পর্নমুভি তার গ্ল্যামার আর চাকচিক্যের চোখ ধাঁধানিতে  সেই অনেক যুগ আগে থেকেই বলে চলেছে এক মিথ্যা গল্প । এই মিথ্যা গল্প নারী আর যৌনতা সম্পর্কে । পর্নমুভি গুলোতে নারীদেরকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন তারা ব্যাপারটা করতে খুব খুব উদগ্রীব এবং তারা ব্যাপারটা খুব উপভোগ করছে । কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে পর্নমুভির অভিনেতা অভিনেত্রীরা কেউই ব্যাপারটা একদমই উপভোগ করেন না ।কেবলমাত্র  ঠেকায় পড়ে  তারা এই কাজ গুলো করতে বাধ্য হন । তাদেরকে বিশেষ করে নারীদের চরমভাবে নির্যাতন করা হয় ।

পর্নইন্ডাস্ট্রির মুনাফার অঙ্কটা বেশ স্বাস্থ্যবান । তাই ডিরেক্টর এবং প্রডিউসাররাও এই অমানবিক কাজ করতে দ্বিধা বোধ করে না । আপনার কাছে পর্নমুভি তো একেবারেই সহজলভ্য তাই না ? কেবল মাউসের  দুটো ক্লিকের ব্যাপার ।  তারপরেই পর্নমুভির অবিরত ভান্ডার  এবং আপনার বিকৃত লালসা চরিতার্থ করার সূচনা । কিন্তু  নীল স্ক্রিনের গ্ল্যামার দেখে ‘টাস্কি’ খাওয়া আপনি কখনো কি জানতে চেয়েছেন  স্ক্রিনের ওইপাশের গল্পগুলো ? এক একটা ছবি, এক একটা ভিডিওতে  আবদ্ধ রয়েছে আপনারই কোন এক বোনের কোন এক ভাইয়ের হৃদয়ের করুণ হাহাকার ।পর্নমুভির হতভাগ্য অভিনেতা অভিনেত্রীদের  কংক্রিটের চার দেয়ালের মাঝে বন্দী যতসব আর্তনাদ আর  দুঃস্বপ্নের অভিজ্ঞতা গুলোর সবটুকু আমরা হয়তো বুঝতে পারব না । কিন্তু তারপরেও চেষ্টা করতে দোষ কি । এখানে এমন কিছু পর্ন অভিনেতা অভিনেত্রীদের অভিজ্ঞতার  বর্ণনা করা হল যারা সেই নরকে ক্ষতবিক্ষত হলেও সেখান  থেকে কোনমতে বেঁচে ফিরতে পেরেছেন ।

“ পর্নইন্ডাস্ট্রি  এর  সঙ্গে জড়িত লোকদের অনুভূতি একেবারেই ভোঁতা করে দেয় । এর সঙ্গে জড়িত লোকজন তাদের পারিবারিক এবং সামাজিক জীবনে    অনুভূতিহীন জড় পদার্থের মত আচরণ করে, প্রেতাত্মার মত হেঁটে বেড়ায় ।  পর্নইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের যেভাবে এবিউজ করা হয় তা অকল্পনীয় ।  এখানে নারীদের উপর  যেভাবে নির্যাতন করা হয় তা  মানসিক ভাবে সুস্থ কোন লোকের পক্ষে কখনোই করা সম্ভব না । আমি অল্প কিছু সময় পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছিলাম । কিন্তু এই অল্পসময়ে আমি যে ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গেছি তা ভাবলে এখনো আমি শিউরে উঠি”।

.

“ সত্যি কথা বলতে আমি আমার জীবনকে ঘৃণা করি । আমি নিজেকেও প্রচুর প্রচুর ঘৃণা করি । আমি বেঁচে থাকতে চাইনা । আমি বেশ কয়েকবার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছি”।

.

“পর্নইন্ডাস্ট্রিতে যাবার ৯ মাসের মধ্যে আমি সেখান থেকে বের হয়ে এসেছি । কিন্তু এর জন্য আমাকে খুব চড়া মূল্য দিতে হয়েছে । আমি ডিস্প্লাসিয়া (এক প্রকারের  std= sexual transmitted disease) এ আক্রান্ত  হই । এবং কিছুদিন পরে আমি গর্ভবতী হয়ে পড়ি । এব্রোশান করা ছাড়া আমার কোন উপায়ই ছিল না । এটা আমাকে শারীরিক এবং মানসিক ভাবে প্রচন্ড আঘাত করে। আমাকে তিলে তিলে শেষ করে দিয়েছে ।

