানে বলে রাখা ভালো, apps lock দিয়ে অন্যান্য ব্রাউজার লক করার সময় পাসওয়ার্ড দিবে অন্য আরেকজন, হয় আপনার বন্ধু বা বাসার কেউ। যে দিবে সে আপনাকে আর পাসওয়ার্ড জানাবে না, ওটা জেনে গেলে লাভ হবে না। আরেকটা কাজ করতে পারেন, ইচ্ছামত কঠিন কম্বিনেশন ইউজ করে একটা পাসোয়ার্ড লিখবেন কাগজে, অ্যাপে ভেরিফিকেশন শেষ হয়ে গেলে ওই কাগজ ছিড়ে ফেলুন বা পুড়িয়ে দিন। তবে প্রথমটি করাই উচিত। অন্য কারো সাহায্য নেওয়া)

এই ভিডিও অনুযায়ী কাজ করার পর আপনাকে আরেকটা কাজ করতে হবে। গুগল সেটিং থেকে Safe Search অন করে দিতে হবে। এই লিঙ্ক দেখুন- https://www.wikihow.com/Block-Porn-from-Google-Search

২. যদি মোবাইল ডাটার মাধ্যমে ইন্টারনেট চালান তাহলে এই ভিডিও দেখবেন- https://youtu.be/vH0n43Rz67Q
.
iOS মোবাইলে এবং PC তে পর্ন ব্লক করার উপায়ঃ

পড়ুন – http://lostmodesty.com/muktobichoron/
.
কোন স্টেপ বুঝতে প্রব্লেম হলে পর্নোগ্রাফিঃ মানবতার জন্য হুমকি পেজে ইনবক্স করুন।
.
আরেকটা কথা, আমরা যত সফটওয়্যারই ব্যবহার করি না কেন সবগুলোর কোন না কোন glitch আছে। সহজেই ফাকি দেয়া যায়। তাই এদের ভরসায় বসে থাকলে হবে না, নিজের মন থেকেই রেসিস্টেন্স নিয়ে আসতে হবে। যত যাই হোক আমি পর্ন দেখবো না চটি পড়বো না মাস্টারবেট করবো না- এইরকম দৃঢ়তা লাগবে ভাই। নিজের মন কে শাসন করতে হবে। যেভাবে ট্রেইনিং দেয়া হয় বিশেষ কাজে দক্ষ শ্রমিক গড়ে তুলতে সেভাবে নিজের মন কে, নফস কে ট্রেইন করতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে এক পর্ন বা চটি বা হস্তমৈথুন কিভাবে মনকে কলুষিত করে, হতাশা বাড়িয়ে দেয়, কিছু না পাওয়ার তাড়না তীব্রভাবে বাড়ায় তোলে, ইবাদত নষ্ট করে, মানুষকে পশুতে পরিনত করে। এভাবে ট্রেইন আপ করুন নিজের মনকে। পর্ন ব্লক সফটওয়্যার অনেকটা সেফটি রিং গুলার মত, যেই রিং ধরে ধরে সাঁতার শেখা শুরু হয় বা এক্সপার্ট ড্রাইভার এর মত যে আপনাকে সতর্ক করবে গাড়ি চালানো শেখার সময়। এরা শর্ট টার্ম সাপোর্ট দিবে, কিন্তু দিনশেষে আপনাকেই হাল ধরতে হবে, নিজেকে ডেভেলপ করতে হবে।
———-

৩৪. ইউটিউব এর ফিতনা

পড়ুন- https://tinyurl.com/ycyesvvc
———-

৩৫. মোবাইলে অ্যাড ব্লক করবো কিভাবে? + শেয়ারইট এর ফিতনা

পড়ুন – http://lostmodesty.com/muktobichoron/
.

আমরা খুব ছোটো মানুষ। আমাদের লিখার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ্‌। যেকোনো ধরণের পরামর্শ বা সাজেশন হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ …
.
পড়ুন আগের পর্বগুলাঃ http://lostmodesty.com/vengefelokaragar/

শেয়ার করুনঃ
ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (ষষ্ঠ পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (ষষ্ঠ পর্ব)

২৯. আমি অনেক শুকনো। বন্ধু-বান্ধব আমাকে নিয়ে মজা করে। হতাশা লাগে। হতাশা থেকে পর্ন দেখি। মাস্টারবেট করি।

একসময় আমার ওজন ছিল ৫২ কেজি। শুকনা থাকার ফলে একবার আমি আর আমার এক বন্ধু বেশ বড়ধরণের একটা এক্সিডেন্ট থেকে বেঁচে গিয়েছিলাম। রাস্তা পার হবার সময় আমি আর  বন্ধু দুই বাসের চিপায় পড়ে গিয়েছিলাম। তারপর যদি সোজা থাকতাম তাহলেও চিপায় পড়ে চ্যাপ্টা হয়ে যাইতাম। দুইজনে বাকা হয়ে গেলাম আড়াআড়ি ভাবে। শরীর ঘেঁষে বাস চলে গেল। একটু মোটা হলেই সেদিন দুইজনেই মারা যেতাম।  শুকনা থাকার কারণে দৌড়ে সহজে কেউ পারতোনা, মোটা বন্ধুদের তুলনায় খেলাধুলায় বেশ ভালোই ছিলাম, গরমে হাঁসফাঁস কম করতাম।

