বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

ছয়

.আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

আমি বেশি কিছু বলতে চাইনা। শুধুমাত্র এটাই বলবো যে…….শুধুমাত্র এটাই বলবো যে কাজ-টা আমার জীবনে একেবারেই অসম্ভব মনে হতো,যে কাজটা আদৌ কোনোদিন ছাড়তে পারবো বলে ভাবিনি, যে কাজটার  যথেষ্ট ক্ষতিকর দিক  জানা  থাকার পরেও ছাড়তে পারছিলাম না, প্রতিনিয়ত ব্যর্থ-ই হচ্ছিলাম আমি,যার কারণে আমার জীবনটা অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছিল, যার কারণে আমি শেষ হয়ে যেতে নিচ্ছিলাম……..

আলহামদুলিল্লাহ্‌, সমস্ত প্রশংসা সেই মহান আল্লাহতালার,যার অশেষ রহমাতে আমি এই বইটি কেনো জানি পড়েছি।এবং এই বইটির উসিলায় ইনশাআল্লাহ,ইনশাআল্লাহ,ইনশাআল্লাহ আজ আমি পেরেছি সেই অসম্ভব কাজটিকে সম্ভব করতে।জ্বী হুম,আমি পুরোপুরিভাবে অনুভব করার পরই এই মেসেজটি টাইপিং করছি।

আমি ধন্যবাদ জানাই আপনাদের সবাইকে যারা এই বইটি লিখার পেছনে শ্রম,চেষ্টা চালিয়েছেন।সবার প্রতি আমার সালাম রইলো।আমি দোয়া করি যাতে আপনারা সবাই মুমিন বান্দা হিসেবে বেঁচে থাকেন এবং পরকালে জান্নাতবাসী হন।আজ আমি অনেক সুখী, আমার জীবন বদলে গিয়েছে।এই বইটা যেদিন হাতে নিয়েছিলাম সেদিন থেকে বদলে গিয়েছে আমার জীবন।অনেক আগ্রহ জাগতো হস্তমৈথন করার,কিন্তু বইতে পড়া সেই ভয়াবহ দিকগুলো মনে পড়লে,  বাস্তব জীবনে ধ্বংস হয়ে যাওয়া সেইসব জীবনের কাহিনী মনে পড়লে, তখন আর  এই নোংরা কাজ করতে পারতাম না।যখন মনে পড়তো বইতে পড়া সেইসব pornstar দের জীবন কাহিনী, তখন আর পারতাম না করতে সেই নোংরা বিকৃত কাজটা।

আমার এতো খুশি লাগছে যে, মনে চাচ্ছে আমার জীবনের এই অন্ধকার নিয়ে সব কথা বলি।আমার জীবনটা এমনভাবে বদলে গেছে যা আমি কখনো ভাবিনি।আর আমি পুরোপুরিভাবে সিউর হওয়ার পরই আপনাদের মেসেজ করেছি।আমি আগে থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে,যেদিন আমার পুরোপুরি মনে হবে যে আমার এই বিকৃত নেশা সেরে গিয়েছে সেদিন আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাবো।কখনো সম্ভব হলে আমি আমার এই নিয়ে পুরো কাহিনী মেসেজিং করে পাঠাবো ইন শা আল্লাহ।

আপনাদের জন্য অনেক দু’আ। আপনাদের উসিলায় তো আজ আমি রেহাই পেয়েছি ইন শা আল্লাহ।আমার জীবনে এটা কতোটা ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছিল আর আমি কনোভাবেই কনোভাবেই নিজেকে থামাতে পারছিলাম না।আজকেও আমি মাগরিবের নামাযের পর আপনাদের এই বই-টি পড়েছি।আমি বুঝাতে পারবোনা যে আপনাদের এই বইটা আমার জীবনে কতোটা প্রভাব ফেলেছে।আমি যখনই বইটা পরি তখনি মনে হয় যেনো হুবুহু নিজের জীবন কাহিনী পড়ছি।শুধুমাত্র এতোটুকুই ভিন্ন ছিল যে আমার জীবন ধ্বংস হওয়ার আগেই আমি বইটা পড়ছি।আল্লাহতালা আপনাদের সবাইকে জান্নাতবাসী করুন এবং দোয়া করি যাতে করে এ বইয়ের উসিলায় আমার মতো তরুণেরা এই নোংরা,বিককৃত কাজ থেকে রেহাই পাক ইনশাআল্লাহ।

আমার জন্যেও দোয়া করবেন যাতে আমি আর কোনোদিন ও এই নোংরা,বিকৃত কাজে লিপ্ত না হই এবং পরকাল ও ইহকালে মহান আল্লাহতালার প্রিয় মুমিন বান্দা হিসেবে জীবনযাপন করতে পারি ইন শা আল্লাহ।

সাত

ঠিক মনে নেই কবে পা বাড়িয়েছিলাম এই অন্ধকার রাস্তায়। সম্ভবত ক্লাস ৯/১০। এই ২৬বছর বয়সে এসে অনুধাবন করলাম তিলতিল করে পাপের পাহাড় গড়েছি।
মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটার পেছনে যে ভাইদের অক্লান্ত পরিশ্রম আছে আল্লাহ তাদের ভাল করবেন।

প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তি আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে চাইতে এখন পর্যন্ত ৪০দিন এই পাপ থেকে বিরত আছি।

নিজেকে ব্যস্ত রাখি।
নামাজ পড়ি, বই পড়ি তা হোক গল্পের বা চাকরির পড়াশোনা, সাইক্লিং করি, সকালে উঠে ব্যায়াম করি, বিকেলে বাইরে হাঁটি, বাগান করি, ফ্যামিলি ডিসকাশনগুলায় অংশ নিই আগের চেয়ে বেশি।

সবমিলিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বেশ ভাল আছি এবং নিজের উপর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে শুরু করেছি।
ইনশাআল্লাহ এই অন্ধকূপ থেকে পুরোপুরি বের হয়ে আসবোই একদিন।

(ফেইক আইডি থেকে পোস্ট করার জন্য দুঃখিত)

আট

আসসালামু আলাইকুম।

আমার বয়স তখন ১৩। আব্বু বিদেশ থেকে সবে মাত্র নতুন ফোন পাঠিয়েছে৷ আমি পর্ন সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতাম না। কিন্তু আমার এক বন্ধু হঠাৎ করে আমায় একদিন বললো যে, ‘তোকে একটা জিনিস দেখাবো’। তখনো আমি নীল জগৎ সম্পর্কে কিছু জানতাম না। প্রথম দেখার পর অনেক ভয় পাই…কিন্তু নিজের অজান্তেই পর্ন ভাল লাগতে শুরু করে।

আমি ক্লাস সেভেনে থাকতেই একদম পুরোপরি পর্ন দেখা শুরু করি। তখনো ইন্টারনেট সম্পর্কে কিছু জানতাম না। দোকান থেকে ভরে নিয়ে আসতাম। এবং ক্লাস এইটে উঠার পর ২০-২৫ দিন পরপর হস্তমৈথুন করতাম। ক্লাস নাইনে ওঠার পর এটা মারাত্মক আকার ধারন করে। ক্লাসের মধ্যে নীল ছবি দেখতাম। ঠিক মতন ক্লাস করতাম না। ক্লাসের মেয়েদের দেহ একদম খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতাম। এমনকি porn  অভিনেত্রীর মতো করে বান্ধবীদের দেখতাম। ওদের ভেবে ভেবে হস্তমৈথুন করতাম।

২০১৪ সাল।

আব্বুর পাঠানো সেই ফোন আমি ব্যাবহার করতে থাকি… তারপর নেট সম্পর্কে ধারণা পাই। তখন থেকে আমার ফোন ভর্তি পর্ন থাকত।এর ফল আমি হাতেনাতে পাই… ক্লাস নাইন এর বার্ষিক পরীক্ষায় ২ বিষয়ে ফেল করি। এভাবে চলতেই থাকে আমার এই অবস্থা। কাওকেই এই বিষয় শেয়ার করতে পারতাম না লজ্জার ভয়ে।

খুব কষ্টে ssc পাশ করি। ssc exam এর পর কিছুদিন তাবলীগে  যাই।ওইখান থেকে এসে পাচঁ ওায়াক্ত নামাজ পড়া শুরু করি৷ কিছু দিন যাওয়ার পর আবারও আগের মতন হয়ে যাই। কিন্তু নামায পড়তাম তারপরেও আমি আমার মধ্যে ছিলাম না। আমার জীবনটা বেচে থেকেও মরার মতন ছিল। মেজাজ খিটখিটে হয়ে গেছিল৷ কিছুতেই শান্তি পেতাম না। বাসায় আম্মুর সাথে সবসময় ঝগড়া লেগেই থাকতো।আমার শরীর এতটাই দুর্বল থাকতো যে একা একা হাটতে কষ্ট হত। একদম শুকিয়ে গেছিলাম,, কিছুই মনে রাখতে পারতাম না।চেহারা নষ্ট হয়ে গেছিল।২০১৮ সালে hsc exam ও খারাপ হয়। খুব কষ্টে পাশ করি।

আমি নীল  জগৎ থেকে বের হতে চাইতাম কিন্তু পারতাম না।দেখা যেত ৪-৫ দিন পর্ন না দেখে আর হস্তমৈথুন না করে থাকতে পারতাম না। এটা আমার কাছে  নেশার মতো ছিল। সফ্টকোর থেকে হার্ডকোর এমনকি জঘন্য টাইপের পর্নও দেখতাম যা বলতেও লজ্জা হয়। তাছাড়া বলিউডের আইটেম song দেখেও মাথা ঠিক রাখতে পারতাম না। রাস্তায় কোন মেয়েকে যেতে দেখলে পুরো শরীর চোখ দিয়ে  স্ক্যান করতাম।

আমি এতটাই জঘন্য ছিলাম যে বলতেও নিজেকে ধিক্কার জানাতে ইচ্ছা হয়।
এরপর ফেইসবুকে কিছু ইসলামিক গ্রুপ খুজে পাই এবং আলেমের পরামর্শ নেই।
এবং মুক্ত বাতাসের_খোঁজে বইটা পড়ি। বইটা পড়ার পরে ভাষা হারিয়ে ফেলি…আমার মতে প্রতিটি যুবকের বইটা পড়া উচিত।আলহামদুলিল্লাহ এখন আমি পর্ন আসক্তি থেকে ফিরে এসেছি এবং আল্লাহর রাসুলের সুন্নত অনু্যায়ী চলার চেষ্টা করি।আমার অনুরোধ, যারা পর্ন আসক্ত যত তাড়াতাড়ি পারেন এই জগৎ থেকে বেরিয়ে আসেন। মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নিয়েই দেখুননা একবার।অন্তর শান্তিতে ভরে যাবে।

ইনশাআল্লাহ।

.

চলবে ইনশা আল্লাহ…

নীড়ে ফেরার গল্প (প্রথম কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (দ্বিতীয় কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (তৃতীয় কিস্তি)

 

মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইয়ের লিংক-

শেয়ার করুনঃ