২৯. আমি অনেক শুকনো। বন্ধু-বান্ধব আমাকে নিয়ে মজা করে। হতাশা লাগে। হতাশা থেকে পর্ন দেখি। মাস্টারবেট করি।

একসময় আমার ওজন ছিল ৫২ কেজি। শুকনা থাকার ফলে একবার আমি আর আমার এক বন্ধু বেশ বড়ধরণের একটা এক্সিডেন্ট থেকে বেঁচে গিয়েছিলাম। রাস্তা পার হবার সময় আমি আর  বন্ধু দুই বাসের চিপায় পড়ে গিয়েছিলাম। তারপর যদি সোজা থাকতাম তাহলেও চিপায় পড়ে চ্যাপ্টা হয়ে যাইতাম। দুইজনে বাকা হয়ে গেলাম আড়াআড়ি ভাবে। শরীর ঘেঁষে বাস চলে গেল। একটু মোটা হলেই সেদিন দুইজনেই মারা যেতাম।  শুকনা থাকার কারণে দৌড়ে সহজে কেউ পারতোনা, মোটা বন্ধুদের তুলনায় খেলাধুলায় বেশ ভালোই ছিলাম, গরমে হাঁসফাঁস কম করতাম।

৫২ কেজি ওজনের আমি এক রোযার মাসে শুকাইয়া হলাম ৫০ কেজির মতো। রোযার পর একমাস কেন জানি একটু বেশি বেশি খেলাম, রাত ১০টার মধ্যে ঘুমিয়ে ফজরের সময় উঠলাম, রিলাক্স থাকলাম, দুশ্চিন্তা, টেনশন থেকে দূরে থাকলাম। এক মাসের মাথায় ওজন বাড়ল ৬ কেজি। হলাম ৫৬ কেজি। দেড় মাস পর যখন হল থেকে বাসায় গেলাম তখন আমার ওজন ৬১ কেজি ছুঁই ছুঁই।  মায়ের মুখে হাসি আর ধরেনা। জীবনে এই প্রথমবারের মতো  বাসায় ফেরার পর মা বললোনা যে তুই শুকিয়ে কঙ্কাল হয়ে গিয়েছি। মানুষজন আমাকে এসে জিজ্ঞাসা করল, এই তুমি কি খাইছো? কেমনে এতো মোটা হলা? আল্লাহ্‌র কসম। একবিন্দুও বাড়িয়ে বলছিনা।

শরীর শুকনা, কেন মোটা হচ্ছিনা, এসব ভেবে, তালপাতার সেপাই, কাঠি, হ্যাঙ্গার, বাতাস উঠলে পড়ে যাবি সাবধান এসব কথা শুনে আর  বন্ধুরা টিশার্ট পরে মাসল দেখিয়ে বেড়ায়, মেয়েরা দেখে আর ক্রাশ খাই মেইনলি এসব দেখে মন খারাপ হয়। হতাশা আসে, হতাশা থেকে অনেকেই হীনমন্যতায় ভোগে, মানুষজনের সামনে সহজ হতে পারেনা, মিশতে পারেনা, নিজেকে গুটিয়ে নেয়। অনেকেই গভীর দুঃখবোধ থেকে পর্ন দেখে ফেলে মাস্টারবেট করে ফেলে।

দুইজন সুপার হিরোর গল্প শোনা যাক।

প্রথমজন হলেন এমন একজন যিনি এই দুনিয়ার বুকে যতো মানুষ হেঁটে বেড়িয়েছেন নবী, রাসূলের (আঃ) পর তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ। দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন। সাত আসমানের ওপর থেকে আল্লাহ্‌ (সুবঃ) যাকে সালাম পাঠিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন আল্লাহ্‌র রাসূল (সাঃ) এর সবসময়ের সঙ্গী, ইসলামের প্রথম খলিফা। আল্লাহ্‌র রাসূল মারা যাবার পরে সবাই যখন হতবিহব্বল, কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন, উমার ইবনে খাত্তাবের (রাঃ) মতো মহাবীর, প্রবল ব্যক্তিত্বের অধিকারী মানুষও শিশুর মতো আচরণ করছিলেন তখন একা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনেন এই সুপার হিরো। তিনি আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহুম।