৫২ কেজি ওজনের আমি এক রোযার মাসে শুকাইয়া হলাম ৫০ কেজির মতো। রোযার পর একমাস কেন জানি একটু বেশি বেশি খেলাম, রাত ১০টার মধ্যে ঘুমিয়ে ফজরের সময় উঠলাম, রিলাক্স থাকলাম, দুশ্চিন্তা, টেনশন থেকে দূরে থাকলাম। এক মাসের মাথায় ওজন বাড়ল ৬ কেজি। হলাম ৫৬ কেজি। দেড় মাস পর যখন হল থেকে বাসায় গেলাম তখন আমার ওজন ৬১ কেজি ছুঁই ছুঁই।  মায়ের মুখে হাসি আর ধরেনা। জীবনে এই প্রথমবারের মতো  বাসায় ফেরার পর মা বললোনা যে তুই শুকিয়ে কঙ্কাল হয়ে গিয়েছি। মানুষজন আমাকে এসে জিজ্ঞাসা করল, এই তুমি কি খাইছো? কেমনে এতো মোটা হলা? আল্লাহ্‌র কসম। একবিন্দুও বাড়িয়ে বলছিনা।

শরীর শুকনা, কেন মোটা হচ্ছিনা, এসব ভেবে, তালপাতার সেপাই, কাঠি, হ্যাঙ্গার, বাতাস উঠলে পড়ে যাবি সাবধান এসব কথা শুনে আর  বন্ধুরা টিশার্ট পরে মাসল দেখিয়ে বেড়ায়, মেয়েরা দেখে আর ক্রাশ খাই মেইনলি এসব দেখে মন খারাপ হয়। হতাশা আসে, হতাশা থেকে অনেকেই হীনমন্যতায় ভোগে, মানুষজনের সামনে সহজ হতে পারেনা, মিশতে পারেনা, নিজেকে গুটিয়ে নেয়। অনেকেই গভীর দুঃখবোধ থেকে পর্ন দেখে ফেলে মাস্টারবেট করে ফেলে।

দুইজন সুপার হিরোর গল্প শোনা যাক।

প্রথমজন হলেন এমন একজন যিনি এই দুনিয়ার বুকে যতো মানুষ হেঁটে বেড়িয়েছেন নবী, রাসূলের (আঃ) পর তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ। দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন। সাত আসমানের ওপর থেকে আল্লাহ্‌ (সুবঃ) যাকে সালাম পাঠিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন আল্লাহ্‌র রাসূল (সাঃ) এর সবসময়ের সঙ্গী, ইসলামের প্রথম খলিফা। আল্লাহ্‌র রাসূল মারা যাবার পরে সবাই যখন হতবিহব্বল, কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন, উমার ইবনে খাত্তাবের (রাঃ) মতো মহাবীর, প্রবল ব্যক্তিত্বের অধিকারী মানুষও শিশুর মতো আচরণ করছিলেন তখন একা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনেন এই সুপার হিরো। তিনি আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহুম।

আলী ইবনে আবু তালিব (রাঃ) এমন সাহসী, এমন দুর্ধর্ষ যোদ্ধা ছিলেন, এমন এক পর্বতসমান ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন যে শত্রুরা তাঁর নাম শুনলেই ভয়ে কাপাকাপি করতো। তিনিই হলেন সেই ব্যক্তি যিনি খায়বারের যুদ্ধে দুর্গের দরজাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন, যেটা যুদ্ধের পরে ৭০ জন মানুষ মিলেও তুলতে পারিনি। এই আলি (রাঃ) একদিন মানুষদের জিজ্ঞাসা করলেন, বলো তো সবচাইতে কে বেশি সাহসী? উত্তর এলো- আপনি,আপনি সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী হে আবুল হাসান (আলী রাঃ)’ ।  আলী (রাঃ) বললেন না, কক্ষনোনা। আমি কোনো ডুয়েল লড়াইয়ে কখনো পরাজিত হইনি, কিন্তু তারপরেও আবু বকর (রাঃ) আমার চাইতেও অনেক অনেক সাহসী। তিনি সবচেয়ে বেশি সাহসী।

(https://www.youtube.com/watch?v=rWb2Bao0JfE )

আলী (রাঃ) বললেন, বদরের যুদ্ধে একটি কমান্ড সেন্টার স্থাপন করা হল। যেখানে থেকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যুদ্ধ পরিচালনা করবেন। সেই তাবুর নিরাপত্তা প্রদানের জন্য ভলান্টিয়ার আহবান করা হলো। আমাদের কেউই এগিয়ে গেল না। এগিয়ে গেলেন কেবল আবু বকর (রাঃ)। তরবারী হাতে তিনি আল্লাহ্‌র রাসূলের (সাঃ) তাঁবু পাহারা দিচ্ছিলেন। বিশ্বাস করো, তাঁর মতো সাহসী আমি কাউকেই দেখিনি’।

(https://www.kalamullah.com/Books/Abu%20Bakr%20As-Siddeeq.pdf  page,112)

সুবহান আল্লাহ্‌ একবার চিন্তা করুন, আলীর (রাঃ) মতো মানুষ, সার্টিফিকেট দিচ্ছেন আবু বকর (রাঃ) এর মতো সাহসী মানুষ তিনি  আর দেখেননি।

এই পর্যন্ত পড়ার পর এবার আবু বকর (রাঃ) এর শারীরিক গঠনের কথা চিন্তা করুন। কেমন ছিলেন তিনি ? অনেক লম্বা, মাসলের হাট বাজার বসিয়ে ফেলা এমন একজন কেউ ?

