যদি মন কাঁদে…

যদি মন কাঁদে…

একটা চিঠি লিখছি। চিঠিটা প্রাক্তন এক রোমিওর উদ্দেশ্যে, হ্যা প্রাক্তন, তা এখন অতীত আলহামদুলিল্লাহ… ভাইটা কোন প্লেবয় গোছের কেউ ছিল না যে দুইদিন পরপর গার্লফ্রেন্ড বদলাতো বা বন্ধুদের ভেতর রসিয়ে মেয়ে নিয়ে অশ্লীল আড্ডা দিত, যার কাছে প্রেম কিনা স্রেফ টাইম পাস বা ক্ষণিকের ভোগ। সে ছিল নিপাট নিরীহ এক রোমিও, শয়তানের ধোঁকায় পড়ে কোন এক সময় বন্ধু থেকে প্রেমিকা বনে যাওয়া কাউকে বউ ভেবে ভালোবাসা অপাত্রে দান করেছে, এক অদৃশ্য কমিটমেন্টে নিজেকে জড়িয়ে রঙিন স্বপ্নের বীজ বুনেছে এবং শেষমেশ অন্ধকার গলিতে ঘুরপাক খেতে খেতে কোনোভাবে হেদায়েতের আলো পেয়েছে। এমনই এক অচেনা অজানা রোমিওকে উদ্দেশ্য করে আজ লিখছি যে চিরতরে বিদায় জানাতে পেরেছে এ আকর্ষণকে…হৃদয়কে চুরমার করে দেয়া এক আকর্ষণ। জাহিলিয়াতকে বিদায় জানিয়ে তীব্র অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে আল্লাহ্‌র মনোনীত দ্বীনে ফিরে আসা সে ভাইকে উদ্দেশ্য করেই কিছু কথা বলবো ইনশাআল্লাহ্‌।

ভাই…তওবা, হিদায়াহ – এ এক অমূল্য রত্ন। দুনিয়া বিক্রি করেও যা কেনা সম্ভব না। তুমি তা পেয়েছো আল্লাহ্‌র দয়ায়। কেন পেয়েছো? হয়তো কোন কল্যাণ ছিল। আল্লাহু আ’লাম। প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছো ঠিকই কিন্তু হয়তো মাঝেমাঝে আল্লাহ্‌র ভয়ে ভেতরটা উশখুশ করতো তোমার, রাতে যখন বিছানায় এলিয়ে চোখ বুজতে, শান্তি পেতে না, অজানা এক ভয় গ্রাস করে বসতো- আচ্ছা, যদি এখন মরে যাই? কি জবাব দিবো? কবরে নাকি অনেক শাস্তি আছে সাপ বিচ্ছু কিলবিল করবে শরীরে, সহ্য করতে পারবো কি?

হয়তো তোমার অন্তরে বক্রতা ছিল না, প্রেম করেছো কিন্তু এথিক্স ঠিক রাখতে চাইতে- এত কথা কিসের ছেলেদের সাথে? ওই ছেলেটা ক্লাসে তোমার পাশে বসলো কেন? এত চ্যাট করার কি আছে? আমার মনে হয় তোমার হিজাব পড়া উচিত…  (যেটাকে আমরা গাইরত বলতে পারি)। তীব্র অপরাধবোধ ঘিরে ধরতো কি যখন তুমি তোমার প্রিয়তমার পাশে বসে রিকশায় ঘুরতে আর মসজিদ থেকে সমবয়সী কাউকে নামাজ পড়ে বের হতে দেখতে? হয়তোবা তুমি বারবার চেয়েছিলে বের হয়ে আসতে চাইতে, আল্লাহ্‌র কাছে মাঝেমাঝে দুয়া করতে কিন্তু ছয় বছরের রিলেশন আর মেয়েটার চোখের পানি ফিরতে দিচ্ছিল না… হয়তো আল্লাহ্‌ তোমার সে দুয়া বা অনুশোচনাবোধ কবুল করে হিদায়াতের পথ দেখিয়েছেন আর তুমি চোখ বন্ধ করে উনার কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে আজ ফিরে এসেছো। স্বাগতম ভাই তোমায়।

স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। হিদায়াত তোমার স্বাধীনতা, শয়তানের বিছানো জাল থেকে মুক্তির স্বাধীনতা, কিন্তু এই স্বাধীন হবার সার্টিফিকেট সবসময় তোমার হাতে থাকবে এমনটা ভেবে পায়ের উপর পা তুলে ঘুমালে ভুল করবে। শয়তান সদা তৎপর এই মূল্যবান রত্নকে কেড়ে নিতে। নবীজি (সাঃ) এর সময়েই তো কিছু লোকের হিদায়াত পেয়ে পথভ্রষ্টটার নজির দেখা গেছে। যুগ যুগ ধরে কত আলেম-বুজুর্গরা পা হড়কে স্লিপ কাটলো শয়তানের ধোঁকায়! তাহলে তুমি আমি এত নিশ্চিন্তে দিন কাটাচ্ছি কিভাবে?

আমি মোটামোটি শিওর যারা খাস দিলে তওবা করে ফিরে আসে তারা আর কখনোই ওই পথে ফিরে যেতে চায় না। কারন তারা এখন জানে বাইরে থেকে চোখ ধাঁধানো হৃদয় কাপানো সৌন্দর্য আসলে শয়তানের গিলানো এক বিষ। তুমিও নিশ্চয়ই চাও না আবার জাহিলিয়াতে ফিরে যেতে? তাই শোন, তওবা করে ফিরে আসা রোমিও থেকে আবদুল্লাহ বনে যাওয়া ভাই তোমাকেই বলছি, Do not take this gift of Allah for granted. তোমাকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন শয়তান তোমার ভেতর কুচিন্তার মেঘ জমা করতে না পারে। যেন সে তোমার ভোলা মন নিয়ে আবার ছিনিমিনি খেলতে না পারে। আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে সফর তো কেবল শুরু।

প্রেম-ভালোবাসার স্মৃতিকে পুরোপুরি নষ্ট করা যায় না, দমিয়ে রাখতে হয়। দমিয়ে রাখতে হয় অতীতের টুকরো টুকরো গল্পগুলা। যে গল্পগুলো এখন মনে পড়লে আতংক আর প্রশান্তির এক অদ্ভুত অনুভুতি যোগায়। আতংক এই অর্থে যে, তার সাথে কাটানো মুহুর্তগুলো, শিহরণ জাগানো স্পর্শ, আহ্লাদভরা কণ্ঠ, চোখের ভাষায় পড়ে ফেলা অভিমান – সবকিছুই স্রেফ রবের আক্রোশ আর অসন্তুষ্টিই এনেছে। কি করেছি আমি? ছিঃ! ভয় ঘিরে ধরে যখন মনে পড়ে, আমিও তো ওই যিনাকারিদের একজন হতে পারতাম যাদের কবরে আগুনের খনিতে পুড়ানো হচ্ছে শাস্তিস্বরূপ। ঠিক এরপরই আসে প্রশান্তি। আল্লাহ্‌ আমাকে রক্ষা করেছেন! আমি তওবা করে ফিরে এসেছি, ফিরে এসেছি এমন এক বাহুডোর থেকে যেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব মনে হচ্ছিল। এই অনুভতির পর আসে শুকরিয়া। আস্তাঘফিরুল্লাহ…আলহামদুলিল্লাহ…

তো যা বলছিলাম ফেলে আসা প্রেমের মুহূর্তগুলোকে এত সহজে ভুলা যায় না, কিন্তু দমিয়ে রাখা যায়। রাখা যায় বললে হবে না, আসলে দমিয়ে রাখতেই হবে, কবরচাপা দিতে হবে। শয়তান যেন সে কবর খুড়তে না পারে। সে যদি এক মুঠ মাটি সরায়, তোমাকে আরও দশ মুঠ ঠেসে দিতে হবে। আমি এখানে কিছু পয়েন্ট তুলে ধরার চেষ্টা করবো, কিছু সিনারিও বা শয়তানের ফাঁদ এবং নিজেকে সে ফাঁদ থেকে ডিফেন্ড করার কিছু কৌশল। হয়তো কিছু ফাঁদ বাদ পড়ে যেতে পারে, তুমি ফিরতি চিঠিতে আমাকে জানিও ইনশাআল্লাহ্‌।

ভাই, আমি শুরুতে ধরে নিচ্ছি তুমি সবরকম গুনাহ থেকে আল্লাহ্‌র কাছে তওবা করে নিয়েছো। তার মানে প্রেমকে বিদায় বলেছো ঠিকই, পাশাপাশি তুমি আর গান শুনো না, দিনকে রাত বানিয়ে আর মুভি-সিরিজ দেখো না, ফ্রি-মিক্সিং থেকে দূরে থাকো, চোখের পর্দা করে চলো। যদি এগুলো না করে থাকো, তাহলে তুমি অনেক বড় বিপদে আছো। তোমাকে সাহায্য করা আমার পক্ষে সম্ভব না।

