এই চিঠিটা তোমাকে উদ্দেশ করে লিখিনি। লিখেছি মূলত বাবার জন্যে। বাবার চিঠি তোমায় লিখছি বলে অবাক হচ্ছো? অবশ্যি অবাক হওয়ার মতোই বিষয়। কী করবো বলো? ছোটোবেলা থেকেই তো সব আবদার তোমার কাছেই পেশ করেছি। রাগ বলো আর অভিমান বলো, সবই তোমাকে দেখিয়েছি। বাবাকে কোনোদিনই সাহস করে কিছু বলতে পারিনি। আসলে বাবাকে একটু ভয় পাই কি না, তাই। বাবার কাছে এবার কী আবদার করবো, সেটা জানতে চাচ্ছো? উত্তরটা একটু পরে দেবো৷ আগে তোমায় কিছু কথা বলবো। তুমি মন দিয়ে সেগুলো পড়বে। আমি জানি, কথাগুলো পড়লেই তুমি উত্তরটা পেয়ে যাবে।
.
তোমার হয়তো মনে আছে, আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমার গলার স্বর বদলাতে শুরু করলো। আমার মধ্যে অন্যরকম পরিবর্তন দেখা দিলো। আমি বুঝতে পারলাম, আমি বড়ো হচ্ছি। শৈশব পেরিয়ে কৌশরের দিকে এগোচ্ছি। জীবনের এক ধাপ পেরিয়ে অন্যধাপে পদার্পণ করছি। তখন থেকেই মাঝেমধ্যে মনে হতো, কী যেন নেই আমার! তুমি আছো, বাবা আছে, ছোটো বোন আছে, তবুও কী যেন নেই। কোথাও যেন একটু ফাঁকা রয়েছে। শূন্যতা রয়েছে। বিশ্বাস করো মা, এই সমস্যাটা কেবল তোমার ছেলের নয়। প্রতিটি ছেলেই এমন একাকিত্ব বোধ করে। তুমি বাবাকে জিজ্ঞেস করে দেখো, তিনিও আমার মতোই বলবেন।
.
আমাদের আদিপিতা আদম আ.-এর জান্নাতে কাটানো সময়গুলোর কথা মনে আছে? আদম আ.-কে বানানোর পর জান্নাতে রাখা হলো৷ জান্নাতের চোখ জুড়ানো নিআমত প্রদান করা হলো। তবুও কোথায় যেন একটা শূন্যতা অনুভব করতে লাগলেন তিনি। তাঁর শূন্যতা কাটানোর জন্যে হাওয়া আ.-কে সৃষ্টি করা হলো। হাওয়া আ.-কে বানানোর পর আল্লাহ তাআলা কিন্তু বলেননি, “হে আদম! হাওয়া তোমার মায়ের মতো। উনার হক আদায় কোরো।” পরন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁকে আদম আ.-এর অর্ধাঙ্গিনী বানিয়েছিলেন। নিঃসঙ্গ জীবনের সঙ্গী বানিয়েছিলেন। দুঃখ-কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার মতো একজন মানবী হিসেবে সৃষ্টি করেছিলেন।
.
আল্লাহর রাসূল স.-এর নবুয়্যতি জীবনের প্রথম দিকের কথাটা চিন্তা করো। সে কঠিন সময়গুলোতে খাদিজা রা.-এর প্রভাব ছিলো অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি। প্রথম যেদিন ওহি নাযিল হলো, সেদিন রাসূল স. অত্যন্ত ভয় পেলেন। হেরা গুহা থেকে সরাসরি খাদিজা রা.-এর কাছে এলেন। কাঁপতে কাঁপতে খাদিজা রা.-কে সব খুলে বললেন৷ খাদিজা রা. তাঁকে কম্বল দিয়ে জড়িয়ে নিলেন। এরপর কপালে হাত বুলিয়ে বললেন, “আল্লাহর কসম! আল্লাহ আপনাকে কক্ষনো অপমানিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহার করেন। অসহায় দুর্বলের দায়িত্ব বহন করেন। নিঃস্বকে সাহায্য করেন। মেহমানের মেহমানদারী করেন এবং দুর্দশাগ্রস্তকে সাহায্য করেন।” (বুখারি : ১/৩) খাদিজা রা.-এর কথা শুনে রাসূল স.-এর ভয় দূর হলো। তিনি দাওয়ার কাজে মনোযোগ দিলেন।
.
