ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (সপ্তম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (সপ্তম পর্ব)

৩০. বিয়ে করতে ভয় পাচ্ছি। আমি আগে পর্ন-আসক্ত ছিলাম। অনেক পর্ন দেখেছি,মাস্টারবেট করেছি। এগুলো ছেড়ে দিয়েছি। এখন বিয়ে করতে ভয় পাচ্ছি।

– প্রথমত পর্ন, মাস্টারবেশন থেকে পুরোপুরি সরে আসতে হবে, এগুলা করতে থাকলে শারীরিক ক্ষতি রিকভার করা সম্ভব না।

– প্রচুর পানি, শাকসব্জ্‌ ফলমূল, দুধ, কলা, বাদাম, খেজুর কিশমিশ, আঙ্গুর খেতে হবে।

– কালোজিরা খেতে হবে। (খাওয়ার নিয়মঃ ভর্তা করে ভাত দিয়ে খেতে পারেন। আবার কালিজিরা এর তেল টাও মধু দিয়ে খেতে পারেন। সকালে খালি পেটে এক চা চামচ মধু+এক চা চামচ তেল/ এক চা চামচ মধু+এক চিমটি কালোজিরা)

– ব্যায়াম করতে হবে। (ব্যায়াম নিয়ে টিপস পেতে এই পেজে – https://www.facebook.com/RijaalGym/ যোগাযোগ করুন)

– রাতে ১১ টার ভেতর ঘুমাতে হবে। দেরি করা যাবে না। সকাল সকাল উঠতে হবে। পারলে দুপুরে একটু ঘুমুতে হবে।

– আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দু’আ করতে থাকুন। আল্লাহ্‌ বলেছেন, ‘আর তোমাদের যদি কোন দুঃখ দৈন্য স্পর্শ করে তখন তা দূর করার জন্য তাকেই তোমরা বিনীতভাবে ডাকতে শুরু কর’। (সূরা আন নাহলঃ আয়াত ৫৩)
.
এভাবে ৩-৬ মাস চলুন। ইনশা আল্লাহ্‌ আর ভয় নেই।
.
চাইলে একজন ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। একজন ইউরোলজিস্ট বা স্কিন এন্ড স্কেক্স এক্সপার্টকে দেখাতে পারেন। যদি আপনার পেনিসে কোনো সমস্যা থাকে উনারা চিকিৎসা করবেন। যদি পেনিসে কোন সমস্যা না থাকে তাহলে উনারা মনোবিদ রেফার করে দিবেন বা নিজে কোনো মনোবিদের কাছে যাবেন। সাইকিয়াট্রিস্ট মানেই পাগলের ডাক্তার না। এতে লজ্জা পাবেন না। আর মনোবিদের পরামর্শ মেনে চলুন ইনশা আল্লাহ্‌।
.
তারপর আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে বিয়ে করে ফেলুন ইনশা আল্লাহ্‌। বিয়ের পর বা বিয়ের আগের রাতে www.facebook.com/shamsul.shakti – ভাইয়ের একটা নোট আছে,সেটা পড়ে নিয়েন। (দয়া করে এখন পড়বেন না, নোটটা পড়ে কোনো পাপে জড়ালে তার দায়ভার আমাদের নয়)। সব ঠিক হয়ে যাবে ইনশা আল্লাহ্‌। দুশ্চিন্তা করবেন না।
———-

৩১. পেনিসের সাইজ নিয়ে খুব চিন্তা হয়,আগা মোটা,গোড়া চিকন ইত্যাদি

– উত্তেজিত অবস্থায় পুরুষ লিঙ্গের গড় দৈর্ঘ্য হয়ে থাকে ৪.৭ থেকে ৬.৩ ইঞ্চি। অনেকের মতে পেনিসের গড় দৈর্ঘ্য ৫.১-৫.৯ ইঞ্চি।

মূলত পর্ন ভিডিও দেখে দেখে বা চটিগল্পের কারণে ছেলেপেলেদের মধ্যে পেনিসের সাইজ নিয়ে মারাত্মকভুল ধারণা তৈরি হয়।

তবে আপনার পেনিস যদি লম্বার সর্বনিম্ন ৪ (চার) ইঞ্চিও হয়ে থাকে তাহলেও আপনার স্ত্রীকে তৃপ্তি দিতে আপনার কোনো সমস্যা হবে না। অনেক বিশেষজ্ঞরা আবার এও বলে থাকেন স্ত্রীকে অরগাজম দিতে মাত্র ৩ ইঞ্চি লম্বা পেনিস হলেই যথেষ্ট।
.
– বড় পেনিস মানেই বেশি আনন্দ, কথাটা ঠিক নয় ।

– পেনিস কখনই একেবারে সোজা হয়না । একটু বাকা থাকেই ।

– পেনিসের গোঁড়া চিকন আগা মোটা এটা কোন সমস্যা নয় । স্কুল জীবন থেকেই রাস্তাঘাটের তথাকথিত হার্বাল, কবিরাজ এবং ভেষজ ডাক্তারদের বিভ্রান্তিকর লেকচার শুনতে শুনতে অনেকের মধ্যেই এ বিষয়ে একটা বদ্ধমূল ভূল ধারণা তৈরি হয়ে আছে ।

– কোন যাদুকরী তেল বা মালিশ পেনিস ‘তেমন’ বড় করতে সক্ষম নয় । এগুলা ভুয়া । আসক্তদের এসব ব্যবহার না করাই ভালো। মালিশ করতে গিয়ে দেখবেন আপনি উত্তেজিত হয়ে মাস্টারবেট করে ফেলছেন, পর্ন দেখে ফেলছেন।

– বেশি বড় পেনিস হলে মেয়েরা আনন্দ পাওয়ার বদলে ব্যাথা পায় । এমনকি সেটা যৌন আতঙ্কেও রুপ নিতে পারে অনেক নারীদের জন্য। মেয়েরা সাধারণত ছোটো পেনিসেই সন্তুষ্ট থাকে।

– ক্ষুদ্র পেনিস বলতে ২.৭৬ ইঞ্চির চেয়ে ছোট পেনিস বুঝায় । সেক্ষেত্রে যথাযথ চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে।

– গোঁড়া চিকন আগা মোটা বা বাঁকা পেনিস যৌনমিলনে কোন সমস্যার সৃষ্টি করেনা। এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।

– স্ত্রী ছাড়াই পেনিস শক্ত এবং দৃঢ হয়ে যায় এমন কোনো কাজ যেমন: বেগানা নারীর দিকে তাকানো, অশ্লীল সাহিত্য পড়া, কম্পিউটার বা মোবাইলে খারাপ কিছু দেখা থেকে বিরত থাকুন।

– ৪০ দিনের মধ্য পুরুষাঙ্গের গোড়ার চুল কাটুন।

– আপনার যৌন স্বাস্থের দিকে নজর দিন। এটাও আপনার শরীরেরই অংশ। নিয়মিত পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করুন। কারণ পুরুষরা দৈনন্দিন খাবার দাবার থেকেই তাদের যৌন শক্তি লাভ করে থাকে।
.
এই পর্যন্ত পড়ার পর আপনার অনেক উত্তেজনা চলে আসতে পারে। নিজের ভবিষ্যৎ স্ত্রীর সাথে অন্তরজ্ঞ হবার চিন্তা,ফ্যান্টাসি মাথায় আসতে পারে। আল্লাহ্‌কে ভয় করুন। নিজেকে সামলান। অশ্লীল চিন্তা মাথা থেকে দূর করে দিন। ভুলেও অশ্লীল চিন্তায় বুঁদ হয়ে থাকবেন না। তা না হলে আপনি কিছুক্ষণের মধ্যেই পর্ন দেখে ফেলবেন বা মাস্টারবেট করে ফেলতে পারেন। সাবধান।
(https://www.medicalnewstoday.com/articles/271647.php)
———-

৩২. কখন ডাক্তার দেখাবো? কাকে দেখাবো?

নরমালি পর্ন দেখার ফলে ইরেক্টাইল ডিসফাওংশন ( লিঙ্গোত্থানে সমস্যা) বা প্রি ম্যাচুউর ইজাকুলেশন (অকাল বীর্যপাত) হলে পর্ন মাস্টারবেশন ছেড়ে দিলে এবং একটু ভালোমতো খাওয়া দাওয়া করলে ৩-৬ মাস বা কারো কারো আরেকটু বেশি সময় লাগে। আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলবেননা।

পরবর্তীতে কোন সমস্যা দেখা দিলে বা এ বিষয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা কাজ করলে একজন ইউরোলজিস্ট বা স্কিন এন্ড স্কেক্স এক্সপার্টকে দেখাতে পারেন।

এলাকাভিত্তিক ডাক্তার এবং মনোবিদদের লিস্ট- http://lostmodesty.com/doctorlist/
———-

৩৩. পর্নসাইট ব্লক করবো কিভাবে?

Android মোবাইলে পর্ন ব্লক করার উপায়ঃ

১. যদি মোবাইল ইন্টারনেট বাসার WiFi এর মাধ্যমে চালান তাহলে এই ভিডিও দেখুন- https://youtu.be/K2CLMulY864

(এখানে বলে রাখা ভালো, apps lock দিয়ে অন্যান্য ব্রাউজার লক করার সময় পাসওয়ার্ড দিবে অন্য আরেকজন, হয় আপনার বন্ধু বা বাসার কেউ। যে দিবে সে আপনাকে আর পাসওয়ার্ড জানাবে না, ওটা জেনে গেলে লাভ হবে না। আরেকটা কাজ করতে পারেন, ইচ্ছামত কঠিন কম্বিনেশন ইউজ করে একটা পাসোয়ার্ড লিখবেন কাগজে, অ্যাপে ভেরিফিকেশন শেষ হয়ে গেলে ওই কাগজ ছিড়ে ফেলুন বা পুড়িয়ে দিন। তবে প্রথমটি করাই উচিত। অন্য কারো সাহায্য নেওয়া)

এই ভিডিও অনুযায়ী কাজ করার পর আপনাকে আরেকটা কাজ করতে হবে। গুগল সেটিং থেকে Safe Search অন করে দিতে হবে। এই লিঙ্ক দেখুন- https://www.wikihow.com/Block-Porn-from-Google-Search

২. যদি মোবাইল ডাটার মাধ্যমে ইন্টারনেট চালান তাহলে এই ভিডিও দেখবেন- https://youtu.be/vH0n43Rz67Q
.
iOS মোবাইলে এবং PC তে পর্ন ব্লক করার উপায়ঃ