ভোগবাদীদের ব্যবসার মূল কেন্দ্রই হচ্ছে ফাহেশাত, অশ্লীলতা, হারাম প্রেম, উদ্দম যৌনতা। তুমি কখনোই ভেবো না শুধু ভালোবাসার মায়া ত্যাগ করা মানেই ফিরে আসা। তোমাকে সবরকম মেয়েঘটিত মায়া (যা হারাম) ত্যাগ করতে হবে। তা না হলে হলিউড-বলিউড-ঢালিউড, আইটেম সং, সিরিজ, পর্নোগ্রাফি, যৌনতার হাতছানি তোমাকে পাগল করে দিবে। বন্ধু বেশে সান্ত্বনা দিতে আসা জাস্ট ফ্রেন্ডদের সাথে মেলামেশায় তুমি হয়ে পড়বে স্মৃতিকাতর, তোমার প্রেমিকার কথা মনে করিয়ে দিবে। নেক সুরতে শয়তানের ধোঁকায় পড়ে হিজাবি-নিকাবিদের সাথে কমিউনিকেট করাকে not a big deal মনে হবে। এভাবে আস্তে আস্তে তুমি আবার শয়তানের আঙ্গুল নাচানো পুতুলে পরিণত হবে। তুমি হয়ে পড়বে দুর্বল। অপরাধকে জাস্টিফাই করে বসবে। এভাবে আবার হারিয়ে যাবে! হারিয়ে যাবে সেই অন্ধকার গলিতে যা থেকে তোমায় বের করে এনেছিলেন আল্লাহ্‌ সুবহান ওয়া তা’লা।

এখন মুল আলোচনা শুরু করা যাক। প্রেমিকার স্মৃতিগুলো ভুলে থাকার জন্য তোমাকে আগে চৌকশ গোয়েন্দার মত আইডেন্টিফাই করতে হবে কেন স্মৃতিগুলো বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখো কী কী তোমাকে ট্রিগার করছে, হারাম মুহূর্তগুলোকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। তারপর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিবে। আমি তেমনই শয়তানের কিছু কৌশলের কথা উল্লেখ করছি যা কম-বেশি সবাইকেই পীড়া দেয়।

 

তাহারেই পড়ে মনে…

  • প্রেমিকার দেয়া গিফট, চিঠি, খুদে বার্তা – আল্লাহ্‌র নামে চিঠিগুলা পুড়িয়ে বা বাথরুমে নিয়ে ফ্লাশ করে দাও। প্রেমিকার নাম্বার, তার বাপ-মা-ভাই-বোনের নাম্বার সব ব্লক করে দিতে হবে, দরকার হলে সিম বদলে ফেলো। গিফটগুলা নষ্ট করে ফেলো বা কাউকে দান করে দাও। যত দামিই হোক না কেন। টি-শার্ট/ঘড়ি/মানিব্যাগ/নোটবুক যাই হোক না কেন কোনটাই আর নিজের কাছে রাখবে না, ব্যবহার করবে না। প্রেমিকা মোবাইল দিয়েছিল? (রেয়ার কেস যদিও), তাও রাখা যাবে না। দোকানে বিক্রি করে ওই টাকাটা কোনো মিসকিনকে দান করে দাও। আইডিয়া বুঝলে তো? তাতেই হবে।
    .
  • সোশ্যাল মিডিয়ায়- তাকে ব্লক করে দিতে হবে, মেসেজগুলা ডিলেট করে দিতে হবে। নিজের পুরানো পোস্টগুলা ডিলেট দিয়ে দিও। দরকার হলে আইডিই ডিলেট দিয়ে নতুন করে খুলো। পুরানো আইডিতে প্রেমিকার সাথে কত কথা, কত ছবি, কত স্মৃতি! এখন তো তওবা করেছো, কি দরকার পুরানো পাপগুলাকে ওপেন প্লেসে ছড়িয়ে রাখার?
    .
  • Meeting Place- যতটুকু সম্ভব ওই গলি, রাস্তা, ফাস্ট ফুড বা কফিশপের দোকানগুলা এভয়েড করতে হবে যা তোমাকে পুরানো দিনের কথা মনে করিয়ে দিবে। একান্তই এভয়েড করতে না পারলে তওবা করো, আল্লাহ্‌র নিয়ামতের কথা স্মরণ করে শুকরিয়া আদায় করো। আর ভুলেও ভালেন্টাইন্স ডে, নববর্ষ, নিউ ইয়ার বা হাবিজাবি যত দিন আছে এসব দিনে কাজ না থাকলে বাহিরে বের হবে না, কাপলদের আড্ডাখানায় যাবে না, ভার্সিটির ক্লাস শেষেই চলে আসবে। হারামকে ঘৃণা করতে শেখো। আফসোস নিজের জন্য না, তাদের জন্য করো যারা এখনো আল্লাহ্‌কে চিনতে পারলো না, উনাকে ভালোবেসে ফিরে আসতে পারলো না। পড়ে ফেল এই লিখাটি- https://tinyurl.com/y232rv6a
    .
  • ফ্রেন্ড সার্কেল – আরেকটা ফিতনাহ। তোমার চার-পাঁচ বছরের রিলেশন। বন্ধুরা জানবে না এটা সম্ভব না। এখন তো তুমি তওবা করেছো, রিলেশন নেই, কবিরা গুনাহগুলা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছো, ফ্রি-মিক্সিং আড্ডায় যাও না। তারপরও ওরা ঠিকই কথায় কথায় তোমার প্রেমিকার কথা তুলবে, জানিস ওর তো বিয়ের কথা চলছে… আরেহ দোস্ত অনেকদিন পর দেখা তোর সাথে? কেমন আছিস? তোর রিলেশন কেমন চলতেছে? তুমি এগুলা শুনবে আর ভেতরে ভেতরে কষ্টে দগ্ধ হবে। তারচেয়ে বরং তওবা করা নিয়ে একটা Personal Statement লিখে ফেলো। এরপর তোমার ফ্রেন্ড সার্কেলের যারা জানতো এই রিলেশনের ব্যাপারে সবাইকে ফরোয়ার্ড করে দাও। যাতে আর কেউ কখনো দেখা হলে বা কথা প্রসঙ্গে অতীতের জাহিলিয়াতের কথা মনে করিয়ে না দেয়, ঠাট্টা না করে, খোঁটা না দেয়। দরকার হলে ফ্রেন্ডসার্কেলের পরিধি ছোট করে নিয়ে আসো। জাহেল বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে সময় নষ্ট না করে বরং দ্বীনি বন্ধু বা মজলিসে সময় দাও। আল্লাহ্‌র কাছে দুয়া করো যেন এমন বন্ধু বা সাথী জুটিয়ে দেয় যে কিনা জান্নাতে গিয়ে তোমার কথা স্মরণ করবে, তোমার হালত জানতে চাইবে, তোমাকে না দেখতে পেলে আল্লাহ্‌র কাছে ফরিয়াদ করবে যেন তোমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে নিয়ে আসেন তিনি। (তোমার পরিবারেও যদি রিলেশনের কথা জেনে থাকে, স্পষ্ট বলে দাও- তা এখন অতীত।)

 

শুন্যতা ও অবসর

অবসর সময় যেমন নিয়ামত- যদি কাজে লাগানো যায়, তেমনি ফিতনাহর কারণও বটে। একাকী অবসরের মুহূর্তগুলা ফ্ল্যাশব্যাক করাবে অতীতের দিনগুলার কথা। আফসোস জেঁকে বসবে, না চাইতেও অনেক কিছু ফিরে পেতে ইচ্ছে করবে। শয়তানের সবচেয়ে বড় ফাঁদ হলো এই একাকী কাটানো বেকার সময়গুলো। সাবধান। ফাঁদে পা দিও না। নিজেকে কোন না কোন প্রডাক্টিভ কাজে ব্যস্ত রাখো।

আচ্ছা তুমি তো জাহেল ছিলে, দুনিয়ার রং তামাশায় মত্ত ছিলে তুমি! কোরআন পড়তে পারো? ছোটবেলায় শিখেছিলে এখন ভুলে গেছো? তাহলে কেন নতুন করে শিখছো না? এই অবসর সময়ের সদ্ব্যবহার কেন করছো না? কোরআন পড়া শিখো। এখন তো অনলাইনেই ওস্তাদরা শিখান মাশাআল্লাহ। আরেকটা কাজ করবে… মন খারাপ থাকলে ‘রিয়াজুস সালেহীন’ বইটা পড়া শুরু করবে। মন ভালো করে দিবে চমৎকার হাদিসগুলো। পরকাল নিয়ে ভাবো। ‘পরকালের পথে যাত্রা’ অডিও সিরিজ অবশ্যই শুনবে। নবীজি (সাঃ) এর জীবনী পড়। আল্লাহ্‌র জন্য, নবীজির ভালোবাসায় সাহাবীদের আত্মত্যাগের কথা চিন্তা কর। তোমার এই প্রেম-বিসর্জন কিন্তু খুবই সামান্য উনাদের ত্যাগের কাছে। বেশি বেশি বই পড়বে। এতদিন তো গাফেল ছিলে, এখন ভালোভাবে ইসলাম, ইমান, আখলাক, হারাম-হালালের সীমারেখা এ সব বিষয়ে বিশুদ্ধ সূত্র থেকে জেনে নাও।  দেখলে কত কাজ বাকি? আর তুমি হাপিত্যেশ করে মরছো তুচ্ছ মোহে? আর সম্ভব হলে খুব দ্রুত বিয়ে করে নাও। একাকীত্বের যন্ত্রণা দূর হয়ে যাবে। বাসায় বিয়ের কথা কীভাবে বলবে,কীভাবেই বা নিজেকে বিয়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করবে তার জন্য ফলো করতে পারো এই সিরিজটি- তুমি এক দূরতর দ্বীপ (প্রথম কিস্তি , দ্বিতীয় কিস্তি, তৃতীয় কিস্তি, চতুর্থ কিস্তি)।

