তুমি এক দূরতর দ্বীপ (সপ্তম কিস্তি)

তুমি এক দূরতর দ্বীপ (সপ্তম কিস্তি)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম।
.
আরেকটা সিচুয়েশন ধরো, তুমি বাসায় বিয়ের কথা বললে, আলহামদুলিল্লাহ বাসায় বিয়ে দিতে রাজি হলো, কিন্তু অনেক খোঁজাখুঁজি করে তোমার সাথে বিয়েতে বসবে এমন দ্বীনদ্বার কোনো মেয়ে পাওয়া গেলনা। কিন্তু নন প্র্যাকটিসিং মেয়ে রাজি ? তাহলে কী করবে?

বিয়ে করবেনা। কেন করবেনা তার উত্তর আগের পর্বেই আলোচনা করা হয়েছে। ধৈর্য ধরো। আল্লাহর কাছে দু’আ করতে থাকো। আর্থিক সামর্থ্য উপার্জনের চেষ্টা করতে থাকো। আর দ্বীনদার মেয়ে খুঁজতে থাকো। আল্লাহ ব্যবস্থা করে দেবেন ইনশা আল্লাহ।
.
একটা কথা ভাই, যদি বাবা মা রাজি থাকে, মেয়েও পাও, শুধু ভালো চাকুরী নেই, অল্প টাকা আয় রোজগার এই কারণে বিয়েতে দেরী কোরোনা। আল্লাহর ওয়াদা যে বিয়ের মাধ্যমে তিনি মানুষকে রিযিক বাড়িয়ে দেন।

“আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ ও সৎকর্মশীল দাস দাসীদের বিবাহ দাও। তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও মহাজ্ঞানী।” (সূরা আন-নূর,আয়াতঃ৩২)
.
তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল করে বিয়ে করে ফেল। একটুকুও দেরি করোনা। কতো যুবক যুবতী এই সুযোগের অপেক্ষায় অস্থির হয়ে দিন গুনছে আর তুমি সেই সুযোগ পাবার পরেও এভাবে হেলায় নষ্ট কোরোনা। নিজের পাপের ভার আর বাড়িয়োনা।
.
যদি এমন সিচুয়েশন হয় যে মিয়া বিবি এবং ফ্যামিলি সবাই রাজি। সবাই অপেক্ষা করে আছে কবে মিয়া আর বিবির পড়াশোনা শেষ হবে, অথবা ভালো একটা চাকুরী পাবে…
এটাও মারাত্মক রকমের ভুল কাজ। এরকম সিচুয়েশনে অবশ্যই কোনোকিছুর জন্য অপেক্ষা না করে বিয়ে করে ফেলা উচিত। আকদ করে রাখা হলো পরে না হয় ওয়ালিমা করা হল। এই রকম অবস্থায় মিয়া বিবি অনেক অনেক গুনাহ করে ফেলে। এমনকি যিনা পর্যন্ত। তুমি যদি এরকম অবস্থায় নিজেকে আবিষ্কার করো তাহলে অবশ্যই বিয়ে করে ফেলবে। ওয়ালিমা না হয় পরেই কইরো।
.
বিয়ের কথা বাসায় বলা, বাবা মাকে রাজি করানো, মেয়ে দেখা,বলে-ব্যাটে মেলা, চার চোখ এক হওয়া খুব লম্বা, দীর্ঘ একটা প্রসেস। আজকে বাসায় বললা আর আগামীকাল বাসার লোকজন তোমাকে এসে বলল- ‘ওঠ ছোঁড়া তোর বিয়ে…’ এরকম ভাবলে স্বপ্নভঙ্গ হতে খুব বেশি সময় লাগবেনা। তোমার দুই চোখে হয়তো ছিল ব্যাকুল স্থপতির মতো শুধুই জীবন গড়ার নেশা কিন্তু পৃথিবী তোমাকে ভুল বুঝবে। তোমার দু’চোখে দেখবে শুধু জৈব রসায়নের অনল। অনেক কটু কথা শোনা লাগতে পারে তোমাকে, অনেক অপমান, ট্যাড়া ট্যাড়া মন্তব্য, ব্যঙ্গ বিদ্রুপ। বাবা মাকে রাজি করাতে, মেয়েকে খুঁজে পেতে, মেয়ের বাবা মাকে রাজি করাতে অনেক সময় লাগতে পারে। সেই মধুররাতে বালিকার হাত ধরে স্বপ্নের প্রহর শুরুর আগ পর্যন্ত তোমাকে পেছনে ফেলে যেতে হতে পারে ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের এক সময়। পাড়ি দিতে হতে পারে লম্বা বন্ধুর এক পথ। এই কথাগুলো যেন মাথায় থাকে। এবং এই কষ্ট সহ্য করার মানসিকতা না থাকলে, জীবনের সুকঠিন কংক্রিটে ঠোকর খেতে না চাইলে, হে আমার বিয়ে পাগল ভাইটি, জেনে রাখো তোমাকে নিশ্চিত দুঃখ পেতে হবে। কাঁদতে হবে।
.
আরেকটা কথা এখানে বলেই ফেলা যায়। অনেক ভাই আছেন, যারা চোখের হেফাযত করেন, হারাম রিলেশন,মুভি সিরিয়াল নাটকের কথা শুনলে সাপ দেখে চমকে দূরে সরে যাবার মতো দূরে সরে যান। এক কথায় পবিত্র জীবন যাপন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিয়ের পরে বউকে কীভাবে কতক্ষণ আদর করবেন ইত্যাদি ভেবে দিনরাত পার করেন (এই বিষয়গুলো বিয়ের দিন সকালে বা বিয়ের পর অভিজ্ঞ কারো কাছ থেকে বা বইপত্র পড়ে জেনে নেওয়া উচিত। আগে এসব জানলে পর্ণ দেখা বা হস্তমৈথুন বা ব্যাভিচারে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপক সম্ভাবনা থাকে)। এসব ভাবতে ভাবতে কেউ কেউ মাস্টারবেট করে ফেলেন কখন বা পর্ণসাইটে চলে যান তা টের পাননা। চতুর শয়তান এই চিন্তাভাবনাগুলো দিয়ে অনেককেই ঘোল খাইয়ে ছাড়ে। এই চিন্তাগুলো থেকে সাবধান থাকবো। এই চিন্তাগুলো আমাদের মাথাতে আসতে পারে। কিন্তু তাকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবেনা কোনোমতেই। একটু সুযোগ দিলেই আমাদের দিয়ে পাপ করিয়ে ছাড়বে। মাস্টারবেট বা পর্ণ না দেখলেও আমরা যে অশ্লীল চিন্তা করছি এটাতেই তো আমার পাপ হচ্ছে। রাস্তার একটা মেয়েকে নিয়ে চিন্তা করাও যেমন পাপ তেমনি ভবিষ্যৎ বউকে নিয়ে চিন্তা করাও পাপ। … আমি তো আমার হবু বউকে নিয়েই ভাবছি অন্য কাউকে নিয়ে তো নয়… ওয়েল, তুমি কি তাকে বিয়ে করেছো? আমাকে গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারবা যে এই মেয়ের সাথেই তোমার বিয়ে হবে?

শেষমুহূর্তের ঝড়ে কতো নিশ্চিত বিয়ে ভেঙ্গে গেলো। এই ভুল করবেনা। সে এখনো বেগানা নারী। এখনো তোমাদের বিয়ে হয়নি। এখনো তার সাথে পর্দা মেইন্টেইন করতে হবে।
.
বিয়ে ঠিক হবার পর বিয়ে হবার আগ পর্যন্ত ফেইসবুকের ইনবক্সে টেম্পু চালাবোনা, সম্পর্ক সহজ করা, পরস্পরকে জেনে নেবার উসীলায় ফোনে কথা বলবোনা। রেস্টুরেন্ট, সিনেমাহলের অন্ধকার বা পার্কের চিপাচাপা খুঁজবোনা। এই সময়টা অত্যন্ত নাজুক এক সময়। নিজে জেনেছি, শুনেছি, দেখেছি এই নাজুক সময়ে পোলাপান ধুমায়ে সেক্সচ্যাট করছে, ফোনে অশ্লীল সব কথা বলছে বা বিয়ে তো হবেই, কাজেই এখনই সব কিছু করে ফেললে দোষ কি, এই চিন্তা করে বিছানায় শুয়ে পড়ছে!
ভাই সাবধান, এসব কাজ ভুলেও, ভুলেও করবেনা। এগুলো সুস্পষ্ট সব জিনা। আল্লাহকে ভয় করি ভাইয়া। আমরা আল্লাহকে ভয় করি।
.
এই নষ্ট হয়ে যাওয়া পৃথিবীতে ভালো মেয়ে কি পাবো, প্রেম না করলে ফ্রেশ মেয়ে পাবনা, এরেঞ্জড ম্যারেজ করা মানে সেকেন্ডহ্যান্ড, অন্যের ইউজড জিনিস বিয়ে করা, প্রেম না করলে অচেনা অপরিচতার সঙ্গে মনের মিল হবেনা এ ধরণের চিন্তা ভাবনা ভুলেও করবোনা। ভাইয়া দেখো, যারা ভালো মেয়ে, যারা পবিত্র মেয়ে, তোমার বা তুমি যাদের কাছে এই নেতিবাচক কথাগুলো শোনো তাদের সাথে এসে ইনবক্সে গুতাগুতি করবেনা, ঢলাঢলি করবেনা। জাস্ট ফ্রেন্ড, বেস্ট ফ্রেন্ড কালচার, রিকশায় ঘোরাঘুরি করা, প্রেম করা, চাইলেই ভালোবাসার প্রমাণ দেখানোর জন্য ভিডিও কলে কাপড় খোলা বা লিটনের ফ্ল্যাটে যাওয়া তো বহুত দূরের কথা!এই শ্রেণীর মেয়েদের দেখেই পৃথিবীর তাবৎ মেয়ে সম্পর্কে এমন বাজে ধারণা করে ফেললাম আমরা?
.

‘”যে আল্লাহ্‌কে ভয় করে আর ধৈর্য ধরে, আল্লাহ্‌ এমন ভালো মানুষদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।” [সূরা ইউসুফ ১২ঃ৯০]

“দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য; দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য; সচ্চরিত্রা নারী সচ্চরিত্র পুরুষের জন্য এবং সচ্চরিত্র পুরুষ সচ্চরিত্রা নারীর জন্য। লোকে যা বলে এরা তা থেকে পবিত্র; এদের জন্য রয়েছে ক্ষমা এবং সম্মানজনক জীবিকা।” [সূরা আন্‌-নূর ২৪ঃ২৬]


ভাই দেখ, অনেক ভালোমেয়ে আছে। তুমি যেমন এই ঘোর কলুষতার বর্ষণ থেকে নিজেকে মুক্ত করে রাখার জন্য দাঁতে দাঁত চেপে যুদ্ধ করে যাচ্ছো, বিশ্বাস করো তেমনি এই একই আকাশের নিচে, একই পৃথিবীর বুকে অসংখ্য বোনেরাও দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে যাচ্ছে, অপেক্ষা করে আছে কবে পবিত্রতার ঘোড়ায় চড়ে আসবে তার রাজপুত্র। কবে এই দমবন্ধ হয়ে আসা পৃথিবীতে তারা দুজনে মিলে দুরুমের ভাড়া বাসায় একটুকরো জান্নাত রচনা করবে। এসবের কতোটুকুই বা তুমি জেনেছো? ভেবেছো?
.
ভাই চতুর্দিকে ভালোবাসার আকাল দেখে তুমি হতাশ হবেনা। যদি তুমি পবিত্র থাকো, যদি তোমার ভালোবাসা, জীবনসঙ্গিনীর জন্য অপেক্ষা মৌলিক হয় তাহলে আল্লাহ্ তোমাকে নিশ্চিত ভালো একজন মেয়ের সাথে জুড়ি বেঁধে দিবেন।জীবনের ভালোবাসা হয়তো কোনো এক ভোরে চুপ করে কড়া নাড়বে তোমার দরজায়।
দেইখো।

চলবে, ইনশাআল্লাহ…

প্রথম কিস্তি

দ্বিতীয় কিস্তি 

তৃতীয় কিস্তি

চতুর্থ কিস্তি

পঞ্চম কিস্তি

ষষ্ঠ কিস্তি 

.

