ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (নবম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (নবম পর্ব)

৪২. পর্ন না থাকলে সমাজে আরো ধর্ষণ বেড়ে যাবে।

এই প্রশ্ন মূলত ক্যাথারসিস থিওরির একটা রূপমাত্র। যেটা অনেক আগেই ভুল প্রমাণিত হয়েছে। অবশ্যই অবশ্যই পড়ুন- http://lostmodesty.com/mitthershikol/
.
পর্ন দেখার সাথে যদি রেইপের হার কমে, তাহলে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পর্ন প্রডিউস করা এবং পর্নোগ্রাফির সবচেয়ে বড় গ্রাহক অ্যামেরিকাতে কেন এত রেইপ হয়? কেন অ্যামেরিকান মিলিটারি, কলেজ, হলিউড সব জায়গাতে এত ধর্ষণ, এত যৌন-নিপীড়ন হয়? কেন রেইপ পর্ন ইন্ডিয়াতে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকার পরও ভারতে রেইপ না কমে বরং ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়?

প্রতি ৯৮ সেকেন্ডে একজন আমেরিকানকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়, [http://tinyurl.com/k8ehojc], প্রতি ৬ জন নারীর মধ্যে ১ জন এবং প্রতি ৩৩ জন পুরুষের মধ্যে একজন তাদের লাইফটাইমে একবার হলেও ধর্ষণের শিকার হয়।[http://tinyurl.com/nm3gp5o ]
.
অবশ্যই অবশ্যই এই ভিডিওটা দেখুন- ‘ভুল উত্তর- ধর্ষণ কেন হয়’https://youtu.be/QwMxLee3LDw

এবং পড়ুন এই লিখা- আলেয়ার আলো- http://tinyurl.com/y4llbybc
.
পর্ন আসক্তির সঙ্গে নারী নির্যাতনের সরাসরি সংযোগ রয়েছে। অসংখ্য গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে পর্ন আসক্তি নারীদের প্রতি সহিংসতাকে তীব্রভাবে উৎসাহিত করে। ধর্ষণের অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। তারমানে এই নয় যে যারা পর্ন দেখে তারা সবাই ধর্ষণ করতে বেরিয়ে পড়ে। কিন্তু যারা ধর্ষক,সিরিয়াল কিলার, শিশুযৌন নির্যাতক,সমকামী তাদের প্রায় সবাই পর্ন আসক্ত।

বিস্তারিত জানতে পড়ুন-

অনিবার্য যত ক্ষয় (প্রথম পর্ব) –https://bit.ly/2N7SbtA
‘অনিবার্য যত ক্ষয়’ (দ্বিতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2x5OdHU
অনিবার্য যত ক্ষয়’ (শেষ পর্ব) – https://bit.ly/2O7Pgxf
———-

৪৩. মাস্টারবেশন শরীরের জন্য উপকারি? অনেকেই তো বলে। আপনারা কেন এমন বলছেন ?