আলী ইবনে আবু তালিব (রাঃ) এমন সাহসী, এমন দুর্ধর্ষ যোদ্ধা ছিলেন, এমন এক পর্বতসমান ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন যে শত্রুরা তাঁর নাম শুনলেই ভয়ে কাপাকাপি করতো। তিনিই হলেন সেই ব্যক্তি যিনি খায়বারের যুদ্ধে দুর্গের দরজাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন, যেটা যুদ্ধের পরে ৭০ জন মানুষ মিলেও তুলতে পারিনি। এই আলি (রাঃ) একদিন মানুষদের জিজ্ঞাসা করলেন, বলো তো সবচাইতে কে বেশি সাহসী? উত্তর এলো- আপনি,আপনি সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী হে আবুল হাসান (আলী রাঃ)’ ।  আলী (রাঃ) বললেন না, কক্ষনোনা। আমি কোনো ডুয়েল লড়াইয়ে কখনো পরাজিত হইনি, কিন্তু তারপরেও আবু বকর (রাঃ) আমার চাইতেও অনেক অনেক সাহসী। তিনি সবচেয়ে বেশি সাহসী।

(https://www.youtube.com/watch?v=rWb2Bao0JfE )

আলী (রাঃ) বললেন, বদরের যুদ্ধে একটি কমান্ড সেন্টার স্থাপন করা হল। যেখানে থেকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যুদ্ধ পরিচালনা করবেন। সেই তাবুর নিরাপত্তা প্রদানের জন্য ভলান্টিয়ার আহবান করা হলো। আমাদের কেউই এগিয়ে গেল না। এগিয়ে গেলেন কেবল আবু বকর (রাঃ)। তরবারী হাতে তিনি আল্লাহ্‌র রাসূলের (সাঃ) তাঁবু পাহারা দিচ্ছিলেন। বিশ্বাস করো, তাঁর মতো সাহসী আমি কাউকেই দেখিনি’।

(https://www.kalamullah.com/Books/Abu%20Bakr%20As-Siddeeq.pdf  page,112)

সুবহান আল্লাহ্‌ একবার চিন্তা করুন, আলীর (রাঃ) মতো মানুষ, সার্টিফিকেট দিচ্ছেন আবু বকর (রাঃ) এর মতো সাহসী মানুষ তিনি  আর দেখেননি।

এই পর্যন্ত পড়ার পর এবার আবু বকর (রাঃ) এর শারীরিক গঠনের কথা চিন্তা করুন। কেমন ছিলেন তিনি ? অনেক লম্বা, মাসলের হাট বাজার বসিয়ে ফেলা এমন একজন কেউ ?

উত্তর একটু পরে দিচ্ছি।

.

আমাদের আরেকজন সুপারহিরো হলেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)। কুরআনে তাঁর ছিল অগাধ পান্ডিত্য। একরাতে তাঁর কুরআন তিলাওয়াত শুনে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মন্তব্য করেছিলেন- কুরআন যেরকম সরস ও প্রাণবন্ত রূপে নাজিল হয়েছে, ঠিক সেরকম পড়ে যদি কেই আনন্দ পেতে চায়, তাহলে তার উচিত ইবনে উম্মে আবদ অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের কেরাতে তা পড়া’।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) শুধুই কেবল একজন কুরআনের শ্রেষ্ঠ বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াতকারী,কুরআনের পণ্ডিত, আবিদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন শক্তিশালী, আত্মপ্রত্যয়ী এবং যুদ্ধের ময়দানের একদম সামনের সারির মুজাহিদ। বিলাল (রাঃ) এর ওপর সর্বাধিক অত্যাচারকারী  উমাইইয়া ইবনে খালাফকে তিনি বদরের যুদ্ধে জাহান্নামের টিকিট ধরিয়ে দিয়েছিলেন।

তাঁর সাহসিকতা, তাঁর বীরত্বের উদাহরণ হিসেবে এটা বলাই যথেষ্ট যে তিনিই সর্বপ্রথম মুসলিম যিনি  রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর পর পৃথিবীর বুকে উচ্চ আওয়াজে কুরআন পড়েছিলেন।

.

সেই সময় মক্কার কুরাইশদের অত্যাচারের মুখে সাহাবীদের (রাঃ) পক্ষে উচ্চ আওয়াজে কুরআন পড়ে কুরাইশদের শোনানো সম্ভব হচ্ছিল না। আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বললেন, ‘আমিই তাদের উচ্চ আওয়াজে কুরআন পড়ে শোনাবো’।

সকলে হায় হায় করে উঠলেন, ‘ আপনার ব্যাপারে আমরা ভরসা পাইনা। আমাদের প্রয়োজন এমন একজন মানুষ- যার বংশ বড় এবং জনবলও বেশি। যারা তাঁর হেফাযত করবে এবং কুরাইশের ক্ষতি থেকে তাকে সুরক্ষা দেবে’।

তিনি, বাকিদের কথা না শুনে ক্বাবা শরীফে গিয়ে উচ্চকন্ঠে সূরা আররহমান তিলাওয়াত করা শুরু করেন- আররহমান, আল্লামাল কুরআন…