শেয়ার করুনঃ
তুমি এক দূরতর দ্বীপ (ষষ্ঠ কিস্তি)

তুমি এক দূরতর দ্বীপ (ষষ্ঠ কিস্তি)

.
বাবা মাকে রাজি করানোর সময় তাদের সাথে বেয়াদবি করা যাবেনা। ভদ্রভাবে বোঝাতে হবে। ঠান্ডা মাথায় তাঁদের কথা শুনবো আমরা। তাঁরা কী চান, আমাদের বিয়ে নিয়ে তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী এগুলো ভালোমতো শুনে নিব। তাঁদের মনের কথা না জানলে আমরা তাঁদের পটাতে পারবনা। কঠিন হয়ে যাবে। সব বিষয়ে ইস্তেখারা করবো , হুটহাট করে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবনা। এই বয়সটাতে মানুষ আবেগের বশে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। দুনিয়ার সব মেয়েকেই বিবাহ উপযোগ্য পাত্রী বলে মনে হয়। বাবা মার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাবো। পাত্রী দেখা, পাত্রীর অভিভাবকদের সাথে কথোপকথন সবক্ষেত্রেই বাবা মা সঙ্গে রাখবো, গুরুজনদের সঙ্গে পরামর্শ করবো।
.
এখানে একজন মিড্যলম্যান থাকলে খুব ভালো হয়। প্রব্লেম সল্ভার টাইপের। যিনি তোমার এবং তোমার বাবা মার সঙ্গে কথা চালাচালি করবেন। লজ্জা, ভয় ইত্যাদি কারণে অনেক ছেলে তাঁদের বাবামাকে চাহিদার কথা বলতে পারেনা, ঠিকমতো বোঝাতে পারেনা। তো যদি অন্য কেউ ছেলের হয়ে বাবা মাকে বোঝাতে পারেন তাহলে জটিলতা কমে যায়। খুঁজে দেখ, দুলাভাই, মামা, চাচা, কাজিন বা পাড়াতো কোনো বড়ভাই বা মুরুব্বি পাও কিনা যে তোমার হয়ে ওকালতি করবে।
.
মনে করো বিয়ে করার জন্য তোমার আর্থিক সামর্থ্য আছে। কিন্তু বাবা মা কোনোমতেই বিয়ে দিতে রাজি হচ্ছেন না। তুমি অনেক বুঝিয়েছো, অনেক চেষ্টা করেছো, কিন্তু তারপরেও কোনোমতেই বাবা মা রাজি হচ্ছেন না । এখন কী করবে?
দেখ এই সমস্যার চিরন্তন সর্বজনীন কোনো সমাধান নেই। এক একজনের ক্ষেত্রে এক এক রকম হবে। এবং প্রত্যেক ক্ষেত্রেই বিজ্ঞ আলিম, অভিজ্ঞ ভাই,মুরুব্বীদের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।
.
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী মেয়েদের বিয়ের জন্য ওয়ালির (পুরুষ অভিভাবক) অনুমতি আবশ্যক নয়। কোনো কোনো মাযহাব অনুসারে মেয়েদের বিয়ের জন্য পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি লাগবে। ছেলেদের জন্য লাগবেনা। তুমি যদি ব্যক্তিত্ববান হও, বিয়ের পরে অভিভাবকদের মধ্যে যে গ্যাঞ্জাম লাগবে, সেইটা ট্যাকল দেওয়ার যোগ্যতা থাকে, সাহস থাকে, তাহলে ইস্তিখারা করে এবং আলিমদের সঙ্গে পরামর্শ করে বিয়ে করে ফেলতে পারো ইনশা আল্লাহ। আর যদি সেই যোগ্যতা, সাহস, কষ্ট স্বীকার করার মানসিকতা না থাকে তাহলে বিয়ে করবেনা। সবর করবে, আল্লাহর কাছে দু’আ করবে বেশি বেশি, দান সাদাকাহ করবে। বিয়ে করবে না।
.
অনেকেই আছে বাবা মাকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করে ফেলে। তারপর বাবা মার কাছ থেকে বউ লুকিয়ে রাখে। মাসের পর মাস চলে যায়, বছর পার হয়ে যায়, বাবা মাকে ভয়ে বউয়ের কথা বলতেই পারেনা।

নারীবাদীরা অবশ্য মুখে স্বীকার করেনা। কিন্তু অন্তরে ঠিকই একটা হাহাকার থাকে। সব মেয়েরাই তাদের জীবন সাজায় বিয়েকে কেন্দ্র করে। কতো স্বপ্ন যে দেখে তারা বিয়ে নিয়ে ! বিয়ে, স্বামী, সন্তান, শ্বশুরবাড়ি নিয়ে তারা কতো সুখ-ছবি আঁকে মনে মনে! এইসব পোলাপান মেয়েদের সারাজীবনের স্বপ্নগুলো স্টীম রোলার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। বিয়ে করে ঠিকই স্ত্রীর কাছ থেকে চোখের শীতলতা খুঁজে পায়, নিজের শরীরের চাহিদা মেটায়, কিন্তু স্ত্রীকে প্রাপ্য সম্মান, সামাজিক স্বীকৃতি আদায় করে দেয়না। স্ত্রীর গর্ভে নিজের সন্তান আসার পরেও কাপুরুষের দলের সাহস হয়না বাবা মার সামনে স্ত্রীকে নিয়ে যাবার। অনেকের কথা জানি যারা বিয়ে করে কিছুদিন ‘ভোগ’ (সরি টু ইউজ দিস ওয়ার্ড) করে চম্পট দেয়। স্ত্রীদের অসহায় করে ইউরোপ আমেরিকায় ‘জ্ঞ্যানার্জন’ করতে যায়। খোঁজ খবর রাখেনা। অনেকে গর্ভপাত পর্যন্ত করে। তথাকথিত দ্বীনি ভাইবোনদের মধ্যেই এমন কেইস আছে। এইসব ছেলেরা আঙ্গুল চোষা বাচ্চা রয়ে গেছে, এদের পুরুষের ভান করা উচিত না।

এইসব পোলাপানদের কানের নিচে থাপড়ানো উচিত সকাল বিকাল দুবেলা রুটিন করে। নিজের স্ত্রীর অধিকার আদায় করার মুরোদ নেই, মায়ের সামনে নিজের স্ত্রীকে নিয়ে দাঁড়ানোর মেরুদ্বন্ড নেই, বিয়া করতে আইছো কেন মিয়া, যাওগা, গিয়া ফিডার খাও!
.
ভাই আমাদের যদি কমফোর্ট জোন থেকে বের হবার সাহস না থাকে তাহলে ভুলেও এই ভুল করবোনা আমরা। এটাতো স্পষ্ট ভয়ঙ্কর ধরণের জুলুম। একজন মেয়ের স্বপ্ন, মেয়ের জীবন নষ্ট করার, এভাবে কষ্ট দেবার কোনো অধিকার তোমার,আমার নেই। আল্লাহকে ভয় করি ভাই। আল্লাহ আর জুলুমের শিকার ব্যক্তির দু’আর মাঝখানে কোনো পর্দা থাকেনা, সে যদি কাফির মুশরিক হয় তারপরেও। আল্লাহকে ভয় করি। ধ্বংস হয়ে যাবো। জ্বলে পুড়ে মরবো।
.
যদি আর্থিক সামর্থ্য না থাকে আর বাবা মা বিয়ে দিতে কোনোমতেই রাজি না হয় তাহলে কী করবে ?

কী করবে আমরা আগেই আলোচনা করেছি। আবার চোখ বুলিয়ে নাও। আর্থিক সামর্থ্য অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। দু’আ কর‍তে হবে দান সাদকাহ করতে হবে। ইস্তেগফার পড়তে হবে। তাহাজ্জুদের সালাতে সিজদায় পড়ে বেশি বেশি দু’আ করতে হবে। আল্লাহ রিযিকের ফায়সালা করে দিবেন ইনশা আল্লাহ।
.
নিজের আর্থিক সামর্থ্য নেই দেখে বিয়ে করবনা বা বিয়ে করা যাবেনা এখন- এটা ভেবে বসে থাকবেনা। আগে চাকুরী পেয়ে নেই, আগে ব্যবসাটা গুছিয়ে ফেলি এসব চিন্তাভাবনা শয়তানের ধোঁকা। আর্থিক সামর্থ্য অর্জন এবং বিয়ের চেষ্টা একসাথে চলবে। আল্লাহ্‌র ওয়াদা নিজ চরিত্র রক্ষার্থে বিয়ে করতে যায় এমন যুবকদের তিনি অবশ্যই সাহায্য করবেন। আত তিরমিযীর একটি বিশুদ্ধ হাদীসে এরকম বর্ণনা এসেছে, ‘তিন শ্রেণীর লোকদের সাহায্য করাকে আল্লাহ (সুবঃ) নিজের কর্তব্য বলে স্থির করেছেন- (১) সেই মুজাহিদ,যিনি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেন। (২) সেই ক্রীতদাস যে তার মালিকের সাথে একটা নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা প্রদানের মাধ্যমে মুক্তির চুক্তি করেছে এবং (৩) সেই যুবক যে নিজের চরিত্র রক্ষার জন্য বিয়ে করতে চায়’। https://tinyurl.com/y6hmrltr
.
অনেকের ক্ষেত্রে এমন হতে পারে যে, তুমি বাসায় বিয়ের কথা বলেছো। বাসা থেকে ইসলাম প্র্যাকটিস করেনা, পর্দা করেনা এমন কোনো মেয়েকে বিয়ে করার জন্য ঠিক করেছে। বাসা থেকে অনেক জোর দিচ্ছে। ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছে- ‘বিয়ে করে বউকে তোর মতো হুজুর বানিয়ে নিস’ এরকম অনেক কথার মাধ্যমে তোমার ব্রেইন ওয়াশ করার চেষ্টা করছে। তুমি ছোট থেকেই ফ্যামিলির সব কথা শুনে এসেছো। এখন কী করবে ? পরিবারের সবার মতের বিরুদ্ধে যাবে? নাকি ফ্যামিলির কথা মতো নন প্র্যাক্টিসিং মেয়েকেই বিয়ে করবে?
.
সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রাদিআল্লাহু আনহু) এর একটি ঘটনা শোনানো যাক। তাঁর পুরো জীবন বিশেষ করে যৌবন তিনি আল্লাহ্‌র রাস্তায় উৎসর্গ করেছেন । কোন কোন বর্ণনামতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পরিবারের বাহিরে ইসলাম গ্রহণ করা চতুর্থ ব্যক্তি, আবার কোন কোন বর্ণনা মোতাবেক তৃতীয় ব্যক্তি । তিনি সেই দশজন সৌভাগ্যবান ব্যক্তির মধ্যে একজন যাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন ।
.
সাদ রাদিআল্লাহু আনহু যখন ইসলাম গ্রহণ করেন তখনো তাঁর জীবনের ২০টি বসন্ত পার হয়নি । ইসলাম গ্রহনের পূর্বে তিনি এক অদ্ভূত স্বপ্ন দেখেন । তিনি স্বপ্ন দেখেন, তিনি অন্ধকারে ছিলেন। এমন সময় আকাশে একটা চাঁদ উঠে সবকিছু আলোকিত করে দিল। তিনি চাঁদটাকে অনুসরণ করতে থাকলেন। কিছুক্ষণ পড়ে তিনি আবু বকর,আলী এবং জায়েদ ইবন হারিসা রাদিআল্লাহু আনহুম দের সেই চাঁদটা অনুসরণ করতে দেখলেন।

এই স্বপ্নের কিছুদিন পরেই তিনি আবু বকর (রাদিআল্লাহু আনহু) এর মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত পেয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন।
.
সাদ রাদিআল্লাহু আনহুতাঁর মায়ের খুবই অনুগত ছিলেন । মা বাবার অবাধ্য, মক্কার দুষ্টু ছেলেদেরকে প্রায়ই শুনতে হত , ‘দেখ, সাদ কে দেখ ! সে তার মায়ের কত অনুগত ! হতচ্ছাড়া তোরা সাদের মত হতে পারিস না?’।

ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আসার পর সাদ রাদিআল্লাহু আনহুকে তাঁর পরিবারের বিশেষ করে তাঁর মায়ের প্রচন্ড বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয় । তাঁর মা তাঁর নিকট এসে বললেন , “সাদ! তুমি যদি মুহাম্মাদের ধর্ম ত্যাগ না কর তাহলে আমি খাবার, পানি কিছুই স্পর্শ করব না এবং মক্কার গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদে দাঁড়িয়ে থাকব । এভাবে আমি যখন মারা যাব তখন মক্কার লোকজন তোমাকে দেখিয়ে বলবে এই পিশাচটা তার নিজের মাকে খুন করেছে”।

একদিন চলে গেল। সাদের মা কোন কিছুই খেলেন না। দুই দিন চলে গেল সাদের মা এদিনো কোন কিছুই পানি স্পর্শ করলেন না। তার শরীর প্রচন্ড খারাপ হয়ে গেল। তিন নাম্বার দিন সাদ রাদিআল্লাহু আনহু তাঁর মাকে যেয়ে বললেন, “ইয়া উম্মি! আপনার যদি ১০০টা প্রাণ থাকে আর আপনি যদি এভাবে আপনার ১০০টা প্রাণ কেও হত্যা করেন তাহলেও আমি আমার ইসলাম ত্যাগ করব না। ছেলের এমন পাহাড়ের মত দৃঢ়তা দেখে তাঁর মা অনশন ভঙ্গ করেন। (পরবর্তীতে সাদ রাদিআল্লাহু আনহুএর মা ইসলাম কবুল করেন। এই কাহিনী ইনশা আল্লাহ্‌ আর এক দিন বলা হবে)।
.
রহমান আল্লাহ্‌ সাদ (রাদিআল্লাহু আনহু) এর দৃঢ়তাকে সম্মান জানানোর জন্য কুর‘আনে আয়াত নাযিল করলেন যেটি কিয়ামাত পর্যন্ত তিলাওয়াত করা হবে ।