পড়ুন – http://lostmodesty.com/muktobichoron/
.
কোন স্টেপ বুঝতে প্রব্লেম হলে পর্নোগ্রাফিঃ মানবতার জন্য হুমকি পেজে ইনবক্স করুন।
.
আরেকটা কথা, আমরা যত সফটওয়্যারই ব্যবহার করি না কেন সবগুলোর কোন না কোন glitch আছে। সহজেই ফাকি দেয়া যায়। তাই এদের ভরসায় বসে থাকলে হবে না, নিজের মন থেকেই রেসিস্টেন্স নিয়ে আসতে হবে। যত যাই হোক আমি পর্ন দেখবো না চটি পড়বো না মাস্টারবেট করবো না- এইরকম দৃঢ়তা লাগবে ভাই। নিজের মন কে শাসন করতে হবে। যেভাবে ট্রেইনিং দেয়া হয় বিশেষ কাজে দক্ষ শ্রমিক গড়ে তুলতে সেভাবে নিজের মন কে, নফস কে ট্রেইন করতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে এক পর্ন বা চটি বা হস্তমৈথুন কিভাবে মনকে কলুষিত করে, হতাশা বাড়িয়ে দেয়, কিছু না পাওয়ার তাড়না তীব্রভাবে বাড়ায় তোলে, ইবাদত নষ্ট করে, মানুষকে পশুতে পরিনত করে। এভাবে ট্রেইন আপ করুন নিজের মনকে। পর্ন ব্লক সফটওয়্যার অনেকটা সেফটি রিং গুলার মত, যেই রিং ধরে ধরে সাঁতার শেখা শুরু হয় বা এক্সপার্ট ড্রাইভার এর মত যে আপনাকে সতর্ক করবে গাড়ি চালানো শেখার সময়। এরা শর্ট টার্ম সাপোর্ট দিবে, কিন্তু দিনশেষে আপনাকেই হাল ধরতে হবে, নিজেকে ডেভেলপ করতে হবে।
———-

৩৪. ইউটিউব এর ফিতনা

পড়ুন- https://tinyurl.com/ycyesvvc
———-

৩৫. মোবাইলে অ্যাড ব্লক করবো কিভাবে? + শেয়ারইট এর ফিতনা

পড়ুন – http://lostmodesty.com/muktobichoron/
.

আমরা খুব ছোটো মানুষ। আমাদের লিখার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ্‌। যেকোনো ধরণের পরামর্শ বা সাজেশন হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ …
.
পড়ুন আগের পর্বগুলাঃ http://lostmodesty.com/vengefelokaragar/

শেয়ার করুনঃ
খুলে দাও হৃদয়ের দ্বার (চতুর্থ কিস্তি)

খুলে দাও হৃদয়ের দ্বার (চতুর্থ কিস্তি)

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লহ্। আশা করি ভাল আছেন? আমি জামি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ নিয়ে অনার্স করছি। আর আছি ১ম বর্ষে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে লস্ট মডেস্টির সাপোর্টিং টিম আছে, এটা আমার যেমন জানা ছিল না, ঠিক তেমনই কেউ এটা নিয়ে কিছু জানায়নি। কদিন আগেই মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটা কিভাবে যেন এক বন্ধুর মারফত আমার হাতে চলে আসে। বিশ্বাস করুন, এ বইটা আমার জীবন বদলে দিয়েছে। আমি সম্পূর্ণ বদলে গেছি। আমার খুব কাছের কিছু বন্ধুকেও আমি বইটা পড়িয়েছি, তারাও তাদের একই অনুভূতির কথা বলেছে। যাযাকাল্লহু খইর। আল্লাহ রব্বুল আলামীন এই বই এবং লস্ট মডেস্টির সাথে যুক্ত সকলকে নিজ হাতে জান্নাতুল ফেরদৌসের অতিথি হিসেবে কবুল করুন। আমিন।
.
আরও কিছু কথা বলতে চাই, আমি এবং আমার বন্ধুরা, আমরা কখনোই বখাটে বা খারাপ ছেলেদের মতো ছিলাম না, আমরা ছিলাম নামাজি, কিন্ত পর্ন আসক্ত! এমনকি নামাজের মাঝেও পর্নোগ্রাফির ঐ দৃশ্যগুলো আমাদের মাথায় ঘুরত! আস্তাগফিরুল্লহ! নাউজুবিল্লাহ! আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন! আসলেই পর্ন একজন মানুষকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দেয়, ধুলোয় মিশিয়ে দেয়! যখন থেকেই আমার পর্ন আসক্তি হওয়া শুরু করে, আমি নিজেকে সবকিছু থেকেই গুটিয়ে নিচ্ছিলাম। এক কথায় আমার কিছুই ভাল লাগতো না! কোন কিছুই না! জীবন নিয়ে ভাবনা আসে না, লাইফ নিয়ে সিরিয়াস হওয়া যায়না, কোন পদক্ষেপ নিতে ভয় পাওয়া ইত্যাদী সহ আরো অসংখ্য ভয়ংকর বিষয় পর্ন আসক্তির সাথে জড়িত।
.
আমি মনে করি, বর্তমানে আমাদের দেশের তরুন থেকে শুরু করে সববয়সী মানুষ যে ভাল্লাগেনা রোগে আক্রান্ত তার মুূল ও একমাত্র কারন হলো পর্ন। তার চেয়েও ভয়ানক বিষয় হলো, এভাবে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরের কোন না কোন মানুষ জীবন থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে, এভাবে সমাজও গুটিয়ে যাচ্ছে, রাষ্ট্রও নিস্তজ হয়ে যাচ্ছে।তাই আমি মনে করি, বাংলাদেশের তরুন বা যুবকদের নিয়ে যত সমস্যা, সব সমস্যার মুল কারন হলো পর্ন, আর যথাসময়ে বিয়ে করতে না পারা। আমি মনে করি, আমরা পর্নের বিরুদ্ধে যেভাবে সোচ্চার হচ্ছি, ঠিক সেভাবে বাংলাদেশে বিয়ের ব্যাপারে এ জটিলতা আছে, তার বিরুদ্ধেও সোচ্চার হওয়া। বিয়ের ব্যাপারে যে জটিলতা, সেটা বোঝার জন্য আমি আপনাকে এবং সবাইকে অনুরোধ করব শাইখ আলি তানতাভির ‘বিয়ে নিয়ে কিছু কথা’ বইটি পড়ার জন্য। আজ এ পর্যন্ত, ভাল থাকবেন। আল্লাহ লস্ট মডেস্টির সকল সদস্যদের উত্তম জাযাহ দান করুক। আমিন।


——-
আমার নীড়ে ফেরার গল্প!
জীবনে ও ফিরে যেতে চাই না সেই দিনে!
.
প্রায় বারো বছর বয়স থেকেই নিজেকে শেষ করে দিতে থাকি। হস্তমৈথুন,পর্ন ইত্যাদি যেন আমার জীবনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে মিশে গিয়েছিল। প্রথম পর্ন দেখেছিলাম গ্রামের দূর সম্পর্কের এক ভাইয়ের মোবাইলে এর পর থেকেই আস্তে আস্তে আমি পর্ন, হস্তমৈথুন ইত্যাদি তে অভ্যস্ত হতে থাকি।
.
আমার বয়স যখন পনেরো তখন শহরে চলে আসি। শহরে আসার পরে নিজের প্রতি অত্যাচারটা আরো তীব্র হল। মোবাইল ফোন, নেট ইত্যাদি গ্রাম থেকে শহরে সহজলভ্য হওয়ায় সুযোগ পেলেই পর্ন দেখতাম আর হস্তমৈথুন করতাম। যার কারণে কারো সাথে মিশতে ইচ্ছা করত না সবার থেকে নিজেকে আত্মাগোপন করতে ইচ্ছা করত,নিজের শরীরের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল সবসময়ই দুর্বল দুর্বল লাগত ।
.
যে ছেলেটা গ্রামের মাঠে-ঘাঠে দৌড়-ঝাপ, হাডুডু, ক্রিকেট-ফুটবল খেলে নিজের শৈশব পার করেছে কে জানত একদিন এই নীল বিষ তার জীবন ধ্বংস করে দিবে। শহরে এসেছিলাম পড়াশোনার সুবাদে কিন্তু নীল বিষের ছোবলে আর হস্তমৈথুনের কারণে নিজের জীবনে নেমে এলো এক দুর্বিষহ অন্ধকার। ফল স্বরূপ শহরে আসার পর একাডেমিক রেজাল্ট খুবই খারাপ হল। এতদিনে আমার পতনের মূল যখন বুঝতে পেরে আমি নিজের ভুলের জন্য আফসোস করছিলাম তখনই আমার হাতে আসে; লস্ট মডেস্টির মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটি । এরপর আমাকে আর পিছনে ফিরে থাকাতে হয়নি। এর জন্য ধন্যবাদ জানাই যারা মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটার পিছনে যারা শ্রম দিয়েছে তাদের ।
.
বইটা পড়ার পরেই আমি আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত, তওবা করে ফিরে আসি। আর জীবনে ফিরে যেতে চাই না সেই দিনে।
.
আলহামদুলিল্লাহ ফিরে আসার পরে আমার একাডেমিক রেজাল্ট ও খুব ভালো হয়েছে।আল্লাহর কাছে যা চেয়েছিলাম তাই পেয়েছি । শরীরের ও উন্নতি হয়েছে । যারা মনে করেন ওই অন্ধকার জগত থেকে আর ফিরে আসা যাবে না তাদের জন্য আমার জীবনের এই ফেরার গল্প টা উদাহরণ ।
.
প্রিয় ভাইয়েরা ,
ফিরে আসুন। আমি পেরেছি, আপনিও পারবেন ইনশাআল্লাহ । আমি এখন বুঝতেছি পর্ন আর হস্তমৈথুনের কারণে জীবনের কি মূল্যবান সময়টা না নষ্ট করেছি। সেই সময়টার কথা এখন মনে পড়লে বুক ফেটে কান্না আসে।চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে আমি ফিরে যেতে চাই সেই শৈশবের সেই আনন্দময় দিনে, সেই মাঠের ধারে। জীবনের কালো অধ্যায়টা মুছে দিয়ে জীবনটাকে নতুন করে সাজাতে চাই।
.
ফিরে আসার উপায়( যেভাবে আমি ফিরে এসেছি)-
.
1. মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটা ভালোভাবে মনোযোগ দিয়ে বুঝে বুঝে পড়ুন।
2. বিভিন্ন সামাজিক কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন ।
3. আল্লাহর কাছে শপথ নেন যে ইন্টারনেট এ কোন প্রকার অশ্লীল কিছুই দেখবেন না। বন্ধুদের সাথে; আড্ডায় বা মেসেজ এ কোন প্রকার অশ্লীল বিষয়ে আলোচনা করবেন না। কারণ এই গুলোই পর্নোগ্রাফিঃ ও হস্তমৈথুনের দিকে আপনাকে ঠেলে দিবে।
4. ইসলামী সংগঠন গুলোর সাথে নিজেকে যুক্ত রাখুন ।
5. নারীসঙ্গ ত্যাগ করুন ।
.
পর্নোগ্রাফি ও হস্তমৈথুন থেকে ফিরে আসার উপায় স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা বলে দিয়েছেন। ফিরে আসার সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর উপায় হল নিয়মিত পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ পড়া কেননা মহান আল্লাহ তায়ালা কোরআনে সুস্পষ্ট ভাবে বলেছেনঃ

