আমি আমার ১৮তম জন্মদিনের পরদিন পর্নোগ্রাফিতে জড়িয়ে পড়ি। এখানে আমি ঘটনাটি বর্ণনা করছি…

আমার বয়স ১৮ হবার এক সপ্তাহ আগে আমি Craigslist নামক ওয়েবসাইটে চাকরির খোঁজ করছিলাম। সেখানে আমি “মডেলিং করে মাসে ২০০০০-৩০০০০ ডলার আয় করুন” শিরোনামে একটি বিজ্ঞাপন দেখতে পেলাম। সেই বিজ্ঞাপনে পর্নোগ্রাফি বা ভিডিও সম্পর্কে কিছু লেখা ছিল না, তারা শুধু তাদেরকে একটি ছবি মেইল করে পাঠাতে বলেছিল। আমি একসময় তাদেরকে আমার একটি ছবি পাঠাই। তারা তৎক্ষণাৎ আমার সাথে যোগাযোগ করে এবং আমি কখন তাদের সাথে দেখা করব তা জানতে চায়। তারা তখন আমাকে বলেছিল যে, তারা ‘প্লেবয়’ ম্যাগাজিনের মডেলদের মত মডেলিং করার জন্য মেয়ে খুঁজছে।

পরে আমি নিজেই তাদের সাথে কথা বলার জন্য তাদের অফিসে গেলাম। আমি সেখানে কর্মরত একজন মহিলার সাথে প্রায় চার ঘণ্টা কথা বললাম এবং সবশেষে তিনি আমাকে জানালেন যে, তিনি মূলত পর্নোগ্রাফি তৈরির জন্য মেয়েদেরকে নিয়োগ দেন। তারপর তিনি আমাকে একটা কাগজে আমি কোন কোন ক্যাটাগরিতে কাজ করার জন্য তৈরি আছি তা চিহ্নিত করতে বললেন।

সত্যিকথা বলতে, মেয়েরা অল্প সময়ে বেশি অর্থ উপার্জনের জন্য এ পেশায় আসে, বিশেষ করে হাইস্কুল/কলেজ পাশ করা মেয়েরা। পর্নোগ্রাফির ভিডিও দেখে সেসব মেয়েদের পর্ন সম্পর্কে একটা অস্পষ্ট ধারণা থাকে, কিন্তু বাস্তবে পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে মেয়েদেরকে কি করতে হয় সে সম্পর্কে তাদের কোন ধারণাই থাকে না, যতক্ষণ না তারা পর্ন ইন্ডাস্ট্রির গভীরে প্রবেশ করে।

আমার সাথে যা হয়েছিল তা বলতে গেলে আমি এখনো বিব্রত বোধ করি। আমার নিজেকে খুব ছোট মনে হয়, কারণ পর্ন ইন্ডাস্ট্রির লোকদের সব কথাই আমি সরল মনে বিশ্বাস করেছিলাম। আমি অর্থের প্রতি এতই আসক্ত ছিলাম যে, তাদের সব মিথ্যা কথাগুলোই বিশ্বাস করেছিলাম।

আমার বয়স এখন ২০ এবং আমার বয়স ১৯ হওয়ার কিছুদিন পরে আমি পর্ন ইন্ডাস্ট্রি ত্যাগ করি। সুতরাং, আমি অনেকদিন ধরে এসব করছি না। যাইহোক, আমার অনেকদিন সময় লেগেছে তাদের মিথ্যা কথাগুলো বুঝতে এবং এখন আমি পর্ন ইন্ডাস্ট্রির প্রকৃত চেহারা চিনতে পেরেছি। আমার এই জিনিসটি বুঝতে অনেক কষ্ট হয়েছিল যে, পর্নোগ্রাফি মানে নারীর ক্ষমতায়ন/স্বাধীনতা নয় এবং এটি মেয়েদের জন্য নিরাপদও নয়। ঐ ইন্ডাস্ট্রিতে থাকতে আমি যখনই আমার মানসিকতা পরিবর্তন করতে চেয়েছি, তখনি ইন্ডাস্ট্রির লোকদের কথায় সে পরিকল্পনা বাদ দিয়ে দিয়েছি।

