আপনার শিশুর উপরও যে যৌন নিপীড়ন হবে না সেই বিষয়ে আপনি কখনো নিশ্চয়তা দিতে পারবেন না। প্রতিটা শিশুই যৌন নিপীড়নের ঝুঁকিতে থাকে।আপনার শিশু কখনো যৌন নিপীড়নের শিকার হবে না এমনটা আশা করে কিংবা ভেবে থাকলে তা আপনার শিশুর উপর যৌন নিপীড়নের আশঙ্কা কমাবে না,বরং যদি তারা যৌন নিপীড়নের শিকার হয় তখন তারা কীভাবে সাহায্য লাভ করবে সেই সম্পর্কে আপনার প্রস্তুতি থাকবে না।

শিশু যৌন নিপীড়নের বাস্তবতা  খুবই ভয়াবহ ধারণা,কিন্তু এটা এমন একটা জিনিস যা প্রত্যেক অভিবাবকের মুখোমুখি হওয়া প্রয়োজন।

সামগ্রিক অবস্থা-

 

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে প্রতি ৪ জন মেয়ের মাঝে ১ জন মেয়ে এবং প্রতি ৬ জন ছেলের মাঝে ১ জন ছেলে ১৮ বছরের আগেই যৌন নিপীড়নের শিকার হয় এবং স্থান,কাল,ধর্ম,আয় উপার্জন,পরিবার নির্বিশেষে যেকোনো শিশুই যৌন নিপীড়নে আক্রান্ত হতে পারে।নিপীড়িতদের মধ্যে প্রায় ৮৫% শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে তার সামাজিক বলয়ের মধ্যে থাকা মানুষদের  মাধ্যমে,যেমনঃতার আত্মীয়,তার পারিবারিক বন্ধু,তার শিক্ষক কিংবা প্রতিবেশী।যারা শিশুর উপর যৌন নিপীড়ন চালায় তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিশুটির পরিচিত হয়।

 

অধিকাংশ নিপীড়িত শিশু তার নিপীড়ন সম্পর্কে কাউকে জানায় না।এর কারণ হতে পারে তারা তাদের অভিভাবক কে কীভাবে বলবে সেই সম্পর্কে জানে না অথবা তার অভিভাবক তার সাথে বিরূপ আচরণ করবে এই ভেবে ভয় পায়।

 

যেসব শিশু যৌন নিপীড়নের কথা লুকিয়ে রাখে তারা শৈশবকালে  এবং জীবনের অন্যসময়ে নানাধরনের শারীরিক ও মানসিক প্রতিকূলতায় ভোগে।তাই শিশুকে যৌন নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচাতে এবং  তারা যৌন নিপীড়নের শিকার হলে যাতে তাদের অভিভাবিককে জানাতে পারে এই বিষয়ে জ্ঞান দিতে হবে অল্প বয়স থেকেই।অভিভাবক হিসেবে আপনার শিশুর নিরাপত্তা সম্পর্কে শিক্ষা দান করা এবং কোনটি সঠিক কোনটি ভুল সেই সম্পর্কে শিক্ষাদান করা আপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।যৌন নিপীড়নের লক্ষণ খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন,এর ফলে নিপীড়ন ঘটবে না।

v  শিশু যৌন নিপীড়ন সম্পর্কে প্রচলিত কিছু  কথা

Ø  শুধুমাত্র সুন্দর মেয়েরাই যৌন নিপীড়নের শিকার হয়।

Ø  অধিকাংশ শিশু যৌন নিপীড়নকারী দেখতে কুৎসিত বৃদ্ধ লোকের মত হয়।

Ø  অপরিচিতরাই যৌন নিপীড়ন করে থাকে।

Ø  খালি পুরুষেরাই শিশুদের ধর্ষণ করে।

Ø  আমার শিশুর ক্ষেত্রে এমন কিছু ঘটলে সে আমাকে বলতে পারবে।

Ø  আমার শিশুর উপর এমন কিছু ঘটবে না।

Ø  যৌন নিপীড়নকারীরা দেখতে ভয়ংকর ও কুৎসিত হয়।

Ø  শিশু যৌন নিপীড়ন সম্পর্কে শিক্ষা দিলে শিশুরা ভয় পাবে,তাই এই বিষয়ে চুপ থাকাই শ্রেয়।