“নিশ্চয়ই নামায মানুষকে লজ্জাহীনতা, অশ্লীলতা ও সর্বপ্রকার পাপ কাজ হতে বিরত রাখে।”
.
প্রিয় ভাইয়েরা,
আজই নামায পড়ে আল্লাহর সামনে বসে শপথ নিন। জীবনেও আর ওই পথে হাঁটবেন না।

.
চলবে ইনশা আল্লাহ্‌…
.
পড়ুন আগের পর্বগুলোঃ

খুলে দাও হৃদয়ের দ্বার (প্রথম পর্ব)
খুলে দাও হৃদয়ের দ্বার (দ্বিতীয় পর্ব)
খুলে দাও হৃদয়ের দ্বার (তৃতীয় পর্ব)

শেয়ার করুনঃ
হস্তমৈথুন নিয়ে ঘোলা যত জল…

হস্তমৈথুন নিয়ে ঘোলা যত জল…

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম।
.
আমাদের অফিশিয়াল নাম (‘লস্টমডেস্টি’, ‘মুক্ত বাতাসের খোঁজে’ বা এরকম) ব্যবহার করে কাউকে কাউকে দেখা যাচ্ছে হস্তমৈথুনের পক্ষে প্রচারণা চালাতে। এদেরকে ইনবক্সে আমরা যতোটা সম্ভব বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তারা খুব বাজে ভাষায় আমাদের আক্রমণ করেছে। আল্লাহ্‌ আমাদের এবং এই ভাইদের হেদায়াত দিক। ইসলাম বিকৃত করার হাত থেকে রক্ষা করুক। দ্বীনকে নিজের লালসা পূরণের হাতিয়ার হওয়া থেকে রক্ষা করুক।
.

সবচেয়ে বেশি কে ভালোবাসে আপনাকে এই দুনিয়ায়?

এই প্রশ্ন করলে সচরাচর যার মুখ ভেসে ওঠে তিনি হলেন আপনার মা, যার পেটে আপনি ছিলেন দীর্ঘ ৯ মাস। গায়ক অনেক আগেই গেয়েছে- এমন দরদী ভবে কেউ হবেনা আমার মা ছাড়া… তবে আরবের এক মানুষ আপনাকে মায়ের চাইতেও বেশি ভালোবাসতেন। আপনার জন্য বেশি দুশ্চিন্তা করতেন। নিজে নিষ্পাপ হয়েও রাত জেগে জেগে আপনার মুক্তির জন্য কান্নাকাটি করতেন। এই মানুষটি কে তা আর বলে দিতে হবেনা বোধহয়- মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।
.
আমাদের জীবনকে আমরা যেন সুন্দর, সহজ স্মুথলি চালাতে পারি তার জন্য খুঁটিনাটি সবকিছুই তিনি আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ্‌ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) উনার মাধ্যমে মানবজাতির সব যুগের, সব কালের সব সমস্যার সমাধান বাতলে দিয়েছেন।
.
পাশ্চাত্যের ছকে পরিচালিত এই ভোগবাদী সমাজে বিয়েকে অনেক কঠিন করে ফেলা হয়েছে। ৩০-৩২ বছর বয়স হয়ে যায় তারপরেও আমাদের ভাইবোনেরা বিয়ে করতে পারেন না। নারী পুরুষের অন্তরঙ্গতা এক ধরণের ক্ষুধার মতো। বয়স হলে ক্ষুধা লাগবেই। অন্তরঙ্গতার স্বাদ না পেলে ভয়াবহ দুঃসময় নেমে আসবে। প্রচন্ড কষ্ট হবে টগবগে, রক্ত গরম শরীরটাকে বেঁধে রাখতে।
.
এখন চিন্তা করুন, যেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনাকে আপনার নিজের মায়ের চাইতেও বেশি ভালোবাসতেন সেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি আপনাকে এই ভয়াবহ অবস্থায় যেন না পড়তে হয় বা পড়লে কীভাবে মোকাবেলা করতে হবে সেটার পথ বলে দেননি? তিনি হলেন রহমাতুল্লীল আলামিন। মানবজাতির জন্য রহমত তিনি। তিনি অবশ্যই মুক্তির উপায় বলে দিয়েছেন। কী সেই উপায়?
.
চলুন যাওয়া যাক আব্দুল্লাহ্‌ বিন মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর কাছে। তিনি আমাদের জানাচ্ছেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে আমরা এমন কিছু যুবক ছিলাম যাদের কিছু ছিল না। তখন রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যকার যার (বিয়ের খরচ বহন ও শারীরিক সামর্থ্য) রয়েছে সে যেন বিয়ে করে ফেলে। কেননা, তা তার দৃষ্টি নিম্নগামী রাখতে ও লজ্জাস্থানকে হেফাজত করায় সহায়ক হয়। আর যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে। কারণ তা যৌন উত্তেজনা প্রশমনকারী।” [সহীহ বুখারী (৫০৬৬)]
.
আলিমগন বলেন, এই হাদিস থেকে একদম দিনের আলোর মতো পরিষ্কার যে যে বিয়ে করতে অক্ষম হলে কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাকে রোযা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। হস্তমৈথুন করার পরামর্শ দেননি। যদিও হস্তমৈথুনের প্রতি আগ্রহ বেশি থাকে, হস্তমৈথুন করা রোযা রাখার চেয়ে সহজ। এবং এটাতে কিছু মজাও পাওয়া যায়। কিন্তু তারপরেও তিনি (সাঃ) হস্তমৈথুনের অনুমতি দেননি।
.
ইবনে কাসির (রহঃ) বলেন: ইমাম শাফেয়ি এবং যারা তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন তারা সবাই এ আয়াত দিয়ে হস্তমৈথুন হারাম হওয়ার পক্ষে দলিল দিয়েছেন। আয়াতটির ভাবানুবাদ হচ্ছে-
আর যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে হেফাযত করে। নিজেদের স্ত্রী বা মালিকানাভুক্ত দাসীগণ ছাড়া; এক্ষেত্রে (স্ত্রী ও দাসীর ক্ষেত্রে) অবশ্যই তারা নিন্দিত নয়। যারা এর বাইরে কিছু কামনা করবে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।” [সূরা মুমিনুন, আয়াত: ৫-৬]

(দাসী মানে ক্রীতদাসী। বর্তমান সময়ে বাসা-বাড়িতে যারা কাজ করেন তারা নন, তারা কর্মচারী। দাসপ্রথা ও ইসলামে এর অবস্থান জানতে পড়ুন- https://tinyurl.com/IslaveryI অথবা, https://islamqa.info/en/answers/13737)

ইমাম শাফেয়ি ‘নিকাহ অধ্যায়ে’ বলেন: ‘স্ত্রী বা দাসী ছাড়া অন্য সবার থেকে লজ্জাস্থান হেফাযত করা’ উল্লেখ করার মাধ্যমে স্ত্রী ও দাসী ছাড়া অন্য কেউ হারাম হওয়ার ব্যাপারে আয়াতটি সুস্পষ্ট। এরপরও আয়াতটিকে তাগিদ করতে গিয়ে আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন (ভাবানুবাদ): “যারা এর বাইরে কিছু কামনা করবে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।” সুতরাং স্ত্রী বা দাসী ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে পুরুষাঙ্গ ব্যবহার করা বৈধ হবে না, হস্তমৈথুনও বৈধ হবে না। আল্লাহ্‌ই ভাল জানেন। [ইমাম শাফেয়ি রচিত ‘কিতাবুল উম্ম’]
.
কোন কোন আলেম এ আয়াত দিয়ে দলিল দেন: “যারা বিবাহে সক্ষম নয়, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে যে পর্যন্ত না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেন।” [সূরা নূর, আয়াত: ৩৩] এ আয়াতে সংযমের নির্দেশ দেয়ার দাবী হচ্ছে– অন্য সবকিছু থেকে ধৈর্য ধারণ করা। (https://islamqa.info/bn/answers/329/)
.
দক্ষিন আফ্রিকার মাদ্রাসা এরাবিয়া ইসলামিয়ার এক দীর্ঘ গবেষণা প্রবন্ধে আলিমগণ লিখেছেন- হস্তমৈথুন হারাম। চার মাযহাবের (হানাফি মালিকি,শাফেঈ, হাম্বলী) আলিমদের ঐক্যমত্য রয়েছে এর ওপর। সূরা মুমিনুনের ৫-৬ নম্বর আয়াতের ওপর ভিত্তি করে তাঁরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। (https://tinyurl.com/y4ar8kyj)
.

অনেকেই আছে বিজ্ঞানের নানা রেফারেন্স টেনে হস্তমৈথুনকে উপকারি প্রমাণ করার চেষ্টা করে।


বর্তমান সময়ের পরাজিত মুসলিমদের মানসিকতা হলো ইসলামের বিধানকে সায়েন্সের কষ্টিপাথরে ঘষে দেখে। এটা মারাত্মক রকমের চিন্তাপরাধ। বিজ্ঞান চেইঞ্জ হয়ে যায় সময়ের সাথে সাথে, কিন্তু আল্লাহ্‌র দ্বীন কন্সট্যান্ট, অপরিবর্তনীয়। দুনিয়ার সবকিছু চেইঞ্জ হয়ে গেলেও আল্লাহ্‌র দ্বীন পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। কারো কোনো অধিকার নেই। এ কারণে দুনিয়ার সব বিজ্ঞানী সব ডাক্তারও যদি বলে হস্তমৈথুন শরীরের জন্য উপকারী, আমরা সেটা ছুঁড়ে ফেলে দিব। কারণ এই দাবী আল্লাহ্‌র দ্বীনের সাথে সাংঘর্ষিক। আল্লাহ্‌ (সুবঃ) এমন কিছুকে হারাম করতে পারেন না যেটা মানুষের জন্য উপকারী।
.
আলহামদুলিল্লাহ ! বিজ্ঞানের মাধ্যমেই প্রমানিত হয়েছে হস্তমৈথুন কতোটা ভয়ঙ্কর। বিস্তারিত আলোচনা আছে মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইয়ে। বই কিনতে/ পিডিএফ পড়তে দেখুন- http://lostmodesty.com/muktobataserkhoje/
.
অথবা এই লিখাগুলাও পড়তে পারেনঃ

– চোরাবালি (১-৮); (লিখাগুলো পাবেন আমাদের ওয়েবসাইটে। http://lostmodesty.com/at_a_glance/পেজে_সেকশন ২_’বিজ্ঞান তো বলছে মাস্টারবেশন কোন সমস্যা না, তাহলে?’ দেখুন)