মা, তোমার মনে আছে? আমি যখন ক্লাস টেনে পড়ি, বাবা তখন একটু আর্থিক সমস্যায় পড়েছিলেন। সে সময় আমি পড়ার ফাঁকে যখন বেলকোনিতে তাকাতাম, তখন বাবাকে পায়চারি করতে দেখতাম। বাবা যখন পায়চারি করতেন, তখন তুমি চা হাতে বাবার পাশে বসতে। তাকে সান্ত্বনা দিতে। বাবা চুপটি করে চা খেতেন আর তোমার কথা শুনতেন। তোমার কথায় সাহস সঞ্চার করে ঘুমোতে যেতেন। অবশ্যি বাবার মা-ও বেঁচে ছিলেন। কিন্তু কেন জানি তোমার কথা শোনার পরই বাবার মুখে খানিকটা হাসি ফুটতো। মনে পড়ে মা? আসলে এটা আমাদের ফিতরাত৷ সেই আদম আ. থেকে নিয়ে এই পর্যন্ত সকল পুরুষকেই এই ফিতরাত দেওয়া হয়েছে। পুরুষরা নিজের দুঃখ-কষ্টগুলো জীবনসঙ্গিনীর সাথে ভাগ করে নিতে চায়। তারা জীবনসঙ্গিনীর সাথে পথ চলায় আনন্দ পায়।
.
তুমি যেদিন সূরা রুমের ২১ নাম্বার আয়াতটি পড়ছিলে, সেদিন ভেবেছিলাম তোমার সাথে একটু কথা বলবো। কিন্তু লজ্জা সরমের মাথা খেয়ে মুখ ফুটে কিছু বলতে পারিনি। এখন তো তুমি সামনে নেই, তাই বলছি। ওই আয়াতে আল্লাহ তাআলা কী বলেছেন, জানো? আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
❝আর তার নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে বহু নিদর্শন রয়েছে।❞ (সূরা রুম : ২১)
.
জীবনসঙ্গিনী পুরুষের জন্যে প্রশান্তিকর। কিন্তু সমাজ যখন এই প্রশান্তি পাওয়ার বৈধ পথ রুদ্ধ করে দেয়, তখন মানুষ অবৈধ পথ বেছে নেয়। আমার অনেক সহপাঠীই প্রেম করছে। প্রেমিকাকে নিয়ে ডেটিং করছে, ঘুরতে যাচ্ছে, যিনা করছে। কেন জানো? সেক্যুলার পরিবেশ নারী-পুরুষকে কাছে এনে দিয়েছে। তোমাদের সময়ে নারী-পুরুষের মধ্যে যে দূরত্ব ছিলো, সেটা ঘুচিয়ে দিয়েছে। যার কারণে একে অন্যকে কাছে পেয়ে উদ্দীপ্ত হচ্ছে। কিন্তু ওদের বাবা-মা যখন বৈধ পন্থায় উদ্দীপনা কমানোর পথকে রুদ্ধ করছে, তখন তারা অবৈধ পথ বেছে নিচ্ছে। এমনসব হারাম কাছে লিপ্ত হচ্ছে, যা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না।
.
আসলে খিদে তো সবারই লাগে, তাই না? খিদে লাগার সাথে বুজুর্গির তো কোনো সম্পর্ক নেই। হোক সে বুজুর্গ কিম্বা পাপী, পেটে খাবার না ঢুকলে খিদে তো লাগবেই—এটাই স্বাভাবিক। খিদে লাগাটা যেমন স্বভাবজাত বিষয়, তেমনই রমণীর আকর্ষণটাও স্বভাবজাত বিষয়। আল্লাহ তাআলা এই আকর্ষণ দিয়েই মানুষকে সৃষ্টি করেছে। তাই তো ললনারা পুরুষের সংস্পর্শে এসে তৃপ্তি পায়, আর পুরুষরা ললনাদের। উভয়েই একে অপরকে আপন করে নিতে চায়। যত বড়ো আমলদার কিংবা মুত্তাকিই হোক না কেন, সব মানুষের মধ্যেই এই প্রবণতা আছে। সব মানুই বিপরীত লিঙ্গের সংস্পর্শ চায়। বিপরীত লিঙ্গকে আপন করে পেতে চায়। পরস্পরের কাছে আসতে চায়।
.