বর্তমান সময়ের অধিকাংশ ডাক্তার, এক্সপার্ট এবং ইন্টারনেট ওয়েবসাইট আপনাকে বলবে, হস্তমৈথুন একেবারেই ক্ষতিকর না। এদিক-সেদিক থেকে নানা জোড়াতালি দেয়া প্রমাণ তুলে এনে প্রমাণ করতে চাইবে হস্তমৈথুন “প্রায় নিশ্চিতভাবেই” শরীরের জন্য ভালো। এটা একেবারেই “ন্যাচারাল” একটি বিষয়, এ নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। হস্তমৈথুন শরীরের জন্য ভালো বা স্বাভাবিক যৌন আচরণ এ ধরনের কোনো কংক্রিট প্রমাণ নেই। হস্তমৈথুন “স্বাভাবিক”, “ন্যাচারাল” এসব কথার প্রচলন আজ থেকে মাত্র সাত-আট দশক আগে। এর আগ পর্যন্ত হস্তমৈথুনকে, বিশেষ করে নিয়মিত ও ক্রনিক হস্তমৈথুনকে একটি অস্বাভাবিক যৌনাচার হিসাবেই দেখা হতো। এমনকি নানা যৌনবিকৃতিকে হোয়াইটওয়াশ করা, সিগমুন্ড ফ্রয়েডের মতো বিকৃত মানসিকতার লোকও হস্তমৈথুনক অস্বাভাবিক মনে করত।
.
মূলত হস্তমৈথুনকে স্বাভাবিক এবং উপকারী হিসেবে দেখার প্রবণতা শুরু হয় ১৯৪৯ সালে আলফ্রেড কিনসির Sexual Behavior In The Human Male প্রকাশিত হবার পর। এ বইটি এবং ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত তার আরেকটি বই Sexual Behavior in the Human female, ম্যাস মিডিয়ার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পাশ্চাত্যে ঝড় তোলে। যৌনতা সম্পর্কে পাশ্চাত্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে আনে আমূল পরিবর্তন। পাশ্চাত্যের ইতিহাসের অন্য কোনো বই বা রিপোর্ট পাশ্চাত্যকে এতটা বদলে দেয়নি যেমন এই দুটি বই দিয়েছিল। আধুনিক সেক্স এডুকেশান, সাইকোলজি এবং সেক্স সম্পর্কে চিকিৎসকদের সার্বিক চিন্তা কিনসির এই দুটি বইয়ের ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হচ্ছে। যৌনতা সম্পর্কে আধুনিক পশ্চিমা ধারণা একেবারে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গড়ে উঠেছে আলফ্রেড কিনসির এই দুই বিখ্যাত “থিসিসের” ওপর ভিত্তি করে। তার এ বইয়ে কিনসি চরম পর্যায়ের বিকৃত কিছু চিন্তাকে বিজ্ঞানের নামে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। সে দাবি করে শিশুরা জন্মগত ভাবেই, এমনকি গর্ভে থাকা অবস্থা থেকেই সেক্সুয়ালি এক্টিভ। তার মতে শিশুরা একেবারে ছোটকাল থেকেই হস্তমৈথুন করা শুরু করে।
.
কত ছোটকাল থেকে? কিনসির দাবি হল দুই, চার, সাত মাস বয়সী শিশুরাও নাকি হস্তমৈথুনের মাধ্যমে চরমানন্দে (Orgasm) পৌঁছাতে সক্ষম! সাত মাস বয়সী একটি শিশু এবং এক বছরের নিচের আরও পাঁচজন শিশুকে সে নিজে নাকি শীর্ষসুখ অর্জন করতে দেখেছে। সে আরও বলে, এত কমবয়স্ক শিশুরা বয়স্ক সঙ্গী/সঙ্গিনীদের সঙ্গে আনন্দদায়ক এবং উপকারী যৌনমিলন করতেই পারে, এবং এমন করা উচিত। অভিভাবকদের উচিত ৬-৭ বছর বয়স থেকে শুরু করে শিশুদের হস্তমৈথুন করানো এবং একসাথে মিলেমিশে হস্তমৈথুন করা!
.
কিনসি আরও দাবি করে, অধিকাংশ মানুষ আসলে উভকামী, যৌনতার কোনো নির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। কোনো যৌনতাই অস্বাভাবিক না। সমকাম, উভকাম, শিশুকাম, পশুকাম, অজাচার, যার যা ইচ্ছে সেটা করবে, এতে কোনো সমস্যা নেই।
আসলে কিনসি নিজে ছিল একজন চরম মাত্রার বিকৃত মানসিকতার লোক। ব্যক্তিজীবনে ভয়ঙ্কর বিকৃত যৌনাচারে অভ্যস্ত। তার “রিসার্চ” ছিল জালিয়াতিতে ভরা। পরবর্তীকালে এই “মহান” বিজ্ঞানীর কাজগুলো ভুল প্রমাণিত হয়েছে বিজ্ঞানীদের হাতেই।
.
বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন আলফ্রেড কিনসির দাবিগুলোর তেমন কোনো সায়েন্টিফিক ভিত্তি নেই, তার তথ্য-উপাত্তগুলো যথেষ্ট পরিমাণে গোঁজামিলে ভরপুর। এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য অনেক সময় সাবজেক্টের ওপর চরম যৌন-নির্যাতন চালানো হয়েছে, রেহাই দেয়া হয়নি শিশুদেরও। কিন্তু ততদিনে ক্ষতি যা হবার হয়ে গেছে। “হস্তমৈথুন ক্ষতিকর না; বরং উপকারী” কিনসির জোর গলায় দাবি করা এ চরম মিথ্যা সেক্স এডুকেশানের বইগুলোতে বার বার খুব বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এটাকে ধ্রুব সত্য বলে মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু হস্তমৈথুন যদি স্বাভাবিক ও ভালো হয়, তাহলে প্রথমবার হস্তমৈথুনের পর কেন মনের ওপর অনুশোচনার একটা গাঢ় পর্দা নেমে আসে?
.
প্রথমবার হস্তমৈথুনের মাধ্যমে বীর্যপাত করার প্রায় সবার চরম অনুশোচনা হয়। ভাষা, ভৌগোলিক অবস্থান, ধর্ম-বর্ণভেদে এমন অবস্থায় মানুষের মনে হয় সে খুব খারাপ কিছু একটা করে ফেলেছে। অনুভূতিটা সর্বজনীন। এর ব্যাখ্যা কী? হস্তমৈথুন ভালো প্রমাণ করতে চাওয়া “বিশেষজ্ঞরা” বলবে, ধর্ম এবং সামাজিক মূল্যবোধ আমাদের চিন্তা করতে শেখায় যে, এ কাজটা খারাপ। এটা একটা পাপ। আর এ জন্যই মানুষের মধ্যে অনুশোচনা কাজ করে।
এ ব্যাখ্যার ভুল কোথায়?
.
কোনো কাজের ব্যাপারে ধর্মের বক্তব্য দ্বারা প্রভাবিত হবার জন্য আপনাকে তো আগে কাজটাকে চিনতে হবে, সেটার সম্পর্কে ধর্মের বক্তব্য জানতে হবে। কিন্তু আপনি দেখবেন হস্তমৈথুনের মাধ্যমে প্রথম বীর্যপাতের অভিজ্ঞতার সময় অনেকেরই ধারণাই থাকে না আসলে কী হচ্ছে। যে ছেলেটা বুঝতেই পারছে না কী হলো, সে কীভাবে ওই কাজের ব্যাপারে ধর্মের বক্তব্য জানবে, আর সেটা দিয়ে প্রভাবিত হবে? আসলে এটাই হলো ফিতরাহ, মানুষের সহজাত প্রবণতা (Natural Disposition)। মানুষের সহজাত নৈতিক কম্পাস তাকে জানিয়ে দেয় কাজটা খারাপ। আর তাই প্রথম প্রথম সবাই অনুশোচনায় ভোগে। কিন্তু পরে মানুষ এর যৌক্তিকতা দাঁড় করায়, একে স্বাভাবিক মনে করা শুরু করে।
.
এ ছাড়া বাস্তব অভিজ্ঞতাও প্রমাণ করে হস্তমৈথুন আসক্তি শুধু সমস্যাই না; বরং ভয়ঙ্কর রকমের মনোদৈহিক সমস্যা। ভুক্তভোগীদের কিছু অভিজ্ঞতা এরই মধ্যে আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। হস্তমৈথুনে আসক্তদের এমন করুণ উপাখ্যান এক-দুটো না। অজস্র।
.
হস্তমৈথুনকে স্বাভাবিক প্রমাণে উঠেপড়ে লাগার পেছনে আরেকটা বড় কারণ হলো, সেই পুরনো কালপ্রিট—অর্থনীতি। হস্তমৈথুন আসক্তি আর পর্নোগ্রাফি অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। এ দুয়ে মিলে এক চক্র তৈরি করে। আর এ চক্রে আটকা পড়ে শত সহস্র প্রাণ। যদি হস্তমৈথুনকে ক্ষতিকর বলে স্বীকার করে নেয়া হয়, হস্তমৈথুন না করতে মানুষকে উৎসাহ দেয়া হয়, হস্তমৈথুন আসক্তি বন্ধে কাউন্সেলিং করা হয়, তাহলে শত বিলিয়ন ডলারের পর্নোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রির কী হবে? এ অতিকায় ইন্ডাস্ট্রি কি নিজ অস্তিত্বের প্রতি এমন হুমকিকে মেনে নেবে? নাকি নিজের অঢেল সম্পদ ব্যবহার করে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে অ্যাকাডেমিয়া, মিডিয়া এবং “বিশেষজ্ঞদের” মাধ্যমে হস্তমৈথুনকে স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক প্রমাণে?
.
পরের বার “কেন হস্তমৈথুন ভালো”, “হস্তমৈথুনের ১৮ অজানা উপকারিতা” জাতীয় ইন্টারনেট আর্টিকেলগুলো পড়ার সময় এ বিষয়টা মাথায় রাখবেন।
.
সর্বোপরি মুসলিম হিসাবে আমাদের ফ্রেইম অফ রেফারেন্স কোনটা আগে সেটা আমাদের বুঝতে হবে। এতক্ষণ যা কিছু আমরা আলোচনা করেছি, এ সবকিছু হলো সেকেন্ডারি, গৌণ প্রমাণ। মুসলিম হিসাবে আমাদের জন্য প্রাইমারি প্রমাণ হলো ইসলামী শারীয়াহর বক্তব্য। আর ইসলামের বক্তব্য হলো হস্তমৈথুন হারাম। (https://islamqa.info/bn/answers/329/) একজন মুসলিমের জন্য প্রমাণ হিসাবে এটাই যথেষ্ট হওয়া উচিত। যেখানে ইসলামের স্পষ্ট বিধান আছে সেখানে বিজ্ঞানের “প্রায় নিশ্চিত” মত গোনায় ধরার মতো কিছু না। বিশেষ করে বিষয়টি যখন নৈতিকতার সাথে সম্পর্কিত।
.
যেমন, বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিয়ে-বহির্ভূত সেক্স ক্ষতিকর কিছু না। বরং আধুনিক পশ্চিমা দর্শনে এটা স্বাভাবিক, এমনকি প্রশংসনীয়। অন্যদিকে যিনা ইসলামের দৃষ্টিতে কবিরা গুনাহ। বিজ্ঞান যদি কাল থেকে যিনাকে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে প্রচার করা শুরু করে, তাহলে এতে একজন মুসলিমের কিছুই যায় আসে না। যিনার ব্যাপারে তার ধারণা এতে বদলে যাবে না।
.
সুতরাং হস্তমৈথুন যদি কখনো বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সুনিশ্চিতভাবে স্বাস্থ্যকর বলে প্রমাণিতও হয় (যেটা এখনো হয়নি) তবুও এতে একজন মুসলিমের দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আসার কথা না, কারণ ইসলামের মাপকাঠিতে কাজটা অনৈতিক এবং হারাম। আর বাস্তবতা হলো মনোদৈহিকভাবে হস্তমৈথুন এবং পর্ন-আসক্তি দুটোই অত্যন্ত ক্ষতিকর। আমরা ইতিমধ্যেই আলোচনা করেছি কীভাবে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবার ও সমাজ কেউই মুক্তি পায়নি।
.
বিস্তারিত পড়ুন-

মিথ্যের শেকল যতো- https://bit.ly/2QpkT7f
চোরাবালি তৃতীয় পর্ব – https://bit.ly/2p0HR8l
চোরাবালি চতুর্থ পর্ব – https://bit.ly/2QoRtGb
চোরাবালি পঞ্চম পর্ব- https://bit.ly/2Nzoh0M
চোরাবালি ষষ্ঠ পর্ব- https://bit.ly/2QocEIA
চোরাবালি সপ্তম পর্ব- https://bit.ly/2x9hr81
চোরাবালি অষ্টম পর্ব- https://bit.ly/2NAhrbd
মাস্টারবেশন কী মাসলগ্রোথ এবং এথলেটিক পারফরম্যান্সের ক্ষতি করে?- https://bit.ly/2NzycUa
———-

আমরা খুব ছোটো মানুষ। আমাদের লিখার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ্‌। যেকোনো ধরণের পরামর্শ বা সাজেশন হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।
.
চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ …
.
পড়ুন আগের পর্বগুলা- http://lostmodesty.com/vengefelokaragar

শেয়ার করুনঃ
ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (অষ্টম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (অষ্টম পর্ব)

৩৬. বইয়ের পিডিএফ লিংক কোথায় পাবো ? বই কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

দেখুন- http://lostmodesty.com/muktobataserkhoje/
———-

৩৭. লস্ট মডেস্টির লিফলেট কোথায় পাবো ?