উত্তর একটু পরে দিচ্ছি।

.

আমাদের আরেকজন সুপারহিরো হলেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)। কুরআনে তাঁর ছিল অগাধ পান্ডিত্য। একরাতে তাঁর কুরআন তিলাওয়াত শুনে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মন্তব্য করেছিলেন- কুরআন যেরকম সরস ও প্রাণবন্ত রূপে নাজিল হয়েছে, ঠিক সেরকম পড়ে যদি কেই আনন্দ পেতে চায়, তাহলে তার উচিত ইবনে উম্মে আবদ অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের কেরাতে তা পড়া’।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) শুধুই কেবল একজন কুরআনের শ্রেষ্ঠ বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াতকারী,কুরআনের পণ্ডিত, আবিদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন শক্তিশালী, আত্মপ্রত্যয়ী এবং যুদ্ধের ময়দানের একদম সামনের সারির মুজাহিদ। বিলাল (রাঃ) এর ওপর সর্বাধিক অত্যাচারকারী  উমাইইয়া ইবনে খালাফকে তিনি বদরের যুদ্ধে জাহান্নামের টিকিট ধরিয়ে দিয়েছিলেন।

তাঁর সাহসিকতা, তাঁর বীরত্বের উদাহরণ হিসেবে এটা বলাই যথেষ্ট যে তিনিই সর্বপ্রথম মুসলিম যিনি  রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর পর পৃথিবীর বুকে উচ্চ আওয়াজে কুরআন পড়েছিলেন।

.

সেই সময় মক্কার কুরাইশদের অত্যাচারের মুখে সাহাবীদের (রাঃ) পক্ষে উচ্চ আওয়াজে কুরআন পড়ে কুরাইশদের শোনানো সম্ভব হচ্ছিল না। আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বললেন, ‘আমিই তাদের উচ্চ আওয়াজে কুরআন পড়ে শোনাবো’।

সকলে হায় হায় করে উঠলেন, ‘ আপনার ব্যাপারে আমরা ভরসা পাইনা। আমাদের প্রয়োজন এমন একজন মানুষ- যার বংশ বড় এবং জনবলও বেশি। যারা তাঁর হেফাযত করবে এবং কুরাইশের ক্ষতি থেকে তাকে সুরক্ষা দেবে’।

তিনি, বাকিদের কথা না শুনে ক্বাবা শরীফে গিয়ে উচ্চকন্ঠে সূরা আররহমান তিলাওয়াত করা শুরু করেন- আররহমান, আল্লামাল কুরআন…

কুরাইশরা স্তব্ধ হয়ে গেল! এই পুঁচকে রাখালের সাহস কতো বড়!  দে মাইর দে। সবাই মিলে আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদকে (রাঃ) অনেক পেটালো। রক্তে রঞ্জিত করে ফেলল। কিন্তু তিনি তাদের কাছে মার খেতে খেতেও তিলাওয়াত অব্যাহত রাখেন। তিলাওয়াত শেষে রক্তাক্ত অবস্থায় সাহাবীদের মাঝে ফেরত আসেন। সাহাবীরা তাঁর এ অবস্থা দেখে বললেন- এটাই আমরা আশঙ্কা করছিলাম।

তিনি বললেন, আল্লাহ্‌র কসম! এই মুহূর্তে আল্লাহর দুশমনরা আমার চোখে এত পরিমাণ তুচ্ছ যে এর আগে তারা এতো তুচ্ছ ছিলনা। আপনারা চাইলে আমি আবার আগামীকাল একই কাজ করব’।

(সাহাবা কেরামায়ের ঈমানদীপ্ত জীবনি, প্রথম খন্ড ড আবদুর রহমান রাফাত পাশা , রাহনুমা প্রকাশনী)

.

এই মর্দে মুজাহিদ আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ)  কেমন ছিলেন? পালোয়ান? মাসলম্যান ?

আমাদের প্রথম সুপারহিরো আবুবকর (রাঃ) এর কাছে ফেরত যাওয়া যাক। কেমন ছিল তাঁর শারীরিক গঠন? তাঁর মেয়ে আম্মাজান আঈশা (রাঃ) আমাদের জানাচ্ছেন- ‘বাবা ছিলেন খুবই শুকনা। এতোই শুকনা যে তাঁর কোমরে পায়জামা ঠিকমতো থাকতোনা। পড়ে যেত খানিকপর পর। তাঁর চোখগুলো ছিল গর্তে বসা। তিনি যেন বাতাসে ভেসে ভেসে হাঁটতেন। এতোটাই শুকনো ছিলেন তিনি’। রাদিয়াল্লাহু আনহুম। (https://www.youtube.com/watch?v=PoWhAxt8pJg&t=219s)

আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) ছিলেন অনেক শুকনো। একবার তিনি খেজুরের গাছে উঠছিলেন। তাঁর সরু সরু কাঠির মতো পা দেখে অনেকেই হাসাহাসি শুরু করে দিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তখন ঐ সাহাবীদের বললেন, ‘ তোমরা কেন এমন করছো? তোমরা কেন হাসছো? কসম সেই সত্তার যার হাতে আমার প্রাণ, আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদের পা যদি মিজানের পাল্লায় ওজন করা হয় তাহলে তা উহুদ পাহাড়ের চাইতেও বেশি ভারি হবে।

(https://www.youtube.com/watch?v=4IxXei_SvAQ  )

.