কুরাইশরা স্তব্ধ হয়ে গেল! এই পুঁচকে রাখালের সাহস কতো বড়!  দে মাইর দে। সবাই মিলে আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদকে (রাঃ) অনেক পেটালো। রক্তে রঞ্জিত করে ফেলল। কিন্তু তিনি তাদের কাছে মার খেতে খেতেও তিলাওয়াত অব্যাহত রাখেন। তিলাওয়াত শেষে রক্তাক্ত অবস্থায় সাহাবীদের মাঝে ফেরত আসেন। সাহাবীরা তাঁর এ অবস্থা দেখে বললেন- এটাই আমরা আশঙ্কা করছিলাম।

তিনি বললেন, আল্লাহ্‌র কসম! এই মুহূর্তে আল্লাহর দুশমনরা আমার চোখে এত পরিমাণ তুচ্ছ যে এর আগে তারা এতো তুচ্ছ ছিলনা। আপনারা চাইলে আমি আবার আগামীকাল একই কাজ করব’।

(সাহাবা কেরামায়ের ঈমানদীপ্ত জীবনি, প্রথম খন্ড ড আবদুর রহমান রাফাত পাশা , রাহনুমা প্রকাশনী)

.

এই মর্দে মুজাহিদ আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ)  কেমন ছিলেন? পালোয়ান? মাসলম্যান ?

আমাদের প্রথম সুপারহিরো আবুবকর (রাঃ) এর কাছে ফেরত যাওয়া যাক। কেমন ছিল তাঁর শারীরিক গঠন? তাঁর মেয়ে আম্মাজান আঈশা (রাঃ) আমাদের জানাচ্ছেন- ‘বাবা ছিলেন খুবই শুকনা। এতোই শুকনা যে তাঁর কোমরে পায়জামা ঠিকমতো থাকতোনা। পড়ে যেত খানিকপর পর। তাঁর চোখগুলো ছিল গর্তে বসা। তিনি যেন বাতাসে ভেসে ভেসে হাঁটতেন। এতোটাই শুকনো ছিলেন তিনি’। রাদিয়াল্লাহু আনহুম। (https://www.youtube.com/watch?v=PoWhAxt8pJg&t=219s)

আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) ছিলেন অনেক শুকনো। একবার তিনি খেজুরের গাছে উঠছিলেন। তাঁর সরু সরু কাঠির মতো পা দেখে অনেকেই হাসাহাসি শুরু করে দিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তখন ঐ সাহাবীদের বললেন, ‘ তোমরা কেন এমন করছো? তোমরা কেন হাসছো? কসম সেই সত্তার যার হাতে আমার প্রাণ, আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদের পা যদি মিজানের পাল্লায় ওজন করা হয় তাহলে তা উহুদ পাহাড়ের চাইতেও বেশি ভারি হবে।

(https://www.youtube.com/watch?v=4IxXei_SvAQ  )

.

ভাই আসল কনফিডেন্স, আসল শক্তি গায়ের মাসল দিয়ে আসেনা, আসে আল্লাহ্‌র ভয়, আল্লাহ্‌কে চিনতে পারা, তাওহীদকে বুঝতে পারার মাধ্যমে। মেয়েদের ক্রাশ হওয়া, মেয়েদের সাথে ফুচকামি করার মধ্যে পুরুষ হবার কিছু নাই, পুরুষ তো তাঁরাই যারা ফজরের সালাতে ঘুম থেকে উঠতে পারেন, রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, চোখের হেফাযত করতে পারেন, নির্জনে, ঘরের কোণে কেউ যখন দেখছেনা এমন মুহূর্তে নিজেকে পাপের হাত থেকে রক্ষা  করতে পারেন, আল্লাহ্‌র শত্রুদের মনে কাপন ধরিয়ে দিতে পারে্ন। সাহসিকতা, নির্ভীকতার সঙ্গে চিকনা না মোটকু না সুঠাম দেহ এসব জড়িত না। এসব কোনো ফ্যাক্টরই না।  নিজের শুকনা শরীর নিয়ে কক্ষনো হীনমন্যতায় ভুগবেন না। এই শরীরের বড়ত্ব, এই শরীর দিয়ে ভাব মারা, ধরাকে সরা জ্ঞান করা আযরাইলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যাবে। মাটিতে পচে যাবে। পোকা ধরবে।  আর আল্লাহ্‌র কাছে আপনি কতো সম্মানিত তা আপনি দেখতে কেমন, শুকনা না মোটা এসবের ধার ধারেনা

‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি অধিক সম্মানিত যিনি তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক খোদাভীরু। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং সব বিষয়ে অবহিত’ (সূরা হুজরাত : ১৩)।

.