  • অবসরে এমন কোন বই পড়া যাবে না যা যৌন সুড়সুড়ি মার্কা প্রেমের জয়গান গেয়ে বেড়ায়। প্রেম উপন্যাস/ ছোট গল্প – সব বাদ। এগুলা মনে হাহাকার তৈরি করবে, শয়তানের কাজকে সহজ করে দিবে। হারামকে নর্মালাইজ করে এমন কোন কিছুই পড়বে না, দেখবে না, শুনবে না। তাদের প্রমোট করবে না।
    .
  • ফেসবুক জগতকে ফিল্টার করে রাখো। এমন সব বন্ধু, পেজ, গ্রুপ সব ফিল্টার করে রাখো (আনফলো, আনফ্রেন্ড, আনলাইক) যারা মেয়েদের ছবি/ভিডিও/ভয়েস আপ্লোড দেয় (হোক তা হিজাব, নিকাব- সবই তোমার জন্য ফিতনা, দূরে থাকো এসব থেকে)। গাইরে মাহরাম কাউকে ফ্রেন্ডলিস্টে রাখবে না, চ্যাট করবে না। ভুলে যেও না, তুমি তওবা করেছো সবরকম হারাম থেকে। ফ্রেন্ডলিস্টে এমন কাউকে ফলো করবে না যারা তাদের প্রেমিকা বা বউ এর সাথে ছবি আপ্লোড দেয়, চেক-ইন দেয়, খুনসুটির গল্প শেয়ার করে। এগুলা তোমার বুকের বাম পাশের চিনচিনে ব্যাথা আরও বাড়িয়েই দিবে। আমি তো অবাক হই কিছু ভাই-বোনদের কান্ড দেখলে, যারা ইউটিউব চ্যানেল খুলে হাসবেন্ড-ওয়াইফ এর খুনসুটি মার্কা ভিডিও শেয়ার করছে আর দেদারসে লাইক কামাচ্ছে। এগুলা বেহায়াপনার নিত্য নতুন ভার্শন। এগুলো থেকে দূরে থাকবে। তুমিও যখন একসময় বিয়ে করবে, যত ইচ্ছা খুনসুটি করবে তোমার জীবনসঙ্গিনীর সাথে, তা করা বরং উত্তম, কিন্তু একান্তে। কিন্তু কখনোই এগুলা পাবলিক প্লেসে আনবে না। সীমালঙ্ঘন করো না।
    .
  • সদ্য হারাম রিলেশন থেকে বের হয়ে আসলে বিয়ে নিয়ে চিন্তা করতে একদমই ইচ্ছে করে না, ওসব কিছুই ভালো লাগবে না, কিন্তু তা সাময়িক। কিছু সময় পার হলে দেখবে বিয়ে করার জন্য পাগল হয়ে উঠছো। বিয়ে করতে পারলে তো খুবই ভালো। আর করতে না পারলে কান্নাকাটি বাদ দাও। বিয়ে/প্রেম নিয়ে গল্প-কবিতা পড়া, শেয়ার দেয়া এসব বন্ধ কর। সবর কর, রোজা রাখো। যেখানে যার সাথে কথা বললে বিয়ে করা সহজ হবে সেখানে তার সাথে আলাপ করো। বিয়ের জন্য নিজেকে শারীরিক-মানসিক-আর্থিকভাবে প্রস্তুত করে নাও।
    .
  • শরীর ও মনকে চাঙ্গা রাখতে হবে, ফুরফুরে রাখতে হবে যেন কোনোভাবেই বিষণ্ণতা পেয়ে না বসে। মসজিদে গিয়ে পাঁচওয়াক্ত নামাজ পড়লে মন ফ্রেশ হয়ে যাবে। ফজরের নামাজ জামাআতে আদায় করে সরাসরি বাসায় না ঢুকে একটু হাঁটো বা দৌড়াও। সে সময়ের বাতাস দিনের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে পবিত্র থাকে। ছোটো ভাইবোন কাজিনদের সাথে ( অবশ্যই ছেলে কাজিন) সময় কাটাতে হবে। বাবা মার সাথে সময় কাটাও। দেখো কতো ভালোবাসা নিয়ে বসে আছেন তাঁরা তোমার জন্য।বাসা থেকে দূরে থাকলে কথা বল ফোনে। দুপরে একটু ঘুমিয়ে বিকেলের দিকে খেলতে যাও মাঠে। সমাজসেবা মূলক কাজে সাহায্য করা, ছাদে বাগান করা, বিড়াল,পাখি, খরগোশ পোষা মানে হবি টাইপের কিছুতে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে। সপ্তাহে একদিন কোথাও থেকে ঘুরে আসো নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে সবসময়। যেন ওইসব ছাইপাঁশ প্রেমের স্মৃতি তোমার আশেপাশেও ভিড়তে না পারে।
    .
  • কোন দাওয়াই খেয়ে কাজ না করলে স্রেফ তোমার জান্নাতী স্ত্রীদের কথা ভাববে যখন অতীতের প্রেম বেয়াড়ার মত কড়া নাড়বে মনের পর্দায়। কেনই বা ভাববে না? তোমার জান্নাতি স্ত্রীগণ, মুক্তার ন্যায় উজ্জ্বল যাদের সৌন্দর্য, যাদের কোন জিন আর মানুষ স্পর্শ করেনি, তারা যে প্রতিনিয়ত তোমার কথা ভাবে, তোমার অপেক্ষায় থাকে তা কি তুমি জানো না? রসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন: যখন কোন মহিলা তার স্বামীকে কোন কষ্ট দেয়, তখন আয়তনয়না হুরদের মধ্য থেকে মুমিন স্ত্রী বলবে যে, আল্লাহ তোমকে ধ্বংস করুন, তাকে কষ্ট দিও না। সে অল্প দিনের জন্য তোমার নিকট আছে অতি শীঘ্রই সে তোমাদেরকে ছেড়ে চলে আসবে । (ইবনে মাযাহ, আলবানী ,১ম খন্ড, হা: নং১৬৩৭)। ভাই, তুমি কি এমন পবিত্র রমণীদের কথা ভাববে না যারা তোমাকে ছাড়া আর কারও দিকে চোখ তুলেও তাকাবে না? যারা তোমারই সমবয়সী হবে, কখনও মুটিয়ে যাবে না, কখনও তার আকর্ষণ হারাবে না, বরং বৃদ্ধিই পাবে দিনকে দিন? তুমি কি এমন কারো সাথেই থাকতে চাও না? অনন্তকাল…

 

অনেক বড় বড় উপদেশ দিয়ে ফেললাম! মন খারাপ করো না। আমি জানি এত ‘মানতে হবে’, ‘করতে হবে’ তোমার জন্য কত কঠিন… মাত্রই তো ফিরে এসেছো। আমি এজন্যই শুরুতে বলেছি, আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির পথে যাত্রা কেবল শুরু। কখনো ধৈর্য হারা হবে না, কখনো ভাববে না ‘আমি পারবো না’। গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যাও, দেখবে আল্লাহ্‌ সাহায্য করবে। আল্লাহ্‌ যে সাহায্য করেন, অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করেন- তুমি এ কথা কিন্তু খুব ভালোভাবেই বিশ্বাস কর এখন, তাইনা? দুনিয়া তো আমাদের জন্য কারাগার, কারাগারে কি সুখে থাকা যায় ভাই? এখানে পদে পদে পরীক্ষা থাকবে, কষ্ট থাকবে, না পাওয়ার বেদনা থাকবে। এগুলো মেনে নাও। আল্লাহ্‌র জন্য, উনাকে ভালোবেসে, উনার সন্তুষ্টির আশায়। আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি মানেই তো জান্নাত। সব না-পাওয়ার আবদার না হয় জান্নাতে গিয়েই কইরো।

জাহান্নাম থেকে একেবারে শেষে যে মুসলিম ব্যক্তি বের হবে সাজাভোগ শেষে তাকে যখন জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে তখন আল্লাহ্‌ বলবেন, ‘চাও।’ সে চাইতে থাকবে। কিছু চাইতে ভুলে গেলে স্বয়ং আল্লাহ তাকে বিভিন্ন জিনিসের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন! আর বলবেন, ‘এটা চাও, ওটা চাও।’ এভাবে আল্লাহ তাকে স্মরণ করাতে থাকবেন, আর লোকটি চাইতে থাকবে। অবশেষে আর কিছুই থাকবে না। তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, ‘তোমার সব ইচ্ছা পূর্ণ করা হলো। তার সাথে আরও দশগুণ (তোমাকে দেয়া হলো)’। [বুখারী, আযান অধ্যায়, ১/৭৬৯; ইসলামিক ফাউণ্ডেশন]

অপূর্ণতায়, নষ্ট কষ্টে কয়েকটা দিন না হয় যাক, জান্নাতের প্রথম পদক্ষেপই তো বৈশাখী ঝড়ো হাওয়ার মতো ভাসিয়ে নিয়ে যাব সকল দুঃখ, ভুলিয়ে দিবে সকল অপ্রাপ্তির বেদনা।

তাইনা ?

শেয়ার করুনঃ
ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (দশম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (দশম পর্ব)

৪৪. বিয়ে করতে চাই। বাসায় কীভাবে বলব?

