বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম।

সবাই ফেরে না।  

ফিরতে যে হবে এই বোধটাই কাজ করেনা অনেকের মনে।  

কেউ  কেউ ফেরে।  

প্রত্যাবর্তনের পথে কিছু কিছু কস্টলি অতীত তো থেকেই যায়। সিগারেটের ধোঁয়ার আড়ালে স্বযত্নে লুকিয়ে রাখা দীর্ঘশ্বাস,  এক পৃথিবী হাহাকার, অশ্রু,ঘাম,রক্ত,বুকের ভেতরের প্রতিনিয়ত লাল নীল ক্ষরণ।

প্রিয়তমার গভীর কালো চোখ,কালো চোখে মুক্তোর মতো জল, টুকরো টুকরো স্মৃতি, প্রিয় কিছু গান,কিছু কবিতা প্রত্যাবর্তনের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। সব হারানোর ভয়, সমাজ,সংস্কৃতি অদৃশ্য এক শিকলে আটকে রাখে, ফিরতে দেয়না।

তারপরেও কেউ কেউ ফিরে আসে জীবনে, ফিরে আসে মিল্লাতে ইবরাহীমে।

জাহেলিয়্যাতকে লাথি মেরে, মিথ্যে উপাস্যদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, বিমূর্ত মূর্তিকে ছুঁড়ে ফেলে,  সমাজ সংস্কৃতির কারাগারের দেয়াল মিশিয়ে দেয় ধূলোয়।

সব হারানোর ভয় হারিয়ে   বজ্র কন্ঠে ঘোষণা করে, ‘ আশহাদু আল লাইলাহা ইল্লাল্লাহ…… ‘

প্রত্যাবর্তনের পথে ফেরার ইচ্ছেটাই গুরুত্বপূর্ণ। ফিরে আসার আন্তরিক  ইচ্ছে থাকলে আল্লাহ (সুবঃ) ফেরার পথে অবশ্যই পরিচালিত করবেন। এটাই আল্লাহর চিরন্তন সুন্নাহ।  দিল চলে যায়, শতাব্দীর পর শতাব্দী পার হয়ে যায়, এক জাতির উত্থান ঘটে, অন্য জাতির পতন হয়, নদী তার গতিপথ বদলে ফেলে, কিন্তু  আল্লাহর এই সুন্নাহর কোন পরিবরতন হয়না। আসহাবে কাহফের যুবক থেকে শুরু করে সালমান আল ফার্সি (রাঃ)….. কখনো হয়নি।

আমরা আজ এক যুবকের গল্প শুনব।  জীবনের সবকটি অন্ধকার গলিতে বিচরণ করে যে প্রত্যক্ষ করেছে  সকালের সোনালী সূর্যোদয় । অন্ধকারে মাথা কুটে মরেছে বহুকাল, তাই তীব্রভাবে বুঝেছে আলোর মূল্য, আলোর দেখা পাওয়া মাত্রই গ্রহণ করে নিয়েছে দ্বিধাহীন চিত্তে।

জীবনের বিশাল ক্যানভাসে সুনিপুণভাবে এঁকেছে প্রত্যাবর্তনের গল্প…

.…প্রথম কখন কোন মুহূর্তে আমি তোমাকে দেখেছিলাম  ঠিক মনে নেই। বুকের হার্টবিট মিস হয়নি, বুকের বাম পাশটা খাঁচা ছেড়ে বের হয়ে যেতেও চায়নি। স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় ছেদ পড়লে কান গরম হয়ে যায়। বালিকা বিশ্বাস করো, সেই মুহূর্তে আমার কিছুই হয়নি। হাত দুটো মুঠো পাকিয়ে চোয়াল শক্ত করে   শুধু একটা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম- যে করেই হোক তোমাকে পেতে হবে, যে করেই হোক। ষোলোতে পা দেওয়া আমি হঠাত করেই সেদিন যেন অনেক বড় হয়ে গেলাম। বুঝে ফেললাম এক নিমিষে, ক্যারিয়ারে মনোযোগী না হলে নিম্নমধ্যবিত্ত এই আমার তোমাকে পাওয়া হবেনা কখনোই।

