উপদেশ নং-৯

হে আমার মেয়ে। এভাবে একটি যুবক অগণিত নারীকে নষ্ট করলেও আমাদের জালেম সমাজ তাকে একদিন ক্ষমা করে দিবে। সমাজ বলবে, একটি যুবক পথহারা ছিল, এখন সে সুপথে ফিরে এসেছে। এই অজুহাতে সে হয়ত সমাজের কাছে গৃহীত হবে এবং সকলেই তাকে গ্রহণ করে নিবে । কিন্তু তুমি অপমানিত, লাঞ্ছিত হয়ে চিরদিন পড়ে থাকবে । আজীবন তোমার জীবনে কালিমা লেগে থাকবে । কোন দিন তা মুছে যাবে না। আমাদের জালেম সমাজ কখনই তোমাকে ক্ষমা করবে না ।

উপদেশ নং-১০

হে আমার মেয়ে তোমার সম্মান তোমার হাতেই রেখে দিলাম এবং তোমার ইজ্জত-আব্রু ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব তোমার উপরই ছেড়ে দিলাম। সুতরাং তোমার বোনদেরকে উপদেশ দাও । বিপদগামীদের সংশোধন কর এবং সুপথে ফিরিয়ে আন ।

উপদেশ নং-১১

হে আমার মেয়ে তুমি তাদেরকে বল, হে আমার বোন, পথ চলার সময় কোন পুরুষ যদি তোমার দিকে তাকিয়ে দেখে তবে তুমি তার থেকে বিমুখ হয়ে যাও এবং তোমার চেহারা অন্য দিকে ঘুরিয়ে ফেল । এরপরও যদি তার কাছ থেকে সন্দেহজনক কোন আচরণ অনুভব কর কিংবা সে তোমার গায়ে হাত দিতে চায় অথবা কথার মাধ্যমে তোমাকে বিরক্ত করতে উদ্যত হয় তাহলে তোমার পা থেকে জুতা খুলে তার মাথায় আঘাত কর । তুমি যদি একাজটি করতে পার তাহলে দেখবে পথের সকলেই তোমার পক্ষ নিবে, তোমাকেই সাহায্য করবে। সে আর কখনও তোমার মত অন্য কোন নারীর উপর অসৎ দৃষ্টি দিবে না। সে যদি সত্যিই তোমাকে পছন্দ করে থাকে, তাহলে তোমার এই আচরণে তার ছশ ফিরবে, তাওবা করবে এবং তোমার সাথে হালাল সম্পর্ক বিবাহ গড়ার জন্যে বৈধ পন্থা অবলম্বনের দিকে অগ্রসর হবে ।

পার্থিব সম্মান, প্রতিপাত, ক্ষমতা-দাপটে একজন মেয়ে যত উচু স্তরেই পৌঁছে যাক না কেন, বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ছাড়া পূর্ণ সৌভাগ্য ও কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছতে পারবে না। বিবাহের ফলে সে হয়ত সতী স্ত্রী, সম্মানিত মা, গৃহিণী সবই হবে। রাণী, সম্রাজী সকলের ক্ষেত্রে একই কথা ।

মিসর ও সিরিয়ার দু’জন প্রসিদ্ধ মহিলা সাহিত্যিকের পরিচয় আমি জানি । ধন-সম্পদ, সাহিত্য সম্মান সবই তারা পেয়েছে। কিন্তু বিবাহসম্মদ হারিয়েছে । তারা উন্মাদের ন্যায় জীবন যাপন করছে । তাদের নাম বলতে আমাকে বাধ্য কর না। তারা খুবই প্রসিদ্ধ ।

বিবাহ একজন মহিলার চূড়ান্ত লক্ষ্য। যদিও সে সংসদের সদস্য, নেতার সঙ্গী হোক না কেন? অসতী নারীকে কেউ বিবাহ করে না। এখন যে যুবক তার সাথে প্রবঞ্চণা করে ধোঁকা দেয় সেও তাকে ছেড়ে চলে যায় এবং অন্য কোন সতী নারীকে বিবাহ করে। কেননা, সেও চায় না যে, তার গৃহকত্রী, তার সন্তানের মা একজন পতিতা হোক ।

বখাটে যুবক যখন তার প্রবৃত্তি চরিতার্থে কোন নষ্ট মেয়েকে কাছে না পায়, যে শয়তানী ধর্মের কথিত বিবাহ (লিভটগেদার) বসবে, তখনই সে ইসলামি পদ্ধতিতে হয়তো কাউকে বিবাহ করতে চাইবে ।