‘তুমি এক দূরতর দ্বীপ’ সিরিজটা ফলো করুন ।

https://tinyurl.com/y5jjwyhk
https://tinyurl.com/y2qnlgj6
https://tinyurl.com/y4nawtfx
https://tinyurl.com/y2lzlwvk

এছাড়া পড়ুন-

তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ (প্রথম কিস্তি)- https://bit.ly/2x9b6Ky
তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ (দ্বিতীয় কিস্তি) – https://bit.ly/2N7VFfu
তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ (তৃতীয় কিস্তি)- https://bit.ly/2NzWn1h
———-

৪৫. আমি একজন মেয়েকে খুব পছন্দ করি। তাকে নিজের করে পাবার জন্য অনেক দু’আ করেছি। কিন্তু পাচ্ছিনা। এই হতাশা থেকেই পড়াশোনা হয়না, মাস্টারবেট করি, পর্ন দেখি।

পড়ুন-

উত্তরের অপেক্ষায় – https://bit.ly/2NFlzXn

‘দুশো তিপ্পান্নতম প্রেম’ সিরিজটা অবশ্যই পড়বেন।
https://tinyurl.com/y33vksbh
https://tinyurl.com/y6qfdsqv
https://tinyurl.com/y5aujvsm
.
সেই সাথে মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটাও পড়তে হবে ইনশা আল্লাহ্‌।
.
ভাই দেখেন আপনি আসলেই যদি তাকে চাইতেন তাহলে তাকে পাওয়ার যোগ্যতাও অর্জন করতেন। জানপ্রাণ খাটিয়ে লড়াই করতেন। তার বাবার কাছ থেকে তাকে চেয়ে নেওয়ার জন্য নিজে আগে যোগ্য হয়ে উঠতেন। রাস্তার পোলাপানের মতো প্রেম নামক স্বস্তা জিনিস চাইতেন না।
———-

৪৬. ব্রেকাপ হয়েছে। আর কিছুই ভালো লাগছেনা। মনের দুঃখে পর্ন দেখতেছি, মাস্টারবেট করতেছি

‘দুশো তিপ্পান্নতম প্রেম’ সিরিজটা পড়বেন।
.
এছাড়া পড়বেন-

আততায়ী ভালোবাসা-https://bit.ly/2QpXqTn
শান্তি পাব কোথায় গিয়ে – https://bit.ly/2x6IIJ8

এই লেকচার সিরিজ শুনবেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত- www.raindropsmedia.org/porokal
.
(এগুলো নিয়ে আমাদের আরো লিখা হচ্ছে। আপডেটেট লিখার জন্য পেইজের সাথে কন্ট্যাক্ট রাইখেন)
———-

৪৭. প্রেম ভালোবাসাঘটিত ব্যাপার স্যাপার

এগুলো পড়তে পারেন-

https://tinyurl.com/y33vksbh
https://tinyurl.com/y6qfdsqv
https://tinyurl.com/y5aujvsm
আঁধার আলো- https://tinyurl.com/y396r4dj
হারাম রিলেশন- https://tinyurl.com/y3n8nl8r
আততায়ী ভালোবাসা (প্রথম পর্ব)- https://bit.ly/2QpXqTn
ফাগুনের দিন শেষ হবে একদিন (প্রথম পর্ব) – https://bit.ly/2p5QWga
তোমরা কি এমনি এমনি জান্নাতে চলে যাবে? – https://bit.ly/2CSdVVE
আয় কান্না ঝেপে … https://bit.ly/2QpCbRz
আরশের ছায়া – https://bit.ly/2x6oHSQ
উত্তরের অপেক্ষায় – https://bit.ly/2NFlzXn
আল্লাহ্‌র কাছে আসার গল্প – https://bit.ly/2x8apA8
শান্তি পাব কোথায় গিয়ে – https://bit.ly/2x6IIJ8
তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ (প্রথম কিস্তি)- https://bit.ly/2x9b6Ky
তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ (দ্বিতীয় কিস্তি) – https://bit.ly/2N7VFfu
তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ (তৃতীয় কিস্তি)- https://bit.ly/2NzWn1h
ভালোবাসা ও বাস্তবতা – https://bit.ly/2x9blFs
———-

৪৮. আমি সমকামিতায় আসক্ত। কী করব?

এই লিখাটা পড়ুন – আর রিজালু বির রিজাল… – https://tinyurl.com/y3tew4cj

পর্নোগ্রাফিঃ মানবতার জন্য হুমকি পেইজে নক দিন।
———-

৪৯. সমকামীদের দোষ কী? আল্লাহ্‌য় তো ওদের এমন করে বানিয়েছে?

সমকামিতা ন্যাচারাল না। (পড়ুন-https://tinyurl.com/y3tew4cj)। আল্লাহ্‌ মানুষকে সমকামী করে বানান না। যদি বানাতেন তাহলে সমকামীদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতেন না।

http://lostmodesty.com/at_a_glance/ পেজে যান। সেকশন ৩ এ ‘সমকামিতা কি স্বাভাবিক?’ এর লিখাগুলা পড়ুন।
———-

৫০. পর্ন দেখা নিয়ে ইসলাম কি বলে ? , মাস্টাবেশনের ব্যাপারে ইসলামের কী মত ?

“পর্নোগ্রাফি ও ইসলাম” – https://bit.ly/2CSSYKc

আমরা কি হস্তমৈথুন করতে পারবো? – https://bit.ly/2Mph4eVhttps://tinyurl.com/yxask2e7
———-

৫১. বীর্যপাত না করে হস্তমৈথুনের কারণে কি রোজা ভঙ্গ হবে?

বীর্যপাত হলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। না হলে ভাঙ্গবে না। বিস্তারিত পড়ুনঃ https://tinyurl.com/y43j95oh
———-

৫২. আজেবাজে চিন্তা থেকে বেঁচে থাকতে বই পড়ে সময় কাটাতে চাই। বইয়ের লিস্ট দিন।

(১) যেকোনো একটা সীরাহ। আর রাহিখুল মাখতুম অথবা রেইনড্রপ্সের সীরাহ

(২) সাহাবা কেরামায়ের ঈমানদীপ্ত জীবনি, ড আবদুর রহমান রাফাত পাশা , রাহনুমা প্রকাশনী

(৩) তাবেঈদের ঈমানদীপ্ত জীবনি ড আবদুর রহমান রাফাত পাশা, রাহনুমা প্রকাশনী

(৪) নারী সাহাবীদের ঈমানদীপ্ত জীবনি ড আবদুর রহমান রাফাত পাশা , রাহনুমা প্রকাশনী

(৫) যৌবনের মৌবনে, মাওলানা জুলফিকার আহমাদ নকশাবন্দী

(৬) জীবিকার খোঁজে লেখক : ইমাম মুহাম্মাদ, প্রকাশনী : মাকতাবাতুল বায়ান

(৭) আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল লেখক : ইমাম ইবনু আবিদ দুনইয়া, প্রকাশনী : মাকতাবাতুল বায়ান

(৮) তাওহিদের মূলনীতি, আহমেদ মুসা জিবরিল, ইলমহাউস পাবলিকেশন

(৯) কুদৃষ্টি, মাহবুবুলওলামা হযরত মাওলানা জুলফিকার আহমদ (দা. বা.)

(১০) নবীজির পদাঙ্ক অনুসরণ, ইবনে রজব হাম্বলী (রহঃ), সীরাত পাবলিকেশন

(১১) অন্তরের রোগ ১ ও ২, শাইখ সালেহ আল মুনাজ্জিদ, রুহামা পাবলিকেশন।
———-

আমরা খুব ছোটো মানুষ। আমাদের লিখার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ্‌। যেকোনো ধরণের পরামর্শ বা সাজেশন হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।
.
পড়ুন আগের পর্বগুলা- http://lostmodesty.com/vengefelokaragar
———-

আল্লাহ (সুবঃ) আমাকে এবং আপনাদের তাঁর দ্বীনের জন্য কবুল করে নিক। নিয়্যত ঠিক রেখে শুধু তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কাজ করে যাওয়ার তৌফিক দিক। রিয়া থেকে মুক্তি দিক। আমাদের কাজে বারাকাহ দিক। আমাদের উসিলায় অসহায় ভাইবোনদের অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসুক। আমাদের আমৃত্যু দ্বীনের ওপর অটল থাকার তৌফিক দিক।

দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর ওপর । ভোরের শিশিরের মতো রহমত ঝরে পড়ুক সাহাবী আযমাইনদের কবরে।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

-লস্টমডেস্টি টিম

শেয়ার করুনঃ
ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (নবম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (নবম পর্ব)

৪২. পর্ন না থাকলে সমাজে আরো ধর্ষণ বেড়ে যাবে।

এই প্রশ্ন মূলত ক্যাথারসিস থিওরির একটা রূপমাত্র। যেটা অনেক আগেই ভুল প্রমাণিত হয়েছে। অবশ্যই অবশ্যই পড়ুন- http://lostmodesty.com/mitthershikol/
.
পর্ন দেখার সাথে যদি রেইপের হার কমে, তাহলে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পর্ন প্রডিউস করা এবং পর্নোগ্রাফির সবচেয়ে বড় গ্রাহক অ্যামেরিকাতে কেন এত রেইপ হয়? কেন অ্যামেরিকান মিলিটারি, কলেজ, হলিউড সব জায়গাতে এত ধর্ষণ, এত যৌন-নিপীড়ন হয়? কেন রেইপ পর্ন ইন্ডিয়াতে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকার পরও ভারতে রেইপ না কমে বরং ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়?

প্রতি ৯৮ সেকেন্ডে একজন আমেরিকানকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়, [http://tinyurl.com/k8ehojc], প্রতি ৬ জন নারীর মধ্যে ১ জন এবং প্রতি ৩৩ জন পুরুষের মধ্যে একজন তাদের লাইফটাইমে একবার হলেও ধর্ষণের শিকার হয়।[http://tinyurl.com/nm3gp5o ]
.
অবশ্যই অবশ্যই এই ভিডিওটা দেখুন- ‘ভুল উত্তর- ধর্ষণ কেন হয়’https://youtu.be/QwMxLee3LDw

এবং পড়ুন এই লিখা- আলেয়ার আলো- http://tinyurl.com/y4llbybc
.
পর্ন আসক্তির সঙ্গে নারী নির্যাতনের সরাসরি সংযোগ রয়েছে। অসংখ্য গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে পর্ন আসক্তি নারীদের প্রতি সহিংসতাকে তীব্রভাবে উৎসাহিত করে। ধর্ষণের অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। তারমানে এই নয় যে যারা পর্ন দেখে তারা সবাই ধর্ষণ করতে বেরিয়ে পড়ে। কিন্তু যারা ধর্ষক,সিরিয়াল কিলার, শিশুযৌন নির্যাতক,সমকামী তাদের প্রায় সবাই পর্ন আসক্ত।

বিস্তারিত জানতে পড়ুন-

অনিবার্য যত ক্ষয় (প্রথম পর্ব) –https://bit.ly/2N7SbtA
‘অনিবার্য যত ক্ষয়’ (দ্বিতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2x5OdHU
অনিবার্য যত ক্ষয়’ (শেষ পর্ব) – https://bit.ly/2O7Pgxf
———-

৪৩. মাস্টারবেশন শরীরের জন্য উপকারি? অনেকেই তো বলে। আপনারা কেন এমন বলছেন ?