ভাই আসল কনফিডেন্স, আসল শক্তি গায়ের মাসল দিয়ে আসেনা, আসে আল্লাহ্‌র ভয়, আল্লাহ্‌কে চিনতে পারা, তাওহীদকে বুঝতে পারার মাধ্যমে। মেয়েদের ক্রাশ হওয়া, মেয়েদের সাথে ফুচকামি করার মধ্যে পুরুষ হবার কিছু নাই, পুরুষ তো তাঁরাই যারা ফজরের সালাতে ঘুম থেকে উঠতে পারেন, রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, চোখের হেফাযত করতে পারেন, নির্জনে, ঘরের কোণে কেউ যখন দেখছেনা এমন মুহূর্তে নিজেকে পাপের হাত থেকে রক্ষা  করতে পারেন, আল্লাহ্‌র শত্রুদের মনে কাপন ধরিয়ে দিতে পারে্ন। সাহসিকতা, নির্ভীকতার সঙ্গে চিকনা না মোটকু না সুঠাম দেহ এসব জড়িত না। এসব কোনো ফ্যাক্টরই না।  নিজের শুকনা শরীর নিয়ে কক্ষনো হীনমন্যতায় ভুগবেন না। এই শরীরের বড়ত্ব, এই শরীর দিয়ে ভাব মারা, ধরাকে সরা জ্ঞান করা আযরাইলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যাবে। মাটিতে পচে যাবে। পোকা ধরবে।  আর আল্লাহ্‌র কাছে আপনি কতো সম্মানিত তা আপনি দেখতে কেমন, শুকনা না মোটা এসবের ধার ধারেনা

‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি অধিক সম্মানিত যিনি তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক খোদাভীরু। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং সব বিষয়ে অবহিত’ (সূরা হুজরাত : ১৩)।

.

ভাইয়া দেখুন, একটা বয়সে সবাই একটু শুকনা থাকে। তারপর যখন বয়স বাড়তে শুরু করে তখন তালপেতার সেপাই থেকে ভুড়ির আড়তদার হয়ে যায়। এগুলো নিয়ে চিন্তা করবেন না ভাইয়া। সব ঠিক হয়ে যাবে ইনশা আল্লাহ্‌।

রাত জাগবেন না। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠবেন।  ব্যায়াম করবেন।  বেশি বেশি খাওয়া দাওয়া করুন। এক দুই মাস সেই লেভেলের একটা খাওয়া দিন । পর্ন, মাস্টারবেশন, সিগারেট বাদ দিন। দেখেন কি হয়।

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমার মায়ের ইচ্ছা ছিল আমাকে স্বাস্থ্যবতী বানিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পাঠাবেন। এজন্য তিনি অনেক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, কিন্তু কোন ফল হয়নি। শেষে তিনি আমাকে পাকা খেজুরের সাথে শসা বা খিরা খাওয়াতে থাকলে আমি তাতে উত্তমরূপে স্বাস্থ্যের অধিকারী হই। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৯০৩

.

এটা নিয়ে মন খারাপ করার কিছু নেই।  আমি শুকনো আমাকে অনেক খারাপ দেখায়, কোনো মেয়ে আমাকে পছন্দ করবেনা, আমার বিয়ে হবেনা এসব ভেবে ভেবে কষ্ট পাবেন না। হীনমন্যতায় ভোগারো কিছু নেই। আল্লাহ্‌ যদি আপনার কপালে বিয়ে লিখে রাখেন তাহলে বিয়ে হবেই । কেউ ঠেকাতে পারবেনা।  আর ভাইয়া আল্লাহ্‌র কাছে প্রিয় হতে চেষ্টা করুন। আল্লাহ্‌র ভালোবাসা পাবার চেষ্টা করুন। তাহলে আপনি মানুষের ভালোবাসা পাবেন। আল্লাহ্‌ আপনার চেহারায় নূর ঢেলে দিবেন।

যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে ভালোবাসে আল্লাহ তাআলাও তাকে ভালোবাসেন। হাদিসের বর্ণনায় আল্লাহর ভালোবাসার মাধ্যমেই মানুষ দুনিয়াতে জনপ্রিয়তা লাভ করে।

পক্ষান্তরে আল্লাহর অবাধ্য কাজ করলেই বান্দা তার বিরাগভাজন হয়ে যায়। সুতরাং যে বান্দার প্রতি আল্লাহ তাআলা ঘৃণা পোষণ করেন, এ ঘৃণার প্রভাবও কঠিন আকারে বিস্তৃতি লাভ করে। দুনিয়াতে সে হয় অপমানিত ও লাঞ্ছিত।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ যখন কোনো ব্যক্তিকে ভালোবাসেন, তখন জিবরিলকে ডেকে বলেন, আমি অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসি, সুতরাং তুমিও তাকে ভালোবাস।