উপদেশ নং-১২

হে আমার মেয়ে! তোমাদের কারণেই আজকে বিবাহের বাজারে মন্দাভাব । তোমাদের মত মেয়েরা যদি পতিতা না হত তাহলে বিবাহ বাজারও মন্দা হত না এবং পাপের বাজার চালু হত না। এজন্য কেন সতী নারীদেরকে এই মহামারী দূর করতে উদ্বুদ্ধ করবে না। তোমরা তো আমাদের থেকে এক্ষেত্রে বেশী যোগ্য ও সক্ষম । কেননা, তোমরা মেয়েদের ভাষা বুক । তাদের হৃদয়ে প্রবেশ করতে পার । তোমাদের ন্যায় সৎ ভদ্র, ধাৰ্মিক মেয়ে ছাড়া অন্য কেউ এই ফেতনা দূর করতে পারবে না। সিরিয়ার অনেক পরিবারে বিবাহ উপযুক্ত মেয়ে আছে। কিন্তু তারা স্বামী পাচ্ছে না। কারণ, যুবকরা বৈধ স্ত্রীর স্থলে পতিতাদের সহজে পেয়ে যায়। ফলে বিবাহের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। আমার ধারণা অন্যান্য দেশেও একই অবস্থা।

উপদেশ নং-১৩

হে আমার মেয়ে! তোমাদের থেকে সাহিত্যিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষিকার একটি দল তৈরী কর যারা তোমার বিভ্রান্ত বোনদের সুপথে ফিরিয়ে আনবে। তাদেরকে আল্লাহর ভয় দেখাও। যদি তারা ভয় না পায় তবে বাস্তবতা বুঝাও ৷ তাদেরকে এভাবে বল, হে আমার বোন! তুমি আজকে সুন্দরী কিশোরী, তাই যুবক তোমার প্রতি আকর্ষণ দেখায়। তোমার চারপাশে ঘুরতে থাকে। কিন্তু এই সৌন্দর্য, তারুণ্য কি সর্বদা থাকবে? জগতের কিছুই তো নতুন থাকে না। সুতরাং যখন কুজো বুড়ি হয়ে যাবে তখন কি হবে? ভেবে দেখেছে? সেদিন কে তোমার দেখাশোনা করবে? তুমি কি জান সেদিন কে এই বুড়িকে দেখা শোনা করবে? তার ছেলে-মেয়ে, নাতিনাতনীরা। তখন এই বুড়িই পরিবারের সম্রাজ্ঞী সেজে বসবে। আর অন্যরা…তোমরাই ভাল জান তার কি হবে?

এখন তোমরাই বল যে, এই সামান্য ভোগ সেই বেদনাদায়ক কষ্টের সমপর্যায়ে কি হতে পারে? এরূপ ক্ষণিকের ভোগ – জীবন ক্রয় কতে চাও সেই লাঞ্ছনাকর জীবনের বিনিময়ে ।

এ ধরণের কথা বলার প্রয়োজন অনুভব করছি না। তোমার হত দরিদ্র অবলা বোনের পথ নিরদেশনায় তোমরা উদাসীন হয় না। তাদের যদি আলো দেখাতে নাই পার তাহলে অন্তত নতুন প্রজনের অবলা কিশোরীকে এদের পথে চলা থেকে দূরে রাখার চেষ্টা কর ।

উপদেশ নং-১৪

হে আমার মেয়ে আমি তোমাদের থেকে এটা চাই না যে, তোমরা এক লাফে মুসলিম মেয়ের অবস্থা পরিবর্তন করে ফেলবে । না, এটা অসম্ভব । হঠাৎ উন্নতি স্থায়ী হয় না। বরং তোমরা মুসলিম মেয়েদেরকে ধাপে ধাপে কল্যাণের দিকে নিয়ে যাবে। যেভাবে তারা পাপের পথে ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়েছে ।

প্রথমে তারা এক চুল ছোট করেছে, কাপড় সংক্ষিপ্ত করেছে। হিজাব পাতলা করেছে। এই করুণ অবস্থায় পৌঁছতে দীর্ঘ দিন লেগে গেছে। পরিবারের সম্রাক্ত পুরুষও তা বুঝতে পারে নি। অশ্লীল পত্রিকা, মিডিয়া এতে উৎসাহ দিয়েছে। আর বখাটে যুবকেরা এ দৃশ্য দেখে আনন্দ উল্লাস করেছে।