“আমি মানুষদের আদেশ করেছি তারা যেন তাদের পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করে । কিন্তু তারা যদি তোমাকে আল্লাহ্‌র সঙ্গে শিরক করার আদেশ দেয় যে ব্যাপারে তাদের কোন জ্ঞান নেই তাহলে তাদের মান্য করো না।”
https://tinyurl.com/y5nekf8x
.
আশা করছি, আমরা বুঝে গিয়েছি এরকম মুহূর্তে কী করতে হবে। ভাই, আল্লাহর অবাধ্য হয়ে কারো আনুগত্য করা যাবেনা। সেটা দেশের সংবিধান, প্রধানমন্ত্রী হোক আর বাবা-মা’ই হোক। যে মেয়ে ২০-২৫ বছরে ইসলাম নিয়ে সিরিয়াস হয়নি, সেই মেয়ে বিয়ের একদম পর পরেই ইসলাম নিয়ে সিরিয়াস হয়ে যাবে, পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়বে, রোযা রাখবে, পরিপূর্ণভাবে পর্দা করবে, ফ্রি মিক্সিং এড়িয়ে চলবে, মুভি সিরিয়াল দেখবেনা, ফেইসবুক ইনস্টাগ্রামে রং ঢঙ্গের ছবি দেবেনা, টিকটকে ভিডিও বানাবেনা – এগুলো হাস্যকর শোনাচ্ছে না ? যেই মেয়ে আল্লাহ্‌কে ভালোবেসে এগুলো ছাড়তে পারেনি, সেই মেয়ে তোমাকে ভালোবেসে এগুলো ছেড়ে দিবে? মুভি,উপন্যাসে এরকম হয়, কিন্তু বাস্তবে হয়না। আর যদি দেয়ও সেটার মূল্য কতোটুকু? আল্লাহ্‌র কাছে কি সেটা গ্রহণযোগ্য হবে? আল্লাহর জন্য তো সে দ্বীনে ফিরে আসেনি, সে ফিরে এসেছে তোমার কারণে, তোমার ভালোবাসায়। ঐ মেয়ের নিয়্যতেই তো ঘাপলা। বিখ্যাত সেই হাদীসের কথা তো জানোই- প্রকৃতপক্ষে সকল কাজের ফলাফল তার নিয়্যতের ওপর নির্ভরশীল।
.
ভাই আমরা কখনোই এমন মেয়েকে বিয়ে করবোনা। বাবা মা যতো কথায় বলুক না কেন। যতো অভিমানই করুক না কেন। ‘…এতো কষ্ট করে তোকে মানুষ করেছি, আমাদের কোনো শখ আহ্লাদ নেই,তুই আমাদের এতো কষ্ট দিচ্ছিস আল্লাহ কী বলেননি বাবা মাকে কষ্ট দেওয়া যাবেনা, তাদের প্রতি উহ, শব্দটিও উচ্চারণ করা যাবেনা , তোকে পেটে ধরে আমি ভুল করেছি ব্লা ব্লা ……’ কোনো কথাতেই আমাদের মন যেন না গলে। বাবা মার কোনো অধিকার নেই তুমি কাকে বিয়ে করবে কাকে করবেনা সেটা ঠিক করে দেওয়ার। এই অধিকার ইসলাম সম্পূর্ণভাবে তোমাকে দিয়েছে। সুস্পষ্টভাবে বলে দেওয়া আছে পাত্রীর দ্বীনদারিতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তুমি যদি আল্লাহর এই আদেশ মানতে গিয়ে বাবামার মনে কষ্ট দাও, তোমার কোনো পাপ হবেনা।
.
ভাই এটা শয়তানের খুব কার্যকরী ফাঁদ। ভুলেও এ ফাঁদে পা দেওয়া চলবেনা। ভুলেও না। কতো জজবাওয়ালা ভাইদের দেখলাম এই ফাঁদে পড়ে ভিজে বেড়াল হয়ে যেতে, দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তে। বউকে দ্বীনদার বানাবে কি নিজেই দ্বীন হারিয়ে ফেলেছে। দাড়ি কেটে ফেলেছে, সিনেমাহলে মুভি দেখতে যাচ্ছে, ফেইসবুকে ছবি দিচ্ছে জড়াজড়ি করে। ভাই, অধিকাংশ পুরুষই তার স্ত্রীদের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়। আমরা ভুলেও এই কাজ করবোনা।
.
অনেকদিন আগের এক মুজাহিদ এক খারেজি মহিলাকে বিয়ে করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল মহিলাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে ভালো করা। ঐ লোকের পরিণতি কী হয়েছিল জানো? অনুমান করার চেষ্টা করোতো!… ঐ লোক খারিজিদেরই সর্দার হয়ে গিয়েছিল। মুজাহিদ থেকে জাহান্নামের কুকুর খারিজিদের সর্দার! ভাই আমরা এই ভুল করবোনা। কোনো রিস্ক নেবোনা। বিয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই মেয়ের দ্বীনদারীকে প্রাধান্য দেবো।.
.

চলবে, ইনশাআল্লাহ…

শেয়ার করুনঃ
তুমি এক দূরতর দ্বীপ (পঞ্চম কিস্তি)

তুমি এক দূরতর দ্বীপ (পঞ্চম কিস্তি)

সারাদিন বিয়ে বিয়ে করে, বউ নিয়ে ফ্যান্টাসিতে ভুগে পড়াশোনার কথা একেবারে ভুলে যেয়োনা। তার মানে আবার এই না যে সারাদিন ক্যারিয়ার ক্যারিয়ার করবে। মুসলিম কখনো দুনিয়াবি ক্যারিয়ার কেন্দ্রিক হতে পারেনা।

দেখ ভাই, ধরো আমি যদি তোমার মা, বোনকে তুলে গালি দিলাম। এখন তুমি কী করবে?  আমাকে ‘সাইজ’ করতে গেলে উলটা সাইজ হয়ে যাবে, তোমার পড়াশোনার ক্ষতি হবে এই ভেবে কী তুমি চুপ করে থাকবে?

নিশ্চয়ই থাকবেনা, তাইতো?  

এখন দেখো আল্লাহ আমাদের, আমাদের মা বাবার চাইতেও বেশি ভালোবাসেন। আমাদের এতো এতো পাপের পরেও আমাদের আলো বাতাস দিয়ে যাচ্ছেন, অক্সিজেন দিয়ে যাচ্ছেন, আমাদের নিয়ামতের সাগরে ডুবিয়ে রেখেছেন। এখন এই আল্লাহর আইন প্রতিনিয়ত তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা হচ্ছে। কাবার চাইতেও আল্লাহর কাছে একজন মুসলিমের রক্ত প্রিয়। আজ  সেই মুসলিমদের রক্ত ঝরছে সারাবিশ্বজুড়ে, কুরানের মুসাহাফ ছিড়ে টয়লেটে ফ্ল্যাশ করে দেওয়া হচ্ছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করা হচ্ছে সেই সময় কীভাবে একজন মুসলিম দিনরাত ক্যারিয়ার চিন্তায় বিভোর হয়ে থাকতে পারে? বলো ভাই ?

আল্লাহর প্রতি, রাসূলের প্রতি আমাদের ভালোবাসা কী শুধুই লোক দেখানো? শুধুই মিথ্যে দাবী ?

পড়াশোনার অবশ্যই দরকার আছে ভাই। তবে একটু চিন্তা করা দরকার পড়াশোনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে।

এই যে আমরা ফিরিঙ্গিদের দেশ থেকে  এতো এতো পিএইচডি নিচ্ছি, এতো জ্ঞান বিজ্ঞান, এতো ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার, বিসিএস ক্যাডার আমাদের, এতো এতো গোল্ডেন এ+ … তারপরেও দেশে কেনো দুর্নীতির মহাউৎসব, কোটি কোটি টাকা লুট, হাজার হাজার টাকা দিয়ে বালিশ কেনা? ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা বৃদ্ধাশ্রম, খুন, ধর্ষণের মহামারি? ছয় সাত বছরের বাচ্চারাও ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা পায়না? মাদকে টাল যুবসমাজ?

খেয়াল করলে দেখা যায় সব বড় বড় চুরি,বাটপারি, কেলেঙ্কারি, বাবা মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর মতো জানোয়ারের কাজে এগিয়ে শিক্ষিতরাই।

শিক্ষার উদ্দেশ্যতো ছিল মনুষ্যত্বের বিকাশ। প্রাণী থেকে মানুষ হওয়া। আমরা কেন জানি শিক্ষিত হয়ে উল্টো মানুষ থেকে প্রাণী হয়ে যাই! আলমারী ভর্তি সার্টিফিকেট অর্জন করে শুয়োর,কুকুর কিংবা তার চাইতেও নিচু স্তরে কেন নেমে যায় সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ?      

২৪ ঘন্টার মধ্যে অন্তত ১ ঘন্টা পড়াশোনা করোদেখবে আল্লাহ্‌ (সুবঃ) এই এক ঘন্টার পড়াতেই বারাকাহ দিয়ে দিবেন। রেগুলার পড়াশোনা কর। আল্লাহ্‌র কাছে আমলের পরিমাণ কম হলেও, নিয়মিত করা হয় এমন আমল প্রিয়। আল্লাহ্‌র কাছে দু’আ কর- ইয়া আল্লাহ্‌! আমার এই ১ ঘন্টার পড়াতেই বারাকাহ দিয়ে দাও। আমার হালাল রিযিকের জন্য যথেষ্ট করে দাও। আমার বিয়ের ব্যবস্থা করে দাও’। বাবা মার চোখে পড়ে এমন জায়গায় বসে  পড়বা। নিশ্চিত করবা তুমি যে রেগুলার পড়াশোনা কর এটা  বাবা মা দেখছেন। উনারা খুশি হবেন। বিয়ের জন্য রাজি করাতে সুবিধা হবে তোমার।   

সারাদিন কিন্তু তুমি, আমি দ্বীনের খেদমত করিনা, খেয়াল করলে দেখবে ২৪ টা ঘন্টার বেশির ভাগই আমরা পার করে দেই আলসেমি, ফেইসবুক,মেসেঞ্জার, ইউটিউবে পড়ে থেকে, বিয়ে নিয়ে ফ্যান্টাসি, আড্ডাবাজি আর অনর্থক কাজে।

 না দ্বীনের কাজ হয় না দুনিয়ার। ২৪ ঘন্টার মধ্যে মাত্র এক ঘন্টা পড়াশোনা করতে পারবোনা আমরা? রেসাল্ট খারাপ হলে, সেমিস্টার বা বছর ড্রপ হলে জীবনে অনেক জটিলতা সৃষ্টি হবে। এরকম অবস্থায় বেশিরভাগ পোলাপানই হতাশায় মুষড়ে পড়ে। পাললিক মৃত্তিকার মতো ঝুরজুরে হয়ে পড়বে  ঈমানী জজবা।

আরেকটা কথা, যদি ছাত্রজীবনে বিয়ে করতে না’ই পারো মানে বাবা মা কোনোমতেই রাজি না হয়, তাহলে এইটা অন্ততপক্ষে বলে রাখো যে পড়াশোনা শেষ হলেই সঙ্গে সঙ্গে যেন বিয়ে দেয়। চাকুরী করতে হবে,বাড়ি করতে হবে এরকম শর্ত যেন দিয়ে না রাখে। শেষবর্ষে এসেই মেয়ে দেখা শুরু করে দিতে বলো। অনেক সময় মেয়ে দেখতেই অনেক সময় চলে যায়।

এখন মনে কর পড়াশোনা শেষ হয়ে গিয়েছে, বেকার চাকুরী পাচ্ছোনা, বিয়েও হচ্ছেনা । তখন কি করবে?

সেই একই প্রসেস। চাকুরীর জন্যে বসে থাকবনা। টিউশনি করাবো, ব্যবসা করবো। বাবা মাকে বোঝাবো।

এখানেই আমাদের অনেক শিক্ষিত ভাইয়েরা ধরা খেয়ে যান। ছোটোবেলা থেকেই আমাদের মন মগজে একদম খোদাই করে দেওয়া হয় যে, কলম পিষে বড়লোক হতে হবে। লেখাপড়া করে যে ঘাড়িঘোড়া চড়ে সে। ভাইয়েরা পড়াশোনা শেষে চাকুরী না পেলে বেকার বসে থাকবে বছরের পর বছর, তবু ব্যবসা করতে চাইবে না।  এতো এলার্জি  ব্যবসার প্রতি-ব্যবসায় যদি করা লাগে তাহলে এতো পড়াশোনা করলাম কেন। তাহলে এতো পড়াশোনা করলাম কেন। তাও আবার শুধু চাকুরী পেলে হবেনা, সরকারি চাকুরী। পিওনের চাকুরী হোক, সমস্যা নেই তাও সরকারী চাকুরী লাগবে। জমি-জমা বিক্রী করে লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে হোক তবু সরকারি চাকুরী লাগবে।

 কোটি কোটি বেকারের এই দেশে সরকারি চাকুরী পাওয়াতো আর মুখের কিছু না। আদা জল খেয়ে সবাই সরকারি চাকুরীর পড়া পড়ে, তোতাপাখির মতো  সাধারণ জ্ঞান নামের ফালতু জিনিস মুখস্ত করে, কবি সাহিত্যিকদের জন্মদিন,মৃত্যুদিন মুখস্ত করে , বছরের পর বছর চলে যায়, মাথার চুল পরে চান্দু হয়ে যায়, চাকুরী আর হয়না। শরীর তো আর বসে থাকেনা। শরীরের ক্ষুধা ঠিকই লাগে। ভালো ছেলেগুলো সবর করে। নিজেকে পবিত্র রাখার চেষ্টা করে। বাকিরা পর্ণ হস্তমৈথুন বা লিটনের ফ্ল্যাটে ক্ষুধা মেটায়। হতাশার গহীনে গভীরে ডুবে যায়। কেউ মেয়ে বিয়ে দেয়না দেখে এমন ভাষায়  মেয়ের বাপ ভাইদের গালি দেই যে তা শুনলে ওদের চৌদ্দগুষ্ঠি কবর ছেড়ে উঠে আসবে।  

ভাই দেখ,  এরকম একটা চিন্তা আমাদের অনেকের মাথাতেই আসে যে এটা তো পুরোপুরি সমাজের দোষ, সমাজই তো এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেখানে চাকুরি (বিশেষ করে সরকারি) ছাড়া টিকে থাকা কষ্টকর। সমাজের মানুষজনই তো ঠিক করে দিয়েছে বিয়ের উপযুক্ত হবার জন্য, এস্টাব্লিশড হবার জন্য আমার সরকারি চাকুরী লাগবে। এখানে তো দোষ পুরোপুরি সমাজের। আমাদের কোনো দোষই নেই ! ঠিক?

