বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

সমকামীদের ভ্রান্ত দাবি-২:   সমকামীদের ব্রেন বিষমকামীদের ব্রেন থেকে আলাদা

অভিজিত রায় তার ‘সমকামিতা: একটি বৈজ্ঞানিক এবং সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান’  বইয়ে আরেকটি ভুল গবেষণার কথা উল্লেখ করেছেন।

তিনি Dr. Simon LeVay এর একটা গবেষণার কথা বলেছেন যা কিনা পরবতীতে বিজ্ঞানী মহল প্রত্যাখ্যান করেছে |  Dr. Simon LeVay তার এক রিসার্চে বলেছেন যে বিষমকামী পুরুষের হাইপোথ্যালামাসের Cluster cell INAH-3 এর সাথে সমকামীদের হাইপোথ্যালামাসের Cluster cell INAH-3 এর পার্থক্য আছে আর তাই সমকামিতা জন্মগতভাবে লাভ করা সম্ভব। [১]

অথচ তার গবেষণা ছিল দুর্বল। তিনি যে সমকামীদের নিয়ে গবেষণা করেছিলেন তারা আবার এইডসের কারণে মৃত্যুবরণ করেছিল। তাই তার গবেষণার সাবজেক্টগুলোর শুদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। Dr. A. Dean Byrd , LeVay এর গবেষণার সমালোচনা করে বলেন–

” প্রফেসর Breedlove তারা গবেষণার সারাংশে বলেছেন যে, ব্রেন স্থির অঙ্গ নয়। এটি পরিবর্তিত হয় এবং ব্যবহারের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়ায়তার রিসার্চ অনুযায়ী এটা বিশেষত যেন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঘটে। তাই যখন কেউ একটা বিশেষ কাজ বার বার করতে থাকে তখন নির্দিষ্ট একটা নিউরাল পথ শক্তিশালী হয়।যেহেতু ব্রেন একটা ফিজিক্যাল অঙ্গ তাই যখন এই নিউরাল পথগুলো শক্তিশালী হয় তখন এটি ব্রেনের রসায়নে প্রতিফলিত হয় । যে বার বার বাস্কেটবল খেলে তার মস্তিষ্ক এর সাথে রকেট সাইন্স নিয়ে পড়াশুনা করা ব্যক্তির মস্তিষ্কের পার্থক্য থাকবে। তেমনিভাবে, একজন সমকামী ব্যক্তির ব্যবহারও তার মস্তিষ্কের গঠন পরিবর্তন করে দেয়। তাই LeVay এর মত স্টাডি যদি গ্রহণযোগ্যও হয় তাহলেও দেখা যাবে যে এই স্টাডি যা বলছে ব্রেন সম্পর্কে, তা বিজ্ঞান আগে থেকেই জানে” । [২]

অর্থাৎ LeVay এর স্টাডি নতুন কিছুই প্রমাণ করতে পারেনি। অবশ্য ২০০১ সালে LeVay তার গবেষণার ব্যর্থতা স্বীকার করে বলেছেন–

” আমি যা পাই নি তা বলার প্রয়োজনবোধ করছি।আমি প্রমাণ করিনি যে, সমকামিতা জেনেটিক এবং আমি সমকামিতার জেনেটিক কোন কারণ বের করিনি । আমি প্রমাণ করিনি যে,  সমকামীরা জন্মগতভাবেই এইরকম যা মানুষ আমার কাজের ভুল ব্যাখ্যা করে বলে,  না আমি ব্রেনে কোন সমকামী কেন্দ্রে আবিষ্কার করেছি” । [৩]

অভিজিত রায়ের মত মানুষেরাই এভাবেই বিজ্ঞানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আসছে। কি আর করার সমকামী নাস্তিকদের মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করা ছাড়া অন্য কোন উপায় তো নেই, সত্য যে তাদের পক্ষ নিবে না!

রেফারেন্সঃ

[১] Simon LeVay, The Sexual Brain (Cambridge, Mass.: The MITPress, 1993), p. xii.

[২] Dr. A. Dean Byrd and Stony Olsen, “Homosexuality: Innate and Immutable?” Regent University Law Review, Vol. 14, pp. 516-517. (Original footnotes omitted.)

[৩]  D. Nimmons, “Sex and the brain,” Discover (March 1994), 64-71.

সমকামীদের ভ্রান্ত দাবি -৩:  Animals Do It, So It’s Natural, Right?

সমকামীরা প্রায়ই এই দাবি করে যে “পশুরা যেহেতু সমকামী হতে পারে সেহেতু এটা ন্যাচারাল আর তাই মানুষের পক্ষেও সমকামিতা স্বাভাবিক!”