পড়ুন- http://lostmodesty.com/2019/04/lmleaflet/
———-

৩৮. পর্নোগ্রাফি-মাসটারবেশন নিয়ে কাজ করতে চাই। কিভাবে শুরু করবো? এলাকাভিত্তিক কাজ করতে কাদের সাথে যোগাযোগ করবো? ইত্যাদি।

http://lostmodesty.com/onupomuthan/ – এই পেজে যান। ৩ টা আর্টিকেল আছে ভালমত পড়ে নিন। প্রাথমিক গাইডলাইন পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ। এরপর যদি মনস্থির করে থাকেন যে আপনি আগাতে পারবেন তাহলে আমাদের পেজে ইনবক্স করবেন বা মেইল করবেন।
———-

৩৯. আপনারা যেটা করছেন সেটা ভুল করছেন। আপনাদের ক্যাম্পেইনের ফলে যারা পর্ন সম্পর্কে জানতোনা তারা বরং আরো জেনে যাবে। আপনাদের বইয়ের লিখাগুলা পড়ে অনেকেই পর্ন দেখা শুরু করবে বা মাস্টারবেট করবে।

এই ভিডিও দুইটা দেখুন আগে-

পতনের আওয়াজ পাওয়া যায়- http://tinyurl.com/y8d5xjso
অনুপম উত্থান- http://tinyurl.com/y9uyzgov

এই লিখাগুলো পড়ুন-

পর্ন আসক্তি গিলে খাচ্ছে কিশোরদের- http://tinyurl.com/y6o8bh96
অশনি সংকেত- https://bit.ly/2QoJTLH
“ফ্যান্টাসি কিংডম”(প্রথম কিস্তি): https://bit.ly/2x6Azo2
“ফ্যান্টাসি কিংডম”(দ্বিতীয় কিস্তি): https://bit.ly/2QrL9xJ
“ফ্যান্টাসি কিংডম”(শেষ কিস্তি): https://bit.ly/2NdAKIh
.
যেখানে বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে একটি বিভাগীয় শতকরা ৬০ ভাগেরও বেশি স্কুল কলেজ ছাত্র ছাত্রীর যৌন অভিজ্ঞতা হয়েছে সেখানে আপনি এন্টিপর্ন ক্যাম্পেইন নিয়ে আপত্তি তুললে ভুল করবেন ভাই।
.
ধরেন নামাযের মধ্যে আমাদের শয়তান ওয়াস ওয়াসা দেয়। নামাযে মনোযোগ থাকেনা। নামায ভুল হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। এই ভয়ে কি আপনি নামায পড়বেন না? ভাইয়া দেশের লাখ লাখ ( কোটি বলা উচিত) ছেলেমেয়ের যখন এই বেহাল দশা তখন দুই একজনের কারণে ক্যাম্পেইন বন্ধ করে দেওয়াটা কি শরীয়াহ সঙ্গত?
———-

৪০. পর্ন দেখলে কি কি ক্ষতি হয়? (বা, পর্নোগ্রাফি কেন মানবতার জন্য হুমকি?) , মাস্টারবেট করলে কি কি ক্ষতি হয়?

সংক্ষেপে উত্তর চাইলে বলবো, আপনি ‘মুক্ত বাতাসের খোঁজে’ বইটা পড়ে শেষ করুন।
.
বই পড়ার ধৈর্য না থাকলে, অন্তত http://lostmodesty.com/at_a_glance/ এই পেজে গিয়ে সেকশন ২ ‘পর্নোগ্রাফি, মাস্টারবেশন, চটিগল্প – মানবতার জন্য হুমকি’ এর লিখাগুলো পড়ুন। উত্তর পেয়ে যাবেন।
———-

৪১. ধর্ষণের জন্য দায়ী কী ? কিভাবে কমানো যেতে পারে?

ধর্ষণের সমাধান করতে হলে অবশ্যই আগে সঠিকভাবে বের করতে হবে ধর্ষণের কারণগুলো।

দেখুন- https://tinyurl.com/rapestat
.
বিস্তারিত জানতে পড়ুন-

অনিবার্য যত ক্ষয় (প্রথম পর্ব) –https://bit.ly/2N7SbtA
‘অনিবার্য যত ক্ষয়’ (দ্বিতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2x5OdHU
অনিবার্য যত ক্ষয়’ (শেষ পর্ব) – https://bit.ly/2O7Pgxf
.
অবশ্যই অবশ্যই এই ভিডিওটা দেখুন- ভুল উত্তর- ধর্ষণ কেন হয়https://www.youtube.com/watch?v=QwMxLee3LDw
.
ধর্ষণ কেন হয়? কেন এদেশে ধর্ষণের প্রকোপ বেড়ে চলেছে?
.
এই প্রশ্নটাকে আমাদের দেশে দুইভাবে ডিল করা হয়। এবং দুইটাই প্রান্তিকতা। কোথাও ধর্ষণের খবর শুনলেই একদল নারীদের পোশাক দায়ী করে বসেন। আবার অন্যদিকে আরেকদল দোষ খুঁজে পান পুরুষের মানসিকতা- আমার দেহ আমি দেখাব! তুমি রেপ করবা কেন? ধর্ষণের পেছনের কারণগুলো সময় নিয়ে ভালোমতো বিশ্লেষণ করে কোন মতামত দেওয়ার মানসিকতা অনুপস্থিত আমাদের মাঝে। আসলে এতো সময় কোথায়? ব্যস্ত ডাক্তারের মতো তেমনকিছু না ভেবেই আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বসি। উপসংহার টেনে ফেলি।
.
ধর্ষণের জন্যে শুধু নারীর পোশাককে দায়ী করে বসলে ইসলাম বিদ্বেষীদের কোর্টে বল ঠেলে দেওয়া হয়। তারা তখন বাটি চালান দিয়ে হিজাবপরা বা মাদ্রাসার ছাত্রী এমন কোন বোনের নির্যাতনের খবর সামনে নিয়ে আসবে। তারপর দাঁত কেলিয়ে জিজ্ঞাসা করবে, ‘কই কাঠ মোল্লারা! তোমাদের হিজাব/নিকাব কি পারলো নারীর নিরাপত্তা দিতে? ওইসব সব পুরান আমলের রূপকথা! পর্দা নারীকে নিরাপত্তা দিতে পারেনা, এইটা নারীকে চার দেয়ালের মাঝে বন্দী করে রাখার হাতিয়ার। তাছাড়া এটা তো ইসলামের অংশও না! আরবের ‘লু’ হাওয়া থেকে বাঁচার জন্য আরবের নারীরা মাথায় কাপড় দিত!
.
অন্যদল পুরুষের মানসিকতাকে দায়ী করে ফেসবুক,ব্লগ কাঁপিয়ে, Don’t teach me how to dress, teach your son not to rape টাইপ প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিটিং মিছিল করে ক্ষ্যামা দেন। এরা ভুলেও কখনো দেশ এবং জাতির সামনে পরিষ্কার করে বলেন না পুরুষের মানসিকতা কেন বদলে যায়? কেন একজন পুরুষ ধর্ষকে পরিণত হয়? তার ঘরেও তো মা বোন আছে? পুরুষের মানসিকতা কীভাবে পরিবর্তন করতে হবে? কোন তরীকায় আমল করতে হবে? তাদের বলে দেওয়া তরীকা ফলো করে কোন কোন দেশ বা কোন কোন জাতি পুরুষদের মানসিকতা পরিবর্তন করেছে? নারীদের নিরাপত্তা দিতে পেরেছে? তারা উদাহরণ দিক। আমরা সেই সব জাতিদের দেখে অনুপ্রেরণা পাব। কিন্তু আপনি কখনোই দেখতে পাবেননা তারা কনক্রিট, পরীক্ষিত কোন প্ল্যান অফ একশ্যান জাতির সামনে উপস্থাপন করছে।
.
তাহলে ধর্ষণের সমাধান কী? এককথায় উত্তর – শরীয়াহ। আল্লাহর জমীনে আল্লাহ্‌র আইন প্রতিষ্ঠিত করা।
.
‘হে মানুষ, তোমাদের কাছে তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে নসীহত এসেছে। এটা মানুষের অন্তরে যেসব ব্যাধি আছে তার নিরাময় এবং মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত’। (সূরা- ইউনূস: ৫৭)
.
আল্লাহ্‌ (সুবঃ) আমাদের সৃষ্টি করেছেন। আমাদের মনোজগত,আমাদের সাইকোলজি আল্লাহ্‌র চেয়ে আর কে বেশি বুঝবে? তিনিই আমাদের পথ বলে দিয়েছেন সেই পথে পথচলাতেই আমাদের মুক্তি। শরীয়াহ আইন যেমন নিশ্চিত করবে নারীরা এমন পোশাক পরিধান করছে, যেন স্বসস্মানে সবাই পথ ছেড়ে দেয়,নারীকে দেয় রাণীর সম্মান। ঠিম তেমনিই খুঁজে খুঁজে বের করবে কেন পুরুষ পরিণত হয় ধর্ষকে। সমাজের অতি যৌনায়ান, আইটেম সং,পর্নোগ্রাফি , ড্রাগস, নারী পুরুষের ফ্রি মিক্সিং, সুন্দরী প্রতিযোগিতা, নাটক,সিনেমা,গানের মাধ্যমে তরুণ,তরুণীদের ব্রেইনওয়াশ,স্বেচ্ছাচারিতা,ধরাকে সরা জ্ঞান করা, পেশিশক্তির দাপট,মাফিয়াগিরি সব বন্ধ করবে। আপনি শরীয়াহর এক অংশ নিবেন আর যেটা আপনার পছন্দ হবেনা সেটা বাদ দিবেন তাহলে হবেনা।
.
“তবে কি তোমরা কিতাবের এক অংশের উপর ঈমান আনবে আর বাকী অংশকে অস্বীকার করবে? তোমাদের মধ্যে যারাই এরূপ করবে তাদের জন্য এ ছাড়া আর কি শাস্তি হতে পারে যে, দুনিয়ার জীবনে অপমান ও লাঞ্ছনা ভোগ করবে এবং আখিরাতে তাদেরকে কঠিন আযাবের দিকে ঘুরিয়ে দেয়া হবে। আর তোমরা যা কিছু করছো সে বিষয়ে আল্লাহ বেখবর নন।” (সূরা বাকারা: ৮৫)
.
আপনি পুরো শরীহায় বাস্তবায়ন করে দেখুন। নারীরা ঢেকে যাবে অলৌকিক এক নিরাপত্তার চাদরে। প্রমাণ ? একটু কষ্ট করে সাহাবী এবং তাবেঈগনদের যামানার ইতিহাস ঘেঁটে দেখুন এবং পড়ুন এই লিখা- আলেয়ার আলো-http://tinyurl.com/y4llbybc
———-
আমরা খুব ছোটো মানুষ। আমাদের লিখার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ্‌। যেকোনো ধরণের পরামর্শ বা সাজেশন হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।
.