বর্তমান সময়ের অধিকাংশ ডাক্তার, এক্সপার্ট এবং ইন্টারনেট ওয়েবসাইট আপনাকে বলবে, হস্তমৈথুন একেবারেই ক্ষতিকর না। এদিক-সেদিক থেকে নানা জোড়াতালি দেয়া প্রমাণ তুলে এনে প্রমাণ করতে চাইবে হস্তমৈথুন “প্রায় নিশ্চিতভাবেই” শরীরের জন্য ভালো। এটা একেবারেই “ন্যাচারাল” একটি বিষয়, এ নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। হস্তমৈথুন শরীরের জন্য ভালো বা স্বাভাবিক যৌন আচরণ এ ধরনের কোনো কংক্রিট প্রমাণ নেই। হস্তমৈথুন “স্বাভাবিক”, “ন্যাচারাল” এসব কথার প্রচলন আজ থেকে মাত্র সাত-আট দশক আগে। এর আগ পর্যন্ত হস্তমৈথুনকে, বিশেষ করে নিয়মিত ও ক্রনিক হস্তমৈথুনকে একটি অস্বাভাবিক যৌনাচার হিসাবেই দেখা হতো। এমনকি নানা যৌনবিকৃতিকে হোয়াইটওয়াশ করা, সিগমুন্ড ফ্রয়েডের মতো বিকৃত মানসিকতার লোকও হস্তমৈথুনক অস্বাভাবিক মনে করত।
.
মূলত হস্তমৈথুনকে স্বাভাবিক এবং উপকারী হিসেবে দেখার প্রবণতা শুরু হয় ১৯৪৯ সালে আলফ্রেড কিনসির Sexual Behavior In The Human Male প্রকাশিত হবার পর। এ বইটি এবং ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত তার আরেকটি বই Sexual Behavior in the Human female, ম্যাস মিডিয়ার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পাশ্চাত্যে ঝড় তোলে। যৌনতা সম্পর্কে পাশ্চাত্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে আনে আমূল পরিবর্তন। পাশ্চাত্যের ইতিহাসের অন্য কোনো বই বা রিপোর্ট পাশ্চাত্যকে এতটা বদলে দেয়নি যেমন এই দুটি বই দিয়েছিল। আধুনিক সেক্স এডুকেশান, সাইকোলজি এবং সেক্স সম্পর্কে চিকিৎসকদের সার্বিক চিন্তা কিনসির এই দুটি বইয়ের ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হচ্ছে। যৌনতা সম্পর্কে আধুনিক পশ্চিমা ধারণা একেবারে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গড়ে উঠেছে আলফ্রেড কিনসির এই দুই বিখ্যাত “থিসিসের” ওপর ভিত্তি করে। তার এ বইয়ে কিনসি চরম পর্যায়ের বিকৃত কিছু চিন্তাকে বিজ্ঞানের নামে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। সে দাবি করে শিশুরা জন্মগত ভাবেই, এমনকি গর্ভে থাকা অবস্থা থেকেই সেক্সুয়ালি এক্টিভ। তার মতে শিশুরা একেবারে ছোটকাল থেকেই হস্তমৈথুন করা শুরু করে।
.
কত ছোটকাল থেকে? কিনসির দাবি হল দুই, চার, সাত মাস বয়সী শিশুরাও নাকি হস্তমৈথুনের মাধ্যমে চরমানন্দে (Orgasm) পৌঁছাতে সক্ষম! সাত মাস বয়সী একটি শিশু এবং এক বছরের নিচের আরও পাঁচজন শিশুকে সে নিজে নাকি শীর্ষসুখ অর্জন করতে দেখেছে। সে আরও বলে, এত কমবয়স্ক শিশুরা বয়স্ক সঙ্গী/সঙ্গিনীদের সঙ্গে আনন্দদায়ক এবং উপকারী যৌনমিলন করতেই পারে, এবং এমন করা উচিত। অভিভাবকদের উচিত ৬-৭ বছর বয়স থেকে শুরু করে শিশুদের হস্তমৈথুন করানো এবং একসাথে মিলেমিশে হস্তমৈথুন করা!
.
কিনসি আরও দাবি করে, অধিকাংশ মানুষ আসলে উভকামী, যৌনতার কোনো নির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। কোনো যৌনতাই অস্বাভাবিক না। সমকাম, উভকাম, শিশুকাম, পশুকাম, অজাচার, যার যা ইচ্ছে সেটা করবে, এতে কোনো সমস্যা নেই।
আসলে কিনসি নিজে ছিল একজন চরম মাত্রার বিকৃত মানসিকতার লোক। ব্যক্তিজীবনে ভয়ঙ্কর বিকৃত যৌনাচারে অভ্যস্ত। তার “রিসার্চ” ছিল জালিয়াতিতে ভরা। পরবর্তীকালে এই “মহান” বিজ্ঞানীর কাজগুলো ভুল প্রমাণিত হয়েছে বিজ্ঞানীদের হাতেই।
.
বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন আলফ্রেড কিনসির দাবিগুলোর তেমন কোনো সায়েন্টিফিক ভিত্তি নেই, তার তথ্য-উপাত্তগুলো যথেষ্ট পরিমাণে গোঁজামিলে ভরপুর। এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য অনেক সময় সাবজেক্টের ওপর চরম যৌন-নির্যাতন চালানো হয়েছে, রেহাই দেয়া হয়নি শিশুদেরও। কিন্তু ততদিনে ক্ষতি যা হবার হয়ে গেছে। “হস্তমৈথুন ক্ষতিকর না; বরং উপকারী” কিনসির জোর গলায় দাবি করা এ চরম মিথ্যা সেক্স এডুকেশানের বইগুলোতে বার বার খুব বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এটাকে ধ্রুব সত্য বলে মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু হস্তমৈথুন যদি স্বাভাবিক ও ভালো হয়, তাহলে প্রথমবার হস্তমৈথুনের পর কেন মনের ওপর অনুশোচনার একটা গাঢ় পর্দা নেমে আসে?
.
প্রথমবার হস্তমৈথুনের মাধ্যমে বীর্যপাত করার প্রায় সবার চরম অনুশোচনা হয়। ভাষা, ভৌগোলিক অবস্থান, ধর্ম-বর্ণভেদে এমন অবস্থায় মানুষের মনে হয় সে খুব খারাপ কিছু একটা করে ফেলেছে। অনুভূতিটা সর্বজনীন। এর ব্যাখ্যা কী? হস্তমৈথুন ভালো প্রমাণ করতে চাওয়া “বিশেষজ্ঞরা” বলবে, ধর্ম এবং সামাজিক মূল্যবোধ আমাদের চিন্তা করতে শেখায় যে, এ কাজটা খারাপ। এটা একটা পাপ। আর এ জন্যই মানুষের মধ্যে অনুশোচনা কাজ করে।
এ ব্যাখ্যার ভুল কোথায়?
.
কোনো কাজের ব্যাপারে ধর্মের বক্তব্য দ্বারা প্রভাবিত হবার জন্য আপনাকে তো আগে কাজটাকে চিনতে হবে, সেটার সম্পর্কে ধর্মের বক্তব্য জানতে হবে। কিন্তু আপনি দেখবেন হস্তমৈথুনের মাধ্যমে প্রথম বীর্যপাতের অভিজ্ঞতার সময় অনেকেরই ধারণাই থাকে না আসলে কী হচ্ছে। যে ছেলেটা বুঝতেই পারছে না কী হলো, সে কীভাবে ওই কাজের ব্যাপারে ধর্মের বক্তব্য জানবে, আর সেটা দিয়ে প্রভাবিত হবে? আসলে এটাই হলো ফিতরাহ, মানুষের সহজাত প্রবণতা (Natural Disposition)। মানুষের সহজাত নৈতিক কম্পাস তাকে জানিয়ে দেয় কাজটা খারাপ। আর তাই প্রথম প্রথম সবাই অনুশোচনায় ভোগে। কিন্তু পরে মানুষ এর যৌক্তিকতা দাঁড় করায়, একে স্বাভাবিক মনে করা শুরু করে।
.
এ ছাড়া বাস্তব অভিজ্ঞতাও প্রমাণ করে হস্তমৈথুন আসক্তি শুধু সমস্যাই না; বরং ভয়ঙ্কর রকমের মনোদৈহিক সমস্যা। ভুক্তভোগীদের কিছু অভিজ্ঞতা এরই মধ্যে আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। হস্তমৈথুনে আসক্তদের এমন করুণ উপাখ্যান এক-দুটো না। অজস্র।
.
হস্তমৈথুনকে স্বাভাবিক প্রমাণে উঠেপড়ে লাগার পেছনে আরেকটা বড় কারণ হলো, সেই পুরনো কালপ্রিট—অর্থনীতি। হস্তমৈথুন আসক্তি আর পর্নোগ্রাফি অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। এ দুয়ে মিলে এক চক্র তৈরি করে। আর এ চক্রে আটকা পড়ে শত সহস্র প্রাণ। যদি হস্তমৈথুনকে ক্ষতিকর বলে স্বীকার করে নেয়া হয়, হস্তমৈথুন না করতে মানুষকে উৎসাহ দেয়া হয়, হস্তমৈথুন আসক্তি বন্ধে কাউন্সেলিং করা হয়, তাহলে শত বিলিয়ন ডলারের পর্নোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রির কী হবে? এ অতিকায় ইন্ডাস্ট্রি কি নিজ অস্তিত্বের প্রতি এমন হুমকিকে মেনে নেবে? নাকি নিজের অঢেল সম্পদ ব্যবহার করে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে অ্যাকাডেমিয়া, মিডিয়া এবং “বিশেষজ্ঞদের” মাধ্যমে হস্তমৈথুনকে স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক প্রমাণে?
.
পরের বার “কেন হস্তমৈথুন ভালো”, “হস্তমৈথুনের ১৮ অজানা উপকারিতা” জাতীয় ইন্টারনেট আর্টিকেলগুলো পড়ার সময় এ বিষয়টা মাথায় রাখবেন।
.
সর্বোপরি মুসলিম হিসাবে আমাদের ফ্রেইম অফ রেফারেন্স কোনটা আগে সেটা আমাদের বুঝতে হবে। এতক্ষণ যা কিছু আমরা আলোচনা করেছি, এ সবকিছু হলো সেকেন্ডারি, গৌণ প্রমাণ। মুসলিম হিসাবে আমাদের জন্য প্রাইমারি প্রমাণ হলো ইসলামী শারীয়াহর বক্তব্য। আর ইসলামের বক্তব্য হলো হস্তমৈথুন হারাম। (https://islamqa.info/bn/answers/329/) একজন মুসলিমের জন্য প্রমাণ হিসাবে এটাই যথেষ্ট হওয়া উচিত। যেখানে ইসলামের স্পষ্ট বিধান আছে সেখানে বিজ্ঞানের “প্রায় নিশ্চিত” মত গোনায় ধরার মতো কিছু না। বিশেষ করে বিষয়টি যখন নৈতিকতার সাথে সম্পর্কিত।
.
যেমন, বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিয়ে-বহির্ভূত সেক্স ক্ষতিকর কিছু না। বরং আধুনিক পশ্চিমা দর্শনে এটা স্বাভাবিক, এমনকি প্রশংসনীয়। অন্যদিকে যিনা ইসলামের দৃষ্টিতে কবিরা গুনাহ। বিজ্ঞান যদি কাল থেকে যিনাকে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে প্রচার করা শুরু করে, তাহলে এতে একজন মুসলিমের কিছুই যায় আসে না। যিনার ব্যাপারে তার ধারণা এতে বদলে যাবে না।
.
সুতরাং হস্তমৈথুন যদি কখনো বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সুনিশ্চিতভাবে স্বাস্থ্যকর বলে প্রমাণিতও হয় (যেটা এখনো হয়নি) তবুও এতে একজন মুসলিমের দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আসার কথা না, কারণ ইসলামের মাপকাঠিতে কাজটা অনৈতিক এবং হারাম। আর বাস্তবতা হলো মনোদৈহিকভাবে হস্তমৈথুন এবং পর্ন-আসক্তি দুটোই অত্যন্ত ক্ষতিকর। আমরা ইতিমধ্যেই আলোচনা করেছি কীভাবে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবার ও সমাজ কেউই মুক্তি পায়নি।
.
বিস্তারিত পড়ুন-