সমাজ যখন তাদের কাছে আসার বৈধ পথকে অবরুদ্ধ করে, তখন মানুষ অবৈধ পথেই অগ্রসর হয়। আসলে মৌলিক প্রয়োজগুলো এমনই মা। এগুলো পুরো না হওয়া পর্যন্ত মানুষ নিশ্চুপ বসে থাকে না। প্রয়োজনের তাগিদে সে অবৈধ পথেই অগ্রসর হয়। তুমি শুনোনি সেই বিখ্যাত লাইন দুটো—ভাত দে হারামজাদা! নইলে মানচিত্র খাবো! তাই তো ছেলেমেয়েরা আজ তৃষ্ণা মেটানোর জন্যে খারাপ পথে অগ্রসর হচ্ছে। লুত আ.-এর কওমের আমলকে জীবিত করছে। ওদেরকে যদি বৈধ পথে তৃষ্ণা নিবারণের সুযোগ দেওয়া হতো, তবে কি ওরা ওসব করতো? করতো না। কাউকে জোর করেও প্রস্রাব খাওয়ানো যায় না। কিন্তু মরুভূমিতে তৃষ্ণা নিবারণের জন্যে পানি না থাকলে সে ব্যক্তি প্রস্রাব খেতেও দ্বিধা বোধ করে না। তৃষ্ণা বলে কথা। মেটাতে তো হবেই। আচ্ছা মা, তোমার ছেলেও যদি অবৈধ পথে অগ্রসর হয়, তবে কেমন হবে? তোমার ছেলেও যদি অন্যদের মতো ফাঁকি দিয়ে টাকা এনে গার্লফ্রেন্ডের পেছনে খরচ করে, তখন তোমার কেমন লাগবে?
.
আমি জানি তুমি কষ্ট পাবে। তাই তো তোমার ছেলে ও-পথে যায়নি। অনেক কষ্ট করে নিজেকে ওসব থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে। কিন্তু এভাবে কত বছর পার করা যায় বলো? তুমি কি এখনও আমাকে ছোট্ট বাবু মনে করো? সেই কবেই তো তোমার ছেলে যৌবনে পদার্পণ করেছে। ১৭ বছরের মুহাম্মাদ বিন কাসিম যখন বিয়ে করে ভারত জয় করে ফেলেছে, তখনও তুমি তোমার ১৮+ ছেলেকে ছোট্ট বাবু ভেবে বসে আছো। বাহ, খুব চমৎকার! তোমার ছেলে তো যে-কোনো সময় ফিতনাগ্রস্ত হতে পারে। সে তো সেক্যুলার পরিবেশে পড়ালেখা করে, তাই না? তুমি হয়তো জানো না, মেয়েলি ফিতনা এখানে কতটা স্বাভাবিক ব্যাপার। চোখের যিনা থেকে দূরে থাকা কতটা কষ্টের ব্যাপার। অন্তরের যিনা থেকে মুক্ত থাকাটা কত সাধনার ব্যাপার। আচ্ছা মা, তোমার ছেলেকে কি এই অবস্থা থেকে বাঁচাতে চাও না? সত্যি করে বলো তো—চাও কি না?
.
একটি পোশাক আছে, যেটি আপন করে নিলেই তোমার ছেলে এসব থেকে বেঁচে যাবে। তোমার ছেলের নজর হিফাজত হবে। সে অন্তরের যিনা থেকে মুক্ত থাকবে। ললনাদের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। আল্লাহ তাআলা সে পোশাকটির কী নাম দিয়েছে জানো?
.
❝তারা (নারীরা) তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ।❞ (সূরা বাকারাহ : ১৮৭)
.
আমি এসব থেকে বাঁচতে চাই মা। এমন পোশাক চাই, যে আমার আবরণ হবে। আমাকে যিনা থেকে দূরে রাখবে। গোপন গুনাহ থেকে বিরত রাখবে। হ্যাঁ মা, কেবল সে পোশাকটিই পারে তোমার ছেলেকে পবিত্র রাখতে। সেই পোশাকটিই পারে তোমার ছেলেকে ফিতনামুক্ত রাখতে। রাসূল স. বলেছেন,
❝হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কেননা, বিয়ে তার দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং যৌনতাকে সংযমী করে।❞ (বুখারি : ৮/৪৬৯৬)
.
যখন আকারে ইঙ্গিতে তোমায় সে পোশাকটি এনে দিতে বলি, তখন তুমি টাকার কথা বলো। আচ্ছা মা, আমাদের নবী স. যখন বিয়ে করেছেন, তখন তাঁর কাছে কী পরিমাণ টাকা ছিলো? উনার তো উল্লেখ করার মতো কিছুই ছিলো না। উনার চেয়ে খাদিজা রা.-এর ঢের বেশি অর্থ-সম্পদ ছিলো। খাদিজা রা. মারা যাওয়ার পর তিনি যখন একাধিক বিয়ে করেন, তখন তাঁর কাছে কী ছিলো? তখন তো অর্থনৈতিক অবস্থা আরও খারাপ ছিলো। আমাদের নবীজি স.-এর মেয়েকে যখন আলী রা.-এর সাথে বিয়ে দেওয়া হলো, তখন আলী রা.-এর হাতে কী পরিমাণ টাকা ছিলো? কতটা ব্যাংকে উনার অ্যাকাউন্ট ছিলো? কতটা ক্রেডিট কার্ড উনার পকেটে ছিলো? উনার কাছে তো একটি বর্ম ছাড়া কিছুই ছিলো না। শেষমেশ বর্মটিও মোহরানার জন্যে বিক্রি করে দিতে হয়েছিলো।
.