ইন্ডাস্ট্রিতে থাকতে প্রথম দিকে আমার খুব খারাপ কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছিল। কিছু দৃশ্য আমার জন্য এতই পাশবিক ছিলো যে আমি কাঁদতে বাধ্য হয়েছিলাম। কিন্তু পরে অন্যান্য মেয়েদের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম যে, এরকম দৃশ্যে কান্নাকাটি করা পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। তাই আমি পর্নোগ্রাফি ত্যাগ করলাম না।

এমনকি আমার ১০ বারেরও বেশি জরুরি চিকিৎসা নিতে হয়েছিলো বিভিন্ন রকম শারীরিক, যৌন ও জীবাণুঘটিত অসুস্থতার জন্য। তারপরও আমি পর্নোগ্রাফি ত্যাগ করিনি, কারণ এসব পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে খুব স্বাভাবিক ঘটনা। আমি Chlamydia, Gonorrhea বা অন্যান্য STD(Sexually Transmitted Disease) তে আক্রান্ত অনেক মেয়েদের দেখেছি এবং এসব দুরারোগ্য ও ছোঁয়াচে রোগকে তারা খুব স্বাভাবিক রোগ মনে করে।

সবশেষে যে জিনিসটি আমাকে পর্নোগ্রাফি ত্যাগ করতে বাধ্য করল তা হচ্ছে, পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে কর্মরত লোকজনদের ক্যামেরার বাইরের জীবন সম্পর্কে জানা –তাদের জীবনটা আগে কেমন ছিল, তারা তাদের এই কাজকে এবং তাদের নিজেকে কি পরিমাণ ঘৃণা করে, এসব সম্পর্কে জানা। আমি বুঝতে পারলাম যে, আমি তাদের মত জীবন চাইনা।

যে সময়টাতে আমি চিন্তা করছিলাম যে, পর্নোগ্রাফি ছাড়ব কি ছাড়ব না, ঠিক তখনি ইন্ডাস্ট্রির একজন পুরনো কর্মীর দেহে Syphilis রোগের জীবাণু পাওয়া গেলো। এর ফলে খুব সহজেই আমি পর্নোগ্রাফি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। এবং আমি যদি ঠিক তখনি ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে আসতাম তাহলে আমার জীবনে হয়ত আর কোন গুরুতর ঘটনা ঘটতো না।

অনেকে প্রশ্ন করতে পারে যে, একজন পর্ন অভিনেত্রীর দেহে রোগের জীবাণু কেন থাকবে? তাদের কি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় না? যদিও আমি অনেকগুলো ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে পর্নোগ্রাফি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তবুও আমি সবগুলো ক্ষতিকর দিক একসাথে পর্যবেক্ষণ করার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।

দু-একজন ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পর্ন অভিনেত্রীদের দেহে রোগের জীবাণু বা অন্যান্য যৌনঘটিত রোগের পরীক্ষা করা হয় না। এমনকি আমার মত কোন পর্ন অভিনেত্রী অসুস্থ বা আহত হলে, চিকিৎসার জন্য তাদের নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করতে হয়। পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে দু-একটি কোম্পানি ছাড়া অধিকাংশ কোম্পানিগুলোই তাদের কর্মীদের যৌন নিরাপত্তার জন্য তেমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। তাই পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে কর্মীরা অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হয়।

আমি আরো বুঝতে পারলাম যে, আমাকে ব্যবহার করে কোম্পানিগুলো যে পরিমাণ অর্থ আয় করছে তার তুলনায় আমার বেতন ২০০০০-৩০০০০ ডলার কিছুই না। প্রকৃতপক্ষে, কর্মীদেরকে যে পরিমাণ অর্থ দেয়া হয় সেটা কোম্পানির আয়ের তুলনায় খুবই নগণ্য। পর্ন অভিনেত্রীরা কখনো খুব জনপ্রিয় বা কালজয়ী হয়ে উঠতে পারে না যাতে করে তাদের ভিডিও গুলো থেকে কোম্পানিগুলো বহুবছর পর্যন্ত আয় করতে পারবে। তাই পর্ন অভিনেত্রীদেরকে এককালীন অর্থ দেয়া হয়।

