দর্শকদের কাছে পর্ণোগ্রাফী সুখ ও রোমাঞ্ছের এক জগত বলে মনে হয়। কিন্তু যারা এটা তৈরি করে বা এতে পারফর্ম করে, তাদের অধিকাংশই মাদক সেবন, যৌন-রোগ, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও আদম পাচারের সাথে জড়িত।

নিজেদের মোহময় রূপ ধরে রাখতে পর্ন ইন্ডাস্ট্রি ব্যাপক পরিশ্রম করে। যদিও ক্যামেরার পিছনে রয়ে গেছে মাদক সেবন, আদম পাচারের পাশবিক বাস্তবতা।

কিছু পরিবর্তন, পরিমার্জনের মাধ্যমে পর্নমুভিকে এমন ভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন পর্দায় যা ঘটছে আ বেশ উপভোগ্য। কিন্তু আন-কাট ভার্সনের গল্প পুরোটাই বিপরীত। পর্ন পারফর্মারদেরকে তাদের এজেন্ট এবং পরিচালকরা নিয়মিত ভীতি প্রদর্শন করে। তাদেরকে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে এমন সব কাজ করতে বাধ্য করা হয় যা তারা করতে চায়না।

পর্ণোগ্রফাররা শুধুমাত্র অভিনেতাদের শারীরিক ও মানসিক কষ্টগুলোই কাট-ছাট করে না, বরং তারা এই সত্যটাকেই লুকায় যে, অধিকাংশ পারফর্মারদের পারফর্ম করতে বাধ্য করা হয় এবং তাদের আর কোন উপায়ই থাকে না।

প্রতারণার একটা অংশ এটাও যে, তারা চায় যেন সাধারণ মানুষ এই কথা মনে করে যে পর্ন একটা বৈধ বিনোদন যা গ্ল্যামারাস মানুষদের স্বেচ্ছায় তৈরি। দর্শকদের জন্য এটা খুবই প্রমোদ্ময় কারণ যারা এতে পারফর্ম করে তারা এটাকে বেশ উপভোগ করে। কিন্তু যে সত্যটা তারা লুকায় তা হলো, পারফর্মাররা এই জন্য হাসিমুখে উপভোগের অভিনয় করে যে ক্যামেরার পিছনে তার দিকে তাক করা আছে পিস্তল। লাস্যময় মুখটা গোমড়া হলেই হয়তো তা নিশানা ভেদ করবে।

আর একটা কুফল হলো আদম পাচার। যেহেতু এটা গোপন ব্যবসা তাই স্পষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া বেশ মুশকিল। কিন্তু যেসব ঘটনা আলোর মুখ দেখেছে তা সত্যই গা হিম করার মতো। যেমন, ২০১১ সালে মায়ামির দুইজন বাসিন্দার বিরূদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয় যে, তারা ৫ বছর যাবত মেয়েদেরকে পাচারের ফাঁদে ফেলার জন্য নানাভাবে প্রলুব্ধ করে। প্রথমে তারা মডেলিং এর প্রস্তাব দেয়। যখন তারা অডিশনের জন্য আসে তখন তাদেরকে নেশাগ্রস্ত করা হয়। এরপর অপহরণ অথবা ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের ভিডিও করে তা পর্ণোগ্রাফীর দোকানে বিক্রি কতা হয়। একই বছর, মিসৌরির এক দম্পতির বিরুদ্ধে এক মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে পর্ন অভিনয়ে বাধ্য করার অভিযোগ আনা হয়। তারা মেয়েটিকে মারধর করে, পানিতে চুবিয়ে, শ্বাসরোধ করে, আরো নির্যাতন করতে থাকে যতক্ষন না সে রাজি হয়। তাদের তোলা একটি ছবি একটি পর্ন ম্যাগাজিন এর প্রচ্ছদে স্থান পায়।

এ ঘটনা দুটো তো শুধু প্রারম্ভিকা, এরকম শত ঘটনা পর্দার আড়ালেই রয়ে গেছে। যার একটি হয়ত প্রকাশ পায়, কিন্তু শত মেয়ে নীরবে এর শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এছাড়াও অনেককে পতিতাবৃত্তির শিকার হতে হয়।। বর্তমানে পর্ণের প্রসারে পতিতাবৃত্তি আর  যৌনব্যবসাকে খুব স্বাভাবিক মনে করা হয়। পর্ন পারফর্মারদের যৌন ব্যবসায় যোগদানে অবাক হবার কিছু নেই। বরং, এ দুটো যেন একই গাছের ফল। যে সকল লোক পর্ণে আসক্ত তারা অন্যদের দ্বিগুনেরও অধিকবার পতিতালয়ে যায়। অনেক সময় খদ্দেরকে আকৃষ্ট করতে ঐসব মেয়েদের নগ্ন ছবি দেখানো হয়, যা থেকে সে বাছাই করে। এইসব মেয়েদের অধিকাংশই পাচারের শিকার যারা তাদের দালাল কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত এবং তার ইচ্ছনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘের সাবেক একজন প্রতিনিধি ড। জেনিস বলেন,“দালাল ও পাচারকারীরা তাদের শিকার যৈন্দাস রূপে ব্যবহারের জন্য পর্ণোগ্রাফীকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। অশ্লীল সব ভিডিও দেখে মেয়েরা নিজেদের নিয়তিকে বুঝে যায় এবং তা মেনে নিতে বাধ্য হয়।”

এক জরিপে[১] নয়টি দেশের ৮৫৪ জন পতিতার শতকরা ৪৯ ভাগ স্বীকার করেছে যে তাদের কাজের সময় পতিতাবৃত্তির সময় তা ভিডিও করে পর্ন মুভি বানানো হয়েছে। শতকরা ৪৭ ভাগ বলেছে যে, তাদের পুরুষ সঙ্গীরা তাদেরকে ঐসব কাজ করতে বাধ্য করেছে যা তা পর্ন মুভিতে দেখে। এতে বেশ কজন আহত হওয়ার কথাও স্বীকার করে।

অবশেষে বলতে হয়, পর্ন যৌন ব্যবসার জ্বালানি যোগান দেয়। পর্ন আর পতিতাবৃত্তি দুইটিই যৌন ব্যবসা নামক বিষবৃক্ষের দু’টি ফল।

রেফারেন্সঃ

[১]Farley, Melissa, Ann Cotton, Jacqueline Lynne, Sybill Zumbeck, Frida Spiwak, Maria E. Reyes, Dinorah Alvarez, and Ufuk Sezgin. “Prostitutuion and Trafficking in Nine Countries: An Update on Violence and Posttraumatic Stress Disorder.” Journal of Trauma 2, iss. 3 & 4 (2003), 44.http://www.prostitutionresearch.com/pdf/Prostitutionin9Countries.pdf (accessed April 26, 2014).

শেয়ার করুনঃ