ট্রেনে আসছিলাম। কিছু টিকিট বিহীন যাত্রী থাকে। সিট না পেলে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করে। আখাউড়া থেকে সম্ভবত এরকমই এক মেয়ে ভ্রমণ করলো। সিট না পেয়ে আমাদের সিট সংলগ্ন পথে দাঁড়ালো। হাবভাবে বোঝা গেল, আন্তরিক, কথা বলতে আগ্রহী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আরেক পুরুষ যাত্রী উঠলো টিকিট বিহীন। মেয়েটার পাশেই দাঁড়ালো। ট্রেনে এমনিতেই অনেক ভীড়। আখাউড়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত অবৈধ যাত্রীর সংখ্যা বেশি থাকে। ছুটির দিনগুলার আগে-পরে এদের দৌরাত্ম্যে বৈধ যাত্রীদের উঠানামাই কষ্টকর হয়ে পড়ে।

যাত্রী দুজন পরস্পর আলাপ শুরু করলো। মাঝে আমাদের সাথেও বলছে। কিছু পর ছেলেটা ফেবু আইডি চাইলো। মেয়েটাও কঠিন এক নাম বলে দিলো। সাথে রিকু পাঠানো যায় না, মেসেজ দিতে হবে ইত্যাদি। আমরাও টিকিট বিহীন যাত্রী মাড়িয়ে বহু কষ্টে নরসিংদী নেমে পড়লাম।

………..

শ্বশুরবাড়িতে একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। একটা মেয়ে খুন হয়েছে ঈদের রাতে। নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। এমনকি খুনের পর তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে।
.
শুনলাম, মেয়েটা পরকীয়ার বলি। পরিচয় সম্ভবত মাজারে। এরপর মন দেয়া-নেয়া। পরে শারীরিক সম্পর্ক করতে চায়, মেয়েটা নাকি রাজি হয় নি। ছেলেটা বিবাহিত। ১ম স্ত্রীর সাথে তালাকের পর ২য় স্ত্রীর ঘরে সন্তান আছে। বখাটে ধরনের। মূলত ধর্ষণের জন্যই বিয়ের কথা বলে ঈদের দিন নিয়ে আসে।

………..

পুরো রামাদান জুড়েই এমন নিউজ দেখেছি কদিন পরপর। ধর্ষণ, গণ ধর্ষণের পর হত্যা। পাশাপাশি আরেক ধরনের নিউজও চোখে পড়ে, ‘বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অবস্থান! অধিকাংশ সময় দেখা যায়, প্রেমিক পালিয়ে গেছে! কোন ক্ষেত্রে ঐ প্রেমিকের স্ত্রী-সন্তানও আছে। আবার পালিয়ে আসা মেয়েও স্বামী-সন্তান ছেড়ে আসছে। আবার দেখলাম, উভয়ে একাধিক সন্তানের জনক-জননী স্বামী, স্ত্রী, সন্তান রেখে পালিয়ে গেছে!

…………

দুটো জিনিস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে পাশাপাশি কঠিনও করে দেয়া হয়েছে। প্রথমটা বিয়ে। এটা আইন করে বন্ধ করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, ১৮র আগে মেয়েদের বিয়ে দেয়া যাবে না। ১৮র পূর্বে ‘বাল্যবিয়ের’ নামে বন্ধ করে দেয়া বিয়েগুলোর খবর পত্রিকায় ফলাও করে প্রচার করা হয়। ইউএনও’র আর কোন কাজ থাক বা না থাক, বিয়ে বন্ধ করা তার প্রধান কাজ। এবং এটা বিরাট সফলতা হিসেবেও দেখা হয়।
.
দ্বিতীয়ত বন্ধ করা হয়েছে সকাল বেলার দ্বীনি শিক্ষা। এটা আইন না করলেও, সকালের সাধারণ শিক্ষা বা স্কুলগুলাকে এমন নিয়মে আনা হয়েছে, সকালের মাকতাবের শিক্ষাটা অলিখিত বে-আইনের মাধ্যমে বন্ধ হয়ে গেছে। সকালের মাকতাবে শুধু কায়দা-কুরআন পড়ানো হত না। এখানে সুরে সুরে বিভিন্ন মাসআলা, তাজউইদ বা উচ্চারণের সাথে নৈতিকতা শিক্ষা দেয়া হতো। সুরগুলা বাচ্চাদের অন্তরে গেঁথে যেতো। বড় হলেও এগুলা অন্তরে সুরের সাথে বাজতো। আমাদের এখনও বাজে। শিশুকালের এই নৈতিকতা তাকে বড় কালেও অনেক অন্যায় হতে বিরত রাখতো। সে নারীকে সম্মানের সাথে দেখতো। চোখ তুলে তাকাতো না। ধর্ষণ তো তার জন্য মরে যাওয়ার শামিল।
.
এবং একটা জিনিস খুলে দেয়া হয়েছে। অশ্লীলতা। অশ্লীলতার দরজা প্রায় সর্ব দিক দিয়ে খুলে দেয়া হয়েছে। এটা বন্ধুত্বের নামে, এটা সহশিক্ষার নামে, এটা আধুনিকায়নের নামে, এটা নারীর ক্ষমতায়নের নামে, এটা নারী-পুরুষের সমান অধিকারের নামে।

