আসসালামু আলাইকুম,

রামাদান এসেছে, এবং আমি নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি মাস্টারবেশন করা এবং পর্ন দেখার অভ্যাস সম্পূর্ণ দূর করতে। ইনশাল্লাহ এই মাসটিই হবে এই অভ্যাসগুলো চিরতরে দূর করতে পারার সময়। আজকে তৃতীয় রোজার দিন এবং কলুষতার বোঝা ভারী হয়ে যাচ্ছে।

প্রথম দিনটিতে পারিবারিক অনুষ্ঠানাদির কারনে সারাদিন এতই ব্যস্ত ছিলাম যে কলুষ চিন্তা করারও ফুসরত পাই নি। পুরো দিনটিতে দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলাম; টেলিভিশন, কম্পিউটার থেকে দূরে ছিলাম ও কাজে ব্যস্ত ছিলাম। বাইরে বের হবার সময় দৃষ্টিকে অবনত রেখেছিলাম।

দ্বিতীয় দিনটি সত্যিই কঠিন ছিল। আমি ই-মেইল চেক করছিলাম, তখন গুগল নিউজে গেলাম শিরোনামগুলো দেখতে এবং চোখে পড়ল একজন সঙ্গীত তারকার ছোট একটি ছবি, সাথে Teen Choice Awards Music Festival এ তার সংগীত পরিবেশনার খবর। ধরা যাক এই তারকার নাম ‘ক’।

আমি সত্যিই ক্ষুব্ধ হলাম। নোংরা মিউজিক ভিডিওর জন্য এই তারকার খ্যাতি আছে। এবং আশ্চর্য হলাম যে, সে শিশুদের অনুষ্ঠানে মঞ্চ-পরিবেশনা করেছে।

নিজেকে এই ভেবে বোঝালাম যে, শিশুদের অনুষ্ঠানে সে খুব বেশি নোংরা পোশাক পরে এসেছে কি না শুধু এটা দেখতে যাচ্ছি। তাই ক এর Teen Choice Award এর স্টেজ পারফরম্যান্স ইউটিউব করলাম, যেটি ছিল আমার প্রথম ভুল!

বলে রাখতে চাই, আমি গত প্রায় ১০ বছর ধরে হার্ডকোর পর্ন দেখে আসছি, খুব লজ্জার সাথে স্বীকার করছি। তবুও সঙ্গীত তারকার সেই শিশুদের অনুষ্ঠানের পোশাক, নাচের ধরণ আমাকে উত্তেজিত করার (এবং রাগান্বিত করার, কারন দর্শ্করা সবাই শিশু) জন্য যথেষ্ট ছিল। বিষয়টা খুবই নোংরা- দর্শকদের মধ্যে কমবয়সী ছেলেরা আছে যারা ‘ক’ কে দেখে বিকৃতভাবে যৌনতাড়িত হবে এবং কমবয়সী মেয়েরা আছে যারা ‘ক’ কে রোল মডেল ধরে নিয়ে তার নাচ ও পোশাক অনুকরণ করবে।

যদিও নিজেকে এই বলে বুঝিয়েছিলাম যে, আমি শুধু এটা নিশ্চিত হতে ‘ক’ কে ইউটিউব করেছি সে বেশি খোলামেলা পোশাক পরে নি হয়ত; কিন্তু সেখানে নিশ্চয়ই আরো বাজে কোন ইচ্ছা ছিল যা নিজের কাছে স্বীকার করতে চাই নি।