ভুল!

ভাই তুমি দেখতো, যাদের চাকুরী নেইযারা ব্যবসা করে, যারা কৃষিকাজ করে,মুরগীর খামার দেই, মাছ চাষ করে তাদের কি বিয়ে হয়না? হয়। তাদেরকে কে মেয়ে দেয়?  তুমি, আমি সরকারি চাকুরি না করলেও কি তারা  তোমাকে আমাকে মেয়ে দেবেনা? যেই লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে, নেতার পেছনে ঘুরে ঘুরে আমি চাকুরী পাবার চেষ্টা করছি, সেই টাকা দিয়ে  ব্যবসা করলে হতোনা? আল্লাহর জমিন অনেক প্রশস্ত। তাঁর ওপর ভরসা করে মেহনত করলে,  ঠিকই রিযিকের সুন্দর ব্যবস্থা হয়ে যেত ইনশা আল্লাহ। ফুসকাওয়ালা,হালিমওয়ালারা  ব্যবসা করে ঢাকা শহরে বাড়ি করে ফেলে আর তুমি আমি আছো চাকুরী (সরকারী চাকুরী) নিয়ে!  ভাই দোষ একা সমাজের না। আমরাও দোষী। আমরা ভাব ধরেই বসে আছি। আমাদের অহংকারী মন চিন্তা করে, এতো উচ্চশিক্ষিত হয়ে আমি কেন ঐ চাষাভূষাদের কাজ করব? এসব আমার দ্বারা হবেনা। আমার একটা সম্মান আছেনা ! আমার বাবা ওমুক আমার চাচা তমুক! আমি সম্ভ্রান্ত বংশের ছেলে আর আমি কিনা   না আমার দ্বারা এসব হবেনা!

 এই  আত্মসম্মানই খেলো আমাদের! ধামড়া ছেলে হয়েও বাবার কাছে হাতখরচের টাকা নিতে আমাদের আত্মসম্মানে লাগেনা! বছরের পর বছর বেকার জীবন কাটাই, কিছু করার মুরোদ হয়নি আমাদের এখন  আমাদের আত্মসম্মান কোথায় থাকে? আত্মীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশী যখন খোঁচা মেরে কথা বলে, বাবা মা’র মাথা হেঁট হয়ে যায় তখনই বা কোথায় থাকে আমাদের আত্মসম্মান?  সরকারি চাকুরি আমরা শুধু এই জন্যেই চাইনা যে এর ফলে মেয়ের বাপদের মন গলবে, আমাদের হাতে মেয়ে তুলে দিবে। আমরা এজন্যে চাই যে সমাজের লোকদের সাথে যেন  ভাব মারতে পারি, আমার হাতে অনেক ক্ষমতা  থাকে, আমি পুলিশ, আমি বিসিএস ক্যাডার … আহ! ভাবই আলাদা! ইয়ো ম্যান,আই এম দ্যা বস…! সমাজের আর দশজন মানুষের মতো নই আমি, আমি আলাদা, অন্যরকম আভিজাত্যের অধিকারী। সরকারি চাকুরী ছাড়াও বিয়ে করা যায়।বাংলাদেশের অধিকাংশ লোকই সরকারি চাকুরী ছাড়া বিয়ে করে।(এখানে মেয়ের বাপদেরও দোষ আছে। এগুলো নিয়ে পরে আমরা একটা সিরিজ করব ইনশা আল্লাহ।)  

দেখ ভাই, দোষ অনেকেরই আছে। কিন্তু দোষ ধরার সময় আগে নিজেরটাই ধরা উচিত। নিজেদের দোষ খুজে বের করব, ঠিক হব নিজেরা, তারপর এই সমাজ, এই পৃথিবীকে বদলে দেব ইনশা আল্লাহ, তাইতো?

বিয়ে একটি ইবাদাত। নামায, রোযা, হাজ্জ যাকাতের মতোই একটি ইবাদত এটি। ছাত্রাবস্থায় বেকার অবস্থাতেই বিয়ে  করা যায়। মেয়েও পাওয়া যায়। চোখ কপালে তুইলোনা আমার এই কথা শুনে।

মেয়ের বাপেরা তোমার হাতে মেয়ে তুলে দেয়না দেখে তুমি তাঁদের বকাঝকা করো, সমাজকে কষে গালি দিয়ে মনের সুখ খোঁজো। সাহাবীদের উদাহরণ টানো। কতো সহজেই তাঁদের বিয়ে হয়ে যেত, অভিজাত, রূপবতী  মহিলারা  নিঃস্ব, পথের ফকির সাহাবীদের বিয়ে করতেন। জ্বী,এগুলো সবই সত্যি। ঐ যুগ আর এ যুগের আকাশ পাতাল তফাত। কেন তফাত সেটিও আমরা আলোচনা করেছি। কীভাবে অবস্থা পরিবর্তন করতে হবে সেটা নিয়েও কথা বলেছি। তুমি সেগুলো না করে শুধু ঘ্যানঘ্যানে সুরে এই ভাঙ্গা রেকর্ড বাজিও না প্লিজ। অনেক পুরুষ সাহাবীতো বিধবা, বয়সে বড়, অসুন্দর নারীদেরও বিয়ে করেছেন। তুমি একটু খুঁজে দেখ, আশেপাশে অনেক অল্পবয়স্কা বিধবা, ডিভোর্সড মেয়েদের পাবে। তুমি তাঁদের বিয়ে করে নাও। এতীমখানায় যাও। অনেক মেয়ে পাবে। তাদের বিয়ে করো। তোমার আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে খুঁজে দেখ– মেয়ে পাবে। আশেপাশের পরিচিতদের মধ্যে খোজাখুজি করলেও তুমি মেয়ে পাবে। বেকার অবস্থায়, ছাত্রাবস্থাতেই তোমার সঙ্গে বিয়ে দিবে। তুমি তাদের বিয়ে করে নাও।

দেখ ভাই আমরা কী করি, আমরা সমাজের স্ট্যাটাসকে প্রাণভরে গালি দেই। গালি দিয়ে আবার সমাজের সেই স্ট্যাটাসকেই আঁকড়ে ধরি। আমরা  দশ বারোটা ফিল্টার বসাই। অমুক এলাকার মেয়ে লাগবে, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার লাগবে, ফ্যামিলি মিলতে হবে, সোশ্যাল স্ট্যাটাস মিলতে হবে ইত্যা ইত্যাদি। প্লাস সুন্দর, ফর্সা এসব তো আছেই। এই ফিল্টার সবগুলা রেখে আমরা কীভাবে আশা করি যে আমাদেরকে সমাজের বর্তমান অবস্থায় ‘প্রতিষ্ঠিত’ হবার আগে বিয়ে দেয়া হবে? এই বিষয়গুলো  অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে ভাই। সমাজ পরিবর্তনের  জন্য কোন পদক্ষেপ নিজে না নিয়ে আমরা কীভাবে এটা আশা করবো  যে সমাজবাস্তবতা এমনি এমনি বদলে যাবে? একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে  দেখব পৃথিবী বদলে গিয়েছে? আমরা বিয়ে করতে চাই, তারমানে মোটামুটি আমাদের একটা ম্যাচুইরিটি এসেছে। এসব তো বোঝার কথা আমাদের!

ভাই, নিজের কাছে একটু সৎ হলে দেখব, আসলে দিনশেষে  ইসলাম ব্যবহার করে  আমরা সুবিধা নিতে চাই। অভিজাত সুন্দরী মহিলারা গরীব সাহাবীদের বিয়ে করেছেন এটা আমরা ফোকাস করি, চাই যে সমাজ এটার ওপর আমল করুক। কিন্তু অনেক পুরুষ সাহাবা  যে সহায় সম্বলহীনা নারীদের বিয়ে করতেন সেটার ওপর আমরা আমল করতে চাইনা। আমরা চাই মেয়ের বাপেরা স্যাক্রিফাইস করে, মেয়ের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তায় ফেলে আমাদের সাথে যেন বিয়ে দেয়, কিন্তু আমরা চাইনা সাহাবীদের মতো স্যাক্রিফাইস করতে– নিজের কমফোরট জোন থেকে বের হয়ে বিধবা, ডিভোর্সড, এতীমখানার কোনো মেয়ে বা কম অবস্থা সম্পন্ন ফ্যামিলির কোনো মেয়েকে  বিয়ে করতে।  ‘বিয়ে তো জীবনে একবারই হয়, সমাজে আমার ফ্যামিলির একটা স্ট্যাটাস আছেনা, আমি কেন এরকম মেয়েদের বিয়ে করতে যাব’-এরকমভাবে চিন্তা ভাবনা করি তোমরা। ওয়েল, মেয়েদের বাপ ভাইদেরও তো সমাজে একটা স্ট্যাটাস আছে, তারা কেন আমাদের মতো  ছাত্র/ বেকার ছেলের হাতে মেয়েকে তুলে দিবে? তাদের মেয়ের বিয়েও তো একবারই হবে? আমরা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবো এমন গ্যারান্টি কি কোথাও আছে? আমাদের চাইতে সামাজিক অবস্থান একটু নিচুতে এমন ঘরে বিয়ে করতে আমাদের অস্বস্তি লাগলে, কেন মেয়ের বাপ/ভাইদের বেকার/ছাত্র পাত্রের হাতে মেয়ে তুলে দিতে অস্বস্তি লাগবেনা ?

এখানে কেউ হয়তো বলবে যে নারী সৌন্দর্য, বংশ, অর্থের দিকে ফোকাস করা তো জায়েজ, হাদিসে আছে। হ্যাঁ এটা সত্য। কিন্তু যখন বিয়ে করাটা আমাদের দ্বীন বাঁচানোর জন্য দরকার, গুনাহ থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য দরকার, এবং যখন আমরা জানি যে এই সমাজে বিয়ে কঠিন তখন আদৌ এই অজুহাত কি দেওয়া যায়? এই সবকিছুই আমরা হয়তো পাব, মেয়ে রূপকথা পাতা থেকে উঠে আসা ডানাকাটা পরীর মতো হবে, আমরা যে এলাকার চাই সে এলাকারই হবে, ফ্যামিলির স্ট্যাটাসও মিলবে কিন্তু সে ক্ষেত্রে বিয়ে করতে ৩০/৩৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগবে। তাহলে অপেক্ষা করতে থাকো, মেনে নাও, আর কানের কাছে সারাদিন ঘ্যানঘান করা বাদ দাও।

 ভাই আমরা কেন এটা নিপাতনে সিদ্ধ ধরে নিছি যে শুধু মেয়েপক্ষই স্যাক্রিফাইস করবে? কেন আমি স্যাক্রিফাইস করবোনা? কেন  তুমি করবেনা?   কিছু মনে করোনা ভাই, এটা কিন্তু একধরণের ভন্ডামি। 

চলবে ইনশা আল্লাহ…

আগের কিস্তিগুলো-

প্রথম কিস্তি

দ্বিতীয় কিস্তি 

তৃতীয় কিস্তি

চতুর্থ কিস্তি 

 

 

শেয়ার করুনঃ
যদি মন কাঁদে…

যদি মন কাঁদে…

একটা চিঠি লিখছি। চিঠিটা প্রাক্তন এক রোমিওর উদ্দেশ্যে, হ্যা প্রাক্তন, তা এখন অতীত আলহামদুলিল্লাহ… ভাইটা কোন প্লেবয় গোছের কেউ ছিল না যে দুইদিন পরপর গার্লফ্রেন্ড বদলাতো বা বন্ধুদের ভেতর রসিয়ে মেয়ে নিয়ে অশ্লীল আড্ডা দিত, যার কাছে প্রেম কিনা স্রেফ টাইম পাস বা ক্ষণিকের ভোগ। সে ছিল নিপাট নিরীহ এক রোমিও, শয়তানের ধোঁকায় পড়ে কোন এক সময় বন্ধু থেকে প্রেমিকা বনে যাওয়া কাউকে বউ ভেবে ভালোবাসা অপাত্রে দান করেছে, এক অদৃশ্য কমিটমেন্টে নিজেকে জড়িয়ে রঙিন স্বপ্নের বীজ বুনেছে এবং শেষমেশ অন্ধকার গলিতে ঘুরপাক খেতে খেতে কোনোভাবে হেদায়েতের আলো পেয়েছে। এমনই এক অচেনা অজানা রোমিওকে উদ্দেশ্য করে আজ লিখছি যে চিরতরে বিদায় জানাতে পেরেছে এ আকর্ষণকে…হৃদয়কে চুরমার করে দেয়া এক আকর্ষণ। জাহিলিয়াতকে বিদায় জানিয়ে তীব্র অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে আল্লাহ্‌র মনোনীত দ্বীনে ফিরে আসা সে ভাইকে উদ্দেশ্য করেই কিছু কথা বলবো ইনশাআল্লাহ্‌।

ভাই…তওবা, হিদায়াহ – এ এক অমূল্য রত্ন। দুনিয়া বিক্রি করেও যা কেনা সম্ভব না। তুমি তা পেয়েছো আল্লাহ্‌র দয়ায়। কেন পেয়েছো? হয়তো কোন কল্যাণ ছিল। আল্লাহু আ’লাম। প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছো ঠিকই কিন্তু হয়তো মাঝেমাঝে আল্লাহ্‌র ভয়ে ভেতরটা উশখুশ করতো তোমার, রাতে যখন বিছানায় এলিয়ে চোখ বুজতে, শান্তি পেতে না, অজানা এক ভয় গ্রাস করে বসতো- আচ্ছা, যদি এখন মরে যাই? কি জবাব দিবো? কবরে নাকি অনেক শাস্তি আছে সাপ বিচ্ছু কিলবিল করবে শরীরে, সহ্য করতে পারবো কি?