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ …
.
পড়ুন আগের পর্বগুলা- http://lostmodesty.com/vengefelokaragar

শেয়ার করুনঃ
ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (সপ্তম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (সপ্তম পর্ব)

৩০. বিয়ে করতে ভয় পাচ্ছি। আমি আগে পর্ন-আসক্ত ছিলাম। অনেক পর্ন দেখেছি,মাস্টারবেট করেছি। এগুলো ছেড়ে দিয়েছি। এখন বিয়ে করতে ভয় পাচ্ছি।

– প্রথমত পর্ন, মাস্টারবেশন থেকে পুরোপুরি সরে আসতে হবে, এগুলা করতে থাকলে শারীরিক ক্ষতি রিকভার করা সম্ভব না।

– প্রচুর পানি, শাকসব্জ্‌ ফলমূল, দুধ, কলা, বাদাম, খেজুর কিশমিশ, আঙ্গুর খেতে হবে।

– কালোজিরা খেতে হবে। (খাওয়ার নিয়মঃ ভর্তা করে ভাত দিয়ে খেতে পারেন। আবার কালিজিরা এর তেল টাও মধু দিয়ে খেতে পারেন। সকালে খালি পেটে এক চা চামচ মধু+এক চা চামচ তেল/ এক চা চামচ মধু+এক চিমটি কালোজিরা)

– ব্যায়াম করতে হবে। (ব্যায়াম নিয়ে টিপস পেতে এই পেজে – https://www.facebook.com/RijaalGym/ যোগাযোগ করুন)

– রাতে ১১ টার ভেতর ঘুমাতে হবে। দেরি করা যাবে না। সকাল সকাল উঠতে হবে। পারলে দুপুরে একটু ঘুমুতে হবে।

– আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দু’আ করতে থাকুন। আল্লাহ্‌ বলেছেন, ‘আর তোমাদের যদি কোন দুঃখ দৈন্য স্পর্শ করে তখন তা দূর করার জন্য তাকেই তোমরা বিনীতভাবে ডাকতে শুরু কর’। (সূরা আন নাহলঃ আয়াত ৫৩)
.
এভাবে ৩-৬ মাস চলুন। ইনশা আল্লাহ্‌ আর ভয় নেই।
.
চাইলে একজন ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। একজন ইউরোলজিস্ট বা স্কিন এন্ড স্কেক্স এক্সপার্টকে দেখাতে পারেন। যদি আপনার পেনিসে কোনো সমস্যা থাকে উনারা চিকিৎসা করবেন। যদি পেনিসে কোন সমস্যা না থাকে তাহলে উনারা মনোবিদ রেফার করে দিবেন বা নিজে কোনো মনোবিদের কাছে যাবেন। সাইকিয়াট্রিস্ট মানেই পাগলের ডাক্তার না। এতে লজ্জা পাবেন না। আর মনোবিদের পরামর্শ মেনে চলুন ইনশা আল্লাহ্‌।
.
তারপর আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে বিয়ে করে ফেলুন ইনশা আল্লাহ্‌। বিয়ের পর বা বিয়ের আগের রাতে www.facebook.com/shamsul.shakti – ভাইয়ের একটা নোট আছে,সেটা পড়ে নিয়েন। (দয়া করে এখন পড়বেন না, নোটটা পড়ে কোনো পাপে জড়ালে তার দায়ভার আমাদের নয়)। সব ঠিক হয়ে যাবে ইনশা আল্লাহ্‌। দুশ্চিন্তা করবেন না।
———-

৩১. পেনিসের সাইজ নিয়ে খুব চিন্তা হয়,আগা মোটা,গোড়া চিকন ইত্যাদি

– উত্তেজিত অবস্থায় পুরুষ লিঙ্গের গড় দৈর্ঘ্য হয়ে থাকে ৪.৭ থেকে ৬.৩ ইঞ্চি। অনেকের মতে পেনিসের গড় দৈর্ঘ্য ৫.১-৫.৯ ইঞ্চি।

মূলত পর্ন ভিডিও দেখে দেখে বা চটিগল্পের কারণে ছেলেপেলেদের মধ্যে পেনিসের সাইজ নিয়ে মারাত্মকভুল ধারণা তৈরি হয়।

তবে আপনার পেনিস যদি লম্বার সর্বনিম্ন ৪ (চার) ইঞ্চিও হয়ে থাকে তাহলেও আপনার স্ত্রীকে তৃপ্তি দিতে আপনার কোনো সমস্যা হবে না। অনেক বিশেষজ্ঞরা আবার এও বলে থাকেন স্ত্রীকে অরগাজম দিতে মাত্র ৩ ইঞ্চি লম্বা পেনিস হলেই যথেষ্ট।
.
– বড় পেনিস মানেই বেশি আনন্দ, কথাটা ঠিক নয় ।

– পেনিস কখনই একেবারে সোজা হয়না । একটু বাকা থাকেই ।

– পেনিসের গোঁড়া চিকন আগা মোটা এটা কোন সমস্যা নয় । স্কুল জীবন থেকেই রাস্তাঘাটের তথাকথিত হার্বাল, কবিরাজ এবং ভেষজ ডাক্তারদের বিভ্রান্তিকর লেকচার শুনতে শুনতে অনেকের মধ্যেই এ বিষয়ে একটা বদ্ধমূল ভূল ধারণা তৈরি হয়ে আছে ।

– কোন যাদুকরী তেল বা মালিশ পেনিস ‘তেমন’ বড় করতে সক্ষম নয় । এগুলা ভুয়া । আসক্তদের এসব ব্যবহার না করাই ভালো। মালিশ করতে গিয়ে দেখবেন আপনি উত্তেজিত হয়ে মাস্টারবেট করে ফেলছেন, পর্ন দেখে ফেলছেন।

– বেশি বড় পেনিস হলে মেয়েরা আনন্দ পাওয়ার বদলে ব্যাথা পায় । এমনকি সেটা যৌন আতঙ্কেও রুপ নিতে পারে অনেক নারীদের জন্য। মেয়েরা সাধারণত ছোটো পেনিসেই সন্তুষ্ট থাকে।