মিথ্যের শেকল যতো- https://bit.ly/2QpkT7f
চোরাবালি তৃতীয় পর্ব – https://bit.ly/2p0HR8l
চোরাবালি চতুর্থ পর্ব – https://bit.ly/2QoRtGb
চোরাবালি পঞ্চম পর্ব- https://bit.ly/2Nzoh0M
চোরাবালি ষষ্ঠ পর্ব- https://bit.ly/2QocEIA
চোরাবালি সপ্তম পর্ব- https://bit.ly/2x9hr81
চোরাবালি অষ্টম পর্ব- https://bit.ly/2NAhrbd
মাস্টারবেশন কী মাসলগ্রোথ এবং এথলেটিক পারফরম্যান্সের ক্ষতি করে?- https://bit.ly/2NzycUa
———-

আমরা খুব ছোটো মানুষ। আমাদের লিখার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ্‌। যেকোনো ধরণের পরামর্শ বা সাজেশন হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।
.
চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ …
.
পড়ুন আগের পর্বগুলা- http://lostmodesty.com/vengefelokaragar

শেয়ার করুনঃ
ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (অষ্টম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (অষ্টম পর্ব)

৩৬. বইয়ের পিডিএফ লিংক কোথায় পাবো ? বই কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

দেখুন- http://lostmodesty.com/muktobataserkhoje/
———-

৩৭. লস্ট মডেস্টির লিফলেট কোথায় পাবো ?

পড়ুন- http://lostmodesty.com/2019/04/lmleaflet/
———-

৩৮. পর্নোগ্রাফি-মাসটারবেশন নিয়ে কাজ করতে চাই। কিভাবে শুরু করবো? এলাকাভিত্তিক কাজ করতে কাদের সাথে যোগাযোগ করবো? ইত্যাদি।

http://lostmodesty.com/onupomuthan/ – এই পেজে যান। ৩ টা আর্টিকেল আছে ভালমত পড়ে নিন। প্রাথমিক গাইডলাইন পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ। এরপর যদি মনস্থির করে থাকেন যে আপনি আগাতে পারবেন তাহলে আমাদের পেজে ইনবক্স করবেন বা মেইল করবেন।
———-

৩৯. আপনারা যেটা করছেন সেটা ভুল করছেন। আপনাদের ক্যাম্পেইনের ফলে যারা পর্ন সম্পর্কে জানতোনা তারা বরং আরো জেনে যাবে। আপনাদের বইয়ের লিখাগুলা পড়ে অনেকেই পর্ন দেখা শুরু করবে বা মাস্টারবেট করবে।

এই ভিডিও দুইটা দেখুন আগে-

পতনের আওয়াজ পাওয়া যায়- http://tinyurl.com/y8d5xjso
অনুপম উত্থান- http://tinyurl.com/y9uyzgov

এই লিখাগুলো পড়ুন-

পর্ন আসক্তি গিলে খাচ্ছে কিশোরদের- http://tinyurl.com/y6o8bh96
অশনি সংকেত- https://bit.ly/2QoJTLH
“ফ্যান্টাসি কিংডম”(প্রথম কিস্তি): https://bit.ly/2x6Azo2
“ফ্যান্টাসি কিংডম”(দ্বিতীয় কিস্তি): https://bit.ly/2QrL9xJ
“ফ্যান্টাসি কিংডম”(শেষ কিস্তি): https://bit.ly/2NdAKIh
.
যেখানে বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে একটি বিভাগীয় শতকরা ৬০ ভাগেরও বেশি স্কুল কলেজ ছাত্র ছাত্রীর যৌন অভিজ্ঞতা হয়েছে সেখানে আপনি এন্টিপর্ন ক্যাম্পেইন নিয়ে আপত্তি তুললে ভুল করবেন ভাই।
.
ধরেন নামাযের মধ্যে আমাদের শয়তান ওয়াস ওয়াসা দেয়। নামাযে মনোযোগ থাকেনা। নামায ভুল হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। এই ভয়ে কি আপনি নামায পড়বেন না? ভাইয়া দেশের লাখ লাখ ( কোটি বলা উচিত) ছেলেমেয়ের যখন এই বেহাল দশা তখন দুই একজনের কারণে ক্যাম্পেইন বন্ধ করে দেওয়াটা কি শরীয়াহ সঙ্গত?
———-

৪০. পর্ন দেখলে কি কি ক্ষতি হয়? (বা, পর্নোগ্রাফি কেন মানবতার জন্য হুমকি?) , মাস্টারবেট করলে কি কি ক্ষতি হয়?

সংক্ষেপে উত্তর চাইলে বলবো, আপনি ‘মুক্ত বাতাসের খোঁজে’ বইটা পড়ে শেষ করুন।
.
বই পড়ার ধৈর্য না থাকলে, অন্তত http://lostmodesty.com/at_a_glance/ এই পেজে গিয়ে সেকশন ২ ‘পর্নোগ্রাফি, মাস্টারবেশন, চটিগল্প – মানবতার জন্য হুমকি’ এর লিখাগুলো পড়ুন। উত্তর পেয়ে যাবেন।
———-

৪১. ধর্ষণের জন্য দায়ী কী ? কিভাবে কমানো যেতে পারে?