পড়াশোনায় সিরিয়াস হলাম। রাত জেগে জেগে পড়তাম। যখন ঘুমে দুচোখ ভারী হয়ে আসতো, তখন তোমার কথা ভাবতাম,তোমাকে কল্পনা করতাম। বেতের ফলের মতো নীরব ব্যথিত তোমার দুচোখ, পুরো মুখ জুড়ে নীরব বিষাদ ছড়িয়ে রয়েছে , চোখ থেকে দু’ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ার অপেক্ষায়।  ঘুম পালিয়ে যেত। অদ্ভূত এক শক্তি অনুভব করতাম। ভাগ্যের সন্ধানে নড়বড়ে পালতোলা জাহাজ নিয়ে সমুদ্রে ভেসে পড়া যুবকদের স্বপ্নের মতো শক্তি পেতাম। হাতমুঠো করে প্রতিজ্ঞা নবায়ণ করতাম। তোমাকে পেতেই হবে। একদিন, কোনো একদিন থুতনি ধরে সবুজ ঘোমটার আড়াল থেকে তোমাকে বের করব। জিজ্ঞাসা করব, ‘ মেয়ে, কিসের এতো দুঃখ তোমার’?

একবছরের জুনিয়র তুমি, জানলেও না আমার রেসাল্ট এরপর থেকে কতো ভালো হতে শুরু করলো। অংকের মামুন স্যারের হাতে  বরাবরই বেইজ্জতি হতাম, সেই মামুন স্যার পর্যন্ত আমাকে ক্লাসের সবার সামনে ডেকে পিঠ চাপড়ে দিয়েছিলেন!

বিতর্কের ডায়াসে দাঁড়িয়ে ক্ষুরধার যুক্তি দিয়ে একের পর এক আক্রমণ শানাতাম, করতালিতে  ফেটে পড়তো হলরুম। এককোণায় চুপটি করে বসে থাকতে তুমি, স্নিগ্ধ,সৌম্য মূর্তি হয়ে, আমি আরো প্রাণশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তাম প্রতিপক্ষের ওপর!

টিফিনের ব্রেকে তুমি ফুচকা খেতে যেতে স্কুল গেটে। দূর থেকে তোমাকে দেখতাম আর মুগ্ধ হতাম ক্ষণে ক্ষণে। একটা মেয়ে গোগ্রাসে ফুচকা গিলছে একের পর এক, এই অদ্ভূত দৃশ্যও আমার কাছে অপূর্ব মনে হতো। প্রেমে পড়লে সত্যিই বোধহয় মানুষের মস্তিষ্ক ওলট পালট আচরণ করে।  

প্রথম কখন আমাদের  কথা হয়েছিল, মনে আছে তোমার?

ফিজিক্সের প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিলে তুমি মফিজ স্যারের বাসায়। আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নেমেছিলবাসায় ফেরার মাঝপথে আটকা পড়েছিলে  আমাদের পাশের গলিতে, নাবিলদের বাসার নিচে। বৃষ্টিতে ফুটবল খেলে, কাদামাখা ভূত হয়ে  বাসায় ফিরছিলাম। ভর সন্ধ্যায় তোমাকে ঐখানে দেখে চমকে গেলাম। তুমি আমার দিকে একপলক চাইলে। ঘরে ফেরার দুশ্চিন্তায় ছেয়ে গিয়েছে তোমার মুখ। যা বোঝার বুঝে গেলাম। এক দৌড়ে বাসায় গিয়ে ছাতা নিয়ে আসলাম। একটা রিকশা ডেকে দিলামএকেবারে সিনেমার  নায়কদের মতো।

পুরোটা সময় তুমি মুখ গোমড়া করে রেখেছিলে, হাইপাওয়ায়ের চশমা পড়া হাইস্কুলের হেড মাস্টারনীর মতো। ভাগ্যিস , তখন ফেইসবুক, মোবাইলের এতো সহজলভ্যতা ছিলনা, তাহলে তুমি খুব সহজেই বাসায় যোগাযোগ করতে আর আমারও  কপালে জুটতোনা হিরোগিরি করা। রিকশায় ওঠার আগে হাফপ্যান্ট, ম্যাগি টিশার্ট পড়া আপাদমস্তক কাদামাখা আমার দিকে তাকিয়ে হেসেছিলে। আস্তে করে বলেছিলে, থ্যাংকস।

বুকে কাঁপন উঠেছিল আমার।

এরপর মাঝে মাঝেই তুমি আমার সঙ্গে কথা বলতে। কখনো টিফিনের ব্রেকে ম্যাথ বুঝতে আসতে, কখনোবা ফিজিক্স। আমি খুব নার্ভাস হয়ে যেতাম। তুমি কঠিন মুখে পড়া বুঝতে। নাকি বোঝার ভান করতে, আর মনে মনে আমার দুরাবস্থা দেখে হাসতে?