– ক্ষুদ্র পেনিস বলতে ২.৭৬ ইঞ্চির চেয়ে ছোট পেনিস বুঝায় । সেক্ষেত্রে যথাযথ চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে।

– গোঁড়া চিকন আগা মোটা বা বাঁকা পেনিস যৌনমিলনে কোন সমস্যার সৃষ্টি করেনা। এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।

– স্ত্রী ছাড়াই পেনিস শক্ত এবং দৃঢ হয়ে যায় এমন কোনো কাজ যেমন: বেগানা নারীর দিকে তাকানো, অশ্লীল সাহিত্য পড়া, কম্পিউটার বা মোবাইলে খারাপ কিছু দেখা থেকে বিরত থাকুন।

– ৪০ দিনের মধ্য পুরুষাঙ্গের গোড়ার চুল কাটুন।

– আপনার যৌন স্বাস্থের দিকে নজর দিন। এটাও আপনার শরীরেরই অংশ। নিয়মিত পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করুন। কারণ পুরুষরা দৈনন্দিন খাবার দাবার থেকেই তাদের যৌন শক্তি লাভ করে থাকে।
.
এই পর্যন্ত পড়ার পর আপনার অনেক উত্তেজনা চলে আসতে পারে। নিজের ভবিষ্যৎ স্ত্রীর সাথে অন্তরজ্ঞ হবার চিন্তা,ফ্যান্টাসি মাথায় আসতে পারে। আল্লাহ্‌কে ভয় করুন। নিজেকে সামলান। অশ্লীল চিন্তা মাথা থেকে দূর করে দিন। ভুলেও অশ্লীল চিন্তায় বুঁদ হয়ে থাকবেন না। তা না হলে আপনি কিছুক্ষণের মধ্যেই পর্ন দেখে ফেলবেন বা মাস্টারবেট করে ফেলতে পারেন। সাবধান।
(https://www.medicalnewstoday.com/articles/271647.php)
———-

৩২. কখন ডাক্তার দেখাবো? কাকে দেখাবো?

নরমালি পর্ন দেখার ফলে ইরেক্টাইল ডিসফাওংশন ( লিঙ্গোত্থানে সমস্যা) বা প্রি ম্যাচুউর ইজাকুলেশন (অকাল বীর্যপাত) হলে পর্ন মাস্টারবেশন ছেড়ে দিলে এবং একটু ভালোমতো খাওয়া দাওয়া করলে ৩-৬ মাস বা কারো কারো আরেকটু বেশি সময় লাগে। আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলবেননা।

পরবর্তীতে কোন সমস্যা দেখা দিলে বা এ বিষয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা কাজ করলে একজন ইউরোলজিস্ট বা স্কিন এন্ড স্কেক্স এক্সপার্টকে দেখাতে পারেন।

এলাকাভিত্তিক ডাক্তার এবং মনোবিদদের লিস্ট- http://lostmodesty.com/doctorlist/
———-

৩৩. পর্নসাইট ব্লক করবো কিভাবে?

Android মোবাইলে পর্ন ব্লক করার উপায়ঃ

১. যদি মোবাইল ইন্টারনেট বাসার WiFi এর মাধ্যমে চালান তাহলে এই ভিডিও দেখুন- https://youtu.be/K2CLMulY864

(এখানে বলে রাখা ভালো, apps lock দিয়ে অন্যান্য ব্রাউজার লক করার সময় পাসওয়ার্ড দিবে অন্য আরেকজন, হয় আপনার বন্ধু বা বাসার কেউ। যে দিবে সে আপনাকে আর পাসওয়ার্ড জানাবে না, ওটা জেনে গেলে লাভ হবে না। আরেকটা কাজ করতে পারেন, ইচ্ছামত কঠিন কম্বিনেশন ইউজ করে একটা পাসোয়ার্ড লিখবেন কাগজে, অ্যাপে ভেরিফিকেশন শেষ হয়ে গেলে ওই কাগজ ছিড়ে ফেলুন বা পুড়িয়ে দিন। তবে প্রথমটি করাই উচিত। অন্য কারো সাহায্য নেওয়া)

এই ভিডিও অনুযায়ী কাজ করার পর আপনাকে আরেকটা কাজ করতে হবে। গুগল সেটিং থেকে Safe Search অন করে দিতে হবে। এই লিঙ্ক দেখুন- https://www.wikihow.com/Block-Porn-from-Google-Search

২. যদি মোবাইল ডাটার মাধ্যমে ইন্টারনেট চালান তাহলে এই ভিডিও দেখবেন- https://youtu.be/vH0n43Rz67Q
.
iOS মোবাইলে এবং PC তে পর্ন ব্লক করার উপায়ঃ

পড়ুন – http://lostmodesty.com/muktobichoron/
.
কোন স্টেপ বুঝতে প্রব্লেম হলে পর্নোগ্রাফিঃ মানবতার জন্য হুমকি পেজে ইনবক্স করুন।
.
আরেকটা কথা, আমরা যত সফটওয়্যারই ব্যবহার করি না কেন সবগুলোর কোন না কোন glitch আছে। সহজেই ফাকি দেয়া যায়। তাই এদের ভরসায় বসে থাকলে হবে না, নিজের মন থেকেই রেসিস্টেন্স নিয়ে আসতে হবে। যত যাই হোক আমি পর্ন দেখবো না চটি পড়বো না মাস্টারবেট করবো না- এইরকম দৃঢ়তা লাগবে ভাই। নিজের মন কে শাসন করতে হবে। যেভাবে ট্রেইনিং দেয়া হয় বিশেষ কাজে দক্ষ শ্রমিক গড়ে তুলতে সেভাবে নিজের মন কে, নফস কে ট্রেইন করতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে এক পর্ন বা চটি বা হস্তমৈথুন কিভাবে মনকে কলুষিত করে, হতাশা বাড়িয়ে দেয়, কিছু না পাওয়ার তাড়না তীব্রভাবে বাড়ায় তোলে, ইবাদত নষ্ট করে, মানুষকে পশুতে পরিনত করে। এভাবে ট্রেইন আপ করুন নিজের মনকে। পর্ন ব্লক সফটওয়্যার অনেকটা সেফটি রিং গুলার মত, যেই রিং ধরে ধরে সাঁতার শেখা শুরু হয় বা এক্সপার্ট ড্রাইভার এর মত যে আপনাকে সতর্ক করবে গাড়ি চালানো শেখার সময়। এরা শর্ট টার্ম সাপোর্ট দিবে, কিন্তু দিনশেষে আপনাকেই হাল ধরতে হবে, নিজেকে ডেভেলপ করতে হবে।
———-

৩৪. ইউটিউব এর ফিতনা

পড়ুন- https://tinyurl.com/ycyesvvc
———-

৩৫. মোবাইলে অ্যাড ব্লক করবো কিভাবে? + শেয়ারইট এর ফিতনা

পড়ুন – http://lostmodesty.com/muktobichoron/
.

আমরা খুব ছোটো মানুষ। আমাদের লিখার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ্‌। যেকোনো ধরণের পরামর্শ বা সাজেশন হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ …
.
পড়ুন আগের পর্বগুলাঃ http://lostmodesty.com/vengefelokaragar/

শেয়ার করুনঃ
খুলে দাও হৃদয়ের দ্বার (চতুর্থ কিস্তি)

খুলে দাও হৃদয়ের দ্বার (চতুর্থ কিস্তি)