হয়তো তোমার অন্তরে বক্রতা ছিল না, প্রেম করেছো কিন্তু এথিক্স ঠিক রাখতে চাইতে- এত কথা কিসের ছেলেদের সাথে? ওই ছেলেটা ক্লাসে তোমার পাশে বসলো কেন? এত চ্যাট করার কি আছে? আমার মনে হয় তোমার হিজাব পড়া উচিত…  (যেটাকে আমরা গাইরত বলতে পারি)। তীব্র অপরাধবোধ ঘিরে ধরতো কি যখন তুমি তোমার প্রিয়তমার পাশে বসে রিকশায় ঘুরতে আর মসজিদ থেকে সমবয়সী কাউকে নামাজ পড়ে বের হতে দেখতে? হয়তোবা তুমি বারবার চেয়েছিলে বের হয়ে আসতে চাইতে, আল্লাহ্‌র কাছে মাঝেমাঝে দুয়া করতে কিন্তু ছয় বছরের রিলেশন আর মেয়েটার চোখের পানি ফিরতে দিচ্ছিল না… হয়তো আল্লাহ্‌ তোমার সে দুয়া বা অনুশোচনাবোধ কবুল করে হিদায়াতের পথ দেখিয়েছেন আর তুমি চোখ বন্ধ করে উনার কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে আজ ফিরে এসেছো। স্বাগতম ভাই তোমায়।

স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। হিদায়াত তোমার স্বাধীনতা, শয়তানের বিছানো জাল থেকে মুক্তির স্বাধীনতা, কিন্তু এই স্বাধীন হবার সার্টিফিকেট সবসময় তোমার হাতে থাকবে এমনটা ভেবে পায়ের উপর পা তুলে ঘুমালে ভুল করবে। শয়তান সদা তৎপর এই মূল্যবান রত্নকে কেড়ে নিতে। নবীজি (সাঃ) এর সময়েই তো কিছু লোকের হিদায়াত পেয়ে পথভ্রষ্টটার নজির দেখা গেছে। যুগ যুগ ধরে কত আলেম-বুজুর্গরা পা হড়কে স্লিপ কাটলো শয়তানের ধোঁকায়! তাহলে তুমি আমি এত নিশ্চিন্তে দিন কাটাচ্ছি কিভাবে?

আমি মোটামোটি শিওর যারা খাস দিলে তওবা করে ফিরে আসে তারা আর কখনোই ওই পথে ফিরে যেতে চায় না। কারন তারা এখন জানে বাইরে থেকে চোখ ধাঁধানো হৃদয় কাপানো সৌন্দর্য আসলে শয়তানের গিলানো এক বিষ। তুমিও নিশ্চয়ই চাও না আবার জাহিলিয়াতে ফিরে যেতে? তাই শোন, তওবা করে ফিরে আসা রোমিও থেকে আবদুল্লাহ বনে যাওয়া ভাই তোমাকেই বলছি, Do not take this gift of Allah for granted. তোমাকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন শয়তান তোমার ভেতর কুচিন্তার মেঘ জমা করতে না পারে। যেন সে তোমার ভোলা মন নিয়ে আবার ছিনিমিনি খেলতে না পারে। আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে সফর তো কেবল শুরু।

প্রেম-ভালোবাসার স্মৃতিকে পুরোপুরি নষ্ট করা যায় না, দমিয়ে রাখতে হয়। দমিয়ে রাখতে হয় অতীতের টুকরো টুকরো গল্পগুলা। যে গল্পগুলো এখন মনে পড়লে আতংক আর প্রশান্তির এক অদ্ভুত অনুভুতি যোগায়। আতংক এই অর্থে যে, তার সাথে কাটানো মুহুর্তগুলো, শিহরণ জাগানো স্পর্শ, আহ্লাদভরা কণ্ঠ, চোখের ভাষায় পড়ে ফেলা অভিমান – সবকিছুই স্রেফ রবের আক্রোশ আর অসন্তুষ্টিই এনেছে। কি করেছি আমি? ছিঃ! ভয় ঘিরে ধরে যখন মনে পড়ে, আমিও তো ওই যিনাকারিদের একজন হতে পারতাম যাদের কবরে আগুনের খনিতে পুড়ানো হচ্ছে শাস্তিস্বরূপ। ঠিক এরপরই আসে প্রশান্তি। আল্লাহ্‌ আমাকে রক্ষা করেছেন! আমি তওবা করে ফিরে এসেছি, ফিরে এসেছি এমন এক বাহুডোর থেকে যেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব মনে হচ্ছিল। এই অনুভতির পর আসে শুকরিয়া। আস্তাঘফিরুল্লাহ…আলহামদুলিল্লাহ…

তো যা বলছিলাম ফেলে আসা প্রেমের মুহূর্তগুলোকে এত সহজে ভুলা যায় না, কিন্তু দমিয়ে রাখা যায়। রাখা যায় বললে হবে না, আসলে দমিয়ে রাখতেই হবে, কবরচাপা দিতে হবে। শয়তান যেন সে কবর খুড়তে না পারে। সে যদি এক মুঠ মাটি সরায়, তোমাকে আরও দশ মুঠ ঠেসে দিতে হবে। আমি এখানে কিছু পয়েন্ট তুলে ধরার চেষ্টা করবো, কিছু সিনারিও বা শয়তানের ফাঁদ এবং নিজেকে সে ফাঁদ থেকে ডিফেন্ড করার কিছু কৌশল। হয়তো কিছু ফাঁদ বাদ পড়ে যেতে পারে, তুমি ফিরতি চিঠিতে আমাকে জানিও ইনশাআল্লাহ্‌।

ভাই, আমি শুরুতে ধরে নিচ্ছি তুমি সবরকম গুনাহ থেকে আল্লাহ্‌র কাছে তওবা করে নিয়েছো। তার মানে প্রেমকে বিদায় বলেছো ঠিকই, পাশাপাশি তুমি আর গান শুনো না, দিনকে রাত বানিয়ে আর মুভি-সিরিজ দেখো না, ফ্রি-মিক্সিং থেকে দূরে থাকো, চোখের পর্দা করে চলো। যদি এগুলো না করে থাকো, তাহলে তুমি অনেক বড় বিপদে আছো। তোমাকে সাহায্য করা আমার পক্ষে সম্ভব না।

ভোগবাদীদের ব্যবসার মূল কেন্দ্রই হচ্ছে ফাহেশাত, অশ্লীলতা, হারাম প্রেম, উদ্দম যৌনতা। তুমি কখনোই ভেবো না শুধু ভালোবাসার মায়া ত্যাগ করা মানেই ফিরে আসা। তোমাকে সবরকম মেয়েঘটিত মায়া (যা হারাম) ত্যাগ করতে হবে। তা না হলে হলিউড-বলিউড-ঢালিউড, আইটেম সং, সিরিজ, পর্নোগ্রাফি, যৌনতার হাতছানি তোমাকে পাগল করে দিবে। বন্ধু বেশে সান্ত্বনা দিতে আসা জাস্ট ফ্রেন্ডদের সাথে মেলামেশায় তুমি হয়ে পড়বে স্মৃতিকাতর, তোমার প্রেমিকার কথা মনে করিয়ে দিবে। নেক সুরতে শয়তানের ধোঁকায় পড়ে হিজাবি-নিকাবিদের সাথে কমিউনিকেট করাকে not a big deal মনে হবে। এভাবে আস্তে আস্তে তুমি আবার শয়তানের আঙ্গুল নাচানো পুতুলে পরিণত হবে। তুমি হয়ে পড়বে দুর্বল। অপরাধকে জাস্টিফাই করে বসবে। এভাবে আবার হারিয়ে যাবে! হারিয়ে যাবে সেই অন্ধকার গলিতে যা থেকে তোমায় বের করে এনেছিলেন আল্লাহ্‌ সুবহান ওয়া তা’লা।

এখন মুল আলোচনা শুরু করা যাক। প্রেমিকার স্মৃতিগুলো ভুলে থাকার জন্য তোমাকে আগে চৌকশ গোয়েন্দার মত আইডেন্টিফাই করতে হবে কেন স্মৃতিগুলো বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখো কী কী তোমাকে ট্রিগার করছে, হারাম মুহূর্তগুলোকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। তারপর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিবে। আমি তেমনই শয়তানের কিছু কৌশলের কথা উল্লেখ করছি যা কম-বেশি সবাইকেই পীড়া দেয়।

 

তাহারেই পড়ে মনে…

  • প্রেমিকার দেয়া গিফট, চিঠি, খুদে বার্তা – আল্লাহ্‌র নামে চিঠিগুলা পুড়িয়ে বা বাথরুমে নিয়ে ফ্লাশ করে দাও। প্রেমিকার নাম্বার, তার বাপ-মা-ভাই-বোনের নাম্বার সব ব্লক করে দিতে হবে, দরকার হলে সিম বদলে ফেলো। গিফটগুলা নষ্ট করে ফেলো বা কাউকে দান করে দাও। যত দামিই হোক না কেন। টি-শার্ট/ঘড়ি/মানিব্যাগ/নোটবুক যাই হোক না কেন কোনটাই আর নিজের কাছে রাখবে না, ব্যবহার করবে না। প্রেমিকা মোবাইল দিয়েছিল? (রেয়ার কেস যদিও), তাও রাখা যাবে না। দোকানে বিক্রি করে ওই টাকাটা কোনো মিসকিনকে দান করে দাও। আইডিয়া বুঝলে তো? তাতেই হবে।
    .
  • সোশ্যাল মিডিয়ায়- তাকে ব্লক করে দিতে হবে, মেসেজগুলা ডিলেট করে দিতে হবে। নিজের পুরানো পোস্টগুলা ডিলেট দিয়ে দিও। দরকার হলে আইডিই ডিলেট দিয়ে নতুন করে খুলো। পুরানো আইডিতে প্রেমিকার সাথে কত কথা, কত ছবি, কত স্মৃতি! এখন তো তওবা করেছো, কি দরকার পুরানো পাপগুলাকে ওপেন প্লেসে ছড়িয়ে রাখার?
    .
  • Meeting Place- যতটুকু সম্ভব ওই গলি, রাস্তা, ফাস্ট ফুড বা কফিশপের দোকানগুলা এভয়েড করতে হবে যা তোমাকে পুরানো দিনের কথা মনে করিয়ে দিবে। একান্তই এভয়েড করতে না পারলে তওবা করো, আল্লাহ্‌র নিয়ামতের কথা স্মরণ করে শুকরিয়া আদায় করো। আর ভুলেও ভালেন্টাইন্স ডে, নববর্ষ, নিউ ইয়ার বা হাবিজাবি যত দিন আছে এসব দিনে কাজ না থাকলে বাহিরে বের হবে না, কাপলদের আড্ডাখানায় যাবে না, ভার্সিটির ক্লাস শেষেই চলে আসবে। হারামকে ঘৃণা করতে শেখো। আফসোস নিজের জন্য না, তাদের জন্য করো যারা এখনো আল্লাহ্‌কে চিনতে পারলো না, উনাকে ভালোবেসে ফিরে আসতে পারলো না। পড়ে ফেল এই লিখাটি- https://tinyurl.com/y232rv6a
    .
  • ফ্রেন্ড সার্কেল – আরেকটা ফিতনাহ। তোমার চার-পাঁচ বছরের রিলেশন। বন্ধুরা জানবে না এটা সম্ভব না। এখন তো তুমি তওবা করেছো, রিলেশন নেই, কবিরা গুনাহগুলা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছো, ফ্রি-মিক্সিং আড্ডায় যাও না। তারপরও ওরা ঠিকই কথায় কথায় তোমার প্রেমিকার কথা তুলবে, জানিস ওর তো বিয়ের কথা চলছে… আরেহ দোস্ত অনেকদিন পর দেখা তোর সাথে? কেমন আছিস? তোর রিলেশন কেমন চলতেছে? তুমি এগুলা শুনবে আর ভেতরে ভেতরে কষ্টে দগ্ধ হবে। তারচেয়ে বরং তওবা করা নিয়ে একটা Personal Statement লিখে ফেলো। এরপর তোমার ফ্রেন্ড সার্কেলের যারা জানতো এই রিলেশনের ব্যাপারে সবাইকে ফরোয়ার্ড করে দাও। যাতে আর কেউ কখনো দেখা হলে বা কথা প্রসঙ্গে অতীতের জাহিলিয়াতের কথা মনে করিয়ে না দেয়, ঠাট্টা না করে, খোঁটা না দেয়। দরকার হলে ফ্রেন্ডসার্কেলের পরিধি ছোট করে নিয়ে আসো। জাহেল বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে সময় নষ্ট না করে বরং দ্বীনি বন্ধু বা মজলিসে সময় দাও। আল্লাহ্‌র কাছে দুয়া করো যেন এমন বন্ধু বা সাথী জুটিয়ে দেয় যে কিনা জান্নাতে গিয়ে তোমার কথা স্মরণ করবে, তোমার হালত জানতে চাইবে, তোমাকে না দেখতে পেলে আল্লাহ্‌র কাছে ফরিয়াদ করবে যেন তোমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে নিয়ে আসেন তিনি। (তোমার পরিবারেও যদি রিলেশনের কথা জেনে থাকে, স্পষ্ট বলে দাও- তা এখন অতীত।)