‘আর সব পর্নঅভিনেত্রীদের মতোই আমি এই মিথ্যাটা সবসময় বলি। আমাকে যখন মানুষজন  প্রশ্ন করে, ঐ পর্নমুভির ঐ হার্ডকোর সীনটা করার সময় আপনার কেমন লেগেছিল । আমি হাসি হাসি মুখ করে বলি , “আমার ভাল না লাগলে কি আমি ঐ সীনটা করতাম? আমার ভালো না লাগলে আমি কোন কাজই করি না, পর্নইন্ডাস্ট্রিতে আমার কাজের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে’।

এভাবেই দিনের পর দিন আমাকে মিথ্যা বলে যেতে হয়। আসল সত্যটা হচ্ছে আমি কখনোই চাইনা এইসব দৃশ্যে অভিনয় করতে । কিন্তু  ঐসব হার্ডকোর দৃশ্যে অভিনয় না করলে আমি কখনোই এই ইন্ডাস্ট্রিতে কোন কাজ পাব না’।

‘১০৪ ডিগ্রী জ্বর নিয়েও আমাকে ঘন্টার পর ঘন্টা শুটিং করতে হয়েছে । আমি কাঁদছিলাম । খুব করে চাইছিলাম বাসায় চলে যেতে । কিন্তু আমার এজেন্ট  চাচ্ছিলনা আমি  শুটিং শেষ না করেই বাসায় চলে যাব । অগ্যতা আমাকে প্রচন্ড শরীর খারাপ নিয়েই কাজ করতে হয়েছিল ।

আর একদিন পরিচালককে খুশি করার জন্য চুক্তি ছিল না এমন একজন লোকের সঙ্গে আমাকে অভিনয় করতে হয়েছিল । সেই লোকটা ছিল একটা পাষণ্ড । আমাকে মেঝেতে  ফেলে লাথি মারছিল । আমি মেঝের  এদিক সেদিক ছিটকে যাচ্ছিলাম । পরিচালক একপর্যায়ে শুটিং বন্ধ করে আসল পেমেন্টের চেয়ে কিছু কম টাকা দিয়ে আমাকে বাসায় পাঠিয়ে দিল । কারণ তারা যা চাচ্ছিল , আমি  সেটা করতে একেবারেই রাজি ছিলাম না’।

আমরা অনেকেই ভুল ধারণা করে বসে থাকি পর্নঅভিনেতাদের কাজ বোধহয় পৃথিবীর সবচেয়ে মজার কাজ। তারা মজা পাচ্ছে আবার টাকাও পাচ্ছে!

পর্নঅভিনেতাদের অভিনয় করার জন্যে প্রচুর পরিমাণ যৌন শক্তিবর্ধক ওষুধ সেবন করতে হয় পরিণতিতে ভুগতে হয়  বিভিন্ন রকমের জটিল অসুখ-বিসুখে।

অবসাদ,হতাশা,গ্লানি তো রয়েছেই। মারাত্মক রকমের মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন তারা। পর্নমুভিতে অভিনয় করে যে টাকা উপার্জন করেন তার বেশিরভাগই চলে যায় মাদকের পেছনে।। নারীর প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ রূপে বদলে যায়। কোন নারীকেই তারা ভালবাসতে পারেননা, ভুলে যান ভালোবাসা কী।

নারী ছাড়া কীভাবে একজন পুরুষ সম্পূর্ণ হতে পারে? সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত নারীর কাছে পুরুষেরা ঋণী। নারীর জলে স্নান করেই তো পুরুষ হয়েছে বিশুদ্ধ,সভ্য,পবিত্র। জীবনের বন্ধুর পথে নারী বন্ধু হয়ে হাত ধরে রেখেছিল বলেই না পুরুষ পেয়েছে জীবনের বন্ধুর পথে চলার সাহস।

পর্নঅভিনেতারা কোন নারীর সঙ্গেই ভালোবাসার সম্পর্কে জড়াতে পারেননা,  জীবনের কী করুণ পরিণতি! পৌরষত্বের কী নিদারুণ অপমান!

এর পরেও কি আপনি মাউসে দুটো ক্লিক করে উঁকি মারবেন  সেই নিষ্ঠুর নীল  দুনিয়ায় ?

রেফারেন্সঃ

[১] https://goo.gl/jXCdFt

[২] https://goo.gl/GS8hbM

[৩]https://goo.gl/33HJcn

[৪] https://goo.gl/dYnBuJ

শেয়ার করুনঃ