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লহ্। আশা করি ভাল আছেন? আমি জামি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ নিয়ে অনার্স করছি। আর আছি ১ম বর্ষে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে লস্ট মডেস্টির সাপোর্টিং টিম আছে, এটা আমার যেমন জানা ছিল না, ঠিক তেমনই কেউ এটা নিয়ে কিছু জানায়নি। কদিন আগেই মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটা কিভাবে যেন এক বন্ধুর মারফত আমার হাতে চলে আসে। বিশ্বাস করুন, এ বইটা আমার জীবন বদলে দিয়েছে। আমি সম্পূর্ণ বদলে গেছি। আমার খুব কাছের কিছু বন্ধুকেও আমি বইটা পড়িয়েছি, তারাও তাদের একই অনুভূতির কথা বলেছে। যাযাকাল্লহু খইর। আল্লাহ রব্বুল আলামীন এই বই এবং লস্ট মডেস্টির সাথে যুক্ত সকলকে নিজ হাতে জান্নাতুল ফেরদৌসের অতিথি হিসেবে কবুল করুন। আমিন।
.
আরও কিছু কথা বলতে চাই, আমি এবং আমার বন্ধুরা, আমরা কখনোই বখাটে বা খারাপ ছেলেদের মতো ছিলাম না, আমরা ছিলাম নামাজি, কিন্ত পর্ন আসক্ত! এমনকি নামাজের মাঝেও পর্নোগ্রাফির ঐ দৃশ্যগুলো আমাদের মাথায় ঘুরত! আস্তাগফিরুল্লহ! নাউজুবিল্লাহ! আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন! আসলেই পর্ন একজন মানুষকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দেয়, ধুলোয় মিশিয়ে দেয়! যখন থেকেই আমার পর্ন আসক্তি হওয়া শুরু করে, আমি নিজেকে সবকিছু থেকেই গুটিয়ে নিচ্ছিলাম। এক কথায় আমার কিছুই ভাল লাগতো না! কোন কিছুই না! জীবন নিয়ে ভাবনা আসে না, লাইফ নিয়ে সিরিয়াস হওয়া যায়না, কোন পদক্ষেপ নিতে ভয় পাওয়া ইত্যাদী সহ আরো অসংখ্য ভয়ংকর বিষয় পর্ন আসক্তির সাথে জড়িত।
.
আমি মনে করি, বর্তমানে আমাদের দেশের তরুন থেকে শুরু করে সববয়সী মানুষ যে ভাল্লাগেনা রোগে আক্রান্ত তার মুূল ও একমাত্র কারন হলো পর্ন। তার চেয়েও ভয়ানক বিষয় হলো, এভাবে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরের কোন না কোন মানুষ জীবন থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে, এভাবে সমাজও গুটিয়ে যাচ্ছে, রাষ্ট্রও নিস্তজ হয়ে যাচ্ছে।তাই আমি মনে করি, বাংলাদেশের তরুন বা যুবকদের নিয়ে যত সমস্যা, সব সমস্যার মুল কারন হলো পর্ন, আর যথাসময়ে বিয়ে করতে না পারা। আমি মনে করি, আমরা পর্নের বিরুদ্ধে যেভাবে সোচ্চার হচ্ছি, ঠিক সেভাবে বাংলাদেশে বিয়ের ব্যাপারে এ জটিলতা আছে, তার বিরুদ্ধেও সোচ্চার হওয়া। বিয়ের ব্যাপারে যে জটিলতা, সেটা বোঝার জন্য আমি আপনাকে এবং সবাইকে অনুরোধ করব শাইখ আলি তানতাভির ‘বিয়ে নিয়ে কিছু কথা’ বইটি পড়ার জন্য। আজ এ পর্যন্ত, ভাল থাকবেন। আল্লাহ লস্ট মডেস্টির সকল সদস্যদের উত্তম জাযাহ দান করুক। আমিন।


——-
আমার নীড়ে ফেরার গল্প!
জীবনে ও ফিরে যেতে চাই না সেই দিনে!
.
প্রায় বারো বছর বয়স থেকেই নিজেকে শেষ করে দিতে থাকি। হস্তমৈথুন,পর্ন ইত্যাদি যেন আমার জীবনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে মিশে গিয়েছিল। প্রথম পর্ন দেখেছিলাম গ্রামের দূর সম্পর্কের এক ভাইয়ের মোবাইলে এর পর থেকেই আস্তে আস্তে আমি পর্ন, হস্তমৈথুন ইত্যাদি তে অভ্যস্ত হতে থাকি।
.
আমার বয়স যখন পনেরো তখন শহরে চলে আসি। শহরে আসার পরে নিজের প্রতি অত্যাচারটা আরো তীব্র হল। মোবাইল ফোন, নেট ইত্যাদি গ্রাম থেকে শহরে সহজলভ্য হওয়ায় সুযোগ পেলেই পর্ন দেখতাম আর হস্তমৈথুন করতাম। যার কারণে কারো সাথে মিশতে ইচ্ছা করত না সবার থেকে নিজেকে আত্মাগোপন করতে ইচ্ছা করত,নিজের শরীরের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল সবসময়ই দুর্বল দুর্বল লাগত ।
.
যে ছেলেটা গ্রামের মাঠে-ঘাঠে দৌড়-ঝাপ, হাডুডু, ক্রিকেট-ফুটবল খেলে নিজের শৈশব পার করেছে কে জানত একদিন এই নীল বিষ তার জীবন ধ্বংস করে দিবে। শহরে এসেছিলাম পড়াশোনার সুবাদে কিন্তু নীল বিষের ছোবলে আর হস্তমৈথুনের কারণে নিজের জীবনে নেমে এলো এক দুর্বিষহ অন্ধকার। ফল স্বরূপ শহরে আসার পর একাডেমিক রেজাল্ট খুবই খারাপ হল। এতদিনে আমার পতনের মূল যখন বুঝতে পেরে আমি নিজের ভুলের জন্য আফসোস করছিলাম তখনই আমার হাতে আসে; লস্ট মডেস্টির মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটি । এরপর আমাকে আর পিছনে ফিরে থাকাতে হয়নি। এর জন্য ধন্যবাদ জানাই যারা মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটার পিছনে যারা শ্রম দিয়েছে তাদের ।
.
বইটা পড়ার পরেই আমি আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত, তওবা করে ফিরে আসি। আর জীবনে ফিরে যেতে চাই না সেই দিনে।
.
আলহামদুলিল্লাহ ফিরে আসার পরে আমার একাডেমিক রেজাল্ট ও খুব ভালো হয়েছে।আল্লাহর কাছে যা চেয়েছিলাম তাই পেয়েছি । শরীরের ও উন্নতি হয়েছে । যারা মনে করেন ওই অন্ধকার জগত থেকে আর ফিরে আসা যাবে না তাদের জন্য আমার জীবনের এই ফেরার গল্প টা উদাহরণ ।
.
প্রিয় ভাইয়েরা ,
ফিরে আসুন। আমি পেরেছি, আপনিও পারবেন ইনশাআল্লাহ । আমি এখন বুঝতেছি পর্ন আর হস্তমৈথুনের কারণে জীবনের কি মূল্যবান সময়টা না নষ্ট করেছি। সেই সময়টার কথা এখন মনে পড়লে বুক ফেটে কান্না আসে।চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে আমি ফিরে যেতে চাই সেই শৈশবের সেই আনন্দময় দিনে, সেই মাঠের ধারে। জীবনের কালো অধ্যায়টা মুছে দিয়ে জীবনটাকে নতুন করে সাজাতে চাই।
.
ফিরে আসার উপায়( যেভাবে আমি ফিরে এসেছি)-
.
1. মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটা ভালোভাবে মনোযোগ দিয়ে বুঝে বুঝে পড়ুন।
2. বিভিন্ন সামাজিক কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন ।
3. আল্লাহর কাছে শপথ নেন যে ইন্টারনেট এ কোন প্রকার অশ্লীল কিছুই দেখবেন না। বন্ধুদের সাথে; আড্ডায় বা মেসেজ এ কোন প্রকার অশ্লীল বিষয়ে আলোচনা করবেন না। কারণ এই গুলোই পর্নোগ্রাফিঃ ও হস্তমৈথুনের দিকে আপনাকে ঠেলে দিবে।
4. ইসলামী সংগঠন গুলোর সাথে নিজেকে যুক্ত রাখুন ।
5. নারীসঙ্গ ত্যাগ করুন ।
.
পর্নোগ্রাফি ও হস্তমৈথুন থেকে ফিরে আসার উপায় স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা বলে দিয়েছেন। ফিরে আসার সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর উপায় হল নিয়মিত পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ পড়া কেননা মহান আল্লাহ তায়ালা কোরআনে সুস্পষ্ট ভাবে বলেছেনঃ

“নিশ্চয়ই নামায মানুষকে লজ্জাহীনতা, অশ্লীলতা ও সর্বপ্রকার পাপ কাজ হতে বিরত রাখে।”
.
প্রিয় ভাইয়েরা,
আজই নামায পড়ে আল্লাহর সামনে বসে শপথ নিন। জীবনেও আর ওই পথে হাঁটবেন না।

.
চলবে ইনশা আল্লাহ্‌…
.
পড়ুন আগের পর্বগুলোঃ

খুলে দাও হৃদয়ের দ্বার (প্রথম পর্ব)
খুলে দাও হৃদয়ের দ্বার (দ্বিতীয় পর্ব)
খুলে দাও হৃদয়ের দ্বার (তৃতীয় পর্ব)

শেয়ার করুনঃ
হস্তমৈথুন নিয়ে ঘোলা যত জল…

হস্তমৈথুন নিয়ে ঘোলা যত জল…

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম।
.
আমাদের অফিশিয়াল নাম (‘লস্টমডেস্টি’, ‘মুক্ত বাতাসের খোঁজে’ বা এরকম) ব্যবহার করে কাউকে কাউকে দেখা যাচ্ছে হস্তমৈথুনের পক্ষে প্রচারণা চালাতে। এদেরকে ইনবক্সে আমরা যতোটা সম্ভব বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তারা খুব বাজে ভাষায় আমাদের আক্রমণ করেছে। আল্লাহ্‌ আমাদের এবং এই ভাইদের হেদায়াত দিক। ইসলাম বিকৃত করার হাত থেকে রক্ষা করুক। দ্বীনকে নিজের লালসা পূরণের হাতিয়ার হওয়া থেকে রক্ষা করুক।
.