ইউটিউব ভিডিওতে শিশুদের কমেন্ট ছিল ‘ক’ এর প্রতি উচ্ছ্বাসপূর্ণ। কেউ কেউ তাকে আরেক সঙ্গীত তারকা ‘খ’ এর সাথে তুলনা করছিল। আমি তৎক্ষণাৎ ‘খ’ কে ইউটিউব করলাম, তার কয়েকটি মিউজিক ভিডিও দেখলাম, দেখে অসহ্য লাগলেও উত্তেজিত হয়েছিলাম। কলুষতা আমাকে ধরে বসল। এক সময় উপলব্ধি করলাম আমি সীমালঙ্ঘন করে ফেলেছি এবং নিজেকেই কি না বোকা বানাচ্ছিলাম এই ভেবে, কমবয়সীরা গণহারে বিকৃত যৌনাচারতাড়িত হবে এটা নিয়ে ‘গবেষণা’ করছি।

এভাবেই কলুষতা আপনাকে পেয়ে বসে, আপনাকে প্রলুব্ধ করে।

এর পুরো ঘটনাই ঘটেছিল রোজার সময়ে দিনের শুরুর দিকে। একমাত্র আল্লাহই জানেন আমার সেদিনের সাওম সহীহভাবে মঞ্জুর হয়েছিল কি না। তারাবীহ এর সময় ক্ষমা ও শক্তি চেয়ে দু’আ এবং করুনাভিক্ষা করেছিলাম।

ইউটিউবের ভিডিওগুলো দেখে মাস্টারবেট করি নি বা পর্নভিডিও গুগল করি নি। কিন্তু এক ঘন্টা যাবত মিউজিক ভিডিও গুলো দেখার পর আমার সম্পূর্ণ ইরেকশন এসে গেল, কাপড়ে প্রি-এজাকুলেটরি ফ্লুইডও দেখা গেল। স্নানঘরে গিয়ে নিজেকে শান্ত করতে পারা পর্যন্ত লজ্জাস্থানে ঠান্ডা পানি ঢালতে লাগলাম, তারপর গোসল করে নিলাম ও নামাজ পড়লাম।

এর পরেও মিউজিক ভিডিওতে দেখা দৃশ্যগুলো মাথায় এসে যাচ্ছিল। ঘুমাতে যাওয়ার সময়ও একই ঘটনা ঘটছিল। যখন ঘুম থেকে উঠলাম, বিছানা ছাড়ার আগে তখনো এসব চিন্তা মাথা থেকে পুরোপুরি দূর হচ্ছিল না।

এমনকি এখন এই ব্লগে লেখার সময় ও চিন্তাগুলো আমার মনে চলে আসছে। মিউজিক ভিডিওর দৃশ্যগুলো মনে এসে গিয়ে আমাকে উত্তেজিত করে দিতে চাইছে। তবুও একে স্বীকার করে নেওয়ার বিষয়টা এক্ষেত্রে ঢাল হিসেবে কাজ করে কুপ্রবৃত্তিকে দমন করতে সাহায্য করছে, আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে, কলুষমুক্ত হওয়ায় জন্যই এখানে লিখছি।

দৃষ্টি সংযত রাখা আপনাকে যৌন সংবেদনশীল করে তোলেঃ

যদি আপনি সারাদিন ধরে পর্ন দেখেন, রাস্তা দিয়ে মিনিস্কার্ট পরিহিত কোন মেয়েকে হেঁটে যেতে দেখলেও তাকে আপনার কাছে একটি ইটের দেয়ালের মত স্বাভাবিক মনে হবে। আবার যদি আপনি দৃষ্টি সংযত করেন, চোখকে অবনত রাখেন এবং টিভি/ইন্টারনেট থেকে দূরে রাখেন রাস্তা দিয়ে মিনিস্কার্ট পরিহিত সেই একই মেয়ে যেতে দেখলে আপনার ভিতরে উত্তেজনা তৈরি হবে।

‘ক’ এর ব্যাপারে আমার ক্ষেত্রে ঠিক এটাই ঘটেছিল। আমি নিজেকে পর্ন থেকে দূরে রেখেছিলাম এবং একজন সংগীত তারকার কিছু নাচের ভংগী আর সংক্ষিপ্ত পোশাকই আমার উপর বিশাল প্রভাব রেখেছিল।