অতঃপর জিবরিল আলাইহিস সালাম তাকে ভালোবাসতে থাকেন। তারপর (জিবরিল) আকাশবাসীকে (ফেরেশতাদের) বলে দেন যে, আল্লাহ অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসেন। অতএব তোমরা তাকে ভালোবাস। তখন আকাশের সকল ফেরেশতা তাকে ভালোবাসতে থাকেন। অতঃপর সে ব্যক্তির জন্য জমিনেও জনপ্রিয়তা দান করা হয়।

আর আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ঘৃণা করেন তখন জিবরিলকে ডেকে বলেন, আমি অমুক ব্যক্তিকে ঘৃণা করি, তুমিও তাকে ঘৃণা কর। তখন জিবরিলও তাকে ঘৃণা করেন। এরপর আকাশবাসীকে বলে দেন যে, আল্লাহ অমুক ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন, তোমরাও তাকে ঘৃণা কর। তখন আকাশবাসীরা তাকে ঘৃণা করতে থাকে। অতঃপর তার জন্য জমিনেও মানুষের মনে ঘৃণা সৃষ্টি হয়।’ (মুসলিম, মিশকাত)

আরো পরামর্শের জন্য নক করুন- https://www.facebook.com/RijaalGym/

অবশ্যই শুনুন- https://www.youtube.com/watch?v=PoWhAxt8pJg&t=219s

 

আমরা খুব ছোটো মানুষ। আমাদের লিখার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ্‌।  যেকোনো ধরণের পরামর্শ বা সাজেশন  হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ …

পড়ুন আগের পর্বগুলা

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (প্রথম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারগার (দ্বিতীয় পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (তৃতীয় পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (চতুর্থ পর্ব )

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (পঞ্চম পর্ব)

 

শেয়ার করুনঃ
ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (পঞ্চম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (পঞ্চম পর্ব)

১৬. বিয়ে করে ফেললে কী মুক্তি পাবো?

আসক্তি কাটানোর জন্য খুব কমন একটা সাজেশন থাকে বিয়ে করে ফেলা। এইটা ২৫-২৬ বছরের নীচে কাউকে জোর দিয়ে বলবেননা। বলবেন তবে জোর দিয়ে না। যদি করে ফেলতে পারে (করে ফেলা উচিত) তাহলে খুবই ভালো । কিন্তু জোর দিয়ে বলবেন না। এর কারণ হলো- ২৫-২৬ বা এর চেয়ে কম বয়সী কারো পক্ষে বিয়ে করা আমাদের সমাজে কঠিন। এখন যদি ঐ ছেলেগুলাকে বিয়ে করতে বলেন তাহলে ওরা আসক্তি কাটানোর অন্য উপায় গুলো নিয়ে ভাববেনা। সারাদিন শুধু অহেতুক বিয়ে বিয়ে করে সময় নষ্ট করবে। ভাববে যে এখন পর্ন দেখি বা মাস্টারবেট করি, বিয়ের পরে তো সবই ঠিক হয়ে যাবে, মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইয়ে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা আছে। আসক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামের সঙ্গে সঙ্গে বিয়ের জন্য চেষ্টাও চলবে। আমাদের ভুল বুঝবেন না, আমরা বিয়ে করতে নিষেধ করছিনা। আমরা বলছি বিয়ের চেষ্টা এবং আসক্তি থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা পাশাপাশি চলবে ইন্সা আল্লাহ্‌ ।  এই লিখাটিও পড়তে পারেন-

কেন বিয়ে মাস্টারবেশনের সম্পূর্ণ সমাধান না-

http://lostmodesty.com/2018/08/কেন-বিয়ে-মাস্টারবেশনের-স/

১৭. আমার ভাই ক্লাস সেভেন এইটে পড়ে। তাকে কি মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটা পড়তে দিতে পারি?

জ্বী পারেন। কোনো সমস্যা নেই ইনশা আল্লাহ্‌। তবে সাবধানতার জন্য বলে দিয়েন  যে কিছু জানার থাকলে যেন আপনাকেই জিজ্ঞাসা করে।

১৮. আমাদের ছেলে/ভাই পর্ন দেখে কীনা কীভাবে বুঝব?

আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (দ্বিতীয় কিস্তি): https://tinyurl.com/yyvbtafg

মৃত্যু? দুই সেকেন্ড দূরে! (প্রথম পর্ব): https://bit.ly/2OcDLF9

১৯.  আমাদের ছেলে/ভাই পর্ন দেখলে কী করব?

আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (প্রথম কিস্তি): https://bit.ly/2CMF4sV

আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (দ্বিতীয় কিস্তি): https://tinyurl.com/yyvbtafg

আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (শেষ কিস্তি): https://bit.ly/2NzPdxm

হৃদয়ের ঋণ (প্রথম কিস্তি)- https://bit.ly/2MmESA9

হৃদয়ের ঋণ (শেষ কিস্তি)- https://bit.ly/2NHUza4

অবস্থা গুরুতর হলে একজন মনোবিদ/মেন্টরের কাছে নিয়ে যান। এটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

২০. ছেলেমেয়ে/ছোটোভাই,বোনদের সেক্স এডুকেশন কীভাবে দেওয়া যায়?