সবচেয়ে বেশি কে ভালোবাসে আপনাকে এই দুনিয়ায়?

এই প্রশ্ন করলে সচরাচর যার মুখ ভেসে ওঠে তিনি হলেন আপনার মা, যার পেটে আপনি ছিলেন দীর্ঘ ৯ মাস। গায়ক অনেক আগেই গেয়েছে- এমন দরদী ভবে কেউ হবেনা আমার মা ছাড়া… তবে আরবের এক মানুষ আপনাকে মায়ের চাইতেও বেশি ভালোবাসতেন। আপনার জন্য বেশি দুশ্চিন্তা করতেন। নিজে নিষ্পাপ হয়েও রাত জেগে জেগে আপনার মুক্তির জন্য কান্নাকাটি করতেন। এই মানুষটি কে তা আর বলে দিতে হবেনা বোধহয়- মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।
.
আমাদের জীবনকে আমরা যেন সুন্দর, সহজ স্মুথলি চালাতে পারি তার জন্য খুঁটিনাটি সবকিছুই তিনি আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ্‌ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) উনার মাধ্যমে মানবজাতির সব যুগের, সব কালের সব সমস্যার সমাধান বাতলে দিয়েছেন।
.
পাশ্চাত্যের ছকে পরিচালিত এই ভোগবাদী সমাজে বিয়েকে অনেক কঠিন করে ফেলা হয়েছে। ৩০-৩২ বছর বয়স হয়ে যায় তারপরেও আমাদের ভাইবোনেরা বিয়ে করতে পারেন না। নারী পুরুষের অন্তরঙ্গতা এক ধরণের ক্ষুধার মতো। বয়স হলে ক্ষুধা লাগবেই। অন্তরঙ্গতার স্বাদ না পেলে ভয়াবহ দুঃসময় নেমে আসবে। প্রচন্ড কষ্ট হবে টগবগে, রক্ত গরম শরীরটাকে বেঁধে রাখতে।
.
এখন চিন্তা করুন, যেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনাকে আপনার নিজের মায়ের চাইতেও বেশি ভালোবাসতেন সেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি আপনাকে এই ভয়াবহ অবস্থায় যেন না পড়তে হয় বা পড়লে কীভাবে মোকাবেলা করতে হবে সেটার পথ বলে দেননি? তিনি হলেন রহমাতুল্লীল আলামিন। মানবজাতির জন্য রহমত তিনি। তিনি অবশ্যই মুক্তির উপায় বলে দিয়েছেন। কী সেই উপায়?
.
চলুন যাওয়া যাক আব্দুল্লাহ্‌ বিন মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর কাছে। তিনি আমাদের জানাচ্ছেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে আমরা এমন কিছু যুবক ছিলাম যাদের কিছু ছিল না। তখন রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যকার যার (বিয়ের খরচ বহন ও শারীরিক সামর্থ্য) রয়েছে সে যেন বিয়ে করে ফেলে। কেননা, তা তার দৃষ্টি নিম্নগামী রাখতে ও লজ্জাস্থানকে হেফাজত করায় সহায়ক হয়। আর যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে। কারণ তা যৌন উত্তেজনা প্রশমনকারী।” [সহীহ বুখারী (৫০৬৬)]
.
আলিমগন বলেন, এই হাদিস থেকে একদম দিনের আলোর মতো পরিষ্কার যে যে বিয়ে করতে অক্ষম হলে কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাকে রোযা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। হস্তমৈথুন করার পরামর্শ দেননি। যদিও হস্তমৈথুনের প্রতি আগ্রহ বেশি থাকে, হস্তমৈথুন করা রোযা রাখার চেয়ে সহজ। এবং এটাতে কিছু মজাও পাওয়া যায়। কিন্তু তারপরেও তিনি (সাঃ) হস্তমৈথুনের অনুমতি দেননি।
.
ইবনে কাসির (রহঃ) বলেন: ইমাম শাফেয়ি এবং যারা তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন তারা সবাই এ আয়াত দিয়ে হস্তমৈথুন হারাম হওয়ার পক্ষে দলিল দিয়েছেন। আয়াতটির ভাবানুবাদ হচ্ছে-
আর যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে হেফাযত করে। নিজেদের স্ত্রী বা মালিকানাভুক্ত দাসীগণ ছাড়া; এক্ষেত্রে (স্ত্রী ও দাসীর ক্ষেত্রে) অবশ্যই তারা নিন্দিত নয়। যারা এর বাইরে কিছু কামনা করবে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।” [সূরা মুমিনুন, আয়াত: ৫-৬]

(দাসী মানে ক্রীতদাসী। বর্তমান সময়ে বাসা-বাড়িতে যারা কাজ করেন তারা নন, তারা কর্মচারী। দাসপ্রথা ও ইসলামে এর অবস্থান জানতে পড়ুন- https://tinyurl.com/IslaveryI অথবা, https://islamqa.info/en/answers/13737)

ইমাম শাফেয়ি ‘নিকাহ অধ্যায়ে’ বলেন: ‘স্ত্রী বা দাসী ছাড়া অন্য সবার থেকে লজ্জাস্থান হেফাযত করা’ উল্লেখ করার মাধ্যমে স্ত্রী ও দাসী ছাড়া অন্য কেউ হারাম হওয়ার ব্যাপারে আয়াতটি সুস্পষ্ট। এরপরও আয়াতটিকে তাগিদ করতে গিয়ে আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন (ভাবানুবাদ): “যারা এর বাইরে কিছু কামনা করবে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।” সুতরাং স্ত্রী বা দাসী ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে পুরুষাঙ্গ ব্যবহার করা বৈধ হবে না, হস্তমৈথুনও বৈধ হবে না। আল্লাহ্‌ই ভাল জানেন। [ইমাম শাফেয়ি রচিত ‘কিতাবুল উম্ম’]
.
কোন কোন আলেম এ আয়াত দিয়ে দলিল দেন: “যারা বিবাহে সক্ষম নয়, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে যে পর্যন্ত না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেন।” [সূরা নূর, আয়াত: ৩৩] এ আয়াতে সংযমের নির্দেশ দেয়ার দাবী হচ্ছে– অন্য সবকিছু থেকে ধৈর্য ধারণ করা। (https://islamqa.info/bn/answers/329/)
.
দক্ষিন আফ্রিকার মাদ্রাসা এরাবিয়া ইসলামিয়ার এক দীর্ঘ গবেষণা প্রবন্ধে আলিমগণ লিখেছেন- হস্তমৈথুন হারাম। চার মাযহাবের (হানাফি মালিকি,শাফেঈ, হাম্বলী) আলিমদের ঐক্যমত্য রয়েছে এর ওপর। সূরা মুমিনুনের ৫-৬ নম্বর আয়াতের ওপর ভিত্তি করে তাঁরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। (https://tinyurl.com/y4ar8kyj)
.