Ø  শুধুমাত্র সমকামী ছেলেরাই ছোট ছেলেদের কষ্ট দেয়।

Ø  আমার পরিবারে এরকম কিছু ঘটবে না।

Ø  যৌন নিপীড়ন একটি পারিবারিক ব্যাপার এবং সেই অনুযায়ী এইটার ব্যবস্থা নিতে হবে।

আপনি কী করতে পারেন?

Ø  যৌনতা এবং যৌন নিপীড়ন সম্পর্কে বয়স উপযোগী ভাষায় কথা বলতে পারেন।

Ø  যৌনতা বিষয়ে সরাসরি ও খোলাখুলি ভাবে কথা বললে আপনার সন্তান তখন তার   মনে কোন প্রশ্ন থাকলে তা নিঃসঙ্কোচে জিজ্ঞেস করতে পারবে।

Ø  আপনার শিশুকে তার শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের নাম গুলো শেখান,এতে করে তারা ওই অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সম্পর্কে  কোন প্রশ্ন থাকলে তা করতে পারবে।

Ø   শরীরের কিছু অঙ্গ যে গোপনীয় তা শেখান।

Ø  কেউ তার গোপনীয় অঙ্গ স্পর্শ করতে পারবে না কিংবা দেখতে পারবে না এই সম্পর্কে আপনার শিশু কে জানান।তবে বিশেষ কোন যত্ন নেবার প্রয়োজন হলে শিশুটির অভিভাবকের সামনে গোপনীয় অঙ্গ স্পর্শ করতে পারবে এই বিষয়ে তাকে অবহিত করুন।

Ø  কেউ যদি আপনার শিশুর গোপন অঙ্গ স্পর্শ করে কিংবা দেখতে চায় অথবা কেউ যদি তার নিজের  গোপন অঙ্গ আপনার শিশু কে দেখায়, তখন আপনার শিশুকে এই ঘটনা সম্পর্কে যত দ্রুত সম্ভব কোন বিশ্বস্ত প্রাপ্তবয়স্ক অভিভাবক জানায় সে সম্পর্কে বলুন।

Ø  যেসব স্পর্শ আপনার শিশুকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলায় সেসব স্পর্শকে না বলতে শেখান,অথবা কেউ যদি সেই ধরনের স্পর্শ করে তাহলে,অতি দ্রুত সে যাতে কোন বিশ্বস্ত অভিভাবককে এই বিষয় সম্পর্কে জানায় সে শিক্ষা দিন।

Ø  যৌনতা ও যৌন নিপীড়ন  বিষয়ে সরাসরি খোলাখুলি কথা বার্তা  আপনার শিশুকে আরও শেখাবে যে এগুলো কোন গোপন কিছু নয়।নিপীড়নকারীরা মাঝে মাঝে বলে যে এইসব কথা গোপনীয়।আপনার শিশুকে অবহিত করুন যে কারো স্পর্শ যদি আপনার শিশুকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলায় সে যাতে এটা গোপন না করে এবং তার অভিভাবককে জানায় ।

Ø  আপনার শিশু যাতে নিঃসঙ্কোচে এই ধরনের গোপনীয় জিনিস বলতে পারে এবং এসব গোপনীয় জিনিস বোলার পর তাকে কোন অসুবিধায় পড়তে হবে না এই বিষয়ে নিশ্চয়তা প্রদান করুন।

Ø  যৌনতা বিষয়ক সকল তথ্য এক দীর্ঘ আলোচনাতেই দিবেন না,যৌনতা ও যৌন নিপীড়নের আলোচনা রুটিন মাফিক চালিয়ে যাবেন।