ধর্ষণের সমাধান করতে হলে অবশ্যই আগে সঠিকভাবে বের করতে হবে ধর্ষণের কারণগুলো।

দেখুন- https://tinyurl.com/rapestat
.
বিস্তারিত জানতে পড়ুন-

অনিবার্য যত ক্ষয় (প্রথম পর্ব) –https://bit.ly/2N7SbtA
‘অনিবার্য যত ক্ষয়’ (দ্বিতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2x5OdHU
অনিবার্য যত ক্ষয়’ (শেষ পর্ব) – https://bit.ly/2O7Pgxf
.
অবশ্যই অবশ্যই এই ভিডিওটা দেখুন- ভুল উত্তর- ধর্ষণ কেন হয়https://www.youtube.com/watch?v=QwMxLee3LDw
.
ধর্ষণ কেন হয়? কেন এদেশে ধর্ষণের প্রকোপ বেড়ে চলেছে?
.
এই প্রশ্নটাকে আমাদের দেশে দুইভাবে ডিল করা হয়। এবং দুইটাই প্রান্তিকতা। কোথাও ধর্ষণের খবর শুনলেই একদল নারীদের পোশাক দায়ী করে বসেন। আবার অন্যদিকে আরেকদল দোষ খুঁজে পান পুরুষের মানসিকতা- আমার দেহ আমি দেখাব! তুমি রেপ করবা কেন? ধর্ষণের পেছনের কারণগুলো সময় নিয়ে ভালোমতো বিশ্লেষণ করে কোন মতামত দেওয়ার মানসিকতা অনুপস্থিত আমাদের মাঝে। আসলে এতো সময় কোথায়? ব্যস্ত ডাক্তারের মতো তেমনকিছু না ভেবেই আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বসি। উপসংহার টেনে ফেলি।
.
ধর্ষণের জন্যে শুধু নারীর পোশাককে দায়ী করে বসলে ইসলাম বিদ্বেষীদের কোর্টে বল ঠেলে দেওয়া হয়। তারা তখন বাটি চালান দিয়ে হিজাবপরা বা মাদ্রাসার ছাত্রী এমন কোন বোনের নির্যাতনের খবর সামনে নিয়ে আসবে। তারপর দাঁত কেলিয়ে জিজ্ঞাসা করবে, ‘কই কাঠ মোল্লারা! তোমাদের হিজাব/নিকাব কি পারলো নারীর নিরাপত্তা দিতে? ওইসব সব পুরান আমলের রূপকথা! পর্দা নারীকে নিরাপত্তা দিতে পারেনা, এইটা নারীকে চার দেয়ালের মাঝে বন্দী করে রাখার হাতিয়ার। তাছাড়া এটা তো ইসলামের অংশও না! আরবের ‘লু’ হাওয়া থেকে বাঁচার জন্য আরবের নারীরা মাথায় কাপড় দিত!
.
অন্যদল পুরুষের মানসিকতাকে দায়ী করে ফেসবুক,ব্লগ কাঁপিয়ে, Don’t teach me how to dress, teach your son not to rape টাইপ প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিটিং মিছিল করে ক্ষ্যামা দেন। এরা ভুলেও কখনো দেশ এবং জাতির সামনে পরিষ্কার করে বলেন না পুরুষের মানসিকতা কেন বদলে যায়? কেন একজন পুরুষ ধর্ষকে পরিণত হয়? তার ঘরেও তো মা বোন আছে? পুরুষের মানসিকতা কীভাবে পরিবর্তন করতে হবে? কোন তরীকায় আমল করতে হবে? তাদের বলে দেওয়া তরীকা ফলো করে কোন কোন দেশ বা কোন কোন জাতি পুরুষদের মানসিকতা পরিবর্তন করেছে? নারীদের নিরাপত্তা দিতে পেরেছে? তারা উদাহরণ দিক। আমরা সেই সব জাতিদের দেখে অনুপ্রেরণা পাব। কিন্তু আপনি কখনোই দেখতে পাবেননা তারা কনক্রিট, পরীক্ষিত কোন প্ল্যান অফ একশ্যান জাতির সামনে উপস্থাপন করছে।
.
তাহলে ধর্ষণের সমাধান কী? এককথায় উত্তর – শরীয়াহ। আল্লাহর জমীনে আল্লাহ্‌র আইন প্রতিষ্ঠিত করা।
.
‘হে মানুষ, তোমাদের কাছে তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে নসীহত এসেছে। এটা মানুষের অন্তরে যেসব ব্যাধি আছে তার নিরাময় এবং মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত’। (সূরা- ইউনূস: ৫৭)
.
আল্লাহ্‌ (সুবঃ) আমাদের সৃষ্টি করেছেন। আমাদের মনোজগত,আমাদের সাইকোলজি আল্লাহ্‌র চেয়ে আর কে বেশি বুঝবে? তিনিই আমাদের পথ বলে দিয়েছেন সেই পথে পথচলাতেই আমাদের মুক্তি। শরীয়াহ আইন যেমন নিশ্চিত করবে নারীরা এমন পোশাক পরিধান করছে, যেন স্বসস্মানে সবাই পথ ছেড়ে দেয়,নারীকে দেয় রাণীর সম্মান। ঠিম তেমনিই খুঁজে খুঁজে বের করবে কেন পুরুষ পরিণত হয় ধর্ষকে। সমাজের অতি যৌনায়ান, আইটেম সং,পর্নোগ্রাফি , ড্রাগস, নারী পুরুষের ফ্রি মিক্সিং, সুন্দরী প্রতিযোগিতা, নাটক,সিনেমা,গানের মাধ্যমে তরুণ,তরুণীদের ব্রেইনওয়াশ,স্বেচ্ছাচারিতা,ধরাকে সরা জ্ঞান করা, পেশিশক্তির দাপট,মাফিয়াগিরি সব বন্ধ করবে। আপনি শরীয়াহর এক অংশ নিবেন আর যেটা আপনার পছন্দ হবেনা সেটা বাদ দিবেন তাহলে হবেনা।
.
“তবে কি তোমরা কিতাবের এক অংশের উপর ঈমান আনবে আর বাকী অংশকে অস্বীকার করবে? তোমাদের মধ্যে যারাই এরূপ করবে তাদের জন্য এ ছাড়া আর কি শাস্তি হতে পারে যে, দুনিয়ার জীবনে অপমান ও লাঞ্ছনা ভোগ করবে এবং আখিরাতে তাদেরকে কঠিন আযাবের দিকে ঘুরিয়ে দেয়া হবে। আর তোমরা যা কিছু করছো সে বিষয়ে আল্লাহ বেখবর নন।” (সূরা বাকারা: ৮৫)
.
আপনি পুরো শরীহায় বাস্তবায়ন করে দেখুন। নারীরা ঢেকে যাবে অলৌকিক এক নিরাপত্তার চাদরে। প্রমাণ ? একটু কষ্ট করে সাহাবী এবং তাবেঈগনদের যামানার ইতিহাস ঘেঁটে দেখুন এবং পড়ুন এই লিখা- আলেয়ার আলো-http://tinyurl.com/y4llbybc
———-
আমরা খুব ছোটো মানুষ। আমাদের লিখার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ্‌। যেকোনো ধরণের পরামর্শ বা সাজেশন হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।
.

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ …
.
পড়ুন আগের পর্বগুলা- http://lostmodesty.com/vengefelokaragar

শেয়ার করুনঃ
ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (সপ্তম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (সপ্তম পর্ব)

৩০. বিয়ে করতে ভয় পাচ্ছি। আমি আগে পর্ন-আসক্ত ছিলাম। অনেক পর্ন দেখেছি,মাস্টারবেট করেছি। এগুলো ছেড়ে দিয়েছি। এখন বিয়ে করতে ভয় পাচ্ছি।

– প্রথমত পর্ন, মাস্টারবেশন থেকে পুরোপুরি সরে আসতে হবে, এগুলা করতে থাকলে শারীরিক ক্ষতি রিকভার করা সম্ভব না।

– প্রচুর পানি, শাকসব্জ্‌ ফলমূল, দুধ, কলা, বাদাম, খেজুর কিশমিশ, আঙ্গুর খেতে হবে।

– কালোজিরা খেতে হবে। (খাওয়ার নিয়মঃ ভর্তা করে ভাত দিয়ে খেতে পারেন। আবার কালিজিরা এর তেল টাও মধু দিয়ে খেতে পারেন। সকালে খালি পেটে এক চা চামচ মধু+এক চা চামচ তেল/ এক চা চামচ মধু+এক চিমটি কালোজিরা)

– ব্যায়াম করতে হবে। (ব্যায়াম নিয়ে টিপস পেতে এই পেজে – https://www.facebook.com/RijaalGym/ যোগাযোগ করুন)

– রাতে ১১ টার ভেতর ঘুমাতে হবে। দেরি করা যাবে না। সকাল সকাল উঠতে হবে। পারলে দুপুরে একটু ঘুমুতে হবে।

– আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দু’আ করতে থাকুন। আল্লাহ্‌ বলেছেন, ‘আর তোমাদের যদি কোন দুঃখ দৈন্য স্পর্শ করে তখন তা দূর করার জন্য তাকেই তোমরা বিনীতভাবে ডাকতে শুরু কর’। (সূরা আন নাহলঃ আয়াত ৫৩)
.
এভাবে ৩-৬ মাস চলুন। ইনশা আল্লাহ্‌ আর ভয় নেই।
.
চাইলে একজন ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। একজন ইউরোলজিস্ট বা স্কিন এন্ড স্কেক্স এক্সপার্টকে দেখাতে পারেন। যদি আপনার পেনিসে কোনো সমস্যা থাকে উনারা চিকিৎসা করবেন। যদি পেনিসে কোন সমস্যা না থাকে তাহলে উনারা মনোবিদ রেফার করে দিবেন বা নিজে কোনো মনোবিদের কাছে যাবেন। সাইকিয়াট্রিস্ট মানেই পাগলের ডাক্তার না। এতে লজ্জা পাবেন না। আর মনোবিদের পরামর্শ মেনে চলুন ইনশা আল্লাহ্‌।
.
তারপর আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে বিয়ে করে ফেলুন ইনশা আল্লাহ্‌। বিয়ের পর বা বিয়ের আগের রাতে www.facebook.com/shamsul.shakti – ভাইয়ের একটা নোট আছে,সেটা পড়ে নিয়েন। (দয়া করে এখন পড়বেন না, নোটটা পড়ে কোনো পাপে জড়ালে তার দায়ভার আমাদের নয়)। সব ঠিক হয়ে যাবে ইনশা আল্লাহ্‌। দুশ্চিন্তা করবেন না।
———-