 

শুন্যতা ও অবসর

অবসর সময় যেমন নিয়ামত- যদি কাজে লাগানো যায়, তেমনি ফিতনাহর কারণও বটে। একাকী অবসরের মুহূর্তগুলা ফ্ল্যাশব্যাক করাবে অতীতের দিনগুলার কথা। আফসোস জেঁকে বসবে, না চাইতেও অনেক কিছু ফিরে পেতে ইচ্ছে করবে। শয়তানের সবচেয়ে বড় ফাঁদ হলো এই একাকী কাটানো বেকার সময়গুলো। সাবধান। ফাঁদে পা দিও না। নিজেকে কোন না কোন প্রডাক্টিভ কাজে ব্যস্ত রাখো।

আচ্ছা তুমি তো জাহেল ছিলে, দুনিয়ার রং তামাশায় মত্ত ছিলে তুমি! কোরআন পড়তে পারো? ছোটবেলায় শিখেছিলে এখন ভুলে গেছো? তাহলে কেন নতুন করে শিখছো না? এই অবসর সময়ের সদ্ব্যবহার কেন করছো না? কোরআন পড়া শিখো। এখন তো অনলাইনেই ওস্তাদরা শিখান মাশাআল্লাহ। আরেকটা কাজ করবে… মন খারাপ থাকলে ‘রিয়াজুস সালেহীন’ বইটা পড়া শুরু করবে। মন ভালো করে দিবে চমৎকার হাদিসগুলো। পরকাল নিয়ে ভাবো। ‘পরকালের পথে যাত্রা’ অডিও সিরিজ অবশ্যই শুনবে। নবীজি (সাঃ) এর জীবনী পড়। আল্লাহ্‌র জন্য, নবীজির ভালোবাসায় সাহাবীদের আত্মত্যাগের কথা চিন্তা কর। তোমার এই প্রেম-বিসর্জন কিন্তু খুবই সামান্য উনাদের ত্যাগের কাছে। বেশি বেশি বই পড়বে। এতদিন তো গাফেল ছিলে, এখন ভালোভাবে ইসলাম, ইমান, আখলাক, হারাম-হালালের সীমারেখা এ সব বিষয়ে বিশুদ্ধ সূত্র থেকে জেনে নাও।  দেখলে কত কাজ বাকি? আর তুমি হাপিত্যেশ করে মরছো তুচ্ছ মোহে? আর সম্ভব হলে খুব দ্রুত বিয়ে করে নাও। একাকীত্বের যন্ত্রণা দূর হয়ে যাবে। বাসায় বিয়ের কথা কীভাবে বলবে,কীভাবেই বা নিজেকে বিয়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করবে তার জন্য ফলো করতে পারো এই সিরিজটি- তুমি এক দূরতর দ্বীপ (প্রথম কিস্তি , দ্বিতীয় কিস্তি, তৃতীয় কিস্তি, চতুর্থ কিস্তি)।

  • অবসরে এমন কোন বই পড়া যাবে না যা যৌন সুড়সুড়ি মার্কা প্রেমের জয়গান গেয়ে বেড়ায়। প্রেম উপন্যাস/ ছোট গল্প – সব বাদ। এগুলা মনে হাহাকার তৈরি করবে, শয়তানের কাজকে সহজ করে দিবে। হারামকে নর্মালাইজ করে এমন কোন কিছুই পড়বে না, দেখবে না, শুনবে না। তাদের প্রমোট করবে না।
    .
  • ফেসবুক জগতকে ফিল্টার করে রাখো। এমন সব বন্ধু, পেজ, গ্রুপ সব ফিল্টার করে রাখো (আনফলো, আনফ্রেন্ড, আনলাইক) যারা মেয়েদের ছবি/ভিডিও/ভয়েস আপ্লোড দেয় (হোক তা হিজাব, নিকাব- সবই তোমার জন্য ফিতনা, দূরে থাকো এসব থেকে)। গাইরে মাহরাম কাউকে ফ্রেন্ডলিস্টে রাখবে না, চ্যাট করবে না। ভুলে যেও না, তুমি তওবা করেছো সবরকম হারাম থেকে। ফ্রেন্ডলিস্টে এমন কাউকে ফলো করবে না যারা তাদের প্রেমিকা বা বউ এর সাথে ছবি আপ্লোড দেয়, চেক-ইন দেয়, খুনসুটির গল্প শেয়ার করে। এগুলা তোমার বুকের বাম পাশের চিনচিনে ব্যাথা আরও বাড়িয়েই দিবে। আমি তো অবাক হই কিছু ভাই-বোনদের কান্ড দেখলে, যারা ইউটিউব চ্যানেল খুলে হাসবেন্ড-ওয়াইফ এর খুনসুটি মার্কা ভিডিও শেয়ার করছে আর দেদারসে লাইক কামাচ্ছে। এগুলা বেহায়াপনার নিত্য নতুন ভার্শন। এগুলো থেকে দূরে থাকবে। তুমিও যখন একসময় বিয়ে করবে, যত ইচ্ছা খুনসুটি করবে তোমার জীবনসঙ্গিনীর সাথে, তা করা বরং উত্তম, কিন্তু একান্তে। কিন্তু কখনোই এগুলা পাবলিক প্লেসে আনবে না। সীমালঙ্ঘন করো না।
    .
  • সদ্য হারাম রিলেশন থেকে বের হয়ে আসলে বিয়ে নিয়ে চিন্তা করতে একদমই ইচ্ছে করে না, ওসব কিছুই ভালো লাগবে না, কিন্তু তা সাময়িক। কিছু সময় পার হলে দেখবে বিয়ে করার জন্য পাগল হয়ে উঠছো। বিয়ে করতে পারলে তো খুবই ভালো। আর করতে না পারলে কান্নাকাটি বাদ দাও। বিয়ে/প্রেম নিয়ে গল্প-কবিতা পড়া, শেয়ার দেয়া এসব বন্ধ কর। সবর কর, রোজা রাখো। যেখানে যার সাথে কথা বললে বিয়ে করা সহজ হবে সেখানে তার সাথে আলাপ করো। বিয়ের জন্য নিজেকে শারীরিক-মানসিক-আর্থিকভাবে প্রস্তুত করে নাও।
    .
  • শরীর ও মনকে চাঙ্গা রাখতে হবে, ফুরফুরে রাখতে হবে যেন কোনোভাবেই বিষণ্ণতা পেয়ে না বসে। মসজিদে গিয়ে পাঁচওয়াক্ত নামাজ পড়লে মন ফ্রেশ হয়ে যাবে। ফজরের নামাজ জামাআতে আদায় করে সরাসরি বাসায় না ঢুকে একটু হাঁটো বা দৌড়াও। সে সময়ের বাতাস দিনের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে পবিত্র থাকে। ছোটো ভাইবোন কাজিনদের সাথে ( অবশ্যই ছেলে কাজিন) সময় কাটাতে হবে। বাবা মার সাথে সময় কাটাও। দেখো কতো ভালোবাসা নিয়ে বসে আছেন তাঁরা তোমার জন্য।বাসা থেকে দূরে থাকলে কথা বল ফোনে। দুপরে একটু ঘুমিয়ে বিকেলের দিকে খেলতে যাও মাঠে। সমাজসেবা মূলক কাজে সাহায্য করা, ছাদে বাগান করা, বিড়াল,পাখি, খরগোশ পোষা মানে হবি টাইপের কিছুতে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে। সপ্তাহে একদিন কোথাও থেকে ঘুরে আসো নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে সবসময়। যেন ওইসব ছাইপাঁশ প্রেমের স্মৃতি তোমার আশেপাশেও ভিড়তে না পারে।
    .
  • কোন দাওয়াই খেয়ে কাজ না করলে স্রেফ তোমার জান্নাতী স্ত্রীদের কথা ভাববে যখন অতীতের প্রেম বেয়াড়ার মত কড়া নাড়বে মনের পর্দায়। কেনই বা ভাববে না? তোমার জান্নাতি স্ত্রীগণ, মুক্তার ন্যায় উজ্জ্বল যাদের সৌন্দর্য, যাদের কোন জিন আর মানুষ স্পর্শ করেনি, তারা যে প্রতিনিয়ত তোমার কথা ভাবে, তোমার অপেক্ষায় থাকে তা কি তুমি জানো না? রসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন: যখন কোন মহিলা তার স্বামীকে কোন কষ্ট দেয়, তখন আয়তনয়না হুরদের মধ্য থেকে মুমিন স্ত্রী বলবে যে, আল্লাহ তোমকে ধ্বংস করুন, তাকে কষ্ট দিও না। সে অল্প দিনের জন্য তোমার নিকট আছে অতি শীঘ্রই সে তোমাদেরকে ছেড়ে চলে আসবে । (ইবনে মাযাহ, আলবানী ,১ম খন্ড, হা: নং১৬৩৭)। ভাই, তুমি কি এমন পবিত্র রমণীদের কথা ভাববে না যারা তোমাকে ছাড়া আর কারও দিকে চোখ তুলেও তাকাবে না? যারা তোমারই সমবয়সী হবে, কখনও মুটিয়ে যাবে না, কখনও তার আকর্ষণ হারাবে না, বরং বৃদ্ধিই পাবে দিনকে দিন? তুমি কি এমন কারো সাথেই থাকতে চাও না? অনন্তকাল…

 

অনেক বড় বড় উপদেশ দিয়ে ফেললাম! মন খারাপ করো না। আমি জানি এত ‘মানতে হবে’, ‘করতে হবে’ তোমার জন্য কত কঠিন… মাত্রই তো ফিরে এসেছো। আমি এজন্যই শুরুতে বলেছি, আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির পথে যাত্রা কেবল শুরু। কখনো ধৈর্য হারা হবে না, কখনো ভাববে না ‘আমি পারবো না’। গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যাও, দেখবে আল্লাহ্‌ সাহায্য করবে। আল্লাহ্‌ যে সাহায্য করেন, অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করেন- তুমি এ কথা কিন্তু খুব ভালোভাবেই বিশ্বাস কর এখন, তাইনা? দুনিয়া তো আমাদের জন্য কারাগার, কারাগারে কি সুখে থাকা যায় ভাই? এখানে পদে পদে পরীক্ষা থাকবে, কষ্ট থাকবে, না পাওয়ার বেদনা থাকবে। এগুলো মেনে নাও। আল্লাহ্‌র জন্য, উনাকে ভালোবেসে, উনার সন্তুষ্টির আশায়। আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি মানেই তো জান্নাত। সব না-পাওয়ার আবদার না হয় জান্নাতে গিয়েই কইরো।

জাহান্নাম থেকে একেবারে শেষে যে মুসলিম ব্যক্তি বের হবে সাজাভোগ শেষে তাকে যখন জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে তখন আল্লাহ্‌ বলবেন, ‘চাও।’ সে চাইতে থাকবে। কিছু চাইতে ভুলে গেলে স্বয়ং আল্লাহ তাকে বিভিন্ন জিনিসের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন! আর বলবেন, ‘এটা চাও, ওটা চাও।’ এভাবে আল্লাহ তাকে স্মরণ করাতে থাকবেন, আর লোকটি চাইতে থাকবে। অবশেষে আর কিছুই থাকবে না। তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, ‘তোমার সব ইচ্ছা পূর্ণ করা হলো। তার সাথে আরও দশগুণ (তোমাকে দেয়া হলো)’। [বুখারী, আযান অধ্যায়, ১/৭৬৯; ইসলামিক ফাউণ্ডেশন]

অপূর্ণতায়, নষ্ট কষ্টে কয়েকটা দিন না হয় যাক, জান্নাতের প্রথম পদক্ষেপই তো বৈশাখী ঝড়ো হাওয়ার মতো ভাসিয়ে নিয়ে যাব সকল দুঃখ, ভুলিয়ে দিবে সকল অপ্রাপ্তির বেদনা।

তাইনা ?