– মাস্টারবেশন কী মাসলগ্রোথ এবং এথলেটিক পারফরম্যান্সের ক্ষতি করে? (https://bit.ly/2NzycUa)
.
কর্নেল ইউনিভার্সিটির ইউরোলজি এবং রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিনের ক্লিনিকাল প্রফেসর ড. হ্যারি ফিশ হস্তমৈথুনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বলেন, “ঘন ঘন হস্তমৈথুনের কারণে একজন মানুষ লিঙ্গোত্থানজনিত (erection) সমস্যায় ভুগতে শুরু করবে। হস্তমৈথুনের সাথে সাথে পর্নোগ্রাফি দেখতে থাকলে একসময় যৌনমিলনের ক্ষমতাই সে হারিয়ে ফেলবে।” (http://bit.ly/2DjTM6V)
.
দেখুন হস্তমৈথুনকে মূলধারায় নিয়ে আসার পেছনে বিশাল এক চক্রান্ত আছে। গত শতাব্দীর ৩০-৪০ এর দশকেও পাশ্চাত্য হস্তমৈথুনকে হারাম মনে করতো। পরে এক পাগলা,লম্পট, বিকৃতমানসিকতার ভন্ড প্রতারক আলফ্রেড কিনসি হস্তমৈথুনকে মূলস্রোতে নিয়ে আসে। তাকে সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করে কুখ্যাত রকফেলার ইন্সটিটিউট, সাইকাস। এই লিখাতে (http://lostmodesty.com/mitthershikol/) বিস্তারিত আলোচনা আছে। অবশ্যই পড়ার অনুরোধ রইলো।
.
একটা কথা বলা প্রয়োজন মনে করছি, পাশ্চাত্য ইসলামের সাথে একটা সামগ্রিক যুদ্ধে (Total War) এ লিপ্ত। তারা যেকোনো মূল্যে চাইবে ইসলামকে আঘাত করতে। কিছুদিন আগে দাড়ি নিয়ে বিবিসির রিপোর্ট আপনারা দেখেছেন। এরা সমকামিতাকেও প্রমোট করে চলছে, যার বিন্দুমাত্র কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এ থেকেই বোঝা যায় যে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকলেই পাশ্চাত্যের সেটাপে চলা কোনো জিনিসকে হালাল করা হয়না, বরং পাশ্চাত্যের যেটা ভালো মনে হয় সেটাকেই হালাল করা হয়। বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকুক বা না থাকুক। মুসলিম যুবকদের তাঁদের দ্বীন থেকে ফিরিয়ে রাখার জন্য, সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ এর ওপর আমল করা থেকে দূরে রাখার জন্য, তাঁদের চরিত্রকে কলুষিত করার জন্য হস্তমৈথুন খুবই কার্যকর এক হাতিয়ার। সেই সাথে হস্তমৈথুনের আর পাশ্চাত্যের অর্থনৈতিকভাবে ফুলে ফেঁপে ওঠার খেলাতো রয়েছেই। এই ব্যাপারগুলো বোঝার জন্য অনুরোধ করছি এই বইগুলো পড়ার-
.
i) চিন্তাপরাধ (www.rokomari.com/book/185621/)

ii) Sex Education as Bullying (https://web.archive.org/web/20180126212439/http://www.drjudithreisman.com/archives/2015/10/sex_education_a.html)
.
এই ভিডিও অবশ্যই দেখবেন- The War on Children: The Comprehensive Sexuality Education Agenda (http://bit.ly/2AxY487)
.
আবারো মনে করিয়ে দেই, লস্টমডেস্টি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং অলাভজনক একটি গ্রুপ। কোন নির্দিষ্ট দল/ গোষ্ঠী/ সংগঠনকে নয়, বরং আল্লাহ্‌কে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে সকল প্রকার অশ্লীলতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য আমরা কাজ করি। কোন ধরনের মানসিক/শারীরিক হয়রানী, চাঁদাবাজি, ফ্রি-মিক্সিং, অশ্লীলতা, প্রতারণা, কপটতা, অপরাধ আমরা সমর্থন বা প্রচার করি না এবং কোন ব্যক্তি/ সংগঠন থেকে অর্থ সংগ্রহ করি না। আমাদের অফিশিয়াল পেইজ, ব্লগ, বই ও লিফলেটে যে আর্টিকেল, ছবি, ভিডিও, অডিও, স্লাইড আছে কেবলমাত্র সেসবের প্রতিই আমরা দায়বদ্ধ। যে কোন ব্যক্তি/ সংগঠন চাইলে স্বেচ্ছায় কোনরূপ মডিফিকেশন ছাড়া আমাদের এ কন্টেন্টগুলো ব্যবহার করতে পারেন বা এন্টি পর্নোগ্রাফি ক্যাম্পেইন করতে পারেন। এক্ষেত্রে তাদের কাজের দায়ভার আমাদের উপর বর্তাবে না। আমাদের কন্টেন্টে কোরআন-সুন্নাহ-সীরাহ সর্বোপরি ইসলামের কথা প্রত্যক্ষ/ পরোক্ষ ভাবে আসে ও আসবে ইনশাআল্লাহ্‌। এক্ষেত্রে সর্বদা অথেন্টিক সোর্স থেকে রেফারেন্স নেয়া হয়। কোন কন্টেন্ট নিয়ে কারো উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা রটনা কাম্য নয়। লস্ট মডেস্টির কন্টেন্টের সাথে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের মিল খুঁজে পেলে তা একান্তই কাকতালীয়। আমাদের অফিসিয়াল সোশ্যাল সাইটগুলোর লিংক পাবেন এখানে- http://lostmodesty.com/contact/। এগুলো ছাড়া অন্য কোনো সোশ্যাল সাইটের প্রচার মিডিয়ার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁদের কাজের দায়ভার আমাদের ওপর বর্তাবে না।
.
যেসব ভাইয়েরা অনুমতি ছাড়া আমাদের নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা অপরাধ করছেন। যারা আমাদের নাম ব্যবহার করে হস্তমৈথুনের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা অপরাধের ওপর আবার অপরাধ করছেন। আল্লাহ্‌ সুবহানু তা’আলা আমাদের ভুলগুলো শুধরে নেবার তৌফিক নিক। এলাকাভিত্তিক লস্টমডেস্টির সাপোরটিং টিম পেইজ খুলতে চাইলে অবশ্যই আমাদের সঙ্গে কথা বলে এই লিস্টে নাম তুলে নিবেন-http://lostmodesty.com/volunteer-list/
.
আল্লাহ্‌ সুবহানুতা’আলা আমাদেরকে ফিতনাহ’র সম্মুখীন হওয়া থেকে রক্ষা করুক। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের শ্রেষ্ঠ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি, তাঁর পরিবার পরিজন ও পূতপবিত্র সাহাবায়ে কেরামের প্রতি।
.
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

– লস্টমডেস্টি

শেয়ার করুনঃ
হে বোন…

হে বোন…

“আমার কাছে একটি চিঠি এল। লিখেছেন এক ভদ্র মহিলা। চিঠিতে নাম ঠিকানা নেই। তবে ভাষা ও উপস্থাপন থেকে বোঝা যাচ্ছে বিদুষী নারী। সেখানে তিনি তার মত করে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, আর কিছু প্রস্তাবনা ও পরামর্শ তুলে ধরেছেন। তার একটি বক্তব্য ছিল এরকম-
.
‘‘আপনি একজন আরব নারীর প্রতি লক্ষ করুন, কত সংকীর্ণ জীবন সে যাপন করে। আর একজন পশ্চিমা নারীকে দেখুন, তার জীবন কত প্রশস্ত। লক্ষ করুন, একজন পশ্চিমা নারী কত স্বাধীন ও মুক্ত, আর আরব নারী কতটা পরাধীন ও বন্দী।’’
.
চিঠির এ পর্যন্ত এসে আমি থেমে গেলাম। তার এ বক্তব্য নিয়ে কিছুক্ষণ ভাবলাম। তারপর সিদ্ধান্ত নিলাম, তার পত্রের উত্তর দিব ইনশাআল্লাহ। তার সামনে তুলে ধরব তার (এবং তার মত অন্য অনেকের) ভাবনার ভুলটা কোথায়। পরক্ষণেই মনে পড়ল তার নাম ঠিকানা তো আমার জানা নেই, তাহলে কীভাবে সম্ভব। তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম, (কোনো পত্রিকায়) একটি প্রবন্ধ আকারে তার পত্রের উত্তর দিব। এই ভদ্র মহিলা এবং তার মত আরো যারা এমন ধারণা পোষণ করেন, বরং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, তারা বোঝেন না বা স্বীকার করেন না যে, তাদের এই ধারণা নিছক ভাবনা-কল্পনা, বাস্তবতার সাথে যার কোনোই মিল নেই।
.
ড. শায়েখ বাহজাহ আলবায়তারকে এক আমেরিকান নারী যা বলেছিল, সেটিই তাদের এ ভুল ধারণার সবচেয়ে সঠিক, বস্তুনিষ্ঠ ও সারগর্ভ উত্তর।
.
ড. বাহজাহ আমাকে বলেছেন, তিনি আমেরিকাতে একটি কনফারেন্সে মুসলিম নারী ও নিজ সম্পদে তার একক অধিকার-বিষয়ে আলোচনা করছিলেন; -মুসলিম নারীর সম্পদে রয়েছে তার একচ্ছত্র অধিকার। তার সম্পদে স্বামী বা পিতা কারোরই হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার নেই। কোনো নারী প্রাপ্তবয়স্কা হওয়ার পরও যদি সে দরিদ্র হয় তাহলে তার ব্যয়ভার বর্তাবে তার পিতা বা ভাইয়ের উপর। যদি পিতা বা ভাই কেউ না থাকে সেক্ষেত্রে (পর্যায়ক্রমে) নিকটাত্মীয়দের উপর। বিবাহ পর্যন্ত অথবা তার স্বচ্ছলতা আসা পর্যন্ত তারা তার ব্যয়ভার বহন করবে। তারপর যখন বিবাহ হবে তখন তার সকল দায়-দায়িত্ব ন্যস্ত হবে স্বামীর উপর। যদিও স্বামী সম্পদহীন সাধারণ শ্রমিক হয় আর স্ত্রীর অঢেল সম্পদ থাকে, ইত্যাদি ইত্যাদি। যা আমাদের জানা আছে, কিন্তু তাদের (পশ্চিমাদের) এ বিষয়ে কিছুই জানা নেই। একথা শুনে এক প্রসিদ্ধ আমেরিকান লেখিকা দাঁড়িয়ে গেলেন। বললেন, ‘‘আপনি যেমনটি বলছেন, নারীর জীবন যদি আপনাদের সমাজে এমন সুখেরই হয়, তাহলে আমাকে নিয়ে চলুন, আমি সেখানে ছয় মাস থাকব তারপর আমাকে হত্যা করে ফেলুন। (অর্থাৎ, ছয় মাস এমন সুখের জীবন কাটানোর পর মরতেও আমার কোনো আপত্তি নেই।)’’ ড. বাহজাহ তার একথা শুনে আশ্চর্য হলেন। তার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলেন এবং এমন মন্তব্যের কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি নিজের এবং সেখানকার নারীদের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরে বললেন, একজন আমেরিকান নারী বাহ্যত দেখা যায় স্বাধীন, আসলে সে পরাধীন। মনে হয় সে সম্মানিত, আসলে সে লাঞ্ছিত। ছোট ছোট বিষয়ে দেখা যায় তারা নারীকে সম্মান দেখাচ্ছে, কিন্তু বড় বড় বিষয়ে তারা তাকে লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত করে। গাড়ি থেকে নামার সময় হাত ধরে নামাচ্ছে, ঘরে বা কোথাও প্রবেশের সময় তাকে আগে প্রবেশ করতে দিচ্ছে। কখনো কখনো ট্রামে (এক প্রকার যানবাহন) পুরুষ দাঁড়িয়ে গিয়ে নারীকে বসতে দিচ্ছে অথবা নারীর চলার জন্য রাস্তা ছেড়ে দিচ্ছে। কিন্তু এর বিপরীতে অন্যান্য অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে নারীর সাথে অনেক হীন আচরণ করা হয়, যা অসহনীয় ও ভাষায় প্রকাশ করার অযোগ্য। এখানে একটি মেয়ে যখন প্রাপ্তবয়স্কা হয়, পিতা তার থেকে হাত গুটিয়ে নেয়। তার জন্য বাড়ির দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। পিতা আপন কন্যাকে বলে, যাও এখন কামাই করে খাও। আজ থেকে আমার কাছে তোমার আর কোনো চাওয়া পাওয়া নেই। তখন বেচারি নিরুপায় হয়ে একাই জীবন সাগরে ঝাঁপ দেয়। সে জানেনা সে সাগরের গভীরতা। জানে না ঢেউ-স্রোতের প্রবলতা। জানে না তার কুমির-হাঙরের হিংস্রতা। এমনকি সে এ-ও জানে না জীবন সাগরের উজান-ভাটা কী জিনিস? কীভাবে সে মোকাবেলা করবে এসবকিছুর। কিন্তু তার পরিবারের তাতে কিছুই যায় আসে না। সে শ্রমের বিনিময়ে খাবে, না শরীরের বিনিময়ে, তা তাদের ভাববার বিষয় নয়। তারা তাকে জিজ্ঞেস করবে না, সে আপন হাতের কামাই খাচ্ছে নাকি…! আর এটা শুধু আমেরিকার কথা নয়, গোটা পশ্চিমা বিশ্বের চিত্র।