৩১. পেনিসের সাইজ নিয়ে খুব চিন্তা হয়,আগা মোটা,গোড়া চিকন ইত্যাদি

– উত্তেজিত অবস্থায় পুরুষ লিঙ্গের গড় দৈর্ঘ্য হয়ে থাকে ৪.৭ থেকে ৬.৩ ইঞ্চি। অনেকের মতে পেনিসের গড় দৈর্ঘ্য ৫.১-৫.৯ ইঞ্চি।

মূলত পর্ন ভিডিও দেখে দেখে বা চটিগল্পের কারণে ছেলেপেলেদের মধ্যে পেনিসের সাইজ নিয়ে মারাত্মকভুল ধারণা তৈরি হয়।

তবে আপনার পেনিস যদি লম্বার সর্বনিম্ন ৪ (চার) ইঞ্চিও হয়ে থাকে তাহলেও আপনার স্ত্রীকে তৃপ্তি দিতে আপনার কোনো সমস্যা হবে না। অনেক বিশেষজ্ঞরা আবার এও বলে থাকেন স্ত্রীকে অরগাজম দিতে মাত্র ৩ ইঞ্চি লম্বা পেনিস হলেই যথেষ্ট।
.
– বড় পেনিস মানেই বেশি আনন্দ, কথাটা ঠিক নয় ।

– পেনিস কখনই একেবারে সোজা হয়না । একটু বাকা থাকেই ।

– পেনিসের গোঁড়া চিকন আগা মোটা এটা কোন সমস্যা নয় । স্কুল জীবন থেকেই রাস্তাঘাটের তথাকথিত হার্বাল, কবিরাজ এবং ভেষজ ডাক্তারদের বিভ্রান্তিকর লেকচার শুনতে শুনতে অনেকের মধ্যেই এ বিষয়ে একটা বদ্ধমূল ভূল ধারণা তৈরি হয়ে আছে ।

– কোন যাদুকরী তেল বা মালিশ পেনিস ‘তেমন’ বড় করতে সক্ষম নয় । এগুলা ভুয়া । আসক্তদের এসব ব্যবহার না করাই ভালো। মালিশ করতে গিয়ে দেখবেন আপনি উত্তেজিত হয়ে মাস্টারবেট করে ফেলছেন, পর্ন দেখে ফেলছেন।

– বেশি বড় পেনিস হলে মেয়েরা আনন্দ পাওয়ার বদলে ব্যাথা পায় । এমনকি সেটা যৌন আতঙ্কেও রুপ নিতে পারে অনেক নারীদের জন্য। মেয়েরা সাধারণত ছোটো পেনিসেই সন্তুষ্ট থাকে।

– ক্ষুদ্র পেনিস বলতে ২.৭৬ ইঞ্চির চেয়ে ছোট পেনিস বুঝায় । সেক্ষেত্রে যথাযথ চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে।

– গোঁড়া চিকন আগা মোটা বা বাঁকা পেনিস যৌনমিলনে কোন সমস্যার সৃষ্টি করেনা। এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।

– স্ত্রী ছাড়াই পেনিস শক্ত এবং দৃঢ হয়ে যায় এমন কোনো কাজ যেমন: বেগানা নারীর দিকে তাকানো, অশ্লীল সাহিত্য পড়া, কম্পিউটার বা মোবাইলে খারাপ কিছু দেখা থেকে বিরত থাকুন।

– ৪০ দিনের মধ্য পুরুষাঙ্গের গোড়ার চুল কাটুন।

– আপনার যৌন স্বাস্থের দিকে নজর দিন। এটাও আপনার শরীরেরই অংশ। নিয়মিত পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করুন। কারণ পুরুষরা দৈনন্দিন খাবার দাবার থেকেই তাদের যৌন শক্তি লাভ করে থাকে।
.
এই পর্যন্ত পড়ার পর আপনার অনেক উত্তেজনা চলে আসতে পারে। নিজের ভবিষ্যৎ স্ত্রীর সাথে অন্তরজ্ঞ হবার চিন্তা,ফ্যান্টাসি মাথায় আসতে পারে। আল্লাহ্‌কে ভয় করুন। নিজেকে সামলান। অশ্লীল চিন্তা মাথা থেকে দূর করে দিন। ভুলেও অশ্লীল চিন্তায় বুঁদ হয়ে থাকবেন না। তা না হলে আপনি কিছুক্ষণের মধ্যেই পর্ন দেখে ফেলবেন বা মাস্টারবেট করে ফেলতে পারেন। সাবধান।
(https://www.medicalnewstoday.com/articles/271647.php)
———-

৩২. কখন ডাক্তার দেখাবো? কাকে দেখাবো?

নরমালি পর্ন দেখার ফলে ইরেক্টাইল ডিসফাওংশন ( লিঙ্গোত্থানে সমস্যা) বা প্রি ম্যাচুউর ইজাকুলেশন (অকাল বীর্যপাত) হলে পর্ন মাস্টারবেশন ছেড়ে দিলে এবং একটু ভালোমতো খাওয়া দাওয়া করলে ৩-৬ মাস বা কারো কারো আরেকটু বেশি সময় লাগে। আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলবেননা।

পরবর্তীতে কোন সমস্যা দেখা দিলে বা এ বিষয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা কাজ করলে একজন ইউরোলজিস্ট বা স্কিন এন্ড স্কেক্স এক্সপার্টকে দেখাতে পারেন।

এলাকাভিত্তিক ডাক্তার এবং মনোবিদদের লিস্ট- http://lostmodesty.com/doctorlist/
———-

৩৩. পর্নসাইট ব্লক করবো কিভাবে?

Android মোবাইলে পর্ন ব্লক করার উপায়ঃ

১. যদি মোবাইল ইন্টারনেট বাসার WiFi এর মাধ্যমে চালান তাহলে এই ভিডিও দেখুন- https://youtu.be/K2CLMulY864

(এখানে বলে রাখা ভালো, apps lock দিয়ে অন্যান্য ব্রাউজার লক করার সময় পাসওয়ার্ড দিবে অন্য আরেকজন, হয় আপনার বন্ধু বা বাসার কেউ। যে দিবে সে আপনাকে আর পাসওয়ার্ড জানাবে না, ওটা জেনে গেলে লাভ হবে না। আরেকটা কাজ করতে পারেন, ইচ্ছামত কঠিন কম্বিনেশন ইউজ করে একটা পাসোয়ার্ড লিখবেন কাগজে, অ্যাপে ভেরিফিকেশন শেষ হয়ে গেলে ওই কাগজ ছিড়ে ফেলুন বা পুড়িয়ে দিন। তবে প্রথমটি করাই উচিত। অন্য কারো সাহায্য নেওয়া)

এই ভিডিও অনুযায়ী কাজ করার পর আপনাকে আরেকটা কাজ করতে হবে। গুগল সেটিং থেকে Safe Search অন করে দিতে হবে। এই লিঙ্ক দেখুন- https://www.wikihow.com/Block-Porn-from-Google-Search

২. যদি মোবাইল ডাটার মাধ্যমে ইন্টারনেট চালান তাহলে এই ভিডিও দেখবেন- https://youtu.be/vH0n43Rz67Q
.
iOS মোবাইলে এবং PC তে পর্ন ব্লক করার উপায়ঃ

পড়ুন – http://lostmodesty.com/muktobichoron/
.
কোন স্টেপ বুঝতে প্রব্লেম হলে পর্নোগ্রাফিঃ মানবতার জন্য হুমকি পেজে ইনবক্স করুন।
.
আরেকটা কথা, আমরা যত সফটওয়্যারই ব্যবহার করি না কেন সবগুলোর কোন না কোন glitch আছে। সহজেই ফাকি দেয়া যায়। তাই এদের ভরসায় বসে থাকলে হবে না, নিজের মন থেকেই রেসিস্টেন্স নিয়ে আসতে হবে। যত যাই হোক আমি পর্ন দেখবো না চটি পড়বো না মাস্টারবেট করবো না- এইরকম দৃঢ়তা লাগবে ভাই। নিজের মন কে শাসন করতে হবে। যেভাবে ট্রেইনিং দেয়া হয় বিশেষ কাজে দক্ষ শ্রমিক গড়ে তুলতে সেভাবে নিজের মন কে, নফস কে ট্রেইন করতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে এক পর্ন বা চটি বা হস্তমৈথুন কিভাবে মনকে কলুষিত করে, হতাশা বাড়িয়ে দেয়, কিছু না পাওয়ার তাড়না তীব্রভাবে বাড়ায় তোলে, ইবাদত নষ্ট করে, মানুষকে পশুতে পরিনত করে। এভাবে ট্রেইন আপ করুন নিজের মনকে। পর্ন ব্লক সফটওয়্যার অনেকটা সেফটি রিং গুলার মত, যেই রিং ধরে ধরে সাঁতার শেখা শুরু হয় বা এক্সপার্ট ড্রাইভার এর মত যে আপনাকে সতর্ক করবে গাড়ি চালানো শেখার সময়। এরা শর্ট টার্ম সাপোর্ট দিবে, কিন্তু দিনশেষে আপনাকেই হাল ধরতে হবে, নিজেকে ডেভেলপ করতে হবে।
———-

৩৪. ইউটিউব এর ফিতনা

পড়ুন- https://tinyurl.com/ycyesvvc
———-

৩৫. মোবাইলে অ্যাড ব্লক করবো কিভাবে? + শেয়ারইট এর ফিতনা

পড়ুন – http://lostmodesty.com/muktobichoron/
.

আমরা খুব ছোটো মানুষ। আমাদের লিখার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ্‌। যেকোনো ধরণের পরামর্শ বা সাজেশন হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ …
.
পড়ুন আগের পর্বগুলাঃ http://lostmodesty.com/vengefelokaragar/

শেয়ার করুনঃ