প্রথমত আমাদের এটা জানতে হবে যে, পশুদের মাঝে কোন সমকামিতার প্রবৃত্তি (Homosexual Instinct) নেই। Antonio Pardo, Professor of Bioethics at the University of Navarre, Spain  পশুদের সমকামী হওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করে বলেন

“সঠিকভাবে বলতে গেলে, পশুদের মাঝে সমকামিতার কোন অস্তিত্ব নেই। বংশবৃদ্ধি করার প্রবৃত্তি থেকে পশুরা সবসময় বিপরীত লিংগের প্রতি আকৃষ্ট হয় ।  তাই একটা পশু কখনোই সমকামী হতে পারে না” [১]

আসলে সমকামীদের এই দাবিটা খুবই হাস্যকর ও অযৌক্তিক ।  সমকামীদের এই দাবি করার আগে বোঝা উচিৎ ছিল যে Human Nature আর Animal Nature এক না। Animal Nature এর সাথে Human Nature এর তুলনা করে তারা প্রমাণ করল যে তারা বিজ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞ । পশুদের মাঝে হোমোসেক্সুয়াল বিহেভিয়ার দেখে তারা ভেবেছে যে “মানুষ এই কাজ করলে কি সমস্যা?”

সমস্যা আছে ৷

প্রথমত,  তাদের এই তুলনা করাই ঠিক হয় নায় ।  আচ্ছা সমকামীদের জিজ্ঞেস করছি,  পশুদের মাঝে “filicide” ও “cannibalism” নামক বিহেভিয়ার দেখা যায় ।  flicide হয় যখন একজন পশু তার সন্তানকে খেয়ে ফেলে আর cannibalism হয় যখন কোন পশু তাদের নিজ প্রজাতির কোন সদস্যকে খেয়ে ফেলে । উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বিড়ালদের মাঝে flicide বৈশিষ্ট্যটি দেখা যায় Sarah Hartwell বিষয়টি এইভাবে ব্যাখ্যা করেছেন—-

” বেশিরভাগ স্ত্রী বিড়াল তাদের বাচ্চাদের ক্ষতি না করার জন্য নিজেদেরকে “play mode” ও “hunt mode” এ নিয়ে যেতে পারে। পুরুষ বিড়ালে “hunt mode” বন্ধ করার প্রক্রিয়াটা অসম্পূর্ণ এবং যখন তারা খেলার মাধ্যমে উত্তেজিত হয়ে যায় তখন তাদের শিকার করার প্রবৃত্তিটা জেগে উঠে এবং তারা তাদের বাচ্চাদের মেরেও ফেলতে পারে” [২]

মূলত বিড়ালের ছানাদের আচরণের কারণে পুরুষ বিড়াল তাদেরকে শিকার ভেবে ভুল করে এবং এর ফলে পুরুষ বিড়ালের শিকার করার প্রবৃত্তি জেগে  উঠে ।

আর cannibalism এর বিষয়টি Iran Nature and Wildlife Magazine এইভাবে ব্যাখ্যা করেছে —

“Cannibal is an animal which feeds on others of its own species…….. Around 140 different species show cannibalistic tendencies under various conditions.” [ ৩]

পশুদের  বিভিন্ন  প্রজাতিকে এই দুইটা কাজ করতে করতে দেখা যায় তো এখন কি এই কাজ করা আমাদের জন্যও স্বাভাবিক হবে ? নরখাদকদের তাহলে মানুষ খাওয়ার বৈধতা দিয়ে দিন সমকামী + নাস্তিকরা হয়তো ভবিষৎ এ বলবে, ” জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার নিমিত্তে আমাদের বেশি বেশি মানুষ খাওয়া উচিৎকারণ প্রাণীরা এই কাজ করে !  ” Black Widow মাকড়সা যেমন শারীরিক সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলে পুরুষ মাকড়সাকে খেয়ে ফেলে তেমনি সমকামী নাস্তিকরাও হয়তো নিজেদের শয্যাসংগীকেও খাওয়ার দাবি জানাবে !