শেয়ার করুনঃ
খুলে দাও হৃদয়ের দ্বার (চতুর্থ কিস্তি)

খুলে দাও হৃদয়ের দ্বার (চতুর্থ কিস্তি)

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লহ্। আশা করি ভাল আছেন? আমি জামি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ নিয়ে অনার্স করছি। আর আছি ১ম বর্ষে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে লস্ট মডেস্টির সাপোর্টিং টিম আছে, এটা আমার যেমন জানা ছিল না, ঠিক তেমনই কেউ এটা নিয়ে কিছু জানায়নি। কদিন আগেই মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটা কিভাবে যেন এক বন্ধুর মারফত আমার হাতে চলে আসে। বিশ্বাস করুন, এ বইটা আমার জীবন বদলে দিয়েছে। আমি সম্পূর্ণ বদলে গেছি। আমার খুব কাছের কিছু বন্ধুকেও আমি বইটা পড়িয়েছি, তারাও তাদের একই অনুভূতির কথা বলেছে। যাযাকাল্লহু খইর। আল্লাহ রব্বুল আলামীন এই বই এবং লস্ট মডেস্টির সাথে যুক্ত সকলকে নিজ হাতে জান্নাতুল ফেরদৌসের অতিথি হিসেবে কবুল করুন। আমিন।
.
আরও কিছু কথা বলতে চাই, আমি এবং আমার বন্ধুরা, আমরা কখনোই বখাটে বা খারাপ ছেলেদের মতো ছিলাম না, আমরা ছিলাম নামাজি, কিন্ত পর্ন আসক্ত! এমনকি নামাজের মাঝেও পর্নোগ্রাফির ঐ দৃশ্যগুলো আমাদের মাথায় ঘুরত! আস্তাগফিরুল্লহ! নাউজুবিল্লাহ! আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন! আসলেই পর্ন একজন মানুষকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দেয়, ধুলোয় মিশিয়ে দেয়! যখন থেকেই আমার পর্ন আসক্তি হওয়া শুরু করে, আমি নিজেকে সবকিছু থেকেই গুটিয়ে নিচ্ছিলাম। এক কথায় আমার কিছুই ভাল লাগতো না! কোন কিছুই না! জীবন নিয়ে ভাবনা আসে না, লাইফ নিয়ে সিরিয়াস হওয়া যায়না, কোন পদক্ষেপ নিতে ভয় পাওয়া ইত্যাদী সহ আরো অসংখ্য ভয়ংকর বিষয় পর্ন আসক্তির সাথে জড়িত।
.
আমি মনে করি, বর্তমানে আমাদের দেশের তরুন থেকে শুরু করে সববয়সী মানুষ যে ভাল্লাগেনা রোগে আক্রান্ত তার মুূল ও একমাত্র কারন হলো পর্ন। তার চেয়েও ভয়ানক বিষয় হলো, এভাবে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরের কোন না কোন মানুষ জীবন থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে, এভাবে সমাজও গুটিয়ে যাচ্ছে, রাষ্ট্রও নিস্তজ হয়ে যাচ্ছে।তাই আমি মনে করি, বাংলাদেশের তরুন বা যুবকদের নিয়ে যত সমস্যা, সব সমস্যার মুল কারন হলো পর্ন, আর যথাসময়ে বিয়ে করতে না পারা। আমি মনে করি, আমরা পর্নের বিরুদ্ধে যেভাবে সোচ্চার হচ্ছি, ঠিক সেভাবে বাংলাদেশে বিয়ের ব্যাপারে এ জটিলতা আছে, তার বিরুদ্ধেও সোচ্চার হওয়া। বিয়ের ব্যাপারে যে জটিলতা, সেটা বোঝার জন্য আমি আপনাকে এবং সবাইকে অনুরোধ করব শাইখ আলি তানতাভির ‘বিয়ে নিয়ে কিছু কথা’ বইটি পড়ার জন্য। আজ এ পর্যন্ত, ভাল থাকবেন। আল্লাহ লস্ট মডেস্টির সকল সদস্যদের উত্তম জাযাহ দান করুক। আমিন।


——-
আমার নীড়ে ফেরার গল্প!
জীবনে ও ফিরে যেতে চাই না সেই দিনে!
.
প্রায় বারো বছর বয়স থেকেই নিজেকে শেষ করে দিতে থাকি। হস্তমৈথুন,পর্ন ইত্যাদি যেন আমার জীবনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে মিশে গিয়েছিল। প্রথম পর্ন দেখেছিলাম গ্রামের দূর সম্পর্কের এক ভাইয়ের মোবাইলে এর পর থেকেই আস্তে আস্তে আমি পর্ন, হস্তমৈথুন ইত্যাদি তে অভ্যস্ত হতে থাকি।
.
আমার বয়স যখন পনেরো তখন শহরে চলে আসি। শহরে আসার পরে নিজের প্রতি অত্যাচারটা আরো তীব্র হল। মোবাইল ফোন, নেট ইত্যাদি গ্রাম থেকে শহরে সহজলভ্য হওয়ায় সুযোগ পেলেই পর্ন দেখতাম আর হস্তমৈথুন করতাম। যার কারণে কারো সাথে মিশতে ইচ্ছা করত না সবার থেকে নিজেকে আত্মাগোপন করতে ইচ্ছা করত,নিজের শরীরের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল সবসময়ই দুর্বল দুর্বল লাগত ।
.
যে ছেলেটা গ্রামের মাঠে-ঘাঠে দৌড়-ঝাপ, হাডুডু, ক্রিকেট-ফুটবল খেলে নিজের শৈশব পার করেছে কে জানত একদিন এই নীল বিষ তার জীবন ধ্বংস করে দিবে। শহরে এসেছিলাম পড়াশোনার সুবাদে কিন্তু নীল বিষের ছোবলে আর হস্তমৈথুনের কারণে নিজের জীবনে নেমে এলো এক দুর্বিষহ অন্ধকার। ফল স্বরূপ শহরে আসার পর একাডেমিক রেজাল্ট খুবই খারাপ হল। এতদিনে আমার পতনের মূল যখন বুঝতে পেরে আমি নিজের ভুলের জন্য আফসোস করছিলাম তখনই আমার হাতে আসে; লস্ট মডেস্টির মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটি । এরপর আমাকে আর পিছনে ফিরে থাকাতে হয়নি। এর জন্য ধন্যবাদ জানাই যারা মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটার পিছনে যারা শ্রম দিয়েছে তাদের ।
.
বইটা পড়ার পরেই আমি আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত, তওবা করে ফিরে আসি। আর জীবনে ফিরে যেতে চাই না সেই দিনে।
.
আলহামদুলিল্লাহ ফিরে আসার পরে আমার একাডেমিক রেজাল্ট ও খুব ভালো হয়েছে।আল্লাহর কাছে যা চেয়েছিলাম তাই পেয়েছি । শরীরের ও উন্নতি হয়েছে । যারা মনে করেন ওই অন্ধকার জগত থেকে আর ফিরে আসা যাবে না তাদের জন্য আমার জীবনের এই ফেরার গল্প টা উদাহরণ ।
.
প্রিয় ভাইয়েরা ,
ফিরে আসুন। আমি পেরেছি, আপনিও পারবেন ইনশাআল্লাহ । আমি এখন বুঝতেছি পর্ন আর হস্তমৈথুনের কারণে জীবনের কি মূল্যবান সময়টা না নষ্ট করেছি। সেই সময়টার কথা এখন মনে পড়লে বুক ফেটে কান্না আসে।চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে আমি ফিরে যেতে চাই সেই শৈশবের সেই আনন্দময় দিনে, সেই মাঠের ধারে। জীবনের কালো অধ্যায়টা মুছে দিয়ে জীবনটাকে নতুন করে সাজাতে চাই।
.
ফিরে আসার উপায়( যেভাবে আমি ফিরে এসেছি)-
.
1. মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটা ভালোভাবে মনোযোগ দিয়ে বুঝে বুঝে পড়ুন।
2. বিভিন্ন সামাজিক কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন ।
3. আল্লাহর কাছে শপথ নেন যে ইন্টারনেট এ কোন প্রকার অশ্লীল কিছুই দেখবেন না। বন্ধুদের সাথে; আড্ডায় বা মেসেজ এ কোন প্রকার অশ্লীল বিষয়ে আলোচনা করবেন না। কারণ এই গুলোই পর্নোগ্রাফিঃ ও হস্তমৈথুনের দিকে আপনাকে ঠেলে দিবে।
4. ইসলামী সংগঠন গুলোর সাথে নিজেকে যুক্ত রাখুন ।
5. নারীসঙ্গ ত্যাগ করুন ।
.
পর্নোগ্রাফি ও হস্তমৈথুন থেকে ফিরে আসার উপায় স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা বলে দিয়েছেন। ফিরে আসার সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর উপায় হল নিয়মিত পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ পড়া কেননা মহান আল্লাহ তায়ালা কোরআনে সুস্পষ্ট ভাবে বলেছেনঃ

“নিশ্চয়ই নামায মানুষকে লজ্জাহীনতা, অশ্লীলতা ও সর্বপ্রকার পাপ কাজ হতে বিরত রাখে।”
.
প্রিয় ভাইয়েরা,
আজই নামায পড়ে আল্লাহর সামনে বসে শপথ নিন। জীবনেও আর ওই পথে হাঁটবেন না।

.
চলবে ইনশা আল্লাহ্‌…
.
পড়ুন আগের পর্বগুলোঃ

খুলে দাও হৃদয়ের দ্বার (প্রথম পর্ব)
খুলে দাও হৃদয়ের দ্বার (দ্বিতীয় পর্ব)
খুলে দাও হৃদয়ের দ্বার (তৃতীয় পর্ব)

শেয়ার করুনঃ
হস্তমৈথুন নিয়ে ঘোলা যত জল…

হস্তমৈথুন নিয়ে ঘোলা যত জল…

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম।
.
আমাদের অফিশিয়াল নাম (‘লস্টমডেস্টি’, ‘মুক্ত বাতাসের খোঁজে’ বা এরকম) ব্যবহার করে কাউকে কাউকে দেখা যাচ্ছে হস্তমৈথুনের পক্ষে প্রচারণা চালাতে। এদেরকে ইনবক্সে আমরা যতোটা সম্ভব বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তারা খুব বাজে ভাষায় আমাদের আক্রমণ করেছে। আল্লাহ্‌ আমাদের এবং এই ভাইদের হেদায়াত দিক। ইসলাম বিকৃত করার হাত থেকে রক্ষা করুক। দ্বীনকে নিজের লালসা পূরণের হাতিয়ার হওয়া থেকে রক্ষা করুক।
.

সবচেয়ে বেশি কে ভালোবাসে আপনাকে এই দুনিয়ায়?

এই প্রশ্ন করলে সচরাচর যার মুখ ভেসে ওঠে তিনি হলেন আপনার মা, যার পেটে আপনি ছিলেন দীর্ঘ ৯ মাস। গায়ক অনেক আগেই গেয়েছে- এমন দরদী ভবে কেউ হবেনা আমার মা ছাড়া… তবে আরবের এক মানুষ আপনাকে মায়ের চাইতেও বেশি ভালোবাসতেন। আপনার জন্য বেশি দুশ্চিন্তা করতেন। নিজে নিষ্পাপ হয়েও রাত জেগে জেগে আপনার মুক্তির জন্য কান্নাকাটি করতেন। এই মানুষটি কে তা আর বলে দিতে হবেনা বোধহয়- মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।
.
আমাদের জীবনকে আমরা যেন সুন্দর, সহজ স্মুথলি চালাতে পারি তার জন্য খুঁটিনাটি সবকিছুই তিনি আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ্‌ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) উনার মাধ্যমে মানবজাতির সব যুগের, সব কালের সব সমস্যার সমাধান বাতলে দিয়েছেন।
.
পাশ্চাত্যের ছকে পরিচালিত এই ভোগবাদী সমাজে বিয়েকে অনেক কঠিন করে ফেলা হয়েছে। ৩০-৩২ বছর বয়স হয়ে যায় তারপরেও আমাদের ভাইবোনেরা বিয়ে করতে পারেন না। নারী পুরুষের অন্তরঙ্গতা এক ধরণের ক্ষুধার মতো। বয়স হলে ক্ষুধা লাগবেই। অন্তরঙ্গতার স্বাদ না পেলে ভয়াবহ দুঃসময় নেমে আসবে। প্রচন্ড কষ্ট হবে টগবগে, রক্ত গরম শরীরটাকে বেঁধে রাখতে।
.
এখন চিন্তা করুন, যেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনাকে আপনার নিজের মায়ের চাইতেও বেশি ভালোবাসতেন সেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি আপনাকে এই ভয়াবহ অবস্থায় যেন না পড়তে হয় বা পড়লে কীভাবে মোকাবেলা করতে হবে সেটার পথ বলে দেননি? তিনি হলেন রহমাতুল্লীল আলামিন। মানবজাতির জন্য রহমত তিনি। তিনি অবশ্যই মুক্তির উপায় বলে দিয়েছেন। কী সেই উপায়?
.
চলুন যাওয়া যাক আব্দুল্লাহ্‌ বিন মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর কাছে। তিনি আমাদের জানাচ্ছেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে আমরা এমন কিছু যুবক ছিলাম যাদের কিছু ছিল না। তখন রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যকার যার (বিয়ের খরচ বহন ও শারীরিক সামর্থ্য) রয়েছে সে যেন বিয়ে করে ফেলে। কেননা, তা তার দৃষ্টি নিম্নগামী রাখতে ও লজ্জাস্থানকে হেফাজত করায় সহায়ক হয়। আর যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে। কারণ তা যৌন উত্তেজনা প্রশমনকারী।” [সহীহ বুখারী (৫০৬৬)]
.
আলিমগন বলেন, এই হাদিস থেকে একদম দিনের আলোর মতো পরিষ্কার যে যে বিয়ে করতে অক্ষম হলে কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাকে রোযা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। হস্তমৈথুন করার পরামর্শ দেননি। যদিও হস্তমৈথুনের প্রতি আগ্রহ বেশি থাকে, হস্তমৈথুন করা রোযা রাখার চেয়ে সহজ। এবং এটাতে কিছু মজাও পাওয়া যায়। কিন্তু তারপরেও তিনি (সাঃ) হস্তমৈথুনের অনুমতি দেননি।
.
ইবনে কাসির (রহঃ) বলেন: ইমাম শাফেয়ি এবং যারা তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন তারা সবাই এ আয়াত দিয়ে হস্তমৈথুন হারাম হওয়ার পক্ষে দলিল দিয়েছেন। আয়াতটির ভাবানুবাদ হচ্ছে-
আর যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে হেফাযত করে। নিজেদের স্ত্রী বা মালিকানাভুক্ত দাসীগণ ছাড়া; এক্ষেত্রে (স্ত্রী ও দাসীর ক্ষেত্রে) অবশ্যই তারা নিন্দিত নয়। যারা এর বাইরে কিছু কামনা করবে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।” [সূরা মুমিনুন, আয়াত: ৫-৬]