আচ্ছা মা, আমার যদি আরেকটা বোন থাকতো—তবে কি সে টাকার অভাবে না খেয়ে মারা যেতো? সত্যি করে বল তো, টাকাটাই কি প্রধান সমস্যা? যদি তাই হয়, তবে আমার খরচের অর্ধেকটা দিয়ে দিতে আমি রাজি। আর আমি তো পঙ্গু নই। আল্লাহ আমাকে শক্তি দিয়েছেন, মেধা দিয়েছেন। আমি কোনো না কোনো পথ করেই নেবো। সত্যি কথা বলতে কী, টাকাটাই প্রধান সমস্যা নয়। আমি যেদিন প্রাইভেট মেডিক্যালে ভর্তি হওয়ার কথা বলেছিলাম, সেদিন তো তুমি রাজি হয়েছিলে। আমি বলেছিলাম, এত টাকা কোত্থেকে আসবে? তুমি বলেছিলেন, ও তোকে ভাবতে হবে না। তুই মন দিয়ে পড়াশোনো কর। তাহলে টাকার সমস্যা যে সত্যিকার সমস্যা না, সেটা বুঝতে কি আমার কষ্ট হবে? আসল সমস্যা কোথায় জানো? সমস্যা হলো, তুমি তোমার ছেলের অবস্থাটা বুঝতে চেষ্টা করছো না। তার আর্তনাদ তোমার কান পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না। আর পৌঁছলেও তুমি শুনে না শোনার ভান করছো। আসলে তোমার সদিচ্ছা নেই মা। তুমি যদি দেখতে ‘Got married’ এর স্ট্যাটাসে অবিবাহিত ছেলেদের কতটা লাইক পড়ে, তবেই হয়তো আমার না বলা কথাটা বুঝতে পারতে।
.
প্লিজ মা, ভুল বুঝো না। ভেবো না, আমি তোমায় বাদ দিয়ে কেবল জীবনসঙ্গিনীর জন্যে পাগলপারা হচ্ছি। আল্লাহর শপথ! তুমি যদি না থাকতে, তবে তো আমি আঁধারে হারিয়ে যেতাম। না হাঁটতে পারতাম, না চলতে পারতাম, আর না এই অবস্থানে আসতে পারতাম। আল্লাহ তো তোমার মাধ্যমেই আমায় দুনিয়ার আলো দেখিয়েছেন। তোমার মাধ্যমেই সেই ছোট্ট বাবু থেকে আজকের তাগড়া জোয়ান বানিয়েছেন। তোমার অবদান আমি কী দিয়ে শোধ করবো মা? তোমার ঋণ শোধ করার মতো সাধ্যি কি আমার আছে?
.
কিন্তু তবুও…একটু বোঝার চেষ্টা করো। তোমার সাথে কথা বলার একটা সীমা আছে, যে সীমার বাইরে কিছু বলা যায় না। তোমার-আমার মধ্যে একটা রেড লাইন আছে, যে লাইন অতিক্রম করা যায় না। তাই এমন কাউকে দরকার, যার সাথে কোনো সীমা থাকবে না, কোনো রেড লাইন থাকবে না। যাকে সব বলা যাবে। যে আমার সার্বক্ষণিক সঙ্গী হবে। আমার সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেবে। আমার সাথে মিষ্টি দুষ্টুমি করবে। আমাকে মধুর যন্ত্রণা দেবে। চক্ষুকে শীতল করবে।
.
একজন ভালো সঙ্গিনী পুরুষকে অনেকদূর এগিয়ে দিতে পারে৷ অন্ধকার পথে আলোক জ্বালিয়ে সাহস সঞ্চার করতে পারে। বাবা তো মাঝেমধ্যেই বলেন, ‘তোর মা না থাকলে আমার জীনবটা এত গোছালো হতো না।’ আসলেই মা, বাবা বিন্দু পরিমাণও মিথ্যে বলেননি। জীবনসঙ্গিনীর সাথে এমন কিছু শেয়ার করা যায়, যা অন্য কাউকেই বলা যায় না। এ সত্যিটা তো তুমিও জানো। তবুও কেন যে আমার বেলায় এটা বুঝতে চাও না, আমি জানি না। আমি সত্যিই জানি না।
.
মা তুমি ভালো থেকো। বাবাকে আমার সালাম দিও। আর তোমার ছেলেটাকে একটু বুঝতে চেষ্টা কোরো।
ইতি
তোমার খোকা

====
লেখকঃ জাকারিয়া মাসুদ (https://www.facebook.com/JakariaMasudOfficial)

শেয়ার করুনঃ