আমি আরো উল্লেখ করতে চাই যে, প্রথমদিকে আমার একটা ভুল ধারণা ছিল যে পর্নোগ্রাফিই হচ্ছে কলেজ ডিগ্রি ছাড়া চাকরি পাওয়ার একমাত্র উপায়। আমি অল্পবেতনের ছোটখাটো কোন কাজ না করে বেশি অর্থ উপার্জন করতে চাইছিলাম এবং একই সাথে কলেজে পড়ালেখাও চালিয়ে যেতে চাইছিলাম। কিন্তু, অধিকাংশ মেয়েদের মত আমার পক্ষে সবকিছুর খরচ জোগানো সম্ভব ছিলো না। আমার বিশ্বাস ছিল যে, পর্নোগ্রাফিই আমার জন্য অর্থ উপার্জনের একমাত্র উপায় যাতে আমি আমার সব প্রয়োজন ও চাহিদা মেটাতে পারি।

পর্নোগ্রাফি ছাড়ার পরপরই আমি আবার লেখাপড়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলাম। পাশাপাশি বিভিন্ন কাজে দক্ষতা অর্জন করতে থাকলাম। আমি নানান ধরনের মানুষের সাথে দেখা করে বুঝতে পারলাম যে, আমি এবং আমার বন্ধুরা মিলে এমন কিছু কাজ করতে পারি যাতে করে আমার প্রয়োজন ও চাহিদা মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ আয় করতে পারি –যেমন Stocks, Internet Marketing, Video Game Live Streaming, Managing Businesses ইত্যাদি। এরকম আরো অনেক কাজ করা যায়।

যেসব ছাত্রছাত্রীদের মা-বাবা পড়াশুনার খরচ দিতে পারে না তারা এ ধরনের কাজ করে নিজেদের খরচ চালায়। তারা পড়ালেখার পাশাপাশি হাতখরচের জন্য বিভিন্ন ধরনের কাজ খুঁজে বের করে। এবং সে কাজগুলো পর্নোগ্রাফির মত নিজেদের ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর নয়।

পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে কর্মরত ব্যক্তিরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়। এটি এমন একটি জায়গা যেখানে আপনি কখনোই সফলতা পাবেন না। সুতরাং, আপনি যদি স্বাভাবিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত থাকেন, তাহলে কেন পর্নোগ্রাফিতে জড়িয়ে জন্য আপনার স্বাস্থ্য, আপনার ভবিষ্যৎ, সবার সাথে সুসম্পর্ক, আত্মসম্মান, খ্যাতি এবং সর্বোপরি আপনার ব্যক্তিত্ব কে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন?

২০১৩ সালে পাঁচ জন যৌনকর্মী HIV তে আক্রান্ত হওয়ায় একটি পর্ন ইন্ডাস্ট্রিকে তিন বার বন্ধ করে দেয়া হয়। এ ধরনের ঘটনা কি সবার জন্য বড় একটি সতর্কীকরণ নয়? আমার কাছে এটা অনেক হতাশাজনক মনে হয় যে, এখনো কিছু মানুষ এসব ইন্ডাস্ট্রিতে যোগ দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করে। আমি যখন পর্নোগ্রাফিতে আসার সিদ্ধান্ত নেই তখন এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটলে আমি অবশ্যই পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে আসতাম না। আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবতী মনে করি, কারণ এ ধরনের কোন রোগ সংক্রমণের আগেই আমি পর্ন ইন্ডাস্ট্রি ত্যাগ করেছি।

বাস্তবতা হচ্ছে, পর্নোগ্রাফি করে খুব জনপ্রিয় হওয়া বা ভাল কিছু অর্জন করা সম্ভব না। বর্তমানে আমি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সুখী এবং স্বাভাবিক জীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করি। আমি সবাইকে পর্নোগ্রাফির ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে বলে যাবো, কারণ আমি মনে করি, কেউ যদি আগে থেকে আমাকে পর্নোগ্রাফির খারাপ দিকগুলো সম্পর্কে ভালভাবে বলতো, তাহলে আমি হয়ত পর্নোগ্রাফিতে জড়িয়ে পড়তাম না।

আমি যদি একজন মানুষকেও পর্নোগ্রাফির ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারি, তাহলে আমার প্রচেষ্টা সার্থক হবে!

(অনূদিত)

(ফিতনার ভয়ে রেফারেন্স দেওয়া হলোনা)

শেয়ার করুনঃ