.
প্রফেসর ড. ইয়াহইয়া আশশাম্মা‘ আমাকে আজ থেকে ৩৩ বছর আগে (তিনি প্যারিস থেকে পড়াশোনা শেষ করে ফেরার পরপরই) বলেছেন, তিনি একটি বাসায় গেলেন, সে বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নেয়ার জন্য। তিনি বাসায় ঢোকার সময় দেখলেন, একটি মেয়ে চোখ মুছতে মুছতে বের হচ্ছে। তিনি কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা জানালো, সে এ বাড়িরই মেয়ে। সে স্বাধীনভাবে একা থাকার জন্য আমাদের থেকে পৃথক হয়ে গেছে। ড. ইয়াহইয়া বললেন, তাকে যে আমি কাঁদতে দেখলাম! তখন তারা বলল, হাঁ, সে এসেছিল আমাদের বাসার একটি রুম ভাড়া নেয়ার জন্য, কিন্তু আমরা তাকে ভাড়া দিতে রাজি হইনি। তিনি বললেন, কেন? তারা বলল, কারণ সে ২০ ফ্রাঙ্ক দিতে চাচ্ছে। কিন্তু অন্যের কাছে ভাড়া দিলে আমরা পাবো ৩০ ফ্রাঙ্ক!
.
পাঠক! আপনার যদি বিশ্বাস না হয় (বিশ্বাস না হওয়ারই কথা। কারণ এমন ঘটনা একজন আরব বা মুসলিমের কাছে অবিশ্বাস্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত) আপনি ডক্টর সাহেবকে জিজ্ঞেস করে দেখুন। তিনি আপনাকে নিশ্চিত করবেন যে, তিনি এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি ছাড়াও ইউরোপ-আমেরিকায় থেকেছেন আমাদের এমন অনেক বন্ধুই এজাতীয় ঘটনা শুনিয়েছেন, যারা তাদের সাথে মিশেছেন এবং কাছ থেকে তাদেরকে দেখেছেন। একজন মুমিন নারীর কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, তার ইজ্জত-আব্রু। জীবনের বিনিময়ে হলেও সে এর হেফাযত করে। কিন্তু একজন পশ্চিমা নারী! সামান্য রুটির জন্য সে তার সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু ইজ্জত-আব্রু বিলিয়ে দিচ্ছে। কোনো পাঠক হয়ত পড়ে থাকবেন; বিশিষ্ট লেখক-সাহিত্যিক তাওফীক হাকীম পশ্চিমা এক নারীর বিষয়ে লিখেছেন, যে নাকি নিজেকে তার (তাওফীক হাকীম) হাতে সঁপে দিয়েছিল। তার সাথে বসবাস করেছিল স্ত্রীর মত। বিনিময়ে সে পাবে মাথা গোঁজার ঠাঁই ও দু’বেলা রুটি। পরবর্তীতে ঐ নারীর প্রতি বিরক্ত হয়ে সে তাকে তাড়িয়ে দেয়।[1]
.
প্রিয় বোন! মুসলিম নারী নিজেকে হেফাযত করেছে ; হেজাব গ্রহণ করেছে। ফলে সে সম্মানিত ও দামী হয়েছে। পর্দার বিধানকে আপন করেছে, অন্যায় সম্পর্ক থেকে বিরত থেকেছে। ফলে পুরুষই তাকে খোঁজ করে ফিরছে, তার জন্য পয়গাম পাঠাচ্ছে। মোটা অংকের মোহর পরিশোধ করে তাকে জীবনসঙ্গীনী বানাচ্ছে। আর পশ্চিমা নারী নিজেকে প্রদর্শন করেছে ও সহজলভ্য করেছে। ফলে সে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হয়েছে। কারণ, সহজলভ্য প্রতিটি বস্তই মূল্যহীন। প্রথম যুগের আরব কবিদের অবস্থা ছিল, তাদের সামনে যদি নারীর হাতের তালু ও কব্জিটুকুও প্রকাশ পেত তাহলে তাদের হৃদয়ে তরঙ্গ খেলে যেত, দেহ-আত্মায় প্রেমের স্পন্দন জেগে উঠত, যবান কবিতা-সচল হত, শব্দ-ছন্দের ঝর্ণা প্রবাহিত হত। কারণ, আরব নারী থাকত হেজাবে ঢাকা, পরপুরুষের দৃষ্টির আড়ালে। আর পশ্চিমা নারী! সী-বীচে তার উপর-নিচ সব থাকে উন্মুক্ত। পুরুষ তার পায়ের গোছার দিকে তাকায়, কিন্তু তা তার মনে কোনো প্রভাব ফেলে না। হৃদয়কে নাড়া দেয় না। স্পন্দিত হওয়ার কোনো উপকরণ সেখানে সে খুঁজে পায় না। নারীর পায়ের গোছা আর চেয়ারের পায়া যেন একসমান! আর এ কারণেই তাদের সমাজে বিয়ের বাজার মন্দা। বিবাহ তো আজীবনের বন্ধন। নারী-পুরুষ সে বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এর মাধ্যমে তারা তাদের বিশেষ চাহিদা পূরণ করে। আর সেটিই বিবাহের প্রথম আকর্ষণ। এখন সে সমাজে যখন বন্ধন থেকে মুক্ত থেকেই চাহিদা মেটানো যায়, তখন কেন একজন পুরুষ বিবাহনামক বন্ধনে আবদ্ধ হতে যাবে, নিজেকে সে ঝামেলায় জড়াবে?
.
আজ পশ্চিমা নারী বিবাহের মত পবিত্র বন্ধন থেকে বঞ্চিত। ফলে সে হারিয়েছে পরিবার ও তার ভরণ-পোষণের দায়িত্বশীলকে। বঞ্চিত হয়েছে জীবিকার নিরাপত্তা থেকে, মাথার উপরের নিরাপদ ছায়া থেকে। ফলে জীবন ধারণের জন্য সে গ্রহণ করেছে সব ধরণের পেশা, হীন থেকে হীনতর কাজ। সে আজ কারখানার শ্রমিক, রোদে খাটা কৃষক, পথের ঝাড়ুদার! আমাদের বন্ধুরা যারা ইউরোপে থেকেছেন, তারা সেখানে নারীদেরকে পাবলিক টয়লেটও পরিষ্কার করতে দেখেছেন। (আমি নিজেও ১৯৭০ ও ১৯৭৬ সনে নিজ চোখে তা দেখেছি।) আর কিছু নারী আছে যারা জুতা পালিশের কাজ করে। একটি বাক্স বহন করে এবং সারাদিন ফুটপাথে থাকে। এদের কাউকে কাউকে দেখা যায় সাথে বই, কাস্টমারের ফাঁকে ফাঁকে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোনো লোক এসে তার দিকে পা বাড়িয়ে দিলে সে বই ছেড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে জুতা পালিশে। এই তো পশ্চিমা নারীর মর্যাদা ও স্বাধীনতার সাতকাহন।
.
এদিকে মুসলিম নারী নিজগৃহে অবস্থান করে, আর পুরুষ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তার ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করে। একজন মুসলিম নারী যখন বিবাহের বয়সে উপনীত হয় তখন পুরুষ তার জন্য প্রস্তাব পাঠায় এবং তার পর্যন্ত পৌঁছতে মোটা অংকের মোহর পরিশোধ করে। স্বামী প্রদত্ত এ সম্পদ নারীর একার, এর একমাত্র মালিক সে। এতে তার অনুমতি ব্যতীত আপন পিতা, ভাই বা স্বামী কারো হস্তক্ষেপের কোনো অধিকার নেই। আর পশ্চিমা নারী! তার নিজেকেই ছুটতে হয় পুরুষ সঙ্গীর খোঁজে। তারপর ঐ পুরুষ পর্যন্ত পৌঁছতে তাকে পঞ্চাশ হোঁচট খেতে হয়। কখনো কখনো এমন তীব্র হোঁচট খায় যে, এক হোঁচটেই সবকিছু খোয়াতে হয়, এমনকি জীবনটা পর্যন্ত! এতকিছুর পর যদিওবা তার পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম হয়, বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য তাকে গুণতে হয় মোটা অংকের অর্থ। যেন স্ত্রী স্বামীকে মোহর দিয়ে বিবাহ করছে! এরপর থাকলো স্ত্রীর সম্পদ। সেখানেও তার একচ্ছত্র কর্তৃত্ব চলবে না। স্বামীও হস্তক্ষেপ করবে তার সম্পদে। আর মুসলিম নারীর সম্পদ! একমাত্র তার, কারো হস্তক্ষেপ চলবে না তার সম্পদে।
.