আপনার শিশুর জীবনের সাথে জড়িত হোন –

Ø  আপনার শিশুর কার্যকলাপের উপর আগ্রহী হোন ।

Ø  আপনার শিশুকে প্রশ্ন করুন কাদের সাথে সে স্কুলে থাকে বা খেলে ।

Ø  আপনার শিশু যদি খেলাধুলার সাথে জড়িত থাকে তাহলে তার সাথে খেলার মাঠে যান এবং তার কোচ এবং অন্যান্য অভিভাবক সম্পর্কে জানুন।

Ø  আপনার শিশু স্কুল পরবর্তী কোন কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকে,তাহলে সে সারাদিন কি করেছে সে বিষয়ে প্রশ্ন করুন।

Ø  আপনার শিশু যদি অতি মাত্রায় টেলিভিশন দেখে অথবা ভিডিও গেমস খেলে তাহলে তার সাথে বসে টেলিভিশন দেখুন অথবা ভিডিও গেমস খেলুন।

Ø  অনেক টিভি অনুষ্ঠান (উদাহরণ স্বরূপCSI) এবং অনেক গেমস (GRAND THEFT AUTO) যৌন সন্ত্রাস সম্পর্কে দেখায়।এসব অনুষ্ঠান বা গেমস থেকেই উদাহরণ নিয়েই যৌনতা  সম্পর্কে আপনার শিশুর সাথে আলাপচারিতা শুরু করতে পারেন।

Ø  আপনার শিশু বড় কাদের সাথে কথা বলছে সেটা জানুন।

Ø  অনেক সময় দেখা যায় আপনার শিশু আপনার থেকে অন্য কাউকে বেশি বিশ্বাস করছে। এদের সম্পর্কে জানুন।

যথেষ্ট সময় দিন-

Ø  আপনার শিশুর সাথে বেশি করে সময় কাটান।

Ø  আপনার শিশুকে বুঝতে শিখান যে প্রশ্ন বা তার কাছে ভালো লাগছে না –এই ব্যাপার গুলো নিয়ে আপনার সাথে কথা বলতে পারে সে।

Ø  আপনি আপনার শিশুর সমস্যা বা প্রশ্ন ভালো ভাবে শুনবেন এই ব্যাপারে আপনার শিশুকে সন্দেহহীন করতে হবে।

নিপীড়ন শুধু অপরিচিতরাই করে –এই চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন 

 

আমারা সবাই সাধারণত এই ধারণাই করি যে, পরিচিতদের কাছে আমার শিশু সম্পূর্ণ নিরাপদ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও এটা সত্যি যে ,৮০ থেকে ৯০ শতাংশ শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয় তার খুব কাছের পছন্দের মানুষগুলোর দ্বারা।   শিকাগো শিশু অধিকার কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক  রিভেট্টি এই ব্যাপারে বলেন ,”আপনার সবচেয়ে বেশি চিন্তা করা উচিৎ তাদের নিয়ে যাদের সাথে আপনার শিশু প্রতিদিনই সময় কাটায় ।বরং অপরিচিতদের নিয়ে কম চিন্তা করা উচিৎ। ”

বাংলাদেশে বোধহয় এমন মেয়ে খুব কমই পাওয়া যাবে যারা টীনএজ বয়সে এবং প্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থাতেও   তাদের নিকটাত্মীয়দের (,দেবর , দুলাভাই, খালু, ফুফা, কাজিন ) দ্বারা যৌন নিপীড়নের (স্পর্শ,টীজ , আকার ইঙ্গিতে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে চাওয়া , জোর করে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা, ভয়ভীতি দেখানো  ইত্যাদি    ) শিকার হন নি । এই যৌন নিপীড়নের ঘটনা গুলো নারীরা কারো কাছে প্রকাশ করেন না বা পরিবারের কাউকে জানালেও লোকলজ্জার ভয়ে তা ধামাচাপা দেওয়া হয় । কাজেই এই সম্পর্কগুলো নিয়ে খুব সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার । মাহরাম , গায়েরে মাহরাম  মেনে চললে ইনশা আল্লাহ্‌   এ  নীরব যৌন নিপীড়ন থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব ।

আপনার শিশুকে বিশ্বাস করুন –

 