এইসব দাবি যেমন হাস্যকর লাগছে সমকামিতা বৈধ করার দাবিটিও এইরকম ।  আর কে নাকি সমকামিতাকে বৈধতা দেয়ার পার্থনোজেনেসিসকে টেনে এনেছে ।  সে পার্থনোজেনেসিসের কথা টেনে এনে যে কত বড় বোকামি করেছে তা নিশ্চয় এখন বুঝতে পেরেছেন । সমকামী + নাস্তিক ভায়াদের বুঝা উচিৎ Human Sex ও  Animal Sex  এক জিনিস না । Ethologist Cesar Ades, Human Sex ও  Animal Sex   এর পার্থক্য গুলো বোঝাতে গিয়ে বলেছেন –

“Human beings have sex one way, while animals have it another. Human sex is a question of preference where one chooses the most attractive person to have pleasure. This is not true with animals. For them, it is a question of mating and reproduction. There is no physical or psychological pleasure…… The smell is decisive : when a female is n heat, she emits a scent, known as pheromone. This scent attracts the attention of the male, and makes him want to mate. This is sexual intercourse between animals. It is the law of nature. “[৩]

“মানুষ যৌন সঙ্গম করে একভাবে আর পশুরা করে আরেকভাবে মানুষের সঙ্গম হয় পছন্দের ভিত্তিতে যেখানে একজন সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যক্তিকে পছন্দ করে সঙ্গম করার জন্য। এটা পশুদের ক্ষেত্রে সত্য নয়। তাদের জন্য সঙ্গম করার লক্ষ্য হল বংশবৃদ্ধি করা। শারীরিক বা মানসিক সুখ অর্জন করা তাদের সঙ্গমের লক্ষ্য নয়। ” [৪]

Cesar Ades এর দারুণ ব্যাখ্যার পর আর এই বিষয়ে আর কিছু বলার প্রয়োজনবোধ করছি না ।

এখন আসি পশুদের Homosexual behaviour এর বিষয়ে । আগেই বলেছি যে পশুদের সমকামিতার প্রবৃত্তি নেই। পশুদের মাঝে Homosexual behaviour দেখা যায় সেটা “filicide” ও “cannibalism এর মতই এবনরমাল। কারণ পশুরা অনেক সময় যৌন সঙ্গী নির্ধারণ করতে গিয়ে ভুল করে।

কারণ পশুরা আমাদের মত বুদ্ধিমান প্রাণী না এরা যৌন সঙ্গী নির্ধারণ করতে স্বাদ, গন্ধ স্পর্শ ও শব্দ ব্যবহার করে আমাদের মত বুদ্ধি ব্যবহার করে না । উদাহরণ হিসেবে কুকুরের কথা বলা যায় । কোন male dog যদি কোন estrus female dog এর সাথে সঙ্গম করে আসে তাহলে সে male dog অন্য  male  dog কে আকর্ষণ করে , কারণ estrus female dog  এর সাথে সঙ্গম করার ফলে male dog , estrus female dog এর scent  বহন করে যা অন্যান্য male dog দের বিভ্রান্ত করে । কুকুর নিজেরা কিন্তু সমকামী না, তাদের যৌন সংগী নির্ধারণ করার দুর্বলতার কারণেই তারা একই লিংগের কুকুরের দ্বারা আকৃষ্ট হয় যা এবনরমাল বিহেভিয়ার হিসেবেই গণ্য হয়।

কুকুরের ঘটনাটা এইভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে …

“Not surprisingly, the smell of a female dog in heat can instigate a frenzy of mounting behaviors. Even other females who are not in heat will mount those who are Males will mount males who have just been with estrus females if they still bear their scent…. And males who catch wind of the estrus odor may mount the first thing (or unlucky person) they come into contact with.” [৫]

তাই পশুদের এইরকম আচরণ দেখে পশুকে সমকামী বলে ভারডিক্ট দেয়া হল চরম পর্যায়ের বোকামি৷

আরো ব্যাখ্যা দিতে পারি । কিন্তু যা দিয়েছি ,তাই যথেষ্ট মনে হয়েছে । আশা করি সবাই বুঝতে পেরেছেন । না  বুঝতে পারলে কোটেশনগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

সবশেষে সমকামী ও নাস্তিকদের একটা কথা বলব —

“Irrational Animal Behavior is No Blueprint For Rational Man.”

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ ……

#stand_aggainst_Lgbt_propaganda#মিথ্যায়_বসত

প্রথম পর্ব পড়ুন এখানে – http://lostmodesty.blogspot.com/2016/09/blog-post_29.html

লিখেছেন-  Farhad Hossain

লেখক Faridpur Medical College এ অধ্যয়নরত

তথ্যসূত্রঃ

[1]Sarah Hartwell, Cats that kill kittens

[2]cannibalism in animals (Our emphasis)

[3]]”Cachorro Gay?”

[4]Ibid. (Our emphasis.) |5|Frans B. M. de Waal, “Bonobo Sex and Society,” Scientific American, Mar. 1995, pp. 82-88

[6]Antonio Pardo, “Aspectos mZdicos de la homosexualidad,”Nuestro Tiempo, Jul.-Aug. 1995,pp. 82-89

শেয়ার করুনঃ