যৌনশিক্ষাঃ যে কথা বলা যায়না- https://tinyurl.com/y65agkbd

যৌনশিক্ষা: বাচ্চাদের কীভাবে বলা যেতে পারে- http://tinyurl.com/y4jav6vc

২১. আমার স্বামী পর্ন আসক্ত। কী করব ?

ও যখন পর্ন আসক্ত” (শেষ পর্ব): https://bit.ly/2p1M5fS

 

২২. আমি মাস্টারবেট করিনা, কিন্তু পর্ন দেখি-

ভাইয়া এটা ক্ষতিকর। পর্নও দেখা যাবেনা । মাস্টারবেটও করা যাবেনা। কোনোটাই করা যাবেনা।

২৩. প্রস্রাবের সাথে বীর্য বের হয়।

(এ ধরণের প্রশ্নের উত্তর কখনো আন্দাজে দিবেননা। আমাদের মেইন গ্রুপে বা পেইজে প্রশ্ন করতে বলবেন। হারবাল ডাক্তারের কাছে যাবার পরামর্শ দিবেন না। ডাক্তারের লিস্ট আমরা দিচ্ছি ইনশা আল্লাহ্‌ : এলাকাভিত্তিক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসকদের লিস্ট)

শুধু প্রস্রাবের সময় মাঝে মাঝে বীর্য যায়, বীর্যের কালার বা গন্ধ চেইঞ্জ না হয় তাহলে ইনশা আল্লাহ্‌ কিছুদিন পর ঠিক হয়ে যাবে। আপনি বেশি বেশি পানি খান, ইসুব গুলের ভূশি খান। পর্ন, মাস্টারবেশন,অশ্লীল চিন্তা একেবারে ছাড়ুন। আল্লাহ্‌র কাছে দু’আ করুন। এক দেড়মাস ওয়েট করুন। ঠিক না হলে ডাক্তারের কাছে যাইয়েন। আর যদি গন্ধ বা কালার চেইঞ্জ হয়ে যায় তাহলে দ্রুত চিকিৎসক দেখান।

অনেক সময় কষা পায়খানার ক্ষেত্রে কোথ দিলে এই তরল যেতে পারে। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য বা কষা পায়খানা দুর করুন, প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন, দিন দুইবার করে ইসবগুলের ভুসি পানিতে মিশিয়ে খাবেন,, পরিমিত ঘুমাবেন। এরপরও এই তরল অতিমাত্রায় প্রতিদিন বের হলে সমস্যা বলে বিবেচিত হবে। এর জন্য যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

 

২৪. আমি বিবাহিত। আমার দাম্পত্য জীবনে কিছু সমস্যা হচ্ছে

পর্ন, মাস্টারবেশন ছেড়ে দিন একেবারে। ব্যায়াম করুন। ডাক্তার দেখান। দয়াকরে যৌনশক্তি বর্ধক হারবাল টাইপের কোনো ওষুধ খাবেন না। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখান।

https://www.facebook.com/shamsul.shakti এই ভাইয়ের একটা নোট আছে। এইটা অবশ্যই অবশ্যই পড়তে হবে। উনাকে নক দিন।

(বিবাহিত ছাড়া কাউকে এই নোট পড়ার কথা বলবেন না। দিবেননা। আপনি যদি নিজে বিবাহিত না হয়ে থাকেন তাহলে এই নোট পড়বেন না। যদি এর অন্যথা করেন তাহলে তার ব্যাপারে আমরা দায়মুক্তি ঘোষণা করছি)

সেক্সের সময় কতো এই টাইপের কিছু প্রশ্ন পাবেন অবিবাহিত পোলাপানের কাছ থেকে। এদেরকে কখনোই এসব প্রশ্নের উত্তর দিবেন না। বলবেন যে বিয়ের পরে বা বিয়ের আগ দিয়ে দিয়ে যেন জেনে নেয়।এরা সারাদিন এসব নিয়ে ভাবে। সেক্স ফ্যান্টাসিতে ভোগে। তারপর বাধ্য হয়ে মাস্টারবেট করে।

২৫. মাস্টারবেশন বা পর্ন দেখার ফলে চেহারার উজ্জ্বল্যতা/লাবণ্যতা আগের তুলনায় আগের চাইতে কমে গিয়েছে।

পর্ন মাস্টারবেশন থেকে দূরে থাকবেন। পানি শাকসবজি খান বেশি বেশি। রাত জাগবেন না। একদম সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠবেন। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবেন। একদম দুশ্চিন্তা করবেন না। চাইলে হিজামাহ করাতে পারেন।হিজামায় উপকার পাওয়া যায়।  নিয়মিত কুরআন পড়বেন। পবিত্র জীবন যাপন করবেন।  ডাক্তার দেখাতে পারেন।

২৬. পর্ন দেখার ফলে চোখের সমস্যা দেখা দিয়েছে। চোখে কম দেখি

১) পর্ন,মাস্টারবেশন বাদ দিন। কুরআন পড়ুন বেশি বেশি। বাহিরে ঘোরাফেরা করুন, সবুজ দেখুন।পুষ্টিকর খাবার খান।