অনেকেই আছে বিজ্ঞানের নানা রেফারেন্স টেনে হস্তমৈথুনকে উপকারি প্রমাণ করার চেষ্টা করে।


বর্তমান সময়ের পরাজিত মুসলিমদের মানসিকতা হলো ইসলামের বিধানকে সায়েন্সের কষ্টিপাথরে ঘষে দেখে। এটা মারাত্মক রকমের চিন্তাপরাধ। বিজ্ঞান চেইঞ্জ হয়ে যায় সময়ের সাথে সাথে, কিন্তু আল্লাহ্‌র দ্বীন কন্সট্যান্ট, অপরিবর্তনীয়। দুনিয়ার সবকিছু চেইঞ্জ হয়ে গেলেও আল্লাহ্‌র দ্বীন পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। কারো কোনো অধিকার নেই। এ কারণে দুনিয়ার সব বিজ্ঞানী সব ডাক্তারও যদি বলে হস্তমৈথুন শরীরের জন্য উপকারী, আমরা সেটা ছুঁড়ে ফেলে দিব। কারণ এই দাবী আল্লাহ্‌র দ্বীনের সাথে সাংঘর্ষিক। আল্লাহ্‌ (সুবঃ) এমন কিছুকে হারাম করতে পারেন না যেটা মানুষের জন্য উপকারী।
.
আলহামদুলিল্লাহ ! বিজ্ঞানের মাধ্যমেই প্রমানিত হয়েছে হস্তমৈথুন কতোটা ভয়ঙ্কর। বিস্তারিত আলোচনা আছে মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইয়ে। বই কিনতে/ পিডিএফ পড়তে দেখুন- http://lostmodesty.com/muktobataserkhoje/
.
অথবা এই লিখাগুলাও পড়তে পারেনঃ

– চোরাবালি (১-৮); (লিখাগুলো পাবেন আমাদের ওয়েবসাইটে। http://lostmodesty.com/at_a_glance/পেজে_সেকশন ২_’বিজ্ঞান তো বলছে মাস্টারবেশন কোন সমস্যা না, তাহলে?’ দেখুন)

– মাস্টারবেশন কী মাসলগ্রোথ এবং এথলেটিক পারফরম্যান্সের ক্ষতি করে? (https://bit.ly/2NzycUa)
.
কর্নেল ইউনিভার্সিটির ইউরোলজি এবং রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিনের ক্লিনিকাল প্রফেসর ড. হ্যারি ফিশ হস্তমৈথুনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বলেন, “ঘন ঘন হস্তমৈথুনের কারণে একজন মানুষ লিঙ্গোত্থানজনিত (erection) সমস্যায় ভুগতে শুরু করবে। হস্তমৈথুনের সাথে সাথে পর্নোগ্রাফি দেখতে থাকলে একসময় যৌনমিলনের ক্ষমতাই সে হারিয়ে ফেলবে।” (http://bit.ly/2DjTM6V)
.
দেখুন হস্তমৈথুনকে মূলধারায় নিয়ে আসার পেছনে বিশাল এক চক্রান্ত আছে। গত শতাব্দীর ৩০-৪০ এর দশকেও পাশ্চাত্য হস্তমৈথুনকে হারাম মনে করতো। পরে এক পাগলা,লম্পট, বিকৃতমানসিকতার ভন্ড প্রতারক আলফ্রেড কিনসি হস্তমৈথুনকে মূলস্রোতে নিয়ে আসে। তাকে সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করে কুখ্যাত রকফেলার ইন্সটিটিউট, সাইকাস। এই লিখাতে (http://lostmodesty.com/mitthershikol/) বিস্তারিত আলোচনা আছে। অবশ্যই পড়ার অনুরোধ রইলো।
.
একটা কথা বলা প্রয়োজন মনে করছি, পাশ্চাত্য ইসলামের সাথে একটা সামগ্রিক যুদ্ধে (Total War) এ লিপ্ত। তারা যেকোনো মূল্যে চাইবে ইসলামকে আঘাত করতে। কিছুদিন আগে দাড়ি নিয়ে বিবিসির রিপোর্ট আপনারা দেখেছেন। এরা সমকামিতাকেও প্রমোট করে চলছে, যার বিন্দুমাত্র কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এ থেকেই বোঝা যায় যে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকলেই পাশ্চাত্যের সেটাপে চলা কোনো জিনিসকে হালাল করা হয়না, বরং পাশ্চাত্যের যেটা ভালো মনে হয় সেটাকেই হালাল করা হয়। বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকুক বা না থাকুক। মুসলিম যুবকদের তাঁদের দ্বীন থেকে ফিরিয়ে রাখার জন্য, সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ এর ওপর আমল করা থেকে দূরে রাখার জন্য, তাঁদের চরিত্রকে কলুষিত করার জন্য হস্তমৈথুন খুবই কার্যকর এক হাতিয়ার। সেই সাথে হস্তমৈথুনের আর পাশ্চাত্যের অর্থনৈতিকভাবে ফুলে ফেঁপে ওঠার খেলাতো রয়েছেই। এই ব্যাপারগুলো বোঝার জন্য অনুরোধ করছি এই বইগুলো পড়ার-
.
i) চিন্তাপরাধ (www.rokomari.com/book/185621/)

ii) Sex Education as Bullying (https://web.archive.org/web/20180126212439/http://www.drjudithreisman.com/archives/2015/10/sex_education_a.html)
.
এই ভিডিও অবশ্যই দেখবেন- The War on Children: The Comprehensive Sexuality Education Agenda (http://bit.ly/2AxY487)
.
আবারো মনে করিয়ে দেই, লস্টমডেস্টি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং অলাভজনক একটি গ্রুপ। কোন নির্দিষ্ট দল/ গোষ্ঠী/ সংগঠনকে নয়, বরং আল্লাহ্‌কে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে সকল প্রকার অশ্লীলতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য আমরা কাজ করি। কোন ধরনের মানসিক/শারীরিক হয়রানী, চাঁদাবাজি, ফ্রি-মিক্সিং, অশ্লীলতা, প্রতারণা, কপটতা, অপরাধ আমরা সমর্থন বা প্রচার করি না এবং কোন ব্যক্তি/ সংগঠন থেকে অর্থ সংগ্রহ করি না। আমাদের অফিশিয়াল পেইজ, ব্লগ, বই ও লিফলেটে যে আর্টিকেল, ছবি, ভিডিও, অডিও, স্লাইড আছে কেবলমাত্র সেসবের প্রতিই আমরা দায়বদ্ধ। যে কোন ব্যক্তি/ সংগঠন চাইলে স্বেচ্ছায় কোনরূপ মডিফিকেশন ছাড়া আমাদের এ কন্টেন্টগুলো ব্যবহার করতে পারেন বা এন্টি পর্নোগ্রাফি ক্যাম্পেইন করতে পারেন। এক্ষেত্রে তাদের কাজের দায়ভার আমাদের উপর বর্তাবে না। আমাদের কন্টেন্টে কোরআন-সুন্নাহ-সীরাহ সর্বোপরি ইসলামের কথা প্রত্যক্ষ/ পরোক্ষ ভাবে আসে ও আসবে ইনশাআল্লাহ্‌। এক্ষেত্রে সর্বদা অথেন্টিক সোর্স থেকে রেফারেন্স নেয়া হয়। কোন কন্টেন্ট নিয়ে কারো উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা রটনা কাম্য নয়। লস্ট মডেস্টির কন্টেন্টের সাথে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের মিল খুঁজে পেলে তা একান্তই কাকতালীয়। আমাদের অফিসিয়াল সোশ্যাল সাইটগুলোর লিংক পাবেন এখানে- http://lostmodesty.com/contact/। এগুলো ছাড়া অন্য কোনো সোশ্যাল সাইটের প্রচার মিডিয়ার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁদের কাজের দায়ভার আমাদের ওপর বর্তাবে না।
.
যেসব ভাইয়েরা অনুমতি ছাড়া আমাদের নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা অপরাধ করছেন। যারা আমাদের নাম ব্যবহার করে হস্তমৈথুনের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা অপরাধের ওপর আবার অপরাধ করছেন। আল্লাহ্‌ সুবহানু তা’আলা আমাদের ভুলগুলো শুধরে নেবার তৌফিক নিক। এলাকাভিত্তিক লস্টমডেস্টির সাপোরটিং টিম পেইজ খুলতে চাইলে অবশ্যই আমাদের সঙ্গে কথা বলে এই লিস্টে নাম তুলে নিবেন-http://lostmodesty.com/volunteer-list/
.
আল্লাহ্‌ সুবহানুতা’আলা আমাদেরকে ফিতনাহ’র সম্মুখীন হওয়া থেকে রক্ষা করুক। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের শ্রেষ্ঠ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি, তাঁর পরিবার পরিজন ও পূতপবিত্র সাহাবায়ে কেরামের প্রতি।
.
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

– লস্টমডেস্টি

শেয়ার করুনঃ