ভাইয়া দেখুন, একটা বয়সে সবাই একটু শুকনা থাকে। তারপর যখন বয়স বাড়তে শুরু করে তখন তালপেতার সেপাই থেকে ভুড়ির আড়তদার হয়ে যায়। এগুলো নিয়ে চিন্তা করবেন না ভাইয়া। সব ঠিক হয়ে যাবে ইনশা আল্লাহ্‌।

রাত জাগবেন না। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠবেন।  ব্যায়াম করবেন।  বেশি বেশি খাওয়া দাওয়া করুন। এক দুই মাস সেই লেভেলের একটা খাওয়া দিন । পর্ন, মাস্টারবেশন, সিগারেট বাদ দিন। দেখেন কি হয়।

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমার মায়ের ইচ্ছা ছিল আমাকে স্বাস্থ্যবতী বানিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পাঠাবেন। এজন্য তিনি অনেক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, কিন্তু কোন ফল হয়নি। শেষে তিনি আমাকে পাকা খেজুরের সাথে শসা বা খিরা খাওয়াতে থাকলে আমি তাতে উত্তমরূপে স্বাস্থ্যের অধিকারী হই। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৯০৩

.

এটা নিয়ে মন খারাপ করার কিছু নেই।  আমি শুকনো আমাকে অনেক খারাপ দেখায়, কোনো মেয়ে আমাকে পছন্দ করবেনা, আমার বিয়ে হবেনা এসব ভেবে ভেবে কষ্ট পাবেন না। হীনমন্যতায় ভোগারো কিছু নেই। আল্লাহ্‌ যদি আপনার কপালে বিয়ে লিখে রাখেন তাহলে বিয়ে হবেই । কেউ ঠেকাতে পারবেনা।  আর ভাইয়া আল্লাহ্‌র কাছে প্রিয় হতে চেষ্টা করুন। আল্লাহ্‌র ভালোবাসা পাবার চেষ্টা করুন। তাহলে আপনি মানুষের ভালোবাসা পাবেন। আল্লাহ্‌ আপনার চেহারায় নূর ঢেলে দিবেন।

যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে ভালোবাসে আল্লাহ তাআলাও তাকে ভালোবাসেন। হাদিসের বর্ণনায় আল্লাহর ভালোবাসার মাধ্যমেই মানুষ দুনিয়াতে জনপ্রিয়তা লাভ করে।

পক্ষান্তরে আল্লাহর অবাধ্য কাজ করলেই বান্দা তার বিরাগভাজন হয়ে যায়। সুতরাং যে বান্দার প্রতি আল্লাহ তাআলা ঘৃণা পোষণ করেন, এ ঘৃণার প্রভাবও কঠিন আকারে বিস্তৃতি লাভ করে। দুনিয়াতে সে হয় অপমানিত ও লাঞ্ছিত।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ যখন কোনো ব্যক্তিকে ভালোবাসেন, তখন জিবরিলকে ডেকে বলেন, আমি অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসি, সুতরাং তুমিও তাকে ভালোবাস।

অতঃপর জিবরিল আলাইহিস সালাম তাকে ভালোবাসতে থাকেন। তারপর (জিবরিল) আকাশবাসীকে (ফেরেশতাদের) বলে দেন যে, আল্লাহ অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসেন। অতএব তোমরা তাকে ভালোবাস। তখন আকাশের সকল ফেরেশতা তাকে ভালোবাসতে থাকেন। অতঃপর সে ব্যক্তির জন্য জমিনেও জনপ্রিয়তা দান করা হয়।

আর আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ঘৃণা করেন তখন জিবরিলকে ডেকে বলেন, আমি অমুক ব্যক্তিকে ঘৃণা করি, তুমিও তাকে ঘৃণা কর। তখন জিবরিলও তাকে ঘৃণা করেন। এরপর আকাশবাসীকে বলে দেন যে, আল্লাহ অমুক ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন, তোমরাও তাকে ঘৃণা কর। তখন আকাশবাসীরা তাকে ঘৃণা করতে থাকে। অতঃপর তার জন্য জমিনেও মানুষের মনে ঘৃণা সৃষ্টি হয়।’ (মুসলিম, মিশকাত)

আরো পরামর্শের জন্য নক করুন- https://www.facebook.com/RijaalGym/

অবশ্যই শুনুন- https://www.youtube.com/watch?v=PoWhAxt8pJg&t=219s

 

আমরা খুব ছোটো মানুষ। আমাদের লিখার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব ইনশা আল্লাহ্‌।  যেকোনো ধরণের পরামর্শ বা সাজেশন  হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ …

পড়ুন আগের পর্বগুলা

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (প্রথম পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারগার (দ্বিতীয় পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (তৃতীয় পর্ব)

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (চতুর্থ পর্ব )

ভেঙ্গে ফেলো এই কারাগার (পঞ্চম পর্ব)

 

শেয়ার করুনঃ