একবার পরীক্ষাতে তোমার সিট পড়েছিল একদম আমার পাশে। আমি পরীক্ষা  আর কী দিব! এতো নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম, হৃদপিণ্ডটা এতো জোরে ধুকধুঁক করছিল ভয় হচ্ছিল সবাই না শুনে ফেলে।

আমি স্কুল শেষ করে বের হয়ে আসলাম। তুমি এক বছরের জুনিয়র, স্কুলেই থেকে গেলে। আমি চলে গেলাম অন্য শহরে। কলেজের ক্লাস টেস্ট, ল্যাবের ভয়াবহ অত্যাচার, নতুন পরিবেশ, তারওপর  তোমার সাথে আর যোগাযোগ হয়না। আমার তখন কী যে ভাংচুর অবস্থা! ছুটিতে বাড়ি এসে তোমার বাসার সামনের গলিতে হেঁটে বেড়াতাম, যদি একটিবার তোমার দেখা পাওয়া যায়, যদি একটিবার তুমি  ব্যালকনিতে আসো।  কী যে কষ্টের ছিল সেই দিনগুলা। ফেইসবুকে একাউন্ট খুলেছিলাম। তোমাকে তন্ন তন্ন করে খুঁজে বেড়িয়েছিলাম। অনেক বন্ধুবান্ধবকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম পাইনি। দুইবছর এভাবে চলে গেল। তোমার দেখা পেলাম না। তুমিও আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করলে না। ভীষণ দুঃসময় চলছিল আমার তখন।

ভার্সিটিতে ওঠার পর ভাবলাম এবার তোমাকে বোধহয় মনের কথা বলা যায়। কতো কাহিনী করে তোমার ফোন নম্বর ম্যানেজ করেছিলাম। উইকএন্ড ছিল। পুরো হল ফাঁকা। সারাদিন মনের সাথে যুদ্ধ করলাম। সাহস সঞ্চয় করলাম। আগুনঝরা চৈত্রের শেষ প্রহরে দুরু দুরু বুকে তোমাকে ফোন দিয়েছিলাম। আড়াই বছর পরে তোমার কথা শুনলাম। নার্ভাস হয়ে সব ভজঘট পাকিয়ে ফেলেছিলাম। কথা জড়িয়ে আসছিল। একটুপর ধাতস্ত হয়ে কতো কথা বলে গিয়েছিলাম কিন্তু সেই কথাটি আর বলা হলোনাতুমি ঠিকই ধরে ফেলেছিলে। হেসেছিলে প্রাণভরে। কপট রাগের স্বরে বলেছিলে-   সামনে আমার এইচএসসি পরীক্ষা’।

আমি আর তোমাকে ফোন দেইনি। এর মাঝে একদিন তুমি  ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালে। আমি দিনে অন্তত দশবার তোমার ওয়ালে ঘুরে বেড়াতাম আর বুক ভাঙ্গা দীর্ঘশ্বাস ফেলতাম। নক করার সাহসও হয়নি। কেন যে এতো ভীরু হয়ে যেতাম তোমার কাছে!

প্রেমের মাতাল হাওয়া বইতে শুরু করেছিল সেই প্রথম দেখা থেকেই। যদিওবা তখন তা ছিল একপাক্ষীক হাওয়া। হৃদয় আকাশে যে অল্প অল্প করে ভালোবাসার মেঘ জমছিল সেটা তুমিও বুঝতে আমিও বুঝতাম। শুধু বৃষ্টিটা কেন জানি নামছিল না!

এইচএসসির পর আমার শহরে  চলে আসলে মেডিকেলে চান্স পেয়ে। উঠলে তোমার ভাইয়ের বাসায়। ভাইয়াকে বলে দিয়েছিলে এডমিশানের সব কাজ  একাই পারবে। ফোন করে ডেকে নিলে আমাকে।

তারপর এডমিশনের কাজে এ বিল্ডিং ও বিল্ডিং এ ছোটাছুটি,রাস্তা পার হতে গিয়ে ভয় পেয়ে তোমার আমার বামবাহু আঁকড়ে ধরা, রিকশায় ঘোরাঘুরি… কখন যে বিস্ময়কর রুদ্ধশ্বাস ভালোবাসার মেঘ গলে গেলো, কখন অঝোরে বৃষ্টি নামলো, কখন ‘আপনি’ থেকে ‘তুমি’তে নেমে আসলাম আমরা দুজন, টের পাইনি একদম!