আপনার শিশুর সাথে ভরসা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলুন। আপনার শিশু আপনাকে কিছু বললো ,আর আপনি সেটা বিশ্বাস না করে তাকে উল্টো আরও নানা প্রশ্ন করে  ভীত করে তুললেন ,তাহলে তার সাথে কিছু হলে সে আপনাকে তা জানানোর ব্যাপারে আগ্রহ হারাবে। যখন আপনি আপনার সন্তানকে অপ্রয়োজনীয় এবং আপত্তিকর স্পর্শ নিয়ে কথা বলবেন,তখন তাকে এটা আগে বুঝতে দিন যে আপনি তাকে বিশ্বাস করেন এবং সে যেন আপনাকেই আগে তার সমস্যাগুলো বলে।

 

নিপীড়নের পূর্ব লক্ষণ এবং বিপদজনক কারণ গুলো –

 

 

যেসব ব্যক্তি আপনার বাচ্চার সংস্পর্শে আসে তাদের সবাইকে সন্দেহ করে আপনার  দুশ্চিন্তা করার দরকার নেই । কিন্তু যেহেতু নিপীড়নের ঘটনাগুলো প্রায় একই ধরনের, সেহেতু আপনাকে অবশ্যই কিছু পূর্ব লক্ষণের সাথে পরিচিত থাকতে হবে –

  • জানতে হবে আমার কি খোঁজা উচিৎ :

 

সাধারণত কেউই তার পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সন্দেহ করে না বা করতে চায় না ।কিন্তু আপনি যদি শিশুদের প্রতি বিকৃত রুচির যৌন নিপীড়কদের কিছু বৈশিষ্ট্য জানেন ,তাহলে আপনি তাদের ব্যাপারে সঠিক ধারণা রাখতে পারবেন ।এখানে কিছু উল্লেখ করা হলো –

Ø  সমবয়সীদের থেকে শিশুদের সাথে সময় কাটাতে মাত্রারিক্ত পছন্দ করবে ।

Ø  শিশুদের এমন সব জিনিস করতে দিবে যা তাদের মা-বাবা করতে দেয় না ।

Ø  শিশুদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কৌতুক করবে ।এছাড়া নানা ধরনের যৌনাবেদনময়ী শব্দ দিয়ে এগুলো বর্ণনা করবে ।

Ø  শিশু এবং কিশোর-কিশোরদের যৌনতার ব্যাপারে মাত্রারিক্ত আগ্রহী হবে যা আসক্তির পর্যায়ে পড়ে।

Ø  যৌন কার্যাবলীর সময় প্রাপ্ত বয়স্ক সঙ্গী/ সঙ্গিনী কে শিশু অথবা কিশোর/কিশোরীদের মতো আচরণ করতে বলবে।

Ø  প্রায়ই শিশুদের নিয়ে তৈরী পর্ণ দেখবে এবং এর প্রতি প্রবল আসক্তি থাকবে।

Ø  হস্তমৈথুন তার কাছে দৈনন্দিন কাজের মতো হয়ে যাবে।

Ø  এছাড়া এরা সাধারণত এমন পেশায় থাকে যাতে শিশুদের সংস্পর্শে সহজেই আসতে পারে যেমন শিক্ষক,প্রশিক্ষক ইত্যাদি।

  • সন্দেহ করুন যদি আপনার শিশুকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় –

 

এটা সবসময়ই ভালো লাগে যদি যখন শিক্ষক, প্রশিক্ষক বা এই জাতীয় লোকজন আপনার শিশুর ভালো এবং বিস্ময়কর গুণাবলী সম্পর্কে বুঝতে পারে এবং এজন্য অন্যান্য শিশু থেকে তাকে আলাদাভাবে দেখা হয় । কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে এটা শিশুর যৌন নিপীড়নের অন্যতম পূর্ব লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়। রিভেট্টির মতে,”বিকৃত রুচির লোকেরা বাচ্চাদের আলাদা করে ফেলে এবং ভাবতে শিখায় সে অন্যদের থেকে আলাদা ।” প্রকৃতপক্ষে যারা পেশাদার তারা কখনই কারও প্রতি বিশেষ অনুরাগী হয় না।