২) চোখের ডাক্তার দেখান।

৩) ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ। তিনি বলেন, নবী (সঃ) বলেছেন, তোমরা ইছমিদ সুরমা ব্যবহার করো। কারণ, তা চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করে ও পরিষ্কার রাখে এবং অধিক ভ্রু উৎপন্ন করে (ভ্র উদগত হয়)। ইবনে আব্বাস (রাঃ) আরো বলেন, নবী (সঃ) এর একটি সুরমাদানী ছিল। প্রত্যেক রাত্রে (ঘুমানোর পূর্বে) ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে তিনবার সুরমা লাগাতেন।

ব্যাখ্যা : সুরমা ব্যবহারের হুকুম ও পদ্ধতি :

নারী-পুরুষ সকলের জন্য চোখে সুরমা লাগানো ভালো। তবে সওয়াবের নিয়তে সুরমা লাগানো উচিত, যাতে চোখের উপকারের সাথে সাথে রাসূলুল্লাহ (সঃ) র এর সুন্নতের অনুসরণের সওয়াবও লাভ হয়। অত্র হাদীসে সুরমা ব্যবহারের তিনটি উপকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা বর্তমান বিজ্ঞানে হুবহু প্রমাণিত। এছাড়াও গবেষণায় আরো উপকারিতা পাওয়া গেছে সেগুলো হলো :

১. সর্বধরনের ছোয়াচে রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে।

২. চোখের প্রবেশকৃত ধূলাবালী নিঃসরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে প্রভৃতি।

৩. অত্যন্ত কার্যকরী জীবাণুনাশক।

৪. চোখে জ্বালাপোড়া খুব কম হয়। সুনানুল কুবর লিল ইমাম বাইহাকী, হা/৮৫১৬। (শামায়েলে তিরমিযি, হাদিস নং ৪১)

২৭. স্মরণশক্তি এবং জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য কী করব?

এই দোআটি পড়বেন-

رَّبِّ زِدْنِى عِلْمًا

রব্বি যিদ্নী ‘ইল্মা-

অর্থঃ হে আমার রব, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন। সূরা ত্বাহা – ২০:১১৪

***মুখস্তশক্তি/স্মরণশক্তি বাড়ানোর জন্য গুনাহ পরিত্যাগ করুন

.ইয়াইয়া বিন ইয়াহইয়া (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক লোক মালেক বিন আনাস (রহঃ) কে বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ! মুখস্তশক্তি বাড়ানোর কোন কিছু আছে কি? তিনি বলেন: যদি কোন কিছু থাকে তাহলে সেটা হল: গুনাহ পরিত্যাগ করা।

যখন কোন মানুষ গুনাহ করে তখন এ গুনাহটি তাকে ঘিরে রাখে এবং গুনাহর ফলে তাকে দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনা পেয়ে বসে। সে গুনাহর কারণে তার চিন্তাধারা মশগুল হয়ে থাকে। এভাবে এ দুশ্চিন্তা তার অনুভূতির উপর আধিপত্য বিস্তার করে থাকে এবং তাকে অনেক কল্যাণকর কাজ থেকে দূরে রাখে। এর মধ্যে মুখস্থশক্তি অন্যতম। গ্রন্থঃ খতীব আল-জামে (২/৩৮৭)

*** ইমাম যুহরী (রহঃ) বলেন: তুমি মধু খাবে; কারণ এটি স্মৃতিশক্তির জন্য ভাল।

তিনি আরও বলেন: যে হাদিস মুখস্ত করতে চায় সে যেন কিসমিস খায়। গ্রন্থঃ (খতীব আল-বাগদাদীর ‘আল-জামে’ ২/৩৯৪)

*** অধিক হারে আল্লাহর যিকির করা। যেমন- সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ইত্যাদি পড়া। আল্লাহ তাআলা বলেন: “যখন ভুলে যান তখন আল্লাহর যিকির করুন” [সূরা কাহাফ, আয়াত: ২৪]

*** মুখস্থশক্তি বৃদ্ধি ও ভুলে যাওয়ার সমস্যা প্রতিরোধে আরও যে জিনিসটি সাহায্য করে সেটি হচ্ছে- মাথায় শিংগা লাগানো /হিজামা করা।

এটি পরীক্ষিত। (আরও বিস্তারিত জানতে ইবনুল কাইয়্যেম এর ‘আততিব্ব আন-নাবাবি’ পড়ুন)। Source: Islamqa . Info → http://bit.ly/2CoDSKe

 

২৮. মাথার চুল উঠে যাচ্ছে ?

১) হিজামাহ করুন। হিজামাহ করা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সুন্নাহ। বিস্তারিত জানতে হিজামাহ লিখে গুগুলে সার্চ দিন।

২) চুলে পেয়াজের রস ব্যবহার করতে পারেন। কালোজিরার তেল,নিমের তেল, আমলা, মেথি এগুলোও বেশ উপকারী। এগুলোর ব্যবহার প্রণালী জানার জন্য গুগলে  একটু খুঁজে দেখুন।