কারণ আমি যৌন সংবেদনশীল হয়ে গিয়েছিলাম।

কেন সাহাবা (রাঃ) দের সময়ে পুরুষদেরকে দৃষ্টি এত সংযত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হত? তাঁদেরকে (এবং আমাদেরকে) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল কোন পরনারীর দিকে দ্বিতীয়বার না তাকানোর জন্য। প্রথমবার তাকানো ইচ্ছাকৃত নয়, দ্বিতীয়বার তাকানো উদ্দেশ্যমূলক।

কিন্তু ভেবে দেখুন, সে সময়ের নারীরাও ছিলেন সাহাবা- তাঁরা থাকতেন যথাযথ পর্দানশীল হয়ে। তাঁরা কন্ঠ‌স্বরকে সংযত রাখতেন, অনুসরণীয় শিষ্টতার চর্চা করতেন। এমনকি তাঁদের দিকে দ্বিতীয়বার তাকালেও দেখার কিছু ছিল না (নাউজুবিল্লাহ)!

এবং অপরদিকে পুরুষ সাহাবাগণ ছিলেন মুত্তাকীন- যাঁরা আল্লাহকে ভালবাসতেন ও ভয় করতেন। তাঁদের চরিত্র ছিল বিশুদ্ধ, নিজের স্ত্রী ছাড়া অন্য কোন নারীর প্রতি কামনাপূর্ণ ইচ্ছা পোষণ করতেন না। এতখানি তাকওয়া যার মধ্যে আছে তাঁকে কেন দৃষ্টি সংযত রাখা নিয়ে চিন্তা করতে হবে?

ভাবতে পারেন তাঁদেরকে কলুষ প্রবৃত্তি নিয়ে চিন্তাই করে হত না, তাই না? এটা ভুল ধারনা।

সংযমের সাথে সংবেদনশীলতা চলে আসে। আপনি যত ধর্মভীরু হবেন, ততই যৌন সংবেদনশীল হয়ে উঠবেন।

যেই পুরুষ কখনো পরনারীর দিকে তাকায় না সে খোলামেলা পোশাকের কোন মেয়েকে দেখলে অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে যাবে।

যে কারণে যৌন সংবেদনশীলতা কষ্টদায়ক, কিন্তু ভালঃ

সংবেদনশীলতা সহ্য করা কঠিন। গতকাল ক/খ এর ঘটনার পর এটা বুঝতে পেরেছিলাম, কিন্তু গত রাতে তারাবীহ নামাজে দু’আ করেছিলাম এবং নিজেকে অনেকটা বোঝামুক্ত মনে হয়েছিল। আজ সারাদিনে একদমই কোন কলুষ চিন্তা মাথায় আসে নি, আলহামদুলিল্লাহ।

সংবেদনশীলতা বৈবাহিক জীবনে সুদূরপ্রসারীভাবে ভাল প্রভাব রাখে। যখন আপনি দৃষ্টি অবনত রাখছেন এবং আপনার চোখ ‘শুধু নিজের বিবাহিত সঙ্গী ছাড়া আর কারো জন্য না’, তখন আপনি ও আপনার সঙ্গীর মধ্যকার যৌন আকর্ষনের তীব্রতা আরো প্রগাঢ় হয়। ভেবে দেখুন তো, সারাদিনে দৃষ্টি সংযত রেখে, বিলবোর্ড, ম্যাগাজিন স্ট্যান্ড থেকে চোখকে বাঁচিয়ে, টিভি/ইন্টারনেটের নোংরা বিজ্ঞাপন থেকে দূরে থেকে আপনার কতখানি যৌনশক্তি সঞ্চিত হয়। দৃষ্টিকে সংযত না রাখা অন্যায়- এ বিষয়টিকে স্বীকার করে নিচ্ছেন বলেই সংযত হয়ে থাকছেন। অন্যভাবে বলতে গেলে, যৌনতৃপ্তি উপভোগ করার জন্য আপনার যে ইচ্ছা একে আপনি সংযত রেখেছেন, কিন্তু আপনার যদি তা উপভোগের হালাল পদ্ধতি থাকতো তবে নিশ্চয়ই তখন তা ব্যবহার করতেন।