প্রিয় বোন! তুমি হয়ত বলবে, এটা অনেক আগের কথা। আমাদের এখানেও এখন বিবাহের বাজার মন্দা এবং অবিবাহিতা নারীর সংখ্যা অনেক। কথা ঠিক। কিন্তু ভেবে দেখেছ, কেন এমন হল? কারণ, আমরা এখন পশ্চিমাদের অনুকরণ শুরু করেছি। ঐসকল বিষয়ে তাদের অনুকরণ করছি, যেগুলো থেকে মুক্তির পথ তারা খুঁজছে এবং তাদের ঐসকল বিষয় গ্রহণ করতে শুরু করেছি, যেগুলো থেকে তারা পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে। কারণ, ঔপনিবেশিকরা গত শতাব্দীতে – যখন আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম এবং গাফেল ছিলাম – আমাদের মনে এই ধারণা বদ্ধমূল করে দিয়েছে যে, তারাই উন্নত, তারাই অগ্রগামী। তারা যা করছে সেটাই সঠিক। ফলে প্রতিটি বিষয়ে আমরা তাদের অন্ধ অনুকরণে মেতে উঠেছি; তাদের মত হতে পারাকেই পরম মোক্ষ লাভ মনে করছি! কিন্তু আরব (আরবের মানুষের স্বভাব-প্রকৃতি) কি সকল বিষয়ে এমন অন্ধ অনুকরণ মেনে নিতে পারে? তা কি তাদের আত্মসম্মানে বাধে না?
.
আত্মসম্মানবোধ তো আরবদেরই বেশি থাকার কথা। একারণেই তো অসম্মানের ভেবে তারা আপন কন্যাকে জ্যান্ত পূঁতে ফেলত (যদিও সেটা ছিল আত্মসম্মানবোধ প্রকাশের এক ঘৃণ্য উপায়)। সে আরবরা কি এটা মেনে নেবে যে, অনুষ্ঠানে অপরিচিত কোনো লোক এসে বলবে, ‘ইসমাহ লী’ দয়া করে একটু দেবেন কি! কী দিবে? সিগারেট ধরানোর জন্য দিয়াশলাই? কয়টা বাজে দেখার জন্য হাত ঘড়িটা এগিয়ে ধরবে? না, বরং আপন স্ত্রীকে, ঐ লোকটার সাথে নাচার জন্য; তার বক্ষ ঐ পুরুষের বক্ষের সাথে মেলানোর জন্য, তার চেহারা ঐ অপরিচিত মানুষটির চেহারার কাছাকাছি নিয়ে, তার পা ওর পায়ের কাছে নিয়ে হাতে হাত ধরে নাচার জন্য! কোনো আরব বা কোনো মুসলিম কি এটা মেনে নেবে? না, আত্মমর্যাদাশীল কোনো পুরুষই তা মেনে নেবে না। বরং প্রাণীকুলের মধ্যে নিকৃষ্ট খিনযীর ছাড়া অন্য কোনো প্রাণীও এটা মেনে নেবে না! এটাই হল পশ্চিমা নারীর হালচিত্র। এবার বলুন, পশ্চিমা নারী এমন কী ভালোর মাঝে আছে, যা আমরা আমাদের নারীদের জন্য কামনা করতে পারি?
.
ড. বাহজাহ আলবায়তারকে ঐ আমেরিকান লেখিকা যা বলেছিল তা আরেকবার স্মরণ করুন। যদি জিজ্ঞেস করেন, তাহলে প্রতিটি জার্মান এবং ফরাসী নারীও একই কথা বলবে। তোমরা আমাদের শরীয়ত বিষয়ে উচ্চবাচ্য কর, যা তা বল, -আমাদের শরীয়ত নারীকে পুরুষের অর্ধেক মীরাছ দেয়। পুরুষকে একাধিক বিবাহের সুযোগ দেয় ইত্যাদি। তাহলে তোমরা আমেরিকার নারীদের বলে দেখ, তারা পুরুষের অর্ধেক মিরাছ গ্রহণ করবে আর তাদের ভরণ-পোষণের যাবতীয় খরচ বহন করবে পুরুষ। দেখবে তারা প্রস্তাবপাঠ রাজি হয়ে যাবে। তেমনি জার্মানি নারীদের জিজ্ঞেস করে দেখতে পার, বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে তারা কি এই প্রত্যাশা করত না যে, তাদের প্রতি দশজনের জন্য একজন স্বামী হবে আর সে তাদের সাথে ইনসাফের মুআমালা করবে এবং তাদের ব্যয়ভার বহন করবে?
.
আল্লাহ যদি মানবজাতির জন্য এই সুযোগ না রাখতেন তাহলে কীভাবে জার্মান ও তার মত বিভিন্ন রাষ্ট্রে নারীর আধিক্যের বিষয়টির সমাধান হত? আল্লাহ তো মানুষকে এই স্বভাব দিয়েই সৃষ্টি করেছেন যে, নারী-পুরুষের মিলন অনিবার্য। একের ছাড়া অন্যের চলেই না! তারপর যখন প্রতি ১০০ জন নারীর বিপরীতে পুরুষের সংখ্যা ৫০ তখন অনিবার্যভাবে কি এই ফলাফল দাঁড়ায় না যে, প্রতি দু’জন নারীর জন্য একজন পুরুষ। বরং প্রতিটি প্রাণীর ক্ষেত্রেই তো আল্লাহর নিয়ম এই যে, মাদীর তুলনায় নর অর্ধেক বা তারও কম। মুরগি ও মৌমাছির কতভাগ নর? আরে পশ্চিমা পুরুষ কি চারজন নারী গ্রহণ করে না? বরং চারের বেশি! কিন্তু হারাম পথে!! . তোমাদের কাছে তো ইবলিসের ‘আকদে’ (চুক্তিতে,বন্ধনে) হারাম পন্থায় চার থেকে চলিস্নশ গার্লফ্রেন্ড আর বান্ধবী গ্রহণ দোষণীয় নয়, আর আল্লাহর ‘আকদে’ হালাল পথে চার বিবাহ দোষের? (অথচ কখনো কখনো তা নারীর জন্য একমাত্র রক্ষাকবচ!)
.
না হে বোন! একথা ভাববার কোনো কারণ নেই যে, পশ্চিমা নারী বেশি সুখী বা বেশি সম্মানিত! আল্লাহর কসম করে বলছি, এই পৃথিবীতে মুসলিম নারীই সবচেয়ে বেশি সুখী ও সম্মানিত। মুসলিমসমাজে স্বামী শুধুই তার স্ত্রীর জন্য; তার স্বামীতে কোনো গার্লফ্রেন্ড বা বান্ধবীর কোনো অধিকার নেই। তেমনি স্ত্রীও শুধুই তার স্বামীর জন্য; বয়ফ্রেন্ড বা বন্ধুর কোনো হস্তক্ষেপ সেখানে চলবে না। সে একান্তই তার স্বামীর, তার স্বামী একান্তই তার। সে স্বামী ছাড়া কারো সামনে নিজেকে সঁপে দেবে না। তার হেরেমে স্বামী ছাড়া কেউ প্রবেশ করবে না। তার আদ্যেপান্ত স্বামী ছাড়া কেউ জানবে না। বল হে বোন! এটাই কি পশ্চিমা বা তাদের অন্ধ অনুসারীদের কাছে মুসলিম নারীর দোষ; তার পরাধীনতা, তার বন্দীত্ব!? বল, কেউ কি এটা মেনে নেবে যে, তার স্ত্রী তার হবে এবং অন্য দশজনেরও!? বল, পবিত্রতা ও চারিত্রিক শুদ্ধতা কি দোষের? তাহলে কি যা কিছু ভালো তাকে বলব মন্দ, আর আলোকে বলব অন্ধকার!? ব্যস, যথেষ্ট হয়েছে অন্যের মস্তিষ্ক দিয়ে চিন্তা। অন্যের চোখ দিয়ে দেখা। অনেক হয়েছে বানরের মত গলায় অন্ধ অনুকরণের বেড়ি লাগিয়ে নেওয়া।
.
এখন আমাদের ফিরে আসতে হবে আত্মপরিচয়ের দিকে। ইসলামের দিকে, আরবের ঐতিহ্য ও বৈশিষ্ট্যের দিকে, চারিত্রিক পবিত্রতার দিকে। পশ্চিমা নারীরা তাদের মত চলুক, তাদের পুরুষরা তাদের জন্য যেটা কল্যাণকর মনে করে সেভাবেই চলুক। ওদের সাথে আমাদের কী সম্পর্ক? (ওদের তো আখেরাত বলে কিছু নেই। যাদের জীবনে আখেরাত-ভাবনা বলে কিছু নেই তাদের লাইফস্টাইল, তাদের জীবন-ভাবনা আমরা গ্রহণ করতে পারি কীভাবে। মুসলিম নারী তো সফল হতে চায় দুনিয়াতে ও আখেরাতে। সুতরাং ওদের জীবন আমাদের জীবন সম্পূর্ণ আলাদা।) আমাদের স্ত্রীরা চলুক আল্লাহ যেভাবে চান সেভাবে। আমরা তাদের জন্য যেভাবে চলা কল্যাণকর মনে করি সেভাবে। যাতে আমরা শুধুই তাদের হই। তাদেরকে নিয়েই আমরা সন্তুষ্ট থাকি। আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ থাক শুধু তাদের দিকে, অন্য কোনো নারীর দিকে নয়।
.
হে বোন! শুনে রাখো, পৃথিবীতে আমাদের নারীরাই শ্রেষ্ঠ; যতক্ষণ তারা হেজাবের পাবন্দী করবে, ইসলামের আদাবের প্রতি গুরুত্ব দিবে, আরবের স্বভাব-চরিত্র আর ইসলামের আহকামকে আঁকড়ে ধরে থাকবে এবং ঐ সমাজের রীতি-নীতি আপন করে নিবে, যে সমাজ জন্ম দিয়েছে আয়েশা, আসমা, খানসা ও খাওলার মত অগণিত মহিয়সী নারী। জন্ম দিয়েছে আলেমা, ফকীহা, মুহাদ্দিস ও সাহিত্যিক। উপহার দিয়েছে সতীসাধ্বী দ্বীনদার মা, যাদের থেকে জন্ম নিয়েছে বীর-বাহাদুর; যুদ্ধের ময়দানের বীর, বক্তৃতার মেম্বারের অনলবর্ষী বক্তা, চিন্তার জগতের অগ্রনায়ক। রাজত্ব ও অর্থ যাদের পদচুম্বন করত। আর তারাই ছিল পৃথিবীর কর্তা। তাদের হাতেই ছিল অর্ধ পৃথিবীর রাজত্ব। আর তোমরা ছিলে হে বোন! ঐ সকল বীর-বাহাদুরের জন্মদাতা মা, রত্মগর্ভা মহিয়সী জননী। l
.
[মা‘আন্নাস থেকে (পৃ. ১৬৯-১৭৬) ভাষান্তর : মুহাম্মাদ ফজলুল বারী] ___________________________________________________