…………

পুরুষের স্বভাব হল, সে সুযোগে নারীকে পেতে চাইবে। সে যখন বিবাহিত হয়, তখন সুযোগ পেলে ভিন্ন নারীর সাথে শারীরিক সম্পর্কই তার উদ্দেশ্য। অপরদিকে নারীর স্বভাব হল, সে এক পুরুষকেই এককভাবে চাইবে। সেটা স্বামীকে ছেড়ে প্রেমিকের সাথে পালিয়ে গিয়েও হোক।

………..

নারী-পুরুষের মাঝে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। নারীর বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। পুরুষের দ্বীনি শিক্ষা বন্ধ করা হয়েছে।
.
নারীকে সমাজে, লোকালয়ে ব্যাপক করা হয়েছে। তারা পুরুষের সাথে অবাধে মিশছে। পুরুষের স্বভাব চাইছে তাকে শারীরিকভাবে পেতে। নারীর বয়স বৈধ পন্থায় তাকে পাওয়া রুদ্ধ করেছে। নারী-পুরুষের দ্বীনি শিক্ষা নাই। তারা অবৈধভাবেই মেলামেশা করছে। এবার নারীর স্বভাব চাইছে, ঐ পুরুষকে এককভাবে পেতে। নৈতিকতাহীন পুরুষের আশপাশে নতুন নতুন অল্পবয়স্কা, সমবয়স্কা নারী। সে অবৈধভাবেই যখন নিত্যনতুন নারী সঙ্গ পাচ্ছে, কেন পুরনো এক নারীর সাথে চিরকালের জন্য আবদ্ধ হবে? অথবা সে বৈধভাবে আগে থেকেই এক নারীর সাথে আবদ্ধ। সম্প্রতি যৌন চাহিদায় মেলামেশা করা নতুন নারীকে সে কিভাবে স্থান দিবে?
.
এসব থেকে টানাপোড়েন এবং শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভিকটিম আমাদের নারীরাই। প্রতিদিনই তারা কোথাও না কোথাও খুন হচ্ছে, ধর্ষণ হচ্ছে, গণধর্ষণ হচ্ছে এমনকি খুনের পরও ধর্ষণ হচ্ছে নতুবা আগুন ঢেলে দেয়া হচ্ছে। নৃশংসভাবে তাদের মারা হচ্ছে।

……….

পরিত্রাণের জন্য সর্বপ্রথম একটা চালু জিনিস বন্ধ করতে হবে। অশ্লীলতা। সেটা যে নামেই হোক। উপরে নামগুলা বর্ণনা করা হয়েছে।
.
এবং দুটো বন্ধ জিনিস খুলে দিতে হবে। একটা বিয়ে। বিয়ে অবাধ করতে হবে। বিয়ে অবাধ করলে নারী নিরাপদ হবে। আরেকটা, সকাল বেলার দ্বীনি শিক্ষা। এটা বাধ্যতামূলক করে দিতে হবে। একটা বাচ্চার অন্তরে যখন আল্লাহর ভয়, ভালবাসা প্রবেশ করিয়ে দেয়া হবে, তার থেকে বাকি সবাই নিরাপদ হয়ে যাবে, ইনশা-আল্লহ! বড় হয়ে তার সামনে উলঙ্গ নারী পড়ে থাকলেও সে চোখ তুলে তাকাবে না। ধর্ষণ দূরে থাক!
.
Written by: Nijam Uddin

শেয়ার করুনঃ