৩) চুলের ডাক্তারের কাছে যেতে পারেন।

এটা নিয়ে মন খারাপ করার কিছু নেই। মাথার চুল পড়ে গেলে আমাকে কেমন দেখাবে, কোনো মেয়ে আমাকে পছন্দ করবেনা, আমার বিয়ে হবেনা এসব ভেবে ভেবে কষ্ট পাবেন না। হীনমন্যতায় ভোগারো কিছু নেই। আল্লাহ্‌ যদি আপনার কপালে বিয়ে লিখে রাখেন তাহলে বিয়ে হবেই । কেউ ঠেকাতে পারবেনা।  আর ভাইয়া আল্লাহ্‌র কাছে প্রিয় হতে চেষ্টা করুন। আল্লাহ্‌র ভালোবাসা পাবার চেষ্টা করুন। তাহলে আপনি মানুষের ভালোবাসা পাবেন। আল্লাহ্‌ আপনার চেহারায় নূর ঢেলে দিবেন।

যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে ভালোবাসে আল্লাহ তাআলাও তাকে ভালোবাসেন। হাদিসের বর্ণনায় আল্লাহর ভালোবাসার মাধ্যমেই মানুষ দুনিয়াতে জনপ্রিয়তা লাভ করে।

পক্ষান্তরে আল্লাহর অবাধ্য কাজ করলেই বান্দা তার বিরাগভাজন হয়ে যায়। সুতরাং যে বান্দার প্রতি আল্লাহ তাআলা ঘৃণা পোষণ করেন, এ ঘৃণার প্রভাবও কঠিন আকারে বিস্তৃতি লাভ করে। দুনিয়াতে সে হয় অপমানিত ও লাঞ্ছিত।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ যখন কোনো ব্যক্তিকে ভালোবাসেন, তখন জিবরিলকে ডেকে বলেন, আমি অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসি, সুতরাং তুমিও তাকে ভালোবাস।

অতঃপর জিবরিল আলাইহিস সালাম তাকে ভালোবাসতে থাকেন। তারপর (জিবরিল) আকাশবাসীকে (ফেরেশতাদের) বলে দেন যে, আল্লাহ অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসেন। অতএব তোমরা তাকে ভালোবাস। তখন আকাশের সকল ফেরেশতা তাকে ভালোবাসতে থাকেন। অতঃপর সে ব্যক্তির জন্য জমিনেও জনপ্রিয়তা দান করা হয়।

আর আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ঘৃণা করেন তখন জিবরিলকে ডেকে বলেন, আমি অমুক ব্যক্তিকে ঘৃণা করি, তুমিও তাকে ঘৃণা কর। তখন জিবরিলও তাকে ঘৃণা করেন। এরপর আকাশবাসীকে বলে দেন যে, আল্লাহ অমুক ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন, তোমরাও তাকে ঘৃণা কর। তখন আকাশবাসীরা তাকে ঘৃণা করতে থাকে। অতঃপর তার জন্য জমিনেও মানুষের মনে ঘৃণা সৃষ্টি হয়।’ (মুসলিম, মিশকাত)

ইতিহাসের দিকে তাকান । বড় বড় বীরদের মাথায় ছিল টাক। উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ), খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ), আলী (রাঃ)… । আপনি টাক নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না ভাই। যা আছে তা নিয়েই আল্লাহ্‌র কাছে কৃতজ্ঞতা আদায় করুন। অনেক মানুষের পা নেই, হাত নেই , অনেক মানুষ চোখে দেখেনা, অন্ধ, কথা শুনতে পায়না, বোবা,কালা তাদের চাইতে আপনি কি সুস্থ নন? নিয়ামত প্রাপ্ত নন?

ভাই সবর করুন, আল্লাহ্‌র ওপর রাজিখুশি থাকুন। আল্লাহ্‌ আপনাকে এর চাইতেও অনেক ভালো কিছু দিবেন –

আর তোমরা ধৈর্য ধর, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।
( সূরা আল-আনফাল : ৪৬)

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘মুমিনকে যেকোনো বিপদই স্পর্শ করুক না কেন আল্লাহ তার বিনিময়ে তার গুনাহ মাফ করে দেন। এমনকি (চলতি পথে) পায়ে যে কাঁটা বিঁধে (তার বিনিময়েও গুনাহ মাফ করা হয়।)’ বুখারী : ৫৬৪০; মুসলিম : ৬৭৩০।

উমর বিন আবদুল আজীজ রহ. বলেন, ‘যাকে আল্লাহ তাআলা কোনো নেয়ামত দিয়ে তা ছিনিয়ে নিয়েছেন এবং তার স্থলে তাকে সবর দান করেছেন, তো এই ব্যক্তি থেকে যা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে তার চেয়ে সেটাই উত্তম যা তাকে দান করা হয়েছে।’ বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান : ৯৫৬৫; মুসান্নাফ, ইবন আবী শাইবা : ৩৬২৪২।

ভাই, আল্লাহ্‌র ওপর ভরসা রাখুন। আল্লাহ্‌ আপনার জন্য নিশ্চয়ই উত্তম কোনো পরিকল্পনা করে রেখেছেন।

সাধ্যমতো চুলের যত্ন করুন। আল্লাহ্‌র কাছে দু’আ করুন।

 

আমরা খুব ছোটো মানুষ। আমাদের লিখার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ্‌।  যেকোনো ধরণের পরামর্শ বা সাজেশন  হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ …

পড়ুন আগের পর্বগুলোঃ

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (প্রথম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারগার (দ্বিতীয় পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (তৃতীয় পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (চতুর্থ পর্ব )

শেয়ার করুনঃ