[1] [কারো থেকে যদি কোনো পাপ প্রকাশ পায়, উচিত হল তা গোপন করা। কারণ, পাপের এলান আরো বড় পাপ। কিন্তু এসকল লেখক আল্লাহকেও ভয় করে না এবং এদের চক্ষু লজ্জাও থাকে না। -প্রবন্ধকার (ঠিক একাজটিই আমাদের দেশের এফ এম রেডিওগুলোতে হচ্ছে; ‘ফিজিক্যল রিলেশন’ নামে যিনার এলান হচ্ছে। দেখার যেন কেউ নেই! -অনুবাদক)]

Collected from: Mawaddah (পারিবারিক বন্ধন)

শেয়ার করুনঃ
যৌনশিক্ষা: বাচ্চাদের কীভাবে বলা যেতে পারে

যৌনশিক্ষা: বাচ্চাদের কীভাবে বলা যেতে পারে

(লিখেছেন- ডা. শামসুল আরেফীন)

.
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু। কেমন আছো তোমরা সবাই? আলহামদুলিল্লাহ। আমরা সবাই ভালো আছি। এত দুর্দিনেও আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ভালো রেখেছেন। চারিদিকে কত খুন-রাহাজানি-ধর্ষণ-অগ্নিকান্ড, এর মাঝেও আল্লাহ আমাদের আর আমাদের পরিবারের সবাইকে সুস্থ রেখেছেন, নিরাপদে রেখেছেন, এজন্য আল্লাহর লাখো কোটি শুকরিয়া। কী বলো তোমরা?
.
আজ আমরা খুব বড় একটা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করব। খুব বড় এবং খুব জটিল একটা সমস্যা। এই সমস্যাটা যদি আমরা এই ছোটবেলায়ই না ধরতে পারি, আমাদের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। আমরা যখন বড় হব, তখন সীমাহীন কষ্টে আমাদের জীবন ভরে যাবে, সে কষ্ট কাউকে বলাও যাবে না। এজন্য খুব মন দিয়ে আমাদের শুনতে হবে আজকের কথাগুলো। যত মন দিয়ে শুনবো, তত সমস্যাটা বুঝতে পারা যাবে। আর যত বুঝতে পারা যাবে, তত আমরা সেই মহাসমস্যা থেকে বাঁচতে পারব। শুনব তো সবাই?
.
তাহলে শুরু করা যাক। দেখো, আমরা ছোট ছিলাম। ছোট বেলায় আমরা খেলনা পছন্দ করতাম, রং-পেনসিল দিয়ে আঁকাআঁকি পছন্দ করতাম, কার্টুন পছন্দ করতাম। এরপর সেই বয়সটা চলে গেল। এখন তোমরা ক্রিকেট-ফুটবল পছন্দ কর। এখন তোমাকে বিল্ডিং সেট দিয়ে বসিয়ে দিলে ভালো লাগবে? লাগবে না। আমাদের পছন্দ পরিবর্তন হয়ে যায়, আবার আরেকটু বড় হলে এগুলোও ভালো লাগবে না। এর মানে, আমাদের মন-মানসিকতা বয়সের সাথে পরিবর্তন হয়।
.
শুধু তাই না। বয়সের সাথে আমাদের শরীরেও পরিবর্তন আসে। যেমন আমাদের শরীর সাইজে বড় হয়। তেমনি শরীরের ভিতরেও নানান পরিবর্তন হতে থাকে। ছেলেদের শরীরে বড় বড় পশম হয়, কণ্ঠস্বর মোটা হয়, হাড়গোড় শক্তপোক্ত হয়, শরীর পেশীবহুল হয়। তোমাদের কিন্তু এখন সেই মাঝামাঝি সময়টা চলছে। তোমরা এখন বাচ্চা থেকে পুরুষ মানুষ, বড়মানুষ হচ্ছো। এই সময়টাকে বলে ‘বয়ঃসন্ধিকাল’। বাসায় ছোটভাই আছে কার কার? খেয়াল করে দেখো তোমার আর তোমার ছোটভাইয়ের মধ্যে কত পার্থক্য। তাহলেই বুঝবে তুমি এখন বাচ্চা থেকে বড়মানুষ হচ্ছো। তোমার ঠোঁটের উপর গোঁফের রেখা আসছে, তোমার গলা মোটা হয়েছে। এসময় শরীরে খুব গন্ধ হয়, ঘামে খুব গন্ধ হয়, সেটা এসেছে, এটা চলে যাবে আরেকটু বড় হলে।
.
তবে এই পরিবর্তনগুলোর মাঝে আমাদের দুটো পরিবর্তন আছে, আমরা কাউকে বলতে পারি না, লজ্জা লাগে, তাই না? একটা হচ্ছে বাহুর নিচে বগলে আর নাভীর নিচে মোটা মোটা লোম ওঠে। এগুলো কেটে ফেলতে হয়, সপ্তাহে একবার শেভ করে ফেললে ভালো, শরীরে গন্ধ হয় না। নাহলে ঘাম আটকে থেকে গন্ধ হয়। প্রতি শুক্রবারে শেভ করার নিয়ম, আমাদের নবী আমাদের তাই শিখিয়েছেন। আর না কেটে ৪০ দিন পেরিয়ে গেলে গুনাহ লেখা হয়, শরীরে ঘাম আটকে থেকে গন্ধ হয়, কেউ কাছে আসতে চায় না, ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়া জমে ইনফেকশানও হতে পারে। আমরা প্রতি শুক্রবারে এটা শেভ করব, ঠিক আছে তো?
.
আরেকটা সমস্যা আমাদের হয়। প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে আঠালো একটা রসের মত আসে। একটু চাপ দিয়ে পেশাব করলে, বা পায়খানা একটু কষা হলে সেটা বেরিয়ে আসতে পারে। কিংবা কারো কারো রাতে ঘুমের ভেতরেও বেরিয়ে আসে, আসে কি না? এটাও খুব স্বাভাবিক, কোনো অসুখ না, একদম ভয়ের দুশ্চিন্তার কিছু নেই। তোমাদের হবে, আমাদের হয়েছে, আমাদের বাবাদের হয়েছে এই বয়সে। ঘুমের ভেতর স্পীডের সাথে বেরোলে গোসল করতে হয়। গোসলের আগ পর্যন্ত শরীর নাপাক থাকে, নামায পড়া যায় না, কুরআন ধরা যায় না, মসজিদে ঢুকা যায় না।
.
গোসলের নিয়ম হলো: প্রথমে ঐ জায়গা ধুয়ে নামাযের ওযুর মত ওযু করবে। এরপর গড়গড়াসহ কুলি করবে, গলার শেষ পর্যন্ত যেন পানি যায়। তারপর নাকের ভিতর পর্যন্ত পানি দেবে, পানি টেনে উঠাতে পারলে তো সবচেয়ে ভালো। আর লাস্টলি এমনভাবে গোসলটা করবে, যাতে প্রত্যেক লোমের নিচে পানি পৌঁছে, ডলে ডলে গোসল করবে। যাতে শরীরের কোথাও শুকনো না থাকে। আর যদি এমনি অন্য সময় স্পীডের সাথে না বেরোয়, এমনি চুঁইয়ে চুঁইয়ে আসে, তাহলে কেবল ওযু করলেই চলবে। এখন প্রশ্ন হল, এটা কেন আসে? প্রশ্ন আসছে তো?
.
চারপাশে দেখো। মানুষ দুই ধরনের: পুরুষ আর নারী। কেন দুই ধরনের? এক ধরনের কেন না? শুধু পুরুষ হতে পারত, কিংবা শুধু নারী? একপদের হলেই তো হতো? প্রশ্ন জাগে না মনে? এটা আল্লাহ তাআলার সিস্টেম। এই সিস্টেম আল্লাহ করে দিয়েছেন যাতে কিয়ামত পর্যন্ত দুটো মানুষ থেকে একটা মানুষ তৈরি হয়। একজন পুরুষ আর একজন নারী থেকে একটা নতুন মানুষ দুনিয়াতে আসে। এভাবে চলতে থাকবে। তোমার দাদা-দাদী থেকে তোমার বাবা এসেছেন। নানা-নানী থেকে তোমার আম্মু এসেছেন। আবার তোমার আব্বু-আম্মু থেকে তুমি দুনিয়াতে এসেছো। আবার তুমি-তোমার স্ত্রী থেকে আরেকটা নতুন মানুষ আসবে, যার এখন কোনো খোঁজ নেই। এভাবে তোমার বংশ চলতেই থাকবে। শুধু মানুষ না, অন্যান্য সব পশুপাখির ক্ষেত্রেও তাই। এই প্রক্রিয়াকে ইংরেজিতে বলে Reproduction, বাংলাতে ‘প্রজনন’। এটা কীভাবে হয়?
.
পুরুষ প্রাণীর শরীরে একটা বীজ তৈরি হয়, আর মেয়ে প্রাণীটার শরীরে তৈরি হয় জমি। জমিতে এই বীজ পৌঁছালে একটা নতুন সন্তান তৈরি হয়। যখন তুমি ছোট ছিলে তখন এই বীজ তৈরি হচ্ছিল না। এখন তুমি সেই বীজ তৈরির উপযুক্ত হচ্ছো, সেই বীজ তৈরি হওয়া শুরু হয়েছে তোমার শরীরে। আমাদের দেহে যে টেস্টিস/অণ্ডকোষ আছে, সেখানে তৈরি হয় এই বীজ। বীজ মজুদ রাখার একটা থলের মত জায়গাও আছে তোমার দেহে। যখন পেশাব পায়খানার সময় ঐ থলেতে চাপ পড়ে, তখন প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে একটু একটু করে বেরিয়ে আসে। এটাই ঐ আঠালো তরল, যা তুমি দেখো। কিংবা যখন তৈরি হয়ে হয়ে থলেটাতে আর ধরে না, তখন ঘুমের মাঝে উপচে বেরিয়ে আসে, যাকে বলে ‘স্বপ্নদোষ’। এটা বিলকুল কোন অসুখ না, অনেক বন্ধুবান্ধব তোমাকে বুঝাবে, এটা অসুখ। এটা কোনো অসুখই না, কোনো টেনশনের কিচ্ছু নাই। কিছুটা দুর্বল লাগতে পারে, সেজন্য তোমাকে যেটা করতে হবে, খাওয়া দাওয়া বাড়িয়ে দিতে হবে। প্রতিদিন ২ টা ডিম, দুধ, পুষ্টিকর খাবারদাবার খেতে হবে। ঠিক আছে না? বুঝতে পেরেছো সবাই? এটা নিয়ে টেনশন যদি কর, এই টেনশনটা ই শেষ পর্যন্ত রোগ হয়ে দাঁড়াবে। টেনশন না করলে তুমি অসুস্থ হবে না, সুতরাং কোনো টেনশান নয়।
.
এতক্ষণ পর্যন্ত আমরা কিন্তু নর্মাল বিষয়টা আলোচনা করলাম। এবার আমরা কিন্তু সমস্যায় প্রবেশ করছি। মন দিয়ে শুনো কিন্তু। আমাদের মাঝেই অনেক মানুষ, এমনকি তোমাদের বন্ধুরাও অনেকে এই সময়টা মারাত্মক এক খারাপ অভ্যাসে লিপ্ত হয়। তারা এই বীজ বের করে ফেলে ইচ্ছে করে। একবার থেকে বার বার। নিজ হাতে নিজের ভবিষ্যতকে শেষ করে দেয় তিলে তিলে। এই বয়সের বাজে অভ্যাস তাকে পরিণত বয়সে হতাশাগ্রস্ত একজন ব্যর্থ মানুষে পরিণত করে। একা একাই বেরিয়ে গেলে তা শরীরে খারাপ প্রভাব ফেলে না, কিন্তু নিজে ইচ্ছে করে বের করে ফেললে তা শরীরে সিরিয়াস ক্ষয় তৈরি করে। চলো দেখে নিই, এই সর্বনাশা অভ্যাসের ফলে কী কী দেখা দেয়:-