  • একা থাকার ক্ষেত্রে সর্বাধিক সতর্কতা আরোপ করুন –

 

যখন কোন বিকৃত রুচির শিশু যৌন নিপীড়ক ,কোন শিশুকে আলাদা করে ফেলে ,তার পরবর্তী কাজ হচ্ছে সেই শিশুকে একা পাওয়া ।এর জন্য সে শিশুটির মা-বাবা কে নানা ধরনের প্রস্তাব দেয় , যেমন –বাড়িতে তার কাছে আলাদা ভাবে পড়া,তার সাথে একা একা খেলাধুলা করা ,তার সাথে বেড়াতে যাওয়া ,বাড়িতে অথবা বেড়ানোর সময় তার কাছে শোয়া । আপনি যদি দেখেন যে,এর জন্য সে অতিরিক্ত তোষামোদি বা জোর করছে অথবা সেও আপনার শিশুর মতোই উত্তেজিত হয়ে গেছে ,তাহলে কোন অবস্থাতেই তার সাথে আপনার বাচ্চাকে একা থাকতে দিবেন না ।

  • পরিবারের অতীতকে অবহেলা করবেন না –

 

রিভেট্টির মতানুযায়ী, নিপীড়নের দিকে ঝোঁক সাধারণত বংশগতভাবে আসে। যদি পরিবারের মাঝে আপনার নিজেরই নিপীড়িত হবার অভিজ্ঞতা থাকে কিংবা পরিবারে এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে আপনার সন্তানেরও নিপীড়িত হবার সম্ভবনা বেড়ে যায়।”

সঠিকভাবে নির্ধারণ করুন আপনার শিশুর সংস্পর্শে থাকা পুরুষ যারা তার কাছে আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হবে –

 

একজন সঙ্গীহীন মা তার জীবনে চলার জন্য একজন পুরুষ সঙ্গীর অভাব বোধ করেন ।শিশু যৌন নিপীড়করা এই সুযোগটাই গ্রহণ করে (প্রায় ৯৫% নিপীড়নকারীই পুরুষ ) ।সাধারণত সঙ্গীহীন বা একা থাকা মা তার বাচ্চাদের সময় দিতে পারেন না এবং খুব খুশি হন যদি কেউ তার বাচ্চাকে সময় দেয় এবং তার দেখাশোনা করে।আর বিকৃতরুচির যৌন নিপীড়করা ঠিক এই সুযোগটাই নেয় ।

  • একসাথে ঘুমানো বা রাতে একসাথে থাকাকে কখনই হালকা ভাবে নিবেন না-

 

বেড়ানো বা অন্য অনেক কারণে আপনার শিশুকে তার কোন বন্ধুর বাড়িতে রাতে থাকতে হতে পারে। কিন্তু আপনার সন্তান কোথায় কিভাবে থাকতে তা আপনাকে খুব ভালো ভাবে জানা থাকতে হবে।রিভেট্টি এই ব্যাপারে সাবধান করে দিয়ে বলেছেন,”আপনার সন্তানের কোন জায়গাতে রাতে থাকার ব্যাপার কখনই কম গুরুত্ব দিয়ে ভাববেন না। যদি আপনি সেই পরিবার সম্পর্কে খুব ভালো ভাবে না জানেন এবং নিজে সেখানে বেশ কিছু বার না গিয়ে থাকলে , কখনই আপনার সন্তানকে সেখানে রাতে থাকতে দিবেন না।এবং একেবারে নিশ্চিত হয়ে জানুন সেখানে কে কে থাকে এবং তারা কি করে।যদি কোন কিছু আপনার কাছে অস্বাভাবিক বা অসামঞ্জস্য মনে হয়, তাহলে আপনার সহজাত প্রবৃত্তির উপর আস্থা রাখুন ।”

অনেক সময় বাসায় আত্মীয়স্বজন বেড়াতে আসলে , ছোট বাচ্চাদের তাদের সঙ্গে ঘুমাতে হই । এটা কখনোই করা উচিত না । অবশ্যই  অবশ্যই আপনার ছোট বাচ্চার ঘুমানোর জন্য  আলাদা বিছানার ব্যবস্থা থাকতে হবে ।

v  দি আপনি বুঝতে পারেন যে আপনার সন্তান যৌন নিপিড়নের শিকার হচ্ছে –

 