দিনশেষে আপনি বাড়ি ফিরে স্ত্রীর কাছে আসবেন সারাদিনে সংযত করে রাখা সমস্ত যৌন আকর্ষনের তীব্রতা নিয়ে; যা আপনার মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই তৈরি হয়েছে। চাহিদা মিটানোর অন্য সকল উপায় ত্যাগ করে থাকার ফলে আপনাদের দুইজনের মধ্যে যে আকুলতা জমা হয়েছে, তা তীব্রভাবে দুইজনের মধ্যে আকর্ষণ তৈরি করবে। এই প্রগাঢ় আবেগ প্রকাশের উপায় তখন শারীরিক মিলনের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হবে। এ ধরনের তীব্র আবেগময় শারীরিক সম্পর্ক শুধু একজন স্বামী ও একজন স্ত্রীর মধ্যেই ঘটতে পারে, কারণ আল্লাহ এটাই চেয়েছেন।

এই যৌনশক্তি শুধু যে স্বাস্থ্যকর তাই নয়, সফল বৈবাহিক জীবনের জন্যও প্রয়োজন, এবং এর জন্ম হয় দৃষ্টি সংযত রাখা থেকে। কথাটা অদ্ভুত, কিন্তু এর অর্থ- এখন দৃষ্টির সংযম মানে পরে অধিকতর ভাল যৌনজীবন। এটা স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদী দুই রকম ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

এখান থেকে আরেকটি কথা চলে আসে- বিয়ের আগেই দৃষ্টি সংযমের সম্পূর্ণ চর্চা রাখা।

যদি বছরের পর বছর মাস্টারবেশন না করে, ক্লাস-ল্যাব-কর্মক্ষে­ত্র-নোংরা বিজ্ঞাপন-পর্নে মেয়েদের দিকে প্রলুব্ধ দৃষ্টিতে না তাকিয়ে নিজেকে সংযত রাখেন তাহলে স্ত্রীর প্রতি আপনার শারীরিক আকাংক্ষা আরো গাঢ় হবে।

তাই হ্যাঁ, সংবেদনশীল হয়ে ওঠা কঠিন, দৃষ্টি সামলে রাখাও কঠিন, কিন্তু যখন বিবাহিত জীবনে প্রবেশ করে সুখী যৌনজীবনের মাধ্যমে এর সুফল পাবেন তখন বুঝতে পারবেন এই সুফলের কাছে কষ্টটা তেমন কিছুই ছিল না।

উপসংহারে, যত কলুষমুক্ত থাকতে পারবেন তা আপনাকে আরো সংবেদনশীল করে তুলবে। এর জন্য আপনাকে কলুষপূর্ণ পরিবেশ থেকেও দূরে থাকতে হবে। সেই সাথে আমি যেহেতু অদুর ভবিষ্যতের মধ্যে বিয়ে করছি না, তাই আমাকে অনেক বেশি করে নফল রোজা রাখতে হবে, নিজেকে হরমোন থেকে মনোযোগ ঘুরিয়ে রাখতে হবে। এমনকি এই ব্লগে বেশি সময় কাটিয়ে নিজের কাল্পনিক স্ত্রীর সাথে যৌনসম্পর্কের চিন্তা করাও আমার কোন উপকারে আসবে না। আমি এখানে পাঠকদের কাজে আসার জন্য লিখছি, যেন তারা বুঝতে পারেন যে অপেক্ষা করার জন্য অনেক ভাল জিনিস সামনে আছে, যদি আপনি দৃষ্টি সংযত করে রাখেন।

মূল লিখাটি Fallen seeker ব্লগ থেকে সংগ্রহ করা ।

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)

শেয়ার করুনঃ