শুনলাম আমাদের ভার্সিটির আমাদের ডিপার্টমেন্টের এক মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। টুকটাক অনুসন্ধানে জানা গেছে প্রেমিকের সাথে দ্বন্দ্ব, মনমালিন্য টাইপ কোন ইস্যু কে কেন্দ্র করে এই ঘটনার অবতারণা। ভার্সিটি স্টুডেন্টরা বরাবরের মত মুখস্ত আন্দোলন পদ্ধতিতে রাস্তায় গিয়ে মানববন্ধন করছে দোষীর শাস্তি চেয়ে।
.
কিছুদিন আগে ভারতেও এক ভেটোরেনারি মহিলা চিকিৎসককে এক ট্রাক ড্রাইভার ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মেরে ফেলে। সেই একই ধাঁচের আন্দোলন, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, একাত্মতা প্রকাশ, শাস্তি চেয়ে পোস্ট, টুইট এই তো!
.
এই ধরণের আবেগ, ক্ষোভ, ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ, শাস্তির জন্য আন্দোলন আপাত দৃষ্টিতে প্রচলিত সীমার মধ্যে থেকে ভালো প্রতিবাদ মনে হলেও এগুলো আদৌ কোন সমাধান না। কেনো না, কী সমাধান আসলেই প্রকৃত সমাধান, সামগ্রিক সমাধান হতে পারতো সেটা নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন মনে করেনা আন্দোলনকারীদের অধিকাংশই। কারণ যখন ই আপনি সামগ্রিক সমাধানে যাবেন, ধর্ষণ রোধে আসল সমাধান নিয়ে আসবেন তখন এই আন্দোলনকারীরাই সেই সমাধানের বিভিন্ন ধাপে অপরাধের সাথে নিজেদের জড়িত হিসেবে খুঁজে পাবে। তাই চাচা আপন প্রাণ বাঁচা হিসেবে আপাত আবেগ, ক্ষোভ, আন্দোলন, মোমবাতি পার্টিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে দেয়া হোক তাদের। তার চেয়ে বরং একটা কাল্পনিক গল্প বলি এই প্রসঙ্গে, যা কাল্পনিক হলেও অবাস্তব নয়-
.
অমুকের ধর্ষণের বিচারের দাবিতে একত্রিত হয়েছে রায়হান ও মিথিলা। ওরা একই ভার্সিটির আলাদা দুই ডিপার্টমেন্টের ছাত্রছাত্রী। রায়হান এর তেজদ্দীপ্ত কন্ঠে “বিচার বিচার বিচার চাই, ধর্ষকের ফাসি ছাড়া কোন কথা নাই” টাইপ স্লোগানে উপস্থিত শত শত শিক্ষার্থী তালে তাল মিলিয়ে স্লোগান দিচ্ছে। নারীর ইজ্জত এর উপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে এমন প্রতিবাদমুখর মনোভাব দেখে মিথিলার ভালো লেগে গেলো রায়হান কে। রায়হানও স্লোগান এর ফাঁকে ফাঁকে মিথিলার সাথে পরিচিত হয়ে নিলো। এভাবে কয়েকদিন আন্দোলন চললো, আসামীকে ধরে জেলে দেয়া হলো। এরপর বরাবরের মত বিচার হলো কি হলো না সেই চিন্তা না করে সবাই যার‍যার ক্ষোভে পানি ঢেলে আপাত এই সমাধানে খুশি হয়ে যার যার পড়াশোনায় ফিরে গেলো। কিছুদিন পর আসামী টাকাপয়সা দিয়ে আইন এর ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে বের হয়ে গেলো টুপ করে, কেউ কিছু জানলও না!
.
ওদিকে রায়হান, মিথিলা একে অপরের সাথে সময় দেয়া শুরু করলো। ধীরে ধীরে তা প্রেমের পরিণয়ে গিয়ে ঠেকলো। অবশেষে রায়হান মিথিলার প্রেমে এতটাই ডুবে গেলো যে তাকে ছাড়া তার আর কিছুই ভালো লাগেনা। এভাবে চলতে চলতে মিথিলার ফ্যামিলি তাকে অন্য এক প্রতিষ্ঠিত বি সি এস ক্যাডার এর সাথে বিয়ের ব্যবস্থা করে ফেললো। মিথিলাও ভবিষ্যতের ভালো আর মা বাবার কথা চিন্তা করে রায়হানকে না জানিয়েই এংগেজমেন্ট করে ফেললো। ওদিকে রায়হান কোন না কোন মাধ্যমে জেনেই ফেললো!
.
পাগলের মত হয়ে সে অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলো মিথিলাকে একটাবারের জন্য কাছে ডেকে সকল আবেগের সহিত জিজ্ঞেস করবে কেনো সে তার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেললো! বাট কি আর করা, মিথিলাকে সামনে পেয়ে তার মাথা গেলো বিগড়ে, তাকে ইগ্নোর করা, বিয়ের ব্যাপারে না জানানো, মেকি ভালোবাসার স্বপ্ন দেখানো মিথিলাকে সে একলা সুখী দেখতে চাইলোনা, নিজের ধ্বংসের বিপরীতে। রাগে, ক্ষোভে সে মিথিলাকে সেখানেই জোর করে যৌনতায় বাধ্য করে, খুন করে পালিয়ে গেলো!
.
আবারো সেই একই সার্কেলে ছেলেমেয়ে একাকার হয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে নেমে গেলো!

গল্পটা যেমন তেমন, বাট আমাদের সমাজের বাস্তবতা এটাই। আমরা ধর্ষণ চাইনা কিন্তু প্রতিনিয়ত ধর্ষণ হোক, এমন ই এক সমাজব্যবস্থা তৈরি করে চলেছি। নারী পুরুষকে শিক্ষা, কর্ম, বাজার সব জায়গায় একত্রিত করার ব্যবস্থার মাধ্যমে, ধর্মের দিকে বুড়ো আংগুল দিয়ে প্রেম ভালোবাসার নামে ব্যভিচারের রাস্তা সহজ করে, ক্যারিয়ারের নামে বিয়ের রাস্তা কঠিন করে, পর্দাকে সেকেলে বিধান মনে করে আইটেম সং পর্ণগ্রাফির বিশাল মার্কেট তৈরি করে, চোখের হিফাযতের কোন গুরুত্ব না রেখে, ধর্ষকের ইসলামি ব্যবস্থায় কঠিন শাস্তি এবং বিচারব্যবস্থার বিচারহীনতা আর অসচ্ছতার সুযোগ রেখে আমরা সামগ্রিকভাবে ধর্ষণ প্রিয়, অনৈতিক যৌনতার এক সমাজ তৈরি করে রেখেছি৷
.
আর এতসব শয়তানি করার পর ধর্ষণ হলে আমরা সুশীল সেজে রাস্তায় গিয়ে প্রতিবাদ করার মাধ্যমে নিজেকে মানবতাবাদী, নারীবাদী হবার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীময় খেলায় মেতে উঠে নিজেদের পচে যাওয়া আত্মাকে সুসজ্জিত প্রমাণ করতে চাই!
.
ব্যাপারটা হলো, মাদকবিরোধী কন্সার্ট করছে মাদকখোরেরা, ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন করছে ধর্ষকেরা, পটেনশিয়াল ধর্ষকেরা! এমন অবস্থায় এইসব আন্দোলন দেখে খুশি হবো, আফসোস করবো, হাসবো না কাঁদবো তা ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি!
.
Post Courtesy: Mahfuj Alamin

শেয়ার করুনঃ