আমরা আশা করি ,আপনাকে কখনও এই ধরনের আলোচনার  মাঝে দিয়ে যেতে হবে না ।কিন্তু আপনি যদি বুঝতে পারেন বা সন্দেহ করেন যে আপনার শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে বা হচ্ছে ,তাহলে দেরী বা সংকোচ না করে আপনাকে অবশ্যই কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।

  • হজভাবে প্রশ্ন করুন –

 

আপনার সন্তানকে সহজভাবে প্রশ্ন করুন যাতে সে নিজে থেকেই তার মনের কথা বলতে পারে।যেমন বলতে পারেন যে তুমি যে তোমার এই বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলে সবচেয়ে সেখানে সবচেয়ে ভালো কী লেগেছে অথবা খারাপ কি লেগেছে । কিংবা বলতে পারেন যে, “ছোটবেলায় আমি এমন কিছু করেছিলাম বা আমার সাথে এমন কিছু হয়েছিল যে আমি মা-বাবাকে বলতে চাই নি যে তারা কষ্ট পাবে বা চিন্তা করবে ,কিন্তু যখন বললাম তখন সব ঠিক হয়ে গিয়েছিল।তোমার সাথে কি এমন কিছু হয়েছে ?” মোট কোথা আপনাকে এমন ভাবে কথা বলতে হবে যাতে আপনার সন্তান আপনাকে তার মনের কথা খুলে বলে।তবে কোন অবস্থাতেই তাকে বকা দিয়ে বা রাগারাগি করে প্রশ্ন করা যাবে না। তাহলে আপনার বাচ্চা আপনাকে কখনই তার সাথে কিছু হলে ,সেটা বলবে না ।

  • খেয়াল করুন আপনার সন্তানের মাঝে কোন পরিবর্তন এসেছে কিনা-

 

আপনি যদি আপনার সন্তানের মাঝে কিছু বিশেষ ধরনের পরিবর্তন দেখতে পান ,তাহলে বুঝবেন তার কিছু হয়েছে ।যেমন –

Ø  এমন সব আচরণ বা  শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ নিয়ে যৌন সম্পর্কিত শব্দ বলবে যা তার বয়সের সাথে খাপ খায় না। এই ধরনের কথা বা আচরণ সে আগে কখনই করেনি।

Ø  বয়সের তুলনায় আরও ছোট বাচ্চার মতো আচরণ করবে যা সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

Ø  যাদের কাছে থেকে  নিপীড়নের শিকার হবে না,তাদের প্রতি নির্ভরশীলতা বাড়তে থাকবে।

Ø  একা একা থাকবে এবং সব কিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিবে।

Ø  অল্পতেই রেগে  এবং অস্থির হয়ে যাবে।

Ø  হঠাৎ করে অন্ধকার দেখে ভয় পাবে।

Ø  প্রায়ই দুঃস্বপ্ন দেখবে।

Ø  ঘুমের পরিবর্তন হবে , অতিরিক্ত ঘুমাবে অথবা কম ঘুম হবে।

আপনার সন্তানের সুরক্ষার বিষয়টি আপনার উপরেই নির্ভর করে।আপনার সন্তানকে ‘না’ বলা শিখাতে হবে অপ্রয়োজনীয় এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধ স্পর্শগুলোর প্রতি।সন্তানের সাথে আপনার সম্পর্ক এমন হয় যাতে সে আপনাকে সহজেই প্রশ্ন এবং তার কোন সমস্যার কথা খুলে বলতে পারে।সে যেন কখনই ভাবতে না পারে যে সে একা।আর এইসব পদক্ষেপের মাধ্যমেই আপনি আপনার সন্তানকে যৌন নিপীড়নের হাত থেকে মুক্ত রাখতে পারেন ইনশা আল্লাহ্‌ ।

শেয়ার করুনঃ