এরপরের কাহিনীটা পুরনোই। পৃথিবীর বুকে অনেকবার অভিনীত হয়েছে। অবিমিশ্র ভালোবাসায় মাতাল হয়ে গেলাম আমরা দুজন।

নিঃসঙ্গতায়, নির্জনতায় কেটেছে আমার সারাবেলা,কত ভয়ঙ্কর দিন গেছে, কত গভীর গোপন কথা লুকোনো আছে আমার হৃদয়ে… এখন আমার খুব কাছে সমস্ত উষ্ণতা, নিশ্চয়তা  আর স্বপ্ন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অবিশ্বাস্য সুন্দরী এক মেয়ে। এ যেন এক রূপকথা! এক স্বপ্নের ভালোবাসা!

.রং বদলে ধূসর হয়ে গেল জীবন কয়েক মাসের মাথাতে। আসলে প্রেমে পড়ার সময় থেকে প্রেম হয়ে যাবার পরের কিছুটা সময় স্বপ্নের মতো কাটে। তারপর স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ।

তুচ্ছ তুচ্ছ কারণে আমাদের ঝগড়া হতো… এইটা কেন করলাম, কেন ওইটা করলাম না, কেন ওর সঙ্গে কথা বললাম, কেন ফোন রিসিভ করলাম না, কেন মেসেজের রিপ্লাই দিলামনা…। প্রত্যকে ঝগড়া শেষে আমাকেই সরি বলতে হতো। মালির চোখ এড়িয়ে হলের বাগান থেকে গোলাপ চুরি করে, মনের বিরুদ্ধে কবিতা লিখে (বেশিরভাগ সমইয় জীবনানন্দ বা সুনীলের কবিতা কপি পেস্ট করতাম। তুমি বইটই পড়তেনা। ধরতেই পারতেনা  আমার কারচুপি!) বা রেস্টুরেন্টে নিয়ে গিয়ে তোমার মান-অভিমানের বরফ গলাতে হত।

আমাকে কতো সন্দেহ করতে তুমি!  কিছুক্ষণ পর পর ফোন করতে । ফোন একটু বিজি দেখালেই  চিল্লাচিল্লি করতে। মায়ের সঙ্গেও যে আমি ফোনে কথা বলতে পারি এটা  বুঝতে চাইতেনা। ঝগড়া করতে। অথচ অন্য ছেলেদের সাথে তুমি খুব হেসে হেসে কথা বলতে, রিকশায় এখানে সেখানে যেতে।আমার গা জ্বলে যেতো ঈর্ষায়। তোমাকে জিজ্ঞাসা করলে, হেসে উড়িয়ে দিতে। বলতে ওরা তো আমার ক্লাসমেট বা জাস্ট ফ্রেন্ড। একবার এক ব্যাচেলর স্যারের স্কেচ এঁকে ফেইসবুকে আপলোড দিলে তুমি। এটা নিয়ে কথা বলা শুরু করতেই ক্ষেপে ব্যোম হয়ে গেলে, আমার সাথে কথা বললেনা ঝাড়া দু’সপ্তাহ।   

একেতো ছিলে ডানাকাটা পরীদের মতো রূপবতী, তার ওপর খুব মিশুক। সহজেই ক্যাম্পাসে পপুলার হয়ে গেলে। ডিএলএসআরওয়ালা অনেক  জাস্টফ্রেন্ড ছিল তোমার। তাদের দিয়ে নানা ভঙ্গিমায় ছবি তুলতে। আমার পছন্দ হতনা। নিষেধ করলে শুনতে না। ঘষামাজা করে প্রায় প্রত্যেকদিন ফেইসবুকে ছবি আপলোড করতে, ছেলেরা সমানে লাভ রিএক্ট দিত, কমেন্টে তোমার রূপের প্রশংসা করত। তুমি খুব খুশি হতে। আর এদিকে আমি ঈর্ষার আগুনে জ্বলে পুড়ে কয়লা হয়ে যেতাম।  

