বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

কোনো ভাই-ই যখন আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের যাত্রা শুরু করেন উনারা অনেক সমস্যার মুখোমুখি হোন। এই সমস্যাগুলো আমাদের ভাইদের ভীতি, হতাশা আর দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দেয়। প্রকৃতপক্ষে বেশিরভাগ সময় ই সেগুলো আসলে আশংকার কোনো কারনই না। বিষয়টা আরেকটু ক্লিয়ার করে বলি।
.
আমাদের ভাইয়েরা অনেকেই প্রশ্ন করেন… “বদঅভ্যাস ছাড়ার পর ঘনঘন স্বপ্নদোষ হচ্ছে” কেউ আবার বলেন “স্বপ্নদোষ হয় না”।  (এগুলো আসলে কোনো সমস্যাই নয়- পড়ুন- ভুলে ভরা স্বপ্ন )অনেকে আবার প্রশ্ন করেন “লিঙ্গের ..এরকম দেখা যাচ্ছে”… এরকম অনেক অনেক প্রশ্ন।
.
দেখুন। শয়তান হল মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। শয়তানের মিশন আপনাকে আমাকে তার সাথে জাহান্নামের আগুনে নিয়ে যাবে। তাহলে শয়তানের কি করার? শয়তান কি বাজারের মাঝখানে একটা স্টল বসাবে, যেখানে একটা পোস্টার থাকবে তাতে লেখা থাকবে, “আল্লাহর অবাধ্য করুন। কুফুরী করুন। আমার সাথে জাহান্নামের টিকিট কিনুন”
.
শয়তান কি এটা করবে? না। কারন এটা কখনই মুমিন বান্দার উপর কার্যকর হবে না।

তাই শয়তানের টেকনিক হল আসতে আসতে আল্লাহর বান্দাদেরকে তার দিকে নিয়ে যাওয়া। দেখুন, শয়তান যদি বারসিসার কাছে গিয়ে সরাসরি বলত, “হে বারসিসা, তুমি আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে আমাকে সিজদা কর”, বারসিসা কখনই করত না। তাই শয়তান তাকে ছলে বলে, আসতে আসতে একটু একটু করে কুফুরী এবং শিরকের দিকে নিয়ে গিয়েছে। আর তার প্রথম স্টেপগুলি ছিল খুবই ইনোসেন্ট (আপাত দৃষ্টিতে)। প্রথম স্টেপগুলি দেখে মনে হয়, আমি তো আল্লারই সন্তুষ্টি কামাই করছি।

একই ভাবে, শয়তান আদম আলাইহিসসালামকে ভুলিয়ে সেই গাছের ফলটি খাওয়ার ব্যবস্থাও করেছে। প্রথমেই গিয়ে বলেনি যে, “হে আদম, তুমি এই নিষিদ্ধ ফলটি গ্রহন কর”। মূলত এই ধীরে ধীরে আগানো শয়তানের একটি কৌশল।
.
এখন আমরা আমাদের কথায় ফিরে আসি। যে ভাইটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পর্ন, মাস্টারবেশন এর মত চরম গুনাহর কাজ থেকে ফিরে আসার চেষ্টা করছে, শয়তান কি তাদের এত সহজে ছেড়ে দিবে। শয়তান তার মধ্যে ওয়াসওয়াসা দিতে থাকে। ভাইটির মাঝে চিন্তা হয়, “আচ্ছা, আমি পুরুষত্ব হারাইনি তো”। তো চেক করার জন্য শয়তান বুদ্ধি দেয়, “এক কাজ কর, একটু পর্ন দেখে দেখ সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা। না না… কোনো উপভোগ করার জন্য না। শুধু চেক করেই ফিরে আসবা।”

এভাবেই অনেকদিন বন্ধ থাকার পর দেখা হয় যায় ১-২ মিনিটের জন্য। পরেরদিন সুযোগ করে বলবে। “গতকাল দেখেই যখন ফেলেছ আজকে আরেকটু দেখ।”। এভাবে বেশ কিছুদিন পর বলবে, “শালা, ভন্ডামি বাদ দে, দেখতে থাক”।

একই ভাবে, মাস্টারবেশনের ক্ষেত্রেও শয়তান ওয়াসওয়াসা দেয়। প্রথমে বলে, “দেখ ভাই, তোমারতো অনেকদিন ধরে স্বপ্নদোষ হয় না, আজকে একটু মাস্টবেট করে দেখতো সব ঠিকঠাক আছে নাকি”। একদিন দুইদিন করে আসতে আসতে আবার আপনাকে পর্ন, মাস্টারবেশনের এই জালে আপনাকে আবার আটকে ফেলবে। ব্যস!! শয়তার তার মিশনে সার্থক। আর আপনি অনন্তকালের জন্য ডুবতে থাকবেন এই অন্ধকার জগতে।

সুতরাং, ভাইয়েরা আমার। মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন এসব চিন্তা। এগুলো নিয়ে বেশি মাথা ঘামাবেন না। নিজেকে বার বার মনে করিয়ে দিন এসব চিন্তা শয়তানের ফাঁদ। সে চায় আপনাকে এই নীল জগতের চিরবাসিন্দা করতে। তাই এসব দুশ্চিন্তা করবেন না। পুরুষত্ব আছে কি না গেছে এসব না চিন্তা করে পুরুষত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য যে সাস্থ্যকর জীবন যাপন করা উচিৎ সেদিকে ফোকাস করুন। নিজের জীবনে ইসলামকে প্রয়োগ করুন। ইলম অন্বেষণ করুন। আমল করুন। এক্সারসাইজ করুন। সাস্থ্যকর খাবার খান। পরিমিত ঘুমান। পরিবারকে সময় দিন। দরকার হলে রান্নাতেও হাত লাগাতে পারেন। নিজেকে ব্যস্ত করে ফেলুন। আর যদি অবসর সময় পান, আল্লাহর দ্বীনের মেহনত করুন। কিছুই যদি করতে না পারেন, তাহলে আপনার বাসার সামনে এই রাস্তাটা যে আছে, সেখানে যেই ইটটা পড়েছিল, ঐযে আপনি যে হোচোট খেয়েছিলেন। ওটা সরিয়ে আসুন। সদকার সাওয়াবও অর্জন করবেন।

যদি দেখেন যে আপনি যেই সমস্যায় আছেন সেটা আসলেই গুরুত্বর। ইগনর করা যায় না। ফিজিকাল সমস্যাও অনুভব করেন। তাহলে চিকিৎসকের কাছে যান।

আর সর্ব অবস্থায় আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার আর দু আ করতে থাকুন। আল্লাহ্‌ই আমাদের রব। তিনিই সব সমস্যার সমাধান করেন।

চলবে ইনশা আল্লাহ…

( একটা সময় ছিল যখন আমাদের টিমের লিখালিখির কাজটা দুই একজন ভাইই দেখতেন। আলহামদুলিল্লাহ! নতুন নতুন লেখক আমাদের টিমে যোগদান করছেন। আজকের এই লিখাটি লিখেছেন আমাদের টিমের সর্বকনিষ্ঠ মেম্বার। আদরের ছোটভাইটির জন্য আপনারা সবাই দিলখুলে দু’আ করবেন ইনশা আল্লাহ।)

পড়ুন- আগের পর্বগুলো

শেয়ার করুনঃ