(দাসী মানে ক্রীতদাসী। বর্তমান সময়ে বাসা-বাড়িতে যারা কাজ করেন তারা নন, তারা কর্মচারী। দাসপ্রথা ও ইসলামে এর অবস্থান জানতে পড়ুন- https://tinyurl.com/IslaveryI অথবা, https://islamqa.info/en/answers/13737)

ইমাম শাফেয়ি ‘নিকাহ অধ্যায়ে’ বলেন: ‘স্ত্রী বা দাসী ছাড়া অন্য সবার থেকে লজ্জাস্থান হেফাযত করা’ উল্লেখ করার মাধ্যমে স্ত্রী ও দাসী ছাড়া অন্য কেউ হারাম হওয়ার ব্যাপারে আয়াতটি সুস্পষ্ট। এরপরও আয়াতটিকে তাগিদ করতে গিয়ে আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন (ভাবানুবাদ): “যারা এর বাইরে কিছু কামনা করবে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।” সুতরাং স্ত্রী বা দাসী ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে পুরুষাঙ্গ ব্যবহার করা বৈধ হবে না, হস্তমৈথুনও বৈধ হবে না। আল্লাহ্‌ই ভাল জানেন। [ইমাম শাফেয়ি রচিত ‘কিতাবুল উম্ম’]
.
কোন কোন আলেম এ আয়াত দিয়ে দলিল দেন: “যারা বিবাহে সক্ষম নয়, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে যে পর্যন্ত না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেন।” [সূরা নূর, আয়াত: ৩৩] এ আয়াতে সংযমের নির্দেশ দেয়ার দাবী হচ্ছে– অন্য সবকিছু থেকে ধৈর্য ধারণ করা। (https://islamqa.info/bn/answers/329/)
.
দক্ষিন আফ্রিকার মাদ্রাসা এরাবিয়া ইসলামিয়ার এক দীর্ঘ গবেষণা প্রবন্ধে আলিমগণ লিখেছেন- হস্তমৈথুন হারাম। চার মাযহাবের (হানাফি মালিকি,শাফেঈ, হাম্বলী) আলিমদের ঐক্যমত্য রয়েছে এর ওপর। সূরা মুমিনুনের ৫-৬ নম্বর আয়াতের ওপর ভিত্তি করে তাঁরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। (https://tinyurl.com/y4ar8kyj)
.

অনেকেই আছে বিজ্ঞানের নানা রেফারেন্স টেনে হস্তমৈথুনকে উপকারি প্রমাণ করার চেষ্টা করে।


বর্তমান সময়ের পরাজিত মুসলিমদের মানসিকতা হলো ইসলামের বিধানকে সায়েন্সের কষ্টিপাথরে ঘষে দেখে। এটা মারাত্মক রকমের চিন্তাপরাধ। বিজ্ঞান চেইঞ্জ হয়ে যায় সময়ের সাথে সাথে, কিন্তু আল্লাহ্‌র দ্বীন কন্সট্যান্ট, অপরিবর্তনীয়। দুনিয়ার সবকিছু চেইঞ্জ হয়ে গেলেও আল্লাহ্‌র দ্বীন পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। কারো কোনো অধিকার নেই। এ কারণে দুনিয়ার সব বিজ্ঞানী সব ডাক্তারও যদি বলে হস্তমৈথুন শরীরের জন্য উপকারী, আমরা সেটা ছুঁড়ে ফেলে দিব। কারণ এই দাবী আল্লাহ্‌র দ্বীনের সাথে সাংঘর্ষিক। আল্লাহ্‌ (সুবঃ) এমন কিছুকে হারাম করতে পারেন না যেটা মানুষের জন্য উপকারী।
.
আলহামদুলিল্লাহ ! বিজ্ঞানের মাধ্যমেই প্রমানিত হয়েছে হস্তমৈথুন কতোটা ভয়ঙ্কর। বিস্তারিত আলোচনা আছে মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইয়ে। বই কিনতে/ পিডিএফ পড়তে দেখুন- http://lostmodesty.com/muktobataserkhoje/
.
অথবা এই লিখাগুলাও পড়তে পারেনঃ

– চোরাবালি (১-৮); (লিখাগুলো পাবেন আমাদের ওয়েবসাইটে। http://lostmodesty.com/at_a_glance/পেজে_সেকশন ২_’বিজ্ঞান তো বলছে মাস্টারবেশন কোন সমস্যা না, তাহলে?’ দেখুন)

– মাস্টারবেশন কী মাসলগ্রোথ এবং এথলেটিক পারফরম্যান্সের ক্ষতি করে? (https://bit.ly/2NzycUa)
.
কর্নেল ইউনিভার্সিটির ইউরোলজি এবং রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিনের ক্লিনিকাল প্রফেসর ড. হ্যারি ফিশ হস্তমৈথুনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বলেন, “ঘন ঘন হস্তমৈথুনের কারণে একজন মানুষ লিঙ্গোত্থানজনিত (erection) সমস্যায় ভুগতে শুরু করবে। হস্তমৈথুনের সাথে সাথে পর্নোগ্রাফি দেখতে থাকলে একসময় যৌনমিলনের ক্ষমতাই সে হারিয়ে ফেলবে।” (http://bit.ly/2DjTM6V)
.
দেখুন হস্তমৈথুনকে মূলধারায় নিয়ে আসার পেছনে বিশাল এক চক্রান্ত আছে। গত শতাব্দীর ৩০-৪০ এর দশকেও পাশ্চাত্য হস্তমৈথুনকে হারাম মনে করতো। পরে এক পাগলা,লম্পট, বিকৃতমানসিকতার ভন্ড প্রতারক আলফ্রেড কিনসি হস্তমৈথুনকে মূলস্রোতে নিয়ে আসে। তাকে সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করে কুখ্যাত রকফেলার ইন্সটিটিউট, সাইকাস। এই লিখাতে (http://lostmodesty.com/mitthershikol/) বিস্তারিত আলোচনা আছে। অবশ্যই পড়ার অনুরোধ রইলো।
.
একটা কথা বলা প্রয়োজন মনে করছি, পাশ্চাত্য ইসলামের সাথে একটা সামগ্রিক যুদ্ধে (Total War) এ লিপ্ত। তারা যেকোনো মূল্যে চাইবে ইসলামকে আঘাত করতে। কিছুদিন আগে দাড়ি নিয়ে বিবিসির রিপোর্ট আপনারা দেখেছেন। এরা সমকামিতাকেও প্রমোট করে চলছে, যার বিন্দুমাত্র কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এ থেকেই বোঝা যায় যে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকলেই পাশ্চাত্যের সেটাপে চলা কোনো জিনিসকে হালাল করা হয়না, বরং পাশ্চাত্যের যেটা ভালো মনে হয় সেটাকেই হালাল করা হয়। বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকুক বা না থাকুক। মুসলিম যুবকদের তাঁদের দ্বীন থেকে ফিরিয়ে রাখার জন্য, সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ এর ওপর আমল করা থেকে দূরে রাখার জন্য, তাঁদের চরিত্রকে কলুষিত করার জন্য হস্তমৈথুন খুবই কার্যকর এক হাতিয়ার। সেই সাথে হস্তমৈথুনের আর পাশ্চাত্যের অর্থনৈতিকভাবে ফুলে ফেঁপে ওঠার খেলাতো রয়েছেই। এই ব্যাপারগুলো বোঝার জন্য অনুরোধ করছি এই বইগুলো পড়ার-
.
i) চিন্তাপরাধ (www.rokomari.com/book/185621/)

ii) Sex Education as Bullying (https://web.archive.org/web/20180126212439/http://www.drjudithreisman.com/archives/2015/10/sex_education_a.html)
.
এই ভিডিও অবশ্যই দেখবেন- The War on Children: The Comprehensive Sexuality Education Agenda (http://bit.ly/2AxY487)
.
আবারো মনে করিয়ে দেই, লস্টমডেস্টি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং অলাভজনক একটি গ্রুপ। কোন নির্দিষ্ট দল/ গোষ্ঠী/ সংগঠনকে নয়, বরং আল্লাহ্‌কে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে সকল প্রকার অশ্লীলতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য আমরা কাজ করি। কোন ধরনের মানসিক/শারীরিক হয়রানী, চাঁদাবাজি, ফ্রি-মিক্সিং, অশ্লীলতা, প্রতারণা, কপটতা, অপরাধ আমরা সমর্থন বা প্রচার করি না এবং কোন ব্যক্তি/ সংগঠন থেকে অর্থ সংগ্রহ করি না। আমাদের অফিশিয়াল পেইজ, ব্লগ, বই ও লিফলেটে যে আর্টিকেল, ছবি, ভিডিও, অডিও, স্লাইড আছে কেবলমাত্র সেসবের প্রতিই আমরা দায়বদ্ধ। যে কোন ব্যক্তি/ সংগঠন চাইলে স্বেচ্ছায় কোনরূপ মডিফিকেশন ছাড়া আমাদের এ কন্টেন্টগুলো ব্যবহার করতে পারেন বা এন্টি পর্নোগ্রাফি ক্যাম্পেইন করতে পারেন। এক্ষেত্রে তাদের কাজের দায়ভার আমাদের উপর বর্তাবে না। আমাদের কন্টেন্টে কোরআন-সুন্নাহ-সীরাহ সর্বোপরি ইসলামের কথা প্রত্যক্ষ/ পরোক্ষ ভাবে আসে ও আসবে ইনশাআল্লাহ্‌। এক্ষেত্রে সর্বদা অথেন্টিক সোর্স থেকে রেফারেন্স নেয়া হয়। কোন কন্টেন্ট নিয়ে কারো উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা রটনা কাম্য নয়। লস্ট মডেস্টির কন্টেন্টের সাথে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের মিল খুঁজে পেলে তা একান্তই কাকতালীয়। আমাদের অফিসিয়াল সোশ্যাল সাইটগুলোর লিংক পাবেন এখানে- http://lostmodesty.com/contact/। এগুলো ছাড়া অন্য কোনো সোশ্যাল সাইটের প্রচার মিডিয়ার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁদের কাজের দায়ভার আমাদের ওপর বর্তাবে না।
.
যেসব ভাইয়েরা অনুমতি ছাড়া আমাদের নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা অপরাধ করছেন। যারা আমাদের নাম ব্যবহার করে হস্তমৈথুনের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা অপরাধের ওপর আবার অপরাধ করছেন। আল্লাহ্‌ সুবহানু তা’আলা আমাদের ভুলগুলো শুধরে নেবার তৌফিক নিক। এলাকাভিত্তিক লস্টমডেস্টির সাপোরটিং টিম পেইজ খুলতে চাইলে অবশ্যই আমাদের সঙ্গে কথা বলে এই লিস্টে নাম তুলে নিবেন-http://lostmodesty.com/volunteer-list/
.
আল্লাহ্‌ সুবহানুতা’আলা আমাদেরকে ফিতনাহ’র সম্মুখীন হওয়া থেকে রক্ষা করুক। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের শ্রেষ্ঠ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি, তাঁর পরিবার পরিজন ও পূতপবিত্র সাহাবায়ে কেরামের প্রতি।
.
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

– লস্টমডেস্টি

শেয়ার করুনঃ