অথচ মুসলিম নারী সমাজ এত নিকৃষ্ট হয়েছে যা ইসলাম সমর্থন করে না, ইসলাম কেন, খ্রিস্টান অগ্নিপূজকরাও সমর্থন করে না। এমন কি নিরীহ পশুও তা দেখে লজ্জা পায় ।

দু’টি মোরগ যদি একটি মুরগীর পিছনে লেগে যায়, তাহলে তার আত্মসম্মান রক্ষার্থে পরস্পর যুদ্ধ করে । কিন্তু হায়! মুসলিম উম্মাহর কি অবস্থা!!

বৈরুত, ইস্কান্দার শহরের সমুদ্র সইকতে অনেক মুসলমান পুরুষ আছে। তারা আপন স্ত্রীদের বেপর্দা পরপুরুষ দেখলেও আত্মসম্মান বোধ করে না। পর পুরুষের সামনে তারা অর্ধ নগ্ন হয়ে বের হয়।

বিভিন্ন ক্লাব, নৈশ পার্টিতে অনেক মুসলিম তাদের মুসলিমা স্ত্রীদের পরপুরুষের সাথে নাচতে দেয়। পরম্পর আলিঙ্গন করে, গালে চুমু দেয়, শরীরে শুয়ে পড়ে। কিন্তু তাও কেউ অপছন্দ করে না।

মুসলিম ইউনিভাসিটিগুলোতে সহশিক্ষার বদৌলতে (?) যুবকরা বেপর্দা যুবতী শিক্ষার্থীর পাশে বসে। বেলোপনা চালিয়ে যায়। কিন্তু তাও মুসলিম পিতা-মাতা অপছন্দ করে না । হায় আফসোসা আমরা আজ কত নীচু হয়েছিা!

হে আমার মেয়ে! মুসলিম মেয়েদের এই করুণ অবস্থা একদিনে পরিবর্তন হবে না। এক লাফে তারা পূর্বের সেই আসল অবস্থায় ফিরে যাবে না; বরং আমরা সেভাবেই তাদেরকে ধীরে ধীরে পূর্বের অবস্থায় ফেরত নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব, যেভাবে পর্যায়ক্রমে তারা বর্তমানের করুন ও দুঃখজনক অবস্থায় এসে পৌছেছে।

আমাদের সামনে পথ অনেক দীর্ঘ পথ। যদি দীর্ঘ হয়, আর তার বিকল্প সংক্ষিপ্ত অন্য কোন পথ না থাকলে যে ব্যক্তি দীর্ঘ পথের অভিযোগ করে যাত্রা শুরু করবে না, সে কখনও তার গন্তব্যস্থলে পৌছতে পারবে না।

উপদেশ নং-১৫

হে আমার মেয়ে তুমি প্রথমে মুসলিম নারীদেরকে পুরুষদের সাথে খোলামেলা উঠা-বসা, চলাফেরা এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে বেপর্দা হয়ে সহশিক্ষায় প্রবেশ করতে নিষেধ কর । সেই সাথে সহ শিক্ষার খারাপ দিকগুলো তুলে ধর। তুমি তাদেরকে মুখ ঢেকে রাখতে বল। যদিও ফিতনার আশঙ্কা না থাকলে আমি মুখ ঢাকাকে ওয়াজিব মনে করি না। মুখ খুলে রাস্তায় চলার চেয়ে নির্জনে মুখ ঢেকে পুরুষের সাথে সাক্ষাৎ করা অধিক বিপদজনক ।

স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্বামীর ঘরে স্বামীর বন্ধুর সামনে বসে গল্প করা, আপ্যায়ান করা আর পাপের দরজা খুলে দেওয়া একই কথা। ভার্সিটিতে সহপাঠীর সাথে করমর্দন করা অন্যায়, তার সাথে অবিরাম কথা ও মোবাইলে আলাপচারিতা চালিয়ে যাওয়া ক্ষতিকর। একসাথে বিদ্যালয়ে যাওয়া অনুচিত। বান্ধবীর সাথে গৃহ শিক্ষকের রুমে একত্রিত হওয়া অপরাধ ।

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ ……

লেখকঃ  শায়খ আলী আত তানতাবী ।

প্রথম পর্ব পড়ুন এখানে – http://bit.ly/2dXoauu

#হে_আমার_মেয়ে

শেয়ার করুনঃ