.
* শরীর দ্রুত ভেঙে পড়ে
* অকালে বুড়ো বুড়ো লাগে
* কোন কাজে আনন্দ লাগে না, সবসময় কেমন যেন বিমর্ষ লাগে।
* শরীর-মন চনমনে লাগে না, সতেজ থাকে না, ম্যাজমেজে লাগে
* কোমরে ব্যথা হয়
* মনোযোগ থাকে না পড়াশোনায়
* অল্পতেই ক্লান্ত লাগে
* পড়াশুনার রেজাল্ট খারাপ হতে থাকে, চেপে বসে হতাশা
* মাথাব্যথা করে
* চোখের দৃষ্টি কমে যেতে থাকে
* বীজ পাতলা হয়ে যায়, সন্তান হবার সম্ভাবনা কমে যায়
* লিঙ্গ নিস্তেজ হয়ে পড়ে
* লিঙ্গের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে, সোজা থাকে না
* স্ত্রীমিলনে আগ্রহ কমে
* স্ত্রীর চাহিদা মেটার আগেই দ্রুত বীর্যপাত হয়ে যায়
* দাম্পত্য জীবনে ব্যর্থ পুরুষ হিসেবে সাব্যস্ত হয়
* পারিবারিক কলহ, ডিভোর্স হতে পারে
* হতাশা একাকীত্ব জীবনকে ধ্বংস করে দেয়।
.
সুতরাং ছোট্টবন্ধুরা, তোমরা বুঝতে পারছ— এই ইচ্ছা করে বীজ বের করে ফেলাটা কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে। আর যদি এটা তুমি না কর, তাহলে শরীর থাকবে সতেজ, মন থাকে প্রফুল্ল। তোমার মনে হবে, যেন তুমি বিশ্ব জিতে নিতে পারো। এতোটা আত্মবিশ্বাস তোমার উপর ভর করবে। পড়াশুনা-চাকুরি-ক্যারিয়ার-দাম্পত্যজীবন সবখানে তুমি একজন সফল ব্যক্তি হবে। এখন তুমিই বেছে নাও তুমি কোনটা চাও। সবাই বলো আমরা কোনটা চাই?
.
শুধু তাই নয়, আমাদের মৃত্যুর পর এক অনন্ত জীবন শুরু। কবর-হাশর তারপর জান্নাত বা জাহান্নামের ফয়সালা হবে। এই নিজে ইচ্ছে করে বীজ বের করে ফেলা আল্লাহর কাছেও মারাত্মক বড় গুনাহ যাকে বলে কবীরা গুনাহ। অন্তর থেকে ফিরে আসার সংকল্প না করলে মানে তাওবা না করলে এই গুনাহ মাফ হয় না। বার বার কবীরা গুনাহ একসময় ঈমান চলে যাওয়ার কারণও হতে পারে। এজন্য জাহান্নামে কঠিন শাস্তির কথা এসেছে হাদিসে। এজন্য এমন কাজ, এমন অভ্যাস আমরা কেন করব যাতে দুনিয়াও শেষ হয়ে গেল, আখিরাতও শেষ হয়ে গেল। সবাই তাওবা করি আজ থেকে, আল্লাহ, আমরা এমন কাজ কখনো করব না। সবাই মন থেকে বলো। আর যাদের এই অভ্যাস আছে, তারাও তাওবা কর: বলো, আল্লাহ যা করেছি ভুল করেছি। আর কোনোদিন করবো না। বলেছো মনে মনে। মন থেকে আল্লাহকে বলতে হবে, তাঁকে কী ফাঁকি দেয়া যায়?
.
এবার আরেকটা মহাসমস্যার কথা তোমাদের শোনাবো। সেটা হলো: এই পুরুষ প্রজাতির বীজ নারী প্রজাতিতে ট্রান্সফারের জন্য একটা প্রক্রিয়া আছে। একটাই প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়েই সকল মানুষ জন্ম নেয়। পুরুষের জননাঙ্গ এবং নারীর জননাঙ্গকে একত্র করা হয় এবং বীজ দেয়া হয়। এই একটাই প্রক্রিয়া। পুরুষ নারীর প্রতি আকর্ষিত হবে, আর নারীর কাছে পুরুষদের ভালো লাগবে। এটাই নিয়ম। নারী-পুরুষের বাইরে যেকোন প্রকার জননাঙ্গ-কেন্দ্রিক আকর্ষণ হল অস্বাভাবিক ও অপরাধের কাজ। নারী-পুরুষের এই আকর্ষণ কাজে লাগিয়ে পশ্চিমা ধনী দেশগুলো কোটি কোটি ডলারের ব্যবসা করে, অশ্লীল ছবি-সিনেমার ব্যবসা। ইন্টারনেট ভর্তি করে রেখেছে এসব বাজে বাজে ছবিতে-ভিডিওতে। এগুলো যুবকেরা দেদারসে দেখছে, আর নিজের জীবনকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। কীভাবে সারা দুনিয়ায় যুবকেরা ধ্বংস হচ্ছে দেখবে? দেখো—
.
  •  অশ্লীল ছবি ভিডিওকে ইংরেজিতে বলে ‘পর্ন’। এখানে তারা নারী জাতিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে। নারীকে কেবলই পুরুষের ইচ্ছার দাসী হিসেবে দেখায়। যেন তার নিজের কোনো ইচ্ছে নেই, কোনো দাম নেই। যেন সে মানুষ না, কোনো বস্তু। যে এগুলো দেখে তার মনেও মেয়েদের সম্পর্কে বাজে বাজে ধারণা জেঁকে বসে।
  • এগুলোতে মানুষের শরীর সম্পর্কেও ভুল ধারণা জন্মে। মেকাপ করে মানুষের শরীর একদম নিখুঁত করে তোলে। ফলে বিয়ের পর যখন সে নিজের স্ত্রীর শরীর অত নিখুঁত পায় না, তখন পরিবারে অশান্তি শুরু হয়। পর্নে আসক্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক চিন্তার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
  • নিজেকে নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগে। নিজের শরীর, নিজের মিলন নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারে না,অহেতুক হতাশায় ভোগে। সে পর্নকে বাস্তব মনে করতে থাকে, অথচ ওগুলো সব অভিনয়।
  • পর্ন তাকে বার বার বীজ অপচয় করতে বাধ্য করে। পর্ন দেখে সে উত্তেজিত হয়, আর বার বার বীজ বের করে। ফলে তার শরীর-মন সব শেষ করে ফেলে।
  • পর্ন প্রচুর সময় নিয়ে নেয়। এটা নেশার মত। আজ যা দেখেছে। কাল তা ভালো লাগে না, আরেকটু বেশি মাত্রার প্রয়োজন হয়। তারপর আরেকটু বেশি। কাংক্ষিত কন্টেন্ট পেতে সে ইন্টারনেটে বেশি সময় দিতে থাকে। তার পড়াশুনা, চাকরি সবখানের পারফর্মেন্স খারাপ হতে থাকে। হতাশা তাকে গ্রাস করে বসে।
  • তোমরা পেপারে ‘ধর্ষণ’ শব্দটা খুব দেখছো ইদানীং। পেপার পড় কে কে? জানো এটা কী? এটা হচ্ছে— বীজ দেবার জন্য যে কাজটা নিজের স্ত্রীর সাথে করার কথা, সেই কাজটা অন্য মেয়ের সাথে জোর করে করা। এটা কঠিন অপরাধ ও গুনাহের কাজ। আসলে নিজ স্ত্রী ছাড়া যেকোন নারীকে এই বীজ দেয়াটাই খারাপ কাজ, কঠিন গুনাহ। আখিরাতে এজন্য কঠিন আজাব ভোগ করতে হবে, কে জানে কতদিন! সেটা মেয়েটার ইচ্ছাতেই হোক, আর অনিচ্ছাতেই হোক। তো পর্নের নেশায় যারা আক্রান্ত, তারা এই কাজের জন্য পাগল হয়ে যায়, নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। অন্য কারো ওপর আক্রমণ চালায় নিজের চাহিদা পূরণ করার জন্য। একবার চিন্তা কর, পেপারে তোমার ছবি এসে গেছে, তুমি অপরাধটা করেছো, তোমার বাবা-মায়ের চেহারাটা কেমন হবে, তারা কত লজ্জায় পড়ে যাবে, কতটা কষ্ট পাবে। এজন্য এসো আজ আমরা শপথ করি, আমরা কোনোদিন এই জিনিস দেখব না। কৌতূহলের বশেও না, কারণ বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এটা একটা নেশা। একবার যে দেখে সে আর ছাড়তে পারে না। তার দুনিয়ায় সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়, আর আখিরাতে তো কতকাল আগুনে জ্বলতে হবে তার ঠিক নেই, সেই আগুন দুনিয়ার আগুনের চেয়েও ৭০ গুণ তাপ বেশি হবে। যার যারা দেখেছো, এসো তাওবা করি, আল্লাহর কাছে ফিরে আসি। আয় আল্লাহ, আমাদের মাফ করে দিন। আমরা আর কোনোদিন এই সর্বনাশা জিনিস দেখব না। আপনি আমাদেরকে রক্ষা করেন। আমীন।
.
এখন এই যে তোমরা লেখাপড়া করছো। কেন? কারণ যে এখন খেলাধুলা কম করে লেখাপড়া বেশি বেশি করবে, সে পরে বৌবাচ্চা নিয়ে সুখে থাকবে, তাইতো? একইরকম ভাবে, এখন যে এই দুই জিনিস থেকে বেঁচে থাকবে, নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে। সে পরে মহাক্ষতি থেকে বেঁচে যাবে। আর যে খেলতামাশায় মত্ত হবে, পর্ন দেখা আর ইচ্ছা করে বীজ বের করার গুনাহে লিপ্ত হতেই থাকবে। তার পারিবারিক জীবন শেষ হবে, সেই চিন্তায় চিন্তায় সে নিজেও শেষ হয়ে যাবে। দুনিয়াই হয়ে যাবে তার দোযখ, আর মৃত্যুর পর দোযখ তো আছেই। এজন্য আজ আমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা করি, আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা কর এই কাজ থেকে। আমাদের তাওবা কবুল কর।
শেয়ার করুনঃ