অনেকবার তোমাকে বুঝিয়েছিলাম, ফেইসবুকে এভাবে ছবি দিওনা। যে ছেলেগুলো তোমার রূপের প্রশংসা করছে, সেই ছেলেগুলোর অনেকেই তোমাকে নিয়ে সেক্স ফ্যান্টাসিতে ভোগে, রসালো আলোচনা করে বন্ধুদের সাথেআমার অনেক বন্ধুদের দেখেছি সামনা সামনি বা ফেইসবুকে কোনো মেয়ের অনেক প্রশংসা করতে, কিন্তু আড়ালে ঐ মেয়ের কথা উঠলেই বাজারের মেয়ে টাইপ গালি দিয়ে সম্বোধন করে। ডিএলএসআর ওয়ালা বন্ধুদের দেখেছি তাদের জাস্টফ্রেন্ড বন্ধুদের ছবি এডিট করার সময় জুম করে করে দেখতে আর বাজে বাজে কথা বলতে।

তুমি আমার কথা শুনে রেগে ফায়ার হয়ে যেতে। আমি খুব পযেসিব, তুমি তোমার ব্যক্তি স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলছো, স্বাধীনভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারছোনা,আমার মানসিকতা খুব নোংরা, আমার পাশে তুমি ইনসিকিউরড ফিল করো, গা ঘিন ঘিন করে…… কতো কিছু শুনিয়েছিলে তুমি।

রাত জেগে ফোনে কথা বলার কারণে সকালের ক্লাসগুলো মিস হতো। পড়াশোনায়ও মন দিতে পারতাম না। পড়ার টেবিলে বসলে শুধু ‘তুমিই’ মাথার মধ্যে ঘোরাফেরা করতে। তাছাড়া একটু পর পর মেসেজের রিপ্লাই দিতে হতো, কথা বলতে হতো। খুব খারাপ রেসাল্ট হয়েছিল সেই সেমিস্টারগুলোতে।

ভালোছাত্র,ভালোমানুষ রুমমেট  অনেক বুঝিয়েছিলো। পাত্তা দেইনি । বাবা মাঝে মাঝে পড়াশোনা কেমন চলছে জিজ্ঞাসা করতেন। আমি বাবার কাছে আজীবন সত্যি বলে এসেছি। আমাকে নিয়ে তিনি একদম নিশ্চিন্ত ছিলেন। মিথ্যে কথা বলতে গিয়ে আমার বুক ভেঙ্গে যেত। খুব খারাপ লাগতো। কিন্তু মিথ্যে বলতেই হতো।ঐদিনগুলোতে প্রবল এক পাপবোধ তাড়া করে বেড়াতো।শান্তি পেতাম না।রাতে ঘুমুতে পারতাম না।

পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছিল । একবার টার্ম ব্রেকের সময় বাসাতেও যেতে পারলাম না টিউশনির কারণেডেটিং এর খরচ জোগাড়ের জন্য বাসায় মিথ্যে কথা বলে টাকা নিতাম। একই বই তিনচারবার করে কিনতাম। টিউশনিও করাতে হতো কয়েকটা। টায়ার্ড হয়ে রুমে ফিরতাম রাতে। পড়তে বসার মনমানসিকতা বা এনার্জি কোনোটাই থাকতো না। রেসাল্ট খারাপ হতো আগেই বলেছি। আমার কি যে খারাপ লাগতো! আমার গাধা গাধা বন্ধুগুলা আমার চেয়ে অনেক ভালো করতো।     

তোমাকে স্বপ্নভেবে ছুঁয়ে দিতে চেয়েছিলাম। বড়ো সাধ ছিল আকাশে সাত লক্ষ সুখের ফানুশ ওড়ানোর, অথচ আমার মৃত আকাশ জুড়ে উড়েছিল শুধুই যন্ত্রনার বেলুন। বিষম ভার হয়ে তুমি চেপে বসেছিলে আমার বুকের ভেতর। তবু তোমার হাসি,আড়চোখের চাহনি,পাগলামি, ঘন্টার পর ঘন্টা ছেলেমানুষি কথাবার্তা, আলো-আধারি,রহস্যময়তা,উদাসীনতা,গালে হাত দিয়ে চুপচাপ বসে থাকা সবকিছু মিলিয়ে তুমি আমার কাছে ছিলে এক মাদকের মতো। মিশে গিয়েছিলে আমার রক্তের প্রতিটি অনুচক্রিকায়। জানি তুমি আমাকে পোড়াবে, কিন্তু আমি পুড়তেই যে ভালোবাসতাম…

চলবে ইনশা আল্লাহ…

(সত্য কাহিনী অবলম্বনে লস্টমডেস্টি টিম কর্তৃক অনুলিখিত,কিছুটা পরিবর্ধিত)

 

শেয়ার করুনঃ